Categories
বিবিধ

উন্নয়নের পাশাপাশি জঙ্গলমহলে হাতির উপদ্রব, ‘দিশা’ বৈঠকে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পুজোর আগে জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ ‘দিশা’ বৈঠক। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না—তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এই বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, বিধায়ক শংকর গুছাইত-সহ জেলার অন্যান্য জনপ্রতিনিধি। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রথম সারির আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক দপ্তরের অধীনে চলা উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুজোর মুখে জেলার রাস্তাঘাট, পরিষেবা, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলির পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে তার সুফল পান, সেদিকেও প্রশাসনের তরফে নজর দেওয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। তবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যতম বড় সমস্যা জঙ্গলমহলে হাতির উপদ্রব নিয়েও আলোচনা হয়। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় হাতির গতিবিধি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পুজোর সময় মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
পুজোর সময় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ভিড় বাড়ে। ফলে সেই সময় যাতে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, জনজীবন স্বাভাবিক থাকে এবং প্রশাসনিক পরিষেবা ঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই বিষয়গুলিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বৈঠক শেষে সাংসদ জুন মালিয়া জানান, পুজোর আগে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, জেলার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ যাতে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পান, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, পুজোর আগে উন্নয়নের কাজের গতি, সাধারণ মানুষের পরিষেবা এবং জঙ্গলমহলের হাতি সমস্যা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখেই পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনের ‘দিশা’ বৈঠক।

Share This
Categories
বিবিধ

শূন্যপদ পূরণ ও স্কুল পরিকাঠামো সংস্কারের দাবি, উত্তর দিনাজপুরে প্রশাসনের দ্বারস্থ সামাজিক সংগঠনগুলি।

রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: – উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষার একাধিক বিষয় সামনে রেখে ১৬ দফা দাবিতে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল ১০টি সামাজিক সংগঠন। ‘উত্তরবঙ্গের অধিকার ও উন্নয়ন মঞ্চ’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এই কর্মসূচিতে বিজয় বর্মন, পাশারুল আলম, শাহিনুর রহমান, শম্ভু লাল রায়-সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন আরও বহু সামাজিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
স্মারকলিপিতে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। বিশেষভাবে SIR বাতিল ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, নাগরিক অধিকার খর্ব না করা এবং বৈধ নাগরিকদের বেআইনিভাবে গ্রেফতার না করার দাবি সামনে এসেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের শূন্যপদ পূরণ, ভেঙে পড়া পরিকাঠামো সংস্কার এবং স্বাভাবিক পঠন-পাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

মিড-ডে মিল কর্মীদের বঞ্চনা দূর করা, তাঁদের ১২ মাসের পারিশ্রমিক প্রদান এবং মাসিক পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিও রয়েছে স্মারকলিপিতে।

Share This
Categories
বিবিধ

বাগডিহায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, সপরিবারে আইসিডিএস কেন্দ্রে আশ্রয়—প্রাথমিক ত্রাণ দিল ব্লক প্রশাসন।

জামুড়িয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা :-পুজোর আর কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। চারদিকে উৎসবের আবহের মধ্যেই কয়েক মুহূর্তের প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল চারটি বাড়ি। কোনো বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গেল, কোনোটির ভেঙে পড়ল টালির চাল ও আবার কোন বাড়ির উপর বিশাল আকৃতির গাছ মাটি শুদ্ধ উপরে পোড়ায় ভেঙে পড়ল বাড়ির মাটির দেওয়াল। দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে যায় বাড়ির নথিপত্র ও আসবাবপত্র। এই পরিস্থিতিতে দুটি পরিবারকে গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি তথা আইসিডিএস কেন্দ্রে অস্থায়ী আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই।

বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত বাগডিহা গ্রামের বাউরিপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারটি বাড়ি। এর মধ্যে দুটি বাড়ির টিনের ছাউনি সম্পূর্ণ উড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ওই দুই পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়ে যান। বাকি দুটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামুড়িয়া ব্লক প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও আধিকারিকরা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শনের পাশাপাশি পরিবারগুলির হাতে শুকনো খাবার, জামাকাপড় ও রান্নার সামগ্রী-সহ প্রাথমিক ত্রাণ তুলে দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কর্তা দিলীপ বাউরি ও রেখা বাউরি জানান, আচমকাই ঘরের ভিতরে জল পড়তে শুরু করে। পরে তাঁরা দেখেন, মাথার উপর ছাউনি নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটির বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। কোনওক্রমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা।

ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি আপাতত আইসিডিএস কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তাঁদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাতেই এলাকায় পৌঁছান জেলা বিজেপির কৃষাণ মোর্চার সভাপতি রমেশ ঘোষ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

দুর্যোগের পর আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশায় রয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

পানিহাটিতে বেতন-বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে উত্তেজনা।।

পানিহাটী, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পুজোর মুখে বোনাস ও বকেয়া বেতনের দাবীতে অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠলো পানিহাটী পৌরসভা। অভিযোগ পৌরসভার কনজেরভেন্সি বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা মাসাধিক কাল বেতন পাচ্ছেন না, বাকি রয়েছে ৯ মাসের ওভারটাইম এর টাকাও, পাননি পুজোর আগে প্রাপ্য বোনাসও , অন্য দিকে অস্থায়ী মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীদের বেতন বাকি ৫মাসের বেশী সময় ধরে। এই বকেয়া টাকার দাবিতে বারংবার পৌর কতৃপক্ষের কাছে দরবার করেও কোনও ফল না পেয়ে আজ তারা সকাল থেকে পৌরসভার দুটি গেট আটকে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করলে সৃষ্টি হয় উত্তেজনার। এরপর বিক্ষোভরত কর্মীরা বিটি রোডের ব্যাস্ত ট্রাফিক মোর অবরোধ করলে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে। তাদের দাবির সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন অবরোধকারীরা ।

খড়দহ থানার আই সি পলাশ মন্ডলের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, পুলিশের সাথে রীতিমত উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয় বিক্ষোভকারী পৌর অস্থায়ী কর্মীদের, উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে এলাকা জুড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপির উত্তর কলকাতা শহরতলী জেলা সভাপতি চন্ডীচরণ রায় ও যুব নেতা জয় সাহা, পরিস্থিতি বশে আন্তে বেগ পেতে হয় তাদেরও।

Share This
Categories
বিবিধ

দেশ-দশের সেবা ও শান্তির বার্তা, তুলসী বেড়িয়া দরগা শরীফে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভক্ত-মুরিদদের সমাগম।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- হাওড়া গ্রামীণ জেলার রাজাপুর থানার তুলসী বেড়িয়া দরগা শরীফ কমিটির আয়োজনে, পীরে কামেল শাহ্ সূফী সাধক আব্দুল হামিদ আলী খান রঃ আঃ সাহেবের মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে।আজকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পীরের সিলসিলা মোতাবেক পরিচালিত হয় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিশেষ শিক্ষা, সচেতনতা, মানবতা, ঐক্য, সংহতি, সেবা কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন পীর রফিকুল ইসলাম খান, পীরজাদা সহিদুল ইসলাম খান, পীরজাদা আমীরুল ইসলাম খান, পীরজাদা আবেদুল ইসলাম খান প্রমুখ।নাত, গজল পাঠ করেন দরবারের ভক্ত দল।এদিনের বরণীয় ও স্মরণীয় ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা শিবিরে, দেশের বিভিন্ন স্থানের ভক্ত মুরিদান মেহমান ও দর্শনার্থীরা সমবেত হন বলে জানান সভাপতি এম ডি মোক্তার আমাদের প্রতিনিধিকে। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল উপস্থিত জনদের শ্রদ্ধা ,ভক্তি, ভালবাসায় ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলে মিলে মিশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ও দশের সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করতে বদ্ধপরিকর। সকলের শিক্ষা,সুখ, শান্তি,মঙ্গল, সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান হোসেন এ্যাসোসিয়েটের কর্ণধার জনাব সেখ নিসার হোসেন আব্দুল আহাদ, লাইট বাবু। উপস্থিত সকলকে তাবারুক ও শিন্নি দেওয়া হয় বলে জানান শুভাকাঙ্ক্ষী পারের সম্পাদক রঘুনাথ কোঁড়া আমাদের প্রতিনিধিকে। বিশ্ব জাহানে শান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনায় হজ্জে যাচ্ছেন, দরগা শরীফের পীর রফিকুল ইসলাম খান ও সহধর্মিণী সহ একদল ভক্ত, মুরিদান বলে জানান প্রতিভাবান শিক্ষার্থী সিরাজাম মনিরা।

Share This
Categories
বিবিধ

ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দাবিতে চন্দ্রকোনারোডে কংগ্রেসের কর্মসূচি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ,গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনারোড শহরে বিক্ষোভ মিছিল করল জাতীয় কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
এই দিন গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড কংগ্রেস কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে একাধিক দাবিতে সরব হন কংগ্রেস নেতৃত্ব। মিছিলকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শেখ সাদ্দাম আলী-সহ কংগ্রেসের একাধিক ব্লক ও স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষার স্বার্থেই এই আন্দোলন।

Share This
Categories
বিবিধ

ওল্ড সেটেলমেন্ট গুলি-কাণ্ডে তদন্তে জোর, সিসিটিভি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুরের ওল্ড সেটেলমেন্টে ১৬ বছরের কিশোরকে গুলি করার ঘটনায় মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার খড়্গপুর শহরের বোগদা এলাকায় চা-চক্রে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, খড়্গপুরে একসময় মাফিয়া ও গুন্ডারাজ অত্যাধিক ছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। তবে এখনও বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং সেগুলি উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি। ওল্ড সেটেলমেন্টের গুলি-কাণ্ড প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ঘটনাটি নিজেদের মধ্যেও হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, প্রাথমিকভাবে তিনি শুনেছেন দুর্ঘটনাবশত গুলি চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার খড়্গপুরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় ১৬ বছরের এক কিশোর। বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এই দিন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, মিঠুন চক্রবর্তী একজন আইকন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে তাঁরও অবদান থাকুক—সেই লক্ষ্যেই সরকারের এই উদ্যোগ।

Share This
Categories
বিবিধ

দ্রুতগতিতে আসার সময় বিপত্তি, কামারখালীতে উল্টে গেল পিকআপ ভ্যান—মৃত ১।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-
বালি বোঝাই পিকআপ ভ্যান উল্টে মৃত্যু হল গাড়ির এক খালাসির। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার কামারখালী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়বেতার দিক থেকে বালি বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান দ্রুতগতিতে চন্দ্রকোনার দিকে আসছিল। কামারখালী এলাকায় আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ধানের জমিতে উল্টে যায় পিকআপ ভ্যানটি। গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক খালাসির। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ

উর্মিলা ‘ইউলি’ চৌধুরী: চণ্ডীগড়ের নেপথ্যের এক বিস্মৃত স্থাপত্য-নায়িকা।

ভারতের আধুনিক স্থাপত্যের ইতিহাসে চণ্ডীগড় একটি অনন্য নাম। স্বাধীনতার পর নতুন ভারতের স্বপ্নকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এই শহর শুধু একটি প্রশাসনিক রাজধানী ছিল না; এটি ছিল আধুনিক ভারতের নতুন পরিচয়ের একটি স্থাপত্য-প্রতীক। শহরটির পরিকল্পনা ও নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লে করবুজিয়ে, পিয়ের জ্যাঁরের, জেন ড্রু-সহ বহু স্থপতির নাম।

কিন্তু এই আন্তর্জাতিক খ্যাতির আড়ালে এমন একজন ভারতীয় নারী ছিলেন, যাঁর অবদান দীর্ঘদিন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি উর্মিলা ইউলি চৌধুরী—ভারতের আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম পথিকৃৎ, স্থপতি, শিক্ষক, ডিজাইনার, লেখক এবং প্রশাসক।

চণ্ডীগড় প্রকল্পে তিনি ছিলেন একমাত্র ভারতীয় নারী স্থপতি। লে করবুজিয়ে ও পিয়ের জ্যাঁরের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিজেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও নকশা তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের প্রধান স্থপতির দায়িত্বও পালন করেন।

শৈশব থেকেই ছিল অন্যরকম পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয়

উর্মিলা ইউলি চৌধুরীর জন্ম ১৯২৩ সালের ৪ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন কূটনীতিক। বাবার পেশার কারণে ছোটবেলা থেকেই ইউলির জীবন ছিল বহুমাত্রিক। তাঁকে ভারতের এক জায়গায় স্থির হয়ে বড় হতে হয়নি; বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছিল শৈশবেই।

তিনি জাপানে স্কুলশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্থাপত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে সিরামিকস নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় তাঁর চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

তিনি শুধু স্থাপত্য জানতেন না। ফরাসি ভাষাতেও তাঁর দক্ষতা ছিল। এই বহুমুখী শিক্ষা পরবর্তীকালে চণ্ডীগড় প্রকল্পে তাঁকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

স্বাধীন ভারতের নতুন শহরের ডাক

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দেশটি এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। দেশভাগের ফলে পাঞ্জাব তার পুরনো রাজধানী লাহোর হারায়। স্বাধীন ভারতের নতুন পাঞ্জাবের জন্য একটি নতুন রাজধানীর প্রয়োজন দেখা দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে চণ্ডীগড়কে নতুন শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

লে করবুজিয়ে-র নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক স্থপতিদের একটি দল এই প্রকল্পে যুক্ত হয়। ১৯৫১ সালে ইউলি চৌধুরীও সেই দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ১৯৫১ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ১৯৬৮ সালে আবার চণ্ডীগড় প্রকল্পে ফিরে আসেন।

তখন চণ্ডীগড় আজকের মতো সুপরিকল্পিত শহর ছিল না। নতুন শহরের রাস্তা, সরকারি ভবন, আবাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসর—সবকিছুই কার্যত নতুন করে ভাবতে হচ্ছিল।

এই বিশাল কাজের মধ্যে ইউলি চৌধুরীর ভূমিকা ছিল বহুমুখী।

লে করবুজিয়ে ও পিয়ের জ্যাঁরের সঙ্গে কাজ

বিশ্বখ্যাত স্থপতি লে করবুজিয়ে-র সঙ্গে কাজ করা যে কোনও স্থপতির জন্যই বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু ইউলি চৌধুরীর ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু একজন বিখ্যাত স্থপতির সহযোগী হিসেবে কাজ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

তিনি চণ্ডীগড়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। ক্যাপিটল কমপ্লেক্স, জিওমেট্রিক হিল, টাওয়ার অব শ্যাডোস এবং মার্টার্স মেমোরিয়ালের মতো প্রকল্পের বিস্তারিত ড্রয়িং তৈরির কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল।

ফরাসি ভাষায় তাঁর দক্ষতার কারণে তিনি লে করবুজিয়ে, পিয়ের জ্যাঁরের এবং ভারতীয় স্থপতি ও প্রশাসকদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অর্থাৎ তিনি শুধু নকশা আঁকতেন না; বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পেশাগত পরিমণ্ডলের মধ্যে একটি সেতু হিসেবেও কাজ করতেন।

নিজের স্থাপত্য-পরিচয়

অন্যের পরিকল্পনায় সহযোগিতা করার পাশাপাশি ইউলি চৌধুরী নিজের স্থাপত্য-ভাবনাকেও বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

চণ্ডীগড়ের Government Home Science College তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির একটি। Women’s Polytechnic এবং কয়েকটি সরকারি আবাসনের নকশার সঙ্গেও তাঁর সরাসরি সম্পর্ক ছিল। ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, Home Science College, Women’s Polytechnic এবং বেশ কিছু মন্ত্রীর বাড়ির নকশা ও নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এই কাজগুলির মধ্য দিয়ে তাঁর স্থাপত্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আধুনিকতা ও ব্যবহারিকতার সমন্বয়।

তিনি শুধু একটি ভবনকে সুন্দর দেখাতে চাইতেন না। ভবনটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কারা ব্যবহার করবে এবং ভারতীয় পরিবেশে সেটি কতটা কার্যকর হবে—এসব বিষয়ও তাঁর চিন্তার অংশ ছিল।

‘চণ্ডীগড় চেয়ার’-এর গল্প

ইউলি চৌধুরীর নামের সঙ্গে যে বিষয়টি বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে, সেটি হলো চণ্ডীগড়ের বিখ্যাত কাঠ ও বেতের আসবাব।

আজ সারা বিশ্বে “Chandigarh Chair” বা “Jeanneret Chair” নামে পরিচিত কিছু আসবাব সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু এগুলির ইতিহাসে ইউলি চৌধুরীর অবদান বহুদিন যথেষ্ট স্বীকৃতি পায়নি।

ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের গবেষণায় ইউলি চৌধুরীকে এই আসবাবের নকশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, তিনি চণ্ডীগড়ের আসবাবের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর নকশা করা কিছু চেয়ার পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইউলি চৌধুরী শুধু আসবাবের সৌন্দর্য নিয়ে ভাবেননি; তিনি মানুষের শরীরের অনুপাতের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

লে করবুজিয়ে ও জ্যাঁরের ব্যবহৃত কিছু মাপ ছিল ইউরোপীয় পুরুষের গড় শরীরের অনুপাতকে ভিত্তি করে। ইউলি চৌধুরী সেগুলিকে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য নতুনভাবে বিবেচনা করেছিলেন। ফলে আসবাবগুলি আরও আরামদায়ক ও ব্যবহারোপযোগী হয়ে ওঠে।

এটি দেখায় যে একজন স্থপতির কাজ কেবল বড় বড় ভবন নির্মাণ নয়; একটি সাধারণ চেয়ারের নকশাতেও মানুষের জীবনযাত্রার প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ পেতে পারে।

স্থাপত্যের বাইরে একজন বহুমুখী মানুষ

ইউলি চৌধুরী শুধু স্থপতি ছিলেন না। তিনি শিক্ষক, লেখক, ডিজাইনার এবং অনুবাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লির School of Architecture-এর পরিচালক ছিলেন। এই দায়িত্ব তাঁর শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে।

লে করবুজিয়ে-র সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি Those Were the Days নামে স্মৃতিকথাও লেখেন।

ফরাসি ভাষায় দক্ষতার কারণে তিনি অনুবাদের কাজও করেন। লে করবুজিয়ে-র Three Human Establishments বইটি ফরাসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের কাজের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্র স্থাপত্যের চার দেয়ালের মধ্যে আটকে ছিল না।

সরকারি স্থাপত্য প্রশাসনে নেতৃত্ব

ইউলি চৌধুরীর কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল সরকারি স্থাপত্য প্রশাসনে তাঁর নেতৃত্ব।

১৯৭০ সালে তিনি হরিয়ানার Chief Architect হন। পরে পাঞ্জাবের Chief State Architect-এর দায়িত্বও পালন করেন। চণ্ডীগড়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ ও পরিকল্পনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

একজন নারী হিসেবে সেই সময়ে এত উচ্চপর্যায়ের স্থাপত্য প্রশাসনিক পদে পৌঁছানো ছিল অসাধারণ ঘটনা।

স্থাপত্য তখনও মূলত পুরুষ-প্রধান পেশা। সেই পরিবেশে একজন নারী শুধু পেশায় টিকে থাকেননি; বরং নেতৃত্বের শীর্ষস্থানেও পৌঁছেছিলেন।

নারী হওয়াটাই ছিল এক নীরব চ্যালেঞ্জ

ইউলি চৌধুরীর সময়ে ভারতে পেশাদার নারী স্থপতির সংখ্যা ছিল খুবই কম।

তাঁর সামনে বাধা ছিল একাধিক—নারী হওয়া, সদ্য স্বাধীন দেশের সীমিত পেশাগত পরিকাঠামো, পুরুষ-প্রধান স্থাপত্যজগৎ এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতিদের সঙ্গে কাজ করার চাপ।

কিন্তু তিনি নিজেকে কখনও শুধুমাত্র “একজন নারী স্থপতি” হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি।

তিনি স্থপতি হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এই কারণেই তাঁকে ভারতের আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণ করা হয়। কিছু সূত্র তাঁকে এশিয়ার প্রথমদিকের নারী স্থপতিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করে; তবে “এশিয়ার প্রথম মহিলা স্থপতি” দাবিটি নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রগুলির মধ্যে একমত নেই। তাই তাঁর অবদানকে নিশ্চিতভাবে ভারতের প্রথমদিকের নারী স্থপতিদের অন্যতম হিসেবে দেখা বেশি নিরাপদ।

Alliance Française এবং সাংস্কৃতিক কাজ

অবসর গ্রহণের পরও ইউলি চৌধুরী থেমে থাকেননি।

১৯৮১ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি চণ্ডীগড়ে ব্যক্তিগত স্থাপত্যচর্চা চালিয়ে যান। ১৯৮৩ সালে তিনি Alliance Française de Chandigarh প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং সংগঠনটির প্রথম দিকের নেতৃত্বে ছিলেন।

এটি তাঁর বহুসাংস্কৃতিক মানসিকতারই আরেকটি উদাহরণ।

ভারতীয় স্থাপত্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির যে যোগাযোগ তিনি নিজের জীবনে অনুভব করেছিলেন, সেই যোগাযোগকে তিনি পরবর্তী জীবনেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকার

ইউলি চৌধুরী ছিলেন Royal Institute of British Architects এবং Indian Institute of Architects-এর নির্বাচিত Fellow—ভারতীয় নারী স্থপতিদের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

তিনি ১৯৬৪ সালে তাঁর স্থাপত্যকর্ম এবং কম খরচের আসবাব নকশার জন্য রাষ্ট্রপতির পদকও লাভ করেন।

তবে পুরস্কারের চেয়েও বড় তাঁর উত্তরাধিকার হলো চণ্ডীগড়ের দৃশ্যমান স্থাপত্য।

আজ চণ্ডীগড়ের বহু ভবন, রাস্তা, আবাসিক এলাকা এবং আসবাবের নকশার দিকে তাকালে ইউলি চৌধুরীর কাজের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়।

দুঃখের বিষয়, বহু বছর ধরে তাঁর অবদান জনপ্রিয় স্থাপত্য-আলোচনায় তুলনামূলকভাবে কম জায়গা পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গবেষক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁর অবদান নতুন করে সামনে আনছে।

শেষ জীবন

ইউলি চৌধুরী ১৯৯৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত স্থাপত্য, লেখা, সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল।

তিনি চলে গেলেও তাঁর তৈরি ভবন ও নকশাগুলি থেকে গেছে।

আর থেকে গেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—একটি শহর শুধু ইট, কংক্রিট, রাস্তা ও ভবনের সমষ্টি নয়। একটি শহর মানুষের চিন্তা, সংস্কৃতি, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের ধারণাকেও ধারণ করে।

উপসংহার

উর্মিলা ‘ইউলি’ চৌধুরীর জীবন আমাদের সামনে একজন এমন নারীর ছবি তুলে ধরে, যিনি নিজের প্রতিভাকে কোনও নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখেননি।

তিনি স্থপতি ছিলেন, কিন্তু শুধু স্থপতি নন।

তিনি শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু শুধু শিক্ষক নন।

তিনি ডিজাইনার ছিলেন, লেখক ছিলেন, অনুবাদক ছিলেন, প্রশাসক ছিলেন এবং সংস্কৃতির সেতুবন্ধনকারীও ছিলেন।

চণ্ডীগড়ের ইতিহাসে লে করবুজিয়ে-র নাম যেমন অবিচ্ছেদ্য, তেমনই সেই বিশাল প্রকল্পের ভারতীয় বাস্তবায়ন ও সৃষ্টিশীল পরিমণ্ডলে ইউলি চৌধুরীর অবদানও স্মরণযোগ্য।

বিশেষ করে তাঁর নকশা করা বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত ভবন ও আসবাব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্থাপত্যের সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখা যায় না; মানুষের ব্যবহার, আরাম এবং জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্যেও তার সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।

ইউলি চৌধুরীর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হয়তো এই যে, তিনি এমন একটি সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন, যখন স্থাপত্যের পৃথিবী নারীদের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। তিনি শুধু সেই পৃথিবীতে প্রবেশ করেননি—নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সেই পৃথিবীর একটি অংশকে বদলে দিয়েছিলেন।

তাঁর জীবন তাই ভারতীয় নারীর সাফল্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যে অধ্যায়ের স্থাপত্য আজও চণ্ডীগড়ের রাস্তায়, ভবনে এবং আসবাবে নীরবে কথা বলে।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ

শৈমালা গোপালন: ক্যান্সার গবেষণায় নিবেদিত এক বিজ্ঞানীর জীবনকথা।

ইতিহাসে এমন অনেক মহীয়সী নারী রয়েছেন, যাঁদের পরিচিতি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন, সাহিত্যকর্ম কিংবা জনসমক্ষে নেতৃত্বের কারণে নয়; তাঁদের পরিচয় গড়ে উঠেছে গবেষণাগারের নীরব পরিশ্রমে। মানুষের রোগ, তার কারণ এবং চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে বছরের পর বছর গবেষণা করে তাঁরা মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। শৈমালা গোপালন ছিলেন তেমনই একজন বিজ্ঞানী।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই গবেষক ক্যান্সার জীববিজ্ঞান ও স্তন ক্যান্সার গবেষণার ক্ষেত্রে কাজ করেছিলেন। তাঁর বৈজ্ঞানিক জীবন ছিল অনুসন্ধিৎসা, অধ্যবসায় এবং গবেষণার প্রতি গভীর নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি এমন সময়ে বিজ্ঞানচর্চা করেছিলেন, যখন গবেষণাক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল।

তাঁর জীবনকে শুধু একজন বিজ্ঞানীর জীবনী হিসেবে দেখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। তাঁর গবেষণা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার তাঁর সাহস এবং নিজের সন্তানদের মধ্যেও শিক্ষার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা।

শৈশব ও শিক্ষার পরিবেশ

শৈমালা গোপালনের জন্ম ১৯৩৮ সালের ৭ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির মাদ্রাজ শহরে, বর্তমান চেন্নাইয়ে। তাঁর পরিবারে শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল।

ছোটবেলা থেকেই তিনি বিজ্ঞান ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। সেই সময়ে ভারতে নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ ধীরে ধীরে বাড়ছিল, কিন্তু বিজ্ঞান গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি পেশা বেছে নেওয়া এখনও খুব সাধারণ বিষয় ছিল না।

শৈমালা সেই প্রচলিত সীমাবদ্ধতার বাইরে নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন।

তিনি হোম সায়েন্স বা প্রচলিত নারীবান্ধব বিষয়ের পরিবর্তে বিজ্ঞানের দিকে এগিয়ে যান। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে পুষ্টিবিজ্ঞান ও এন্ডোক্রাইনোলজি নিয়ে গবেষণা করেন।

সেখান থেকেই তাঁর বৈজ্ঞানিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়।

গবেষণার জগতে প্রবেশ

গবেষণাগারে কাজ করা মানে শুধু নতুন কোনও আবিষ্কার করা নয়। বিজ্ঞানীর কাজের একটি বড় অংশ হলো একই প্রশ্ন বারবার পরীক্ষা করা, তথ্য সংগ্রহ করা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ফলাফল যাচাই করা।

শৈমালা গোপালনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ছিল এমনই।

তিনি ক্যান্সার গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন এবং স্তন ক্যান্সারের জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেন। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের হরমোন-নির্ভর প্রকৃতি এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার কোষের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল হরমোন-সংবেদনশীল স্তন ক্যান্সার কোষ নিয়ে গবেষণা।

আজ আমরা জানি, স্তন ক্যান্সার এক ধরনের রোগ নয়। এর বিভিন্ন জৈবিক ধরন রয়েছে এবং প্রতিটি ধরনের চিকিৎসার প্রতিক্রিয়াও আলাদা হতে পারে। এই বৈচিত্র্য বোঝার জন্য ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও আচরণ সম্পর্কে গভীর গবেষণা প্রয়োজন।

শৈমালা সেই গবেষণারই একটি অংশ ছিলেন।

ক্যান্সার গবেষণায় অবদান

শৈমালা গোপালনের গবেষণাকর্মের সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের হরমোন-নির্ভর কোষের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার সম্পর্ক ছিল। তিনি ক্যান্সার কোষের আচরণ বোঝার জন্য পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণায় কাজ করেন।

এই ধরনের গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল ক্যান্সার কোষ কীভাবে বৃদ্ধি পায়, কীভাবে হরমোনের সংকেতের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং কীভাবে তাদের আচরণ পরিবর্তিত হতে পারে—এসব বিষয়কে আরও ভালোভাবে বোঝা।

গবেষণার ফলাফল সরাসরি কোনও রোগীর চিকিৎসা হয়ে যায় না। কিন্তু মৌলিক গবেষণাই ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে।

একজন গবেষক যখন ক্যান্সার কোষের একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নতুন তথ্য আবিষ্কার করেন, তখন সেই তথ্য পরবর্তী গবেষকদের নতুন প্রশ্ন করতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞান তাই একটি ধারাবাহিক যাত্রা।

শৈমালা গোপালনের গবেষণাকর্ম সেই দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক যাত্রার একটি অংশ হয়ে রয়েছে।

একজন নারী বিজ্ঞানীর সময়ের সঙ্গে লড়াই

শৈমালার কর্মজীবনের সময় বিজ্ঞান ও গবেষণা ক্ষেত্রটি আজকের মতো বৈচিত্র্যময় ছিল না। বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বে নারীদের উপস্থিতি ছিল সীমিত।

একজন নারী বিজ্ঞানীর জন্য গবেষণার পাশাপাশি পরিবার, সন্তান এবং সামাজিক প্রত্যাশার ভারসাম্য বজায় রাখাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু শৈমালা নিজের বৈজ্ঞানিক পরিচয়কে কখনও পিছনে সরিয়ে রাখেননি।

তিনি দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এবং ক্যান্সার গবেষণার ক্ষেত্রে নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে প্রতিভার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা

একজন বিজ্ঞানীর অবদান শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি যে জ্ঞান তৈরি করেন, সেটি পরবর্তী গবেষকদের জন্য ভিত্তি তৈরি করে।

শৈমালাও তাঁর কর্মজীবনে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তাঁর কাজের সঙ্গে ক্যান্সার জীববিজ্ঞান, স্তন ক্যান্সার এবং কোষের হরমোন-নির্ভর আচরণ সম্পর্কিত গবেষণার যোগ ছিল।

বিজ্ঞান গবেষণায় এমন বিশেষায়িত কাজের গুরুত্ব অনেক।

কারণ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা উন্নত করতে হলে প্রথমে রোগটির জীববিজ্ঞান বুঝতে হয়।

কোন কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে?

কেন বাড়ছে?

কোন সংকেত সেই বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করছে?

কোন ওষুধ সেই সংকেতকে প্রভাবিত করতে পারে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার কাজই শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করে।

পরিবার ও বিজ্ঞান

শৈমালা গোপালনের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে পরিচিত দিক হলো তাঁর দুই কন্যা—কমলা হ্যারিস এবং মায়া হ্যারিস।

তবে তাঁর পরিচয়কে কেবল তাঁদের মা হিসেবে দেখলে তাঁর নিজের বৈজ্ঞানিক পরিচয়টি আড়াল হয়ে যায়।

শৈমালা নিজের সন্তানদের এমন একটি পরিবেশে বড় করেছিলেন যেখানে পড়াশোনা, যুক্তিবোধ, স্বাধীন চিন্তা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মূল্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর নিজের জীবনও ছিল তার একটি উদাহরণ।

তিনি দেখিয়েছিলেন, একজন নারী একই সঙ্গে গবেষক, মা এবং সমাজের সক্রিয় সদস্য হতে পারেন।

পরবর্তী জীবনে তাঁর কন্যারা জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও শৈমালার নিজস্ব পরিচয় গড়ে উঠেছিল তাঁর বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে।

নিজের পরিচয় তৈরি করার সাহস

নারীর জীবনের ক্ষেত্রে সমাজ অনেক সময় তাঁর পরিচয়কে পরিবার ও সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে চায়।

কিন্তু শৈমালার জীবন অন্য একটি বার্তা দেয়।

তিনি ছিলেন একজন গবেষক।

তিনি ছিলেন ক্যান্সার বিজ্ঞানী।

তিনি নিজের পেশাগত দক্ষতা দিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের মধ্যে কাজ করেছিলেন।

তাঁর জীবনের এই দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি এমন সময়ে গবেষণা করেছেন, যখন নারী বিজ্ঞানীদের সামনে অনেক অদৃশ্য বাধা ছিল।

বিজ্ঞানীর পরিচয় অর্জনের জন্য শুধু মেধা যথেষ্ট নয়। দরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সুযোগ, গবেষণার পরিবেশ এবং নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস।

শৈমালা সেই বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন।

ভারতীয় শিকড় ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান

শৈমালা গোপালনের জীবনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত পরিমণ্ডলের প্রভাব ছিল।

ভারতে জন্ম নিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে সেখানেই তাঁর বৈজ্ঞানিক কর্মজীবনের বড় অংশ গড়ে ওঠে।

এটি স্বাধীনোত্তর ভারতীয় শিক্ষিত প্রজন্মের একটি বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গেও যুক্ত—ভারতের বহু তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

শৈমালার বিশেষত্ব হলো, তিনি শুধু নিজের পেশা তৈরি করেননি; একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলেও কাজ করেছেন।

বিজ্ঞান ও মানবকল্যাণ

ক্যান্সার গবেষণার চূড়ান্ত লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা ও উন্নত করা।

যদিও গবেষণাগারে করা কোনও নির্দিষ্ট কাজের ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চিকিৎসায় দেখা যায় না, তবুও মৌলিক গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির অপরিহার্য ভিত্তি।

শৈমালা গোপালনের কাজের ক্ষেত্রও সেই বৃহত্তর মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

স্তন ক্যান্সার পৃথিবীর বহু নারীর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। এই রোগ সম্পর্কে যত বেশি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান তৈরি হয়, তত বেশি সম্ভাবনা তৈরি হয় উন্নত রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতের গবেষণার।

তাই একজন গবেষকের নীরব পরিশ্রমের মূল্য অনেক সময় তাঁর জীবদ্দশার পরিচিতির চেয়েও বড় হয়ে ওঠে।

তাঁর জীবন থেকে যে শিক্ষা

শৈমালা গোপালনের জীবন থেকে প্রথম শিক্ষা হলো—স্বপ্নের জন্য নিজের সময়কে বিনিয়োগ করতে হয়।

দ্বিতীয় শিক্ষা—নারীদের জন্য বিজ্ঞান কোনও নিষিদ্ধ ক্ষেত্র নয়।

তৃতীয় শিক্ষা—গবেষণার ফল অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। কিন্তু একটি ছোট বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তরও ভবিষ্যতের বড় আবিষ্কারের ভিত্তি হতে পারে।

আর চতুর্থ শিক্ষা হলো—একজন মানুষের পরিচয়কে শুধু তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়।

শৈমালা গোপালন তাঁর নিজের কর্মের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন।

শেষ অধ্যায়

শৈমালা গোপালন ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর বৈজ্ঞানিক পরিচয় ও গবেষণার উত্তরাধিকার আলোচনায় রয়েছে।

তিনি হয়তো জনপ্রিয় সংস্কৃতির পরিচিত মুখ ছিলেন না। কোনও বিশাল রাজনৈতিক মঞ্চেও তাঁকে দেখা যায়নি। কিন্তু গবেষণাগারের নীরব পরিশ্রমে তিনি যে কাজ করেছিলেন, তা বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে তাঁর নিজস্ব স্থান তৈরি করেছে।

উপসংহার

মহীয়সী নারী বলতে আমরা প্রায়ই তাঁদের কথা ভাবি, যাঁদের নাম ইতিহাসের পাতায় বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে এমন মানুষের হাত ধরে, যাঁরা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিজেদের কাজ করে যান।

শৈমালা গোপালন ছিলেন তেমনই একজন নারী।

তিনি প্রমাণ করেছেন—বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অবদান রাখার জন্য সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হয় না। কখনও কখনও একটি গবেষণাগারে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়ও মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান অবদান হয়ে উঠতে পারে।

তাঁর জীবন তাই শুধু একজন ক্যান্সার গবেষকের জীবনকথা নয়; এটি একজন নারীর নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার, জ্ঞানের সন্ধানে সীমা অতিক্রম করার এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শিক্ষার মূল্য তুলে ধরার গল্প।

নিজের জন্য তৈরি করা সাফল্য একদিন শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু জ্ঞানের জন্য করা কাজ বহু মানুষের ভবিষ্যৎকে স্পর্শ করে যেতে পারে—শৈমালা গোপালনের জীবন সেই সত্যের একটি সুন্দর উদাহরণ।

Share This