Categories
বিবিধ

গ্রাম-মফস্বলের প্রতিভা খুঁজতে গুপ্তিপাড়ায় অডিশন, এবার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চ।

রীনা প্রামানিক ও রাজীব দত্ত , গুপ্তিপাড়া, হুগলি: – বাংলার গ্রামীণ ও মফস্বল স্তরের সাংস্কৃতিক প্রতিভাদের বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ও সংবাদ সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার’ (International Newstar)। রবিবার হুগলির গুপ্তিপাড়া হাইস্কুলে এক আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আসন্ন বহুচর্চিত ‘দীঘা ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল’-এর হুগলি জেলা পর্যায়ের নির্বাচন প্রক্রিয়া। নৃত্য, আবৃত্তি এবং একক অভিনয়—এই তিনটি প্রধান বিভাগে আয়োজিত এদিনের প্রতিযোগিতায় প্রায় শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়ে নিজেদের সুপ্ত মেধার স্বাক্ষর রাখে।
আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিনের মঞ্চে প্রধান বিচারক ও সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটিকে নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট নির্দেশক বাদল সরকার। সমগ্র আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সংস্থার সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মহীতোষ গায়েন। শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্ব, তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থিতি এবং প্রতিযোগীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা পুরো অনুষ্ঠানটিকে এক উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষামূলক মর্যাদা দান করে। বিচারকমণ্ডলীতে যুক্ত হয়ে শিল্পীদের বাচনভঙ্গি ও ভাবপ্রকাশের মান যাচাই করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী আরতি ঘোষ। অন্যদিকে সমগ্র পরিকাঠামো নির্মাণ, জেলা সমন্বয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা একহাতে সুচারুভাবে পরিচালনা করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৌমেন সেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও নিরলস তত্ত্বাবধানে পুরো মহোৎসবটি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের ছাপ রাখে। স্থানীয় স্তরে সমন্বয় সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন জেলা কো-অর্ডিনেটর বনানী বসু খাঁ, সংগঠক ও শিক্ষিকা রীনা প্রামাণিক এবং জগৎ মোহন খাঁ।
সাধারণ প্রতিযোগিতার বাঁধাধরা কাঠামোর বিপরীতে গিয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় এদিন দেখা যায় এক দৃষ্টান্তমূলক রূপ। প্রধান বিচারক বাদল সরকার প্রতিটি পরিবেশনা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে মঞ্চেই প্রতিটি প্রতিযোগীকে তার মুদ্রাদোষ ও তালের ভ্রান্তি ধরিয়ে দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা শুধরে দিয়ে পুনরায় মঞ্চস্থ করান। কোনো কৃত্রিম কাটছাঁট ছাড়াই শ্রী সরকারের এই দায়িত্বশীল, নিখুঁত ও অভিনব বিচার প্রক্রিয়া উপস্থিত সর্বস্তরে তুমুল প্রশংসা অর্জন করেছে। সন্তানদের মেধার এমন নিখুঁত ও শিক্ষণীয় মূল্যায়ন দেখে উপস্থিত অভিভাবকরা বাদল সরকারের বিচার প্রক্রিয়া এবং সংস্থার এই স্বচ্ছ পদক্ষেপকে অকুণ্ঠ সাধুবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্যন্ত সমস্ত প্রতিযোগী ও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো প্রেক্ষাগৃহে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। সংস্থার পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র (সার্টিফিকেট) ও কলম তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কঠিন প্রতিযোগিতার পর নির্বাচিত ‘সেরার সেরা’ (Best of the Day) কৃতীদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন শীর্ষ আধিকারিকরা।
জেলাস্তরের সফল রূপায়ণের পর এবার রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও এই মেগা ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার’। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৌমেন সেন জানান, জেলা রাউন্ডের সেরাদের নিয়ে পরবর্তীতে কলকাতায় সেমিফাইনাল এবং পরিশেষে সৈকত শহর দীঘার সুবিশাল আন্তর্জাতিক উৎসবে অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফিনালে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক মানের পরিচিতি পাইয়ে দেওয়াই এই মহাযজ্ঞের মূল লক্ষ্য।
অন্যান্য জেলায় আসন্ন অডিশনের তারিখ, নিয়মাবলী ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যের জন্য সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে অবিলম্বে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *