Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কলকাতার হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত, বেলুড় মঠ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান।

কলকাতার হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত, বেলুড় মঠ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এই সুন্দর মন্দির কমপ্লেক্সটি হল রামকৃষ্ণ মঠ এবং মিশনের সদর দফতর, স্বামী বিবেকানন্দ 1897 সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আধ্যাত্মিক সংস্থা। বেলুড় মঠ হল আধ্যাত্মিকতা, সম্প্রীতি এবং মানবতার সেবার প্রতীক, এবং আধ্যাত্মিকতা খুঁজছেন এমন প্রত্যেকের জন্য এটি একটি অবশ্যই দেখার গন্তব্য। জ্ঞান এবং শান্তি।

বেলুড় মঠের ইতিহাস

1898 সালে, শ্রী রামকৃষ্ণের একজন বিশিষ্ট শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ হুগলি নদীর তীরে একটি জমি অধিগ্রহণ করেন এবং বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। গণিতটি প্রথমে একটি ছোট কুঁড়েঘর ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বেশ কয়েকটি মন্দির, মঠ এবং পরিষেবা কেন্দ্র সহ একটি বড় কমপ্লেক্সে পরিণত হয়। কমপ্লেক্সের প্রধান মন্দির, শ্রী রামকৃষ্ণকে নিবেদিত, 1909 সালে পবিত্র করা হয়েছিল।

বেলুড় মঠের স্থাপত্য

বেলুড় মঠের স্থাপত্যটি ভারতীয়, ইসলামিক এবং ইউরোপীয় শৈলীর একটি অনন্য মিশ্রণ। প্রধান মন্দির, শ্রী রামকৃষ্ণকে উৎসর্গ করা, ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের একটি অত্যাশ্চর্য উদাহরণ, যেখানে জটিল খোদাই এবং ভাস্কর্য রয়েছে। মন্দির কমপ্লেক্সে একটি সুন্দর মঠ, একটি জাদুঘর এবং একটি গ্রন্থাগার রয়েছে, যা শ্রী রামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দের জীবন এবং শিক্ষাগুলিকে প্রদর্শন করে।

বেলুড় মঠের তাৎপর্য

বেলুড় মঠ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এটি ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এটি সমস্ত ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক। গণিতটি মানবতার সেবায় নিবেদিত, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দুর্যোগ ত্রাণ সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অফার করে।

বেলুড় মঠের আকর্ষণ

বেলুড় মঠ দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণের প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:

– শ্রীরামকৃষ্ণকে উৎসর্গ করা প্রধান মন্দির
– মঠ যেখানে স্বামী বিবেকানন্দ থাকতেন এবং ধ্যান করতেন
– যাদুঘরটি শ্রী রামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও শিক্ষাকে প্রদর্শন করে
– আধ্যাত্মিক বই এবং ধর্মগ্রন্থের বিশাল সংগ্রহ সহ লাইব্রেরি
– সুন্দর বাগান এবং মাঠ, ধ্যান এবং বিশ্রামের জন্য উপযুক্ত

কিভাবে বেলুড় মঠে পৌঁছাবেন

বেলুড় মঠ কলকাতা থেকে প্রায় 16 কিমি উত্তরে অবস্থিত এবং এটি সড়ক, রেল এবং আকাশপথে সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য। নিকটতম বিমানবন্দর হল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা বেলুড় মঠ থেকে প্রায় 20 কিলোমিটার দূরে। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন, যা বেলুড় মঠ থেকে প্রায় 10 কিমি দূরে।

উপসংহার

বেলুড় মঠ হল একটি পবিত্র তীর্থস্থান যা সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান, শান্তি এবং সম্প্রীতি প্রদান করে। এর সুন্দর স্থাপত্য, অত্যাশ্চর্য উদ্যান, এবং মানবতার সেবা এটিকে আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি এবং আত্ম-উপলব্ধির জন্য যেকোন ব্যক্তির জন্য একটি অবশ্যই দেখার গন্তব্য করে তোলে। আপনি একজন আধ্যাত্মিক অন্বেষণকারী, একজন ইতিহাসপ্রেমী, বা কেবল একজন কৌতূহলী ভ্রমণকারীই হোন না কেন, বেলুড় মঠ এমন একটি স্থান যা আপনাকে শান্তি ও প্রশান্তি দিয়ে চলে যাবে যা চিরকাল আপনার সাথে থাকবে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কলার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু তথ্য।

কলার আশ্চর্যজনক উপকারিতা

কলা বিশ্বের সর্বাধিক বহুল ব্যবহৃত ফলগুলির মধ্যে একটি এবং সঙ্গত কারণে। এগুলি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি, ভিটামিন এবং খনিজগুলির একটি সমৃদ্ধ উত্স যা অসংখ্য স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে। হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি থেকে শুরু করে হজমের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করা পর্যন্ত, কলা একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যের পুষ্টিকর সংযোজন।

পটাসিয়াম সমৃদ্ধ

কলা পটাসিয়ামের একটি চমৎকার উৎস, একটি অপরিহার্য খনিজ যা সুস্থ রক্তচাপ বজায় রাখতে, হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এবং পেশীর কার্যকারিতাকে সমর্থন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পটাসিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, ডিহাইড্রেশন এবং ফোলা হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

ফাইবারের ভালো উৎস

কলা খাদ্যতালিকাগত ফাইবারের একটি ভাল উৎস, যা স্বাস্থ্যকর হজম বজায় রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যকর রক্তে শর্করার মাত্রা সমর্থন করার জন্য অপরিহার্য। ফাইবার পূর্ণতা এবং তৃপ্তির অনুভূতি উন্নীত করতেও সাহায্য করে, ওজন ব্যবস্থাপনার জন্য কলাকে একটি দুর্দান্ত খাবার তৈরি করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য

কলায় ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং ফেনোলিক যৌগ সহ প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি প্রদাহ কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যকর ত্বককে উন্নীত করতে সহায়তা করে।

হার্টের স্বাস্থ্য সমর্থন করে

কলায় থাকা পটাসিয়াম, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি এগুলিকে হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য একটি দুর্দান্ত ফল করে তোলে। কলার নিয়মিত সেবন রক্তচাপ কমাতে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

হজমে সাহায্য করে

কলা হজম করা সহজ এবং হজমের সমস্যা যেমন ফোলাভাব, ক্র্যাম্প এবং ডায়রিয়া প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে। কলায় থাকা ফাইবার মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর হাড় সমর্থন করে

কলা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম সহ বেশ কয়েকটি খনিজগুলির একটি ভাল উত্স, যা সুস্থ হাড় বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। কলার নিয়মিত সেবন স্বাস্থ্যকর হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, অস্টিওপরোসিস এবং ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমায়।

ওজন ব্যবস্থাপনা সাহায্য করতে পারে

কলায় ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য এগুলিকে একটি দুর্দান্ত নাস্তা করে তোলে। কলায় থাকা ফাইবার পূর্ণতা এবং তৃপ্তির অনুভূতি বাড়াতেও সাহায্য করে, অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

স্বাস্থ্যকর ত্বক সমর্থন করে

ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং পটাসিয়াম সহ কলায় থাকা ভিটামিন এবং খনিজগুলি স্বাস্থ্যকর ত্বককে উন্নীত করতে এবং বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম রেখার উপস্থিতি কমাতে সহায়তা করে।

উপসংহার

কলা একটি পুষ্টিকর ফল যা হার্টের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করা থেকে স্বাস্থ্যকর ত্বকের প্রচার পর্যন্ত অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে। পটাসিয়াম, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির সমৃদ্ধ উত্সের সাথে, কলা একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যের একটি দুর্দান্ত সংযোজন। তাই পরের বার যখন আপনি একটি স্বাস্থ্যকর জলখাবার খুঁজছেন, একটি কলা পান!

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস: প্লাস্টিক ব্যাগ ছাড়া বিশ্বকে উৎসাহিত করা।

৩রা জুলাই আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস পালন করে, একক-ব্যবহারের প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস করার লক্ষ্যে একটি বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ। 2008 সালে শুরু হওয়া আন্দোলনটি পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর প্লাস্টিকের ব্যাগের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চায়।

প্লাস্টিকের ব্যাগের ইতিহাস—-

প্লাস্টিকের ব্যাগের উদ্ভাবন 1933 সালের দিকে যখন পলিথিন, প্লাস্টিকের ব্যাগে ব্যবহৃত প্রাথমিক উপাদান, ইংল্যান্ডের নর্থউইচে প্রথম সংশ্লেষিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী প্রাথমিকভাবে ব্যবহার করেছিল, প্লাস্টিক ব্যাগগুলি 1960-এর দশকে পণ্য বহনের সুবিধাজনক এবং স্বাস্থ্যকর উপায় হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যাইহোক, তাদের জনপ্রিয়তা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত খরচে এসেছে।

পরিবেশগত প্রভাব——

প্লাস্টিক ব্যাগগুলি দূষণের একটি উল্লেখযোগ্য অবদানকারী, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক 5 ট্রিলিয়ন ব্যাগ ব্যবহৃত হয়। তারা পচন প্রক্রিয়ার সময় মাটি এবং জল সিস্টেমে ক্ষতিকারক বিষাক্ত পদার্থ পচতে এবং ছেড়ে দিতে শত শত বছর সময় নেয়। অধিকন্তু, প্লাস্টিক ব্যাগ বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করে, অ-নবায়নযোগ্য সম্পদের অবক্ষয় করে এবং ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমন করতে পারে এমন রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে মানব স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে।

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস উদযাপন——

বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়। প্রতিষ্ঠান, পরিবেশগত গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিরা প্লাস্টিকের ব্যাগের প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করতে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগের মতো বিকল্পগুলিকে প্রচার করতে ইভেন্ট, কর্মশালা এবং সচেতনতা প্রচারের আয়োজন করে। সম্প্রদায়, শহর এবং দেশগুলিও এই দিনে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ বা প্রবিধানে অংশ নিতে পারে, একক-ব্যবহারের প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার নীতিগুলি বাস্তবায়ন করে৷

উদযাপনের উপায়——

– প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করুন এবং পরিবর্তে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ বেছে নিন।
– প্লাস্টিক আইটেম হ্রাস, পুনঃব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহার করুন।
– আশেপাশের পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগে অংশগ্রহণ করুন।
– পরিবেশ বান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে আপনার নিজস্ব পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ তৈরি করুন।
– তাদের পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ নিয়ে আসা গ্রাহকদের জন্য ডিসকাউন্ট অফার করে এমন ব্যবসাগুলিকে সমর্থন করুন৷

প্লাস্টিকের ব্যাগের বিকল্প—–

– উদ্ভিদ-ভিত্তিক উপকরণ থেকে তৈরি বায়োপ্লাস্টিক ব্যাগ
– মাইসেলিয়াম থেকে তৈরি মাশরুম-ভিত্তিক ব্যাগ
– কাগজের ব্যাগ
– তুলো বা কৃত্রিম উপকরণ থেকে তৈরি ক্যানভাস ব্যাগ

উপসংহার—-

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস হল প্লাস্টিকের ব্যাগের উপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে এবং টেকসই বিকল্পগুলি গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুস্মারক। একসাথে কাজ করার মাধ্যমে, আমরা প্লাস্টিকের ব্যাগ ছাড়াই একটি বিশ্ব তৈরি করতে পারি, আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে পারি, সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারি এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর গ্রহ নিশ্চিত করতে পারি। সুতরাং, আসুন আমরা এই দিবসটি উদযাপনের জন্য বাহিনীতে যোগদান করি এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস করার সচেতন প্রচেষ্টা করি।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব বায়ু দিবস, জানুন কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।।

বিশ্ব বায়ু দিবস প্রতি বছর ১৫ জুন পালিত হয় বায়ু শক্তির তাৎপর্য এবং শক্তির একটি বিশুদ্ধতম রূপ হিসাবে এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার জন্য।
বিশ্ব বায়ু দিবস উদযাপনের পিছনে অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল বায়ু শক্তি সংগ্রহের সুবিধা সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা।  ক্ষতিকারক গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমানো থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিস্থিতির উন্নতি।  বায়ু শক্তির ব্যবহার টেকসই ভবিষ্যত নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের অনেক উপায়ে সাহায্য করে।
বিশ্ব বায়ু দিবসে বায়ু শক্তির ইতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম, কর্মশালা, সম্মেলন, সেমিনার এবং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব বায়ু দিবসের স্বীকৃতি শুধুমাত্র টেকসই শক্তি অনুশীলনকে উৎসাহিত করে না বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সাহায্য করে।

গ্লোবাল উইন্ড ডে বা বিশ্ব বায়ু দিবস হল একটি বিশ্বব্যাপী ইভেন্ট। এটি উইন্ডইউরোপ এবং GWEC (গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল) দ্বারা আয়োজিত হয়।  এটি এমন একটি দিন যখন বায়ু শক্তি উদযাপন করা হয়, তথ্যের আদান-প্রদান করা হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুরা বায়ু শক্তি, এর শক্তি এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারে।  EWEA এবং GWEC এর সহযোগিতায়, জাতীয় বায়ু শক্তি সমিতি এবং বায়ু শক্তি উৎপাদনের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলি বিশ্বের অনেক দেশে ইভেন্টের আয়োজন করে।  ২০১১ সালে, 4টি মহাদেশে 30টি দেশে ইভেন্ট সংগঠিত হয়েছিল।  ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় এবং উপকূলীয় বায়ু খামার পরিদর্শন, তথ্য প্রচার, শহরগুলিতে প্রদর্শনী টারবাইন স্থাপন, বায়ু কর্মশালা এবং একটি বায়ু কুচকাওয়াজ।  গ্লোবাল উইন্ড ডে (১৫ জুন) নিজেই অনেক ঘটনা ঘটেছে, তবে তার আগের দিন এবং সপ্তাহগুলিতেও ঘটনা ঘটেছে।  ২০১২ সালে বিশ্বজুড়ে ২৫০টি ইভেন্ট ছিল এবং একটি খুব জনপ্রিয় ফটো প্রতিযোগিতা ছিল।

বিশ্ব বায়ু দিবস পর্যবেক্ষণের ইতিহাস—

 

 

ইউরোপিয়ান উইন্ড এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (EWEA) দ্বারা 2007 সালে প্রথম বায়ু দিবসের আয়োজন করা হয়েছিল কিন্তু এটি শুধুমাত্র 2009 সালে ছিল যে EWEA গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল (GWEC) এর সাথে মিলিত হয়েছিল এবং এটিকে একটি বিশ্বব্যাপী ইভেন্টে পরিণত করেছিল।  উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বজুড়ে মানুষকে বায়ু শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা।

 

 

বিশ্ব বায়ু দিবস পালন—

 

 

ইউরোপিয়ান উইন্ড এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এবং গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিল প্রতি বছর গ্লোবাল উইন্ড ডে উপলক্ষে বায়ু শক্তির প্রচারে বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করে।  অনেক জাতীয় বায়ু শক্তি সমিতি এবং বায়ু শক্তি উৎপাদনের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলিও তাদের সমস্ত দেশে ইভেন্ট করে।  তথ্য প্রচার, উপকূলীয় এবং উপকূলীয় বায়ু খামার পরিদর্শন, শহরগুলিতে টারবাইন স্থাপনের প্রদর্শনী, বায়ু কর্মশালা এবং বায়ু প্যারেড এই দিনে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত কিছু জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।  অন্যান্য মজার ক্রিয়াকলাপ যেমন উইন্ড ফার্ম ওপেন ডে, ওয়ার্কশপ, রেগাটাস, ফটো প্রদর্শনী, অঙ্কন প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা ইত্যাদিও বিশ্ব বায়ু দিবস উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে।

বিশ্ব বায়ু দিবসের তাৎপর্য—

বিশ্ব বায়ু দিবস হল বায়ু শক্তি, এর শক্তি এবং এটি ধারণ করতে পারে এমন সমস্ত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা উদযাপন করার একটি দিন।  এটি মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের, বায়ু শক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষিত করার একটি দিন।  বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট গভীর হওয়ার সাথে সাথে এবং জলবায়ুর প্রতি রাজনৈতিক মনোযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বৈশ্বিক বায়ু দিবস পালন করা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।  বায়ু শক্তির সঠিক ব্যবহার অর্থনীতিকে ডিকার্বনাইজ করতে সাহায্য করতে পারে এবং চাকরি ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং তাই এই দিনে আরও বেশি সংখ্যক কোম্পানিকে তাদের ব্যবসায়কে শক্তি দিতে পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী বায়ু শক্তির দিকে যেতে উৎসাহিত করা হয়।

বায়ু শক্তি সম্পর্কে আকর্ষণীয় তথ্য—

বিশ্ব বায়ু দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে, আসুন বায়ু শক্তি সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য জেনে নিই:

বায়ু শক্তি সবচেয়ে কার্যকরী এবং পরিবেশ বান্ধব শক্তির উত্সগুলির মধ্যে একটি।

২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে উইন্ডমিল ব্যবহার করা হচ্ছে।

এটি শুধুমাত্র ১৯৪০ এর দশকে প্রথম আধুনিক বায়ু টারবাইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্টে নির্মিত হয়েছিল।

বায়ু শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ টি রাজ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০% এরও বেশি সরবরাহ করে।

সবচেয়ে বড় উইন্ড টারবাইন যা ২০ তলা লম্বা এবং একটি ফুটবল মাঠের দৈর্ঘ্যের ব্লেড যুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে অবস্থিত।

 

 

বায়ু শক্তির সবচেয়ে ইনস্টল ক্ষমতা জার্মানিতে।

জার্মান পদার্থবিদ, আলবার্ট বেটজ, বায়ু টারবাইন প্রযুক্তির প্রবর্তক।

উইন্ড টারবাইনগুলি দেখতে সহজ হতে পারে তবে বাস্তবে প্রায় ৮০০০ বিভিন্ন অংশ রয়েছে। যদি বাতাস প্রতি ঘন্টায় ১৩০ কিমি বেগে প্রবাহিত হয়, তাহলে নিরাপত্তা সতর্কতা হিসাবে ব্লেডগুলি বাঁকানো বন্ধ করে দেয়।

বায়ু শক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্রুততম বর্ধনশীল মোড।

তাই, প্রতি বছরের মতো আজ ১৫ জুন সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বায়ু দিবস। বায়ু শক্তিকে ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করতেই বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জন্মদিবসে স্মরণে, বাঙালি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী তারকনাথ দাস।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল বহু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। হিন্দু মুসলিম সকল শ্রেণীর মানুষ এই মুক্তির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন। আর তাঁদের সেই বলিদনের ইতিহাসে অনেকের কথাই অজানা। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে  তারকনাথ দাস প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। তারকনাথ দাস ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। তারকনাথ দাস ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী নেতা এবং একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী। তারকনাথ দাসের প্রধান অবদান প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্রের প্রস্থাপনা।

 

তারাকানাথ দাস ১৮৮৪ সালের ১৫ জুন চব্বিশ পরগনার মাঝিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতার নাম কালীমোহন দাস।  স্কুল ছাত্র থাকাকালীনই তিনি রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন।  ১৯০১ সালে, কলকাতার আর্য মিশন ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পাশ করার পর, তিনি কিছুকাল কলেজে অধ্যয়ন করেন।  ছাত্র অবস্থায় উত্তর ভারতে বিপ্লবী রাজনীতির প্রচার করতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসেন তিনি।

 

গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি ১৯০৫ সালে জাপান এবং পরের বছর আমেরিকা চলে যান।  আমেরিকার ফ্রি হিন্দুস্তান পত্রিকার মাধ্যমে প্রবাসী ভারতীয় বিপ্লবী ও গদর পার্টির কর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন।  ১৯১১ সালে তিনি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন এবং কাজে যোগ দেন এবং ১৯১৬ সালে তিনি বার্লিন কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে চীন ভ্রমণ করেন।  আমেরিকায় ভারতীয় বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য তিনি ২২ মাস কারাবরণ করেন।  বিপ্লবী কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করেছেন।  ১৯২৪ সালে, তিনি তার পিএইচ.ডি.  জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক আইন’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

তারকানাথ দাস পিএইচডি করার পর নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন১৯২৪ সালে। বিবাহ করেন আমেরিকান মহিলা মেরি কিটিং মোর্স কে।  যাইহোক, ১৯২৫-৩৪ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপে থাকার সময়, তিনি ভারতীয় ছাত্রদের বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষার সুবিধা দেওয়ার জন্য নিজের প্রচেষ্টায় ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট তৈরি করেছিলেন।  আর এই উদ্দেশ্যেই তারাকানাথ দাস ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব।  ফাউন্ডেশনটি ১৯৩৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত হয়েছিল। ১৯৫০ সালে, কলকাতায় একটি শাখা রেজিস্ট্রিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

 

রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মডার্ন রিভিউতে প্রবন্ধ লিখতেন।  ১৯৩৫ সালে ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া ‘ফরেন পলিসি ইন ফার ইস্ট’ বিষয়ক একটি বক্তৃতা একটি সাড়া জাগিয়েছিল, যা পরে একটি বইতে প্রকাশিত হয়েছিল।  তার কাজের মধ্যে রয়েছে——

 

তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে——

ইন্ডিয়া ইন ওয়ার্ল্ড পলিটিকস ও বাংলায়

বিশ্ব রাজনীতির কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

 

১৯৫৮ সালে ২২ ডিসেম্বর তিনি নিউইয়র্কে মারা যান।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জমজমাট  জামাই ষষ্ঠী : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।।

মজমজমাট  জামাই ষষ্ঠী : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।জমাট  জামাই ষষ্ঠী : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণ  আজ জামাই ষষ্ঠী। জামাই ষষ্ঠী কিন্তু বাঙালিদের কাছে বেশ মিষ্টি মধুর একটি পার্বণ। তাই না ? বিশেষতঃ জামাই আর শাশুড়িদের কাছে এটি যেন সারা বছর ধরে এক অপেক্ষার উৎসব—একথা কিন্তু স্বীকার করতেই হবে জামাই আর শাশুড়ি উভয়কেই। এই তিথিতেই শ্বশুড় বাড়িতে জামাই আদর পাওয়া বিষয়টি পুরুষদের কাছে  বাস্তবায়িত হয় ভীষণভাবে। আবার বিপরীতে জামাইরা তাঁদের দ্বিতীয় মা , অর্থাৎ শাশুড়ি মার হাতে তুলে দেন আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রদ্ধার্ঘ্য। অতএব, উভয় দিক থেকেই বেশ একটা  ‘দিবে আর নিবে,মিলাবে মিলিবে,যাবে না ফিরে’ ব্যাপার ঘটে। ফলস্বরূপ, আদরের জামাইয়ের সাথে শ্বশুর বাড়ির সম্পর্ক আরও মাখো মাখো হয়ে মালপোয়া-মিষ্টিদইয়ের মাত্রা পায়।

কিন্তু , শুধুই কী দেওয়া-নেওয়া ,  তার বেশি কিছু নয় ? না,না,তা কেন। এদিন যে নিজের জামাইয়ের দীর্ঘায়ু আর মঙ্গল কামনায় বাঙালি মায়েরা পালন করেন নানান আচার । বটপাতা,দূর্বা আর আম নতুন হাতপাখার ওপর রেখে, সেই পাখা আড়াআড়ি ভাবে ধরে জামাইকে বাতাস করেন শাশুড়ি। সেই সঙ্গে মুখে বলতে থাকেন  ”ষাট,ষাট,ষাট” । অর্থাৎ,ভালো হোক ,ভালো হোক জামাইবাবার ।এই স্নিগ্ধ,শীতল হাওয়া  জামাইকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে এই বিশ্বাস ।এ প্রথা তাঁর যাবতীয় অমঙ্গল বিনাশকারী  মনে করা হয়। জামাইয়ের মাথায় আশীর্বাদ দেন ধান-দূর্বা দিয়ে। ধান হল সম্পদের বা সমৃদ্ধির প্রতীক । আর ,দূর্বার গুণ হল তা সহজে মরে না। পায়ে মারিয়ে চলে গেলেও বেঁচে ওঠে।  অতএব, দীর্ঘায়ুর দ্যোতক দূর্বাঘাস।
পাঁচ রকম ফল,মিষ্টি,দই ,দুধ,চিড়ে এসব  থালায় সাজিয়ে  জামাইয়ের সামনে ধরে দেন শাশুড়িরা। জামাই ফলাহার করবে তাই এসবের আয়োজন। আবার জৈষ্ঠ্য মাস তো আম, জাম,কাঁঠাল,লিচু,তালশাসের মাস । তাই এই গ্রীষ্মকালীন ফলের স্বাদ জামাইকে পাওয়াতেই  বুঝিবা ,  এমন একটি মধুর পার্বণের সূচনা হয়েছিল।বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এও প্রথা আছে বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেলে পাত্র ও কন্যাপক্ষের পরিবার একে অপরকে আম-দুধ ভেট দেয় এসময়।
এবার আসি ষষ্টী পূজা সম্পর্কে।সন্তানের মঙ্গল করেন মা ষষ্টী । বাঙালিদের প্রতি ঘরে ঘরে নবজাত শিশুর জন্য ষষ্টী পূজো করা হয় অবধারিত ভাবে। তারপরই কিন্তু  আঁতুর ওঠে মা ও শিশুর। জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথি বা জামাইষষ্ঠী  এদেশী বা ঘটী রমণীদের কাছে অরণ্য ষষ্ঠী বা স্কন্দ ষষ্ঠীর ব্রত হিসেবে পালিত হয়।
এদিন সকালে স্থানীয় বট গাছের তলায় এসে  পূজারী ব্রাক্ষ্মণের দ্বারা মা ষষ্টীর পূজা সারেন তাঁরা। খেজুরের ছড়া,ডোয়ো ফল,জাম ,বটপাতা ইত্যাদি একসাথে করে ‘ভাগা’ অর্পণ  করেন । গুটিছোপায়  (মাটির দোয়াতের মত দেখতে)  দই দেন ,আর নানারকম ফল নিবেদন করেন দেবীর উদ্দেশ্যে। যেসব রমণীর সন্তান হয় না , তাঁরা এখানে এসে এদিন আঁচল পেতে ব্রাহ্মণের থেকে গ্রহণ করেন মা ষষ্টীর প্রসাদী গোটা ফল। বিশ্বাস সে ফল খেলে অচীরেই সন্তানসম্ভবা হবেন । এদেশী মায়েরা সন্তানের মঙ্গল কামনায় উপবাস করে থাকেন। রাতে ফলাহার সারেন চিড়ে ,মুড়ি দিয়ে। যা কিছু চর্ব্য-চোষ্য সব রেঁধে দেন  জামাই ও পরিবারের অন্য সকলের জন্য । তবে বাঙালদের মধ্যে আবার এসব উপবাস টুপবাসের  ব্যাপার নেই। মহানন্দে জামাইকে ব্যাপক ভাবে খাওয়া দাওয়া করিয়ে নিজেও শাশুড়ি ভরপেটে থাকেন। তাবলে জামাই ষষ্ঠীর আচার  পালনে কোন ত্রুটি বা খামতি থাকে না । নিষ্ঠাসহ জামাইয়ের প্রতি কর্তব্য  সারেন তাঁরা।
আবার কোন কোন পরিবারে শ্যালিকাদের জন্যও একটি অদ্ভুত নিয়ম থাকে তাঁদের ভগ্নিপতিদের প্রতি। এদিন বাঁশের কঞ্চি বেঁকিয়ে লাভ সাইন বা হার্ট শেপের করে তাতে লাল সুতোয় ধান বেঁধে উপহার হিসেবে তুলে দেন তাঁরা ভগ্নিপতির হাতে।
মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত দোগাছি গ্রামে এইদিনে গ্রামের এয়োস্ত্রীগণ সাড়ম্বরে গ্রাম্যদেবতার পূজা করেন এবং ডোমকল থানার অন্তর্গত ভগীরথপুর গ্রামের স্ত্রীলোকগণ দইমেলা উৎসব পালন করেন।
এবার একটি প্রশ্ন কিন্তু প্রায় সকলের মনেই একটু উঁকি দিচ্ছে জানি।তা হল
‘যম-জামাই-ভাগ্না/তিন হয়না আপনা ‘ কথায় আছে যখন ,তবে ঘটা করে জামাই ষষ্ঠী কেন করা ! কন্যা ষষ্ঠীও তো হতে পারতো! আসলে জামাইবাবাজীবনকে  তুষ্ট রাখার এ এক পন্থা বলা যায়। নিজের মেয়েটির সংসার বন্ধন যাতে অটুট থাকে , জামাইয়ের আদরে ,ভালোবাসায় মেয়ে যাতে রসেবশে, সুখে-শান্তিতে ঘর করে , সধবা থাকে চিরটাকাল সেই আশাতেই এত সব পরিপাটী প্রচেষ্টা ।

অতএব,সব মিলিয়ে জামাই ষষ্ঠীর পার্বণ জমে ক্ষীর হয়ে যায় আনন্দে,আবেগে আর জামাইয়ের প্রতি নির্ভেজাল ভালোবাসায়।

 

।। কলমে : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জানুন , সেবা করার সময় মন অন্য দিকে যাওয়ায় ভক্ত কি শাস্তি দিলেন নিজেকে।

একদিন অভিরাম ঠাকুর পথ দিয়ে যাচ্ছেন। সেসময় কৃষ্ণদাস নামক এক ভক্ত এসে তাঁর চরণে পড়লেন। ইতিপূর্বে লোকমুখে অভিরামের গুণের কথা অনেক শুনেছেন কৃষ্ণদাস। অন্তরে বড় সাধ অভিরামের চরণেই আত্মনিবেদন করবেন, দীক্ষা নেবেন তাঁর থেকে। আর আজ যখন জানলেন , পথ দিয়ে সুদীর্ঘঅভিরাম ঠাকুর হেঁটে যাচ্ছেন, তখন আর এক মূহুর্তও বিলম্ব করতে রাজী নন কৃষ্ণদাস। পথের মধ্যেই তাই অভিরামের পদে পড়ে নিজের বাসনার কথা ব্যক্ত করলেন। অভিরামও প্রসন্ন হলেন আগুন্তুকের আগ্রহ দেখে।

নির্দিষ্ট দিনে কৃষ্ণদাসকে দীক্ষা দিলেন অভিরাম। কৃষ্ণদাসকে সকলে ‘বাঙ্গাল কৃষ্ণদাস’ বলে সম্বোধন করত। কারণ, তিনি বাঙ্গাল দেশবাসী   অর্থাৎ বঙ্গদেশবাসী  ছিলেন। কিন্তু, অভিরাম তাঁকে আদেশ দিলেন শ্বোঙালুতে গিয়ে গোপীনাথ বিগ্রহ স্থাপন করে সেবাকার্য শুরু করতে। হাওড়া-তারকেশ্বর রেলপথে তারকেশ্বর নেমে বাসে চৌতারা হয়ে শ্বোঙালু যাওয়া যায়।

শ্রীগুরুদেবের আজ্ঞা পেয়ে প্রফুল্লিত হলেন শিষ্য। তিনি বললেন, “বাবা, আপনিই কৃপা করে শ্বোঙালুতে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে দিন । সেই বিগ্রহ তখন আমি সেবা করবো।” শিষ্যের বিনয়বচনে অভিরাম প্রীত হলেন। রাজী হয়ে তিনি কৃষ্ণদাসকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেন। গ্রামবাসীরা সকল প্রয়োজন মেটালেন। মহামহোৎসবের মধ্য দিয়ে গোপীনাথ বিগ্রহ স্থাপন করে দিলেন ঠাকুর অভিরাম।

বৈষ্ণবের বেশভূষা ধারণ করে, দ্বাদশ অঙ্গে তিলকসেবা করে অপূর্ব দর্শন হয়ে কৃষ্ণদাস অনুরাগসহ নিষ্ঠাভরে গোপীনাথের সেবা করেন। সেবা ভিন্ন তিনি অপর কিছু জানেন না, জানতেও চান না। সদা সাত্ত্বিক মনোভাব তাঁর।

একদিন গোপীনাথের আরতি করছেন, এমন সময়ে এক নারী এসে আরতি দর্শন করতে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন। সে নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়লো কৃষ্ণদাসের। তিনি মনে মনে ভাবলেন, ‘এ কেমন বিচার আমার মনের। সেবা ছেড়ে আমার চোখ অন্যদিকে পড়লো ! রতির চাঞ্চল্য হল ! তবে তো আমার দেহ শুদ্ধ নয়, তাই জন্যেই রতিও শুদ্ধ নয়। একারণেই সেবা থেকে মন সরে নারীর প্রতি গেছে। সেবার থেকেও বড় করে মন কিছু চায় নিশ্চয়। বেশ এ চোখের ক্ষিদে আমি মেটাবো। দুষ্ট গোরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভাল। তাই , ওই চোখের ব্যবস্থা আমি করছি !

আরতি শেষে নারী চলে গেলেন। কৃষ্ণদাসও তাঁর পিছু পিছু গেলেন। নারী যে গৃহে প্রবেশ করলেন, কৃষ্ণদাসও সে গৃহে ঢুকলেন। অন্যান্য যাঁরা ছিলেন সেই গৃহে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দ পেলেন কৃষ্ণদাসকে দেখে। মহাসমাদর করে আসন পেতে বসতে দিলেন। কৃষ্ণদাস বললেন,  সেই নারীর সঙ্গে তাঁর কিছু প্রয়োজন আছে। তিনি নির্জনে তাই কথা বলতে চান। নির্জন গৃহে সেই নারীকে কৃষ্ণদাস বললেন, নগ্ন হয়ে দাঁড়াতে। নারী ভীতা হলেন। কৃষ্ণদাস বললেন, “ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আমি কেবল দূর থেকে তোমায় দেখব। তোমার কোন ক্ষতি হবে না নিশ্চিন্তে থাকো।” পূজারী কৃষ্ণদাসের আশ্বস্ত বাক্যে নারী মনে বল পেলেন এবং বিবস্ত্র হয়ে দাঁড়ালেন। নারীকে নিরীক্ষণ করলেন কৃষ্ণদাস দূর থেকে। তারপর গৃহে ফিরে গেলেন আর করলেন এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড।

গৃহে ফিরেই লৌহ শলাকা গেঁথে দিয়ে নিজের চোখ দুটি নষ্ট করে ফেললেন কৃষ্ণদাস। অন্ধ হয়ে গেলেন স্বেচ্ছায় বরাবরের মত। যে চোখ এমন দুষ্টতা করে তিনি তাকে চিরকালের মত শেষ করে দিলেন, যাতে আর কোনদিনও অনাচার না করতে পারে। গোপীনাথের সেবা ছেড়ে যে চোখ অন্য কিছু চায় তাকে এমনই শাস্তি দেওয়া উচিৎ ইচ্ছাপূরণ করানোর পর।
এদিকে ভক্ত দুঃখে সদা দুঃখী হন যিনি, সেই ভক্তবৎসল প্রভু গোপীনাথ তো আর স্থির থাকতে পারলেন না নিজ ভক্তের অমন করুণ অবস্থা দেখে। তিনি বাঙ্ময় হলেন। বললেন, “ওহে কৃষ্ণদাস, এ তুমি কী অঘটন ঘটালে আজ! কেন তুমি অন্ধ হতে গেলে? এমন দুর্দশাকে কেন আপন করলে? এখন এই অন্ধ অবস্থায় আমার পরিচর্যা কেমন ভাবে করবে! তোমার দেখাশোনা, তোমার সেবা করার জন্যই তো এখন লোকের দরকার হবে ! কী ছেলেমানুষি কাণ্ড করলে !”

স্বয়ং গোপীনাথ কথা বলেছেন ! গোপীনাথ তাঁর দুর্দশায় দুঃখী হয়েছেন—- এ কথা ভেবেই মহানন্দের প্রাবল্যে কৃষ্ণদাস মূর্ছিত হয়ে গেলেন। ওদিকে, অভিরাম জানতে পারলেন অনুভব করতে পারলেন নিজ শিষ্যের অঘটনের কথা। তিনি চলে এলেন শ্বোঙালুতে। তিনি কোলে তুলে নিলেন কৃষ্ণদাসের মাথা। গভীর স্নেহে বললেন, “কৃষ্ণদাস এমন কাণ্ড কেন ঘটালে?  নিজের হাতে নিজের নয়ন নষ্ট করে ফেললে !”

তখন কৃষ্ণদাস বললেন সব ঘটনা। কি ভাবে গোপীনাথের সেবা দেবেন এই চিন্তায় তখন সে দিশাহারা। অভিরাম বললেন, “চিন্তা করো না, আমি বলে রাখলাম সেবার সময় তুমি গোপীনাথকে দর্শন করতে পারবে। তোমার হাতে গোপীনাথের শৃঙ্গার তিলক সজ্জা সব সুচারু রূপেই হবে। তুমি তাঁর নবঘন শ্যাম বদন দেখতে পাবে মানসে। তুমি এমন সুনিপুণ হবে সেবায় যে, সকলে তোমার যশগান গাইবে। পিতা যেমন পুত্রের দোষ দেখে না, গোপীনাথও তেমন তোমার  কোন ত্রুটি নেবেন না, নিশ্চিন্তে থাকো।”

সত্যই গোপীনাথ প্রকট হতেন কৃষ্ণদাসের সামনে। আর অন্ধ হয়েও কৃষ্ণদাস সুচারু সেবা দিতেন। এরপর একদিন, নিজের অন্ধ ভক্তের কষ্ট দেখে অভিরাম তাঁকে বললেন, “শোনো কৃষ্ণদাস, তোমাকে আর বৈধীভক্তি পালন করতে হবে না। তুমি এবার থেকে পঞ্চভাব যুক্ত হয়ে রাগানুগা পথে প্রেমসেবা দেবে। এই আমার আদেশ। মানসে সেবা করবে, সাক্ষাৎ-এ নয়। বুঝেছো তো ! কৃষ্ণদাস নতমস্তকে আজ্ঞা মেনে নিলেন।

বিনম্র প্রণতি জানাই এমন সেবানিষ্ঠ, সেবাপ্রাণ ভক্ত বাঙ্গাল কৃষ্ণদাস কে।
————-ভক্তকৃপা ভিখারিণী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক
____________

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ৮ জুন, বিশ্ব মহাসাগর দিবস, জানুন দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব।

বিশ্ব মহাসাগর দিবস ২০২৪: মহাসাগরগুলি পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় সত্তর শতাংশ জুড়ে এবং আমাদের বেঁচে থাকা এবং অস্তিত্বের জন্য প্রাথমিক।  তারা বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ অক্সিজেন উত্পাদন করে এবং বেশিরভাগ প্রজাতির আবাসস্থল।  তারা জীববৈচিত্র্যের সুস্থ ভারসাম্য এবং মানবতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য দায়ী।  যাইহোক, সময়ের সাথে সাথে, প্রধানত মানুষের কার্যকলাপের কারণে, মহাসাগরগুলি দূষণ এবং অবক্ষয়ের সম্মুখীন হচ্ছে।  ক্রিয়াকলাপ এবং বিশ্বের মহাসাগরগুলিতে তাদের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।  প্রতি বছর, বিশ্ব মহাসাগর দিবস পালিত হয় সচেতনতা তৈরি করতে এবং বিশ্বের মহাসাগরগুলির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনগণকে আহ্বান জানাতে।  আমরা বিশেষ দিন উদযাপন করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথে এখানে কয়েকটি বিষয় রয়েছে যা আমাদের মনে রাখা উচিত।

 

তারিখ—–

 

প্রতি বছর, বিশ্ব মহাসাগর দিবস ৮ জুন পালন করা হয়। এ বছর, বিশ্ব মহাসাগর দিবস শনিবার পড়ে।

 

ইতিহাস—–

 

১৯৯২ সালে, রিও ডি জেনেরিওতে অনুষ্ঠিত আর্থ সামিটে বিশ্ব মহাসাগর দিবসের প্রস্তাব করা হয়েছিল।  ৫ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রতি বছর ৮ জুনকে বিশ্ব মহাসাগর দিবস হিসাবে পালন করার জন্য মনোনীত করে।  সমুদ্রের সাথে মানুষের সংযোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির প্রত্যয়ে দিবসটি পালিত হয়।  প্রতি বছর, ইউএন ডিভিশন ফর ওশান অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড দ্য ল অফ দ্য সি জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ইভেন্টের আয়োজন করে।

 

থিম—–

 

এবারের বিশ্ব মহাসাগর দিবসের থিম হল – নতুন গভীরতা জাগ্রত করুন।  এই বছরের অ্যাকশন থিম হল – আমাদের মহাসাগর এবং জলবায়ুর জন্য অনুঘটক কর্ম।

 

তাৎপর্য্য—–

 

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংকটগুলির মধ্যে একটি হল জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা।  আমরা যখন এই সংকট নিয়ে কাজ করছি, তখন আমাদের সমুদ্রের তাৎপর্য বুঝতে হবে এবং প্রকৃতিতে সুস্থ ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।  মহাসাগরগুলি বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং খাদ্য ও ওষুধের একটি সমৃদ্ধ উৎস।  মহাসাগরগুলির সাথে দুর্ব্যবহার করা উচিত নয়, এবং এখনই সময় এসেছে যে আমরা সমুদ্রের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে একসাথে কাজ করি।  টেকসই পদ্ধতির মাধ্যমে, আমরা এটি সম্ভব করতে পারি এবং একটি উন্নত বিশ্ব তৈরিতে একসাথে কাজ করতে পারি।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ০৭ জুন, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ০৭ জুন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক)  বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস।

(খ) ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস, বাংলাদেশ।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৬৮ – মোহাম্মদ আকরম খাঁ, বাঙালি সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক এবং ইসলামী পণ্ডিত।

১৮৭১ – খাজা সলিমুল্লাহ, ঢাকার নবাব।

১৮৭৩ – প্রখ্যাত বাঙালি চিকিৎসাবিজ্ঞানী স্যার উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী।

১৮৭৯ -আর্নেস্ট হার্টসফিল্ড, জার্মানীর বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ ও ইরান-বিশেষজ্ঞ।

 

১৮৯৬ – রবার্ট সেন্ডারসন মুল্লিকেন, মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী এবং রসায়নবিজ্ঞানী।

১৮৯৬ – ইমরে নাগি, হাঙ্গেরির বিশিষ্ট সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিবিদ।

১৯০৯ – জেসিকা ট্যান্ডি, ব্রিটিশ অভিনেত্রী।

১৯১৭ – (ক)  রাজেন তরফদার, প্রখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালক,অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার ।

(খ) ডিন মার্টিন, আমেরিকান গায়ক, অভিনেতা ও প্রযোজক।

 

১৯২৩ – সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, খ্যাতিমান বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক।

১৯২৮ – জেমস আইভরি, মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৩১ – ভার্জিনিয়া ম্যাকেনা, ব্রিটিশ অভিনেত্রী।

১৯৩৫ – শ্যামা, ভারতীয় অভিনেত্রী।

১৯৪৭ – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত বাঙালি লেখক।

১৯৪৮ – জিম ওয়ালটন, আমেরিকান ব্যবসায়ী।

১৯৫২ – ওরহান পামুক, ২০০৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তুর্কী সাহিত্যিক।

 

১৯৫২ – লিয়াম নিসন, আইরিশ চলচ্চিত্র অভিনেতা।

 

১৯৫৫ – রঞ্জন ঘোষাল, ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী, গায়ক,গীতিকার, লেখক ও নাট্যব্যক্তিত্ব।

১৯৫৮ – প্রিন্স রজার্স নেলসন, বিখ্যাত মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী।

১৯৫৯ – মাইক পেন্স, মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী।

১৯৬৪ – গ্রেইম লেব্রয়, সাবেক শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

 

১৯৬৫ – মাইক ফোলি, আমেরিকান লেখক, অভিনেতা, এবং সাবেক পেশাদার কুস্তিগির এবং ধারাভাষ্যকার।

১৯৭০ – কাফু, ব্রাজিলীয় ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৭২ – ফেরদৌস, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৪১৩ – নেপলসের রাজা ল্যাডিস্ল রোম দখল করেন।

১৫৪৬ – আরড্রেস শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্স ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ডের যুদ্ধাবসান ঘটে।

১৫৫৭ – ইংল্যান্ড ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

১৬৫৪ – ষোড়শ লুই ফ্রান্সের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।

১৭৬৫ – উত্তর পারস্যে ভূমিকম্পে ৪০ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করে।

১৮১০ – নবাব সৈয়দ জিনে উদ্দিন বাংলার মসনদে আরোহণ করেন।

১৮৭৯ – লাতিন আমেরিকার তিনটি দেশ পেরু, চিলি ও বলিভিয়ার মধ্যে পাঁচ বছরের যুদ্ধ শুরু হয়।

১৯০৪ – সুইডেনের কাছ থেকে নরওয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৬৬ – ছয় দফার সমর্থন ও পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে পূর্ব বাংলায় হরতাল পালিত হয়। পুলিশের গুলিতে ১১ জন নিহত ও শত শত আহত হয়।

১৯৭১ – মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ৫শ’ ও ১শ’ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করা হয়।

১৯৭৩ – বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চলে সন্তু লারমার নেতৃত্বে শান্তিবাহিনী গঠিত হয়।

১৯৭৫ – ইংল্যান্ডে প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৮০ – ইহুদিবাদী ইসরাইলের জঙ্গীবিমান ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কাছে অবস্থিত ইরাকি পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস করে।

১৯৮৮ – বাংলাদেশের সংসদে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী গৃহীত হবার মাধ্যমে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়।

১৯৮৯ – সুরিনামে বিমান দুর্ঘটনায় ১৬২ জন মৃত্যুবরণ করে।

১৯৯১ – পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় ২শ’ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে।

১৯৯২ – আজারবাইজানে প্রথম বহুদলীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবুলতাজ এলসিব জয়লাভ করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৫৬৫ – হুসাইন নিজাম শাহ, দাক্ষিণাত্যের রাজা।

 

১৮২৬ – ইয়োসেফ ফন ফ্রাউনহোফার, জার্মান আলোকবিজ্ঞানী।

 

১৮৬৩ – রিচার্ড মার্শ হো, রোটারি ছাপাখানার মার্কিন উদ্ভাবক।

 

১৯৩৭ – জিন হার্লো, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

 

১৯৪৮ – লুই ল্যুমিয়ের, ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্রের অগ্রদূত।

 

১৯৫৪ – অ্যালান টুরিং, ইংরেজ গণিতবিদ, যুক্তিবিদ ও ক্রিপ্টোবিশেষজ্ঞ।

১৯৬৫ – জুডি হলিডে, মার্কিন অভিনেত্রী, কৌতুকাভিনেত্রী ও গায়িকা।

১৯৬৭ – ডরোথি পার্কার, আমেরিকান কবি, লেখক, সমালোচক এবং বিদ্রুপাত্মক রচনাকার।

১৯৭০ – এডওয়ার্ড মরগ্যান ফরস্টার, ইংরেজ ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার ও প্রাবন্ধিক।

১৯৭৮ – রোনাল্ড জর্জ রেফর্ড নোরিশ, ব্রিটিশ রসায়ন বিজ্ঞানী।

১৯৮০ – হেনরি মিলার, আমেরিকান লেখক।

২০০২ – বসপ্পা ধনপ্পা জত্তী, ভারতের পঞ্চম ভারতের উপরাষ্ট্রপতি।

২০১৫ – ক্রিস্টোফার লী, ইংরেজ অভিনেতা, গায়ক, লেখক এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী।

 

২০১৫ – শেখ রাজ্জাক আলী, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্পিকার।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৪—-

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতি বছর ৩ রা জুন সারা বিশ্বে পালিত হয় সাইকেলের বহুমুখিতা এবং স্বতন্ত্রতা, সেইসাথে পরিবহনের একটি মাধ্যম হিসাবে এর নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।  বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস উদযাপন বাইসাইকেলকে সম্মানিত করে যা লোকেদের একটি স্বতন্ত্র, টেকসই এবং টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থা প্রদান করার জন্য।  শুক্রবার, 3রা জুন, ২০২৪, বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস স্মরণ করা হবে।  এ বছর চতুর্থ বার্ষিক বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস।  বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৪-এর জন্য আগ্রহীদেরও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস তৈরি করেছিলেন, যা 3 জুন, ২০১৮-এ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো স্মরণ করা হয়েছিল। এই দিনের অনন্য দিক  এটি সারা বিশ্বে স্মরণ করা হয়।  সাইকেল চালানো আমাদের জন্য শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই ভাল, এবং এটি ঘুরে বেড়ানোর একটি সস্তা এবং সহজ উপায় এবং পরিবহনের একটি পরিবেশগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মাধ্যম।  সাইকেল চালানো আপনার জীবনধারাকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে এবং আপনি যদি নিয়মিত জিমের ব্যক্তি না হন তবে এটি একটি দুর্দান্ত ওয়ার্কআউট হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস পালন করা হয় মানুষকে তাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করার জন্য।  নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, মানসিক অসুস্থতা, আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে।  আপনি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের সাথে সাইকেল চালানোর মাধ্যমে অনেক অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে পারেন।  জাতিসংঘ অনেক কারণে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতিষ্ঠা করে।  এটি যতটা মৌলিক, সমাজে সাইকেলের প্রভাব বেশ রূপান্তরকারী এবং এমনকি সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও সাইকেল দিয়ে মৌলিক পরিবহনে অ্যাক্সেস পায়।

 

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের থিম ২০২৪—

 

২০২৪-এর বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের থিম থাকবে “সাইকেল চালানোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, ইক্যুইটি এবং স্থায়িত্বের প্রচার।”“Promoting Health, Equity, and Sustainability through Cycling.”

 

 বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের ইতিহাস—

 

বাইক চালানো একটি শৈশব মাইলফলক হয়ে উঠেছে যেখানে মজা এবং পতন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।  কিছু পরিমাণে স্ক্র্যাচ এবং স্মৃতি ধরে রাখে।  ঐতিহাসিক বিবেচনার পাশাপাশি, বাইক চালানো আজ মানুষের জন্য সুবিধা প্রদান করে – শুধুমাত্র ব্যায়ামের একটি ফর্ম হিসাবে নয়, পরিবহনের একটি পরিবেশগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবেও।
বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস তাই সাইকেল চালানোর ধারণাটিকে একটি কার্যকলাপ হিসাবে উদযাপন করতে চায় যা বছরের পর বছর ধরে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে জনপ্রিয়।  ব্যক্তিগত সুখ উপভোগ করা ছাড়াও, এটি স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং স্থায়িত্ব লালন করার জন্য মানুষ এবং পরিবেশে সুখ তৈরি করে।

 

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৪ তাৎপর্য—

 

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের পেছনের ধারণাটি হল সাইকেলের বহুমুখিতা এবং স্বতন্ত্রতা, সেইসাথে পরিবহনের একটি মাধ্যম হিসাবে এর নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।  বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস সাইকেল চালানোর সুবিধার একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।  এটি কেবল পেশী শক্তির উন্নতি করে এবং শরীরের চর্বি কমায় না, তবে এটি একটি সুস্থ হৃদয় রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে।  শারীরিক সুবিধা অনেক।  যদিও দিবসটির গুরুত্ব তার স্বাস্থ্যগত সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি।  বাইসাইকেল একটি কম খরচে এবং পরিবেশগতভাবে উপকারী পরিবহনের মাধ্যম।  উচ্চ দূষণের সময়ে, এমনকি সাইকেল চালানোর মতো মৌলিক কিছু ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করতে পারে।  এর সহজলভ্যতা এবং সহজলভ্যতা এটিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে পরিবহনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম করে তুলেছে, যা তাদের পরিবহনের একটি স্বায়ত্তশাসিত মোড প্রদান করে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This