Categories
প্রবন্ধ

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় বাঙালি পদার্থ ও জীব বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু’র জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক এবং গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা তার হাত ধরে হয় বলে মনে করা হয়। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করে।

তাঁর জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশেরই ময়মনসিংহ শহরে ১৮৫৮ সালে ৩০শে নভেম্বের। তাঁর পিতার নাম ভগবান চন্দ্র বসু (জেলার তৎকালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট) এবং মায়ের নাম বামা সুন্দরী দেবী।

ইংরেজ সরকারের অধীনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও ভগবান চন্দ্র নিজের ছেলেকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করান নি। জগদীশ চন্দ্রের প্রথম স্কুল ছিল ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। বাংলা স্কুলে ভর্তি করানোর ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব যুক্তি ছিল।

তিনি মনে করতেন ইংরেজি শেখার আগে এদেশীয় ছেলে-মেয়েদের মাতৃভাষা আয়ত্ত্ব করা উচিত। বাংলা স্কুলে পড়ার ব্যাপারটি জগদীশ চন্দ্রের জীবনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছে, তেমনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতেও সাহায্য করেছে। এর প্রমাণ বাংলা ভাষায় রচিত জগদীশের বিজ্ঞান প্রবন্ধগুলো। ভাষার প্রতি বিশেষ মমত্ববোধ ছাড়াও ভগবান চন্দ্র চেয়েছিলেন তার পুত্র দেশের আপামর জনসাধারণের সাথে মিলেমিশে মানুষ হোক এবং তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হোক। জগদীশ চন্দ্রের পরবর্তী জীবনে তার প্রথম বাংলা স্কুলের অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ছাপ ফেলেছিল।

তাঁর শিক্ষাজীবনের ধাপগুলো শুরু হয় ফরিদপুরে,তারপর ১৮৬৯ সালে হেয়ার স্কুল,সেখান থেকে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল। তিনি ১৮৭৫ ষোল বছর বয়সে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উর্ত্তীণ হয়ে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হোন। সেখান থেকে ১৮৭৭সালে অনার্স এবং ১৮৭৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি .এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৮৮০ সালে ভারত ছেড়ে লন্ডনে ডাক্তারি পড়ার জন্য মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা বাদ দিয়ে ১৮৮১ সালে লন্ডন ত্যাগ করে কেম্ব্রিজে যান। ১৮৮৪ সালে কেম্ব্রিজ ক্রাইস্ট কলেজ থেকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়ে ট্রাইপোস (কেম্ব্রিজের বিশেষ কোর্স) এবং একই সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরলেন।

১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশ চন্দ্র ভারতে ফিরে আসেন। তৎকালীন ভারতের গভর্নর-জেনারেল জর্জ রবিনসন, প্রথম মার্কুইস অব রিপনের অনুরোধে স্যার অ্যালফ্রেড ক্রফট বসুকে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক নিযুক্ত করেন। কলেজের অধ্যক্ষ চার্লস হেনরি টনি এই নিয়োগের বিপক্ষে ছিলেন। শুধু যে তাঁকে গবেষণার জন্য কোন রকম সুবিধা দেওয়া হত না তাই নয়, তিনি ইউরোপীয় অধ্যাপকদের অর্ধেক বেতনেরও কম অর্থ লাভ করতেন।এর প্রতিবাদে বসু বেতন নেওয়া বন্ধ করে দেন এবং তিন বছর অবৈতনিক ভাবেই অধ্যাপনা চালিয়ে যান। দীর্ঘকাল ধরে এই প্রতিবাদের ফলে তার বেতন ইউরোপীয়দের সমতুল্য করা হয়।প্রেসিডেন্সি কলেজে গবেষণার কোন রকম উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা না থাকায় ২৪-বর্গফুট (২.২ মি২) একটি ছোট ঘরে তাকে গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে হত। পদে পদে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার বিজ্ঞান সাধনার প্রতি আগ্রহ ভগিনী নিবেদিতাকে বিস্মিত করেছিল। কলেজে যোগ দেওয়ার এক দশকের মধ্যে তিনি বেতার গবেষণার একজন দিকপাল হিসেবে উঠে আসেন।
প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার প্রথম আঠারো মাসে জগদীশ যে সকল গবেষণা কাজ সম্পন্ন করেছিলেন তা লন্ডনের রয়েল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত হয়। এই গবেষণা পত্রগুলোর সূত্র ধরেই লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৬ সালের মে মাসে তাঁকে ডিএসসি ডিগ্রি প্রদান করে। এই গবেষণাগুলো একটু ভিন্ন আঙ্গিকে বিচার করতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিত ৪ ঘণ্টা শিক্ষকতার পর যেটুকু সময় পেতেন তখন তিনি এই গবেষণার কাজ করতেন। তার উপর প্রেসিডেন্সি কলেজে কোন উন্নতমানের গবেষণাগার ছিলনা, অর্থ সংকটও ছিল প্রকট। সীমিত ব্যয়ে স্থানীয় মিস্ত্রিদেরকে শিখিয়ে পড়িয়ে তিনি পরীক্ষণের জন্য উপকরণ প্রস্তুত করতেন। তাঁর এই গবেষণা কর্মগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করেই ইংল্যান্ডের লিভারপুলে বক্তৃতা দেয়ার জন্য ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এই বক্তৃতার সাফল্যের পর তিনি বহু স্থান থেকে বক্তৃতার নিমন্ত্রণ পান। এর মধ্যে ছিল রয়েল ইন্সটিটিউশন, ফ্রান্স এবং জার্মানি। সফল বক্তৃতা শেষে ১৮৯৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি সস্ত্রীক দেশে ফিরে এসেছিলেন।

জগদীশের আঠারো মাসের সেই গবেষণার মধ্যে মুখ্য ছিল অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা। ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি এবং কোন তার ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তা প্রেরণে সফলতা পান। ১৮৮৭ সালে বিজ্ঞনী হের্‌ৎস প্রত্যক্ষভাবে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। এ নিয়ে আরও গবেষণা করার জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন যদিও শেষ করার আগেই তিনি মারা যান। জগদীশচন্দ্র তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সর্বপ্রথম প্রায় ৫ মিলিমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ তৈরি করেন। এ ধরনের তরঙ্গকেই বলা হয়ে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ। আধুনিক রাডার, টেলিভিশন এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মূলত এর মাধ্যমেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান প্রদান ঘটে থাকে।

বিজ্ঞান শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে জগদীশ চন্দ্রের সফলতার কথা কর্মজীবন অংশেই উল্লিখিত হয়েছে। এছাড়া তিনি বিজ্ঞান গবেষণায়ও প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছিলেন যার জন্য তাঁর সুখ্যাতি তখনই ছড়িয়ে পড়েছিল। জগদীশ চন্দ্র যে গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানী তার স্বীকৃতি দিয়েছিল লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকা, ১৯২৭ সালে। আর আইনস্টাইন তার সম্পর্কে নিজেই বলেছেন:- “জগদীশচন্দ্র যেসব অমূল্য তথ্য পৃথিবীকে উপহার দিয়েছেন তার যে কোনটির জন্য বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করা উচিত।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঋষিতুল্য বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে বলেছেন:- “ভারতের কোনও বৃদ্ধ ঋষির তরুণ মূর্তি তুমি হে আর্য আচার্য জগদীশ।”

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, এই ভারতীয় বাঙালি বৈজ্ঞানিক ছিলেন পরাধীন ভারতবর্ষে জন্ম নেওয়া শত শত স্বদেশপ্রেমিকদের মধ্যে অন্যতম৷ তার বিভিন্ন বক্তৃতায় বারবার তাঁর এই স্বদেশপ্রেমের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে৷ আমাদের সৌভাগ্য যে পরাধীন ভারতবাসীর স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাজনৈতিক সীমানা ছাড়িয়ে তৎকালীন ভারতবর্ষের বিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রেই তা সমভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছিল৷

১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডিতে এই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে তাঁর আজীবন সঞ্চিত ১৭ লক্ষ টাকার মধ্যে ১৩ লক্ষ টাকা বসু বিজ্ঞান মন্দিরকে দান করেন। ১৯৫৮ সালে জগদীশ চন্দ্রের শততম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার “JBNSTS” নামে একটি বৃত্তি প্রদান আরম্ভ করেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

‘অপরাজিতা দেবী’ ছদ্মনামে সাহিত্য জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মহিলা কবি – রাধারাণী দেবী – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

রাধারাণী দেবী বিশ শতকের অন্যতম বাঙালি কবি। ভাষার মাধুর্যে ভাবের স্নিগ্ধতায় আর ছন্দের সাবলীল দক্ষতায় ‘অপরাজিতা দেবী’ ছদ্মনামে সাহিত্য জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মহিলা কবি। আজ তাঁর জন্ম দিন।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন—-

 

রাধারানী দেবী ১৯০৩ সালের ৩০ নভেম্বর কলকাতা, ব্রিটিশ ভারতের জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা আশুতোষ ঘোষও ছিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট, পণ্ডিত, সাহিত্যপ্রেমী এবং রবীন্দ্রনাথের গভীর ভক্ত।  রাধারাণী ছিলেন তাঁর এবং নারায়ণী দেবীর দশম সন্তান।  তার শৈশব কেটেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটায়, যেখানে তার বাবা কাজ করতেন।  তিনি  ছবিরউন্নিসা গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং মাইনর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।  এরপর স্ব-শিক্ষার মাধ্যমে তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।  পারিবারিক শিক্ষার পরিবেশে তার শৈশব কেটেছে আনন্দে।

 

বাড়িতে প্রত্যেক সদস্যদের জন্য আসত ‘প্রবাসী’, ‘শিশু’, ‘মৌচাক’ , ‘সন্দেশ’, ‘সোপান’, ‘ভারতবর্ষ’ প্রভৃতি নানান পত্র পত্রিকা। তার সেজদার হাতে-লেখা ভাইবোনদের পত্রিকা ‘সুপথ’-এ দশ বছর বয়সে লেখা দেন তিনি। তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘মানসী ও মর্মবাণী’ পত্রিকায়।

কিন্তু তেরো বছর বয়সে প্রকৌশলী সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।  তার স্বামী যখন কয়েক মাসের মধ্যে ‘এশিয়াটিক ফ্লু’-তে আকস্মিকভাবে মারা যান, তখন তিনি স্বেচ্ছায় কঠিন বিধবা জীবন যাপন করেন।

 

সাহিত্যজীবন—-

 

সাহিত্যক্ষেত্রে কবিতা দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে লাগলেন রাধারাণী দত্ত নামে ‘ভারতবর্ষ’, ‘উত্তরা’,’কল্লোল’, ‘ভারতী’ প্রভৃতি পত্রিকায়। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে তার প্রথম গল্প ‘বিমাতা’ প্রকাশিত হয় ‘মাসিক বসুমতী’তে। প্রথম প্রবন্ধ ‘পুরুষ’ প্রকাশিত হয় ‘কল্লোল’-এ। এর পাঁচ বছর পরে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ –  ‘লীলাকমল’।
১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তার ও নরেন্দ্র দেবের যুগ্ম সম্পাদনায় বাংলা কাব্য সংকলন ‘কাব্যদীপালি’ প্রকাশিত হয়। একবার এক সান্ধ্য আড্ডায় রাধারাণীর রচনার পরিপেক্ষিতে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেন –

” ‘…আজ পর্যন্ত কোনও মেয়ের লেখায় তার স্বকীয়তার ছাপ ফুটে উঠলো না।’

এই অভিযোগের প্রতিবাদে তিনি ‘অপরাজিতা দেবী’ ছদ্মনামে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছায়াপাতে শুরু করেন রচনা। তাঁর কবিতার মধ্যে অন্তঃপুরের অন্তরঙ্গ জগত আত্মপ্রকাশ করেছে বিশ্বস্ততার সাথে। যেমন মাধুর্য ও কৌতুক, তেমনই প্রতিবাদ আর বিদ্রোহে সাহিত্যজগৎে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, যা কিনা সেসময় যেকোনো মহিলা কবির কলমে প্রায় অসম্ভব ছিল। ১৯৩০-৩৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর প্রকাশিত ভালোবাসার কাব্যগ্রন্থ গুলি হল – —‘বুকের বীণা’ (১৯৩০), ‘আঙিনার ফুল’ (১৯৩৪), ‘পুরবাসিনী’ (১৯৩৫), ‘বিচিত্ররূপিনী’ প্রভৃতি।

রাধারাণী ছোটদের জন্য লিখেছেন ‘নীতি ও গল্প’ এবং ‘গল্পের আলপনা’। স্বামীর সম্পাদনায় ছোটদের জন্য মাসিক পত্রিকা ‘পাঠশালা’ প্রকাশে সহায়তা ছাড়াও যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন বাংলা গ্রন্থের সংকলন ‘কথাশিল্প’। বিবাহের মন্ত্রগুপ্তির স্বচ্ছন্দ অনুবাদ করা তাঁর বইটি হল ‘মিলনের মন্ত্রমালা’। এছাড়া বারোয়ারি উপন্যাসও লিখেছেন তিনি।

 

সম্মাননা—

 

১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ভুবনমোহিনী স্বর্ণপদক ও লীলা পুরস্কার প্রদান করে। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ‘অপরাজিতা রচনাবলী’র জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার রবীন্দ্র পুরস্কারে সম্মানিত করে।

 

মৃত্যু—-

 

রাধারাণী দেবী ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতায় নিজ বাসভবন ‘ভালো-বাসা’য় প্রয়াত হন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

৫০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক পঁচেটগড়ের রাস উৎসব – জানব তার সম্পর্কে কিছু কথা।

রাস উৎসবকে ঘিরে মেতে উঠেছে গোটা রাজ্য। আর রাস উৎসবের কথা বললে পঁচেটগড় রাজবাড়ীর কথা না বললেই নয়। প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের থানা এলাকার পঁচেটগড় একটি প্রসিদ্ধ স্থান। পঁচেটগড় রাজবাড়ী রাস উৎসবের জন্যই সকলের কাছে এক ডাকে পরিচিত। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন পঁচেটগড় রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহি এই রাস উৎসব।

ইতিহাস বলছে, একসময় এই রাস উৎসবের জাঁকজমক দুর্গোৎসবের চেয়ে কোনও অংশে কম ছিল না। রাজপরিবারের বর্তমান বংশধরদের দাবি, ওডিশার কটক জেলার আটঘর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বাড়ির আদি পুরুষ কালুমুরারি মোহন দাস মহাপাত্র। এই দুঃসাহসিক যুবক আকবর বাদশাহের রাজ কর্মচারী ছিলেন। ওডিশার রাজা মুকুন্দদেব আকবর বাদশাহের সঙ্গে সঙ্গবদ্ধ হয়ে উভয়ের সাধারণ শত্রু গৌড়ের রাজা গৌড়েশ্বর সুলেমন কররানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়। এখানে কালুমুরারির অসামান্য কৃতত্ব প্রকাশ পায়। কথিত আছে, সেই সময় কালুমুরারি পটাশপুর পরগনায় এসে বাদশাহ প্রদত্ত নানকর ভূমি লাভ করে জমিদারি সূচনা করেন। প্রথমে কল্যাণপুরে বাস করে। পরবর্তীকালে সেখান থেকে উদ্ধার হয় এক শিবলিঙ্গ। সেই শিবলিঙ্গ দিয়েই কালুমুরারি মোহন দাস মহাপাত্র তৈরি করেন পঞ্চেশ্বর মন্দির। এখানে বেনারস থেকে আরও চারটি শিব লিঙ্গ এনে স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে পক্ষেশ্বর নামটির প্রচার হতে থাকে।

 

 

এখানেই তিনি তৈরি করেন পঁচেটগড় রাজবাড়ি। শ্রী চৈতন্যদেব যখন পটাশপুর হয়ে পঁচেট পরগনা দিয়ে পুরী গিয়েছিলেন তখন জমিদার বাড়ির সদস্যরা শৈব থেকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেন। পরে জমিদার বাড়ির কুলদেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন কিশোররাই জিউ। যাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর কার্তিক পূর্ণিমা থেকে শুরু হয় রাস উৎসব। রাস উৎসব ছাড়াও রাজবাড়িতে হয় দুর্গপুজো, ঝুলন উৎসব,নন্দ উৎসব,
পঁচেটগড় রাজবাড়ির রাস উৎসব এখন সর্বসাধারণের উৎসব। এই উৎসব ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক
ঐক্যের এক অপার মিলন ক্ষেত্র। প্রতিবছর এই উৎসব উপলক্ষে মেলায় শুধু জেলা নয়, জেলা ছাড়িয়ে পাশ্ববর্তী রাজ্য ওডিশা থেকেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। সাম্প্রতি কয়েক বছর আগে পঁচেটগড় রাজবাড়ীকে হেরিটেজ ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন। হেরিটেজ পঁচেটগড় রাজবাড়ীতে রয়েছে হোমস্ট্রের বেবস্থা। তাই বিদেশ থেকে অনেক পর্যটক আসেন রাজবাড়ীতে থাকার জন্য  এই  রাস উৎসবের সময় অসংখ্য বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান রাজবাড়ীতে।রাস উৎসবের কয়েকদিন রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য রয়েছে  বার্তি পাওনা রাজবাড়ীর পক্ষ থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাজবাড়ীর সংগ্রহসালা।

 

রাস উৎসবে প্রতি সন্ধ্যায় কিশোররাই সহ কুড়ি জন ঠাকুরের  বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে পঁচেটগড় রাজবাড়ী থেকে রাস মঞ্চে আসেন ও প্রায় ঘন্টা তিনেক  মঞ্চে থাকেন। তবে রাতে ফের মূল মন্দিরে ফিরে আসেন কিশোররাই। এই রাস মেলার ১ লা ডিসেম্বর দধি উৎসবের দিন প্রতিবারের মতোই রাত ৩ টা থেকে  দুপুর  ১১টা পর্যন্ত রাস মঞ্চে থাকবেন কিশোররাই জিউ। মেলা শুর হয়েছে ২৭ শে নভেম্বর সোমবার থেকে। চলবে ৬ ই ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলায় পত‍্যহ রয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলায় রয়েছে আলোকসজ্জা সারকাস,টোরাটোরা,ট্রয় ট্রেন ও প্রসাধন সামগ্রীর দোকান।
দশদিনের মেলায় নিরাপত্তায় এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় গোটা মেলাচত্বরে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

দানবীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন- প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

হাজী মুহাম্মদ মহসিন  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার একজন প্রখ্যাত মুসলিম জনহিতৈষী, ধার্মিক, উদার ও জ্ঞানী ব্যক্তি, যিনি তাঁর নিজের দানশীলতার মহৎ গুণাবলীর জন্য দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন।ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তার স্মরণে রাখা হয়েছে। এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন।

হাজী মুহম্মদ মহসিন ৩ জানুয়ারি ১৭৩২ সালে হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। একজন অত্যন্ত নম্র জনহিতৈষী, হাজী মুহাম্মদ মহসিন তার উদারতার জন্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তার দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবকে সমগ্র বাঙালি জাতি, হিন্দু-মুসলমান সকলেই শ্রদ্ধা করে।
হাজী মহসিন অনেক সম্পত্তির মালিক ছিলেন।  এসব সম্পদ তিনি দুই হাতে বিতরণ করেছেন।  মহসিনের পূর্বপুরুষরা অনেক ধনী ছিলেন।  তার পিতা হাজী ফয়জুল্লাহ, যিনি ইরান থেকে বাংলায় আসেন, তিনি ছিলেন একজন ধনী জায়গীরদার।
মাতা জয়নব খানম হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়াতেও বিশাল জমির মালিক ছিলেন।  বোন মন্নুজানের মৃত্যুর পর মহসিন উত্তরাধিকারী হিসেবে তার বোনের সম্পত্তির মালিক হন।
এত সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও মহসিন ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও নিরীহ।  তিনি সবসময় সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন।  তিনি ছিলেন চিরকুমার।  তিনি যে প্রাসাদে ইমাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখানে তিনি থাকতেন না।  বাড়ির পাশে একটি ছোট কুঁড়েঘরে থাকতেন ইমাম।

বোন মুন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক হন।  মেধাবী মহসিন মুর্শিদাবাদে শিক্ষাজীবন শেষ করে বিশ্বভ্রমণে বের হন।  তিনি ইরান, ইরাক, আরব, তুর্কিয়ে প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন এবং এর সাথে মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালা প্রভৃতি স্থানে যান।
তিনি ছিলেন চিরকুমার।  ফলে এ সম্পদ মানবকল্যাণে ব্যয় করার যথেষ্ট সুযোগ তার ছিল।
১৭৬৯-৭০ সালের সরকারী নথি থেকে জানা যায় যে সেই সময়ের মহা দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেছিলেন এবং সরকারি ত্রাণ তহবিলে অর্থ প্রদান করেছিলেন।
কঠোর তপস্বী মহসিন ১৮০৬ সালে একটি ট্রাস্ট গঠন করেন এবং দুজন মুতওয়াল্লি নিয়োগ করেন।  তিনি তার সম্পত্তি নয় ভাগে ভাগ করেন।  তিনটি শেয়ার ছিল ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্য।

হাজী মুহাম্মদ মহসিন প্রতিষ্ঠিত ইমামবারা, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।

পেনশন, বৃত্তি এবং দাতব্য ব্যয়ের জন্য চারটি শেয়ার রাখা হয় এবং মুতাওয়াল্লিদের বেতন হিসাবে দুটি শেয়ার রাখা হয়।
তাঁর ওয়াকফের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল হুগলিতে মহসিন কলেজ এবং চট্টগ্রামে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য।  তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় দৌলতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।  মহসিন তহবিলের পৃষ্ঠপোষকতায়, ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হয়।
মহসিন খুবই সাদাসিধে ও ধার্মিক জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন।  নিজ হাতে রান্না করে খেতেন। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রচুর সম্পত্তি পেয়েছিলেন, যা তাকে সেই সময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম করেছিল।  এই বিশাল সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও, তিনি কেবল একটি অতি সাধারণ এবং অসাধারন জীবনযাপনই করেননি, বরং সঠিক শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা এবং দরিদ্র জনগণের দুঃখ-কষ্ট ও দারিদ্র্য দূর করার জন্য তার সম্পত্তির বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

হাজী মুহম্মদ মহসিন ২৯ নভেম্বর ১৮১২ সালে মারা যান।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় – জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সিনেমা প্রিয় বাঙালির কছে শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় এক অতি পরিচিত নাম। অসাধারণ ও সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়   ছিলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অভিনেতা, যিনি মূলত বাংলা ভাষায় অভিনয় করতেন। আজ তাঁর জন্মদিবসে জানব তাঁর সম্পর্কে কিছু কথা।

 

বাক্তিগত জীবন—

 

শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় ২৯ নভেম্বর ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শুভেন্দুর বাবা শৈলেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মা মণিমালা দেবী।  ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন।  ১৯৫৩ সালে তিনি কলকাতার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যোগদান করেন।  ১৯৬০ সালে এমবিবিএস পাস করেন। প্রথমে সিভিল ডিফেন্সে যোগ দেন এবং তারপর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশনে যোগ দেন।  চিকিৎসক জীবন ছেড়ে রুপালি পর্দায় আসেন তিনি। প্রখ্যাত অভিনেতা জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়ের কাছে অভিনয় শিক্ষা। অংশ নিয়েছিলেন IPTA মুভমেন্টেও। সত্যজিৎ রায়ের ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির শুটিং চলাকালীন উত্তম কুমারের হার্টের সমস্যা দেখা দিলে শুভেন্দু ছিলেন প্রাথমিক নার্স।  এবং তার পরামর্শে অবিলম্বে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।  সেই যাত্রায় বেঁচে যান উত্তমকুমার।

 

তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা সমূহ—

 

 

 

চৌরঙ্গী, আরোগ্য নিকেতন, অরণ্যের দিনরাত্রি, রাজনন্দিনী, অমর সঙ্গী, কাঁচ কাটা হীরে, আকাশ কুসুম, চিড়িয়াখানা,  হংসমিথুন, একান্ত আপন, গণশত্রু, আশা ও ভালবাসা, কুহেলি, ছদ্মবেশী, অনিন্দিতা, কোরাস, আপন পর, জামাইবাবু, মনের মানুষ, দহন, ভালবাসা,   লাল দরজা,  কাঞ্চনমালা, দেশ,  আমার মায়ের শপথ, আবর অরণ্যে।

 

পুরস্কার ও সম্মননা—

 

আনন্দলোক পুরস্কার: সেরা অভিনেতা – ১৯৯৮ (লাল দরজা চলচ্চিত্র)।

 

প্রয়াণ—

৫ জুলাই ২০০৭ সালে তিনি প্রয়াত হন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বীরেন্দ্রনাথ সরকার,ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং কলকাতার নিউ থিয়েটার্সের প্রতিষ্ঠাতা – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

বীরেন্দ্রনাথ সরকার একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং কলকাতার নিউ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা।  তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক নতুন চলচ্চিত্র পরিচালককে সুযোগ দিয়েছিলেন এবং তাদের অনেকেই পরে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদানের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন। ভারত সরকার তাঁকে ১৯৭০ সালে “দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার” এবং ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে সম্মানিত করে।  , ১৯৭২ সালে।

 

৫ জুলাই ১৯০১, ভাগলপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বি.এন.সরকার। তার পিতা ছিলেন তৎকালীন বাংলার অ্যাডভোকেট-জেনারেল, স্যার এন.এন.সরকার।

কলকাতার একটি হিন্দু স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর, তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যয়ন করেন এবং ভারতে ফেরার পর তাকে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে বলা হয়।  এই প্রকল্পে কাজ করার ফলে চলচ্চিত্রের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয় এবং তিনি বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য একটি সিনেমা থিয়েটার নির্মাণে এগিয়ে আসেন।  ১৮৩০ সালের ৩০ ডিসেম্বর, সুভাষ চন্দ্র বসু কলকাতায় ‘চিত্রা’ নামে একটি সিনেমা থিয়েটার খুলেছিলেন এবং হিন্দি ছবি দেখানোর জন্য নতুন সিনেমার নির্মাণ শুরু হয়েছিল।  এরপর বীরেন্দ্রনাথ সরকার দুটি নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।

 

১৯৩১ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি,  কলকাতায়, বি.এন.সরকার প্রতিষ্ঠা করেন নিউ থিয়েটার্স। তিনি তখনকার দিনের বিখ্যাত সব ব্যক্তিকে নিউ থিয়েটার্সে নিয়ে আসেন, যেমন পরিচালক প্রমথেশ চন্দ্র বরুয়া, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, দেবকী বোস, ধীরেন গাঙ্গুলি, বিমল রায় এবং ফনি মজুমদার। কে এল সায়গাল, পাহাড়ি সান্যাল, অমর মল্লিক, কানন দেবী, চন্দ্রাবতী দেবী, লীলা দেসাই এবং পৃথ্বীরাজ কাপুরের মতো অভিনেতারাও ছিলেন। হলিউড এবং ইউরোপে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্পর্কে ভালভাবে অবগত, মুকুল বোস (সাউন্ড রেকর্ডিস্ট-ডিরেক্টর), ইউসুফ মুলজি (ক্যামেরাম্যান), নিতিন বোস (ক্যামেরাম্যান-ডিরেক্টর) এবং সুবোধ মিত্র (সম্পাদক) এর মতো প্রযুক্তিবিদরাও ছিলেন এবং তারা নিউ থিয়েটার স্টুডিও তে সীমাবদ্ধতা থাকলেও কিছু প্রযুক্তি চালু করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাইচাঁদ বড়াল, তিমির বরন এবং পঙ্কজ মল্লিকের মতো সংগীত সুরকার ও গায়করাও নতুন থিয়েটারের প্রযোজনার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি নিজে ১৯৪০ এর দশকের শেষদিকে বিএমপিএ-র সভাপতি ছিলেন।

 

২৮ নভেম্বর ১৯৮০ বীরেন্দ্রনাথ সরকার প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ব্রুস লী : মার্শাল আর্টের এক কিংবদন্তীর উপাখ্যান, জেনে নেবো তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন ইতিহাস।

ব্রুস ইয়ুন ফান লী (নভেম্বর ২৭, ১৯৪০ – জুলাই ২০, ১৯৭৩) একজন চীনা মার্শাল আর্ট শিল্পী, শিক্ষক, অভিনেতা এবং জিৎ কুন দো নামক নতুন ধরনের মার্শাল আর্ট ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা। তার জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিস্কোতে। তাকে সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বিখ্যাত মার্শাল আর্ট শিল্পীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তার শিক্ষকের নাম ছিলো আয়প (ওয়াই আই পি) ম্যান।
ব্রুস লির জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে হলেও গায়ে বইছিল চিনা রক্ত। শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হংকংয়ে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সিনেমা ও টিভিতে শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করেন। বারো বছর বয়সে এক দিন রাস্তার কিছু বখাটে ছেলে শত্রুতাবশত তাঁকে মারধর করে। আর এ ঘটনাটাই আমুলে পাল্টে দেয় তাঁর জীবন, সেই সঙ্গে মার্শাল আর্ট আর বিশ্ব চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতও। পরবর্তী সময়ে মনপ্রাণ ঢেলে মার্শাল আর্টে তালিম নেন তিনি। এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আয়ু মাত্র পাঁচ বছর। এই শিল্পে যোগ করেন নিজস্ব ধাঁচের কুংফু কৌশল। মার্শাল আর্টের সঙ্গে আরও অনেক শারীরিক কলা জুড়ে দিয়ে তৈরি করেন নতুন আর্ট ‘জিৎ কুনে দো’। নাচে দক্ষ লি ১৮ বছর বয়সে জাতীয় প্রতিযোগিতায় হংকংয়ের ঐতিহ্যবাহী চা-চা নাচের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

 

এই জিনিয়াসের মেজাজটা ছিল বেশ কড়া। সে কারণে বেশ কয়েক বার হংকং পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই বাবা-মা তাঁকে পাঠিয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রে । ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের চায়নাটাউনে আত্মীয়ের রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন। ক’দিন বাদেই তিনি ওয়াশিংটনের সিয়াটলে এসে দর্শনশাস্ত্রে পড়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সিয়াটলেই তিনি তাঁর প্রথম কুংফু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় লি টিভিতে টুকটাক কাজ করতে থাকেন। ক্যালফোনির্য়ার ওকল্যান্ডে তিনি দ্বিতীয় কুংফু স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। টিভিতে কাজ করার সুবাদে তাঁর নামডাক হতে শুরু করে এবং তিনি আস্তে আস্তে হলিউডের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। সেখানে স্ট্যান্টম্যান ও পার্শ্বচরিত্রে কিছু কাজও করেন। সে ভাবে নজর কাড়তে না পারলেও আর্থিক ভাবে লাভবান হন। ফিরে আসেন হংকংয়ে। হংকংয়ে বেশ কয়েকটি ছবি নির্মিত হয় তাঁকে নিয়ে। দ্য বিগ বস (১৯৭১), ফিস্ট অফ ফিউরি (১৯৭২) ও দ্য ওয়ে অব দ্য ড্রাগন (১৯৭২) তার মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। রাতারাতি সর্বত্র হৈ চৈ পড়ে যায় তাঁকে নিয়ে। হলিউডে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয় ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ (১৯৭৩)। হলিউডে ব্রুস লি তখন এক সিনেমা দিয়েই বিশাল তারকা।

 

সারা বিশ্ব যখন কাঁপছে ব্রুস লি জ্বরে, এন্টার দ্য ড্রাগনের প্রিমিয়ারের কিছু দিন আগে হঠাৎ হংকংয়ে মারা যান ব্রুস লি। ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই মাত্র ৩২ বছর বয়সে।
একের পর এক বক্স অফিস কাঁপানো ছবি, মুভিতে নতুনত্বের ছোঁয়া, সর্বোচ্চ দর্শক জনপ্রিয় এই অভিনেতার মাত্র ৩২ বছর বয়সের মৃত্যু কারোর পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব ছিলো না। তাই স্বভাবতই ব্রুস লির মৃত্যু নিয়ে রয়েছে নানা সন্দেহ এবং বিতর্ক। হঠাৎ করেই ১৯৭৩ সালে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় ব্রুসলির মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয় এবং মস্তিষ্ক ফুলে উঠতে শুরু করে এবং মাথা ব্যথায় কাতর হয়ে যান তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় সেরিব্রাল এডেমা। ‌

 

ডাক্তারদের সার্বিক চেষ্টায় ব্রুস লি সেই যাত্রায় মস্তিষ্কের সমস্যা থেকে মুক্তি পান কিন্তু সেই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্তিষ্কের ফোলা কমতে শুরু করলেও আবারো ৬ সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তা আবার পূর্বের রূপ ধারণ করে। ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই তার সহ-অভিনেত্রী বেটি টিং পেইর কাউলুনের বাড়িতে একটি সিনেমার শুটিং এর আলাপচারিতার উদ্দেশ্যে যান। হঠাৎ করেই তার সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা অবস্থায় ব্রুসলির মাথা ব্যথা শুরু হয় এবং তাকে ইকুয়াজেসিক নামে একটি পেইন কিলার খেতে দেয়া হয়। পেইনকিলারটি খাওয়ার পর ব্রুস লি ঘুমাতে যান কিন্তু ঘুম থেকে ব্রুস লিকে কোনোভাবেই উঠানো সম্ভব হচ্ছিল না বলে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হয় এবং কয়েক ঘন্টা পর ঘোষণা করা হয় যে মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুস লি মারা গেছেন।
মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুস লির মৃত্যু নিয়ে অনেকগুলো বিতর্ক থাকলেও কোনো কারণকেই প্রকৃত কারণ হিসেবে ধরা যায় না। তাঁর মৃত্যু রহস্য আজও অমীমাংসিত। কেউ বলে ড্রাগ ওভারডোজ, কেউ বলে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে মৃত্যু নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের সূত্রপাত হয়। মার্শাল আর্ট জগতের কিংবদন্তী ব্রুস লির অকাল মৃত্যু এখনো পুরো পৃথিবীর কাছে আজও অমীমাংসিত একটি রহস্য হয়েই আছে।

 

ব্রুসলির সম্পর্কে মজার কয়েকটি তথ্য  পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
১। ব্রুস লি চাইনিজ নন! অনেকের ধারণা তার জন্ম চীনে। কিন্তু তার জন্ম হয়েছিলো সানফ্রান্সিসকোতে। বেড়ে ওঠা হংকংয়ে। তার দাদী ছিলেন একজন জার্মান ভদ্রমহিলা।
২। ব্রুস লি অসাধারণ নাচতে পারতেন। ১৯৫৮ সালে তিনি একটি নাচের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নও হন! তখন মাত্র হাই স্কুলে পড়তেন তিনি। অভিনয়, মার্শাল আর্টের ট্রেইনিংসহ দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের বাইরে নাচের অনুশীলনের জন্য আলাদা সময় বের করতেন তিনি।
৩। ব্রুস লি বাতাসের চেয়েও বেশি গতিতে ফাইট করতে পারতেন! এত ক্ষীপ্র গতিতে তিনি হাত চালাতেন যে প্রতিপক্ষ আঘাত প্রতিহত করারও সময় পেত না! ১৯৬২ সালেই একটি ফাইটে তিনি মাত্র ১১ সেকেন্ডে তার প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। এই ১১ সেকেন্ডে তিনি ১৫ টা ঘুষি আর একটা কিক করেছিলেন বেচারাকে।

 

৪। তার আসল নাম ছিলো লি-জান-ফান। কিন্তু তার পরিবার তাকে ডাকতো ম সি তুং যার অর্থ যে কখনো স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না। ব্রুস লি জন্মেছিলেন ড্রাগন বর্ষে। এটি প্রতি বারো বছর অন্তর অন্তর আসে। চীনাদের রাশিচক্রে যারা ড্রাগন বর্ষে জন্মায় তাদেরকে খুব ভাগ্যবান ও ক্ষমতার অধিকারী মনে করা হয়। যেহেতু সে ড্রাগন বর্ষে জন্মেছে , একারণে ব্রুস লিকে ছোট্ট ড্রাগন বলেও ডাকা হতো।
৫। দর্শনের বিষয়ে ব্রুস লির ছিল প্রবল আগ্রহ! মার্শাল আর্ট ও অভিনয়ের বাইরে ব্রুস লি আরেকটু কাজে খুব সময় দিতেন। সেটি হচ্ছে ফিলোসফি পড়া ও লেখা। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে তার পড়ার বিষয়ও ছিলো দার্শনিকতা। অনেকে বিভিন্ন বিষয়ে তার কাছে মতামত জানতে চাইতো, এবং তার কথাকে গুরুত্বও দিতো খুব। “দ্যা ওয়ারিয়র উইথইন” নামে ব্রুস লি’র দার্শনিকতার ইতিবৃত্ত নিয়ে একটি অসাধারণ বইও আছে, যেখানে এই বিশ্বকে আরো গভীরভাবে বোঝা ও একটি সফল জীবন গড়ার জন্যে কী করা উচিৎ সে সম্পর্কে বলা হয়েছে।
৬। ব্রুস লি ছিলেন একজন সত্যিকারের শিল্পী! ব্রুস লির নানান দিকে আগ্রহ ছিল। অবসরে তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। তাছাড়া কবিতাও লিখতেন তিনি! তার কবিতা সংকলিত হয়েছে “The Tao Of JeetKune Do”-এই বইটিতে। মার্শাল আর্ট আর ফাইটিংয়ের দৃশ্য বেশি আঁকতে পছন্দ করতেন তিনি। তার নিজের সংগ্রহের ২০০০+ বই নিয়ে একটি লাইব্রেরিও আছে। নতুন কিছু পড়তে তার খুবই ভালো লাগতো।
৭। ব্রুস লি ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না! তিনি এমন এক পরিবারে জন্মেছিলেন যেখানে তার মা ছিলেন একজন ক্যাথলিক ধর্ম বিশ্বাসী। আর বাবা ছিলেন একজন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। ছোটবেলায় তাকে ক্যাথলিক স্কুলে পাঠানো হলেও এক পর্যায়ে তাকে ধর্ম নিয়ে আর কোনো চাপ দেয়া হয় নি। একবার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন।
৮। কিছু কাজ ছিল যা ব্রুস লি একদমই করতে পারতেন না! সাঁতার পারতেন না, পানি দেখলেই তার ভয় করতো। বাইক, গাড়ি কোনোটাই তিনি চালাতে পারতেন না। তার বন্ধুদের মতে, তিনে ছিলেন একজন জঘন্য ড্রাইভার এইজন্য ব্রুস নিজেই মাঝেমধ্যে বন্ধুদের অনুরোধ করতেন তার হয়ে গাড়ি কিংবা বাইক চালানোর জন্যে!
৯। ব্রুস লি’র মৃত্যু নিয়ে এখনো গুঞ্জন চলে।
১০। ব্রুস অসাধারণ একটি উক্তি –
সবসময় নিজস্বতা ধরে রাখো, নিজেকে প্রকাশ করো, নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। সফল ব্যক্তিত্ব খুঁজে বেড়ানো আর তাদের নকল করে তাদের মতো হওয়ার চিন্তা বাদ দাও।

 

ব্রুস লির ২০টি অমিয় বাণী
ব্রুস লি অবসরে তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। মার্শাল আর্ট বা কারাতের দৃশ্য বেশি আঁকতেন তিনি। তার নিজের সংগ্রহের দুই হাজারের বেশি বই নিয়ে একটি লাইব্রেরিও ছিলো। কবিতাও লিখতেন, তার কবিতা রয়েছে তার লেখা ‘টাও অব জিত কুনে দু’ বা মার্শাল আর্টের কৌশল বইটিতে। এ বইয়ের কিছু কথা এখানে সংকলিত হলো-
১. ঘুসি বা লাথি মেরে কখনো জেতা যায় না।
২. টেলিস্কোপের চেয়ে চোখের জল দিয়েই মানুষ বেশিদূর দেখতে পায়।
৩. জ্ঞান মাত্রই নিজেকে জানা।
৪. পালাবে না, দৌড়াও।
৫. আমি খালি গা থাকতেই পছন্দ করি। মানুষ কাপড় পরে একে অপরকে মুগ্ধ করার জন্য।
৬. সুখি হও, কিন্তু অল্প সাফল্যে আত্মতুষ্টিতে ভুগো না।
৭. জ্ঞান তোমাকে শক্তি দেবে, কিন্তু সম্মান পেতে হলে দরকার ভালো চরিত্র।
৮.  লক্ষ্য থাকলেই সেখানে পৌঁছে যেতে হবে এমন নয়, কখনও লক্ষ্য মানে নিশানা বা তাক করা।
৯. জ্ঞানীর কাছ থেকে বোকা যা শেখে, জ্ঞানী তারচেয়ে বেশি শেখে বোকার প্রশ্ন থেকে।
১০. জ্ঞানই শেষ কথা নয়, জ্ঞানের প্রয়োগ চাই। ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়, কাজ করা চাই।
১১. অন্ধকারে হাঁটতে না চাইলে আলো প্রত্যাশা করা যায় না।
১২. পরাজয় মনের ব্যাপার, কেউ-ই পরাজিত নয় যতক্ষণ না সে মন থেকে পরাজয় মেনে নেয়।
১৩. সহজ জীবন চাও কেন? শক্তি চাও যেনো কঠিনকে মোকাবেলা করতে পারো।
১৪. ভুল ক্ষমা করে দেওয়া যায়, যদি তা স্বীকার করে সামনে এগুতে পারো।
১৫. স্বনির্ভরতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
১৬. যদি ভাবতেই থাকো, কাজ করতে পারবে না। জীবনের লক্ষ্যের দিকে প্রতিদিন অন্তত এক পা করে এগোও।
১৭. যদি আগামীকাল ব্যর্থ হতে না চাও, তাহলে আজ সত্যটা বলো।
১৮. সবচেয়ে শক্ত ঠাড়মোড় গাছটাই সবার আগে ভেঙে পড়ে, কিন্তু কঠিন বাতাসেও নিজের নমনীয়তা দিয়ে টিকে থাকতে পারে বাঁশ বা উইলো গাছ।
১৯ খারাপ বা নেতিবাচক চিন্তাকে মনে জায়গা দিও না, এগুলো হলো আগাছা যা তোমার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করবে।
২০. সত্যিকারের বেঁচে থাকা মানে অন্যদের জন্য বেঁচে থাকা।
তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা অভিনেতা, গায়ক ও নাট্যব্যক্তিত্ব – অসিতবরণ মুখোপাধ্যায় – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বাংলা ও হিন্দি সিনেমার জগতে এক অতি পরিচিত নাম অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়। অসিতবরণ পুরো নাম অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়  একজন বিখ্যাত ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেতা, গায়ক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

 

অসিতাবরণ ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় ১৯১৩ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।  জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের কাছ থেকে তবলা শেখার পর তিনি কলকাতা বেতারে তবলা বাদক এবং পরে গ্রামোফোন কোম্পানিতে কাজ করেন।  তিনি তার সুন্দর কণ্ঠের জন্য মাঝে মাঝে গানও করতেন।  নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মেলনে তার তবলা বাজানো শোনার পর, পাহাড়ী সান্যাল তার সাথে কথা বলে এবং তাকে নতুন থিয়েটারে নিয়ে আসে পারফর্ম করার জন্য।  তার আগে অবশ্য তবলা-বাজনার সঙ্গে ফিল্ম জগতের সম্পর্ক শুরু হয়।
প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ‘কাশীনাথ’ ছবিতে।  হিন্দি ছবি “পরিণীতা” থেকে তিনি নায়ক হিসেবে সারা ভারতে পরিচিতি লাভ করেন এবং “Waps” চলচ্চিত্র থেকে তার জনপ্রিয়তা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।  সেই ছবিতে তাঁর কণ্ঠের গান হাম কোচোয়ান, হাম কোচোয়ান তাঁকে রাতারাতি বিখ্যাত করে তোলে।  ‘চলচল’, ‘পাঁচতপা’, ‘মা’-এর মতো ছবিতে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়।  বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের চোখে সেই সময়ে অসিতবরণ ছিলেন ‘আদর্শ নায়ক’।  চলচ্চিত্র জগতে তার ডাক নাম ছিল ‘কালোদা’।  মঞ্চ অভিনেতা হিসেবেও তার সুনাম ছিল।  ‘রাসারঙ্গ’ নামে একটি থিয়েটার দল গঠন করেন।  এই দলের মাধ্যমে তিনি শেষ জীবনে শোভাবাজার বি কে পালের বাড়িতে নুতু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সঙ্গীত আকারে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবের জীবন কাহিনী পরিবেশন করতেন।  তিনি ঠাকুরের আখ্যান পরিবেশন করতেন।  মাত্র চার বছরে টানা তিনটি সুপারহিট ছবিতে অসাধারণ গান গেয়ে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করার বিরল নজির স্থাপন করেন তিনি।

 

তাঁর অভিনিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকা সমূহ—-

 

প্রতিশ্রুতি, ওয়াপস, কাশীনাথ, নার্স, দৃষ্টিদান, সুধার প্রেম’, প্রত্যাবর্তন, পরিণীতা, তিন বাতি চার রাস্তা, মন্ত্রশক্তি, হ্রদ, চলাচল, বন্ধু, আলোর পিপাসা,  জোড়াদীঘির চৌধুরীপরিবার,  এন্টনী ফিরিঙ্গী, পৃথিবী আমাদের চায়,  স্মৃতিটুকু থাক,  খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, ৮০তে আসিওমানুষ না,  বাঘবন্দী খেলা, কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী, সূর্যসাক্ষী।

 

জীবনাবসান—

 

১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ শে নভেম্বর এই খ্যাতনামা গায়ক-নায়ক  কলকাতায় প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ভারতীয় সংবিধান দিবস – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

সংবিধান দিবস হল একটি দেশের সংবিধানকে সম্মাননা জানানোর জন্য সরকারি ছুটির দিন। সংবিধান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এটি লিখিত আবার কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে অলিখিত দলিল।

সাধারণভাবে সংবিধান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মকানুনকে বােঝায়। যে-কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে গেলে যেমন কতকগুলি সাধারণ নিয়মকানুনের প্রয়ােজন হয়, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায়। রাষ্ট্রের পরিচালনার জন্য একান্ত আবশ্যক এই নিয়মকানুনগুলি হল সংবিধান। সংবিধানের মৌলিক নীতিগুলি লিখিত বা অলিখিত, দুই-ই হতে পারে। এই কারণেও সংবিধানের শ্রেণিবিভাজন করা হয়ে থাকে।
দেশের শাসনব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলি যেক্ষেত্রে একটি দলিলের আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে লিখিত সংবিধান বলে। সাধারণত একটি সংবিধান পরিষদ বা কনভেনশন এসব সাংবিধানিক মৌলিক নীতিগুলিকে লিপিবদ্ধ করার কাজ করে থাকে। বিশ্বের প্রাচীনতম লিখিত সংবিধান হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান। সুইটজারল্যান্ড, ভারত, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের সংবিধান লিখিত সংবিধানের অন্যতম উদাহরণ।

 

 

ভারতে ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালিত হয়। দিনটি সম্বিধান দিবস নামেও পরিচিত। সংবিধান দিবস ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধান গৃহীত হওয়ার স্মরণে পালন করা হয়।

যে দিনটি ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল সেই দিনটিকে স্মরণ করার জন্য ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসাবে পালন করা হয়।সংবিধান গৃহীত হয় ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ সালে। এটি ২৬ জানুয়ারী ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়েছিল। ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ তারিখে সংবিধান এবং গণপরিষদ মিলিত হয়েছিল|উচ্চস্বরে ও দীর্ঘায়িত সমর্থনে  রাষ্ট্রপতির সংবিধান পাসকে স্বাগত জানানো হয়েছিল।গণপরিষদের সভাপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ সংবিধান পাশ করার প্রস্তাব দেওয়ার আগে তিনি বক্তৃতা ও মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেছিলেন মনে রাখবে যে এটি একটি অনন্য বিজয় যার রাস্তা আমরা জাতির পিতার দেখানো অনন্য পদ্ধতিতে অর্জন করেছি এবং আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তা রক্ষা করা এবং এটি সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য ফলপ্রসূ করে তোলা আমাদের উপর নির্ভর করে।
৯ ই নভেম্বর ২০১৫ সালে ডঃ বি আর আম্বেদকরের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীর বছরব্যাপী উদযাপনের সময় ভারত সরকার ২৬ শে নভেম্বরকে সংবিধান দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।সংবিধান পাশ হওয়ার পর প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী যোদ্ধা, অরুণা আসাফ আলী এবং প্রয়াত স্বাধীনতার বোন পূর্ণিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “জন-গণ-মন আধিনায়ক জয় হে, ভারত ভাগ্য বিধাতা” জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে গণপরিষদের ঐতিহাসিক অধিবেশন শেষ হয়। আগে এই দিনটি আইন দিবস হিসেবে পালিত হত। সংবিধানের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে এবং আম্বেদকরের চিন্তাভাবনা ও ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২৬ নভেম্বর দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

 

 

২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ভারত স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার ঠিক এক বছর আগে ১৯৪৬ সালে লেখা হয় ভারতের সংবিধান। যা এককথায় ‘সুপ্রিম রুল বুক’, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য। সংবিধান গণপরিষদ দ্বারা লিখিত, যার ড্রাফটিং কমিটির প্রধান ছিলেন বি.আর আম্বেদকর। ১৯৪৯ সালের আজকের দিনেই সংবিধান গ্রহন করেন গণপরিষদ। যদিও, আইনত তা বলবৎ হয়েছিল পরের বছর অর্থাৎ ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারী। সেই বছর থেকেই ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস বা জাতীয় আইন দিবস পালিত হয়।

সংবিধান দিবস প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর দিনটি পালিত হয়। দেশের নাগরিকের অধিকার এবং এই দেশের সংবিধানের সঙ্গে বড় আশ্চর্য ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে মাসের ২৬ নম্বর দিনটি! একটি আমাদের অতি সুপরিচিত জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখ, যা প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে প্রতি বছর। এ ছাড়াও ভারত, ভারতীয় নাগরিক এবং তার সংবিধানকে ঘিরে বছরের  নভেম্বর মাসের ২৬ নম্বর দিনটি উদযাপন করে থাকে।দিবসটির লক্ষ্য সংবিধানের গুরুত্ব ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভারতীয় সংবিধানের জনক বি .আর. আম্বেদকরের চিন্তাভাবনা ও ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া।

 

 

বি: দ্র:- বিশ্বের সমস্ত সার্বভৌম দেশগুলির মধ্যে ভারতীয় সংবিধান দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান। এটি ৪৪৮টি নিবন্ধ নিয়ে গঠিত এবং মোট ২৫ ভাগে বিভক্ত।  সংবিধানের মূল বইটি প্রেম বিহারী নারায়ণ রায়জাদা লিখেছিলেন। গোটা বইটি ইটালিক স্টাইলে লেখা হয়েছিল। সংবিধানের প্রতিটি পৃষ্ঠাসজ্জা করেছিলেন শান্তিনিকেতনের শিল্পীরা। যাদের মধ্যে ছিলেন রামমনোহর সিনহা এবং নন্দলাল বসু।

 

 

তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

শ্বেত বিপ্লবের স্থপতি ডক্টর ভার্গিস কুরিয়েনের ও জাতীয় দুগ্ধ দিবস – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর।  ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর দুধ শরীরের পুষ্টিতে অবদান রাখে।  প্রতিদিন দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে।  হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে এবং জ্ঞানীয় পতনের ঝুঁকি কমায়।  এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে।  দুধ খাওয়ার গুরুত্ব এবং এটি কীভাবে আমাদের উপকার করতে পারে সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর জাতীয় দুধ দিবস পালিত হয়।

 

জাতীয় দুধ দিবস হল ভারতে উদযাপিত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান।  দুধকে ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  ক্যালসিয়াম ছাড়াও, দুধ প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির একটি চমৎকার উৎস।  এটি হাড়, পেশী এবং শরীরের সামগ্রিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  এটি শক্তি প্রদান করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।  ভারত একটি বিশাল দুগ্ধ শিল্প চালায় যা ভারতের জিডিপির প্রায় ৫.৩% অবদান রাখে।  দুগ্ধ শিল্পে ডক্টর ভার্গিস কুরিয়েনের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ২৬ নভেম্বর জাতীয় দুধ দিবস পালিত হয়।

 

ভারতে জাতীয় দুধ দিবস কবে পালিত হয়?

 

এটি ২৬ নভেম্বর পালিত হয়। জাতীয় দুধ দিবস হল একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান যা ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েনের জন্মবার্ষিকী স্মরণে উদযাপন করা হয়।  তাকে সম্মান জানানোর জন্য এটি উদযাপন করা হয় কারণ তিনি শ্বেত বিপ্লব এনেছিলেন এবং ভারতের দুগ্ধ শিল্পকে একটি স্বনির্ভর শিল্পে পরিণত করেছিলেন।  তার অবদানের কারণে, তাকে “শ্বেত বিপ্লবের জনক” হিসাবেও উল্লেখ করা হয়।
এই দিনটি ন্যাশনাল ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (NDDB) এবং ইন্ডিয়ান ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন (IDA) দ্বারা শুরু হয়েছিল।  ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর প্রথম জাতীয় দুধ দিবস পালিত হয়।

 

ডাঃ ভার্গিস কুরিয়ান কে ছিলেন?

 

ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েন একজন ভারতীয় ছিলেন যার জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯২১ সালে। তিনি একটি সিরিয়ান খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  আমরা তাকে শ্বেত বিপ্লবের জনক হিসেবে গণ্য করি কারণ তিনি দুগ্ধ শিল্পের দৃশ্যপট পরিবর্তন করেছেন কারণ তিনি সফলভাবে বিশ্বের বিস্তৃত প্রকল্প অর্থাৎ অপারেশন ফ্লাডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।  একটি বিখ্যাত দুগ্ধ ব্র্যান্ড Amul তার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৯৮ সালে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী হয়ে ওঠে।
ভার্গিস কুরিয়েন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং পদ্মবিভূষণের মতো অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন।  তিনি বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার এবং কৃষি রত্ন দিয়েও ভূষিত হন।

 

জাতীয় দুধ দিবস থিম ২০২৩–

 

প্রতিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস একটি নির্দিষ্ট থিমকে ঘিরে পালিত হয়।  কিন্তু জাতীয় দুগ্ধ দিবসের কোনো প্রতিপাদ্য নেই।  এটি সাধারণভাবে দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উদযাপিত হয়, এবং দুগ্ধ শিল্পের পরিবর্তন এবং লোকেরা ভারতে দুধ বিপ্লবের জনককে শ্রদ্ধা জানায়।
যদিও বিশ্ব দুধ দিবসের একটি থিম রয়েছে।  এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে, বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৩ এর থিম হল ‘দুগ্ধ কীভাবে তার পরিবেশগত পদচিহ্ন কমিয়ে দিচ্ছে, সেইসঙ্গে পুষ্টিকর খাবার এবং জীবিকাও সরবরাহ করছে’।

 

জাতীয় দুধ দিবস: ইতিহাস ও তাৎপর্য—

 

জাতীয় দুগ্ধ দিবস ভারতের শ্বেত বিপ্লবের স্থপতি ডক্টর ভার্গিস কুরিয়েনের জন্মবার্ষিকীকে স্মরণ করে।  ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসার পর দুগ্ধ শিল্পে তার যাত্রা শুরু করেন।  কয়রা জেলা দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় লিমিটেড প্রতিষ্ঠায় তার অবদান প্রশংসিত।  কোম্পানিটি পরবর্তীকালে দেশের সবচেয়ে স্বীকৃত ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে বিকশিত হয়: আমুল।  ডক্টর কুরিয়েনও শ্বেত বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যা সম্পূর্ণরূপে সামরিক ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তন করেছিল।
এটি তিনটি পর্যায়ে অপারেশন ফ্লাডের মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা একটি দেশব্যাপী দুগ্ধ নেটওয়ার্ক তৈরি, দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সমস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।  ২০১৪ সালে, ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (NDDB), ইন্ডিয়ান ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন (IDA) এবং ২২টি রাজ্য-স্তরের দুগ্ধ ফেডারেশন ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েনের জন্মবার্ষিকীতে জাতীয় দুগ্ধ দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  তাই প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর বিশেষ দিনটি পালিত হয়।

দুধ বিপ্লবের কিছু সুবিধা নীচে তালিকাভুক্ত করা হল:

দুধ বিপ্লবের সুবিধা?

 

বিপ্লব দেশে দুধ উৎপাদন বাড়াতে ভারতকে সমর্থন করেছিল।

এটি দুগ্ধ শিল্পে কাজ করার মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ খাতকে আরও বেশি আয় করতে সহায়তা করেছে।

উচ্চ উৎপাদনের কারণে, অপারেশন খরচ হ্রাস পেয়েছে যা পণ্যগুলিকে ভোক্তাদের জন্য যুক্তিসঙ্গত করেছে।

২০১৬-১৭ সালে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী হয়ে ওঠে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This