মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– অটো চালকদের কাছ থেকে তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল’ সমর্থিত অটো ইউনিয়নের সম্পাদককে গ্রেপ্তার করল মালদার ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে পেশ করা হল মালদা জেলা আদালতে। উল্লেখ্য মালদার ইংরেজ বাজারের রথবাড়ি কোতোয়ালি রুটের তৃণমূল পরিচালিত অটো ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অটোচালকদের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত ইউনিয়নের সম্পাদক অটো চালকদের কাছ থেকে তোলা তুলছেন। তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন দশ টাকা করে তোলা নেওয়া হয়। এবং তা দিতে অস্বীকার করায় ৪৫ জন অটো চালককে দুশো টাকা ফাইন করা হয়েছে। আর সেই কারণেই তারা ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ইংরেজ বাজার থানায় অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন অটো ইউনিয়নের সম্পাদক দিপু পোদ্দারকে গ্রেফতার করেছ ইংরেজ বাজার থানার পুলিশ যদিও অভিযোগ অস্বীকার ইউনিয়নের সম্পাদকের। তার বক্তব্য কয়েকজন বরাবরই এই ইউনিয়নের বিরোধিতা করে আর সেই কারণেই বদনাম করার জন্য এই ধরনের কথা বলছে। আইএনটিটিইউসির প্রাক্তন জেলা সভাপতি শুভদীপ সান্যাল বলেন যদি টাকা তুলে থাকে তাহলে তা অন্যায় করেছে। ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুরি বলেন কোনরকম তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। কেউ যদি তোলাবাজি করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে।
Category: বিবিধ
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– কাটমানির টাকা ফেরতের দাবীতে মালদার ইংরেজবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক সাহাকে ঘিরে বিক্ষোভ। বিক্ষোভদেখালেন ৪নং ওয়ার্ড এলাকার ব্যবসায়ীদের একাংশ। বৃহস্পতিবার তারা মালদা জেলা আদালত চত্বরে কাউন্সিলর অশোক সাহাকে চোর আখ্যা দিয়ে তার জামা ধরে টানা হেঁচড়া করেন। দোকানের নামে নেওয়া কাটমানির টাকা ফেরতের দাবী জানান। উল্লেখ্য, রাজ্যে পালা বদলের পর ইংরেজবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক ‘সাহার বিরুদ্ধে পৌরসভার দোকানঘর বিলিবন্টনে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন ৪নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ীয়া। এমনকি তার বাড়ির সামনে ডিম ছুঁড়ে, শহর জুরে তার বিরুদ্ধে মিছিল করেছিলেন। এরপর থেকে কার্যত বেপাত্তা ছিলেন কাউন্সিলর অশোক সাহা। তবে সম্প্রতি তিনি হাইকোর্ট থেকে বেল নেন এবং বেলের কাগজপত্র নিয়ে এদিন মালদা জেলা আদালতে যাচ্ছিলেন বলে খবর। আর ঠিক তখনই তাকে ঘিরে আদালত চত্বরে তুমুল বিক্ষোভদেখান অভিযোগকারীরা। তারা কাউন্সিলরের জামা ধরে, হাত ধরে টানা হেঁচড়া করেন। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর অশোক সাহা।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আইহো বক্সীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে মহা ধুমধামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। ঢাক-ঢোল ও কীর্তনের সুরে ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে সুসজ্জিত রথে বসিয়ে মালদা–নালাগোলা রাজ্য সড়ক ধরে শোভাযাত্রা বের হয়। ঘোষপাড়া ব্রিজ থেকে শুরু করে আইহো স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে অসংখ্য মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ভক্তদের ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেবাশীষ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে রথটি আইহো স্ট্যান্ডে শিশির ভূতির বাড়িতে পৌঁছায়, যেখানে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ যথাযথ নিয়মে স্থাপন করা হয়। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ এবং ভক্তদের ব্যাপক সমাগম।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– কচিকাঁচাদের উচ্ছ্বাসে মুখর আইহো,জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরামকে নিয়ে গ্রামজুড়ে রথযাত্রা
রথযাত্রার আনন্দে এবার মেতে উঠল কচিকাঁচারাও। জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামকে ছোট্ট রথে বসিয়ে গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করল শিশুরা। রথের দড়ি টানতে দেখা গেল ৮ থেকে ৮০—সব বয়সের মানুষকে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি মিলনমেলায় পরিণত হয় এই রথযাত্রা।
এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ধরা পড়ল মালদা জেলার হবিবপুর ব্লকের আইহো এলাকায়। ঢাক-ঢোলের তালে, “জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ছোট্ট রথকে ঘিরে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রামের রাস্তা ধরে রথ টানতে টানতে আনন্দে মেতে ওঠে কচিকাঁচারা, আর তাদের সেই আনন্দে সামিল হন এলাকার প্রবীণ ও সাধারণ মানুষও।
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ছোটদের মধ্যে ধর্মীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আইহোর রথযাত্রা এদিন এক বিশেষ মাত্রা পায়।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—তৃণমূলের প্রধানকে অপসারণ করে তৃণমূলেরই নতুন প্রধান গঠনকে ঘিরে শুক্রবার তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর তৈরি হল ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। আর সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করল পুলিশ। শুক্রবার এমনই ছবি নজরে এল মালদার রতুয়া-১নং ব্লকের চাঁদমুণি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে। জানা গিয়েছে, চাঁদমনি–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ২২। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৯টি, সিপিআই(এম) ২টি এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয়ী হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তৃণমূলের বিবি তানজিমা প্রধান নির্বাচিত হন। পরে ২০১ নম্বর বুথের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য রুকসানা খাতুনের মৃত্যু হওয়ায় সদস্য সংখ্যা কমে ২১-এ দাঁড়ায়।অভিযোগ, প্রধান হিসেবে বিবি তানজিমার কাজকর্ম নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। অন্যান্য সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই তিনি পঞ্চায়েত পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ২ জুলাই ১১ জন সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন।শুক্রবার অনাস্থার পর নতুন প্রধান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাভুটিতে ১১ জন সদস্য সাকিরুল ইসলামের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে অপসারিত প্রধান বিবি তানজিমা নিজের পক্ষে ১০ জন সদস্যের সমর্থন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে সাকিরুল ইসলাম চাঁদমনি–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।প্রধান নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পঞ্চায়েত দপ্তরের বাইরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।রতুয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে পঞ্চায়েত দপ্তরের বাইরে কয়েকজন উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার সকালে ধানের চারা রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হলেন হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লকের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ইসলামপুর মহানন্দা বাঁধ রোড থেকে গ্রাম পর্যন্ত এক কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা বহু বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বড় বড় গর্তে বৃষ্টির জল জমে নিত্যদিন দুর্ঘটনা ও চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে ইসলামপুর, চাঁদপুর, খোপাকাটি, লক্ষণপুর-সহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ এবং স্কুল-মাদ্রাসার পড়ুয়ারা যাতায়াত করেন। গ্রামবাসীদের দাবি, বহুবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই ক্ষোভে এদিন রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি তোলেন তাঁরা।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ডিগ্রি সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য ফের শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাম্পাসে পুলিশ। আগামীতে যেকোনও সার্টিফিকেটের জন্য অনলাইনে ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদনের পরামর্শ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশীষ ভট্টাচার্যের। পুলিশকে পাশে নিয়ে প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বার্তা উপাচার্যের। একইসঙ্গে চাকরি ক্ষেত্রে আবশ্যক হলে উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট দেওয়ার আশ্বাস। উল্লেখ্য দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে সমাবর্তন হয়নি মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরফলে লক্ষাধিক পড়ুয়া পাননি নিজেদের ডিগ্রির সার্টিফিকেট। এই পরিস্থিতিতে একদিকে রাজ্য সরকারের যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্পের সুবিধে লাভ, অন্যদিকে চাকরির আবেদনের জন্য গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েকদিন ধরেই প্রাপ্ত ডিগ্রী সংক্রান্ত প্রভিশনাল সার্টিফিকেট নিতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে। শুক্রবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদিনও সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করেন উত্তরবঙ্গের তিন জেলার ২৫টি কলেজের প্রচুর প্রাক্তনী। প্রভিশনাল সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য আবেদন জমা দিতে কার্যত হুড়োহুড়ি পড়ে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সমবেত প্রাক্তনীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন গৌড়বঙ্গের উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই যে সমস্ত প্রাক্তনীরা সার্টিফিকেটের ফি-র টাকা জমা দেওয়ার জন্য চালান কেটেছেন, শুধুমাত্র তাঁদের আবেদনই অফলাইনে জমা নেওয়া হবে। নতুন করে অফলাইনে চালান কাটা বা আবেদন নেওয়া হবে না। এখন থেকে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট এর জন্য শুধু অনলাইনেই আবেদন করতে হবে। তবে, সার্টিফিকেটের জন্য ছাত্রপিছু ৫০০ টাকার যে ফি নেওয়া হচ্ছে তাও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেশি নয় বলে এদিন দাবি কর্তৃপক্ষের।
পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পরশ’ ও ‘সিডিআরএস’-এর উদ্বোধন: ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার নতুন দিগন্ত
মেদিনীপুর: উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১৭ জুলাই, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ— ‘পরশ’ (Enabling Unit for the Visually Impaired) এবং ‘সেন্টার ফর ডিজিটাল রিসোর্সেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ (CDRS)। দুটি বিভাগেরই দ্বারোদ্ঘাটন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দৃষ্টিহীন ও ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিশেষায়িতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ‘পরশ’ বিভাগটি। এই বিভাগে রয়েছে রিফ্রেশেবল ব্রেল ডিসপ্লে, PEARL স্ক্যানার রিডার, স্ক্রিন রিডার এবং স্ক্রিন ম্যাগনিফায়ার-সহ সর্বাধুনিক সহায়ক প্রযুক্তি। এর ফলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাঠকেরা যেকোনো মুদ্রিত বই ও নথিপত্র নিমেষেই ডিজিটাল রূপে রূপান্তর করে শুনতে পারবেন। পাশাপাশি, অনলাইন লেখাপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠ করা এবং স্ক্রিনে বড় আকারে দেখার সুবিধাও মিলবে এখানে। এই অভিনব উদ্যোগের ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীরা সম্পূর্ণ স্বনির্ভরভাবে তাঁদের পড়াশোনা ও উচ্চতর গবেষণা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, ডিজিটাল যুগের চাহিদার কথা মাথায় রেখে চালু করা হয়েছে ‘সিডিআরএস’ (CDRS) বিভাগটি। এটিকে মূলত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বৈদ্যুতিন তথ্যসম্পদ ব্যবহারের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা এক ছাদের তলায় বসেই ই-বুক, ই-জার্নাল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ডেটাবেস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি Shodhganga, ONOS, DELNET, NDLI, e-PG Pathshala, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘Institutional Repository’ এবং Kindle Unlimited-এর মতো বিশাল ডিজিটাল লাইব্রেরির অ্যাক্সেসও মিলবে এই বিভাগ থেকে।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, ‘পরশ’ ও সিডিআরএস সেই উদ্যোগেরই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দুটি বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাঠ, গবেষণা ও তথ্যপ্রাপ্তিকে আরও সমৃদ্ধ ও সহজলভ্য করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহী উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নিউটাউনের ইস্টার্ন হাই আবাসনে এক বৃদ্ধার ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগে বিজেপি নেতা বরুণ বিশ্বাসকে আটক করার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁর ওপর ‘ডিম থেরাপি’ চালায়। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা ঘটলেও, রাজ্যে কোনো বিজেপি নেতার ওপর এই ধরণের ডিম হামলার ঘটনা এটাই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। নিউটাউনের ওই বিলাসবহুল আবাসনে অনিতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক বৃদ্ধার ফ্ল্যাট ২০১৮ সাল থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন বরুণ বিশ্বাস। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি ফ্ল্যাট ছাড়ছিলেন না। বৃদ্ধার দাবি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে কোনো ভাড়া দেওয়া হয়নি এবং বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলার পর, আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে ১৬ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাতে নিউটাউন থানার পুলিশ ওই আবাসনে গিয়ে অভিযুক্ত নেতাকে আটক করে। পুলিশ যখন বরুণ বিশ্বাসকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন আবাসনের বাসিন্দা ও স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। সেই সময়ই ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ডিম ছোড়ে। ডিম ছোড়ার পাশাপাশি তাঁকে ধাক্কাধাক্কি ও চড়-ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটির আইনি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ফ্ল্যাট দখল করে রাখার অভিযোগে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেবারও তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। এবার একই ধরনের অভিযোগে বিজেপি নেতার গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদা জেলার কালিয়াচকের জালালপুরে বৃহস্পতিবার রথযাত্রাকে ঘিরে উৎসবের আবহে মেতে উঠলেন হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী। প্রায় ৬৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রা ও রথমেলা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় মহাসমারোহে আয়োজিত হওয়ায় এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ, কালিয়াচক থানার আইসি লিটন রক্ষিত, উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু, বৈষ্ণবনগর বিধানসভার বিধায়ক রাজু কর্মকার, শ্রী রূপা মিত্র-সহ এলাকার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কালিয়াচক থানার পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। গোটা মেলা প্রাঙ্গণ ও রথযাত্রার রুটজুড়ে মোতায়েন ছিল পুলিশ প্রশাসন।