Categories
উপন্যাস বিবিধ

মৃত মানুষের শেষ চিঠি ((দ্বিতীয় পর্ব: যে ভাইয়ের অস্তিত্ব কেউ স্বীকার করেনি))।

ঋত্বিক যখন জ্ঞান ফিরে পেল, তখন জানলার বাইরে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে।

সে মেঝেতে পড়ে ছিল। মাথার পেছনে অসহ্য যন্ত্রণা। ঘরের কোণে আলমারিটি আগের জায়গায় ফিরে এসেছে। দেওয়ালের ছোট দরজাটিও বন্ধ। যেন রাতে কিছুই ঘটেনি।

কিন্তু তার ডান হাতে শক্ত করে ধরা রয়েছে কালো ডায়েরিটি।

ঋত্বিক উঠে বসে চারদিকে তাকাল। ফোনটি টেবিলের ওপর পড়ে আছে। স্ক্রিনে কোনও মিসড কল নেই। রাত ৩টা ১৩ মিনিটের সেই ফোনকলের কোনও চিহ্ন নেই। টেপ রেকর্ডারটিও বন্ধ।

সে নিজেকে বোঝাল, হয়তো অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে দুঃস্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু ডায়েরির শেষ পাতায় লাল কালিতে লেখা বাক্যটি স্পষ্ট—

“ঋত্বিকের স্মৃতি থেকে সত্য মুছে ফেলা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করা হোক।”

লেখাটির নিচে একটি তারিখ।

১৭ জুলাই ২০০৪।

ঋত্বিকের মনে পড়ল ছবিটি। সেই ছবিতে তার বাবা অমল মুখার্জি দাঁড়িয়ে ছিলেন অনিরুদ্ধের পাশে। অথচ বাবার মৃত্যুর তারিখ ছিল ২০০২ সালের ১১ জানুয়ারি।

এবার আর বসে থাকা চলে না।

ঋত্বিক ডায়েরির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে শুরু করল।

প্রথম কয়েকটি পাতায় বাবার ব্যক্তিগত কথা। মায়ের সঙ্গে পরিচয়, সংসার, ঋত্বিকের জন্ম—সবই পরিচিত। তারপর হঠাৎ লেখার ধরন বদলে গেছে। সেখানে চিকিৎসা, স্মৃতি, পরীক্ষাগার এবং একটি অদ্ভুত প্রতিষ্ঠানের কথা লেখা।

প্রতিষ্ঠানটির নাম—‘প্রজেক্ট পুনর্জন্ম’।

বাবা লিখেছিলেন, মানুষের মস্তিষ্কের স্মৃতি কখনও সম্পূর্ণ মুছে যায় না। কিছু স্মৃতি চেতনার বাইরে চাপা পড়ে থাকে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সেগুলি আবার ফিরে আসতে পারে। এই ধারণা নিয়ে তিনি কয়েকজন গবেষকের সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন।

কিন্তু প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ধীরে ধীরে বদলে যায়।

একটি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া মানুষের স্মৃতি ও আচরণের নিদর্শন সংগ্রহ করে তার মতো প্রতিক্রিয়া দিতে পারে, এমন একটি কৃত্রিম স্মৃতি-ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছিল। প্রকল্পের দাবি ছিল, এতে মৃত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব হবে।

বাবা এই গবেষণার প্রযুক্তিগত অংশে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, পরীক্ষার তথ্য ব্যবহার করে মানুষের স্মৃতি বদলে দেওয়ার চেষ্টাও চলছে।

ডায়েরির একটি পাতায় লেখা—

“রুদ্রের দুর্ঘটনার পর আমি প্রকল্পটি বন্ধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওর মৃত্যুর আগের কয়েক ঘণ্টার স্মৃতি আমরা সংরক্ষণ করেছিলাম। সেই তথ্য থেকে এমন কিছু প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যা রুদ্রের মতো কথা বলে, রুদ্রের মতো প্রশ্ন করে। কিন্তু সেটি কি সত্যিই রুদ্র? নাকি আমাদের তৈরি একটি প্রতিচ্ছবি? আমি জানি না।”

ঋত্বিকের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

রুদ্র কি সত্যিই তার ছোট ভাই ছিল? নাকি বাবার গবেষণার অংশ?

পরের পাতায় উত্তর ছিল।

“রুদ্র আমার ও মাধবীর দ্বিতীয় সন্তান। জন্মের সময় ওর শরীরে গুরুতর সমস্যা ধরা পড়েছিল। চিকিৎসকেরা অনেক চেষ্টা করেও ওকে বাঁচাতে পারেননি। কিন্তু ঋত্বিক তখন মাত্র ছয় বছরের শিশু। ওর সামনে রুদ্রের মৃত্যু ঘটেছিল। সেই দৃশ্য ওর মনে গভীর আঘাত সৃষ্টি করে।

আমি ভুল করেছিলাম। ছেলেকে সাহায্য করার বদলে আমি তার স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করি। প্রকল্পের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওর স্মৃতির কিছু অংশ চাপা দেওয়া হয়। ওকে বলা হয়, তার কোনও ভাই ছিল না।

আমি ভেবেছিলাম, এভাবে ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনব।

কিন্তু আমি জানতাম না, সেই স্মৃতি মুছে ফেলার প্রক্রিয়ার মধ্যে রুদ্রের মৃত্যুর আগের তথ্যও ঢুকে পড়েছে। সেই তথ্য থেকেই তৈরি হয়েছে এমন একটি প্রতিক্রিয়া, যা বারবার ঋত্বিকের কাছে ফিরে আসছে।”

ঋত্বিক ডায়েরি বন্ধ করে দিল।

তার মনে পড়ল শৈশবের কিছু অস্পষ্ট দৃশ্য। হাসপাতালের সাদা বিছানা। মায়ের কান্না। একটি ছোট হাত তার আঙুল ধরে আছে। তারপর হঠাৎ সব অন্ধকার।

সে এত বছর ধরে ভেবেছে, সেগুলি কেবল স্বপ্ন।

কিন্তু যদি সেগুলি সত্যিকারের স্মৃতি হয়?


সকাল আটটার দিকে ঋত্বিক অনিরুদ্ধের বাড়িতে গেল।

অনিরুদ্ধের মা দরজা খুললেন। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। ছেলের মৃত্যুর পর যেন কয়েক দিনের মধ্যে তিনি অনেকটা বুড়িয়ে গিয়েছেন।

“কাকিমা, অনিরুদ্ধ মারা যাওয়ার আগে কি আপনাকে কোনও চিঠি বা কিছু দিয়ে গিয়েছিল?”

মহিলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

“তুমি ওর বন্ধু ছিলে। তাই একটা কথা তোমাকে বলা উচিত। অনিরুদ্ধ মৃত্যুর আগের সপ্তাহে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। বারবার বলত, কেউ নাকি তার পিছু নিয়েছে। আমি ভেবেছিলাম, কাজের চাপ। কিন্তু একদিন রাতে ও আমাকে একটি খাম দিয়ে বলেছিল, যদি ওর কিছু হয়, তাহলে খামটা যেন তোমাকে দিই।”

তিনি ঘরের ভেতরে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে একটি বাদামি খাম এনে ঋত্বিকের হাতে দিলেন।

খামের ভেতরে একটি ছোট পেনড্রাইভ এবং হাতে লেখা একটি কাগজ।

“ঋত্বিক,

তুমি যদি এটা পাও, তাহলে ধরে নেবে আমি যা খুঁজছিলাম, তা সত্যি। তোমার বাবার পুরোনো গবেষণাগার এখনও চালু আছে। সরকারি নথিতে সেটি বন্ধ। কিন্তু সেখানে গোপনে কাজ চলছে।

আমি মৃত্যুর আগে সেখানে ঢুকেছিলাম।

তোমার ভাইয়ের স্মৃতি নিয়ে তারা নতুন পরীক্ষা করছে।

তুমি যদি সত্য জানতে চাও, ১৭ নম্বর ঘর খুঁজবে।

কিন্তু মনে রেখো—যে মানুষটি তোমার সামনে রুদ্র হয়ে দাঁড়াবে, তার কথায় অন্ধের মতো বিশ্বাস কোরো না।”

ঋত্বিক পেনড্রাইভটি পকেটে রাখল।

বাড়ি ফিরে কম্পিউটারে সেটি খুলতেই একটি ভিডিও ফাইল দেখা গেল।

ফাইলটির নাম—RUDRA_FINAL_170704।

ভিডিও চালু হতেই দেখা গেল একটি অন্ধকার ঘর। মাঝখানে চেয়ারে বসে আছে একজন কিশোর। মুখটি অস্পষ্ট, কিন্তু তার চোখ দুটো অদ্ভুতভাবে পরিচিত।

ক্যামেরার পেছন থেকে একজন প্রশ্ন করলেন, “তোমার নাম কী?”

কিশোর উত্তর দিল, “রুদ্র মুখার্জি।”

“তোমার দাদার নাম?”

“ঋত্বিক।”

“ঋত্বিক তোমাকে কেন ভয় পায়?”

কিশোর কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল, “কারণ ও মনে করতে পারে না, সেদিন কী হয়েছিল।”

“সেদিন কী হয়েছিল?”

কিশোর ক্যামেরার দিকে তাকাল।

“ও আমাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। কিন্তু দরজাটা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি ওকে ডাকছিলাম। ও দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর আগুন লেগে গেল।”

ঋত্বিকের মাথার ভেতর যেন বিস্ফোরণ ঘটল।

আগুন?

কোন দরজা?

সে কি সত্যিই কোনওদিন তার ভাইকে বিপদের মধ্যে ফেলে এসেছিল?

ভিডিওর কিশোর আবার বলল, “কিন্তু দাদা আমাকে মারেনি। ওকে দিয়ে যে কাজ করানো হয়েছিল, ও সেটা মনে রাখতে পারে না। বাবা ওর স্মৃতি মুছে দিয়েছে।”

ভিডিও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।

স্ক্রিনে একটি নতুন বার্তা ফুটে উঠল—

“১৭ নম্বর ঘরে যাওয়ার আগে নিজের শৈশবের ছবিগুলো পরীক্ষা করো।”

ঋত্বিক আলমারি থেকে পুরোনো অ্যালবাম বের করল। একের পর এক ছবি দেখতে দেখতে একটি ছবিতে তার চোখ আটকে গেল।

ছবিতে ছয় বছরের ঋত্বিক দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির উঠোনে। পাশে তার মা মাধবী। মায়ের কোলে একটি ছোট শিশু।

ছবির পেছনে লেখা—“রুদ্রের প্রথম জন্মদিন।”

কিন্তু ছবিটির পেছনের দেওয়ালে একটি অদ্ভুত জিনিস দেখা যাচ্ছে।

একটি ঘড়ি।

ঘড়িতে সময় ৩টা ১৩ মিনিট।

ঋত্বিক ছবিটি আরও কাছে টেনে নিল। ছবির ডান দিকে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে সে প্রথমে চিনতে পারেনি। তারপর তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

সেই মানুষটি অনিরুদ্ধ।

ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০০ সালে।

অর্থাৎ, অনিরুদ্ধ তখনই তাদের পরিবারের সঙ্গে পরিচিত ছিল। অথচ ঋত্বিকের মনে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথা কলেজের প্রথম দিনের ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে।

কেউ তার স্মৃতি বদলে দিয়েছে।

কিন্তু কেন?


দুপুরে ঋত্বিক সেই পুরোনো গবেষণাগারের ঠিকানা খুঁজে বের করল। শহরের প্রান্তে, বহু বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা একটি চিকিৎসা-গবেষণা কেন্দ্র। সরকারি নথিতে সেটির নাম ‘নিউরাল মেমোরি ইনস্টিটিউট’।

বাইরে ভাঙা গেট। আগাছায় ঢাকা পথ। দেওয়ালে বিবর্ণ বোর্ড।

কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই ঋত্বিক বুঝল, জায়গাটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত নয়। করিডরের শেষ প্রান্তে নতুন তার লাগানো। একটি ঘরের ভেতর থেকে যন্ত্রের মৃদু শব্দ আসছে।

দেওয়ালে ঘরের নম্বর লেখা।

১২।

১৩।

তারপর—

১৭।

দরজাটি তালাবন্ধ ছিল না।

ঋত্বিক ধীরে ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।

ঘরের মাঝখানে একটি কাচের বাক্স। তার পাশে কম্পিউটার, কয়েকটি মনিটর এবং অসংখ্য নথি। দেওয়ালে একটি পুরোনো ছবি ঝুলছে।

ছবিতে তার বাবা অমল মুখার্জি, অনিরুদ্ধ এবং আরও দুজন অচেনা মানুষ।

ছবির নিচে লেখা—

“প্রজেক্ট পুনর্জন্ম—প্রাথমিক গবেষণা দল।”

ঋত্বিক টেবিলের ওপর রাখা একটি ফাইল খুলল।

ফাইলের প্রথম পাতায় লেখা—

পরীক্ষার বিষয়: ঋত্বিক মুখার্জি।

তার নিচে আরও একটি লাইন—

দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্দেশ্য: চাপা পড়ে থাকা স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এবং বিষয়টির অপরাধবোধ সক্রিয় করা।

ঋত্বিকের হাত থেকে কাগজটি পড়ে গেল।

এতক্ষণ সে ভেবেছিল, সে নিজেই সত্যের সন্ধান করছে।

কিন্তু কেউ একজন অনেক আগে থেকেই তার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছিল।

হঠাৎ ঘরের পেছনের স্পিকার থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।

“স্বাগতম, ঋত্বিক।”

কণ্ঠটি তার বাবার।

“তুমি অবশেষে এখানে পৌঁছেছ। আমি জানতাম, তুমি আসবে।”

ঋত্বিক চিৎকার করে উঠল, “তুমি কে? তুমি তো মারা গিয়েছ!”

স্পিকারের ওপারে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর কণ্ঠটি বলল—

“যে মানুষকে তুমি তোমার বাবা বলে চিনতে, সে হয়তো মারা গিয়েছে। কিন্তু তার স্মৃতি এখনও এখানে রয়েছে। আমি অমল মুখার্জির স্মৃতি থেকে তৈরি একটি ব্যবস্থা। তোমাকে সাহায্য করার জন্যই আমাকে তৈরি করা হয়েছিল।”

ঋত্বিক পিছিয়ে গেল।

“তাহলে তুমি আমার বাবা নও?”

“আমি তাঁর সবটুকু নই। আমি তাঁর সংরক্ষিত স্মৃতি, তাঁর কণ্ঠ, তাঁর কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিলিপি। কিন্তু তোমার সামনে যে সত্য খুলে যেতে চলেছে, তা জানার জন্য এই ব্যবস্থাটুকুই যথেষ্ট।”

কাচের বাক্সের ভেতরে একটি ছোট পর্দা জ্বলে উঠল।

সেখানে রুদ্রের মুখ দেখা গেল।

এবার সে কিশোর নয়। সে যেন ঋত্বিকেরই সমবয়সি এক যুবক।

রুদ্র ধীরে ধীরে বলল, “দাদা, তুমি জানতে চেয়েছিলে, সেদিন দরজার ওপারে কী হয়েছিল। আমি তোমাকে সত্যিটা বলব।”

ঋত্বিক নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল।

রুদ্রের মুখ হঠাৎ কঠিন হয়ে উঠল।

“কিন্তু তার আগে তোমাকে একটা কথা জানতে হবে। তুমি যে স্মৃতিগুলো ফিরে পেতে চাইছ, সেগুলো তোমার নিজের নয়।”

“কী বলতে চাইছ?”

রুদ্র উত্তর দিল—

“তুমি যে দুর্ঘটনার কথা ভুলে গিয়েছ, সেই দুর্ঘটনার রাতে তোমারও মৃত্যু হয়েছিল।”

ঘরের সব মনিটর একসঙ্গে জ্বলে উঠল।

একটি পুরোনো ভিডিও চলতে শুরু করল।

সেখানে দেখা গেল, আগুনে জ্বলছে একটি ঘর। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ছয় বছরের ঋত্বিক। ভেতর থেকে রুদ্র চিৎকার করছে।

কিন্তু ভিডিওর শেষ মুহূর্তে এমন কিছু দেখা গেল, যা ঋত্বিকের সমস্ত বিশ্বাস ভেঙে দিল।

আগুনের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি রুদ্র নয়।

সে ঋত্বিক নিজেই।

আর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির মুখে কোনও ভয় নেই।

শুধু একটি অস্বাভাবিক হাসি।

ঠিক সেই সময় স্পিকারে বাবার কণ্ঠ আবার শোনা গেল—

“ঋত্বিক, এখন তোমাকে ঠিক করতে হবে, তুমি কোন স্মৃতিটাকে সত্য বলে গ্রহণ করবে। কারণ তোমার জীবনের যে ইতিহাস তুমি এত বছর ধরে জেনে এসেছ, তার প্রতিটি পাতাই হয়তো অন্য কারও লেখা।”

মনিটরের পর্দা কালো হয়ে গেল।

তারপর সাদা অক্ষরে ফুটে উঠল—

“তৃতীয় পর্যায় শুরু হতে আর ২৪ ঘণ্টা বাকি।”

দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *