Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব তথ্য সমাজ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।।।।

প্রতি বছর 17 মে বিশ্বব্যাপী বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস উদযাপন করা হয়। এই বিশেষ দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় তথ্য সোসাইটির বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনের সময় যে দৃষ্টিভঙ্গি সেট করা হয়েছিল। লক্ষ্য হল এমন একটি সমাজ তৈরি করা যা মানুষের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মৌলিক মানবাধিকারের উপর ভিত্তি করে উন্নয়নের লক্ষ্য রাখে।

তথ্যের শক্তি–

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের উদ্দেশ্য হল কীভাবে তথ্য ও যোগাযোগ সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। ধারণাটি হল ব্যক্তিদের তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছানোর জন্য তথ্য এবং জ্ঞান তৈরি, অ্যাক্সেস, ব্যবহার এবং ভাগ করে নিতে সহায়তা করা। ইউনেস্কোর মতো সংস্থাগুলি এই দিনের লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে সক্রিয়ভাবে লোকেদের উত্সাহিত করে।

জনসাধারণকে জড়িত করা–

কিছু ছুটির দিন থেকে ভিন্ন, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস একটি ছুটির দিন নয়। যাইহোক, আমাদের সংযুক্ত বিশ্বে তথ্য এবং যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য বিশ্বজুড়ে লোকেরা বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করে।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস 2025 থিম-

২০২৫ সালের বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় আগ্রহের বিষয়, তবে প্রতিবেদন করা বিষয়বস্তুতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন উৎস থেকে উল্লেখিত বিষয়বস্তু এখানে দেওয়া হল :
– *”টেকসই উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন”*: এই বিষয়টি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর জোর দেয়।
– *”ডিজিটাল রূপান্তরে লিঙ্গ সমতা”*: এই বিষয়টি ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং ডিজিটাল যুগে নারী ও মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
– – *”ভাগীকৃত সমৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন”*: এই বিষয়টি সকলকে সংযুক্ত করতে এবং সকলের জন্য টেকসই সমৃদ্ধি আনতে ডিজিটাল উদ্ভাবনের ভূমিকা তুলে ধরে।

উল্লেখ্য যে, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস ১৭ মে পালিত হয়, ১৮৬৫ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ কনভেনশন স্বাক্ষর এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU) প্রতিষ্ঠার স্মরণে। যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য সমাজের বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন প্রচারের জন্য ITU এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের ইতিহাস-

এই দিনের উৎপত্তি এই দিবসে ফিরে যায়, যা 1865 সালের 17 মে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এর প্রতিষ্ঠাকে চিহ্নিত করেছিল। 2006 সালে, জাতিসংঘ 17 মেকে এই দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিল। প্রথম উদযাপন 17 মে, 2006-এ হয়েছিল, বিশ্বব্যাপী মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনে ITU-এর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে।
মূলত, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস, 1969 সালে শুরু হয়, বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের চ্যালেঞ্জগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে, জাতিসংঘ উদযাপনটিকে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সোসাইটি দিবসে প্রসারিত করেছে। উদ্দেশ্য হ’ল ইন্টারনেট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি কীভাবে সমাজ এবং অর্থনীতিকে উপকৃত করতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে, ডিজিটাল বিভাজনের সেতুবন্ধন করতে পারে সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের তাৎপর্য–

যদিও টেলিযোগাযোগ দিবসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতীক নেই, তবুও এই দিনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা দেখানোর জন্য ইউনেস্কো আধুনিক প্রযুক্তির ছবি ব্যবহার করে। এই চিহ্নগুলি দৃশ্যত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের বিশ্ব গঠনে তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

17 মে 2025 বিশেষ দিন–

17 মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, জন-কেন্দ্রিক তথ্য সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পিছনে বিশ্বব্যাপী একত্রিত হওয়ার একটি অর্থবহ সুযোগের প্রতিনিধিত্ব করে। এই সংযোগ-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের প্রতীকী সময় ডিজিটাল ইক্যুইটির দিকে অগ্রাধিকার পুনরুদ্ধার করার নিখুঁত সুযোগ উপস্থাপন করে, একটি মানবাধিকার হিসাবে অ্যাক্সেসের জন্য গভীর উপলব্ধি বৃদ্ধি করে এবং একটি ন্যায্য ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ প্রকাশ করে। ইনফরমেশন সোসাইটির বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন যেমন সার্বজনীন অধিকারের উপর ভিত্তি করে উন্নয়নের জন্য উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য নির্ধারণ করে, বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস সম্মিলিত আশাকে পুনর্নবীকরণ করে এবং এমন একটি সমাজ তৈরি করার আমাদের ভাগ করা ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করে যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। এই বিশেষ দিনে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে, আমরা সংহতির চেতনা জাগিয়ে তুলতে পারি যা প্রযুক্তির সম্ভাবনায় ভরপুর একটি ভবিষ্যতের সূচনা করে যা সকল মানুষকে ক্ষমতায়ন এবং সংযুক্ত করতে পারে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাংলার বীর-সন্তান উল্লাসকর দত্ত :: করবী বাগচী।।।।।

ইংরেজ অধিকৃত দেশমাতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করার মানসে সাধারণের চেতনা যখন নানাভাবে পথের অনুসন্ধান করছে , তাদের শক্তিকে কাজে লাগাতে ,সঠিক পথ দেখাতে , গড়ে উঠে যুগান্তর ও অনুশীলন সমিতি নামে দুটি প্রতিষ্ঠান । দুটি সমিতিই ছিল গোপন দুটি বিপ্লবী গোষ্ঠীর আড্ডা-স্থল । এই সমিতিগলো সাধারণ কুস্তীর আখড়ার আড়ালে নিজেদের গোপন কাজ করতো ।

যুগান্তরের কিছু সদস্য ধৃত হয়ে ফাঁসিতে প্রাণ দিয়েছিল আর কিছু সদস্য যাবজ্জীবন দণ্ডিত হয়ে আন্দামানের সেলুলার জেলে প্রেরিত হয়েছিলেন ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সেলুলার জেলের অনেক রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হলে তাঁরা আবার নতুন করে তাঁদের রাজনৈতিক জীবন শুরু করার সুযোগ পান । তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন উল্লাসকর দত্ত । উল্লাসকর দত্তের লেখা ‘আমার কারাজীবনী’ গ্রন্থের সম্পাদক নরেন্দ্র্চন্দ্র দত্ত লিখেছেন ‘চেনা বামুনের পৈতার দরকার নাই’ । উল্লাসকরের পরিচয় অনাবশ্যক । আলীপুরের বোমার মামলার ফাঁসির দায় মাথায় লইয়া যে উল্লাসকর স্বীয় স্বভাবসুলভ সরলতা , অনাবিল হাস্যকৌতুক ও মর্মস্পর্শী রাগ-রাগিনীতে ফৌজদারী আদালতের কঠোরতা ও নির্মমতা সাময়িকভাবে বিদূরিত করিয়াছিল, যে উল্লাসকরের নির্ভীকতা ও সত্যবাদিতা সাধারণের প্রাণে এক অনির্বচনীয় উচ্চনৈতিক ভাবের সঞ্চার করিয়াছিল এবং যে উল্লাসকরের অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম এই প্রাণহীন দেশেও এক অভিনব ভাবের বন্যা প্রবাহিত করিয়াছিল, সেই উল্লাসকর আজ তাহার কারা-জীবনী লইয়া পাঠকবর্গের সমক্ষে উপস্থিত’।
উল্লাসকরের জন্ম বর্তমানের বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কালিকাছায় হয়েছিল । তাঁর পিতা দ্বিজদাস দত্তগুপ্ত ব্রাহ্মসমাজের সদস্য ছিলেন । ১৯০৩সালে এন্ট্রান্স পাশ করে তিনি কলিকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন । সেই সময় ভারতের ইংরেজরা ভারতীয়দের অবজ্ঞা করতো এবং ভারতীয়দের সম্পর্কে ঘৃণ্য মন্তব্য করতে দ্বিধা করতোনা কারণ ইংরেজ শাসনে কোনপ্রকার শাস্তির ভয় তাদের ছিলনা । কিন্ত্ত প্রেসিডেন্সি কলেজের একজন ইংরেজ শিক্ষক প্রোফেসার রাসেল বাঙালিদের সম্বন্ধ অশিষ্ট উক্তি করলে উল্লাসকর তাকে শারিরিক আঘাত করেন আর সেই কারণে তাকে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয় ।
এই ঘটনা সম্বন্ধে উল্লাসকর তাঁর লিখিত ‘আমার কারাজীবন’ বইটিতে লিখেছেন ‘ইতিমধ্যে Bengal partition লইয়া সমগ্র বঙ্গদেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন উপস্থিত । আমাদেরও অন্তরাত্মা যেন এইসময়ে স্বদেশ-প্রেমের এক অপূর্ব আস্বাদন লাভ করিয়া দিন দিন আপন অকিঞ্চিৎকরতার নগণ্যতা ভুলিয়া গিয়া , জীবনের সর্বাঙ্গীন সার্থকতা লাভের জন্য একটি বিশেষ লক্ষের দিকে অগ্রসর হইতে চাহিল ।ইতিমধ্যে কলিকাতা university report এ Prof.Russel কলিকাতা ছাত্রবৃন্দের প্রতি এক কুৎসিত দোষারোপ করায় তাহার বিরুদ্ধে কয়েকটি সভা আহুত হয় এবং সকলেই তথায় Russel সাহেবকে যথেষ্ট ভর্ৎসনা করেন । আমি ও তখন একবার এফ.এ.পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হইয়া দ্বিতীয়বার Presidency College এ পড়িতেছি । ঐসকল আলোচনা গবেষণার পর এমন একটি ব্যাপার ঘটল যার জন্য আমাকে আর Presidency Collegeএ পড়িতে হইলনা, একেবারে সোজা চম্পট দিতে বাধ্য হইলাম এবং Bombay Victoria Technical Institute এ গিয়া Textile class এ প্রথম বার্ষিক শ্রেণীতে কিছুদিন অধ্যয়নান্তে ছুটীতে একবার বাড়ী আসিলাম ।
ঠিক সেই সময়েই বরিশাল প্রাদেশিক সমিতির অধিবেশন, এতদুপলক্ষে আমিও তথায় হাজির । সেখানে পুলিস কর্তৃপক্ষের কাণ্ড-কারখানা অবশ্য অনেকেই অবগত আছেন । বলা বাহুল্য অধমের প্রতি ও পুলিশ regulation লাঠির এক ঘা কৃপা করিতে বিস্মৃত হন নাই । চিত্তরঞ্জন প্রভৃতির প্রতি যা অমানুষিক অত্যাচার হইল তাহাতো স্বচক্ষেই দেখিলাম । ইত্যাদি কারণে মনের অবস্থা ক্রমশঃই একটা দৃঢ় নিশ্চয়ের দিকে অগ্রসর হইতে লাগিল । আমাদের অপরিণত মস্তিষ্কের চিন্তা-স্রোতকে পরিণত ও বিশিষ্ট আকার দান করিবার পক্ষে প্রধান সহায় পাইলাম তৎকালীন সদ্য -প্রবর্তিত যুগান্তর পত্রিকা । স্বদেশী আন্দোলন প্রবর্তিত হইবার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত কাব্য, সাহিত্য অথবা চিন্তাশীল -গবেষণাপূর্ণ রচনা কিছুরই আস্বাদন পাই নাই ।………..বঙ্কিমচন্দ্রের অনুশীলন ও ধর্মতত্ত্ব ইত্যাদি কয়েকখানি বই পড়িয়া পড়ার ভিতরেও যে একটা প্রাণ মাতানো জিনিষ কিছু আছে তাহা এই প্রথম অনুভব করিলাম । এতদ্ব্যতীত বিপিনবাবুর তখনকার বক্তৃতা ও রবিবাবুর স্বদেশী আন্দোলন সংক্রান্ত গান আমাদিগের যুবক হৃদয়ে এক নূতন উন্মাদনা আনিয়া দিল যাহার ফলে স্বদেশকে এক নতুন চক্ষে দেখিতে শিখিলাম’ ।
তিনি দেখিলেন যে শিবপুরে থাকিয়া explosive manufacture বিষয়ে নানাপ্রকার experiment ইত্যাদির চমৎকার সুযোগ আছে । কলেজ লাইব্রেরীতে যথেষ্ট বই পাওয়া যাবে আর laboratoryতে chemicalএর ও অভাব হবেনা । যদি তিনি দুই একটা experiment এ সফল হতে পারেন তাহলে দেশের গুপ্তদলগুলির সভ্য শ্রেণীভুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন । বোম বানানোয় পারদর্শী হয়ে তিনি যুগান্তর পার্টিতে যোগদান করেন । ক্ষুদিরাম বোস ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে মারার উদ্দেশ্যে যে বোমাটি ছুড়েছিলেন সেটি উল্লাসকর ও হেমচন্দ্র দাস প্রস্ত্তত করেছিলেন ।
পুলিস অভিরূপ ছদ্মনামধারী উল্লাসকরকে মুরারীপুকুর বাগানের গুপ্তস্থান থেকে গ্রেপ্তার করে । পুলিস মানিকতলার গোপন অস্ত্র প্রস্ত্ততের জায়গাটিও খোঁজে বের করতে সমর্থ হয় এবং ডিটেক্টিব অনুসন্ধানে জানতে পারে- যে বোমটি ক্ষুদিরাম ব্যবহার করেছিলেন সেটি উল্লাসকরের বানানো ।আলিপুর বোমা মামলায় ক্ষুদিরাম, বারীন ঘোষ ও তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় ।(১৯০৯খ্রীঃ) ।পরে এ্যাপীল করা হলে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্দামানে পাঠানো হয় ।
‘নির্বাসন ও কারাবাস বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও অপরাপর সকলের সহিত একরূপ নহে ।…..আমার কারাজীবনের সাধারন লৌকিক ঘটনবলীর ভিতর দিয়া অতিলৌকিক এমনই কতকগুলি ঘটনার সমাবেশ হইতে থাকে , যে যদি সম্পূর্ণ দ্বাদশবর্ষব্যাপী ঘটনাবলীর একটি চিত্র মানসপটে অঙ্কিত করি , দেখিতে পাই যে সেই অতিলৌকিক ব্যাপারগুলিই প্রায় সবস্থান অধিকার করিয়া বসিয়া আছে’ ।
কালাপানি চালান হওয়ার পর সেখানকার সেন্ট্রাল জেলে প্রায় আড়াই বৎসরের অধিককাল তাঁকে আবদ্ধ রাখা হয় । শুধু তাই নয় জেলের যেসমস্থ কাজ সবচেয়ে কঠিন পরিশ্রমের তাঁদের জন্য তারই ব্যবস্থা হইল । কিছুকাল পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল port mowat এ । সেখানে সাধারণ কয়েদীদের সংগে তাঁকে ও পাথর ভাঙ্গা, রাস্তা দুম্মুট , লাকরি কামান ইত্যাদি কাজ দেওয়া হয় । কিছুদিন পর তাঁকে dundas I’t নামক জায়গায় পাঠানো হয় । সেখানেও তাঁকে ইটা কামানে(brick field)ভর্তি করা হয় । ইটা কামানের পর তিনি শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে অস্বীকার করলে তাঁর বিচার হয় এবং তাঁকে তিনমাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে সেলুলার জেলে পাঠানো হয় ।
আন্দামান দ্বীপের এই কুখ্যাত সেলুলার জেলের কাজ শুরু হয়েছিল ১৮৯৬ এবং শেষ হয়েছিল ১৯০৬ এ । ভারতের ইংরেজ শাসকরা অবশ্য আন্দামান দ্বীপকে শাস্তি দেবার স্থান হিসেবে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিণামের সংগে সংগেই ব্যবহার করতে শুরু করেছিল । মোগল রাজবংশের সবাই ছাড়া ও যারাই কোনভাবে পত্রালাপে বাহাদুর শাহ জাফরের সংগে যোগাযোগ করেছে , তাদের প্রত্যেককেই আন্দামান দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে । সেলুলার জেলের সাতটি বিভাগে ৬৯৩টি ক্ষুদ্রকক্ষ বা cell ছিল । প্রত্যেক কক্ষ ৪.৫ মিটারও ২.৭ মিটার ছিল । আর ৩ মিটার উপরে ছিল একটি ভেন্টিলেটর । কক্ষগুলি এমন ভাবে প্রস্ত্তত ছিল যে এককক্ষ থেকে অন্যকক্ষের পিছনদিক শুধু নজরে আসত । বন্দীদের মধ্যে যোগাযোগ অসম্ভব ছিল । তাদেরে একাকী নিঃসঙ্গ জীবন ভোগ করতে হতো । তাদের উপর অকথ্য অত্যাচারও চালানো হতো ।
সেলুলার জেলে থাকাকালীন উল্লাসকর এখানকার নৃশংস জেলারের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে কিছুদিন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন । ক্রমে শারীরিক সুস্থ হয়ে উঠলে ও তিনি এক ভ্রান্তির রাজ্যে বাস করছিলেন-চারদিকে আত্মীয়স্বজনবর্গের আর্তনাদ ও কাতরধ্বনি শুনতে পেতেন । একসময় আত্মসংযম হারিয় তিনি ফাঁসি লাগাতে উদ্যত হলে তাঁর অতিলৌকিক দর্শনই তাঁকে রক্ষা করে ।তিনি অপর এক কয়েদীকে তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আত্মহত্যা থেকে বিরত হন । সহৃদয় superintendent তখন তাঁকে lunatic asylum এ প্রেরণ করেন যাতে তাঁকে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে না হয় ।
‘তখনও আমার মধ্যে মধ্যে কম্প দিয়া জ্বর আসিত ও ভয়ানক spasms হইত এমনকি একএকসময় দেয়ালে মাথা খুঁড়িতাম । জ্বর যখন খুব অধিক হয় ,নানাপ্রকার স্বপ্নচিত্র দেখিতাম । জিজ্ঞাসা করিলে বলিলাম -এক এক সময় মনে হয় যেন সমস্ত পৃথিবী ধ্বংসের পথে চলিয়াছ । শুনিয়া director সাহেব বলিলেন ‘কতকটা ঠিক, শীঘ্রই Europe এ এক মহাযুদ্ধের আয়োজন হইবে’ ।…….একমাসের মধ্যেই আমার transfer এর হুকুম আসিল ও আমাকে মাদ্রাজ চালান দেওয়া হইল’ ।
মাদ্রাজেও তাঁকে lunatic asylum এ থাকার সুবিধা দেওয়া হয় । সেখানেও তাঁর অতিলৌকিক দর্শন চলতে থাকে । কিছুদিন পর তাঁর মা বাবা এসে তাঁর সংগে দেখা করেন । এখানে প্রথমে তাঁতশালায় ও পরে চাটাই বোনার কাজ শুরু করেন । মাদ্রাজ জেলে lunatic ward এ চাটাই বোনার কাজ করার সময় তিনি তালপাতা লইয়া নাড়াচাড়া করতে করতে বেশ একপ্রকার চটিজুতা প্রস্ত্তত করেন এবং নগ্নপায়ে চলার কষ্ট নিবারণ করেন । তিনি লিখেছেন ‘-মনে আছে এই উপলক্ষ্যে তখন একটি দুলাইন গান পর্যন্ত রচনা করিয়া ফেলিয়াছিলাম ও তালপাতার কাজ করিবার সময় বাউল সুরে বুনানির তালে তালে ঐ লাইনদুটি গাহিয়া আমোদ উপভোগ করিতাম -‘আমার তালের পাতা ও আমার তালের পাতা’
তোমার পাতায় চটি বুনি, তোমার পাতায় চাটাই বুনি
তোমার পাতায় পাখা বুনি ,টুপি বুনি, খলতে বুনি , তালের পাতা’ ।
‘আমার কারাজীবনীতে’ সেই সময়ে তাঁর মানসিক অসামঞ্জস্য প্রসংগে তিনি লিখেছেন ‘তখন আমার এমনই একটি অবস্থা যে সেই সময় পশু,পক্ষী ,কীট-পতংগ ,এমনকি বৃক্ষলতাদিতে পর্যন্ত এমনই এক অদ্ভুত চৈতন্যশক্তির খেলা দেখিতে পাইতাম , যে চোখ মেলিয়া চাহিলেই সেই সর্বব্যাপী চৈতন্য আমাকে চারিদিক হইতে ঘিরিয়া ফেলিত’ ।
দীর্ঘ বারো বৎসর কারাবাসের পর যখন তিনি শরীর ও মনে পুরো অবসন্ন হয়ে আসন্ন মৃত্যুর অপেক্ষায় সেইসময়ই তাঁর মুক্তির আদেশ হয় (১৯২০) ও তাঁকে কলিকাতার জেলে নিয়ে আসা হয় ।’gate এ আসিয়াই দেখিলাম বাবা আমার জন্য অপেক্ষা করিতেছেন , এতদিনের পর এই শুভ সুযোগ লাভ করিয়া আমাদের উভয়ের মনে যে আনন্দের উদয় হইল তাহা আর বোধহয় কাহাকেও বলিয়া বুঝাইতে হইবেনা’ ।
১৯৩১ এ তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয় এবং আঠারো মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় । ১৯৪৭ এ ব্রিটিশ রাজত্ব সমাপ্ত হওয়া পর তিনি জন্মস্থান কালিকাছায় যান এবং দীর্ঘ দশ বৎসর একাকীত্বের জীবন কাটিয়ে কলিকাতায় ফিরে আসেন । সেখানে তিনি শারীরিকভাব অক্ষম এক মহিলাকে বিয়ে করে আসামের কাছাড় জিলার শিলচরে চলে যান ও জীবনের বাকী সময়কাল সেখানেই কাটান ।১৯৬৫ সালের ১৭ মে তাঁর মৃত্যু হয় ।
————করবী বাগচী ——

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও (অহং)আমি : স্বামী আত্মভোলানন্দ(পরিব্রাজক)।।।

আমাদের সবার পরম সৌভাগ্য পুণ্যভূমি,পবিত্রভূমি ভারতবর্ষ এর পবিত্র রত্নগর্ভা ভূমিতে আমরা জন্মলাভ করেছি। আধ্যাত্মিক দেশ তপোভূমি আমাদের এই ভারতবর্ষ। আমাদের ভারতমাতা স্বমহিমায় উজ্জ্বল।ভারতভূমিতে জন্মলাভ করে সুদুর্লভ এই মনুষ্য জীবন লাভ। ভা – অর্থে জ্যোতি। রত – অর্থে নিমগ্ন, নিবিষ্ট।

এ জ্যোতি অনন্ত জ্যোতি। জ্যোতির সাধনায় নিবিষ্ট যে ভূখণ্ড, তাই আমাদের পবিত্রভূমি, ভারতভূমি। সৌন্দর্যময় আমাদের এই ভারতবর্ষ এর সুন্দর প্রকৃতি ও সকল নৈসর্গিক উপাদানে সমৃদ্ধ। এই মনোরম, অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনন্তকাল ধরে আমাদের চিত্তে শিক্ষা ও আনন্দের অমৃতধারা জাগিয়ে তুলছে। আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রকৃতির অবদান ও অপরিসীম।
তাই, কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বলছেন:-
*ভায়ের মায়ের এত স্নেহ,
কোথায় গেলে পাবে কেহ
ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি।*
তবুও আমি/আমরা আমার আমার করি, আমি (অহং) এই অহঙ্কারটা নষ্ট হয় না।
আমাদের মূল্যবান মনুষ্য জীবনে আমরা মা-বাবা, বোন-ভাই, (পারিবারিক জীবনে স্ত্রী-স্বামী, কন্যা-পুত্র সহ) শিক্ষিকা-শিক্ষক, অধ্যাপিকা-অধ্যাপক,স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধু-প্রতিবেশী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয়গুরু, আধ্যাত্মিক গুরু ইত্যাদি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান সবার কাছ থেকে শিখেছি, জ্ঞান অর্জন করেছি, আমরা শিক্ষার্থী, আমাদের জীবনে শিক্ষাক্ষেত্রে ইনাদের অবদান অতিব মূল্যবান। আমাদের জন্য জীবনের সব দিক থেকে শিক্ষক আছে। কিন্তু, তবুও আমার আজও মনে হয় জীবনে আমার কিছুই শিক্ষা হয়নি, এখনও আমি শিক্ষার্থী। তবুও আমার আমার করি, আমি (অহং) এই অহঙ্কারটা নষ্ট হয় না।
আমাদের মনুষ্য জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করা সোজা, কিন্তু ত্যাগ করা কঠিন। যে ত্যাগ করতে পারে সে প্রকৃত সাধু। ত্যাগ না করলে ভগবানে ভক্তি আসে না। ত্যাগ নিশ্চিত চাই। ত্যাগ হচ্ছে-আদর্শ সন্ন্যাসী জীবন। অহঙ্কারটা নষ্ট করা। সে-ই ঠিক ঠিক ত্যাগী যে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে দিয়ে দিয়েছে ভগবানকে, আমার বলতে কিছু রাখে নি।
মিথ্যা বলা মহাপাপ , মিথ্যার মতো মহাপাপ দুনিয়াতে আর নেই। পরনিন্দা, পরচর্চা কখনো করতে নেই। উহাতে নিজেরই ক্ষতি হয়। সব সময় মানুষের গুণ দেখতে হয়। একটু গুণ থাকলেও তাকে বড় করে দেখতে হবে, সম্মান দিতে হবে, প্রশংসা করতে হবে। গুণের আদর না করলে মানুষ বড় হতে পারে না, নিজের মনও উদার হয় না। আমি (অহং) অহঙ্কারটা নষ্ট হয় না।
আমাদের সুন্দর ভারতীয় সমাজে অনন্তকাল ধরে ঋষি, মুনি, সাধু, সন্ন্যাসী, অনেক বিখ্যাত দার্শনিক, অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী, অনেক বিখ্যাত মহাপুরুষ, সাধুমহাত্মা, মহামানব, অনেক বিখ্যাত মানুষ,সময়ে সময়ে নিজেদের প্রভাব, মহিমা, জ্ঞানের, তপস্যার, আবিস্কারের অবদান রেখে গেছেন এই আমাদের ভারতবর্ষে, মানব সমাজের জন্য, আমাদের শিক্ষার জন্য। তবুও আমাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। তবুও আমি/আমরা আমার আমার করি, তবুও আমাদের আমি (অহং) অহঙ্কারটা নষ্ট হয় না।
অহংকার কত প্রকারের হয় :-
১. উচ্চশিক্ষার, জ্ঞান এর অহংকার!
২. উচ্চ কুলের জন্মের অহংকার।
৩. রূপের অহংকার!
৪. এবং ধন সম্পদের অহংকার।
আরও কত প্রকারের হয় অহংকার।
অহংকার সবই ব্যর্থ কারণ আমি/আপনি এসব কিছুই সাথে নিয়ে যেতে পারবেন না আপনার সাথে যদি কিছু নিয়ে যান, সেটা হলো এই মধু মাখা সুধা মাখা গুরু-নাম, ভগবান এর নাম l ধর্মের পথে হাঁটলে কষ্ট ঠিকই হবে কিন্তু জয় আপনারই হবে। মনুষ্য জীবন সুদুর্লভ, খুব কষ্ট করে মানুষ জীবন পাওয়া গেছে তাই আমাদের মনুষ্য জীবনের সৎ ব্যবহার করা উচিত । *কিসের এত অহংকার ঘুম ভাঙলেই গতকাল না ভাঙলে পরকাল। মাটির দেহ মাটি হবে পুড়ে হবে ছাই এ দেহ মোর পচা দেহ গৌরব, অহংকার কিসের ভাই।*
স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ ও বলছেন:- “সকল জন্মের মধ্যে মনুষ্য জন্মই শ্রেষ্ঠ। এই জন্মেই মানুষ ভগবানকে ডাকিতে পারে ও লাভ করিতে পারে। আবার মনুষ্যগণের মধ্যে যিনি ভগবানের আরাধনা করেন, তিনি আরো সৌভাগ্যশালী। যিনি সতত তাঁহার চিন্তায় নিমগ্ন থাকেন, তিনি তাহার চেয়ে ও সৌভাগ্যশালী। আর যিনি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করিয়া তাঁহারই ঐশ্বর্যে নিয়ত ডুবিয়া থাকেন, তিনি জগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মহান।”
আজ আমাদের মনুষ্য সমাজে সব কিছুর দাম বেড়েছে মিথ্যা, ঘৃণা, জাল, প্রতারণা। আর দাম কমেছে শুধু মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর দাম কমেছে মানুষের জীবনের মূল্য। তবুও আমাদের আমি (অহং) অহঙ্কারটা নষ্ট হয় না। আমি/আমরা আমার আমার করি….! তবুও আমাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না।
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ….!
স্বামী আত্মভোলানন্দ(পরিব্রাজক) l

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৭ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১৭ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক)  বিশ্ব তথ্য সমাজ দিবস।
(খ) নৌ বাহিনী দিবস। (আর্জেন্টিনা)
(গ) বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। (আন্তর্জাতিক)

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৬৮২ – বার্থোলুমিউ রবার্টস, ওয়েলশ জলদস্যু।  .
১৭৪৯ – এডওয়ার্ড জেনার, ইংরেজ চিকিৎসক এবং বৈজ্ঞানিক,গুটিবসন্ত রোগের ভ্যাকসিন আবিস্কারের পথিকৃৎ।

১৮৪৫ – জ্যাসিন্ট ভার্ডাগুয়ের, কাতালান কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
১৮৭৩ – ফরাসি চিন্তাবিদ ও গবেষক অঁরি বারব্যুস।
১৮৮৩ – পারসিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী খুরশেদ ফ্রানজি নরিন।
১৮৮৬ – স্পেনের ত্রয়োদশ আলফনসো, স্পেনের রাজা।

১৮৮৮ – টিচ ফ্রিম্যান, ইংলিশ ক্রিকেটার।
১৮৯৭ – (ক)  নোবেল বিজয়ী (১৯৬৯) নরওয়েজীয় ভৌতরসায়নবিদ ওড হাজেল।

(খ) রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্যা বিশিষ্ট গায়িকা সাহানা দেবী।
১৯০০ – আয়াতুল্লা রুহেল্লা খোমিনী, ইরানের ধর্মগুরু।
১৯৩২ – পিটার বার্জ, বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৩৬ – ডেনিস হপার, মার্কিন অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, আলোকচিত্রী ও চিত্রশিল্পী।
১৯৪০ – এলান কে, মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী।
১৯৪৫ – ভাগবত চন্দ্রশেখর, ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৫১ – পঙ্কজ উদাস, ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী।
১৯৬৭ – মোহাম্মদ নাশিদ, মালদ্বীপের প্রথম প্রেসিডেন্ট।
১৯৮২ – রেইকো নাকামুরা, জাপানি অলিম্পিক ও এশীয় রেকর্ড-ধারী সাঁতারু।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৫৪০ – শেরশাহ কনৌজের যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।
১৭৭৫ – ব্রিটিশ ও মারাঠা বাহিনীর মধ্যে আরারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১৮৮১ – নিউ টেস্টামেন্টের পরিমার্জিত সংস্করণ ছাড়া হয়।
১৯০০ – এল ফ্রাঙ্ক বম রচিত কিশোর কাল্পনিক উপন্যাস দ্য ওয়ান্ডারফুল উইজার্ড অব অজ প্রকাশিত হয়।
১৯২০ – বিশ্বের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান KLM চলাচল শুরু করে।
১৯৮১ – শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
১৯৯৮ – ভারতে কেনিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল ওয়ানডেতে প্রথম জয়ের দেখা।
১৯৯৯ – বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক হয়।
২০১৯ – আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরের মালাহাইডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে শিরোপার স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৭২৭ – রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী প্রথম ক্যাথারিন।
১৮৭০ – রাধানাথ শিকদার,ভারতীয় বাঙালি গণিতজ্ঞ ও মাউন্ট এভারেস্ট- এর উচ্চতা নিরূপণকারী ও আবিষ্কারক।
১৯১৩ – দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, বাঙালি কবি, গীতিকার ও নাট্যকার।
১৯৫৪ – নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরী (রশীদ আহমদ চৌধুরী)।
১৯৬৫ – বিশিষ্ট বিপ্লববাদী উল্লাসকর দত্ত।
১৯৮৭ – কার্ল গুনার মিরদাল, নোবেলজয়ী সুইডিশ অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী।
২০১৩ – হোর্হে রাফায়েল বিদেলা, আর্জেন্টিনার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।
২০১৪ – জেরাল্ড এডেলম্যান, মার্কিন জীববিজ্ঞানী৷

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রখ্যাত বাঙালি সাংবাদিক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

সাংবাদিকতার জগতে অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এক অতি পরিচিত নাম। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব আলাপন ব্যানার্জির ছোট ভাই ছিলেন। অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন একজন ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক যিনি ইটিভি বাংলা, আনন্দবাজার পত্রিকা, জি 24 ঘন্টা, টিভি 9 বাংলা, আজকাল, যুগান্তর, ইত্যাদির মতো বিভিন্ন সংবাদ ও মিডিয়া চ্যানেলের জন্য কাজ করেছেন।

টিভির পর্দায় মানুষ চোখ রাখত তাঁর উপস্থাপনা দেখার জন্য। চোখা চোখা প্রশ্নে কুপকাত করে দিতেন আচ্ছা আচ্ছা রাজনীতিবিদদেরও।
অঞ্জন ব্যানার্জি 24 আগস্ট 1965 সালে জন্মগ্রহণ করেন। 1981 সালে তিনি রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল, নরেন্দ্রপুর থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণী লাভ করেন। তিনি 33 বছরেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা, যুগান্তর প্রভৃতি মিডিয়া এবং আকাশ বাংলা, যুগান্তর প্রভৃতি চ্যানেলে কাজ করেন। 2015 সালে, তিনি জি 24 ঘন্টা থেকে পদত্যাগ করেন এবং আনন্দবাজার পত্রিকায় (ডিজিটাল) যোগ দেন। তিনি 2020 সালের নভেম্বরে জি নেটওয়ার্কে পুনরায় যোগদান করেন। তিনি টিভি9 বাংলার প্রথম সম্পাদক হিসাবেও যুক্ত ছিলেন ।
অঞ্জন ব্যানার্জি 2021 সালের এপ্রিল মাসে কোভিড -19 এর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পরে, কয়েক দিন পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। মে মাসের মাঝামাঝি তার স্বাস্থ্যের আবারও অবনতি হয় এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাকে দ্বিতীয়বার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি 2021 সালের 16 মে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। তাঁর মৃত্যু সাংবদিকিতার জগতে এক অপুরনীয় ক্ষতি।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি চিত্রপরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক ফণী মজুমদার – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

সূচনা- ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি চিত্রপরিচালক ফণী মজুমদার চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক।, ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে তার পরিচালিত প্রথম ছবিস্ট্রিট সিঙ্গার-এ কে এল সাইগলের গাওয়া বাবুল মোরা নাইহার টুটহি যায় বিশেষ জনপ্রিয় হয়। তিনি সিঙ্গাপুরেও কাজ করেছিলেন। সেখানে তিনি ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে হ্যাং টুয়া মালয় ভাষায় তৈরি করেছিলেন, যা সপ্তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন–

২৮ ডিসেম্বর ১৯১১ সালে বৃটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের রংপুরে। তাঁদের বাড়ি ছিল ফরিদপুরে ফণী মজুমদারের জন্ম । তাঁর পিতা শীতলচন্দ্র মজুমদার রংপুরের গোবিন্দগঞ্জ হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন। তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন। এরপর টাইপরাইটিং ও শর্টহ্যান্ড শিক্ষা করেন। দূরদর্শনে রামানন্দ সাগর পরিচালিত মেগাধারাবাহিক রামায়ণ-এর চিত্রনাট্য তৈরির পর্বে গবেষণার পুরো কাজটা তিনিই করেন। একাধিক দূরদর্শন ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যও তিনি রচনা করেছেন। তার পরিচালিত একাধিক ছবি একাধিক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেছিল। খ্যাতনামা অভিনেত্রী মণিকা দেসাই তার স্ত্রী।

কর্মজীবন-

কলকাতায় বীরেন্দ্রনাথ সরকার প্রতিষ্ঠিত নিউ থিয়েটার্সে (১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে) প্রমথেশ বড়ুয়ার সহকারী হিসাবে তিনি ‘দেবদাস’, ‘গৃহদাহ’, ‘মায়া’, ‘মুক্তি’ প্রভৃতি হিন্দি ও বাংলা সংস্করণে কাজ করেন। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে স্ট্রিট সিঙ্গার-এর জনপ্রিয়তার পর এরই বাংলা সংস্করণে সাথীর নায়ক ও নায়িকা ছিলেন যথাক্রমে সায়গল ও কাননবালা। এরপর একে একে মুক্তি পায় তার পরিচালিত ‘কপালকুণ্ডলা’ (হিন্দি ১৯৩৯), ‘ডাক্তার'(বাংলা ও হিন্দিতে ১৯৪০), ‘আরতি’ প্রভৃতি ছবি। কলকাতায় তার শেষ বাংলা ছবি ‘অপরাধ’ মুক্তি পায় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে তিনি বোম্বাই বর্তমানে মুম্বই চলে যান এবং সেখানে ‘বোম্বাই টকীজে’ কাজ করতে থাকেন।
তার পরিচালিত হিন্দি ছবি–
‘ইনসাফ’, ‘হাম ভি ইনসান হ্যায়’, ‘আন্দোলন’, ‘গুঞ্জ’, ‘তামাসা’, ‘বাদবান’, ‘ধোবী ডক্টর’, ‘আকাশদীপ’, ‘উঁচে লোগ”তমন্না’, ‘মোহাব্বত’, ‘মীনা’, ‘দেবদাসী’, ‘দূর চলে’, প্রভৃতি।

কর্মজীবন–

বিভিন্ন ভাষায় ছবি তৈরিতে তাঁর দক্ষতা ছিল। পাঞ্জাবি, ইংরেজি, মারঠি, মালয়, চীনা, মাগধি, মৈথিলি প্রভৃতি ভাষায় তিনি ছবি করেছেন। কর্মজীবনে মধ্যপর্বে বিদেশি সংস্থায় কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ইন্দোনেশিয়া, সুমাত্রা, জাভায় কাটিয়েছেন।

পুরস্কার-

চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সম্মান সরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।

মৃত্যু-

ফণী মজুমদার আজকের দিনে ১৬ মে ১৯৯৪ সালে প্রয়াত হন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৬ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ১৬ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) ফারাক্কা লং মার্চ দিবস৷

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮২১ – পাফনুতি লভোভিচ চেবিশেভ, রুশ গণিতবিদ এবং গণিতের সেন্ট পিটার্সবার্গ ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা।

১৮২৩ – হের্মান স্টাইন্‌টল, জার্মান ভাষাতাত্ত্বিক ও দার্শনিক।

১৮৩১ – বাংলার নাট্যোৎসাহী,শিল্প-কলা, মানব দরদী ব্যক্তিত্ব মহারাজা বাহাদুর স্যার যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর।
১৮৩১ – ডেভিড এডওয়ার্ড হিউজ, টেলি প্রিন্টার ও মাইক্রোফোনের উদ্ভাবক।

১৮৮৩ – জালাল বায়ার, একজন তুর্কি রাজনীতিবিদ ও তুরস্কের ৩য় রাষ্ট্রপতি।
১৮৯৮ – কেনজি মিজোগুচি, জাপানী চলচ্চিত্র পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার।

১৯০৫ – হেনরি ফন্ডা, আমেরিকান অভিনেতা।
১৯০৬ – আর্নি ম্যাককরমিক, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার।
১৯১৮ – হুয়ান রুলফোর, মেক্সিকান কথাসাহিত্যিক।
১৯২৩ – ভিক্টোরিয়া ফ্রমকিন, আমেরিকান ভাষাবিদ, ইউসিএলএ-র অধ্যাপক।
১৯২৩ – মার্টন মিলার, আমেরিকান অর্থনীতিবিদ।।
১৯৩৮ – আইভান এডওয়ার্ড সাদারল্যান্ড, মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী।
১৯৫০ – ইয়োহান গেয়র্গ বেডনৎর্স, নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী।
১৯৫৩ – পিয়ার্স ব্রসনান, আইরিশ চলচ্চিত্র অভিনেতা, নিমার্তা ও পরিবেশবাদী।
১৯৭০ – গ্যাব্রিয়েলা সাবাতিনি, আর্জেন্টিনার টেনিস খেলোয়াড়।
১৯৭২ – ম্যাথু হার্ট, নিউজিল্যান্ডীয় সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯৭৬ – ডার্ক নানেস, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
১৯৮৬ – মেগান ফক্স, আমেরিকান অভিনেত্রী।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৫০২ – ক্রিস্টোফার কলম্বাস দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ট্রুজিল্লোতে প্রথম পা রাখেন এবং ঐ এলাকার নাম রাখে হন্ডুরাস।
১৫৩২ – ইংল্যান্ডের লর্ড চ্যানসেলর পদ থেকে স্যার টমাস মুর পদত্যাগ করেন।
১৮২২ – গ্রিসের স্বাধীনতা যুদ্ধে তুরষ্ক গৃসের সৌলি শহর দখল করে নেয়।
১৮৭৪ – মিল নদীর ভয়াবহ বন্যায় ম্যাসাচুসেটসের ৪টি গ্রাম বিধ্বস্ত হয়ে যায় এবং প্রায় ১৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।
১৮৮১ – বার্লিনের কাছে বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাম সার্ভিস চালু হয়।
১৮৯০ – ব্রাহ্ম মহিলা সমাজের উদ্যোগে কলকাতায় ব্রাক্ষবালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৬ – উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে গোপন সাইকস-পিকট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯২০ – ফ্রান্সের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর নারী জোয়ান ডি আর্ক-কে রোমে পোপ পঞ্চদশ বেনেডিক্ট ক্যানোনাইজের মাধ্যমে সেইন্ট হিসেবে ভূষিত করেন।
১৯২৯ – হলিউডে প্রথম চলচ্চিত্রে একাডেমি পুরস্কার বা অস্কার পুরস্কার চালু হয়।
১৯৩২ – জাপানের প্রধানমন্ত্রী তসুশি ইনুকাই টোকিওতে আততায়ীর হাতে নিহত।
১৯৪৫ – জার্মান নাৎসি বাহিনী অবলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
১৯৪৬ – ব্রিটিশ কেবিনেট মিশনে ভারত বিভক্তির প্রস্তাব।
১৯৬১ – জেনারেল পার্ক চুংহির নেতৃত্বে দ. কোরিয়ার সামরিক অভ্যুত্থান।
১৯৬৯ – সোভিয়েত নভোযান ভেনাস-৫ শুক্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে।
১৯৭৪ – বাংলাদেশ-ভারত যুক্ত ঘোষণা স্বাক্ষর। বেরুবাড়ি ভারতের এবং দহগ্রাম, আসালং লাঠিটিলা ও পাথুরিয়া বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
১৯৭৪ – জোসিপ টিটো দ্বিতীয়বারের মতো সমাজতান্ত্রিত যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এবার তিনি আজীবনের জন্য ম্যান্ডেট পান।
১৯৭৫ – সিকিম ভারতের ২২তম রাজ্য হিসাবে ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৭৬ – মাওলানা হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
১৯৮৬ – সৌরজতের অভ্যন্তরভাগে শেষবারের মত দেখা যায় হ্যালির ধূমকেতু।
১৯৯১ – ইরানের প্রেসিডেন্ট খাতামির সৌদি সফর। ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ইরানি প্রেসিডেন্টের সৌদি সফর।
২০০৭ – নিকোলাই সারকোজি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৭০৩ – শার্ল পেরো, ফরাসি কবি, সমালোচক, পণ্ডিত, রূপকথার লেখক।

১৮৩০ – জোসেফ ফুরিয়ে, প্রখ্যাত ফরাসি গণিতবিদ।

১৯২৬ – ষষ্ঠ মুহাম্মদ, উসমানীয় খলিফা এবং সর্বশেষ উসমানীয় সুলতান।

১৯৪৭ – ফ্রেডরিখ গোল্যান্ড হপকিন্স, ইংরেজ প্রাণরসায়নবিদ এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।
১৯৫৪ – প্রখ্যাত নৈয়ায়িক চন্ডীদাস ন্যায়-তর্কতীর্থ, মহামহোপাধ্যায়।
১৯৬৫ – প্রখ্যাত বাঙালি সাংবাদিক ও সম্পাদক কেদারনাথ চট্টোপাধ্যায়।
১৯৭৭ – মালির প্রথম প্রেসিডেন্ট মোদিবো কেইটা।
১৯৯৪ – ফণী মজুমদার, ভারতের অগ্রণী চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।
২০১৩ – হাইনরিশ রোরার, সুইজারল্যান্ডের নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী।
২০২০ – আজাদ রহমান, বাংলাদেশের বরেণ্য সংগীতজ্ঞ ও সংগীত পরিচালক।
২০২১ – অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রখ্যাত বাঙালি সাংবাদিক।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস, জানুন কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।।।।

আজ ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। রাষ্ট্রসংঘ ১৯৯৪ সালকে আন্তর্জাতিক পরিবার বর্ষ ঘোষণা করেছিল। সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে একটি পরিবারের ভূমিকা কি তা আমরা সকালেই জানি।

একটি শিশুর বেড়ে ওঠা থেকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিবার এমন একটি সমাজিক বন্ধন যা একটি ব্যক্তিকে জীবনের চলার পথে সমূহ ঝড় ঝঞ্ঝা প্রতিহত করতে সহযোগিতা করে। তাই এ ক্ষেত্রে যৌথ পরিবারের ভূমিকা আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারন সুখে দুঃখে সকলকে একসঙ্গে না হোক কাউকে না কাউকে পাশে পাওয়া যায়। নিজেদের সুখ দুঃক্ষ গুলো ভাগ করে নেওয়া যায়। কিন্তু দুক্ষের বিষয় হলো এই যে যতো দিন যাচ্ছে ততই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হচ্ছে পরিবার। কর্মের আর ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে আমরা নিজেদের ক্রমেই ভাগে ভাগে ভাগ করে নিচ্ছি। বঞ্চিত হচ্ছি, পরিবারের ছোটদের কিংবা নব প্রজন্ম কে বঞ্চিত করছি যৌথ পরিবারের আসল সুখ থেকে।
কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে একান্নবর্তী কিংবা যৌথ পরিবারের ধারণা যেন এখন ‘সেকেলে’ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, শহুরে জীবন ব্যবস্থায় এই ব্যাপারটি চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা যেন ছুটে চলেছি সুখ নামক এক অসুখের পেছনে। একা থাকব একা পরব, আমি আমার সন্তান আমার বৌ এই যেন একটা গন্ডি তৈরি করছি সকলে। কিন্তু ভুলে যাচ্ছি প্রকৃত সুখ কি সেটা ভাবতে বা বুঝতে। যৌথ পরিবারে হয়তো মতগত বিভিন্ন পার্থক্য থাকে, আর এটাই সভাবিক। কিন্তু যৌথ বা একান্নবর্তি পরিবারের মধ্যে যে সুযোগ সুবিধা গুলো থাকে সেটাও আমাদের ভাবতে হবে। কিন্তু দিন দিন জেনে আমরা সেই ভাবনা থেকে সরে আসছি। এর ফলও ভুক্তে হচ্ছে ক্ষুদ্র পরিবার গুলোকে। হঠাৎ অসুখ বিসুখ, বিপদে আপদে বা বিপর্যয়ে সেই সমস্যা গুলো প্রকট হয়ে ওঠে। আমরা বুঝি না প্রতিটা অনু পরিবারও একদিন বড় হবে। সন্তান বড় হবে, তার বিয়ে হবে, তার সন্তান হবে এই ভাবেই। আর, আমরা কেবল ভাংতেই আছি!!
আমরা জানি পরিবার মানেই হচ্ছে মা, বাবা, ভাই, বোন, দাদা, দিদি, দাদু, দিদা, কাকা, কাকি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস। আমাদের সমাজব্যবস্থায় পরিবারের এই ধারণা প্রচলিত অতীত থেকেই। কিন্তু দিন যতোই যাচ্ছে, আমরা যেন ততোই এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছি। যেন ক্রমেই ‘স্বামী-স্ত্রী-সন্তানে’ই সীমাবদ্ধ করে ফেলছি আমরা পরিবারকে। সেখানে মা-বাবা কিংবা দাদা-দাদীর কোন স্থান নেই। মা-বাবাকে হয়তো গ্রামের বাড়িতে কাটাতে হচ্ছে নিঃসঙ্গ-অসহায় জীবন। আবার অনেক মা-বাবার ঠিকানা হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’। এর থেকে বড় যান্ত্রনার অর কি হতে পারে ! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে একান্নবর্তী কিংবা যৌথ পরিবারের ধারণা যেন এখন ‘সেকেলে’ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, শহুরে জীবন ব্যবস্থায় এই ব্যাপারটি চরম আকার ধারণ করেছে। রক্তের বন্ধন মানেই পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে অকৃত্রিম সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তা অটুট রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের চিরায়ত সমাজ ব্যবস্থায় সুন্দর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, সুন্দর পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বন্ধুর মতো হলে পারিবারিক নানা জটিল সমস্যা ও মোকাবেলা করা যায়। সকলের এগিয়ে চলার পথ হয় মসৃণ। তাই যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখার মানসিকতা সৃষ্টির লক্ষে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
তবে সুপ্রাচীন কাল থেকে যে যৌথ পরিবারে চিত্র সারাবাংলা জুড়ে ছিল এখন তা অনেকটাই ম্লান। শহুরে জীবনে অনেক আগেই বিলীন হয়েছে যৌথ পরিবারের চিত্র। আগে গ্রামে কিছু যৌথ পরিবার দেখা গেলেও এখন তাও নেই। কেউ ইচ্ছে করে কিংবা কেউ কর্মের তাগিদে ভেঙে দিচ্ছে যৌথ পরিবারের ধারনা গুলো। বংশ মর্যাদা এমনকি ঐতিহ্যের পরিবারেও বিলীন একত্রে বাস করার ইতিহাস। যা দেখতে এক সময় মনুষ অভ্যস্থ ছিল তা এখন স্বপনের মতন। হয়তো সিনেমার পর্দায় কেবল ভেসে ওঠবে গল্পের মতো অতিতের ইতিহাস।
নৃবিজ্ঞানী ম্যালিনোস্কির মতে – “পরিবার হল একটি গোষ্ঠী বা সংগঠন আর বিবাহ হল সন্তান উৎপাদন ও পালনের একটি চুক্তি মাত্র”। সামনার ও কেলারের মতে- ‘পরিবার হল ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন, যা কমপক্ষে দু’ পুরুষকাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে”- এ সংজ্ঞার প্রেক্ষিতে বোঝা যায়, বিবাহপ্রথার আগেও সমাজে পরিবারের সৃষ্টি হয়েছিল- কারণ এ সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার আগে থেকেই মানুষ দলবদ্ধ জীবনযাত্রা করত যা পারিবারিক জীবনযাপনের স্বাক্ষরবহ। তবে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন সংস্কৃতির পরিবারের ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পরিলক্ষিত হয়। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বৈচিত্র্যপূর্ণ নানামুখী ধারা যে কারণে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে এর গঠন ও অন্যান্য অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং হচ্ছে। যে শিশুটি ভবিষ্যতের নাগরিক, তার মনোজগত প্রস্তুত হয় পরিবারে। পরিবারের ধারা কেমন, কী ধরনের প্রথা-রীতিনীতি, এ সবের উপর ভিত্তি করে তার জীবনভঙ্গি গড়ে ওঠে। তাই শিশুর সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষা শৈশব তথা শিশুর মন তথা সাদা কাগজের পাতায় যে ছাপ রাখে, তা ওর পরবর্তী জীবনে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন কিছু সংবিধান আছে তেমনি পারিবারিক সংবিধানও থাকা দরকার। যেমন পরিবারের সবার সঙ্গে সদ্ভাব গড়ে তোলা, সাংসারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মিথ্যে না বলা, গুরুজনদের শ্রদ্ধা করা, নির্দিষ্ট সময়ে ঘরে ফেরা, নিজের কাজ নিজে সম্পন্ন করা, মিথ্যেকে ঘৃণা করা এবং মানবিক মূল্যবোধগুলোর চর্চার মাধ্যমে অন্তরকে বিকশিত করা। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের সমাজে প্রচলিত যৌথ পরিবারে পারস্পরিক সম্প্রীতি গভীর হয়, অটুট থাকে। অসুখ বিসুখসহ নানা সমস্যায় একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এতে অনেক বড় সমস্যাও সমাধান হয়ে যায় অতি সহজে। সময়ের তাগিদে যৌথ পরিবার কিংবা পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার বিষয়টি যখন এই সমাজে ক্রমান্বয়ে গুরুত্বহীন হয়ে উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আজকের এই আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন আমরা সেই ভাবনাকে বুকে নিয়ে আবার একি সূত্রে আবদ্ধ হই ।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সাগর সেনের জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

সাগর সেন প্রখ্যাত বাঙালি রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।সাগর সেন ১৫ মে ১৯৩২ সালে বর্তমান ফরিদপুর, ব্রিটিশ ভারতের একটি রাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিজনবিহারী সেন এবং নয়নমঞ্জরী সেনের কনিষ্ঠ পুত্র।তার শৈশব কেটেছে বর্তমান বাংলাদেশে। যাইহোক, দেশভাগের পর পরিবারটি কলকাতার বরানগরে চলে আসে।

তাঁর প্রথাগত সঙ্গীত শিক্ষা হয় কলকাতায়। কলকাতার পিলগ্রিম ইনস্টিটিউশনে তাঁর স্কুলের পড়াশোনা। তারপর কলেজের পাঠ সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। তাঁর প্রধান জীবিকা ছিল সঙ্গীত। এছাড়া তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে আজীবন যুক্ত ছিলেন।
বাংলা চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীতের কণ্ঠশিল্পী ছিলেন তিনি। যেমন – যে যেখানে দাঁড়িয়ে, পরিচয়, আবির্ভাব,
মন্ত্রমুগ্ধ, পরিচয়’ চলচ্চিত্রে ‘আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে’ গানটির জন্য ১৯৭৯ সালের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসাবে বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার বা বিএফজিএ লাভ করেন।
তবে আধুনিক বাংলা গান অল্প কয়েকটি গেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য গানগুলি হল-
এই জীবন এমনি করে আর সয় না, তৃষিত নয়নে এসো, কি হলো চাঁদ কেন মেঘে ঢেকে গেলো।
সাগর সেনের প্রকৃতিদত্ত বলিষ্ঠ-উদার-ভাবময় কণ্ঠ-এ গীত অবিস্মরণীয় রবীন্দ্রসঙ্গীতের কয়েকটি হল –
তোমরা যা বলো তাই বলো, জীবনে আমার যত আনন্দ, ওই ঝঞ্ঝার ঝংকারে ঝংকারে, আমার নয়ন তব নয়নের, সখী বহে গেলো বেলা, আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না, কেন আমায় পাগল করে যাস, ওই মালতীলতা দোলে, আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান, আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে।
পারিবারিক জীবন-
সাগর সেন ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে সুমিত্রা সেনকে বিয়ে করেন। তাদের তিন ছেলে। তারা হলেন প্রিয়ম সেন, প্রীতম সেন এবং প্রমিত সেন। প্রমিত সেন একজন সঙ্গীত শিল্পী।
১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় স্থাপন করেন নিজস্ব সঙ্গীত বিদ্যালয় – “রবিরশ্মি”।
তার অভিভাবকত্বে ‘রবিরশ্মি’ র ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে রবীন্দ্র সদনে, শিশির মঞ্চে, কলামন্দিরে ‘শ্রাবণসন্ধ্যা’, ‘শাপমোচন’, ‘ঋতুরঙ্গ’, ‘স্বদেশী নায়ে বিদেশী খেয়া’,’বিশ্বজন মোহিছে’ নামীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশন করেন। এই অনুষ্ঠানগুলিতে তিনি নিজে এমনকি খ্যাতনামা সঙ্গীত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়,সুচিত্রা মিত্র, বাণী ঠাকুর প্রমুখেরা অংশ নিতেন।
১৯৮১ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তবে জীবনের শেষ দেড় বছর তিনি সমানভাবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অবশেষে, তিনি ৫০ বছর বয়সে ৪ জানুয়ারী, ১৯৮৩ সালে প্রয়াত হন।
।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে – ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন শহীদ, সুখদেব থাপার।।।।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও লড়াই, যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত সৃঙ্খল মুক্ত হতে পেরেছভাপেরেছিল। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে সুখদেব থাপার ছিলেন একজন অন্যতম বীর ও নির্ভীক বিপ্লবী।

সুখদেব থাপার ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। সুখদেব থাপার ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন শহীদ। তিনি শহীদ ভগৎ সিংহের এক অনন্য বন্ধু হিসাবেও পরিচিত।
বিপ্লবী সুখদেব পঞ্জাবের লুধিয়ানায় ১৯০৮ সালের ১৫ মে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার দেখেছেন এবং সেই কারণেই তিনি দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে বিপ্লবী দলে যোগ দেন। সুখদেবের পিতার নাম শ্রী রামলাল থাপার। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক। সুখদেবের জন্মের ২ বছর পর তার বাবা মারা যান। সুখদেবকে তার কাকা শ্রী অচিন্তরাম থাপার লালন-পালন করেন। সুখদেবের জন্মের সময় তার কাকা অচিন্তরাম জেল খাটছিলেন। সুখদেব এমন এক বৈপ্লবিক পরিবেশে বড় হয়। সুখদেব যখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র, তখন রাজ্যপাল তাঁর স্কুলে আসেন। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে সমস্ত ছাত্ররা রাজ্যপালকে সালাম দিল, কিন্তু সুখদেব তা করল না। সুখদেবকে তখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কেন তিনি গভর্নরকে স্যালুট করেননি, সুখদেব স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তিনি কোনও ইংরেজকে স্যালুট করবেন না।
প্রচন্ড সাহসী ছিলেন তিনি। এরপর সুখদেব আর ভগৎ সিং মিলে পরবর্তীতে বিপ্লবী দলের কাজ চালিয়ে গেলো। একটা বাড়ী ভাড়া নিল। দিনের বেলায় বাইরে থাকত আর রাত করে ফিরত। এভাবেই বাড়ির মালিক ও আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হলো। এ কারণে সুখদেব বুদ্ধি করে নিজের মাকে নিয়ে এলো সেই বাড়িতে । এবার কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে, সে উত্তর দিত সে কাজ করে, অনেক দূরে রাস্তার কাজ চলছে। দিন-রাত কাজ করে বাড়ি আসতে দেরি হয়। এই ভাবেই চলতে থাকল তাদের গোপন কার্যকলাপ। চোখে মুখে তখন দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্ন। য ভাবেই হোক এই পরাধীনতার গ্লানি কাটাতে হবে এবং ইংরেজ দের এ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেশ মাতৃকার শৃঙ্খল মুক্ত করতে হবে।
খুব সাহসী ছিলেন সুখদেব। লাহোরে বোমা তৈরির কাজ শুরু হলে ফিরোজপুর থেকে বোমার কন্টেইনার আনতেন। একবার মালামাল আনতে গিয়ে সিপাহীদের ধাবায় চলে গিয়েছিলেন। সুখদেবকে অনেক মার খেতে হয়েছে। সুখদেব চুপচাপ মারতে থাকলেন, কিন্তু কিছু বললেন না, কারণ তার কাছে তখন পিস্তল, কার্তুজ এবং বোমা বানানোর উপকরণ ছিল। এক সিপাহী বলল এই থলিতে কি আছে, সুখদেব হেসে বুদ্ধি দিয়ে বলল- সিপাহী জি এর মধ্যে পিস্তল আর কার্তুজ আছে, সিপাহীরা এটা কে মজা ভেবে হেসে চলে যায়। তার সাধারন বুদ্ধিমত্তায় সে যাত্রায় বেঁচে যায়।
সাইমন কমিশনের বিরোধিতা করতে গিয়ে লাঠিচার্জে লালা লাজপত রায় মারা গেলে স্যান্ডার্সকে হত্যাকারী বিপ্লবীদের মধ্যে সুখদেবও ছিল। এই ঘটনা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং বিপ্লবীরা এবং সমগ্র দেশ স্যান্ডার্সকে হত্যার আননদ উদযাপন করেছিল। স্যান্ডার্স হত্যা মামলাটি ‘লাহোর ষড়যন্ত্র’ নামে পরিচিতি পায়। এই মামলায় শিবরাম রাজগুরু, সুখদেব ও ভগৎ সিংকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৩১ সালের ২৩শে মার্চ বিপ্লবীরা ফাঁসির কাষ্ঠে বন্দী হয়ে দেশের তরুণদের হৃদয়ে স্বাধীনতার জন্য নতুন আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়। লাহোর কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরে শিবরাম রাজগুরু, ভগত সিং এবং সুখদেব থাপারের মরদেহ চরম গোপনীয়তায় দাহ করা হয়। মাত্র ২৪ বছর বয়সে সুখদেব দেশের জন্য নিজেকে বলি দেন।
তাঁদের স্মরণে ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার শতদ্রু নদীর তীরে হুসেইনিওয়ালা গ্রামে নির্মিত হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ । প্রতি বছর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে ২৩ শে মার্চ তাঁদের মৃত্যুর দিনটিকে স্মরণে রেখে “শহীদ দিবস” উদযাপিত হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This