Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জানুন ভাদু উৎসবের ইতিহাস ও পটভূমি সম্পর্কে কিছু কথা।।।

আমরা জানি, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ । আর এই তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ হচ্ছে ভাদু উৎসব । ভাদু হল ভাদ্র মাসের উৎসব । পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর এই জেলাগুলিতেই প্রধানত এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে । তবে ইদানীং রাজ্যের অন্যান্য জেলায়ও এই অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি দেখা যায় ।

যেমন মুর্শিদাবাদ জেলায় সালার শহরের কাছে ঝামটপুরে ভাদু উৎসব দেখা যায় । বিশেষ করে ভাদ্র মাসের শেষদিন বড় উৎসব যেটা মেলার আকার নেয় । এই অনুষ্ঠানকে অন্য কথায় মেয়েলি ব্রত বলা যেতে পারে । অনেকে মনে করেন ভাদ্র মাস থেকেই ‘ভাদু ‘ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে । আবার অনেকে মনে করেন, ভাদু মানে লক্ষ্মী । বিভিন্ন মাসে লক্ষ্মী বিভিন্ন রূপে যেহেতু পুজিত হন, তাই ভাদ্রমাসেও ভাদু উৎসবের মাধ্যমে লক্ষ্মীদেবী পুজিত হন । তবে এই উৎসবের অনেক মতান্তর রয়েছে । পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর রাজপরিবারের ভাদু বা ভদ্রেশ্বরী নামক এক রাজকন্যার কাহিনী থেকে এর উদ্ভব । শোনা যায়, কাশীপুর রাজের কন্যা ভাদুর এক রাজকুমারের সাথে বিয়ে ঠিক হয় । কিন্তু বিয়ের দিন বর বেশে বিয়ে করতে আসার সময় তিনি মারা যান । এরপরই ভাদু মৃত্যুবরণ করে । ভাদু উৎসব নিয়ে মানভূম অঞ্চলে বেশ কিছু লোককাহিনী প্রচলিত । আবার আরও একটি জনশ্রুতি, পঞ্চকোট রাজ পরিবারের নীলমণি সিংদেও’এর তৃতীয়া কন্যা ভদ্রাবতী বিবাহ স্থির হওয়ার পর তার ভাবী স্বামীর অকালমৃত্যু হলে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন, এই কাহিনী মানভূম অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচারিত । বিয়ে করতে আসার সময় ভদ্রাবতীর হবু স্বামী ও তার বরযাত্রী ডাকাতদলের হাতে খুন হলে ভদ্রাবতী চিতার আগুনে প্রাণ বিসর্জন করেন বলে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার পুরুলিয়া গ্রন্থে প্রকাশিত হয় । ভদ্রাবতীকে জনমানসে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নীলমণি সিংদেও ভাদু গানের প্রচলন করেন । অনেকেই তার সাথে কৃষ্ণভক্তি পরায়ণা মীরার মিল খুঁজে পান । তবে রাজকন্যা ভাদুকে নিয়ে অনেক মতান্তর রয়েছে । রাজকন্যার স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশে ভাদু উৎসব প্রচলিত । এমনকি ভদ্রাবতীকে জনমানসে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নীল সিংদেও ভাদু গানের প্রচলন করেন ।
ভাদু উৎসব কৃষি প্রধান উৎসবও বটে । মাঠজুড়ে তখন নতুন ধান রোপণ করা হয় । তবে এই উৎসবের অন্যতম বিষয় হল এই পুজোয় কোনো মন্ত্রের প্রয়োজন নেই । ভাদু উৎসবে পূজারীরা ভদ্রেশ্বরীর একটি মূর্তি তৈরি করে এবং সারা মাস ধরে তার সম্মুখে নৃত্যগীত পরিবেশন করে । ভদ্রেশ্বরী কখনও কন্যা আবার কখনও জননীরূপেও পুজিত হন । পয়লা ভাদ্র কুমারী মেয়েরা গ্রামের কোন বাড়ীর কুলুঙ্গী পরিষ্কার করে ভাদু প্রতিষ্ঠা করেন । আগে ভাদুর কোনো মূর্ত রূপ ছিল না । একটি পাত্রে ফুল রেখে ভাদুর বিমূর্ত রূপ কল্পনা করে তারা সমবেত কন্ঠে ভাদু গীত গেয়ে থাকেন । পরবর্তীকালে বিভিন্ন রকমের মূর্তির প্রচলন হয়েছে । ভাদ্র সংক্রান্তির সাত দিন আগে ভাদুর মূর্তি ঘরে নিয়ে আসা হয় । শোনা যায়, মূর্তিগুলি সাধারণত হংস বা ময়ূর বাহিনী বা পদ্মের ওপর উপবিষ্টা মূর্তির গায়ের রঙ হলুদ, মাথায় মুকুট, হাতে পদ্মফুল, গলায় পদ্মের মালা ও হাতের তলায় আলপনা থাকে । কখনো মূর্তির কোলে কৃষ্ণ বা রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি থাকে । ভাদ্র সংক্রান্তির পূর্ব রাত্রিতে ভাদুর জাগরণ পালিত হয়ে থাকে । মাইক বাজিয়ে গান শুনে খাবার তৈয়ারী করে নিজেদের মতো করে জাগরণের রাত পাড়ার ছেলেরা সমবেতভাবে অতিবাহিত করে । এর মাধ্যমে সামাজিক সৌভ্রাতৃত্ববোধ উন্মেষ হয় । যা সমাজ থেকে বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে । এই লৌকিক ও সামাজিক উৎসব সমাজে বেঁচে থাক । সমাজে টুসু, ঝুমুর, ভাদু গানের কদর বাড়ুক । সুতরাং ভাদু জাগরণের আরও ব্যাপ্তি ঘটুক । এই রাত্রে রঙিন কাপড় বা কাগজের ঘর তৈরী করে এই মূর্তি স্থাপন করে তার সামনে মিষ্টান্ন সাজিয়ে রাখা হয় । এরপর রাত্রিতে ভাদু গীত গাওয়া হয় । কুমারী ও বিবাহিত মহিলারা গ্রামের প্রতিটি মঞ্চে গেলে তাদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় ও তারা এই সব মঞ্চে ভাদু গীত পরিবেশন করে থাকেন ।
‘ভাদু ভাসান’ পর্ব অত্যন্ত বিষাদময় । ভাদ্র-সংক্রান্তিতে উপাসকরা মূর্তিসহ নদীর তীরে সমবেত হয়ে মূর্তি বিসর্জন দেন । এই উৎসবের অন্যতম লোকসংস্কৃতি হল ভাদু গান । সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানভূমের লোকসংস্কৃতি পুরুলিয়ার ভাদুগানেও পরিবর্তন হয়েছে । এই উৎসব উপলক্ষে মিষ্টির দোকানগুলিতে নানা রকমের মিষ্টি তৈরী ও বিক্রি হয় ।
টুসু ও ঝুমুর গানের বিপরীতে ভাদু গানগুলিতে প্রেম এবং রাজনীতি সর্বতোভাবে বর্জিত । সাধারণতঃ গৃহনারীদের জীবনের কাহিনী এই গানগুলির মূল উপজীব্য । পৌরাণিক ও সামাজিক ভাদু গানগুলি বিভিন্ন পাঁচালির সুরে গীত হয় । বর্তমানে সচেতনামূলক ভাদু গান পরিবেশিত হচ্ছে ।
ভাদু উৎসবের উৎপত্তি নিয়ে বহু মতান্তর রয়েছে । কবে থেকে এবং কীভাবে এই অনুষ্ঠান শুরু তার সঠিক তথ্য আজও অজানা । পরিশেষে ভাদু দেবীর কাছে প্রার্থনা, চাষের জমি ফসলে ভরে উঠুক ও মানুষের মধ্যে শান্তি বিরাজ করুক ।
কলমেঃ দিলীপ রায়
(তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)

9000+ ম্যাগাজিনস্ এক্সপ্লোর করুন

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ (২০ মে) বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত এবং গুরুত্ব।।।।।

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস ২০২৪: প্রতি বছর ২০ মে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস পালিত হয়। এই দিনটি পরিমাপের বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ভূমিকার জন্য উত্সর্গীকৃত। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মেট্রোলজির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর একটি সুযোগ।

মেট্রোলজি হল সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য পরিমাপ পাওয়ার প্রক্রিয়া।

এটি বৈজ্ঞানিক, শিল্প এবং আইনি দিক সহ পরিমাপের সমস্ত দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। মেট্রোলজি পণ্য ও পরিষেবার গুণমান মূল্যায়ন, বাণিজ্যিক লেনদেনে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এবং নিরাপত্তা ও গুণমানকে উন্নীত করতে ব্যবহৃত হয়। আসুন বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস ২০২৪-এর থিম, ইতিহাস, তাৎপর্য এবং ক্রিয়াকলাপগুলি দেখে নেওয়া যাক।

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস ২০২৫ : থিম—

২০২৫ সালের বিশ্ব আবহাওয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হল “একসাথে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবধান বন্ধ করা”। এই প্রতিপাদ্য চরম আবহাওয়া ঘটনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য উন্নত প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, জলবায়ু পরিবর্তন গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত, খরা এবং তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে তীব্র করে তুলেছে। WMO-এর সকলের জন্য প্রাথমিক সতর্কীকরণ উদ্যোগের লক্ষ্য হল ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিটি দেশকে শক্তিশালী প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা প্রদান করা। এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে, ১০৮টি দেশ বহু-বিপদ পূর্ব সতর্কীকরণ ক্ষমতা তৈরি করেছে।

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস: ইতিহাস
ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজারস (বিআইপিএম) ১৮৭৫ সালে মিটার কনভেনশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিআইপিএম হল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা প্রমিত পরিমাপ ব্যবস্থার ব্যবহার প্রচারের জন্য নিবেদিত। মিটার কনভেনশন পরিমাপের মানগুলির উপর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে কিলোগ্রামের আন্তর্জাতিক প্রোটোটাইপ (IPK) ভরের মানক একক হিসেবে গড়ে ওঠে। ইন্টারন্যাশনাল প্রোটোটাইপ অফ দ্য মিটার (IPM) দৈর্ঘ্যের আদর্শ একক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস ২০২৫ : তাৎপর্য—–

বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের তাৎপর্য বোঝা যায় যে এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেট্রোলজির গুরুত্ব তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। এটি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণ প্রচারে এর ভূমিকার উপর জোর দেওয়ার একটি সুযোগ। উপরন্তু, বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস মেট্রোলজিস্টদের দক্ষতা প্রদর্শন এবং সমাজে তাদের অবদান প্রচার করার একটি সুযোগ প্রদান করে।
একজনকে সচেতন হওয়া উচিত যে মেট্রোলজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির মধ্যে রয়েছে প্রমিত পরিমাপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য যন্ত্র এবং পদ্ধতির বিকাশ, এবং বাণিজ্য, শিল্প, পরিবহন এবং জল সম্পদের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেট্রোলজির প্রয়োগ।
বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস ২০২৫ উদযাপনের উপায়
একটি সম্মেলনে যোগ দিন- বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উদযাপনের একটি ভাল উপায় হল মেট্রোলজি সম্পর্কে একটি সম্মেলনে যোগদান করা। আপনি দৈনন্দিন জীবনে মেট্রোলজির গুরুত্ব এবং প্রয়োগ সম্পর্কে আরও জানতে পারেন।
মেট্রোলজি সম্পর্কে আরও জানুন- আপনি যদি মেট্রোলজি সম্পর্কে অনিশ্চিত হন তবে আপনি এটি সম্পর্কে আরও জানতে পারেন। মেট্রোলজি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এবং এর প্রয়োগ বিভিন্ন মূল শিল্পে দেখা যায়। সুতরাং এটি সম্পর্কে শেখা দিনটি উদযাপন করার একটি দুর্দান্ত উপায়।
সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন- আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে দিনটি সম্পর্কে আরও লোকেদের জানাতে পারেন। আপনি পোস্টার বা ইনফোগ্রাফিক্স তৈরি করতে পারেন যাতে অন্যরা মেট্রোলজি এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানতে এবং শেয়ার করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য–

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ লিগাল মেট্রোলজি সদর দপ্তর: প্যারিস, ফ্রান্স।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ লিগাল মেট্রোলজি প্রতিষ্ঠিত: ১৯৫৫।

।।তথ্য ঋণ : অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৯ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ১৯ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৯০ – হো চি মিন,ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা ও গণপ্রজাতন্ত্রী ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী।
১৯০৮ – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি কথাসাহিত্যিক।

১৯১০ – অ্যালান মেলভিল, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।
১৯১৩ – নীলম সঞ্জীব রেড্ডি, ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি।
১৯১৪ – (ক)  অমিতা সেন, ১৯৩০ এর দশকে শান্তিনিকেতনে ‘খুকু’ নামে পরিচিত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।
(খ) ম্যাক্স ফার্দিনান্দ পেরুতয, অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আণবিক জীববিজ্ঞানী।
১৯২২ – অমর পাল,ভারতের বাঙালি লোকসঙ্গীত শিল্পী ও লেখক।
১৯২৫ – পল পট, কম্বোডিয়ার খেমাররুজ দলের নেতা।
১৯২৫ – ম্যালকম এক্স, আফ্রিকান-মার্কিন মুসলিম রাজনীতিবিদ ও ধর্মীয় নেতা।
১৯৩৪ – রাস্কিন বন্ড, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ভারতীয় লেখক।
১৯৩৮ – গিরিশ কারনাড, ভারতীয় ভাষাবিজ্ঞানী, চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক।
১৯৪৬ – আন্দ্রে দি জিয়ান্ট, ফরাসী বংশোদ্ভূত আমেরিকান পেশাদার কুস্তিগির এবং অভিনেতা।
১৯৭৪ – নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯৭৯ – আন্দ্রেয়া পিরলো, ইতালীয় পেশাদার ফুটবলার।
১৯৭৯ – দিয়েগো ফরলান, উরুগুয়ের জাতীয় ফুটবল দলের একজন খেলোয়াড়।
১৯৮৫ – অ্যালিস্টার ব্ল্যাক, ওলন্দাজ পেশাদার কুস্তিগির।
১৯৯২ – মার্শমেলো, মার্কিন ইলেকট্রনিক সঙ্গীত প্রযোজক এবং ডিজে।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮৯৭ – ইংরেজ কবি অস্কার ওয়াইল্ডের কারামুক্তি।
১৯৩০ – দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ মহিলাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ।
১৯৩৬ – বৃটিশ আবিষ্কারক ওয়াটসন ওয়াট রাডার নির্মাণ করেন।
১৯৪৩ – তৎকালীন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাংকলিন রুজভেল্ট ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে জার্মান অধিকৃত ফ্রান্সের উপকূল নর্মান্ডিতে মিত্রপক্ষের সৈন্য অবতরণের একটি তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
১৯৫৪ – ভারত-মার্কিন সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৬১ – আসামের বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদার দাবিতে বাংলা ভাষা আন্দোলন (বরাক উপত্যকা)-এ প্রাদেশিক পুলিশের গুলিতে ১১ জন শহীদ হন।
১৯৮০ – পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হতে প্রথম উত্তরবঙ্গ সংবাদ প্রকাশিত হয়।
১৯৮৯ – বেজিংয়ে সামরিক শাসন জারি।
১৯৯১ – সাবেক যুগশ্লাভিয়াভুক্ত ক্রোয়েশিয়ীদের স্বাধীনতার জন্য গণভোট।
১৯৯৩ – মেডেলিনে কলম্বিয়া জেটলাইনার বিধ্বস্ত হয়ে ১৩২ জন নিহত।
১৯৯৪ – মালাবিতে প্রথম বহুদলীয় নির্বাচনে বাকিলি মুলুজের কাছে ৩০ বছরের সামরিক শাসক কামুজুবান্দা পরাজিত।
১৯৯৭ – বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়ে সাড়ে ৩ শতাধিক প্রাণহানি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
২০০১ – প্রথম অ্যাপল রিটেইল স্টোর উদ্ভোধন।
২০১৯ – বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬২৩ – জোধাবাই, রাজস্থানের রাজপুতঘারানার রাজা ভারমালের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
১৮৬৪ – ন্যাথানিয়েল হথর্ন, আমেরিকান উপন্যাসিক, ডার্ক রোম্যান্টিক এবং ছোটগল্প লেখক।
১৯০৩ – আর্থার শ্রিউসবারি, ইংলিশ ক্রিকেটার।

১৯০৪ – জামশেদজী টাটা, ভারতের অগ্রণী শিল্পপতি ও টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৩৫ – টি. ই. লরেন্স, লরেন্স অব এ্যারাবিয়া নামে পরিচিত ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ব বিশারদ, সামরিক নীতি নির্ধারক এবং লেখক।
১৯৩৬ – মারমাডিউক পিকথাল, ইংরেজ ইসলামি পণ্ডিত।
১৯৪৬ – বুথ টার্কিংটন, মার্কিন ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।
১৯৫৮ – স্যার যদুনাথ সরকার, বাঙালি ইতিহাসবিদ।
১৯৫৮ – রোনাল্ড কলম্যান, ইংরেজ অভিনেতা।
১৯৬১ – বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষার আন্দোলনে যে এগারোজন শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে শহীদ হন –
কমলা ভট্টাচার্য
কানাইলাল নিয়োগী
চন্ডীচরণ সূত্রধর,
হিতেশ বিশ্বাস,
সত্যেন্দ্রকুমার দেব,
কুমুদরঞ্জন দাস,
সুনীল সরকার,

তরণী দেবনাথ ;
শচীন্দ্র চন্দ্র পাল;
বীরেন্দ্র সূত্রধর  এবং
সুকোমল পুরকায়স্থ।

১৯৬৬ – সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়, খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও আইনজীবী।
১৯৭০ – অভিধানকার, লেখক ও চিন্তাবিদ কাজী আবদুল ওদুদ।

১৯৭৯ – হাজারী প্রসাদ দ্বিবেদী , হিন্দি ভাষার ঔপন্যাসিক,প্রাবন্ধিক ও সমালোচক।
১৯৮৭ – (ক) বাঙালি বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ চিন্মোহন সেহানবীশ।

(ক) ছিদ্দিক আহমদ, বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদ।
১৯৯৪ – জ্যাকলিন কেনেডি ওনাসিস, সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি।
১৯৯৭ – শম্ভু মিত্র, বাংলা তথা ভারতীয় নাট্যজগতের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব।
২০০৯ – রবার্ট ফ্রান্সিস ফার্চগট, মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ।
২০১২ – সফিউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী।
২০২২ – আবদুল গাফফার চৌধুরী, কালজয়ী একুশে গানের রচিয়তা, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

১৯শে মে বাংলা ভাষা অন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ রায়।।।।

আজ ১৯শে মে । ১৯৬১ সালের আজকের দিনে বাংলা মাতৃভাষা অন্দোলনে অসম রাজ্যের শিলচরে ১১ জন তরতাজা প্রাণ দিয়েছিলেন । প্রথমেই বলে রাখি অসম রাজ্যে দুটি উপত্যকা – একটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা যেমন গুয়াহাটি ও আশপাশ এলাকা এবং অন্যটি হচ্ছে বরাক উপত্যকা । ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অসম রাজ্যের অন্তর্গত বাংলাভাষী ভূ-খণ্ড বরাক উপত্যকার মধ্যে রয়েছে করিমগঞ্জ, হইলাকান্দি, বদরপুর, শিলচর প্রভৃতি বাঙালি অধ্যুষিত শহর ।

দেশ বিভাগের আগে অবিভক্ত সিলেট জেলাসহ এই বরাকের অধিবাসী বাঙালিরাই পুরো আসাম প্রদেশের নেতৃত্ব দিয়েছে । আপনাদের হয় তো মনে থাকবে, অবিভক্ত অসম রাজ্য ভেঙে তৈরি হয় ত্রিপুরা, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য ।
আসামের বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষার আন্দোলন ছিল আসাম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে । ১৯৬০-৬১ সালের ঘটনা । তৎকালীন আসাম প্রদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিলো, বাংলাভাষী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের সরকারি ভাষা হবে অসমীয়া । বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে এই সিদ্ধান্তকে ভাল চোখে দেখলেন না । তাই বাংলা ভাষার স্বীকৃতির জন্যে তাঁরা মরণপণ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন । এই গণ আন্দোলনের প্রধান উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটে ১৯৬১ সালের ১৯ মে । সেদিন ১১ জন প্রতিবাদীকে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে আসাম পুলিশ গুলি করে হত্যা করে । সেই আন্দোলনের জেরে শেষপর্যন্ত আসাম সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল । শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারপর থেকে ১৯শে মে, বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হচ্ছে সারা দেশে ।
এবার পেছনের দিকে আসা যাক । আমরা জানি, পাকিস্তান সরকারের উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী ভাষা অন্দোলনের কথা । ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরকত-সালাম-জব্বারেরা শহিদ হয়েছিলেন বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে । তারপর ধাপে ধাপে বাংলা ভাষার নিরিখে ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছিল একটি রাষ্ট্র, নাম বাংলাদেশ ।
এবারে আসছি তৎকালীন আসাম রাজ্যের বাঙালী অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত প্রসঙ্গে । ১৯৬০ সালের এপ্রিলে আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাবের সূচনা হয় । তারপর ১০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালের তদানীন্তন আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা অসমীয়াকে আসামের একমাত্র সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন । যদিও উত্তর করিমগঞ্জ-এর বিধায়ক রণেন্দ্রমোহন দাস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন । কিন্তু তা সত্ত্বেও ২৪ অক্টোবর প্রস্তাবটি বিধানসভায় গৃহীত হয় ।
তারপর অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরূদ্ধে বরাক উপত্যকার মানুষদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয় । মানুষ প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন । ফলশ্রুতি হিসাবে বরাক উপত্যকার মানুষেরা সরকারের প্রতিবাদ করতে ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন । আসাম সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১৪ এপ্রিল শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির মানুষেরা সংকল্প দিবস হিসাবে পালন করেন । বরাকের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য গণ সংগ্রাম পরিষদ ২৪ এপ্রিল দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছিল । ২মে শেষ হওয়া এই পদযাত্রাটিতে অংশ নেওয়া অন্দোলনকারিরা প্রায় ২০০ মাইল উপত্যকাটির গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালিয়েছিলেন । পদযাত্রার শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ১৯ মে তাঁরা ব্যাপক হরতাল করবেন । ১৯ মে শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে হরতাল ও পিকেটিং শুরু হয় । করিমগঞ্জে আন্দোলনকারীরা সরকারী কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্ট, ইত্যাদিতে পিকেটিং করেন । শিলচরে তারা রেলওয়ে স্টেশনে সত্যাগ্রহ করেছিলেন । বিকেল ৪টার সময়সূচির ট্রেনটির সময় পার হওয়ার পর হরতাল শেষ করার কথা ছিল । ভোর ৫:৪০ এর ট্রেনটির একটিও টিকিট বিক্রি হয়নি । সকালে হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে অতিবাহিত হয়েছিল । কিন্তু বিকালে স্টেশনে অসম রাইফেল এসে উপস্থিত হয় । বিকেল প্রায় ২:৩৫ নাগাদ স্টেশনে আন্দোলনকারীদেরকে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে । এরপর সাত মিনিটের ভিতর তারা ১৭ রাউণ্ড গুলি আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে চালায় । ন’জন সেদিনই নিহত হয়েছিলেন, দু’জন পরে মারা যান । (নীচে শহীদদের ফটোসহ নাম দেওয়া হলো ) । সবচেয়ে যেটি গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম একজন মহিলা ভাষা অন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, নাম কমলা ভট্টাচার্য ।
সেই আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত আসাম সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল এবং আসাম সরকার বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসাবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল । তারপর সেই ঘটনার পর থেকে ১৯শে মে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা দেশে । উল্লেখ থাকে যে বরাক উপত্যকায় শুধু নয়, পৃথিবীর আপামর বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ ১৯ মে কে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসাবে পালন করে আসছে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে । তাই বলা চলে, ১৯৬১ সালের ১৯শে মে বরাক উপত্যকার শিলচরের ভাষা অন্দোলন – বিশ্বের মাতৃভাষা আন্দোলনের অন্যতম দৃষ্টান্ত । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
১৯শে মে ভাষা দিবসের শহীদদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ত্রিগুণ – “সত্ত্ব, তমঃ ও রজঃ” – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।

প্রথমে প্রত্যেক শব্দের অর্থ জানা যাকঃ সত্ত্বঃ- সত্ত্ব শব্দের অর্থ হলো ধর্মীয় জ্ঞানের প্রকাশ এবং সাত্ত্বিক শব্দের মানে হলো ধর্মজ্ঞানী । সত্ত্ব শব্দটির মূল কথা হলো সৎ এবং সৎ শব্দের অর্থ হলো সাধু । অর্থাৎ সত্ত্ব বা সাত্ত্বিক বলতে সর্বদা মহৎ বা উন্নত জ্ঞানসম্পন্ন ভালো কিছুকে বোঝায় ।

যখন কোনো ব্যক্তি প্রতিটি পরস্থিতিতে ধর্ম, সত্য ও ন্যায়ের বিচার করে তাঁর আচরণ করে থাকেন, তখন তাকে সাত্ত্বিক বলা হয়।
তমঃ- তমঃ শব্দের অর্থ হলো অন্ধকার এবং তমঃ থেকেই তামসিক শব্দের উৎপত্তি । “ভালো মন্দের বিচার ব্যতীত জীবন নির্বাহ করা অথবা কারো সকল আদেশকে বিনা দ্বিধায় পালন করা” এটা তামসিক আচরণ বলেই গণ্য । অন্যভাবে, কেবল শারীরিক চাহিদা অর্থাৎ ক্ষুধা ও যৌনতার চাহিদাকে পূর্ণ করার জন্য যখন কেউ জীবন কাটায়, তখন সেটা তামসিক আচরণের মধ্যে পড়ে । ইতর প্রাণীরা সাধারণত স্বভাববশতই এই ধরণের জীবন কাটায় বা কাটাতে বাধ্য হয় ।
রজঃ- রজঃ শব্দের অর্থ হলো অহঙ্কার । রজঃগুনী ব্যক্তির মধ্যে ধর্ম বা সত্যের জ্ঞান থাকে, কিন্তু শরীর ও মন বাসনার দ্বারা আবদ্ধ থাকে এবং অহঙ্কার পূর্ণ মন নিয়ে বেঁচে থাকে ।
সংক্ষেপে বলতে গেলে- সত্ত্ব মানে ধর্ম জ্ঞান, মঙ্গল, ভারসাম্য, রজঃ মানে অহঙ্কার, আবেগ, উত্তেজনা এবং তমঃ মানে অন্ধকার, নিস্তেজতা, জড়তা, উদাসীনতা ।
উপসংহারে বলা যায় – সত্ত্বগুণের স্বরূপ হচ্ছে নির্মল । নির্মল সত্ত্বগুণ দ্বারা পরমাত্মার জ্ঞান লাভ সম্ভব । সত্ত্বগুণের উৎকৃষ্ট উপাদান হচ্ছে জ্ঞান । জ্ঞান বোধশক্তির বোধক । জ্ঞানই প্রকৃত প্রকাশক । এই সত্বগুণ রজঃ ও তমঃগুণের বৃত্তিকে অবদমিত করে অন্তঃকরণে স্বচ্ছতা ও নির্মলতা উৎপন্ন করে । অন্যদিকে রজঃগুণ, চঞ্চল স্বরূপ । রজঃ নিজেও যেমন চঞ্চল, তেমনি অপরের মধ্যেও চঞ্চলতার উৎপাদক । রজঃগুণ বাড়লে লোভ, শান্তির অভাব ও আসক্তি এই সমস্ত বৃত্তিগুলির উদ্ভব ঘটে । আর তমঃগুণ হচ্ছে এককথায় সত্ত্বগুণের বিপরীত ! তমঃগুণ ও অজ্ঞানতা পরস্পর ওতোপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকে । তমঃগুণ অজ্ঞানতা থেকেই উৎপন্ন হয় আবার অন্যদিকে অজ্ঞানতা থেকে তমঃগুণ বাড়ে ।
লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ যা কিছু কর্ম করে সেটা দুঃখদায়ক হয় । বেশীমাত্রায় আকাঙ্খার নাম লোভ । মানুষ কর্তব্য কর্ম থেকে বিচ্যুত হলে মনে অশান্তি ও চাঞ্চল্য বাড়ে । পাপ বাড়ে । সুতরাং কপকটতা করে অর্থোপার্জন, পাপের নামান্তর ।
ঠাকুর রামকৃষ্ণের ভাষায়ঃ সত্ত্ব, রজঃ আর তমঃ – মানুষের এই তিন গুণ । সব মানুষের ভিতর এর লক্ষণ ফুটে ওঠে । সেটা যেমন সংসারীর ক্ষেত্রে সত্যি, তেমনি ভক্তের ক্ষেত্রেও । কিন্তু কেমন করে বোঝা যায়, কে কোন গুণের অধিকারী।
সত্ত্ব, রজঃ আর তমঃ গুণের কথা আমরা সবাই জানি । কিন্তু বুঝব কী করে আমরা কে কোন জায়গায় আছি ? আবার সংসারী মানুষ মনে করে, ভক্ত বোধহয় এসবের ঊর্ধ্বে । সত্যিই কি তাই । এই সব সংশয় নিরসনের জন্য আমাদের গুরুদেবের শরণ নিতে হয়। ঠাকুর রামকৃষ্ণ ভক্তমনের এই সন্দেহ নিরসন মিটিয়ে দেন একেবারে সহজ কথায় । তিনি বলেন, “সংসারীর সত্ত্বগুণ কী রকম জানো ? বাড়িটি এখানে ভাঙা, ওখানে ভাঙা – মেরামত করে না । ঠাকুরদালানে পায়রাগুলো হাগছে, উঠানে শেওলা পড়েছে হুঁশ নাই। আসবাবগুলো পুরানো, ফিটফাট করবার চেষ্টা নাই । কাপড় যা তাই একখানা হলেই হলো । লোকটি খুব শান্ত, শিষ্ট, দয়ালু, অমায়িক; কাউকে কোনও অনিষ্ট করে না । “সংসারীর রজঃগুণের লক্ষণ বলতে – ঘড়ি, ঘড়ির চেন, হাতে দুই-তিনটি আঙটি । বাড়ির আসবাব খুব ফিটফাট । দেওয়ালে কুইনের ছবি, রাজপুত্রের ছবি, কোন বড় মানুষের ছবি । বাড়িটি চুনকাম করা, যেন কোনখানে একটু দাগ নাই । নানারকমের ভাল পোষাক ।” সংসারীর তমঃগুণের লক্ষণ হচ্ছে – “নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার এই সব ।”

(তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
কলমে : দিলীপ রায়

Share This
Categories
প্রবন্ধ

সব্যসাচী লেখক সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, অনুবাদক ও আইনজীবী ছিলেন। গ্রামোফোন রেকর্ডে তার রচিত গান ‘ও কেন গেল চলে’, ‘জীবনে জেগেছিল মধুমাস’ প্রভৃতি সেসময় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে তার আলাদা গীত-সংকলন প্রকাশিত হয় নি। কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সূচনাকাল থেকে আমৃত্যু তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

জন্ম–

সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ৯ জানুয়ারি, ১৮৮৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ইছাপুরে। পিতার নাম হরিদাস মুখোপাধ্যায় । পিতামহ কৃষ্ণসখা হাই কোর্টের উকিল এবং জনপ্রিয় শৌখিন নট ও নাট্যকার নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তার মাতামহ ছিলেন। রামায়ণ অনুবাদক কবি কৃত্তিবাস ওঝা ছিলেন এঁদের পূর্বপুরুষ।

শিক্ষা জীবন—

১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভবানীপুরের সাউথ সুবারবন স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, ভাগলপুরের তেজনারায়ণ জুবিলি কলেজ থেকে ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে এফ. এ, ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে জেনারেল অ্যাসেব্লিজ ইনস্টিটিউশন থেকে বি. এ পাশ করেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

কর্মজীবন–

আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কলকাতার পুলিশ কোর্টে ওকালতি শুরু করেন।

সাহিত্যচর্চা–

তিনি পেশায় আইনজীবী হলেও নেশায় ছিলেন সাহিত্য-শিল্পকর্মী। চোদ্দ বৎসর বয়সে এন্ট্রান্সে পড়ার সময়ই তার ‘ছেলেবেলাকার কথা’ গল্পটি ‘কমলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে সাহিত্য জগতে তার ঘনিষ্ঠতা। সৌরীন্দ্রমোহন প্রকৃত অর্থে সব্যসাচী লেখক ছিলেন। গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র কাহিনী, বেতার নাট্য, জীবনী, অনুবাদ-সাহিত্য, রম্য রচনা, ব্যঙ্গ-কৌতুক, ভ্রমণকাহিনী, প্রবন্ধ, পরলোকতত্ত্ব প্রভৃতি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতার সাথে ছিল তার অবাধ বিচরণ।
তিনি অনর্গল রায়, অপ্রকাশ গুপ্ত, বৈকুন্ঠ শর্মা, সত্যব্রত শর্মা প্রভৃতি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। প্রায় দু’শো গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল –

কিশোর সাহিত্য–

লালকুঠি, পাঠান মুলুকে, চালিয়াৎ চন্দর, মা-কালীর খাঁড়া।
গল্পগ্রন্থ–
মণিদীপা, নির্ঝর, রঙের টেক্কা, পুষ্পক, খাট্টা ও খোট্টা।

উপন্যাস–

দরদী, আঁধি, কাজরী, বাবলা, পিয়ারী, কুজ্ঝটিকা।

নাটক—

লাখ টাকা, স্বয়ংবরা, হারানো রতন।

অন্যান্য–

রবীন্দ্রস্মৃতি, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি, উকিলের ডায়েরি, পরলোকের বিচিত্রকাহিনী, ওপারের খবর, তান্ত্রিকদের বিচিত্র কাহিনী। শেক্সপিয়ারের গ্রন্থাবলি ছাড়াও তিনি বিদেশি বই অনুবাদ করেছেন। রবীন্দ্র সংগীতের প্রথিতযশা ও স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী সুচিত্রা মিত্র তার কন্যা।

মৃত্যু–

সৌরীন্দ্রমোহন ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে মে ৮৪ বৎসর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

চারন-সম্রাট মুকুন্দ দাস – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

ভূমিকা– মুকুন্দ দাস বাঙালি কবি যাকে চারণ কবি বলেও অভিহিত করা হয়। মুকুন্দ দাস স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় বহু স্বদেশী বিপ্লবাত্মক গান ও নাটক রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন স্বদেশী যাত্রার প্রবর্তক। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন চারণকবি ছিলেন। বরিশালের অশ্বিনীকুমার দত্তের সংস্পর্শে মুকুন্দদাস রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন।

তার আগ্রহে মুকুন্দদাস মাতৃপূজা নামে একটি নাটক রচনা করেন। দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে নবগ্রামে এই নাটকের প্রথম প্রকাশ্য যাত্রাভিনয় হয়। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় মুকুন্দদাস একের পর এক গান,কবিতা ও নাটক রচনা করে বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে নূতন উদ্দীপনার সঞ্চার করেন। এরপর ব্রিটিশ সরকার রাজদ্রোহের অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করেন ও বিচারে তাকে দিল্লী জেলে আড়াই বছর সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মাতৃপূজা নাটকটি সরকার বাজেয়াপ্ত করে। কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথাক্রমে বাংলা মায়ের দামাল ছেলে চারন-সম্রাট মুকুন্দ উপাধিতে ও সন্তান আখ্যায় ভূষিত করেন।
জন্ম ও শৈশব–
তিনি ১৮৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণার বানরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম গুরুদয়াল দে এবং মাতার নাম শ্যামাসুন্দরী দেবী এবং স্ত্রীর নাম সুভাষিনী দেবী। তাঁর পিতার দেওয়া নাম যজ্ঞেশ্বর দে এবং ডাকনাম ছিল যজ্ঞ। তার জন্মের পর গ্রামটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে পরিবারটি বরিশালে চলে আসে, যেখানে গুরুদয়াল কাজ করতেন। বরিশালের ব্রজমোহন স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। বরিশালে বৈষ্ণব সন্ন্যাসী রামানন্দ অবধূত যজ্ঞেশ্বরের হরিসঙ্কীর্তন ও শ্যামা সঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে দীক্ষা দেন এবং তাঁর নাম রাখেন মুকুন্দদাস। উনিশ বছর বয়সে, মুকুন্দদাস সাধন-সঙ্গীত নামে একটি স্তোত্রগ্রন্থ রচনা করেছিলেন। বরিশালের হিতৈশি পত্রিকায় লিখতেন। সারা বরিশাল তাঁর যাত্রা গানে মাতাল হতেন।
মুকুন্দ দাসের বাড়ির বর্তমান অবস্থা–
বরিশাল নগরীতে ঢোকার মুখে নথুলাবাদ বাস টার্মিনাল -সংলগ্ন চারণকবি মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি। বর্তমান স্থানটুকু ঘিরে আছে ছাত্রাবাস, লাইব্রেরি, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং পুজামন্দির ।চারণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তিনি বরিশালের কাশীপুর কালীমন্দিরের জায়গা কিনে ছিলেন। সেই সময়ের মোট জায়গা ছিল ৮৭ শতাংশ, এখন আছে মাত্র ১৯ শতাংশ। বাকিটা বেহাত হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক গান ও নাটক রচনা—
মুকুন্দদাস বরিশালের অশ্বিনীকুমার দত্তের সংস্পর্শে রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন। তাঁর আগ্রহে মুকুন্দদাস মাতৃপূজা নামে একটি নাটক রচনা করেন। দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে নবগ্রামে এই নাটকের প্রথম প্রকাশ্য যাত্রাভিনয় হয়। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় মুকুন্দদাস একের পর এক গান, কবিতা ও নাটক রচনা করে বাঙালির জাতীয় জীবনে নূতন উদ্দীপনার সঞ্চার করেন। এরপর ব্রিটিশ সরকার রাজদ্রোহের অপরাধে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন ও বিচারে তাকে দিল্লী জেলে আড়াই বছর সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। মাতৃপূজা নাটকটি সরকার বাজেয়াপ্ত করে। মুকুন্দদাস কারাবাসে থাকাকালীন তাঁর স্ত্রী সুভাষিণী দেবীর মৃত্যু ঘটে। মুক্তিলাভের পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও অন্যান্যরা তাঁকে সান্ত্বনা দেন ও উদ্বুদ্ধ করেন যার ফলে তিনি পুনরায় রচনায় মনোনিবেশ করেন। কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথাক্রমে বাংলা মায়ের দামাল ছেলে চারণ-সম্রাট মুকুন্দ উপাধিতে ও সন্তান আখ্যায় ভূষিত করেন।
রচনা–
মুকুন্দদাসের রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কর্মক্ষেত্র, ব্রহ্মচারিণী, পথ মাতৃপূজা, সমাজ, আদর্শ, পল্লীসেবা, সাথী ইত্যাদি।
পরবর্তী জীবন—
১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই মে শুক্রবার মুকুন্দদাস মৃত্যু বরণ করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস, জানুন দিনটির গুরুত্ব এবং কেন পালিত হয়।।।।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৫: প্রতি বছর ১৮ মে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালিত হয়। দিবসটি ১৯৭৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম (আইসিওএম) দ্বারা সমাজে জাদুঘরের ভূমিকা প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

সামগ্রিকভাবে, জাদুঘর দিবস হল জাদুঘরের বিশ্ব উদযাপন করার এবং সমাজে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি দিন।

জাদুঘর আমাদের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক বিস্ময় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। তারা প্রতিফলন এবং সৃজনশীলতার জন্য স্থান প্রদান করে। আসুন ইতিহাস, তাৎপর্য, থিম এবং আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৫ উদযাপনের উপায় সম্পর্কে আরও জানি।

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৫ : থিম-

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৫ এর থিম হল “দ্রুত পরিবর্তনশীল সম্প্রদায়গুলিতে জাদুঘরের ভবিষ্যৎ” (Museums in rapidly changing communities: the future of the past)। এই থিমটি জাদুঘরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, যেমন সাংস্কৃতিক বিনিময়, উদ্ভাবন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করার বিষয়গুলো তুলে ধরে।

আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, জাদুঘরগুলি দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে কীভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য কিভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে, সেই বিষয়গুলি নিয়ে এই থিম আলোচনা করে।

এই দিবসটি প্রতি বছর ১৮ মে বা তার কাছাকাছি পালন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদ (ICOM)-এর একটি আন্তর্জাতিক দিবস। প্রতি বছর এই দিবসে একটি নির্দিষ্ট থিম থাকে যা জাদুঘরগুলির জন্য প্রাসঙ্গিক।

 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৫ : তাৎপর্য-

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য হল জাদুঘরগুলি কীভাবে সমাজে অবদান রাখে সে সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়, বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি প্রচার করা। জাদুঘরগুলি মানুষকে একত্রিত করতে এবং উদযাপনের জন্য একটি থিমের সাথে তাদের আবদ্ধ করতে একটি অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছরের আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের থিম একটি বার্তা বহন করে যা একটি নির্দিষ্ট বিষয় এলাকার গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
জাদুঘর হল এমন জায়গা যেখানে লোকেরা বিভিন্ন সংস্কৃতি , ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক বিস্ময় সম্পর্কে জানতে পারে । তারা প্রতিফলন এবং সৃজনশীলতার জন্য স্থান প্রদান করে। আমরা কেন জাদুঘর দিবস উদযাপন করি তার একটি প্রধান কারণ হল সমাজ গঠনে যাদুঘরের মূল্যকে উপলব্ধি করা। জাদুঘরগুলি আমাদের চারপাশের জগতকে বুঝতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অন্যান্য মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।
তারা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাদুঘরগুলি বিভিন্ন সংস্কৃতির লোকেদের মধ্যে ঐক্য ও বোঝাপড়ার প্রচারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। জাদুঘরগুলি জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া এবং বিশ্বের একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের জন্য নিবেদিত।
যাদুঘরগুলি পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই অনুশীলনের প্রচারের জন্য নিবেদিত। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিভাবে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৫ উদযাপন করবেন–

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল একটি জাদুঘর পরিদর্শন করা। একা বা বন্ধু বা পরিবারের সাথে কাছাকাছি একটি জাদুঘরে যান। আপনার আগ্রহের একটি যাদুঘর দেখার জন্য আপনি একটি ভিন্ন শহরে ভ্রমণের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণ করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের আরেকটি উপায় হল আপনার স্থানীয় যাদুঘরে একটি সংগ্রহ, শিল্পের অংশ, উত্তরাধিকার বা অর্থ দান করা। এটি আপনার স্থানীয় জাদুঘরকে সমর্থন করার এবং ভবিষ্যত প্রজন্মেররাও এটি উপভোগ করতে সক্ষম হবে তা নিশ্চিত করার একটি দুর্দান্ত উপায়।
আপনার যদি আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উদযাপনের অন্য কোন পরিকল্পনা থাকে, যেমন একটি ইভেন্ট বা কর্মশালায় যোগদান করা, তবে আজ একটি জাদুঘর পরিদর্শন করা এবং একটি পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পরিদর্শন জাদুঘরের গুরুত্ব এবং সমাজে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মন পরিবর্তন করতে পারে।

আন্তর্জাতিক যাদুঘর দিবস : ইতিহাস-

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৭ সালে রাশিয়ার মস্কোতে ICOM সাধারণ পরিষদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের ধারণাটি ১৯৫১ সালে মস্কোতে জাদুঘরের জন্য ক্রুসেডের বৈঠকের সময় প্রথম রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। মিটিং, যা যাদুঘর এবং শিক্ষার থিমের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যাদুঘর অ্যাক্সেসযোগ্যতার জন্য একটি কাঠামোর উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করে।
১৯৭৭ সালে, কাঠামোটি ICOM সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়েছিল এবং ১৯৭৯ সালে, ইভেন্টের প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার চালু করা হয়েছিল। “সাংস্কৃতিক পণ্যে অবৈধ ট্রাফিকের বিরুদ্ধে লড়াই” শিরোনামের পোস্টারটি 28 টি দেশ দ্বারা অভিযোজিত হয়েছে।
২০১১ সালে, ICOM আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের জন্য একটি ওয়েবসাইট এবং যোগাযোগ কিট তৈরি করেছে। এই উদ্যোগটি প্রথমবারের মতো চিহ্নিত করেছে যে ICOM ইউরোপীয়ান নাইট অফ মিউজিয়ামের পৃষ্ঠপোষক ছিল। ইভেন্টটি, যা প্রতি বছর ১৮ মে অনুষ্ঠিত হয়, যাদুঘরের কার্যকলাপে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং যাদুঘর সংস্কৃতি সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা উদযাপন করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভগবান যখন ভক্তের সেবা করলো তখন কি হলো – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।।

শ্রীকৃষ্ণদাস সোণার নামক এক কৃষ্ণভক্ত ছিলেন । তিনি অত্যন্ত সেবাপরায়ণ ছিলেন। সারা দিনের সমস্ত কর্ম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিবেদিত ছিল তাঁর। সকল কাজের মধ্যেই তিনি এমন মনোভাব রাখতেন যে, এই কর্ম তো শ্রীকৃষ্ণের জন্য করা ! এ কাজ করলে আমার শ্রীকৃষ্ণের এ জাতীয় সেবা হবে। আর তাতে আমার প্রাণগোবিন্দ অত্যন্ত প্রীত হবেন, সুখী হবেন ।– ঠিক যেমন ব্রজগোপিনীদের কথা আমরা জানি , তেমন ।

একটা উদাহরণ দেই। যেমন, -গোপিনীরা নিজেদেরকে খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখতেন সবসময়। তাঁরা ভাবতেন আমি যদি সুন্দর করে সেজে থাকি আর আমাকে সুন্দর লাগে দেখতে তবে শ্রীকৃষ্ণ আমায় দেখে খুব আনন্দ পাবেন। অর্থাৎ নিজেদের আনন্দের জন্য নয়। বা নিজে সুন্দরী হব এই ভাব তাদের থাকতোই না । বরং শ্রীকৃষ্ণকে সুখ দেবার জন্য ব্রজগোপিনীরা পরিপাটী করে সেজে থাকতেন। তাঁদের প্রতিটি কাজেই এ জাতীয় বোধ কাজ করতো । আবার যেমন বলা যায়, রামায়ণের সেই বৃদ্ধা শবরী মায়ের কথা । দক্ষিণ ভারতের সেই বৃদ্ধাকে তাঁর গুরুদেব মাতঙ্গ বলেছিলেন , একদিন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র রূপে তোমার কাছে সাক্ষাৎ দর্শন দিতে তোমার কুটীরে আসবেন। শবরী এতটাই ভালোবাসতেন রামচন্দ্রকে যে, রামচন্দ্র যাতে কুল খেয়ে আনন্দ পান তাই তিনি বনের কুলগাছ থেকে রামচন্দ্রের জন্য সংগ্রহ করা প্রতিটি কুল নিজে আগে একটু খেয়ে দেখতেন । মিষ্টি হলে তবেই তা তাঁর প্রভু রামচন্দ্রের সেবার জন্য রাখতেন। এভাবে তিনি বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন রামচন্দ্রের আগমনের জন্য । গুরুর কথা সত্য হয়েছিল । বাস্তবিক একদিন রামচন্দ্র হাজির হয়েছিলেন বনের মধ্যে বৃদ্ধা শবরী মায়ের কুটীরে । অতএব , নিজে খেয়ে দেখব বলে বা নিজের জিহ্বাকে আস্বাদন-আনন্দ দিতে , শবরী মে কুলগুলো খেয়ে রাখতেন তা নয় । রামচন্দ্রকে আনন্দ দেবেন বলে বাছাই করে কুল নিজে খেয়ে আগে দেখে নিতেন। কৃষ্ণদাস সোণারও এমনই ছিলেন । তিনি যে অর্থ উপার্জন করতেন , ভাবতেন তা সব গোবিন্দের। আমার তো কিছু নয় । অর্থ দ্বারা গোবিন্দের সেবা করবো। এ সংসার তো তাঁর । এভাবে গঙ্গার স্রোত যেমন অবিচ্ছিন্নভাবে নিরবধি বয়ে যায় তেমন করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কৃষ্ণদাস প্রতিটি কাজ কৃষ্ণকে স্মরণ করে , কৃষ্ণের প্রীত্যর্থে করতেন।
একদিনের ঘটনা । কৃষ্ণদাস ভাবে বিভোর হয়ে মুখে গীত গাইছেন আর নৃত্য করছেন তাঁর ইষ্ট কৃষ্ণবিগ্রহের সামনে। মনের ভাবখানা এমন যে– আমার নৃত্য দেখে, সংগীত শুনে আমার প্রাণনাথ, প্রাণারাম শ্রীশ্যামসুন্দর অত্যন্ত আনন্দ পাচ্ছেন তো ! আর তাই আরও দরদ ভরে গীত গাইছেন , আরও সুন্দর করে নৃত্যটি করার চেষ্টা করছেন তিনি ।‌ এমন সময় হলো কি চরণের নূপুরখানি খুলে পড়ে গেল তালঠোকার সময় ভুমিতে। কৃষ্ণদাস ভাবলেন , “ইস্ , নৃত্যরসের ব্যাঘাত ঘটলো !” অর্থাৎ, যেভাবে নৃত্যটি হচ্ছিল সেই পর্যায় থেকে চ্যূত হল নৃত্যটি। আর তাই তিনি নৃত্যের বিরাম দিয়ে তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে পড়লেন পুনরায় নূপুরটি চরণে পড়ে নেবেন বলে । হঠাৎ এক বালক বলে বসলো, “দাঁড়াও , দাঁড়াও। তোমায় কষ্ট করতে হবে না। আমি পড়িয়ে দিচ্ছি। তুমি যে ভঙ্গীমায় ছিলে সেই ভঙ্গীমাতেই স্থির হয়ে দাঁড়াও।” বলতে বলতেই অপূর্ব দর্শন বালকটি নূপুরটি চোখের নিমেষে কুড়িয়ে নিয়ে কৃষ্ণদাসের চরণে পড়িয়ে দিল। বালকের তৎপরতা দেখে কৃষ্ণদাসের ভারী ভালো লাগলো ; বলে বসলেন, “কে গো বাছা ? কে তুমি? নাম কি তোমার ? দেখিনি তো আগে । এখানে কোথায় থাকো?” কিন্তু জিজ্ঞাসাই সার হলো। প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই বালকটি চোখের নিমেষে উধাও হয়ে গেল। মিলিয়ে গেল জলছবির বা মরীচিকার মতন বাতাসে। বালক নেই , অথচ চরণে নূপুর তো রয়ে গেছে। অর্থাৎ এ তো চোখের বা মনের ভ্রম নয় । বালকটি যে সত্যই এসেছিল তার প্রমাণ খুলে যাওয়া , ছিটকে পড়া নূপুরের পুনরায় চরণে উঠে আসা। তবে কে সে বালক ? কে প্রভু ? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহের দিকে তাকাতেই যেন সব উত্তর ঠোঁটে নিয়ে হাসির মধ্য দিয়ে জানিয়ে দিলেন শ্রীকৃষ্ণ- তিনিই তো সে-ই । কৃষ্ণদাস যখন বুঝলেন বালকবেশে এসে আসলে শ্রীকৃষ্ণই তাঁকে চরণের নূপুরটি পরিয়ে দিয়ে গেছেন, তখন চোখের জল যেন আর তাঁর বাঁধ মানে না । বক্ষ ভেসে গেল আনন্দে আবেগে। “আমার জীবন ধন্য আজ তোমার দর্শন পেয়ে প্রভু । আমি ধন্য সত্যই। আমি এ আনন্দ কাকে বোঝাবো !”- এসব বলে কৃষ্ণদাস আবেগে আপ্লুত হচ্ছেন।
কিন্তু পরক্ষণেই কৃষ্ণদাস সোণারের বড় রাগ হলো শ্রীকৃষ্ণের উপর। “এলে তো এলে, শেষে আমার পায়ে হাত দিলে ! ছিঃ, ছিঃ। ধিক্ আমায় ! কেন তুমি আমার পায়ে হাত দিতে গেলে বলতো, প্রভু ? কে বলেছিল, তোমায় নূপুরটা পরিয়ে দিতে ? আমি কি নূপুরটা নিজে নিয়ে পড়তে পারতাম না ! আমার পায়ে হাত দিয়ে এভাবে আমাকে অপরাধী করলে ! দোষী বানালে ! এখন তো আমার ইচ্ছে করছে এই পা-টাকেই কেটে বাদ দিয়ে দেই।……..” -এভাবে কত না অনুযোগ করলেন সাধু কৃষ্ণদাস স্নেহাবেশে তাঁর শ্রীকৃষ্ণকে । কত না প্রণয়কলহ চললো। কত না ধিক্কার দিলেন । “ভৃত্যের চরণে নুপুর পড়াতে গেলে প্রভু হয়ে ? ছিঃ, ছিঃ ! তোমার কি লজ্জাও করলো না একবারের জন্য !……” ইত্যাদি , ইত্যাদি বলেই চলেছেন কৃষ্ণদাস।
আজ শ্রীকৃষ্ণ সত্যিই বড় আনন্দ পেয়েছেন। একে তো নিজের প্রিয় ভক্তের চরণে নূপুর পরিয়ে দিয়ে সেবা করেছেন ভক্তের। আর তার উপর রোজ আদর খান, আজ এত তিরস্কার পাচ্ছেন সেই ভক্তের থেকে ‌ । ভক্তের প্রণয়ভরা তিরস্কার যে তাঁর কাছে বেদ-স্তুতি মন্ত্রের চেয়েও অনেক বেশি প্রিয় ! অনেক বেশি আনন্দদায়ক ! তাঁর ঠোঁটের কোণের হাসি তাই থামছেই না যেন আজ….।

–ভক্তকৃপাভিখারিণী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৮ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১৮ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস।

আজ যাদের জন্মদিন—- .

১৮৭৬ – হারমান মুলার, জার্মান সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ও ১২ তম চ্যান্সেলর।

১৮৮৩ – ওয়াল্টার গ্রপিউস, জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান স্থপতি ও জন এফ কেনেডি ফেডারেল ভবন পরিকল্পাকারী।
১৮৯১ – রুডলফ কারনাপ, জার্মান-আমেরিকান দার্শনিক।

১৮৯৭ – ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রা, ইতালীয় আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক এবং লেখক।
১৯০১ – ভিঞ্চেন্ত দু ভিগ্নেয়াউদ, মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ।

১৯০৫ – হেডলি ভেরিটি, পেশাদার ইংরেজ ক্রিকেটার।
১৯১৩ – চার্লস ট্রেনেট, ফরাসি গায়ক ও গীতিকার।

১৯৩৩ – এইচ. ডি. দেব গৌড়া, ভারতীয় রাজনীতিবিদ।
১৯৩৬ – এস এম আহমেদ হুমায়ুন, বাঙালি লেখক ও সাংবাদিক।
১৯৩৭ – জ্যাক স্যানটার, লুক্সেমবার্গ আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও ২২ তম প্রধানমন্ত্রী।
১৯৩৮ – রবীন্দ্রজীবনকার প্রশান্তকুমার পাল।

১৯৪২ – নবি স্টিলেস, সাবেক ইংরেজ ফুটবল খেলোয়াড়।
১৯৪৪ – ডব্লিউ. জি. সেবাল্ড, জার্মান লেখক ও শিক্ষাবিদ।
১৯৫৫ – চও ইউন-ফাট, হংকং অভিনেতা।
১৯৬০ – ইয়ানিক নোয়া, সাবেক ফরাসি টেনিস খেলোয়াড় ও গায়ক।
১৯৭০ – টিনার ফেয়, আমেরিকান অভিনেত্রী, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।
১৯৭৫ – জ্যাক জনসন, আমেরিকান গায়ক, গীতিকার ও গিটার।
১৯৭৮ – রিকার্ডো কারভালহো, পর্তুগিজ ফুটবলার।
১৯৮৬ – কেভিন অ্যান্ডারসন, দক্ষিণ আফ্রিকার টেনিস খেলোয়াড়।
১৯৯০ – ইয়ুইয়া ওসাকো, জাপানি ফুটবলার।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৯৮ – লর্ড ওয়েলেসলি গভর্নর জেনারেল হয়ে কলকাতায় আসেন।
১৮০৪ – ফ্রান্সের সংসদ সিনেটে এক আইন পাশের মধ্য দিয়ে নেপোলিয়ান বেনাপার্ট সেদেশের সম্রাট হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
১৮৩০ – ফ্রান্স আলজেরিয়া দখলের জন্য ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
১৮৬০ – আব্রাহাম লিংকন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৮৯৯ – হেগে শান্তি সম্মেলনে ২৬টি দেশ আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে বিবাদ মীমাংসায় সম্মত হয়।
১৯৪৩ – জাতিসংঘ ত্রাণ ও পুনর্বাসন এজেন্সি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৫ – ইউরোপে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
১৯৭২ – বাংলা একাডেমী অর্ডার ১৯৭২ জারি করা হয়।
১৯৭৪ – রাজস্থানের পোখরানে ভারতের প্রথম পরমাণু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরমাণু বিস্ফোরণটিকে স্মাইলিং বুদ্ধ সাংকেতিক নামে অভিহিত করা হয়।
১৯৭৬ – ভারত প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায়।
১৯৮০ – চীন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৮৬ – অক্ষয়কুমার দত্ত, বাংলা সাহিত্যের প্রবন্ধকার ও সাংবাদিক।
১৯০৯ – ইসহাক আলবেনিজ, স্প্যানিশ পিয়ানোবাদক ও সুরকার।

১৯২২ – শার্ল লুই আলফোঁস লাভরঁ, ফরাসি চিকিৎসক।

১৯৩৪ – চারণ কবি মুকুন্দ দাস, স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় বহু স্বদেশী বিপ্লবাত্মক গান ও নাটক রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।

১৯৪৩ – নীলরতন সরকার, প্রখ্যাত বাঙালি চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ।

১৯৫৬ – মরিস টেট, ইংল্যান্ডের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক তারকা ছিলেন।

১৯৮১ – আর্থার ওকনেল, আমেরিকান অভিনেতা।

১৯৮৪ – নলিনীকান্ত সরকার, বাঙালি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি, গায়ক, সাহিত্যবোদ্ধা ও ছন্দশ্রী।

১৯৯৯ – জপমালা ঘোষ, বাংলা ছড়ার গানের জনপ্রিয় গায়িকা।
২০০১ – ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড, অস্ট্রেলীয় নাগরিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা।
২০০৭ – পিয়ের-জিল দ্য জেন, ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী।
২০০৯ – ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ, শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল দল লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নেতা।
২০১৫ – হাল্ডোর আসগ্রিমসন, আইসল্যান্ডীয় একাউন্টেন্ট, রাজনীতিবিদ ও ২২ তম প্রধানমন্ত্রী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This