Categories
প্রবন্ধ

পথশিশু  এবং অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু; এক বিশেষ পর্যালোচনা : দিলীপ রায়।

যেসব শিশু পিতৃ কিংবা মাতৃহীন, মা তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বাবা কঠিন দুরারোগে আক্রান্ত, বাবা কিংবা মা মাদকাশক্ত অথবা বাবা-মা সংসার চালাতে না পারার জন্য, বাবা বা মায়ের বহু বিবাহ, সৎ বাবা বা মা দ্বারা নির্যাতিত, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, গৃহে হিংসা, পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া, আশ্রয়ের অভাব,  বন্যা, খরা বা অন্য কোনও দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত, ইত্যাদি কয়েকটি কারণে পথশিশুর বাড়-বাড়ন্ত । পথশিশুরা শিশু পাচার, শিশু শ্রম , শোষণের শিকার হয় ।
পথশিশুরা এসে শহরে ভিড় করে । গ্রামের মেয়ে শিশুদের একশ্রেণীর মানুষ শহরে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করে । তারা গ্রাম ছেড়ে  শহরের খোলা আকাশের নীচে, ব্রিজের নীচে,  মার্কেট,  পার্ক,  বাস স্ট্যান্ডে ও রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়  এবং বাঁচার তাগিদে  তারা  ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ, বাদাম বিক্রি, কুলি,  সিগারেট বিক্রি, হোটেলে  বয়, গাড়ি ধোঁয়া-মোছা,  ফুল বিক্রি,  গৃহস্থালীর  কাজ,  মাদক বিক্রি,  চুরি, অকাজ-কুকাজ সহ   নানান ধরনের  কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে । তাই
পথশিশুদের জীবন ও জীবিকা অনেক দুঃখের ও  কষ্টের ।  আয় না হলে না খেয়েই দিন যাপন । এজন্য অধিকাংশ পথশিশু অপুষ্টিতে ভোগে ।   চর্মরোগ, ডায়রিয়া, ঠাণ্ডা, জ্বর, জন্ডিসসহ  নানা রোগে  আক্রান্ত হয় । অসুস্থ হলে চিকিৎসার সুযোগ থেকে তারা  বঞ্চিত থাকে ।
পথশিশুর সংখ্যা আজও অজানা । কেননা ভারতে তাদের সংখ্যা নিয়ে সাম্প্রতিক কোনও তথ্য নেই । ইউনিসেফ নাকি ২০০০ সালে জানিয়েছিল  ভারতে আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লক্ষ পথশিশু রয়েছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ । মৌলিক চাহিদা ও সুযোগ থেকে দূরে থাকা এই বাচ্চারা শুধু পারিবারিক  যত্ন ও সুরক্ষা থেকে  বঞ্চিত হয় না, নির্যাতন, অবহেলা ও মৃত্যুরও মুখোমুখি  হয় । এটাই  বিড়ম্বনার । এটাই বেদনার । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।
এছাড়া রয়েছে অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু ! তাই   প্রথমেই আমাদের জানা দরকার, অনাথ শিশু কারা ? সচরাচর আমরা যেটা জানি, যে শিশুর বাবা ও মা দুজনেই মারা গেছেন তাকে অনাথ বলে । এখানে উল্লেখ্য, যে প্রাপ্তবয়স্ক শিশুর বাবা ও মা মারা গেছেন তাকে কিন্তু অনাথ বলা যাবে না । এবার দেখা যাক “অনাথ” সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অন্যান্যরা কী বলে ? যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে অনাথ বলতে বুঝায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন কাউকে, “যার বাবা ও মা দুজনেই মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন ।“ যদিও ইউনিসেফ (ইউনাইটেড নেশন্স চিলড্রেন’স ফান্ড) কোনো শিশুর বাবা ও মা দুজনের মধ্যে একজন আছে এমন শিশুকেও অনাথ বলে বিবেচনা করে থাকে । এভাবে বললে, মাতৃহারা শিশুকে মাতৃহারা অনাথ, পিতৃহারা শিশুকে পিতৃহারা অনাথ এবং বাবা-মা দুজনেই মারা গেলে শিশুকে দ্বৈত অনাথ বলে তারা  অভিহিত  ।
এবার জানা যাক পরিত্যক্ত শিশু কারা ? যেসব শিশুকে বিভিন্ন সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় কোনো দাবীদার ছাড়া উদ্ধার করা হয় । পরিত্যক্ত শিশুর মধ্যে পড়ে পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন পরিত্যক্ত শিশু, অথবা পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করা শিশু । অনেক শিশু সন্তানকে জন্ম দেওয়ার পর রাস্তাঘাটে ডাস্টবিনে ফেলে রাখে, তারাও পরিত্যক্ত শিশু । সংজ্ঞাটা যাই হোক আমরা পরিত্যক্ত শিশু বলতে বুঝি, “যেসব শিশুকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তাদেরকে ।“
এরপর পরিসংখ্যানে আসা যাক । ভারতের জনসংখ্যার বড়োসড়ো অংশ অর্থাৎ ১৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর বয়স ছয় বছরের মধ্যে । ইউনিসেফ’এর হিসেব অনুসারে, ভারতে ২ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার শিশু অনাথ এবং পরিত্যক্ত (২০১১ জনসংখ্যা তথ্য) । এই পরিসংখ্যান অনুসারে বলা যায়, এরা কম বয়সি জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ ।
বিরাট সংখ্যক ৩ কোটি (প্রায়) শিশুর ঠাঁই নেই বললেই চলে । যার জন্য ঐসব শিশুদের দৈনদশা ক্রমশ অবনতির দিকে । ২০১৭ সালের অসরকারি সংস্থাগুলির হিসেবমাফিক এই ৩ কোটিখানেক বালবাচ্চার মধ্যে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার জন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা পায় । এই যে প্রায় ৫ লাখ পরিচর্যা পাওয়া কচিকাচার এক ভগ্নাংশমাত্রের ঠাঁই মেলে কোনো পরিবারে ।
এটা সর্বজনবিদিত, ভারতে দত্তক নেওয়ার হার নিতান্তই কম । সেন্ট্রাল অ্যাডাপশান রিসোর্স অথরিটির অধুনাতম তথ্যমাফিক, ২০১৮-১৯ সালে পালক মা-বাবার ঠাঁই মিলেছে মেরেকেটে ৪০ টি শিশুর যেটা কিনা ঐ বছরে মোট দত্তকের মাত্র ১ শতাংশের মতো । সেন্ট্রাল অ্যাডাপশান রিসোর্স অথরিটির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, ২০১০ সালে, দেশের মধ্যে ৫,৬৯৩ টি শিশুকে দত্তক নেওয়া হয়, ২০১৭-১৮তে সেটা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩,২৭৬ । এখানে অনাথ এবং পরিত্যক্ত শিশুর কপালে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা জুটেছিল যেটা কিনা ০.৮৭ শতাংশ । এতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ভারতে দত্তক নেওয়ার প্রবণতা খুব কম । তাই শিশু উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ফোকাসে আগাপাশতলা পুনর্বিন্যাস করা দরকার, কারণ এখনও লাখো লাখো বাচ্চার কাছে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সুযোগ অধরা । এটাই উদ্বেগের ।
এবার অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুদের হালহকিকৎ অর্থাৎ তাদের বর্তমান অবস্থান সম্বন্ধে জানা যাক । সহায়-সম্বলহীন অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু যাদের নাম সরকারি খাতায় নথীভুক্ত বা নিবন্ধীকৃত নেই, তাদের অহরহ রাস্তাঘাটে খালি গায়ে অথবা ছেঁড়া-ফাটা জামা গায়ে ঘুরতে দেখা যায় । ফ্যা ফ্যা করে তারা চারিদিকে ঘুরে বেড়ায় । বড় বড় স্টেশন, কলকাতার বিভিন্ন ফুটপাতে, তাদের অবাধ বিচরণ । তদের পরিচর্যা করার কেউ নেই । উপরন্ত কিছু অসৎ মানুষের খপ্পরে পড়ে তারা নানান অমানুষিক কাজে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিন কাটায় । এমনকি পাচারকারীরা এদের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে মোটা টাকায় ভিন রাজ্যে বা ভিন দেশে বিক্রি করে দেয় । এর উপরে মহিলা শিশুদের কপালে জোটে অনেক মারধর ও যৌন লাঞ্ছনা । বিক্রি হওয়ার সংখ্যায় মেয়ে শিশুরা সংখ্যাধিক্য ।
পরিত্যক্ত শিশু আজকাল প্রকাশ্য রাজপথের পাশের জঙ্গলেও দেখা যায় । বিভিন্ন ডাস্টবিনে সদ্যজাত শিশুদের পড়ে থাকতে অহরহ দেখা যায় । খুব কম লোক পরিত্যক্ত শিশুকে কোনো অনাথ আশ্রমের সামনে রাখা ঝুড়িতে রাখে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই জাতীয় ন্যক্কারজনক কাজ কারা করে ? বা পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির কী কারণ ? কিছু শিশু সুরক্ষা সংস্থার মতে, এর পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে । তা ছাড়া যারা নবজাতক সন্তানকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে এমন মানুষ আছেন যারা হয়ত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন, কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন । এইসব লোকদের মধ্যে ধনবান ব্যক্তিও থাকতে পারেন যারা নবজাতক সন্তানকে সমাজের কাছে পরিচয় দিতে পারবেন না । আবার আর একটা শ্রেণী থাকতে পারেন, যাদের সন্তানকে ভরণ পোষণের অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই, তাই তারা রাস্তায় ফেলে তাদের নিজের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চান । আবার এটাও ঘটনা, বিবাহবহির্ভূত ঘটনায় সন্তান জন্ম নেওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে সন্তানকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে বাঁচে । সবচেয়ে দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক, বিবাহবহির্ভূত কোনো সন্তানের পৃথিবীতে আগমন ঘটলে সেই গর্ভজাত শিশুকে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া । এরূপ ঘটনা অহরহ ঘটছে । সেই ক্ষেত্রে সদ্যজাত শিশুকে বাঁচানো খুবই কঠিন । একদিনের বেশী ঐ শিশুগুলি সাধারণত বাঁচে না । কষ্ট করে তারা হোমে কিংবা নিদেনপক্ষে কোনো অপরিচিত বাড়ির সম্মুখে ফেললে ঐ শিশুটা পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পায় । এটা একটা অমানবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন !
এবার আসছি দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গে কিছু আইনি কথাবার্তায় । এই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এখনও কোনো দম্পতি দত্তক নিয়েছেন শুনলে সমাজের অনেকেই বিকৃত কৌতুহল প্রকাশ করেন । আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো দম্পতি আপন সন্তান ধারন করলে, দত্তক নেওয়া সন্তানের প্রতি আদর-ভালবাসা-যত্ন কমে যায় । ফলে এমনও দেখা গেছে দত্তক নেওয়া শিশুকে ফেরত দেওয়ার জন্য তাদের হোমে ছোটাছুটি । আবার দত্তক নেওয়ার সময় শিশুদের ঝাড়াই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সন্তানহীন বাবা-মায়ের চক্ষুলজ্জার বালাই নেই । ফুটফুটে নীরোগ ও নিখুঁত শিশুর প্রতি সন্তানহীন বাবা-মার চাহিদা বেশী । বাস্তবে দেখা গেছে, দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মানুষের মহিলা শিশুর দিকে ঝোঁক বেশী ! যার জন্য দত্তক নেওয়ার সংখ্যা ক্রমাগত কমছে, যেটা হিসাব করলে দাঁড়ায় মোট অনাথ শিশুর ০.৮৭ শতাংশ । প্রতিবন্ধী শিশুদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ঘোর অপছন্দ ! যার জন্য আইনসম্মত অভিভাবক অথবা পরিচর্যাহীন তিন কোটি শিশুর মধ্যে, পাঁচ লক্ষের চেয়ে কম শিশু প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা পায় । এটা ঘটনা, বাদ বাকী শিশুর ঠাঁই জোটে পথেঘাটে । যদিও ইতিপূর্বে উল্লেখিত যে, এসব ভবঘুরে শিশুরা অনেকেই পাচার হয়ে যায় । এমনকি তাদের অকাজে-কুকাজে লাগানো হয় । যেটা খুব বেদনার ও কষ্টের ।
ভারতে দত্তক প্রথাটা মূলত হিন্দু দত্তক ও ভরনপোষণ আইন, ১৯৫৬ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ন্যায়বিচার (জুভেনাইল জাস্টিস – শিশুদের পরিচর্যা ও সুরক্ষা) আইন, ২০০০ দ্বারা পরিচালিত হয় । এই আইনে বিভিন্ন বন্দোবস্ত এবং লক্ষ্য আছে । হিন্দু দত্তক এবং ভরনপোষণ আইনটি হিন্দুদের দত্তক দেখ-ভাল করে । এখানে হিন্দু অর্থ বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ । এই আইন দত্তক শিশুকে অন্য শিশুর মতো প্রাপ্য অধিকার দেয় এবং অধিকারগুলির মধ্যে উত্তরাধিকারের অধিকার তার মধ্যে অন্যতম ।
পরিশেষে যেটা বলা যায়, সরকারি স্তরে নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক শিশু কল্যাণ, উন্নয়ন এবং সুরক্ষার জন্য অনেক কাজকর্ম করছে, প্রকল্প হাতে নিয়েছে । প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কতটা হবে সেটা না ভেবে সুশীল নাগরিক সমাজকে একটু নড়েচড়ে বসতে হবে । রাস্তাঘাটের পথশিশু,  অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুরা যাতে আর পাঁচটা শিশুর মতো বড় হতে পারে সেটা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে । অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে শিশুদের নিয়ে অমানবিক কাজ যেমন সদ্যজাত শিশুকে জঙ্গলে বা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া, শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া, ইত্যাদির মতো জঘন্য কাজ অচিরেই বন্ধ হয় । দত্তক নেওয়ার কথাও ভাবতে হবে । দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানহীন পিতা-মাতাকে আরও একটু সংবেদনশীল হতে হবে, অর্থাৎ ঝাড়াই-বাছাই জিনিসটা বন্ধ করে যে কোনো ধরনের শিশুকে ঘরে তুলতে হবে । তাহলে এই অনাথ শিশু একদিন দেশের মূল্যবান মূলধন বা সম্পত্তি হয়ে উঠবে । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত ও যোজনা ৫/২২)।
———০———-
এ১০এক্স/৩৪, কল্যাণী  / ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে ২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস পালন করা হয়।  এটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব A/RES/61/271 অনুযায়ী 15 জুন 2007 এ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  দিনটি একটি উপলক্ষ “অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার…শিক্ষা এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে…এবং শান্তি, সহনশীলতা, বোঝাপড়া এবং অহিংসার সংস্কৃতির আকাঙ্ক্ষাকে পুনর্নিশ্চিত করার”।  এটি কোনো সরকারি ছুটির দিন নয়, কিন্তু সারা বিশ্বে বিভিন্ন উপায়ে পালন করা হয়, প্রায়শই বৈশ্বিক সমস্যাগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। এর তারিখ এবং উদ্দেশ্য ভারতীয় জাতীয় সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিত হয় গান্ধী জয়ন্তীর।

 

প্রতি বছর ২রা অক্টোবর, আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় মহাত্মা গান্ধীর চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার, শান্তি ও অহিংস প্রতিরোধের বিশ্ব প্রতীক।  জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, এই দিনটি গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, যিনি দেখিয়েছিলেন যে প্রেম, সত্য এবং শান্তিপূর্ণ কর্মের মাধ্যমে গভীর পরিবর্তন আনা যায়।
মহাত্মা গান্ধী জয়ন্তী, ২রা অক্টোবর, এই দিনটিকে উদযাপন করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল, অহিংসার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার তুলে ধরে৷  আমরা যখন আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসকে স্মরণ করি, আমরা এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য এবং গান্ধীর অহিংসার নিরন্তর বার্তা প্রতিফলিত করি, যা বিশ্বব্যাপী মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।  এই নিবন্ধে, আমরা ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসের ইতিহাস এবং গুরুত্বের দিকে নজর দেব।

 

ইতিহাস—

 

জানুয়ারী ২০০৪ সালে, ইরানের নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদি প্যারিসের একজন হিন্দি শিক্ষকের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবসের জন্য একটি প্রস্তাব নিয়েছিলেন যা আন্তর্জাতিক ছাত্রদের মুম্বাইয়ের বিশ্ব সামাজিক ফোরামে পড়াচ্ছেন।  ধারণাটি ধীরে ধীরে ভারতের কংগ্রেস পার্টি (“অহিংস ফাইন্ডস টিন ভয়েস”, দ্য টেলিগ্রাফ, কলকাতা) এর কিছু নেতার আগ্রহকে আকৃষ্ট করে, যতক্ষণ না জানুয়ারী ২০০৭ সালে নয়াদিল্লিতে একটি সত্যাগ্রহ সম্মেলনের প্রস্তাব, যা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি এবং ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ-এর চেয়ারপার্সনের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল।  জোট সোনিয়া গান্ধী এবং আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, এই ধারণাটি গ্রহণ করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান।
১৫ জুন ২০০৭-এ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে ভোট দেয় সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সিস্টেমের সমস্ত সদস্যদেরকে ২ॐঅক্টোবরকে “একটি উপযুক্ত উপায়ে স্মরণ করতে এবং বার্তা প্রচার করতে বলে।  শিক্ষা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে অহিংসা”
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘের ডাক প্রশাসন (ইউএনপিএ) এই ইভেন্টটিকে স্মরণ করার জন্য একটি বিশেষ ক্যাশেট প্রস্তুত করেছে।  বক্সযুক্ত সচিত্র ক্যাশেট ডিজাইনটি UNPA দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এটি UNPA-এর NY অবস্থানে (জেনেভা এবং ভিয়েনা নয়) বাতিল করার জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।  UNPA ইঙ্গিত দিয়েছে যে ২ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত বহির্গামী UNPA মেইল ​​ক্যাশেট বহন করে।

 

গান্ধী জয়ন্তী—-

 

গান্ধী জয়ন্তী, যা প্রতি বছর ২রা অক্টোবর আসে, মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ ও সম্মান করার একটি দিন, যিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এমন একজন মহান নেতা।  ২০২৩ সালে, গান্ধী জয়ন্তীর আগে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এবং এটি সবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং একতা সম্পর্কে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের জনগণকে 1লা অক্টোবর সকাল 10 টা থেকে শুরু হওয়া একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখা একটি ভাগ করা দায়িত্ব এবং প্রতিটি প্রচেষ্টাই গণ্য৷
এই অভিযানের নাম ‘এক তারীখ, এক ঘণ্টা, এক সাথ’, যার অর্থ ‘এক তারিখ, এক ঘণ্টা, একসঙ্গে।’ এটি গান্ধী জয়ন্তী উদযাপনের জন্য একটি মেগা পরিচ্ছন্নতা অভিযান।  এই উদ্যোগটি ‘স্বচ্ছতা পাখওয়াদা – স্বচ্ছতা হাই সেবা’ ২০২৩ অভিযানের একটি সূচনা৷
মন কি বাত-এর ১০৫ তম পর্বের সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদী সবাইকে এই প্রচারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  আপনি আপনার রাস্তা, আশপাশ, পার্ক, নদী, লেক বা যেকোনো পাবলিক প্লেস পরিষ্কার করে অংশগ্রহণ করতে পারেন।  লক্ষ্য হল ভারতকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করতে একসঙ্গে কাজ করা।

 

আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস থিম ২০২৩—

 

জাতিসংঘ একটি সঙ্গত কারণে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসের জন্য গান্ধীর জন্মদিন বেছে নিয়েছে।  ভারতের স্বাধীনতার প্রতি গান্ধীর উৎসর্গ এবং তার পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী নাগরিক ও মানবাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি।  অহিংসা দিবস ২০২৩-এর থিম এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি।  অহিংসা কর্মের তিনটি প্রধান বিভাগ রয়েছে:

বিক্ষোভ এবং প্ররোচনা, মিছিল এবং নজরদারি সহ;

অসহযোগিতা;  এবং

অহিংস হস্তক্ষেপ, যেমন অবরোধ এবং দখল।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

সুরের জাদুকর সঙ্গীতশিল্পী শচীন দেববর্মণ এর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

শচীন দেববর্মণ (১ অক্টোবর, ১৯০৬ – ৩১ অক্টোবর, ১৯৭৫) বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দী গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক , সুরকার , গায়ক ও লোকসঙ্গীত শিল্পী । কিছুটা অনুনাসিক কণ্ঠস্বরের জন্য তিনি তার শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। প্রায় একশো বছর পার করেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তার কালোত্তীর্ণ গানের আবেদন কিছুমাত্র লঘু হয়নি। কেবল সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেও তিনি সার্থক। তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পুত্র রাহুল দেববর্মণ ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীতপরিচালক এবং সুরকার ছিলেন। তার ছাত্রী এবং পরবর্তীতে সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন।

 

তার জন্ম কুমিল্লার ত্রিপুরা রাজবাড়িতে৷ তবে আদিবাস বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে৷ তিনি ছিলেন ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারের সন্তান। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। তৎকালীন ত্রিপুরার অন্তর্গত কুমিল্লার রাজপরিবারের নয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। মা মণিপুর রাজবংশের মেয়ে নিরুপমা দেবী। ত্রিপুরার আগরতলায় কুমার বোর্ডিং স্কুলে শচীন দেবের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়।

 

ছোটবেলা থেকেই একটি সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন শচীন দেব বর্মন। বাবা ছিলেন একজন সেতারবাদক ও ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী। বাবার কাছেই গ্রহণ করেন সংগীতের প্রথম তালিম।১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে হতে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সঙ্গীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে সঙ্গীতচর্চা করেন। এরপর তার সঙ্গীত শিক্ষা চলে উস্তাদ বাদল খান এবং বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে। ধ্রূপদী সঙ্গীতের এই শিক্ষা তার মধ্যে সঙ্গীতের মৌলিক জ্ঞান সঞ্চারে গভীর ভূমিকা পালন করে। এই শিক্ষা তার পরবর্তী জীবনের সুর-সাধনায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। পরবর্তীতে তিনি উস্তাদ আফতাবউদ্দিন খানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

 

শচীন দেব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে ত্রিপুরার রাজদরবারে কিছুদিন চাকরি করেন। পরে চাকরি ছেড়ে কলকাতায় যান এবং ওস্তাদ বাদল খাঁ, আলাউদ্দিন খাঁ, ফৈয়াজ খাঁ, আবদুল করিম খাঁ প্রমুখের কাছে তালিম নেন। ১৯২৩ সালে কলকাতা বেতারে শচীন দেব প্রথম গান করেন এবং ১৯৩২ সালে তার প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড প্রকাশ হয়। এর পর তার বহুসংখ্যক বাংলা ও হিন্দি গানের রেকর্ড বের হয়।তিনি  নজরুল সঙ্গীতও রেকর্ড করেন। এরপর তাঁর বহুসংখ্যক বাংলা ও হিন্দি গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। রেকর্ডকৃত তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান হলো: ‘যদি দখিনা পবন’ (রাগপ্রধান), ‘প্রেমের সমাধি তীরে’ (কাব্যগীতি), ‘নিশীথে যাইও ফুলবনে’ (পল্লিগীতি), ‘বধুঁগো এই মধুমাস’ (পল্লিগীতি), ‘ওরে সুজন নাইয়া’ (পল্লিগীতি) প্রভৃতি।
শচীন দেব অনেক বাংলা গানে সুর দিয়েছেন। ১৯৩৪ সালে নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মিলনে গান গেয়ে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৭ সাল থেকে পরপর কয়েকটি বাংলা ছায়াছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো: রাজগী, ছদ্মবেশী, জীবন-সঙ্গিনী, মাটির ঘর ইত্যাদি।
শচীন দেব ১৯৪৪ সাল থেকে মুম্বাই-এ বসবাস করেন এবং আশিটির মতো হিন্দি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে চিত্রজগতে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী হন। সেখানে তিনি শিকারী, দেবদাস, সুজাতা, বন্দিনী, গাইড, আরাধনা, বাজি, শবনম, দো ভাই প্রভৃতি ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

 

অসংখ্য কালজয়ী গান যেমন তার হাত ধরে এসেছে। ‘তুমি এসেছিলে পরশু, কাল কেন আসোনি?’ কিংবা ‘আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’ অথবা ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’ আরও আছে ‘শোনো গো দখিন হাওয়া’, ‘নিশিতে যাইও ফুল বনে’, ‘কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া’! এখানেই শেষ নয়! ‘তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে’, ‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙা’।

তেমনি তিনি গড়ে তুলেছেন এই উপমহাদেশের অনেক বিখ্যাত গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালককেও। ভারতীয় সংগীতে তিনি স্রষ্টার মতো। গানের আঙিনায় তাকে সম্মান করে ডাকা হয় ‘কর্তা’ বলে। লোকজ ও রাগ সংগীতের সংমিশ্রণে সংগীত ভুবনে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন তিনি।

শচীন দেববর্মণ তার সংগীত জীবনে অসংখ্য গানের সুর করেছেন, যার অধিকাংশ গানই লতা মঙ্গেশকর, মান্না দে, কিশোর কুমার, মো. রফি ও আশা ভোসলের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের গাওয়া। তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনাও করেছেন।
শচীন দেববর্মণের পুত্র রাহুল দেববর্মণও ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীতপরিচালক এবং সুরকার ছিলেন। তার ছাত্রী এবং পরবর্তীতে সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শচীন দেব বর্মন জয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পদ্মশ্রী, ফিল্মফেয়ার এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি পুরস্কার, সহ  বহু সন্মাননা। শচীন দেব বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে উচ্চ পদ অলঙ্কৃত করেন এবং বহু সংগঠন কর্তৃক সম্মানিত হন। ১৯৫৮ সালে সঙ্গীত-নাটক আকাদেমি ও এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি (লন্ডন) এবং ১৯৬৩ সালে ত্রিপুরা ললিতকলা কেন্দ্র তাঁকে অভিনন্দিত করে।
আজ সেই কিংবদন্তি শচীন দেববর্মণের জন্মদিন।

১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতের এই কিংবদন্তি। তাকে এস ডি বর্মণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

নিকুঞ্জ সেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে একজন বাঙালি বিপ্লবী ও লেখক, জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে নিকুঞ্জ সেন প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। নিকুঞ্জ সেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

বাংলা বহু প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার জন্মভূমি।  তবুও, নায়কদের কথা কম বলা হয়, নামগুলি বিস্মৃতিতে ঝাপসা।  নিকুঞ্জ সেন তেমনই একটি নাম। ১ অক্টোবর ১৯০৬ সালে অবিভক্ত বাংলার ঢাকার খামারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন প্রবল সমর্থক ছিলেন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য কলকাতায় এসে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন।  তিনি হেমচন্দ্র ঘোষ প্রতিষ্ঠিত যুগান্তর দলের মুক্তি সংঘের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং পরে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের সদস্য হন।  কুমিল্লার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ স্টিভেনসকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শান্তি ঘোষ এবং সুনীতি চৌধুরী ললিত বর্মনের নেতৃত্বে।  সেন ঢাকার বিক্রমপুরের বানারীপাড়া স্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে বিপ্লবী সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য যোগ দেন।  এখানে তাঁর ছাত্র হিসাবে, তিনি করিডোর যুদ্ধের নায়ক বাদল গুপ্তকে পেয়েছিলেন যার মধ্যে তিনি দেশাত্মবোধক মূল্যবোধ গেঁথেছিলেন।
অত্যাচারী কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল সিম্পসনকে হত্যা করার জন্য রাইটার্স বিল্ডিং-এ করিডোর যুদ্ধের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।  মিশনের জন্য ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত ছিল।  একটি অ্যাকশন স্কোয়াড গঠন করা হয়েছিল যার মধ্যে নিকুঞ্জ সেন, হরিদাদ দত্ত, রাসময় সুর, প্রফুল্ল দত্ত এবং সুপতি রায় ছিলেন।  বিনয় বসুকে মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল যখন বাদল গুপ্ত এবং দীনেশ গুপ্ত তাকে সহায়তা করবেন।  মিশনের দুই দিন আগে, নিকুঞ্জ সেন বাদল ও দীনেশকে ভবনের চারপাশে নিয়ে যান যাতে মিশনের সময়ই ঘরগুলো সহজেই চিনতে পারে।
প্রফুল্ল দত্তের তৈরি রাইটার্স বিল্ডিংয়ের একটি নকশা বিনয় বসুর কাছে পাঠানো হয়েছিল যিনি লেম্যান এবং হাডসনকে হত্যার অভিযোগের কারণে একটি আস্তানায় ছিলেন।  পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বরে নিকুঞ্জ সেন বাদল এবং দীনেশের সাথে পাইপ রোড, কিদারপুরে পৌঁছান।  বিনয়ের সাথে রসময় স্যার।  ত্রয়ী একটি ট্যাক্সিতে চড়ে যখন নিকুঞ্জ সেন এবং রাসময় সুর চিড়িয়াখানায় পৌঁছে যেখানে সুপতি রায় অপেক্ষা করছিলেন।  জিতেন সেন রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কাছে লালদিঘিতে অপেক্ষা করছিলেন চিড়িয়াখানায় অপেক্ষারত দুজনকে খবরটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে মুহূর্তে তিনি লেখকদের কাছ থেকে ‘বন্দেমাতরম’ শুনতে পাবেন।

নিকুঞ্জ সেন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পুরো পরিকল্পনাটির মাস্টারমাইন্ড করেন।  সেন ও তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করতে না পেরে তারা বাগুতে লুকিয়ে ছিলেন।  তিনি ১৯৩১ সালে গ্রেফতার হন এবং সাত বছরের জন্য জেলে ছিলেন।  আবার, তিনি ১৯৪০ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কারাবরণ করেন। পরে তিনি শরৎ বসুর গঠিত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন এবং পার্টি বুলেটিন ‘মহাজাতি’-এর সম্পাদক ছিলেন।  তিনি আরও কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।  এরপর তিনি বাগুর সপ্তগ্রাম সর্বেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  তিনি স্থানীয়দের কল্যাণে সমাজকল্যাণ সংস্থা ‘পল্লীনিকেতন’ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

তিনি ‘জেলখানা কারাগার’ (জেল জেল), ‘বক্সার পোর দেউলিয়া’ (বক্সার পরে দেউলিয়া), ‘ইতিহাশে আর্তনোইটিক ব্যাক্ষা’ (ইতিহাসে অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা), ‘নেতাজি ও মার্কসবাদ’ (নেতাজি ও মার্কসবাদ) ইত্যাদি বই লিখেছেন।  রাজারহাটের এলাকার নামকরণ করা হয়েছে ‘বিপ্লবী নিকুঞ্জ সেন পল্লী’।

বিপ্লবী নিকুঞ্জ সেন ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২ রা জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জানুন আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস কি, কবে পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

ইন্টারন্যাশনাল ডে অফ ওল্ডার পারসন / আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস (IDOP) হল একটি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ইভেন্ট যা প্রতি বছর ১লা অক্টোবর উদযাপিত হয় যেটি বার্ধক্যজনিত চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগগুলির বিষয়ে জনসচেতনতার উপর জোর দেয় এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের সাহায্য করার জন্য সম্প্রদায়ের সংগঠন, পরিবার এবং স্টেকহোল্ডারদের সংগঠিত করে।  চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।এই বছর ২০২৩, আন্তর্জাতিক বয়স্ক ব্যক্তি দিবসের থিম হল “বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা: প্রজন্ম জুড়ে”, বিশ্বব্যাপী বয়স্ক ব্যক্তিদের তাদের অধিকারের ক্ষেত্রে অনন্য চাহিদার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার আহ্বান এবং  প্রতিপালন ছাড়াও লঙ্ঘনের প্রতিবেদন করা

এই দিনে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সংস্থাগুলি বয়স্ক ব্যক্তিদের মঙ্গল এবং মর্যাদা নির্বিশেষে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ইভেন্ট, জাতীয় জরিপ, সামাজিক প্রচারণা এবং অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং কর্মশালা পরিচালনা করতে একত্রিত হয়।

 

আন্তর্জাতিক বয়স্ক ব্যক্তি দিবসের ইতিহাস (IDOP)—

 

১৪ ই ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (UNGA) ১ অক্টোবরকে প্রবীণ ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস (IDOP) হিসাবে ঘোষণা করে।  এটি ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান অফ অ্যাকশন অন এজিং (ভিআইপিএএ) এর সূচনার আগে ছিল, যা ১৯৮২ সালে ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অন এজিং (WAA) দ্বারা গৃহীত হয়েছিল এবং একই বছরের পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল।

 

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বয়স্ক ব্যক্তি দিবস (UNIDOP) ২০২৩ এর উদ্দেশ্য–

 

সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার (UDHR) সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণামূলক অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রবীণ নাগরিকদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের মানবাধিকারের সুরক্ষা বৃদ্ধি করা।

সর্বত্র মানবাধিকার রক্ষার জন্য আন্তঃপ্রজন্মীয় মডেলগুলি থেকে আলোচনা করা এবং জ্ঞান অর্জন করা

সরকার এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলিকে তাদের কাজের মধ্যে মানবাধিকারের জীবনধারার পদ্ধতিকে একীভূত করার জন্য তাদের বর্তমান অনুশীলনগুলি পুনর্বিবেচনা করতে উত্সাহিত করা এবং চেষ্টায় সুশীল সমাজ, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের সহ সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

 

 আন্তঃপ্রজন্মীয় সংহতি এবং অংশীদারিত্ব জোরদার করতে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যকর টিপস—

 

বয়স্ক ব্যক্তিদের অর্থ, পরিবার এবং সম্প্রদায়ের সহায়তা এবং আত্ম-সহায়তার ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যাপ্ত খাবার, জল, বাসস্থান, বস্ত্র এবং স্বাস্থ্যসেবা থাকা উচিত।

বয়স্ক ব্যক্তিদের কাজ করতে সক্ষম হওয়া উচিত বা বিকল্প আয়-উৎপাদনের বিকল্পগুলিতে অ্যাক্সেস থাকতে হবে।

বয়স্ক ব্যক্তিদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অ্যাক্সেস থাকা উচিত।

বয়স্ক ব্যক্তিদের এমন পরিস্থিতিতে থাকতে দেওয়া উচিত যা তাদের পরিবর্তনশীল চাহিদা এবং ক্ষমতার জন্য নিরাপদ এবং নমনীয়।

 

আন্তর্জাতিক বয়স্ক ব্যক্তি দিবস ২০২৩ থিম—

 

এই বছর ২০২৩, আন্তর্জাতিক বয়স্ক ব্যক্তি দিবসের থিম হল “বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা: প্রজন্ম জুড়ে”, বিশ্বব্যাপী বয়স্ক ব্যক্তিদের তাদের অধিকারের ক্ষেত্রে অনন্য চাহিদার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার আহ্বান এবং  লঙ্ঘনের প্রতিবেদন করা, প্রজন্মের মধ্যে ইক্যুইটি এবং পারস্পরিকতার মাধ্যমে সংহতি গড়ে তোলার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলির (SDG) প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সরবরাহ করে।

বছরের পর বছর, আন্তর্জাতিক বয়স্ক ব্যক্তি দিবসের (আইডিওপি) থিমগুলি হল:

 

বয়স্ক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস ২০২২ থিম: পরিবর্তনশীল বিশ্বে বয়স্ক ব্যক্তিদের স্থিতিস্থাপকতা

 

বয়স্ক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস ২০২১-এর থিম: সকল বয়সের জন্য ডিজিটাল ইক্যুইটি

 

বয়স্ক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস ২০২০ থিম: মহামারী: তারা কি পরিবর্তন করে যে আমরা বয়স এবং বার্ধক্যকে সম্বোধন করি?

 

বয়স্ক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস ২০১৯-এর থিম: বয়সের সমতার দিকে যাত্রা

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস সম্পর্কে কিছু কথা।

ভূমিকা—–

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস হল একটি আন্তর্জাতিক দিন যা অনুবাদ পেশাদারদের স্বীকৃতি দেয়।  এটি ৩০ সেপ্টেম্বর, যেটি সেন্ট জেরোমের ভোজের দিন, বাইবেল অনুবাদক যাকে অনুবাদকদের পৃষ্ঠপোষক বলে মনে করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস কবে—

 

প্রতি বছর ৩০শে সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস পালিত হয় অনুবাদক, ভাষা পেশাজীবীদের কাজকে উদযাপন করার জন্য যারা বিশ্ব শান্তির উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে অবদানকারী দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

বিশ্ব অনুবাদক সম্প্রদায়ের সংহতি প্রদর্শন এবং অনুবাদের পেশাকে উন্নীত করার জন্য আন্তর্জাতিক অনুবাদক ফেডারেশন (এফআইটি) দ্বারা ১৯৯১ সালে দিবসটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  ফেডারেশন হল অ্যাসোসিয়েশনগুলির একটি সমষ্টি যা অনুবাদক, দোভাষী এবং পরিভাষাবিদদের প্রতিনিধিত্ব করে।  এটি ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

 

দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ এটি একই দিনে সেন্ট জেরোমের পরব উদযাপিত হয়।  সেন্ট জেরোম অনুবাদ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচিত এবং অনুবাদকদের পৃষ্ঠপোষক সন্ত।  তিনি একজন খ্রিস্টান পণ্ডিত এবং পুরোহিত ছিলেন যিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বাইবেলটিকে মূল হিব্রু থেকে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন যাতে এটি পাঠকদের কাছে আরও সহজলভ্য হয়।

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস সম্প্রতি বিশ্ব ইভেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।  জাতিসংঘ (ইউএন), ২৪ মে, ২০১৭ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস হিসাবে ঘোষণা করার জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।

 

জাতিসংঘের প্রস্তাব—-

 

২৪ মে ২০১৭-এ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৭১/২৮৮ রেজোলিউশন পাশ করে ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস ঘোষণা করে, যা জাতিকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে পেশাদার অনুবাদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়।  খসড়া রেজোলিউশন A/71/L.68 এগারোটি দেশ স্বাক্ষর করেছে: আজারবাইজান, বাংলাদেশ, বেলারুশ, কোস্টা রিকা, কিউবা, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, কাতার, তুরস্ক, তুর্কমেনিস্তান এবং ভিয়েতনাম।  ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ট্রান্সলেটরস ছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ কনফারেন্স ইন্টারপ্রেটার্স, ক্রিটিক্যাল লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রফেশনাল ট্রান্সলেটরস অ্যান্ড ইন্টারপ্রেটার্স, রেড টি, ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারপ্রেটার্স সহ আরও কয়েকটি সংস্থার দ্বারা এই রেজোলিউশনটি গ্রহণের পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছিল।  .
জাতিসংঘ আরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রাশিয়ান, স্প্যানিশ এবং জার্মান ভাষায় অনুবাদের জন্য একটি বার্ষিক সেন্ট জেরোম অনুবাদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

 

 ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ট্রান্সলেটর—

 

১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই উদযাপনগুলিকে International Federation of Translators (FIT) দ্বারা প্রচার করা হয়েছে৷ ১৯৯১ সালে, FIT একটি পেশা হিসেবে অনুবাদকে প্রচার করার প্রয়াসে বিশ্বব্যাপী অনুবাদক সম্প্রদায়ের সাথে সংহতি দেখানোর জন্য একটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবসের ধারণা চালু করে৷  যা বিশ্বায়নের যুগে ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

 

 আমেরিকান অনুবাদক সমিতি—

 

২০১৮ সাল থেকে আমেরিকান ট্রান্সলেটর অ্যাসোসিয়েশন প্রফেশনাল অনুবাদক এবং দোভাষীদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার এবং জনসাধারণকে শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলির একটি সিরিজ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস উদযাপন করেছে।  ATA ছয়টি ইনফোগ্রাফিকের একটি সেট প্রকাশ করে ITD 2018 উদযাপন করেছে যা পেশা সম্পর্কে তথ্য চিত্রিত করে।  ২০১৯ সালে, ATA “অনুবাদক বা দোভাষীর জীবনে একটি দিন” চিত্রিত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবসের তাৎপর্য—-

 

বিশ্ব বিশ্বায়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে অনুবাদকদের গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।  ভাষা পেশাদাররা একটি ইতিবাচক পাবলিক বক্তৃতা এবং আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগে সাহায্য করে।

 

অনুবাদকরা সাহিত্যিক কাজ, বৈজ্ঞানিক কাজ, প্রযুক্তিগত কাজ সহ এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় স্থানান্তর করতে সহায়তা করে যা একটি উন্নত বিশ্বের দিকে অগ্রসর হতে সহায়তা করে।  তারা একে অপরের সংস্কৃতি বুঝতে সাহায্য করে যা অন্যান্য সংস্কৃতির প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে উৎসাহিত করে।

 

তারা সঠিক অনুবাদ, ব্যাখ্যা এবং পরিভাষায় সাহায্য করে যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

অনুবাদক এবং ভাষা পেশাদারদের কাজ কেবলমাত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে যখন আমরা আরও আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের দিকে অগ্রসর হব।

 

২০২৩ সালে, আমরা স্পিচ-টু-স্পিচ এবং স্পিচ-টু-টেক্সট অনুবাদে আরও উন্নয়নের মাধ্যমে অনুবাদ শিল্পে আরও উন্নতির আশা করতে পারি।  AI মেশিন অনুবাদ প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে, এটিকে আরও দক্ষ এবং নির্ভুল করে তুলবে৷ অনুবাদের ভবিষ্যত মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং AI-চালিত মেশিন অনুবাদের মধ্যে সহযোগিতার মধ্যে নিহিত৷  মানব অনুবাদকরা সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং নির্দিষ্ট শ্রোতাদের জন্য অনুবাদকে অভিযোজিত করার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে, যখন AI পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলি স্বয়ংক্রিয় করার জন্য আদর্শ।

 

থিম ২০২৩–

 

প্রতি বছর, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ট্রান্সলেটর আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবসের জন্য একটি নতুন থিম বেছে নেয়।  2023 সালের থিম ‘অনুবাদ মানবতার অনেক মুখ উন্মোচন করে।’

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, এক চিরসবুজ ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতার নাম।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৬২) একজন ভারতীয় অভিনেতা এবং প্রযোজক।  আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অভিনেতা হিসেবে তাকে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়।  তিনি মূলত বাংলা সিনেমায় কাজ করেন।  তিনি প্রবীণ বলিউড অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির ছেলে।  তিনি তার অভিনয় জীবন শুরু করেন শিশু অভিনেতা হিসেবে হৃষিকেশ মুখার্জির ছোটো জিগ্যাসা-এ, যার জন্য তিনি বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন – বছরের সেরা অসামান্য কাজের পুরস্কার জিতেছিলেন।  এর পরে তিনি শিশু অভিনেতা হিসেবে অন্যান্য ছবিতে দেখা দেন।  কিন্তু তার পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে না পেরে প্রসেনজিৎ অভিনয় থেকে বিরতি নেন এবং জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পরে ফিরে আসেন এবং বিমল রায়ের দুটি পাতার মাধ্যমে তার প্রথম প্রধান ভূমিকা আসে।

 

সুজিত গুহ পরিচালিত একটি অত্যন্ত সফল রোমান্টিক নাটক অমর সাঙ্গি (১৯৮৭)-এ প্রসেনজিতের যুগান্তকারী ভূমিকা বিজেতা পণ্ডিতের বিপরীতে এসেছিল।  তিনি ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত আন্ধিয়ান (১৯৯০) দিয়ে হিন্দি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন।  মসলা চলচ্চিত্রের একটি সিরিজে উপস্থিত হওয়া ছাড়াও, তিনি চোখের বালির সাথে মিডল-অফ-দ্য-রোড সিনেমা করা শুরু করেছিলেন যেটিতে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন তার প্রথম বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এবং যেটি মুক্তির পরে সমালোচনামূলক এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের সাথে দেখা হয়েছিল।  তিনি আবার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে ফিরে আসেন এবং ২০০৬ সালে, তিনি আবার ঋতুপর্ণ ঘোষের সাথে দোসারের জন্য সহযোগিতা করেন এবং চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – বিশেষ জুরি পুরস্কার / বিশেষ উল্লেখ (ফিচার ফিল্ম) পান।
২০০৯ সালে, প্রসেনজিৎ আবারও ঘোষের সাথে শোব চরিত্র কালপনিকের জন্য কাজ করেছিলেন, যেটিতে বিপাশা বসু তার বাংলা অভিষেকে অভিনয় করেছিলেন, বাংলায় সেরা ফিচার ফিল্মের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন।  ২০১০ সালে, প্রসেনজিৎ অভিষেক সৃজিত মুখার্জির অটোগ্রাফে অরুণ চ্যাটার্জির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে আরেকটি সাফল্য পান, যার জন্য তিনি সেরা অভিনেতা বিভাগে MIAAC (মাহিন্দ্রা ইন্দো-আমেরিকান আর্টস কাউন্সিল) চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হন।  তিনি 19 শতকের বাংলার প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক নেতা, কবি এবং লোকগায়ক লালনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন গৌতম ঘোষের পরিচালনায় মনের মানুষ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র জাতিশ্বরে অ্যান্থনি ফিরিঙ্গি-এ।  তিনি রোমান্টিক থ্রিলার খাওতো, নাটক প্রক্তন, থ্রিলার ট্রাফিক, নাটক শঙ্খচিল, ক্রাইম ফিল্ম জুলফিকার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী নাটক ময়ূরাক্ষী এবং জ্যেষ্ঠ উমর দ্যা ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র এবং রোমান্টিক ফিল্ম এ তার ভূমিকার জন্য আরও পরিচিতি এবং ব্যাপক আবেদন অর্জন করতে গিয়েছিলেন।  , নাটক নিরন্তর, ডার্ক-কমেডি কাছের মানুষ, থ্রিলার কাবেরি অন্তর্ধন এবং কে কে মেনন, রাইমা সেন, করণ সিং গ্রোভার এবং তাবীর নীরজ কবির পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্র 3 দেব-এ অভিনয় করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চ্যাটার্জী ঘোষের স্ক্রিপ্টে নির্মিত টেলিভিশন সিরিজ গানের ওপারে, যা ভাই অর্জুন চক্রবর্তী এবং গৌরব চক্রবর্তী এবং মিমি চক্রবর্তীর কর্মজীবন শুরু করেছিল।  ২০১৬ সালে, তিনি মহানায়ক শিরোনামে একটি ৯৭-পর্বের মিনি-সিরিজ দিয়ে টেলিভিশনের নন-ফিকশন বিভাগে আত্মপ্রকাশ করেন।  শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস দ্বারা প্রযোজিত এবং বিরসা দাশগুপ্ত পরিচালিত, শোতে পাওলি দাম, তনুশ্রী চক্রবর্তী এবং প্রিয়াঙ্কা সরকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এবং এটি ৬০-এর দশকের একজন সুপারস্টারের জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল — একটি জীবন এবং ক্যারিয়ারের উচ্চতায় ভরপুর।

 

তিনি বিমল রায়ের দুটি পাটা (১৯৮৩) দিয়ে একজন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, ববির মতো একটি কিশোরী রোম্যান্স।  বিজয়েতা পণ্ডিতের বিপরীতে অমর সঙ্গী (১৯৮৬), তরুণ মজুমদার পরিচালিত আপন আমার আপন (১৯৯০) এবং বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের অমি, ইয়াসিন আর অমর মধুবালা (২০০৭) তার ক্যারিয়ারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র।  অমর সঙ্গীর “চিরোদিনী তুমি যে আমার” গানটি একটি কাল্ট হিট হয়ে উঠেছে।  শতাব্দী রায় তার সঙ্গে ৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।  তিনি রচনা ব্যানার্জির সঙ্গে ৩৫টি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে ৫০টি, ইন্দ্রাণী হালদারের সঙ্গে প্রায় ১৬টি এবং তার স্ত্রী অর্পিতা পালের সঙ্গে চারটি চলচ্চিত্র করেছেন।  প্রসেনজিৎ ১৯৯০ সালে ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত আন্ধিয়ানের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন যেখানে তিনি মুমতাজের ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।  বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজ করার পর, চ্যাটার্জি ঋতুপর্ণ ঘোষের চোখের বালি (চলচ্চিত্র) দিয়ে সমান্তরাল সিনেমায় আত্মপ্রকাশ শুরু করেন এবং তারপর থেকে দোসর, জাতিশ্বর, শঙ্খচিল, শোব চরিত্র কল্পনিক সহ অসংখ্য শিল্প চলচ্চিত্রে উপস্থিত হয়েছেন।  আয়েশা ঝুলকা, ফিরোজ খান এবং সালমা আগার সাথে মেহুল কুমার পরিচালিত মিট মেরে মন কে (১৯৯১)-এ প্রধান নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে চ্যাটার্জি হিন্দি সিনেমায় ফিরে আসেন।  তার অন্যান্য বলিউড ছবি হল সোনে কি জাঞ্জির, বীরতা, সাংহাই এবং সম্প্রতি ট্র্যাফিক যা মুক্তির পর সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।  প্রসেনজিতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সৃজিত মুখার্জির অটোগ্রাফে অরুণ চ্যাটার্জির ভূমিকায়।  তার প্রথম প্রযোজিত ছবি বাপি বাড়ি জা ৭ ডিসেম্বর ২০১২-এ মুক্তি পায়।

 

 

 

প্রসেনজিৎ তার স্ত্রী, অভিনেত্রী অর্পিতা পাল এবং তাদের ছেলে ত্রিশানজিতের সঙ্গে কলকাতায় থাকেন।
দেবশ্রী রায় ও অপর্ণা গুহঠাকুরতার সঙ্গে তার আগের দুটি বিয়ে হয়েছে।  প্রসেনজিৎ ও অপর্ণার এক কন্যা সন্তান প্রেরনা চ্যাটার্জি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ

জানুন, বাঘের সেবা কেমন করে করলেন কৃষ্ণদাস ! : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

বৃন্দাবনের গোবর্দ্ধনে বাস করতেন শ্রীকৃষ্ণদাস নামক এক সাধু ।  তিনি গোফার মধ্যে ভজন করতেন । দিবানিশি কৃষ্ণ নাম অতি উচ্চঃস্বরে করতেন। নাম নিতে নিতে এমন হতো যে ক্ষুধা-তৃষ্ণা,  আহার-বিহার সব ভুলে যেতেন । নামানন্দে বিভোর হয়ে থাকতেন সর্বদা । কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে এমন করে করুণ সুরে ডাকতেন যে,  শুনলে প্রাণ কেমন করে উঠতো ।  কৃষ্ণপ্রেমে উন্মত্ত সাধু কৃষ্ণদাস প্রেমানন্দে মজে থাকতেন সদা সর্বদা।

একদিন কৃষ্ণ দাসের গোফার দ্বারে বিশাল আকারের এক বাঘ এসে দাঁড়ালো। ভয়ংকর উগ্র মূর্তি সেই বাঘের। দেখলেই ভয় লাগবে এমন। তবে কৃষ্ণদাস কিন্তু একটুও ভীত হলেন না। মনে মনে বাঘটিকে অতিথি ভাবলেন তিনি । বহু সম্মান দেখিয়ে একটি আসন গোফার দ্বারে পেতে বাঘটিকে আদরের সুরে বসতে বললেন ‌ । আর , বাঘটিও সুরসুর করে আসনের ওপর হাত-পা ছড়িয়ে বিশ্রাম নিতে বসে পড়লো যেন।

যত্ন করতে হবে বাঘটিকে । কৃষ্ণদাস ভাবতে থাকলেন অতিথি এসেছে,  কী খেতে দেই তাকে ? ঘরে কী আছে ?  কিন্তু , কিছু তেমন  নেই তো ! কৃষ্ণদাস নিজেই মাধুকরী করে এনে প্রসাদ পান। ঘরে তো সঞ্চয় বলতে কিছুই থাকে না !  তার ওপর বাঘ আবার মাংসাশী প্রাণী। মাংস এখন কোথায় পাই ? অতিথিকে তুষ্ট করার কথা ভাগবতেও আছে। বলা হয়েছে , ক্ষমতা না থাকলে নিদেনপক্ষে বসার আসন আর পানের জল দিয়েও অতিথি সৎকার করা উচিৎ। কিন্তু, মাংস ভিন্ন অপর কিছু দিয়ে তো আর বাঘ অতিথিকে খুশী করা যাবে না ! —–এইসব নানান ভাবনার উদয় হল কৃষ্ণদাসের  মনে। পরক্ষণেই কৃষ্ণদাস ভাবলেন , আমার নিজের অঙ্গের মাংসতেই যদি বাঘকে সম্মান জানাই,  তবে কেমন হয় ?  সেটাই বরং ভালো হবে।  আর তাই কৃষ্ণদাস নিজের অঙ্গের নানান জায়গায় ছুরি চালিয়ে টুকরো টুকরো মাংস কেটে বের করে আনলেন। কষ্ট , যন্ত্রনা কী হচ্ছিল না তাঁর ? হচ্ছিল , অবশ্যই হচ্ছিল । কিন্তু, নিজের মনকে তিনি শ্রীমন্ মহাপ্রভুর মুখবাক্যের কথা ভেবেই বোঝাচ্ছিলেন যে , “সর্বজীবে দিবে সম্মান । জানি কৃষ্ণ অধিষ্ঠান।।” অর্থাৎ, প্রতিটি জীবের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ অবস্থান করেন । তাই প্রতিটি জীবকে সম্মান দিতে হয় । জীবসেবার চেষ্টা করতে হয়।

বাঘের সম্মুখে পাতায় করে কৃষ্ণদাস রেখেদিলেন নিজের শরীরের কয়েকটি ছোট মাংসখণ্ড । বাঘ  তৃপ্তি ভরে খেল। আর তারপর চুপচাপ চলে গেল। কৃষ্ণদাস তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে মনে তৃপ্তি পেলেন এই ভেবে যে , যাক অতিথি আপ্যায়নটুকু তো কোনমতে হল !

কৃষ্ণ ভক্তের স্বভাব যে এমনই হয়।  নিজের দুঃখ বা লাভালাভে কোন আকর্ষণ থাকে না তাঁদের । অপরকে সুখী করেই তাঁরা আনন্দ পান।

—- ভক্তকৃপা ভিখারিনী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ৩০সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস হল একটি আন্তর্জাতিক দিন যা অনুবাদ পেশাদারদের স্বীকৃতি দেয়।  এটি 30 সেপ্টেম্বর, যেটি সেন্ট জেরোমের ভোজের দিন, বাইবেল অনুবাদক যাকে অনুবাদকদের পৃষ্ঠপোষক বলে মনে করা হয়।

 

(খ) জাতীয় কন্যা শিশু দিবস (বাংলাদেশ)।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৪ – বলাইলাল দাস মহাপাত্র, বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী।

বলাইলাল দাস মহাপাত্র (৩০ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ – ২৬ জুলাই , ১৯৯৭) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আহ্বানে প্রশিক্ষিত আন্দোলন সংগঠক ও সর্বাধিনায়ক ।

 

১৯০৫ – নেভিল ফ্রান্সিস মট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ পদার্থবিদ।

১৯০৫ – মাইকেল পাওয়েল, ইংরেজ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯১৭ – রাজ্যেশ্বর মিত্র, বিশ শতকের বাংলার প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ।

 

১৯২২ – হৃষিকেশ মুখার্জী, ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্রের বাঙালী পরিচালক। 

হৃষিকেশ মুখার্জি (30 সেপ্টেম্বর 1922 – 27 আগস্ট 2006) একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, সম্পাদক এবং লেখক ছিলেন।  তাকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।  হৃষি-দা নামে জনপ্রিয়, তিনি চার দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী তার কর্মজীবনে 42টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন এবং ভারতের ‘মধ্যম চলচ্চিত্র’-এর পথপ্রদর্শক নামে পরিচিত।  তার সামাজিক চলচ্চিত্রগুলির জন্য বিখ্যাত যা পরিবর্তিত মধ্যবিত্তের নীতিকে প্রতিফলিত করে, মুখার্জি “মূলধারার সিনেমার বাড়াবাড়ি এবং শিল্প সিনেমার কঠোর বাস্তবতার মধ্যে একটি মধ্যম পথ তৈরি করেছিলেন”।

 

১৯২৮ – এলি ওয়িইয়েসেল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রোমানীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক, অধ্যাপক ও সমাজ কর্মী।

১৯৩১ – জ্যাঁ মারি লেঁ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ।

১৯৩৩ – অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি নাট্যকার ও অভিনেতা।

 

১৯৩৮ – প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী গৌরী ঘোষ।

গৌরী ঘোষ (বিবাহের পূর্বে গৌরী মজুমদার) (৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ – ২৬ আগস্ট ২০২১) ছিলেন একজন খ্যাতনামা ভারতীয় বাঙালি আবৃত্তিকার তথা বাচিক শিল্পী। তিনি ও তার স্বামী পার্থ ঘোষ বাংলা আবৃত্তি জগতে ছিলেন অন্যতম জুটি। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় অসামান্য কাজের জন্য  বাংলাদেশ সরকারের “মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মান” ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “কাজী সব্যসাচী সম্মান” লাভ করেন।

 

১৯৩৯ – জাঁ মারি লেহন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ।

১৯৪৩ – যোহান ডেইসেনহফের, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান প্রাণরসায়নবিদ।

 

১৯৪৪ – আবুল কাসেম ফজলুল হক, বাংলাদেশী প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ।

আবুল কাশেম ফজলুল হক (জন্ম 30 সেপ্টেম্বর 1940) একজন বাংলাদেশী লেখক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, সমালোচক, কলামিস্ট এবং কর্মী।  তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাক্তন অধ্যাপক।  তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটি (রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটি) এর আহ্বায়ক।  তিনি 1981 সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।

 

১৯৫১ – ব্যারি মার্শাল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক।

 

১৯৬২ – প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (জন্ম: ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৬২) একজন ভারতীয় অভিনেতা এবং প্রযোজক। আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অভিনেতা হিসেবে তাকে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি মূলত বাংলা সিনেমায় কাজ করেন। তিনি বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির ছেলে । তিনি হৃষিকেশ মুখার্জির ছোটো জিগ্যাসা – তে শিশু অভিনেতা হিসেবে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন, যার জন্য তিনি বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন – বছরের সবচেয়ে অসামান্য কাজের পুরস্কার জিতেছিলেন। এর পর তিনি শিশু অভিনেতা হিসেবে অন্যান্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন । বিমল রায়ের ‘দুটি পাতা’ ছবির মাধ্যমে তার প্রথম প্রধান ভূমিকা আসে।প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক হিসাবে শীর্ষস্থানে আছেন।

 

১৯৭২ – শান নামে সুপরিচিত শান্তনু মুখার্জী, ভারতীয় গায়ক।

১৯৮৫ – টি-পেইন, মার্কিন র‍্যাপ সঙ্গীত গায়ক, প্রযোজক ও অভিনেতা।

 

১৮২৮ – যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী (লাহিড়ী মহাশয়), ভারতীয় যোগী ও গুরু।

শ্যামা চরণ লাহিড়ী (30 সেপ্টেম্বর 1828 – 26 সেপ্টেম্বর 1895), লাহিড়ী মহাশয় নামে সর্বাধিক পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় যোগী ও গুরু যিনি ক্রিয়া যোগ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  তিনি মহাবতার বাবাজির শিষ্য ছিলেন।  টিমোথি মিলারের আমেরিকার অল্টারনেটিভ রিলিজিয়নস বই অনুসারে, লাহিড়ী মহাশয়ের জীবনকে পরমহংস যোগানন্দের একটি যোগীর আত্মজীবনীতে বর্ণনা করা হয়েছে যে আধ্যাত্মিক অর্জনের একটি প্রদর্শন হিসাবে যা একজন গৃহকর্তা “বিশ্বে সম্পূর্ণভাবে বসবাস করে” অর্জন করতে পারেন।  লাহিড়ী মহাশয়ের মুখের একটি অংশ বিটলস-এর 1967 অ্যালবাম সার্জেন্ট-এর কভারে চিত্রিত হয়েছে।  পিপারস লোনলি হার্টস ক্লাব ব্যান্ড।

 

১৮৫৭ – কার্ল বেন্ডা, জার্মান অণুজীববিজ্ঞানী।

 

১৮৬৪ – সুনীতি দেবী, ব্রিটিশ ভারতীয় দেশীয় রাজ্য কোচবিহারের মহারাণী।

সুনীতি দেবী (৩০ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৪- ১০ নভেম্বর,১৯৩২) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় দেশীয় রাজ্য কোচবিহারের মহারাণী। তার নিজের শহরের কোচবিহারের একটি রাস্তা তার নাম অনুসারে সুনি রোড ।lরয়েছে।

 

১৮৭০ – জঁ-বাতিস্ত পেরাঁ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিদ।

১৪৪৪ – ডোনাটো ব্রামান্তে, ইতালীয় স্থাপত্য শিল্পী।

 

১২০৭ – জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি, পারস্যের কবি। 

জালাল আল-দিন মুহাম্মাদ রুমি (30 সেপ্টেম্বর 1207 – 17 ডিসেম্বর 1273), ছিলেন একজন 13শ শতাব্দীর কবি, হানাফী ফকিহ, ইসলামী পন্ডিত, মাতুরিদি ধর্মতত্ত্ববিদ এবং সুফি অতীন্দ্রিয়বাদী মূলত ইরানের গাসানের রিয়া থেকে।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯২২ – বেনিতো মুসোলিনি ইতালিতে প্রথম ফ্যাসিবাদী সরকার গঠন করেন।

১৯২৯ – বিবিসি প্রথম পরীক্ষামূলক টিভি সম্প্রচার শুরু করে।

১৯৩৮ – জার্মানিতে ঐতিহাসিক মিউনিখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৩৯ – পোল্যান্ডের বিভক্তি স্বীকার করে জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি চুক্তিতে উপনীত হয়।

১৯৩৯ – ব্রিটেনে পরিচয়পত্র প্রথা চালু হয়।

১৯৩৯ – পোল্যাণ্ডের বিভাজন নিয়ে জার্মানি ও রাশিয়া সহমত পোষণ করে।

১৯৪৭ – পাকিস্তান ও ইয়েমেন জাতিসংঘে যোগদান করে।

১৯৬৬ – বোতসোয়ানা ব্রিটিশ উপনিবেশের কবল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে এবং এ দিনটিকে তারা জাতীয় দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করে।

১৯৭৩ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় গিনি-বিসাউ।

১৯৯২ – বাংলাদেশে কার্ড ফোন ব্যবস্থা চালু হয়।

১৯৯৩ – ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে প্রচণ্ড ভূমিকম্পে ২০ হাজারেরও বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৮৬০ – ব্রিটেনে প্রথম ট্রাম চালু হয়।

১৮৮২ – প্রথম থমাস এডিসনের উদ্ভাবিত হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার প্লান্ট চালু হয়।

১৬৬৭ – অওরঙ্গজেব-এর সাম্রাজ্যে সংযোজিত হল গোলকুণ্ডা।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৪ – মাইকেল রেলফ, ইংরেজ পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

ব্রিটিশ প্রযোজক/পরিচালক মাইকেল রিলফ, মঞ্চ অভিনেতা জর্জ রিলফের ছেলে, বেমব্রিজ স্কুল থেকে স্নাতক হন এবং 1932 সালে গাউমন্ট পিকচার্স-এ আলফ্রেড জঙ্গের কাছে শিক্ষানবিশ হন। এছাড়াও তিনি একজন মঞ্চ ডিজাইনার এবং শিল্প পরিচালক ছিলেন, প্রায়ই মাইকেল ব্যালকনের জন্য কাজ করতেন।  1942 সালে তিনি ইলিং স্টুডিওতে প্রধান শিল্প পরিচালক হন এবং 1946 সালে একজন প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার হন।  তিনি স্টুডিওতে পরিচালক ব্যাসিল ডিয়ারডেনের সাথে একটি ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব শুরু করেন এবং ইলিং ব্যবসার বাইরে চলে যাওয়ার পরেও সম্পর্কটি অব্যাহত থাকে।  তিনি ডেভি (1958), ম্যাড লিটল আইল্যান্ড (1958) এর মতো ছবি পরিচালনা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রযোজনার দিকে মনোনিবেশ করার জন্য নির্দেশনা ছেড়ে দিয়েছিলেন।  পরবর্তীতে কর্মজীবনে তিনি বিএফআই প্রোডাকশন বোর্ডের চেয়ারম্যান হন।

 

২০১৩ – রাম্বলিন ‘টমি স্কট’, আমেরিকান গায়ক ও গিটার।

Ramblin’ Tommy Scott (24 জুন, 1917 – সেপ্টেম্বর 30, 2013), ওরফে “ডক” টমি স্কট, ছিলেন একজন আমেরিকান দেশ এবং রকবিলি সংগীতশিল্পী।

 

 

১৯১৯ – শিবনাথ শাস্ত্রী, ভারতীয় বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, দার্শনিক, লেখক, অনুবাদক, ঐতিহাসিক।

শিবনাথ শাস্ত্রী বা শিবানাথ শাস্ত্রী (৩১ জানুয়ারি ১৮৪৮ – ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯১৯) ছিলেন একজন বাঙালি সমাজ সংস্কারক, লেখক, অনুবাদক, পণ্ডিত, সম্পাদক দার্শনিক এবং ইতিহাসবিদ।

 

১৯৪৩ – রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, ব্রিটিশ ভারতীয় শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক।

রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় (বাংলা: রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়) (২৯ মে 1865 – 30 সেপ্টেম্বর 1943) কলকাতা ভিত্তিক ম্যাগাজিন, মডার্ন রিভিউ-এর প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক এবং মালিক ছিলেন।  তাকে ভারতীয় সাংবাদিকতার জনক বলা হয়।

 

 

১৯৫৩ – আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের পুঁথি সংগ্রাহক ও সম্পাদক।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১১ অক্টোবর ১৮৭১ – ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩) ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানের একজন বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণকারী অন্যতম ব্যক্তিত্ব।

 

১৯৫৫ – জেমস ডিন, মার্কিন অভিনেতা।

১৯৮৫ – সিমন সিনিয়রে, জার্মান বংশোদ্ভূত ফরাসি অভিনেত্রী।

 

১৯৯০ – প্যাট্রিক হোয়াইট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান লেখক।

প্যাট্রিক ভিক্টর মার্টিনডেল হোয়াইট (28 মে 1912 – 30 সেপ্টেম্বর 1990) ছিলেন একজন ব্রিটিশ-জন্মত অস্ট্রেলিয়ান লেখক যিনি 1935 থেকে 1987 সাল পর্যন্ত 12টি উপন্যাস, তিনটি ছোট গল্পের সংগ্রহ এবং আটটি নাটক প্রকাশ করেছিলেন।  সুবিধার পয়েন্ট এবং চেতনা কৌশলের স্রোত।  1973 সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, “একটি মহাকাব্য এবং মনস্তাত্ত্বিক বর্ণনামূলক শিল্পের জন্য যা সাহিত্যে একটি নতুন মহাদেশের সূচনা করেছে”, যেমনটি সুইডিশ একাডেমির উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, একমাত্র অস্ট্রেলিয়ান যিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন।  মাইলস ফ্রাঙ্কলিন পুরস্কারের উদ্বোধনী প্রাপকও ছিলেন হোয়াইট।

 

১৯৯৮ – রবার্ট লুইস টেলর, আমেরিকান লেখক।

১৯৯৯- শেখ ইশতিয়াক, বাংলাদেশের সঙ্গীতশিল্পী।

 

১৮৭৫ – প্যারীচরণ সরকার,ভারতীয় বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও উনিশ শতকের বাঙলার পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা।

পেয়ারি চরণ সরকার (এছাড়াও সমসাময়িক নথিতে প্যারি চরণ সিরকার বা প্যারি চরণ সরকার বানান; 1823-1875), উনিশ শতকের বাংলার একজন শিক্ষাবিদ এবং পাঠ্যপুস্তক লেখক ছিলেন।  তাঁর পাঠ্য বইয়ের সিরিজটি বাঙালিদের পুরো প্রজন্মকে ইংরেজি ভাষার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, লক্ষাধিক বিক্রি হয় এবং প্রতিটি প্রধান ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়।  তিনি বাংলায় নারী শিক্ষারও পথিকৃৎ ছিলেন এবং তাকে ‘প্রাচ্যের আর্নল্ড’ বলা হতো।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

মাতঙ্গিনী হাজরা ভারতীয় বিপ্লবী, স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে মাতঙ্গিনী হাজরা  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল। মাতঙ্গিনী হাজরা  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা।

 

মাতঙ্গিনী হাজরা (১৯ অক্টোবর ১৮৭০ – ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২) ছিলেন একজন ভারতীয় বিপ্লবী যিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।  তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে তমলুক থানা দখলের জন্য সমর পরিষদ (যুদ্ধ পরিষদ) দ্বারা গঠিত স্বেচ্ছাসেবকদের (বিদ্যুত বাহিনীর) পাঁচটি ব্যাচের একজনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যখন তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হন।  থানার সামনে, মেদিনীপুরে প্রথম “ভারত ছাড়ো” আন্দোলনের শহিদ হন।  তিনি একজন কট্টর গান্ধীয়ান ছিলেন এবং “বৃদ্ধা গান্ধী” এর জন্য তাকে স্নেহের সাথে গান্ধী বুড়ি নামে ডাকা হত।

 

১৮৭০ সালে তমলুকের নিকটবর্তী হোগলা গ্রামের এক মহিষ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ছাড়া তার প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না এবং কারণ তিনি একজন দরিদ্র কৃষকের মেয়ে ছিলেন, তাই তিনি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি।   দারিদ্র্যের কারণে বাল্যকালে প্রথাগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন মাতঙ্গিনী। তিনি তাড়াতাড়ি বিয়ে করেছিলেন (১২ বছর বয়সে) এবং তার স্বামীর নাম ত্রিলোচন হাজরা এবং তিনি আঠারো বছর বয়সে কোন সন্তান না নিয়ে বিধবা হয়েছিলেন।  তার শ্বশুরের গ্রামের নাম আলিনান, তমলুক থানার। তিনি মাত্র আঠারো বছর বয়সেই নিঃসন্তান অবস্থায় বিধবা হয়েছিলেন।

 

মেদিনীপুর জেলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল নারীদের এই আন্দোলনে যোগদান। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রত্যক্ষভাবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মাতঙ্গিনী হাজরা। মতাদর্শগতভাবে তিনি ছিলেন একজন গান্ধীবাদী। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মাতঙ্গিনী আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেন। সেই সময়ে তিনি লবণ আইন অমান্য করে কারাবরণ করেছিলেন। অল্পকাল পরেই অবশ্য তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চৌকিদারি কর মকুবের দাবিতে প্রতিবাদ চালিয়ে গেলে আবার তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়। এই সময় তিনি বহরমপুরের কারাগারে ছ-মাস বন্দি ছিলেন। তিনি হিজলি বন্দি নিবাসেও বন্দি ছিলেন কিছুদিন। মুক্তিলাভের পর তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্যপদ লাভ করেন এবং নিজের হাতে চরকা কেটে খাদি কাপড় বানাতেও শুরু করেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মাতঙ্গিনী শ্রীরামপুরে মহকুমা কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের সময় আহত হন।

 

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের অংশ হিসেবে, কংগ্রেসের সদস্যরা মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন থানা এবং অন্যান্য সরকারি অফিস দখল করার পরিকল্পনা করেছিল।  এটি ছিল জেলায় ব্রিটিশ সরকারকে উৎখাত করে একটি স্বাধীন ভারতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ।  হাজরা, যার বয়স তখন ৭২ বছর, তমলুক থানা দখলের উদ্দেশ্যে ছয় হাজার সমর্থক, বেশিরভাগ মহিলা স্বেচ্ছাসেবকদের একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।  মিছিলটি শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছালে, ক্রাউন পুলিশ কর্তৃক ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারার অধীনে তাদের ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।  তিনি এগিয়ে যেতেই একবার গুলিবিদ্ধ হন হাজরা।  স্পষ্টতই, তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন এবং ভিড়ের উপর গুলি না চালানোর জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের মুখপত্র বিপ্লবী পত্রিকার বর্ণনা অনুযায়ী, ফৌজদারি আদালত ভবনের উত্তর দিক থেকে মাতঙ্গিনী একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। পুলিশ গুলি চালালে তিনি অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের পিছনে রেখে নিজেই এগিয়ে যান। পুলিশ তিনবার তাঁকে গুলি করে। গুলি লাগে তার কপালে ও দুই হাতে। তবুও তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন।卐এরপরেও বারংবার তার ওপর গুলিবর্ষণ করা হয় তিনি বন্দে মাতরম, “মাতৃভূমির জয়” স্লোগান দিতে থাকেন।  ভারতের জাতীয় পতাকা উঁচু করে ও উড়তে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This