Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক কারারুদ্ধ লেখক দিবস, জানব দিনটি কি, কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

কারাবন্দী লেখক দিবস হল একটি বার্ষিক, আন্তর্জাতিক দিবস যা এমন লেখকদের স্বীকৃতি ও সমর্থন করার উদ্দেশ্যে যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক মানবাধিকারের দমন-পীড়ন প্রতিরোধ করে এবং যারা তাদের তথ্য প্রদানের অধিকারের বিরুদ্ধে করা আক্রমণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।  এই দিনটি প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর পালন করা হয়।

 

বিশ্বব্যাপী লেখক ও সাংবাদিকদের সেন্সরশিপ, হয়রানি এবং নিপীড়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর বন্দী লেখক দিবস পালন করা হয়।  সেন্সরশিপ আজ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, অনেক সরকারী সংস্থা তাদের নাগরিকদের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, বিশেষ করে কণ্ঠ-বিরোধী সরকার সমালোচক, হুইসেলব্লোয়ার এবং রাজনৈতিক কর্মীদের।  কিছু দেশে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ফলে নির্বিচারে আটক হয়।  মানবাধিকার সংস্থা এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষায় নিবেদিত গোষ্ঠীগুলি বিশ্বের কিছু অংশে নিষিদ্ধ সামগ্রী বিতরণ করে।  স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং বাকস্বাধীনতার অবস্থা নিয়ে আলোচনা করার জন্য তারা আইনজীবী, লেখক এবং সাংবাদিকদেরও আমন্ত্রণ জানায়।

 

কারারুদ্ধ লেখকের দিনের ইতিহাস—

 

কারাবন্দী লেখক দিবসটি ১৯৮১ সালে শুরু হয়েছিল এবং এটি PEN ইন্টারন্যাশনালের রাইটারস ইন প্রিজন কমিটির পণ্য ছিল।  এর সূচনার পর থেকে, PEN ছুটির দিনটিকে কারাবন্দী লেখকদের মুক্তির আহ্বান, সাংবাদিক ও কর্মীদের জন্য আরও ভাল সুরক্ষার পক্ষে এবং সেই লেখকদের জন্য ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করার জন্য ব্যবহার করেছে যারা সত্য রক্ষার জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগে তাদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।  রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একই হুমকি, ভয়ভীতি এবং অনুপ্রবেশকারী নজরদারি সহ্য করেও, কবি, অনুবাদক, প্রকাশক এবং ঔপন্যাসিকদের তাদের অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়।  PEN বিশ্বব্যাপী তার ১০০ টিরও বেশি কেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রম সমন্বয় করে।

 

প্রতি বছর, PEN তাদের সরকার কর্তৃক নির্যাতিত বা কারারুদ্ধ পাঁচজন লেখকের তালিকা করে।  এই লেখকরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন কিন্তু ক্রমাগত দুর্নীতি, সহিংস অপরাধ, অবৈধ গুপ্তচরবৃত্তি, পুলিশ কভার-আপ এবং রাষ্ট্র-স্পন্সর সহিংসতার সাথে জড়িত গল্প প্রতিবেদন বা তদন্তে নিযুক্ত রয়েছেন।  ২০০৯ সালে, PEN তাদের লেখকদের তালিকায় লিউ জিয়াওবো এবং নাটালিয়া এস্তেমিরোভাকে নাম দিয়েছে।  Xiaobo, একজন ভিন্নমতাবলম্বী লেখক, পরে ২০১৭ সালে আটক অবস্থায় মারা যান। এস্তেমিরোভা চেচনিয়ায় যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করার সময় 2009 সালে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দ্বারা অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছিল।
২০১৮ সালে, PEN ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার নিন্দা জানাতে বাকি মানবাধিকার এবং বাক-ভিত্তিক সংগঠনের সাথে যোগ দেয়।  “ফ্রি এক্সপ্রেশনের আমেরিকার সিনিয়র ডিরেক্টর” এর মাধ্যমে, PEN সৌদি কর্তৃপক্ষকে খাশোগিকে হাজির করার এবং তার হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।  ২০২১ সালে কারাবন্দী লেখক দিবসে, PEN চীনা পণ্ডিত রাহিল দাউত, U.A.E.  মানবাধিকার আইনজীবী মোহাম্মদ আল-রোকেন, তুর্কি রাজনীতিবিদ সেলাহাতিন দেমিরতাস, কিউবান সঙ্গীতশিল্পী মায়কেল ওসরবো এবং ১২ জন ইরিত্রিয়ান লেখকের একটি সম্মিলিত মামলা ২০ বছরের জন্য বন্দী।  PEN ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বব্যাপী কবি, নাট্যকার, সম্পাদক, প্রাবন্ধিক এবং ঔপন্যাসিকদের সমর্থন করার জন্য নিবেদিত রয়েছে।

 

কারাবন্দী লেখকের দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ—

 

বাক স্বাধীনতা একটি মানবাধিকার–

 

মত প্রকাশ ও জ্ঞানের স্বাধীনতা প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার।  আমাদের এই সার্বজনীন মানবাধিকারকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।

 

সত্য শেয়ার করা—

 

কারাবন্দী লেখক দিবসটি সেন্সরকৃত লেখক এবং তাদের কাজ সম্পর্কে কথোপকথন তৈরি করে।  আরও বেশি লোক সেই তথ্য সম্পর্কে জানতে পারে যা অন্যদের তাদের স্বাধীনতার মূল্য দেয়।

 

অন্যকে শিক্ষিত করা—

 

বেশিরভাগ মানুষ এখনও সেন্সরশিপের বিপদ এবং এটি কীভাবে সমাজের ক্ষতি করে সে সম্পর্কে জানেন না। এটি আমাদের বন্ধু, পরিবার এবং সম্প্রদায়কে সেন্সরশিপ সম্পর্কে শেখানোর এবং কিছু সংস্থান ভাগ করার একটি সুযোগ যাতে তারা কীভাবে এটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় তা শিখতে পারে৷

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অজ শিশু দিবস, জানুন দিনটি কি এবং কেনো পালিত হয়।

শিশু দিবস শিশুদের নিয়ে উদযাপিত একটি দিবস। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়ে থাকে। শিশু দিবসটি প্রথমবার ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল তুরস্কে পালিত হয়েছিল। বিশ্ব শিশু দিবস ২০ নভেম্বর-এ উদ্‌যাপন করা হয়, এবং আন্তর্জাতিক শিশু দিবস জুন ১ তারিখে উদ্‌যাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে নিজস্ব নির্দিষ্ট দিন আছে শিশু দিবসটিকে উদ্‌যাপন করার।

 

 

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরুর জন্মদিনকে শিশু  দিবস (Children’s Day) হিসেবে পালন করা হয়। ১৮৮৯ সালের নভেম্বর মাসের ১৪ তারিখ নেহরুর জন্ম  হয়। পরবর্তী সময়ে  তিনি-ই হন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী । শিশুদের প্রতি তাঁর স্নেহ ও ভালোবাসার কথা  সর্বজন বিদিত। তাই তাঁকে স্মরণ করেই পালিত হয় শিশু দিবস (Children’s Day)। আজকের দিনে শিশুদের চকোলেট  থেকে  শুরু কর  নানা রকমের উপহার দেওয়া হয়। তাছাড়া স্কুলে  স্কুলে নানা ধরনের অনুষ্ঠানও করা হয়। পাশাপাশি অনাথ  শিশুদের মুখে হাসি  ফোটানোর চেষ্টাও হয়ে থাকে।

 

 

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু শিশুদের কাছে ছিলেন প্রিয় “চাচা নেহেরু”। অন্যদিকে জওহরলাল নেহরুও ছোটদের সঙ্গে সময় কাটাতে খুব ভালোবাসতেন। জাতিসংঘ বা রাষ্ট্রসংঘ ১৯৫৪ সালের ২০ নভেম্বর দিনটিকে শিশু দিবস হিসাবে পালনের জন্যে ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ভারতেও ২০ নভেম্বর শিশু দিবস হিসাবে পালন করা হত। তবে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে,পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর প্রয়াণের পর শিশুদের প্রতি তার চরিত্রের এই বিশেষ দিকটিকে স্মরণে রেখে সর্বসম্মতভাবে তার জন্মদিনটি ভারতে শিশু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর থেকেই প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর দিনটি শিশু দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।
দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিশুদের গুরুত্বকে মনে করেই এই দিনটি পালিত হয়। এছাড়াও,এই দিনে শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সব মানুষকে আরও সচেতন করার চেষ্টা করা হয়। শিশুরা যাতে সঠিক শিক্ষা পায়, দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা পায় সে ব্যাপারেও প্রচার করা হয় এই দিনটিকে উপলক্ষ করে। পাশাপাশি শিশুদের সঠিক পুষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

 

 

দেশের স্কুলগুলিতে এই দিনটিতে পড়াশুনোর পরিবর্তে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোথাও আবার শিশুদের পিকনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কচি বাচ্চাদের হাতে এই দিনটিতে তুলে দেওয়া হয় নানা উপহারও। সব মিলিয়ে ভারতে১৪ নভেম্বর (Children’s Day) পুরোপুরিই শিশুদের দিন।  তবে সব দেশেই শিশু দিবস পালনের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের শিশুদের অধিকার ও তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতনতার বার্তা দেওয়া।

 

 

তবে ১৯৬৩ সালের আগে  পর্যন্ত প্রতি বছর নভেম্বর মাসের  ২০ তারিখ পালিত হত শিশু দিবস (Children’s Day)। শুধু ভারত  নয় বিশ্বের অন্য দেশেও ওই তারিখটি পালনের কথা ঘোষণা করেছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। কিন্তু ওই বছর নেহরুর মৃত্যুর পর থেকে সর্বসম্মতিতে দিন  বদল হয়।   শিশুদের শুধু ভালবাসা নয়, যথাযাথ ভাবে বড়  করার  ব্যাপারেও জোর দিয়েছেন নেহরু। আর তাই একবার  তিনি  বলেছিলেন, আজ আমরা যেভাবে শিশুদের বড় করব, কাল  সেভাবেই তারা দেশ চালাবে।

 

 

আর এই  ভাবনা থেকেই দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথ চলা  শুরু হয় নেহরুর  সময়। একই ভাবে  ভাল চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে  আইএমএস-এর সূচনা  করেন নেহরু। আইআইটিও তাঁরই উর্বর মস্তিস্কের  ফসল। তাছাড়া ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ  ম্যানেজমেন্ট তৈরির সিদ্ধান্তও তাঁর।  তাই স্বাধীনতা সংগ্রাম বা প্রধানমন্ত্রিত্বের বাইরে গিয়ে শিশুদের জন্য  তাঁর অবদানকে মনে  রেখেই  পালিত হয় শিশু দিবস।

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হল প্রাথমিক বিশ্বব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান যা ডায়াবেটিস মেলিটাসের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।  এটির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF), প্রতিটি বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ডায়াবেটিস সম্পর্কিত একটি থিমের উপর ফোকাস করে;  টাইপ-২ ডায়াবেটিস হল মূলত প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য অসংক্রামক রোগ যা বিশ্বব্যাপী দ্রুত সংখ্যায় বাড়ছে।  টাইপ 1 ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য নয় কিন্তু ইনসুলিন ইনজেকশন দিয়ে পরিচালনা করা যেতে পারে।  কভার করা বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস এবং মানবাধিকার, ডায়াবেটিস এবং জীবনধারা, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা, সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্বলদের ডায়াবেটিস এবং শিশু ও কিশোরদের ডায়াবেটিস।  প্রচারাভিযানগুলি সারা বছর ধরে চলার সময়, দিনটি নিজেই ফ্রেডরিক ব্যান্টিংয়ের জন্মদিন চিহ্নিত করে, যিনি চার্লস বেস্টের সাথে প্রথম এই ধারণাটি তৈরি করেছিলেন যা ১৯২২ সালে ইনসুলিন আবিষ্কারের দিকে পরিচালিত করেছিল।

ইতিহাস—-

বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস দ্রুত বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া হিসাবে ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দ্বারা বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস চালু করা হয়েছিল।  ২০১৬ সাল নাগাদ, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসটি ১৬০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ২৩০ টিরও বেশি IDF সদস্য অ্যাসোসিয়েশন, সেইসাথে অন্যান্য সংস্থা, কোম্পানি, স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার, রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের দ্বারা স্মরণ করা হচ্ছে।  ক্রিয়াকলাপের মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস স্ক্রীনিং প্রোগ্রাম, রেডিও এবং টেলিভিশন প্রচারণা, ক্রীড়া ইভেন্ট এবং অন্যান্য।

 

থিম—

 

পূর্ববর্তী বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের প্রচারাভিযানের থিমগুলি বিভিন্ন কারণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এবং এর জটিলতাকে প্রভাবিত করে:
২০১৩: আমাদের ভবিষ্যত রক্ষা করুন: ডায়াবেটিস শিক্ষা এবং প্রতিরোধ।
২০১৪: প্রাতঃরাশের জন্য নীল যান।
২০১৫: স্বাস্থ্যকর খাওয়া।
২০১৬: ডায়াবেটিসের উপর চোখ।
২০১৭: নারী এবং ডায়াবেটিস – একটি সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের অধিকার।
২০১৮-২০১৯: পরিবার এবং ডায়াবেটিস – ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে।
২০২০: নার্স এবং ডায়াবেটিস ।
২০২১-২০২৩: ডায়াবেটিস কেয়ার অ্যাক্সেস।

 

ডায়াবেটিস লক্ষণগুলো কি কি?

>> ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা>> দুর্বল দৃষ্টিশক্তি>> ক্লান্ত ও দুর্বল বোধ করা>> ঘন মূত্রত্যাগ>> ত্বকের সংক্রমণ>> চামড়া ফেটে যাওয়া>> শুষ্ক ত্বক>> শরীরের ওজন কমে যাওয়া>> ঘন ঘন তৃষ্ণা ইত্যাদি।

কী করলে ঠেকানো যায়—

১. প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটুন—
আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম করতে শুরু করেন, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন।
২. জীবনধারা পাল্টে দিন—
নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, নিয়ম মেনে সকালে ঘুম থেকে ওঠা এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়া, যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে হাঁটাচলা বাড়ানো, মিষ্টি জাতীয়, ফাস্টফুড ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা ইত্যাদি।

৩. ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দিন—
শুধুমাত্র ডায়াবেটিস নয়, আরও অনেক রোগের কারণ হতে পারে ধূমপান ও মদ পানের অভ্যাস।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগ ঠেকাতে যেসব খারাপ অভ্যাস সবার আগে বাদ দিতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস। কারণ এগুলো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
৪. মিষ্টি পরিহার করুন—
সাধারণ মিষ্টিজাতীয় খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, ভারী খাবার স্থূলতার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরের ওজনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে কোনভাবেই অতিরিক্ত ওজন বা মুটিয়ে যাওয়া না হয়।বিশেষজ্ঞরা এজন্য মিষ্টি, ফাস্টফুড, পোলাও, বিরিয়ানি, রেড মিটের মতো ভারী খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। মসৃন শাদা আটার রুটির পরিবর্তে খেতে হবে ভুষিওয়ালা আটার রুটি। এটাই প্রথম ধাপ। এড়িয়ে চলতে হবে হোয়াইট পাস্তা, প্যাস্ট্রি, ফিজি ড্রিংক, চিনি জাতীয় পানীয়, মিষ্টি ইত্যাদি। আর স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে রয়েছে শাক সবজি, ফল, বিন্স এবং মোটা দানার খাদ্য শস্য।
স্বাস্থ্যকর তেল, বাদাম খাওয়াও ভালো। ওমেগা থ্রি তেল আছে যেসব মাছে সেগুলো বেশি খেতে হবে। যেমন সারডিন, স্যামন এবং ম্যাকেরেল। এক বেলা পেট ভরে না খেয়ে পরিমাণে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে খাওয়া দরকার। এছাড়া প্রতি সপ্তাহেই নিয়মিত ওজন মাপতে হবে।
৫. রক্তে চিনির মাত্রার ওপর নজর রাখুন।

যে সব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে:

ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা, দুর্বল লাগা’ ও ঘোর ঘোর ভাব আসা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া, মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া, কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া, শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা, চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব, বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা, চোখে কম দেখতে শুরু করা।

।। তথ্য : সংগৃহীত: ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

রাজা সুবোধচন্দ্র বসু মল্লিক, দেশের জন্য তাঁর দহনদান ব্যর্থ হয়নি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে সুবোধ চন্দ্র বসু মল্লিক একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। সুবোধ চন্দ্র বসু মল্লিক  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

সুবোধ চন্দ্র বসু মল্লিক বা রাজা সুবোধ মল্লিক  কলকাতার পটলডাঙ্গার একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন।  তিনি বাংলার গুপ্ত বিপ্লবী দলের স্থানীয় নেতা ছিলেন। ৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯ সালে তাঁর জন্ম।  তাঁর পিতার নাম প্রবোধচন্দ্র বসু মল্লিক।  মায়ের নাম কুমুদিনী বসু মল্লিক।
তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেন এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন।  ১৯০০ সালে এফএ ডিগ্রি অর্জনের পর, তিনি ইংল্যান্ডে আইন অধ্যয়নের জন্য ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন।  এক বছরের মধ্যে তিনি পারিবারিক কারণে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দেন।  কলকাতার ওয়েলিংটন স্কোয়ারে তাদের বাড়ি থেকে স্বদেশী আন্দোলনের কার্যক্রম চলতে থাকে।  ১৯০৬ সালে, তিনি একটি জাতীয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন।  দেশবাসী উত্তেজিত হয়ে তাঁকে ‘রাজা’ উপাধি দেয়।  সুরাট কংগ্রেসের বাঙালি প্রতিনিধিদের খরচও তিনি বহন করেন।  এ বছর তিনি বরিশাল সম্মেলনে যোগ দেন এবং সমগ্র পূর্ববঙ্গ সফর করেন।  শ্রী অরবিন্দকে তাঁর বাড়িতে অনেকদিন রাখা হয়েছিল।  বসত বাড়িটি ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন।  ১৯০৮ – ১০ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে বিনা বিচারে আটক করা হয়।  ১৯০৬ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি জাতীয় শিক্ষা পরিষদের ট্রাস্টি ছিলেন।  তিনি কলকাতায় লাইফ অফ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

 

আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে ১৯০৮ সালে তাঁকে নির্বাসিত করা হয় । মল্লিকের জাতীয়তাবাদী কাজ এবং আন্দোলনের উদার সমর্থন তাকে তাঁর কৃতজ্ঞ দেশবাসীর কাছ থেকে রাজা উপাধি লাভ করে। স্বাধীন ভারতে, ওয়েলিংটন স্কোয়ার, তাঁর প্রাসাদিক বাসস্থানের স্থানটির নামকরণ করা হয় রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, যখন বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ থেকে উদ্ভূত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাটিকে এখন রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক রোড বলা হয় ।দেশের জন্য রাজা সুবোধচন্দ্রের লড়াই ব্যর্থ হয়নি। ১৪ নভেম্বর ১৯২০ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

রনা ডাকাত ও সিদ্ধেশ্বরীমায়ের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে।

আনুমানিক প্রায় ৪৫০বছর আগে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের পিতা রঘুরামের রাজত্বে জঙ্গল ময় অঞ্চল ছিল চূর্ণী নদীর ধার। আর সেই জঙ্গলে থাকতো ডাকাত এর দল। ডাকাত দলের সর্দার ছিলেন রনা ডাকাত। তিনি রনো পা দিয়ে ডাকাতি করতেন বলে তার নাম রনাডাকাত।সে ডাকাতি করে সেই সব অর্থ ধন সম্পদ দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন ।ডাকাতি করার আগে তিনি মা কালী কে পূজো করে বের হতেন।যেহেতু সমস্ত মনের ইচ্ছা সিদ্ধ করতেন মা কালী তাই তার কালী মায়ের নাম দিয়েছিলেন সিদ্ধেশরী মা ।পরবর্তী কালে রনাডাকাত সাধুর সংস্পর্শে এসে তার মানসিক ও স্বভাব পরিবর্তন হয়। ডাকাতি ছেড়ে মায়ের সাধনায় মনোনিবেশ করেন ।কথিত আছে রনাডাকাতের নাম অনুসারে রানাঘাট নাম হয় ।রনা ডাকাতের মৃত্যু হলে মা সিদ্ধেশ্বরী জঙ্গলের মধ্যেই পরে ছিলেন । এরপর নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় চূর্ণী নদী দিয়ে বজরা করে যাওয়ার পথে বজরা থামিয়ে খাওয়া দাওয়া করে চূর্ণী নদীর এই স্থানে তিনি স্বপ্নাদেশ পান মা সিদ্ধেশ্বরীমায়ের জঙ্গলের মধ্যে এরপর এইখানেয় মায়ের প্রতিষ্ঠা করেন ।সেই সময় মায়ের পুজোর দায়িত্ব দেন ভোলানাথ চট্টোপাধ্যায় কে তার কোনো পুত্র সন্তান ছিলো না তার পিসি ছিলেন ইচ্ছাময়ী দাসী তার সম্পর্কে ভাইপোরা পরবর্তী কালে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের পূজো শুরু করেন আজ ও সেই পূর্ব পুরুষের হাত ধরে মায়ের পূজো হয়ে আসছে তবে রনাডাকতের সিদ্ধেশ্বরী মা কে এক ইংরেজসাহেব ছুঁয়ে ফেলাতে মূর্তি টি নদীতে বিসর্জন দিয়ে কোস্টি পাথরের মূর্তিতে সিদ্ধেশ্বরী মা প্রতিষ্ঠা করে পূজো হয়ে আসছে ।মায়ের করুণা ও আশীর্বাদ পেতে শুধু রানাঘাট নয় আশেপাশের থেকে বিভিন্ন রাজ্য দেশে বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন কি বিদেশ থেকেও পূজো ও মায়ের আশীর্বাদ নিতে ভিড় করেন রানাঘাট সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে।আর প্রত্যেক দিন পুজো হলেও কালীপুজোর দিন দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত বৃন্দের ঢল নামে এই মন্দিরে

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

মাতা আগমেশ্বরীর সূচনা ও কিছু রীতি নীতি – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

মাতা আগমেশ্বরীর সূচনা করেছিলেন পন্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। এই কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ নবদ্বীপের বাসিন্দা। তিনি তন্ত্রসার গ্রন্থ রচনা করেছিলেন অর্থাৎ তান্ত্রিকের নির্দিষ্ট পূজা বিধি। তিনি ধ্যানযোগে তাঁর আরাধ্যা দেবীর মূর্তি দেখেছিলেন। সেই মূর্তিকেই তিনি মাতা আগমেশ্বরীর  মধ্যে চিত্রিত করেছিলেন। যখন তিনি ধ্যান করছিলেন সেই সময় তিনি ধ্যানের মধ্য দিয়ে দেবীর আদেশে জানতে পারেন যে আগামীকাল প্রত্যুষে তুই যাকে দেখতে পাবি সেই তোর আরাধ্যা দেবী। সেই অনুযায়ী তিনি ঘুম থেকে উঠে চোখ মেরে দেখেন কালো এক কন্যা একহাতে গোবর নিয়ে অন্য হাতে ঘুটে দিচ্ছে দেওয়ালে। উনাকে দেখে উনি লজ্জায় জিভ কেটে ফেললেন। কৃষ্ণানন্দের মনে হল উনি হচ্ছেন তার আরাধ্যা দেবী কালী। উনি পড়ে সেই দেবীর মূর্তি গঙ্গা মৃত্তিকা এনে নির্মাণ করলেন এবং নির্মাণ করে পুজো করার সেই রাতেই তিনি তাকে বিসর্জন দিয়ে দিলেন। সেই থেকে প্রথম দক্ষিণা কালীর সৃষ্টি হল মূর্তি গড়িয়ে। পরবর্তীকালে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশের প্রপুত্র সার্বভৌম আগমবাগীশ তিনি শান্তিপুরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সার্বভৌম হলেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশের প্রপুত্র। তাঁরা শাক্ত ছিলেন। কিন্তু শান্তিপুরে অদ্বৈত আচার্যের পুত্র মথুরেশ গোস্বামী চেয়েছিলেন তদানীন্তনকালে শক্ত এবং বৈষ্ণবের মধ্যে বিরোধ টা দূর করতে। তাই তিনি তার মেয়ের বিয়ে দেন সার্বভৌম আগমবাগিসশের সঙ্গে। কিন্তু তদানীন্তন শাক্ত সমাজে এই বিয়েটা ভালোভাবে মেনে নেননি। মেনে না নেওয়ার ফলে তাদের সংসারে নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করল। পরে তিনি মেয়ে জামাইকে নবদ্বীপ থেকে নিয়ে আসেন শান্তিপুরে। শান্তিপুরের বড় গোস্বামী পরিবার যেহেতু প্রত্যক্ষভাবে শক্তির উপাসনা করেন না সেহেতু মধুরেশ গোস্বামী সেই সময় তার বাড়ির কাছেই পূর্ব দিকে একটি পঞ্চমুন্ডির আসন স্থাপন করেন। সেখানেই সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন সার্বভৌম আগমবাগীশ। তিনিও সাধনায় অনুরূপভাবে মূর্তি দেখলেন এবং শান্তিপুরে আগমেশ্বরীর প্রতিষ্ঠা করলেন। এখানে সার্বভৌমের নিয়মানুযায়ী একদিনে মূর্তি তৈরি করা হতো কিন্তু এখন যেহেতু মূর্তি অনেক বড় সেই কারণেই কৃষ্ণপক্ষ পরার পর মূর্তির কাজ শুরু হয়। ৮-১০ দিনের মধ্যে মায়ের মূর্তি তৈরি হয়। এবং পুজোর দিন মৃৎশিল্পী সুবীর পাল চক্ষুদান করে নিচে নেমে আসেন তারপরই পুজো শুরু হয়। সেই রীতি এখনো আছে এবং পুজো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘট বিসর্জন হয়ে যায়। পরে মূর্তি নিরঞ্জন হয়। শান্তিপুর তথা বাংলার  বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন তাঁদের মনস্কামনা পূর্ণ করতে। দেবীকে নানান ধরনের স্বর্ণালংকার টাকা-পয়সা মিষ্টি বাতাসা ভক্তরা দিয়ে যান। আনুমানিক ১০-১২ লক্ষ টাকার প্রতিবছর খরচ হয় এই পুজোয়। এই টাকাটা পুরোটাই ভক্তদের প্রদেয় দান। জোর করে কারো কাছ থেকে পুজোর চাঁদা নেওয়া হয় না। পুজো কমিটির অফিসে এসে ভক্তরা তাদের সাধ্যমত চাঁদা দিয়ে যান। করোনা বিধি কাটিয়ে উঠে এ বছর ১৪ কুইন্টাল পুষ্পান্ন ভক্তদের বিলি করা হচ্ছে।
মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় অধিকারী জানান, আমি দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর মার মন্দির দেখাশোনা করি। করোনা আবহে দু বছর ভোগ হয়নি। এ বছর নতুন করে আবার ভোগ চালু হচ্ছে। করোণা আবহে দু বছর পুষ্পান্ন বাদ দিলে প্রতিবছরই ৮ থেকে ৯ হাজার সড়া করা হয়। এই ভোগ সবাইকে বিতরণ করা হয়।
শান্তিপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে পুজো পরিচালনার জন্য একটি উপদেষ্টা মন্ডলী আছে। মূলত বড় গোস্বামী বাড়ির উত্তর পুরুষ এই পুজোর পরিচালনার দায়িত্বে। তাদের মাথার উপর শান্তি পুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি এই পুজো পরিচালনা করে। কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ দক্ষিণা কালীর যে ধান রীতি রচনা করেছিলেন সেই ধ্যানীতিতে বলা হয় মার কর্ণের পাশ দিয়ে দুটি শব শিশু ভয়ানক রূপে বিরাজ করছে। আগে কঢড়ি বর্গার বাড়ির মতন মন্দিরটা ছিল। বর্তমানে ২৫- ৩০ বছর এই মন্দিরটি সংস্কার করা হয়েছে। আগে এই মন্দিরটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছিল।মানুষের বসবাসের উপযোগী ছিল না। বড় গোস্বামী বাড়ির শশুরকুল এই পুজোর পরিচালনা করে। আগে মশালের আলো দিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন হত। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রশাসনের নির্দেশে তারা মশাল বন্ধ করে দেয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ১২ নভেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১২ নভেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক)  বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস

(খ) জনসেবা প্রসারণ দিবস। (ভারত)

(গ) বিশ্ব স্থাপত্য দিবস৷

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৪৬ – জ্যাকুইস চার্লস, ফরাসি উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং বেলুন বিশেষজ্ঞ।

 

১৭৯০ – লেটিশিয়া টাইলার, তিনি ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জন টেইলারের সহধর্মীনি ও ফার্স্ট লেডি।

 

১৮৪০ – ওগুস্ত রদ্যাঁ, আধুনিক যুগের একজন বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর।

 

১৮৪২ – জন উইলিয়াম স্ট্রাট, ৩য় ব্যারন রেলি, তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ।

 

১৮৬৬ – চীনের বিপ্লবী নেতা সান ইয়াৎ সেন।

 

১৮৯৬ – (ক)  সালিম আলী, বিখ্যাত ভারতীয় পক্ষীবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমী।

 

(খ) নিমা ইয়ুশিজ, তিনি ছিলেন ইরানী কবি ও অধ্যাপক।

১৯০৩ – জ্যাক অয়াকি, তিনি ছিলেন আমেরিকান অভিনেতা ও গায়ক।

 

১৯১৫ – রোল্যান্ড বার্থেজ, তিনি ছিলেন ফরাসি দার্শনিক, তাত্ত্বিক ও সমালোচক।

 

১৯২৭ – (ক)  রবীন্দ্র সংগীতে অকাদেমি পুরস্কার বিজয়ী (২০১০) দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়,প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী।

(খ) ইয়ুতাকা তানিয়ামা, তিনি ছিলেন জাপানী গণিতবিদ ও তাত্তিক।

 

১৯৩১ – গ্রেগরি হেমিংওয়ে, মার্কিন চিকিৎসক ও স্মৃতিকথাকার।

 

১৯৩৩ – জালাল তালাবানি, তিনি ইরাকি রাজনীতিবিদ ও ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি।

 

১৯৩৪ – (ক)  দিলীপ মহলানবিশ, ওআরএস-স্রষ্টা ভারতীয় বাঙালি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।

 

(ক্ষ) ভাভা, ব্রাজিলীয় ফুটবলার।

 

১৯৩৮ – বেলাল চৌধুরী,বাংলাদেশী কবি।

 

১৯৪৫ – নিল ইয়ং, তিনি কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান গায়ক, গীতিকার, গিটার ও প্রযোজক।

 

১৯৪৮ – হাসান রুহানি, তিনি ইরানের আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ৭ম রাষ্ট্রপতি।

 

১৯৭৩ – রাধা মিচেল, তিনি অস্ট্রেলীয়অভিনেত্রী ও প্রযোজক।

 

১৯৭৮ – আলেকজান্দ্রা লারা, তিনি রোমানীয় বংশোদ্ভূত জার্মান অভিনেত্রী।

 

১৯৮০ – রায়ান গসলিং, তিনি কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেতা, গায়ক ও প্রযোজক।

১৯৮৬ – ইগ্নাযিও আবাটে, তিনি ইতালিয়ান ফুটবলার।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৮১ – ব্রিটিশ বাহিনী দক্ষিণ ভারতের নাগাপাট্টম দখল করে।

১৮৩৭ – দেশীয় ও ইউরোপীয় ভূ-স্বামীদের স্বার্থরক্ষার্থে ভারতে জমিদার সভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

১৯১৩ – রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়।

১৯১৮ – অস্ট্রিয়াকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৩০ – ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আইন অমান্য আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লন্ডনে প্রথম গোলটেবিল বৈঠক হয়।

 

১৯৪৭ – ভারতের স্বাধীনতার পর জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী আজকের দিনে প্রথম ও শেষ বারের মত আকাশবাণী দিল্লি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ও ভাষণ দেন।

১৯৫৬ – মরোক্কো, তিউনিসিয়া ও সুদান জাতিসংঘে যোগদান করে।

১৯৫৬ – ইসরাইলী সেনারা ফিলিস্তিনের গাজার রাফা শহরে ফিলিস্তিনী শরণার্থী শিবিরে গণহত্যা চালায়।

১৯৭০ – বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে দশ থেকে পনের লাখ লোক প্রাণ হারান।

১৯৭১ – চীনের সঙ্গে রোয়ান্ডার কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৮২ – ইউরি আন্দ্রোপভ সোভিযে়ত রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন।

১৯৮৩ – বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত বরাবর ভারতের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ শুরু হয়।

১৯৯০ – পৃথিবীর প্রাচীনতম ও ২৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বংশপরম্পরাগত রাজতন্ত্রের সিংহাসনে জাপানের সম্রাট আকাহিতো অভিষিক্ত হন।

১৯৯৬ – বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে মানবতাবিরোধী কালাকানুন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।

১৯৯৬ – ভারতের হরিয়ানার আকাশে উড্ডয়নরত দুটি বিমানের সংঘর্ষে ৩৫০ ব্যক্তি নিহত হয়।

 

২০১১ –  ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকনি পদত্যাগ করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

 

১৮৬৫ – এলিজাবেথ গাস্কেল, তিনি ছিলেন ইংরেজ লেখক।

 

১৯২৯ – স্যার মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দী, কাশিমবাজারের মহারাজা ও মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব।

 

১৯৪৬ – ভারতীয় শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ মদনমোহন মালব্য।

১৯৬৯ – অজিতকুমার গুহ, বাঙালি শিক্ষাবিদ এবং লেখক।

 

১৯৭৬ – মিখাইল গুরেভিচ, তিনি ছিলেন রাশিয়ান বিমান ডিজাইনার, বোখারা সমবায়ের প্রতিষ্ঠিত।

 

১৯৮১ – উইলিয়াম হোল্ডেন, মার্কিন অভিনেতা।

 

২০০৭ – ইরা লেভিন, তিনি ছিলেন আমেরিকান লেখক ও নাট্যকার।

 

২০১৩ – আলেকজান্ডার সেরেবরভ, তিনি ছিলেন রাশিয়ান প্রকৌশলী ও মহাকাশচারী।

২০১৮ – স্ট্যান লি, মার্কিন কমিক বই লেখক, সম্পাদক, প্রযোজক ও প্রকাশক।

 

২০১৯ -রাম রে নামে সুপরিচিত ভারতের বিজ্ঞাপন জগতের এক কিংবদন্তি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

প্রতি বছর ১২ই নভেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস। বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস—১২ নভেম্বর— একটি বার্ষিক অনুস্মারক যে নিউমোনিয়া যে কোনো জায়গায় এবং যে কোনো সময় আঘাত করতে পারে এবং এটি একটি গুরুতর, সম্ভাব্য জীবন-হুমকি ফুসফুসের সংক্রমণ। নিউমোনিয়া প্রাথমিকভাবে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট হয় যা একজন থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়।

নিউমোনিয়া ফুসফুসের প্রদাহজনিত একটি রোগের নাম।ইহা হল ফুসফুসের প্যারেনকাইমার প্রদাহ বিশেষ। সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়। নিউমোনিয়া মৃদু বা হালকা থেকে জীবন হানিকরও হতে পারে। নিউমোনিয়া থেকে ফ্লু হবারও সম্ভাবনা থাকে। নিউমোনিয়া সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের, যারা দীর্ঘদিন রোগে ভুগছেন অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা কম তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে তরুণ, অল্প বয়স্ক, স্বাস্থ্যবান লোকদেরও নিউমোনিয়া হতে পারে। ফুসফুসে স্ট্রেপটোকক্কাস জাতীয় ব্যাকটেরিয়া কিংবা শ্বাসযন্ত্রের সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) সংক্রমণ ঘটালে ফুসফুস ফুলে ওঠে, ভরে ওঠে পুঁজে বা তরল পদার্থে, যা অক্সিজেন গ্রহণ করে নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তখন ফুসফুসে প্রদাহ হয়। ।

প্রতি বছরের মতো এবারও ১২ নভেম্বর বিশ্ব নিউমনিয়া দিবস পালিত হচ্ছে। নিউমোনিয়া সম্পর্কিত জটিলতা এবং সমস্যাগুলি তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে এই দিনটি প্রথম পালিত হয়েছিল। বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসে এর ক্ষতিকর প্রভাব, কারণ এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ বা চিকিত্সা করা যায় সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পালিত হয়।
বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসে এর ক্ষতিকর প্রভাব, কারণ এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ বা চিকিত্সা করা যায় সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পালিত হয়। এটি সক্রিয় এবং টেকসই বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার সাহায্যে মারাত্মক রোগের কারণে মৃত্যু হ্রাস করা লক্ষ্য করে। উদ্দেশ্য হ’ল, গবেষণার জন্য আরও তহবিল সংগ্রহ করার জন্য জীবন-হুমকিপূর্ণ রোগটিকে জনসাধারণের নজরে আনা, প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় পদক্ষেপ নিতে উত্সাহিত করা এবং মৃত্যু হ্রাস করা।

জন হপকিন্স সেন্টার অফ পাবলিক হেলথের মতে, ২০১৬ সালে নিউমোনিয়ার কারণে ১, ৫৮,১৭৬ জন মারা গিয়েছে এবং এর প্রধান কারণ হল ঘরের ভিতরের বায়ু দূষণ, একটানা স্তনদুগ্ধ না খাওয়ানো, বায়ু দূষণ, কম জন্মের ওজন এবং অপুষ্টি।WHO-এর মতে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া বেশি তীব্র হয় এবং এই রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

নিউমোনিয়া হল একটি সংক্রামক ব্যাধি যা ২০১৯ সালে ৬৭২,০০০ শিশু-সহ সারা বিশ্বে ২.৫ মিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করেছিল। নিউমোনিয়া দিবস ২০০৯ সালে শিশু নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে গ্লোবাল কোয়ালিশন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিশু নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে গ্লোবাল কোয়ালিশন হল সরকারি, বেসরকার্, সম্প্রদায়-ভিত্তিক, শিক্ষামূলক এবং গবেষণা ভিত্তিক সংস্থাগুলির একটি প্রতিষ্ঠান। ওই বছরে নিউমোনিয়া প্রতি বছর ১.২ মিলিয়ন শিশু মৃত্যুর পিছনে ছিল এই মারাত্মক রোগ।

হু ও ইউনিসেফের ২০১৩ সালে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা অনুসারে, লক্ষ্য হল নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে মৃত্যুর হার কমিয়ে তিনে নামিয়ে আনা।

উল্লেখ্য, সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষকে শ্বাসতন্ত্রের জটিল এ অসুখ থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে দিবসটির গুরুত্ব অনেক। সারা পৃথিবীতে নিউমোনিয়ায় প্রতিবছর প্রায় ৪৫ কোটি লোক আক্রান্ত হয়। মারা যায় প্রায় ৪০ লাখ রোগী। উন্নয়নশীল দেশে নিউমোনিয়ার ব্যাপকতা বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশু ও বৃদ্ধরাই নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয় এবং শিশুরা বেশি মারা যায়। তুলনামূলকভাবে নারীদের চেয়ে পুরুষরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। ফুসফুস বা শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত জটিল একটি রোগ নিউমোনিয়া। ফুসফুসের প্যারেনকাইমা বা বায়ুথলিতে জীবাণু যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদি সংক্রমণের ফলে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশি এসব উপসর্গ দেখা দেয়। যা নিউমোনিয়া নামে পরিচিত। এটি ফুসফুসের অত্যন্ত প্রচলিত ও প্রাচীন একটি রোগ। আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক হিপোক্রেটস আড়াই হাজার বছর আগে এ রোগের বর্ণনা দিয়েছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে রোগজীবাণুতে কিছু পার্থক্য থাকে। ক্রনিক ঠাণ্ডালাগা, বুকে শ্লেষ্মা জমে থাকার সূত্র ধরেই আক্রান্ত হয় নিউমোনিয়ায়।
ঠাণ্ডা লাগলেই যে সবার নিউমোনিয়া হবে তা কিন্তু নয়, তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, মূলত বয়স্ক ও শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাদের মতে, নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ খুব জ্বর। ওষুধে জ্বর নামলেও আবার ওষুধের প্রভাব কাটলেই হু হু করে বেড়ে যায়। ১০৩-১০৪ ডিগ্রি উঠতে পারে জ্বর। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ইত্যাদি তো থাকেই। অনেক সময় মাথায় যন্ত্রণা, ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা এসবও নিউমোনিয়ার লক্ষণ। নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীকে ছুঁলেই নিউমোনিয়ার জীবাণু শরীরে ছড়ায় না। আক্রান্তের কাশি বা হাঁচি থেকে তা ছড়াতে পারে। তবে সর্দিজ্বরের সঙ্গে নিউমোনিয়ার বেশকিছু পার্থক্য থাকে।

একটু লক্ষ্য রাখলেই রোগ নির্ণয় করা সহজ। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিকভাবে সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশি দিয়ে এই রোগ শুরু হলেও দেখা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, কাশিও বাড়ছে। অনেক সময় জ্বরের ওষুধের কড়া ডোজে জ্বর নামলেও ফিরে ফিরে আসে তা। অবস্থা গুরুতর হলে কাশির সঙ্গে রক্তও উঠতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। একমাত্র চিকিৎসকই বুঝতে পারেন ব্যক্তি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে কি না। তবু নিশ্চিত হতে কিছু পরীক্ষা করাতে হয়।

উপসর্গসমূহ।।

নিউমোনিয়ার উপসর্গ গুলো বিভিন্ন হয়ে থাকে। এটা নির্ভর করে শারীরিক অবস্থা এবং কি ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে তার উপর। নিউমোনিয়ার লক্ষণ সমূহ নিম্নরূপ:

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, কাপুনি, ঘাম হওয়া, বুকে ব্যাথা যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে উঠা নামা করে, মাথা ব্যথা, মাংসপেশীতে ব্যাথা, ক্লান্তি অনুভব করা। তাই নিয়ম করে ডক্টর দেখিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

কি ভাবে প্রতিরোধ করব।।

ভালোভাবে পরিষ্কার করে হাত ধুতে হবে,  নিজের প্রতি যত্ন নিতে হবে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে, সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে, ধূমপান করা যাবে না, অন্যের সামনে হাঁচি/কাশি দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁচি/কাশি দেয়ার সময় মুখ হাত দিয়ে ঢাকতে হবে বা রুমাল ব্যবহার করতে হবে, টিকা দিতে হবে —- যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন খুবই কার্যকর। ডায়াবেটিস,এইডস, পুষ্টিহীনতা ইত্যাদির চিকিৎসা করাতে হবে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান মুসলিম নেতা – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ একজন ব্যারিস্টার, রাজনীতিবিদ এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনি ১৯৪৭ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত দেশের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৭৬ সালে করাচিতে একটি ধনী বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, জিন্নাহ লন্ডনের লিঙ্কনস ইনে আইন অধ্যয়ন করেন।

 

 

মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ছিলেন একজন গুজরাটি বংশদ্ভুত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা পর্যন্ত জিন্নাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল থাকেন। পাকিস্তানে তাঁকে কায়েদে আজম (মহান নেতা) ও বাবায়ে কওম (জাতির পিতা) হিসেবে সম্মান করা হয়।

 

 

জিন্নাহ করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন। লন্ডনের লিঙ্কনস ইন থেকে তিনি ব্যরিস্টার হন। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেন। এসময় তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে লখনৌ চুক্তির সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় জিন্নাহ মুসলিম লীগেরও সদস্য ছিলেন। হোম রুল আন্দোলন সংগঠনে জিন্নাহ অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠেন। মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য তিনি চৌদ্দ দফা সাংবিধানিক সংস্কার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহে অংশ নিলে ১৯২০ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন।

 

 

১৯৪০ সালের মধ্যে, জিন্নাহ বিশ্বাস করেছিলেন যে উপমহাদেশের মুসলমানদের একটি স্বাধীন হিন্দু-মুসলিম রাষ্ট্রে সম্ভাব্য প্রান্তিক অবস্থা এড়াতে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা উচিত।  জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক জাতির দাবিতে লাহোর প্রস্তাব পাস করে।

একই বছরে লাহোর প্রস্তাব পাশ হয়। এতে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তোলা হয়।

 

 

জিন্নাহ মূলত পাকিস্তানের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহজনক ছিলেন, এমন একটি ধারণা যা কবি ও দার্শনিক স্যার মুহম্মদ ইকবাল ১৯৩০ সালের মুসলিম লীগের সম্মেলনে উত্থাপন করেছিলেন, কিন্তু অনেক আগেই তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ভারতীয় উপমহাদেশে একটি মুসলিম স্বদেশই একমাত্র পথ।  মুসলিম স্বার্থ এবং মুসলিম জীবনধারা রক্ষা করা।  এটা ধর্মীয় নিপীড়ন ছিল না যে তিনি হিন্দু সামাজিক সংগঠনের ঘনিষ্ঠ কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতা অর্পিত হওয়ার সাথে সাথে ভারতের অভ্যন্তরে অগ্রগতির সমস্ত সম্ভাবনা থেকে মুসলমানদের ভবিষ্যত বাদ দেওয়ার মতো ভয় পেয়েছিলেন।  সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, তিনি তাঁর সহধর্মবাদীদের তাদের অবস্থানের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য দেশব্যাপী প্রচার চালান এবং তিনি মুসলিম লীগকে মুসলিমদের একটি জাতিতে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
সেই সময়ে, জিন্নাহ একটি পুনর্জাগরিত মুসলিম জাতির নেতা হিসাবে আবির্ভূত হন।  ঘটনা দ্রুত এগোতে থাকে।  ২২-২৩ মার্চ, ১৯৪০ সালে, লাহোরে, লীগ একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র, পাকিস্তান গঠনের জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।  পাকিস্তান ধারণাটি প্রথমে উপহাস করেছিল এবং তারপর কংগ্রেস পার্টি কঠোরভাবে বিরোধিতা করেছিল।  কিন্তু এটি মুসলমানদের কল্পনাকে ধারণ করে।  গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরু সহ অনেক প্রভাবশালী হিন্দু জিন্নাহর বিরুদ্ধে ছিলেন।  এবং ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখার জন্য অভিপ্রেত বলে মনে হয়েছিল।

 

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, কংগ্রেসের নেতাদের বন্দী করার সময় লীগ শক্তি অর্জন করে এবং যুদ্ধের কিছু পরেই অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনে, এটি মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত বেশিরভাগ আসন জিতেছিল।  শেষ পর্যন্ত, কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ এমন একটি ক্ষমতা ভাগাভাগি সূত্রে পৌঁছাতে পারেনি যা স্বাধীনতার পর সমগ্র ব্রিটিশ ভারতকে একক রাষ্ট্র হিসেবে একত্রিত করার অনুমতি দেবে, যা প্রধানত হিন্দু ভারতের স্বাধীনতার পরিবর্তে সমস্ত দলকে একমত হতে পরিচালিত করবে, এবং  পাকিস্তানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের জন্য।  শেষপর্যন্ত কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ঐক্যবদ্ধ ভারতের ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌছতে ব্যর্থ হলে দেশ বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়।কিন্তু জিন্নাহ তার আন্দোলনকে এমন দক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস পার্টি এবং ব্রিটিশ সরকার উভয়ের কাছেই ভারত বিভাজনে সম্মত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।  এভাবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

 

 

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশ হয়ে ওঠে যেখানে ভারত একদিন পরে স্বাধীনতা লাভ করে।  উপমহাদেশের মুসলমানদের একটি পৃথক জাতি প্রয়োজন কারণ হিন্দু-অধ্যুষিত ভারতে তাদের আকাঙ্ক্ষা চুরমার হয়ে যাবে এই ধারণাটি প্রথম দ্বি-জাতি তত্ত্বে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।

জিন্নাহ নতুন রাষ্ট্রের প্রথম প্রধান হন।  পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে জিন্নাহ নতুন রাষ্ট্রের সরকার ও নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। এছাড়া ভারত থেকে আসা লক্ষাধিক অভিবাসীর পুনর্বাসনের জন্যও তাকে কাজ করতে হয়। উদ্বাস্তু শিবির স্থাপনের কাজ তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারক করেন। একটি তরুণ দেশের গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়ে, তিনি কর্তৃত্বের সাথে পাকিস্তানের সমস্যাগুলি মোকাবেলা করেছিলেন।  তাকে নিছক গভর্নর-জেনারেল হিসেবে গণ্য করা হতো না।  তিনি জাতির পিতা হিসেবে সম্মানিত ছিলেন।  বয়স এবং রোগের দ্বারা কাবু না হওয়া পর্যন্ত তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে জিন্নাহ জন্মস্থান করাচিতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ : একটি পর্যালোচনা।

আবুল কালাম আজাদ , (জন্ম ১১ নভেম্বর, ১৮৮৮, মক্কা (বর্তমানে সৌদি আরবে)-মৃত্যু ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮, নয়াদিল্লি , ভারত), ইসলামী ধর্মতাত্ত্বিক যিনি প্রথম ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন।  উচ্চ নৈতিক সততার মানুষ হিসেবে সারাজীবন তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন।

 

মৌলানা আবুল কালাম আজাদ শুধুমাত্র ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন না, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জানব  তাঁর সম্পর্কে  ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—–

 

আবুল কালাম আজাদ ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-ধারাসানা সত্যাগ্রহের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন।

 

১৯২০ সালে, আজাদ, অন্য দুজনের সাথে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছিলেন, যা মূলত উত্তর প্রদেশের আলীগড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  চৌদ্দ বছর পর, আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আলিগড় থেকে নয়াদিল্লিতে স্থানান্তর করতে সাহায্য করেন।

 

তিনি কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং ১৯২৩ সালে তিনি ৩৫ বছর বয়সে দলের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হন।

 

আবুল কালাম আজাদ একজন সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন এবং বেশ কয়েকটি উর্দু প্রকাশনায় নিবন্ধ দিয়েছেন।  এছাড়াও তিনি একটি মাসিক পত্রিকা লিসান-উস-সিদক বের করেন যা ১৯০৫ সাল পর্যন্ত মুদ্রিত ছিল। ১৯০৪ সালে, তিনি প্রায় আট মাস অমৃতসর-ভিত্তিক সংবাদপত্র ভাকিলের সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।  ১৯১২ সালে, আজাদ আল-হিলাল নামে একটি সাপ্তাহিক উর্দু সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।

 

একজন সাংবাদিক হিসাবে, আজাদ ব্রিটিশ রাজের সমালোচনা করে এবং সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলি তুলে ধরে এমন কাজ প্রকাশ করতেন।

 

আজাদকে তাঁর সময়ের একজন বিশিষ্ট জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন।

 

আজাদ হোমস্কুল এবং স্ব-শিক্ষিত ছিলেন এবং আরবি, বাংলা এবং ফারসি সহ অনেক ভাষায় সাবলীল ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে তাঁর মেয়াদে, মন্ত্রক ১৯৫১ সালে প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) এবং ১৯৫৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান কমিশন (UGC) প্রতিষ্ঠা করে।

 

আজাদ ১৯১৯-১৯২৪ সাল পর্যন্ত খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন, সেই সময় তিনি মহাত্মা গান্ধীর সাথে দেখা করেছিলেন।

 

১৯৮৯ সালে, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক মাওলানা আজাদ এডুকেশন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে, সমাজের শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীগুলির মধ্যে শিক্ষার প্রচারের জন্য।

 

দুটি পৃথক দেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, তিনি ভারত সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেনজওহরলাল নেহেরু ১৯৪৭ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। তাঁর আত্মজীবনী, ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম , ১৯৫৯ সালে মরণোত্তর প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৯২ সালে, তাঁর মৃত্যুর কয়েক দশক পরে, আজাদকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন দেওয়া হয়েছিল।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This