Categories
কবিতা

সুধা : রাণু সরকার।

যখন তুমি থাকো কাজের ভিড়ে
আমি দেখি দু’চোখ ভরে!

এলো চুলে আসবে বাঁশ ঝাড় দিয়ে
দেখবো কেশপাশ ঝুলছে দু’কাধ বেয়ে!

দৃষ্টিক্ষুধা দৃষ্টিতে নেবো সুধা পিয়ে
অনুচিন্তায় ভরবো হৃদয়ে!

আধাঁরে মিশে হবে একাকার বিহানে
বাঁশ ঝাড় দাঁড়িয়ে!
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে শ্বেত বস্ত্র গায়ে!

Share This
Categories
কবিতা

তৃষ্ণালু : রাণু সরকার।

বশীকৃত এ মন কিসের ছলনে
হলো মতিভ্রংশ,
ইতস্তত ভ্রমণে দেখেছি বহুবিচিত্র
বর্ণের সমারোহ।

হায় রে- তটিনী তুমি গর্ভিণী
এই তো বিহান বেলায় ছিলে
ঋতুমতী!

স্নেহদৃষ্টি আছে পরিপূর্ণ কিন্তু
বড্ড তৃষ্ণালু!
কোন ঘাটে মিটবে সম্ভোগ?
ক্ষরণশীল হলে রসসম্ভোগে
হতো পরিতৃপ্ত!

Share This
Categories
কবিতা

বার্তাবাহিকা : রাণু সরকার।।

শোন কোকিলা-
ও পারেতে সোনা বন্ধু আছে একেলা,
আমার কথা বলবি তাকে চিন্তা যেন না করে,
ভালো আছি, কিন্তু তার জন্য মনটা আমার আনচান করে!

এই নে চিঠি, সাবধানেতে পৌঁছে দিস-
বন্ধু যদি ঘুমিয়ে থাকে-
জাগিয়ে তবেই হাতে দিস!

চিঠি পড়ে সোনা বন্ধুর আসবে চোখে জল
ঠোঁটে করে খানিকটা পারবি আনতে বল?

যাবার বেলায় চুম্বন করতে গেছে ভুলে
ঠোঁটের থেকে একটু লালা আনবি তুলে!

আমার হয়ে এক কলি গান শুনিয়ে দিস,
এই কোকিলা, কাজটা যদি করে দিস-
আমার বাতাবি লেবুর গাছটি তুই নিয়ে নিস!
মেঘেদের বেড়েছে খুব আনাগোনা
কখন বর্ষা নামবে ওর কথা বলা যায় না!

বর্ষা যদি আসে ধেয়ে
পারবি কি তুই? একটু লালা আনতে বয়ে?
যতক্ষণ তুই না আসবি
মাথায় চিন্তা থাকবে ছেয়ে!

Share This
Categories
কবিতা

দারিদ্র্য : রাণু সরকার।

খুবই দারিদ্রপীড়িত
তাই তো অনটনের চাপে পিঞ্জরের হাড় দুমড়ে গিয়ে নিরন্তর কাঁপে।
দিবসে তপনতাপে পিপাসা মেটে না,
নিশাতে ক্ষুধিত আর্তনাদের ধ্বনি শ্রবণেন্দ্রিয়ে হয় বিলিন।

পুরোন স্মৃতি জলে সেবন করে কাটে রাত,
দু’চোখে নোনা জল শুক্ল বর্ণের,
আস্তরণে উত্তরীয় যায় ঢেকে-
একমুঠো সোহাগে অনটনের হবে অবসান,
তা না হলে পিঞ্জরে অনন্ত অনটনের ত্রাণ।

Share This
Categories
কবিতা

ত্যাগ : রাণু সরকার।

শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া কিছু পুরুষ আছে তারা কখনোই জানেন না –
একটি রাত না ঘুমানোর কষ্ট কত গভীর হতে পারে একটি নারীর-

নিঃশব্দে কাঁদা চোখ জোড়া প্রতিদিন
ভোর দেখে- তারপর হাসিমুখে সংসারের
প্রতিটি কাজ সামলায়–
এটাই বুঝি একজন নারীর নীরব ত্যাগ।

Share This
Categories
কবিতা

যুদ্ধক্ষেত্র : রাণু সরকার।

আসবে তুমি-
আমার জীবনের যুদ্ধক্ষেত্রে?
পথটা কিন্তু রক্তরঞ্জিত ভীতিপ্রদ বেদনাবহ,
দিন কাটে যন্ত্রণাগ্রস্ত।
রাত? সে তো নিস্তব্ধ কৃষ্ণবর্ণের ভস্ম!
পারবে তুমি আসতে?
সর্বাঙ্গ চূর্ণবিচূর্ণ–
পারবে এই হৃদয় স্পর্শ করতে?

তোমার উপস্থিতি-

এই গহন রাত তোমার উপস্থিতি কাম্য!
অসবে তুমি রক্তরঞ্জিত যুদ্ধক্ষেত্রে?

Share This
Categories
কবিতা

দামোদর ব্যারেজের কথা : মহীতোষ গায়েন।।

দামোদর ব্যারেজে সকাল১০ টা,আমরা নেমেছি একটু চা জলপানের জন্য,জল,চা খেলাম,সঙ্গে উপাদেয় চপ ও মুড়ি,পাশে তপন সেনের পানের দোকান,পান খেলাম।

তপনদার সঙ্গে কিছু গল্প হলো,তখন কুয়াশার চাদরের দফারফা করছে সূর্য,পান বেচে তপনদার মাসিক ৫০০০আয়ে ৪জনের চলে;খাদ্যসাথী প্রকল্প আছে।

আমাদের গাড়ি বাঁকুড়ার দিকে,
সংসদ সেমিনার যাব,এখানে ফিতা বিখ্যাত,কিনবো,কিন্তু বিনা পয়সায় কিনলাম তপনদার মন,তপনদাও তাই,
চরাচরে তখন বিরাজমান শান্তি।

এটাই পশ্চিমবঙ্গ,এখানে মা মাটি মানুষের প্রাণ,এখানে মণিপুর,বাংলাদেশের নির্মমতা নেই, জঙ্গলের পাশ দিয়ে গাড়ি চলছে,জানালা দিয়ে মিষ্টি হাওয়া মুখ‌ ছোঁয় প্রেমের আভা,দামোদরও মমতাময়।

————-

Share This
Categories
কবিতা

জ্বলে ওঠা আগুন।।

যে দেয়াল চেপে ধরে শ্বাস,
আমি সেই দেয়াল ভাঙব আজই—
রক্তের ভেতর জ্বলে ওঠা আগুন
দমাতে পারে কারা, বলো, কই?

যে হাত করে শৃঙ্খল শক্ত,
আমি সেই হাতেই আগুন ধরাব—
এক ফোঁটা অন্যায়ের ছায়াও যদি পড়ে,
মাটি কাঁপিয়ে উত্তর দেব, দাঁড়াব।

শব্দ চুরি ক’রে নেবে?
শ্বাস আটকে রাখবে?
না—আমার বুকের ভেতর বজ্র গর্জে ওঠে,
যে গর্জন থামানোই যায় না, রেখে।

আমি জন্মেছি শুধু বাঁচতে নয়,
লড়তে—ভাঙতে—নতুন পথ বানাতে।
অতীতের কাঁটাঝোপ পুড়িয়ে
সকালের আলো নিজেই জ্বালাতে।

যারা ভেবে বসে ভয় দেখালে থেমে যাব,
তাদের ভুল ভাঙবে আজই—
আমার চোখের আগুন দেখে
তারাই শিখবে বিদ্রোহ কাকে বলে, ঠিক আজই।

Share This
Categories
কবিতা

গোয়ার মরজিম বিচ – প্রকৃতি, পাখি ও সমুদ্রের শান্তির রাজ্য।।

গোয়া মানেই সাধারণত পার্টি, সঙ্গীত আর ভিড়ভাট্টার সমুদ্রসৈকত। কিন্তু যারা ভিড়ের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির শান্ত সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য মরজিম বিচ এক স্বর্গীয় স্থান। উত্তর গোয়ার এই সমুদ্রতট পরিচিত তার শান্ত পরিবেশ, সাদা বালি, নারকেলগাছের সারি এবং অনন্য জীববৈচিত্র্যের জন্য।


📍 অবস্থান ও পরিচিতি

মরজিম বিচ গোয়ার আশেপাশের আরামবোল ও আশভেম বিচের কাছাকাছি, উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। এটি বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়, বিশেষত রাশিয়ান পর্যটকদের জন্য এটি “লিটল রাশিয়া” নামে খ্যাত।


🐢 অলিভ রিডলি কচ্ছপের আবাসস্থল

মরজিম বিচের অন্যতম আকর্ষণ হলো অলিভ রিডলি কচ্ছপ (Olive Ridley Turtles)। প্রতি বছর শীতকালে এই সমুদ্রসৈকতে কচ্ছপেরা এসে ডিম পাড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনগুলির প্রচেষ্টায় এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা হয়।
পর্যটকরা সুযোগ পেলে এই বিস্ময়কর দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারেন, তবে কচ্ছপের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নিয়ম মানা অত্যন্ত জরুরি।


🦜 পাখিদের স্বর্গ

মরজিম শুধু কচ্ছপ নয়, এটি বিরল প্রজাতির পাখিদেরও আবাসস্থল। বিশেষত শীতকালে এখানে বিভিন্ন অভিবাসী পাখি যেমন – কিংফিশার, প্লোভার, স্যান্ডপাইপার প্রভৃতি দেখা যায়। তাই প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য মরজিম এক অনন্য গন্তব্য।


🌅 সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য

  • সাদা বালির বিস্তীর্ণ তটরেখা – হাঁটার জন্য আদর্শ।
  • নারকেল ও পাম গাছের সারি – প্রাকৃতিক ছায়ার পরশ দেয়।
  • শান্ত ঢেউ – অন্য বিচের তুলনায় এখানে ঢেউ তুলনামূলকভাবে শান্ত, ফলে স্নান বা হাঁটার জন্য নিরাপদ।
  • অপূর্ব সূর্যাস্ত – সন্ধ্যাবেলায় সোনালি আভায় ভরে ওঠে পুরো সৈকত।

🚤 করণীয় কার্যকলাপ

মরজিম বিচে পর্যটকরা নানা ধরনের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন –

  • বিচে যোগ ও মেডিটেশন – শান্ত পরিবেশ মানসিক প্রশান্তির জন্য উপযুক্ত।
  • ওয়াটার স্পোর্টস – যদিও খুব বেশি ভিড় নেই, তবুও জেট স্কি, বোট রাইড ইত্যাদি কিছু ব্যবস্থা আছে।
  • বিচ ওয়াক – সমুদ্রের ধারে দীর্ঘ হাঁটা, বিশেষত সূর্যাস্তের সময় অনবদ্য।
  • স্থানীয় বাজার – আশেপাশে ছোট বাজারে হস্তশিল্প ও রাশিয়ান প্রভাবিত সামগ্রী পাওয়া যায়।

🍴 খাবার ও রেস্তোরাঁ

মরজিম বিচে প্রচুর বিচ শ্যাক ও ক্যাফে রয়েছে। এখানে –

  • তাজা সী-ফুড (চিংড়ি, কাঁকড়া, মাছ)
  • গোয়ান খাবার যেমন ফিশ কারি রাইস
  • আন্তর্জাতিক রন্ধনপ্রণালী, বিশেষ করে রাশিয়ান খাবার সহজলভ্য।

সৈকতের ধারে বসে সাগরের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারে অন্যরকম।


🏖️ ভ্রমণ টিপস

  • সেরা সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ, যখন আবহাওয়া শীতল ও আরামদায়ক।
  • থাকার ব্যবস্থা: বিচের ধারে রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ পাওয়া যায়।
  • বিশেষ সতর্কতা: কচ্ছপের ডিম ফোটার সময় সৈকতে নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই নিয়ম মানা জরুরি।

🏁 উপসংহার

গোয়ার মরজিম বিচ হলো শান্তিপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বর্গ। এখানে নেই অযথা কোলাহল, নেই অতিরিক্ত ভিড়—আছে শুধু প্রকৃতি, সমুদ্র, পাখি আর কচ্ছপের আবাস। যারা কিছুটা নিভৃত, প্রকৃতিনির্ভর ভ্রমণের খোঁজ করছেন, তাদের জন্য মরজিম বিচ এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।

Share This
Categories
কবিতা

তোমার চোখে প্রেমের নদী।

তোমার চোখে দেখি আমি অদ্ভুত এক নদী,
সেখানে ঢেউ উঠে শুধু আমার নাম খোদাই করে।
নীরব আকাশে হঠাৎ ঝরে তারার দল,
তোমার স্পর্শে যেন চাঁদ ডাকে রাতভর।

তোমার হাসি আমার হৃদয়ের একমাত্র গান,
যেন বসন্তের হাওয়া ছুঁয়ে যায় প্রাণ।
তোমার নীরবতা আমার কাছে অমূল্য রতন,
যেন পূর্ণিমার রাতে ভিজে থাকা বন।

তুমি আছো বলেই জীবন এত রঙিন,
তুমি ছাড়া আমি যেন অসমাপ্ত দিন।
প্রতিটি ভোরে সূর্যের আলোয় করি প্রতিজ্ঞা —
ভালোবাসব তোমায় যতদিন থাকবে প্রজ্ঞা।

Share This