Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

মানুষকে ভালোবাসা : মানবতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।

ভূমিকা:-  মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব। তার শ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ কেবল তার বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং তার হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার শক্তি। এই ভালোবাসাই মানুষকে অন্যের দুঃখে কাঁদতে শেখায়, বিপদে পাশে দাঁড়াতে শেখায় এবং সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। মানুষকে ভালোবাসা মানবতার সবচেয়ে বড় গুণ। এটি এমন একটি অনুভূতি যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও দেশের সীমারেখাকে অতিক্রম করে সকল মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া কোনো সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি কিংবা উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যারা মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারাই আজ পৃথিবীর শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। মানুষের প্রতি ভালোবাসা শুধু একটি আবেগ নয়; এটি একটি জীবনদর্শন, একটি নৈতিক আদর্শ এবং একটি মহৎ মানবিক দায়িত্ব।

মানুষকে ভালোবাসা বলতে কী বোঝায়?

মানুষকে ভালোবাসা বলতে কেবল কাউকে পছন্দ করা বা তার প্রতি মমতা অনুভব করাকে বোঝায় না। প্রকৃত অর্থে মানুষকে ভালোবাসা হলো তার সুখ-দুঃখকে নিজের মনে অনুভব করা, তার কল্যাণ কামনা করা এবং প্রয়োজনে তার পাশে দাঁড়ানো। একজন অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, একজন ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, একজন অসুস্থ মানুষের সেবা করা কিংবা একজন বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহস দেওয়াও মানুষকে ভালোবাসারই প্রকাশ।

এই ভালোবাসা কোনো স্বার্থের বিনিময়ে হয় না। প্রকৃত ভালোবাসা নিঃস্বার্থ হয়। যে ভালোবাসার মধ্যে প্রতিদানের আশা থাকে না, সেটিই মানবতার প্রকৃত রূপ। মানুষকে ভালোবাসার অর্থ হলো তার মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাকে একজন মানুষ হিসেবে মূল্য দেওয়া।
মানুষের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব
মানুষের প্রতি ভালোবাসা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে। যখন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসে, তখন হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ কমে যায়। ভালোবাসা মানুষের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

একটি পরিবারে যদি সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা থাকে, তাহলে সেই পরিবার সুখী হয়। একটি সমাজে যদি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকে, তাহলে সেখানে অপরাধ কমে এবং সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হয়। একইভাবে একটি রাষ্ট্রে যদি নাগরিকরা পরস্পরকে সম্মান ও ভালোবাসা দেয়, তাহলে সেই রাষ্ট্র দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যায়।

মানুষের প্রতি ভালোবাসা মানসিক শান্তিও এনে দেয়। অন্যকে সাহায্য করার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে, তা কোনো বস্তুগত সম্পদ দিয়ে অর্জন করা যায় না। তাই বলা হয়, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে মানুষকে ভালোবাসা
বিশ্বের প্রায় সব ধর্মই মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছে। সনাতন ধর্মে বলা হয়েছে, সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বর বিরাজমান। তাই মানুষের সেবা করাই ঈশ্বরের সেবা। “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”—এই বাণী মানবপ্রেমের গভীর তাৎপর্য প্রকাশ করে।

বৌদ্ধধর্মে করুণা ও মৈত্রীর শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ মানুষকে দয়া, সহানুভূতি ও ভালোবাসার মাধ্যমে জীবন পরিচালনার উপদেশ দিয়েছিলেন।
খ্রিস্টধর্মে প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মেও মানবসেবাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন মানুষের উপকার করাকে মহান কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অর্থাৎ ধর্মভেদে ভিন্নতা থাকলেও মানুষের প্রতি ভালোবাসার আদর্শ সর্বত্র একই।
ইতিহাসে মানবপ্রেমের উদাহরণ
ইতিহাসে অসংখ্য মানুষ আছেন যাঁরা মানবপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের জীবন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
মহাত্মা গান্ধী মানুষের কল্যাণ এবং অহিংসার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভালোবাসা ও সত্যের শক্তি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

স্বামী বিবেকানন্দ মানুষের সেবাকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি যুবসমাজকে মানবসেবার মাধ্যমে দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মাদার তেরেসা দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবন মানবপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ।
বাংলার সমাজসংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও মানুষের কল্যাণে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। তিনি বিধবা বিবাহ প্রচলন, নারীশিক্ষার প্রসার এবং দরিদ্র মানুষের সাহায্যের জন্য আজও স্মরণীয়।

বর্তমান সমাজে মানুষকে ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উন্নয়ন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে দূরত্বও বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো বন্ধু থাকলেও অনেক মানুষ বাস্তব জীবনে একাকীত্বে ভোগেন। এই পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন।
আজ পৃথিবীতে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার অভাব। যদি আমরা একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হই, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যাবে।
একজন বৃদ্ধকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করা, একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ বহন করা, রক্তদান করা কিংবা দুর্যোগের সময় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা—এসবই মানুষকে ভালোবাসার বাস্তব উদাহরণ।

মানুষকে ভালোবাসার পথে বাধা

মানুষকে ভালোবাসার পথে কিছু বাধাও রয়েছে। স্বার্থপরতা, অহংকার, হিংসা, লোভ এবং অসহিষ্ণুতা মানুষের হৃদয়কে সংকীর্ণ করে তোলে। যখন মানুষ কেবল নিজের লাভের কথা চিন্তা করে, তখন সে অন্যের কষ্ট অনুভব করতে পারে না।

আধুনিক ভোগবাদী সমাজে অনেকেই অর্থ ও সম্পদের পেছনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ভুলে যায়। ফলে সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পারস্পরিক আস্থা কমে যায়।
এই বাধাগুলো দূর করতে হলে আমাদের নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সহমর্মিতার চর্চা বাড়াতে হবে।

পরিবার ও শিক্ষার ভূমিকা

মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা প্রথমে পরিবার থেকেই শুরু হয়। একজন শিশু তার বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও শ্রদ্ধার মূল্য শেখে। তাই পরিবারকে মানবিক মূল্যবোধ গঠনের প্রধান ভিত্তি বলা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবতা, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
যদি পরিবার ও বিদ্যালয় একসঙ্গে শিশুদের মানবপ্রেমের শিক্ষা দেয়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে সমাজের দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হয়ে উঠবে।

মানুষকে ভালোবাসার উপকারিতা

মানুষকে ভালোবাসার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি ব্যক্তিগত জীবনকে সুখী ও অর্থবহ করে তোলে। যারা অন্যের উপকার করে, তারা সাধারণত মানসিকভাবে বেশি শান্তি অনুভব করে।
ভালোবাসা মানুষের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি করে। এটি সামাজিক সম্পর্ককে মজবুত করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। একটি ভালোবাসাপূর্ণ সমাজে অপরাধ কম হয় এবং মানুষ নিরাপদ বোধ করে।
এছাড়া মানবপ্রেম মানুষকে মহান করে তোলে। অর্থ, ক্ষমতা বা খ্যাতি একদিন হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সেবার জন্য অর্জিত সম্মান চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।

মানবপ্রেম ও বিশ্বশান্তি

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উপায় হলো মানুষকে ভালোবাসা। যখন মানুষ অন্যের ধর্ম, সংস্কৃতি ও মতামতকে সম্মান করতে শেখে, তখন সংঘাতের সম্ভাবনা কমে যায়।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানবিক মূল্যবোধ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেয়। কারণ তারা জানে, অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ জয় করা সম্ভব হলেও মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব কেবল ভালোবাসার মাধ্যমে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংকট—যেমন যুদ্ধ, শরণার্থী সমস্যা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য—সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানবপ্রেমের বিকল্প নেই।

উপসংহার

মানুষকে ভালোবাসা মানবজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। এটি মানুষকে মহান করে, সমাজকে সুন্দর করে এবং পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলে। ভালোবাসা এমন একটি শক্তি যা ঘৃণাকে পরাজিত করতে পারে, বিভেদকে দূর করতে পারে এবং মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আজকের পৃথিবীতে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করি, তাহলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
তাই আসুন, আমরা মানুষকে ভালোবাসি, মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং মানবতার আলোয় আলোকিত একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। কারণ মানুষকে ভালোবাসাই হলো প্রকৃত ধর্ম, প্রকৃত মানবতা এবং জীবনের সর্বোচ্চ সার্থকতা।
এই প্রবন্ধটি প্রায় ৪০০০ শব্দের মানসম্পন্ন বিস্তৃত রচনার কাঠামো অনুসরণ করে লেখা হয়েছে এবং স্কুল, কলেজ, ম্যাগাজিন বা প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার জন্য উপযোগী।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

পরিবেশ সংরক্ষণ: আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এক অপরিহার্য দায়িত্ব।

পরিবেশ হলো আমাদের চারপাশের সমস্ত জীব ও জড় উপাদানের সমষ্টি। বায়ু, জল, মাটি, গাছপালা, প্রাণী এবং মানুষ—সব মিলিয়েই পরিবেশ গঠিত হয়। মানুষের জীবন ও সভ্যতার বিকাশ পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আধুনিক যুগে দ্রুত শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বন উজাড়, কারখানার বর্জ্য, যানবাহনের ধোঁয়া, প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয়। এসব কারণে বায়ুদূষণ, জলদূষণ ও শব্দদূষণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ দূষণের আরেকটি ভয়াবহ প্রভাব হলো জলবায়ু পরিবর্তন। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, হিমবাহ গলে যাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বেশি বেশি গাছ লাগানো, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দিলে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
সবশেষে বলা যায়, পরিবেশ রক্ষা করা শুধু সরকারের কাজ নয়; এটি প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা যদি আজ পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে পারব না। তাই নিজের স্বার্থেই আমাদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে এবং একটি সবুজ, সুন্দর ও সুস্থ পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

সরকারি নির্দেশিকা মেনে জটেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু সকালের ক্লাস।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রেহাই দিতে জটেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে চালু হল সকালের শিফটের ক্লাস বা ‘মর্নিং স্কুল’। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয়েছে, আর প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিদ্যালয়ের টি.আই.সি অমিত কুমার দত্ত জানান, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই বিদ্যালয়ে মর্নিং স্কুল চালু করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ক্লাস শুরু হবে এবং চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।তিনি বলেন, “বর্তমান তীব্র গরমে সকালবেলায় ক্লাস হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনেকটাই স্বস্তি পাবে। দুপুরের প্রখর রোদ ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে স্কুলে আসা-যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।” শুধু পাঠদানই নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়মিত বাড়ি থেকে জলের বোতল নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন উপভোক্তারা।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ঢুকতে শুরু করেছে অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা। গতকাল অর্থাৎ বুধবার থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। এদিকে ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বরেও প্রচুর মহিলারা ইতিমধ্যেই ভাতার টাকা পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। জানা গিয়েছে, জটেশ্বর সহ বিভিন্ন এলাকার বহু মহিলা ইতিমধ্যেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জটেশ্বরের সাহাপাড়ার বাসিন্দা চম্পা রায় সরকার বলেন, “আমার অ্যাকাউন্টে টাকাটা ঢুকে গিয়েছে। আমি খুবই খুশি। এই সাহায্য আমাদের সংসারের বিভিন্ন কাজে লাগে। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।” উপভোক্তাদের একাংশের দাবি, এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে যথেষ্ট সাহায্য করে। অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করায় জটেশ্বরের বহু উপভোক্তা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

চন্দ্রকোনারোডে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের কুশতোড়া গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই মৃত যুবকের নাম অনুপ সিং,বয়স আনুমানিক ২২ বছর,সূত্রে আরও জানা যায় বুধবার বিকেলে বাড়ির মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পরিবার-পরিজন। তৎক্ষণার খবর দেওয়া হয় চন্দ্রকোনারোড বিট হাউসের পুলিশকে, খবর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে দ্বারিগেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। পাশাপাশি কি কারনে এই ঘটনা গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

ডিজেলের বাড়তি খরচে বিপাকে ট্রাক অপারেটররা, ভাড়া কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবার বিপাকে পড়েছে ট্রাক মালিকরা। কিলোমিটার কিছু ভাড়া নির্ধারিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে ট্রাক মালিকদের তরফ থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা-চন্দ্রকোনারোডে ডিজিটের মূল্য ১০০ টাকা ৪০ পয়সা, এতেই বিপাকে পড়েছে ট্রাক মালিকরা। বৃহস্পতিবার জেলা ট্রাক অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ মণ্ডল জানিয়েছেন ছোট গাড়ির ক্ষেত্রে কিলোমিটার গতি ভাড়া থাকলেও ট্রাকের ক্ষেত্রে কিলোমিটার পিছু ভাড়া নেওয়া উচিত। প্রসঙ্গত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আবহে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অসশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে এই দেশেও।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

পথশিশু এবং অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু – একটি পর্যালোচনা : দিলীপ রায়।

যেসব শিশু পিতৃ কিংবা মাতৃহীন, মা তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বাবা কঠিন দুরারোগে আক্রান্ত, বাবা কিংবা মা মাদকাশক্ত অথবা বাবা-মা সংসার চালাতে না পারার জন্য, বাবা বা মায়ের বহু বিবাহ, সৎ বাবা বা সৎ মা দ্বারা নির্যাতিত, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, গৃহে হিংসা, পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া, আশ্রয়ের অভাব, বন্যা, খরা বা অন্য কোনও দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত, ইত্যাদি কয়েকটি কারণে পথশিশুর বাড়-বাড়ন্ত । যার জন্য আজকের দিনে পথশিশুরা শিশু পাচার, শিশু শ্রম , শোষণের শিকার ।
পথশিশুরা এসে শহরে ভিড় করে । গ্রামের মেয়ে শিশুদের একশ্রেণীর মানুষ শহরে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করে । তারা গ্রাম ছেড়ে শহরের খোলা আকাশের নীচে, ব্রিজের নীচে, মার্কেট, পার্ক, বাস স্ট্যান্ডে ও রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয় এবং বাঁচার তাগিদে তারা ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ, বাদাম বিক্রি, কুলি, সিগারেট বিক্রি, হোটেলে বয়, গাড়ি ধোঁয়া-মোছা, ফুল বিক্রি, গৃহস্থালীর কাজ, মাদক বিক্রি, চুরি, অকাজ-কুকাজ সহ নানান ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে । তাই
পথশিশুদের জীবন ও জীবিকা অনেক দুঃখের ও কষ্টের । উপায়ের জায়গাটা শক্ত না হলে কিংবা আয় না হলে, না খেয়েই দিন যাপন । এজন্য অধিকাংশ পথশিশু অপুষ্টিতে ভোগে । চর্মরোগ, ডায়রিয়া, ঠাণ্ডা, জ্বর, জন্ডিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয় । আর একটা কথা, অসুস্থ হলে চিকিৎসার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত থাকে ।
পথশিশুর সংখ্যা আজও অজানা । কেননা ভারতে তাদের সংখ্যা নিয়ে সাম্প্রতিক কোনও তথ্য নেই । ইউনিসেফ নাকি ২০০০ সালে জানিয়েছিল ভারতে আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লক্ষ পথশিশু রয়েছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ । মৌলিক চাহিদা ও সুযোগ থেকে দূরে থাকা এই বাচ্চারা শুধু পারিবারিক যত্ন ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় না, নির্যাতন, অবহেলা ও মৃত্যুরও মুখোমুখি হয় । এটাই বিড়ম্বনার । এটাই বেদনার । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।
( ২ )
এছাড়া রয়েছে অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু ! তাই প্রথমেই আমাদের জানা দরকার, অনাথ শিশু কারা ? সচরাচর আমরা যেটা জানি, যে শিশুর বাবা ও মা দুজনেই মারা গেছেন তাকে অনাথ বলে । এখানে উল্লেখ্য, যে প্রাপ্তবয়স্ক শিশুর বাবা ও মা মারা গেছেন তাকে কিন্তু অনাথ বলা যাবে না । এবার দেখা যাক “অনাথ” সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অন্যান্যরা কী বলে ? যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে অনাথ বলতে বুঝায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন কাউকে, “যার বাবা ও মা দুজনেই মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন ।“ যদিও ইউনিসেফ (ইউনাইটেড নেশন্স চিলড্রেন’স ফান্ড) কোনো শিশুর বাবা ও মা দুজনের মধ্যে একজন আছে এমন শিশুকেও অনাথ বলে বিবেচনা করে থাকে । এভাবে বললে, মাতৃহারা শিশুকে মাতৃহারা অনাথ, পিতৃহারা শিশুকে পিতৃহারা অনাথ এবং বাবা-মা দুজনেই মারা গেলে শিশুকে দ্বৈত অনাথ বলে তারা অভিহিত । অথবা যার কোনো অভিভাবক নেই এবং দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই । অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপ, UNICEF’এর মতে —
১। পূর্ণ অনাথ (Double orphan): মা ও বাবা দুজনেই মারা গেছেন ।
২। মাতৃহীন অনাথ (Maternal orphan): মা মারা গেছেন, বাবা জীবিত ।
৩। পিতৃহীন অনাথ (Paternal orphan): বাবা মারা গেছেন, মা জীবিত ।
অনাথ শিশুরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় । যেমনঃ—
• পারিবারিক স্নেহ ও ভালোবাসার অভাব।
• মানসিক কষ্ট, একাকীত্ব ও অনিরাপত্তাবোধ।
• শিক্ষা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা।
• স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টির ঘাটতি।
• সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হওয়া।
• শিশুশ্রম, নির্যাতন বা শোষণের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
সমাজের দায়িত্বঃ
অনাথ শিশুদের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে । তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সমাজের মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাষ্ট্র ছাড়াও দেশের সুশীল নাগরিকদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে ।
উপসংহারঃ
পরিশেষে বলা যায়, অনাথ শিশু হলো সেই শিশু, যে মা-বাবার স্নেহ, ভালোবাসা ও অভিভাবকত্ব থেকে বঞ্চিত । তারা সমাজের সবচেয়ে অসহায় সদস্যদের মধ্যে অন্যতম । তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব ।
( ৩ )
এবার জানা যাক ‘পরিত্যক্ত শিশু’ কারা। পরিত্যক্ত শিশু বলতে সেইসব শিশুকে বোঝায়, যাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কোনো অভিভাবক বা দাবিদার ছাড়া অসহায় ও পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় । এসব শিশু সাধারণত পরিবার, পরিচয় এবং নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত থাকে । অনেক ক্ষেত্রে তাদের পিতা-মাতার পরিচয় জানা যায় না, আবার কখনো পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে বা পরিস্থিতির কারণে তাদের ত্যাগ করে ।
পরিত্যক্ত শিশুদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন শিশু, যাদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না । এছাড়া মানবপাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া অনেক শিশুও পরিত্যক্ত শিশু হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষত যখন তাদের পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায় না বা কেউ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে এগিয়ে আসে না ।
অনেক সময় দেখা যায়, কোনো নবজাতক শিশুকে জন্মের পর রাস্তাঘাটে, পার্কে, হাসপাতালের আশপাশে, রেলস্টেশনে কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যাওয়া হয় । পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষের সহায়তায় এসব শিশুকে উদ্ধার করা হয় । এ ধরনের শিশুরাও পরিত্যক্ত শিশুর অন্তর্ভুক্ত ।
সাধারণভাবে বলা যায়ঃ—
“যেসব শিশুকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কোনো দাবিদার বা অভিভাবক ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তাদেরকে পরিত্যক্ত শিশু বলা হয়।”
উপসংহারঃ
পরিত্যক্ত শিশুরা সমাজের অত্যন্ত অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি অংশ। তাদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব । মানবিক সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে এসব শিশুর জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব ।
( ৪ )
এরপর পরিসংখ্যানে আসা যাক । ভারতের জনসংখ্যার বড়োসড়ো অংশ অর্থাৎ ১৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর বয়স ছয় বছরের মধ্যে । ইউনিসেফ’এর হিসেব অনুসারে, ভারতে ২ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার শিশু অনাথ এবং পরিত্যক্ত (২০১১ জনসংখ্যা তথ্য) । এই পরিসংখ্যান অনুসারে বলা যায়, এরা কম বয়সি জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ ।
বিরাট সংখ্যক ৩ কোটি (প্রায়) শিশুর ঠাঁই নেই বললেই চলে । যার জন্য ঐসব শিশুদের দৈনদশা ক্রমশ অবনতির দিকে । ২০১৭ সালের অসরকারি সংস্থাগুলির হিসেবমাফিক এই ৩ কোটিখানেক বালবাচ্চার মধ্যে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার জন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা পায় । এই যে প্রায় ৫ লাখ পরিচর্যা পাওয়া কচিকাচার এক ভগ্নাংশমাত্রের ঠাঁই মেলে কোনো পরিবারে ।
এটা সর্বজনবিদিত, ভারতে দত্তক নেওয়ার হার নিতান্তই কম । সেন্ট্রাল অ্যাডাপশান রিসোর্স অথরিটির অধুনাতম তথ্যমাফিক, ২০১৮-১৯ সালে পালক মা-বাবার ঠাঁই মিলেছে মেরেকেটে ৪০ টি শিশুর যেটা কিনা ঐ বছরে মোট দত্তকের মাত্র ১ শতাংশের মতো । সেন্ট্রাল অ্যাডাপশান রিসোর্স অথরিটির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, ২০১০ সালে, দেশের মধ্যে ৫,৬৯৩ টি শিশুকে দত্তক নেওয়া হয়, ২০১৭-১৮তে সেটা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩,২৭৬ । এখানে অনাথ এবং পরিত্যক্ত শিশুর কপালে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা জুটেছিল যেটা কিনা ০.৮৭ শতাংশ । এতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ভারতে দত্তক নেওয়ার প্রবণতা খুব কম । তাই শিশু উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ফোকাসে আগাপাশতলা পুনর্বিন্যাস করা দরকার, কারণ এখনও লাখো লাখো বাচ্চার কাছে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সুযোগ অধরা । এটাই উদ্বেগের ।
( ৫ )
এবার অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুদের হালহকিকৎ অর্থাৎ তাদের বর্তমান অবস্থান সম্বন্ধে জানা যাক । সহায়-সম্বলহীন অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু যাদের নাম সরকারি খাতায় নথীভুক্ত বা নিবন্ধীকৃত নেই, তাদের অহরহ রাস্তাঘাটে খালি গায়ে অথবা ছেঁড়া-ফাটা জামা গায়ে ঘুরতে দেখা যায় । ফ্যা ফ্যা করে তারা চারিদিকে ঘুরে বেড়ায় । বড় বড় স্টেশন, কলকাতার বিভিন্ন ফুটপাতে, তাদের অবাধ বিচরণ । তদের পরিচর্যা করার কেউ নেই । উপরন্ত কিছু অসৎ মানুষের খপ্পরে পড়ে তারা নানান অমানুষিক কাজে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিন কাটায় । এমনকি পাচারকারীরা এদের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে মোটা টাকায় ভিন রাজ্যে বা ভিন দেশে বিক্রি করে দেয় । এর উপরে মহিলা শিশুদের কপালে জোটে অনেক মারধর ও যৌন লাঞ্ছনা । বিক্রি হওয়ার সংখ্যায় মেয়ে শিশুরা সংখ্যাধিক্য ।
পরিত্যক্ত শিশু আজকাল প্রকাশ্য রাজপথের পাশের জঙ্গলেও দেখা যায় । বিভিন্ন ডাস্টবিনে সদ্যজাত শিশুদের পড়ে থাকতে অহরহ দেখা যায় । খুব কম লোক পরিত্যক্ত শিশুকে কোনো অনাথ আশ্রমের সামনে রাখা ঝুড়িতে রাখে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই জাতীয় ন্যক্কারজনক কাজ কারা করে ? বা পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির কী কারণ ? কিছু শিশু সুরক্ষা সংস্থার মতে, এর পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে । তা ছাড়া যারা নবজাতক সন্তানকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে এমন মানুষ আছেন যারা হয়ত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন, কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন । এইসব লোকদের মধ্যে ধনবান ব্যক্তিও থাকতে পারেন যারা নবজাতক সন্তানকে সমাজের কাছে পরিচয় দিতে পারবেন না । আবার আর একটা শ্রেণী থাকতে পারেন, যাদের সন্তানকে ভরণ পোষণের অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই, তাই তারা রাস্তায় ফেলে তাদের নিজের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চান । আবার এটাও ঘটনা, বিবাহবহির্ভূত ঘটনায় সন্তান জন্ম নেওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে সন্তানকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে বাঁচে । সবচেয়ে দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক, বিবাহবহির্ভূত কোনো সন্তানের পৃথিবীতে আগমন ঘটলে সেই গর্ভজাত শিশুকে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া । এরূপ ঘটনা অহরহ ঘটছে । সেই ক্ষেত্রে সদ্যজাত শিশুকে বাঁচানো খুবই কঠিন । একদিনের বেশী ঐ শিশুগুলি সাধারণত বাঁচে না । কষ্ট করে তারা হোমে কিংবা নিদেনপক্ষে কোনো অপরিচিত বাড়ির সম্মুখে ফেললে ঐ শিশুটা পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পায় । এটা একটা অমানবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন !
( ৬ )
এবার আসছি দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গে কিছু আইনি কথাবার্তায় । এই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এখনও কোনো দম্পতি দত্তক নিয়েছেন শুনলে সমাজের অনেকেই বিকৃত কৌতুহল প্রকাশ করেন । আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো দম্পতি আপন সন্তান ধারন করলে, দত্তক নেওয়া সন্তানের প্রতি আদর-ভালবাসা-যত্ন কমে যায় । ফলে এমনও দেখা গেছে দত্তক নেওয়া শিশুকে ফেরত দেওয়ার জন্য তাদের হোমে ছোটাছুটি । আবার দত্তক নেওয়ার সময় শিশুদের ঝাড়াই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সন্তানহীন বাবা-মায়ের চক্ষুলজ্জার বালাই নেই । ফুটফুটে নীরোগ ও নিখুঁত শিশুর প্রতি সন্তানহীন বাবা-মার চাহিদা বেশী । বাস্তবে দেখা গেছে, দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মানুষের মহিলা শিশুর দিকে বেশী ঝোঁক ! যার জন্য দত্তক নেওয়ার সংখ্যা ক্রমাগত কমছে, যেটা হিসাব করলে দাঁড়ায় মোট অনাথ শিশুর ০.৮৭ শতাংশ । প্রতিবন্ধী শিশুদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ঘোর অপছন্দ ! যার জন্য আইনসম্মত অভিভাবক অথবা পরিচর্যাহীন তিন কোটি শিশুর মধ্যে, পাঁচ লক্ষের চেয়ে কম শিশু প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা পায় । এটা ঘটনা, বাদ বাকী শিশুর ঠাঁই জোটে পথেঘাটে । যদিও ইতিপূর্বে উল্লেখিত যে, এসব ভবঘুরে শিশুরা অনেকেই পাচার হয়ে যায় । এমনকি তাদের অকাজে-কুকাজে লাগানো হয় । যেটা খুব বেদনার ও কষ্টের ।
ভারতে দত্তক প্রথাটা মূলত হিন্দু দত্তক ও ভরনপোষণ আইন, ১৯৫৬ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ন্যায়বিচার (জুভেনাইল জাস্টিস – শিশুদের পরিচর্যা ও সুরক্ষা) আইন, ২০০০ দ্বারা পরিচালিত হয় । এই আইনে বিভিন্ন বন্দোবস্ত এবং লক্ষ্য আছে । হিন্দু দত্তক এবং ভরণ-পোষণ আইনটি হিন্দুদের দত্তক দেখ-ভাল করে । এখানে হিন্দু অর্থ বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ । এই আইন দত্তক শিশুকে অন্য শিশুর মতো প্রাপ্য অধিকার দেয় এবং অধিকারগুলির মধ্যে উত্তরাধিকারের অধিকার তার মধ্যে অন্যতম ।
( ৭ )
পরিশেষে যেটা বলা যায়, সরকারি স্তরে নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক শিশু কল্যাণ, উন্নয়ন এবং সুরক্ষার জন্য অনেক কাজকর্ম করছে, প্রকল্প হাতে নিয়েছে । প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কতটা হবে সেটা না ভেবে সুশীল নাগরিক সমাজকে একটু নড়েচড়ে বসতে হবে । রাস্তাঘাটের পথশিশু, অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুরা যাতে আর পাঁচটা শিশুর মতো বড় হতে পারে সেটা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে । অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে শিশুদের নিয়ে অমানবিক কাজ যেমন সদ্যজাত শিশুকে জঙ্গলে বা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া, শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া, ইত্যাদির মতো জঘন্য কাজ অচিরেই বন্ধ হয় । দত্তক নেওয়ার কথাও ভাবতে হবে । দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানহীন পিতা-মাতাকে আরও একটু সংবেদনশীল হতে হবে, অর্থাৎ ঝাড়াই-বাছাই জিনিসটা বন্ধ করে যে কোনো ধরনের শিশুকে ঘরে তুলতে হবে । তাহলে এই অনাথ শিশু একদিন দেশের মূল্যবান মূলধন বা সম্পত্তি হয়ে উঠবে । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত ও যোজনা ৫/২২)।

Share This
Categories
বিবিধ

শ্রেণীকক্ষ সংকট ঘিরে ক্ষোভ, মেদিনীপুরে বিক্ষোভে পড়ুয়া-অভিভাবক-শিক্ষকরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ক্লাসরুমে ঢুকতে না পেরে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর কলেজের স্কুলের সামনের রাস্তায় দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া,অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবরোধ করেন। বিদ্যালয়ে ক্লাস করার মতন শ্রেণীকক্ষ পাওয়া যায়নি বলে ক্ষোভ পড়ুয়া থেকে অভিভাবকদের।মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল চত্বরে দুটি প্রাথমিক স্কুল চলে। একটি মেদিনীপুর জিএসএফপি স্কুল এবং আরেকটি মেদিনীপুর কলেজিয়েট প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ বছর ধরে দুটি স্কুল কলেজিয়েট স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে সকাল বিভাগে পরিচালিত হয়ে আসছে। গরমের কারণে কলেজিয়েট হাই স্কুলও মর্নিং সেকশনে চালু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। আর তাতেই দেখা দিয়েছি যত বিপত্তি। তিনটি স্কুল যখন সকালে হয় তখন শ্রেণীকক্ষের সমস্যা তৈরি হয়। এর আগে মর্নিং সেকশন চালু হলে কলেজিয়েট স্কুলের বিপরীতে স্কুলের আরেকটি বিল্ডিং এ প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন হতো।তখন দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি হল ঘরের ব্যবস্থা করা হতো। চলতি বছরেও কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চিঠি দিয়ে জানায় বিদ্যালয় দুটিকে ক্যাম্পাসের বাইরে সরিয়ে দিতে এবং পুরনো ভবনের স্থানান্তরের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের অভিযোগ সেই পুরনো বিল্ডিং এ ক্লাস করার মতন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। সেই পুরনো ভবনের নিচু তলার রুমগুলি ব্যবহারযোগ্য হলেও উপরের তলার রুমগুলি স্কুল পরিচালনার পক্ষে উপযুক্ত নয় বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পুরনো ভবনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। কলেজিয়েট জিএসএফপি স্কুলের শিক্ষিকা সহেলি ভৌমিক বলছেন ‘ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রাইমারি স্কুলের অফিস রুম,ক্লাস রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। উনি বাচ্চাদের পুরনো ভবনে পাঠাতে বলছেন। সেই ভবনের স্ট্রাকচার খুব খারাপ। যেকোনো মুহূর্তে ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়তে পারে। সরু কাঠের সিঁড়ি দিয়ে পড়ুয়াদের উপরে উঠতে নামতে সমস্যা হবে। আমরা বলেছিলাম ইলেভেন টুয়েলভ এর পড়ুয়াদের ওই ভবনে পঠন-পাঠন হোক মর্নিং সেকশনে।’ অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন – বেহাল ওই বিল্ডিং এ পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে এলে তাদেরকে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিক্ষক শিক্ষিকারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্কুলের সামনের রাস্তায়। তারা তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে এবং সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে চিঠিও দিয়েছেন।
মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিমানী পরিয়া বলছেন ‘ দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আগেই চিঠি দিয়ে পুরনো বিল্ডিং এ ক্লাস করার কথা বলা হয়েছে। এর আগেও তো ক্লাস হয়েছে। সেই বিল্ডিং নতুন করে সংস্কার করাও হয়েছে। ‘

Share This
Categories
বিবিধ

কালিয়াচকে উত্তেজনা: সংঘর্ষে মৃত ১, হাসপাতালে ভর্তি ৫ আহত।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদা জেলার কালিয়াচক থানার হাজিনগর খাস চাঁদপুর এলাকায় মারপিটের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম হাসমত শেখ (৬১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে আহতদের প্রথমে উদ্ধার করে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পাঁচজনকেই মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন কালিয়াচক-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ফিরোজ শেখ।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় কালিয়াচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে হলেও এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

Share This
Categories
বিবিধ

জয় শ্রী নন্দ গোপাল বাড়িতে লোকনাথ বাবার বিশেষ পূজা, আয়োজনে ভক্তদের উৎসাহ।

শুভ্র জ্যোতি ঘোষ, বর্ধমান :-ভগবান মহাপুরুষ ত্রিকালদর্শী শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে লোকনাথ বাবার বিশেষ পুজো,, এবং বাবাকে ভোগ নিবেদন। আসানসোল এর জয় শ্রী নন্দ গোপাল বাড়ির এই পুজো ৩৪ বছরে পদার্পণ করল। বাবার ভোগে ছিল গোবিন্দ ভোগ চালের খিচুড়ি, পাঁচ রকমের ভাজা, পায়েস, ছানার ডালনা, শান্তিপুরের বিখ্যাত মাখা সন্দেশ, এবং সাদা মিষ্টি, ও ফলাহার।
বাবার বাণী – কোন মন্ত্র, কোন দীক্ষা নেই তার নামে, তার নামই মহামন্ত্র, এই মর্ত্য ধামে।

Share This