Categories
বিবিধ

অলক ফাউন্ডেশন ও রিপোর্টারস এন্ড ফটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সমাজকল্যাণ রত্ন সম্মান প্রদান।

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা:- প্রতিবারের মতো এবারেও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সম্মানিত করে তাদেরকে কুর্নিশ জানালো রিপোটার্স এন্ড ফটোগ্রাফার এ্যাসোসিয়েশন। বুধবার কলকাতা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত-হয়ে গেল নবম সমাজ কল্যান রত্ন সম্মান-২০২৬। রিপোর্টারস এন্ড ফটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশন ও অলক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। এদিন মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মদন চন্দ্রকরণ বিদ্যালঙ্কার ও বিশেষ অতিথি নন্দিনী ভট্টাচার্য। এছাড়া সংস্থার সভাপতি দেবযানী ঘোষ, সম্পাদক অনুপ কুমার বর্ধন, সহঃসম্পাদিকা শুভ্রা নায়েক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৌসুমী বর্ধন ও অপরাজিতা বোস। এবারে মোট ১৩ জনকে সামাজ কল্যাণের কাজের ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ রত্ন সম্মানে সম্মানিত করা হয়। সম্মান প্রাপকেরা হলেন যথাক্রমে দেবকুমার দে, শ্যামল তালুকদার (রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা সুন্দরবন), শুভ্রা নায়েক, অপরাজিতা বোস, শাগুপ্তা হানাফি, নন্দিনী ভট্টাচার্য্য, রঞ্জিতা সিনহা, তপন সর্দার, সুশান্ত কুমার মন্ডল, শ্রী আতঙ্ক, জয়দেব দাস, লক্ষ্মী নারায়ণ জানা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনায় ও পরিচালনায় ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অনুপ কুমার বর্ধন ও সহযোগীতায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৌসুমী বর্ধন, সহঃসম্পাদিকা শুভ্রা নায়েক।

Share This
Categories
বিবিধ

ডুমুরগেড়িয়ায় আগুনের তাণ্ডব, সর্বস্ব হারিয়ে পথে বহু পরিবার।

নিজস্ব প্রতিনিধি, ডুমুরগেড়িয়া: ভরদুপুরে আচমকাই এক ভয়াবহ এবং বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়াল নয়াবসতের ডুমুরগেড়িয়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরের দিকে যখন সাধারণ মানুষ ঘরের কাজকর্ম শেষ করে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই একটি বন্ধ বসত বাড়ি থেকে প্রথম গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, গ্রীষ্মের চড়া রোদ আর বাতাসের তীব্র গতিবেগের কারণে সেই আগুন অত্যন্ত দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা সংলগ্ন চারপাশের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাটি কার্যত এক নরককুণ্ডে পরিণত হয়।

আগুনের শিখা আকাশছোঁয়া হয়ে উঠতেই শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দারাই এলাকা জুড়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে সবাইকে সতর্ক করতে শুরু করেন। আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় আবালবৃদ্ধবনিতার মধ্যে। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে, স্থানীয় যুবকেরা এবং প্রতিবেশীরা নিজস্ব উদ্যোগে বিপর্যয় সামলানোর চেষ্টা চালান। তাঁরা আশেপাশের কুয়ো, টিউবওয়েল এবং পুকুর থেকে বালতি বালতি জল এনে আগুনের ওপর ঢালতে থাকেন। একই সাথে পাশের একটি নির্মাণকাজ থেকে বস্তা ভরে বালি এনেও তা নেভানোর মরিয়া চেষ্টা চালানো হয়।
কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও উত্তাপ এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি হাতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। বিশালাকার কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আকাশ, যার ফলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় অনেকের। চারপাশে তৈরি হয় চরম আতঙ্ক, কান্না আর হুড়োহুড়ি। আগুনের গতি এতই দ্রুত ছিল যে, আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকেই ঘর থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, টাকা-পয়সা কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র বের করার সামান্য সুযোগটুকুও পাননি। চোখের সামনে নিজেদের সারাজীবনের উপার্জনকে ছাই হয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই কালবিলম্ব না করে অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। ডুমুরগেড়িয়া এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং এখানকার রাস্তাগুলি বেশ সংকীর্ণ হওয়ায় প্রাথমিক অবস্থায় দমকলের বড় গাড়িটি ভেতরে ঢোকাতে চালক ও কর্মীদের কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় এবং তাৎক্ষণিক সহায়তায় বিকল্প রাস্তা দিয়ে দমকলকর্মীরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এলাকার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দমকলকর্মীদের নিরলস ও পেশাদারী প্রচেষ্টায় আগুন চারপাশের অন্যান্য বাড়িতে আরও ছড়িয়ে পড়া আটকানো সম্ভব হয়েছে। পাইপের মাধ্যমে দূরবর্তী জলের উৎস থেকে জল এনে অবিরাম স্প্রে করা হতে থাকে জ্বলন্ত ঘরগুলিতে। দমকলের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল সরবরাহের কাজে হাত লাগান, যার ফলে পরিস্থিতি আরও বড় কোনো বিপর্যয়ের দিকে মোড় নেয়নি।

ঠিক কী থেকে এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত, তা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দমকল বাহিনী এবং পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কোনো একটি বাড়ির ভেতরের বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট হওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে বা রান্নার উনুন থেকেও আগুন ছড়াতে পারে। দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মতে, আগুন সম্পূর্ণ পকেট স্তরে নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই ফরেনসিক ও অন্যান্য বিভাগীয় তদন্ত করে এর প্রকৃত এবং সঠিক কারণটি জানা সম্ভব হবে। স্বস্তির বিষয় এই যে, ঘটনার সময় বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নেহাত কম নয়। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, অন্ততপক্ষে চার থেকে পাঁচটি বাড়ি আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, জামাকাপড়, খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও ক্ষতিগ্রস্তরা।

এই আকস্মিক বিপর্যয়ের খবর পেয়েই স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তাঁরা দমকলের কাজের তদারকি করার পাশাপাশি সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলির সাথে কথা বলেন এবং তাঁদের সান্ত্বনা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আপৎকালীন খাবার, পানীয় জল এবং অস্থায়ী ত্রিপল বা ছাউনির ব্যবস্থা করার তৎপরতা শুরু হয়েছে।
এলাকার সমাজকর্মীরা ও বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, যেহেতু এই পরিবারগুলি মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে, তাই সরকারি তহবিল থেকে যাতে দ্রুত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী ঘর তৈরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, এলাকা জুড়ে এখনও এক থমথমে পরিস্থিতি ও পোড়া গন্ধ বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

বিট অফিসের গাছ পাচারের অভিযোগে চাঞ্চল্য মালদায়।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের গাছ ঝড়ে পড়ে যাওয়া সেগুন গাছ কেটে পাচার করে দেওয়ার চেষ্টা রুখলেন গ্রামবাসীরা,কাটা গাছের লগ বোঝাই ভুটভুটি আটকে তুলে দিলেন পুলিশের হাতে। ঘটনায় ভুটভুটি চালককে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করল পুলিশ। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে ঘিরে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হল মালদার হবিবপুর থানার মঙ্গলপুরা অঞ্চলের জামালপুর এলাকায়। ঘটনায় অভিযোগকারী গ্রামবাসী জ্যোতির্ময় সিংহ অভিযোগ করে বলেন,’ সোমবার রাতের ঝড়ে জামালপুর বিট অফিস চত্বরে একটি বড়ো আকারের সেগুন গাছ ভেঙে পড়ে। ভেঙে পড়া সেগুন গাছের কিছুটা অংশ কেটে মঙ্গলবার ভুটভুটিতে বোঝাই করে অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল। যা দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীদের একাংশ রুখে দাঁড়ান। তারা ভুটভুটিটি আটক করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু কোন ভুটভুটি চালক এবং ভুটভুটিতে থাকা এক ব্যক্তির মধ্যে কেউই কোন বৈধ কাগজ দেখাতে পারেন নি।তারা মৌখিকভাবে জানান ঝড়ে বিট অফিসে যে গাছ ভেঙে পড়েছিল সেই গাছ কাটার জন্য তাদের বিট অফিসে ডাকা হয়েছিল। গাছ কাটার পর পারিশ্রমিক হিসেবে তাদের সেগুন গাছের এই কাটা লগগুলি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর স্বপক্ষে তারা কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গ্রামবাসীরা হবিবপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সেগুন গাছের কাটা লগ বোঝাই ভুটভুটি সহ তার চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসী জ্যোতির্ময় সিংহ গোটা ঘটনায় অবৈধভাবে গাছ পাচারের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশে। তার ভিত্তিতে পুলিশ ভুটভুটি চালককে গ্রেপ্তার করে বুধবার তাকে পেশ করে মালদা জেলা আদালতে। যদিও এই বিষয়ে বন দপ্তরের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Share This
Categories
বিবিধ

‘কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো শিখতে হবে’ — বিজেপি নেতৃত্বের প্রশংসায় সুশান্ত ঘোষ।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- অরূপ চক্রবর্তী- আইপ্যাক পয়সা নিয়েছে সার্ভিস দিয়েছে। মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেছে। আর জি করের ঘটনায় মহিলা ভোট বিমুখ হয়েছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। ভাবের ঘরে চুরি করে লাভ নেই। ডিসেম্বর পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি আমরা। বাসিন্দারা তাদের মূল্যবান স্বাক্ষরের জন্য আমাদেরকে পাবেন না যদি পদত্যাগ করি। যদি মানুষ চায় আগামী দিন আমরা পদত্যাগ করে দেবো। দক্ষিণ কলকাতায় কর্মীদের ঢুকিয়ে দিয়ে বাহিনীর নামে যারা দাপিয়ে বেড়েছিল আসলে কর্মীরা রাজনীতি করার সুযোগ পায়নি। গত চার বছর ধরে যারা কব্জা করেছে। আমার রুবি মোরে যে পার্টি অফিস ভাঙচুর হয়েছে তার সাথে বিজেপির কোন সম্পর্ক নেই। কারা করেছে পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি করছি।

অরূপ চক্রবর্তী- দুপুর বারোটার পর যারা বিজেপি হয়েছে তারাই আক্রমণ করছে। ধন্যবাদ জানাবো সৌমিক ভট্টাচার্যকে এই ধরনের স্টেটমেন্ট দেওয়ার জন্য যেটা আমরা ২০২১ সালেই দিতে পারিনি। ধন্যবাদ জানাবো তারা শুধু বিবৃতি নয়, অ্যাকশন নিয়েছে।

সুশান্ত ঘোষ- আমাদের খুব এবং অভিমান নেতৃত্বরা কর্মীদের খারাপ দিনে পাশে দাঁড়িয়ে কিভাবে রাজনীতি করতে হয় সেটা আমাদের যারা মন্ত্রী ছিলেন তাদেরকে শমিক ভট্টাচার্য দিলীপ ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে শিখতে হবে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

তুষারস্বর্গ — Zermatt : আল্পস, বরফ ও নিস্তব্ধ সৌন্দর্যের এক অনন্য জগৎ।

✨ ভূমিকা
সুইজারল্যান্ডের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বরফে ঢাকা পাহাড়, সবুজ উপত্যকা, নীল হ্রদ আর কাঠের ছোট ছোট বাড়ি। আর এই সব সৌন্দর্যকে একসঙ্গে ধারণ করে আছে Zermatt — সুইস আল্পসের কোলে অবস্থিত এক অপূর্ব পাহাড়ি শহর।
Zermatt এমন একটি জায়গা, যেখানে প্রকৃতি যেন নিজের সবচেয়ে সুন্দর রূপ মেলে ধরেছে। চারদিকে তুষারঢাকা পাহাড়, শান্ত পরিবেশ, ঠান্ডা বাতাস এবং মেঘে ঢাকা আকাশ এই শহরটিকে রূপকথার মতো করে তুলেছে।
বিশ্ববিখ্যাত Matterhorn পর্বতের জন্য Zermatt পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে ভ্রমণে আসেন। কেউ আসেন বরফ দেখতে, কেউ স্কিইং করতে, আবার কেউ শুধু প্রকৃতির মাঝে কিছুটা শান্ত সময় কাটাতে।
🏔️ Zermatt-এর ভৌগোলিক অবস্থান
Zermatt সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণাংশে Valais অঞ্চলে অবস্থিত। এটি আল্পস পর্বতমালার মাঝে একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর পাহাড়ি শহর।
শহরটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিখ্যাত Matterhorn। পিরামিড আকৃতির এই বরফঢাকা পর্বত পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত পাহাড়।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত Zermatt পুরো বছরজুড়েই ঠান্ডা ও মনোরম আবহাওয়ার জন্য পরিচিত।
⛰️ Matterhorn — সুইজারল্যান্ডের প্রতীক
Matterhorn শুধু একটি পাহাড় নয়; এটি সুইজারল্যান্ডের প্রতীক।
৪,৪৭৮ মিটার উচ্চতার এই পাহাড় পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত শৃঙ্গ। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় Matterhorn-এর চূড়ায় আলো পড়লে পুরো পাহাড় সোনালি রঙে ঝলমল করে ওঠে।
এই দৃশ্য এতটাই সুন্দর যে অনেকেই একে পৃথিবীর সেরা পাহাড়ি দৃশ্যগুলোর একটি বলে মনে করেন।
🚆 Zermatt যাওয়ার ট্রেন যাত্রা
Zermatt ভ্রমণের অন্যতম সেরা অংশ হলো এখানকার ট্রেন যাত্রা।
এই শহরে সাধারণ গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। তাই এখানে পৌঁছাতে হয় ট্রেনে।
Glacier Express হলো বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ট্রেন রুট, যা Zermatt-এর সঙ্গে যুক্ত।
ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা যায়—
বরফঢাকা পাহাড়
সবুজ উপত্যকা
ঝরনা
ছোট পাহাড়ি গ্রাম
কাঠের বাড়ি
এই যাত্রা যেন একটি চলন্ত সিনেমা।
❄️ শীতের Zermatt — বরফের রাজ্য
শীতকালে Zermatt পুরোপুরি বরফে ঢেকে যায়।
চারদিকে শুধু সাদা তুষার, ঠান্ডা বাতাস আর নিস্তব্ধ পরিবেশ। এই সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা এখানে স্কিইং করতে আসেন।
Zermatt পৃথিবীর অন্যতম সেরা স্কি রিসোর্ট হিসেবে পরিচিত।
এখানে রয়েছে—
Skiing
Snowboarding
Ice Climbing
Snow Hiking
Winter Photography
🎿 স্কিইং-এর স্বর্গ
Zermatt স্কিইং প্রেমীদের কাছে স্বপ্নের জায়গা।
এখানে শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ স্কি ট্র্যাক রয়েছে। নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় ধরনের স্কিয়ারদের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।
বরফের পাহাড় বেয়ে নিচে নামার সময় চারপাশের দৃশ্য এতটাই সুন্দর যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
🚠 Gornergrat Railway — মেঘের ওপরে ভ্রমণ
Gornergrat Railway ইউরোপের অন্যতম বিখ্যাত পাহাড়ি ট্রেন।
এই ট্রেনে করে উপরে উঠলে দেখা যায়—
Matterhorn
বরফঢাকা আল্পস
বিশাল হিমবাহ
মেঘের সমুদ্র
উপরে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন আকাশের খুব কাছে চলে এসেছি।
🌨️ Glacier Paradise — ইউরোপের সর্বোচ্চ কেবল কার স্টেশন
Matterhorn Glacier Paradise Zermatt-এর অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ।
এটি ইউরোপের সর্বোচ্চ কেবল কার স্টেশনগুলোর একটি।
এখানে রয়েছে—
বরফের গুহা
Glacier Palace
Observation Deck
সারা বছর বরফের অভিজ্ঞতা
উপরে থেকে ইতালি, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের আল্পস দেখা যায়।
🌸 গ্রীষ্মের Zermatt
গ্রীষ্মে Zermatt সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
বরফের পাশাপাশি তখন পাহাড়ের নিচে সবুজ ঘাস ও রঙিন ফুল ফুটে ওঠে।
এই সময় জনপ্রিয় কার্যকলাপগুলো হলো—
Hiking
Mountain Biking
Camping
Nature Walk
Photography
🌲 প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ
যারা শান্ত পরিবেশে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য Zermatt আদর্শ স্থান।
এখানে নেই বড় শহরের কোলাহল। শুধু পাহাড়, বরফ, ঠান্ডা বাতাস এবং পাখির ডাক।
ভোরবেলায় Matterhorn-এর ওপর সূর্যের আলো পড়ার দৃশ্য মানুষের মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
🏡 কাঠের বাড়ি ও পাহাড়ি সংস্কৃতি
Zermatt-এর ছোট ছোট কাঠের বাড়িগুলো শহরের অন্যতম সৌন্দর্য।
এই বাড়িগুলো ঐতিহ্যবাহী সুইস স্থাপত্যের নিদর্শন। শীতকালে বরফে ঢাকা কাঠের বাড়িগুলো দেখতে যেন রূপকথার গ্রামের মতো লাগে।
🍫 সুইস খাবার ও চকলেট
Zermatt-এ সুইস খাবারের স্বাদ অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এখানে বিখ্যাত খাবারের মধ্যে রয়েছে—
Cheese Fondue
Rösti
Swiss Chocolate
Alpine Cheese
Hot Chocolate
বরফের মাঝে গরম চকলেট খাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।
📷 ফটোগ্রাফারদের স্বপ্ন
Zermatt পৃথিবীর অন্যতম ফটোগ্রাফি-বান্ধব স্থান।
বিশেষ করে Matterhorn-এর ছবি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং তুষারপাতের সময় এখানে প্রতিটি দৃশ্য যেন একটি জীবন্ত পোস্টকার্ড।
🌍 কেন Zermatt এত জনপ্রিয়?
✔ Matterhorn পর্বতের জন্য
✔ পৃথিবীর সেরা স্কি রিসোর্টগুলোর একটি
✔ বরফে ঢাকা আল্পসের অসাধারণ দৃশ্য
✔ শান্ত ও দূষণমুক্ত পরিবেশ
✔ পাহাড়ি ট্রেন ও কেবল কার
✔ সারা বছর বরফ দেখার সুযোগ
✔ ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ স্থান
💰 ভ্রমণের সম্ভাব্য খরচ
Zermatt ভ্রমণ তুলনামূলক ব্যয়বহুল।
সম্ভাব্য খরচ
হোটেল: ১০,০০০–৪০,০০০ টাকা
খাবার: ৪,০০০–১০,০০০ টাকা
ট্রেন ও কেবল কার: ৫,০০০–২৫,০০০ টাকা
স্কিইং: আলাদা খরচ
তবে অভিজ্ঞতা জীবনের অন্যতম সেরা হতে পারে।
❤️ একজন ভ্রমণকারীর অনুভূতি
Zermatt এমন একটি জায়গা যেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রকৃতির মহত্ত্ব অনুভব করতে পারে।
এখানে সময় যেন ধীরে চলে। বরফের মাঝে দাঁড়িয়ে দূরের পাহাড়ের দিকে তাকালে মনে হয় পৃথিবী কত শান্ত ও সুন্দর হতে পারে।
অনেকেই বলেন, Zermatt-এ একবার গেলে সেই স্মৃতি কখনও ভোলা যায় না।
✨ উপসংহার
Zermatt শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি প্রকৃতির এক অপার্থিব সৃষ্টি।
বরফঢাকা পাহাড়, Matterhorn-এর মহিমা, শান্ত পরিবেশ এবং আল্পসের সৌন্দর্য এই শহরটিকে পৃথিবীর অন্যতম স্বপ্নের গন্তব্যে পরিণত করেছে।
যারা জীবনে অন্তত একবার প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর রূপ দেখতে চান, তাদের জন্য Zermatt নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ স্থান।
এখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকে।

Share This
Categories
বিবিধ

ব্লকের খামতি ও উন্নয়ন নিয়ে বিডিওদের সঙ্গে আলোচনা জেলা প্রশাসনের

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা: — অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে বিডিওদের সঙ্গে বৈঠক জেলা শাসকের। বুধবার গাজোল ব্লক অফিসে চাচোল, পুরাতন মালদা, বামনগোলা বিডিওদের সঙ্গে সরাসরি তার পাশাপাশি জেলা বেশ কয়েকটি বিডিওদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অগ্রগতি সহ ব্লকের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ব্লক গুলির কোথাও কোন উন্নয়ন থমকে রয়েছে কিনা, বা কোথায় কিছু খামতি আছে কিনা কি করে সমাধান করা যায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর ।

Share This
Categories
বিবিধ

গৌর গুইন মেমোরিয়াল কলেজে SFI-এর বিনামূল্যের ফরম ফিলাপ ক্যাম্প।

পশ্চিম মেদিনীপুর , নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড গৌরব গুইন মেমোরিয়াল কলেজে শুরু হয়েছে কলেজে ভর্তির জন্য ফরম পূরণের কাজ। বুধবার ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে SFI ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে খোলা হয়েছে ক্যাম্প, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে ফরম পূরণের কাজ করছে SFI ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। এই দিন উপস্থিত ছিলেন SFI জেলা সভাপতি সুকুমার মাঝি সহ অন্যান্য SFI ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা।

Share This
Categories
বিবিধ

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাঁটা ও প্ল্যাকার্ড হাতে অভিযানে এলাকাবাসী।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সরকার বদলের পরই বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের পঞ্চমীতে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো গ্রামবাসী। রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর রাজত্ব করেছে তৃণমূলের সরকার। তৃণমূল সরকারি থাকাকালীন বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতি করেছে একাধিক তৃণমূল নেতা বলে অভিযোগ। এবার সেইসব দুর্নীতিবাজ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো এলাকাবাসীরা।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, যেমন ইন্দিরা আবাসের টাকা,মসজিদের টাকা,বাথরুমের টাকা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে তৃণমূল নেতারা।
এতদিন গ্রামবাসীরা কিছু বলার সাহস পাননি। কিছু বলতে গেলে মারধোর করা হতো বলে অভিযোগ। একইসাথে তৃণমূল সরকার চলাকালীন কেশপুরের পঞ্চমী গ্রামে বিরোধী দল করার সাহস কেও দেখালে তাদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এরকম অনেকেই এখনও বাড়ীছাড়া। এই দিন গ্রামবাসীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ঝাঁটা নিয়ে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালালো গ্রামবাসীরা।

Share This
Categories
বিবিধ

গভীর রাতে পুলিশের হানায় উদ্ধার চারটি আগ্নেয়াস্ত্র।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– মালদহে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার যুবক। উদ্ধার হয়েছে দুইটি সেভেন এমএম পিস্তল, পাইপগান, মাসকেট সহ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র। এছাড়া উদ্ধার হয়েছে সাত রাউন্ড কার্তুজ। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহম্মদ ফারুক (২১) নামে অস্ত্র কারবারিকে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, গভীর রাতে মালদহের মানিকচক থানার পুলিশ গোপালপুর পঞ্চায়েতের জেসারতটোলা এলাকায় মোঃ ফারুকের বাড়িতে হানা দেয়। রাত দুটো নাগাদ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে লুকানো অবস্থায় থাকা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। ধৃত যুবক ফারুক কি উদ্দেশ্যে? কোথা থেকে এত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র জমা করেছিল? তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড রাজ্য থেকে আগ্নেয়াস্ত্র গুলি আনা হয়েছে কীনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত যুবক ফারুক সম্পর্কে জেলার কোথাও কোনও পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কীনা তা খোঁজ নিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

চার ঘণ্টার অবরোধের জেরে ভোগান্তি, অবশেষে গ্রেফতার অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য।

মালদা, নিজস্বসংবাদদাতা :- অবরোধের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম শামসুল হক। তিনি মঙ্গলবাড়ী অঞ্চলের জলঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ এপ্রিল পুরাতন মালদার নারায়নপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। ওই অবরোধে ব্যাপক জমায়েত হয় এবং প্রায় চার ঘণ্টা ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত থাকে। ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।এই ঘটনায় মালদা থানার পক্ষ থেকে প্রায় ২০-২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলায় শামসুল হকও অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।মঙ্গলবার বিকেলে নারায়নপুর বিএসএফ ক্যাম্প এলাকা থেকেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাকে মালদা জেলা আদালতে তোলা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই তৃণমূল নেতা এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

Share This