Categories
গল্প প্রবন্ধ

জানেন, বিশ্বকর্মাকে (Vishwakarma) কেন ‘দেবশিল্পী’ বলা হয়? রইল বিস্তারিত!

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে- ইনি হলেন দেবশিল্পী। বিশ্বকর্মা (আক্ষরিক অর্থে: “সর্বস্রষ্টা”) হলেন একজন হিন্দু দেবতা।হিন্দু ধর্মে সব দেব -দেবীর পুজোর তিথি স্থির হয় চন্দ্রের গতি প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে। শুধুমাত্র বিশ্বকর্মা পুজোর তিথি স্থির করা হয়, সূর্যের গতি প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। পুরাণ মতে ব্রহ্মাপুত্র বিশ্বকর্মা, গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নকশা তৈরি করেছিলেন। মনে করা হয়, তিনিই পৃথিবীর প্রথম ইঞ্জিনিয়ার। জানেন, বিশ্বকর্মাকে (Vishwakarma) কেন ‘দেবশিল্পী’ (Craftsman Deity) বলা হয়? রইল বিস্তারিত…
ঋগ্বেদ অনুযায়ী, তিনি পরম সত্যের প্রতিরূপ এবং সৃষ্টিশক্তির দেবতা। উক্ত গ্রন্থে তাকে সময়ের সূত্রপাতের প্রাক্‌-অবস্থা থেকে অস্তিত্বমান স্থপতি তথা ব্রহ্মাণ্ডের দিব্য স্রষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  বিষ্ণুপুরাণের মতে, প্রভাসের ঔরসে বৃহস্পতির ভগিনীর গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম হয়। বেদে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বকর্মা বলা হয়েছে। বিশ্বকর্মা মূলত সৃষ্টিশক্তির রূপক নাম। সেই অর্থে ইনি পিতা, সর্বজ্ঞ দেবতাদের নামদাতা। ইনি সর্বমেধ-যজ্ঞে নিজেকে নিজের কাছে বলি দেন। ইনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা, বিধাতা। ঋগবেদের মতে- ইনি সর্বদর্শী ভগবান।

বিশ্বকর্মা পূজা বা বিশ্বকর্মা জয়ন্তী হচ্ছে একটি হিন্দুধর্মীয় উৎসব। হিন্দু স্থাপত্য দেবতা বিশ্বকর্মার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এই পূজা করা হয়। তাঁকে স্বয়ম্ভু এবং বিশ্বের স্রষ্টা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি দেবতা কৃষ্ণের রাজধানী পবিত্র দ্বারকা শহরটি নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কা নগরী, পাণ্ডবদের মায়া সভা, রামায়ণে উল্লিখিত ব্রহ্মার পুষ্পক রথ, দেবতাদের বিভিন্ন গমনাগমনের জন্য বিভিন্ন বাহন, দেবপুরী এবং বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকের শক্তি সহ দেবতাদের জন্য বহু কল্পিত অস্ত্রের স্রষ্টা।

 

বিশ্বকর্মার ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে তিনি এই বিশ্বের সব কর্মের সম্পাদক। তিনি সব ধরনের শিল্পের প্রকাশক। শিল্পবিদ্যায় বিশ্বকর্মার রয়েছে একচ্ছত্র অধিকার। তিনি নিজেই চতুঃষষ্টিকলা, স্থাপত্যবেদ এবং উপবেদ এর প্রকাশক। কথিত আছে, পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথমূর্তিও তিনিই নির্মাণ করেন। তাঁকে স্বর্গীয় ছুতারও বলা হয়।
হিন্দুদের অন্যান্য পূজার সময় চাঁদের গতি-প্রকৃতির উপর নির্ধারিত হলেও বিশ্বকর্মার পূজার সময় সূর্যের গতি প্রকৃতির উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। এই নিয়ম অনুসারে সূর্য যখন সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে তখন উত্তরায়ন শুরু হয়। এই সময়েই দেবতারা নিদ্রা থেকে জেগে ওঠেন এবং বিশ্বকর্মার পূজার আয়োজন শুরু করা হয়।
ভাদ্রমাসের সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। সূতার-মিস্ত্রিদের মধ্যে এঁর পূজার প্রচলন সর্বাধিক। তবে বাংলাদেশে স্বর্ণকার,কর্মকার এবং দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিগণও নিজ নিজ কর্মে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন।
প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে বিশ্বকর্মার পূজা হয়ে থাকে। প্রতিবছর একইদিনে এই পূজা হয়, এর কোনো পরিবর্তন হয় না বিশেষ।
বিশ্বকর্মা পূজা হয় ভাদ্র সংক্রান্তিতে অর্থাৎ ভাদ্র মাসের শেষ দিনে। আর এই দিনেই হয় রান্নাপুজো বা অরন্ধন যা কিনা মনসাপূজার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ভাদ্রের আগে বাংলায় শ্রাবণ মাস চলে – এই মাস শিবের মাস, এই মাস মনসার মাস। পুরো শ্রাবণ মাস জুড়ে বর্ষা-প্লাবিত বাংলায় প্রাচীন কাল থেকেই সাপের প্রকোপ দেখা দেয় আর সেই সাপের দংশন থেকে রক্ষা পেতে সহায় হন দেবী মনসা। তাই বর্ষার শেষে ভাদ্র সংক্রান্তিতে তাঁরই উদ্দেশে করা হয় মনসা পূজা। তাহলে দেখা গেল, ভাদ্র সংক্রান্তির এই একটি মাত্র দিনেই একইসঙ্গে অরন্ধন, মনসাপূজা এবং বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
বিশ্বকর্মার হাতে দাঁড়িপাল্লা থাকে। দাঁড়িপাল্লার দুটি পাল্লা জ্ঞান ও কর্মের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। উভয়ের সমতা বজায় রেখেছেন তিনি। এছাড়া তিনি হাতুরী ধারণ করেন, যা শিল্পের সাথে জড়িত। তিনি যে শিল্পের দেবতা এই হাতুরী তারই প্রতীক।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বিশ্বকর্মা পূজার দিনটি ‘কন্যা সংক্রান্তি’ তে পড়ে। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে এটি সাধারণত প্রতি বছর ১৬ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উদযাপিত হয়। দিনটি ভারতীয় সৌর বর্ষপঞ্জি এবং বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসের শেষ দিন। সৌর ক্যালেন্ডারে ভারতীয় ভাডো মাসের শেষ দিন। বাংলাদেশ, ভারতের আসাম, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং ত্রিপুরা রাজ্যে সৌর বর্ষপঞ্জী অনুসারে দিনটি পালিত হয়। প্রতিবেশী দেশ নেপালেও এই উৎসব উদযাপিত হয়।
তবে কোন কোন অঞ্চলে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দীপাবলির একদিন পর গোবর্ধন পূজার সাথেও বিশ্বকর্মা পূজা পালন করা হয়।
বিশ্বকর্মা পূজা মূলত কারখানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পালন করা হয়। প্রায়ই দোকানের মেঝেতে পূজার আয়োজন করা হয়। কখনো কখনো বিশ্বকর্মার মূর্তি স্থাপন করে কিংবা কখনও কখনও পটে আঁকা চিত্র সামনে রেখে তার পূজা করা হয়। এসময় দোকান কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মী একসাথে এক জায়গায় জড়ো হয়ে তার পূজা করে।
বিশ্বকর্মার সন্তুষ্টি অর্জন ও তার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে কেবল প্রকৌশলী কিংবা স্থপতি সম্প্রদায় নয়, সব ধরনের কারিগর, সূতার, মিস্ত্রি, কামার-কুমার, স্বর্ণকার, শিল্প কর্মী, কারখানার শ্রমিক, ঢালাইকর সহ অনেক ধরনের পেশার মানুষ এদিন তাঁর পূজা করে। তারা আরও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য, নিরাপদ কাজের পরিস্থিতি এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোপরি নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করে।  আবার শ্রমিকেরা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রার্থনা করে। কখনো কখনো কারিগরেরা এসব যন্ত্রপাতি বিশ্বকর্মার নামে সমর্পন করে এবং ওই সময় সেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারে বিরত থাকে। আধুনিক ইলেকট্রনিক সার্ভারগুলিও যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করে সে জন্যও কেউ কেউ তার উপাসনা করে।

 

ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে কলকারখানায় বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে বিশ্বকর্মার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য দেব-দেবীর মতোই মূর্তি গড়ে অথবা ঘটে-পটে বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। সূতার-মিস্ত্রিদের মধ্যে এঁর পূজার প্রচলন সর্বাধিক। তবে বাংলায় স্বর্ণকার, কর্মকার এবং দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিগণও নিজ নিজ কর্মে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন।

বিশ্বকর্মা লঙ্কা নগরীর নির্মাতা। তিনি বিশ্বভুবন নির্মাণ করেন। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকেয়র শক্তি প্রভৃতি তিনি তৈরি করেছেন। শ্রীক্ষেত্রর প্রসিদ্ধ জগন্নাথ মূর্তিও তিনি নির্মাণ করেছেন।
বিশ্বকর্মা পূজার দিন প্রত্যেকের ঘরে ঘরে বিশেষ খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং পূজার পরে কোন কোন এলাকায় সমবেতভাবে ঘুড়ি ওড়ানো হয়।

উন্নত ভবিষ্যৎ, নিরাপদ কাজের পরিস্থিতি এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোপরি নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করে, বিভিন্ন ধরনের পেশার মানুষ এদিন বিশ্বকর্মার পুজো করেন। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তিথিকে ‘কন্যা সংক্রান্তি’ বলা হয়। পুরাণ মতে এই তিথিতেই  বিশ্বকর্মার জন্ম হয়।

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব জল পর্যবেক্ষণ দিবস কি, কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

আজ বিশ্ব জল পর্যবেক্ষণ দিবস। জল সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতেই প্রতিবছর ১৮ই সেপ্টেম্বর পালন করা হয় ‘বিশ্ব জল পর্যবেক্ষণ দিবস।

১৮ সেপ্টেম্বর দিনটি বিশ্ব জল পর্যবেক্ষণ দিবস হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণটি বেশ চিত্তাকর্ষক। প্রথমে ১৮ অক্টোবর এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ আমেরিকার পরিশ্রুত জল আইন (US clean water act) ১৯৭২ সালের ১৮ অক্টোবর পাশ করা হয়েছিল আর সেই দিনটিকে সম্মান জানানো ছিল উদ্দেশ্য।

 

এই বিশেষ দিবসের জন্য প্রথমে নির্ধারিত করা হয়েছিল ১৮ ই অক্টোবর দিনটিকে। কারণ ১৯৭২ সালের ১৮ ই অক্টোবর আমেরিকায় পাশ হয়েছিল পরিশ্রুত জল আইন বা ক্লিন ওয়াটার অ্যাক্ট। তবে পরবর্তীকালে এই দিবস পালনের দিন পরিবর্তন করা হয়। এই সময় প্রচুর ঠাণ্ডার কারণে অনেক দেশে জল জমে যায়।

তাই এই কর্মসূচিতে যাতে সব দেশ অংশগ্রহণ করতে পারে এজন্য ২০০৭ সালে ১৮ ই সেপ্টেম্বর দিনটিকে নির্ধারণ করা হয়। এই দিবসে জলের গুরুত্ব সম্পর্কে এবং কীভাবে নিজেদের আশেপাশের জলাশয় গুলো যত্ন নেয়া যায় সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

এই বিশেষ দিবসে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের মানুষ নিজেদের আশেপাশে থাকা জলাশয়ের জল পর্যবেক্ষণ করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। এই কর্ম যজ্ঞের মাধ্যমে অনেক সাধারণ মানুষ এই দিন জানতে পারেন জলে থাকা বিভিন্ন উপাদান এবং পিএইচ মাত্রার কথা। সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেন কোন জল পানীয়র জন্য একেবারে উপযুক্ত।

প্রায় খবরের শিরোনামে চলে আসে কোনো স্থানে বন্যা হচ্ছে তো আবার কোথায় খরায় ভয়াবহ অবস্থা। ছোট থেকে আমরা সবাই জেনে এসেছি জলের অপর নাম জীবন। নদীর পাড়ের মানুষেদের একবার জিজ্ঞাসা করে আসুন, বন্যায় ঘরের মধ্যে এক হাঁটু জল থাকলেও খাওয়ার এক ফোঁটা জল পান না। তাই জল সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতেই প্রতিবছর ১৮ই সেপ্টেম্বর পালন করা হয় ‘বিশ্ব জল পর্যবেক্ষণ দিবস।’

 

আমরা জানি পৃথিবীতে  তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল, কিন্তু তবুও জল সঙ্কট যেন আমাদের আজ নিত্যসঙ্গী। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অপ্রতুলতা আজ এক দারুন সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তার কারনে দিন দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মানুষকে জলের অপচয় নিযে সচেতন করা চলছে। কিন্তু তবুও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছ অসচেতনতা। কিন্তু মানুষ দ্রুত সচেতন না হলে আগামী প্রজন্মকে এর কুফল ভোগ করতে হবে। যেটা মানব জাতির জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাই সকলকে সচেতন করতে প্রতিবছর গুরুত্বপূর্ণ ভাবে পালন করা হয় বিশেষ এই দিবস। এই দিবসের মূল লক্ষ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জল পান এবং জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সচেতনতা ।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ

ভাদু উৎসব, একটি বিশেষ পর্যালোচনা : দিলীপ রায়।

আমরা জানি,  বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ । আর এই তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ হচ্ছে  ভাদু উৎসব । ভাদু হল ভাদ্র মাসের উৎসব । পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর এই জেলাগুলিতেই প্রধানত এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে । তবে ইদানীং রাজ্যের অন্যান্য জেলায়ও এই অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি দেখা যায় । যেমন মুর্শিদাবাদ জেলায় সালার শহরের কাছে ঝামটপুরে ভাদু উৎসব দেখা যায় । বিশেষ করে ভাদ্র মাসের শেষদিন বড় উৎসব যেটা মেলার আকার নেয় । এই অনুষ্ঠানকে অন্য কথায় মেয়েলি ব্রত বলা যেতে পারে   ।  অনেকে মনে করেন  ভাদ্র মাস থেকেই ‘ভাদু ‘ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে । আবার অনেকে মনে করেন,  ভাদু মানে  লক্ষ্মী । বিভিন্ন মাসে লক্ষ্মী বিভিন্ন রূপে যেহেতু  পুজিত হন, তাই ভাদ্রমাসেও ভাদু উৎসবের মাধ্যমে লক্ষ্মীদেবী  পুজিত হন । তবে এই উৎসবের অনেক মতান্তর রয়েছে । পুরুলিয়া  জেলার কাশীপুর রাজপরিবারের  ভাদু বা ভদ্রেশ্বরী নামক এক রাজকন্যার কাহিনী থেকে এর উদ্ভব । শোনা যায়, কাশীপুর রাজের কন্যা ভাদুর এক রাজকুমারের সাথে বিয়ে ঠিক হয় । কিন্তু বিয়ের দিন বর বেশে বিয়ে করতে আসার সময় তিনি মারা যান । এরপরই ভাদু মৃত্যুবরণ করে । ভাদু উৎসব নিয়ে মানভূম অঞ্চলে বেশ কিছু লোককাহিনী প্রচলিত । আবার আরও একটি জনশ্রুতি, পঞ্চকোট রাজ পরিবারের নীলমণি সিংদেও’এর  তৃতীয়া কন্যা ভদ্রাবতী বিবাহ স্থির হওয়ার পর তার ভাবী স্বামীর অকালমৃত্যু হলে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন, এই কাহিনী মানভূম অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচারিত ।

 

 

বিয়ে করতে আসার সময় ভদ্রাবতীর হবু স্বামী ও তার বরযাত্রী ডাকাতদলের হাতে খুন হলে ভদ্রাবতী চিতার আগুনে প্রাণ বিসর্জন করেন বলে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার পুরুলিয়া গ্রন্থে প্রকাশিত হয় । ভদ্রাবতীকে জনমানসে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নীলমণি সিংদেও ভাদু গানের প্রচলন করেন ।  অনেকেই তার সাথে কৃষ্ণভক্তি পরায়ণা মীরার মিল খুঁজে পান । তবে রাজকন্যা ভাদুকে নিয়ে অনেক মতান্তর রয়েছে । রাজকন্যার স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশে ভাদু উৎসব  প্রচলিত  । এমনকি ভদ্রাবতীকে জনমানসে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নীল সিংদেও ভাদু গানের প্রচলন করেন ।
ভাদু উৎসব কৃষি প্রধান উৎসবও বটে । মাঠজুড়ে তখন  নতুন ধান রোপণ করা হয় । তবে এই উৎসবের অন্যতম বিষয় হল এই পুজোয় কোনো মন্ত্রের প্রয়োজন নেই  । ভাদু উৎসবে পূজারীরা ভদ্রেশ্বরীর একটি মূর্তি তৈরি করে এবং সারা মাস ধরে তার সম্মুখে নৃত্যগীত পরিবেশন করে । ভদ্রেশ্বরী কখনও কন্যা আবার কখনও জননীরূপেও পুজিত  হন । পয়লা ভাদ্র কুমারী মেয়েরা গ্রামের কোন বাড়ীর কুলুঙ্গী  পরিষ্কার করে ভাদু প্রতিষ্ঠা করেন । আগে ভাদুর কোনো মূর্ত রূপ ছিল না ।  একটি পাত্রে ফুল রেখে ভাদুর বিমূর্ত রূপ কল্পনা করে তারা সমবেত কন্ঠে ভাদু গীত গেয়ে থাকেন । পরবর্তীকালে বিভিন্ন রকমের মূর্তির প্রচলন হয়েছে ।  ভাদ্র সংক্রান্তির সাত দিন আগে ভাদুর মূর্তি ঘরে নিয়ে আসা হয় । শোনা যায়, মূর্তিগুলি সাধারণত হংস বা  ময়ূর বাহিনী বা পদ্মের ওপর উপবিষ্টা মূর্তির গায়ের রঙ হলুদ, মাথায় মুকুট, হাতে পদ্মফুল, গলায় পদ্মের মালা ও হাতের তলায় আলপনা থাকে । কখনো মূর্তির কোলে কৃষ্ণ বা রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি থাকে ।  ভাদ্র সংক্রান্তির পূর্ব রাত্রিতে ভাদুর জাগরণ পালিত হয়ে থাকে । মাইক বাজিয়ে গান শুনে খাবার তৈয়ারী করে নিজেদের মতো করে জাগরণের রাত পাড়ার ছেলেরা সমবেতভাবে অতিবাহিত করে । এর মাধ্যমে সামাজিক সৌভ্রাতৃত্ববোধ উন্মেষ হয় । যা সমাজ থেকে বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে ।  এই লৌকিক ও সামাজিক উৎসব সমাজে বেঁচে থাক । সমাজে টুসু, ঝুমুর, ভাদু গানের কদর বাড়ুক  । সুতরাং ভাদু জাগরণের আরও ব্যাপ্তি ঘটুক ।   এই রাত্রে রঙিন কাপড় বা কাগজের ঘর তৈরী করে এই মূর্তি স্থাপন করে তার সামনে মিষ্টান্ন সাজিয়ে রাখা হয় । এরপর রাত্রিতে ভাদু গীত গাওয়া হয় । কুমারী ও বিবাহিত মহিলারা গ্রামের প্রতিটি মঞ্চে গেলে তাদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় ও  তারা এই সব মঞ্চে ভাদু গীত পরিবেশন করে থাকেন ।

 

‘ভাদু ভাসান’ পর্ব অত্যন্ত বিষাদময় । ভাদ্র-সংক্রান্তিতে উপাসকরা মূর্তিসহ নদীর তীরে সমবেত হয়ে মূর্তি বিসর্জন দেন । এই উৎসবের অন্যতম লোকসংস্কৃতি হল ভাদু গান । সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানভূমের লোকসংস্কৃতি পুরুলিয়ার ভাদুগানেও পরিবর্তন হয়েছে । এই উৎসব উপলক্ষে মিষ্টির দোকানগুলিতে নানা রকমের মিষ্টি তৈরী ও  বিক্রি হয় ।
টুসু ও ঝুমুর গানের বিপরীতে ভাদু গানগুলিতে প্রেম এবং রাজনীতি সর্বতোভাবে বর্জিত । সাধারণতঃ গৃহনারীদের জীবনের কাহিনী এই গানগুলির মূল উপজীব্য । পৌরাণিক ও সামাজিক ভাদু গানগুলি বিভিন্ন পাঁচালির সুরে গীত হয় । বর্তমানে সচেতনামূলক ভাদু গান পরিবেশিত হচ্ছে ।
ভাদু উৎসবের উৎপত্তি নিয়ে বহু মতান্তর রয়েছে । কবে থেকে এবং কীভাবে এই অনুষ্ঠান শুরু তার সঠিক তথ্য আজও  অজানা  । পরিশেষে  ভাদু দেবীর কাছে  প্রার্থনা,  চাষের   জমি ফসলে   ভরে  উঠুক ও  মানুষের মধ্যে শান্তি বিরাজ করুক ।

 

(তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

(ক)  ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস৷

(খ) বিশ্ব সাইক্লিং দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮২৬ – বের্নহার্ট রিমান, বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ।

১৮৬৭ – গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভারতীয় বাঙালি চিত্রশিল্পী, শিল্পরসিক এবং মঞ্চাভিনেতা।

১৯১৫ – মকবুল ফিদা হুসেন, অত্যন্ত জনপ্রিয় ভারতীয় চিত্রশিল্পী।

১৯১৮ – সত্য চৌধুরী প্রখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার।

১৯২২ – হরিপদ কাপালী, বাংলাদেশী কৃষক, হরি ধানের উদ্ভাবক।

১৯২৫ – পিটার ল্যাডিফোগিড, ইংরেজ-মার্কিনী ভাষাবিজ্ঞানী।

১৯৩৪ – বিনয় মজুমদার, বাঙালি কবি।

১৯৪৪ – (ক)  বিভু ভট্টাচার্য, বাঙালি অভিনেতা।

(খ)রেইনহোল্ড মেসনার, ইতালিয়ান পর্বতারোহী এবং অভিযাত্রী।

১৯৫০ – নরেন্দ্র মোদী, ভারতের ১৫দশ প্রধানমন্ত্রী।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৬৩০ – আমেরিকার বোস্টন শহর প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৭৮৭ – ফিলাডেলফিয়ার পেনিসেলভেনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান স্বাক্ষরিত হয়।

১৮৪৬ – সাপ্তাহিক ‘দর্পণ’ প্রকাশিত হয়।

১৮৪৮ – সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক অরুণোদয়’ প্রকাশিত হয়।

১৮৭১ – সুইজারল্যান্ড মন্ট সেনিস রেলওয়ে টানেল উদ্বোধন করা হয়।

১৯০৫ – বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটি।

১৯১৪ – গ্রিস ও এশিয়া মাইনরে প্রচন্ড ভূমিকম্পে ৩ হাজারেরও বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯২০ – প্রবাসে [তাসখন্দে] ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়।

১৯২৪ – হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতির জন্য মহাত্মা গান্ধীর অনশন।

১৯৩৬ – ইরান-তুরস্ক শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়।

১৯৪০ – মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ শুরু হয়।

১৯৪৪ – ওস্টল্যান্ড হতে এস্তোনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৪৮ – আরব ইসরাইল যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন সংকট বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্ততাকারী কেন্ট বার্ণাডোট বায়তুল মোকাদ্দাসে ইহুদী অধ্যুষিত এলাকায় ইহুদীবাদীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন।

১৯৫৭ – মালয়েশিয়া জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

১৯৬২ – গণবিরোধী হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় ছাত্র আন্দোলন ও হরতাল পালিত হয়।

১৯৬৩ – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে জেনিভা নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নসহ ১৭টি দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই প্রস্তাবে সকল দেশের উদ্দেশ্যে পরমাণু অস্ত্র অথবা অন্য যে কোনো গণ বিধ্বংসী অস্ত্র পৃথিবীর কক্ষপথে মোতায়েন না করার আহ্বান জানানো হয়।

১৯৭০ – জর্দান সেনা বাহিনী ফিলিস্তিনীদের উপর ব্যাপক গণহত্যা অভিযান শুরু করেছিল।

১৯৭৪ – বাংলাদেশ, গ্রানাডা এবং গিনি-বিসাউ জাতিসংঘে যোগদান করে।

১৯৮০ – নিকারাগুয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আনাসতোসিও সমোজা দেবাইলি প্যারাগুয়েতে নিহত হন।

১৯৮০ – ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শহীদ মোহাম্মাদ আলী রাজাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তার দেশের ওপর ইরাকের ব্যর্থ সরকারের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন।

১৯৮২ – হানাদার ইসরাইলী সেনারা লেবাননের সাবরা ও শাতিলা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয়গ্রহণকারী নিরিহ ফিলিস্তিনীদের উপর ব্যাপক গণহত্যা চালায়।

১৯৮৩ – ভ্যানেসা উইলিয়াম প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মিস আমেরিকান হন।

১৯৮৮ – সিউলে ১৬০টি দেশের অংশ গ্রহণে ২৪তম অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধন হয়।

১৯৮৯ – যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনির্য়া উত্তরাঞ্চলে প্রচন্ড ভূমিকম্প হয়। অনেক সড়ক আর সেতু এই ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয় । এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৭১ জনের মৃত্যু হয়। তা ছাড়া, দুর্গত এলাকায় কমপক্ষে ৫০০ জন আহত হন।

১৯৯১ ‌ – উন্মুক্ত সোর্সকোড ভিত্তিক কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স কার্নেলের প্রথম সংস্করণ (0.01 Version) ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়।

১৯৯১ – এস্তেনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, মাইক্রোনেশিয়া জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

১৯৯৪ – চীনের শিনচিয়াংএর চিওহো প্রাচীন নগরে চীনের হ্যান রাজবংশের সমাধি সংগ্রহশালা আবিষ্কার করা হয়।

২০০৫ – বাংলাদেশে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিক ভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬৬৫ – স্পেনের রাজা চতুর্থ ফিলিপ।

১৯৪৮ – এমিল লুধউইক জার্মানীর খ্যাতনামা জীবনীকার।

১৯৫৪ – যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, বাংলা ভাষার কবি।

১৯৬১ – আদনান মেন্দেরেস, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

১৯৬৪ – নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত,বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।

১৯৬৯ – চীনের ছিং রাজবংশের শেষ রাজা ফুই।

১৯৭৭ – উইলিয়াম টলবোট, ইংরেজ উদ্ভাবক ও ফটোগ্রাফির পুরোধা।

২০১২ – হেনরি ফ্রিডলাডের, জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও লেখক।

২০১২ – আলেক্সান্দ্র কশক্যন, রাশিয়ান মুষ্টিযোদ্ধা।

২০২১ – আব্দেল-আজিজ বউটেফ্লিকা, আলজেরীয় সৈনিক, রাজনীতিক ও ৫ম প্রেসিডেন্ট।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

(ক)  বিশ্ব ওজোন স্তর রক্ষা দিবস ৷

(খ) স্বাধীনতা দিবস – পাপুয়া নিউ গিনি ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিকট থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৫০৭ – জিয়াজিং, চীন সম্রাট।

১৭৪৫ – মিখাইল কুটুযোভ, রাশিয়ান ফিল্ড মার্শাল।

১৮৫৩ – অ্যালব্রেচ্‌ট কোসেল, জার্মান প্রাণরসায়নবিজ্ঞানী এবং জিনতত্ত্ব অধ্যয়নের অন্যতম পথিকৃৎ।

১৮৫৮ – বোনার ল্‌, কানাডিয়ান স্কটস-মহাজন, রাজনীতিবিদ ও যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রী।

১৮৫৯ – ইউয়ান সিকাই, চীনা সাধারণ ও রাজনীতিবিদ ও চীন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি।

১৮৮৮ – ফ্রান্স ঈমিল সিল্লানপা, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফিনিশ লেখক।

১৮৯৩ – আলবার্ট সযেন্ট-গায়র্গী, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান শারীরবিজ্ঞানী ও প্রাণরসায়নবিদ।

১৮৯৩ – গিরিজাপতি ভট্টাচার্য, বিজ্ঞান গবেষক ও সাহিত্যিক।

১৯১৩ – দীনেশ দাস , বিশ শতকের ভারতের বাঙালি কবি।

১৯১৬ – এম এস শুভলক্ষ্মী , ভারত রত্নে সম্মানিত কর্ণাটকী শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী।

১৯২৩ – লি কুয়ান ইউ, সিঙ্গাপুরের আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ১ম প্রধানমন্ত্রী।

১৯২৪ – লরেন বাকল, মার্কিন অভিনেত্রী। (মৃ. ২০১৪)

১৯২৭ – পিটার ফক, আমেরিকান অভিনেতা, গায়ক ও প্রযোজক।

১৯৩২ – মিকি স্টুয়ার্ট, ইংরেজ সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ।

১৯৫২ – মিকি রুর্ক, আমেরিকান বক্সার এবং অভিনেতা।

১৯৫৬ – ডেভিড কপারফিল্ড (জাদুকর), আমেরিকান যাদুকর এবং অভিনেতা।

১৯৫৯ – ডেভিড জন রিচার্ডসন, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার, ম্যানেজার ও আইনজীবী।

১৯৬৬ – অশঙ্কা প্রদীপ গুরুসিনহা, শ্রীলংকান ক্রিকেটার।

১৯৬৮ – ওয়াল্ট বেকার, আমেরিকান পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৬৮ – মার্ক এন্থনি, আমেরিকান গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও প্রযোজক।

১৯৭১ – এমি পোয়েহলের, আমেরিকান অভিনেত্রী, কৌতুকাভিনেতা ও প্রযোজক।

১৯৭৬ – টিনা বারেট, ইংরেজ গায়ক, গীতিকার ও অভিনেত্রী।

১৯৮১ – ফ্যান বিংবিং, চীনা অভিনেত্রী, গায়ক ও প্রযোজক।

১৯৮১ – অ্যালেক্সিস বলেডেল, আমেরিকান অভিনেত্রী।

১৯৮৪ – সেরগিনহ কাটারিনেন্সে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৮৪ – কেটি মেলুয়া, জর্জিয়ান বংশোদ্ভূত ইংরেজ গায়ক, গীতিকার ও গিটার।

১৯৯২ – নিক জোনাস, আমেরিকান গায়ক, গীতিকার ও গিটার।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮১২ – মস্কো শহরে এক অগ্নিকাণ্ডে এক দিনে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শহর পুড়ে গিয়েছিল।

১৯০৮ – জেনারেল মোটরস কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা।

১৯২০ – ওয়াল স্ট্রিটে জেপি বিল্ডিংয়ের সামনে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ হলে ৩৮ জন মারা যায় এবং প্রায় ৪০০ লোক আহত হয়।

১৯৩১ – হিজলি জেলে রাজবন্দিদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়।

১৯৩১ – লিবিয়ায় ইতালীর উপনিবেশ বিরোধী স্বাধীনতাকামী নেতা ওমর মুখতারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।

১৯৩৯ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর প্রথম মাসে জার্মানীর সেনারা পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশো অবরুদ্ধ করে ফেলে।

১৯৪০ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়স্ক পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়।

১৯৪১ – ইরানের রেজা শাহ পাহলভি সিংহাসন পরিত্যাগ করেন।

১৯৫৩ – যুক্তরাষ্ট্রের রক্সি থিয়েটারে বিশ্বের প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র ‘দ্য রোব’ প্রদর্শিত।

১৯৫৫ – আন্তর্জাতিক কপিরাইট কনভেনশন চালু হয়।

১৯৭৫ – পাপুয়া নিউ গিনি স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭৮ – রিখটার স্কেলে ৭.৫-৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ইরানের তারা শহরে প্রায় ২৫ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।

১৯৮৭ – বিশ্বের ২৭টি দেশ ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু মন্ডলকে রক্ষা করার জন্য ক্লোরোফ্লোরো কার্বন গ্যাস ব্যবহারে বিধিনিষেধ প্রয়োগে চুক্তিবদ্ধ হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

০৩০৭ – ফ্লাভিউস ভ্যালেরিয়াস সেভেরাস, রোমান সম্রাট।

১৭৩৬ – ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট, পোলিশ ডাচ পদার্থবিদ, প্রকৌশলী ও থার্মোমিটার উদ্ভাবক।

১৭৮২ – ফারিনেলি, ইতালীয় গায়ক।

১৮৭৫ – আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ ব্রাহ্মসমাজের কর্মকর্তা ও বাঙালি লেখক।

১৯২৫ – আলেক্সান্দ্র্ আলেক্সান্দ্রোভিচ ফ্রিদমান, রাশিয়ান পদার্থবিদ ও গণিতবিদ।

১৯৩১ – (ক)  ওমর মুখতার, প্রখ্যাত লিবীয় স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা।

(খ) সন্তোষ কুমার মিত্র, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিপ্লবী শহীদ।

(গ) তারকেশ্বর সেনগুপ্ত,ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী,সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের অন্যতম কর্মী।

১৯৩২ – রোনাল্ড রস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী স্কটিশ চিকিৎসক।

১৯৪২ – খ্যাতিমান আইনজীবী, চিন্তাশীল লেখক এবং বিশিষ্ট পণ্ডিত হীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

১৯৪৪ – গুস্টাভ বাউয়ের, জার্মান সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও ১১তম চ্যান্সেলর।

১৯৪৬ – জেমস জিনস, প্রখ্যাত ইংরেজ প্রাবন্ধিক ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক।

১৯৫৭ – কই বাইসই, চীনা চিত্রশিল্পী।

১৯৬৫ – ফ্রেড কুইম্বি, প্রখ্যাত মার্কিন এ্যানিমেশন নির্মাতা।

১৯৭৩ – ভিক্টর হারা, চিলির গায়ক, গীতিকার, কবি ও পরিচালক।

২০০৭ – রবার্ট জর্ডান, আমেরিকান প্রকৌশলী ও ‘হুইল অব টাইম’ সিরিজ বইয়ের লেখক।

২০০৯ – টিমোথি বেটসন, ইংরেজ অভিনেতা।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

১৫ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস।

 

 

(খ) জাতীয় ইঞ্জিনিয়ার দিবস – ভারত

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৪ – ইতালির রাজা দ্বিতীয় উমবার্তো।

 

Umberto II (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ – ১৮ মার্চ ১৯৮৩), ছিলেন ইতালির শেষ রাজা।  তিনি ৩৪ দিন রাজত্ব করেছিলেন, ৯ মে ১৯৪৬ থেকে ১২ জুন ১৯৪৬ তারিখে তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ পর্যন্ত, যদিও তিনি ১৯৪৪ সাল থেকে প্রকৃত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। তার সংক্ষিপ্ত রাজত্বের কারণে, তাকে মে কিং ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল।

 

১৯০৭ – ফায় ওরায়, কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেত্রী।

 

১৯০৯ – সি.এন. আন্নাদুরাই,ভারতীয় রাজনীতিবিদ,ভালো বাগ্মী,মাদ্রাজ প্রদেশের সর্বশেষ ও তামিলনাড়ুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।

কনজিভরম নটরাজন আন্নাদুরাই (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৯ – ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯), জনপ্রিয়ভাবে আন্না নামে পরিচিত, যিনি আরিগনার আন্না বা পেরারিগনার আন্না (আন্না, পণ্ডিত বা বড় ভাই) নামেও পরিচিত ছিলেন, ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ যিনি চতুর্থ এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন  ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত মাদ্রাজ রাজ্য এবং মৃত্যুর আগে ২০ দিনের জন্য তামিলনাড়ুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (মাদ্রাজ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে তামিলনাড়ু করা হয়েছিল)।  তিনি দ্রাবিড় দলের প্রথম সদস্য যিনি যেকোনো একটি পদে অধিষ্ঠিত হন।

 

১৯১৪ – আডোলফো বিওয় কাসারইয়েস, আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ও লেখক।

১৯১৬ – রুমানিয়ার খ্যাতনামা লেখক ও গবেষক কনষ্ট্যান্টিন ভারযিল গিওরগো ৷

 

১৯২৯ – মারি গেল-ম্যান, নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ।

মারি গেল-ম্যান একজন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। মৌলিক কণাসমূহের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তিনি ১৯৬৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে।

 

১৯৩৭ – রবার্ট এমারসন লুকাস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ।

 

১৯৪৬ – অলিভার স্টোন, একাডেমী পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্য লেখক।

উইলিয়াম অলিভার স্টোন (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬) একজন আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার।  স্টোন একজন বিতর্কিত কিন্তু প্রশংসিত পরিচালক হিসেবে পরিচিত, যিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং আমেরিকান রাজনীতি থেকে শুরু করে মিউজিক্যাল বায়োপিক এবং ক্রাইম ড্রামা পর্যন্ত বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করেন।  তিনি চারটি একাডেমি পুরস্কার, একটি BAFTA পুরস্কার, একটি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার এবং পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার সহ অসংখ্য প্রশংসা পেয়েছেন।

 

১৯৫৪ – হ্রান্ট ডিঙ্ক, তুর্কি সাংবাদিক।

হ্রান্ট ডিঙ্ক (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ – ১৯জানুয়ারী ২০০৭) ছিলেন একজন তুর্কি-আর্মেনিয়ান বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সহ- সাংবাদিক , সহ-সম্পাদক।  দ্বিভাষিক তুর্কি-আর্মেনিয়ান সংবাদপত্র আগোসের প্রধান সম্পাদক হিসেবে , ডিঙ্ক ছিলেন তুরস্কের আর্মেনিয়ান সংখ্যালঘুদের একজন বিশিষ্ট সদস্য যিনি তুর্কি-আর্মেনিয়ান পুনর্মিলন এবং তুরস্কে মানব ও সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে সবচেয়ে বেশি পরিচিত । তিনি প্রায়ই তুরস্কের উভয়ের সমালোচনা করতেনআর্মেনিয়ান গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আর্মেনিয়ান প্রবাসীদের প্রচারণাকে অস্বীকার করা । তুর্কি জাতীয়তাবাদীদের কাছ থেকে অসংখ্য প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে তুরস্কের অবমাননা করার জন্য ডিঙ্কের বিরুদ্ধে তিনবার মামলা করা হয়েছিল ।

 

১৯৬৫ – রবার্ট ফিকো, স্লোভাক রাজনীতিবিদ, অধ্যাপক ও ১৪ তম প্রধানমন্ত্রী।

রবার্ট ফিকো (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৪) একজন স্লোভাক রাজনীতিবিদ যিনি ২০০৬ থেকে ২০১০ এবং ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত (যখন তিনি পদত্যাগ করেন) স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে নির্দেশ – সোশ্যাল ডেমোক্রেসি (স্মের) পার্টির প্রথম নেতা। ১৯৯২ সালে পার্লামেন্টে প্রথম নির্বাচিত হন (যদিও চেকোস্লোভাকিয়ার মধ্যে), তিনি পরে ইউরোপের কাউন্সিল-এ নিযুক্ত হন।  ২০০৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তার দলের বিজয়ের পর, তিনি প্রথম ফিকো মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

 

 

১৯৭১ – নাথান অ্যাসলে, নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার।

নাথান জন অ্যাসলে, এমএনজেডএম ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নাথান অ্যাসলে মূলত ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়েও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি।

 

১৯৭৯ – কার্লোস রুইজ, গুয়াতেমালার ফুটবলার।

কার্লোস হাম্বারতো রুইজ গুতেরেস (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯), প্রাথমিকভাবে এল পেসকাদিটো বা “দ্য লিটল ফিশ” ডাকনাম হলেও পরে এল পেসকাডো বা “দ্য ফিশ” হয়ে ওঠেন (এমনকি স্প্যানিশ-ভাষীরাও), একজন গুয়াতেমালার প্রাক্তন পেশাদার ফুটবলার যিনি একজন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন। . সিএসডি মিউনিসিপ্যাল ​​এর যুব একাডেমির একটি পণ্য , রুইজ পাঁচটি এমএলএস ক্লাবের হয়ে খেলেছেন ( লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি , এফসি ডালাস , টরন্টো এফসি , ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন , এবং ডিসি ইউনাইটেড ), ১৮২টি এমএলএস নিয়মিত-সিজন ম্যাচে 88টি গোল করেছেন এবং পোস্টে ১৬টি গোল করেছেন। -ঋতু, যেটি এমএলএস ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক পোস্ট-সিজন গোল। ২০০২ সালে, তিনি এমএলএস-এর মৌসুমের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

 

১৯৮৮ – চেলসিয়া কেন, আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা।

চেলসি কেন স্টাব (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮) একজন আমেরিকান অভিনেত্রী এবং গায়ক।  তিনি ডিজনি চ্যানেলের সিটকম টেলিভিশন সিরিজ জোনাসে স্টেলা ম্যালোন এবং ফ্রিফর্ম সিটকম, বেবি ড্যাডি-তে রিলি পেরিন-এর ভূমিকার জন্য পরিচিত।  এছাড়াও তিনি ডিজনি চ্যানেল অ্যানিমেটেড সিটকম ফিশ হুকস-এ বি গোল্ডফিশবার্গে কণ্ঠ দিয়েছেন।

 

১৮৫৭ – উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্‌ট্‌, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম রাষ্ট্রপতি ও ১০ম প্রধান বিচারপতি।

উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্‌ট্‌ (William Howard Taft) (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৮৫৭– মার্চ ৮, ১৯৩০) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম রাষ্ট্রপতি ও ১০ম প্রধান বিচারপতি।

 

 

১৮৬০ – ভারতরত্ন এম. বিশ্বেশ্বরায়া, ভারতের প্রখ্যাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, দক্ষ প্রশাসক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা।

স্যার এম (মোক্ষগুন্ডম) বিশ্বেশ্বরায়া KCIE এফএএসসি, (স্যার এমভি (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৬০ – ১৪ এপ্রিল ১৯৬২) নামে বেশি পরিচিত) ছিলেন একজন ভারতীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও রাষ্ট্রনায়ক। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ সময়ে তিনি মহীশূর রাজ্যের ১৯তম দেওয়ান ছিলেন। তিনি দেশের পুনে অবস্থিত  তৎকালীন সর্বোত্তম ও এশিয়ার তৃতীয় প্রাচীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ  হতে ডিগ্রি লাভ করেন।  জনসেবার স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ ভারত সরকারের পঞ্চম জর্জ  “নাইট” ও ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন ভারত সরকার  দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন প্রদান করে। তাঁকে সম্মান জানাতে তার জন্মদিন ১৫ ই সেপ্টেম্বর প্রতি বছর  ভারত, শ্রীলঙ্কা ও  তানজানিয়ায় ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ হিসাবে পালিত  হয়। মহীশূর শহরের উত্তর-পশ্চিম শহরতলিতে ‘ কৃষ্ণ রাজা  সাগর’ জলাধার ও বাঁধের ডিজাইন তিনি করেন। হায়দ্রাবাদ শহরের বন্যা  সুরক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তিনি।

 

 

১৮৭৬ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৩১শে ভাদ্র, ১২৮৩ – ২রা মাঘ, ১৩৪৪ রবিবার ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক, ও গল্পকার। তিনি দক্ষিণ এশিয়া এবং বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে।

 

১৮৯০ -আগাথা ক্রিস্টি,‘দ্য কুইন অব ক্রাইম’ ডাকনামে পরিচিত ইংরেজ অপরাধ কল্পকাহিনী লেখক।

ডেম আগাথা ম্যারি ক্লারিসা ক্রিস্টি, লেডি মালোওয়ান, ডিবিই একজন ইংরেজ লেখিকা ছিলেন। তিনি ৬৬টি গোয়েন্দা উপন্যাস ও ১৪টি ছোটগল্প সংকলন-সহ মোট ৮০টি বই লেখেন। তার রচিত বইগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো ও মিস মার্পল-এর কাহিনিগুলো অন্যতম।

 

১৮৯৪ – জঁ রনোয়ার, ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা ও লেখক।

জিন রেনোয়ার (১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ – ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯) একজন ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা, প্রযোজক এবং লেখক ছিলেন।  একজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা হিসেবে, তিনি নীরব যুগ থেকে ১৯৬০ এর দশকের শেষ পর্যন্ত চল্লিশটিরও বেশি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন।  তার চলচ্চিত্র লা গ্র্যান্ডে ইলিউশন (১৯৩৭) এবং দ্য রুলস অফ দ্য গেম (১৯৩৯) প্রায়শই সমালোচকদের দ্বারা নির্মিত সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে উল্লেখ করা হয়।  ২০০২ সালে সমালোচকদের BFI-এর দৃষ্টি ও শব্দ জরিপে তিনি সর্বকালের চতুর্থ সেরা পরিচালক হিসেবে স্থান পান।  তার জীবদ্দশায় অর্জিত অসংখ্য সম্মানের মধ্যে, তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে তার অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান।  রেনোয়ার ছিলেন চিত্রশিল্পী পিয়েরে-অগাস্ট রেনোয়ার এবং চিত্রগ্রাহক ক্লদ রেনোয়ারের কাকা।  তিনি ছিলেন প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে একজন যিনি একজন অট্যুর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

১৭৮৯ – জেমস ফেনিমোর কুপার, The Last of the Mohicans খ্যাত কথাসাহিত্যিক।

জেমস ফেনিমোর কুপার (সেপ্টেম্বর ১৫, ১৭৮৯ – ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৫১) ছিলেন ১৯ শতকের প্রথমার্ধের একজন আমেরিকান লেখক, যার ১৭ থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত ঔপনিবেশিক এবং আদিবাসী চরিত্রগুলিকে চিত্রিত করে ঐতিহাসিক রোম্যান্স তাকে খ্যাতি ও খ্যাতি এনে দেয়।  তিনি তার শৈশব এবং জীবনের শেষ পনেরো বছর কুপারস্টাউন, নিউ ইয়র্ক-এ কাটিয়েছেন, যেটি তার পিতা উইলিয়াম কুপার তার মালিকানাধীন সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।  কুপার তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে এপিস্কোপাল চার্চের সদস্য হয়েছিলেন এবং এতে উদারভাবে অবদান রেখেছিলেন।  তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর পড়াশোনা করেছেন, যেখানে তিনি লিনোনিয়ান সোসাইটির সদস্য ছিলেন।

 

১৫০৫ – হাঙ্গেরির রানি মারিয়া।

 

১২৫৪ – মার্কো পোলো – ইতালির ভেনিস অঞ্চলের একজন বণিক ও বিখ্যাত পরিব্রাজক।

মার্কো পোলো একজন ভেনিসীয় পর্যটক এবং বণিক। পশ্চিমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সিল্ক রোড পাড়ি দিয়ে চীন দেশে এসে পৌঁছানো লোকজনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ইউরোপীয়দের কাছে চীনের তৎকালীন নাম ছিল ক্যাথে। এছাড়া তিনি সর্বপ্রথম ইউরোপীয় হিসেবে মঙ্গোলদের সাম্রাজ্যে পদার্পণকারীদের অন্যতম।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৮ – আমেরিকার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান লেহম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া ঘোষিত হয়, যা আমেরিকায় এ যাবৎকালের বৃহত্তম দেউলিয়ার ঘটনা।

 

১৯১৬ – বিশ্বযুদ্ধে প্রথমবারের মত ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয়৷

ট্যাঙ্কের ইতিহাস প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাথে শুরু হয় , যখন পরিখা যুদ্ধের সমস্যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে সাঁজোয়া অল-টেরেন ফাইটিং যানবাহন চালু করা হয়েছিল , যা যান্ত্রিক যুদ্ধের একটি নতুন যুগের সূচনা করে । যদিও প্রাথমিকভাবে অশোধিত এবং অবিশ্বস্ত, ট্যাঙ্কগুলি শেষ পর্যন্ত স্থল সেনাবাহিনীর প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে , ট্যাঙ্কের নকশা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছিল এবং যুদ্ধের সমস্ত ল্যান্ড থিয়েটারে ট্যাঙ্কগুলি পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছিল। শীতল যুদ্ধ আধুনিক ট্যাংক মতবাদের উত্থান এবং সাধারণ-উদ্দেশ্য প্রধান যুদ্ধ ট্যাংকের উত্থান দেখেছিল । ট্যাঙ্কটি এখনও ২১ শতকে ল্যান্ড কম্প্যাট অপারেশনের মেরুদণ্ড প্রদান করে।

 

১৯১৭ – আলেকজান্ডার কেরেনস্কি রাশিয়াকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।

আলেকজান্ডার ফিডোরোভিচ কেরেনস্কি (৮ মে  ২২ এপ্রিল ১৮৮১ – ১১ জুন ১৯৭০) একজন রাশিয়ান আইনজীবী এবং বিপ্লবী যিনি রাশিয়ান অস্থায়ী সরকার এবং স্বল্পকালীন রাশিয়ান প্রজাতন্ত্রের জুলাইয়ের শেষ থেকে ১৯১৭ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে তিন মাস নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ।

 

 

১৯২৮ – আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।

স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং FRS FRSE FRCS ছিলেন এক বিশ্ববিশ্রুত স্কটিশ চিকিৎসক, অণুজীব বিজ্ঞানী, বিশ্বের প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক ‘বিংশ শতকের বিস্ময়’ পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের তার এই আবিষ্কার পরবর্তীতে বেঞ্জিলপেনিসিলিন তথা পেনিসিলিন-জি নামে নামাঙ্কিত হয়।

 

১৯৩৫ – (ক)  নুরেমবার্গ আইনের মাধ্যমে জার্মান ইহুদীদের নাগরিকত্ব বাতিল করে।

(খ)  – জার্মানীর স্বস্তিকাযুক্ত নতুন পতাকা চালু করে।

১৯৪৬ – বুলগেরিয়া গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়।

১৯৪৭ – তমদ্দুন মজলিস ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

১৯৫২ – জাতিসংঘ আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়াকে ইরিত্রিয়া দান করে। পরবর্তীতে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হয়।

 

১৯৫৮ – (ক) আকাশবাণী কলকাতার বেতার কেন্দ্র ইডেন গার্ডেন্সের নিজস্ব “আকাশবাণী ভবন”- স্নানান্তরিত হয়।

(খ) চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘ত্রাকোমি’ নামে চোখের বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের ভাইরাস আবিস্কৃত হয় ৷

১৯৫৯ – (ক)  দূরদর্শন (সংক্ষেপে ডিডি)ভারতে প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়।

(খ) নিকিতা ক্রশেভ প্রথম সোভিয়েত নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান।

১৯৭৩ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মিশর ও সিরিয়া।

১৯৮১ – প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু জাতিসংঘের সদস্য হয়।

১৯৮২ – লেবাননের রাষ্ট্রপতি বাসির গামায়েল আততায়ীর হাতে নিহত হন।

১৯৮৯ – পাকিস্তান কমনওয়েলথে ফিরে আসে৷

১৯৯১ – (ক)  দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের মেসিডোনিয়া সাবেক ইউগোশ্লাভিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে৷

(খ)  – বাংলাদেশে গণভোটে সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে গণ রায় প্রদান।

 

১৯৯৬ – ক্রিকেটে বাংলাদেশ এসিসি ট্রফি জয় করে।

১৯৯৮ – আমেরিকার টেলিকম্যুনিকেশন কোম্পানী ওয়ার্ল্ডকম ও এমসিআই যুক্ত হয়ে এমসিআই ওয়ার্ল্ডকম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সংযুক্তি (Merger)।

 

১৮১২ – (ক)  নেপোলিয়নের ফরাসি বাহিনী মস্কোর ক্রেমলিনে তাঁবু গাড়ে।

(খ)  – ফরাসি দখলদারি প্রতিহত করতে রুশরা মস্কোয় আগুন লাগিয়ে দেয়।

১৮২১ – মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও ঝকোস্টারিকা স্পেনের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে৷

১৮৩৫ – ভারতে মুদ্রণযন্ত্রকে সংবাদ পরিবেশনের কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে ‘লিবার্টি অব দ্য প্রেস অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরিত হয়।

১৮৯৪ – পিয়ং ইয়ংয়ের যুদ্ধে জাপানের কাছে চীন পরাস্ত হয়।

১৭৭৬ – ব্রিটেন ম্যানহাটান দখল করে।

১৬৫৬ – ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৬ – নিতুন কুণ্ডু, বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী ও উদ্যোক্তা।

নিতুন কুন্ডুু ছিলেন একজন বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী, নকশাবিদ, ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্প-উদ্যোক্তা। তিনি সাবাশ বাংলাদেশ, সার্ক ফোয়ারা প্রমূখ বিখ্যাত ভাস্কর্যের স্থপতি। তিনি আসবাবপত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অটবি স্থাপন করেন ও সফলতা লাভ করেন।

 

২০০৮ – স্টাভরস পারাভাস, গ্রিক অভিনেতা।

স্ট্যাভ্রোস পারভাস (১৫ এপ্রিল, ১৯৩৫ – ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৮) একজন গ্রীক অভিনেতা ছিলেন।  তিনি ১৫ এপ্রিল, ১৯৩৫ সালে এথেন্সের তুরকোউনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  তার বাবা-মা ছিলেন এশিয়া মাইনর থেকে আসা দরিদ্র উদ্বাস্তু, এবং তিনি তার পরিবারকে বিচিত্র কাজ করতে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন।  একটি সফল অডিশনের পর, তিনি বিনামূল্যে কে. মিচাইলিডিসের ড্রামা স্কুলে প্রবেশ করেন।
স্বৈরশাসনের সময়, শাসনের বিরুদ্ধে বিরোধিতার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং গায়ারোসে নির্বাসিত করা হয়।
তিনি একজন ব্রিটিশ ভদ্রমহিলা অ্যানকে বিয়ে করেন এবং জোনাথন, মার্থা এবং ভেনেসা নামে তিনটি সন্তানকে বড় করেন।  প্রথম সন্তান জোনাথন হঠাৎ পরে মারা যায়।
ফেব্রুয়ারী ২০০৬-এ, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন যার মধ্যে মাথাব্যথা এবং ফুসফুসের হৃদযন্ত্রের সমস্যা সহ বহু বছর ধরে তিনি ভাল অনুভব করেছিলেন।
তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং দুই দিন পরে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

১৯২৬ – রুডল্‌ফ ক্রিস্টফ অয়কেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান দার্শনিক।

রুডল্‌ফ ক্রিস্টফ অয়কেন (জানুয়ারি ৫, ১৮৪৬ – ১৯২৬) জার্মান দার্শনিক, সাহিত্যিক এবং শিক্ষক। তাঁকে ১৯০৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির কারণ হিসেবে নোবেল কমিটি থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, “তার সত্য অনুসন্ধানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, চিন্তা করার অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা, বিভিন্ন স্তরে দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণের যোগ্যতা এবং উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উষ্ণ শক্তিময়তার স্বীকৃতিস্বরূপ যা তার বিপুল সংখ্যক রচনায় প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি জীবনের একটি আদর্শিক দর্শনরূপ প্রতিষ্ঠা করেছেন”।

 

১৯৩৮ – টমাস ওয়লফে, আমেরিকান লেখক।

থমাস ক্লেটন উলফ (৩ অক্টোবর, ১৯০০ – সেপ্টেম্বর ১৫, ১৯৩৮) ছিলেন ২০ শতকের প্রথম দিকের একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক।  উলফ চারটি দীর্ঘ উপন্যাসের পাশাপাশি অনেক ছোট গল্প, নাটকীয় কাজ এবং উপন্যাস লিখেছেন।  তিনি আত্মজীবনীমূলক লেখার সাথে অত্যন্ত মৌলিক, কাব্যিক, র্যাপসোডিক এবং ইম্প্রেশনিস্টিক গদ্যের মিশ্রণের জন্য পরিচিত।  ১৯২০ থেকে ১৯৪০ এর দশক পর্যন্ত তাঁর লেখা এবং প্রকাশিত বইগুলি আমেরিকান সংস্কৃতি এবং সেই সময়ের আরও কিছু বিষয়কে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে, উলফের সংবেদনশীল, পরিশীলিত এবং অতি-বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ফিল্টার করা হয়েছে।
উলফের মৃত্যুর পর, সমসাময়িক লেখক উইলিয়াম ফকনার বলেন যে উলফ হয়ত তাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রতিভা ছিলেন অন্য যেকোন লেখকের চেয়ে উচ্চ লক্ষ্য রাখার জন্য।  উলফের প্রভাব বিট জেনারেশনের লেখক জ্যাক কেরোয়াক এবং লেখক রে ব্র্যাডবেরি এবং ফিলিপ রথের লেখা পর্যন্ত বিস্তৃত।  তিনি আধুনিক আমেরিকান সাহিত্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে রয়ে গেছেন, আত্মজীবনীমূলক কথাসাহিত্যের প্রথম মাস্টারদের একজন হিসেবে এবং উত্তর ক্যারোলিনার সবচেয়ে বিখ্যাত লেখক হিসেবে বিবেচিত।

 

১৯৪৫ – অ্যান্টন ওয়েবেরন, অস্ট্রীয় সুরকার ও পথপ্রদর্শক।

অ্যান্টন ফ্রেডরিখ উইলহেলম ফন ওয়েবর্ন (৩ ডিসেম্বর 1883 – ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫), অ্যান্টন ওয়েবার নামে বেশি পরিচিত, ছিলেন একজন অস্ট্রিয়ান সুরকার এবং কন্ডাক্টর।  তার সঙ্গীত তার নিছক সংক্ষিপ্ত এবং অবিচলিত আলিঙ্গন এবং ক্রমবর্ধমান কঠোর পদ্ধতিতে উপন্যাসের অ্যাটোনাল এবং বারো-টোন প্রযুক্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার পরিবেশের মধ্যে সবচেয়ে আমূল ছিল, কিছুটা ফ্রাঙ্কো-ফ্লেমিশ স্কুলে তার গাইডো অ্যাডলারের অধীনে পড়াশোনার পরে।  তার পরামর্শদাতা আর্নল্ড শোয়েনবার্গ এবং তার সহকর্মী আলবান বার্গের সাথে, ওয়েবর্ন সেকেন্ড ভিয়েনিস স্কুলের বৃহত্তর বৃত্তের মধ্যে যারা ছিলেন তাদের মূলে ছিলেন।  তিনি তাদের মধ্যে প্রথম এবং সর্বাগ্রে এমন একটি শৈলীতে লিখেছিলেন যেটি শোয়েনবার্গ এর অ্যাফোরিজম এবং প্রকাশবাদের জন্য প্রশংসিত হয়েছিল।

 

 

১৯৮৯ – রবার্ট পেন ওয়ারেন, আমেরিকান কবি, লেখক ও সমালোচক।

রবার্ট পেন ওয়ারেন ছিলেন একজন মার্কিন কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং উপন্যাসিক। তিনি নতুন সমালোচনার একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ফেলোশিপ অফ সাউদার্ন রাইটার্স এর একজন চার্টার্ড সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৩৫ সালে দ্য সাউদার্ন রিভিউ নামে একটি সাহিত্য জার্নাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এটির সহ – প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সালেংথ ব্রুকস ।

 

১৮৫৯ – ইসামবারড কিংডম ব্রুনেল, ইংরেজ প্রকৌশলী ও গ্রেট পশ্চিম রেলওয়ে ডিজাইনার।

ইসামবার্ড কিংডম ব্রুনেল (৯ এপ্রিল ১৮০৬ – ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৫৯) একজন ইংরেজ প্রকৌশলী ছিলেন।  তিনি পোর্টসিয়া, পোর্টসমাউথে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে তৈরি করেছেন।  তিনি অনেক স্টিমশিপ এবং অনেক ব্রিজ ও টানেল তৈরি করেছিলেন।  তার ডিজাইন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং আধুনিক প্রকৌশলে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
তার কর্মজীবনে, ব্রুনেল অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং “প্রথম” অর্জন করেছিলেন।  তিনি একটি বড় নদীর তলদেশে প্রথম টানেল নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন।  তিনি এসএস গ্রেট ব্রিটেনের ডিজাইন করেছিলেন, প্রথম প্রপেলার-চালিত সমুদ্রগামী লোহার জাহাজ, সেই সময়ে (১৮৪৩) সর্বকালের বৃহত্তম জাহাজ।  তিনি ক্লিফটন সাসপেনশন ব্রিজের প্রথম ডিজাইনার।  সেতুটির একটি জটিল ইতিহাস ছিল।  এটি অ্যাভন নদীর উপর একটি বড় উচ্চতায় একটি দীর্ঘ সেতু।  ব্রুনেল ব্রিজটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগে এবং তার জাহাজ এসএস গ্রেট ইস্টার্নের প্রথম সমুদ্রযাত্রার আগে মারা যান।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

“Where you see wrong or inequality or injustice, speak out, because this is your country. This is your democracy. Make it. Protect it. Pass it on.”

——-Thurgood Marshall

 

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসটি বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস নামেও পরিচিত প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালন করা হয়।  এটি এমন একটি দিন যা গণতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য সমস্ত সদস্যের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস জাতিসংঘ কর্তৃক ২০০৭ সাল থেকে সদস্যভূক্ত দেশগুলোতে গনতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং গনতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রচলিত একটি বিশেষ দিন, যা প্রতি বছর ‘১৫ সেপ্টেম্বর’ তারিখে পালিত হয়।

জাতিসংঘের (ইউএন) মতে, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস বিশ্বের গণতন্ত্রের অবস্থা পর্যালোচনা করার সুযোগ দেয়।
“গণতন্ত্র একটি লক্ষ্য হিসাবে একটি প্রক্রিয়া, এবং শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতীয় প্রশাসনিক সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং ব্যক্তিদের পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং সমর্থনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের আদর্শকে বাস্তবে পরিণত করা যেতে পারে যা সবাই উপভোগ করতে পারে,  সর্বত্র,” জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পড়ে।

 

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: ইতিহাস

 

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) অনুসারে, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসটি ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এতে আরও বলা হয়েছে যে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে ৪৬টি জাতীয় সংসদ দ্বারা প্রথম আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালন করা হয়েছিল।

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: তাৎপর্য

 

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সুসংহত করতে সরকারকে উৎসাহিত করা।  মানবাধিকার রক্ষা ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য গণতন্ত্র অপরিহার্য।  এই দিনটি সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরতে এবং ন্যায়বিচার, শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার প্রদানে তাদের সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচার করতে এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই করা লোকদের সংগ্রাম ও অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ হিন্দি দিবস, জানুন কেন পালিত হয় দিনটি ও গুরুত্ব।

১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ তারিখের স্মরণে ভারতে হিন্দি দিবস পালিত হয় যেখানে ভারতীয় সংবিধানের খসড়া তৈরির সময়-ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে সরকারী মর্যাদা থাকা ভাষাগুলির উপর একটি সমঝোতা হয়েছিল।  খসড়া কমিটির সদস্য কে.এম. মুন্সি এবং এন. গোপালস্বামী আয়ঙ্গার পরে, সাধারণত মুন্সি-আয়ঙ্গার ফর্মুলা নামে অভিহিত সমঝোতা, দুই বিরোধী শিবিরের মধ্যে তিন বছরের বিতর্কের পর ভারতের সাংবিধানিক পরিষদ এর দ্বারা ভোট দেয়।  হিন্দি নায়করা চেয়েছিলেন হিন্দুস্তানি ভাষার আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড হিন্দি রেজিস্টারকে ভারতের একমাত্র “জাতীয় ভাষা” হতে (ব্রিটিশ রাজের আগ পর্যন্ত গৃহীত উর্দু মান প্রতিস্থাপন);  দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিরা সংবিধানে ইংরেজিকে স্থান দেওয়ার জন্য পছন্দ করেছিলেন।  মুন্সি-আয়ঙ্গার সূত্র (i) হিন্দিকে ভারতের ফেডারেল সরকারের “সরকারি ভাষা” হিসেবে ঘোষণা করেছে;  (ii) ইংরেজি ১৫ বছরের জন্য একটি সহযোগী অফিসিয়াল ভাষা হতে হবে যার মধ্যে হিন্দির আনুষ্ঠানিক অভিধান তৈরি করা হবে;  এবং (iii) হিন্দু-আরবি সংখ্যার আন্তর্জাতিক রূপ যাতে সরকারী সংখ্যা।  আপস প্রস্তাব ভারতের সংবিধানের ৩৪৩-৩৫১ অনুচ্ছেদে পরিণত হয়, যা ২৬ জানুয়ারী ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়। ১৯৬৫ সালে, যখন ১৫ বছর পূর্ণ হয়, ভারত সরকার ঘোষণা করে যে ইংরেজি ভারতের “ডি ফ্যাক্টো আনুষ্ঠানিক ভাষা” হিসাবে অব্যাহত থাকবে।  ”

 

দিবসটির তাৎপর্য—

 

হিন্দি দিবস  প্ৰতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ তারিখে ভারতের হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলে পালন করা হয়। সাধারণত এই দিবসটি ভারতের কেন্দ্ৰীয় সরকারের কাৰ্যালয়, ফাৰ্ম, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্ৰতিষ্ঠানে উদ্‌যাপন করা হয়। হিন্দি ভাষাকে প্রচার এবং চর্চা করা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ভোজ-আয়োজন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কার্যাবলীর মধ্য দিয়ে এই দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। হিন্দি ভাষাভাষী লোকদের কাছে তাদের শিখর সন্ধান এবং ঐক্যের বাণী প্রচারের মাধ্যমে এটি তাদের দেশপ্রেমের স্মারকও হয়ে উঠে। ২০০৭ (এবং ২০১০) সালের ন্যাশনাল এনসাইক্লোপেডিনের মতে হিন্দি বিশ্বের প্রায় ২৯৫ (এবং ৩১০) মিলিয়ন লোকের মাতৃভাষা এবং বিশ্বের সবথেকে বেশি ব্যবহৃত ভাষাসমূহের মধ্যে চতুৰ্থ। ১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের সংবিধান প্ৰস্তাবনা পরিষদে দেবনাগরী লিপিতে লিখা হিন্দিকে ভারতের সরকারি ভাষারূপে স্বীকৃতি দেয় বলে হিন্দি দিবস এই দিনে পালন করা হয়।  বাকী ভাষাসমূহ আঞ্চলিক সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহার হয়।

 

বিভিন্ন অনুষ্ঠান—-

 

বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান ছাড়াও, এই দিবসের কিছু উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হল:

হিন্দি দিবসে নতুন দিল্লীর বিজ্ঞান ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি,  হিন্দির সাথে সম্পৰ্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শিতার জন্য পুরস্কার প্রদান করেন।

বিভাগীয় মন্ত্ৰী, বিভাগ, সরকারি প্ৰতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে রাজভাষা পুরস্কার প্ৰদান করা হয়।

২৫ মার্চ ২০১৫ তারিখের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তার আদেশে হিন্দি দিবসে বার্ষিক দুটি পুরস্কারের নাম পরিবর্তন করেছে।  ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্দিরা গান্ধী রাজভাষা পুরস্কার’ ‘রাজভাষা কীর্তি পুরস্কার’ এবং ‘রাজীব গান্ধী রাষ্ট্রীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান মৌলিক পুস্তক লিখন পুরস্কার’ পরিবর্তিত হয়ে ‘রাজভাষা গৌরব পুরস্কার’-এ পরিবর্তিত হয়েছে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আজ কৌশিকী অমাবস্যা, জানুন কেন পালন করা হয় এই বিশেষ তিথি।

শাস্ত্র অনুযায়ী কৌশিকী অমাবস্যার গুরুত্ব অন্যান্য অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা হয়। এই বিশেষ তিথিতে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো করা হয় নিষ্ঠা ভরে। কৌশিকী অমাবস্যার অর্থ হল তারা নিশি। এই তিথি তন্ত্র সাধনার এক বিশেষ রাত। অমাবস্যার এই বিশেষ তিথিতে সাধক বামা ক্ষ্যাপা তারাপীঠের মহাশ্মশানের শিমূল গাছের তলায় মা তারার আরাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। মনে করা হয়, বিশেষ এই তিথিতে তারাপীঠে তারা মায়ের পুজো করলে সকল মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। এই কারনেই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে হাজার হাজার পূণ্যার্থী আসেন মায়ের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য। এদিন তারাপীঠের শ্মশান এক অন্য রূপ নেয়।
আবার আজকের এই দিনে দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা আজ বামদেবের সন্মুখে আবির্ভূত হন।

 

বামদেব পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে আজকের দিনেই সিদ্ধিলাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম জেলায় অবস্থিত তারাপীঠ এ আজ এই উপলক্ষ্যে বিশাল উৎসব  হয়, তারা দেবীকে বৌদ্ধ ধর্মের অন্তর্গত বজ্রযানে নীলসরস্বতীও বলা হয়। লোকে বিশ্বাস করে এই তিথিতে ভাত খেতে নেই।

 

কৌশিকী অমাবস্যা, অন্য সব অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা, কারণ তন্ত্র মতে ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষ। অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই দিনে করলে আশাতীত ফল মেলে। সাধক কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে। বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। তন্ত্র মতে এই রাতকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়৷ এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন৷
শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত মহা সরস্বতী দেবীর কাহিনীতে বলা আছে, পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করলে চতুরানন তাঁদের বর দেন, কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন এক নারী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি, তাঁর হাতেই এই দুই অসুর ভাই-এর মৃত্যু হবে। পৃথিবীতে এমন নারী কোথায়? আদ্যা শক্তি মহামায়াও মেনকা রানির গর্ভে জন্ম নিয়েছেন, তাই তিনিও ওঁদের নাশ করতে পারবেন না। তা হলে উপায়?
পূর্ব জন্মে পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষ যজ্ঞ স্থলে আত্মাহুতি দেন, তার কারণে এই জন্মে ওঁর গাত্র বর্ণ কালো মেঘের মতো। তাই ভোলানাথ তাঁকে কালিকা ডাকতেন। একদিন দানব ভাইদের দ্বারা পীড়িত ক্লান্ত দেবতারা যখন কৈলাশে আশ্রয় নিলেন, শিব সব দেবতাদের সামনেই পার্বতীকে বললেন, “কালিকা তুমি ওদের উদ্ধার করো।” সবার সামনে ‘কালী’ বলে ডাকায় পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও ক্রোধিত মনে মানস সরোবরের ধারে কঠিন তপস্যা করলেন।তপস্যান্তে শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো পরিত্যাগ করলেন ও পূর্ণিমার চাঁদের মতো গাত্র বর্ণ ধারণ করলেন। ওই কালো কোশিকাগুলি থেকে এক অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়। ইনি দেবী কৌশিকী। আজ সেই তিথি, যে দিন এই দেবীর উৎপত্তি হয় এবং তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা। আবার আজকের এই দিনে দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয়া স্তরের অন্যতম দেবী তারা মর্ত ধামে আবির্ভূত হন। বীরভুম জেলায় অবস্থিত তারাপীঠে এই উপলক্ষে বিশাল উত্‍সব হয়।
বলা হয়, এই অমাবস্যা তিথিতে ক্ষণিকের জন্য খুলে যায় স্বর্গ এবং নরক এই দুইয়েরই দ্বার। আর আমাদের জন্য তার যে কোনও একটি নির্দিষ্ট হয় কর্মফলের উপরে ভিত্তি করে, বিশেষত এই অমাবস্যা তিথিতে আমরা কী করেছি, তার উপরে ভিত্তি করে। দেবী তারা অল্পতুষ্টা, কিন্তু মহাঋষি বশিষ্ঠকে রীতিমতো নিয়ম মেনে তাঁকে সাধনা করতে হয়েছিল তারাপীঠে, তবেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী। তাই এই কৌশিকী অমাবস্যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কী কী করা উচিত আর কী একেবারেই পরিহার করা উচিত, জেনে রাখা জরুরি।

শুচিতা

যে কোনও সাধনারই মূল কথা হল শুচিতা- শুধু নিজের নয়, একই সঙ্গে স্থানেরও। তাই এই দিন যেমন নিজেকে, তেমনই পরিষ্কার রাখতে হবে ঘরবাড়ি। সকালে উঠে ঘর ধুয়ে-মুছে স্নান করে নিতে পারলে ভাল, না হলে দিনের যে কোনও সময়েই তা করে নেওয়া যায়। এর পরেই শুরু হবে আরাধনা।

সিঁদুর, জবা

মহাতিথির পূজায় কিন্তু মহা আড়ম্বরের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র সিঁদুর আর জবাফুল দেবীর পায়ে অর্পণ করলেই হল। চাইলে ওম তারে তুত্তারে তুরে স্বাহা বীজমন্ত্র জপ করা যায়।

আহারে সংযম

তন্ত্রের মূল ভিত্তি পঞ্চ ম-কার। সেই রীতি মেনে মায়ের ভোগে তারাপীঠে অবশ্যই দেওয়া হবে মৎস্যভোগ, নিবেদন করা হবে মদ। কিন্তু তন্ত্রে এর রয়েছে দার্শনিক গুরুত্ব। তাই দেবীকে দেওয়া হচ্ছে বলেই আমরা কিন্তু এদিন মাছ বা আমিষ, মদ কোনওটাই গ্রহণ করতে পারব না। উপবাসে থাকতে পারলে ভাল, না হলে নিরামিষ আহারে সংযম পালন করতে হবে।
কৌশিকী অমাবস্যায় ভুলেও আমিষ ভোজন করতে বারণ করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই দিনে আমিষ ভোজন করলে শরীরে নেগেটিভ এনার্জি বেড়ে যায়। এ দিন আমিষ ভোজন করলে চর্মরোগ এবং পেট-পাকস্থলী সম্পর্কিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, এমনটাই শাস্ত্রে বর্ণিত রয়েছে।

শারীরিক সংযম

পঞ্চ ম-কারের অন্যতম হল মৈথুন। কিন্তু গৃহস্থ যেহেতু তন্ত্রমতে আরাধনা করেন না, তাই এই তিথিতে শারীরিক সংযমে নিজেকে বাঁধতে হবে। মৈথুনে লিপ্ত হওয়া যাবে না। দৈবাৎ লিপ্ত হলে তা জীবনে বিড়ম্বনা ডেকে আনবে, গর্ভে সন্তান এলে তার জীবনও হয়ে উঠবে অশুভ।

দূরে যাত্রা নয়—

গর্ভবতী মহিলাদের এদিন বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়। কারণ এই নেগেটিভ এনার্জির প্রভাব গর্ভস্থ সন্তানের উপর পড়তে পারে। গেলে সঙ্গে রাখতে হবে তুলসিপাতা।

দীপদান–

দীপাবলি অমাবস্যার মতো কৌশিকী অমাবস্যাতেও দীপদানের রীতি আছে। এক্ষেত্রে দুটি তিলের তেলের প্রদীপ সন্ধ্যায় রাখতে হয় বাড়ির দরজার দুই পাশে, তা অশুভ শক্তিকে গৃহে প্রবেশে বাধা দেয়।

গোপন আচার—

বলা হয়, একটি জলশূন্য নারকেল নিয়ে, তাতে একটি ফুটো করে, সেই ফুটোর মধ্যে দিয়ে নারকেলে চিনি ভরে, ফুটো উপরের দিকে রেখে নারকেলটা যদি বাড়ি থেকে কিছু দূরে পুঁতে দেওয়া যায়, তবে জীবন থেকে সব বাধা দূর হয়। অসুবিধা হল- এই আচার পালন করতে হবে গোপনে, কেউ দেখে ফেলে লাভ হবে না।

দুধদান—

দীপদানের মতোই কৌশিকী অমাবস্যায় যদি কোনও কুয়ো বা গর্তে এক চামচ দুধ নিবেদন করা যায়, তবে তা জীবনে মঙ্গল বয়ে আনে।

তন্ত্র শাস্ত্রের ব্যাখা অনুযায়ী, এই তিথিতে মা তারার পুজো দিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে শত জন্মের পুন্যলাভ হয়। আর এই কারণেই তারাপীঠে এই তিথিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ পুজোর।

 

এই কৌশিকী অমাবস্যার দিন তান্ত্রিকরা তন্ত্র সাধনার জন্য বেছে নেন। এই সাধনা চলে গোটা রাত জুড়ে। তবে অনেকেই বলেন কৌশিকী অমাবস্যা নাকি ভীষণ জাগ্রত। এই দিনেই নাকি কিছুক্ষণের জন্য খুলে যায় স্বর্গের দরজা। এই নিয়েও রয়েছে অনেক কাহিনি।তন্ত্রের মাধ্যমেই সিদ্ধিলাভের আসায়  সারা রাত ধরে শ্মশানে তন্ত্র সাধনাতে মগ্ন হন সাধকরা। সারা রাত ধরে শ্মশানে চলা সাধনা ফলদায়ী হয়।  অনেকে বলেন শ্মশানের মধ্যে একটি হল মণিকর্ণিকা ঘাট। বিভিন্ন কারণের জন্যই কৌশিকী অমাবস্যার দিনটি আলাদা বলে ধরা হয়। এবং তারাপীঠের এই শ্মশানকেই বলা হয় মহাশ্মশান।

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ক্রিকেটের কিংবদন্তী, ক্রিকেটের বরপুত্র, শেন ওয়ার্ন এক বর্ণময় চরিত্রের নাম।

ক্রিকেট খেলা কেনা ভালোবাসে। আর যারা ক্রিকেট ভালোবাসেন তাদের কাছে শেন ওয়ার্ন এক অতি পরিচিত নাম। যেমন তার ক্রিকেট জীবন তেমনই বর্ণময় তার ব্যক্তিগত জীবন।

শেন কিথ ওয়ার্ন (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ – ৪ মার্চ ২০২২) ছিলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, যার ক্যারিয়ার ১৯৯২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত চলেছিল। ওয়ার্ন ভিক্টোরিয়া, হ্যাম্পশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের হয়ে ডানহাতি লেগ স্পিন বোলার এবং ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন।  খেলাধুলার ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে বিবেচিত, তিনি ১৪৫ টেস্টে উপস্থিত ছিলেন, ৭০৮ উইকেট নিয়েছিলেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে যে কোনো বোলারের সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন, এই রেকর্ডটি ২০০৭ সাল পর্যন্ত তার ছিল। ওয়ার্ন ছিলেন  ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ান দলের একজন সদস্য।
ওয়ার্ন ছিলেন একজন দরকারী নিম্ন-অর্ডার ব্যাটসম্যান যিনি ৩০০০-এর বেশি টেস্ট রান করেছিলেন, যার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৯৯। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ২০০৬-০৭ অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের শেষে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।  ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম চারটি মৌসুমে, ওয়ার্ন রাজস্থান রয়্যালস-এর একজন খেলোয়াড়-প্রশিক্ষক ছিলেন এবং উদ্বোধনী মৌসুমে দলকে জয়ের জন্য অধিনায়কত্ব করেছিলেন।  ওয়ার্ন তার কর্মজীবনে মাঠের বাইরে কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন;  তার নিন্দার মধ্যে একটি নিষিদ্ধ পদার্থের জন্য ইতিবাচক পরীক্ষার জন্য ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং যৌন অবজ্ঞার অভিযোগ এবং খেলাটিকে অসম্মানে আনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ওয়ার্ন তার লেগ স্পিনে দক্ষতার সাথে ক্রিকেট চিন্তায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, যাকে তখন একটি মৃতপ্রায় শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়।  অবসর গ্রহণের পর, তিনি নিয়মিত ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেন এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং বাণিজ্যিক পণ্য অনুমোদন করেন।  তার দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (MCG) এর বাইরে ওয়ার্ন বোলিংয়ের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে তাকে একটি রাষ্ট্রীয় স্মারক পরিষেবা দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল, সেইসাথে তার সম্মানে একটি গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড নামকরণ করা হয়েছিল।  ওয়ার্নকে ক্রিকেটে তার সেবার জন্য মরণোত্তর অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া (AO) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

 

জীবনের প্রথমার্ধ—

 

ওয়ার্ন ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ তারিখে মেলবোর্নের একটি শহরতলী ভিক্টোরিয়ার আপার ফার্নট্রি গালিতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ব্রিগেট এবং কিথ ওয়ার্নের পুত্র।  তার মা ছিলেন জার্মান।  মেন্টোন গ্রামারে যোগ দেওয়ার জন্য স্পোর্টস স্কলারশিপের প্রস্তাব পাওয়ার আগে তিনি হ্যাম্পটন হাই স্কুলে ৭-৯ গ্রেড থেকে পড়াশোনা করেছিলেন, যেখানে তিনি তার শেষ তিন বছর স্কুলে কাটিয়েছিলেন।

 

ঘরোয়া পেশা—

 

মেলবোর্নের জংশন ওভালে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভিক্টোরিয়ার হয়ে ০/৬১ এবং ১/৪১ নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১-এ ওয়ার্ন তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করেন।
ওয়ার্ন ২০০০ মৌসুমে ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য $৪০০,০০০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।  তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মৌসুমে হ্যাম্পশায়ারে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসেন। হ্যাম্পশায়ারের হয়ে তিনি তার মাত্র দুটি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করেন এবং ২৫.৫৮ গড়ে ২৭৬ উইকেট নেন।

 

টেস্ট ক্যারিয়ার—-

 

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ১৯৯২ সালের ২রা জানুয়ারি। ১৪৫ টি টেস্ট ম্যাচের ২৭৩ টি ইনিংসে তিনি ৭০৮টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়াও, লোয়ার অর্ডারে ১৯৯ ইনিংসে ব্যাট করে তুলেছেন ১২ টি হাফ সেঞ্চুরি। তার ইনিংস সেরা বোলিং ফিগার ছিলো ৮/৭১। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ৯৯ রান করেন। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ‪‎মুরালিধরন‬ তাকে টপকাবার আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

 

ওয়ানডে ক্যারিয়ার—

 

ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৯৩ টি উইকেট নেন তিনি। তার অসাধারণ পারফরমেন্সে অস্ট্রেলিয়া ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে, যেখানে তিনি সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

 

টি২০ ক্যারিয়ার—–

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পরে ওয়ার্ন আইপিএল ও বিগ ব্যাশে টি ২০ লীগ খেলতে থাকেন, তার নেতৃত্বেই রাজস্থান রয়েলস প্রথম আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে তার অধিনায়কত্ব প্রশংসিত হয়েছিল। বিগ ব্যাশে তিনি মেলবোর্ন স্টার্সের অধিনায়ক ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি বিগ ব্যাশ খেলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

 

ব্যক্তিগত জীবন—

 

ওয়ার্নের সম্পূর্ণ হেটেরোক্রোমিয়া ছিল, যার ফলস্বরূপ তার একটি চোখ নীল এবং অন্যটি সবুজ। ওয়ার্নের প্রাক্তন স্ত্রী সিমোন ক্যালাহানের সাথে তিনটি সন্তান ছিল।  দম্পতি ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিবাহিত ছিলেন। এর পরেও তিনি বহু সম্পর্কে জড়িয়ে বিতর্কে ছিলেন।

 

বিতর্ক—-

 

২০০৩ সালের বিশ্বকাপের আগে তার ক্রিকেট খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। বিশ্বকাপের আগে তার ডোপ টেস্টে ফলাফল পজিটিভ আসে, ২০০৪ সালে তিনি ক্রিকেটে ফিরেন, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আর ওয়ানডে না খেললেও টেস্ট খেলে যান।

 

সম্মাননা ও স্বীকৃতি—

 

২০০০ সালে শতাব্দীর সেরা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।  ২০০৭ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ওয়ার্ন ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের সম্মানে অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা টেস্ট ক্রিকেট সিরিজের নাম ওয়ার্ন-মুরালিধরন ট্রফি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

 

মৃত্যু—

 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২২-এর ৪ মার্চ থাইল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। একই দিনে মারা যান আরেক অস্ট্রে্লীয় ক্রিকেট তারকা রড মার্শ, যাকে ওয়ার্ন তার নিজের মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে একটি টুইট বার্তায় শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This