Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব হার্ট দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

বিশ্ব হার্ট দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক ইভেন্ট, প্রতি বছর ২৯শে সেপ্টেম্বর সাক্ষী হয়।  হৃদরোগ এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ পরিচালনার জন্য এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়।

ইভেন্টগুলি প্রধানত মানুষকে আরও জটিলতা এড়াতে কার্ডিওভাসকুলার রোগের লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি সম্পর্কে শিক্ষিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং হৃদরোগ সম্পর্কিত যে কোনও অসুস্থতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে মানুষকে উত্সাহিত করে।

 

হৃৎপিণ্ড মানবদেহের অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গগুলির মধ্যে একটি, এটির অকার্যকরতা প্রাণঘাতী হতে পারে, তাই প্রত্যেকের জন্য হৃদরোগের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।  কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য এবং নির্দিষ্ট জীবনযাত্রার অভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের কারণে, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (সিভিডি) বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।  প্রতি বছর, প্রায় 1.7 কোটি মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণে মারা যায়, যা সমস্ত বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রায় 31%।

হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং করোনারি হার্ট ডিজিজ কার্ডিওভাসকুলার ডিজঅর্ডারের কারণে মৃত্যুর অন্যতম সাধারণ কারণ।  এই হৃদরোগগুলি কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণে মোট মৃত্যুর প্রায় 85% জন্য দায়ী।  বিশ্ব হৃদরোগ দিবস বিশ্বব্যাপী মানুষকে হৃদরোগের গুরুত্ব বোঝার জন্য শিক্ষিত করতে এবং সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য অন্যান্য সংস্থাকে একত্রিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

বিশ্ব হার্ট দিবসের ইতিহাস—

 

বিশ্বব্যাপী হার্ট দিবস পালনের ধারণাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি আন্তোনি বেই ডি লুনা প্রবর্তন করেছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় তার ধারণার ভিত্তিতে 1999 সালে বিশ্ব হার্ট দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বিশ্ব 24 সেপ্টেম্বর, 2000 তারিখে প্রথম বিশ্ব হৃদরোগ দিবস উদযাপনের সাক্ষী ছিল। 2011 সাল পর্যন্ত, দিবসটি সেপ্টেম্বরের একেবারে শেষ রবিবারে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির মিশন অব্যাহত রাখে।  2012 সালে, 2025 সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগের কারণে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার 25 শতাংশে রোধ করার ধারণার সাথে, বিশ্ব নেতারা একত্রিত হয়েছিল এবং এই কারণের জন্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছিল এবং 29 সেপ্টেম্বর বিশ্ব বিশ্ব হার্ট দিবস হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল।  90 টিরও বেশি দেশ এই দিনে সচেতনতা বাড়াতে এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করতে সচেতনতা প্রচারের আয়োজন করে।

 

বিশ্ব হার্ট দিবসের থিম ২০২৩—

 

এই বছর 2023, বিশ্ব হার্ট দিবসের থিম হল “হার্ট ব্যবহার করুন, হৃদয়কে জানুন”, সারা বিশ্বের প্রত্যেককে তাদের হৃদয়ের যত্ন নেওয়ার জন্য একটি অনুস্মারক আহ্বান৷ থিমটি প্রথমে নিজের হৃদয়কে জানার গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার উপর জোর দেয়; কারণ একজন  তারা যা জানে তা কেবল ভালবাসতে এবং রক্ষা করতে পারে৷ এমন একটি বিশ্বে যেখানে হৃদরোগের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত এবং নীতিগুলি অপর্যাপ্ত বা অভাব, দিবসটির লক্ষ্য হল বাধাগুলি ভেঙে দেওয়া এবং ব্যক্তিদের তাদের মঙ্গল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া, যেমন থিমটি চিত্রিত করে  যখন আমরা আরও জানি, আমরা আরও ভাল যত্ন নিতে পারি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

সুর সম্রাজ্ঞী কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর -জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

জন্ম—-

 

লতা মঙ্গেশকর ছিলেন ভারতের একজন স্বনামধন্য গায়িকা।
লতা মঙ্গেশকর ১৯২৯ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইন্দোর রাজ্যের রাজধানী ইন্দোর (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ) জন্মগ্রহণ করেন। লতা মঙ্গেশকরের পিতার নাম পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর। তার বাবা মারাঠি থিয়েটারের একজন বিখ্যাত অভিনেতা এবং নাট্য সঙ্গীত সুরকার ছিলেন। তাই সঙ্গীত শিল্প তার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিল। তার মাতা সেবন্তী (পরবর্তী নাম পরিবর্তন করে সুধামতি রাখেন) বোম্বে প্রেসিডেন্সির তালনারের (বর্তমান উত্তর-পশ্চিম মহারাষ্ট্র) একজন গুজরাতি নারী ছিলেন।

 

তিনি এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় ছবিতে গান করেছেন এবং তার গাওয়া মোট গানের সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি। এছাড়া ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষায় গান গাওয়ার একমাত্র রেকর্ডটি তারই।

 

পরিবার—

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে লতা সর্বজ্যেষ্ঠ। তার বাকি ভাইবোনেরা হলেন – আশা ভোঁসলে, ঊষা মঙ্গেশকর, মীনা মঙ্গেশকর ও হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর।

 

স্মরণীয় ঘটনা—-

শৈশবে বাড়িতে থাকাকালীন কে এল সায়গল ছাড়া আর কিছু গাইবার অনুমতি ছিল না তার। বাবা চাইতেন ও শুধু ধ্রপদী গান নিয়েই থাকুক। জীবনে প্রথম রেডিও কেনার সামর্থ্য যখন হলো, তখন তার বয়স আঠারো। কিন্তু রেডিওটা কেনার পর নব ঘুরাতেই প্রথম যে খবরটি তাকে শুনতে হয় তা হচ্ছে, কে. এল. সায়গল আর বেঁচে নেই। সঙ্গে সঙ্গেই রেডিওটা ফেরত দিয়ে দেন তিনি।

 

 

তাঁর গাওয়া উল্লেখযোগ্য হিন্দি গান—

 

তাঁর গলায় পনেরো হাজারেরও বেশি হিন্দি গান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু হিন্দি ছায়াছবির জনপ্রিয় গান –

 

হোঁঠো মে অ্যায়সি বাত (জুয়েল থিফ), আ জান-এ যা (ইন্তেকাম), রয়না বিতি যায়ে (অমর প্রেম), তেরে বিনা জিন্দেগি সে কোই (আঁধি), চলতে চলতে, ইঁয়ুহি কোই (পাকিজা), দুনিয়া করে সওয়াল তো হাম বহু (বেগম), অ্যায় দিল এ নাদান রাজিয়া (সুলতান), নাম গুম জায়েগা (কিনারা), সুন সাহিবা সুন (রাম তেরি গঙ্গা মইলি), সিলি হাওয়া ছু গয়ি (লিবাস), ইয়ারা সিলি সিলি (লেকিন), দিল তো পাগল হ্যায় (দিল তো পাগল হ্যায়), তেরে লিয়ে (বীর জারা), দিল হুম হুম করে (রুদালি), জিয়া জ্বলে (দিল সে), তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম (ডি ডি এল জে), আয়েগা আনেওয়ালা (মহল), আজা রে পরদেসি (মধুমতী), পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া (মুঘল-ই-আজম), আল্লা তেরো নাম (হম দোনো), অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগো, লগ যা গলে (ওয়োহ কৌন থি), আজ ফির জিনে কি (গাইড), রহে না রহে হম (মমতা), তু জাঁহা জাঁহা চলেগা (মেরা সায়া),

 

তাঁর গাওয়া উল্লেখযোগ্য বাংলা গান—

 

বাংলাতে ২০০টি গান রেকর্ড করেছিলেন। তারমধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য গান–

 

ও মোর ময়না গো, কেন কিছু কথা বলো না, আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব, চলে যেতে যেতে দিন বলে যায়, চঞ্চল ময়ূরী এ রাত, কে যেন গো ডেকেছে আমায়, আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন, মঙ্গল দীপ জ্বেলে, আজ নয় গুনগুন গুঞ্জন প্রেমের, প্রেম একবারই এসেছিল, রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে, না যেও না রজনী এখনও, ওগো আর কিছু তো নাই, আকাশ প্রদীপ জ্বলে, একবার বিদায় দে মা, সাত ভাই চম্পা, নিঝুম সন্ধ্যায়, চঞ্চল মন আনমনা হয়, বাঁশি কেন গায়, যদিও রজনী পোহাল তবুও।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি—

 

লতা মঙ্গেশকর তার কর্মজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন (২০০১), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ (১৯৯৯), তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে (১৯৬৯) ভূষিত হয়েছেন। এই সঙ্গীতশিল্পীকে ২০০৭ সালে ফ্রান্স সরকার তাদের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা লেজিওঁ দনরের অফিসার খেতাব প্রদান করেছে। এছাড়া তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৮৯), মহারাষ্ট্র ভূষণ পুরস্কার (১৯৯৭), এনটিআর জাতীয় পুরস্কার (১৯৯৯), জি সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার (১৯৯৯), এএনআর জাতীয় পুরস্কার (২০০৯), শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ১৫টি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ৪টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৬৯ সালে নতুন প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তী কালে তিনি ১৯৯৩ সালে ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার এবং ১৯৯৪ ও ২০০৪ সালে দুইবার ফিল্মফেয়ার বিশেষ পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক গান রেকর্ড করার জন্য গিনেস বুক অফ রেকর্ডে তাঁর নাম ওঠে। তাঁকে ১৯৮০ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সুরিনামের সাম্মানিক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। ১৯৮৭ সালে আমেরিকার সাম্মানিক নাগরিকত্ব পান। ১৯৯০ সালে পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সাম্মনিক ডক্টরেট প্রদান করা হয় । ১৯৯৬ সালে ভিডিওকন স্ক্রিন লাইফটাইম পুরস্কার। ২০০০ সালে আই আই এফ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার এরকম আরো বহু পুরস্কার ও সম্মানে তিনি ভূষিত।

 

প্রয়াণ—

 

লতা ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনা মুক্তও হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী শারীরিক অসুস্থতায় অবস্থার অবনতি হয়।  ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আজকের দিনেই তিনি মুম্বাইয়ে ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

বাংলাদেশের প্রথম নারী পাইলট; সৈয়দা কানিজ ফাতেমা রোকসানা।

বাংলাদেশের প্রথম নারী পাইলট হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ছিলেন সৈয়দা কানিজ ফাতেমা রোকসানা। ১৯৭৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম নারী পাইলট হিসেবে নিয়োগপত্র পান রোকসানা। তবে আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি তাঁর। নিয়োগের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান রোকসানা। বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টি ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।

বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টি ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।

পুরো নাম সৈয়দা কানিজ ফাতেমা রোকসানা। ডাক নাম তিতলী আর প্রিয়জনদের কাছে ‘লিটল আপা’। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর প্রথম নারী বৈমানিক। তিনি ক্যাপ্টেন পদাধিকারী ছিলেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনার সনদ লাভ করেন।
তার জন্ম ১৯৫৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরে। তার ডাক নাম ছিলো ‘তিতলী’, যার অর্থ ‘প্রজাপতি’। নামের প্রভাব যেন তার উপর ষোলো আনা পড়েছিল। তখনকার সমাজব্যবস্থা নারীর জন্য ছিল খুবই রক্ষণশীল। কিন্তু সেই রক্ষণশীল সমাজে থেকেও প্রজাপতির মতো ডানা মেলে ওড়ার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। শুধু স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকেননি, স্বপ্ন সত্যি করে নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। হয়েছেন দেশের প্রথম নারী পাইলট। তবে চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে হুঁট করেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে পারেননি তিনি। এর জন্য সমাজ ও নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই চালাতে হয়েছে তাকে।

রোকসানা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং নানান গুণে পারদর্শী একজন নারী। ছিলেন রেডিও-টেলিভিশনের নামকরা একজন সংগীতশিল্পীও। তত্‍কালীন সময়ে জার্মান ভাষার ডিপ্লোমাধারী। যা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। হাতের সামনে ছিল জার্মানির মেডিক্যালের স্কলারশিপ। চোখের সামনে উঁকি দিচ্ছিল উজ্জ্বল এক ভবিষ্যত্‍। তবে তিনি অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতো নিচে থেকে নয়, জীবনকে উপভোগ করতে চেয়েছেন নীল আকাশে উড়তে উড়তে। তাইতো অনায়াসে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জার্মানির মেডিক্যালের স্কলারশিপ। তারপর বিএসসিতে ভর্তি হন ঢাকার অন্যতম প্রসিদ্ধ উচ্চ শিক্ষালয় ইডেন কলেজে। কিন্তু অন্তরে তার অন্য বাসনা।
পাইলট হওয়ার স্বপ্ন কখনোই তার পিছু ছাড়েনি। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাব খুঁজে বের করে সেখানে যোগ দেন। এর ঠিক দুই বছরের মাথায় ১৯৭৮ সালে পেয়ে যান কমার্শিয়াল বিমান চালানোর লাইসেন্স। শুধু তাই নয়, সঙ্গে পেয়ে যান সহ-প্রশিক্ষকের লাইসেন্স। যার মাধ্যমে বহু শিক্ষানবীশকে ‘সেসনা’ ও ‘উইজিয়ন’ প্লেন চালানো শেখালেন। আর এভাবেই সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বপ্ন-পূরণের লক্ষ্যে তার এগিয়ে চলা শুরু।

তাকে দমিয়ে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় সব মহল থেকে। কিন্তু কোনোভাবেই থেমে থাকেননি এই নারী। সমস্ত বাধা পেরিয়ে এরপর ১৯৭৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে নিয়োগপত্র পান এই নারী। দেশের সামরিক ইতিহাসে প্রশিক্ষণকালে সার্বিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করা তিনিই প্রথম নারী পাইলট। এরপরের ইতিহাস কেবলই গৌরবের। পরবর্তী বছরগুলোতে প্রায় ৬ হাজার ঘণ্টা বিমান পরিচালনার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

তবে তার আকাশে ডানা মেলে ওড়ার পালা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। নিয়োগের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৮৪ সালের ৪ আগস্ট এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু বরণ করেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টা ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা রয়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে ফকার এফ-২৭ বিমানে করে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ার দরুন বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত হন। প্রচণ্ড বৃষ্টি ছিল সেদিন। একই বিমান দুর্ঘটনায় ৪৫ জন যাত্রীসহ ৪জন ক্রু সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক, একজন জাপানী এবং ৩৩জন মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত বাংলাদেশী ছিলেন।কেউ বাঁচেনি অভিশপ্ত বিমানের।চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আগত অভ্যন্তরীণ এই ফ্লাইটটি অত্যধিক বৃষ্টিপাতের কারণে দুইবার অবতরণের চেষ্টা করেও রানওয়ে খুজে পেতে ব্যার্থ হয়, তৃতীয়বার অবতরণের চেষ্টার সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে ৫০০ মিটার আগেই এক জলাভূমিতে পতিত হয়ে বিধ্বস্ত হয়।

পরে তদন্তে প্রমাণ মেলে ওই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল।

সৈয়দা কানিজ ফাতেমার আয়ূষ্কাল মাত্র সাড়ে আটাশ বছরের হলেও তিনি সেই অল্প সময়টাতেই রচনা করেছেন নতুন ইতিহাস, যা তাকে বাঁচিয়ে রাখবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। ‘লিটল আপা’ উড়তে শিখিয়ে গেছেন পরের প্রজন্মের নারীদের। তার স্মৃতি রক্ষার্থে ‘রোকসানা ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে ১৯৮৫ সালের জুলাই থেকে ‘মাসিক রোকসানা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতে শুরু করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব জলাতংক দিবস, জানুন দিনটি পালনের গুরুত্ব।

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস হল একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান যা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর রেবিস কন্ট্রোল দ্বারা সমন্বিত, একটি অলাভজনক সংস্থা যার সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।  এটি জাতিসংঘের একটি পালনীয় এবং আন্তর্জাতিক মানব ও পশুচিকিৎসা স্বাস্থ্য সংস্থা যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য মার্কিন কেন্দ্রগুলি দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে৷

 

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস প্রতি বছর ২৮শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়, লুই পাস্তুরের মৃত্যু বার্ষিকীতে, যিনি তার সহকর্মীদের সহযোগিতায় প্রথম কার্যকরী জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন তৈরি করেছিলেন।

 

 

লুই পাস্তুর (27 ডিসেম্বর 1822 – 28 সেপ্টেম্বর 1895) ছিলেন একজন ফরাসি রসায়নবিদ এবং মাইক্রোবায়োলজিস্ট টিকাকরণ, মাইক্রোবিয়াল গাঁজন এবং পাস্তুরাইজেশনের নীতিগুলির আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত, যার শেষটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছিল।  রসায়নে তার গবেষণা রোগের কারণ ও প্রতিরোধ বোঝার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দিকে পরিচালিত করে, যা স্বাস্থ্যবিধি, জনস্বাস্থ্য এবং আধুনিক ওষুধের অনেক কিছুর ভিত্তি স্থাপন করে।  পাস্তুরের কাজগুলি জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সের ভ্যাকসিনের উন্নয়নের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচানোর জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়।  তাকে আধুনিক ব্যাকটেরিওলজির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাকে “ব্যাক্টেরিওলজির জনক” এবং “অণুজীব বিজ্ঞানের জনক” হিসেবে সম্মানিত করা হয় (রবার্ট কোচের সাথে;[পরবর্তী উপাখ্যানটিও অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহোককে দায়ী করা হয়)।

 

 

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের লক্ষ্য হল মানুষ এবং প্রাণীদের উপর জলাতঙ্কের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলিতে কীভাবে রোগ প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা এবং জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে বর্ধিত প্রচেষ্টার জন্য সমর্থন সমর্থন করা।

 

বিশ্বের অনেক দেশেই জলাতঙ্ক একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা।  উন্মত্ত কুকুরের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর 99% এরও বেশি ঘটে উন্নয়নশীল বিশ্বে, 95% মৃত্যু আফ্রিকা এবং এশিয়ায় ঘটে।  অ্যান্টার্কটিকা বাদে, প্রতিটি মহাদেশের মানুষ এবং প্রাণী জলাতঙ্ক সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
জলাতঙ্ক প্রতিরোধের একটি প্রধান সমস্যা হল ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে জীবন রক্ষার মৌলিক জ্ঞানের অভাব।  যদিও বিশ্বে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করার জন্য সরঞ্জাম এবং জ্ঞান রয়েছে।

 

প্রথম বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের প্রচারাভিযানটি হয়েছিল 8 সেপ্টেম্বর 2007-এ অ্যালায়েন্স ফর রেবিস কন্ট্রোল এবং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, আটলান্টা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অংশীদারিত্ব হিসাবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহ-স্পন্সরশিপ, বিশ্ব প্রাণী সংস্থা স্বাস্থ্য এবং প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা [ব্রিগস ডি, হ্যানলন সিএ।  বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস: একটি অবহেলিত রোগের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা।  Vet Rec.  2007 সেপ্টেম্বর 1;161(9):288-9।]।  2009 সালে, তিনটি বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের পরে, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অনুমান করেছে যে 100 টিরও বেশি দেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক ঘটনা ঘটেছে, বিশ্বব্যাপী প্রায় 100 মিলিয়ন মানুষ জলাতঙ্ক সম্পর্কে শিক্ষিত হয়েছে এবং প্রায় 3 মিলিয়ন কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার সাথে যুক্ত ইভেন্টের সময়।
আন্তর্জাতিক সরকারী সংস্থা, শিক্ষাবিদ, এনজিও এবং ভ্যাকসিন নির্মাতাদের একটি নেটওয়ার্ক দ্বারা 2011 সালের একটি পর্যালোচনা বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সহায়তা করার জন্য একটি দরকারী হাতিয়ার হিসাবে চিহ্নিত করেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলিকে লক্ষ্য করে, পশু স্বাস্থ্যকর্মী, জনস্বাস্থ্য অনুশীলনকারী, সরকার, প্রধান মতামত নেতারা। এবং বিশেষজ্ঞরা।
পর্যালোচনার পরের বছরগুলিতে, বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসকে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এমন একটি দিন হিসাবে ব্যবহার করেছে যেটিতে জলাতঙ্ক নির্মূলে নীতি, পরিকল্পনা এবং অগ্রগতি ঘোষণা করার জন্য।  উদাহরণস্বরূপ, 2013 সালে, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্ব সংস্থা প্রথম বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে ক্যানাইন-মধ্যস্থ জলাতঙ্কের বিশ্বব্যাপী নির্মূল করার আহ্বান জানায়।  এটি অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস রেবিস নির্মূল কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  2015 সালে প্রথম প্যান-আফ্রিকান জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক সভায়, 33টি আফ্রিকান দেশ সেখানে প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসকে জলাতঙ্ক ওকালতি করার সুযোগ হিসাবে বিবেচনা করার সুপারিশ করেছিল।  ফিলিপাইনে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস 2007 সাল থেকে জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পালিত হচ্ছে এবং এটি এর জাতীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রথিতযশা বাঙালি  কথাসাহিত্যিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীনাথ ভাদুড়ী’র জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সতীনাথ ভাদুড়ী (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৬ – ৩০ মার্চ ১৯৬৫) ছিলেন একজন বাঙালি ভারতীয় ঔপন্যাসিক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনামে চিত্রা গুপ্ত নামে পরিচিত ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন —

সতীনাথ ভাদুড়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৬ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির পূর্ণিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তার পিতা ইন্দুভূষণ ভাদুড়ি আইন অনুশীলন করতেন।

বিজয়া দশমী, মায়ের বিদায়ের দিন সন্ধেয়। চার দিকে উত্‍সব শেষের বিষণ্ণতা। তার মধ্যেই কোশী নদীর পাড়ে পূর্ণিয়ার ‘সবুজকুন্তলা’ ভাট্টাবাজারে ইন্দুভূষণ ভাদুড়ী ও রাজবালাদেবীর ঘরে এলেন ষষ্ঠ সন্তান সতীনাথ। তার পৈতৃক নিবাস ছিল নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।১৯২৮ খ্রীস্টাব্দে মা রাজবালা এবং দিদি করুণাময়ীর সাতদিনের আগে-পরে মৃত্যু ঘটে। পিতা ইন্দুভূষণের অভিজাত গম্ভীর ব্যবহারে সতীনাথ প্রথম থেকেই ছিলেন নিঃসঙ্গ এবং অন্তর্মুখিন।

শিক্ষা—

তার বাল্যশিক্ষা, আইনকর্ম, রাজনীতিতে যোগদান ও ত্যাগ, সাহিত্য-সাধনা, এমনকি মৃত্যুও পূর্ণিয়া জেলাতেই নিবদ্ধ থাকে। ১৯২৪ খ্রীস্টাব্দে ডিভিশনার স্কলারশিপ নিয়ে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাশ, ১৯২৬-এ পাটনা সায়েন্স কলেজ থেকে আই. এস. সি., ১৯২৮-এ অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে বি. এ. ১৯৩০-এ অর্থনীতিতে এম. এ. এবং ১৯৩১-এ পাটনা ল কলেজ থেকে বি. এ. পাশ করে ওকালতিতে যোগদান করেন।

তিনি তার বিএল ডিগ্রি সম্পন্ন করে ১৯৩২ এবং ১৯৩৯ সালের মধ্যে পাটনায় আইন অনুশীলন শুরু করেন।

কর্মজীবন ও স্বাধীনতার অন্দলন —

এরপর তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং পূর্ণিয়ার জেলা সম্পাদক হন। এর পর ব্রিটিশ সরকারের ‘নেক নজরে’ পড়লেন তিনি। গ্রেফতার করা হল। পাঠানো হল পূর্ণিয়া জেলে। তিনি ভাগলপুর কারাগারে দুইবার বন্দী ছিলেন: ১৯৪০-৪১ এবং ১৯৪২-৪৫। ১৯৪২ সাল। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে উত্তাল হল দেশ। তিনিও তখন গভীর রাতে ‘জল কাদা ভেঙে বিনা টর্চের আলোয় ১৫-২০ মাইল’ হেঁটে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সভা সংগঠিত করছেন। ১৯৪৮ সালে, তিনি কংগ্রেস থেকে ছিটকে পড়েন এবং সমাজতান্ত্রিক দলে যোগ দেন।

তার কাজ—

সতীনাথের প্রথম উপন্যাস জাগরী , যার জন্য তিনি প্রথম রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই বইটি তাকে যথেষ্ট খ্যাতি এনে দেয় এবং ১৯৬৫ সালে UNESCO কালেকশন অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ওয়ার্কসের অংশ হিসেবে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। একটি রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে, জাগরী বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে। তিনি প্যারিসে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন, সত্যি ভ্রমন কাহিনী । তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে গণনায়ক, চিত্রগুপ্তর ফাইল , ধোরাই চরিত মানস, অচিন রাগিনী, অপরিচিত, সঙ্গত, পারুয়ার নোটবুক ইত্যাদি।

সমালোচনামূলক প্রশংসা—

তাঁর ছোট গল্পগুলি হল বিচার ব্যবস্থার ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা, পক্ষপাতদুষ্ট রাজনীতি, অশোধিত নারীবাদ ইত্যাদি। প্যারোডি-টেক্সট বা এই কালো কমেডিগুলি বিশ্লেষণ করা খুবই কঠিন বা প্রায় অসম্ভব কারণ সমালোচনাগুলি স্ব-স্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠিত অর্থায়নে পরিচালিত বিজ্ঞান বা অ্যানাটোমো-বায়ো সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারে না। ল্যাব-স্টেট বিজ্ঞানের রাজনীতি, জরিপ কৌশল, পরিসংখ্যান ইত্যাদি। ভাদুড়ির বক্তৃতার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্যারোডির প্যারোডির দিকে পরিচালিত করেছিল। একটি সমালোচক প্রমিত এবং সেইসাথে প্রাক-অনুমিত আনুষ্ঠানিক সরঞ্জাম দিয়ে গল্প-লাইন পরিমাপ করার জন্য একটি দুঃখিত চিত্র কাটাতে পারে। ভাদুড়ীর গল্পগুলি দ্বৈত অধিবেশনের দৃষ্টান্ত, যেখানে বিদ্যমান নাগরিক ও রাজনৈতিক সমাজ এবং স্টিরিওটাইপিকাল সাহিত্য সমালোচকগুলি এক সময়ে সূক্ষ্ম বুদ্ধি দ্বারা আক্রমণ করা হয়। ভাদুড়ী মডেল-তাত্ত্বিক ফর্মুলারাইজড সমালোচনার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
তার বেশিরভাগ লেখাই বাংলা ও পূর্ব বিহারের মানুষের জীবনধারাকে চিত্রিত করে।

সতীনাথ ভাদুড়ীর রচনাসমূহ:

(ক) সতীনাথ ভাদুড়ীর উপন্যাস : ‘জাগরী’ (১৯৪৫), ‘ঢেঁাড়াই চরিতমানস’ (প্রথম চরণ ১৯৪৯, দ্বিতীয় চরণ ১৯৫১), ‘চিত্রগুপ্তের ফাইল’ (১৯৪৯), ‘সত্যি ভ্রমণকাহিনী’ (১৯৫১), ‘অচিনরাগিণী’ (১৯৫৪), ‘সংকট’ (১৯৫৭), ‘দিকভ্রান্ত’ (১৯৬৬)।

(খ) সতীনাথ ভাদুড়ীর গল্প সংকলন : ‘গণনায়ক’ (১৯৪৮), ‘অপরিচিতা’ (১৯৫৪), ‘চকাচকি’ (১৯৫৬), ‘পত্রলেখার বাবা’ (১৯৬০), ‘জলভ্রমি’ (১৯৬২), ‘আলোকদৃষ্টি’ (১৯৬২), ‘সতীনাথ-বিচিত্রা’ (মৃত্যুর পর প্রকাশিত)।

ঔপন্যাসিক সতীনাথ বেশ কিছু সার্থক ছোটগল্পেরও স্রষ্টা। তাঁর গল্প সংখ্যা ৬২। দেশ, আনন্দবাজার, অমৃতবাজার, যুগান্তর, পরিচয়, বিচিত্রা, চতুরঙ্গ, পূর্বাশা, দৈনিক কৃষক, স্বাধীনতা, বিশ্বভারতী ইত্যাদি খ্যাতনামা পত্রিকায় তার গল্পগুলি প্রকাশিত হয়। তাঁর গল্পের উত্‍স বাস্তব অভিজ্ঞতা। বৈশিষ্ট্য : মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী, ব্যঙ্গপ্রবণতা, মননশীলতা ও নিরাসক্তি। তাঁর গল্পের পটভূমি পূর্ণিয়ার মাটি ও মানুষজন।

প্রয়াণ —

তাঁর প্রয়াণ ছিল বড়ই বেদনার। ১৯৬৫ সালের ৩০ মার্চ তিনি ইহলোক ত্যগ করেন।

।।তথ্য ঋণ : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন পেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জানুন বিশ্ব পর্যটন দিবস কি, পালনের উদ্দেশ্য।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ বিশ্বব্যাপী ২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয়।  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটনের প্রসারে ফোকাস করার জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়।  এটি ইউনাইটেড নেশনস ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (UNWTO) দ্বারা শুরু হয়েছিল।  এটি পর্যটনের প্রচার এবং এর গুরুত্ব বোঝার জন্য উদযাপিত হয়।  বিশ্ব পর্যটন দিবসের উদ্দেশ্য মানুষকে বিশ্ব ঘুরে দেখার আনন্দ বোঝানো।  এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

 

১৯৮০ সাল থেকে, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ২৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক পালন হিসেবে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত করে। এই তারিখটি ১৯৭০ সালে সেই দিন হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, UNWTO-এর সংবিধিগুলি গৃহীত হয়েছিল।  এই সংবিধিগুলি গ্রহণ করা বিশ্ব পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়।  এই দিবসের উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এটি বিশ্বব্যাপী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা প্রদর্শন করা।

 

১৯৯৭ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তার দ্বাদশ অধিবেশনে, UNWTO সাধারণ পরিষদ বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনে সংস্থার অংশীদার হিসাবে কাজ করার জন্য প্রতি বছর একটি আয়োজক দেশ মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেয়।  ২০০৩ সালের অক্টোবরে চীনের বেইজিং-এ তার পঞ্চদশ অধিবেশনে, অ্যাসেম্বলি বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের জন্য নিম্নলিখিত ভৌগলিক ক্রম অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়: ২০০৬ ইউরোপে;  দক্ষিণ এশিয়ায় ২০০৭;  আমেরিকাতে ২০০৮;  আফ্রিকায় ২০০৯ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ২০১১।
নাইজেরিয়ার নাগরিক প্রয়াত ইগনাশিয়াস আমাদুওয়া আতিগবি প্রতিবছর ২৭শে সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব পর্যটন দিবস হিসেবে চিহ্নিত করার ধারণাটি প্রস্তাব করেছিলেন।  2009 সালে তিনি তার অবদানের জন্য অবশেষে স্বীকৃত হন। বিশ্ব পর্যটন দিবসের রঙ হল নীল।

 

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ এর থিম—-

 

এই বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩, ইউএনডব্লিউটিও, “পর্যটন এবং সবুজ বিনিয়োগ” থিমের অধীনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলির জন্য আরও বেশি এবং আরও ভাল-লক্ষ্যযুক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, ২০৩০ সালের মধ্যে একটি উন্নত বিশ্বের জন্য জাতিসংঘের রোডম্যাপ। এখন নতুন করার সময়।  এবং উদ্ভাবনী সমাধান, শুধুমাত্র প্রথাগত বিনিয়োগ নয় যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতাকে উন্নীত করে।

 

 বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ এর তাৎপর্য—

 

বিশ্ব পর্যটন দিবস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে পর্যটনের তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চায়।  এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে পর্যটন একটি দেশের অর্থনীতির উন্নতিতে এবং এর ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  বিশ্ব পর্যটন দিবস গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি পর্যটনের সুবিধার প্রচারে সহায়তা করে।  বালির পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।  UNWTO রাজ্যগুলির প্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

 

 বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৩ এর ইতিহাস—

 

প্রথম বিশ্ব পর্যটন দিবস ১৯৮০ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পর্যটনের জন্য বিশ্বব্যাপী পালন দিবস হিসাবে, এটি শান্তি ও সমৃদ্ধির অগ্রগতিতে সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উদযাপন করার একটি সুযোগ দেয় এবং UNWTO-এর বৈশ্বিক অঞ্চলগুলি সর্বদা একটি সময়মত আনুষ্ঠানিক উদযাপনের আয়োজন করে।  এবং প্রাসঙ্গিক থিম।
ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (UNWTO) 1979 সালে বিশ্ব পর্যটন দিবস শুরু করে। ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদযাপন শুরু হয়। এটি প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হয় কারণ তারিখটি UNWTO-এর সংবিধি গৃহীত হওয়ার বার্ষিকীকে চিহ্নিত করে।  ১৯৯৭ সালে, UNWTO সিদ্ধান্ত নেয় যে দিবসটি প্রতি বছর বিভিন্ন আয়োজক দেশে উদযাপন করা হবে।  বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রাথমিক উদযাপন একটি কেন্দ্রীয় থিম সহ সম্পূর্ণরূপে পর্যটনের প্রচারের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

করম পুজা নিয়ে দুটি কথা : দিলীপ  রায়।

করম প্রধানত সৃষ্টির উৎসব, সৃজনের উৎসব । শরতের আগমনে শস্য ও সমৃদ্ধি কামনায় করম পরব বা করম উৎসব । ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশী বা পার্শ্ব একাদশীতে করম উৎসব পালিত হয় । এই বছর অনুষ্ঠিত হলো ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ । এই পরবের মূল আকর্ষণ হলো জাওয়া গান । বলা চলে, গানগুলো লোকসাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গ ।
এবার আসছি করম পরব প্রসঙ্গে ।
করম পরব ভারতের ঝাড়খণ্ড, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়,  আসাম, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং বাংলাদেশ ও নেপালে একটা ফসল কাটার উৎসব । এই উৎসবে করম দেবতার উপাসনা করা হয় । যিনি শক্তি, যুব ও যৌবনের দেবতা । করম পরব পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলা , ঝাড়্গ্রাম জেলা, বাঁকুড়া জেলা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কুড়মি, ভূমিজ, রাজপুত, সরাক, লোহার বাউরি, বীরহড়, বীরনিয়া, খেরওয়ার, হো, খেড়িয়া, শবর, কোড়া মাহালি, পাহাড়িয়া, হাড়ি, বাগদি, বেদে, ঘাসি, লোধা ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও, প্রভূতি সম্প্রদায়ের জঙ্গলভিত্তিক ও কৃষিভিত্তিক লোক উৎসব ।
প্রকৃতির পুজা ও উর্বতার উৎসব । এই করম পরব প্রায় সাতদিন ধরে উদযাপন  হয় । কুমারী কন্যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সাতদিন ধরে ব্রত পালন করেন, করম গাছের ডাল পুজা করেন এবং বপন করা হয় ভুট্টার বীজ । অঙ্কুরিত ভুট্টার চারা বা ‘জাওয়া’কে  উর্বতার প্রতীক হিসাবে দেখা হয় । মূলত এই করম উৎসবটি আদিবাসী ও সাঁওতাল জনজাতিদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় ।
মূলত গ্রামের অবিবাহিত কুমারী মেয়েরাই এই ‘করম’ ঠাকুরের উপাসক । শুক্লা একাদশীর সাতদিন আগে কুমারী মেয়েরা একত্রে বাঁশের বোনা ‘টুপা’ (ডালা) এবং বিভিন্ন ধরনের শস্যবীজ নিয়ে জড়ো হয় পার্শ্ববর্তী কোনো নদী, পুকুর বা জলাশয়ে  । সেখানে প্রত্যেকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে সদ্যস্নাত ভিজে কাপড়ে নিজের নিজের টুপায় নদী  খাতের বালি ভর্তি করে বাড়ি থেকে আনা সেই শস্যবীজগুলো বোনে । তারপর পরস্পরের হাত ধরে টুপা’কে কেন্দ্র করে গোল হয়ে বিভিন্ন ধরনের আদিবাসী গান গাইতে থাকে ।
এরপর শুরু হয় এই জাওয়া টুপাগুলোর পরিচর্যা । দিন দুয়েক পরেই বীজগুলির অঙ্কুরোদম হয় । জাওয়া পাতানো কুমারী মেয়েরা, জাওয়ার শুদ্ধতা বজায় রাখার নিরিখে সারা সপ্তাহ ধরে পালন করে কিছু রীতি নীতি । যেমন – একদিন তারা শাক খায় না, খাটিয়ায় ঘুমোয়  না, মাথায় তেল দেয়  না, চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ায় না, । এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় মেয়েরা নিজ নিজ ডালাসহ গ্রামের এক জায়গায় জড়ো হয় । জাওয়াকে কেন্দ্র করে সারা সন্ধ্যা চলে করম গান ও নাচ ।
সন্ধ্যাবেলায় গ্রামের লায়া (পুরোহিত) এক জায়গায় করম ডাল পুঁতে করম ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন  । তৈরি হয় পুজোর বেদী । গ্রামের ব্রতকারী কুমারী মেয়েরা “করম ডালায়” পুজোর অর্ঘ্যরূপে ঘি, গুঁড়, আতপ চাল, মধু, ধূপ, একগাছি ধান আর ‘কাঁকুড়’, ইত্যাদি নিয়ে সমবেত হয়ে পুজো করে পরম ঠাকুরের । কামনা করে সোহাগী স্বামী পাওয়ার ও সন্তানবতী হওয়ার ।
এবার আসছি করম পুজার প্রচলনের ইতিহাস প্রসঙ্গে । এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, করম পুজা প্রচলনের ইতিহাস নিয়ে মতভেদ রয়েছে । এখানে দুইটি মতের উল্লেখ করা হলোঃ-
এক সময় সাত ভাই ছিল যারা কৃষিকাজে কঠোর পরিশ্রমী । এমনকি তাঁদের  দুপুরের খাওয়ারও সময় থাকতো  না । তাই, স্ত্রীরা প্রতিদিন তাঁদের  দুপুরের খাবার  মাঠে নিয়ে যেতেন ।  একবার এমন হয়েছিল,  তাঁদের স্ত্রীরা দুপুরের খাবার নিয়ে মাঠে যাননি  । সাংঘাতিক ক্ষুধার্ত ছিলেন তাঁরা । সন্ধ্যায়  বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁদের স্ত্রীরা বাড়ির  উঠোনে করম গাছের ডালের পাশে নাচ-গান করছেন  । এটা দেখে তাঁরা ক্রোধে অগ্নিশর্মা  । এক ভাই তাঁর মেজাজ হারিয়ে ফেলে করমের ডাল ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দিলেন । করম দেবতাকে অপমান করা হয়েছিল  ।  ফলে তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে এবং  অনাহারে তাঁদের দুর্দশা অবস্থা  । একদিন একজন ব্রাহ্মণ (পুরোহিত) তাদের কাছে এলেন এবং সাত ভাই  পুরো ঘটনাটা তাঁকে  খুলে বললেন । এরপর সাত ভাই করম রানীর খোঁজে গ্রাম ছেড়ে চলে যান। তাঁরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে থাকেন  এবং এইভাবে খোঁজার পর  একদিন তাঁরা করম গাছের সন্ধান পান । পরবর্তীকালে, করম ঠাকুরের পুজো করেন ।  তারপর তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমশ উন্নতি ঘটতে থাকে । সুখ ও শান্তি ফিরে আসে ।
আর একটি মত হচ্ছে নিম্নরূপঃ
কথিত আছে, কর্ম ও ধর্ম দুই ভাই । দু’জনেই খুব পরিশ্রমী ও দয়ালু । কিছু দিন পর কর্মের বিয়ে হয়ে গেলো । তাঁর স্ত্রী ছিল অধার্মিক এবং অন্যদের বিরক্ত  করার মানসিকতা ।  আর এতে রাগান্বিত হয়ে কর্ম বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন ।
তিনি চলে যেতেই সকলের কর্মফল ও ভাগ্যও  চলে গেলো এবং  মানুষের দুঃখ দুর্দশা বাড়তে লাগলো ।  মানুষের সমস্যা সহ্য করতে না পেরে ধর্ম  ভাইয়ের খোঁজে বেরিয়ে গেলেন  । কিছু দূর হাঁটার পর তাঁর জল তেষ্টা পেলো  এবং দেখলেন  আশেপাশে কোথাও জল নেই । দূরে  একটা নদী দেখতে পেলেন এবং  সেখানে গিয়ে দেখলেন, তাতেও জল নেই ।
নদী ধর্মকে বলল, তোমার ভাই এখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের কর্মফল নষ্ট হয়ে গিয়েছে । গাছের সব ফল নষ্ট ! খুঁজে পেলে বলো, তাঁর কাছে আমাদের এই সমস্যার সমাধান চাই ।   তারপর  আরও একজন মহিলার সঙ্গে তাঁর দেখা  এবং তিনি বললেন, কর্ম চলে যাওয়ার পর থেকে রান্নার পরে পাত্রগুলি হাতে লেগে যেতে শুরু করে, এর সমাধান কী ?  আপনি কর্মকে জিজ্ঞাসা করুন এবং  তাঁকে বলতে বলুন ।
ধর্ম আরও এগিয়ে গেলেন  । একটি মরুভূমিতে পৌঁছালেন । সেখানে তিনি দেখলেন,   কর্ম গরমে অস্থির । তাঁর শরীরে ফোসকা পড়েছে এবং তিনি যন্ত্রণায় কাতর । তাঁর অবস্থা অসহনীয় । ধর্ম কর্মকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন । কর্ম বললেন, “যে বাড়িতে আমার স্ত্রী মাটিতে কাদা ছুঁড়েছে  সেখানে আমি কীভাবে যাবো ?”  তখন ধর্ম প্রতিশ্রুতি দেন, আজকের পরে সে আর কখনও মাটিতে কাদা ফেলবে না । তখন উভয় ভাই বাড়ি ফিরে যেতে লাগলেন  ।
ফেরার সময়   সেই মহিলার সঙ্গে দেখা  । কর্ম তাঁকে বললেন, ঐ মহিলা কখনও কোনও ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াননি, তাই তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে । সুতরাং এটি তাঁর কর্মফল।
একইভাবে সকলকে নিজের কর্মফলের কথা জানানোর পর কর্ম বাড়িতে এসে পুকুরে কর্মফলের ডাল লাগিয়ে পূজা করেন । তারপর সমগ্র এলাকার লোকেরা আবার সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন  এবং সমৃদ্ধি ফিরে আসল ।  সেই স্মরণে করম পরব  পালিত হয় । বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে করম পার্বণ একটি অন্যতম । এটি গ্রাম বাংলার এক অজানা অথচ বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী,  কুড়মিদের চা-বাগানের মানুষদের  সু-প্রচলিত করম পরব বা করম পুজা । এই বছর করম পুজাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করেছেন ।
পরিশেষে বলা যায়, করম পরব আদিম জনগোষ্ঠীর ধারক ও বাহক । এর মধ্যে অন্যতম কুড়মি, সাঁওতাল, ভূমিজ, মুন্ডা, ওঁরাও, রাজোয়াড়, ডোম, ঘাসি প্রভৃতি  জনগোষ্ঠী । তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় কুড়মি সমাজের মধ্যে এর স্বীকৃতি, মান্যতা ও ব্যপকতা অবর্ণনীয় । আদিম জনগোষ্ঠী প্রায়  সকলেই প্রকৃতির পুজারী ।  ভাল করে এই উৎসবের  পুজানুষ্ঠান  ও পালনবিধি  লক্ষ্য করলে দেখা যাবে,  এটা একটা  বৃক্ষ পুজার অনুষ্ঠান । বৃক্ষকে জীবন্ত আত্মার অধিকারী হিসাবে স্বীকার করে  এবং তাকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস-সংস্কার,  আচার-অনুষ্ঠানের  এক বিস্ময়কর সমাবেশ এবং শুদ্ধ ভক্তির পরম্পরা  !  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
এ১০এক্স/৩৪, কল্যাণী (পিন-৭৪১২৩৫) / ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ঊনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মদিবসে দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার । তাঁর পসম্পর্কে বলা যেতে পারে, তিনি লেখক, দার্শনিক, পণ্ডিত, অনুবাদক, প্রকাশক ও মানবহিতৈষী । সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রথম জীবনেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন । সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও অপরবোধ্য করে তোলেন । বাংলা গদ্যের সার্থক রূপকার তিনিই ।
বিদ্যাসাগরের যখন জন্ম (১৮২০), তখন শিক্ষা সংস্কারে ও বাংলা ভাষার আধুনিকরণের একটা ডামাডোল পরিস্থিতি । বিশৃঙ্খলার বাতাবরণ । শিক্ষার লক্ষ্য, পদ্ধতি ও পাঠক্রম নিয়ে চলছিল নানান বিতর্ক । অথচ বাঙালী সমাজ জানে, আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ  সংস্কারে বিদ্যাসাগরের গৌরবময় অবদানের কথা ।

তাঁর নির্মিত বাংলা ভাষার ভিত্তির ওপরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম অধ্যায় । বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে বোধগম্য এবং সবরকমের ভাব ও চিন্তা প্রকাশের যোগ্য করে তুলেছিলেন । তাই আজও বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় ।
আটপৌরে বাঙালি পোশাকে বিদ্যাসাগর ছিলেন সর্বত্রগামী । প্রবল জেদ ও আত্নসম্মানবোধ নিয়ে সরকারি চাকরি করেছেন, দ্বিরুক্তি না করে ইস্তফা দিয়েছেন । পাঠ্যবই লিখে ছেপে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন, দানের জন্য ধারও করেছেন ।  উনিশ শতকে সমাজ বদলের সব আন্দোলনেই তিনি ছিলেন পুরোভাগে । এমন ব্যক্তিত্ব সবসময়ে  ব্যতিক্রম ।
বিদ্যাসাগরের একটা আপ্ত বাক্য আজও সমাজজীবনে উজ্জীবিত, “কোনো বিষয়ে প্রস্তাব করা সহজ, কিন্তু নির্বাহ করে ওঠা কঠিন” । অথচ তিনি এককভাবে ধুতিচাদর পরে একটার পর একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা বাস্তবায়িত করে গেছেন, যেমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যঃ শিক্ষার সংস্কার ও বিধবা বিবাহ প্রচলন । এটা সর্বজনবিদিত, বিদ্যাসাগরের লড়াইটা ছিল একার লড়াই । বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে বিশ্বকবি  রবীন্দ্রনাথের  মন্তব্য পরিষ্কার, তিনি গতানুগতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন  স্বতন্ত্র, সচেতন ও পারমার্থিক ।
এটা অনস্বীকার্য যে,  বাঙালী সমাজে আজও বিদ্যাসাগরের প্রদীপ্ত উপস্থিতি ‘বর্ণপরিচয়’ দিয়ে । প্রাথমিক শিক্ষায় ‘বর্ণপরিচয়’ এর  মাহাত্ম্য সকলের জানা । মুর্শিদাবাদ  জেলার শক্তিপুর হাই স্কুলের বাংলা ক্লাসের  দিদিমণি আমার রচনা লেখার গঠন অবলোকন করে হঠাৎ তাঁর সম্মুখে তিনি আদর করে ডেকে আমাকে বললেন, “তুই বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থের নাম শুনেছিস” ? মাথা নেড়ে আমি  বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় গ্রন্থটির নাম শুনেছি জানালাম ।  তারপর চুপি চুপি বাংলা বিষয়ের শ্রদ্ধেয়া দিদিমণি বললেন, রোজ রাতে শোওয়ার আগে বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’  বইখানা পড়বি । রচনা লেখার সময়ে তোর বানানের জড়তা কেটে যাবে ।“  সুতরাং শৈশব থেকে বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় আজও অমলিন । সেই বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ অতিক্রান্ত  । তাই দুশো বছর ধরে শিক্ষা জীবনের বাস্তবতায় ও শিক্ষা বিকাশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগর আজও প্রাসঙ্গিক ।
বিদ্যাসাগর যখন জন্মগ্রহন করেছিলেন সেই  সময়টা ছিল রামমোহনের যুগ, যিনি একজন শিক্ষিত ও অগ্রণী পুরুষ ছিলেন এবং সমাজ সংস্কারের অন্যতম কারিগর ।  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর  মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সুপণ্ডিত ও বলিষ্ঠ দৃঢ়চেতা পুরুষ। তিনিই ঈশ্বরচন্দ্রের নামকরণ করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধায় কলকাতায় স্বল্প বেতনের চাকরিতে খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করতেন । পরিবার নিয়ে শহরে বাস করা তাঁর সাধ্যের অতীত ছিল। সেই কারণে বালক ঈশ্বরচন্দ্র গ্রামেই মা ভগবতী দেবী’র  সঙ্গে বাস করতেন।
পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির ছ’মাসের মধ্যেই পাঁচ টাকা বৃত্তি পান ।  তাঁর প্রতিভার অসাধারণ ক্ষমতা দেখে শিক্ষকেরা সকলে স্তম্ভিত । তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্মজীবন শুরু করেন ফোর্ট উইলিয়াম (১৮৪১) কলেজের প্রধান পন্ডিত হিসাবে । ঐসময়েই  তাঁর ইংরেজি শিক্ষার যথাযথ শিক্ষালাভ । কেননা বিদ্যাসাগরকে সকলে জানতেন সংস্কৃতের পণ্ডিত হিসাবে । ইংরেজি হাতের লেখাও ছিল নজরকাড়া । ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে অর্থাৎ ১৮৫১ সালের ২২শে জানুয়ারী ঐ  কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন।  ঐ সময়েই ১৮৫১ সালে বিদ্যালয় দেখলেন, সংস্কৃত কলেজে গোড়া থেকেই  শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য সন্তানদের পড়বার অধিকার ছিল । কিন্তু বৈদ্যদের আবার ধর্মশিক্ষায় ছিল আপত্তি । স্বভাবতই প্রশ্ন উঠল কায়স্থ ও অন্যান্য হিন্দু বর্ণদের কথা । তখনকার পণ্ডিত সমাজের তোয়াক্কা না করে, বিদ্যাসাগর তদানীন্তন কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারিকে জানিয়ে দিলেন ব্রাম্মণ ও বৈদ্য ছাড়া অন্যান্য বর্ণের বিশেষ করে শূদ্রদের সংস্কৃত কলেজে প্রবেশে তাঁর আপত্তি নেই । যদিও সেই সময় সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকরা বিদ্যাসাগরের মতে গররাজী ছিলেন, তথাপি বিদ্যাসাগরের মতটাকেই মান্যতা দিয়েছিলেন তদানীন্তনকালের কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারি । এবং পর পরই ১৮৫৪ সালের শেষে বিদ্যাসাগর হিন্দুদের সব শ্রেনীর জন্য সংস্কৃত কলেজের দরজা খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং সেই প্রস্তাব যথাসময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ।
সংস্কৃত কলেজের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ এবং বাংলা ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ছাড়া,  শিক্ষা প্রসারে তাঁর আরও অবদান সর্বজনবিদিত ।  ১৮৫৪ সালে চার্লস উডের শিক্ষা সনদ গৃহীত হওয়ার পর সরকার গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশে ১৮৫৫ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদের অতিরিক্ত সহকারী স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি এবং মেদিনীপুর জেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে বাংলা ভাষাকে সহজবোধ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন । ১৮৫৫ সালে বাংলা নববর্ষের দিনে  বর্ণপরিচয়ের প্রথমভাগ  প্রকাশ করে তিনি বাঙালীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা) ও বেথুন সোসাইটিসহ আরও কিছু সংগঠনের সম্মানিত সভ্য ছিলেন। ১৮৫৮ সালে যাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফেলো নির্বাচিত হন,  তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম।  ১৮৫৯ সালে তিনি “ক্যালকাটা ট্রেনিং স্কুল” স্থাপনে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। ১৮৬৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় “হিন্দু মেট্রেপলিটন ইসস্টিটিউট”। ইংরাজ অধ্যাপকের সাহায্য ছাড়া এবং কোনোরকম সরকারি সাহায্য ছাড়া, বিদ্যাসাগর স্কুলটিকে ১৮৭২ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত করেছিলেন । বর্তমানে এর নাম “বিদ্যাসাগর কলেজ”। এটি দেশের প্রথম কলেজ যার প্রতিষ্ঠাতা – পরিচালক – শিক্ষক স্কলেই ভারতীয় ।  এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন লাভ করেন।
ব্রাম্মণ হয়েও বিদ্যাসাগর ত্রিসন্ধ্যা জপ করেননি । কোনো  মন্দিরে যাননি এবং ঈশ্বর  বিষয়ক কোনো লেখা তিনি লেখেননি । বিদ্যাসাগর ছিলেন নাস্তিক । ধর্ম সম্বন্ধে  তিনি শুধু মনে করতেন জগতের কল্যাণসাধন ও বিদ্যাচর্চা । এপ্রসঙ্গে কবি শঙ্খ ঘোষের উক্তিটি প্রনিধাযোগ্য, ধর্মের কোন বহিরঙ্গ মানতেন না । তিনি, আচরণও করতেন না । এখন যেমন অনেকে বলেন, ধর্মটা ব্যক্তিগত ব্যাপার, অনেকটা সেইরকম ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ, বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন । সেদিনের সমাজে প্রচলিত প্রথার নির্মম পরিণতির জন্য নারীদের ভাগ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন আপামর জনতা অবলোকন করেছিলেন । শোনা যায়, একসময় রাজা  রাজবল্লভ নিজের বালবিধবা কন্যাকে পুনর্বিবাহ দেওয়ার অনুমতি সমাজের পণ্ডিতদের কাছ থেকে পেয়েও সেই বিবাহ কারও কারও বাধায় দিতে পারেননি ।  বিদ্যাসাগরের “বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা” বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ ও সমাজ চমকে উঠেছিল । শেষ পর্য্যন্ত ১৮৫৫ সালের ১৬ই  জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়  । তারপর ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন স্রকারিভাবে আইন হিসাবে মঞ্জর হয় ।   বিদ্যাসাগরের দরদী হৃদয় কেঁদেছিল সেকালের সমগ্র হিন্দু নারী সমাজের দুর্গতি দুর্দশায় । বিধবা বিবাহ আইন নামে পরিচিত ১৮৫৬ সালের আইনটি কেবলমাত্র বিধবা নারীর দ্বিতীয় বিবাহের স্বীকৃতি দেয়নি, আইনটি যেমন বিবাহকে আইনসিদ্ধ করে তেমনই মৃত স্বামীর এবং দ্বিতীয় বিবাহের এবং পৈত্রিক বিষয় সম্পত্তিতে অধিকার সুনিদ্দিষ্ট করে ।  বিভিন্নভাবে জানা যায়, ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত মোট ৬০টি বিধবা বিবাহ সংঘটিত   হয়  ।  আরও      জানা   যায়,   বিদ্যাসাগর     ও  তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচণ্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন। পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী। তা ছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। এতে একটা জিনিস পরিস্কার,  বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে বিদ্যাসাগরের দৃঢ় সংকল্প শতভাগ সফল ।
তিনি হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় তৈরি করেন, যাকে পরবর্তীতে বেথুন কলেজ নামকরণ করা হয়। নারীদের শিক্ষার দিকে আনার জন্য তিনি একটি অর্থায়নের ব্যবস্থা করেন, যা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে মেয়েদের শিক্ষার জন্য যাবতীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হতো। ১৮৫৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাস অবধি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে বিদ্যাসাগর ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের দয়া এবং মানবিকতার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিত । দরিদ্রদের দানে তিনি সর্বদাই মুক্তহস্ত ছিলেন ।  তিনি তাঁর দান এবং দয়ার জন্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন । এখানে বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র উক্তি প্রনিধানযোগ্য,
“বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে,
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু ! উজ্জ্বল জগতে
হেমাদ্রির হেম কান্তি অম্লান কিরণে” ।
তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি ঐতিহ্যিক এবং রক্ষণশীল পরিবারে এবং সমাজ সংস্কারের জন্যে তিনি যুক্তিও দিতেন হিন্দু শাস্ত্র থেকে কিন্তু তিনি ছিলেন ধর্ম ও ঈশ্বর সম্পর্কে সন্দিহান মনের। তাঁর বোধোদয় গ্রন্থ যেমন তিনি শুরু করেছেন পদার্থের সংজ্ঞা দিয়ে । পরে সংজ্ঞা দিয়েছেন ঈশ্বরের,  যাঁকে তিনি বলেছেন সর্বশক্তিমান, সর্বত্র বিরাজমান চৈতন্যস্বরূপ।
তিনি তাঁর একক ও সহযোগীর উদ্যোগে রেখে গেলেন আধুনিক ব্যবহারযোগ্য একটি (উচ্চারণ অনুযায়ী ও মুদ্রণযোগ্য) বাংলা ভাষা, প্রাথমিক ও নীতিশিক্ষার বহু জনপ্রিয় গ্রন্থ, বাংলা মাধ্যম স্কুলব্যবস্থা ও নারীশিক্ষার পাকা বুনিয়াদ । মাতৃ/বাংলা ভাষার শিক্ষার আর একটি প্রাক শর্ত হল ভাল পাঠ্যপুস্তকের সুলভতা । বিদ্যাসাগরের সময় তার যথেষ্ট অভাব ছিল । বিদ্যাসাগরকেও অবতীর্ণ হতে দেখা যায় এক দিকে, বাংলায় ব্যকরণসিদ্ধ মুদ্রণযোগ্য অক্ষর ও বানান সংস্কার করে, নানা পাঠ্যপুস্তক রচনা, ছাপা ও বিপণনের আয়োজন । পাঠ্যপুস্তক রচনার পাশাপাশি ছাপা  বইয়ের সম্পাদনা ও সম্মার্জনার প্রতি তাঁর অখণ্ড মনোযোগ চিরদিন বজায় ছিল । একবার  তিনি হতদরিদ্র সাঁওতালদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন তিনি, সেই সময় (১৮৭৮) চর্যাপদের আবিস্কর্তা, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও তাঁর এক সঙ্গী লখনউ যাওয়ার পথে এক রাত বিদ্যাসাগরের আতিথ্যগ্রহণ করেন । রাত্রে বিশ্রামের পর সকালে উঠে শাস্ত্রী মশাই দেখলেন, “বিদ্যাসাগর মহাশয় বারান্দায় পাইচারি করিতেছেন এবং মাঝে মাঝে টেবিলে বসিয়া কথামালা কি বোধোদয়ের প্রূফ দেখিতেছেন । প্রূফে  বিস্তর কাটকুটি  করিতেছেন । যেভাবে প্রূফগুলি পড়িয়া আছে, বোধ হইল, তিনি রাত্রেও প্রূফ দেখিয়াছেন । আমি বলিলাম, কথামালার প্রূফ আপনি দেখেন কেন ? তিনি বলিলেন, ভাষাটা এমন জিনিস, কিছুতেই মন  স্পষ্ট হয় না ; যেন আর একটা শব্দ পাইলে ভাল হইত ; — তাই সর্বদা কাটকুটি করি । ভাবিলাম — বাপ রে, এই বুড়ো বয়সেও ইহার বাংলার ইডিয়ামের ওপর এত নজর ।“ (সূত্রঃ অ-বা-প,পৃঃ৪/ ২৭-৯-১৯) ।
এই অনন্য ও  বিরাট ব্যক্তিত্বের মানুষটি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ধর্মের কোনও বহিরঙ্গ মানতেন না এমনকি, আচরণও করতেন না ।   অথচ চালচলনে তিনি ছিলেন নিতান্তই সাদাসিধে ।  খুব বিনয়ী  এবং জীবনে  দৃঢ় সংকল্প এবং উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে ছিলেন  তিনি দৃঢ় মনোভাবাপন্ন । তিনি ছিলেন  একাধারে মহান সমাজ সংস্কারক  অন্যদিকে এক জন শিক্ষাবিদ  এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন অবিরাম । ভারতে শিক্ষার প্রতি তার অবদান এবং নারীর অবস্থার পরিবর্তন জন্য তিনি চিরস্বরণীয়। তাঁর অবর্ণনীয় মাতৃ ভক্তি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে আজও চর্চিত ।
হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারের বিরোধী, বিধবা বিবাহের প্রচলনকারী, নারী শিক্ষার প্রবর্তক, উনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক, বর্ণপরিচয় ও বহু গ্রন্থের রচয়িতা, মহান শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁর মহান স্মৃতির প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য ।

 

কলমে : দিলীপ  রায়।
————————-০——————————

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কিংবদন্তী কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী,সুরকার,সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

সঙ্গীতের আকাশে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এক কিংবদন্তীর নাম। আজও তিনি মানুষের হৃদয়ে বিরাজমান।  হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন ১৯২০ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯), পেশাগতভাবে হেমন্ত কুমার এবং হেমন্ত মুখার্জি নামে পরিচিত, ছিলেন একজন কিংবদন্তি ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এবং প্লেব্যাক গায়ক যিনি প্রাথমিকভাবে বাংলা এবং হিন্দি, ও র-এর মতো অন্যান্য ভাষায় গাইতেন।  , আসামীয়া, তামিল, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, কোঙ্কানি, সংস্কৃত এবং উর্দু।  তিনি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং অন্যান্য অনেক ঘরানার একজন শিল্পী ছিলেন।  তিনি সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের জন্য দুটি জাতীয় পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন এবং “ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর” নামে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

হেমন্তের তিন ভাই ও এক বোন নীলিমা ছিল।  তার ছোট ভাই তারাজ্যোতি ছিলেন একজন বাঙালি ছোটগল্পকার।  তার কনিষ্ঠ ভাই অমল সঙ্গীত রচনা করার পাশাপাশি কিছু বাংলা সিনেমার জন্য গান গেয়েছেন, বিশেষ করে আবাক পৃথিবী ও হাসপাতালের জন্য।  অমল ১৯৬০ এর দশকে হেমন্তের সাথে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে কয়েকটি গান রেকর্ড করেছিলেন, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে জীবনর অনেকটা পথ একলাই গানটি।  ১৯৪৫ সালে, হেমন্ত বাংলার গায়িকা বেলা মুখার্জিকে বিয়ে করেন।  যদিও তিনি কাশীনাথ চলচ্চিত্রে কিছু জনপ্রিয় গান গেয়েছিলেন, তবে বিয়ের পর তিনি সক্রিয়ভাবে তার সঙ্গীতজীবনে এগিয়ে যাননি।  তাদের দুটি সন্তান ছিল, একটি ছেলে জয়ন্ত এবং একটি মেয়ে রানু।  রানু ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে কিছুটা সীমিত সাফল্যের সাথে একটি সঙ্গীত কর্মজীবনও অনুসরণ করেছিলেন।  জয়ন্ত একজন বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মৌসুমী চ্যাটার্জিকে বিয়ে করেছেন।

 

হেমন্ত বারাণসীতে তার মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন।  তার পৈতৃক পরিবার জয়নগর মজিলপুর শহর থেকে উদ্ভূত হয়েছিল এবং ১৯০০-এর দশকের গোড়ার দিকে কোলকাতায় চলে আসে।  হেমন্ত বড় হন এবং নাসিরুদ্দিন স্কুলে এবং পরে ভবানীপুর এলাকার মিত্র ইনস্টিটিউশন স্কুলে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করেন যিনি পরে একজন বাঙালি কবি হয়েছিলেন।  পড়াশোনার সময় প্রখ্যাত লেখক সন্তোষ কুমার ঘোষের সঙ্গেও তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
হেমন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা করার জন্য যাদবপুরে (বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে যোগ দেন।  যাইহোক, তিনি তার বাবার আপত্তি সত্ত্বেও স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে এবং সঙ্গীতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য শিক্ষা ত্যাগ করেন।  তিনি সাহিত্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং একটি বাংলা ম্যাগাজিন দেশ-এ একটি ছোট গল্প প্রকাশ করেন, তবে ১৯৩০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি সঙ্গীতের দিকে মনোনিবেশ করেন।

 

১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি, হেমন্ত একজন বিশিষ্ট গায়ক এবং সুরকার হিসেবে তার অবস্থানকে সুসংহত করেছিলেন।  বাংলায়, তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা এবং সম্ভবত সবচেয়ে বেশি চাওয়া-পাওয়া পুরুষ গায়ক।  ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত বিবৃতি দেবব্রত বিশ্বাসকে সম্মান জানাতে হেমন্ত মুখার্জি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে, দেবব্রত বিশ্বাস নিঃসংকোচে হেমন্তকে “দ্বিতীয় নায়ক” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য তিনি হেমন্তকে প্রথম লেগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।  পঙ্কজ কুমার মল্লিক।  মুম্বাইতে, প্লেব্যাক গানের পাশাপাশি, হেমন্ত সুরকার হিসেবে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছিলেন।  তিনি নাগিন (১৯৫৪) নামে একটি হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেছিলেন যা মূলত এর সঙ্গীতের কারণে একটি বড় সাফল্য লাভ করে।  নাগিন-এর গান দুই বছর ধরে একটানা চার্ট-টপার হিসেবে রয়ে গেছে এবং ১৯৫৫ সালে হেমন্ত মর্যাদাপূর্ণ ফিল্মফেয়ার সেরা সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার লাভ করে। একই বছর, তিনি একটি বাংলা সিনেমা শাপ মোচন এর জন্য সঙ্গীত করেছেন যাতে তিনি বাংলার জন্য চারটি গান গেয়েছিলেন।  অভিনেতা উত্তম কুমার।  এটি একটি প্লেব্যাক গায়ক-অভিনেতা জুটি হিসাবে হেমন্ত এবং উত্তমের মধ্যে দীর্ঘ অংশীদারিত্ব শুরু করে।  পরবর্তী দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা জুটি ছিলেন তারা।
১৯৫০ এর দশকের শেষভাগে, হেমন্ত সঙ্গীত রচনা করেন এবং বেশ কয়েকটি বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন, বেশ কয়েকটি রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং বাংলা অ-চলচ্চিত্র গান রেকর্ড করেন।  এগুলোর প্রায় সবগুলোই বিশেষ করে তার বাংলা গানগুলো খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।  এই সময়টিকে তার ক্যারিয়ারের শীর্ষস্থান হিসাবে দেখা যেতে পারে এবং প্রায় এক দশক ধরে চলেছিল।  সলিল চৌধুরী এবং লতা মঙ্গেশকর হেমন্তকে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বলে উল্লেখ করেছেন।  তিনি নচিকেতা ঘোষ, রবিন চ্যাটার্জি এবং সলিল চৌধুরীর মতো বাংলার প্রধান সঙ্গীত পরিচালকদের দ্বারা সুর করা গান গেয়েছেন।  এই সময়ের মধ্যে হেমন্ত নিজেই যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেছিলেন তার মধ্যে রয়েছে হারানো সুর, মরুতীর্থ হিংলাজ, নীল আকাশের নিচে, লুকোচুরি, স্বরলিপি, দীপ জুয়েলে জাই, শেশ পারজান্তা, কুহক, দুই ভাই, এবং বাংলা, তি ও এবং সপ্তপদীতে।  হিন্দিতে রাস্তা।

 

 

পুরস্কার—-

 

১৯৭০:পদ্মশ্রী(অস্বীকৃতি)

১৯৮৭:পদ্মভূষণ(অস্বীকৃতি)

১৯৫৬: ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড: নাগিন

১৯৭১: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: নিমন্ত্রণ

১৯৮৬: ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার: লালন ফকির

১৯৬২: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড স্বরলিপি – বিজয়ী

১৯৬৩: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড (হিন্দি); বিস সাল বাদ – বিজয়ী

১৯৬৪: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পলাতক – বিজয়ী

১৯৬৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড মণিহার – বিজয়ী

১৯৬৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড বালিকা বধূ – বিজয়ী

১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী – বিজয়ী

১৯৮৬: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড ভালোবাসা ভালোবসা – বিজয়ী

১৯৮৭: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড পথভোলা – বিজয়ী

১৯৮৮: বিএফজেএ বেস্ট মিউজিক ডাইরেক্টর অ্যাওয়ার্ড আগমন – বিজয়ী

১৯৭২: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ধন্যি মেয়ে – বিজয়ী

১৯৭৫: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড ফুলেশ্বরী – বিজয়ী

১৯৭৬: বিএফজেএ বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড প্রিয় বান্ধবী – বিজয়ী

১৯৮৫: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সাম্মানিক ডি.লিট

১৯৮৬: সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার

১৯৮৯: মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার

১৯৭১: প্রথম ভারতীয় গায়ক হিসেবে হলিউডের সিনেমায় নেপথ্য কন্ঠ দান ও আমেরিকা সরকার কর্তৃক বাল্টিমোর এর নাগরিকত্ব লাভ

২০১২: বাংলাদেশের স্বাধীনতা মৈত্রী পুরস্কার (মরণোত্তর) ।

 

২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯, হেমন্ত ঢাকায় একটি কনসার্ট থেকে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।  হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান।  তার পুত্রবধূ মৌসুমী চ্যাটার্জির মতে, তার শেষ কথা ছিল “কি কষ্ট, কি কষ্ট” (‘এমন ব্যথা, এমন ব্যথা’)।
হেমন্তের উত্তরাধিকার এখনও বেঁচে আছে তিনি তার জীবদ্দশায় যে গানগুলি রেকর্ড করেছেন, সেইসাথে তিনি সুর করেছেন সঙ্গীতের মাধ্যমে।  তার গানের বাণিজ্যিক কার্যকারিতার কারণে, গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া (বা সারেগামা) এখনও প্রতি বছর তার অন্তত একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে, তার পুরোনো গানগুলিকে পুনরায় প্যাকেজ করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

 ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভূক্ত দেশগুলো ইউরোপীয়ান ভাষা দিবস পালন করে।

ইউরোপীয় ভাষা দিবস ২৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয় , যেমনটি ৬ ডিসেম্বর ২০১ তারিখে ইউরোপীয় কাউন্সিল অফ ল্যাংগুয়েজেস (২০০১) এর শেষে ঘোষণা করেছিল , যা ইউরোপের কাউন্সিল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে আয়োজিত হয়েছিল । এর লক্ষ্য সমগ্র ইউরোপ জুড়ে ভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করা ।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৭৪ – জনি আপেলসীড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রোল মডেল পরিবেশবিদ।

জনি আপেলসিড (জন চ্যাপম্যান; ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৭৭৪ – মার্চ ১৮, ১৮৪৫) ছিলেন একজন আমেরিকান অগ্রগামী নার্সারিম্যান, যিনি পেনসিলভানিয়া, ওহিও, ইন্ডিয়ানা, ইলিনয় এবং বর্তমান অন্টারিওর পাশাপাশি উত্তরের কাউন্টির বিশাল অংশে আপেল গাছ চালু করেছিলেন।  বর্তমান পশ্চিম ভার্জিনিয়ার।  তিনি জীবিত অবস্থায় একজন আমেরিকান কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন, তার সদয়, উদার উপায়, সংরক্ষণে তার নেতৃত্ব এবং আপেলকে তিনি যে প্রতীকী গুরুত্ব দিয়েছিলেন তার জন্য।  এছাড়াও তিনি দ্য নিউ চার্চ (সুইডেনবর্জিয়ান) এর একজন মিশনারি এবং ওহাইওর আরবানাতে জনি অ্যাপেলসিড মিউজিয়ামের মতো অনেক জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক স্থানের অনুপ্রেরণা ছিলেন।

১৮২০ – (১২ আশ্বিন,১২২৭ বঙ্গাব্দ)ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার।

ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় (২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ – ২৯ জুলাই ১৮৯১), ছিলেন উনিশ শতকের একজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক।  বাংলা গদ্যকে সরলীকরণ ও আধুনিকীকরণে তাঁর প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য ছিল।  তিনি বাংলা বর্ণমালা এবং প্রকারকেও যুক্তিযুক্ত এবং সরলীকরণ করেছিলেন, যা চার্লস উইলকিন্স এবং পঞ্চানন কর্মকার ১৭৮০ সালে প্রথম (কাঠের) বাংলা টাইপ কাটার পর থেকে অপরিবর্তিত ছিল।

 

১৮৭৭ – এডমুন্ড গোয়েন, ইংরেজ অভিনেতা।

এডমন্ড গোয়েন (জন্ম এডমন্ড জন কেলাওয়ে; ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮৭৭ – ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯) একজন ইংরেজ অভিনেতা ছিলেন।  ফিল্মে, ক্রিসমাস ফিল্ম মিরাকল অন 34th Street (১৯৪৭)-এ ক্রিস ক্রিংলের ভূমিকার জন্য তাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয়, যার জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কার এবং সংশ্লিষ্ট গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জিতেছিলেন।  তিনি কমেডি ফিল্ম মিস্টার ৮৮০ (১৯৫০) এর জন্য দ্বিতীয় গোল্ডেন গ্লোব এবং আরেকটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।  আলফ্রেড হিচকক পরিচালিত চারটি ছবিতে তার অভিনয়ের জন্যও তাকে স্মরণ করা হয়।

 

১৮৮৮ – টি এস এলিয়ট, ইংরেজ কবি ও সাহিত্যিক।

১৮৮৯ – মার্টিন হাইডেগার, জার্মান দার্শনিক।

 

১৯০৩ – বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার, সঙ্গীতকার,গল্পকার,ঔপন্যাসিক ও অভিনেতা হীরেন বসু।

হীরেন বসু বা হীরেন্দ্রনাথ বসু (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ – ১৮ জুন ১৯৮৭) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, সংগীতশিল্পী, সংগীতরচয়িতা, সুরকার, লেখক ও ঔপন্যাসিক। সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে হীরেন বসু আর সাহিত্য জগতে অর্থাৎ বইয়ের প্রচ্ছদে তিনি হীরেন্দ্রনাথ বসু নামে পরিচিত। ভারতীয় তথা বাংলা চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীতের প্রবর্তক তিনি এবং প্রথম কণ্ঠদান তার নিজের।

 

১৯১০ – পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা কংসারী হালদার।

 

১৯২৩ – দেব আনন্দ, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক।

দেব আনন্দ (জন্ম ধর্মদেব পিশোরিমল আনন্দ; ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২৩ – ৩ ডিসেম্বর ২০১১) ছিলেন একজন ভারতীয় অভিনেতা, লেখক, পরিচালক এবং প্রযোজক যিনি হিন্দি সিনেমায় তার কাজের জন্য পরিচিত।  আনন্দকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সফল অভিনেতাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্যারিয়ারের মাধ্যমে তিনি ১০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন।  আনন্দ চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের প্রাপক, যার মধ্যে দুটি সেরা অভিনেতার জন্য রয়েছে।  ভারত সরকার তাকে ২০০১ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ এবং ২০০২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে।

 

১৯২৬ – আবদুর রহমান বিশ্বাস, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

 

১৯৩২ – মনমোহন সিং, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও ১৪শ প্রধানমন্ত্রী।

মনমোহন সিং (জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩২) ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রাক্তন এবং চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রী। ইনিই প্রথম শিখ ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী। পেশায় শ্রী সিং একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ভারতের যোজনা কমিশনের সহ অধ্যক্ষ এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের অর্থ মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বর্তমানে চতুর্থ বারের জন্য আসাম থেকে একজন রাজ্যসভা সদস্য হিসাবেও মনোনীত হন।

 

১৯৩৬ – উইনি ম্যান্ডেলা, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী নেত্রী ও জাতীয় কংগ্রেসের মহিলা শাখার প্রধান।

উইনি মাডিকিজেলা-ম্যান্ডেলা OLS MP (জন্ম Nomzamo Winifred Zanyiwe Madikizela; ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬ – ২ এপ্রিল ২০১৮), যিনি উইনি ম্যান্ডেলা নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী কর্মী ও রাজনীতিবিদ এবং ম্যানডেলার দ্বিতীয় স্ত্রী।  তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে এবং ২০০৯ থেকে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন উপমন্ত্রী ছিলেন। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) রাজনৈতিক দলের একজন সদস্য, তিনি  ANC-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং এর Women’s League-এর প্রধান।  মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলা তার সমর্থকদের কাছে “জাতির মা” হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

১৯৪৩ – ইয়ান চ্যাপেল, অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক।

ইয়ান মাইকেল চ্যাপেল (জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩) হলেন একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার যিনি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন।  তিনি ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং বিচ্ছিন্ন বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট সংস্থায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।  একটি ক্রিকেট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন—তার দাদা এবং ভাইও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন—চ্যাপেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং স্পিন বোলার হিসেবে খেলতে দ্বিধাগ্রস্ত শুরু করেছিলেন।  তিন নম্বরে ব্যাট করতে উন্নীত হওয়ার পর তিনি তার স্থান খুঁজে পান।  “চ্যাপেলি” নামে পরিচিত, তিনি গেমটি দেখা সেরা অধিনায়কদের একজন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।  চ্যাপেলের ভোঁতা মৌখিক পদ্ধতির কারণে বিরোধী খেলোয়াড় এবং ক্রিকেট প্রশাসকদের সাথে একের পর এক সংঘর্ষ হয়;  স্লেজিং এর ইস্যুটি প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল তার অধিনায়কত্বের সময়, এবং তিনি ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের পেশাদারিকরণের পিছনে একটি চালিকা শক্তি ছিলেন।

 

 

১৯৮১ – সেরিনা উইলিয়ামস, মার্কিন টেনিস খেলোয়াড়।

সেরেনা জামেকা উইলিয়ামস (জন্ম সেপ্টেম্বর ২৬, ১৯৮১) একজন আমেরিকান সাবেক পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়।  সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড়দের একজন হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত, তিনি নারী টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (WTA) দ্বারা ৩১৯ সপ্তাহের জন্য এককদের মধ্যে বিশ্ব নং 1 র‌্যাঙ্ক করেছিলেন, যার মধ্যে একটি যৌথ-রেকর্ড ১৮৬ টানা সপ্তাহ ছিল, এবং বছরের শেষ হিসাবে শেষ হয়েছিল  নং 1 পাঁচবার।  তিনি ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম মহিলা একক শিরোপা জিতেছেন, যা ওপেন এরাতে সবচেয়ে বেশি এবং সর্বকালের মধ্যে দ্বিতীয়।  তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একক এবং দ্বৈত উভয় ক্ষেত্রেই ক্যারিয়ারের গোল্ডেন স্ল্যাম অর্জন করেছেন।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৫৮০ – স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক তার সমুদ্র-পথে বিশ্ব-ভ্রমণ সমাপ্ত করে ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।

১৭৭৭ – ব্রিটিশ বাহিনী ফিলাডেলফিয়া ও পেনসিলভানিয়া দখল করে।

 

১৮৪১ – ব্রুনেইর সুলতান সারাওয়াকা দ্বীপ ব্রিটেনের কাছে ছেড়ে দেন।

১৮৮৭ – এমিল বার্লিনার নামে একজন জার্মান অভিবাসী আমেরিকায় প্রথম কথা বলা যন্ত্র [গ্রামোফোন] পেটেন্ট করেন।

১৯০৭ – নিউজিল্যান্ড বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে।

 

১৯৪২ – ভারতে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (সিএসআইআর) প্রতিষ্ঠিত হয়।

বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বা কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সংক্ষেপে: সিএসআইআর) হল ভারতের বৃহত্তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। যদিও প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হয়, তবুও এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এটি ইন্ডিয়ান সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ অনুসারে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে গঠিত হয়েছিল। [

 

১৯৫০ – জাতিসংঘ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে সিউ পুনর্দখল করে।

১৯৫০ – ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৫৯ – জাপানের হনসুতে দু দিনব্যাপী টাইফুনে সাড়ে চার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৬০ – সিকাগোতে প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক হয়েছিল দুজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিচার্ড নিক্সন ও জন এফ কেনেডির মধ্যে।

 

১৯৬০ – ফিদেল কাস্ত্রো ইউএসআর-এর প্রতি কিউবার সমর্থন জানান।

১৯৬২ – উত্তর ইয়েমেনের রাজতন্ত্রী ব্যবস্থাকে অকার্যকর ঘোষণা করা হয় ।

১৯৬৮ – সুইজারল্যান্ড জাতিসংঘে যোগদান করে।

১৯৭৩ – কনকর্ড বিমান রেকর্ড সময়ে কোথাও না-থেমে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৯৫ – যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী বা লাহিড়ী মহাশয় ভারতীয় যোগী ও গুরু ।

শ্যামা চরণ লাহিড়ী (৩০ সেপ্টেম্বর ১৮২৮ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮৯৫), লাহিড়ী মহাশয় নামে সর্বাধিক পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় যোগী এবং গুরু যিনি ক্রিয়া যোগ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  তিনি মহাবতার বাবাজির শিষ্য ছিলেন।  টিমোথি মিলারের আমেরিকার অল্টারনেটিভ রিলিজিয়নস বই অনুসারে, লাহিড়ী মহাশয়ের জীবনকে পরমহংস যোগানন্দের একটি যোগীর আত্মজীবনীতে বর্ণনা করা হয়েছে যে আধ্যাত্মিক অর্জনের একটি প্রদর্শন হিসাবে যা একজন গৃহকর্তা “বিশ্বে সম্পূর্ণভাবে বসবাস করে” অর্জন করতে পারেন।  লাহিড়ী মহাশয়ের মুখের একটি অংশ বিটলস-এর ১৯৬৭ অ্যালবাম সার্জেন্ট-এর কভারে চিত্রিত হয়েছে।  পিপারস লোনলি হার্টস ক্লাব ব্যান্ড।

 

১৯৫৯ – সলোমন বন্দরনায়েক, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

 

১৯৭৭ – বিশ্ব বন্দিত ভারতীয় নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিকল্পক উদয় শঙ্কর প্রয়াত হন ।

উদয় শঙ্কর(জন্ম ৮ ডিসেম্বর ১৯০০-মৃত্যু ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭)। একজন ভারতীয় নৃত্যশিল্পী, নৃত্য পরিকল্পক, অভিনেতা।তিনি ভারতীয় নৃত্যশৈলী, ভারতীয় জাতীয় নৃত্যের ইউরোপীয় থিয়েটারস সমন্বয় পদ্ধতি গ্রহণের জন্য সুপরিচিত। ভারতীয় শাস্ত্রীয় এবং উপজাতীয় নৃত্যের উপাদানগুলির সাথে সমন্বয় করেন, যা তিনি পরবর্তী কালে ভারত, ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালে জনপ্রিয় করান।। তিনি ভারতে আধুনিক নৃত্যের একজন অগ্রগামী ছিলেন।

 

১৯৮২ – প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী নীরদ মজুমদার।

 

১৯৮৯ – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়,বাংলার খ্যাতিমান কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী,সুরকার,সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক। তিনি হিন্দি সঙ্গীত জগতে হেমন্তকুমার নামে প্রসিদ্ধ।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন ১৯২০ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯), পেশাগতভাবে হেমন্ত কুমার এবং হেমন্ত মুখার্জি নামে পরিচিত, ছিলেন একজন কিংবদন্তি ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক এবং প্লেব্যাক গায়ক যিনি প্রাথমিকভাবে বাংলা এবং হিন্দি, ও র-এর মতো অন্যান্য ভাষায় গাইতেন।  , আসামীয়া, তামিল, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, কোঙ্কানি, সংস্কৃত এবং উর্দু।  তিনি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং অন্যান্য অনেক ঘরানার একজন শিল্পী ছিলেন।  তিনি সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের জন্য দুটি জাতীয় পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন এবং “ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর” নামে জনপ্রিয় ছিলেন।

 

১৯৯০ – আলবার্টো মোরাভিয়া, ইতালীর খ্যাতনামা উপন্যাসিক।

আলবার্তো মোরাভিয়া , আলবার্তো পিনচারলের ছদ্মনাম , (জন্ম নভেম্বর ২৮, ১৯০৭, রোম , ইতালি—মৃত্যু ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০, রোম), ইতালীয় সাংবাদিক, ছোটগল্প লেখক এবং ঔপন্যাসিক সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং প্রেমহীনতার কাল্পনিক চিত্রের জন্য পরিচিত যৌনতা _ তিনি ২০ শতকের ইতালীয় সাহিত্যের একটি প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন ।

 

১৯৯৬ – সমরেন্দ্র কুমার মিত্র, ভারতে প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির কম্পিউটার নির্মাতা তথা কম্পিউটরের জনক।

সমরেন্দ্র কুমার মিত্র (১৪ মার্চ ১৯১৬ – ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮) একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ ছিলেন।  তিনি ১৯৫৩-৫৪ সালে ভারতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (ISI), কলকাতা (বর্তমানে কলকাতা)-এ ভারতের প্রথম কম্পিউটার (একটি ইলেকট্রনিক অ্যানালগ কম্পিউটার) ডিজাইন, বিকাশ ও নির্মাণ করেন।  তিনি রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) পালিত ল্যাবরেটরি অফ ফিজিক্স-এ গবেষণা পদার্থবিদ হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।  ১৯৫০ সালে, তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI), কলকাতা, একটি জাতীয় গুরুত্বের ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেন যেমন অধ্যাপক, গবেষণা অধ্যাপক এবং পরিচালক।

 

২০২২ – রণেশ মৈত্র, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

রণেশ মৈত্র (৪ অক্টোবর ১৯৩৩ – ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২) একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন।  সাংবাদিকতায় তার অবদানের জন্য তিনি 2018 সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This