ফিরে এসো শৈশব আমার, ফিরে এসো সেই দিনে, যখন সুখের মানে ছিল হাসি বন্ধুদের সনে।
কাগজ দিয়ে নৌকা বানিয়ে ভাসাতাম বৃষ্টির জলে, মেঘের গর্জন শুনে তখন দৌড় দিতাম মায়ের কোলে।
স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজলে মনটা হতো খুশি, বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে গিয়ে হাসতাম রাশি রাশি।
কাঁচা আমের টক স্বাদটুকু আজও মনে পড়ে, লুকিয়ে খাওয়া সেই দুপুরটা স্মৃতির পাতায় জড়ে।
মাটির ঘরে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙত যে ভোরে, বাবার হাতটা ধরে হাঁটতাম গ্রামের মেঠো পথে।
ছিল না কোনো বড় চাহিদা, ছিল না হিসাব-নিকাশ, একটু খেলনা পেলেই যেন পেতাম সুখের আকাশ।
আজকে হাতে অনেক কিছু, তবু কোথায় সুখ? হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝে একলা থাকে বুক।
দায়িত্ব এসে কাঁধে চেপেছে, সময় ছোটে দ্রুত, হাসির আড়াল ঢেকে রাখে ক্লান্ত জীবনের ক্ষত।
পুরোনো সেই বন্ধুদের মুখ দেখা হয় না আর, কেউ হারিয়েছে দূর শহরে, কেউ সংসারে ব্যস্ত ভার।
তবু রাতে চোখ বুজলেই ফিরে পাই সেই গ্রাম, মাঠের ধারে তালগাছগুলো ডাকে অবিরাম।
ইচ্ছে করে একদিন আবার শৈশবে ফিরে যাই, মায়ের আঁচল জড়িয়ে ধরে সব দুঃখ ভুলে যাই।
কিন্তু সময় নদীর মতো, ফিরে আসে না স্রোত, শৈশব শুধু স্মৃতি হয়ে বুকের ভেতর জাগায় হাহাকার।
তাই তো আজও শিশুর হাসি দেখলে মনটা ভরে, নিজের হারানো দিনগুলো ফিরে আসে অন্তরে।
শৈশব তুমি হারিয়ে গিয়েও রয়েছ হৃদয়জুড়ে, জীবন যত দূরেই যাক, তোমায় রাখব স্মৃতির ঘরে।