Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: মাটির মানুষের স্বপ্ন।।

মাটির ঘরে জন্ম আমার, মাটির গন্ধ গায়, ছোট্ট সুখের স্বপ্নগুলো আকাশ ছুঁতে চায়।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই দিনমজুরের হাঁটা, ঘামে ভেজা জামার ভেতর হাজার স্বপ্ন গাঁথা।

কৃষক যখন মাঠে নামে, লাঙল ধরে হাতে, সবুজ ফসল হাসি ফোটায় বাংলার ধানের খেতে।

মায়ের হাতে শুকনো রুটি, তবু মমতা ভরা, নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে তুলে দেন আহার।

বাবার চোখে ক্লান্তি জমে, মুখে তবু হাসি, সন্তানেরই ভবিষ্যতের স্বপ্নে মন উদাসী।

কেউ বা থাকে ছোট্ট ঘরে, বৃষ্টিতে চালে জল, তবু তাদের ভালোবাসায় ভরে ওঠে আঁচল।

বড়লোকের প্রাসাদ জুড়ে আলোর কত মেলা, গরিব ঘরের প্রদীপটিও জ্বলে সন্ধ্যাবেলা।

সুখ কি শুধু সোনার গয়না, দামি গাড়ির চাকা? সুখ তো হলো প্রিয়জনের হাতটি শক্ত রাখা।

যে মানুষটি মাটির বুকে পরিশ্রমের বীজ বোনে, তারই ঘামে সভ্যতা আজ নতুন দিনের স্বপ্ন বুনে।

তবু কেন তার চোখের জলে কেউ দেয় না দাম? কেন তারই পরিশ্রমে অন্যের হয় নাম?

যে হাতে গড়ে শহরজুড়ে উঁচু অট্টালিকা, সেই হাতেই অভাব কেন করে বাস চিরকাল?

এসো সবাই শপথ করি, ভেদাভেদ ভুলে যাই, শ্রমের মর্যাদা দিতে শিখে মানবতার গান গাই।

মাটির মানুষ ছোট নয়, ছোট নয় তার আশা, তারই ঘামে পৃথিবী হাসে, তারই বুকে ভালোবাসা।

মাটির মানুষ, মাথা তুলে স্বপ্ন দেখো আজ, তোমার শ্রমেই গড়ে উঠুক আগামীর নতুন সমাজ।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *