Categories
প্রবন্ধ

উৎপল দত্ত; কিংবদন্তী অভিনেতা এবং নাট্যকার, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভূমিকা—-

 

উৎপল দত্ত (২৯ মার্চ ১৯২৯ – ১৯ আগস্ট ১৯৯৩) বাংলা গণনাট্য আন্দোলনের সময়ে বিশিষ্ট অভিনেতা এবং নাট্যকার।তিনি একজন ভারতীয় অভিনেতা, পরিচালক এবং লেখক-নাট্যকার ছিলেন।  তিনি মূলত বাংলা থিয়েটারের একজন অভিনেতা ছিলেন, যেখানে তিনি আধুনিক ভারতীয় থিয়েটারে একজন অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন, যখন তিনি ১৯৪৯ সালে “লিটল থিয়েটার গ্রুপ” প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলটি অনেক ইংরেজি, শেক্সপিয়র এবং ব্রেখ্টের নাটক রচনা করেছিল, যা বর্তমানে থিয়েটার নামে পরিচিত।  “এপিক থিয়েটার” সময়কাল, এটি অত্যন্ত রাজনৈতিক এবং উগ্র থিয়েটারে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করার আগে।  তাঁর নাটকগুলি তাঁর মার্কসবাদী মতাদর্শের প্রকাশের জন্য একটি উপযুক্ত বাহন হয়ে ওঠে, যা কল্লোল (১৯৬৫), মানুষের অধিকার, লৌহা মনোব (১৯৬৪), টিনার টোলোয়ার এবং মহা-বিদ্রোহার মতো সামাজিক-রাজনৈতিক নাটকগুলিতে দৃশ্যমান।  এছাড়াও তিনি ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে ১০০ টিরও বেশি বাংলা ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং মৃণাল সেনের ভুবন শোম (১৯৬৯), সত্যজিৎ রায়ের আগন্তুক (১৯৯১),  চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।   এবং হৃষিকেশ মুখার্জির হিন্দি কমেডি যেমন গোল মাল (১৯৭৯) এবং রং বিরাঙ্গি (১৯৮৩)।  তিনি তাঁর মৃত্যুর কিছু আগে ১৯৯৩ সালে দূরদর্শনে ব্যোমকেশ বক্সীর (টিভি সিরিজ) সীমান্ত হীরার পর্বে একজন ভাস্কর স্যার দিগিন্দ্র নারায়ণের ভূমিকাও করেছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং তিনটি ফিল্মফেয়ার সেরা কমেডিয়ান পুরস্কার পান।  ১৯৯০ সালে, ভারতের ন্যাশনাল একাডেমি অফ মিউজিক, ড্যান্স অ্যান্ড থিয়েটার সঙ্গীত নাটক আকাদেমি তাকে তার সর্বোচ্চ পুরস্কার, থিয়েটারে আজীবন অবদানের জন্য সঙ্গীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপ প্রদান করে।

 

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা—-

 

উৎপল দত্ত বাংলা গণনাট্য আন্দোলনের সময়ে বিশিষ্ট অভিনেতা এবং নাট্যকার। উৎপল দত্ত ১৯২৯ সালের ২৯ মার্চ বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা গিরিজারঞ্জন দত্ত।  তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন।

 

ব্যক্তিগত জীবন–

 

১৯৬০ সালে, দত্ত থিয়েটার এবং চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শোভা সেনকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে, বিষ্ণুপ্রিয়া দত্ত, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিক্স, নয়া দিল্লিতে থিয়েটার এবং পারফরম্যান্স স্টাডিজের (‘Theater and Perfomance Studies’  at the ‘School of Arts & Asthetics’ ) একজন অধ্যাপক।

 

কর্মজীবন—

 

গণনাট্য আন্দোলন ছিল মূলত রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিফলন, মার্ক্সবাদ থেকে প্রণীত এক ধারা যেখানে মঞ্চ হয়ে ওঠে প্রতিবাদের মাধ্যম তিনি মঞ্চের কারিগর ,বাংলা মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন। তিনি শেক্সপিয়ার আন্তর্জাতিক থিয়েটার কোম্পানির সাথে ভ্রমণ করেছেন বেশ কয়েকবার। তাকে গ্রূপ থিয়েটার অঙ্গনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হিসাবে গন্য করা হয়। কৌতুক অভিনেতা হিসাবেও তার খ্যাতি রয়েছে।

তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র গুড্ডি, গোলমাল, শওকিন ও রং বিরঙ্গিতে (১৯৮৩) -তে অভিনয় করেছেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় হীরক রাজার দেশে, জয় বাবা ফেলুনাথ এবং আগন্তুক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মননশীল ছবি ছাড়াও অজস্র বাণিজ্যিক বাংলা ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উৎপল দত্ত।

 

রাজনৈতিক দর্শন—-

 

রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে তিনি ছিলেন বামপন্থী ও মার্ক্সবাদী।তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট মার্ক্সবাদী পার্টীর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর বামপন্থী চিন্তাধারার বিকাশ ঘটত থিয়েটারের মঞ্চে। সমসাময়িক সামাজিক ঘটনাবলি নিয়ে তিনি বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্হ করতেন। কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থনে বিভিন্ন পথনাটিকাকে তিনি মঞ্চস্থ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে কংগ্রেস সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে বেশ কিছু মাস কারাবাস ভোগ করতে হয়। উৎপল দত্তের বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রয়েছে টিনের তলোয়ার, মানুষের অধিকার ইত্যাদি।

 

 ‘দ্য শেক্সপিয়ারিয়ান্স’ থিয়েটার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা—

 

নিজের কেরিয়ারের প্রথমার্ধে বাংলা থিয়েটারে অভিনয় করলেও বেশ কিছু ইংরাজী থিয়েটারেও তিনি অভিনয় করেছেন। কৈশোর জীবনেই ১৯৪০ সালে উৎপল দত্ত ইংরাজী থিয়েটারের প্রতি বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সেখানে কাজ করতে করতেই তিনি একসময় প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য শেক্সপিয়ারিয়ান্স’ নামের এক থিয়েটার গ্রুপ।

 

উৎপল দত্ত রচিত নাটকের তালিকা—

 

তাঁর কাজ তাকে সাধারন মানুষের অনেক কাছে এনে দিয়েছিল। তাঁর নাটকগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। পূর্নাঙ্গ নাটক, পথ নাটিকা, যাত্রাপালা। বাংলা রাজনৈতিক নাটকের ইতিহাস সুপ্রাচীন। নীলদর্পণ থেকেই এই রাজনৈতিক নাটকের সূচনা। কিন্তু উৎপল দত্তকে বলতে হয় অবিমিশ্র রাজনৈতিক নাট্যকার। তাঁর সমস্ত নাটকের মধ্যেই থাকে সচেতন উদ্দেশ্য। পূর্ণাঙ্গ, একাঙ্ক, পথনাটক ইত্যাদি মিলে উৎপল দত্তের নাটকের সংখ্যা প্রায় সন্তরটি। বিষয়বস্তুর দিক থেকেও নাটকগুলি বিচিত্র, কিন্তু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সর্বত্রই সেখানে অতন্দ্র থেকেছে। মৌলিক এই নাটকগুলি ছাড়াও আছে অসংখ্য অনুবাদ নাটক। আরাে উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে উৎপল দত্ত কখনও শিল্পসৃষ্টির অজুহাতে বা শাসক শক্তির কোপদৃষ্টি থেকে আত্মরক্ষার জন্য কোনাে অস্পষ্টতা বা অবরণের আশ্রয় নেন নি। তার বক্তব্য স্পষ্ট, সুবােধ্য এবং অকুতােভয়।

 

লাল দূর্গ, বণিকের মাণদন্ড,  এংকোর (অনুবাদ গল্প), দিল্লী চলো, ছায়ানট(১৯৫৮), অঙ্গার(১৯৫৯), ফেরারী ফৌজ(১৯৬১), ঘুম নেই (১৯৬১), মে দিবস (১৯৬১), দ্বীপ (১৯৬১), স্পেশাল ট্রেন (১৯৬১), নীলকন্ঠ(১৯৬১), ভি.আই.পি (১৯৬২), মেঘ (১৯৬৩), রাতের অতিথি (১৯৬৩), সমাজতান্ত্রিক চাল (১৯৬৫), কল্লোল(১৯৬৫), হিম্মৎবাই (১৯৬৬), রাইফেল (১৯৬৮), মানুষের অধিকার (১৯৬৮), জালিয়ানওয়ালাবাগ (১৯৬৯), মাও-সে-তুং (১৯৭১), পালা-সন্ন্যাসীর তরবারি (১৯৭২), বৈশাখী মেঘ (১৯৭৩), দুঃস্বপ্নের নগরী(১৯৭৪), এবার রাজার পালা, স্তালিন-১৯৩৪, তিতুমির, বাংলা ছাড়ো, দাঁড়াও পথিকবর, কৃপান, শৃঙ্খলছাড়া, মীরকাসিম, মহাচীনের পথে, আজকের শাজাহান, অগ্নিশয্যা, দৈনিক বাজার পত্রিকা, নীল সাদা লাল, একলা চলো রে, ক্রুশবিদ্ধ কুবা, নীলরক্ত, লৌহমানব, যুদ্ধং দেহি, লেনিনের ডাক, চাঁদির কৌটো, রক্তাক্ত ইন্দোনেশিয়া, মৃত্যুর অতীত, ঠিকানা, টিনের তলোয়ার, ব্যারিকেড, মহাবিদ্রোহ, মুক্তিদীক্ষা, সূর্যশিকার, কাকদ্বীপের এক মা, ইতিহাসের কাঠগড়ায়, কঙ্গোর কারাগারে, সভ্যনামিক, নয়াজমানা, লেনিন কোথায়, সীমান্ত, পুরুষোত্তম, শৃঙ্খল ঝঙ্কার, জনতার আফিম, পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস, মধুচক্র, প্রফেসর মামালক, শোনরে মালিক, সমাধান, অজেয় ভিয়েতনাম, তীর।

 

পুরষ্কার এবং স্বীকৃতি—-

 

 

শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – জিতেছেন
১৯৭০ ভুবন শোম – ভুবন শোম

ফিল্মফেয়ার সেরা কমেডিয়ান পুরস্কার – জিতেছে
১৯৮০ গোল মাল – ভবানী শঙ্কর
১৯৮২ নরম গরম – ভবানী শঙ্কর
১৯৮৪ রং বিরঙ্গি – পুলিশ ইন্সপেক্টর ধুরন্ধর ভাতাওদেকর

বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড: সেরা অভিনেতার পুরস্কার- জিতেছেন
১৯৯৩ আগন্তুক – মনোমোহন মিত্র

ফিল্মফেয়ার সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার – মনোনীত৷
১৯৭৫ অমানুষ – মহিম ঘোষাল
১৯৮০ গোল মাল – ভবানী শঙ্কর
১৯৮৬ সাহেব – বদ্রী প্রসাদ শর্মা

উৎপল দত্ত ১৯৯০ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমী ফেলোশিপ পান থিয়েটার জগতে তাঁর অসামান্য অব্দানের জন্য।

 

মৃত্যু—–

 

যাত্রায়, নাটকে, সিনেমায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এ হেন প্রবাদ প্রতিম কিংবদন্তী অভিনেতা ১৯৯৩ খ্রীস্টাব্দের ১৯শে আগস্ট তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন তিনি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব মানবতা দিবস ও বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস, জেনে নেবো দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা ৷

 

(ক) বিশ্ব মানবতা দিবস।

 

মানবতাবাদীরা জীবন বাঁচাতে এবং রক্ষা করার জন্য একটি ভাগ করা মিশন দ্বারা একত্রিত হয়।  তারা মানবিক নীতির সাথে কখনই আপস করবে না এবং সর্বদা তারা যে লোকেদের সেবা করে তাদের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে।  যাইহোক, মানবিক কাজটি কঠিন এবং বিপজ্জনক, কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে এবং প্রয়োজনে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদানের জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি ত্যাগ করি না, #NoMatterWhat। এদের মূল নীতি হল মানবতা, নিরপেক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনতা।

 

জাতিসংঘের নির্দেশনায় প্রতি বৎসর ঊনিশে আগস্ট সারা বিশ্বে উদযাপিত হয় – বিশ্ব মানবতা দিবস (ইংরেজি: World Humanitarian Day)। যাঁরা চরম আত্মত্যাগ করে, মানব সেবায় ব্রতী হয়েছেন, যাঁরা মানব কল্যাণে, মানবের উন্নতি সাধনে নিজেদের জীবন উত্‍‌সর্গ করেছেন জাতিসংঘের ঘোষণা অনুসারে তাঁদের উদ্দেশ্যে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধায় পালিত হয় দিনটি।

 

প্রেক্ষাপট—-

 

১৯ আগস্ট ২০০৩-এ, ইরাকের বাগদাদের ক্যানাল হোটেলে বোমা হামলায় ২২ জন মানবিক সহায়তা কর্মী নিহত হয়, যার মধ্যে ইরাকের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি সার্জিও ভিয়েরা ডি মেলোও ছিলেন।  পাঁচ বছর পর, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯ আগস্টকে বিশ্ব মানবিক দিবস (WHD) হিসেবে মনোনীত করে একটি রেজোলিউশন গ্রহণ করে।
প্রতি বছর, WHD একটি থিমের উপর ফোকাস করে, মানবিক ব্যবস্থা জুড়ে অংশীদারদের একত্রিত করে সঙ্কটে আক্রান্ত মানুষের বেঁচে থাকা, মঙ্গল এবং মর্যাদার জন্য এবং সাহায্য কর্মীদের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার পক্ষে।
এই বছরের WHD-এর জন্য, আমরা মানবিক কাজের গুরুত্ব, কার্যকারিতা এবং ইতিবাচক প্রভাব দেখাই।
WHD হল জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের অফিস (OCHA)-এর একটি প্রচারাভিযান।

 

স্মৃতিরক্ষা—–

 

তার সেই মহান ব্রত যাতে থমকে না যায়, সেজন্য গঠিত হয়েছে সেরগিও ভিয়েরা দ মেলো ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগে এবং ফ্রান্স, সুইত্‍‌জারল্যান্ড, জাপান এবং ব্রাজিলের মতো সদস্য দেশের সহায়তায় সেরগিও ভিয়েরা দ মেলো ও তার সহকর্মীদের প্রয়াণ দিবসটিকে জাতিসংঘ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের A/63/L.৪৯ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুসারে “বিশ্ব মানবতা দিবস” হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে আগস্ট প্রথম বিশ্ব মানবতা দিবস পালিত হয়। তদনুসারে প্রতি বৎসর বিভিন্ন ভাবনায় তথা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে সারা বিশ্বে সদস্যদেশগুলি বিশ্ব মানবতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপন করে আসছে।

 

ভাবনার মূল লক্ষ্য—

 

সারা বিশ্বে কমবেশি তেরো কোটি মানুষ কেবল মানবিক সহায়তার উপর ভর করে বেঁচে আছে। এদের যদি এক সাথে দলবদ্ধ করে পৃথিবীর কোন স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয়,তাহলে সেটি পৃথিবীর দশম জনবহুল দেশ হিসাবে পরিগণিত হবে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তীব্র অরক্ষিত অবস্থার মধ্যে বসবাসকারী এমন অসহায় মানুষের জীবনে প্রয়োজন সেরগিও ভিয়েরা দ মেলো এর মত মানুষের একটু সাহায্যের হাতের পরশ। প্রতি বৎসর ভিন্ন ভিন্ন ভাবনায় প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে উদযাপিত হলেও আসল লক্ষ্য কিন্তু স্থির।

 

এই বছর, আমাদের বিশ্ব মানবিক দিবসের প্রচারণা বিশ্ব মানবিক সম্প্রদায়কে একত্রিত করে ইরাকের বাগদাদে জাতিসংঘের সদর দফতরে হামলার বিংশতম বার্ষিকী উপলক্ষে এবং আমরা যে সম্প্রদায়গুলিকে সেবা করি তাদের জন্য আমাদের অটল প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করতে, যেই হোক না কেন।
মানবতাবাদীদের জীবন বাঁচানো ও রক্ষা করা এবং জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা সরবরাহ করা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই, তারা যে সম্প্রদায়ের সেবা করে এবং আশা নিয়ে আসে তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়।
১৯ আগস্ট, আমরা বিশ্বজুড়ে মানবতাবাদীদের সম্মান জানাতে একত্রিত হই যারা ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে চেষ্টা করে।  বিপদ বা কষ্ট যাই হোক না কেন, মানবতাবাদীরা দুর্যোগ-পীড়িত অঞ্চলে গভীরভাবে এবং সংঘাতের প্রথম সারিতে, প্রয়োজনে মানুষকে বাঁচাতে এবং রক্ষা করার চেষ্টা করে।

 

 

(খ) বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস ৷

 

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস ডেগুয়েরোটাইপের উদ্ভাবনকে স্মরণ করে, একটি ফটোগ্রাফিক প্রক্রিয়া যা ১৮৩৭ সালে লুই ডাগুয়েরের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল যা ফটোগ্রাফির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।  দিনটি ফটোগ্রাফির শিল্প এবং বিজ্ঞানের জন্য উত্সর্গীকৃত।

প্রতি বছর ১৯ আগস্ট বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস পালিত হয়।

 

ইতিহাস:—

 

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস ১৯ আগস্ট, ১৮৩৯ তারিখে ফ্রেঞ্চ একাডেমি অফ সায়েন্সেস দ্বারা জনসাধারণের কাছে ড্যাগুয়েরোটাইপ প্রক্রিয়ার ঘোষণার স্মরণে।  আলো-সংবেদনশীল পৃষ্ঠে স্থায়ী ছবি তোলার প্রথম পদ্ধতির মধ্যে একটি ছিল ডাগুয়েরোটাইপ প্রক্রিয়া।
দিনটির উৎপত্তি ১৮৩৭ সালে যখন প্রথম ফটোগ্রাফিক প্রক্রিয়া, ‘ড্যাগুয়েরোটাইপ’ ফরাসী লুই ডাগুয়ের এবং জোসেফ নিসেফোর নিপস দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।  ৯ জানুয়ারী, ১৮৩৯-এ, ফ্রেঞ্চ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এই প্রক্রিয়াটি ঘোষণা করে এবং পরে একই বছরে, ফরাসি সরকার এই আবিষ্কারের জন্য পেটেন্ট কিনেছিল এবং এটি “বিশ্বকে বিনামূল্যে” উপহার হিসাবে দেয়।
যাইহোক, প্রথম টেকসই রঙিন ফটোগ্রাফটি ১৮৬১ সালে তোলা হয়েছিল এবং প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা আবিষ্কারের ২০ বছর আগে ১৯৫৭ সালে প্রথম ডিজিটাল ফটোগ্রাফ উদ্ভাবিত হয়েছিল তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।

 

তাৎপর্য:—

 

বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস ফটোগ্রাফিকে শিল্পের একটি বৈধ রূপ হিসাবে তুলে ধরে, ফটোগ্রাফারদের বিভিন্ন কৌশল, রচনা এবং শৈলী নিয়ে পরীক্ষা করতে উত্সাহিত করে।  এটি গল্প বলার, আবেগ ক্যাপচার এবং স্মৃতি সংরক্ষণে ফটোগ্রাফির শক্তির প্রশংসা করতে লোকেদের উত্সাহিত করে।
এটি ফটোগ্রাফির প্রযুক্তিগত দিক, সরঞ্জামের অগ্রগতি এবং ফটোগ্রাফিক কৌশলগুলির বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করার একটি দিন যখন ফটোগ্রাফার এবং উত্সাহীরা প্রায়শই তাদের প্রিয় ছবি, চিত্রগুলির পিছনের গল্প এবং তাদের সৃজনশীল প্রক্রিয়ার অন্তর্দৃষ্টিগুলি ভাগ করে।

 

উদযাপন:—

 

সারা বিশ্বের ফটোগ্রাফার এবং ফটোগ্রাফি উত্সাহীরা ফটো তোলার মাধ্যমে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তাদের কাজ ভাগ করে এবং ফটোগ্রাফি-সম্পর্কিত ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে দিনটি উদযাপন করে।  ফটোগ্রাফারদের প্রতিভা প্রদর্শন করতে, তাদের নৈপুণ্যের তাৎপর্য এবং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নথিপত্রে ফটোগ্রাফি যে ভূমিকা পালন করে তা প্রতিফলিত করার জন্য বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে অনেক ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, কর্মশালা এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

এই দিনে, জীবনের সমস্ত স্তরের লোকেরা ফটোগ্রাফি অফার করে এমন দৃশ্যের গল্প বলার প্রশংসা করতে একত্রিত হয় এবং ফটোগ্রাফারদের উদযাপন করে যারা এমন মুহূর্তগুলি ক্যাপচার করে যা অনুপ্রেরণা দেয়, অবহিত করে এবং আবেগকে উস্কে দেয় এবং তাদের কাজের প্রভাবকে স্বীকৃতি দেয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলার কয়েকটি দর্শনীয় স্থান (প্রথম পর্ব)।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  শিমলা। এখন আমরা জানব শিমলার কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

 

 

শিমলা  উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশের রাজধানী। উত্তরে মান্ডি এবং কুল্লু জেলা, পূর্বে কিন্নুর, দক্ষিণ-পশ্চিমে উত্তরখান্ড এবং সোলান-সিমুর জেলা দ্বারা পরিবেষ্টিত। ইংরেজ শাসনামলে শিমলাকে গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৭১ সাল থেকে শিমলা পাঞ্জাবের রাজধানী ছিল, পরে ১৯৭১ সালে হিমাচলের রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হয়। মাত্র দুই লক্ষ লোকের আবাস এই শিমলায়, যা ভারতের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার প্রাদেশিক রাজধানীও বটে।
শিমলা এর দর্শনীয় স্থানগুলো

 

 

ক্রাইস্ট চার্চ —

উত্তর ভারতের প্রাচীনতম গির্জাগুলোর মধ্যে একটি ক্রাইস্ট চার্চ। এটি দ্য রিজে অবস্থিত একটি সুন্দর নিও-গথিক শৈলীর চার্চ।  ক্রাইস্ট চার্চটি ১৮৪৪ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি উত্তর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম গির্জা। ক্রাইস্ট চার্চটি রিজ্-এ অবস্থিত এবং এটি তার এলিজাবেথীয় স্থাপত্য ও তার নকশায়িত কাঁচের জানলার জন্য পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও গির্জাটিতে একটি পাইপ অর্গান রয়েছে, যেটি দেশের সবচেয়ে এক অন্যতম বৃহৎ হিসাবে বিবেচিত হয়। জানালা, অলঙ্কৃত স্থাপত্য, এবং নির্মল পরিবেশ এখানে স্থাপত্য এবং ইতিহাস উত্‍সাহীদের জন্য এটিকে অবশ্যই দেখার মতো করে তোলে।

সেন্ট মাইকেল ক্যাথিড্রাল—-

সেন্ট মাইকেল চার্চ ১৮৫০ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটা শিমলার প্রথম ক্যাথলিক গির্জা। এটিতে পাঁচটি মার্বেলের বেদী আছে যেগুলি ১৮৫৫ সালে ইতালি থেকে আনা হয়েছিল। এছাড়াও গির্জাটিতে সুন্দর নকশায়িত কাঁচের জানলা রয়েছে, যেগুলি চোখদুটিকে উচ্ছাসিত করে তোলে।

জাখু মন্দির—

জাখু পাহাড়ে অবস্থিত সিমলার সর্বোচ্চ বিন্দু জাখু মন্দির একটি জনপ্রিয় মন্দির। জাখু পাহাড় হল শিমলার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং পারিপার্শ্বিক ভূ-প্রকৃতির এক অত্যাশ্চর্য নিদারুণ দৃ্শ্য পরিদর্শন করা যায় । পাহাড়ের চূড়ায় স্থিত জাখু মন্দির প্রভু হনুমানের প্রতি উৎসর্গীকৃত। স্থানীয় কিংবদন্তিদের অনুমান অনুযায়ী, সঞ্জীবনী ঔষধি বিদ্যমান এই পাহাড়টিকে তুলে নিয়ে আসার সময় প্রভু হনুমান এখানে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এর ফলস্বরূপ, এই স্থানটি একইভাবে ভক্ত এবং ভ্রমণকারীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মন্দিরটি থেকে সিমলা এবং আশপাশের পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে এই মন্দিরে যাওয়াই একটি দুঃসাহসিক কাজ।

সামার হিল—-

সিমলা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সামার হিল একটি নির্মল এবং মনোরম জায়গা, যা তার সবুজ ও নির্মল পরিবেশের জন্য পরিচিত। বাণিজ্যিক সিমলার শত ব্যস্ততা থেকে দূরে কোনও স্থান অন্বেষণকারী পর্যটকদের মধ্যে সামার হিল হল খুবই জনপ্রিয়। এর পথের চারপাশে ওক, সেডার, রডোডেনড্রন এবং আরোও অনেক গাছপালা বেড়ে উঠেছে। এখানে অবস্থিত ম্যানরভিল্যে ম্যানশন হল এই এলাকার সবচেয়ে বিখ্যাত ভবন, কারণ এটিই সেই জায়গা যেখানে মহাত্মা গান্ধী শিমলা ভ্রমণের সময় ছিলেন। এটি প্রকৃতির পদচারণা, পিকনিক এবং উপত্যকার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য একটি দুর্দান্ত স্থান।

দ্যা রিজ —

মল রোডের পাশে অবস্থিত দ্য রিজ একটি খোলা জায়গা, যা তুষারাবৃত হিমালয়ের প্যানোরামিক দৃশ্য দেখায়। রিজ একটি উন্মুক্ত স্থান, যেটি শিমলার সবচেয়ে বেশি কার্যকলাপ কেন্দ্র রূপে পরিচিত। দ্য রিজ্ বা শৈলশ্রেণীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক আছে এবং বেশ কিছু কার্যক্রম আয়োজনের পাশাপাশি এখান থেকে পার্শ্ববর্তী পর্বতগুলির এক সুন্দর দৃশ্য পরির্শনেরও সুযোগ দেয়। শহরের এই অংশটি শিমলার জনজীবনের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটির নীচের জলাশয় শহরের একটি প্রধান অংশে জল সরবরাহের দায়ভারে রয়েছে।অবসরে হাঁটা, পিকনিক এবং সিমলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এটি একটি জনপ্রিয় স্থান।

ম্যাল রোড —

সিমলার সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণগুলোর মধ্যে একটি মল রোড। এটি দোকান, রেস্তোরাঁ এবং ঔপনিবেশিক যুগের ভবনে পূর্ণ একটি ব্যস্ত রাস্তা। শিমলার বিপূল সংখ্যক ল্যান্ডমার্ক এখানে অবস্থিত হওয়ায়, ম্যাল রোড পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও এখানে বেশ কিছু রেস্তোঁরা, ক্লাব, বার ও দোকান অবস্থিত হওয়ায় এটি শিমলার বাণিজ্যিক কেন্দ্রস্থল হিসাবেও বিবেচিত হয়। যেকোনও ক্রেতাদের জন্য ম্যাল রোড স্বর্গোদ্যানের ন্যায়।মল রোড অবসরে হাঁটা, স্থানীয় হস্তশিল্প কেনাকাটা করার এবং আশপাশের পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করার জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা।

 

 

 

 

ভ্যাইসরিগেল লজ—

অবসারভেটারী পাহাড়ের উপর অবস্থিত ভ্যাইসরিগেল লজ।এটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবেও পরিচিত। ১৮৯৮ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি ভারতের ভাইসরয়, লর্ড ডাফরিনের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত। বর্তমানে এই স্থানটি হল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ আ্যডভান্স স্টাডিজ। লজটি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের এক অত্যাশ্চর্য দৃ্শ্য পরিদর্শনেরও সুযোগ দেয়। ভাইসারেগাল লজ হলো একটি ঐতিহাসিক ভবন, যা ঔপনিবেশিক যুগে ব্রিটিশ ভাইসরয়ের গ্রীষ্মকালীন বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৮ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১৮ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯৮০ – এস্তেবান কাম্বিয়াসো, সাবেক আর্জেন্টিনীয় ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৮৩ – ক্যামেরন হোয়াইট, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ও মেলবোর্ন স্টার্সের অধিনায়ক।

১৯৯৩ – মিয়া মিচেল, কজন অষ্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী এবং গায়িকা।

১৯০০ – বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত, ভারতীয় কূটনৈতিক, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারতের প্রথম মহিলা সভাপতি।

১৯০৮ – বিল মেরিট, নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।

১৯২৭ – রোজালিন কার্টার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারের সহধর্মণী।

১৯৩৩ – রোমান পোলান্‌স্কি, পোল্যান্ডীয় চলচ্চিত্র পরিচালক।

১৯৩৩ – জুস্ত ফোঁতেন, ফ্রান্সের সাবেক ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৩৪ – গুলজার, প্রখ্যাত ভারতীয় কবি, সুরকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক।

১৯৩৫ – গেইল ফিশার, আমেরিকান অভিনেত্রী।

১৯৩৬ – রবার্ট রেডফোর্ড, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক।

১৯৫৪ – ভিকে শশিকলা, ভারতীয় ব্যবসায়ী মহিলা রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন

১৯৪৮ – ফারুক, বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ।

১৯৪৯ – সেলিম আল দীন, বাংলাদেশী নাট্যকার, গবেষক।

১৯৫৬ – সন্দ্বীপ পাতিল, ভারতের সাবেক ও প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৯৬৭ – দলের মেহেন্দী, ভারতীয় কন্ঠশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, লেখক, প্রযোজক, সম্পাদক এবং পরিবেশবিদ।

১৯৬৯ – এডওয়ার্ড নর্টন, মার্কিন অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, ও সমাজকর্মী।

১৭০০ – প্রথম বাজিরাও, একজন প্রসিদ্ধ ভারতীয় সেনাপতি।

১৭৫০ – আন্তোনিও সালিয়েরি, ইতালীয় ধ্রুপদী সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং শিক্ষক।

১৭৯৪ – জন ক্লার্ক মার্শম্যান ইংরেজ সাংবাদিক ও ঐতিহাসিক, জনপ্রিয় সংবাদপত্র “ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া” র প্রকাশক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৮ – পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুশাররফ চাপের মুখে পদত্যাগ করেন।

১৯৪৫ – তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু নিহত হন বলে সংবাদ প্রচারিত হয়।

১৯৫৮ – ব্রজেন দাস প্রথম বাঙালি ও প্রথম এশীয় হিসাবে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতার কেটে অতিক্রম করেন।

১৯৫৮ – ব্লাদিমির নবোকভের বিখ্যাত ও বিতর্কিত উপন্যাস ‘ললিতা’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ হয়।

১৯৬১ – বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর কার্যক্রম শুরু হয়।

১৯৬৩ – জেমস মেরেডিথ প্রথম কালো নাগরিক যিনি মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭১ – ভিয়েতনাম যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তাদের সেনা দল ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৭৪ – ভারত পাকিস্তান সীমান্তবর্তী রাজস্থান প্রদেশের মরুভূমিতে প্রথম পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায় ।

১৮০০ – লর্ড ওয়েলেসলি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করেন।

১৮০৪ – ফ্রান্সের সংসদ সিনেটে এক আইন পাশের মধ্য দিয়ে নেপোলিয়ান বেনাপোর্ট সেদেশের সম্রাট হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেন ।

১৮১২ – স্মোলেনস্কের যুদ্ধে রুশরা নেপোলিয়ানের কাছে পরাজিত হন।

১৮৩০ – ফ্রান্স আলজেরিয়া দখলের জন্য ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ।

১৫৮৭ – আমেরিকায় প্রথম ইংরেজ শিশু ভার্জিনিয়া ডেয়ারের জন্ম।

১২০১ – রিগা শহর প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৯ – কিম দায়ে জং, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

২০১৫ – শুভ্রা মুখোপাধ্যায়, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী।

১৯৪৫ – সরলা দেবী চৌধুরানী, বিশিষ্ট বাঙালি বুদ্ধিজীবী।

১৯৪৫ – সুভাষচন্দ্র বসু, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক চিরস্মরণীয় কিংবদন্তি নেতা।

১৯৬৮ – মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ, একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।

১৯৬৯ – হুমায়ুন কবির, ভারতীয় বাঙালি শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক।

১৯৭৫ – শওকত আলী, রাজনীতিবিদ এবং বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন অন্যতম নেতা।

১৯৮০ – দেবব্রত বিশ্বাস, স্বনামধন্য ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়ক ও শিক্ষক।

১৯৯৮ – পার্সিস খামবাট্টা, একজন ভারতীয় মডেল ও অভিনেত্রী।

১৮৫০ – অনরে দ্য বালজাক, ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক এবং নাট্যকার।

১৮৯৮ – রামতনু লাহিড়ী, বাঙালি সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাসংগঠক।

১৬৪৮ – ইব্রাহিম (উসমানীয় সুলতান), অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান ছিলেন।

১২২৭ – চেঙ্গিজ খান, প্রধান মঙ্গোল রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা বা মহান খান, ইতিহাসেও তিনি অন্যতম বিখ্যাত সেনাধ্যক্ষ ও সেনাপতি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

লুকিয়ে থাকা একটি স্মৃতি : শীলা পাল।

জায়গাটার নাম লুকলা।নেপালের বিশাল বিশাল পাহাড়ের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা গ্রামের এটি একটি ছোট্ট গ্রাম।কিখেয়াল হলো কাঠমান্ডু তো অনেক বার ঘোরা হলো এবারে ছোট ছোট ফ্লাইটে এই গ্রাম গুলো ঘুরে দেখার। একঘন্টা ও লাগলো না আমরা একেবারে হিমালয়ের গহনে চলে এলাম ।দুটো পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে দশ বারো জন যাত্রী নিয়ে ছোট ছোট প্লেনগুলো
আসে।দিনে দু তিন বার। এতো সরু নামার পথ ভয় হয় এইবুঝি পাহাড়ের ধাক্কা লেগে যাবে ।কিন্তু নিয়মিত এই পরিবহণ ব্যবস্থা চলেছে।যেমন কাঠমান্ডু থেকে পোখরা বা জুমসুং এটিও তাই।প্রায় কুড়ি বছর আগের কথা বলছি।শুনেছি ওখান থেকে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে যাওয়া শুরু হয়। তখন আমার একান্ত প্রিয় মানুষ টি আমার সঙ্গী ছিলেন ।আমরা দু জনে থাকলে পৃথিবীর যে কোন জায়গাতেই ইচ্ছে হলে চলে যেতাম। তখন লুকলার সন্ধান পেয়ে ঐখানে যাওয়া ই মনস্থ করলেন ।অনেক অনেক পাহাড়ে ঘুরেছি এতো নির্জন বিচ্ছিন্ন পাহাড়ে কখনও যাই নি।তখন দুটি হোটেল ছিল নাম মনে নেই।একদম খালি ।সব অভিযাত্রী দল বেরিয়ে গেছে।ওরাই হোটেল দুটিতে থাকেন ।সবাই চলে গেছে অভিযানে।আমরা খুব সহজেই সুন্দর আপ্যায়ন পেলাম।ম্যানেজার আমাদের মতো ট্র্যাভেলার পেয়ে ভীষণ খুশী ।সাধারণত এরকম ট্র্যাভেল কেউ করে না।ওনার সাথে সারাদিন বসে কতো গল্প শুনে আমাদের এই নির্জন পাহাড়ের দিনগুলো এতো মোহনীয় হয়ে উঠেছিল আজ এতোবছর পরেও স্মৃতি অম্লান হয়ে আছে ।
এতো সুন্দর পাহাড়ের রূপ আগে দেখিনি ।যেন বিশাল হিমালয়ের একদম
অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লাম।চারিদিক পাহাড়ে পাহাড়ে ঘেরা তার মাঝে ছোট্ট একটি গ্রাম ।লুকলা এয়ারপোর্টে বললে
ঠিক বলা হবে না।ছোট্ট প্লেনটি কোনমতে হেলে দাঁড়িয়ে পরে।ওই ঝুলন্ত
অবস্থায় যাত্রীরা নামা ওঠা করে।চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না ।বিশ্বের
একমাত্র বিপজ্জনক এয়ারপোর্টে নামে খ্যাত এই লুকলা এয়ারপোর্টে ।
।এখানে সাধারণত
গ্রামবাসী আর এভারেস্ট অভিযাত্রী রাই আসেন ।এখান থেকেই শুরু হয় এভারেস্ট বেস ক্যাম্প যাত্রা । অভিযাত্রীরা এখান থেকেই ট্রেকিং শুরু করেন।এখন অবশ্য এয়ারপোর্ট হয়ে গেছে ‘তেনজিং নোরগে এয়ারপোর্ট’। আমি পঁচিশ তিরিশ বছর আগের কথা বলছি।যখন শুধুই নাম শুনেছি।গুগুল ছিল না ইন্টারনেট ছিল না কেবল ম্যাপ দেখে দেখে ঘুরে বেড়িয়েছি।একটা নেশার মতো পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে এতো আনন্দ পেতাম আজ এই স্মৃতি যে কী মধুর বুঝতে পারছি।
আমার লেখা কিন্তু অন্য প্রসঙ্গে চলে যাবে এখুনি ।যার জন্য এতো রাতে কলম ধরেছি।বেশ মধুর আতিথেয়তা তে দিন কটি কাটছে।নেপালী মালিক আমাদের দু জনের জন্য তাঁর হোটেলের সেরা সেরা পদ রান্না করে খাওয়াচ্ছেন।কী যে যত্ন করেছিলেন তা বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা চলে আসার আগের দিন একটি মহিলা অভিযাত্রী দল ফিরলো।আমরা আমাদের ঘর থেকেই দেখলাম শ্রান্ত বিধ্বস্ত দলটি সামনের সবুজ লনে হাত পা ছড়িয়ে অনেক ক্ষণ চোখ বুজে শুয়ে রইলো।ঘোড়াওলা কুলীরা সব মালপত্র রেখে কোথায় চলে গেল ।সুইস অভিযাত্রী ।সব মেম সাহেব ।আমার খুব ওদের দেখতে ভালো লাগছে ।কী সুন্দর সব দেখতে।তখনও অভিযানের পোষাক গড়া।আমি অবাক হয়ে দেখছি।তুমি এসে বললে এই পাগলী এখনও দাঁড়িয়ে আছো।ব্রেকফাস্ট করতে হবে তো।না এদের দেখেই পেট ভরে যাবে ।চলো ম্যানেজার ডাকছে।আজ নতুন কি একটা খাওয়াবে।আমি লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি ওর সঙ্গে ডাইনিংহলে গেলাম।কিন্তু চোখে ওই পরিশ্রান্ত সুন্দর মুখগুলো লেগে রইলো ।
তারপর আর ওদের দেখিনি।বিকেল বেলা চা দিতে এসে বেয়ারা বললো ম্যানেজার সাব আপনাদের ডেকেছেন । চা খেয়ে আমরা ওনার ঘরে গেলাম ।বিশাল ঘরে চারিদিকে কাচের বড় বড় জানালা ।সামনে পাহাড়ের নীচে বিস্তৃত সবুজের ময়দান। একঝলক দেখে মনে হলো এতো সুন্দর ও হতে পারে! উনি বসেছিলেন । আমরা ঢুকতেই আইয়ে দিদি আইয়ে দাদা বলে উঠে এসে ভেতরে জানালার ধারে সোফাতে বসালেন ।আমাকে বললেন দিদিকে দেখে আমার মনে হয়েছে দিদির মনে অনেক প্রশ্ন আছে এই মহিলা অভিযাত্রীদের নিয়ে।আমার তাই মনে হলো এটা দিদিকে দেখাই।পরে বুঝলাম এবারেগাইড পোর্টারদের সঙ্গে অভিযাত্রীনীদের বিদায়ের পালা।সে যে কী বিরল দৃশ্য ।সবাই কাঁদছে জড়াজড়ি করে।একটি খুব সুন্দরী বয়সও সবার থেকে কম ও তো ওর গাইডকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে চুমোয় চুমোয় ভরে দিচ্ছে ।সবার বিদায়।পালা শেষ হয়ে গেল । ওর আর শেষ হয়না।যেন অনন্ত কাল এই ভাবেই থাকবে।আর তার সঙ্গে কান্না ।চোখের জলে দুজনেই ভেসে যাচ্ছে । এরকম একাত্ম হয়ে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে আছে সমস্ত বিশ্ব পৃথিবী ভুলে। আমি অবাক হয়ে দেখতে দেখতে ভাবছি এই কালো রোগা ছেলেটির মধ্যে কী পেল এতো কষ্ট ছেড়ে যেতে ! আমার মনটা ও কেমন খারাপ হতে লাগলো ।তখন ঐ দাদা বললেন অনেক দিন ভয়ংকর পরিবেশে পাশাপাশি থাকতে থাকতে কতো বিপদের মুহূর্তে প্রান দিয়ে যখন ওদের আগলে রাখে সেই মুহূর্ত গুলো ওরা ভুলতে পারে না ।ওদের ওপর অগাধ ভরসা আর বিশ্বাস করতে করতে কখন যে ভালোবেসে ফেলে বুঝতেও পারে না।এই ছেড়ে যাওয়ার সময়ে ওদের প্রচন্ড কষ্ট হয় দিদি। আমি তো অনেক দেখেছি কী পুরুষ কী মহিলা কদিনের সফরে ওরা অভিন্ন হৃদয় হয়ে যায়।তাই এই চলে যাওয়াটা বড়োই বেদনার দিদি।আমি চুপ করে বসে থাকি ।তখনও ওরা দুজন দুজনকে এক ভাবে ধরে আছে।আমার বুকের মধ্যে কেমন একটা কষ্ট হতে লাগলো ।যেন আমার কোনও প্রিয়জন ছেড়ে চলে যাচ্ছে । যার সঙ্গে আর জীবনে কোনও দিন দেখা হবে না।
কতো কী জানা ছিলো না দেখা ছিলো না।এই লুকলা একটা সম্পূর্ণ অচেনা জগতের ছবি উপহার দিয়েছিল। আমার প্রিয় মানুষ টি আজ আমার কাছে নেই।অনেক দূরে আমায় রেখে চলে গেছে।আমি জানি এখন সে আমার সাথে লুকলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমার কাঁধে হাত রেখে সেই বিদায়বেলার করুণ দৃশ্য টি দেখতে দেখতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কান্নার শেষ হয় কি? আমার জানা নেই। ।

আমার পাহাড়ের একটি স্মৃতি সবার সাথে শেয়ার করলাম ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ব্রিটিশ শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।ব্রিটিশ শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী। লোকে যাকে মহারাজ বলে ডাকে। বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কারণে অগ্নিযুগে যে কয়েকজন মানুষ ভারতবর্ষে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন, ব্রিটিশ শাসকদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী তাদের অন্যতম।

 

ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী।

 

জন্ম —

 

বাংলার নির্যাতিত-নিপীড়িত, মুক্তিকামী মানুষের প্রিয় মহারাজের জন্ম ১৮৮৯ সালের ৫ মে তদানীন্তন ময়মনসিংহ জেলা, বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার কাপাসাটিয়া গ্রামে। এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম হয় তার। তার পিতার নাম দুর্গাচরণ চক্রবর্তী এবং মাতার নাম প্রসন্নময়ী। এঁদের পঞ্চম সন্তান ছিলেন ত্রৈলোক্যনাথ। তার পিতাও স্বদেশী আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন।

 

শিক্ষাজীবন—

 

১৯০৫ সালে ত্রৈলোক্যনাথ বছরখানেক ধলা হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯০৬ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সময় তার অনুজ চন্দ্রমোহন চক্রবর্তী তাকে সাটিরপাড়া হাই স্কুলে ভর্তি করে দেন। প্রবেশিকা পরীক্ষার ঠিক আগে ১৯০৮ সালে বিপ্লবী কাজের জন্য গ্রেপ্তার হলে প্রথাগত শিক্ষার ইতি হয়। সেসময় সাটিরপাড়া স্কুলে দুজন শিক্ষক ছিলেন মহিম চন্দ্র নন্দী এবং শীতল চক্রবর্তী। মহিম চন্দ্র নন্দী বিলাতী লবণ ফেলার অপরাধে ঢাকা জেলে বন্দি ছিলেন কিছুদিন। ১৯০৯ সালে ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী প্রথমবার জেল থেকে ছাড়া পেলে জেলগেটে শীতল চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

 

কর্মজীবন—

 

মহান এই বিপ্লবীকে সবাই পছন্দ করতেন। প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পর্যন্ত তাকে সমীহ করতেন। স্বাধীনতা ব্রিটিশদের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনতে জীবনের সবটুকু সময় বিসর্জন দিয়েছেন ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী। বছরের পর বছর জেলে বন্দি থাকা থেকে শুরু করে অসহনীয়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে হয়েছে তাকে। তবু আদর্শিক অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেননি। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার বিপুল উদ্যমে সংগঠনের কাজ করেছেন অকুতোভয় মহারাজ। ১৯০৬ সালে অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন। জাতীয়ভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যায়াম প্রতিষ্ঠান গঠন করে নিজ জেলায় বিপ্লবী ঘাঁটি তৈরি করতে থাকেন। ১৯০৯ সালে ঢাকায় আসেন এবং ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলায় পুলিশ তার সন্ধান শুরু করলে আত্মগোপন করেন। এ সময়ে আগরতলায় উদয়পুর পাহাড় অঞ্চলে গিয়ে ঘাঁটি তৈরি করেন। ১৯১২ সালে গ্রেপ্তার হন। পুলিশ একটি হত্যা মামলায় জড়ালেও প্রমাণের অভাবে মুক্তি পান। ১৯১৩-১৪ সালে মালদহ, রাজশাহী ও কুমিল্লায় ঘুরে গুপ্ত ঘাঁটি গড়তে থাকেন।

 

আন্দামান জেল—

 

ব্যক্তি পর্যায়ে মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। অসাধারণ এক ব্যক্তিত্বগুণে তিনি তা অর্জন করেছেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বিশ্ববরেণ্য নেতারা তাকে স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন।

১৯১৪ সালে পুলিশ তাকে কলকাতায় গ্রেপ্তার করে বরিশাল ষড়যন্ত্র মামলার আসামিরূপে আন্দামানে সেলুলার জেলে পাঠায়। পুলিনবিহারী দাস এবং তিনি উভয়েই ছিলেন অনুশীলন সমিতির প্রথম যুগের নেতা যারা সেলুলার জেলে বন্দি ছিলেন। ত্রৈলোক্যনাথ ১৯২৪ সালে জেল থেকে মুক্তি পান।
মুক্তির পর দেশবন্ধু চিত্ত রঞ্জন দাশের পরামর্শে দক্ষিণ কলকাতা জাতীয় বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯২৭ সালে গ্রেপ্তার হয়ে বার্মার মান্দালয় জেলে প্রেরিত হন। ১৯২৮ সালে তাকে ভারতে এনে নোয়াখালী হাতিয়া দ্বীপে অন্তরীণ করে রাখা হয়। ঐ বছরই মুক্তি পেয়ে উত্তর ভারতে যান এবং চন্দ্রশেখর আজাদ প্রমুখের সংগে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মিতে যোগ দেন। পরে বিপ্লবী দলের আদেশে বার্মার বিপ্লবীদের সংগে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে বার্মায় যান। ১৯২৯ সালে লাহোর কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৩০ সালে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৩৮ সালে মুক্তি পান।

 

সুভাষ চন্দ্র বসু এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কাজ—-

 

তিনি সেই বছরেই সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে যোগাযোগ করে রামগড় কংগ্রেসে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সিপাহি বিদ্রোহ ঘটাবার চেষ্টায় ভারতীয় সৈন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সুবিধা করতে পারেননি। এ সময়ে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হন। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৪৬ সালে মুক্তি পান।

 

পাকিস্তানকালীন কর্মজীবন—-

 

অসামান্য দেশপ্রেমিক এই মানুষটি ব্রিটিশ শাসনের সময় তিরিশ বছর জেল খেটেছেন। আত্মগোপনেও থেকেছেন পাঁচ-ছয় বছর। এর পর স্বাধীন দেশেও তাকে অত্যাচার- নির্যাতন সইতে হয়েছে। পাকিস্তান সরকার তাকে কারান্তরীণ করেছে। আজীবন অকৃতদার মহারাজ মানুষের জন্য একটি গণতান্ত্রিক সমাজ, উন্নত সমাজ নির্মাণের জন্য আমৃত্যু লড়াই করেছেন।১৯৪৬ সালেই নোয়াখালীতে সংগঠন গড়বার চেষ্টা করেন। স্বাধীনতালাভের পর পূর্ব পাকিস্তানে নাগরিক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ১৯৫৪ সালে সংযুক্ত প্রগতিশীল দলের প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান এসেম্বলিতে নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৫৮ সালে তার নির্বাচন অগ্রাহ্য হয় এবং রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ এমনকি সামাজিক কাজকর্মেও তার ওপর বাধা আরোপ করা হয়। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় খোদ নিজের নিজের দেশের সরকারই এই বৃদ্ধ বিপ্লবীকে আবার কারারুদ্ধ করে। সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হওয়া বৈমাতৃসুলভ ব্যবহারের বিস্মৃত ও ব্যথিত হন তিনি। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত স্বগ্রামে প্রকৃতপক্ষে নির্জনবাস করেন।

 

জীবনসায়াহ্নে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারত যান ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী। প্রথমে অসম্মতি জানালেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ তদারকিতে ভিসা দিতে সম্মত হয় পাকিস্তান সরকার। ১৯৭০ সালের ২৪ জুন যশোরের বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে মহারাজ ভারতে প্রবেশ করেন। এ সময় সীমান্তে উপস্থিত ভক্তরা অশ্রুসজল নয়নে তাকে বিদায় জানান। ভারতে পৌঁছে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। পুরোনো বন্ধু, সহযোদ্ধা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করেন। সফরে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ হয় ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে। সেখানে পাকিস্তানি শাসক দ্বারা নির্যাতিত পূর্ব-বাংলার মানুষের পাশে থাকার জন্য ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান। তবে সে আহ্বান প্রকাশ্যে ছিল না। মহারাজকে শ্রদ্ধা করতেন বাংলার আরেক স্বাধীনতাকামী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পূর্ব বাংলার স্বাধীনতাকামী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তিনি আলোচনা করেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তার পাশে থাকার জন্য তাদের পরামর্শ দেন মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ। প্রায় ৪৭ দিনের ভারত সফরের প্রতিটি দিন পার করেছেন ব্যস্ততার সঙ্গে। ভারতের পার্লামেন্টে তিনি ভাষণ দেন। মৃত্যুর তিন দিন আগে ১৯৭০ সালের ৬ আগস্ট দিল্লির পার্লামেন্টে এমপিদের সংবর্ধনার উত্তরে তিনি এই ভাষণ প্রদান করেন। অবশেষে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ৯ আগস্ট রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমান মহারাজ।

 

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ—

 

মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী কেবল বিপ্লবী ছিলেন না। তিনি একাধারে লেখক, কবি, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্নেষক। তিনি যেমন কবিতা লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন গীতার ভাষ্য। লিখেছেন জেলখানার অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও সংকট নিয়ে। স্কুলের জন্য পাঠ্যবইও রচনা করেছেন। সবকিছু ছাপিয়ে ‘জেলে ত্রিশ বছর ও পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বইটির জন্য তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কালের বিবর্তনে গ্রন্থটি অগ্নিযুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে।।।

তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ১৬ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ১৬ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৪ – ওয়েন্ডেল মেরেডিথ স্ট্যানলি, মার্কিন রসায়নবিদ এবং ভাইরাসবিদ।

১৯১৩ – মেনাখেম বেগিন, ইসরায়েলের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।

১৯৩০ – ইংরেজ কবি ট্রেড হিউজ।

১৯৪৬ – মাসউদ বারজানি, ইরাকে স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিশ সরকারের রাষ্ট্রপতি এবং কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান নেতা।

১৯৫০ – জেফ থমসন, সাবেক ও বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট তারকা।

১৯৫৪ – জেমস ক্যামেরন, একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী কানাডীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্য লেখক।

১৯৫৮ – ম্যাডোনা, আমেরিকান গায়ক-গীতিকার, প্রযোজক, অভিনেত্রী, এবং পরিচালক।

১৯৬০ – টিমোথি হাটন, আমেরিকান অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক।

১৯৬২ – স্টিভ কারেল, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার।

১৯৬২ – আইয়ুব বাচ্চু, বাংলাদেশী সঙ্গীত শিল্পী।

১৯৬৬ – তারানা হালিম, বাংলাদেশী টেলিভিশন অভিনেত্রী, নাট্য পরিচালক, লেখক, আইনজীবী এবং সমাজকর্মী।

১৯৬৮ – অরবিন্দ কেজরীওয়াল, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, ভারতীয় রাজস্ব সেবার প্রাক্তন কর্মকর্তা, দিল্লির সপ্তম মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৭০ – সাইফ আলি খান, ভারতীয় অভিনেতা এবং প্রযোজক।

১৯৭০ – মনীষা কৈরালা, ভারতীয় অভিনেত্রী।

১৯৭৪ – শিবনারায়ণ চন্দরপল, সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার।

১৯৮০ – শাহিদা বেগম, কক্সবাজারের শ্রেষ্ঠ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষিকা।

১৯৯৭ – গ্রেসন চ্যান্স, আমেরিকান সংগীতশিল্পী।

১৮২১ – আর্থার কেলি, ব্রিটিশ গণিতবিদ।

১৮৪৫ – গাব্রিয়েল লিপমান, ফরাসি-লুক্সেমবার্গীয় পদার্থবিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক।

১৮৬০ – মার্টিন হক, ইংরেজ শৌখিন ক্রিকেট তারকা ও অধিনায়ক।

১৮৮৮ – টমাস এডওয়ার্ড লরেন্স, ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ব বিশারদ, সামরিক নীতি নির্ধারক ও লেখক।

১৮৯২ – মার্কিন কার্টুনিস্ট অটো মেসমার।

১৮৯৫ – অস্ট্রিয়ান অভিনেত্রী লিয়ান হেইড।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৮ – গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে পুরুষদের ৫০ মিটার ও মহিলাদের ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতার প্রতিযোগিতা শেষ হয়। মহিলাদের ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতার প্রতিযোগিতার ফাইনালে যুক্তরাজ্যের রেবেকা অ্যাডলিংটন হিটে তার করা নতুন অলিম্পিক রেকর্ড আবার ভেঙ্গে ৮:১৪.১০ সময়ে নতুন অলিম্পিক তথা নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন।

১৯০৪ – নিউ ইয়র্কে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনের নির্মাণ কাজ শুরু।

১৯৪৬ – মুসলীম লীগ ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে পালনের সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কলকাতা দাঙ্গা শুরু হয়।

১৯৬০ – সাইপ্রাস দ্বীপ স্বাধীন হয়।

১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় উগান্ডা।

১৯৭৫ – সৌদি আরব, সুদান কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান।

১৮২৫ – বলিভিয়ার প্রজাতন্ত্র ঘোষণা।

১৮৪৩ – ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৮৫৮ – ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস বুচাননকে টেলিগ্রাফ পাঠান।

১৮৬৭ – কার্ল মার্কস ‘ক্যাপিটাল’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড লেখা শেষ করেন।

১৮৯৮ -এডউইন প্রেসকট রোলার কোস্টারের প্যাটেন্ট পান।

১৬৮৭ – জব চার্নকের সঙ্গে মোগল শাসনকর্তাদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইংরেজরা সূতানুটিতে অস্ত্রাগার ও পোতাশ্রয় নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ – ভারতীয় পদার্থবিদ ও আবহাওয়াবিজ্ঞানী আন্না মনি।

২০০২ – আবু নিদাল, ফিলিস্তিনি ফাতাহ: বিপ্লব পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা।

২০০৩ – ইদি আমিন, উগান্ডার প্রয়াত সামরিক স্বৈরশাসক।

২০১৬ – জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জ, ব্রাজিলীয় ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া কর্মকর্তা।

২০১৮ – ভারতরত্ন সম্মানে সম্মানিত অটল বিহারী বাজপেয়ী, ভারতের প্রাক্তন (দশম) প্রধানমন্ত্রী।

২০১৯ – পিটার ফন্ডা, মার্কিন অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

২০২০ – চেতন চৌহান ভারতের প্রথিতযশা সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

১৯৪৮ – বেব রুথ, মার্কিন বেসবল খেলোয়াড়।

১৯৪৯ – মার্গারেট মিচেল, আমেরিকান লেখিকা ও সাংবাদিক।

১৯৫৭ – আর্ভিং ল্যাংমিউয়র, মার্কিন রসায়নবিজ্ঞানী ও পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৬১ – মৌলভী আবদুল হক, পাকিস্তানি পণ্ডিত এবং ভাষাতত্ত্ববিদ।

১৯৭৭ – এলভিস প্রেসলি, কিংবদন্তিতুল্য মার্কিন রক্‌ সঙ্গীত শিল্পী।

১৯৭৯ – জন জর্জ ডিফেনবাকার, কানাডার রাজনীতিবিদ এবং ১৩তম প্রধানমন্ত্রী।

১৯৯৭ – সুলতান আহমদ নানুপুরী, বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব।

১৯৯৭ – নুসরাত ফাতেহ আলী খান, পাকিস্তানের কাওয়ালি সঙ্গীত শিল্পী।

১৮৮৬ – শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, ঊনবিংশ শতকের এক প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু।

১৮৮৮ – জন পেম্বারটন, আমেরিকান ঔষধ প্রস্তুতকারক।

১৮৯৯ – রবার্ট বুনসেন, জার্মান রসায়নবিদ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৫ আগস্ট, জানুন ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস।

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতে ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে, শুরু হয় স্বাধীন ভারতের কালযাত্রা, ভারতের ইতিহাসে সূচনা হয় আরেক নতুন অধ্যায়ের।

স্বাধীনতা দিবস হল ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একটি জাতীয় দিবস। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ব্রিটিশ রাজশক্তির শাসনকর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। সেই ঘটনাটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতি বছর ১৫অগাস্ট তারিখটি ভারতে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রধানত অহিংস, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন এবং বিভিন্ন চরমপন্থী গুপ্ত রাজনৈতিক সমিতির সহিংস আন্দোলনের পথে পরিচালিত এক দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।

 

স্বাধীনতার ঠিক পূর্ব-মুহুর্তে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজিত হয় এবং তার ফলে ভারত ও পাকিস্তান অধিরাজ্যের জন্ম ঘটে। দেশভাগের সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। অনেক মানুষ প্রাণ হারান এবং ১ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুহারা হন। পরাধীন ভারতবর্ষ ভেঙে গঠিত হয় দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তান, ১৪ই আগস্ট মধ্যরাতে বিভক্ত হয়ে যায় দুটি দেশ, ভারতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয় ১৫ই আগস্ট (পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় ১৪ই আগষ্ট)।১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট জওহরলাল নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের পর দিল্লির লাল কেল্লার লাহোরি গেটের উপর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তদবধি প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

দিনটিকে স্মরণে রেখে প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট সারা ভারতবর্ষ জুড়ে পালিত হয় স্বাধীনতার উৎসব, সেজে ওঠে গ্রাম, শহর, নগর, গলি, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, কলকারখানা সমস্ত কিছু। ভারতের প্রতিটি কোণা থেকে জাতীয় সঙ্গীতের সুরেলা আওয়াজ ভেসে আসে,

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!

পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ

বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ

তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিষ মাগে,

গাহে তব জয়গাথা।

জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!

জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

ভারতে স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস:-

ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়েছিল ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে ব্রিটিশের জয়লাভের মধ্য দিয়ে, এরপর থেকে ভারতে শুরু হয় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্য। ভারতে কোম্পানি বিরোধী বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন সরাসরি ব্রিটিশ শাসন দ্বারা পরিবর্তিত হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে বিরাজমান ছিল।

এরপর থেকেই ভারতে শুরু হয়ে যায় সরাসরি ব্রিটিশ শাসন, ইংরেজদের অত্যাচার, শোষণ নিপীড়ন। এসবের বিরুদ্ধে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী জি-র নেতৃত্বে ভারতের জাতীয়তাবাদী ও স্বাধীনতা সংগ্রামী আন্দোলনের সূচনা হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমকালীন সময়ে। যিনি ভারতীয়দের শান্তিপূর্ণ ও অহিংস নীতিতে আন্দোলনের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

১৭শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় বণিকরা ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করতে শুরু করে। ১৮শ শতাব্দীতে অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তির বলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি স্থানীয় রাজ্যগুলিকে পরাজিত করে ভারতে নিজেদের শাসন কায়েম করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারত শাসন আইন (১৮৫৮) পাস হয় এবং ব্রিটিশ রাজশক্তি ভারতের প্রত্যক্ষ শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেয়। পরবর্তী কয়েক দশকে ধীরে ধীরে ভারতে সুশীল সমাজ গড়ে ওঠে। এই গড়ে ওঠার পিছনে অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি ছিল ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার প্রভৃতি শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে উদ্যোগী হয়। সেই সঙ্গে দমনমূলক রাওলাট আইনও পাস হয়। এর ফলে ভারতীয় আন্দোলনকারীরা স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি জানাতে থাকেন। এই সময় ভারতীয় জনসাধারণের অসন্তোষ সারা দেশব্যাপী অহিংস অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের জন্ম দেয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোহনদাস করমচন্দ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী)।
১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার ভারতে আংশিক স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করার পর আইনসভা গঠিত হয়। এরপর নির্বাচনে কংগ্রেস জয়লাভ করে। পরবর্তী দশকটি ভারতের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার দশক। এই দশকেই ভারত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়, কংগ্রেস সর্বশেষ বারের জন্য অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে এবং অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের ইসলামি জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটে। এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটে ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে। তবে স্বাধীনতা লাভের আগে ভারতীয় উপমহাদেশ ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে বিভাজিত হয়।

স্বাধীনতার আগে স্বাধীনতা দিবস

১৯২৯ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং ২৬ জানুয়ারি তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কংগ্রেস জনসাধারণের কাছে আবেদন জানায়, যতক্ষণ না ভারত পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করছে ততক্ষণ তারা যেন আইন অমান্য কর্মসূচি পালন করেন এবং “বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেস কর্তৃক প্রচারিত নির্দেশাবলি অনুসরণ করেন”। এই ধরনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ধারণার প্রসার এবং ভারতের স্বাধীনতা অনুমোদনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা।
১৯৩০ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস ২৬ জানুয়ারি তারিখটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে এসেছে। সেই সময় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জনসভার আয়োজন করা হত। সেই জনসভায় অংশগ্রহণকারীরা “স্বাধীনতার শপথ” গ্রহণ করতেন।  জওহরলাল নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, এই জনসভাগুলি ছিল শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর এবং “এই সব সভায় কোনও প্রকার ভাষণ দেওয়া হত না বা কোনও সনির্বন্ধ মিনতি জ্ঞাপন করাও হত না।” গান্ধী ভেবেছিলেন যে এই সব জনসভার সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে “…কিছু সৃজনশীল কাজও করা যায়। যেমন, চরকা কাটা, সামাজিকভাবে অস্পৃশ্যদের সেবা করা, হিন্দু-মুসলমান সমন্বয়, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ অথবা এই সব কটি কাজই।” ১৯৪৭ সালে ভারত প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি তারিখে। সেই থেকে ২৬ জানুয়ারি তারিখটি ভারতে সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভারতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন:-

প্রতিবছর সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ১৫ই আগস্ট দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালিত ও উদযাপিত হয় নানান কর্মকান্ড ও অনুষ্ঠানের সমারোহে। ১৫ আগস্ট দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানটি জাতীয় চ্যানেল দূরদর্শনের সাহায্যে সারা দেশে সম্প্রচারিত হয়। রাজ্য রাজধানীগুলিতেও পতাকা উত্তোলন সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অন্যান্য শহরে রাজনৈতিক নেতৃবর্গ নিজ নিজ কেন্দ্রে পতাকা উত্তোলন করেন। নানা বেসরকারি সংস্থাও পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্কুল-কলেজেও পতাকা উত্তোলন ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা এই উপলক্ষে বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাজপোষাক পরে শোভাযাত্রা করে।

 

সোর্স – Wikipedia ও ইন্টারনেট

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্বাধীনতা দিবসের মর্যাদা : তন্ময় সিংহ রায়।

বৈচিত্র্যময় কর্মব্যস্ততার হিমবাহের নিচে চাপা পড়ে পিষ্টে থাকা দেশাত্মবোধটা পনের’ই আগষ্টের দু’দিন আগে জেগে উঠেই,গলার গীটারের তারের সুরঝঙ্কারে আকাশ বাতাসকে আন্দোলিত করবে…..

“সারে জহাঁ সে অচ্ছা হিন্দোসিতাঁ হমারা,
হম বুলবুলেঁ হ্যাঁয় ইসকী, ইয়ে গুলসিতাঁ হমারা”…
পনের’ই আগষ্ট শেষ,
দু’দিনের অতিমাত্রার জেগে ওঠা আদর্শের সুপ্ত আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ স্তব্ধ!
আবার বিভিন্ন কর্মব্যস্ততায় দেশাত্মবোধটা প্রায় সারাবছর শীতঘুমে আচ্ছন্ন!!….
প্রশ্ন করলেই স্মার্ট উত্তর, ‘আদর্শটা(দেশাত্মবোধের) কি দেখানোর জিনিস?…না চিৎকার করে বলার জিনিস?….যা আছে তা মনেই থাকে।’ .
বহিঃপ্রকাশ  -৫ ডিগ্রী থেকে ০ ডিগ্রীর মধ্যে ওঠা নামা করে।

 

‘প্রফুল্ল চাকী’ নামটা আজ শোনা শোনা লাগে, বিশেষতঃ বর্তমান প্রজন্মের কাছে, হয়তো কোনো জনপ্রিয় গায়ক/ফুটবলার হবেন!!
হানি সিং(ভুল মার্জনীয়),ন্যারো জিন্স আর স্লিভলেস না চিনলেই আজ চরম লজ্জা, ব্যাকডেটেড্!
রাজমিস্ত্রির ভূমিকায় আমরাই আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মে,চেতন/অবচেতন মনেই নানাভাবে আত্মকেন্দ্রিকতার দেওয়াল গাঁথছি অত্যন্ত যত্নসহকারে, বিপ্লবী আদর্শ না!
মুখ্য মন্ত্র… ‘তোরা লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হ, নিজের পায়ে দাঁড়া, অনেক পয়সা উপার্জন কর ইত্যাদি।’
ওসব বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন জীবন ঝুঁকিপূর্ণ,   লাভ নেই/বোকারা নেয়।

 

পুঁথিগত শিক্ষায় বিদগ্ধজন /আর্থিক  সমৃদ্ধশালী আজও খুঁজলে মিলবে কিন্তু মানসিক সমৃদ্ধশালী ও সামাজিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিতদের আজ হাতছানি দেয় ডাইনোসর।

অভিভাবক আমরা সবাই কিন্তু ‘যথার্ত’ শব্দটা ত্যাগ করেছে আজ অধিকাংশের সান্নিধ্য, যার  ভবিষ্যত পরিণাম মাঠে-ঘাটে, সমাজের বিভিন্ন জায়গায় আত্মকেন্দ্রিকতার কালো কালো ছোপ!
হিংসা,লোভ, ঈর্ষ্বা, লালসা, স্বার্থপরতায় ভারতের আকাশটা আজ গহীন জমকালো অন্ধকার মেঘে ঢাকা!
বঞ্চিত ফোটন কণাগুলো দুর্ভেদ্য মেঘের স্তরকে উপেক্ষা করে এ দেশকে আলোকিত করতে চেয়েও বারে বারে ব্যর্থ!!

একজন শিক্ষিত অর্থবান/ অর্থবান /শিক্ষিত মানুষের চেয়ে একজন শিক্ষিত মানসিকতার মানুষের প্রয়োজন আজ অত্যাধিক বেশি। দেশমায়ের স্বার্থের সিকিউরিটি গার্ড অপেক্ষা নিজের ও নিজের পরিবারের সিকিউরিটি গার্ড সংখ্যায় আজ অতিক্রম করেছে তার মাত্রাকে!  ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী ও ভগৎ সিংহ, রাজগুরু’র দেখা আজও মেলে মাঝে মধ্যে তবে এশিয়ান পেইন্টস বা বার্জারের প্রলেপযুক্ত একটা সম্পূর্ণ দেহে।

বলাবাহুল্য, সুপ্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত! ঐতিহাসিক সিন্ধু সভ্যতার জন্ম এই অঞ্চলেই।  হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ—বিশ্বের এই চার ধর্মের উৎসভূমি ভারত।
খ্রিষ্টীয় প্রথম সহস্রাব্দে জরথুষ্ট্রীয় ধর্ম (পারসি ধর্ম), ইহুদি ধর্ম, খ্রিষ্ট ও ইসলাম ধর্ম এদেশে প্রবেশ করে, ও ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে ভারতীয় ভূখণ্ডের অধিকাংশ অঞ্চল নিজেদের শাসনাধীনে আনতে সক্ষম হয় ক্রমে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই দেশ পুরোদস্তুর এক ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়।

মানুষ জন্মগতভাবেই স্বাধীন, তার এই জন্মগত অধিকার যখন অন্যের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়, তখনই সে প্রতিবাদ করে ওঠে ও সর্বস্বের বিনিময়ে সচেষ্ট হয় নিজের স্ব-অধীনতা প্রতিষ্ঠায় এবং তার-ই জ্বলন্ত নিদর্শন ছিলো প্রধানত অহিংস, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন এবং বিভিন্ন চরমপন্থী গুপ্ত রাজনৈতিক সমিতির সহিংস আন্দোলন। এই আন্দোলনের পথে পরিচালিত এক দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামের নির্মম ও করুণ ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট বর্বর ব্রিটিশ রাজশক্তির শাসনকর্তৃত্ব থেকে শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে ভারত অর্জন করেছিল স্বাধীনতা!! সে স্বাধীনতা ছিলো হিন্দুর, সে স্বাধীনতা ছিলো মুসলমানের, সে স্বাধীনতা ছিলো খৃষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ-এর কিন্তু আজ….??                                              একবিংশ শতাব্দীর পোষাকি ভদ্রের স্বাধীন আমরা আত্মকেন্দ্রিকতায় নিমজ্জিত হয়ে পরিনত হয়েছি পূর্ণ বর্বরে! রক্তশূন্য শিরা-উপশিরায় আজ-ও আমাদের বইছে চরম ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, অর্থলালসা, হিংসা ও ঈর্ষ্বা ! জাতিতে-জাতিতে, মানুষে-মানুষে সম্পর্কের মাঝে আজ পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প!

 

অনুজীবের ভূমিকায় সম্পর্কের ‘সু’-টা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের তলায় অসহায়ভাবে শুয়ে ছটফট করছে! এদিকে রাতের অন্ধকার থেকে মুক্তি লাভ করেই ধর্ষকটা আজ চিৎকার করে বলে ওঠে ‘সারে যাঁহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্থাঁ হমারা,’ আবার  বিশিষ্ট কোনো জন সাধারণ জনগণের টাকাকে ড্রাইফুড করে স্বাস্থ্যবান পাকস্থলী নিয়ে স্বাধীনতা দিবসে, ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকার দড়িতে হাত রেখে আদর্শে মালভূমি করেন তাঁর বুক। সারা দেশ জুড়ে চলছে দুর্নীতির তান্ডব নৃত্য! পরম তৃপ্তিসহকারে আজ ব্যাকটেরিয়াগুলো শোষণ করছে  ‘সারে যাঁহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্থাঁ হমারা’র পুষ্টিরস!   অশুভকে ধ্বংস ও শুভ-কে প্রতিষ্ঠার জন্যে যে প্রধান অস্ত্র একতা-কে হাতিয়ার করে এসেছিলো মূলত স্বাধীনতা সে একতার অবস্থান আজ টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের ঠিক পাশে। স্বাধীনতা দিবসে আজ কর্ণকুহরে প্রবেশ করে ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’ও বোধ করি স্বাধীন হওয়ার আনন্দে একটু আধটু বিপিন বাবু’র কারণ সুধা!

 

নেতাজী সুভাষ, ক্ষুদিরাম ও বিনয়, বাদল, দিনেশ কিংবা ভগৎ সিং-এর আত্মবলিদান প্রকৃতভাবে আজও ছটফট করে নানা রঙের মাকড়সার জালে! এনাদের বোধ করি শুধুই মুখস্থ করা হয় ডিগ্রী বাড়াবার স্বার্থে।
প্রকৃত সত্য ছুঁড়ে মারা, একবিংশে বিপদের সংকেত বহন করে অর্থাৎ বাক্ স্বাধীনতা এ যুগে প্রতিবন্ধীর ভূমিকায়! একবিংশের এ স্বাধীনতা দিবসের আনন্দে/এ হেন বিচিত্র দেশপ্রেম-এ সত্যিই বিস্ময় জাগে!
তিরঙ্গাটায় আজও পাওয়া যায় টাটকা লাল রক্তের গন্ধ!!
প্রশ্ন এখানেই যে সত্যিই সেই  ‘সর্বশ্রেষ্ঠ জীব’ হিসাবে ‘স্বাধীনতা দিবস’-এর প্রকৃত মর্যাদা বজায় রাখার যোগ্যতা আজ-ও আমরা তৈরি করতে পেরেছি/পারছি কি?
সত্যিই কি আমরা প্রকৃত দেশপ্রেমী??

(ব্যতিক্রম অবশ্যই স্বীকার্য ও ভূল-ত্রুটি মার্জনীয়।)

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতের স্বাধীনতা  ও  স্বাধীনতার পরবর্তী সময়।

আমরা ভারতবাসী  । ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবসের গর্বে আমরা গর্বিত  ।
আমরা ভারতবাসীরা  ভুলতে পারিনি পরাধীনতার জ্বালা  ।  ব্রিটিশ সরকারের তিক্ত দুশো বছরের শৃঙ্খলাবদ্ধের  ইতিহাস । ইংরেজদের বিভৎস দমন নীতি । ইংরেজ সরকারের শাসন ও শোষন ।  ভারতীয়দের উপরে  অমানবিক অত্যাচার । ব্রিটিশদের পৈশাচিক দমন নীতির জন্য ভারতীয় সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা । দীনবন্ধু মিত্রের “নীল দর্পণ” নাটকটি থকে আরও  জানতে পারি নীল চাষের করুণ কাহিনী ও সাঁওতাল সমাজের উপর ইংরেজদের অমানবিক অত্যাচারের ঘটনা  । ইংরেজ সরকারের শোষনের মাত্রা ছিলো লাগামছাড়া । নিরীহ ভারতবাসীর উপর কারণে ও অকারণে চলতো অকথ্য নীপিড়ন ।  দেশবাসীদের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে  নির্মম শোষন আজও ভারতীয়দের হৃদমাঝারে উজ্জীবিত ।  .
ব্রিটিশ সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে সারা দেশ গর্জে উঠে ।

দেশবাসী সোচ্চার হয় । সারা দেশে বিদ্রোহ শুরু হয় । দেশ মাতার শৃঙ্খলমোচনে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দেশের আনাচে কানাচে । ব্রিটিশদের অত্যাচারের আগুনে দগ্ধ হয়ে  আত্নবলিদান ঘটে অনেক দেশপ্রেমী ভারতীয়ের । ইংরেজদের শোষনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে, ফলে অনেক রক্তক্ষরণ ঘটে । অনেক বীর শহিদ হন । ইংরেজদের উৎখাতের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গর্জে উঠেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতাজী সুভাষ । দেশকে শৃঙ্খলামুক্ত করতে অকালে প্রাণ হারান বিনয়-বাদল-দীনেশ । শহিদ হন ক্ষুদিরাম বসু । দেশের পরাধীনতার গ্লানি ঝেড়ে ফেলার তাগিদে ভারতবাসীর ত্যাগ অবর্ণনীয় । দেশ স্বাধীনের মূলমন্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন মহাত্না গাঁধী, বিপিন চন্দ্র পাল, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, বাল গঙ্গাধর তিলক, আরও অনেকে । অনেক ত্যাগ, অনেক রক্তক্ষরণ, অনেক বলিদান, অনেক শহিদের পরে আমাদের দেশ ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে । ইংরেজদের অপশাসন দূর করে দেশবাসী আনন্দে মেতে উঠে । ভারতে উদয় হয় নতুন সূর্যের ।
স্বাধীনতা লাভ করার পর ভারত ভাগ হয়ে যায়, ভারত ও পাকিস্তান । পাকিস্তান আবার দুটো ভাগে ভাগ হয়, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান । পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান ভারতের সহযোগীতায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে “বাংলাদেশ” গঠন করে  । পাকিস্তান ও বাংলাদেশ মুসলিম রাষ্ট্র হলেও ভারত একটি “সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক” রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বমাঝারে আবির্ভূত হয় । বাবা সাহেব ভীম রাও আম্বদকরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সংবিধানের বাস্তবরূপ ঘটে । ১৯৫০ সালের ২৬শে জানিয়ারি দেশে সংবিধান লাগু হয় । ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইনের পরিবর্তে ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হয় । এটি ভারতের একটি জাতীয় দিবস। ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারতীয় গণপরিষদে  সংবিধান কার্যকরী হলে ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে পরিণত হয় ।
৭৬ তম স্বাধীনতা দিবস । প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও সারা দেশে মহাধুমধামে পালিত হচ্ছে । এবারের স্বাধীনতা উদযাপন একটা মাত্রা বহন করছে । কেননা দেশে এবছর ৭৫ত্ম স্বাধীনতা দিবস । যার জন্য স্বাধীনতা দিবসে গুরুত্ব অপরিসীম ।  উল্লেখ থাকে যে, স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী । তা ছাড়া দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে ।
স্বাধীনতার পরেও আমাদের দেশ অনেক সমস্যায় জর্জরিত । বেকার সমস্যা ও দারিদ্রতা জ্বলন্ত উদাহরণ । তবুও স্বাধীন দেশের একজন দেশবাসী হিসাবে আমরা গর্বিত । তাই বিনম্র চিত্তে কুর্ণিশ জানাই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের । যাদের আত্নত্যাগের উৎকৃষ্ট নিদর্শন আমাদের দেশের স্বাধীনতা ।।।কলমে : দিলীপ  রায়।।

Share This