Categories
প্রবন্ধ

চট্টগ্রামের ধোরালা থেকে জালালাবাদ পাহাড় : হরিগোপাল বলের অমর যাত্রা।।।

হরিগোপাল বল, যিনি তার টেগরা নামেও পরিচিত, ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার লড়াইয়ে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর গল্পটি বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে যারা ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিল তাদের অবিরাম চেতনার সাক্ষ্য। চট্টগ্রামের ধোরালায় হরিগোপাল বল এর জন্ম।

তাঁর পিতা প্রাণকৃষ্ণ বাল। হরিগোপাল খুব অল্প বয়সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে পরিচিত হন। তার বড় ভাই লোকনাথ বল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা আন্দোলনে পরিবারের গভীর সম্পৃক্ততাকে চিহ্নিত করে।
১৮ এপ্রিল, ১৯৩০-এ, হরিগোপাল বল একটি সাহসী প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছিলেন যা ভারতের স্বাধীনতার গাথা-চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানের ইতিহাসে তার নাম খোদাই করবে। অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে ব্রিটিশ আধিপত্যকে উৎখাত করার লক্ষ্যে এই বিদ্রোহের কাজটি করা হয়েছিল। যাইহোক, বিপ্লবীদের প্রচেষ্টা প্রচণ্ড প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। অভিযানের মাত্র চার দিন পর, যখন তারা জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় চেয়েছিল, ব্রিটিশ বাহিনী তাদের কোণঠাসা করে ফেলে। তখন হরিগোপাল বল মাত্র ১৩ বছর বয়সে, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হন।
জালালাবাদ পাহাড়ে এনকাউন্টারটি শুধু একটি সংঘর্ষই ছিল না বরং একটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ ছিল যা হরিগোপাল বল এবং তার সহযোদ্ধাদের দেখেছিল, যার মধ্যে জিতেন দাশগুপ্ত, ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, মতিলাল কানুনগো, প্রভাস চন্দ্র বল, শশাঙ্কশেখর দত্ত, নির্মল লালা, মধুসূদন দত্ত , পুলিন চন্দ্র বল এবং অর্ধেন্দু দস্তিদার, ২শে২ এপ্রিল, ১৯৩০ সালে স্বাধীনতার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই ব্যক্তিদের প্রত্যেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে স্বদেশের মুক্তির জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছিলেন, অতুলনীয় সাহস এবং দেশপ্রেম প্রদর্শন করেছিলেন।
এত অল্প বয়সে হরিগোপাল বলের চূড়ান্ত আত্মত্যাগ ভারতের স্বাধীনতার জন্য যে মূল্য দিতে হয়েছে তার একটি মর্মান্তিক অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে। তাঁর গল্প এবং তাঁর সহ-বিপ্লবীদের গল্প প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে, যারা স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিল তাদের স্থিতিস্থাপকতা এবং সাহসিকতার প্রতীক। নিছক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নয়, হরিগোপাল বলের উত্তরাধিকার আশার আলো এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আলোকবর্তিকা, চেতনার শক্তিকে নির্দেশ করে যা একটি জাতির ভাগ্যের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
হরিগোপাল বল এবং চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানের শহীদদের স্মরণে, আমরা তাদের অটল অঙ্গীকার এবং তাদের গভীর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের জীবন স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের একটি প্রমাণ হিসাবে কাজ করে, যা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাসের উপর আলোকপাত করে। হরিগোপাল বলের গল্পটি কেবল ক্ষতির নয় বরং স্বাধীনতার কারণের প্রতি অসীম সাহসিকতা এবং অটল বিশ্বাসের, যা তাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের সন্ধানে চিরন্তন নায়ক করে তুলেছে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২২ এপ্রিল, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ২২ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) ধরিত্রী দিবস।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৫৪ – অঁরি লা ফোঁতেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বেলজীয় আইনজীবী।
১৮৭০ – ভ্লাদিমির লেনিন, মার্কসবাদী সোভিয়েত বিপ্লবী এবং কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ।  .
১৮৭৬ – রবার্ট বারানি, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রিয়ান পদার্থবিদ।
১৮৯৩ – সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও যুগান্তর দলের অন্যতম কাণ্ডারি ।
১৮৯৯ – ভ্লাদিমির নাবোকভ, রুশ-মার্কিন লেখক।
১৯০৪ – রবার্ট ওপেনহেইমার, মার্কিন পদার্থবিদ।
১৯০৯ – রিতা লেভি-মোন্টালচিনি, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইতালিয়ান স্নায়ু।
১৯১৩ – বের্টিল মাল্মবের্গ, সুয়েডীয় ভাষাবিজ্ঞানী।

১৯১৬ – কানন দেবী ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা ।
১৯১৯ – ডোনাল্ড জেমস ক্র্যাম, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ।
১৯২৯ – মাইকেল ফ্রান্সিস আটিয়া, ইংরেজ গণিতবিদ।
১৯৩৭ – জ্যাক নিকোলসন, মার্কিন অভিনেতা।
১৯৪১ – আমির নিউলি, ইসরায়েলী কম্পিউটার বিজ্ঞানী।
১৯৪৩ – জ্যানেট ইভানোভিচ, মার্কিন লেখিকা।

১৯৪৫ – গোপালকৃষ্ণ গান্ধী, ভারতীয় বুদ্ধিজীবী এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল।

১৯৫৭ – ডোনাল্ড টাস্ক, পোলীয় রাজনীতিবিদ ও ইতিহাসবেত্তা।
১৯৫৯ – রঞ্জন মাদুগালে, শ্রীলংকান ক্রিকেটার।
১৯৬০ – মার্ট লার, এস্তোনিয়ার রাজনীতিবিদ ও ৯ম প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৪ – চেতন ভগত, ভারতীয় ঔপন্যাসিক, নিবন্ধকার, বক্তা ও চিত্ৰনাট্যকার।
১৯৭৭ – মার্ক ভ্যান বমমেল, ডাচ ফুটবলার।

১৯৮১ – জোনাথন ট্রট, ইংরেজ ক্রিকেটার।
১৯৮২ – কাকা, ব্রাজিলীয় ফুটবলার।

১৯৮৭ – ডেভিড লুইজ, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার।
১৯৮৭ – জন অবি মিকেল, নাইজেরিয়া ফুটবল।
১৯৮৯ – জ্যাসপার কিলেসেন, ডাচ ফুটবলার।
১৯৯২ – রোলেন স্ট্রস, দক্ষিণ আফ্রিকান মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব বিজয়ী।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮৩৪ – সেন্ট হেলেনা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অঙ্গীভূত হয়।
১৮৫৭ – দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট বসে।
১৮৯০ – কিউবার জনগণ সেদেশে স্পেনের আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
১৯১২ – রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ‘প্রাভদা’ পত্রিকা প্রকাশ পায়।
১৯১৫ – প্রথম মহাযুদ্ধে জার্মানরা বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার শুরু করে।
১৯২১ – ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করেন সুভাষচন্দ্র বসু।
১৯৩০ – বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম জালালাবাদ পাহাড়ে ইংরেজ সৈন্যদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ।
১৯৪৪ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি নিউ গিনিতে প্রবেশ করে।
১৯৪৮ – অবৈধ রাষ্ট্র ইহুদীবাদী ইসরায়েল ফিলিস্তিনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চালে অবস্থিত বান্দর নগরী হাইফাতে হামলা চালায়।
১৯৭০ – মার্কিন সিনেটর গেইলর্ড নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন।
১৯৮৮ – টানা পাঁচ বছর বৈরিতার পর পিএলও ও সিরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।
১৯৯৮ – যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের অরলান্ডোতে ডিজনি এনিম্যাল ওয়ার্ল্ড উদ্বোধন করা হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

৫৪৫ – গৌতম বুদ্ধ (আনুমানিক)।
১৬১৬ – মিগেল দে থের্ভান্তেস সাভেদ্রা, স্প্যানিশ ঔপন্যাসিক, কবি ও নাট্যকার।
১৭৮২ – অ্যান বনি আইরিশ মহিলা জলদস্যু।

১৮৩৩ – রিচার্ড ট্রেভিথিক, ইংরেজ প্রকৌশলী ও এক্সপ্লোরার।
১৮৯২ – এডউয়ারড লালো, ফরাসি বেহালাবাদক ও সুরকার।
১৮৯৯ – নেড গ্রিগরি, অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
১৯০৮ – হেনরি ক্যাম্পবেল-ব্যানারম্যান, স্কটিশ বংশোদ্ভূত ইংরেজ বণিক, রাজনীতিবিদ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী।
১৯৩০ – (ক)  হরিগোপাল বল, বাঙালি, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।
(খ) মধুসূদন দত্ত, বাঙালি, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।
(গ) পুলিনচন্দ্র ঘোষ, বাঙালি, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।
(ঘ) নির্মল লালা, বাঙালি, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।
(ঙ)ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বাঙালি, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।
১৯৩৩ – হেনরি রয়েস, মোটর গাড়ির নকশাকার।
১৯৪৫ – কাথে কল্বিটয, জার্মান চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর।
১৯৮৩ – লামবের্তো মাজ্জোরানি, ইতালীয় অভিনেতা।
১৯৮৬ – মিরকেয়া এলিয়াদ, রোমানিয়ান ইতিহাসবিদ ও লেখক।
১৯৮৯ – এমিলিও জিনো সেগরে, ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী।
১৯৯৪ – রিচার্ড নিক্সন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭তম রাষ্ট্রপতি।
১৯৯৮ – আয়াতুল্লাহ মুর্তজা বুরুজার্দী, ইরাকে প্রখ্যাত আলেম।
২০০৩ – তারাপদ সাঁতরা, বাঙালি পুরাতত্ত্ববিদ এবং লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ।
২০০৬ – আলিডা ভালি, ইতালিয়ান অভিনেত্রী।
২০০৮ – শিপ্রা বসু বাঙালি সংগীত শিল্পী ।
২০২০ (ক)  শার্লি নাইট, ৮৩, মার্কিন অভিনেত্রী।
(খ) সা’দত হুসাইন – বাংলাদেশী আমলা এবং বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের নবম চেয়ারম্যান।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২১ এপ্রিল, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ২১ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) বিশ্ব সহনশীলতা ও উদ্ভাবনী দিবস।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৮২ – জার্মান শিক্ষাবিদ ও কিন্ডারগার্টেন শিশুশিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তক ফ্রেডরিক ফ্রোয়েবল।

১৮১৬ – ইংরেজ ঔপন্যাসিক ও কবি শার্লট ব্রন্টি।
১৮২৮ – হিপোলালিটি টেইনি, প্রখ্যাত ফরাসী শিল্পী, সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিক।
১৮৬৪ – মাক্স ভেবার, জার্মান সমাজবিজ্ঞান, দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
১৮৮৯ – পল কারার, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রাশিয়ান-সুইস রসায়নবিদ এবং শিক্ষাবিদ।
১৯০০ – বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক সুধীরনাথ সান্যাল।
১৯১৫ – অ্যান্থনি কুইন, মার্কিন চলচ্চিত্র ও মঞ্চ অভিনেতা।
১৯২২ – অ্যালান ওয়াটকিন্স, ওয়েলশ-ইংলিশ ক্রিকেটার।
১৯২৬ – দ্বিতীয় এলিজাবেথ, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য অধিভুক্ত অঞ্চলের রানী।
১৯৪৫ – শ্রীনিবাসরাঘবন ভেঙ্কটরাঘবন, ভারতীয় ক্রিকেটার এবং আম্পায়ার।
১৯৬৬ – সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার মাইকেল ফ্রান্টি।
১৯৭৯ – জেমস ম্যাকঅ্যাভয়, মার্কিন অভিনেতা।
১৯৯২ – ইস্কো, স্পেনীয় ফুটবলার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

৮২৯ – সেক্সশান এগবার্ট ব্রিটেনের প্রথম রাজা হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
১৫২৬ – পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১৯৫২ – লন্ডন ও রোমের মধ্যে প্লেন চালনার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম জেট প্লেন চলাচল শুরু।
১৯৬২ – আলজেরিয়ায় ফরাসি সেনা বিদ্রোহ শুরু।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সিয়েরা লিওন।
১৯৭৫ – ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ চালু।
২০১৯ – শ্রীলঙ্কায় গির্জা হোটেলে ও মসজিদে ধারাবাহিক বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯১০ – মার্ক টোয়েইন, একজন মার্কিন রম্য লেখক, সাহিত্যিক ও প্রভাষক।
১৯৩৮ – মহম্মদ ইকবাল,বৃটিশ ভারতের প্রখ্যাত কবি, দার্শনিক এবং রাজনীতিবিদ।

১৯৬৫ – এডওয়ার্ড ভিক্টর অ্যাপলটন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৮৪ – মোহাম্মদ মোদাব্বের, সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক।
১৯৮৮ – শ্যামলকৃষ্ণ ঘোষ, বাঙালি লেখক ও সাহিত্যিক।

১৯৯৬ – আবদুল হাফিজ কারদার, ভারতের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী পাকিস্তানের ক্রিকেটার।

২০১৩ – শকুন্তলা দেবী, ভারতীয় লেখক এবং মানব ক্যালকুলেটর।
২০১৫ – পূর্ণদাস বাউল, ভারতীয় বাঙালি বাউল গান শিল্পী।
২০১৫ – জানকীবল্লভ পট্টনায়ক, রাজনীতিবিদ এবং ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
২০১৭ – লাকী আখান্দ, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার।
২০২১ – শঙ্খ ঘোষ বাঙালি কবি ও সাহিত্য সমালোচক।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

অনুরূপা দেবী: বাংলা সাহিত্যে এক অগ্রগামী নারী লেখিকার যাত্রা।।

অনুরূপা দেবী, ৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৮২ সালে কলকাতার শ্যামবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন, ব্রিটিশ ভারতে একজন অগ্রগামী বাঙালি নারী ঔপন্যাসিক, ছোট গল্প লেখক, কবি এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে আবির্ভূত হন। তার সাহিত্যিক অবদান, ১৯১১ সালে তার প্রথম উপন্যাস “পশ্যপুত্র” প্রকাশের দ্বারা চিহ্নিত, তাকে লাইমলাইটে ছড়িয়ে দেয়।

তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে “মন্ত্রশক্তি” (১৯১৫), “মহনিষা” (১৯১৯), এবং “মা” (১৯২০), যা তাকে প্রথম নারী কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে একজন করে তোলে যিনি বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব অর্জন করেন। সেই সময়ের সাহিত্য ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনের গভীরে প্রোথিত একটি পরিবারে প্রস্থ দেবীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। তার বাবা মুকুন্দদেব মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং লেখক, আর তার মা ছিলেন ঘনসুন্দরী দেবী। ভূদেব মুখোপাধ্যায় এবং নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাহিত্যিকরা ছিলেন তার পিতৃপুরুষ এবং তার খালা ইন্দিরা দেবী ছিলেন আরেকজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব।
শৈশবে শারীরিক অসুস্থতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, অনুরূপা দেবীর শিক্ষা শুরু হয় বাড়িতে, তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে। তার খালা সুরুপা দেবীর আবৃত্তির মাধ্যমে তিনি মহাকাব্য, রামায়ণ এবং মহাভারতের সাথে পরিচিত হন, যা তার সাহিত্য সাধনার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। সাহিত্যের এই প্রথম দিকের এক্সপোজার, শেখার জন্য তার সহজাত আবেগের সাথে মিলিত হয়ে, তাকে সংস্কৃত এবং হিন্দিতে আয়ত্ত করতে এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও দর্শনে প্রবেশ করতে সক্ষম করে। রাণী দেবী ছদ্মনামে প্রকাশিত তার প্রথম গল্পের মাধ্যমে প্রস্থ দেবীর সাহিত্য জীবন শুরু হয়, কুন্টলিন পুরস্কার জিতেছিল। তার প্রথম উপন্যাস, “তিলকুঠি”, ১৯০৪ সালে নাভানুর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু এটি ছিল ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত “পশ্যপুত্র”, যা তাকে সাহিত্য জগতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
তার সাহিত্যিক কৃতিত্বের বাইরে, অনুরূপা দেবী গভীরভাবে সামাজিক সংস্কারের সাথে জড়িত ছিলেন, বিশেষ করে নারীর অধিকার এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে। তিনি কাশী এবং কলকাতায় বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং বেশ কয়েকটি মহিলা কল্যাণ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৩০ সালে, তিনি মহিলা সমবায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তাকে বাংলায় নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত হিসাবে চিহ্নিত করে। অনুরূপা দেবীর জীবন ১৯ এপ্রিল, ১৯৫৮ সালে শেষ হয়েছিল, কিন্তু একজন লেখক এবং সংস্কারক হিসাবে তার উত্তরাধিকার অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
অনুরূপা দেবীর প্রারম্ভিক শিক্ষা থেকে শুরু করে ভারতীয় মহাকাব্যের সমৃদ্ধিতে ভরা সাহিত্য ও সমাজ সংস্কারে তার উল্লেখযোগ্য অবদান তাকে বহুমুখী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখায়। নারীর মর্যাদা উন্নীত করার জন্য তার নিবেদনের সাথে মিলিত হয়ে তার সময়ের সামাজিক অবস্থার প্রতিফলনকারী আখ্যান বুনতে তার ক্ষমতা তার গল্পকে শুধু ব্যক্তিগত বিজয়ের গল্প নয় বরং সামাজিক অগ্রগতির আখ্যান করে তোলে। অনুরূপা দেবীর জীবন এবং কাজ উচ্চাকাঙ্ক্ষী লেখক এবং সমাজ সংস্কারকদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হিসাবে রয়ে গেছে, যা পরিবর্তনের জন্য সাহিত্য এবং সক্রিয়তার শক্তিকে চিত্রিত করে।
অনুরূপা দেবী ৩৩টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার অন্যান্য জনপ্রিয় উপন্যাসগুলি হল বাগ্দত্তা (১৯১৪), জ্যোতিঃহারা (১৯১৫), মন্ত্রশক্তি (১৯১৫), মহানিশা (১৯১৯), মা (১৯২০), উত্তরায়ণ ও পথহারা (১৯২৩)। তার লেখা মন্ত্রশক্তি, মহানিশা, মা, পথের সাথী (১৯১৮) ও বাগ্দত্তা নাটকে রূপান্তরিত হয়েছিল। জীবনের স্মৃতিলেখা তার অসমাপ্ত রচনা।তার অন্যান্য বইগুলি হল: রামগড় (১৯১৮), রাঙাশাঁখা (১৯১৮) বিদ্যারত্ন (১৯২০), সোনার খনি (১৯২২), কুমারিল ভট্ট (১৯২৩), সাহিত্যে নারী, স্রষ্ট্রী ও সৃষ্টি (১৯৪৯), বিচারপতি ইত্যাদি।
সম্মাননা—–
প্রথম প্রকাশিত গল্পের জন্য কুন্তলীন পুরস্কার লাভ; শ্রীভারতধর্ম মহামন্ডল থেকে “ধর্মচন্দ্রিকা” উপাধি লাভ (১৯১৯); শ্রীশ্রীবিশ্বমানব মহামন্ডল থেকে “ভারতী” উপাধি লাভ (১৯২৩); কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ (১৯৩৫); ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক লাভ (১৯৪১); কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লীলা লেকচারার পদে অধিষ্ঠিত (১৯৪৪)।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অতুল্য ঘোষ : অদম্য ইচ্ছা ও দেশপ্রেমের এক অমর কাহিনী।।।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্প সাহস, স্থিতিস্থাপকতা এবং অনেকের অদম্য প্রচেষ্টার গল্প। অতুল্য ঘোষ এই আখ্যানের একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন, একজন নির্ভীক বিপ্লবী যিনি ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করতে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ২৮শে আগস্ট, ১৯০৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ঘোষ শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে একটি নামই ছিলেন না বরং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং লোকসভার প্রাক্তন সদস্য ছিলেন।

হিজলী ডিটেনশন ক্যাম্পে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে তার সময় তার প্রতিরোধ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিহ্নিত করে।
ঘোষের প্রারম্ভিক বছরগুলি ক্ষতি এবং শেখার দ্বারা গঠিত হয়েছিল। তার পিতা কার্তিকচন্দ্র ঘোষ মারা যাওয়ার পর, তাকে তার মাতামহ, প্রখ্যাত বাঙালি কবি এবং সমালোচক অক্ষয়চন্দ্র সরকার লালন-পালন করেন। লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক এবং বিপিন চন্দ্র পালের মতো বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাহিত্য জগতের আলোকিত ব্যক্তিদের দ্বারা ঘন ঘন এই লালন-পালন তার আদর্শিক ভিত্তিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
একটি প্রচলিত স্কুলে না পড়া সত্ত্বেও, উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের অধীনে ঘোষের শিক্ষা তাকে সক্রিয় জীবনের জন্য প্রস্তুত করেছিল। কৈশোরের মাঝামাঝি থেকে, তিনি কলকাতায় কংগ্রেস অফিসের সাথে যুক্ত হতে শুরু করেন, শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হৃদয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২১ সালে গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা এবং ১৯৩০ সালে মেদিনীপুরে পুলিশ-হত্যা মামলার সময় তার গ্রেপ্তার, যদিও পরে প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, স্বাধীনতা সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণকে তুলে ধরে।
বীরত্ব ও দেশপ্রেমের উত্তরাধিকার রেখে অতুল্য ঘোষ ১৮ এপ্রিল, ১৯৮৬-এ মারা যান। তার জীবন ও সংগ্রাম ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অদম্য চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে, দেশের স্বাধীনতার জন্য অগণিত ব্যক্তিদের ত্যাগের প্রমাণ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৮ এপ্রিল, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১৮ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস।
আজ যাদের জন্মদিন—-
১৫৯০ – তুরস্কের চতুর্দশ সম্রাট আহমেদ।
১৮০৯ – হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও, একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
১৮৪৭ – হের্মান অস্ট্‌হফ, জার্মান ভাষাবিজ্ঞানী।
১৮৮৮ – ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক ও গীতিকার হেমেন্দ্রকুমার রায়।
১৯২৬ – ডগ ইনসোল, বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেটার।
১৯২৭ – স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রসিদ্ধ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
১৯৫৮ – ম্যালকম মার্শাল, বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার।
১৯৬৩ – ফিল সিমন্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটার।
১৯৬৭ – মারিয়া বেলো, মার্কিন অভিনেত্রী ও লেখিকা।
১৯৭০ – সাদ হারিরি, সৌদি লেবালনীয় রাজনীতিবিদ এবং ২০১৬ থেকে লেবালনের প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯০ – অয়েচিখ শ্চেজনি, পোল্যান্ডের পেশাদার ফুটবলার।
১৯৯৫ – ডিভোক ওরিগি, বেলজীয় পেশাদার ফুটবলার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১০২৫ – বলেস্ল ক্রব্রি পোলান্ডের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
১৫৫২ – মরিশাস লিঞ্জ দখল করে।
১৭৫৭ – অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্স যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।
১৮৫৩ – এশিয়ায় প্রথম ট্রেন চালু হয়।
১৯৩০ – ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিয়ে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল করে।
১৯৪৬ – আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত, নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে উদ্বোধনী বৈঠকে বসে।
১৯৪৬ – জেনিভাতে লীগ অব নেশনসএর শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত গঠিত হয়।
১৯৫৪ – জামাল আব্দেল নাসের, মিশরের ক্ষমতা দখল করে।
১৯৫৫ – ইন্দোনেশিয়ায় আফ্রিকা ও এশিয়ার ২৯টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১৯৭১ – কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন।
১৯৭৫ – কম্বোডিয়া সাম্রাজ্যবাদী বিদেশীদের কবল থেকে মুক্ত হয়।
১৯৮০ – জিম্বাবুইয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৯৬ – ইহুদীবাদী ইসরাইলের জঙ্গীবিমান দক্ষিণ লেবাননের কানা গ্রামে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালায়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮০২ – ইরাসমাস ডারউইন, ইংরেজ চিকিৎসক, প্রাকৃতিক দার্শনিক, চিকিৎসা বিজ্ঞান, উদ্ভাবক এবং কবি।
১৮৮৯ – সাহিত্যিক সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১৮৯৯ – ব্রিটিশ বিরোধী মুক্তিযোদ্ধা, বিপ্লবী শহীদ দামোদর হরি চাপেকার।
১৯৪৮ – সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ভারতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ।
১৯৫৫ – আলবার্ট আইনস্টাইন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী।
১৯৫৯ – বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষের মৃত্যু।
১৯৬৩ – ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক ও গীতিকার হেমেন্দ্রকুমার রায় পরলোকগমন করেন।
১৯৮১ – নির্মলেন্দু চৌধুরী, প্রখ্যাত সুরকার, গীতিকার ও লোকগীতি শিল্পী – বাংলার লোকসঙ্গীতের প্রসারে ও প্রচারে যাঁর অবদান অসীম।
১৯৮৬ – অতুল্য ঘোষ, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা, লোকসভার প্রাক্তন সদস্য।
২০০৩ – এডগার কড, ইংরেজ কম্পিউটার বিজ্ঞানী।
২০১১ – চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ সৈয়দ বজলে হোসেন কিরমানী।
২০১২ – এম এন আখতার – বাংলাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী।
২০১৮ – ব্রুনো সামারটিনো, আমেরিকান পেশাদার কুস্তিগির।
২০২১ – একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী, নাট্যশিক্ষক এস এম মহসীন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের চিন্তাধারা ও শিক্ষাদর্শন এখনো সমানভাবে পাথেয়।।।

একদিকে ভারতীয় অধ্যাত্মবাদ,অন্যদিকে পাশ্চাত্য চিন্তাধারা -দুই মিশ্রনে পরিপূর্ণ আধুনিক প্রগতিবাদী মানুষ ছিলেন ডঃ সর্বপল্লীরাধাকৃষ্ণন। নেহেরুজীর মতে,রাধাকৃষ্ণন ছিলেন ‘আধুনিক বিশ্বদর্শনের প্রতিভূ। ……….তিনি বিভিন্নভাবে দেশের সেবা করেছেন।কিন্তু সর্বোপরি তিনি একজন মহৎ শিক্ষক।তাঁর নিকট হতে আমরা অনেক কিছু শিখেছি এবং আজও শিখতে থাকবো।’ নেহেরুজী সত্য কথাই বলেছেন।

রাধাকৃষ্ণনের চিন্তাধারা ও শিক্ষাদর্শন আমাদের বত’মান যুগেও সমান প্রাসঙ্গিক এবং পথচলার পাথেয়।তিনি যে সমস্ত উপদেশ ও শিক্ষা দিয়ে গেছেন তা আমরা যদি ঠিকমত গ্রহণ করতে পারি তাহলে আমাদের পথ চলা সুগম হবে,আমাদের জীবনে উত্তরণ ঘটবে।
অত্যন্ত সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে নিরন্তর দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করেও তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপতি পদ অলংকৃত করেছিলেন।দুঃখ-দারিদ্রকে জয় করে তিনি অতি সহজেই বলতে পেরেছেন- ‘Often suffering is not punishment but discipline’.
তিনি বলেছেন ,-‘মানুষের জীবন চলমান কর্মের এক ধারাবাহিক প্রকৃতি-এক মুহূর্ত নষ্ট করা চলবেনা।’ রাষ্ট্রপতির সুমহান ঐতিহ্য পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁকে বিবেকের দংশনে দংশিত হতে হয়েছিল,তবুও তিনি কখনও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।তিনি কখনও নিজের আত্মগরিমা প্রকাশ করেননি,তিনি ছিলেন সহজ সরল ও অমায়িক।
তিনি গীতাঞ্জলির ইংরাজি অনুবাদ ‘Song Offerings’ পড়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর ভাবে আকৃষ্ট হন।রবীন্দ্রনাথের কবিতা “বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখ তাপে ব্যাথিত চিত্তে নাইবা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।”
এই কবিতাটি তাঁর মনে গেঁথে যায়,তিনি বুঝতে পারেন দুঃখের মধ্য দিয়ে যে জয়লাভ তা জীবনের চরম সার্থকতা নিয়ে আসে-
এই উপলব্ধির সঙ্গে উপনিষদের দর্শনতত্ত্বের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন রাধাকৃষ্ণন।
উপনিষদের শ্লোকটি হল-
অসতো মা সদগময়
অসতো মা জ্যোতির্গময়,
মৃতোর্মা অমৃতগময়।”
অর্থাৎ অসত্য থেকে সত্য,অন্ধকার থেকে আলোকে এবং মৃত্যু থেকে অমৃতে চলো।
ডঃ রাধাকৃষ্ণনের জীবনের মর্মবাণী ছিল – “দেবমন্দির হচ্ছে নিত্য পবিত্র মন্দির,আর সেই মন্দিরে তুমি নিজেই, যেমন মৃগের দেহের মধ্যেই কস্তুরি বিরাজ করে।আমরা একাগ্রচিত্তে মনের মালিন্য দূর করবো।” তাঁর মতে ,জন্ম হোক যেখানে সেখানে,কর্মের মাধ্যমেই আমরা বিশ্বমানব হতে পারি। তিনি বলেছেন-“একান্ত নীরবতার মধ্যে বন্দীর বন্ধন মুক্তির জন্য করুন ক্রন্দনের মতো এবং অন্তরকে পাওয়ার জন্য কাতর ক্রন্দনধ্বনির মতো আমাদের কানে ভেসে আসে ব্যাথিত আত্মার সবিলাপ কণ্ঠস্বর।”
তাঁর শিক্ষাদশ’নও আমাদের ভালভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।তিনি বলেছেন – “A good Teacher is a candle,it consumes itself to light the way for others.” তাঁর মতে -একজন মানুষের সফলতা,চরিত্র ও ভাল ব্যক্তিত্ব গড়ার পিছনে শিক্ষকের অবদান রয়েছে।একজন শিক্ষককে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।তিনি শুধুমাত্র পুঁথিগত হবেন তা নয়,তিনি জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রের শিক্ষক হতে পারেন।তিনি বলবান,গুনবান ও চরিত্রবান করে তুলতে ছাত্রকে সাহায্য করবেন।সমাজগড়ার কারিগর হিসাবে শিক্ষকের গুরুত্ব অনেকখানি।তাঁর মতে, -“Every one acknowledges how a teacher shapes the life of students and we should be ever greatful to them”
জ্ঞানতপস্বী রাধাকৃষ্ণন কয়েকটি অনবদ্য বাণী রেখে গেছেন-সেগুলি নিম্নরূপ –
১। বইয়ের তাৎপর্য হলো আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে সেতু নির্মান করা।
২। সহনশীলতা হলো শ্রদ্ধা,যা সীমিত মন অসীমতায় পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন।
৩। জীবনের আনন্দ ও সুখ শুধুমাত্র জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ভিত্তিতে সম্ভব।
৪। সত্যিকারের শিক্ষক তাঁরাই,যাঁরা নিজের জন্য চিন্তা করতে শেখায়।
৫। একজন পরামর্শদাতা শিক্ষক একজন ব্যক্তিকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দেখাতে ক্ষমতায়ন করেন।
৬। যখন আমরা মনে করি আমরা সব জানি,তখনই আমাদের শিখতে হবে।
৭। কেবল নিখুঁত মনের মানুষেরই জীবনে আধ্যাত্মিকতার অর্থ বুঝতে পারেন,নিজের সত্যতা,আধ্যাত্মিক একনিষ্ঠতার পরিচয়।
৮। জ্ঞানও বিদ্যার ফল হলো অনুভব।
৯। মানুষের স্বভাব মূলত ভাল এবং আত্মজ্ঞানের প্রচেষ্টা সমস্ত খারাপকে দূরে ঠেলে ফেলে দেবে।
১০। যদি মানুষ দানবে পরিনত হয় তাহলে তার হার হয়,
যদি মানুষ মহামানব হয়ে যায়,তাহলে এটি তার চমৎকার,
যদি মানুষ মানুষে পরিনত হয় তাহলে এটি তার জয়লাভ।
শিক্ষা সম্পর্কে তিনি খুব সুন্দর কথা বলেছেন – ‘জনগণকে শুধুমাত্র নাগরিক হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেবেনা, তাকে মানুষ হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেব।’
শিক্ষা সম্পর্কে বিবেকানন্দ প্রায় একই কথা বলেছেন –
“Man making is my mission.”
পরিশেষে বলি, ডঃ রাধাকৃষ্ণন একজন পূর্ণমানব-জ্ঞানের এক অতল সমুদ্র।ঋষির মতো প্রাজ্ঞ,জ্ঞানসাগরের অতল তলের ডুবুরী।সারা পৃথিবীর মানুষ তাঁর পান্ডিত্যের ঝরনা ধারায় স্নাত হয়ে উপলব্ধি করেছেন তাঁর দর্শন,শিক্ষা,সংস্কৃতি,সমাজচিন্তা ও দেশত্ববোধ।আজও তিনি দর্শনের মধ্য দিয়ে বটবৃক্ষের মতো আমাদের ছায়া দিয়ে রেখেছেন।সারাজীবন বহু উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েও যেহেতু তিনি প্রথম জীবনে শিক্ষক ছিলেন সেইহেতু তিনি শিক্ষকসমাজকে ভুলে যান নি।তাই তাঁর নিজের জন্মদিনটিকে ‘শিক্ষক-দিবস’ হিসাবে পালন করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন।তিনি পুঁথি সর্বস্ব শিক্ষা দানের বিরোধী ছিলেন এবং তিনি ছাত্রদের প্রকৃত মানুষ গড়ার কথা বলেছিলেন, তাই শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে সে কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
তাই বর্তমান শিক্ষকদের উচিত তাঁর প্রদর্শিত পথে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদান করা।আজ শিক্ষক দিবসে শিক্ষক সমাজকে তাই আবার নতুন করে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর উপদেশ মতো কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা নিয়ে প্রকৃত মানুষ গড়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।তবেই তাঁর জন্মদিনে আমাদের সকলের শিক্ষাগুরুর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন সার্থক হবে।
এই সত্যসন্ধানী জ্ঞানতপস্বী দীর্ঘ ৮৭ বছর কর্মময় জীবন কাটিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৭ই এপ্রিল অমরলোকে যাত্রা করেন।আজ তিনি আমাদের মধ্যে নাই।কিন্তু তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন তাঁর মূল্যবান বাণী সমূহ ও দর্শন শাস্ত্রের অমূল্য গ্রন্থসমূহ-যেগুলির সাহায্যে পরমার্থিক সত্ত্বার দিব্যজ্যোতি বিদ্যুতের মতো আমাদের অন্তরকে স্পর্শ করবে।
আসুন,আমরা আজ এই মহামনীষীর প্রয়াণ দিবসে বিনম্রচিত্তে তাঁর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি –
আমার মাথা নত করে দাও হে
তোমার চরণ ধুলির তলে।
কলমে : শ্রী প্রশান্ত কুমার দাস।
শিক্ষারত্ন প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ,বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়(উঃমাঃ),
পোঃ-পাথাই, ময়ূরেশ্বর-১,বীরভূম ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব কণ্ঠ দিবস, জানুন কিভাবে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস মানুষকে তাদের কণ্ঠস্বাস্থ্য উন্নত করতে উৎসাহিত করে।।।

প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালন করা হয়। আমেরিকান একাডেমি অফ অটোলারিঙ্গোলজি-হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি সেদিনের অন্যতম প্রধান স্পনসর ছিল যখন এটি ২০০২ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিশ্ব ভয়েস দিবসের উদ্দেশ্য হল মানুষের কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব এবং প্রতিরোধমূলক যত্নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ।

এটি লোকেদের তাদের কণ্ঠস্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করতে এবং ভাল কণ্ঠস্বরের অভ্যাস উন্নত বা বজায় রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে উত্সাহিত করাও।
আমেরিকান একাডেমি অফ অটোলারিঙ্গোলজি-হেড অ্যান্ড নেক সার্জারির মতে, “স্কুলে, চাকরিতে এবং সামাজিক যোগাযোগের জন্য ভয়েসটি আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” যাইহোক, অনেকে ধূমপান, চিৎকার, মদ্যপান বা দুর্বল কৌশলে কথা বলে তাদের কণ্ঠস্বরের অপব্যবহার করে। এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও উল্লেখযোগ্য সমস্যা হতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ভয়েস ডে ২০২৫ তারিখ–

এই বছর, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ বুধবার বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালিত হবে।

বিশ্ব কণ্ঠ দিবস ২০২৫ এরর থিম-

বিশ্ব শ্রবণ দিবস ২০২৫ এর থিম হল, “মানসিকতার পরিবর্তন: কান ও শ্রবণ যত্নকে সকলের জন্য বাস্তবে পরিণত করতে নিজেকে শক্তিশালী করুন!”

বিশ্ব কণ্ঠ দিবসের ইতিহাস–

কণ্ঠস্বর ও বক্তৃতার গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালন করা হয়। এটি একটি কণ্ঠস্বর সংরক্ষণ এবং উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার একটি দিন। ১৯৯৯ সালে ব্রাজিলে এই দিনটিকে ব্রাজিলের জাতীয় কণ্ঠস্বর দিবস হিসেবে প্রথম প্রতিষ্ঠিত করা হয়। এটি ছিল ডাক্তার, স্পিচ-ল্যাংগুয়েজ প্যাথলজিস্ট এবং প্রাক্তন অ্যাসোসিয়েশন ‘Sociuldade Brasileira de Laringologia e Voz – SBLV’ (ব্রাজিলিয়ান সোসাইটি অফ ল্যারিনগোলজি অ্যান্ড ভয়েস) এর গায়ক শিক্ষকদের মধ্যে একটি সহযোগিতা, ডক্টর নেডিও স্টেফেনের নেতৃত্বে। এরপর আর্জেন্টিনা এবং পর্তুগাল সহ অন্যান্য দেশগুলি অনুসরণ করে এবং ব্রাজিলের জাতীয় কণ্ঠ দিবস আন্তর্জাতিক ভয়েস দিবসে পরিণত হয়। ২০০২ সালে, আমেরিকান একাডেমি অফ অটোলারিঙ্গোলজি – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি আধিকারিকভাবে এই দিনটিকে স্বীকৃতি দেয় এবং সেই বছর, এটিকে ‘বিশ্ব ভয়েস দিবস’ নামকরণ করা হয়। ‘
বিশ্ব কণ্ঠ দিবসের তাৎপর্য-
ভয়েস ডিজঅর্ডারের জন্য চিকিত্সা প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়, যা আরও জটিলতা হতে পারে। বিশ্ব ভয়েস দিবস হল মানুষের কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব এবং প্রতিরোধমূলক যত্নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করার একটি দিন। এটি একটি অনুস্মারকও যে আমাদের সকলের উচিত একটি স্বাস্থ্যকর কণ্ঠস্বর বজায় রাখার জন্য একটি উন্নত মানের জীবনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

চার্লি চ্যাপলিন : মূক চলচ্চিত্রের অমর প্রতিভা।।।

স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র ছিলেন একজন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও সুরকার। হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পের শুরুর সময় থেকে মধ্যকাল পর্যন্ত তিনি তার অভিনয় ও পরিচালনা দিয়ে সাফল্যের শিখরে আরোহণ করেন। চ্যাপলিনকে বড় পর্দার শ্রেষ্ঠতম মূকাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতাদের একজন বলেও বিবেচনা করা হয়।

চলচ্চিত্র শিল্প জগতে চ্যাপলিনের প্রভাব অনস্বীকার্য। ভিক্টোরীয় যুগে তার শৈশব থেকে ১৯৭৭ সালে তার মৃত্যুর এক বছর পূর্ব পর্যন্ত তার কর্মজীবনের ব্যাপ্তি প্রায় ৭৫ বছর এবং এই সময়ে তার বর্ণাঢ্য ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে খ্যাতি ও বিতর্ক, দুইই নিম্ন থেকে শীর্ষবিন্দু ছুঁয়ে গেছে।

জন্ম–

চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন ১৮৮৯ সালের ১৬ই এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা চার্লস চ্যাপলিন সিনিয়র এবং মাতা হ্যানা চ্যাপলিন (জন্মনাম: হ্যান হ্যারিয়েট পেডলিংহাম হিল)। চার্লি চ্যাপলিনের জন্ম সম্পর্কিত বৈধ কোনো প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি, তাই তার জন্ম নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।চার্লি চ্যাপলিনের জীবন যেন আগাগোড়া পুরোটাই রহস্যে ঘেরা। সংবাদ মাধ্যম তার জন্মস্থান সম্পর্কে নানা সময়ে নানা রকম তথ্য দিয়েছে। কিন্তু চ্যাপলিনের মতে, তিনি দক্ষিণ লন্ডনের ওয়ালওর্থের ইস্ট স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার নাম চার্লি চ্যাপলিন নিয়েও সন্দেহ আছে অনেকের! যুক্তরাজ্যের জাতীয় আর্কাইভ থেকে প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, চার্লি চ্যাপলিনের আসল নাম হলো ইসরায়েল থর্নস্টেইন। চ্যাপলিন তার ছদ্মনাম! তবে শেষ পর্যন্ত অবশ্য যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা চ্যাপলিনের ছদ্মনাম নিয়ে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি।

শৈশব–

চ্যাপলিনের শৈশব প্রচণ্ড দারিদ্র্য আর কষ্টে জর্জরিত ছিল। তার শৈশব কাটে তার মা হ্যানা এবং ভাই সিডনির সাথে কেনিংটন জেলায়। চ্যাপলিন সিনিয়র তাদের কোন আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করতেন না এবং হ্যানার মাঝে মাঝে সেবিকা ও পোশাক তৈরির কাজ ছাড়া উপার্জনের কোন পথ ছিল না। অত্যধিক দারিদ্রের কারণে চ্যাপলিনকে তার সাত বছর বয়সে ল্যামবেথ কর্মশালায় কাজের জন্য পাঠানো হয়।সাউথওয়ার্ক কাউন্সিল তাকে দারিদ্রের কারণে সেন্ট্রাল লন্ডন ডিস্ট্রিক্ট স্কুলে পাঠায়। চ্যাপলিন এই পরিস্থিতিকে “অবহেলিত জীবনকাল” বলে উল্লেখ করেন। ১৮ মাস পরে কিছু দিনের জন্য তিনি তার মায়ের সাথে থাকেন এবং ১৮৯৮ সালের জুলাইয়ে হ্যানা তাকে পুনরায় কর্মশালায় প্রেরণ করেন। চার্লি ও সিডনিকে এরপর দরিদ্র শিশুদের জন্য নির্মিত নরউড স্কুল নামক আরেকটি ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়।।

পথচলা শুরু-

চ্যাপলিন তার শৈশব থেকেই শিশুশিল্পী হিসেবে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রঙ্গশালার সাথে সফর করতেন এবং পরে একজন মঞ্চাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতা হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি স্বনামধন্য ফ্রেড কার্নো কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন, যারা তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিয়ে যায়। চ্যাপলিন সেখানে হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯১৪ সালে কিস্টোন স্টুডিওজের হয়ে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন। অচিরেই তিনি তার নিজের সৃষ্ট ভবঘুরে দ্য ট্রাম্প চরিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন এবং তার অনেক ভক্তকূল গড়ে ওঠে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগালে “শার্লট” নামে পরিচিত চ্যাপলিনের ট্রাম্প চরিত্রটি ভবঘুরে হলেও ব্রিটিশ ভদ্রজনোচিত আদব-কায়দায় সুসংস্কৃত এবং সম্মানবোধে অটুট। শার্লটের পরনে চাপা কোট, সাইজে বড় প্যান্ট, বড় জুতো, মাথায় বাউলার হ্যাট, হাতে ছড়ি আর অদ্বিতীয় টুথব্রাশ গোঁফ। চ্যাপলিন শুরুর দিক থেকেই তার চলচ্চিত্রগুলো পরিচালনা করতেন এবং পরবর্তীতে এসানে, মিউচুয়াল ও ফার্স্ট ন্যাশনাল করপোরেশনের হয়েও চলচ্চিত্র পরিচালনা চালিয়ে যান। ১৯১৮ সালের মধ্যে তিনি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের মর্যাদা লাভ করেন।

অভিনয় জীবন-

তার নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হল দ্য কিড (১৯২১), পরবর্তীতে তিনি আ ওম্যান অব প্যারিস (১৯২৩), দ্য গোল্ড রাশ (১৯২৫) এবং দ্য সার্কাস (১৯২৮) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এবং এসব চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেন। ১৯৩০ এর দশকে তিনি সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন এবং নির্বাক সিটি লাইট্‌স (১৯৩১) ও মডার্ন টাইমস (১৯৩৬) নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। চ্যাপলিন তার পরবর্তী চলচ্চিত্র দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০) এ অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হয়ে ওঠেন এবং আডলফ হিটলারকে ব্যঙ্গ করেন। ১৯৪০ এর দশকে চ্যাপলিনকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। তিনি সমাজতান্ত্রিকদের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন বলে অভিযোগ ওঠে, পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে পিতৃত্বের মামলা চলাকালে তিনি কম বয়সী অপর এক মহিলাকে বিয়ে করায় তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্ত শুরু হলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে যান এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি তার পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে তার ট্রাম্প সত্তা বিসর্জন দেন এবং মঁসিয়ে ভের্দু (১৯৪৭), লাইমলাইট (১৯৫২), আ কিং ইন নিউ ইয়র্ক (১৯৫৭) এবং আ কাউন্টেস ফ্রম হংকং (১৯৬৭) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের অন্যতম মৌলিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব চ্যাপলিন নিজের ছবিতে নিজেই অভিনয় করতেন, এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা এমনকি সঙ্গীত পরিচালনাও করতেন। তিনি তার সকল চলচ্চিত্র ত্রুটিমুক্ত রাখার চেষ্টা করতেন এবং তার আর্থিক স্বাধীনতার কারণে তিনি একটি চলচ্চিত্রের গল্পের বিকাশ ও চলচ্চিত্র নির্মাণে অধিক সময় ব্যয় করতে পারতেন। তার চলচ্চিত্রগুলোতে বৈরিতার সাথে দ্য ট্রাম্পের সংগ্রামের করুণ রসের সাথে স্ল্যাপস্টিক হাস্যরস বিদ্যমান ছিল। কয়েকটি চলচ্চিত্রে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তু ছিল এবং কয়েকটিতে আত্মজীবনীমূলক উপাদান ছিল। মৃত্যুর পরও চ্যাপলিন তার নির্মিত দ্য গোল্ড রাশ, সিটি লাইট্‌স, মডার্ন টাইমস ও দ্য গ্রেট ডিক্টেটর চলচ্চিত্র দিয়ে অমর হয়ে আছেন। এই চলচ্চিত্রগুলোকে প্রায়ই মার্কিন চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরা তালিকায় স্থান করে নিতে দেখা যায়।

ব্যক্তিগত জীবন–

সুন্দরীদের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা ছিল চ্যাপলিনের! নিজের প্রথম ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে পরে একে একে চারটি বিয়ে করেন! প্রথম তিন স্ত্রী মিলড্রেড হ্যারিস (১৯১৮ – ২০), লিটা গ্রে (১৯২৪ – ২৭) ও পোলেট গোদা (১৯৩৬ – ৪২)- র সাথে সম্পর্কের শেষটা ছিল তিক্তকর। খারাপ হতে হতে বিবাহ বিচ্ছেদে গিয়ে গড়ায় প্রতিটি সম্পর্ক। তবে শেষ স্ত্রী উনা ও নীল কে সম্ভবত সত্যিকারে ভালোবসেছিলেন তিনি। ১৯৪৩ সালে উনা-র এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন চ্যাপলিন। জীবনের বাকিটা সময় এক সাথেই কাটিয়েছেন দুজন।

পুরস্কার ও সম্মাননা —

চ্যাপলিন অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন এবং এর বেশিরভাগই তার জীবনের শেষের দিকে। ১৯৭৫ সালের নববর্ষ সম্মাননায় তিনি কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ারের নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি এবং ইংমার বারিমান যৌথভাবে ইর‍্যাজমাস পদক লাভ করেন, এবং ১৯৭১ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে লেজিওঁ দনরের কমান্ডার উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৯৭২ সালে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে চ্যাপলিন বিশেষ গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার লাভ করেন, এবং লিংকন সেন্টার ফিল্ম সোসাইটি থেকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। লিংকন সোসাইটি প্রদত্ত পুরস্কারটি পরবর্তীতে চ্যাপলিন পুরস্কার হিসেবে প্রতি বছর চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রদান করা হচ্ছে। ১৯৭২ সালে হলিউড ওয়াক অব ফেমে চ্যাপলিনের নামাঙ্কিত তারকা খচিত হয়, ১৯৫৮ সালে তার নামে এই তারকা খচিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তার রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তখন তা বাদ দেওয়া হয়েছিল।
চ্যাপলিন তিনবার একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। প্রথমটি ১৯২৯ সালে “দ্য সার্কাস চলচ্চিত্রে অভিনয়, এর লেখনী, পরিচালনা এবং প্রযোজনায় ভিন্নতা এবং প্রভিতার” স্বাক্ষর স্বরূপ একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার, ১৯৭২ সালে “চলচ্চিত্র নির্মাণকে এই শতাব্দীর শৈল্পিক রূপে তাঁর অপরিমেয় অবদান ও প্রভাবের জন্য” তিনি তার দ্বিতীয় সম্মানসূচক পুরস্কার, এবং ১৯৭৩ সালে লাইমলাইট চলচ্চিত্রের জন্য রে রাশ ও ল্যারি রাসেলের সাথে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ সুরের পুরস্কার এছাড়া তিনি দ্য গ্রেট ডিক্টেটর চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিত্রনাট্য এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র প্রযোজকের পুরস্কার এবং মঁসিয়ে ভের্দু চলচ্চিত্রের জন্য অপর একটি শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিত্রনাট্য পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা) থেকে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস চ্যাপলিনের ছয়টি চলচ্চিত্রকে জাতীয় চলচ্চিত্র রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষণের জন্য নির্বাচিত করেছে। চলচ্চিত্রগুলো হল দি ইমিগ্র্যান্ট (১৯১৭), দ্য কিড (১৯২১), দ্য গোল্ড রাশ (১৯২৫), সিটি লাইট্‌স (১৯৩১), মডার্ন টাইমস (১৯৩৬), এবং দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০)।
চার্লি সম্পর্কে কিছু তথ্য-
(ক) চার্লি চ্যাপলিন ছিলেন প্রথম এক্টর যে কিনা টাইমস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিলেন।
(খ) তিনি ৪ বার বিয়ে করেছিলেন।
(গ) তিনি একটি মাত্র অস্কার পেয়েছিলেন। তিনি “লাইমলাইট” মুভির জন্য বেস্ট মিউজিক এর জন্য অস্কার পেয়েছিলেন।
(ঘ) তার মেয়ে Geraldine Chaplin ১৯৯২ সালের “Chaplin” মুভিতে তার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
(ঙ) তিনি কমিউনিস্ট ছিলেন এমন সন্দেহে হলিউড “ওয়াক অফ ফেইম” থেকে তার নাম উঠিয়ে দেয়া হয় এবং সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মৃত্যু–

তিনি প্রয়াত হন ২৫ শে ডিসেম্বর, ১৯৭৭, ভিভে, সুইজারল্যান্ড।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব শিল্পকলা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।।।

প্রতি বছর, ১৫ এপ্রিল, বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিরা বিশ্ব শিল্প দিবস উদযাপন করে। শিল্প, একটি ধারণা যা বিভিন্ন সংস্কৃতির দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, এই উদযাপনের সময় একটি কেন্দ্রীয় ফোকাস হিসাবে কাজ করে, এর বৃদ্ধি এবং উপলব্ধি প্রচার করে। এই উপলক্ষটি মানুষের জন্য একটি মৃদু ধাক্কা হিসাবে কাজ করে তাদের ব্যস্ত জীবনের মাঝে বিরতি দিন এবং তাদের চারপাশের সৌন্দর্যের প্রশংসা করুন, ব্যস্ত সময়সূচীর কারণে প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, অনেকের কাছে এটি নিয়মিতভাবে আর্ট গ্যালারী করা চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে, তাই এই বার্ষিক পালন একটি সময়োপযোগী অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে বিশ্বের সৌন্দর্য অনুভব করার সহজ আনন্দের মধ্যে, বিশ্ব শিল্প দিবস জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার জন্য, কৌতূহল জাগানো এবং ব্যক্তিদের মধ্যে আকর্ষক কথোপকথনকে উত্সাহিত করার জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করে।

2019 সালে UNESCO-এর ৪০ তম সাধারণ সম্মেলনের সময় প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব শিল্প দিবস, বিশ্বব্যাপী শিল্পের বৃদ্ধি, প্রসার এবং প্রশংসাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি স্মারক। শিল্প সৃজনশীলতা লালন, উদ্ভাবন লালন এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রচারের জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। এটি জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে, কৌতূহল উদ্দীপিত করতে এবং অর্থপূর্ণ কথোপকথনের সুবিধার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পের এই স্থায়ী গুণগুলি এর তাত্পর্যকে অন্ডারস্কোর করে, পরিবেশ তৈরি এবং সুরক্ষিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে যা শিল্পী এবং শৈল্পিক স্বাধীনতাকে চ্যাম্পিয়ন করে। শিল্পের বিকাশে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের সাংস্কৃতিক ল্যান্ডস্কেপকে সমৃদ্ধ করি না বরং স্বাধীনতা ও শান্তির বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি বিশ্বের সন্ধানে অবদান রাখি।”

“বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ থিম–

বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ এর থিম

২০২৫ সালের বিশ্ব শিল্প দিবসের প্রতিপাদ্য “ঐক্য ও রূপান্তরের জন্য শিল্প”।

” থিমটি শিল্পের সারমর্মকে একটি প্রাণবন্ত এবং লালনকারী শক্তি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে যা বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ, সৃজনশীলতা এবং সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। ঠিক একটি বাগানের মতো, যেখানে বিভিন্ন গাছপালা একসাথে থাকে এবং সমৃদ্ধ হয়, শিল্প বিভিন্ন অভিব্যক্তি, ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির চাষের জন্য একটি উর্বর ভূমি হিসাবে কাজ করে। এটি একটি সম্মিলিত স্থানের প্রতিনিধিত্ব করে যেখানে বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিরা তাদের অনন্য কণ্ঠস্বর এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে একত্রিত হয়, যা মানব সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ট্যাপেস্ট্রিতে অবদান রাখে।

অভিব্যক্তির এই রূপক বাগানে, প্রতিটি শিল্পকর্ম একটি প্রস্ফুটিত ফুলের মতো, যা তার স্রষ্টার ব্যক্তিত্ব এবং সৃজনশীলতাকে প্রতিফলিত করে। একটি বাগানের বিকাশের জন্য যেমন যত্ন এবং মনোযোগের প্রয়োজন, তেমনি শৈল্পিক সম্প্রদায়েরও বৃদ্ধি এবং উন্নতির জন্য সমর্থন এবং উত্সাহ প্রয়োজন। তদুপরি, থিমটি মানুষের মধ্যে বিভাজন এবং সংযোগ স্থাপনের জন্য শিল্পের রূপান্তরকারী শক্তিকে আন্ডারস্কোর করে। শৈল্পিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, সম্প্রদায়গুলি সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে, ভাগ করা মূল্যবোধ উদযাপন করতে এবং বোঝাপড়া এবং সহানুভূতি প্রচার করতে একত্রিত হতে পারে।”

“বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ ইতিহাস–

আন্তর্জাতিক শিল্প সমিতির সাধারণ পরিষদের সময় ১৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব শিল্প দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১২ সালে এর সূচনা সম্মানিত লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির জন্মদিনের সাথে মিলে যায়, সহনশীলতা, বিশ্ব শান্তি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বহুসংস্কৃতির মত মূল্যবোধের প্রতীক যা তিনি তুলে ধরেছিলেন। উদ্বোধনী উদযাপনটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ আর্ট (I.A.A.) এর সমস্ত জাতীয় কমিটির কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ১৫০ জন শিল্পী অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে।
ইভেন্টে কনফারেন্স, বর্ধিত জাদুঘরের সময়, এবং বহিরঙ্গন শিল্প প্রদর্শনীগুলি পেইন্টিং, প্রিন্ট, ভাস্কর্য, ভিডিও এবং আরও অনেক কিছু সহ বিভিন্ন শিল্পকর্ম প্রদর্শন করে। শিল্প, স্থাপত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, নৃত্য, সাহিত্য এবং সিনেমার মতো অগণিত আকারে, ব্যক্তিদের তাদের সৃজনশীলতা এবং আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। প্রকৃত শিল্পকে বিশ্ব সম্পর্কে শিল্পীর উপলব্ধি এবং এর প্রতি তাদের আবেগের একটি খাঁটি অভিব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা মানুষের মধ্যে মিল এবং পার্থক্য উভয়ই প্রতিফলিত করে।
বিশ্ব শিল্প দিবস ব্যক্তিদের জন্য তাদের চারপাশের সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে এবং বাধা ছাড়াই আত্ম-প্রকাশকে আলিঙ্গন করার জন্য একটি মর্মান্তিক অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। এটি শিল্পের উত্সাহ এবং টেকসই বিকাশের পক্ষে সমর্থন করে, সৌন্দর্য চিত্রিত করতে এবং আবেগের প্রকাশকে উত্সাহিত করতে এর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়। অব্যাহত সমর্থনের মাধ্যমে, শিল্পীরা তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে।”
“বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ তাৎপর্য–
আমরা বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ পালন করার সময়, সাংস্কৃতিক উপলব্ধি প্রচার, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং শৈল্পিক স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন করার ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য স্বীকার করা অপরিহার্য। এখানে পাঁচটি মূল বিষয় রয়েছে যা ২০২৫ সালের বিশ্ব শিল্প দিবসের তাৎপর্যকে আন্ডারস্কোর করে:
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপন: বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৪ বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতির সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য এবং শৈল্পিক অভিব্যক্তি উদযাপন করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আলিঙ্গন ও সংরক্ষণের গুরুত্বের অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।
সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনের প্রচার: এই পালন ব্যক্তিদের তাদের সৃজনশীল সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে এবং শৈল্পিক অভিব্যক্তির সীমানাকে এগিয়ে নিতে উত্সাহিত করে। বিশ্ব শিল্প দিবস উদযাপনের মাধ্যমে, সমাজ বিভিন্ন শিল্প ফর্ম জুড়ে সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
কথোপকথন এবং বোঝাপড়াকে উত্সাহিত করা: শিল্পের অর্থপূর্ণ কথোপকথন শুরু করার এবং ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে বোঝাপড়াকে উন্নীত করার ক্ষমতা রয়েছে। বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৪ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে কথোপকথনের সুবিধা দেয়, সহানুভূতিকে উত্সাহিত করে এবং শিল্পের সার্বজনীন ভাষার মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে।
শৈল্পিক স্বাধীনতার পক্ষে ওকালতি: বিশ্ব শিল্প দিবসটি শৈল্পিক স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের সুরক্ষার পক্ষে সমর্থন করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। শিল্পীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে এমন পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব স্বীকার করে, সমাজ মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
অনুপ্রেরণামূলক সামাজিক পরিবর্তন: শিল্পের ইতিবাচক পরিবর্তনকে অনুপ্রাণিত করার এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ব্যক্তিদের তাদের শৈল্পিক প্রতিভা ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যাগুলি সমাধান করতে, বৈচিত্র্যকে উন্নীত করতে এবং সবার জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে।”

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This