গল্প : শেষ ট্রেনের যাত্রী।
রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। ছোট্ট স্টেশনটির নাম শিমুলতলা। দিনের বেলায় স্টেশনটিতে বেশ ভিড় থাকে, কিন্তু রাত বাড়তেই চারপাশ যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। প্ল্যাটফর্মের দু’টি হলুদ আলো মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছিল। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর তার সঙ্গে মিশে ছিল হালকা বৃষ্টির শব্দ। স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে একা বসে ছিলেন অরুণবাবু। বয়স প্রায় […]
গল্প : পুরনো ছাতাটা।
বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল রতন। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। ছোট্ট একটি কাপড়ের দোকান চালায় সে। সারাদিন দোকানে বসে থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরাই তার প্রতিদিনের নিয়ম। সেদিন আকাশটা সকাল থেকেই মেঘলা ছিল। সন্ধ্যার পর হঠাৎ বৃষ্টি নেমে গেল। রতনের হাতে ছিল একটা পুরনো কালো ছাতা। ছাতাটার একটা শিক বাঁকা, কাপড়ের কয়েক জায়গায় সেলাই করা। দেখতে এতটাই পুরনো […]
জানালার ওপাশে আলো।
প্রতিদিন রাত ঠিক দশটায় নীলার বাড়ির পাশের পুরনো বাড়িটিতে একটি আলো জ্বলে উঠত। তারপর রাত বারোটায় ঠিক একইভাবে আলোটি নিভে যেত। বছরের পর বছর ধরে একই ঘটনা। বাড়িটা বহুদিন ধরে তালাবন্ধ। জানালাগুলো ধুলোয় ঢাকা, দেওয়ালের রং উঠে গেছে, উঠোনে আগাছা। নীলা ছোটবেলা থেকেই বাড়িটাকে দেখে আসছে। তার ঠাকুমা বলতেন, “ও বাড়ির দিকে বেশি তাকাস না।” […]
যে চিঠির ঠিকানা ছিল না।
বিনোদবাবু ডাকপিয়নের চাকরি করতেন। প্রায় তিরিশ বছর ধরে তিনি একই এলাকার বাড়ি-বাড়ি চিঠি বিলি করেছেন। কারও চাকরির নিয়োগপত্র, কারও বিয়ের নিমন্ত্রণ, কারও বিদেশে থাকা ছেলের চিঠি—হাজার হাজার চিঠি তাঁর হাত ঘুরে মানুষের কাছে পৌঁছেছে। চিঠি বিলি করা তাঁর কাছে শুধু চাকরি ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি চিঠির মধ্যে কখনও কখনও একটা মানুষের পুরো পৃথিবী […]
ঘড়িটা থেমে ছিল।
সুব্রত বাবার ঘরটা পরিষ্কার করছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে। এতদিন ঘরটা খোলেনি। দরজা খুললেই পুরনো কাঠ, বই আর চন্দনের গন্ধ মিশে এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করত। সুব্রত খুব বেশি কথা বলত না। বাবার সঙ্গে তার সম্পর্কও শেষ কয়েক বছর ভালো ছিল না। বাবা ছিলেন স্কুলশিক্ষক। নিয়মকানুনের ব্যাপারে কঠোর। আর সুব্রত […]
নীরবতার ভাষা।
কলেজের লাইব্রেরির শেষ কোণের টেবিলটায় প্রতিদিন এসে বসত মেয়েটা। সাদা সালোয়ার, চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, আর সামনে সবসময় একটা খোলা খাতা। অর্ণব প্রথম দিন থেকেই লক্ষ্য করেছিল তাকে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মেয়েটা কারও সঙ্গে কথা বলত না। শুধু মৃদু হেসে মাথা নাড়ত। একদিন লাইব্রেরিয়ান কাকু বললেন, — “ওর নাম তৃষা। ছোটবেলায় অসুস্থতার পর থেকে কথা […]
চাঁদের আলোয় প্রতিশ্রুতি।
গ্রামের শেষ প্রান্তে ছোট্ট নদীর ধারে একটা পুরোনো ঘাট ছিল। পূর্ণিমার রাতে সেখানে বসতে খুব ভালোবাসত নীল আর ঐশী। দু’জনেই স্বপ্ন দেখত— একদিন শহরে গিয়ে নিজেদের মতো একটা জীবন গড়বে। সেদিনও আকাশভরা চাঁদ। নদীর জলে রুপালি আলো ঝিলমিল করছে। ঐশী হঠাৎ বলল, — “যদি কোনোদিন আমরা আলাদা হয়ে যাই?” নীল মৃদু হেসে তার হাতটা ধরল। […]
শেষ ট্রেনের যাত্রী।
রাত তখন প্রায় বারোটা। শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে যাওয়া শেষ লোকাল ট্রেনটা প্রায় ফাঁকা। অভ্র জানালার পাশে বসে ছিল। ক্লান্ত চোখে বাইরে অন্ধকার শহরটা দেখছিল সে। সারাদিনের কাজের পর এই নিঃশব্দ ট্রেনযাত্রাটুকুই যেন তার নিজের সময়। হঠাৎ পরের স্টেশনে এক মেয়ে উঠে এসে তার সামনের সিটে বসল। কালো শাল জড়ানো, ভেজা চুল, আর হাতে ছোট্ট একটা […]
হারিয়ে যাওয়া ডায়েরি।
পুরোনো বইয়ের দোকানটা শহরের এক কোণে আজও নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। ধুলো জমা তাক, হলদেটে পাতা আর পুরোনো কাগজের গন্ধে ভরা ছোট্ট দোকানটায় খুব কম লোকই আসে। সেদিন বিকেলে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দোকানে ঢুকেছিল ঋতম। বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ একটা পুরোনো নীল ডায়েরি তার হাতে এলো। মলাটের ওপর ছোট করে লেখা— “যদি কখনো হারিয়ে যাই, […]
এক কাপ চায়ের গল্প।
কলকাতার পুরোনো এক গলির মোড়ে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান ছিল। দোকানটার নাম কেউ জানত না, সবাই শুধু বলত— “কাকুর দোকান।” প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় সেখানে এসে বসত অর্ণব। এক কাপ লাল চা আর খবরের কাগজ— এটাই ছিল তার অভ্যাস। আর ঠিক সেই সময়েই আসত একটি মেয়ে। সাদা কুর্তি, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ, মুখে অদ্ভুত শান্ত একটা হাসি। […]