ভারতের আধুনিক স্থাপত্যের ইতিহাসে চণ্ডীগড় একটি অনন্য নাম। স্বাধীনতার পর নতুন ভারতের স্বপ্নকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এই শহর শুধু একটি প্রশাসনিক রাজধানী ছিল না; এটি ছিল আধুনিক ভারতের নতুন পরিচয়ের একটি স্থাপত্য-প্রতীক। শহরটির পরিকল্পনা ও নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লে করবুজিয়ে, পিয়ের জ্যাঁরের, জেন ড্রু-সহ বহু স্থপতির নাম।
কিন্তু এই আন্তর্জাতিক খ্যাতির আড়ালে এমন একজন ভারতীয় নারী ছিলেন, যাঁর অবদান দীর্ঘদিন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি উর্মিলা ইউলি চৌধুরী—ভারতের আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম পথিকৃৎ, স্থপতি, শিক্ষক, ডিজাইনার, লেখক এবং প্রশাসক।
চণ্ডীগড় প্রকল্পে তিনি ছিলেন একমাত্র ভারতীয় নারী স্থপতি। লে করবুজিয়ে ও পিয়ের জ্যাঁরের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিজেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও নকশা তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের প্রধান স্থপতির দায়িত্বও পালন করেন।
শৈশব থেকেই ছিল অন্যরকম পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয়
উর্মিলা ইউলি চৌধুরীর জন্ম ১৯২৩ সালের ৪ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন কূটনীতিক। বাবার পেশার কারণে ছোটবেলা থেকেই ইউলির জীবন ছিল বহুমাত্রিক। তাঁকে ভারতের এক জায়গায় স্থির হয়ে বড় হতে হয়নি; বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছিল শৈশবেই।
তিনি জাপানে স্কুলশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্থাপত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে সিরামিকস নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় তাঁর চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
তিনি শুধু স্থাপত্য জানতেন না। ফরাসি ভাষাতেও তাঁর দক্ষতা ছিল। এই বহুমুখী শিক্ষা পরবর্তীকালে চণ্ডীগড় প্রকল্পে তাঁকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
স্বাধীন ভারতের নতুন শহরের ডাক
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দেশটি এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। দেশভাগের ফলে পাঞ্জাব তার পুরনো রাজধানী লাহোর হারায়। স্বাধীন ভারতের নতুন পাঞ্জাবের জন্য একটি নতুন রাজধানীর প্রয়োজন দেখা দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে চণ্ডীগড়কে নতুন শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
লে করবুজিয়ে-র নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক স্থপতিদের একটি দল এই প্রকল্পে যুক্ত হয়। ১৯৫১ সালে ইউলি চৌধুরীও সেই দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ১৯৫১ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ১৯৬৮ সালে আবার চণ্ডীগড় প্রকল্পে ফিরে আসেন।
তখন চণ্ডীগড় আজকের মতো সুপরিকল্পিত শহর ছিল না। নতুন শহরের রাস্তা, সরকারি ভবন, আবাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসর—সবকিছুই কার্যত নতুন করে ভাবতে হচ্ছিল।
এই বিশাল কাজের মধ্যে ইউলি চৌধুরীর ভূমিকা ছিল বহুমুখী।
লে করবুজিয়ে ও পিয়ের জ্যাঁরের সঙ্গে কাজ
বিশ্বখ্যাত স্থপতি লে করবুজিয়ে-র সঙ্গে কাজ করা যে কোনও স্থপতির জন্যই বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু ইউলি চৌধুরীর ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু একজন বিখ্যাত স্থপতির সহযোগী হিসেবে কাজ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তিনি চণ্ডীগড়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন। ক্যাপিটল কমপ্লেক্স, জিওমেট্রিক হিল, টাওয়ার অব শ্যাডোস এবং মার্টার্স মেমোরিয়ালের মতো প্রকল্পের বিস্তারিত ড্রয়িং তৈরির কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল।
ফরাসি ভাষায় তাঁর দক্ষতার কারণে তিনি লে করবুজিয়ে, পিয়ের জ্যাঁরের এবং ভারতীয় স্থপতি ও প্রশাসকদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অর্থাৎ তিনি শুধু নকশা আঁকতেন না; বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পেশাগত পরিমণ্ডলের মধ্যে একটি সেতু হিসেবেও কাজ করতেন।
নিজের স্থাপত্য-পরিচয়
অন্যের পরিকল্পনায় সহযোগিতা করার পাশাপাশি ইউলি চৌধুরী নিজের স্থাপত্য-ভাবনাকেও বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।
চণ্ডীগড়ের Government Home Science College তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির একটি। Women’s Polytechnic এবং কয়েকটি সরকারি আবাসনের নকশার সঙ্গেও তাঁর সরাসরি সম্পর্ক ছিল। ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, Home Science College, Women’s Polytechnic এবং বেশ কিছু মন্ত্রীর বাড়ির নকশা ও নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এই কাজগুলির মধ্য দিয়ে তাঁর স্থাপত্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আধুনিকতা ও ব্যবহারিকতার সমন্বয়।
তিনি শুধু একটি ভবনকে সুন্দর দেখাতে চাইতেন না। ভবনটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কারা ব্যবহার করবে এবং ভারতীয় পরিবেশে সেটি কতটা কার্যকর হবে—এসব বিষয়ও তাঁর চিন্তার অংশ ছিল।
‘চণ্ডীগড় চেয়ার’-এর গল্প
ইউলি চৌধুরীর নামের সঙ্গে যে বিষয়টি বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে, সেটি হলো চণ্ডীগড়ের বিখ্যাত কাঠ ও বেতের আসবাব।
আজ সারা বিশ্বে “Chandigarh Chair” বা “Jeanneret Chair” নামে পরিচিত কিছু আসবাব সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু এগুলির ইতিহাসে ইউলি চৌধুরীর অবদান বহুদিন যথেষ্ট স্বীকৃতি পায়নি।
ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের গবেষণায় ইউলি চৌধুরীকে এই আসবাবের নকশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, তিনি চণ্ডীগড়ের আসবাবের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর নকশা করা কিছু চেয়ার পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইউলি চৌধুরী শুধু আসবাবের সৌন্দর্য নিয়ে ভাবেননি; তিনি মানুষের শরীরের অনুপাতের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
লে করবুজিয়ে ও জ্যাঁরের ব্যবহৃত কিছু মাপ ছিল ইউরোপীয় পুরুষের গড় শরীরের অনুপাতকে ভিত্তি করে। ইউলি চৌধুরী সেগুলিকে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য নতুনভাবে বিবেচনা করেছিলেন। ফলে আসবাবগুলি আরও আরামদায়ক ও ব্যবহারোপযোগী হয়ে ওঠে।
এটি দেখায় যে একজন স্থপতির কাজ কেবল বড় বড় ভবন নির্মাণ নয়; একটি সাধারণ চেয়ারের নকশাতেও মানুষের জীবনযাত্রার প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ পেতে পারে।
স্থাপত্যের বাইরে একজন বহুমুখী মানুষ
ইউলি চৌধুরী শুধু স্থপতি ছিলেন না। তিনি শিক্ষক, লেখক, ডিজাইনার এবং অনুবাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।
১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লির School of Architecture-এর পরিচালক ছিলেন। এই দায়িত্ব তাঁর শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে।
লে করবুজিয়ে-র সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি Those Were the Days নামে স্মৃতিকথাও লেখেন।
ফরাসি ভাষায় দক্ষতার কারণে তিনি অনুবাদের কাজও করেন। লে করবুজিয়ে-র Three Human Establishments বইটি ফরাসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের কাজের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্র স্থাপত্যের চার দেয়ালের মধ্যে আটকে ছিল না।
সরকারি স্থাপত্য প্রশাসনে নেতৃত্ব
ইউলি চৌধুরীর কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল সরকারি স্থাপত্য প্রশাসনে তাঁর নেতৃত্ব।
১৯৭০ সালে তিনি হরিয়ানার Chief Architect হন। পরে পাঞ্জাবের Chief State Architect-এর দায়িত্বও পালন করেন। চণ্ডীগড়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ ও পরিকল্পনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
একজন নারী হিসেবে সেই সময়ে এত উচ্চপর্যায়ের স্থাপত্য প্রশাসনিক পদে পৌঁছানো ছিল অসাধারণ ঘটনা।
স্থাপত্য তখনও মূলত পুরুষ-প্রধান পেশা। সেই পরিবেশে একজন নারী শুধু পেশায় টিকে থাকেননি; বরং নেতৃত্বের শীর্ষস্থানেও পৌঁছেছিলেন।
নারী হওয়াটাই ছিল এক নীরব চ্যালেঞ্জ
ইউলি চৌধুরীর সময়ে ভারতে পেশাদার নারী স্থপতির সংখ্যা ছিল খুবই কম।
তাঁর সামনে বাধা ছিল একাধিক—নারী হওয়া, সদ্য স্বাধীন দেশের সীমিত পেশাগত পরিকাঠামো, পুরুষ-প্রধান স্থাপত্যজগৎ এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতিদের সঙ্গে কাজ করার চাপ।
কিন্তু তিনি নিজেকে কখনও শুধুমাত্র “একজন নারী স্থপতি” হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি।
তিনি স্থপতি হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এই কারণেই তাঁকে ভারতের আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণ করা হয়। কিছু সূত্র তাঁকে এশিয়ার প্রথমদিকের নারী স্থপতিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করে; তবে “এশিয়ার প্রথম মহিলা স্থপতি” দাবিটি নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রগুলির মধ্যে একমত নেই। তাই তাঁর অবদানকে নিশ্চিতভাবে ভারতের প্রথমদিকের নারী স্থপতিদের অন্যতম হিসেবে দেখা বেশি নিরাপদ।
Alliance Française এবং সাংস্কৃতিক কাজ
অবসর গ্রহণের পরও ইউলি চৌধুরী থেমে থাকেননি।
১৯৮১ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি চণ্ডীগড়ে ব্যক্তিগত স্থাপত্যচর্চা চালিয়ে যান। ১৯৮৩ সালে তিনি Alliance Française de Chandigarh প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং সংগঠনটির প্রথম দিকের নেতৃত্বে ছিলেন।
এটি তাঁর বহুসাংস্কৃতিক মানসিকতারই আরেকটি উদাহরণ।
ভারতীয় স্থাপত্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির যে যোগাযোগ তিনি নিজের জীবনে অনুভব করেছিলেন, সেই যোগাযোগকে তিনি পরবর্তী জীবনেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকার
ইউলি চৌধুরী ছিলেন Royal Institute of British Architects এবং Indian Institute of Architects-এর নির্বাচিত Fellow—ভারতীয় নারী স্থপতিদের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
তিনি ১৯৬৪ সালে তাঁর স্থাপত্যকর্ম এবং কম খরচের আসবাব নকশার জন্য রাষ্ট্রপতির পদকও লাভ করেন।
তবে পুরস্কারের চেয়েও বড় তাঁর উত্তরাধিকার হলো চণ্ডীগড়ের দৃশ্যমান স্থাপত্য।
আজ চণ্ডীগড়ের বহু ভবন, রাস্তা, আবাসিক এলাকা এবং আসবাবের নকশার দিকে তাকালে ইউলি চৌধুরীর কাজের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়।
দুঃখের বিষয়, বহু বছর ধরে তাঁর অবদান জনপ্রিয় স্থাপত্য-আলোচনায় তুলনামূলকভাবে কম জায়গা পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গবেষক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁর অবদান নতুন করে সামনে আনছে।
শেষ জীবন
ইউলি চৌধুরী ১৯৯৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত স্থাপত্য, লেখা, সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল।
তিনি চলে গেলেও তাঁর তৈরি ভবন ও নকশাগুলি থেকে গেছে।
আর থেকে গেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—একটি শহর শুধু ইট, কংক্রিট, রাস্তা ও ভবনের সমষ্টি নয়। একটি শহর মানুষের চিন্তা, সংস্কৃতি, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের ধারণাকেও ধারণ করে।
উপসংহার
উর্মিলা ‘ইউলি’ চৌধুরীর জীবন আমাদের সামনে একজন এমন নারীর ছবি তুলে ধরে, যিনি নিজের প্রতিভাকে কোনও নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখেননি।
তিনি স্থপতি ছিলেন, কিন্তু শুধু স্থপতি নন।
তিনি শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু শুধু শিক্ষক নন।
তিনি ডিজাইনার ছিলেন, লেখক ছিলেন, অনুবাদক ছিলেন, প্রশাসক ছিলেন এবং সংস্কৃতির সেতুবন্ধনকারীও ছিলেন।
চণ্ডীগড়ের ইতিহাসে লে করবুজিয়ে-র নাম যেমন অবিচ্ছেদ্য, তেমনই সেই বিশাল প্রকল্পের ভারতীয় বাস্তবায়ন ও সৃষ্টিশীল পরিমণ্ডলে ইউলি চৌধুরীর অবদানও স্মরণযোগ্য।
বিশেষ করে তাঁর নকশা করা বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত ভবন ও আসবাব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্থাপত্যের সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখা যায় না; মানুষের ব্যবহার, আরাম এবং জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্যেও তার সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।
ইউলি চৌধুরীর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হয়তো এই যে, তিনি এমন একটি সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন, যখন স্থাপত্যের পৃথিবী নারীদের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। তিনি শুধু সেই পৃথিবীতে প্রবেশ করেননি—নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সেই পৃথিবীর একটি অংশকে বদলে দিয়েছিলেন।
তাঁর জীবন তাই ভারতীয় নারীর সাফল্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যে অধ্যায়ের স্থাপত্য আজও চণ্ডীগড়ের রাস্তায়, ভবনে এবং আসবাবে নীরবে কথা বলে।