Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা হিন্দু শক্তি দেবী। ইনি দেবী দুর্গার (পার্বতী) অপর রূপ। উপনিষদে তার নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও তার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। আবার পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর ও হুগলি জেলার চন্দননগর, গুপ্তিপাড়া জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা (পার্বতী) ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর।

জগদ্ধাত্রী কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের প্রাণাত্মিকা। কিন্তু এই জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কি তা নিয়ে রয়েছে বহু মতান্তর। ইদানীং কালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি তথা নদীয়ার ব্রাহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপূজার কিছু কাহিনী পাঠক মহলে খুবই জনপ্রির হয়ে উঠেছে। উইকিপিডিয়াতেও লেখা আছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জগদ্ধাত্রী পূজা সূচনার কথা। মজার কথা হল এই পূজা আদৌ কবে ও কোথায় শুরু হয়েছিল তার ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ কি? কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মতে এই পূজা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় (১৭১০ খৃষ্টাব্দ) দ্বারা শুরু হয়েছে। তিনি নাকি তৎকালীন নবাবের কাছে কোন এক কারণে দুর্গা পূজার সময়ে বন্দি হন এবং পরে দুর্গা পূজার পর ছাড়া পেলে স্বপ্নাদেশে পরের মাসের অর্থাৎ কার্তিক শুক্লা নবমীতে এই পূজার প্রচলন করেন। সময়কাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও অনুমানিক সূচনাকাল সর্বপ্রথম কৃষ্ণনগর। এর পর চন্দননগর বা অন্যান্য স্থানে জগদ্ধাত্রীপূজার সূচনা হয়।
এই কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ছিলেন গিরীশচন্দ্র রায়। তিনি নদীয়ার শান্তিপুরের কাছে ১০৮ঘর ব্রাহ্ম পরিবারকে থাকতে দিয়ে একটি গ্রামপত্তন করেন যার নাম “ব্রাহ্মশাসন”। তার পর থেকে শুরু হয় শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রী পুরো প্রচলন।
জগদ্ধাত্রী সম্পূর্ণ তান্ত্রিক দেবী। বঙ্গ তান্ত্রিক সিদ্ধপুরুষ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশবংশীয় মহাপন্ডিত তন্ত্রজ্ঞ সিদ্ধসাধক কৌলাবধূতাচার্য্য রঘুনাথ তর্কবাগীশ মহাশয় (কাল গ্রহ বিষৎ ষট্ চন্দ্র শাকে) অর্থাৎ ১৬১০ শতাব্দে বা ১৬৮১খৃষ্টাব্দে প্রায় ১৬০ টি তন্ত্র ও প্রায় শতাধীক বেদ বেদান্ত পুরাণাদি গ্রন্থ মন্থন করে রচনা করেন “আগমতত্ব বিলাস” নামক এক অনর্ঘ্য মহাপুস্তক। সেই পুস্তকে স্পষ্টতই জগদ্ধাত্রী দেবীর সম্পূর্ণ মূর্তিবিবরণ, পূজাকাল, পূজা পদ্ধতি, পূজার বীজ মন্ত্র,দীক্ষাবিধি সব সুনিপুণ ভাবে বিস্তৃত উল্লেখ করেছেন রঘুনাথ জি।
ইন্দ্রনারায়ণের দেহরক্ষার ৬-৭ বছর বহু আগে থেকে কৃষ্ণনগরে পূজার সূচনা হয়। চন্দননগরে আদি মা তথা আরো কিছু বারোয়ারী পূজা সহ আদি হালদার পাড়ার বারোয়ারীর পূজার সচিত্র তথ্য প্রকাশিত হয়। ১৯৬১সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় স্পষ্টতই উল্লেখ আছে যে সেই পূজা প্রায় ৪০০বছরে প্রাচীন। সেই হিসাবে বর্তমান কাল ধরে সেই পূজা ৪৬০বছরে প্রাচীন।  তাহলে প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় আদি হালদার পাড়ার পূজাটিও পূর্বে কোন এক সাধক পরিবারের পূজা ছিল। তারাও মানে যে আদিমা তাদের থেকেও প্রাচীন।অর্থাৎ আদিমায়ের প্রাচীনত্ব স্বীকৃত। ১৮২০সালে Friends of India নামক পত্রিকায় চন্দননগরে  জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ আছে। সেই স্থানে আছে রবার্টক্লাইভ চন্দননগরের চাউলপট্টিকে Granary of bengal বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবং সেই সময় আদিমায়ের পূজার কথাও ছিল। ক্লাইভের ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে চন্দননগর অভিযানের কথা সকলেই জানেন। এতদ্দ্বারা প্রমাণ হয় যে কৃষ্ণচন্দ্রের বহুপরে আদিমায়ের পূজা প্রচলিত ছিল। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকাল থেকেই বঙ্গদেশে জগদ্ধাত্রী পূজার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
জগদ্ধাত্রী পূজার নিয়মটি একটু স্বতন্ত্র। দুটি প্রথায় এই পূজা হয়ে থাকে। কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী অবধি দুর্গাপূজার ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পূজা করে থাকেন। আবার কেউ কেউ নবমীর দিনই তিন বার পূজার আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করেন। এই পূজার অনেক প্রথাই দুর্গাপূজার অনুরূপ।
জগদ্ধাত্রী পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি বিশিষ্ট উৎসব হলেও, দুর্গা বা কালীপূজার তুলনায় এই পূজার প্রচলন অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে ঘটে। অষ্টাদশ শতকে নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও দেবী জগদ্ধাত্রী যে বাঙালি সমাজে একান্ত অপরিচিত ছিলেন না, তার প্রমাণও পাওয়া যায়। শূলপাণি খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে কালবিবেক গ্রন্থে কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ করেন। পূর্ববঙ্গের বরিশালে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে নির্মিত জগদ্ধাত্রীর একটি প্রস্তরমূর্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে এই মূর্তিটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালার প্রত্নবিভাগে রক্ষিত। কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালের আগে নির্মিত নদিয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবমন্দির ও কোতোয়ালি থানার রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরের ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি লক্ষিত হয়। তবে বাংলার জনসমাজে কৃষ্ণচন্দ্রে পূর্বে জগদ্ধাত্রী পূজা বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। কেবল কিছু ব্রাহ্মণগৃহে দুর্গাপূজার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হত।

 

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব শৌচালয় দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।

 

আজ ‘বিশ্ব টয়লেট দিবস’। প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখটি বিশ্ব টয়লেট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শতভাগ টয়লেট সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করে থাকে।উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন।

 

বিশ্ব শৌচাগার দিবস বা বিশ্ব টয়লেট দিবস হল প্রতিবছর ১৯ নভেম্বরে পালিত জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস, যা বিশ্বব্যাপী পয়ঃনিষ্কাশন সংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুপ্রেরণা যোগায়। সারা বিশ্বে ৪.২ বিলিয়ন মানুষ “নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন” ছাড়াই বাস করে এবং প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ এর অন্যতম লক্ষ্য “সবার জন্য জল ও পয়ঃনিষ্কাশনের উপলব্ধতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা”।বিশেষ করে, লক্ষ্য ৬.২ “খোলা জায়গায় শৌচকর্ম বিলোপ করা ও পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যবিধি রপ্ত করা”। যখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য প্রতিবেদন ২০২০ প্রকাশিত হয়, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ অত্যন্ত শোচনীয়” এবং এটি “২০৩০ সালের এজেন্ডা, মানবাধিকার উপলব্ধি এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জনের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে”।
বিশ্ব শৌচালয় দিবস মানুষকে এই লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য পদক্ষেপ নিতে অবহিত, জড়িত এবং অনুপ্রাণিত করার জন্য কাজ করে। সিঙ্গাপুর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৩ সালে বিশ্ব শৌচালয় দিবসকে জাতিসংঘের একটি দাপ্রিক দিন হিসেবে ঘোষণা করে (১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সামনে এর প্রথম প্রস্তাব)। এর আগে, ২০০১ সালে বিশ্ব শৌচালয় সংস্থা (সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা) অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব শৌচালয় দিবস প্রতিষ্ঠা করেছিল।

সারা বিশ্বে ৪.২ বিলিয়ন মানুষ “নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন” ছাড়াই বাস করে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করে। খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করা বিশেষভাবে নারী এবং মেয়েদের পক্ষে কঠিন। নারীরা অধিক গোপনীয়তার জন্য অন্ধকারকে বেছে নেয়, কিন্তু তারপরেও রাতে একা থাকলে আক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।
এটা অনুমান করা হয় যে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ডায়রিয়া সংক্রমণের মোট ঘটনার ৫৮% অনিরাপদ পানি, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন এবং দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের (যেমন অপর্যাপ্ত হাত ধোয়া) কারণে হয়েছিল। এর ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী অর্ধ মিলিয়ন শিশু প্রতি বছর ডায়রিয়াতে মারা যায়। পয়ঃনিষ্কাশন প্রদানের ফলে ডায়রিয়াতে আক্রান্ত শিশুদের সম্ভাবনা ৭-১৭% এবং পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুর হার ৫-২০% হ্রাস পেয়েছে বলে অনুমান করা হয়।
২৮ জুলাই ২০১০ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পয়ঃনিষ্কাশন (শৌচালয়) সুবিধার অভাব জনস্বাস্থ্য, সম্ভ্রম এবং সুরক্ষার উপর প্রভাব ফেলে। মাটিবাহিত হেলমিনথিয়াসিস, ডায়রিয়া, শিস্টোসোমিয়াসিস এবং শিশুদের অস্বাভাবিক স্বল্পবৃদ্ধিসহ বহুবিধ রোগের কারণ ও বিস্তারের সঙ্গে শৌচালয়ের অভাব অনেকাংশে সম্পর্কিত।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ এর লক্ষ্য হল সকলের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন বা স্যানিটেশন সরবরাহ করা।

 

।।সংগৃহীত: উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গোটা বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস (International Men’s Day)।

আজ ১৯ নভেম্বরআন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস । দিনটি আমাদের সমাজের প্রতি পুরুষদের এই দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।  পুরুষদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও এই দিনটি পালন করা হয়।  পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও তাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক চাপ মোকাবেলা করতে হয়।  অফিসে কাজের চাপ ছাড়াও বাড়ির নানা দায়িত্ব, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, ঋণের বোঝা নিয়ে ভাবতে হয় তাদের।  সারাদিন এত চাপ সত্ত্বেও তারা হাসতে থাকে।  পরিবারের অন্যদের খুশি রাখুন।  আমাদের চারপাশে এমন পুরুষরাই প্রকৃত পুরুষ।  তারাও আমাদের রোল মডেল।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গোটা বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস (International Men’s Day)। সমাজে পুরুষের অবদান কতটা উল্লেখযোগ্য, তা স্মরণ করে প্রতি বছর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। গোটা বিশ্ব জুড়ে ১৯ নভেম্বর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। পরে পালটে যায় উদযাপনের দিন। তবে পুরুষ দিবস উদযাপনের দিনের বদল হলেও,  শুরুর দিন থেকে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেক বছর এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা হয় সাড়ম্বরে। থমাস ওসস্টার প্রথম ১৯৯২ সালে পুরুষ দিবস পালন করেন। প্রথমে ৭ ফেব্রুয়ারি এই দিনটিকে পালন করা হলেও পরে ১৯ নভেম্বর তারিখে পালটে ফেলা হয় এই বিশেষ দিনের তারিখ।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখে পালিত হয়। সারা বিশ্বব্যাপী পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে।
পুরুষ দিবস পালনের প্রস্তাব প্রথম করা হয় ১৯৯৪ সালে। তবে ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯২২ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে পালন করা হতো রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে। এই দিনটি পালন করা হতো মূলত পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে।
২০০২ সালে দিবসটির নামকরণ করা হয় ‘ডিফেন্ডার অফ দ্য ফাদারল্যান্ড ডে’। রাশিয়া, ইউক্রেনসহ তখনকার সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এই দিবসটি পালন করা হতো। বলা যায়, নারী দিবসের অনুরূপভাবেই দিবসটি পালিত হয়। ষাটের দশক থেকেই পুরুষ দিবস পালনের জন্য লেখালেখি চলছে। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস নিজের লেখায় এ দিবসটি পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নব্বই দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ দিবস পালনের জন্য বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যদিও অনুষ্ঠানগুলো খুব একটা প্রচার পায়নি। অংশগ্রহণও ছিল কম। পরবর্তী সময়ে ১৯ নভেম্বর পুরো বিশ্বে পুরুষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসম্পাদনা
এই দিবসের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছেঃ
পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সাম্যতার প্রচার;
পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা;
পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী;
পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদ্‌যাপন;
সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষ ও বালকদের অবদানকে তুলে ধরা।
গোটা বিশ্বে (World) প্রায় ৭০টি দেশে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ভারত (India), আমেরিকা (US), রাশিয়া, চিন (China), ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া সহ একাধিক দেশে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। সমাজে পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি স্পষ্ট করতেই এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা হয়। একজন পুরুষ হিসেবে সমাজে তাঁর দায়িত্ব, কর্তব্য কতটা এবং তিনি কীভাবে পালন করবেন, তা বোঝাতেই এই দিনটিকে উদযাপন করা হয়।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস মূলত ৬টি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি। কর্মক্ষেত্রে অবদানের পাশাপাশি সমাজ, সম্প্রদায়, পরিবার, বিবাহ, শিশু যত্ন এবং পরিবেশে পুরুষদের অবদান উদযাপিত হয় এদিন। এছাড়া, পুরুষের সামাজিক, মানসিক, শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক সুস্থতার যত্ন নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচিত হয় এমনকি, নানা ক্ষেত্রে তাদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়ও তুলে ধরা হয় এদিন।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস লিঙ্গ সমতার কথা বলে। তাছাড়া, একটি উন্নত ও নিরাপদ বিশ্ব তৈরির লক্ষ্যেও পালিত হয় দিনটি। পুরুষ দিবসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ এবং পুরুষদের সচেতনতা প্রচার করা।
।।তথ্য সংগৃহীত: উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ছট পূজা কি? কি ভাবে ও কখন এই পূজার  উৎপত্তি?

 

দীপাবলির পরই ছট। ছটে সূর্যকে পুজো করা হয়। ছটে কোনও মূর্তিপুজো হয় না। ছট পূজা হিন্দু বর্ষপঞ্জীর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে উদযাপিত একটি প্রাচীন হিন্দু পার্বণ। সূর্য্যোপাসনার এই অনুপম লৌকিক উৎসব পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং নেপালের তরাই অঞ্চলে পালিত হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে এই পার্বণ প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত হয়েছে। ছট পূজা সূর্য্য ও তার পত্নী ঊষার (ছটী মাঈ) প্রতি সমর্পিত হয়, যেখানে তাকে পৃথিবীতে জীবনের স্রোত বহাল রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও আশীর্বাদ প্রদানের কামনা করা হয়। ছটে কোনও মূর্তি পূজা করা হয় না।

 

 

 

 

এই পূজার কখন উৎপত্তি হয়েছিল তার কোনো স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায় না। কিন্তু কিছু পৌরাণিক আখ্যানে ছট পূজার নীতি নিয়মের সঙ্গে মিল থাকা উৎসব দেখা যায়। ঋগ্বেদের শ্লোকসমূহে সূর্য্যবন্দনার স্পষ্ট নিদর্শন আছে। ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে গ্রীক, রোমান, মিশরীয় ইত্যাদির সভ্যতাসমূহেও সূর্য্য মূখ্য দেবতা ছিলেন। সেভাবে ঊষাও বৈদিক দেবী। বেদে উল্লেখ থাকা মতে, তিনি হলেন পূর্বের দেবী এবং অশ্বিনীকুমারদের মাতা। অগ্নি, সোম এবং ইন্দ্র ইত্যাদি দেবতা সকলের পরে তিনি হলেন অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈদিক দেবী। রাত্রি হল তার ভগ্নী যাকে হয়তো পরে পৌরাণিক যুগে সন্ধ্যা এবং ছায়ারূপে কল্পিত করা হয়েছে। রামায়ণে উল্লেখ থাকা মতে, রামের কুলদেবতা সূর্য্যের জন্য রাম এবং সীতা এই পূজা করেছিলেন। মহাভারতে উল্লেখ থাকা মতে, দ্রৌপদী ধম্য ঋষির উপদেশ মতে সূর্য্যকে আরাধনা করে অক্ষয় পাত্র লাভ করেছিলেন। সঙ্গে মহাবীর কর্ণের কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য্যের উপাসনা করা উল্লেখ আছে। আজও ছট পূজা উদ্‌যাপন করা সকল মানুষকে কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য বন্দনা করতে দেখা যায়। অন্য এক আখ্যান মতে, পাণ্ডু ঋষি হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্তের কারণে পত্নী কুন্তীর সঙ্গে বনে থাকায় পুত্র প্রাপ্তির জন্য সরস্বতী নদীর পারে সূর্য্য উপাসনা এবং ব্রত করেছিলেন।

 

 

 

 

পুরাণ মতে, প্রথম মনু প্রিয়বতের কোনো সন্তান ছিল না। তাই তার পিতা কাশ্যপ মুনি পুত্রেষ্ঠী যজ্ঞ করতে পরামর্শ দেন। এর ফলে তার পত্নী মালিনী একটি মৃত পুত্র জন্ম দিলেন। মৃত শিশু দেখে তারাও বিলাপ করতে থাকায় আকাশ থেকে এক দিব্য কন্যা প্রকট হলেন। তিনি নিজকে ব্রহ্মার মানস পুত্রী বলে পরিচয় দিলেন এবং মৃত পুত্রকে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে সে জীবিত হয়ে উঠল। এখনও ঊষা দেবী বা ছটি মায়ের মূর্তি কোলে কিছু থাকা অবস্থায় কল্পনা করা হয় এবং পুত্র প্রাপ্তির জন্য ব্রত উপাসনা করা হয়।
তদুপরি লৌকিক দেবী হিসাবে অন্য বহু লোককথা আখ্যান হিসাবে মানুষের মুখে মুখে চলে আসছে।

ভারতে সূর্য্যোপাসনার জন্য প্রসিদ্ধ পার্বণ হল ছট পূজা। এটি বছরে দুবার পালিত হয় — প্রথমবার চৈত্র মাসে (চৈতী ছট) এবং দ্বিতীয়বার কার্তিক মাসে (কার্তিকী ছট)। পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধি তথা মনোবাঞ্ছিত ফল লাভের জন্য এটি পালন করা হয়। নারী-পুরুষ সমানভাবে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
ছট পূজায় কোনো মূর্তি উপাসনার স্থান নেই। এতে ডুবিত এবং উদিত সূর্যকে পূজা করা হয়। আজকাল পূজা অনুষ্ঠিত করা কমিটিগুলিকে সকল ঘাটের কাছে সূর্য এবং ঊষার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে দেখা যায়। পূজার দুদিন আগে লাউ ভাত এবং একদিন আগে খির ভাত খাওয়ার সঙ্গে ৩৬ ঘণ্টার এক কঠোর ব্রত পালন করতে হয়। পূজায় সম্পূর্ণ সাত্বিক নৈবেদ্য ইত্যাদি কুলো, ডলা বা পাচিতে রেখে উৎসর্গ করা হয়। বিভিন্ন ফলমূল, মিঠাই ইত্যাদির সঙ্গে পরম্পরাগত বিহারী লোকখাদ্য “ঠেকুয়া” প্রস্তুত করে নৈবেদ্যরূপে প্রদান করা হয়। এই সময় নুন-মশলাবর্জিত সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করা হয়। পূজার শেষে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের প্রসাদ বিতরণ এই পূজার অন্যতম নিয়ম। এই পূজায় অনেককে বাগরি নদীর ঘাটে গিয়ে পূজা করার দৃশ্যও দেখতে পাওয়া যায়। বর্তমানে এই পূজা এক সার্বজনীন রূপ পেয়েছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ এই পূজার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে পূজায় সামিল হতে শুরু করেছেন।

 

 

 

 

চারদিনের এই ব্রতের প্রথম দিনে ব্রতধারী বাড়িঘর পরিষ্কার করে স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ ভোজন করেন (যাকে নহায়-খায় বলা হয়)। পরদিন থেকে উপবাস শুরু হয়; ব্রতী দিনভর নির্জলা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় পূজার শেষে ক্ষীরের ভোগ গ্রহণ করেন (এটি খরনা নামে পরিচিত)। তৃতীয় দিনে নিকটবর্তী নদী বা জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে অন্যান্য ব্রতীর সাথে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য অর্থাৎ দুধ অর্পণ করা হয়। ব্রতের শেষদিনে পুনরায় ঘাটে গিয়ে উদীয়মান সূর্যকে পবিত্র চিত্তে অর্ঘ্যপ্রদানের পর উপবাসভঙ্গ করে পূজার প্রসাদরূপে বাঁশ নির্মিত পাত্রে সুপ, গুড়, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, ঠেকুয়া, ভাতের নাড়ু এবং আখ, কলা, মিষ্টি লেবু প্রভৃতি ফল জনসাধারণকে দেওয়া হয়।

ছট পুজোর বিধির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন দিক হল ৩৬ ঘণ্টার উপবাস। কার্তিক মাসে বিভিন্ন রীতি পালনের মাঝে নির্জলা এই উপবাস ভঙ্গ করেই সূর্যদেবকে প্রথম জল অর্পণ করে শুরু হয়ে ছটের মহাপর্ব। সাধরাণ বিবাহিত মহিলারা দাম্পত্য ও ,সন্তানের সমৃদ্ধির জন্য এই ছটের বিধি পালন করেন। তবে, অনেক সময় পুরুষদেরও এই বিধি পালন করতে দেখা যায়। পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, নেপাল ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় এমন ছট পুজোর আসর দেখা গিয়েছে বহুবার।

 

 

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ জাতীয় মৃগীরোগ সচেতনা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

মস্তিস্কের ব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এই রোগের আশেপাশের পৌরাণিক কাহিনীগুলিকে ধ্বংস করতে ভারতে প্রতি বছর ১৭ নভেম্বর জাতীয় মৃগী দিবস পালিত হয়।

একটি মৃগীরোগ হঠাৎ করে আসতে পারে এবং এটি অনুভব করা ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক হতে পারে কারণ তারা নড়াচড়া, তারা যে শব্দ করছে বা তারা যে সংবেদনগুলি অনুভব করছে তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।  মৃগীরোগ হল একটি মস্তিষ্কের ব্যাধি যা মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যকলাপ বা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকারিতায় অস্থায়ী পরিবর্তনের কারণে খিঁচুনি হতে পারে।  আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউরোলজিক্যাল সার্জনদের মতে, মস্তিষ্ক ক্রমাগত একটি সুশৃঙ্খল প্যাটার্নে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক আবেগ তৈরি করে যা মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষের নেটওয়ার্ক বরাবর ভ্রমণ করে।  মৃগী রোগে, এই বৈদ্যুতিক ছন্দগুলি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, এবং স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক প্যাটার্নটি হঠাৎ এবং সুসংগত বৈদ্যুতিক শক্তির বিস্ফোরণ দ্বারা ব্যাহত হয় যা তাদের চেতনা, নড়াচড়া বা সংবেদনকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রভাবিত করতে পারে।  মৃগীরোগ অনেক ধরনের হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী উপসর্গের তারতম্য হতে পারে।  মায়োক্লিনিকের মতে, কিছু লোক খিঁচুনির সময় সচেতনতা হারাতে পারে যখন অন্যরা কয়েক সেকেন্ডের জন্য ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারে।  কিছু ধরনের মৃগীরোগেও মানুষ তাদের হাত বা পা নাড়াতে পারে – নড়াচড়া যা খিঁচুনি নামে পরিচিত।  স্যার আইজ্যাক নিউটন, চার্লস ডিকেন্স, এলটন জন, নিল ইয়াং, মার্টিন কেম্প থেকে শুরু করে রিচার্ড বার্টন পর্যন্ত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মৃগীরোগের সাথে লড়াই করেছেন।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে।  ভারতে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় ১৭ই নভেম্বর ২০২৩-এ। মৃগীরোগ হল মস্তিষ্কের একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি যা বারবার ‘খিঁচুনি’ বা ‘ফিট’ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।  নিউরনে (মস্তিষ্কের কোষ) আকস্মিক, অত্যধিক বৈদ্যুতিক স্রাবের ফলে খিঁচুনি হয়।  এই অবস্থা যে কোনো বয়সে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে এবং প্রতিটি বয়সের স্বতন্ত্র সমস্যা রয়েছে। WHO-এর মতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ মৃগী রোগে আক্রান্ত যার মধ্যে ৮০% মানুষ উন্নয়নশীল দেশের।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩—

 

নীচে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ তারিখ:

২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালন করা হয়।

 

জাতীয় মৃগী দিবসের ইতিহাস—

 

ভারতে মৃগী রোগের অবস্থা কমাতে ভারতের এপিলেপসি ফাউন্ডেশন দ্বারা প্রথম জাতীয় মৃগী দিবস পালন করা হয়।  ভারতে এপিলেপসি ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা।  মুম্বাইতে অবস্থিত ডাঃ নির্মল সূর্য দ্বারা এপিলেপসি ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া গঠিত হয়েছিল।  চ্যারিটি অনেক লোককে সাহায্য করে যারা মৃগী রোগে ভুগছে এবং তারা মানুষের মধ্যে মৃগী রোগের ভয় কমাতে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।

 

মৃগী রোগের কারণ—

 

প্রসবপূর্ব এবং প্রসবকালীন আঘাত থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি, জন্মগত অস্বাভাবিকতা, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, স্ট্রোক এবং ব্রেন টিউমার, মাথায় আঘাত/দুর্ঘটনা, শৈশবকালে দীর্ঘায়িত উচ্চ জ্বর।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ থিম—

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ এর থিম হল “কলঙ্ক”। National Epilepsy Day ২০২৩ Theme is “Stigma”.  একবার জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ থিম প্রকাশিত হলে এটি জাতীয় মৃগী দিবস 2023 থিম পৃষ্ঠায় আপডেট করা হবে।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ তাৎপর্য—

 

আসুন জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ এর তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে দেখি।

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় মানুষের মধ্যে মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য।

অনেক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মৃগীরোগের কারণ এবং এর লক্ষণগুলি প্রচার করতে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ উদযাপন করে।

আমরা জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ উদযাপনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি এবং আমাদের বন্ধুদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে এবং অন্যদের সাহায্য করার চেষ্টা করতে পারি।

অনলাইনের মাধ্যমে আমরা মৃগীরোগ, এর কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে আরও জানতে পারি এবং অন্যদের শিখতে পারি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জানুন আনফ্রেন্ড দিবস কি, কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা।

দিনটি প্রচলনের উদ্দেশ্য ছিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ও বিরক্তিকর ব্যক্তিকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তিনি মনে করতেন, সামাজিকমাধ্যমে এমন অনেকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত হয়ে যান, যাদের আমরা চিনি না। এমনকি তাদের সঙ্গে আমাদের কখনো যোগাযোগও হয় না। তাই তাদের থেকে পরিত্রাণ পেতে আনফ্রেন্ড দিবসের প্রচলন।

 

ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে (NUD) হল একটি অনানুষ্ঠানিক ছুটির দিন যা প্রকৃত বন্ধু নয় এমন অন্যান্য Facebook ব্যবহারকারীদের বন্ধুত্বমুক্ত করার প্রচার করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।  সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিশ্বের যেকোন স্থানে, প্রায় যে কাউকে অ্যাক্সেস প্রদান করে৷  যাইহোক, এই সহজ বিশ্বব্যাপী অ্যাক্সেস ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা অপব্যবহার এবং অন্যের জাঙ্ক পোস্ট দ্বারা অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলার জন্য উন্মুক্ত করে।  এই ডিজিটাল যুগে, এটি অপরিহার্য যে পরিচয়গুলি সুরক্ষিত থাকবে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করা সময়কে কমিয়ে আনা হবে এবং মুখোমুখি মানুষের মিথস্ক্রিয়া দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়াসে ১৭ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে টিভি ব্যক্তিত্ব জিমি কিমেল দ্বারা জাতীয় আনফ্রেন্ড ডে মূলত ধারণা করা হয়েছিল এবং প্রস্তাব করেছিলেন।  কিমেল বিশ্বাস করেন যে এমন অনেক ফেসবুক অপরাধ রয়েছে যা কাউকে বন্ধুত্বহীন করতে পারে, যার মধ্যে কয়েকটির মধ্যে রয়েছে, খুব বেশি পোস্ট করা, বানান পরীক্ষা করা খুব কম, একই ধরণের সামগ্রী পুনরাবৃত্ত পোস্ট করা, প্রশ্ন করার আগে গুগলিং না করা, সারাক্ষণ Facebook এ থাকা  এবং গেমের জন্য অ্যাপ-মধ্যস্থ Facebook অনুরোধ পাঠানো।  বিরক্তিকর অপরাধীদের আনফ্রেন্ড করার পাশাপাশি, যাদের সাথে আপনার আর স্থির যোগাযোগ নেই এবং আপনার তথ্য এবং পোস্টগুলিতে অ্যাক্সেস থাকতে পারে এমন কোনো অজানা ব্যবহারকারীকে আনফ্রেন্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷

 

জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবসের ইতিহাস—

 

“আনফ্রেন্ড”…হয়তো আমাদের শুধু পরিষ্কার করে শুরু করা উচিত যে কীভাবে এবং কখন “বন্ধু থেকে (আন)ফ্রেন্ড” এমনকি শুরু করার জন্য একটি ক্রিয়া হয়ে উঠেছে, “বন্ধু” শব্দটি একটি সাধারণ পুরানো বিশেষ্য হওয়ার শত শত বছর পরে আপনি কাউকে বর্ণনা করতেন  আপনার সাথে একটি ভাল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং “আনফ্রেন্ড” শব্দটি এমনকি অস্তিত্বের ক্ষেত্রেও ছিল না।  অক্সফোর্ড ডিকশনারির 2009 সালের শব্দ ছিল, আসলে, “আনফ্রেন্ড”, যা এটি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে, “ক্রিয়া – ফেসবুকের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটে কাউকে ‘বন্ধু’ হিসাবে সরিয়ে দেওয়া।”
ক্রিস্টিন লিন্ডবার্গ, অক্সফোর্ডের ইউএস ডিকশনারি প্রোগ্রামের সিনিয়র লেক্সিকোগ্রাফার, ডিকশনারির বরং বিতর্কিত পছন্দ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “এটির মুদ্রা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘায়ু উভয়ই রয়েছে।  অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্রেক্ষাপটে, এর অর্থ বোঝা যায়, তাই আধুনিক ক্রিয়াপদ রূপ হিসেবে গ্রহণ করা এটিকে বছরের সেরা শব্দের জন্য একটি আকর্ষণীয় পছন্দ করে তোলে।”
কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেল ২০১৪ সালে ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে প্রতিষ্ঠা করেন সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে মোকাবেলা করার জন্য যা পোকেমন কার্ডের মতো ‘বন্ধু’ সংগ্রহ করে, একটি হাস্যকর পরিমাণ ‘বন্ধু’ সংগ্রহ করে যা তারা খুব কম সময়েই জানে না।  ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে-তে দূরবর্তী পরিচিতদের থেকে পরিত্রাণ পাওয়া আপনার ইন্টারনেট অভিজ্ঞতাকে স্ট্রীমলাইন করতে সাহায্য করতে পারে, আপনাকে আপনার প্রোফাইল ব্যবহার করতে সাহায্য করতে পারে এমন লোকেদের সাথে যোগাযোগ রাখতে, যাদের আপনি সত্যিই পছন্দ করেন এবং ‘বন্ধু’-এর প্রকৃত সংজ্ঞা রক্ষা করতে পারেন।

 

কীভাবে জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবস উদযাপন করবেন—

 

প্রথমত, সেইসাথে কিছুটা হাস্যকরভাবে, সেই দিনের জন্য একটি ফেসবুক পৃষ্ঠা রয়েছে যা আপনি ‘লাইক’ করতে পারেন, যা কাকে আনফ্রেন্ড করতে হবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন মানদণ্ডের পরামর্শ দেয়।  এই লোকেদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা ক্রমাগত আপনাকে তাদের অর্থ ধার দিতে বলছে যে আপনি আর কখনও দেখতে পাবেন না, এই সপ্তাহে তারা যে পৃষ্ঠায় আচ্ছন্ন হোক না কেন আপনাকে ‘লাইক’ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, বা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ছোট জিনিস সম্পর্কে অভিযোগ করছে।  তাহলে তুমি কিসের জন্য অপেক্ষা করছ?
মোট অপরিচিত ব্যক্তিদের এবং আপনার ‘বন্ধু’ তালিকায় বাদ দেওয়ার এই বিচার-বিহীন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবস উদযাপন করুন!  একটু বেশি সিরিয়াস নোটে, জাতীয় আনফ্রেন্ড ডে আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে লোকেরা কতটা সুপারফিশিয়াল সম্পর্কে জড়ায়, ‘লাইক’, ‘রিটুইট’ ইত্যাদি সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য একটি ভাল সময় হতে পারে। আপনি কি সম্ভবত লোকেদের অবহেলা করছেন?  আপনার জীবনে কে আপনাকে সত্যিই ভালবাসে এবং আপনার মঙ্গলের কথা চিন্তা করে আপনার ল্যাপটপের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে?

আপনি কি সমস্ত ধরণের ক্রিয়াকলাপের ছবি তুলছেন যা আপনার প্রকৃত বন্ধু, পরিবার বা উল্লেখযোগ্য অন্যদের সাথে উপভোগ করা উচিত যাতে আপনি সেগুলিকে দ্রুত Facebook এ আপলোড করতে পারেন এবং যে ব্যক্তিদের আপনি সত্যিই খুব বেশি পছন্দ করেন না তাদের কাছ থেকে ‘লাইক’ অর্জন করতে পারেন?  এই প্রশ্নগুলি যতই বোকা লাগতে পারে, মানুষ প্রকৃত মানুষের যোগাযোগ এবং মিথস্ক্রিয়াকে ‘পছন্দ’ ইত্যাদি দিয়ে প্রতিস্থাপন করে আমাদের সমাজে একটি বৈধ সমস্যা হয়ে উঠছে।  এটি আপনার জীবনে ঘটছে না তা নিশ্চিত করতে এই জাতীয় বন্ধু দিবসে সময় নিন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ কার্তিক পুজো, জানুন এই এই পুজোর ইতিহাস সম্পর্কে কিছু কথা।

কার্তিকেয় বা কার্তিক অন্য নাম স্কন্দ, হিন্দু যুদ্ধদেবতা। তিনি পরম পুরুষ শিব ও আদি পরাশক্তি পার্বতীর সন্তান। কার্তিক বৈদিক দেবতা নন; তিনি পৌরাণিক দেবতা। প্রাচীন ভারতে সর্বত্র কার্তিক পূজা প্রচলিত ছিল। ভারতে ইনি এক প্রাচীন দেবতা রূপে পরিগণিত হন। অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর মতো কার্তিকও একাধিক নামে অভিহিত হন। যথা – কৃত্তিকাসুত, আম্বিকেয়, নমুচি, মুরুগান, শিখিধ্বজ, অগ্নিজ, বাহুলেয়, ক্রৌঞ্চারতি, শর্জ, তারকারি বা তারকাসুরমর্দী, শক্তিপাণি, বিশাখ, ষড়ানন, গুহ, ষান্মাতুর, কুমার, সৌরসেনা, দেবসেনাপতি গৌরীসুত, আগ্নিক,ভৌরবসূতানুজ ইত্যাদি।
পুরাণ অনুসারে কার্তিক গাত্র হলুদবর্ণের। তিনি চিরকুমার। তবে পুরাণ মতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁর বিবাহের উল্লেখও পাওয়া গেছে। কার্তিকের বাহন ময়ূর।সৌন্দর্য এবং শৌর্য এই দুটি বৈশিষ্ট্যই ময়ূরের মধ্যে বিদ্যমান। কার্তিকের ছয়টি মাথা।তাই তিনি ষড়ানন। পাঁচটি ইন্দ্রিয় অর্থাৎ চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বক ছাড়াও একাগ্র মন দিয়ে তিনি যুদ্ধ করেন। । তাঁর হাতে থাকে বর্শা-তীর-ধনুক।
কারো মতে মানব জীবনের ষড়রিপু- কাম(কামনা), ক্রোধ (রাগ), লোভ(লালসা),মদ(অহং), মোহ (আবেগ), মাত্সর্য্য (ঈর্ষা)কে সংবরণ করে দেব সেনাপতি কার্তিক যুদ্ধক্ষেত্রে সদা সজাগ থাকেন।

বাংলায় কার্তিক সংক্রান্তির সাংবাৎসরিক কার্তিক পূজার আয়োজন করা হয়। পূর্বের তুলনায় এখন কার্তিক জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে । পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়া-বাঁশবেড়িয়া কাটোয়া অঞ্চলের কার্তিক পূজা বিশেষ প্রসিদ্ধ। এছাড়া বাংলার গণিকা সমাজে কার্তিক পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। দুর্গাপূজা সময়ও কার্তিকের পূজা করা হয়।কলকাতাতে তার মন্দির আছে।
কার্তিক ঠাকুরের সাথে ছয় সংখ্যা জড়িয়ে আছে৷ সেজন্য হয়ত স্ত্রী ষষ্ঠীর সাথে তার মিল৷তিনি বাচ্চা বড় না হওয়া অব্দি তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেন ৷তার কৃপা পেলে পুত্রলাভ , ধনলাভ হয় ৷সেজন্য বিয়ে হয়েছে কিন্তুু এখনও সন্তান আসেনি এমন দম্পতির বাড়ির সামনে কার্তিক ঠাকুরের মূর্তি ফেলা হয় । কাটোয়ার কার্তিক লড়াই খুব বিখ্যাত।  কাটোয়ার কার্তিক পুজো বিখ্যাত বলেই এখানে এক পুজোর সঙ্গে অন্য পুজোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কার্তিক লড়াই বলে । কার্তিক পুজোর দিন পথে কাটোয়ায় এক বড়সড় মিছিল নামে । সব পুজো-মণ্ডপের দলবল তাদের ঠাকুর নিযে বেরোয় শোভাযাত্রায়। চলে লড়াই কার ঠাকুর আগে যাবে।এ যুদ্ধ রীতিমতো লাঠিসোটা, এমনকী তরোয়াল নিয়েও চলে। হালিশহরের’জ্যাংড়া কার্তিক’ ও ‘ধুমো কার্তিক’ পূজা ও খুব বিখ্যাত। এভাবেই যুদ্ধ আর সন্তান উৎপাদন- দুইয়ের অনুষঙ্গেই কার্তিককে স্মরণ করে বাঙালি।

ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে কার্তিকের পূজা অধিক জনপ্রিয়। তামিল ও মালয়ালম ভাষায় কার্তিক মুরুগান বা ময়ূরী স্কন্দস্বামী নামে এবং কন্নড় ও তেলুগু ভাষায় তিনি সুব্রহ্মণ্যম নামে পরিচিত। তামিল বিশ্বাস অনুযায়ী মুরুগান তামিলদেশের (তামিলনাড়ু) রক্ষাকর্তা। দক্ষিণ ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও মরিশাস – যেখানে যেখানে তামিল জাতিগোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান সেখানেই মুরুগানের পূজা প্রচলিত। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাংশে কার্তিকেয়ের উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত কথারাগম (সিংহলি ভাষায় “কথারাগম দেবালয়”) মন্দিরে হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ভারতে সর্বাধিক পূজিত দেবতাদের মধ্যে অন্যতম।

জন্ম  ইতিহাস।

 

তারকাসুরকে বধের জন্য তার জন্ম হয়েছিল। পরমেশ্বর শিব ও পরমেশ্বরী পার্বতীর যোগের মাধ্যমে আত্ম মিলন হয়।ফলে এক অগ্নিপিণ্ডের সৃষ্টি হয়। রতির অভিশাপের সম্মান রক্ষার্থে গর্ভে সন্তান ধারণ করেননি মা পার্বতী।তাছাড়া ঈশ্বর কখনও মনুষ্যের ন্যায় সন্তান জন্ম দেন না। অগ্নিদেব সেই উৎপন্ন হওয়া নব্য তেজময় জ্যোতিপিন্ড নিয়ে পালিয়ে যান।ফলে মা পার্বতী যোগ ধ্যান সমাপ্তি হতেই ক্রুদ্ধ হন।অগ্নিদেব ঐ অগ্নিপিণ্ডের তাপ সহ্য করতে না পেরে গঙ্গায় তা নিক্ষেপ করে। সেই তেজ গঙ্গা দ্বারা বাহিত হয় ও সরবনে গিয়ে এক রূপ বান শিশুর জন্ম দেয়। জন্মের পর কুমার কে কৃতিকা গণ স্তন্য পান করালে তিনি কার্তিক নামে অভিহিত হন ।পরে দেবী পার্বতী শিশু স্কন্দ কে কৈলাসে নিয়ে আসেন।

 

বিবাহ 

 

ভগবান কার্তিকের স্ত্রী হলেন দেবসেনা ও বালি(বল্লী)। সুরাপদ্মনকে বধ করার পর দেবরাজ ইন্দ্র নিজ কন‍্যা দেবসেনার সঙ্গে কার্তিকের বিয়ে দেন। পরে নম্বিরাজের কন্যা বালি-র সঙ্গে কার্তিকের বিবাহ হয়। তবে, দক্ষিণ ভারতে তিনি খুব জনপ্রিয়। সেখানে তার অসংখ্য মন্দির আছে।তবে তামিলনাড়ুর ৬ টি মন্দির খুব পবিত্র। সেগুলি হল-
১।স্বামীমালাই মুরুগান মন্দির
২। পালানী মুরুগান মন্দির
৩।থিরুচেন্দুর মুরুগান মন্দির
৪।থিরুপ্পারামকুমারাম মুরুগান মন্দির
৫।থিরুথানি মুরুগান মন্দির
৬।পাঝামুদিরচোলাই মুরুগান মন্দির ।

পুজো সম্বন্ধীয় কিছু প্রথা।।

 

কার্তিক ঠাকুরের সঙ্গে ছয় সংখ্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আর সেই কারণেই হয়ত স্ত্রী ষষ্ঠীর সাথে তার মিল৷ যতক্ষণ না বাচ্চা বড় হচ্ছে ততদিন অবধি তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেন ৷কথিত আছে কার্তিক ঠাকুরের কৃপা পেলে পুত্রলাভ এবং ধনলাভ হয়। সেজন্য সদ্য বিয়ে হয়েছে অথবা বিয়ের এক বছর হয়ে গেছে কিন্তুু এখনও সন্তান আসেনি এমন দম্পতির বাড়ির সামনে কার্তিক ঠাকুরের মূর্তি ফেলা একটি জনপ্রিয় লোকাচারের মধ্যে পড়ে ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস প্রতি বছর 16 নভেম্বর সারা বিশ্বে পালিত হয়। অসহিষ্ণুতার বিপদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই দিনটি পালন করা হয়। 1996 সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই দিবসটি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। 1995 সালকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘের অসহিষ্ণুতা বর্ষ হিসাবে ঘোষণা করেছিল। যেখানে সন্ত্রাস, বর্ণবাদ, সহিংসতার মতো অনেক বিষয় আজ বিশ্বে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলস্বরূপ, কিছু দেশে জাতি, ধর্ম, সংখ্যালঘু, উদ্বাস্তু এবং অভিবাসীদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এসব কারণই দেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এই সমস্ত পরিস্থিতিতে, বিশ্ব সহনশীলতা দিবস পালিত হয় মানবতাকে বাঁচাতে এবং শান্তি ও সম্প্রীতির প্রচারের জন্য। বিশ্বে শান্তির পাশাপাশি সম্প্রীতি সৃষ্টি করাই এ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য। কেন মানুষকে সহনশীল থাকতে হবে তা নিয়েও এই দিনে সচেতনতা ছড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস সমাজে অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে। সহনশীলতা দিবস উদযাপন এবং কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সমাজে ঘৃণা ও শত্রুতা অবসানের কাজ।

 

মানব সমাজ স্বাভাবিকভাবেই বৈচিত্র্যময় এবং এই বৈচিত্র্যময় বিশ্বে, বিভিন্ন মতামত ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ধারণার আদান-প্রদান এবং সম্প্রীতি নিশ্চিত করার জন্য মানুষের মধ্যে সহনশীলতা প্রয়োজন।  সমাজে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার উপস্থিতি সংঘাতের পথ প্রশস্ত করে না।  বরং একটি সহনশীল পরিবেশ এই সামাজিক বাস্তবতাকে সঠিক পথে পরিচালনার মাধ্যমে সমাজের সহজাত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।  এই পৃথিবীটা বাস করার জন্য অনেক ভালো জায়গা হবে যদি আমরা সবাই আমাদের জীবনে একটু বেশি সহনশীল হতে পারি।
এমন একজন মানুষকে কখনই দুর্বল মনে করবেন না যে সহ্য করে কারণ সে সবার চেয়ে শক্তিশালী এবং আমাদের অবশ্যই তাকে সম্মান করতে হবে।  আপনি যদি সহ্য করতে পারেন তবে আপনাকে অবশ্যই কোনওভাবে শান্তিতে অবদান রাখতে হবে।  একটি উন্নত বিশ্বের জন্য আমাদের সকলকে অসহিষ্ণুতার অনুশীলন করতে হবে।

 

 

 

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসের  ইতিহাস—

 

১৯৯৩ সালে, ইউনেস্কোর উদ্যোগে, জাতিসংঘ ১৯৯৫ সালকে “সহনশীলতার বছর” হিসাবে ঘোষণা করে।  ইউনেস্কোর ১৯৯৫ সালের সহনশীলতার নীতির ঘোষণা ছিল যে সহনশীলতা হল আমাদের বিশ্বের সংস্কৃতির সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য, আমাদের অভিব্যক্তির ধরন এবং মানুষ হওয়ার উপায়গুলির সম্মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং উপলব্ধি।  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।  এক বছর পরে ১৯৯৬ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয় ১৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস এবং এটি প্রতি বছর পালিত হবে।  আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসের জন্য সাধারণ থিমটি সমস্ত বছর ধরে প্রয়োগ করা হয়।  জাতিসংঘ সাধারণ বিষয় নিয়ে কাজ করে।  সাধারণ থিম হল “সহনশীলতা হল সম্মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং আমাদের বিশ্বের সংস্কৃতির সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য, প্রকাশের ধরন এবং মানুষ হওয়ার উপায়”।

 

গুরুত্ব—–

 

ইউনেস্কো ঘোষিত এ দিবস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হচ্ছে বহুমুখী সমাজে সহনশীলতা শিক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীর সকল মানুষের সুষম ও শান্তিপূর্ণভাবে জীবন-যাপন নিশ্চিত করা।  ইউনেস্কোর উদ্যোগে, ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে ১৯৯৫ সাল ‹আন্তর্জাতিক সহনশীলতা বর্ষ› উদযাপন করা হবে। ১৯৯৬ সালের ১৬ নভেম্বর ইউনেস্কোর ২৮তম অধিবেশনে ‹সহনশীলতার মৌলিক নীতি ঘোষণা› গৃহীত এবং প্রতি বছরের ১৬ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৬ সালে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এক প্রস্তাবে বিভিন্ন দেশের সরকারকে আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়। যাতে শিক্ষা ও প্রচারসহ বিভিন্ন উপায়ে সহনশীলতার দিকটিকে সবার কাছে তুলে ধরা যায়।

জন এফ কেনেডি বলেছেন, “সহনশীলতা বোঝায় নিজের বিশ্বাসের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব নয়। বরং এটি অন্যের নিপীড়ন বা নিপীড়নের নিন্দা করে।” আবার টিমোথি কেলার এর মতে, “সহনশীলতা বিশ্বাস না থাকা নিয়ে নয়। এটি আপনার সাথে একমত না এমন লোকেদের সাথে আচরণ করার জন্য আপনার বিশ্বাসগুলি আপনাকে কীভাবে পরিচালিত করে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

 

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস 2023 তাৎপর্য—

 

আসুন আমরা আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস 2023 এর তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে দেখি।

UNESCO 1995 সালে US$100000 এর পরিমাণ দিয়ে “The UNESCO-Madanjit Singh Prize” তৈরি করে। প্রতি দুই বছর অন্তর আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে ব্যক্তি বা সংস্থাকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

2023 সালের আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে সহনশীলতা এবং নিপীড়ন ও অবিচারের অবসান সম্পর্কে বিতর্ক এবং বক্তৃতা পরিচালিত হবে।

বিশ্বব্যাপী সহনশীলতার ধারণা বাস্তবায়নের জন্য স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠানে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সহনশীলতার সাধারণ থিম নিয়ে আলোচনা করা হবে।

2023 সালের আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে, অফিস, স্কুল, কলেজ ইত্যাদিতে আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমাদের অবশ্যই একটি রেজোলিউশন নিতে হবে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বাংলা সাহিত্যের দুর্বোধ্যতম লেখক ও লেখকদের লেখক হিসেবে পরিচিত , কমলকুমার মজুমদার – জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

কমলকুমার মজুমদার ছিলেন একজন লেখক ও শিল্পী।  বিংশ শতাব্দীর একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক যিনি আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।  তাঁকে বলা হয় ‘লেখকদের লেখক’।  তাঁর অন্তর্জলি যাত্রা উপন্যাসটি তার অনন্য বর্ণনা ও ভাষাশৈলীর জন্য বিখ্যাত।  বাংলা কথাসাহিত্য বিশেষ করে উপন্যাস ইউরোপীয় উপন্যাসের আদলে গড়ে উঠেছে, সেই অনুসরণতা কমলকুমার মজুমদার এড়িয়ে গেছেন।  তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক।  বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে দুর্বোধ্য লেখক হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

 

জন্ম ও বংশ পরিচয় —-

 

তিনি ১৬ নভেম্বর, ১৯১৪ সালে উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলার, টাকি শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতার নাম প্রফুল্লকুমার মজুমদার ও মাতার নাম রেনুকাময়ী। বাবা প্রফুল্লচন্দ্র ছিলেন পুলিশ অফিসার। মা ছিলেন বাড়ির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের এক নিবেদিত প্রাণ। কমলকুমার মজুমদার ছিলেন প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রকর নীরদ মজুমদারের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।তাঁদের কনিষ্ঠা ভগিনী শানু লাহিড়ী  ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রকর ও চিত্রকলার  প্রশিক্ষক।

 

প্রারম্ভিক জীবন—

 

কমলকুমারের শৈশব কেটেছে সাংস্কৃতিক পারিবারিক পরিবেশে।  তাদের পৈতৃক বাড়ি ছিল টাকি, উত্তর 24 পরগণার একটি সীমান্ত শহর।  কিন্তু কলকাতার রাসবিহারী অ্যাভিনিউতে তাদের একটি ভাড়া বাড়ি ছিল।  ছয় বছর বয়সে কমলকুমার ও তাঁর ভাই নীরদকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুরের ‘বিষ্ণুপুর শিক্ষা সংঘ’ স্কুলে ভর্তি করানো হয়।  সেখান থেকে কয়েক বছর পর কলকাতার ক্যাথেড্রাল মিশনারি স্কুলে।  এখানেও তাঁর মন বেশিক্ষণ টিকেনি।  তিনি সংস্কৃত ভাষা শেখার জন্য ভবানীপুরের একটি সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন।

 

 

 

কর্ম জীবন—-

 

তিনি বাংলা সরকারের জনগণনা বিভাগ, গ্রামীণ শিল্প ও কারুশিল্প, ললিতকলা একাডেমি এবং সাউথ পয়েন্ট স্কুলে তিনি বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছিলেন।  এছাড়াও তিনি ছবি, নাটক, কাঠের কাজ, ছোটদের আঁকা শেখানো, ব্যালেনৃত্যের পরিকল্পনা, চিত্রনাট্য রচনা করেন। বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

 

বিখ্যাত উপন্যাসসমূহ—-

 

তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘অন্তর্জলি যাত্রা’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে । ১৯৭০ সালে তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘নিম অন্নপূর্ণা’ প্রকাশিত হয়। পরবর্তী গ্রন্থাবলি : গল্পসংগ্রহ, পিঞ্জরে বসিয়া শুক, খেলার প্রতিভা ও দানসা ফকির। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসসমূহ হল: শ্যাম-নৌকা, সুহাসিনীর পমেটম,  অন্তর্জলী যাত্রা, গোলাপ সুন্দরী, অনিলা স্মরণে, পিঞ্জরে বসিয়া শুক এবং খেলার প্রতিভা। ছোটগল্প গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:  গল্প সংগ্রহ, নিম অন্নপূর্ণা।

 

মৃত্যু—-

 

কমলকুমার প্রয়াত হন ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে।

 

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ জাতীয় প্রেস দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।

প্রতি বছর, ভারত প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সম্মানে ১৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেস দিবস পালন করে।  জাতীয় প্রেস দিবস ভারতে একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের প্রতীক।

১৯৬৬ সালে ১৬ নভেম্বর প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা হয়। এই দিনের স্মরণে প্রতিবছর ১৬-ই নভেম্বর জাতীয় সাংবাদিকতা দিবস উদযাপিত হয়। জাতীয় সাংবাদিকতা দিবসে ভারতে একটি মুক্ত ও দায়িত্বশীল সংবাদের প্রতীক, যেহেতু প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া নৈতিক প্রহরী হিসাবে কাজ করে। এটিও নিশ্চিত করে যে সংবাদ প্রতিষ্ঠানটি কোনও বহিরাগত কারণের প্রভাব বা হুমকির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়। দেশের সংবিধানে “বাকস্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার অধিকার” সরবরাহ করে।

 

জাতীয় প্রেস ডে: ইতিহাস—-

 

ভারতের প্রথম প্রেস কমিশন 1954 সালের নভেম্বরে একটি সভা পরিচালনা করে এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য দায়ী একটি কমিটি বা সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করে।  প্রক্রিয়া চলাকালীন, তারা বুঝতে পেরেছিল যে প্রেসের মুখোমুখি হওয়া সমস্যা এবং সমস্যাগুলি মোকাবেলা করার জন্য একটি সঠিক ব্যবস্থাপনা সংস্থা তৈরি করা উচিত।
১৯৬৬ সালের নভেম্বরে, মিডিয়া এবং প্রেসের সঠিক পরিচালনার জন্য এবং বিচারপতি জে আর মুধোলকরের অধীনে প্রেসের সমস্যাগুলি দেখাশোনার জন্য প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ভারতের সরকারী প্রেস কাউন্সিল ৪ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ১৬ নভেম্বর ১৯৬৬ সালে সক্রিয় হয়েছিল। তারপর থেকে, ১৬ নভেম্বর ১৯৬৬ তারিখটিকে ভারতীয় প্রেস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠার স্মরণে জাতীয় প্রেস দিবস হিসাবে পালিত করা হয়।

 

 

 

এদিন প্রেস কাউন্সিলের মূল অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য পুরস্কার প্রদান, স্মারক পুস্তিকা প্রকাশ, সমকালীন পরিস্থিতি আলোচনা সভা ইত্যাদির আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়।
সংবাদ পরিবেশনে ও সাংবাদিকতায় গণমাধ্যমগুলির নিরপেক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতা যেমন আবশ্যক, তেমনি দেশের শাসকেরও তাদের সমালোচনায় সহিষ্ণু হওয়ার প্রয়োজন। এসবই প্রেস দিবসে মোটামুটি আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হিসাবে পরিলক্ষিত হয়।

দেশের সংবিধান “বাকস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতার ও তথ্যের অধিকার” প্রদান করে। তবে সংবিধানের ১৯ (১) (ক) অনুচ্ছেদে প্রেসের স্বাধীনতার সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও এটি অভিপ্রেত।

 

জাতীয় প্রেস দিবসের গুরুত্ব—

 

প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া হল একটি স্বাধীন সরকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা যা ভারতে প্রেসের যত্ন নেয়।  জাতীয় পেস দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট কারণ এটি কাজ করে:—

 

(ক)  সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা।

(খ) জনস্বার্থ প্রচার করা।

(গ) সাংবাদিকতার উচ্চ মান বজায় রাখা

এটি নিশ্চিত করে যে প্রেস তার ক্ষমতার অপব্যবহার না করে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This