Categories
কবিতা

ব্যাধি :: রাণু সরকার।।। 

দৃষ্টির অগোচরে যে ব্যাধি আছে
কোনদিনও কেউ পারবে না তার
অঙ্গে ধারণ করতে,

অপরিচিত কি নীরবে বেসুরে
অশ্রুকণা ঝরবে-
দিবারাত্রি সন্ধান করেও পাইনি তার
গোপন ঠিকানা,

নিষ্ফল দুরূহ প্রশ্ন ব্যাকুল বসবাস
করে গোপন মনে।
প্রকৃতির সাথে দৃষ্টিবিনিময় করে দেখা
সকলেই অত্যন্ত দ্বিধান্বিত–

সমব্যথী কি আছে ?
নিজের যন্ত্রণার ভার সহ্য করে
নিজেরই বহন করা।

Share This
Categories
কবিতা

বারিধরা :: রাণু সরকার।। 

তপ্ত রোদে মাঠঘাট বির্দীণ,
বর্ষার অপেক্ষায় থেকে থেকে অবশেষে সে এলো-
অবিরাম বারিধারা ঝরছে দেখে মনে হয় যেন কাঁচের
কুচি ঝরঝর করে ধরণীর স্তনগ্রন্থিতে
উপছে পড়ছে!

তখন তরুলতাপাতা তৃপ্ত হয়ে মনের হরষে করে নৃত্য!
গ্রীষ্মের দহনের পর চারিধার নবরূপে
অলঙ্কার স্বরূপ,
শুকনো মাটির গুঁড়োতে মাখা মলিন রূপ।
পিপাসিত মাঠঘাট রসবতী হয়ে হয় ঋতুমতী-
নতুন বীজের আশায় শ্রীঅঙ্গে ধারণ করে।
নতুন করে সাজিয়ে তোলে সম্পূর্ণরূপে তৃপ্ত
চারিধার তখন সে রূপবতী।

Share This
Categories
কবিতা

বাদলগগন :: রাণু সরকার।।

ভাবতে পারিনি, সেদিন আচমকা দেবে
আমায় বিদায়-
অব্যক্ত কিছু কথা বলার ছিলো
বলতে গিয়েও পারিনি বলতে সেথায়-

এলে তো লোভাতুরের মতো,আনলে নীরদবাহনকে সাথে করে
যদি বাদল আসতো সাথে সত্যি বলছি নিতাম তাকে প্রিয় করে!

কেনো জানো বলতে গিয়েও থেমে গেলাম-
ভেবে ছিলাম বৃষ্টিবাদল আসবে, এলে বর্ণচ্ছটা ছড়িয়ে দিতাম!

তোমার আচরণে হচ্ছিল গাত্রদাহ-
সাথে যদি আসতো ঘূর্ণিবায়ু- তবে থাকতে দিতাম এক সপ্তাহ।

Share This
Categories
কবিতা

চৈতিপবন : রাণু সরকার।

মেঘজালের আবরণ সড়িয়ে এসো
করি খেলা-
মনে পড়ে যে আনন্দ হারিয়ে গেছে
খুঁজে নিই চলো-
যা গেছে খোয়া তা নিয়ে অনুশোচনা
করে কি লাভ বলো-

এসেছিলে হৃদয়ে-সে এক যুগান্তে
বাদলগগনে ধূসর দিনে,
পড়েছে কি মনে?
যেদিনের বিচ্ছেদবেদনা ছিলো হনন
তুল্য,
তুমি অনুভূতিহীন-
আজ যখন এলে অন্তরালে কেনো?
তোমার হয়তো মনে নেই এখন চৈতির
শেষের দিক,
আসবো শ্রাবণধারায়-

অন্তরের পাড় ভেঙে প্রকাশিত করো
আধাঁর ঘরের প্রদীপ প্রখররূপে উজ্জ্বল!
তুমি এখন ভিন্ন দিকের দুরত্বে আছো,
এসেছিলে যে?
তবে কার প্রতিক্ষায় ছিলে নীরদের
পশ্চাদপসরণে?
হে আমার ক্ষণিকের সন্তুষ্টি প্রীতি।।

Share This
Categories
কবিতা

ঝরা কুঁড়ি : রাণু সরকার।।

বিহান বেলায় পদচারণ করতে গিয়ে
রাস্তায় কত না কি দেখি কিন্তু প্রসন্নচিত্তে
অনেক কিছুই দেখা হয়ে ওঠে না-
সেদিন বাঁকা দৃষ্টিতে দেখেছিলাম আগাছার
মাঝে মুকুলিকা,
কোনদিন হয়নি সংলাপ।

হঠাৎ একদিন দেখি দিবাবসানে অর্ধবিকশিত ফুল
গেলো ঝড়ে-
কি তার কারণ?
হয়তো পড়েছিলো কুদৃষ্টি-

কেনো সেদিন দেইনি সুদৃষ্ঠি পথের ধারে অবিন্যস্ত বলে?-
পড়শিরা যদি করে কানা-কানি-
সে ভয় যে ছিলো না তা বলবো না-
ক্ষতবিক্ষত পাপড়ি অনুজ্জ্বল ক্লান্ত কাঁদায়
আছে বিশ্রামে, কারোর দয়ার অপেক্ষায়।

দেখে কি থাকা যায়? অপরিণত বুদ্ধি নৈপুণ্য নয়,
ভোজনশালায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি-
আসলে আকারবিশিষ্ট সম্মানি তো –
গাছের গোড়াতেই চললো তাণ্ডবলীলা
কি তার দোষ? জঞ্জালে অবস্থান বলে?

দুরবস্থা দেখে সযত্নে ধুয়ে সাজাই হৃদয় পটে,
যে যা খুশি বলুক সে থাকবে পুষ্পধারে!

Share This
Categories
কবিতা

ভালোই আছি একলা : সোনাই পরামানিক।

আড়াবনী বাঁকুড়া
সমীরের সেই মায়া,
আজ আঁকে না কল্পনায় আল্পনা।
নিছক বস্তুর স্বাদ পেতে,
হলে অন্যের ঘরনি, বিবাহিত ললনা।
আমার হৃদয় প্রান্তর,
ছিল পূর্ণ বিকশিত প্রস্ফুটিত কানন।
মেঘখানি নিয়ে যেয়ে,
করিলে অন্যের আঙনে ঝিরিঝিরি বর্ষণ।
মরিচিকা মনকে ধরিতে,
ধাবিত হতে চায় না আমার ক্ষন জীবন।
দিঘি ভেবে করে ভুল,
সাঁতার না জানা প্রান তীরে একা এখন।
ভালোই আছি একলা,
শান্ত পবনে আলোড়িত দোলায়মান বন।
ক্ষুদ্র কুঠির যেমন ভবন,
সেথা বসে নিজ হাতের অন্নে দিয়েছি মগন।

Share This
Categories
কবিতা

বাসন্তী সুন্দরীর সমাচার : লাজু চৌধুরী।

অনেক দিন হয় বাসন্তীর খোঁজ নেওয়া হয় না
কেমন আছে বাসন্তী?
দরজায় কড়া নেড়েছি অনেক বার কোন সারা পাইনি
তাই প্রতিবেশির কাছে খোঁজ নিলাম
জানতে পারলাম এ পাড়ায় থাকেনা বহুদিন হয় চলে গেছে।
কিন্তু কেনো প্রশ্ন করলাম প্রতিবেশির কাছে জানতে পারলাম বাসন্তীর ঠোঁটে লাল রং কপালে লাল টিপ
পাড়ার মানুষের ঘুম কেড়েছে।

লতা পাতার মত ঝুলে থাকা লম্বা বেণুনিতে এক গুচ্ছো ফুল
অনেকের কাছে অপছন্দের ।
সাত সকালে গলা ছেড়ে গান গাওয়া ভরাট কন্ঠে কবিতা পাঠ করা এই সব পাড়ার লোকের ধাঁচে সইছিলনা।
নানা লোকের নানা মন্দ কথায় বিষন্নতায় ডুবে গিয়েছিল।
এক সময় বাসন্তীর বাড়ীর পানি বিদ্যুৎ বন্দ করে দিল।

প্রশ্ন করলাম কেনো???
অট্টো হাসি দিয়ে বললো প্রতিহিংসা বাসন্তী বুঝতে পেড়েছে
তাই নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গা চলে গেছে।
তাতে ও শান্তি নেই বাসন্তীর।

আমি ঠিকানা চাইলাম
অতঃপর বুঝতে পারলাম শান্তির পাড়ায় অশান্তির সাথেই আলাপ করলাম যার নিজেরাই কোন ব্যাক্তিগত ভূমিকা নেই।

Share This
Categories
কবিতা

পাইনি ভরসা : রাণু সরকার।।।

দৃষ্টিপাত হবে কামিনীর বনে-
অলস মধ্যাহ্নের নির্জনে একফালি
ছায়ার নিচে,অনুষ্ণ স্পর্শ দেবো শৈলপান্তে কামিনীর সুভাষে,
তুমি এসো কিন্তু?
থাকবো দীর্ঘ প্রতিক্ষায়।

নবোদ্ভিন্ন তরুণ অবস্থায়- বিবেকবর্জিত করে হয়েছি বেপরোয়া, কেনো তুমি বুঝতে পারোনা?
খুঁজে খুঁজে পাগল আঁধার দাঁড়ায় এসে কাছে বিহান বেলায় দুর্বলেরা করে রটনা।

হৃদয় অগ্নিপক্বকরণ, দ্রুত করি স্থান পরিবর্তন কেনো দর্শনে দিয়েছিলে ভরসার স্থান, নজর সরিয়ে করছো দরিদ্র- তোমার মমতা নিষ্ঠুর নৃশংস ভাবে করেছে হত্যা।

শুনতে পাওনি হৃদযন্ত্রটি বেরিয়ে আসছিলো
তোমাকে দেখতে- তাই তো প্রবসিত করছি-
হঠাৎই তুষারপাত কিছু কাঠ কিজানি কে রেখেছিলো কামিনীর তলে ভেজেনি জ্বালিয়ে
কষ্ট গুলোকে তাপ দিয়ে কঠিন করছিলাম।
অকস্মাৎ হৃদয় থেকে বেরিয়ে এলো নিনাদ অস্থিরতায় হারিয়ে ফেলেছিলাম ধৈর্য্য-
কেনো দর্শনে দিয়েছিলে ভরসা?
তাইতো এসেও যেতে হলো ফিরে|

Share This
Categories
কবিতা

ঐ যে দূরে ::: রাণু সরকার।।।

ঐ যে দূরে দেখা যায় বাঁশঝাড়-
পাশ দিয়ে প্রবাহিত ছোট এক নদী
জলস্রোতের মৃদু কলকলধ্বনি

প্রত্যুষে শূন্যে ডানা ছুঁয়ে জল ভরে,
বেদনা মাখা মুখচন্দ্রিকা
কাজল রাতে ডেকে ছিলো
ঐ নদীটির পাড়ে-
শাপলা লতায় শরীর ঢেকে-
অব্যক্ত কিছু যেন চায় বলতে।

উচ্ছল চপল তব নবীন শালতি
হৃদয়টা অগ্নিদগ্ধ কী করে হয় নিষ্পন্ন
প্রদীপের মৃদু শিখায় মেটেকি বেঁচে থাকার দোহদ।

ভেবে না পাই-
জীবন দাঁড়িয়ে সন্ধ্যার ঘরে নিশ্চল।

Share This
Categories
কবিতা

মৃত্যুই মিত্র :: রাণু সরকার।।।।।।

জীবন শুরু থেকেই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় প্রতি পদক্ষেপে, জীবন-মৃত্যুর অন্তরঙ্গতা এতই গভীর যে কেউ কোনদিন কারো হাত ছাড়বে না।
এসব যখন মনে পড়ে ভেবে ভয় হয়, আবার ভুলেও যাই ভাবতে, প্রতিদিনই জীবনের শেষ দিন হতে পারে।

জীবনটা তো চলছে সরল অঙ্কের মতো-
মন্থর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি সমাপনের দিকে এটা কিন্তু মনে থাকে না, যখন কারোর মৃত্যু দেখি তখনই মনে হয় আমারও তো একদিন এই গতি হবে।

এই যে বেঁচে আছি সংসারে- ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি এদের নিয়ে মেতে আছি আনন্দখেলায়- এতো ক্ষণিকের তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।
বেঁচে থাকতে হলে কঠিন লড়াই একাই লড়তে হবে,
কাছের জনেরা কেবল সান্ত্বনা দেবে, দুঃসময়ে পাশে কেউই থাকবে না।

সময় বড়ই মূল্যবান আবার মূল্যহীনও।
সংসারের খেলায় আত্মহারা- প্রিয়জন যদি কিছু জানতে চায় কখনো হ্যাঁ আবার কখনো না বলি,
এই হ্যাঁ বা না শব্দটি খুবই পুরাতন কিন্তু ছোট্ট এই দুটিকে ব্যবহার করতে হয় অনেক ভেবেচিন্তে। অনেক সময় দেখা যায় এই ছোট্ট শব্দ দুটি ভুল জায়গায় ব্যবহার করি ভুল করে- তখনই বিপত্তি দেখা দেয়।
এই সংসার খেলায় জেতার স্বপ্ন থাকে, কিন্তু জেতা একমাত্র লক্ষ্য নয়, যতদিন বেঁচে থাকবো স্বপ্নও সাথে সাথে চলবে- একে ত্যাগ করতে পারছি না।

Share This