একজন মানুষের পরিচয় কি কেবল একটি পেশায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে?
কেউ যদি একই জীবনে গণিত পড়েন, বিদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, সাহিত্য রচনা করেন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কাজ করেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক সম্মান লাভ করেন—তাহলে তাঁর জীবনকে কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখা কঠিন।
শকুন্তলা পরাঞ্জপে ছিলেন তেমনই এক ব্যতিক্রমী ভারতীয় নারী।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে যখন ভারতীয় সমাজে নারীদের জন্য পেশা ও শিক্ষার সুযোগ আজকের তুলনায় অনেক সীমিত ছিল, তখন তিনি কেমব্রিজে গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন। আবার অন্যদিকে অভিনয় করেন মারাঠি ও হিন্দি চলচ্চিত্রে, সাহিত্যচর্চা করেন এবং সমাজের পরিবার পরিকল্পনা ও নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন।
১৯৯১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। সরকারি পুরস্কারের নথিতে তাঁর সম্মানের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয় সমাজসেবা—পরিবার পরিকল্পনা।
শিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা
শকুন্তলা পরাঞ্জপের জন্ম ১৭ জানুয়ারি ১৯০৬ সালে।
তাঁর বাবা ছিলেন বিশিষ্ট গণিতবিদ ও শিক্ষাবিদ স্যার আর. পি. পরাঞ্জপে। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘Senior Wrangler’ হওয়া প্রথম ভারতীয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি শিক্ষাবিদ, প্রশাসক ও কূটনীতিক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
এই পরিবেশে বড় হওয়ার ফলে শকুন্তলার সামনে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও বৌদ্ধিক চর্চার দরজা খোলা ছিল।
কিন্তু পরিবারের শিক্ষাগত ঐতিহ্য অনুসরণ করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। তিনি নিজের আগ্রহ ও চিন্তার জগৎকে ক্রমশ বিস্তৃত করেছিলেন।
কেমব্রিজে গণিতের ছাত্রী
শকুন্তলা পরাঞ্জপে কেমব্রিজের Newnham College-এ Mathematical Tripos নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯২৯ সালে সেখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরের বছর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিষয়ে ডিপ্লোমাও নেন।
আজকের দিনে বিদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অনেক। কিন্তু ১৯২০-এর দশকের ভারতীয় সমাজে একজন তরুণীর একা বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
বিশেষ করে গণিতের মতো একটি বিষয়, যা তখনও উচ্চশিক্ষায় পুরুষ-প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতো, সেখানে নিজের জায়গা তৈরি করা ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
কেমব্রিজের শিক্ষা তাঁর চিন্তাভাবনাকে আরও প্রসারিত করে। গণিত তাঁকে যুক্তি ও বিশ্লেষণের অভ্যাস দিয়েছিল, কিন্তু তাঁর পরবর্তী জীবন দেখায়—তিনি নিজেকে কেবল গণিতের মধ্যে আটকে রাখেননি।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় কাজ
শিক্ষাজীবনের পর শকুন্তলা পরাঞ্জপে জেনেভায় International Labour Organization বা ILO-এর সঙ্গে কাজ করেন। ১৯৩০-এর দশকে তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাটে।
একজন ভারতীয় নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করে।
দেশের বাইরে কাজ করার ফলে তিনি বিভিন্ন দেশের সমাজব্যবস্থা, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং সামাজিক সমস্যাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে তাঁর সমাজকর্মের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছিল।
অভিনয়ের জগতে প্রবেশ
শকুন্তলা পরাঞ্জপের জীবনকে আকর্ষণীয় করে তোলার অন্যতম কারণ তাঁর অভিনয়জীবন।
গণিতের ছাত্রী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে মারাঠি এবং হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ছিল Sairandhri, Duniya Na Mane, Kunku, Stree, Ramshastri প্রভৃতি।
বিশেষ করে ভি. শান্তারামের Duniya Na Mane চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পরিচিত করে।
চলচ্চিত্র তখন ভারতের জন্য নতুন ও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি মাধ্যম। সেই সময়ে কোনও শিক্ষিত উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণীর চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্তও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী।
কিন্তু শকুন্তলা নিজের জীবনের কোনও একটি পরিচয়কে অন্য পরিচয়ের বাধা হতে দেননি।
শিল্পের পাশাপাশি সমাজের প্রশ্ন
চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও ধীরে ধীরে তাঁর আগ্রহ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দিকে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়।
বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা, জন্মনিয়ন্ত্রণ, নারীর স্বাস্থ্য এবং পরিবারে সচেতনতা—এই বিষয়গুলো তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
১৯৩০-এর দশকেই তিনি মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ করেছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এটি সেই সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
কারণ পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা তখন সামাজিকভাবে সহজ ছিল না। নারীস্বাস্থ্য, সন্তানসংখ্যা, জন্মের ব্যবধান—এসব বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা সামাজিক সংকোচ ও ভুল ধারণা ছিল।
শকুন্তলা সেই নীরবতা ভাঙার চেষ্টা করেন।
পরিবার পরিকল্পনাকে শুধু সংখ্যার প্রশ্ন হিসেবে দেখেননি
শকুন্তলা পরাঞ্জপের সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি পরিবার পরিকল্পনাকে শুধু জনসংখ্যা কমানোর একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার পরিবর্তে স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে ছিলেন।
পরবর্তী গবেষণায় তাঁর কাজের মূল্যায়নে দেখা যায়, তিনি পরিবার পরিকল্পনাকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন এবং শুধু সংখ্যাগত লক্ষ্য পূরণের পরিবর্তে মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনা করার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
এই চিন্তাধারা তাঁর সময়ের তুলনায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কারণ কোনও সামাজিক কর্মসূচি সফল করতে হলে শুধু নীতি তৈরি করলেই হয় না—যাঁদের জন্য সেই নীতি, তাঁদের বাস্তব জীবনও বুঝতে হয়।
লেখক হিসেবেও সক্রিয়
শকুন্তলা শুধু বক্তৃতা বা সামাজিক কাজের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেননি। তিনি লেখালেখিও করতেন।
তিনি মারাঠি ও ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন ধরনের লেখা প্রকাশ করেন। তাঁর বইয়ের মধ্যে ছিল Three Years in Australia এবং Sense and Nonsense। এছাড়াও তিনি নাটক, গল্প, স্কেচ ও উপন্যাস লিখেছেন।
লেখালেখি তাঁর কাছে ছিল সমাজের সঙ্গে ভাবনার আদানপ্রদানের আরেকটি মাধ্যম।
চলচ্চিত্রে অভিনয়, সাহিত্যচর্চা এবং সমাজকর্ম—তিনটি ক্ষেত্রেই মানুষের জীবন ও সমাজের বিভিন্ন দিককে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা তাঁর কাজে প্রতিফলিত হয়েছিল।
জনজীবনে প্রবেশ
শকুন্তলা পরাঞ্জপে পরবর্তীকালে সক্রিয় জনজীবনেও প্রবেশ করেন।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন। এরপর ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর জনজীবনের প্রধান পরিচয় ছিল দলীয় রাজনীতির প্রচলিত কাঠামোর বাইরে একজন সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে।
পরিবার পরিকল্পনা এবং সামাজিক সংস্কারের প্রশ্নকে তিনি জনপরিসরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সময়
আজ নারীর স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক। কিন্তু শকুন্তলা যখন এসব বিষয়ে কাজ করছিলেন, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।
নারীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক সংকোচের বিষয় ছিল।
এই পরিস্থিতিতে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন, লেখালেখি করেছেন এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিজের মত তুলে ধরেছেন।
তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি অস্বস্তিকর প্রশ্ন থেকেও পিছিয়ে যাননি।
বিতর্কের মধ্যেও নিজের অবস্থান
শকুন্তলা পরাঞ্জপে সব বিষয়ে প্রচলিত মতের সঙ্গে একমত ছিলেন না।
পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর কিছু মতামত এবং নীতিগত অবস্থান সে সময় বিতর্কও তৈরি করেছিল। বিশেষত জনসংখ্যা, বিবাহের বয়স এবং রাষ্ট্রের পরিবার পরিকল্পনা নীতি নিয়ে তাঁর কিছু অবস্থান আজকের দৃষ্টিতে বিতর্কযোগ্য ও ঐতিহাসিকভাবে আলোচনার বিষয়।
একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে বুঝতে হলে তাঁর কাজের প্রশংসার পাশাপাশি সেই সময়ের বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতাকেও বিবেচনা করা জরুরি।
শকুন্তলার গুরুত্ব এখানেই যে তিনি সামাজিক প্রশ্ন নিয়ে নীরব থাকেননি। নিজের সময়ের সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন এবং নীতিনির্ধারণের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
পদ্মভূষণ সম্মান
১৯৯১ সালে, তাঁর জীবনের শেষ পর্বে, ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে।
সরকারি পুরস্কারের নথিতে তাঁর নামের সঙ্গে ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয় Social Work—Family Planning।
এই সম্মান তাঁর দীর্ঘ সামাজিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
একজন নারী, যিনি একসময় কেমব্রিজে গণিত পড়েছিলেন, পরে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সামাজিক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার মতো বিষয়কে নিজের কর্মক্ষেত্র বানিয়েছিলেন—তাঁর জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য সত্যিই বিরল।
পরবর্তী প্রজন্মেও তাঁর প্রভাব
শকুন্তলা পরাঞ্জপের মেয়ে সাই পরাঞ্জপে পরবর্তীকালে ভারতের পরিচিত চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হন।
ফলে পরাঞ্জপে পরিবারের সৃজনশীল ও বৌদ্ধিক উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মেও বহমান ছিল।
একদিকে গণিত ও শিক্ষার ঐতিহ্য, অন্যদিকে সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সমাজচিন্তা—এই পরিবারে বিভিন্ন জগতের সংযোগ দেখা যায়।
শকুন্তলার নিজের জীবনও ছিল সেই বহুমাত্রিকতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
এক জীবনে এতগুলো পরিচয়
শকুন্তলা পরাঞ্জপের জীবনকে যদি কয়েকটি শব্দে ধরতে হয়, তাহলে বলা যায়—কৌতূহল, স্বাধীন চিন্তা এবং বহুমুখী কর্মজীবন।
তিনি কেমব্রিজে গণিত পড়েছেন, কিন্তু গণিতের অধ্যাপক হননি।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় কাজ করেছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রশাসক হিসেবেই জীবন কাটাননি।
চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, কিন্তু অভিনেত্রী পরিচয়েই থেমে থাকেননি।
লেখালেখি করেছেন, কিন্তু শুধু লেখক হননি।
জনজীবনে থেকেছেন, কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে সামাজিক সমস্যার প্রতি তাঁর দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহ।
এই বহুমুখীতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
শেষ কথা
শকুন্তলা পরাঞ্জপের জীবন আমাদের সামনে এমন এক সময়ের ছবি তুলে ধরে, যখন একজন ভারতীয় নারীর সামনে পেশাগত ও সামাজিক বিকল্প আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল।
কিন্তু তিনি নিজের জন্য একটির পর একটি নতুন দরজা খুলেছেন।
কেমব্রিজে গণিতের শিক্ষা থেকে জেনেভার আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্র, সেখান থেকে ভারতীয় চলচ্চিত্র, সাহিত্য এবং পরে পরিবার পরিকল্পনা ও সমাজসেবা—প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি নতুন কিছু শিখেছেন এবং নিজের কাজের ক্ষেত্র বদলেছেন।
তাঁর জীবন থেকে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা যায়—একজন মানুষের সামর্থ্যকে একটি পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।
কেউ গণিত ভালোবাসতে পারেন, আবার শিল্পেও আগ্রহী হতে পারেন। কেউ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেন, আবার সামাজিক সমস্যার সমাধান নিয়েও কাজ করতে পারেন। কেউ লেখক হতে পারেন, আবার জনজীবনে নীতিনির্ধারণের আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
শকুন্তলা পরাঞ্জপে সেই বহুমাত্রিক সম্ভাবনারই এক বিরল উদাহরণ।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হয়তো কোনও একটি বই, চলচ্চিত্র বা পদক নয়। বরং এই বার্তা—নিজের চিন্তাকে একটি সীমার মধ্যে বন্দি না করে, সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের জ্ঞান ও প্রতিভাকে নতুন কাজে ব্যবহার করাই একজন মানুষের প্রকৃত সৃষ্টিশীলতা।