Categories
বিবিধ

গড়বেতা-বদনগঞ্জ রুটে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, হাসপাতালে আহতরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল যাত্রী বোঝাই বাস, ঘটনায় কমবেশি করে আহত হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় জন বাস যাত্রী,ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা এক নম্বর ব্লকের বোষ্টম মোড় এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেলে গড়বেতা থেকে বদনগঞ্জ যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়নজুলিতে উল্টে যায় যাত্রীবাহী বাসটি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় গড়বেতা থানার পুলিশ। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে গড়বেতা গ্রামীণ হাসপাতাল ও বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে গড়বেতা থানার পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

হেলমেট, সিগন্যাল ও সড়ক আইন নিয়ে মালদায় ট্রাফিক পুলিশের সচেতনতামূলক উদ্যোগ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– টোটো চালক হোক কিংবা বাইক চালক—অনেকেই এখনও ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন নন। ট্রাফিক সিগন্যালের বিভিন্ন রঙের অর্থ, রাস্তার সংকেত, সঠিকভাবে ইউ-টার্ন নেওয়ার নিয়ম কিংবা নিরাপদে যান চলাচলের নানা বিষয় সম্পর্কে অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিল মালদা জেলা ট্রাফিক পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালেই মালদা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ গাড়িচালক ও সাধারণ পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব বোঝান। পাশাপাশি সিগন্যাল অমান্য না করা, হেলমেট ব্যবহার, নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে চলা এবং সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশিকা সম্পর্কে লিফলেট বিতরণ করা হয়। পুলিশ আধিকারিকরা জানান, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতার মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

নারী সুরক্ষায় জোর, চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ বিট হাউসে শুরু হল বিশেষ সহায়তা পরিষেবা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাজ্যে পালাবদলের পর রাজ্যের নারীদের সুরক্ষিত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই বার্তা কে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জেলা পুলিশের নির্দেশে গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড পুলিশ বিট হাউসে উদ্বোধন করা হলো নারী সহায়তা কেন্দ্র। জানা গিয়েছে এই সহায়তা কেন্দ্র থেকে সাইবার ক্রাইম বিষয়ক সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নারীদের সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে সহায়তা করবে পুলিশকর্মীরা। এই দিন উপস্থিত ছিলেন পুলিশ বিট হাউসের IC অনুপ ভট্টাচার্য সহ একাধিক পুলিশকর্মীরা।

Share This
Categories
বিবিধ

জমির রেকর্ড নিয়ে বিতর্ক, ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইনজীবীর।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :—– ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে ‘দালালরাজের’ অভিযোগ তুলে সরব হলেন মালদহের এক আইনজীবী। মালদহ প্রেস কর্নারে সাংবাদিক বৈঠক করে ইংরেজবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। আক্রান্ত আইনজীবী মানিকচকের দাল্লুটোলার বাসিন্দা গোলাম নবী আজাদ। জেলা প্রশাসনেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরেও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকের(বিএলআরও) বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীণ বলে দাবি করেছেন ইংরেজবাজারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক। মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ বলেন, “অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মালদহ আদালতের আইনজীবী মানিকচকের দাল্লুটোলার বাসিন্দা গোলাম নবী আজাদ গত ১৯ মে পুলিশে অভিযোগ করেন। অভিযোগ, জমির রেকর্ড সংস্কান্ত ব্যাপারে দফতরে গেলে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক দুর্ব্যবহারের পাশাপাশে তাঁকে মারধরও করেন। দফতরে ‘দালালরাজ’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে গোলাম নবী আজাদ বলেন, “দালালরাজের দৌরত্ব্যে প্রকৃত উপভোক্তার নামে নথিভূক্ত থাকা জমির রেকর্ড কেটে দেওয়া হচ্ছে। দফতরে জানতে চাইতে গেলে বিএলআরও হুমকি এবং মারধর করেন। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কিছু হয়নি। তাই এ দিন জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।” ঘটনায় মন্তব্য করতে চাননি বিএলআরও। তবে দফতরের আধিকারিকদের দাবি, মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীণ। আইনজীবীকে খাজনার রশিদ দেখাতে বলা হয়েছিল। তিনি তা দেখাতে না পাড়ায় ভিত্তিহীণ অভিযোগ করেন।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ

পরিশ্রমের মর্যাদা: সাফল্যের সর্বশ্রেষ্ঠ চাবিকাঠি।।

ভূমিকা

মানুষের জীবনে সাফল্য, সম্মান এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার পেছনে যে কয়েকটি গুণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার মধ্যে পরিশ্রম অন্যতম। প্রতিভা, সৌভাগ্য, অর্থ কিংবা সুযোগ একজন মানুষকে কিছুটা এগিয়ে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জনের জন্য পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। ইতিহাসে এমন অসংখ্য মানুষের উদাহরণ রয়েছে, যারা সীমিত সম্পদ, প্রতিকূল পরিবেশ এবং নানা বাধা অতিক্রম করে শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

প্রকৃতির দিকে তাকালেও দেখা যায়, সৃষ্টির প্রতিটি উপাদান নিরন্তর কর্মে ব্যস্ত। সূর্য প্রতিদিন আলো দেয়, নদী অবিরাম বয়ে চলে, মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে, পিঁপড়া ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য মজুত করে। প্রকৃতি যেন প্রতিনিয়ত মানুষকে শিক্ষা দেয়—জীবনে এগিয়ে যেতে হলে কর্মঠ হতে হবে। অলসতা মানুষকে পিছিয়ে দেয়, আর পরিশ্রম তাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেয়।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পরিশ্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আজ শুধু মেধা থাকলেই হয় না; সেই মেধাকে কাজে লাগানোর জন্য নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। তাই পরিশ্রম শুধু একটি অভ্যাস নয়; এটি সাফল্যের ভিত্তি, চরিত্রের পরিচয় এবং জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

পরিশ্রম কী?

পরিশ্রম বলতে বোঝায় কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাওয়া। এটি কেবল শারীরিক শ্রম নয়; মানসিক শ্রমও পরিশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। একজন কৃষক যেমন মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেন, তেমনি একজন বিজ্ঞানী গবেষণাগারে, একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে, একজন চিকিৎসক হাসপাতালে, একজন শিল্পী অনুশীলনে এবং একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পরিশ্রম করেন।

পরিশ্রমের প্রকৃত অর্থ হলো নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়া। যে ব্যক্তি নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যান, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেন এবং হাল ছেড়ে দেন না, তিনিই প্রকৃত অর্থে পরিশ্রমী।

পরিশ্রমের গুরুত্ব

পরিশ্রম মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল, আত্মনির্ভর এবং সফল করে তোলে। এটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়; মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মানও বৃদ্ধি করে। পরিশ্রম মানুষকে শেখায় কীভাবে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হয় এবং প্রতিকূলতাকে জয় করতে হয়।

কোনো বড় অর্জন একদিনে সম্ভব হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিশ্রমই একসময় বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। তাই বলা হয়, “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।”

ছাত্রজীবনে পরিশ্রমের গুরুত্ব

ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি নির্মাণের সময়। এই সময়ে নিয়মিত পড়াশোনা, অনুশীলন, সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা এবং নতুন বিষয় শেখার আগ্রহ একজন শিক্ষার্থীকে সফল করে তোলে।

যে শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষার আগে পড়াশোনা করে, তার জ্ঞান স্থায়ী হয় না। কিন্তু যে শিক্ষার্থী প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়ে, বিষয় বুঝে শেখে এবং নিয়মিত অনুশীলন করে, সে দীর্ঘমেয়াদে বেশি সফল হয়। তাই ছাত্রজীবনে পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মজীবনে পরিশ্রমের মূল্য

প্রতিটি পেশায় সফল হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম অপরিহার্য। একজন চিকিৎসককে বছরের পর বছর অধ্যয়ন করতে হয়, একজন প্রকৌশলীকে দক্ষতা অর্জনের জন্য দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে হয়, একজন কৃষককে ঋতু অনুযায়ী মাঠে কাজ করতে হয়, একজন উদ্যোক্তাকে ঝুঁকি নিয়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হয়।

কর্মজীবনে শুধু প্রতিভা নয়, নিয়মিত পরিশ্রমই একজন মানুষকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। যারা নিজেদের কাজে নিষ্ঠাবান, তারা ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং সমাজে সম্মান লাভ করেন।

পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস

পরিশ্রম মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। কারণ একজন পরিশ্রমী মানুষ জানেন যে তিনি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হলেও তিনি আবার উঠে দাঁড়াতে পারেন, কারণ তাঁর ভরসা থাকে নিজের প্রচেষ্টার ওপর।

অন্যদিকে, অলস ব্যক্তি অনেক সময় নিজের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ হারান। পরিশ্রম মানুষকে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস করতে শেখায় এবং জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি দেয়।

পরিশ্রম ও চরিত্র গঠন

পরিশ্রম শুধু সাফল্য এনে দেয় না; এটি চরিত্রও গঠন করে। নিয়মিত কাজ করার অভ্যাস, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, ধৈর্য এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এসব গুণ পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

একজন পরিশ্রমী মানুষ সাধারণত বিনয়ী হন, কারণ তিনি জানেন সাফল্য সহজে আসে না। তিনি অন্যের পরিশ্রমেরও মূল্য দেন এবং অহংকার থেকে দূরে থাকেন।

ইতিহাসে পরিশ্রমের উদাহরণ

ইতিহাসে বহু মহান ব্যক্তি তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন। বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, সমাজসংস্কারক, ক্রীড়াবিদ—সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তাঁদের সাফল্যের পেছনে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম রয়েছে।

তাঁরা ব্যর্থতাকে ভয় পাননি, বরং প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে গেছেন। এই ইতিহাস আমাদের শেখায় যে প্রতিভার চেয়ে নিয়মিত পরিশ্রম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশ্রম ও ভাগ্য

অনেকেই মনে করেন, ভাগ্যই সবকিছু নির্ধারণ করে। কিন্তু বাস্তবে ভাগ্য তখনই সহায় হয়, যখন মানুষ নিজে পরিশ্রম করে। পরিশ্রম ছাড়া শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করলে সফল হওয়া সম্ভব নয়।

যে ব্যক্তি সুযোগের অপেক্ষা না করে নিজের কাজ চালিয়ে যান, তাঁর কাছেই সুযোগ এসে ধরা দেয়। তাই ভাগ্যকে জাগিয়ে তোলার সবচেয়ে বড় উপায় হলো পরিশ্রম।

অলসতার ক্ষতি

অলসতা মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি সময় নষ্ট করে, আত্মবিশ্বাস কমায়, দক্ষতা নষ্ট করে এবং মানুষকে পিছিয়ে দেয়। অলস ব্যক্তি সাধারণত কাজ ফেলে রাখেন, দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন এবং অজুহাত খোঁজেন।

দীর্ঘদিন অলসতা করলে মানুষ নিজের সম্ভাবনাকেও হারিয়ে ফেলে। তাই অলসতাকে জয় করে নিয়মিত কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

পরিশ্রমের সঙ্গে পরিকল্পনার গুরুত্ব

শুধু পরিশ্রম করলেই হবে না; সেই পরিশ্রম হতে হবে সঠিক পরিকল্পনার সঙ্গে। পরিকল্পনাহীন পরিশ্রম অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। লক্ষ্য নির্ধারণ, সময় ব্যবস্থাপনা, অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে পরিশ্রম আরও ফলপ্রসূ হয়।

পরিশ্রম ও পরিকল্পনা একসঙ্গে চললে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

সমাজ উন্নয়নে পরিশ্রমের ভূমিকা

একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে তার মানুষের কর্মনিষ্ঠার ওপর। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী—সবাই যদি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, তাহলে দেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে এগিয়ে যায়।

পরিশ্রমী নাগরিকই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। তাই সমাজে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং সব ধরনের সৎ কাজকে সম্মান করা অত্যন্ত জরুরি।

উপসংহার

পরিশ্রম মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান শক্তিগুলোর একটি। এটি মানুষকে আত্মনির্ভর করে, আত্মবিশ্বাসী করে এবং জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। প্রতিভা, সম্পদ বা সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেগুলোর প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায় যখন সেগুলোর সঙ্গে পরিশ্রম যুক্ত হয়।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—শিক্ষা, কর্ম, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—পরিশ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন পরিশ্রমী মানুষ শুধু নিজের জীবনই বদলান না; তিনি সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত অলসতা পরিহার করে নিয়মিত পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে চলা। কারণ পরিশ্রমই সাফল্যের প্রকৃত চাবিকাঠি, আর কর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

Share This
Categories
বিবিধ

গড়বেতায় একাধিক দাবিতে সিপিআই(এম)-এর প্রতিবাদ কর্মসূচি, নেতৃত্বে সুশান্ত ঘোষ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি, ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা প্রদান সহ একাধিক দাবিদাবা নিয়ে বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও BDO কে স্মারকলিপি প্রদান করল CPI(M) নেতৃত্ব। এই দিন এই মিছিলে কয়েকশো CPI(M) কর্মী সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। এই দিন উপস্থিত ছিলেন দাপুটে নেতা সুশান্ত ঘোষ,সনৎ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য CPI(M) নেতাকর্মীরা।

Share This
Categories
বিবিধ

ইঁদুরের খোঁজে বাড়িতে ঢুকেছিল চন্দ্রবোড়া! অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়াল পরিবার।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- বিষধর সাপ উদ্ধার, চাঞ্চল্য এলাকায়। ইংরেজবাজারের কৃষ্ণপার্ক এলাকায় বুধবার সাত সকালে অখিল সরকারের বাড়ির বাথরুমে বিশালাকার বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা পাওয়া যায়। জানা যায়, সকাল সাতটা নাগাদ বাড়ির লোকজন যখন বাথরুমে ঢোকতে যায় সে সময় বাথরুমের ভেতরেই সাপটি বিকট শব্দ করতে থাকে, দেখে বাড়ির লোকজন আতঙ্ক হয়ে পড়ে। দেখতে ভীড় জমায় এলাকার লোকজন। পরে সর্পপ্রেমী ধীরেন সুতারকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে এসে সাপটিকে উদ্ধার করে বনদপ্তরে গিয়ে দিয়ে আসে। সর্পপ্রেমী ধীরেন সুতার জানান, চন্দ্রবোড়া সাতটি প্রায় চার ফুট লম্বা, এটি বিষধর সাপ, মানুষকে কামড়ালে বাঁচার সম্ভাবনা কম থাকে। গরমের সময় রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করে কখনো কখনো ইদুর ব্যাং ধরতে মানুষের বাড়িতেও প্রবেশ করে, তবে এই সময়ে প্রত্যেককে সাবধান হয়ে রাত্রিবেলায় জানালা দরজা বন্ধ করে মশারির টাঙ্গিয়ে ঘুমানো উচিত। সম্ভবত ইঁদুর ধরতে বাথরুমে সাপটি ঢুকেছিল, অজান্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত, তাই সকলেই এই সময় সচেতন হওয়া উচিত।

Share This
Categories
বিবিধ

মিশন রোডে সড়ক দুর্ঘটনা, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল পুলিশ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- মালদার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পুরাতন মালদা এলাকার মিশন রোডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারে একটি বোলেরো গাড়ি। সোমবার এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সড়কের ধারে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি বোলেরো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটিকে পিছন দিক থেকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের জেরে বোলেরোর সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গাড়িতে থাকা চালক-সহ দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ এবং জাতীয় সড়কের টোল প্লাজার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহত দু’জনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাঁদের বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে হাসপাতাল বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দুটি সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে।

Share This
Categories
বিবিধ

কলকাতায় পাচারের ছক ভেস্তে দিল জিআরপি, মালদায় ধরা পড়ল চার মাদক কারবারি।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : পাচারের আগে ডাউন দার্জিলিং মেইল থেকে উদ্ধার ১২ কেজি গাঁজা। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার কারবারীকে। মঙ্গলবার ধৃতদের পুলিশি হেপাজতের আবেদনে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা টাউন জিআরপি থানার পুলিশ ডাউন দার্জিলিং মেইল ট্রেনে হানা দেয়। তথ্য অনুযায়ী চার ব্যক্তির হেপাজত থেকে উদ্ধার হয় ১২ কেজি গাঁজা। ধৃতদের নাম মিলন মণ্ডল, দিলীপ বিশ্বাস, শরিফ মাফুজ, মোমিন মণ্ডল। ধৃতরা নতুন ব্যারাকপুর ও মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরের বাসিন্দা। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ধৃতরা উদ্ধার হওয়া গাঁজা কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছিল।

Share This
Categories
বিবিধ

একযোগে ইস্তফা প্রধান, উপপ্রধান ও চার সঞ্চালকের; জোর রাজনৈতিক জল্পনা পাকুয়াহাটে।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– রাজ্যে পালাবদলের পর মালদার বামনগোলা ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত পাকুয়াহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান সহ চার-চারজন সঞ্চালকের ইস্তফা। মঙ্গলবার তারা ছয়জন মিলে একযোগে ইস্তফা দেওয়ার জন্য জোর চাঞ্চল্য ও গুঞ্জন তৈরি হল গোটা পাকুয়াহাট এলাকায়। জানা গেছে, বামনগোলা ব্লকের পাকুয়াহাট গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ৩০টি। এরমধ্যে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের নিরীক্ষে তৃণমূলের দখলে ছিল ২০টি আসন এবং ১০টি আসন ছিল বিজেপির দখলে। এরমধ্যে রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। তৃণমূলকে কার্যত ধরাশায়ী করে রাজ্যে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার হঠাৎ করেই তৃণমূল পরিচালিত পাকুয়াহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান সহ চার-চারজন সঞ্চালয় একসঙ্গে তাদের ইস্তফাপত্র জমা দেন বামনগোলা ব্লকের বিডিও মনোজিৎ রায়ের কাছে। এই ইস্তফা প্রসঙ্গে পাকুয়াহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ইস্তফা প্রদানকারী প্রধান সোনামুনি টুডুর বক্তব্য, তিনি তার পারিবারিক এবং শারীরিক সমস্যার কারণে প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে এখনও দলেই আছেন। পরবর্তীতে দল ছেড়ে অন্যকোন দলে যোগদান করবেন কিনা সেই ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেননি। একই কথা জানিয়েছেন সঞ্চালকের পদ থেকে ইস্তফা প্রদানকারী পঞ্চায়েত সদস্য রমেন মন্ডলও।

Share This