Categories
উপন্যাস বিবিধ

শেষ ট্রেনের যাত্রী ((দ্বিতীয় পর্ব: স্মৃতিপুরের দুই মেঘলা))।

স্টেশনজুড়ে তখন অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নীলচে-কালো ট্রেনটির প্রতিটি জানালায় যেন অসংখ্য মুখ ভেসে উঠছে। কেউ কাঁদছে, কেউ হাসছে, আবার কেউ নিঃশব্দে অয়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

অয়নের সামনে দাঁড়িয়ে দু’জন মেঘলা।

একজনের হাতে রক্তের দাগ লাগা ছাতা। তার চোখে আতঙ্ক, মুখে অসহায়তা। অন্যজনের পরনে সেই পরিচিত নীল সালোয়ার-কামিজ, যেটা পরে সাত বছর আগে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল মেঘলা। তার মুখে শান্ত হাসি।

“দাদা, আমার সঙ্গে চলো!” নীল পোশাকের মেয়েটি বলল। “এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তুমি আর কোনও দিন ফিরতে পারবে না।”

রক্তমাখা ছাতার মেয়েটি চিৎকার করে উঠল, “ওর কথা শুনিস না, অয়নদা! ও তোর স্মৃতি চুরি করতে এসেছে। ও মেঘলা নয়!”

অয়নের মাথার ভেতর যেন কেউ হাতুড়ি মারছিল।

“তোমাদের মধ্যে আসল কে?” সে কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করল।

দু’জনেই একসঙ্গে উত্তর দিল, “আমি!”

তারপর দু’জনেই এমন একটি কথা বলল, যা শুনে অয়নের বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল।

“দাদা, মনে আছে, ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ার পর তুই আমাকে কথা দিয়েছিলি—কখনও একা ছেড়ে যাবি না?”

এই কথাটি শুধু অয়ন আর মেঘলা জানত। মায়ের মৃত্যুর পর এক বর্ষার রাতে ছোট্ট মেঘলা ভয়ে অয়নের হাত আঁকড়ে ধরেছিল। অয়ন তাকে বুকে টেনে নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, জীবনে যা-ই ঘটুক, সে কখনও বোনকে একা ছেড়ে যাবে না।

দু’জনের চোখেই জল এসে গেল।

অয়ন পিছিয়ে গেল। “তোমরা যদি দু’জনেই সব জানো, তাহলে আমি কাকে বিশ্বাস করব?”

পেছন থেকে বৃদ্ধের কণ্ঠ ভেসে এল।

“যে মানুষকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, তার স্মৃতিই আপনাকে সবচেয়ে সহজে প্রতারিত করতে পারে।”

অয়ন ঘুরে তাকাল। ধূসর কোট পরা বৃদ্ধটি প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। তার হাতে একটি পুরোনো পিতলের লণ্ঠন।

“আপনি কে?” অয়ন চিৎকার করে উঠল। “কেন আমাকে এখানে এনেছেন? আমার বোনের সঙ্গে কী হয়েছিল, সব খুলে বলুন!”

বৃদ্ধ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন।

“আমি কাউকে এখানে আনি না। এই ট্রেন তাদেরই খুঁজে পায়, যারা নিজেদের অতীত থেকে পালিয়ে বেড়ায়। আপনি সাত বছর ধরে একটি রাতকে ভুলে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভুলে যাওয়া আর ক্ষমা পাওয়া এক জিনিস নয়।”

“আমি কী অপরাধ করেছি?”

বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না। শুধু অয়নের হাতে থাকা টিকিটটির দিকে তাকালেন।

টিকিটের গায়ে আগুনের মতো লাল অক্ষর ফুটে উঠল—

‘স্মৃতির দরজা খুলতে হলে, প্রথমে নিজের মুখোশ খুলুন।’

পরমুহূর্তেই টিকিটটি নিভে গেল। তার জায়গায় দেখা গেল একটি ছোট্ট কালো চাবি।

অয়ন অবাক হয়ে চাবিটি হাতে নিল।

“ওটা কোথায় নিয়ে যাবে?” সে প্রশ্ন করল।

বৃদ্ধ বললেন, “স্মৃতিপুরের পুরোনো বাড়িতে। যে বাড়িতে আপনার বোন শেষবার আপনার জন্য অপেক্ষা করেছিল।”


স্মৃতিপুর স্টেশন থেকে বেরিয়ে অয়ন দেখল, চারপাশে কুয়াশায় ঢাকা একটি অচেনা শহর। রাস্তার দু’পাশে পুরোনো বাড়ি, বন্ধ দোকান, ভাঙা ল্যাম্পপোস্ট। অথচ সবকিছুর মধ্যে এমন একটা পরিচিত ভাব ছিল, যেন সে বহুবার এই রাস্তা দিয়ে হেঁটেছে।

দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারগুলিতে একই তারিখ—১৭ নভেম্বর ২০১৯।

প্রতিটি ঘড়িতে রাত ১২টা ১৩ মিনিট।

রাস্তার এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল একটি চায়ের দোকান। দোকানের ভেতরে বসে থাকা বৃদ্ধ চায়ের কাপ হাতে অয়নের দিকে তাকিয়ে বললেন, “অনেক দেরি করে ফেলেছেন, বাবু। মেয়েটা এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল।”

“কোন মেয়েটা?”

বৃদ্ধ উত্তর না দিয়ে দোকানের পেছনের দেওয়াল দেখালেন। সেখানে একটি পুরোনো সংবাদপত্রের কাটা অংশ আটকে রয়েছে।

শিরোনামটি পড়ে অয়নের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

‘ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় তরুণীর মৃত্যু, নিখোঁজ যুবকের সন্ধান নেই।’

নিচে একটি অস্পষ্ট ছবি। ছবিতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি। পাশে পুলিশের ব্যারিকেড। আর ছবির এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটির মুখ অয়নের নিজের মুখের মতো।

সে কাগজটি ছিঁড়ে নামিয়ে আনল।

“এটা কী? এই খবর তো আমি কখনও দেখিনি!”

চায়ের দোকানের বৃদ্ধ এবার মুখ তুললেন।

“আপনি কীভাবে দেখবেন, বাবু? খবরের কাগজে যাঁর নিখোঁজ হওয়ার কথা লেখা ছিল, তিনি তো নিজেই নিজের খবর ছাপতে দেননি।”

“কী বলছেন আপনি?”

“সেই রাতে গাড়িতে দু’জন ছিল না। তিনজন ছিল।”

অয়নের হাত থেকে কাগজটি পড়ে গেল।

“তৃতীয় জন কে?”

বৃদ্ধ ঠোঁটে আঙুল রাখলেন।

“এই শহরে মৃতদের কথা জোরে বলতে নেই। তারা শুনে ফেললে নিজেদের স্মৃতি বদলে দেয়।”

কথাটি শেষ হতেই দোকানের আলো নিভে গেল। আবার জ্বলে উঠলে বৃদ্ধ আর সেখানে নেই। টেবিলের ওপর পড়ে রয়েছে তিনটি ভাঙা কাচের টুকরো। প্রতিটি টুকরোয় আলাদা আলাদা মুখের প্রতিবিম্ব।

একটিতে অয়নের মুখ।

একটিতে মেঘলার মুখ।

আর শেষ টুকরোটিতে এমন একজনের মুখ, যাকে অয়ন চিনতে পারল না।

কিন্তু সেই অচেনা মুখটির চোখের পাশে ছিল একটি পুরোনো কাটা দাগ।

কেন যেন দাগটি অয়নের কাছে ভীষণ পরিচিত মনে হলো।


কালো চাবিটি হাতে নিয়ে অয়ন এগিয়ে চলল। কুয়াশার মধ্যে দিয়ে কিছুটা পথ যাওয়ার পর সে একটি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। বাড়িটির লোহার গেটে মরচে পড়েছে। বারান্দার জানালায় ধুলো জমে রয়েছে। অথচ সদর দরজার সামনে রাখা ফুলদানিতে সদ্য তোলা সাদা ফুল।

গেটের ওপর ছোট্ট একটি ফলকে লেখা—

‘বসু বাড়ি।’

অয়ন স্তব্ধ হয়ে গেল। এই বাড়িটি তাদের পুরোনো বাড়ি। বাবা চাকরির সূত্রে অন্য শহরে চলে যাওয়ার আগে এখানেই তারা থাকত। মেঘলার দুর্ঘটনার পর বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

তাহলে স্মৃতিপুরে এই বাড়ি এল কীভাবে?

চাবিটি তালায় ঢোকাতেই দরজা খুলে গেল।

ভেতরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে অয়নের নাকে ভেসে এল পুরোনো কাঠ, ধুলো আর মেঘলার প্রিয় রজনীগন্ধার গন্ধ।

দেয়ালে তাদের পরিবারের ছবি। মায়ের কোলে ছোট্ট মেঘলা, পাশে কিশোর অয়ন। ছবিটির কাচে ফাটল ধরেছে। কিন্তু ছবির পেছনে কালো কালি দিয়ে লেখা একটি বাক্য অয়নের চোখে পড়ল—

‘সত্যিটা মনে পড়লে, ওকে ক্ষমা করতে পারবে তো?’

ঠিক তখনই ওপরের ঘর থেকে পায়ের শব্দ এল।

টুপ।

টুপ।

টুপ।

যেন কেউ ভেজা পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে।

অয়ন ঘুরে দাঁড়াল।

সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে রক্তমাখা ছাতার মেয়েটি—সেই মেঘলা, যে স্টেশনে তাকে সতর্ক করেছিল।

“দাদা,” সে ফিসফিস করে বলল, “তুই অবশেষে এসেছিস।”

অয়ন এগিয়ে যেতে গিয়েও থেমে গেল।

“তুই যদি আসল মেঘলা হোস, তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দে। দুর্ঘটনার রাতে তুই আমাকে ফোন করেছিলি কেন?”

মেঘলার চোখ ভিজে উঠল।

“কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম। আমি জানতাম, তুই রাগ করবি। আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তার আগে তোর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম।”

“আর দুর্ঘটনা?”

মেয়েটি ঠোঁট কামড়ে ধরল।

“দুর্ঘটনাটা যেমন সবাই জানে, তেমন নয়।”

“তাহলে সত্যিটা কী?”

মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “তুই সেদিন শুধু আমার ফোন ধরিসনি, দাদা। তুই আমার কাছে এসেছিলি।”

অয়নের মাথার ভেতর যেন বজ্রপাত হলো।

“অসম্ভব! আমি তো সেদিন বাড়িতে ছিলাম!”

“তুই বাড়িতে ছিলি—এই কথাটাই তোকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল।”

মেঘলা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল। তার ভেজা পায়ের ছাপ মেঝেতে রক্তের মতো লাল হয়ে থাকল।

“দুর্ঘটনার আগে তুই আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলি। তোর সঙ্গে আর একজন ছিল। তারপর গাড়িটা…”

সে কথা শেষ করতে পারল না। হঠাৎ বাড়ির সব দরজা-জানালা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল।

দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটি চলতে শুরু করল।

১২টা ১৪।

১২টা ১৫।

১২টা ১৬।

সাত বছর পর প্রথমবার সময় এগোচ্ছে!

মেঘলা আতঙ্কে চিৎকার করল, “না! ও জেগে উঠছে!”

“কে?” অয়ন তার হাত ধরতে গেল।

কিন্তু মেঘলার হাত বরফের মতো ঠান্ডা। মুহূর্তের মধ্যে তার মুখের চামড়ায় ফাটল ধরতে শুরু করল। চোখের মণি কালো হয়ে গেল। সে অয়নের হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলল—

“দাদা, তুই মনে করতে পারছিস না, কারণ তুই নিজেকেই বাঁচাতে চেয়েছিলি!”

তারপর মেঘলার শরীর কুয়াশার মতো মিলিয়ে গেল।

অয়ন মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার কানে একের পর এক স্মৃতি ফিরে আসতে লাগল।

বৃষ্টিভেজা রাস্তা।

গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে শক্ত হয়ে থাকা দুটো হাত।

পাশের আসনে মেঘলার কান্না।

আর পেছনের আসন থেকে ভেসে আসা এক পুরুষের কণ্ঠ—

“গাড়ি থামাও, অয়ন! তুমি কী করছ?”

অয়ন দু’হাতে মাথা চেপে ধরল।

“না… না… আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম না…”

ঠিক তখনই বাড়ির ভেতরের একটি বন্ধ ঘরের দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।

ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি পুরোনো আয়না। আয়নার সামনে একটি চেয়ার, তার ওপর রাখা অয়নের পুরোনো সাংবাদিক পরিচয়পত্র। পাশে একটি রক্তমাখা মোবাইল ফোন।

ফোনটির পর্দা জ্বলে উঠল।

একটি পুরোনো অডিও রেকর্ডিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হলো।

প্রথমে বৃষ্টির শব্দ। তারপর মেঘলার কণ্ঠ—

“দাদা, প্লিজ গাড়িটা থামা!”

তারপর অয়নের নিজের কণ্ঠ শোনা গেল।

“তুই আমাকে বাধ্য করেছিস, মেঘলা!”

এরপর একটি ধাক্কার শব্দ।

কাচ ভাঙার আওয়াজ।

আর সবশেষে সেই অচেনা পুরুষের কণ্ঠ—

“অয়ন, তুমি ওকে মেরে ফেলেছ!”

রেকর্ডিং থেমে গেল।

অয়ন অবিশ্বাসের চোখে ফোনটির দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানত না এই কণ্ঠ কার। কিন্তু নিজের কণ্ঠ সে চিনতে পেরেছে।

ঠিক তখনই আয়নার ভেতর থেকে আরেকজন অয়ন বেরিয়ে আসার মতো করে সামনে ঝুঁকে পড়ল।

আয়নার ওপারের অয়নের কপালে রক্ত। চোখ দুটো ভয়ে বড় হয়ে আছে। সে কাচের ওপার থেকে ফিসফিস করে বলল—

“তুমি সত্যিটা জানতে চাও? তাহলে মনে রাখো, মেঘলা একা মারা যায়নি।”

অয়ন কাঁপতে কাঁপতে আয়নার কাছে এগিয়ে গেল।

“তাহলে আর কে মারা গিয়েছিল?”

আয়নার ওপারের অয়ন ঠোঁটে এক অদ্ভুত হাসি ফুটিয়ে বলল—

“যে মানুষটাকে তুমি সাত বছর ধরে মৃত বলে বিশ্বাস করে এসেছ, সে আজও তোমার বাড়িতে ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে।”

হঠাৎ আয়নায় ফাটল ধরল।

ফাটলের ওপারে দেখা গেল সেই নীলচে-কালো ট্রেনের একটি কামরা। কামরার জানালার পাশে বসে রয়েছে ধূসর কোট পরা বৃদ্ধ। তাঁর বিপরীতে একটি খালি আসন।

সেই আসনের ওপর রাখা একটি নামফলকে লেখা—

‘অয়ন বসু।’

আর আসনের নিচে রক্তমাখা অক্ষরে ফুটে উঠল আরেকটি বাক্য—

‘পরবর্তী যাত্রী: যে এখনও বেঁচে আছে।’

বাড়ির বাইরে তখন ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে।

অয়ন জানালার কাছে ছুটে গেল। কুয়াশার মধ্যে সে দেখল, রাস্তার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে নীল পোশাকের সেই মেঘলা। তার পাশে আরেকজন মানুষ।

মানুষটির মুখ দেখা যাচ্ছে না।

কিন্তু তার ডান চোখের পাশে রয়েছে একটি পুরোনো কাটা দাগ।

অয়নের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

কারণ সেই দাগটি তার নিজের মুখেও ছিল—শৈশবের এক দুর্ঘটনার স্মৃতি, যা সে কোনও দিন কাউকে বলেনি।

তাহলে ওই মানুষটি কে?

আর যদি সেই মানুষটি অয়ন নিজেই হয়, তাহলে এই বাড়ির ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা অয়ন কে?

ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে বৃদ্ধের কণ্ঠ শোনা গেল।

“এবার বুঝতে পারছেন, অয়নবাবু? স্মৃতিপুরে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটি ‘কে মারা গেছে’ নয়।”

অয়ন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।

বৃদ্ধের চোখে এবার আর কোনও মমতা নেই।

“সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটি হলো—যে আপনার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছে, সে আসলে কে?”

বাইরে ট্রেনের দরজা খুলে গেল।

আর অয়নের মোবাইল ফোনে একটি নতুন বার্তা এসে পৌঁছল।

প্রেরকের নাম দেখে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।

প্রেরক: মেঘলা বসু।

বার্তায় লেখা—

‘দাদা, আমি এখনও বেঁচে আছি। কিন্তু ট্রেনটা আমাকে খুঁজছে। আমাকে বাঁচাতে হলে, আগামী রাত ১২টা ১৩ মিনিটের আগে তোমাকে নিজের মৃত্যুর সত্যিটা জানতে হবে।’

অয়ন বার্তাটির দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর হঠাৎ ফোনের পর্দা কালো হয়ে গেল।

সেই কালো পর্দায় ভেসে উঠল অয়নের নিজের মুখ।

কিন্তু প্রতিবিম্বটি হাসছিল।

আর অয়ন নিজে কাঁদছিল।

দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *