বিজ্ঞান কখনও শুধু গবেষণাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনও গবেষণা যদি মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য কিংবা জীবনযাত্রার উন্নতিতে কাজে লাগে, তখন সেই গবেষণার গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
ভারতের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে ড. কমলা সোহোনি ছিলেন এমনই এক বিজ্ঞানী। জীবরসায়নের মতো কঠিন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেও তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের কাজকে সাধারণ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
১৯৩৯ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করে তিনি ভারতীয় নারীদের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেন। পরবর্তীকালে তাঁর গবেষণার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে ওঠে ভারতীয়দের দৈনন্দিন খাদ্য, ডাল, শস্য এবং বিশেষ করে ‘নীরা’-র পুষ্টিগুণ।
বিজ্ঞানী পরিবারে বেড়ে ওঠা
কমলা সোহোনির জন্ম ১৮ জুন ১৯১১ সালে ইন্দোরে। তাঁর পারিবারিক পরিবেশ ছিল বিজ্ঞানমুখী। তাঁর বাবা নারায়ণরাও ভাগবত এবং কাকা মাধবরাও ভাগবত—দুজনেই রসায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বেঙ্গালুরুর তৎকালীন টাটা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে পড়াশোনা করেছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই তাই বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল।
তিনি মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৩৩ সালে রসায়নকে প্রধান বিষয় ও পদার্থবিদ্যাকে সহায়ক বিষয় হিসেবে নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরীক্ষায় তাঁর ফল ছিল অত্যন্ত ভালো।
তখন ভারতে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী নারীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু কমলা জানতেন, তাঁর ভবিষ্যৎ গবেষণার মধ্যেই।
IISc-এর দরজা বন্ধ হয়েছিল তাঁর জন্য
স্নাতক হওয়ার পর কমলা বেঙ্গালুরুর Indian Institute of Science (IISc)-এ গবেষণা করার জন্য আবেদন করেন।
কিন্তু তখন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সি. ভি. রমন। কমলার আবেদন প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়—মূল কারণ ছিল তিনি নারী। IISc-এর নিজস্ব ঐতিহাসিক নথিতেও এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।
কমলা এই প্রত্যাখ্যান মেনে নেননি।
তিনি নিজের অধিকারের জন্য দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেন এবং শেষ পর্যন্ত IISc-তে গবেষণার সুযোগ পান। তবে তাঁকে প্রথমে কিছু কঠোর শর্তের মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল। তিনি নিয়মিত গবেষক হিসেবে নয়, পরীক্ষামূলকভাবে গবেষণা শুরু করেন।
এই ঘটনাটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
কারণ তিনি শুধু নিজের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেননি—তাঁর উপস্থিতির পর IISc-তে আরও নারী শিক্ষার্থীর জন্য দরজা খুলতে শুরু করে।
গবেষণাগারে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ
IISc-তে কমলা সোহোনি জীবরসায়ন নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল দুধ, ডাল এবং বিভিন্ন শস্যজাত খাদ্যের প্রোটিন।
তাঁর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিজ্ঞানী এম. শ্রীনিবাসাইয়া।
ভারতের সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এই গবেষণার সরাসরি সম্পর্ক ছিল। কারণ দেশের বড় একটি অংশের মানুষের খাদ্যতালিকায় ডাল, শস্য ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাবারের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
কমলা বুঝেছিলেন, সাধারণ মানুষের খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
১৯৩৬ সালে তিনি IISc-এর গবেষণা শেষ করে মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণা ও কাজের দক্ষতা শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রাথমিক বাধাগুলোকে অতিক্রম করে দেয়।
কেমব্রিজের পথে
এরপর কমলা সোহোনির সামনে আসে আরও বড় সুযোগ।
১৯৩৭ সালে তিনি কেমব্রিজের Newnham College-এ পড়াশোনা ও গবেষণা শুরু করেন। সেখানে তিনি জীবরসায়নের গবেষণায় যুক্ত হন। প্রথমে ডেরেক রিখটারের সঙ্গে এবং পরে উদ্ভিদ-শারীরবিদ রবিন হিলের সঙ্গে কাজ করেন।
তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল উদ্ভিদকোষে শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া।
আলুর কোষ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি উদ্ভিদে cytochrome c-এর উপস্থিতি ও তার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। এই পদার্থ কোষে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তাঁর ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
১৯৩৯ সালে কেমব্রিজ থেকে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই অর্জন ভারতীয় নারী বিজ্ঞানীদের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
দেশে ফিরে মানুষের জন্য বিজ্ঞান
বিদেশে পিএইচডি অর্জনের পর কমলা সোহোনি ভারতে ফিরে আসেন।
তিনি দিল্লির Lady Hardinge Medical College-এ জীবরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে কাজ করেন। পরে কুনুরের Nutrition Research Laboratory-তে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয় ছিল ভিটামিন ও পুষ্টি।
এখান থেকেই তাঁর গবেষণার সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
তিনি বুঝতে পারছিলেন, ভারতের মতো দেশে পুষ্টিবিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারে নতুন রাসায়নিক উপাদান আবিষ্কারের বিষয় নয়। মানুষের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যেই অনেক সমস্যার সমাধান লুকিয়ে থাকতে পারে।
মুম্বইয়ে নতুন অধ্যায়
১৯৪৭ সালে কমলা সোহোনি মুম্বইয়ের Royal Institute of Science-এ জীবরসায়নের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
সেখানে তিনি ডাল, শস্য এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা বিভিন্ন খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা করেন।
এই গবেষণার বিশেষত্ব ছিল এর বাস্তব প্রাসঙ্গিকতা।
কোনও বিলাসবহুল বা বিরল খাদ্য নয়—সাধারণ মানুষের হাতের কাছে থাকা খাবারেই কীভাবে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা যায়, সেই প্রশ্ন তাঁর গবেষণার অন্যতম কেন্দ্রে ছিল।
এই চিন্তাভাবনা পরবর্তী সময়ে তাঁকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার দিকে নিয়ে যায়।
‘নীরা’ নিয়ে গবেষণা
কমলা সোহোনির জীবনের অন্যতম পরিচিত গবেষণা ছিল নীরা নিয়ে।
নীরা হল বিভিন্ন তালগাছের পুষ্পমঞ্জরি থেকে সংগ্রহ করা মিষ্টি রস। ভারতের কিছু অঞ্চলে এটি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য ও পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের পরামর্শে কমলা সোহোনি নীরার পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
গবেষণায় তিনি নীরায় ভিটামিন A, ভিটামিন C এবং আয়রন-এর উপস্থিতি শনাক্ত করেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—নীরা থেকে গুড় বা অন্যান্য ঘন খাদ্যপণ্য তৈরি করার পরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যথেষ্ট পরিমাণে বজায় থাকতে পারে।
এর ফলে নীরা শুধুমাত্র একটি ঐতিহ্যবাহী পানীয় নয়, পুষ্টির দিক থেকেও সম্ভাবনাময় খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে।
দরিদ্র মানুষের খাদ্যের দিকে নজর
কমলা সোহোনির গবেষণার অন্যতম মানবিক দিক ছিল—তিনি গবেষণার জন্য এমন খাদ্যকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যা দেশের সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল।
পুষ্টির অভাব ভারতের বহু মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে অপুষ্টি গুরুতর সামাজিক সমস্যা তৈরি করত।
নীরা নিয়ে তাঁর গবেষণা দেখিয়েছিল, স্থানীয় ও তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য খাদ্যকে বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করে পুষ্টির সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব।
পরবর্তী খাদ্যসংক্রান্ত গবেষণায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের খাদ্যতালিকায় নীরার ব্যবহার নিয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।
এই কাজের জন্য তিনি Rashtrapati Award লাভ করেন।
গবেষক থেকে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে
কমলা সোহোনির কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল প্রশাসনিক নেতৃত্ব।
তিনি Royal Institute of Science-এর জীবরসায়ন বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠানের Director হন।
ভারতের বিজ্ঞান গবেষণার ইতিহাসে এটি ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কারণ সেই সময়ে দেশের বড় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিরল। ভারত সরকারের নারী ও শিশুবিকাশ মন্ত্রকের প্রকাশিত ‘First Women Achievers’ সংক্রান্ত নথিতেও তাঁকে ভারতের প্রথম দিকের নারী বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান-প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন নারী বিজ্ঞানীর জন্য এই নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানো ছিল তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল।
বিজ্ঞান ও সমাজ—দুটি আলাদা নয়
কমলা সোহোনির গবেষণার দিকে তাকালে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে ওঠে—তিনি বিজ্ঞানকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখেননি।
আলুর কোষের জৈবরাসায়ন থেকে শুরু করে ডাল ও শস্যের পুষ্টিগুণ, তারপর নীরা—তাঁর গবেষণার বিষয় বদলেছে, কিন্তু একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে এসেছে:
বিজ্ঞান কীভাবে মানুষের জীবনকে আরও ভালো করতে পারে?
এই প্রশ্নই তাঁকে একজন মৌলিক গবেষক থেকে একজন জনমুখী বিজ্ঞানীতে পরিণত করেছিল।
শুধু বিজ্ঞানী নন, সচেতন নাগরিকও
জীবনের পরবর্তী পর্যায়েও কমলা সোহোনি সক্রিয় ছিলেন।
তিনি Consumer Guidance Society of India-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৮২–৮৩ সময়কালে সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভোক্তা নিরাপত্তা সম্পর্কেও তিনি লিখেছেন।
অর্থাৎ তাঁর সামাজিক আগ্রহ শুধু পুষ্টিবিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
খাদ্য, স্বাস্থ্য, ভোক্তার অধিকার—মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল।
নারীদের জন্য তাঁর পথচলার গুরুত্ব
কমলা সোহোনির জীবনকে শুধু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের দৃষ্টিতে দেখলে তাঁর সংগ্রামের একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যাবে।
তাঁকে প্রথমে শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে গবেষণার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তিনি সেই বাধার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে গবেষণার ক্ষমতা লিঙ্গ দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
তাঁর IISc-এ প্রবেশের ঘটনা পরবর্তী সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির দরজা আরও উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংখ্য ভারতীয় নারী কাজ করছেন। তাঁদের পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে কারণ তাঁদের আগের প্রজন্মের কিছু নারী প্রথম বাধাগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন।
কমলা সোহোনি তাঁদের অন্যতম।
তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়
১৯৯৮ সালের ২৮ জুন নয়াদিল্লিতে কমলা সোহোনির মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর কাজের মূল সুর ছিল মানুষের কল্যাণের সঙ্গে বিজ্ঞানকে যুক্ত করা।
মৃত্যুর পর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর নাম নতুন প্রজন্মের কাছে আবার পরিচিত হতে শুরু করে। ২০২৩ সালে তাঁর ১১২তম জন্মবার্ষিকীতে Google তাঁকে একটি Doodle-এর মাধ্যমে স্মরণ করে।
এটি দেখায়, সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কাজের গুরুত্ব হারিয়ে যায়নি।
উত্তরাধিকার
কমলা সোহোনির উত্তরাধিকারকে কয়েকটি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না।
তিনি ছিলেন একজন গবেষক, যিনি উদ্ভিদকোষের জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছিলেন।
তিনি ছিলেন একজন পুষ্টিবিজ্ঞানী, যিনি ভারতের সাধারণ মানুষের খাদ্যের পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।
তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, যিনি নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের তৈরি করেছিলেন।
এবং তিনি ছিলেন এমন একজন নারী, যিনি একটি পুরুষ-প্রধান বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের দরজায় দাঁড়িয়ে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করেছিলেন।
শেষ কথা
কমলা সোহোনির জীবন আমাদের ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের সামনে দাঁড় করায়—বড় বৈজ্ঞানিক কাজ সবসময় বড় যন্ত্র বা বিশাল গবেষণাগার দিয়ে শুরু হয় না।
কখনও তা শুরু হয় একটি প্রশ্ন দিয়ে।
মানুষ যে খাবার প্রতিদিন খায়, সেই খাবার কতটা পুষ্টিকর?
এই সাধারণ প্রশ্ন থেকেই ডাল, শস্য, উদ্ভিদ এবং নীরার মতো খাদ্য নিয়ে তাঁর গবেষণার পথ তৈরি হয়েছিল।
আর সেই পথ তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল কেমব্রিজের গবেষণাগার থেকে ভারতের সাধারণ মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সমস্যার কাছে।
কমলা সোহোনি প্রমাণ করেছিলেন, বিজ্ঞানের প্রকৃত শক্তি শুধু নতুন তথ্য আবিষ্কারে নয়—সেই জ্ঞানকে মানুষের জীবনে অর্থবহ করে তোলার মধ্যেও রয়েছে।
তাঁর জীবন তাই ভারতীয় নারী বিজ্ঞানীদের ইতিহাসে শুধু একটি ‘প্রথম’-এর গল্প নয়। এটি বাধা অতিক্রম করে জ্ঞান অর্জন, সেই জ্ঞানকে সমাজের কাজে লাগানো এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করার গল্প।
আজ যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়ছে, তখন কমলা সোহোনির মতো অগ্রদূতদের স্মরণ করা মানে শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়—বিজ্ঞান যেন মানুষের জন্য কাজ করে, সেই আদর্শকেও নতুন করে মনে রাখা।