Categories
প্রবন্ধ

৬৩ দিন অনশনের পর মৃত্যু, ভারত মাতার বীর সন্তান ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী, যতীন্দ্র নাথ দাস।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে যতীন্দ্র নাথ দাস প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। যতীন্দ্র নাথ দাস ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

সূচনা—

 

যতীন্দ্র নাথ দাস, যতীন দাস নামেই বেশি পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং বিপ্লবী যিনি ব্রিটিশ রাজ থেকে ভারতকে স্বাধীন করতে কাজ করেছিলেন এবং হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। জেলবন্দীদের অধিকারের দাবিতে ওই বছরই ১৩ই জুলাই অনশন শুরু করেন তিনি। ৬৩ দিন অনশনের পর ১৩ই সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে লাহোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যান।।
স্বাধীনতার পর তার সম্মানে কলকাতা মেট্রোর হাজরা অঞ্চলের মেট্রো স্টেশনটির নামকরণ করা হয় যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন।

জন্ম শৈশব ও শিক্ষা—-

 

যতীন্দ্রনাথ দাস ১৯০৪ সালে কলকাতায় মানিকগঞ্জ, ঢাকা (বর্তমানে বাংলাদেশে) একটি দাস পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বঙ্কিমবিহারী দাস এবং মাতার নাম সুহাসিনী দেবী। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।  ১৯২০ সালে ভবানীপুর মিত্র ইন্সটিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কংগ্রেসের সদস্য হয়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২৮-২৯ সনে বঙ্গবাসী কলেজের ছাত্র ছিলেন।

 

বিপ্লবী জীবন—–

 

তিনি বাংলার একটি বিপ্লবী গোষ্ঠী অনুশীলন সমিতিতে যোগদান করেন এবং ১৭ বছর বয়সে ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।  কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে, দাসকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেফতার করা হয় এবং ময়মনসিংহের কারাগারে বন্দী করা হয়।  সেখানে বন্দি থাকাকালীন, তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি অশোভন আচরণের প্রতিবাদে অনশন করেন।  বিশ দিন অনশন করার পর জেল সুপার ক্ষমা চেয়ে অনশন ছেড়ে দেন।  শচীন্দ্র নাথ সান্যাল তাকে বোমা বানাতে শিখিয়েছিলেন।
১৪ জুন ১৯২৯ তারিখে, তিনি আবার বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য গ্রেফতার হন এবং সম্পূরক লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার বিচারের জন্য লাহোর কারাগারে বন্দী হন। পরবর্তী সময়ে এরা জেলের ভেতর রাজনৈতিক বন্দিদের মর্যাদার দাবীতে এবং মানবিক সুযোগ সুবিধার আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। তারা ১৩ জুলাই থেকে ভগৎসিং ও বটুকেশ্বর দত্তের সমর্থনে অনশন সংগ্রাম আরম্ভ করে। যতীন দাস ছাড়া আর কারো অনশন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ছিল না। ভাবাবেগে চালিত হয়ে অনশন সংগ্রামে যোগ দিতে নিষেধ করেছিল অন্য সাথীদের। সে বলল, রিভলবার পিস্তল নিয়ে লড়াই করাই চেয়ে অনেক বেশি কঠোর এক অনশন সংগ্রামে আমরা নামছি। অনশন সংগ্রামীকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

 

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা ও অনশন—

 

১৯২৩ সনে বিপ্লবী শচীন্দ্রনাথ সান্যাল কলকাতার ভবানিপুরে ঘাঁটি করলে তিনি এই দলে যোগ দেন। পরে দক্ষিণেশ্বরের বিপ্লবী দলের সংগেও তার যোগাযোগ হয়। ১৯২৪ সালে দক্ষিণ কলকাতায় “তরুণ সমিতি” প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই সময় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা জেলে প্রেরিত হন। জেল কর্তৃপক্ষের আচরণের প্রতিবাদে ২৩ দিন অনশন করেন। ১৯২৯ সালের ১৪ জুন লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে প্রেরিত হন। এখানে রাজবন্দিদের উপর জেল কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের জন্য অনশন শুরু করেন। এই সময় তাকে বহুবার জোর করে খাওয়াবার চেষ্টা করা হয়।দাসের অনশন ১৩ জুলাই ১৯২৯ সালে শুরু হয় এবং ৬৩ দিন স্থায়ী হয়।  জেল কর্তৃপক্ষ তাকে এবং অন্যান্য স্বাধীনতা কর্মীদের জোর করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেয়।  অবশেষে, জেল কর্তৃপক্ষ তাকে নিঃশর্ত মুক্তির সুপারিশ করে, কিন্তু সরকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ৬৩ দিন অনশনের পর তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯ তারিখে মারা যান। দুর্গাবতী দেবী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন, যা ট্রেনে লাহোর থেকে কলকাতা পর্যন্ত গিয়েছিল।  দাসকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ রেলস্টেশনে ভিড় করেন।  কলকাতায় দুই মাইল দীর্ঘ মিছিল কফিনটি শ্মশানে নিয়ে যায়।  সুভাষ চন্দ্র বসু, যিনি হাওড়া রেলস্টেশনে দাসের কফিন গ্রহণ করেছিলেন এবং শ্মশানে শবযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।  কারাগারে দাসের অনশন ছিল অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অনশন চলাকালীন শান্তিনিকেতনে তপতী নাটকের মহড়া চলছিল, এই ঘটনায় মর্মাহত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাটকের মহড়া বন্ধ রাখেন এবং সেই রাতেই রচনা করেন ‘সর্ব খর্ব তারে দহে তব ক্রোধ দাহ’ গানটি , যেটি পরে ‘তপতী’ নাটকে অন্তর্ভুক্ত হয়। এইভাবে মৃত্যুবরণ করার ফলে রাজবন্দিদের উপর অত্যাচার প্রশমিত হয়েছিলো। এই বীর শহিদের মৃতদেহ কলকাতায় আনা হলে দুই লক্ষ লোকের এক বিরাট মিছিল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে শোকযাত্রায় কেওড়াতলা শ্মশানঘাট পর্যন্ত অনুগমন করে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

পন্ডিচেরির কয়েকটি দর্শনীয় স্থান।

 

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  পন্ডিচেরি। পন্ডিচেরির এমন কিছু জায়গা রয়েছে যা ভ্রমণ পিপাসু মানুষ দের আকৃষ্ট করবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সকল জায়গা গুলি সম্পর্কে কিছু কথা—

 

পন্ডিচেরি স্থাপত্য এবং সংস্কৃতির অনন্য শৈলী সহ একটি সুন্দর জায়গা।  শহরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসিদের কাছ থেকে ১৯৬৪ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।  কিন্তু আপনি এখনও এখানে ফরাসি সংস্কৃতির অবশিষ্টাংশ দেখতে পারেন।  পুরানো বোগেনভিলিয়া-ড্রাপ করা ফ্রেঞ্চ-স্টাইলের বাড়ি, গীর্জা, এবং কিছু সদ্য নির্মিত ফ্রেঞ্চ-স্টাইলের দোকান এবং উজ্জ্বল রঙের ক্যাফেগুলি পন্ডিচেরিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।  পন্ডিচেরিতে থাকার সময় আপনার যে সেরা জায়গাগুলি দেখতে হবে তা এখানে রয়েছে-

 

 

অরোভিল——

 

অরোভিল, ভোরের শহর, শ্রী অরবিন্দের আধ্যাত্মিক সহযোগী মীরা আলফাসা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ভবিষ্যৎ জনপদ।  এই আশ্রমটি কোন পক্ষপাত ছাড়াই সকল স্তরের মানুষকে একত্রিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছিল।  অরোভিলের কেন্দ্রে বিশাল গোল্ডেন গ্লোবের মতো কাঠামো।  মাতৃমন্দির, ধ্যানের জায়গা।  এই আশ্রমটি তৈরি করার সময়, ১২৪টি দেশ থেকে মাটি আনা হয়েছিল এবং মিশ্রিত করা হয়েছিল এবং একটি কলসে রাখা হয়েছিল যা এখন ধ্যান কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে।

 

শ্রী অরবিন্দ আশ্রম—-

 

রুয়ে দে লা মেরিনে অবস্থিত শ্রী অরবিন্দ আশ্রম ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশ্রম।  এটি বিখ্যাত আধ্যাত্মিক দার্শনিক ঋষি শ্রী অরবিন্দ ১৯২৬ সালে একটি বড় আধ্যাত্মিক উপলব্ধির পরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  আশ্রমে সুন্দর লাইব্রেরি আছে, এবং মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করে।  এই স্থানটি আধ্যাত্মিক প্রবণতা সহ লোকেদের জন্য একটি দর্শনীয় স্থান।

 

যীশুর পবিত্র হৃদয়ের ব্যাসিলিকা—

 

ব্যাসিলিকা খ্রিস্টানদের জন্য বিখ্যাত তীর্থস্থানগুলির মধ্যে একটি।  এটি একটি সুন্দর গির্জা যা এর মার্জিত গথিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত।  এটিতে ২৮ জন সাধুর কাঁচের ছবি এবং আরও অনেক কাচের প্যানেল রয়েছে যা যিশু খ্রিস্টের জীবন দেখায়।  এটি পন্ডিচেরির একটি বড় পর্যটন আকর্ষণ।

 

ফরাসি যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ—

 

গউবার্ট অ্যাভিনিউতে অবস্থিত, এই যুদ্ধ স্মৃতিসৌধটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া ফরাসি ভারতীয়দের জন্য উৎসর্গ করা হয়।  অনেক পর্যটক এই সাইটটি পরিদর্শন করেন এবং প্রতি ১৪ জুলাই বাস্তিল দিবস (ফরাসি জাতীয় দিবস) উপলক্ষে স্মৃতিসৌধটি আলো দিয়ে সজ্জিত করা হয় এবং স্থানীয়রা এবং পর্যটকরা তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এখানে জড়ো হয়।

 

প্যারাডাইস সৈকত—

 

 

একটি উপকূলীয় শহর হওয়ায়, পন্ডিচেরিতে প্রচুর সমুদ্র সৈকত রয়েছে যা দেখার মতো।  সেখানে ভ্রমণের জন্য সেরা সমুদ্র সৈকত হল প্যারাডাইস বিচ।  এটি একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ জায়গা, চুননাম্বারে কুড্ডালোর রাস্তার পাশে অবস্থিত।  এটি ঘন ম্যানগ্রোভ বন দ্বারা বেষ্টিত, যা ব্যাক ওয়াটারকে সবুজ দেখায়।  পন্ডিচেরিতে সপ্তাহান্তে ছুটি কাটাতে এটি একটি নিখুঁত গন্তব্য।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

আজ বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস।  প্রতি বছর, ১২ই সেপ্টেম্বরকে মাইন্ডফুলনেস ডে হিসেবে পালন করা হয়, যাতে মননশীলতার অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ মূল্য এবং উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।মাইন্ডফুলনেস ডে হল একটি উদীয়মান বার্ষিক ইভেন্ট, যা ১২ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হয়, যেদিন মননশীলতার গভীর মূল্য এবং উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মশালা এবং মেডিটেশন গ্রুপগুলি অনুষ্ঠিত হয়।  ২০১১ সালে, মাইন্ডফুলনেস ডে উইজডম পাবলিকেশন্স দ্বারা ১২ সেপ্টেম্বর হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল।

 

মাইন্ডফুলনেস ডে তৈরি করা হয়েছিল মননশীলতার মূল্য এবং সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এটিকে প্রশিক্ষণের উপায় সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করতে।  এই দিনে, লোকেদের মননশীলতা উপভোগ করার এবং এটিকে তাদের জীবনে সংহত করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য ধ্যান গ্রুপ এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মনোযোগের গুরুত্ব ও এর প্রতি মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইজডম পাবলিকেশন্সের উদ্যোগে পালন করা হয় দিবসটি। বিভিন্ন দেশে মানুষ ওয়ার্কশপ, সেমিনার, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। মাইন্ডফুল ডট ওআরজি ওয়েবসাইটে দিবসটি উদযাপনের কিছু বিষয় তুলে ধরেছে। এর মধ্যে মেডিটেশন বা যোগব্যায়ামের কথা রয়েছে সর্বাগ্রে। এ ছাড়া একসঙ্গে চা খাওয়া, হাঁটা, ব্যায়াম করা ইত্যাদির কথাও বলা হয়েছে।এর সহজ স্তরে, মননশীল হওয়া হল উদ্দেশ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া।  সচেতন হতে হবে, শ্বাস, স্থির থাকতে।

 

আসলে মাইন্ডফুলনেস হল এমন একটি ধারণা যা অনেক সুস্থতার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করে এবং সঙ্গত কারণে – আপনি যদি মননশীলভাবে জীবনযাপন করেন, তাহলে আপনি আপনার বর্তমান মানসিক, শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে সচেতন থাকেন।  এই সচেতনতা শেষ পর্যন্ত আরও উদ্দেশ্যমূলক এবং মনোযোগী জীবনের দিকে পরিচালিত করে।

 

 

দিবসটি আসলে বুদ্ধের ধ্যান অনুসরণে এসেছে। উইজডম প্রকাশনী বিশেষত বুদ্ধের ওপর লিখিত বইয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য মনোযোগের বিকল্প নেই। দিবসটি তার গুরুত্বই বোঝানোর চেষ্টা করছে।

 

মাইন্ডফুলনেস ডে তৈরি করা হয়েছিল মননশীলতার মূল্য এবং সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এটিকে প্রশিক্ষণের উপায় সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করতে।  এই দিনে, লোকেদের মননশীলতা উপভোগ করার এবং এটিকে তাদের জীবনে সংহত করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য ধ্যান গ্রুপ এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান মুসলিম নেতা।

মূহাম্মদ আলী জিন্নাহ একজন ব্যারিস্টার, রাজনীতিবিদ এবং পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনি ১৯৪৭ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত দেশের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৭৬ সালে করাচিতে একটি ধনী বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, জিন্নাহ লন্ডনের লিঙ্কনস ইনে আইন অধ্যয়ন করেন।

 

মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ছিলেন একজন গুজরাটি বংশদ্ভুত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা পর্যন্ত জিন্নাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল থাকেন। পাকিস্তানে তাকে কায়েদে আজম (মহান নেতা) ও বাবায়ে কওম (জাতির পিতা) হিসেবে সম্মান করা হয়।

 

জিন্নাহ করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন। লন্ডনের লিঙ্কনস ইন থেকে তিনি ব্যরিস্টার হন। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেন। এসময় তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে লখনৌ চুক্তির সময় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এসময় জিন্নাহ মুসলিম লীগেরও সদস্য ছিলেন। হোম রুল আন্দোলন সংগঠনে জিন্নাহ অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠেন। মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য তিনি চৌদ্দ দফা সাংবিধানিক সংস্কার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহে অংশ নিলে ১৯২০ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন।

 

১৯৪০ সালের মধ্যে, জিন্নাহ বিশ্বাস করেছিলেন যে উপমহাদেশের মুসলমানদের একটি স্বাধীন হিন্দু-মুসলিম রাষ্ট্রে সম্ভাব্য প্রান্তিক অবস্থা এড়াতে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা উচিত।  জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক জাতির দাবিতে লাহোর প্রস্তাব পাস করে।

একই বছরে লাহোর প্রস্তাব পাশ হয়। এতে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তোলা হয়।

 

জিন্নাহ মূলত পাকিস্তানের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহজনক ছিলেন, এমন একটি ধারণা যা কবি ও দার্শনিক স্যার মুহম্মদ ইকবাল ১৯৩০ সালের মুসলিম লীগের সম্মেলনে উত্থাপন করেছিলেন, কিন্তু অনেক আগেই তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ভারতীয় উপমহাদেশে একটি মুসলিম স্বদেশই একমাত্র পথ।  মুসলিম স্বার্থ এবং মুসলিম জীবনধারা রক্ষা করা।  এটা ধর্মীয় নিপীড়ন ছিল না যে তিনি হিন্দু সামাজিক সংগঠনের ঘনিষ্ঠ কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতা অর্পিত হওয়ার সাথে সাথে ভারতের অভ্যন্তরে অগ্রগতির সমস্ত সম্ভাবনা থেকে মুসলমানদের ভবিষ্যত বাদ দেওয়ার মতো ভয় পেয়েছিলেন।  সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, তিনি তার সহধর্মবাদীদের তাদের অবস্থানের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য দেশব্যাপী প্রচার চালান এবং তিনি মুসলিম লীগকে মুসলিমদের একটি জাতিতে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
সেই সময়ে, জিন্নাহ একটি পুনর্জাগরিত মুসলিম জাতির নেতা হিসাবে আবির্ভূত হন।  ঘটনা দ্রুত এগোতে থাকে।  ২২-২৩ মার্চ, ১৯৪০ সালে, লাহোরে, লীগ একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র, পাকিস্তান গঠনের জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।  পাকিস্তান ধারণাটি প্রথমে উপহাস করেছিল এবং তারপর কংগ্রেস পার্টি কঠোরভাবে বিরোধিতা করেছিল।  কিন্তু এটি মুসলমানদের কল্পনাকে ধারণ করে।  গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরু সহ অনেক প্রভাবশালী হিন্দু জিন্নাহর বিরুদ্ধে ছিলেন।  এবং ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখার জন্য অভিপ্রেত বলে মনে হয়েছিল।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, কংগ্রেসের নেতাদের বন্দী করার সময় লীগ শক্তি অর্জন করে এবং যুদ্ধের কিছু পরেই অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনে, এটি মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত বেশিরভাগ আসন জিতেছিল।  শেষ পর্যন্ত, কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ এমন একটি ক্ষমতা ভাগাভাগি সূত্রে পৌঁছাতে পারেনি যা স্বাধীনতার পর সমগ্র ব্রিটিশ ভারতকে একক রাষ্ট্র হিসেবে একত্রিত করার অনুমতি দেবে, যা প্রধানত হিন্দু ভারতের স্বাধীনতার পরিবর্তে সমস্ত দলকে একমত হতে পরিচালিত করবে, এবং  পাকিস্তানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের জন্য।  শেষপর্যন্ত কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ঐক্যবদ্ধ ভারতের ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌছতে ব্যর্থ হলে দেশ বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়।কিন্তু জিন্নাহ তার আন্দোলনকে এমন দক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস পার্টি এবং ব্রিটিশ সরকার উভয়ের কাছেই ভারত বিভাজনে সম্মত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।  এভাবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

 

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশ হয়ে ওঠে যেখানে ভারত একদিন পরে স্বাধীনতা লাভ করে।  উপমহাদেশের মুসলমানদের একটি পৃথক জাতি প্রয়োজন কারণ হিন্দু-অধ্যুষিত ভারতে তাদের আকাঙ্ক্ষা চুরমার হয়ে যাবে এই ধারণাটি প্রথম দ্বি-জাতি তত্ত্বে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।

জিন্নাহ নতুন রাষ্ট্রের প্রথম প্রধান হন।  পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে জিন্নাহ নতুন রাষ্ট্রের সরকার ও নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। এছাড়া ভারত থেকে আসা লক্ষাধিক অভিবাসীর পুনর্বাসনের জন্যও তাকে কাজ করতে হয়। উদ্বাস্তু শিবির স্থাপনের কাজ তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারক করেন। একটি তরুণ দেশের গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়ে, তিনি কর্তৃত্বের সাথে পাকিস্তানের সমস্যাগুলি মোকাবেলা করেছিলেন।  তাকে নিছক গভর্নর-জেনারেল হিসেবে গণ্য করা হতো না।  তিনি জাতির পিতা হিসেবে সম্মানিত ছিলেন।  বয়স এবং রোগের দ্বারা কাবু না হওয়া পর্যন্ত তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে জিন্নাহ জন্মস্থান করাচিতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

জানুন, ভগবান যখন ভক্তের সেবা করলো তখন কি হলো : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

শ্রীকৃষ্ণদাস সোণার নামক এক কৃষ্ণভক্ত ছিলেন । তিনি অত্যন্ত সেবাপরায়ণ ছিলেন।  সারা দিনের সমস্ত কর্ম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিবেদিত ছিল তাঁর। সকল কাজের মধ্যেই তিনি এমন মনোভাব রাখতেন যে, এই কর্ম তো শ্রীকৃষ্ণের জন্য করা ! এ কাজ করলে আমার শ্রীকৃষ্ণের এ জাতীয় সেবা হবে। আর তাতে আমার প্রাণগোবিন্দ অত্যন্ত প্রীত হবেন, সুখী হবেন ।—–  ঠিক যেমন ব্রজগোপিনীদের কথা আমরা জানি , তেমন । একটা উদাহরণ দেই। যেমন,  —গোপিনীরা নিজেদেরকে খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখতেন সবসময়।  তাঁরা ভাবতেন আমি যদি সুন্দর করে সেজে থাকি আর আমাকে সুন্দর লাগে দেখতে তবে শ্রীকৃষ্ণ আমায় দেখে খুব আনন্দ পাবেন। অর্থাৎ নিজেদের আনন্দের জন্য নয়। বা নিজে সুন্দরী হব এই ভাব তাদের থাকতোই না । বরং শ্রীকৃষ্ণকে সুখ দেবার জন্য ব্রজগোপিনীরা পরিপাটী করে সেজে থাকতেন। তাঁদের প্রতিটি কাজেই এ জাতীয় বোধ কাজ করতো । আবার যেমন বলা যায়,  রামায়ণের সেই বৃদ্ধা শবরী মায়ের কথা । দক্ষিণ ভারতের সেই বৃদ্ধাকে তাঁর গুরুদেব মাতঙ্গ বলেছিলেন , একদিন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র রূপে তোমার কাছে সাক্ষাৎ দর্শন দিতে তোমার কুটীরে আসবেন। শবরী এতটাই ভালোবাসতেন রামচন্দ্রকে যে, রামচন্দ্র যাতে কুল খেয়ে আনন্দ পান তাই তিনি বনের কুলগাছ থেকে রামচন্দ্রের জন্য সংগ্রহ করা প্রতিটি কুল নিজে আগে একটু খেয়ে দেখতেন । মিষ্টি হলে তবেই তা তাঁর প্রভু রামচন্দ্রের সেবার জন্য রাখতেন। এভাবে তিনি বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন রামচন্দ্রের আগমনের জন্য । গুরুর কথা সত্য হয়েছিল । বাস্তবিক একদিন রামচন্দ্র হাজির হয়েছিলেন বনের মধ্যে বৃদ্ধা শবরী মায়ের কুটীরে । অতএব , নিজে খেয়ে দেখব বলে বা নিজের জিহ্বাকে আস্বাদন-আনন্দ দিতে , শবরী মে কুলগুলো খেয়ে রাখতেন তা নয় । রামচন্দ্রকে আনন্দ দেবেন বলে বাছাই করে কুল নিজে খেয়ে আগে দেখে নিতেন।  কৃষ্ণদাস সোণারও এমনই ছিলেন । তিনি যে অর্থ উপার্জন করতেন , ভাবতেন তা সব গোবিন্দের। আমার তো কিছু নয় । অর্থ দ্বারা গোবিন্দের সেবা করবো। এ সংসার তো তাঁর । এভাবে গঙ্গার স্রোত যেমন অবিচ্ছিন্নভাবে নিরবধি বয়ে যায় তেমন করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কৃষ্ণদাস প্রতিটি কাজ কৃষ্ণকে স্মরণ করে , কৃষ্ণের প্রীত্যর্থে করতেন।
একদিনের ঘটনা ।  কৃষ্ণদাস ভাবে বিভোর হয়ে মুখে গীত গাইছেন আর নৃত্য করছেন তাঁর ইষ্ট কৃষ্ণবিগ্রহের সামনে। মনের ভাবখানা এমন যে—- আমার নৃত্য দেখে, সংগীত শুনে আমার প্রাণনাথ, প্রাণারাম শ্রীশ্যামসুন্দর অত্যন্ত আনন্দ পাচ্ছেন তো ! আর তাই আরও দরদ ভরে গীত গাইছেন ,  আরও সুন্দর করে নৃত্যটি করার চেষ্টা করছেন তিনি ।‌ এমন সময় হলো কি চরণের নূপুরখানি খুলে পড়ে গেল তালঠোকার সময় ভুমিতে। কৃষ্ণদাস ভাবলেন , “ইস্ , নৃত্যরসের ব্যাঘাত ঘটলো !” অর্থাৎ,  যেভাবে নৃত্যটি হচ্ছিল সেই পর্যায় থেকে চ্যূত হল নৃত্যটি।  আর তাই তিনি নৃত্যের বিরাম দিয়ে তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে পড়লেন পুনরায় নূপুরটি চরণে পড়ে নেবেন বলে । হঠাৎ এক বালক  বলে বসলো,  “দাঁড়াও , দাঁড়াও। তোমায় কষ্ট করতে হবে না। আমি পড়িয়ে দিচ্ছি। তুমি যে ভঙ্গীমায় ছিলে সেই ভঙ্গীমাতেই স্থির হয়ে দাঁড়াও।” বলতে বলতেই অপূর্ব দর্শন  বালকটি নূপুরটি চোখের নিমেষে কুড়িয়ে নিয়ে কৃষ্ণদাসের চরণে পড়িয়ে দিল। বালকের তৎপরতা দেখে কৃষ্ণদাসের ভারী ভালো লাগলো ;  বলে বসলেন, “কে গো বাছা ? কে তুমি? নাম কি তোমার ? দেখিনি তো আগে । এখানে কোথায় থাকো?” কিন্তু জিজ্ঞাসাই সার হলো। প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই বালকটি চোখের নিমেষে উধাও হয়ে গেল।  মিলিয়ে গেল  জলছবির বা মরীচিকার মতন বাতাসে। বালক নেই , অথচ চরণে নূপুর তো রয়ে গেছে। অর্থাৎ এ তো চোখের বা মনের ভ্রম নয় । বালকটি যে সত্যই এসেছিল তার প্রমাণ খুলে যাওয়া , ছিটকে পড়া নূপুরের পুনরায় চরণে উঠে আসা। তবে কে সে বালক ? কে প্রভু ? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহের দিকে তাকাতেই যেন সব উত্তর ঠোঁটে নিয়ে হাসির মধ্য দিয়ে জানিয়ে দিলেন শ্রীকৃষ্ণ— তিনিই তো সে-ই । কৃষ্ণদাস যখন বুঝলেন বালকবেশে এসে আসলে শ্রীকৃষ্ণই তাঁকে চরণের নূপুরটি পরিয়ে দিয়ে গেছেন,   তখন চোখের জল  যেন আর তাঁর বাঁধ মানে না । বক্ষ ভেসে গেল আনন্দে আবেগে। “আমার জীবন ধন্য আজ তোমার দর্শন পেয়ে প্রভু । আমি ধন্য সত্যই। আমি এ আনন্দ কাকে বোঝাবো !”— এসব বলে কৃষ্ণদাস আবেগে আপ্লুত হচ্ছেন।
কিন্তু পরক্ষণেই কৃষ্ণদাস সোণারের বড় রাগ হলো শ্রীকৃষ্ণের উপর। “এলে তো এলে,  শেষে আমার পায়ে হাত দিলে ! ছিঃ, ছিঃ।  ধিক্ আমায় ! কেন তুমি আমার পায়ে হাত দিতে গেলে বলতো, প্রভু ? কে বলেছিল, তোমায় নূপুরটা পরিয়ে দিতে ?  আমি কি নূপুরটা নিজে নিয়ে পড়তে পারতাম না ! আমার পায়ে হাত দিয়ে এভাবে আমাকে অপরাধী করলে ! দোষী বানালে ! এখন তো আমার ইচ্ছে করছে এই পা-টাকেই কেটে বাদ দিয়ে দেই।……..” —এভাবে কত না অনুযোগ করলেন সাধু কৃষ্ণদাস স্নেহাবেশে তাঁর শ্রীকৃষ্ণকে । কত না  প্রণয়কলহ চললো। কত না  ধিক্কার দিলেন । “ভৃত্যের চরণে নুপুর পড়াতে গেলে  প্রভু হয়ে ? ছিঃ, ছিঃ !  তোমার কি লজ্জাও করলো না একবারের জন্য !……” ইত্যাদি , ইত্যাদি বলেই চলেছেন কৃষ্ণদাস।
আজ শ্রীকৃষ্ণ সত্যিই বড় আনন্দ পেয়েছেন। একে তো  নিজের প্রিয় ভক্তের চরণে নূপুর পরিয়ে দিয়ে সেবা করেছেন ভক্তের।  আর তার উপর রোজ আদর খান,  আজ এত তিরস্কার পাচ্ছেন সেই ভক্তের থেকে ‌ । ভক্তের প্রণয়ভরা তিরস্কার যে তাঁর কাছে বেদ-স্তুতি মন্ত্রের চেয়েও অনেক বেশি প্রিয় ! অনেক বেশি আনন্দদায়ক ! তাঁর ঠোঁটের কোণের হাসি তাই থামছেই না যেন আজ….।

—-ভক্তকৃপাভিখারিণী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও দেহ মন্দির : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।
—————————————–
***সর্বোত্তম জীবন হল সেই জীবন যা অন্যের দ্বারা কিছুই না করে সুখে যাপন করা হয় l’এই চলমান জীবনে কেউ না আছে আমাদের  থেকে  এগিয়ে না কেউ  পিছিয়ে ৷ এখানে কেউ  বেশী উন্নত নই ৷ আবার কেউ নই অকাট মূর্খ ৷ জীবন একবারে আমাদের  সঠিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে ৷ সেই জায়গায় কোথাও আমরা শিক্ষক আবার কোথাও ছাত্র ৷ জীবন আসলে সেটা নয় যা তুমি পেয়েছো , জীবন তো সেটাই,যা তুমি তোমার মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে তৈরি করেছো l
কেউই আসলে খারাপ হয় না জানো, খারাপ হয় শুধু সময়টা । আর সেই খারাপ সময়টা অনেকটা উড়ো মেঘের মতো । তাই মেঘ কেটে গেলেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। সূর্য ওঠে। ফুল ফোটে । পাখিরা ওড়ে মুক্ত আকাশে । জীবন ও তাই, জীবন একটা সফর !
মানুষ কখনোই ব্যর্থ হয় না, হয়তো সে সফল হয় নয়তো সে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ।জীবন একটি বই
কিছু অধ্যায় দুঃখজনক। কিছু খুশি, এবং কিছু উত্তেজনাপূর্ণ৷ কিন্তু আপনি যদি পৃষ্ঠাটি না উল্টান তবে আপনি কখনই জানতে পারবেন না যে পরবর্তী অধ্যায়টি কী রয়েছে৷

মৃগনাভির গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মৃগ সারা জঙ্গলের দূর দীগন্ত ছুটে ছুটে একসময় ক্লান্ত হয়ে নিজের এলাকায় ফিরে আসে।ক্লান্ত বিষন্ন শরীরে বিশ্রাম নিতে তার চেনা মাটিতে বসে পড়ে ।তারপর যখন নিজের মুখ জিভ  দিয়ে গা পরিষ্কার করতে থাকে, একদা বুঝতে পারে যে, এতদিন ধরে সে যে মনমাতানো পাগল করা সুবাসের উৎস খুঁজতে  সারা বন-জঙ্গল তন্য তন্য করে পাড়ি দিয়েছে, তার উৎস দূর দূরন্তে নেই । যে গন্ধ সে খুঁজে বেড়িয়েছে এতদিন, তা তার নিজের নাভি থেকেই নির্গত হচ্ছে। ঐ গন্ধ প্রাণ ভরে শুঁকতে শুঁকতে পরম শান্তিতে সে ঘুমাতে থাকে । আর অকারণ ছুটতে হয়না তাকে ।

সাধনের জন্য নিজের পরিসরেই সব মন্দির পীঠ অবস্থান করে। যারা সত্যিকার সাধন ভজনে লিপ্ত তারা সাধ্যাতীত তীর্থ ভ্রমনে লিপ্ত হন না।পকেটের টাকা দিয়ে ভগবান বা ঈশ্বর  কাউকেই কেনা যায় না। নিজের পরিসরে বিরাজ করেই তাঁকে ডাকার মত ডাকতে পারলেই সব তীর্থ একাকার হয় নিজের মধ্যেই ।
যেমন নেপালের দেবদেবী কেবল নেপালে বন্দী নয়।ভারতের দেবদেবী কেবল ভারতে বন্দী নয়। তিনি ঈশ্বর,  তাই তিনি প্রতি অনুতেই বিরাজমান।
“তোরে ডাকার মতো ডাকতে যদি পারি, আসবি নি তোর এমন সাধ্য নেই। আমি মন্ত্র-তন্ত্র কিছুই জানিনে মা ।।”
অহংকার বর্জন করে তাঁকে ভালোবাসা দিয়ে ডাকলেই তিনি তুষ্ট ।***
ॐ গুরু কৃপাহি কেবলম….!

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস (WSPD) ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সাথে মিলিত হয়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক সমিতি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বরের লক্ষ্য এই বিষয়ের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা, কলঙ্ক কমানো এবং সংগঠন, সরকার এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, একটি একক বার্তা দেয় যে আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য।

 

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস (WSPD) হল একটি সচেতনতা দিবস যা সর্বদা প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পালন করা হয়, আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি এবং পদক্ষেপ প্রদানের জন্য, ২০০৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কার্যক্রম। আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা (IASP) সহযোগিতা করে।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং World Federation for Mental Health (WFMH)-এর সাথে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের আয়োজন করা।  ২০১১ সালে আনুমানিক ৪০ টি দেশ এই উপলক্ষে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।  ২০১৪ সালে প্রকাশিত WHO-এর মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাটলাস অনুসারে, কোনো নিম্ন-আয়ের দেশে জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধের কৌশল নেই, যেখানে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলির ১০%-এরও কম এবং উচ্চ-মধ্যম ও উচ্চ-আয়ের দেশগুলির প্রায় এক তৃতীয়াংশ ছিল৷

 

১০ সেপ্টেম্বর দুনিয়াজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। গোটা দুনিয়াজুড়ে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই পালিত হয় দিনটি। ২০২২ সালের বিশ্ব আত্মহত্যা বিরোধী দিবসের স্লোগান ‘কাজের মাধ্যমে আশা তৈরি করা’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গোটা বিশ্বে ৭ লক্ষ ৩ হাজার জন মানুষ আত্মঘাতী হন। এর বাইরেও কয়েক কোটি মানুষ রয়েছেন, যাঁরা ভয়াবহ অবসাদের সঙ্গে লড়াই চালাতে চালাতে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার কথা ভাবেন।

গত বছর, অর্থাৎ, ২০২১ সালে ভারতে মোট ১ লক্ষ ৬৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। এর আগে, এক বছরে এত মানুষ আত্মহত্যা করেননি কখনও এই দেশে। NCRB রিপোর্টে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। কোভিড অতিমারির আগে দেশজুড়ে আত্মহত্যার সংখ্যা ২০২০ ও ২০২১ সালে দেশজুড়ে আত্মহত্যার সংখ্যার থেকে কম ছিল। কোভিডের ফলে বেড়েছে সামগ্রিক অবসাদ।

তবু, আত্মহত্যার থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। নিজের মানসিক স্বস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে সবসময়। দরকারে সাহায্য নিতে হবে কাউন্সেলারের। একে অপরের কাছে পৌঁচে গিয়ে, পাশে দাঁড়িয়ে, হাতে হাত ধরে গড়ে তুলতে হবে আত্মহত্যা-মুক্ত এক দুনিয়া- এমন আশার সুরও শোনা যায় এই বিশেষ দিনটিতে।

“কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করা”

আত্মহত্যা একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা যার সুদূরপ্রসারী সামাজিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক পরিণতি রয়েছে।  এটি অনুমান করা হয় যে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৭০০০০০ টিরও বেশি আত্মহত্যা হয় এবং আমরা জানি যে প্রতিটি আত্মহত্যা আরও অনেক লোককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
২০২১-২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের ত্রিবার্ষিক থিম হল “কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করা”।  এই থিমটি কর্মের জন্য একটি শক্তিশালী আহ্বান এবং অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে আত্মহত্যার একটি বিকল্প রয়েছে এবং আমাদের কর্মের মাধ্যমে আমরা আশাকে উত্সাহিত করতে পারি এবং প্রতিরোধকে শক্তিশালী করতে পারি।
কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করার মাধ্যমে, আমরা আত্মঘাতী চিন্তার সম্মুখীন হওয়া লোকেদের কাছে ইঙ্গিত দিতে পারি যে আশা আছে এবং আমরা তাদের যত্ন করি এবং তাদের সমর্থন করতে চাই।  এটি আরও পরামর্শ দেয় যে আমাদের কাজগুলি, যত বড় বা ছোট হোক না কেন, যারা সংগ্রাম করছে তাদের আশা দিতে পারে।
অবশেষে, এটি একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ একটি জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার এবং আত্মহত্যার মৃত্যুর হার হ্রাস করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।  WHO তার অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে যাতে দেশগুলিকে এই দিকে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করে।
।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও দেহ মন্দির : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।
—————————————–
***সর্বোত্তম জীবন হল সেই জীবন যা অন্যের দ্বারা কিছুই না করে সুখে যাপন করা হয় l’এই চলমান জীবনে কেউ না আছে আমাদের  থেকে  এগিয়ে না কেউ  পিছিয়ে ৷ এখানে কেউ  বেশী উন্নত নই ৷ আবার কেউ নই অকাট মূর্খ ৷ জীবন একবারে আমাদের  সঠিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে ৷ সেই জায়গায় কোথাও আমরা শিক্ষক আবার কোথাও ছাত্র ৷ জীবন আসলে সেটা নয় যা তুমি পেয়েছো , জীবন তো সেটাই,যা তুমি তোমার মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে তৈরি করেছো l
কেউই আসলে খারাপ হয় না জানো, খারাপ হয় শুধু সময়টা । আর সেই খারাপ সময়টা অনেকটা উড়ো মেঘের মতো । তাই মেঘ কেটে গেলেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। সূর্য ওঠে। ফুল ফোটে । পাখিরা ওড়ে মুক্ত আকাশে । জীবন ও তাই, জীবন একটা সফর !
মানুষ কখনোই ব্যর্থ হয় না, হয়তো সে সফল হয় নয়তো সে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ।জীবন একটি বই
কিছু অধ্যায় দুঃখজনক। কিছু খুশি, এবং কিছু উত্তেজনাপূর্ণ৷ কিন্তু আপনি যদি পৃষ্ঠাটি না উল্টান তবে আপনি কখনই জানতে পারবেন না যে পরবর্তী অধ্যায়টি কী রয়েছে৷

মৃগনাভির গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মৃগ সারা জঙ্গলের দূর দীগন্ত ছুটে ছুটে একসময় ক্লান্ত হয়ে নিজের এলাকায় ফিরে আসে।ক্লান্ত বিষন্ন শরীরে বিশ্রাম নিতে তার চেনা মাটিতে বসে পড়ে ।তারপর যখন নিজের মুখ জিভ  দিয়ে গা পরিষ্কার করতে থাকে, একদা বুঝতে পারে যে, এতদিন ধরে সে যে মনমাতানো পাগল করা সুবাসের উৎস খুঁজতে  সারা বন-জঙ্গল তন্য তন্য করে পাড়ি দিয়েছে, তার উৎস দূর দূরন্তে নেই । যে গন্ধ সে খুঁজে বেড়িয়েছে এতদিন, তা তার নিজের নাভি থেকেই নির্গত হচ্ছে। ঐ গন্ধ প্রাণ ভরে শুঁকতে শুঁকতে পরম শান্তিতে সে ঘুমাতে থাকে । আর অকারণ ছুটতে হয়না তাকে ।

সাধনের জন্য নিজের পরিসরেই সব মন্দির পীঠ অবস্থান করে। যারা সত্যিকার সাধন ভজনে লিপ্ত তারা সাধ্যাতীত তীর্থ ভ্রমনে লিপ্ত হন না।পকেটের টাকা দিয়ে ভগবান বা ঈশ্বর  কাউকেই কেনা যায় না। নিজের পরিসরে বিরাজ করেই তাঁকে ডাকার মত ডাকতে পারলেই সব তীর্থ একাকার হয় নিজের মধ্যেই ।
যেমন নেপালের দেবদেবী কেবল নেপালে বন্দী নয়।ভারতের দেবদেবী কেবল ভারতে বন্দী নয়। তিনি ঈশ্বর,  তাই তিনি প্রতি অনুতেই বিরাজমান।
“তোরে ডাকার মতো ডাকতে যদি পারি, আসবি নি তোর এমন সাধ্য নেই। আমি মন্ত্র-তন্ত্র কিছুই জানিনে মা ।।”
অহংকার বর্জন করে তাঁকে ভালোবাসা দিয়ে ডাকলেই তিনি তুষ্ট ।***
ॐ গুরু কৃপাহি কেবলম….!

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ভারতীয় অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির পথে – একটি পর্যালোচনা : দিলীপ রায়।

ভারতের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময়। কৃষিকাজ, হস্তশিল্প, বস্ত্রশিল্প, উৎপাদন, এবং বিভিন্ন সেবা ভারতের অর্থনীতির অংশ । ভারতের শ্রমশক্তির দুই-তৃতীয়াংশ প্রত্যক্ষভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষি থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে । তবে সেবাখাত (Service Sector) ক্রমেই প্রসার লাভ করছে এবং ভারতের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ  হয়ে উঠছে । ডিজিটাল যুগের আবির্ভাবের পর ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারদর্শী তরুণ ও শিক্ষিত লোকের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত আউটসোর্সিং, ক্রেতা সেবা ও কারিগরি সহায়তা দানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে  । ভারত সফটওয়্যার ও আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে অতি-দক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে থাকে  । এছাড়া উৎপাদন, ওষুধ শিল্প, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, জাহাজ নির্মাণ, বিমানভ্রমণ এবং পর্যটন শিল্পগুলিতেও ভবিষ্যতে জোরালো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা  ।
স্বাধীনতা লাভের পর ইতিহাসের অধিকাংশ সময় জুড়ে ভারত সমাজবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে অর্থনীতি চালানোর চেষ্টা চলে । তখন অর্থনীতিতে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণ, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল । তবে ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে ভারত ক্রমে উদারপন্থী অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে তার বাজারগুলি উন্মুক্ত করতে শুরু করে । সরকারি  শিল্পগুলির বেসরকারীকরণ বেশ ধীরে ধীরে  রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে । দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ভারতের একটি প্রধান সমস্যা এবং এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা অর্জনের জন্য একটি বড় বাধা ।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য ১৯৯০ র দশক ভারতীয় অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসাবে চিহ্নিত । আশির দশকের শেষ এবং নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে দেশ যে ম্যাক্রো অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল, তা সরকারকে ১৯৯১ সালে কাঠামোগত সংস্কার প্রবর্তনে তৎপর করে । কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির সম্মিলিত বিপুল ঘাটতি, অর্থপ্রদানের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় । এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশে ভারত, অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও সংস্কারের পথে যাত্রা শুরু করে ।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার উৎপাদন বৃদ্ধি বোঝায় । সাধারণত কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির শতকরা  হারকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় ।  প্রকৃত বৃদ্ধির হার ১৯৮০-এর দশকে গড়ে ৫.৫ শতাংশ,   আর্থিক বছর ১৯৯৩  ও ২০০০এর মধ্যে ৬.৩ শতাংশ উঠে আসে । বৈদেশিক বাণিজ্যে  উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, মোট পণ্য ও পরিষেবা,  বাণিজ্য-জিডিপি অনুপাত ১৯৯০ সালে ১৭.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০০০ সালে হয় ৩০.৬ শতাংশ ।
আমরা মাথা পিছু আয় বলতে কী বুঝি ? একটি দেশের মোট আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথা পিছু আয়ের হিসাব করা হয় ।  মাথাপিছু আয় প্রায়শই একটি সেক্টরের গড় আয় পরিমাপ করতে এবং বিভিন্ন জনসংখ্যার সম্পদের তুলনা করতে ব্যবহৃত হয় । মাথাপিছু আয় প্রায়ই একটি দেশের জীবন যাত্রার মান পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় । মাথাপিছু আয়কে গড় আয়ও বলা হয় ।   IMF ভারতের মাথা পিছু আয় সম্পর্কে আশাবাদী । তাদের মতে মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১.৪৩ লক্ষ টাকা যেটা ডলারে মূল্য দাঁড়ায় ১৮৯৫ ডলার ।  অন্য কথায় একটি দেশের অভ্যন্তরে এক বছরে চূড়ান্তভাবে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজারে সামষ্টিক মূল্যই হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন । আগের বছরের তুলনায় পরের বছরে উৎপাদন যে হারে বাড়ে সেটি হচ্ছে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি । জিডিপি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান সূচক ।  ভারতের জিডিপি ২০১৭ সালে ছিল বিশ্বে ৬ নম্বরে, কিন্তু ২০১৮তে ভারত গেলো ৭ নম্বরে । বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক বিকাশের গতি শ্লথ হওয়ার কারণে এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় বারবার ভারতীয় মুদ্রামানের অবনমনের জন্যই   ২০১৭’র   চেয়ে জিডিপি’র নিরিখে ভারত পিছিয়ে পড়েছে ।
জিএনপিঃ GDP & GNP, প্রায় সমার্থক । তবে সামান্য পার্থক্য  রয়েছে । কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত  এক বছরে কোনো দেশের জনগণ মোট যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন করে তার অর্থমূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন  বা জিএনপি বলে । জাতীয় উৎপাদনের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী ও কর্মরত বিদেশি ব্যক্তি ও সংস্থার উৎপাদন বা আয় অন্তর্ভূক্ত হবে না । তবে বিদেশে বসবাসকারী বা কর্মরত দেশি নাগরিক, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও আয় অন্তর্ভূক্ত হবে । জাতীয় আয়ের হিসাব থেকে একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় । যে দেশের জিএনপি যত বেশী সে দেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তত বেশী সমৃদ্ধ ।
এবার আসছি প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (FDI)  সংক্রান্তে । জানা যায় ২০১৮-১৯ সালে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ১৪. ২ শতাংশ বেড়েছে ।   প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে পরিষেবা, মোটরগাড়ি ও রসায়ন ক্ষেত্রে । ভারতীয় ব্যঙ্কিং ক্ষেত্র দ্বিমুখী সমস্যার সম্মুখীন । কর্পোরেট ও ব্যাঙ্ক ব্যালান্স সীটে সমস্যার পাশাপাশি অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়েছে । অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক ঋন সহায়তা ২০১৬-১৭তে ছিল নিম্নমুখী । কৃষি সহযোগী ক্ষেত্রে ২০১৮-১৯এ  প্রকৃত বিকাশ হার কিছুটা কমলেও উৎপাদন ও নির্মাণ ক্ষেত্রে অগ্রগতির দরুন শিল্প বিকাশের হার তরান্বিত হয়েছে । এছাড়া ২০১৯ সালে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল নবম ।  ভারত প্রায় ৫১০০ কোটি ডলার FDI পেয়েছে, খবরটা জানা গেছে জাতিসংঘের ব্যবসা বাণিজ্য বিভাগ থেকে । উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে FDI আকর্ষণকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায়  রয়েছে ভারত । এখানে একটি কথা প্রনিধানযোগ্য, বৈদেশিক বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, মোট পণ্য ও পরিষেবা বাজ্য-জিডিপি অনুপাত ১৯৯০ সালের ১৭.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০০০ সালে হয় ৩০.৬ শতাংশ ।
পরিকাঠামোর নিরিখে দীর্ঘদিনের ঘাটতি এবং রসদ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলায় ২০১৪ সাল থেকে বড় মাপের সরকারি ব্যয় হতে থাকে । ভারতের মতো বিশাল দেশে পরিকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, সরকার ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পাইপলাইন (NIP) স্থাপন করেছে । এই দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিতে ২০২৪-২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রায় ১১১ কোটি  টাকার বিনিয়োগ করা হয়েছে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির জন্য । এছাড়াও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে গত নয় বছরে অনেক সংস্কারমূলক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । “আত্মনির্ভর ভারত” এবং “মেক ইন ইন্ডিয়া” এর মতো কর্মসূচিগুলির লক্ষ্য ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন  শিল্পে রপ্তানীর প্রসার ঘটানো ।
এবার আসছি বিশেষজ্ঞরা কী বলছে । বিশ্বব্যাঙ্ক ভারতীয় অর্থনীতির উপর পূর্বাভাসে বলেছে, ভারতীয় অর্থনীতির গতি বাড়বে । অন্যদিকে মুডিজ ইনভেস্টরস সার্ভিস, এস অ্যান্ড পি’র মতো আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলি জানিয়েছে,  ২০২২-এ ভারতের জিডিপি ৩.৫ ট্রিলিয়ন (৩.৫ লক্ষ কোটি) মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে জি-২০ সদস্য দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হবে ভারতীয় অর্থনীতি ।
পরিশেষে বলা যায় ভারতীয় অর্থনীতিতে গৃহীত নতুন যুগের সংস্কারগুলি অমৃতকালের প্রাণবন্ত বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করেছে । বিগত কয়েক বছরে যে মজবুত আর্থিক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে, তা সুলভে ঋনদানের দক্ষ ব্যবস্থা করে উচ্চতর বিনিয়োগ ও ভোগের মাধ্যমে আগামী বছরগুলিতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক বিকাশে অবদান রাখবে । অন্যদিকে আমরা জানি, সমস্ত ক্ষেত্রের মধ্যে উৎপাদন  ক্ষেত্রের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা সবথেকে বেশী ।  ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭ কোটি কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা  । উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রকৃত বিকাশ হার পৌঁছাতে পারে ৯-১০ শতাংশে । উল্লেখ থাকে যে, ২০২২ সালে যা ছিল ৭-৮ শতাংশ ।    অর্থনৈতিক প্রসারণের এই দ্রুত গতির ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় GDP-এর আকার জাপানের GDP-কে ছাড়িয়ে যাবে, যা ভারতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম করে তুলবে ৷  ২০২২ সালের মধ্যে, ভারতীয় জিডিপির আকার ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের জিডিপির চেয়েও বেশী । ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি জার্মানিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে । সুতরাং ভারতীয় অর্থনীতি এখন প্রবৃদ্ধির পথে ।  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত ও যোজনা ৮/২৩) ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হলো জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো-ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ১৪তম অধিবেশনে ৮ সেপ্টেম্বর তারিখকে “আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়।ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব এবং আরও সাক্ষর সমাজের প্রতি তীব্র প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য 1966 সালে UNESCO কর্তৃক 8ই সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস (ILD) হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদ্‌যাপিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের কাছে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা। বর্তমানে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র এ দিবসটি উদ্‌যাপন করে থাকে।জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা বা ইউনেস্কোর ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল “মর্যাদা এবং মানবাধিকারের বিষয় হিসাবে সাক্ষরতার গুরুত্ব জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য।”

 

পৃথিবীর প্রায় ৭৭৫ মিলিয়ন অধিবাসীর ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অক্ষরজ্ঞানের অভাব রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি পাঁচ জনে একজন এখনও শিক্ষিত নন এবং এই জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী। বিশ্বের প্রায় ৬০.৭ মিলিয়ন শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং আরও অনেকের শিক্ষায় অনিয়মিত বা শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে।

প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের পর থেকে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় সাক্ষরতার হারের উন্নতিতে অনেক অগ্রগতি সাধিত হলেও, নিরক্ষরতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা রয়ে গেছে।  বিশ্বজুড়ে 750 মিলিয়নেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা পড়তে পারেন না বলে মনে করা হয়।  নিরক্ষরতার অভিশাপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পৃথিবীর কোনো জাতি বা সংস্কৃতিকে রেহাই দেয় না, যেখানে আনুমানিক 32 মিলিয়ন আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষর। ইউনেস্কোর “সকলের জন্য শিক্ষার বৈশ্বিক নিরীক্ষণ রিপোর্ট (২০০৬)” অনুসারে, অঞ্চলভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম (৫৮.৬%); এরপরেই রয়েছে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের অবস্থান (৫৯.৭%)। বিশ্বের সবচেয়ে কম সাক্ষরতার হারের দেশগুলো হলো বুর্কিনা ফাসো (১২.৮%), নাইজার (১৪.৪%) ও মালি (১৯%)। প্রতিবেদনে দেশগুলোর নিরক্ষরতার হারের সাথে চরম দারিদ্র‍্য এবং নারীদের সামাজিক অবস্থানের সাথে নিরক্ষতার সুস্পষ্ট সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়।

 

26 অক্টোবর 1966 তারিখে যখন ইউনেস্কো বিশ্বব্যাপী নিরক্ষরতার সমস্যাগুলি দূর করার জন্য 8 সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিল।  মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে লড়াই করা নয় বরং এটিকে ব্যক্তি ও সমগ্র সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।  এই দিবসের মূল লক্ষ্য ছিল সাক্ষরতা বৃদ্ধি করা।  বিশ্বব্যাপী প্রতিটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরক্ষরতা দূর করাই হল আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This