Categories
গল্প বিবিধ

গল্প : যে ছোট্ট ঘড়িটি শিখিয়েছিল সময়ের চেয়েও মূল্যবান কিছু আছে।

মালতীপুর বাজারের শেষ মাথায় ছিল একটি ছোট্ট ঘড়ি মেরামতের দোকান। দোকানটির নাম ‘সময়ঘর’। কাঠের দরজার ওপরে ঝুলে থাকা সাইনবোর্ডের রং অনেক আগেই ফিকে হয়ে গিয়েছিল। জানালার কাচে ধুলো জমত, আর ভিতরে ঢুকলেই শোনা যেত নানা রকম ঘড়ির টিকটিক শব্দ।

দোকানের মালিক ছিলেন নরেনচন্দ্র দাস। বয়স প্রায় সত্তর। জীবনের চল্লিশটিরও বেশি বছর তিনি কাটিয়েছেন ঘড়ি মেরামত করে। দেওয়ালঘড়ি, হাতঘড়ি, পকেটঘড়ি—কোনো ঘড়িই তাঁর কাছে অচেনা ছিল না। একটি ছোট্ট যন্ত্রের ভিতরে কোন চাকা কীভাবে ঘোরে, কোন স্প্রিং কতটা চাপ ধরে রাখে, তা তিনি চোখ বন্ধ করেও বুঝতে পারতেন।

তবু গত কয়েক বছরে তাঁর দোকানে ক্রেতা কমে গিয়েছিল।

মানুষ এখন ঘড়ি নষ্ট হলে অনেক সময় নতুন ঘড়ি কিনে নেয়। মোবাইল ফোনে সময় দেখা যায়। পুরোনো যন্ত্র মেরামত করানোর ধৈর্য বা আগ্রহ অনেকেরই নেই।

নরেনবাবু অবশ্য কাউকে দোষ দিতেন না। তিনি শুধু নিজের কাজ করে যেতেন। কখনো কোনো পুরোনো ঘড়ি সারিয়ে দিয়ে বলতেন, “এখনও অনেক দিন চলবে।” কখনো ক্রেতা মেরামতের খরচ শুনে নতুন ঘড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলে শান্তভাবে যন্ত্রটি ফিরিয়ে দিতেন।

তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন বহু বছর আগে। ছেলে চাকরি নিয়ে অন্য শহরে থাকে। নরেনবাবু একাই দোকান চালাতেন। সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর মনে হতো, এই টিকটিক শব্দগুলোই যেন তাঁর একমাত্র সঙ্গী।

সেই বাজারের কাছেই থাকত বারো বছরের ছেলে ঋত্বিক। তার বাবা বাস চালাতেন, মা একটি ছোট খাবারের দোকানে কাজ করতেন। সংসারে খুব বেশি সচ্ছলতা ছিল না। ঋত্বিক পড়াশোনায় ভালো হলেও বইয়ের বাইরের জিনিস নিয়ে তার কৌতূহল ছিল আরও বেশি।

কোনো খেলনা খুলে ভিতরের যন্ত্র দেখতে ইচ্ছে করত তার। ভাঙা টর্চ পেলে ঠিক করার চেষ্টা করত। পুরোনো রেডিওর বোতাম ঘুরিয়ে শব্দ খুঁজত। তার মা মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে বলতেন, “সব জিনিস খুলে ফেলিস কেন? আবার জোড়া লাগাতে পারবি তো?”

ঋত্বিক লজ্জা পেয়ে বলত, “শিখছি তো মা!”

একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে সে ‘সময়ঘর’-এর সামনে দাঁড়াল। দোকানের ভিতরে নরেনবাবু একটি পুরোনো হাতঘড়ি খুলে তার সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করছিলেন। ঋত্বিক কাচের ওপারে মুখ বাড়িয়ে দেখছিল।

নরেনবাবু তাকিয়ে বললেন, “কী দেখছিস?”

ঋত্বিক একটু ইতস্তত করে বলল, “ঘড়ির ভিতরে এত ছোট ছোট জিনিস থাকে! সবগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে?”

নরেনবাবু হেসে বললেন, “সেটা জানতে হলে শুধু বাইরে থেকে তাকালে হবে না। ভিতরের গঠন বুঝতে হবে।”

“আমি কি দেখতে পারি?”

বৃদ্ধ কিছুক্ষণ ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে তাকে ভিতরে ডাকলেন।

সেদিন ঋত্বিক প্রথমবার কাছ থেকে একটি খোলা হাতঘড়ি দেখল। ক্ষুদ্র চাকা, সরু স্প্রিং, ছোট ছোট দাঁতওয়ালা অংশ—সবকিছু দেখে তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।

নরেনবাবু একটি ছোট স্ক্রু দেখিয়ে বললেন, “এই যন্ত্রে প্রতিটি অংশের কাজ আছে। একটা অংশ ঠিকমতো কাজ না করলে পুরো ঘড়ি থেমে যেতে পারে।”

ঋত্বিক জিজ্ঞেস করল, “তাহলে এত ছোট জিনিসও খুব গুরুত্বপূর্ণ?”

“অবশ্যই। ছোট বলে কোনো কিছুকে অপ্রয়োজনীয় ভাববি না।”

সেদিন বাড়ি ফেরার পরও কথাটি তার মনে ঘুরতে লাগল।

এরপর থেকে স্কুল ছুটির পর সপ্তাহে দু-তিন দিন সে নরেনবাবুর দোকানে যেত। প্রথম দিকে শুধু দাঁড়িয়ে কাজ দেখত। কখনো যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করার কাপড় এগিয়ে দিত, কখনো স্ক্রু রাখার ছোট বাক্স গুছিয়ে দিত।

নরেনবাবু তাকে প্রথমেই একটি নিয়ম শিখিয়েছিলেন—যে যন্ত্র খুলবি, তার প্রতিটি অংশ কোথা থেকে খুলেছিস তা মনে রাখতে হবে অথবা লিখে রাখতে হবে। কাজের সময় তাড়াহুড়ো করা চলবে না। কোনো কিছু বুঝতে না পারলে আন্দাজে হাত দেওয়া যাবে না।

ঋত্বিক একটি ছোট খাতা তৈরি করল। সেখানে সে নতুন নতুন শব্দ লিখত—স্প্রিং, গিয়ার, ডায়াল, ব্যালান্স হুইল। পাশে নিজের ভাষায় তাদের কাজ বোঝানোর চেষ্টা করত।

কিন্তু সব দিন তার ভালো কাটত না।

একদিন নরেনবাবু একটি পুরোনো অ্যালার্ম ঘড়ি খুলে পরিষ্কার করতে দিলেন। ঋত্বিক অসাবধানতায় একটি ক্ষুদ্র স্প্রিং কোথায় রেখেছিল ভুলে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সেটি পাওয়া গেল না। ঘড়িটি আর জোড়া লাগানো সম্ভব হলো না।

ঋত্বিক ভয়ে কাঁপতে লাগল।

“আমি খুব ভুল করেছি কাকু। আর কোনো দিন আপনার দোকানে আসব না।”

নরেনবাবু রাগ করলেন না। তিনি শুধু বললেন, “ভুল হয়েছে, সেটা ঠিক। কিন্তু ভুল থেকে পালিয়ে গেলে শেখার সুযোগও হারাবি।”

“কিন্তু ঘড়িটা তো নষ্ট হয়ে গেল!”

“তাই বলে তোর শেখা বন্ধ হবে? আজ থেকে ছোট অংশ খুললে আলাদা পাত্রে রাখবি। কাজ শুরুর আগে আর শেষে অংশের সংখ্যা মিলিয়ে নেবি। ভুলের ক্ষতি পূরণ করতে পারবি না সব সময়, কিন্তু ভুলের পুনরাবৃত্তি কমাতে পারবি।”

ঋত্বিক মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। নরেনবাবু তাকে পরের দিন আবার আসতে বললেন।

সেদিন থেকে ছেলেটি আরও মনোযোগী হয়ে উঠল। সে প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদা পাত্রে রাখত, প্রয়োজন হলে ছবি এঁকে রাখত। কিছুদিনের মধ্যে সে পুরোনো ঘড়ির বাইরের অংশ পরিষ্কার করা এবং সাধারণ কিছু সমস্যা শনাক্ত করতে শিখে গেল।

একদিন দোকানে এলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অরুণবাবু। তাঁর হাতে ছিল একটি ছোট পকেটঘড়ি। ঘড়িটির রুপোলি রং ম্লান হয়ে গেছে, ঢাকনায় আঁচড়, আর কাঁটা অনেক দিন ধরে বন্ধ।

অরুণবাবু ঘড়িটি নরেনবাবুর হাতে দিয়ে বললেন, “এটা আমার বাবার। বাবা আমাকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করার দিন উপহার দিয়েছিলেন। এখন আর বাবা নেই। ঘড়িটাও বহু বছর ধরে বন্ধ। যদি সম্ভব হয়, একটু দেখে দেবেন।”

নরেনবাবু ঘড়িটি খুব যত্ন করে পরীক্ষা করলেন। ভিতরের কিছু অংশ ক্ষয়ে গিয়েছিল। মেরামত করতে সময় লাগবে, আর কয়েকটি উপযুক্ত যন্ত্রাংশ খুঁজে বের করতে হবে।

অরুণবাবু বললেন, “খরচ একটু বেশি হলেও অসুবিধা নেই। তবে সম্ভব না হলে জানাবেন।”

ঘড়িটি মেরামতের কাজ শুরু হলো। ঋত্বিক পাশে বসে প্রতিটি ধাপ মন দিয়ে দেখছিল। নরেনবাবু তাকে বোঝালেন, পুরোনো যন্ত্র মেরামত করার সময় শুধু কাজ করলেই হয় না; আগে বুঝতে হয় কোন অংশ নষ্ট হয়েছে, কোন অংশ এখনও ব্যবহারযোগ্য এবং কোথায় নতুন অংশ লাগানো দরকার।

কয়েক দিন পরে ঘড়িটি আবার চলতে শুরু করল। নরেনবাবু সেটি অরুণবাবুর হাতে তুলে দিলেন। পকেটঘড়ির টিকটিক শব্দ শুনে বৃদ্ধ শিক্ষকের চোখ ভিজে উঠল।

তিনি বললেন, “এই শব্দটা শুনে বাবার কথা মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে, বহু বছর আগের একটা দিন আবার ফিরে এল।”

অরুণবাবু চলে যাওয়ার পর ঋত্বিক জিজ্ঞেস করল, “কাকু, ঘড়িটা তো খুব পুরোনো। নতুন একটা কিনলেই পারতেন। তবু এত টাকা খরচ করলেন কেন?”

নরেনবাবু বললেন, “সব জিনিসের মূল্য শুধু তার বাজারদর দিয়ে বোঝা যায় না। কিছু জিনিসের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি, সম্পর্ক আর জীবনের গল্প জড়িয়ে থাকে। সেই মূল্যটা বোঝার জন্য মন দিয়ে শুনতে হয়।”

ঋত্বিক দীর্ঘক্ষণ কথাটি নিয়ে ভাবল।

এর কিছুদিন পর স্কুলে বিজ্ঞান প্রদর্শনীর ঘোষণা হলো। ছাত্রছাত্রীদের এমন একটি প্রকল্প তৈরি করতে বলা হলো, যেখানে কোনো বৈজ্ঞানিক নীতি সহজভাবে বোঝানো যাবে।

ঋত্বিক প্রথমে ভাবল, একটি ছোট ঘড়ির যন্ত্র খুলে তার কাজ দেখাবে। কিন্তু নরেনবাবু তাকে বললেন, “শুধু খোলা যন্ত্র দেখালে হবে না। কীভাবে কাজ করে, সেটাও বুঝিয়ে বলতে হবে।”

ঋত্বিক পুরোনো কিছু যন্ত্রাংশ নিয়ে একটি শিক্ষামূলক মডেল তৈরির পরিকল্পনা করল। তার কাছে নতুন সরঞ্জাম কেনার টাকা ছিল না। তাই নরেনবাবুর অনুমতি নিয়ে বাতিল হয়ে যাওয়া কিছু অংশ বেছে নিল। সেগুলো পরিষ্কার করে কাঠের একটি পাতের ওপর সাজাল। রঙিন কাগজে প্রতিটি অংশের নাম লিখে লাগাল এবং তাদের কাজ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করল।

মডেল তৈরি করতে গিয়ে তাকে বহুবার নতুন করে শুরু করতে হলো। একবার চাকার দাঁত ঠিকমতো মেলেনি, আরেকবার পুরো ব্যবস্থাটি নড়াচড়া করছিল না। সে বিরক্ত হয়ে একদিন বলল, “এত চেষ্টা করেও যদি না হয়, তাহলে লাভ কী?”

নরেনবাবু উত্তর দিলেন, “তুই কি জানিস, একটা যন্ত্র তৈরি করতে কতবার পরীক্ষা করতে হয়? প্রথম চেষ্টায় সব ঠিক হয়ে গেলে শেখার অনেক কিছুই অজানা থেকে যায়।”

ঋত্বিক আবার কাজে ফিরে গেল।

প্রদর্শনীর দিন তার মডেলটি সবার নজর কাড়ল। বিচারকেরা জানতে চাইলেন, একটি ক্ষুদ্র অংশের ভুল কীভাবে পুরো যন্ত্রের কাজ বন্ধ করে দিতে পারে। ঋত্বিক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাখ্যা করল। সে আরও বলল, যন্ত্র মেরামতের সময় ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিটি অংশের সঠিক অবস্থান জানা কেন জরুরি।

সে প্রথম পুরস্কার পায়নি। তবে বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক তার কাজের প্রশংসা করলেন এবং ভবিষ্যতে যন্ত্রবিজ্ঞান নিয়ে আরও পড়াশোনা করতে উৎসাহ দিলেন।

বাড়ি ফেরার পথে ঋত্বিকের মনে আনন্দ ছিল। সে নরেনবাবুকে বলল, “আমি বুঝেছি, শুধু জিনিস খুলে দেখলেই হয় না। কেন নষ্ট হলো, কীভাবে কাজ করে, আর কীভাবে ঠিক করা যায়—সব বুঝতে হয়।”

নরেনবাবু হেসে বললেন, “এবার তুই সত্যিই শিখতে শুরু করেছিস।”

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঋত্বিকের আগ্রহ আরও বাড়ল। সে পড়াশোনায় মন দিল, গণিত ও বিজ্ঞানের ভিত্তি শক্ত করতে লাগল। ঘড়ির দোকানে যাওয়া তার কাছে আনন্দের বিষয় থাকল, কিন্তু সে বুঝতে শিখল যে শখকে দক্ষতায় রূপ দিতে হলে নিয়মিত অধ্যয়নও জরুরি।

একদিন নরেনবাবু তাকে একটি ছোট্ট ঘড়ি দেখালেন। সেটি বহু বছর আগে তাঁর নিজের বাবা তাঁকে দিয়েছিলেন। ঘড়িটি এখনো চলত, যদিও তার কাচে ছোট একটি দাগ ছিল।

“এটা আমার কাছে খুব মূল্যবান,” তিনি বললেন। “কিন্তু আমি চাই না, এটা শুধু আলমারিতে পড়ে থাকুক। তুই ঘড়ির যত্ন নিতে শিখেছিস। মাঝে মাঝে এটাকে পরীক্ষা করে দেখবি, যাতে সময়মতো সমস্যা ধরা যায়।”

ঋত্বিক বিস্ময়ে বলল, “আপনি আমাকে এত বিশ্বাস করেন?”

নরেনবাবু উত্তর দিলেন, “বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয় না। তুই ভুল করেছিস, আবার সেই ভুল থেকে শিখেছিস। তোর মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে বলেই এই কথা বলছি।”

সেদিন ঋত্বিক ঘড়িটিকে হাতে নিয়ে অনুভব করল, তার সামনে শুধু একটি যন্ত্র নেই; রয়েছে বিশ্বাসের একটি দায়িত্ব।

বছর কয়েক পরে ঋত্বিক বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করল। সে তখনও সুযোগ পেলেই নরেনবাবুর দোকানে যেত। কখনো পুরোনো যন্ত্রের ছবি আঁকত, কখনো মেরামতের পদ্ধতি লিখে রাখত। সে বুঝেছিল, প্রযুক্তি যত আধুনিকই হোক, কোনো যন্ত্রের কার্যপ্রণালি বোঝার কৌতূহল কখনো পুরোনো হয় না।

আর নরেনবাবুও নতুন করে জীবনের আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন। তাঁর দোকানে এখন শুধু ঘড়ি মেরামত হতো না; মাঝে মাঝে আশপাশের কয়েকজন কৌতূহলী ছাত্রছাত্রী এসে যন্ত্রের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইত। তিনি তাদের বোঝাতেন, হাতে-কলমে শেখার মূল্য কতখানি।

এক সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার আগে ঋত্বিক দেওয়ালের ঘড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, “কাকু, আপনার দোকানে এত ঘড়ি আছে, কিন্তু আপনি কখনো তাড়াহুড়ো করেন না কেন?”

নরেনবাবু মৃদু হেসে বললেন, “ঘড়ি আমাদের সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু সময়কে কাজে লাগাতে হলে শুধু কাঁটার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলে না। কী করছি, কেন করছি, আর কাদের জন্য করছি—সেটাও বুঝতে হয়।”

বাইরে তখন সন্ধ্যার আলো নেমে এসেছে। দোকানের ভিতরে ছোট ছোট ঘড়িগুলো একসঙ্গে টিকটিক করছিল।

ঋত্বিক বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে ভাবল, সময় কখনো কারও জন্য থেমে থাকে না। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে মানুষ কী শিখল, কী সৃষ্টি করল, আর অন্যের জীবনে কতটা ভালো প্রভাব ফেলল—সেটাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।

গল্পের শিক্ষা: ছোট বিষয়কে অবহেলা না করে মনোযোগ দিয়ে শেখা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং অন্যের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখা মানুষের চরিত্র গড়ে তোলে। সময়ের মূল্য শুধু দ্রুত কাজ শেষ করার মধ্যে নয়; বরং সময়কে অর্থপূর্ণ কাজে ব্যবহার করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *