Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ০৪ জুন, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ০৪ জুন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) জাতীয় চা দিবস (বাংলাদেশ)।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮২৯ – অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম ভারতের বেসামরিক কর্মকর্তা ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ।

১৯০৭ – রোজালিন্ড রাসেল, মার্কিন অভিনেত্রী, কৌতুকাভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার ও গায়িকা।

১৯১৫ – ওয়াল্টার হ্যাডলি, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার।
১৯১৬ – রবার্ট ফ্রান্সিস ফার্চগট, মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ।

১৯৩৬ – (ক) নূতন সমর্থ, ভারতীয় অভিনেত্রী।
(খ) ব্রুস ডার্ন, আমেরিকান অভিনেতা।

১৯৪৬ – এস.পি. বালসুব্রহ্মণ্যম, ভারতীয় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী,সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা।

১৯৬১ – জুলি হোয়াইট, মার্কিন অভিনেত্রী ।
১৯৬৬ – ভ্লাদিমির ভয়েভদস্কি, রাশিয়ান গণিতবিদ।

১৯৭৫ – অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, মার্কিন অভিনেত্রী। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবহিতৌষী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম। তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, দু’বার স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার ও একবার একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০১ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হন। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার ও শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত।

১৯৭৬ – টিম রজন, বিখ্যাত কানাডিয়ান অভিনেতা।
১৯৮৪ – রইনই যং, তাইওয়ান অভিনেত্রী।
১৯৮৫ – লুকাস পোদোলস্কি, জার্মান ফুটবল খেলোয়াড়।
১৯৯১ – বেন স্টোকস, ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮৫৯ – মেজেন্টা যুদ্ধে ফ্রান্সের কাছে অস্ট্রিয়ানদের পরাজয়।
১৮৭৬ – তুরস্কের সুলতান আবদুল আজিজ আততায়ীর হাতে নিহত হন।
১৮৭৮ – সাইপ্রাসকে ব্রিটেনের নিকট হস্তান্তর করে উসমানীয় সাম্রাজ্য (বর্তমান তুরস্ক)
১৯২০ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধশেষে প্যারিস সম্মেলনে মিত্র ও সহযোগী শক্তির সাথে হাংগেরির ত্রিয়ানোঁ চুক্তি (Traité de Trianon) স্বাক্ষরিত।
১৯২৪ – বিজ্ঞানাচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু কোয়ান্টাম মেকানিসক্স-এর উপর তার গবেষণাপত্র, (যেটি পরবর্তীতে “বোস- আইনস্টাইন কনডেনসেট” নামে পরিচিত হয়) আইনস্টাইনের কাছে পাঠান।
১৯৪২ – প্রশান্ত মহাসাগরের মিডওয়ে দ্বীপে মিত্রশক্তি ও জাপানের মধ্যে নৌযুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৪৩ – আর্জেন্টিনায় এক সেনা অভ্যুত্থানে কাস্টিলো ক্ষমতাচ্যুত হন।
১৯৪৬ – জুয়ান ফেরোন আর্জেনটিনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৫৫ – ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি টেলিফোন যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
১৯৭০ – প্রশান্ত মহাসাগরে ১৬৯টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত টোঙ্গা স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৮৯ – চীনে ছাত্রদের আন্দোলনে সামরিক বাহিনীর তিয়েনআনমেন স্কয়ার গণহত্যা বা ৪ জুন গণহত্যা সংগঠিত হয়।
১৯৮৯ – আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত হন আলি খোমেনি।
১৯৯৬ – বাংলাদেশে ইন্টারনেট চালু

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৭৬ – আব্দুল আজিজ (উসমানীয় সুলতান), উসমানীয় সাম্রাজ্যের ৩২ তম সুলতান।
১৯২৬ – ফ্রেড স্পফোর্থ, বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।
১৯৩১ – হুসাইন বিন আলি, মক্কার শরিফ, আরব নেতা ও হেজাজের বাদশাহ।
১৯৩২ – মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত ‘শ্রীম’ নামে পরিচিত শ্রীরামকৃষ্ণের অন্যতম শিষ্য ও ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত’ রচয়িতা।
১৯৪১ – দ্বিতীয় ভিলহেম, জার্মানির সম্রাট।
১৯৪২ – রাইনহার্ট হাইড্‌রিখ, জার্মান নাৎসি কর্মকর্তা এবং হলোকস্টের মূল হোতা।
১৯৭১ – গোর্গি লুকাস, হাঙ্গেরীয় মার্কসবাদী দার্শনিক, নন্দনতত্ত্ববিদ, সাহিত্য ইতিহাসবিদ এবং সমালোচক।
১৯৭৩ – মোরিস রনে ফ্রেশে, ফরাসি গণিতবিদ।
১৯৮৩ – সতীশচন্দ্র সামন্ত, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও লোকসভা সদস্য ।
১৯৮৯ – আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, ইরানের ধর্মীয় নেতা।
২০২০ – (ক)  বলিউডের কিংবদন্তি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার বাসু চ্যাটার্জী।
(ক) উত্তমকুমারের প্রিয়চিত্রগ্রাহক বৈদ্যনাথ বসাক।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে প্রতিভাময়ী ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী – ছায়া দেবী।

ভূমিকা:- বাংলা ছায়া ছবির জগতে ছায়া দেবী এক কিংবদন্তি অভিনেত্রীর নাম।ছায়া দেবী একজন প্রতিভাময়ী ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। স্বর্ণ যুগের এই অভিনেত্রী বহু সিনেমায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করে তাঁর অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন——-

ছায়া দেবীর পিসিমা ছিলেন অভিনেতা অশোককুমার ও কিশোর কুমারের দিদিমা।ছায়া দেবীর জন্ম ৩ জুন ১৯১৯ সালে এই পিসিমার ( সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী) ভাগলপুরের রাজবাড়ীতে। পিতা হারাধন গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রাথমিক শিক্ষা ও অভিনয় জীবনে প্রবেশ—-
তার প্রাথমিক শিক্ষা ভাগলপুরের মোক্ষদা গার্লস স্কুলে। ভাগলপুর থেকে বাবার সঙ্গে দিল্লি গিয়ে ইন্দ্রপ্রস্থ গার্লস স্কুলে ভর্তি হন এবং সঙ্গীত চর্চা করতে থাকেন। এগারো বৎসর বয়সে রাঁচির অধ্যাপক ভূদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ হয়। কিন্তু এ বিবাহ কার্যকর হয় না। দশম শ্রেণীর ছাত্রী তিনি বাবার সঙ্গে কলকাতায় এসে কৃষ্ণচন্দ্র দে ও পণ্ডিত দামোদর মিশ্রর কাছে সংগীত শিখতে থাকেন। সেই সঙ্গে বেলা অর্ণবের কাছে নাচের তালিম নিতে থাকেন। নাটক-পাগল দুই পিসতুতো দাদা শ্রীশচন্দ্র ও শৈলেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি অভিনয় জগতে আসেন।
অভিনয় জীবন——-
১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দেই তিনি দেবকী বসুর ‘সোনার সংসার’ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন। তবে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে কনক নামের কিশোরী ছায়া দেবী নাম নিয়ে ‘পথের শেষে’ ছবিতে অন্যতম নায়িকার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি রাঙা বৌ, ছিন্নহার, প্রভাসমিলন, হাল বাঙলা, বিদ্যাপতি (হিন্দি ও বাংলা), রিক্তা, জীবন মরণ প্রভৃতি। পথের শেষে – এই ছবিটি হিট হওয়ায় তিনি সোনার মেডেল পেয়েছিলেন।
গায়িকা হিসেবে—-
অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি ছবিতে তিনি গানও গেয়েছেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অভয়ের বিয়ে’ ছবিতে তিনি ৪-৫ টি গান গেয়েছেন।
মুম্বাই গমন—
এর পরে ছায়া দেবী প্রফুল্ল রায়ের আমন্ত্রণে তিনি মুম্বই গিয়ে সেখানে’মেরাগাঁও ‘ ছবিতে গানে ও অভিনয়ে বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। ছায়া দেবী প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা, হিন্দী, তামিল ও তেলুগু ভাষায় শতাধিক ছায়াছবিতে প্রধানত পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ‘বিদ্যাপতি’ ছায়াছবির জন্য উনি প্রশংসিত হন ও ক্রমে প্রচুর উল্ল্যেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেন, যেমন বাংলায় পরিচালক তপন সিংহর নির্জন সৈকতে, হাটে বাজারে এবং আপনজন, সপ্তপদী, মানিক, উত্তর ফাল্গুনী, বা হিন্দীতে অমিতাভ বচ্চনের সাথে আলাপ । বাংলা,হিন্দি ও তামিল তিন ভাষাতেই ‘রত্নদীপ’ ছবিতে তার অভিনয় স্মরণীয়। ছায়াছবিতে কাজ করার পাশাপাশি বেতার কেন্দ্রে নিয়মিত খেয়াল, ঠুংরি পরিবেশন করেছেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি সমূহ—
প্রায় দু-শোর বেশি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। সাত পাকে বাঁধা, মুখার্জি পরিবার, অন্তরাল, আরোহী, কাঁচ কাটা হীরে, সূর্যতপা, থানা থেকে আসছি, মণিহার, গল্প হলেও সত্যি, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হাটেবাজারে, আপনজন’ (রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত), বাঘিনী, কমললতা, চৌরঙ্গী, কুঁয়াশা, রাতভোর, সাহেব বিবি গোলাম, ত্রিযামা, মায়াবাজার, গলি থেকে রাজপথ, মাণিক, অটলজলের আহ্বান, দেয়ানেয়া, সপ্তপদী, নির্জন সৈকতে, পিতাপুত্র, হারমোনিয়াম, আরোগ্য নিকেতন, রাজা রামমোহন, বাবা তারকনাথ, আলাপ, ধনরাজ তামাং, অরুণ বরণ কিরণমালা, সূর্যসাক্ষী, রঙবেরঙ, প্রায়শ্চিত্ত, রাশিফল, লালগোলাপ, স্বর্ণমণির ঠিকানা, প্রতিকার, বোবা সানাই, প্রতিদান, কলঙ্কিত নায়ক, রাজকুমারী, মুক্তিস্নান, সমান্তরাল, কুহেলী, হার মানা হার, শেষ পর্ব, পদিপিসির বর্মি বাক্স, দেবীচৌধুরাণী।
মৃত্যু—-
কিংবদন্তী এই অভিনেত্রী বহু সিনেমায় রেখে গিয়েছেন তাঁর অভিনয় দক্ষতার সাক্ষর। ২৫ এপ্রিল ২০০১ সালে তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু আজও তিনি অমর হয়ে রয়েছেন মানষের হৃদয়ে।
।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বাঁকুড়ার শুশুনিয়া গ্রামে আজও বহু মানুষ তৈরি করেন বেলের মালা – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।

বেল ফল দিয়ে কি হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলবেন, গরমকালে বেলের শরবত পান করা হয়। আবার কেউ বলবেন বেল গাছের আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপটের কথা। তবে এছাড়াও বেল দিয়ে করা হয় আরও একটি কাজ। এই কাজ করে উপার্জন করা যায় অর্থ। এমনটাই করছে বাঁকুড়ার একটি গোটা গ্রাম। বাঁকুড়ার শুশুনিয়া গ্রামে বহু মানুষ তৈরি করেন বেলের মালা।

অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। গাছ থেকে বেল পারার পরও রয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সূক্ষ্ম ব্যবহার। তারপরই তৈরি হয় এই মালা। শুশুনিয়া গ্রামের ছাতাতলা এলাকার, দাস পরিবার প্রায় ৩৬ বছর ধরে এই কাজ করছে।

আঞ্চলিক গাছ থেকে বেল যোগাড় করা হয়, আবার বিষ্ণুপুর থেকে ১৬০ পিস বেলের খোলা ৪০০ টাকা মূল্যে কিনে আনেন বেলমালা প্রস্তুতকারকরা। এরপর ভেতর থেকে বেলের শাঁস বের করে দেওয়া হয়। বেলের খোলার উপরের ছাল ভালো করে চেঁচে ছুলে তৈরি করা হয় পরের ধাপের জন্য। এবার সেই দু’দিক ছুলে নেওয়া, বেলের খোলার ভিতরে যন্ত্রের ব্যবহার করে হাতের সাহায্যে গোল গোল দাগ করা হয়। তারপর ওই একই যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে, দাগ দেওয়া গোল গোল অংশগুলিকে বেলের খোলা থেকে আলাদা করা হয়। এবার এক ধরনের বিশেষ ছুঁচ ব্যবহার করে গাঁথা হয় বেলের মালা। প্রতিটি মালা বিক্রি করা হয় ৫ টাকা মূল্যে। অর্থাৎ কুড়িটি মালা ১০০ টাকায়। গ্রামের মালা প্রস্তুতকারকেরা, এই বেল মালা সরাসরি তুলে দেন মহাজনদের হাতে। এরপর সেই মালা বিক্রি হয়ে যায় বিভিন্ন বাজারে।

বেলমারা প্রস্তুতকারক সঞ্জয় দাস জানান, এই কাজ করে কোনওরকমে দিন চলে। খুব দ্রুততার সঙ্গে সারাদিন কাজ করলে, আড়াইশো থেকে ৩০০ টাকা উপার্জন করা যায়।মুদ্রাস্ফীতির কারণে দু’শো আড়াইশো টাকায় কিছুই হয় না বলে জানিয়েছেন মালা এই প্রস্তুতকারক। তাছাড়া এই কাজে সরকারি কোনও হস্তক্ষেপ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মালা প্রস্তুতকারকরা। শিল্পী ভাতা পেলে জীবনধারণ করা কিছুটা কম কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা। তবে নতুন প্রজন্ম এই ব্যবসা থেকে ইতোমধ্যেই মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন।
পাথর শিল্পেও টান পড়েছে শুশুনিয়া গ্রামে। তবে এখনো জীবিত রয়েছে পাথর শিল্প। এই গ্রামের বেলমালা তৈরি করার কথা অনেকেরই অজানা। তবে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে যে বেলমালা গুলি বিক্রি হয়, সেগুলির অধিকাংশই যোগান দিয়ে থাকে এই গ্রাম। তাই পরেরবার বাজারে গিয়ে বেলমালা কিনলে, হয়ত আপনার বেলমালাতে ছোঁয়া লেগে থাকবে বাঁকুড়ার শুশুনিয়ার।

।।নীলাঞ্জন ব্যানার্জী।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।।

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৫—-

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতি বছর 3রা জুন সারা বিশ্বে পালিত হয় সাইকেলের বহুমুখিতা এবং স্বতন্ত্রতা, সেইসাথে পরিবহনের একটি মাধ্যম হিসাবে এর নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস উদযাপন বাইসাইকেলকে সম্মানিত করে যা লোকেদের একটি স্বতন্ত্র, টেকসই এবং টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থা প্রদান করার জন্য।

মঙ্গলবার , 3রা জুন, ২০২৪, বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস স্মরণ করা হবে। এ বছর চতুর্থ বার্ষিক বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস। বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৪-এর জন্য আগ্রহীদেরও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস তৈরি করেছিলেন, যা 3 জুন, ২০১৮-এ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো স্মরণ করা হয়েছিল। এই দিনের অনন্য দিক এটি সারা বিশ্বে স্মরণ করা হয়। সাইকেল চালানো আমাদের জন্য শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই ভাল, এবং এটি ঘুরে বেড়ানোর একটি সস্তা এবং সহজ উপায় এবং পরিবহনের একটি পরিবেশগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সাইকেল চালানো আপনার জীবনধারাকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে এবং আপনি যদি নিয়মিত জিমের ব্যক্তি না হন তবে এটি একটি দুর্দান্ত ওয়ার্কআউট হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস পালন করা হয় মানুষকে তাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করার জন্য। নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, মানসিক অসুস্থতা, আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে। আপনি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের সাথে সাইকেল চালানোর মাধ্যমে অনেক অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে পারেন। জাতিসংঘ অনেক কারণে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতিষ্ঠা করে। এটি যতটা মৌলিক, সমাজে সাইকেলের প্রভাব বেশ রূপান্তরকারী এবং এমনকি সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও সাইকেল দিয়ে মৌলিক পরিবহনে অ্যাক্সেস পায়।

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের থিম ২০২৫—

২০২৫ সালের বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের প্রতিপাদ্য এখনও ঘোষণা করা হয়নি। কোভিড-১৯ মহামারীর আগে, মানুষ সমাবেশ, দৌড় এবং উৎসব উদযাপনের জন্য জড়ো হত। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ তাদের পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বাইসাইকেল ব্যবহার করে, যাতে তারা তাদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যকর শারীরিক কার্যকলাপ পায়। বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ইতিহাসের অন্যতম সেরা আবিষ্কারের একটি অনন্য স্মরণ।

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের ইতিহাস—

বাইক চালানো একটি শৈশব মাইলফলক হয়ে উঠেছে যেখানে মজা এবং পতন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কিছু পরিমাণে স্ক্র্যাচ এবং স্মৃতি ধরে রাখে। ঐতিহাসিক বিবেচনার পাশাপাশি, বাইক চালানো আজ মানুষের জন্য সুবিধা প্রদান করে – শুধুমাত্র ব্যায়ামের একটি ফর্ম হিসাবে নয়, পরিবহনের একটি পরিবেশগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবেও।
বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস তাই সাইকেল চালানোর ধারণাটিকে একটি কার্যকলাপ হিসাবে উদযাপন করতে চায় যা বছরের পর বছর ধরে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত সুখ উপভোগ করা ছাড়াও, এটি স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্থায়িত্ব লালন করার জন্য মানুষ এবং পরিবেশে সুখ তৈরি করে।

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৫ তাৎপর্য—

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের পেছনের ধারণাটি হল সাইকেলের বহুমুখিতা এবং স্বতন্ত্রতা, সেইসাথে পরিবহনের একটি মাধ্যম হিসাবে এর নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া। বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস সাইকেল চালানোর সুবিধার একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। এটি কেবল পেশী শক্তির উন্নতি করে এবং শরীরের চর্বি কমায় না, তবে এটি একটি সুস্থ হৃদয় রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে। শারীরিক সুবিধা অনেক। যদিও দিবসটির গুরুত্ব তার স্বাস্থ্যগত সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি। বাইসাইকেল একটি কম খরচে এবং পরিবেশগতভাবে উপকারী পরিবহনের মাধ্যম। উচ্চ দূষণের সময়ে, এমনকি সাইকেল চালানোর মতো মৌলিক কিছু ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করতে পারে। এর সহজলভ্যতা এবং সহজলভ্যতা এটিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে পরিবহনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম করে তুলেছে, যা তাদের পরিবহনের একটি স্বায়ত্তশাসিত মোড প্রদান করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয়, দিনটির ইতিহাস ও ISWD এর মিশন।।।।

আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস বা আন্তর্জাতিক পতিতা দিবস হল একটি বার্ষিক দিবস, এটি প্রতি বছরের ২ জুন পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে যৌনকর্মীদের চ্যালেঞ্জ এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস পালিত হয়।আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস সারা বিশ্বে যৌনকর্মীদের অধিকার এবং কল্যাণ মনে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

প্রতি বছর, ২ জুন, আমরা যৌনকর্মীদের কৃতিত্ব উদযাপন করি এবং তাদের অধিকার সমর্থন করার জন্য কাজ করে।
ISWD উদযাপন করার অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, যৌনকর্মীদের প্রায়ই প্রান্তিক করা হয় এবং তাদের সাথে অন্যায় আচরণ করা হয়। তারা প্রায়ই তাদের ক্লায়েন্ট এবং নিয়োগকর্তাদের হাতে সহিংসতা এবং শোষণের সম্মুখীন হয়। ISWD হল তাদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং তাদের অধিকারের পক্ষে সমর্থন করার জন্য একসাথে কাজ করার একটি সুযোগ।
মূলত, যৌনকর্মীদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের কণ্ঠস্বর উত্থাপন করার উপায় হিসাবে দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময়ে, অনেক যৌনকর্মীকে শোষণ ও পাচার করা হয়েছিল এবং তারা অনুভব করেছিল যে তাদের কাছে কথা বলার জন্য কোনও কণ্ঠস্বর বা আউটলেট ছিল না।
বর্তমানে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস পালিত হচ্ছে। যৌনকর্মীদের একত্রিত হওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা এবং তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসে যৌনকর্মীরা যে বৈচিত্র্যময় পরিসরে কাজ করে তা উদযাপনের জন্য অনেক ঘটনা ঘটছে। এই ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে সমাবেশ, সিম্পোজিয়াম এবং আলোচনা গোষ্ঠী। তাদের লক্ষ্য যৌনকর্মীদের একত্রিত করা যাতে তারা ধারণা ভাগ করে নিতে পারে এবং একে অপরের কাছ থেকে শিখতে পারে।
আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস প্রত্যেকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যারা মানবাধিকার এবং স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেন। এটি আমাদের সকলের জন্য যৌনকর্মী সহ যে কোনও ব্যক্তির বৈষম্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ।
আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসের উদ্দেশ্য হল যৌনকর্মীদের এবং তাদের সহযোগীদেরকে সকল যৌনকর্মীদের জন্য অপরাধমুক্তকরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবিতে একত্রিত করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসও যৌনকর্মীদের জন্য পতিতাবৃত্তি বিরোধী আইন এবং কাজের অবস্থার প্রতিবাদ করার একটি দিন হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবসের সমর্থকরা যুক্তি দেন যে এই আইনগুলি যৌনকর্মীদের অপরাধীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়, তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় বা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করা নিষিদ্ধ করে। তারা আরও যুক্তি দেয় যে এই আইনগুলি যৌনকর্মীদের শোষণ বা সহিংসতা থেকে রক্ষা করে না।
আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস মানবাধিকার কর্মী এবং যারা সারা বিশ্বে যৌনকর্মীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
১৯৭০-এর দশকে, ফরাসি পুলিশ যৌনকর্মীদের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রেখেছিল। পুলিশের প্রতিশোধমূলক আচরণ যৌনকর্মীদের গোপনে কাজ করতে বাধ্য করে। ফলস্বরূপ, যৌনকর্মীদের সুরক্ষা হ্রাস হতে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আরও বাড়তে থাকে। দুটি হত্যাকাণ্ড হয়ে যাবার পরেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় এবং সেই বিষয়ে সরকারের কোন আগ্রহ না থাকায়, লিয়নের যৌন কর্মীরা রুয়ে দে ব্রেস্টের সেন্ট-নিজিয়ার গির্জা দখল করে ধর্মঘট শুরু করে। ধর্মঘটী যৌনকর্মীরা রাজনৈতিক সঙ্গীত গেয়েছিল এবং শালীন কাজের পরিবেশের দাবি করার সাথে সাথে কলঙ্ক অবসানের দাবি জানিয়েছিল।
এই ঘটনা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকস্তরে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল, শ্রম এবং নারীবাদীদের মত সংগঠনগুলির কাছ থেকে এই প্রতিবাদ সমর্থন পেয়েছিল। দখলের ৮ দিন পর, ১০ই জুন, পুলিশ জোরপূর্বক গির্জা থেকে মহিলাদের সরিয়ে দেয়, কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে যৌন কর্মীদের অধিকারের জন্য তাদের একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সূচনা হয়।
এর পর থেকে আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস এর সূচনা হয়। এর মাধ্যমে যৌনকর্মীদের সম্মান প্রদান করা হয় এবং তাদের কাজের অবস্থায় যে প্রায়ই তাদের শোষণ হয় তা স্বীকার করে নেওয়া হয়। এই দিবসটি পালনের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় ১৯৭৫ সালের ২রা জুন শতাধিক যৌনকর্মী দ্বারা লিয়নের এগ্লিস সেন্ট-নিজিয়ের দখল। তাঁরা এটি করেছিলেন তাঁদের অমানবিক কাজের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। এটি ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যৌনকর্মকে পেশা হিসাবে স্বীকার করে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেয় যে, যৌনকর্মীদের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ঠিক যেমন ভাবে অন্যান্য যে কোনও পেশার ক্ষেত্রে রয়েছে।
আসলে যৌনকর্মীরা তাঁদের জীবন যাপনের জন্য এই পেশা বেঁছে নিয়েছে। তাই তাঁদের অন্যান্য কর্মীদের মতোই ভাবুন।
যৌনকর্মীরা টাকার জন্য কাজ করে। তাঁরা কারও কাছে অনুগ্রহ চাই না, নিজেদের মানসিক, শারীরিক শ্রম বিনিময়ে তাঁরা টাকা উপার্জন করে। যৌনকর্মীদের নিয়ে সমাজে সচেনতা বাড়ান।তাঁদের কথা শুনে জেন আপনার মাথা হেট না হয়, বরং তাঁদের অধিকার নিয়ে কথা বলুন যাতে সমাজে তাঁদের প্রতি সজেতনতা গড়ে ওঠে।
সর্বপরি দিনটি যৌনকর্মীদের শোষিত কাজের অবস্থার স্বীকৃতি দেয়। কখনও কখনও তারা নিষ্ঠুরতার শিকার হয় এবং তারা সহিংসতারও সম্মুখীন হয়। যৌনকর্মীরা আইনত তাঁদের অধিকার পেলেও অন্যান্য কর্মীর মতো সম্মান কি তাঁরা পান! বছরের পর বছর ধরে ওঁরা লড়ে চলছে সমাজে নিজের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার পেতে। যৌনকর্মীদের সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক যৌনকর্মী দিবস (International Sex Workers Day) পালিত হয়। তাই দিনটি সকল মানবজাতিকে তাদের প্রতি সম্মান করতে শেখায়।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ তেলেঙ্গানা গঠন দিবস, জানুন দিনটির ইতিহাস, গুরুত্ব ও তাৎপর্য।।।।

তেলেঙ্গানা গঠন দিবস ২০২৫—

এই চলতি বছরের ২রা জুন তেলেঙ্গানা গঠন দিবস ২০২৫ তেলেঙ্গানা জনগণ পালন করে। এটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান যা অন্ধ্র প্রদেশ থেকে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠিত হওয়ার দিনটি উদযাপন করতে প্রতি বছর ২ রা জুন উদযাপন করা হয়। তেলেঙ্গানা গঠন দিবস তেলেঙ্গানা দিবস নামেও পরিচিত।

অন্ধ্র প্রদেশের বাইরে একটি পৃথক রাজ্য গঠনে জনগণের অবদানকে চিহ্নিত করতে তেলেঙ্গানা তার গঠন দিবস উদযাপন করে। তেলেঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবস ভারতের তেলেঙ্গানায় একটি সরকারী ছুটির দিন, যা রাজ্য গঠনের সম্মানে। তেলেঙ্গানার প্রতিষ্ঠা তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়। এটি অন্ধ্র প্রদেশ থেকে তেলেঙ্গানার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা চিহ্নিত করে। তেলেঙ্গানা ভারতের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের সাথে এর উত্তর সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। ২রা জুন, ২০১৪-এ তেলেঙ্গানা গঠিত হয় এবং হায়দ্রাবাদ তার রাজধানী হয়। রাজ্যটি ১,১২,০৭৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে 33টি জেলা নিয়ে গঠিত। ২ রা জুন, ২০১৪ ছিল যখন ভারতীয় সংসদ একটি নতুন রাজ্যের জন্ম দেওয়ার জন্য একটি সংশোধনী বিল পাস করেছিল – তেলেঙ্গানা। ‘তেলেঙ্গানা’ নামটি ত্রিলিঙ্গ দেশা শব্দটিকে বোঝায়, যা কালেশ্বরম, শ্রীশৈলম এবং দ্রাক্ষরামমের তিনটি প্রাচীন শিব মন্দিরের উপস্থিতির কারণে অর্জিত হয়েছিল। ‘তেলিঙ্গা’ শব্দটি সময়ের সাথে সাথে ‘তেলেঙ্গানা’ তে পরিবর্তিত হয় এবং ‘তেলেঙ্গানা’ নামটি পূর্ববর্তী হায়দ্রাবাদ রাজ্যের প্রধানত তেলুগু-ভাষী অঞ্চলটিকে এর প্রধানত মারাঠি-ভাষী, মারাঠওয়াড়া থেকে আলাদা করার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

তেলেঙ্গানা গঠন দিবসের ইতিহাস —

১ নভেম্বর ১৯৫৬-এ, তেলেঙ্গানা অন্ধ্র প্রদেশের সাথে একীভূত হয়ে একটি একীভূত রাজ্য গঠন করে বিশেষ করে তেলেগু-ভাষী জনগণের জন্য পূর্ববর্তী মাদ্রাজ থেকে সেই রাজ্যটিকে ভাস্কর্য করে।
১৯৬৯ সালে, তেলেঙ্গানা অঞ্চল একটি নতুন রাজ্যের জন্য একটি বিক্ষোভের সাক্ষী হয় এবং ১৯৭২ সালে, একটি স্বতন্ত্র অন্ধ্র প্রদেশ গঠিত হয়।
ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে, প্রায় ৪০ বছরের আন্দোলনের পর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) লোকসভায় তেলেঙ্গানা বিল প্রণয়ন করে।
২০১৪ সালে, ভারতীয় সংসদে বিলটি পেশ করা হয় এবং একই বছর, অন্ধ্র প্রদেশ পুনর্গঠন আইন পাস হয়। বিল অনুসারে উত্তর-পশ্চিম অন্ধ্র প্রদেশের ১০ টি জেলা নিয়ে তেলেঙ্গানা গঠিত হবে।

তেলেঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবস ২০২৫ থিম—

তেলেঙ্গানা প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, একাধিক সংগঠন তেলেঙ্গানার সংস্কৃতি উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠান এবং সম্মেলনও করে। রাজ্যের ৩০টি জেলাই জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই দিনটি উদযাপন করে। মানুষ তেলেঙ্গানা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র এবং সরকারি কর্মচারীদের স্মরণ করে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। রাজ্য সরকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

তেলেঙ্গানা গঠন দিবস ২০২৫ তাৎপর্য—

অন্ধ্র প্রদেশের বাইরে একটি পৃথক রাজ্য গঠনে জনগণের অবদানকে চিহ্নিত করতে তেলেঙ্গানা তার গঠন দিবস উদযাপন করে। তেলেঙ্গানার প্রতিষ্ঠা তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সাফল্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য থেকে তেলেঙ্গানার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে চিহ্নিত করে। 2 শে জুন, ২০১৪-এ, একটি ৫৭ বছর বয়সী আন্দোলন সমাপ্ত হয়, যা তেলেঙ্গানার জনগণের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করে। প্রচারণাটি শুধুমাত্র এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয়ই দেয়নি বরং ভারতের মানচিত্রও পরিবর্তন করেছে, যা এখন রাজ্যের সীমানা প্রতিফলিত করে। বছরের পর বছর ধরে তেলেঙ্গানা আন্দোলনের জন্য রাজ্যের ইতিহাসে দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ। তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন দিবস ২ জুন ২০২০-এ কামারেডি জেলাগুলিতে উদযাপন করা হয়েছিল।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রখ্যাত সংবাদ পাঠক আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী, দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

আবৃত্তিকার তথা কিংবদন্তি বাচিক শিল্পী দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন আকাশবাণীর সংবাদ পাঠক, ঘোষক। আজও তিনি আমর হয়ে আছেন মানুষের মনে।

জন্ম——

দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে। পিতার নাম নন্দদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা নীহারবালা।

শিক্ষা—-

স্কুলের পড়াশোনার পর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। কিন্তু সংসারের অর্থকষ্ট মেটাতে তিনি বন্ধ করেছিলেন পড়াশুনা।

কর্ম জীবন—

রোজগারের জন্য তখন যা পেতেন তাই করতেন। কখনো গৃহশিক্ষকতা, টাইপিস্ট, স্টোরকিপার এবং চায়ের দোকানেও কাজ করতে হয়েছে অর্থকষ্ট এতটাই ভয়াবহ ছিল।সারাদিন চায়ের দোকানে কাজ করতেন।১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঘোষক হিসাবে আকাশবাণীর চাকরিতে প্রবেশ করেন। তারপর একটানা বত্রিশ বছর আকাশবাণীতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন।

সংবাদ পাঠক রূপে নিজেকে তুলে ধরা—-

অচিরেই কুশলতায় হয়ে ওঠেন আকাশবাণীর সংবাদ ও ভাষ্যপাঠক। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লীতে বাংলা বিভাগে সংবাদ পাঠক রূপে নির্বাচিত হন। তারপর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শেষদিকে ফিরে আসেন কলকাতার বেতার কেন্দ্রে। তার কণ্ঠে ‘ কলকাতার আকাশবাণীতে ”আকাশবাণী কলকাতা, খবর পড়ছি দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়”—ভরাট কণ্ঠের এই সম্ভাষণ যে কি প্রভাবে মানুষকে আচ্ছন্ন করত তা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। আর সংবাদ পাঠকে তিনি এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, ঘরে ঘরে সংবাদ পরিক্রমা শোনার জন্য রেডিও খোলা হতো।

সম্মাননা—-

বাঙলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর তিনি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ১০ ই জানুয়ারি বাংলাদেশে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন ও সংবর্ধনা জানান।

সম্পাদনা——

অবসরের পর যৌথ বা একক ভাবে সম্পাদনা করেছেন বিভিন্ন বিষয়ের বই। সেগুলি হল- বিষয়:আবৃত্তি (অমিয় চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথভাবে), বাংলাদেশের গল্প, একাত্তরের যুদ্ধে ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।

মৃত্যু—-

দক্ষিণ কলকাতার ল্যানসডাউনে নিজের বাসভবনে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ২ রা জুন ৭৭ বৎসর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।।।।

বিশ্ব দুধ দিবস ২০২৫ : বিশ্ব দুধ দিবস প্রতি বছর ১ জুন পালিত হয়। এই দিনটি দুগ্ধ শিল্প এবং তারা যে পণ্যগুলি বিক্রি করে তার জন্য উত্সর্গীকৃত। সারা বিশ্বে দুধ কতটা অ্যাক্সেসযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিকর তা নিয়ে কথোপকথন শুরু করার দিন।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০১৯ সাল থেকে আমাদের জীবনের একটি অংশ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা দ্বারা পুষ্টির উৎস হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য এবং এর ব্যবহারকে উন্নীত করার জন্য দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দুধ অনেক সংস্কৃতির একটি প্রধান উপাদান, এবং এটি পান করা, রান্না করা এবং আইসক্রিম তৈরি সহ বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহৃত হয়। এটি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং পটাসিয়ামের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি।

বিশ্ব দুধ দিবস ২০২৫ : থিম—

বিশ্ব দুধ দিবস ২০২৫-এর থিম হল “দুগ্ধের শক্তি উদযাপন” (Celebrating the Power of Dairy). এই থিমের মূল লক্ষ্য হল দুধের উপকারিতা, পরিবেশের উপর এর প্রভাব এবং বিশ্বব্যাপী দুগ্ধ শিল্পের অগ্রগতি প্রচার করা. এই থিমটি দুধকে পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস হিসেবে তুলে ধরে।

বিশ্ব দুধ দিবস ২০২৫ : ইতিহাস ও তাৎপর্য—

দুধের ইতিহাস প্রায় ৯০০০-৭০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের নিওলিথিক যুগের। যখন মানুষ দুধ পান করতে শুরু করে। এটি এমন একটি সময় ছিল যখন মানুষ ইতিমধ্যে গৃহপালিত প্রাণী ছিল এবং দুধ থেকে পুষ্টি আহরণ করতে সক্ষম হয়েছিল। যাইহোক, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ল্যাকটোজ সহনশীলতা হারিয়ে গিয়েছিল, এবং বেশিরভাগ প্রাথমিক মানুষ গাঁজনযুক্ত দুগ্ধজাত দ্রব্য পান করত।
যেহেতু দুধ আরও ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়, এটি প্রাথমিক মানুষের জন্য পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বের কিছু অংশে, দুধ মাংসের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হত। এটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়েছিল, কারণ কিছু লোক বিশ্বাস করেছিল যে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে দুধ পাঠিয়েছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক দেশেই দুধের চাহিদা কমে গেছে। শিল্প দুধ উৎপাদনের সম্প্রসারণ, দুধের নতুন বিকল্পের প্রবর্তন এবং ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তন সহ বেশ কয়েকটি কারণের কারণে এটি ঘটে।
এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, বিশ্ব দুধ দিবস এখনও দুগ্ধ শিল্প এবং এর পণ্যগুলি উদযাপনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিন। এটি একটি পুষ্টির উত্স হিসাবে দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এবং এর ব্যবহারকে প্রচার করার একটি দিন।

বিশ্ব দুধ দিবসের তাৎপর্য—

বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হল দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
এটি একটি সুষম খাদ্যে দুধ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।
উদযাপনের লক্ষ্য দুগ্ধ খামারি এবং শ্রমিকদের প্রচেষ্টাকে স্বীকার করা যারা দুধের উৎপাদন ও বিতরণে অবদান রাখে, সেইসাথে দুগ্ধ খাতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবগুলিকেও স্বীকার করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন দেশ, সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ব দুধ দিবস পালন করে আসছে।
এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামূলক প্রচারণা, দুগ্ধজাত পণ্যের প্রচার, পাবলিক ইভেন্ট এবং মানুষের জীবনে দুধ ও দুগ্ধের তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সামাজিক মিডিয়া প্রচারণা।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস প্রতি বছর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে, একটি বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিবেশন করছে পুষ্টিকর খাদ্যের উৎস হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য এবং বিশ্বব্যাপী দুগ্ধ শিল্পের অবদান তুলে ধরার জন্য।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

রমেশচন্দ্র সেন, প্রগতিবাদী লেখক ও প্রতিষ্ঠাবান কবিরাজ – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

সাহিত্য জগতে এক অতি পরিচিত নাম রমেশচন্দ্র সেন।তিনি ছিলেন একজন বাঙালি প্রগতিশীল লেখক ও আয়ুর্বেদিক পণ্ডিত। লব্ধপ্রতিষ্ঠ কবিরাজ হিসাবে যথেষ্ট খ্যাতি ও প্রতিপত্তি লাভ করেছিলেন। মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত আয়ুর্বেদ সম্মেলনে সংস্কৃত ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে বিদ্যানাধি উপাধিতে ভূষিত হন, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে।

জন্ম ————-

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ আগস্ট বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির কলকাতায় রমেশচন্দ্র সেনের জন্ম । পৈতৃক নিবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরের কোটালীপাড়ার পিঞ্জরী গ্রামে। কলকাতার খ্যাতনামা কবিরাজ ক্ষীরোদচন্দ্র সেন ও তার স্ত্রী বরদাসুন্দরীর জ্যেষ্ঠ সন্তান এই রমেশচন্দ্র।

শিক্ষা জীবন——

সংস্কৃত শিক্ষা শুরু হয় পিতার কাছে। প্রথমে তিনি পিতার কাছে ও পরে হাতিবাগানের পণ্ডিত সীতানাথ সাংখ্যতীর্থের চতুষ্পাঠীতে সংস্কৃত শিক্ষা নেন। সংস্কৃত ব্যাকরণের দ্বিতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে। যখন তিনি টোলে পাঠরত, সেই অবস্থায় তিনি প্রাইভেট ছাত্র হিসাবে প্রবেশিকা পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হন (১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে) । এর পরে তিনি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে ইংরাজীতে অনার্স সহ বি.এ পাশ করেন ( ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে )। বাংলা সাহিত্যের পত্রে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। কিন্তু এরপর আবার হঠাৎ পিতার মৃত্যুতে (১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ) তাকে ইংরাজী ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ পড়া স্থগিত করে পৈতৃক আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসাতে আত্মনিয়োগ করতে হয়, যদিও এই পেশায় তার অতোটা আগ্রহ ছিল না।

পারিবারিক জীবন——

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বনলতাকে বিবাহ করেন রমেশচন্দ্র সেন। তাদের পাঁচ পুত্র ও নয়টি কন্যাসন্তান ছিল।

কর্মজীবন—

চিকিৎসাশাস্ত্রের চেয়ে তার সাহিত্যচর্চায় বেশি আগ্রহ ছিল। তিনি বাংলা সাহিত্যে শুধু নিজের অবদান রাখেন নি, তিনি তৈরি করে গেছন বহু বাঙালি সাহিত্যিককে। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু কাল অবধি তিনি নিয়মিত লিখে গেছেন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৫২ বঙ্গাব্দে) প্রকাশিত তার প্রথম রচিত উপন্যাস শতাব্দী বিশেষ প্রশংসিত হয়েছিল। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থগুলি হল—–

চক্রপাক (১৯৪৫), কুরপালা (১৯৪৬), কাজল (১৯৪৯), গৌরীগ্রাম (১৯৫৩), মালঙ্গীর কথা (১৯৫৪), পূব থেকে পশ্চিম (১৯৫৬), সাগ্নিক (১৯৫৯), নিঃসঙ্গ বিহঙ্গ (১৯৫৯), অপরাজেয় (১৯৬০), পূর্বরাগ (১৯৬১)।
ছোটগল্প হল – ‘মৃত ও অমৃত’, ‘তারা তিন জন’, ‘সাদা ঘোড়া’, ‘রাজার জন্মদিন’, ‘ডোমের চিতা’ ইত্যাদি।

তার রচিত কিছু গল্প ইংরাজি, হিন্দি ও চেকোশ্লোভাক প্রভৃতি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।

জীবনাবসান——-

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম স্থপতি রমেশচন্দ্র সেন ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ১জুন কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং ভবিষ্যতের জন্য তার সেরা আশা – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।।।

আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হল ১লা জুন উদযাপিত একটি বার্ষিক ছুটি। এটি বিশ্বব্যাপী শিশুদের মঙ্গল এবং অধিকার প্রচার করে। দিবসটির লক্ষ্য শিশুদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা সহ তাদের অধিকারের পক্ষে সমর্থন করা।

দিবসটি উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রদায়ের সমাবেশ, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান এবং শিশুদের সহায়তাকারী সংস্থাগুলিতে দাতব্য দান। আন্তর্জাতিক শিশু দিবস একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে প্রতিটি শিশু একটি সুখী, স্বাস্থ্যকর শৈশব পাওয়ার যোগ্য এবং তাদের মঙ্গল নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই একসাথে কাজ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের ইতিহাস—

আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হল একটি ছুটির দিন যা প্রতি বছর ১লা জুন পালিত হয়। ১৯২৫ সালে জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে শিশুদের কল্যাণের জন্য বিশ্ব সম্মেলনের সময় ছুটিটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ছুটির উদ্দেশ্য ছিল সারা বিশ্বে শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ প্রচারের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এটি মূলত বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে পালিত হত, কিন্তু ১৯৫৪ সালে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক ফেডারেশন অফ উইমেন প্রস্তাব করেছিল যে 1লা জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক শিশু দিবস হিসাবে স্বীকৃত হবে। তারপর থেকে, ছুটির দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর পালন করা হয়। ১৯৫৯ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শিশু অধিকারের ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়, যা শিশুদের অধিকারের প্রচার ও সুরক্ষার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়। আন্তর্জাতিক শিশু দিবস শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণের জন্য সমর্থন এবং সমর্থন করার চলমান প্রয়োজনীয়তার অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।
সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবসটি প্রতি বছর ১ লা জুন শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণ প্রচারের জন্য পালিত হয়, যা ১৯২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শিশুদের কল্যাণের জন্য বিশ্ব সম্মেলনের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের গুরুত্ব—

আন্তর্জাতিক শিশু দিবস বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ:

সচেতনতা বাড়ায়: আন্তর্জাতিক শিশু দিবস সারা বিশ্বে শিশুদের মুখোমুখি হওয়া সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।
শিশুদের অধিকারের জন্য উকিল: দিবসটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা সহ শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণের পক্ষে সমর্থন করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে।
শিশুদের উদযাপন: এটি শৈশবের আনন্দ এবং শিশুরা বিশ্বে নিয়ে আসা নির্দোষতা এবং বিস্ময় উদযাপন করার একটি দিন। ঐক্য ও শান্তি প্রচার করে: দিবসটি সকল শিশুর মঙ্গল নিশ্চিত করার একটি অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করার জন্য মানুষকে একত্রিত করার মাধ্যমে ঐক্য ও শান্তির প্রচার করে।

কাজকে অনুপ্রাণিত করে:

আন্তর্জাতিক শিশু দিবস ব্যক্তি ও সংস্থাগুলিকে শিশুদের জীবনকে উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করে, তা অনুদান, স্বেচ্ছাসেবক বা নীতি পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন করে।
সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবস শিশুদের অধিকার এবং কল্যাণের জন্য সমর্থন এবং সমর্থন করার চলমান প্রয়োজনীয়তার অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের কার্যক্রম——

আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের ক্রিয়াকলাপগুলি উপলব্ধ অবস্থান এবং সংস্থানগুলির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে তবে এখানে কিছু ধারণা রয়েছে:

গেমস, মিউজিক এবং খাবারের সাথে বাচ্চাদের পার্টি বা ইভেন্টের আয়োজন করুন।
তাদের কাছে শিশুদের বই এবং গল্প পড়ুন, অথবা তাদের নিজে থেকে পড়তে উত্সাহিত করুন।
বাইরের ক্রিয়াকলাপ এবং ব্যায়ামের জন্য বাচ্চাদের পার্ক বা খেলার মাঠে নিয়ে যান।
বাচ্চাদের একটি নতুন দক্ষতা শেখান, যেমন রান্না বা বাগান করা।
একটি শিশু-বান্ধব গন্তব্যে একটি পারিবারিক ভ্রমণ বা ছুটির পরিকল্পনা করুন।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খেলনা বা বই দান করুন বা স্থানীয় শিশুদের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক করুন।
শিশুদের সৃজনশীলতাকে উদ্দীপিত করতে তাদের সাথে শিল্প প্রকল্প বা কারুশিল্প তৈরি করুন।
প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য শিশুদের কমিউনিটি সেবা বা স্বেচ্ছাসেবক প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং খেলার মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শেখান।

বাচ্চাদের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটান, তাদের চিন্তাভাবনা এবং ধারণাগুলি শুনুন এবং তাদের ভালবাসা এবং সমর্থন দেখান।
সংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবসের মধ্যে রয়েছে অনুষ্ঠান আয়োজন করা, শিশুদের পড়া, নতুন দক্ষতা শেখানো, দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা, শিল্প প্রকল্প তৈরি করা এবং শিশুদের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানো। সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক শিশু দিবস সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমর্থনের মাধ্যমে শিশুদের মঙ্গল ও অধিকার প্রচার করে এবং বিভিন্ন কার্যক্রম এবং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This