Categories
গল্প

গল্প : শেষ চিঠির অপেক্ষা।।

প্রথম অধ্যায়: অপ্রত্যাশিত চিঠি
পূর্ব মেদিনীপুরের ছোট্ট গ্রাম চন্দনপুর। গ্রামের এক প্রান্তে পুরোনো টালির ছাউনি দেওয়া বাড়িতে একা থাকতেন অনিরুদ্ধ সেন। বয়স পঞ্চান্ন পেরিয়েছে, কিন্তু মুখের রেখায় যেন আরও অনেক বছরের ক্লান্তি জমে আছে।
প্রতিদিন ভোরে উঠে তিনি উঠোন ঝাড়ু দিতেন, তুলসীতলায় জল দিতেন, তারপর চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় বসে থাকতেন। তাঁর এই একঘেয়ে জীবনে বিশেষ কোনো পরিবর্তন ঘটত না।
কিন্তু একটি অভ্যাস কখনও বদলায়নি—প্রতিদিন দুপুরে তিনি গ্রামের পোস্ট অফিসের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।
কারণ, তিনি অপেক্ষা করতেন একটি চিঠির।
চিঠিটি আসার কথা ছিল আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে।
গ্রামের সবাই জানত, অনিরুদ্ধ একসময় খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। কলেজে পড়ার সময় তিনি ভালোবেসেছিলেন গ্রামেরই মেয়ে মাধুরীকে।
মাধুরীর চোখ ছিল গভীর নদীর মতো শান্ত। দুজনের স্বপ্ন ছিল শহরে গিয়ে সংসার গড়ার।
কিন্তু ভাগ্য তাদের জন্য অন্য গল্প লিখেছিল।
একদিন মাধুরীর পরিবার আচমকা কলকাতায় চলে যায়। যাওয়ার আগে মাধুরী অনিরুদ্ধকে বলেছিল—
“আমি তোমাকে চিঠি লিখব। তুমি অপেক্ষা করবে তো?”
অনিরুদ্ধ হেসে বলেছিলেন—
“সারা জীবন।”
সেই প্রতিশ্রুতির পর ত্রিশ বছর কেটে গেছে।
চিঠি আর আসেনি।
তবুও তিনি অপেক্ষা ছাড়েননি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এক বর্ষার দুপুর
সেদিন আষাঢ়ের দুপুর।
আকাশ কালো মেঘে ঢাকা।
হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
অনিরুদ্ধ দরজা খুলে দেখলেন গ্রামের পোস্টম্যান শিবু দাঁড়িয়ে।
শিবুর হাতে একটি হলদেটে খাম।
“অনিরুদ্ধবাবু, আপনার নামে চিঠি এসেছে।”
কথাটা শুনে তাঁর বুক কেঁপে উঠল।
“আমার নামে?”
“হ্যাঁ।”
কাঁপা হাতে খামটি নিলেন তিনি।
খামের উপর লেখা—
অনিরুদ্ধ সেন, চন্দনপুর গ্রাম।
প্রেরকের নাম—
মাধুরী।
মুহূর্তে যেন পৃথিবী থেমে গেল।
ত্রিশ বছর পরে!
তিনি বারান্দায় বসে খাম খুললেন।
ভিতরে একটি মাত্র চিঠি।
তৃতীয় অধ্যায়: চিঠির ভাষা
চিঠিতে লেখা—
প্রিয় অনিরুদ্ধ,
জানি না এই চিঠি তোমার হাতে পৌঁছাবে কি না।
আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম চিঠি লিখব।
কিন্তু জীবন আমাকে সেই সুযোগ দেয়নি।
কলকাতায় যাওয়ার কিছুদিন পর বাবার জোরে আমার বিয়ে হয়।
আমি প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু পারিনি।
তোমার ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
বহু বছর পরে আবার খুঁজে পেলাম।
তাই লিখছি।
আমি অসুস্থ।
হয়তো বেশি দিন বাঁচব না।
যদি সম্ভব হয়, একবার দেখা করতে এসো।
তোমার মাধুরী।
চিঠির শেষ লাইনে জল পড়ে কালি ছড়িয়ে গেছে।
হয়তো চোখের জল।
অনিরুদ্ধেরও চোখ ভিজে উঠল।
ত্রিশ বছরের অপেক্ষা।
অবশেষে উত্তর এসেছে।
চতুর্থ অধ্যায়: যাত্রা
পরদিনই তিনি কলকাতার ট্রেনে উঠলেন।
দীর্ঘদিন পরে এত দূরে যাচ্ছেন।
ট্রেনের জানালা দিয়ে বৃষ্টি ভেজা মাঠ দেখতে দেখতে তাঁর মনে পড়ছিল পুরোনো দিন।
কলেজের মাঠ।
মাধুরীর হাসি।
নদীর ধারে হাঁটা।
স্বপ্নের কথা।
সবকিছু যেন গতকালের ঘটনা।
কিন্তু আয়নায় মুখ দেখলেই বোঝা যায়, ত্রিশ বছর কেটে গেছে।
কলকাতায় পৌঁছে তিনি চিঠিতে লেখা ঠিকানার খোঁজ করলেন।
একটি ছোট্ট বাড়ি।
দরজায় নাম লেখা—
মাধুরী মুখার্জি।
তিনি কড়া নাড়লেন।
এক তরুণী দরজা খুলল।
“কাকে চান?”
“আমি… মাধুরী দেবীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”
তরুণীর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
“আপনি কি অনিরুদ্ধ কাকু?”
তিনি অবাক।
“হ্যাঁ।”
তরুণী ধীরে বলল—
“মা আপনার কথা বলতেন।”
“মা?”
“আমি মাধুরী দেবীর মেয়ে।”
অনিরুদ্ধের বুক ধক করে উঠল।
“মাধুরী কোথায়?”
মেয়েটি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল—
“মা তিন মাস আগে মারা গেছেন।”
পঞ্চম অধ্যায়: হারিয়ে যাওয়া সময়
অনিরুদ্ধ যেন পাথর হয়ে গেলেন।
তিন মাস আগে?
তাহলে চিঠি?
মেয়েটি বলল—
“মা মৃত্যুর আগে কয়েকটি চিঠি লিখেছিলেন। আমাকে বলেছিলেন সময়মতো পাঠাতে। কিন্তু নানা কারণে দেরি হয়ে গেছে।”
অনিরুদ্ধ চুপ করে বসে রইলেন।
কোনো কথা বেরোল না।
মেয়েটি একটি বাক্স নিয়ে এল।
“মা এটা আপনার জন্য রেখে গেছেন।”
বাক্স খুলতেই তিনি দেখলেন—
পুরোনো ছবি।
শুকনো শিউলি ফুল।
কলেজ জীবনের স্মৃতি।
আর শতাধিক অপাঠানো চিঠি।
প্রতিটি চিঠি তাঁর নামে লেখা।
ষষ্ঠ অধ্যায়: অপ্রেরিত ভালোবাসা
রাতভর তিনি চিঠিগুলো পড়লেন।
প্রথম চিঠি লেখা ছিল ত্রিশ বছর আগে।
দ্বিতীয়টি এক বছর পরে।
তৃতীয়টি আরও পরে।
প্রতিটি চিঠিতে ছিল তাঁর কথা।
তাঁর স্মৃতি।
তাঁর প্রতি ভালোবাসা।
মাধুরী কখনও তাঁকে ভুলে যাননি।
পরিস্থিতি, দায়িত্ব, সংসার—সবকিছু তাঁকে আটকে রেখেছিল।
কিন্তু হৃদয়ের এক কোণে অনিরুদ্ধ ছিলেন।
সবসময়।
একটি চিঠিতে লেখা—
অনিরুদ্ধ,
আজ আমার মেয়ের জন্মদিন।
সবাই খুব খুশি।
তবু জানো, তোমার কথা মনে পড়ছে।
তুমি কি এখনও আমার জন্য অপেক্ষা করছ?
আরেকটিতে—
আজ আমার চুলে প্রথম পাকা রং দেখলাম।
মনে হল সময় কত দ্রুত চলে যায়।
যদি কোনোদিন দেখা হয়, চিনতে পারবে তো?
চিঠিগুলো পড়তে পড়তে অনিরুদ্ধ কাঁদলেন।
জীবনে প্রথমবার তিনি অনুভব করলেন—
তাঁর অপেক্ষা বৃথা ছিল না।
সপ্তম অধ্যায়: শেষ দেখা
পরদিন মাধুরীর মেয়ে তাঁকে নিয়ে গেল কাছের শ্মশানের পাশে স্মৃতিফলকের কাছে।
সেখানে লেখা—
মাধুরী মুখার্জি (১৯৭১–২০২৫)
অনিরুদ্ধ নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন।
হাওয়ায় শিউলি ফুলের গন্ধ।
মনে হল মাধুরী যেন ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি ধীরে বললেন—
“আমি এসেছি, মাধুরী।”
“দেরি হয়ে গেল।”
“ক্ষমা করো।”
বাতাস হালকা করে বয়ে গেল।
যেন অদৃশ্য কেউ উত্তর দিল—
“তুমি তো এসেছ।”
অষ্টম অধ্যায়: অপেক্ষার অবসান
গ্রামে ফিরে এসে অনিরুদ্ধ আর আগের মতো রইলেন না।
তিনি প্রতিদিন পোস্ট অফিসের দিকে তাকিয়ে থাকতেন না।
কারণ অপেক্ষা শেষ হয়েছে।
একদিন তিনি সমস্ত চিঠি একটি কাঠের বাক্সে সাজিয়ে রাখলেন।
বাক্সের উপর লিখলেন—
“অপেক্ষার ইতিহাস”
গ্রামের ছেলেমেয়েদের তিনি গল্প শোনাতেন।
ভালোবাসার গল্প।
প্রতিশ্রুতির গল্প।
অপেক্ষার গল্প।
বছরখানেক পরে এক শরৎ সকালে তিনি বারান্দায় বসে ছিলেন।
হাতে মাধুরীর প্রথম চিঠি।
মুখে শান্ত হাসি।
আকাশে সাদা মেঘ ভাসছিল।
দূরে কাশফুল দুলছিল।
সেই দিন তিনি চিরশান্তির ঘুমে চলে গেলেন।
চিঠিটি তাঁর বুকের উপর রাখা ছিল।
শেষবারের মতো যেন তিনি উত্তর পেয়েছিলেন।
উপসংহার
ভালোবাসা সবসময় একসঙ্গে থাকার নাম নয়।
কখনও কখনও ভালোবাসা হলো অপেক্ষা।
কখনও প্রতিশ্রুতি।
কখনও একটি অপাঠানো চিঠি।
আর কখনও ত্রিশ বছর পর পৌঁছে যাওয়া একটি খাম, যা প্রমাণ করে—
সময় হারিয়ে যেতে পারে, মানুষ চলে যেতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসা কখনও মরে না।
সমাপ্ত 🌸

Share This
Categories
বিবিধ

সরকারি নির্দেশিকা মেনে জটেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু সকালের ক্লাস।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রেহাই দিতে জটেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে চালু হল সকালের শিফটের ক্লাস বা ‘মর্নিং স্কুল’। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকরাও। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয়েছে, আর প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিদ্যালয়ের টি.আই.সি অমিত কুমার দত্ত জানান, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই বিদ্যালয়ে মর্নিং স্কুল চালু করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ক্লাস শুরু হবে এবং চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।তিনি বলেন, “বর্তমান তীব্র গরমে সকালবেলায় ক্লাস হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনেকটাই স্বস্তি পাবে। দুপুরের প্রখর রোদ ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে স্কুলে আসা-যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।” শুধু পাঠদানই নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়মিত বাড়ি থেকে জলের বোতল নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন উপভোক্তারা।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ঢুকতে শুরু করেছে অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা। গতকাল অর্থাৎ বুধবার থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। এদিকে ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বরেও প্রচুর মহিলারা ইতিমধ্যেই ভাতার টাকা পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। জানা গিয়েছে, জটেশ্বর সহ বিভিন্ন এলাকার বহু মহিলা ইতিমধ্যেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জটেশ্বরের সাহাপাড়ার বাসিন্দা চম্পা রায় সরকার বলেন, “আমার অ্যাকাউন্টে টাকাটা ঢুকে গিয়েছে। আমি খুবই খুশি। এই সাহায্য আমাদের সংসারের বিভিন্ন কাজে লাগে। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।” উপভোক্তাদের একাংশের দাবি, এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে যথেষ্ট সাহায্য করে। অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করায় জটেশ্বরের বহু উপভোক্তা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

চন্দ্রকোনারোডে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের কুশতোড়া গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই মৃত যুবকের নাম অনুপ সিং,বয়স আনুমানিক ২২ বছর,সূত্রে আরও জানা যায় বুধবার বিকেলে বাড়ির মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পরিবার-পরিজন। তৎক্ষণার খবর দেওয়া হয় চন্দ্রকোনারোড বিট হাউসের পুলিশকে, খবর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে দ্বারিগেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। পাশাপাশি কি কারনে এই ঘটনা গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

ডিজেলের বাড়তি খরচে বিপাকে ট্রাক অপারেটররা, ভাড়া কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবার বিপাকে পড়েছে ট্রাক মালিকরা। কিলোমিটার কিছু ভাড়া নির্ধারিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে ট্রাক মালিকদের তরফ থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা-চন্দ্রকোনারোডে ডিজিটের মূল্য ১০০ টাকা ৪০ পয়সা, এতেই বিপাকে পড়েছে ট্রাক মালিকরা। বৃহস্পতিবার জেলা ট্রাক অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ মণ্ডল জানিয়েছেন ছোট গাড়ির ক্ষেত্রে কিলোমিটার গতি ভাড়া থাকলেও ট্রাকের ক্ষেত্রে কিলোমিটার পিছু ভাড়া নেওয়া উচিত। প্রসঙ্গত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আবহে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অসশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে এই দেশেও।

Share This
Categories
প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

পথশিশু এবং অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু – একটি পর্যালোচনা : দিলীপ রায়।

যেসব শিশু পিতৃ কিংবা মাতৃহীন, মা তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বাবা কঠিন দুরারোগে আক্রান্ত, বাবা কিংবা মা মাদকাশক্ত অথবা বাবা-মা সংসার চালাতে না পারার জন্য, বাবা বা মায়ের বহু বিবাহ, সৎ বাবা বা সৎ মা দ্বারা নির্যাতিত, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, গৃহে হিংসা, পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া, আশ্রয়ের অভাব, বন্যা, খরা বা অন্য কোনও দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত, ইত্যাদি কয়েকটি কারণে পথশিশুর বাড়-বাড়ন্ত । যার জন্য আজকের দিনে পথশিশুরা শিশু পাচার, শিশু শ্রম , শোষণের শিকার ।
পথশিশুরা এসে শহরে ভিড় করে । গ্রামের মেয়ে শিশুদের একশ্রেণীর মানুষ শহরে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করে । তারা গ্রাম ছেড়ে শহরের খোলা আকাশের নীচে, ব্রিজের নীচে, মার্কেট, পার্ক, বাস স্ট্যান্ডে ও রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয় এবং বাঁচার তাগিদে তারা ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ, বাদাম বিক্রি, কুলি, সিগারেট বিক্রি, হোটেলে বয়, গাড়ি ধোঁয়া-মোছা, ফুল বিক্রি, গৃহস্থালীর কাজ, মাদক বিক্রি, চুরি, অকাজ-কুকাজ সহ নানান ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে । তাই
পথশিশুদের জীবন ও জীবিকা অনেক দুঃখের ও কষ্টের । উপায়ের জায়গাটা শক্ত না হলে কিংবা আয় না হলে, না খেয়েই দিন যাপন । এজন্য অধিকাংশ পথশিশু অপুষ্টিতে ভোগে । চর্মরোগ, ডায়রিয়া, ঠাণ্ডা, জ্বর, জন্ডিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয় । আর একটা কথা, অসুস্থ হলে চিকিৎসার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত থাকে ।
পথশিশুর সংখ্যা আজও অজানা । কেননা ভারতে তাদের সংখ্যা নিয়ে সাম্প্রতিক কোনও তথ্য নেই । ইউনিসেফ নাকি ২০০০ সালে জানিয়েছিল ভারতে আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লক্ষ পথশিশু রয়েছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ । মৌলিক চাহিদা ও সুযোগ থেকে দূরে থাকা এই বাচ্চারা শুধু পারিবারিক যত্ন ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় না, নির্যাতন, অবহেলা ও মৃত্যুরও মুখোমুখি হয় । এটাই বিড়ম্বনার । এটাই বেদনার । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।
( ২ )
এছাড়া রয়েছে অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু ! তাই প্রথমেই আমাদের জানা দরকার, অনাথ শিশু কারা ? সচরাচর আমরা যেটা জানি, যে শিশুর বাবা ও মা দুজনেই মারা গেছেন তাকে অনাথ বলে । এখানে উল্লেখ্য, যে প্রাপ্তবয়স্ক শিশুর বাবা ও মা মারা গেছেন তাকে কিন্তু অনাথ বলা যাবে না । এবার দেখা যাক “অনাথ” সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অন্যান্যরা কী বলে ? যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে অনাথ বলতে বুঝায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন কাউকে, “যার বাবা ও মা দুজনেই মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন ।“ যদিও ইউনিসেফ (ইউনাইটেড নেশন্স চিলড্রেন’স ফান্ড) কোনো শিশুর বাবা ও মা দুজনের মধ্যে একজন আছে এমন শিশুকেও অনাথ বলে বিবেচনা করে থাকে । এভাবে বললে, মাতৃহারা শিশুকে মাতৃহারা অনাথ, পিতৃহারা শিশুকে পিতৃহারা অনাথ এবং বাবা-মা দুজনেই মারা গেলে শিশুকে দ্বৈত অনাথ বলে তারা অভিহিত । অথবা যার কোনো অভিভাবক নেই এবং দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই । অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপ, UNICEF’এর মতে —
১। পূর্ণ অনাথ (Double orphan): মা ও বাবা দুজনেই মারা গেছেন ।
২। মাতৃহীন অনাথ (Maternal orphan): মা মারা গেছেন, বাবা জীবিত ।
৩। পিতৃহীন অনাথ (Paternal orphan): বাবা মারা গেছেন, মা জীবিত ।
অনাথ শিশুরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় । যেমনঃ—
• পারিবারিক স্নেহ ও ভালোবাসার অভাব।
• মানসিক কষ্ট, একাকীত্ব ও অনিরাপত্তাবোধ।
• শিক্ষা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা।
• স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টির ঘাটতি।
• সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হওয়া।
• শিশুশ্রম, নির্যাতন বা শোষণের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
সমাজের দায়িত্বঃ
অনাথ শিশুদের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে । তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সমাজের মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাষ্ট্র ছাড়াও দেশের সুশীল নাগরিকদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে ।
উপসংহারঃ
পরিশেষে বলা যায়, অনাথ শিশু হলো সেই শিশু, যে মা-বাবার স্নেহ, ভালোবাসা ও অভিভাবকত্ব থেকে বঞ্চিত । তারা সমাজের সবচেয়ে অসহায় সদস্যদের মধ্যে অন্যতম । তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব ।
( ৩ )
এবার জানা যাক ‘পরিত্যক্ত শিশু’ কারা। পরিত্যক্ত শিশু বলতে সেইসব শিশুকে বোঝায়, যাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কোনো অভিভাবক বা দাবিদার ছাড়া অসহায় ও পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় । এসব শিশু সাধারণত পরিবার, পরিচয় এবং নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত থাকে । অনেক ক্ষেত্রে তাদের পিতা-মাতার পরিচয় জানা যায় না, আবার কখনো পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে বা পরিস্থিতির কারণে তাদের ত্যাগ করে ।
পরিত্যক্ত শিশুদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন শিশু, যাদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না । এছাড়া মানবপাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া অনেক শিশুও পরিত্যক্ত শিশু হিসেবে বিবেচিত হয়, বিশেষত যখন তাদের পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায় না বা কেউ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে এগিয়ে আসে না ।
অনেক সময় দেখা যায়, কোনো নবজাতক শিশুকে জন্মের পর রাস্তাঘাটে, পার্কে, হাসপাতালের আশপাশে, রেলস্টেশনে কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যাওয়া হয় । পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষের সহায়তায় এসব শিশুকে উদ্ধার করা হয় । এ ধরনের শিশুরাও পরিত্যক্ত শিশুর অন্তর্ভুক্ত ।
সাধারণভাবে বলা যায়ঃ—
“যেসব শিশুকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কোনো দাবিদার বা অভিভাবক ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তাদেরকে পরিত্যক্ত শিশু বলা হয়।”
উপসংহারঃ
পরিত্যক্ত শিশুরা সমাজের অত্যন্ত অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি অংশ। তাদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব । মানবিক সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে এসব শিশুর জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব ।
( ৪ )
এরপর পরিসংখ্যানে আসা যাক । ভারতের জনসংখ্যার বড়োসড়ো অংশ অর্থাৎ ১৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর বয়স ছয় বছরের মধ্যে । ইউনিসেফ’এর হিসেব অনুসারে, ভারতে ২ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার শিশু অনাথ এবং পরিত্যক্ত (২০১১ জনসংখ্যা তথ্য) । এই পরিসংখ্যান অনুসারে বলা যায়, এরা কম বয়সি জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ ।
বিরাট সংখ্যক ৩ কোটি (প্রায়) শিশুর ঠাঁই নেই বললেই চলে । যার জন্য ঐসব শিশুদের দৈনদশা ক্রমশ অবনতির দিকে । ২০১৭ সালের অসরকারি সংস্থাগুলির হিসেবমাফিক এই ৩ কোটিখানেক বালবাচ্চার মধ্যে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার জন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা পায় । এই যে প্রায় ৫ লাখ পরিচর্যা পাওয়া কচিকাচার এক ভগ্নাংশমাত্রের ঠাঁই মেলে কোনো পরিবারে ।
এটা সর্বজনবিদিত, ভারতে দত্তক নেওয়ার হার নিতান্তই কম । সেন্ট্রাল অ্যাডাপশান রিসোর্স অথরিটির অধুনাতম তথ্যমাফিক, ২০১৮-১৯ সালে পালক মা-বাবার ঠাঁই মিলেছে মেরেকেটে ৪০ টি শিশুর যেটা কিনা ঐ বছরে মোট দত্তকের মাত্র ১ শতাংশের মতো । সেন্ট্রাল অ্যাডাপশান রিসোর্স অথরিটির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, ২০১০ সালে, দেশের মধ্যে ৫,৬৯৩ টি শিশুকে দত্তক নেওয়া হয়, ২০১৭-১৮তে সেটা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩,২৭৬ । এখানে অনাথ এবং পরিত্যক্ত শিশুর কপালে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা জুটেছিল যেটা কিনা ০.৮৭ শতাংশ । এতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ভারতে দত্তক নেওয়ার প্রবণতা খুব কম । তাই শিশু উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ফোকাসে আগাপাশতলা পুনর্বিন্যাস করা দরকার, কারণ এখনও লাখো লাখো বাচ্চার কাছে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সুযোগ অধরা । এটাই উদ্বেগের ।
( ৫ )
এবার অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুদের হালহকিকৎ অর্থাৎ তাদের বর্তমান অবস্থান সম্বন্ধে জানা যাক । সহায়-সম্বলহীন অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশু যাদের নাম সরকারি খাতায় নথীভুক্ত বা নিবন্ধীকৃত নেই, তাদের অহরহ রাস্তাঘাটে খালি গায়ে অথবা ছেঁড়া-ফাটা জামা গায়ে ঘুরতে দেখা যায় । ফ্যা ফ্যা করে তারা চারিদিকে ঘুরে বেড়ায় । বড় বড় স্টেশন, কলকাতার বিভিন্ন ফুটপাতে, তাদের অবাধ বিচরণ । তদের পরিচর্যা করার কেউ নেই । উপরন্ত কিছু অসৎ মানুষের খপ্পরে পড়ে তারা নানান অমানুষিক কাজে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিন কাটায় । এমনকি পাচারকারীরা এদের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে মোটা টাকায় ভিন রাজ্যে বা ভিন দেশে বিক্রি করে দেয় । এর উপরে মহিলা শিশুদের কপালে জোটে অনেক মারধর ও যৌন লাঞ্ছনা । বিক্রি হওয়ার সংখ্যায় মেয়ে শিশুরা সংখ্যাধিক্য ।
পরিত্যক্ত শিশু আজকাল প্রকাশ্য রাজপথের পাশের জঙ্গলেও দেখা যায় । বিভিন্ন ডাস্টবিনে সদ্যজাত শিশুদের পড়ে থাকতে অহরহ দেখা যায় । খুব কম লোক পরিত্যক্ত শিশুকে কোনো অনাথ আশ্রমের সামনে রাখা ঝুড়িতে রাখে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই জাতীয় ন্যক্কারজনক কাজ কারা করে ? বা পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির কী কারণ ? কিছু শিশু সুরক্ষা সংস্থার মতে, এর পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে । তা ছাড়া যারা নবজাতক সন্তানকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে এমন মানুষ আছেন যারা হয়ত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন, কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন । এইসব লোকদের মধ্যে ধনবান ব্যক্তিও থাকতে পারেন যারা নবজাতক সন্তানকে সমাজের কাছে পরিচয় দিতে পারবেন না । আবার আর একটা শ্রেণী থাকতে পারেন, যাদের সন্তানকে ভরণ পোষণের অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই, তাই তারা রাস্তায় ফেলে তাদের নিজের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চান । আবার এটাও ঘটনা, বিবাহবহির্ভূত ঘটনায় সন্তান জন্ম নেওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে সন্তানকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে বাঁচে । সবচেয়ে দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক, বিবাহবহির্ভূত কোনো সন্তানের পৃথিবীতে আগমন ঘটলে সেই গর্ভজাত শিশুকে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া । এরূপ ঘটনা অহরহ ঘটছে । সেই ক্ষেত্রে সদ্যজাত শিশুকে বাঁচানো খুবই কঠিন । একদিনের বেশী ঐ শিশুগুলি সাধারণত বাঁচে না । কষ্ট করে তারা হোমে কিংবা নিদেনপক্ষে কোনো অপরিচিত বাড়ির সম্মুখে ফেললে ঐ শিশুটা পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পায় । এটা একটা অমানবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন !
( ৬ )
এবার আসছি দত্তক নেওয়া প্রসঙ্গে কিছু আইনি কথাবার্তায় । এই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এখনও কোনো দম্পতি দত্তক নিয়েছেন শুনলে সমাজের অনেকেই বিকৃত কৌতুহল প্রকাশ করেন । আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো দম্পতি আপন সন্তান ধারন করলে, দত্তক নেওয়া সন্তানের প্রতি আদর-ভালবাসা-যত্ন কমে যায় । ফলে এমনও দেখা গেছে দত্তক নেওয়া শিশুকে ফেরত দেওয়ার জন্য তাদের হোমে ছোটাছুটি । আবার দত্তক নেওয়ার সময় শিশুদের ঝাড়াই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সন্তানহীন বাবা-মায়ের চক্ষুলজ্জার বালাই নেই । ফুটফুটে নীরোগ ও নিখুঁত শিশুর প্রতি সন্তানহীন বাবা-মার চাহিদা বেশী । বাস্তবে দেখা গেছে, দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মানুষের মহিলা শিশুর দিকে বেশী ঝোঁক ! যার জন্য দত্তক নেওয়ার সংখ্যা ক্রমাগত কমছে, যেটা হিসাব করলে দাঁড়ায় মোট অনাথ শিশুর ০.৮৭ শতাংশ । প্রতিবন্ধী শিশুদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ঘোর অপছন্দ ! যার জন্য আইনসম্মত অভিভাবক অথবা পরিচর্যাহীন তিন কোটি শিশুর মধ্যে, পাঁচ লক্ষের চেয়ে কম শিশু প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা পায় । এটা ঘটনা, বাদ বাকী শিশুর ঠাঁই জোটে পথেঘাটে । যদিও ইতিপূর্বে উল্লেখিত যে, এসব ভবঘুরে শিশুরা অনেকেই পাচার হয়ে যায় । এমনকি তাদের অকাজে-কুকাজে লাগানো হয় । যেটা খুব বেদনার ও কষ্টের ।
ভারতে দত্তক প্রথাটা মূলত হিন্দু দত্তক ও ভরনপোষণ আইন, ১৯৫৬ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ন্যায়বিচার (জুভেনাইল জাস্টিস – শিশুদের পরিচর্যা ও সুরক্ষা) আইন, ২০০০ দ্বারা পরিচালিত হয় । এই আইনে বিভিন্ন বন্দোবস্ত এবং লক্ষ্য আছে । হিন্দু দত্তক এবং ভরণ-পোষণ আইনটি হিন্দুদের দত্তক দেখ-ভাল করে । এখানে হিন্দু অর্থ বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ । এই আইন দত্তক শিশুকে অন্য শিশুর মতো প্রাপ্য অধিকার দেয় এবং অধিকারগুলির মধ্যে উত্তরাধিকারের অধিকার তার মধ্যে অন্যতম ।
( ৭ )
পরিশেষে যেটা বলা যায়, সরকারি স্তরে নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক শিশু কল্যাণ, উন্নয়ন এবং সুরক্ষার জন্য অনেক কাজকর্ম করছে, প্রকল্প হাতে নিয়েছে । প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কতটা হবে সেটা না ভেবে সুশীল নাগরিক সমাজকে একটু নড়েচড়ে বসতে হবে । রাস্তাঘাটের পথশিশু, অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুরা যাতে আর পাঁচটা শিশুর মতো বড় হতে পারে সেটা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে । অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে শিশুদের নিয়ে অমানবিক কাজ যেমন সদ্যজাত শিশুকে জঙ্গলে বা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া, শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া, ইত্যাদির মতো জঘন্য কাজ অচিরেই বন্ধ হয় । দত্তক নেওয়ার কথাও ভাবতে হবে । দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানহীন পিতা-মাতাকে আরও একটু সংবেদনশীল হতে হবে, অর্থাৎ ঝাড়াই-বাছাই জিনিসটা বন্ধ করে যে কোনো ধরনের শিশুকে ঘরে তুলতে হবে । তাহলে এই অনাথ শিশু একদিন দেশের মূল্যবান মূলধন বা সম্পত্তি হয়ে উঠবে । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত ও যোজনা ৫/২২)।

Share This
Categories
বিবিধ

শ্রেণীকক্ষ সংকট ঘিরে ক্ষোভ, মেদিনীপুরে বিক্ষোভে পড়ুয়া-অভিভাবক-শিক্ষকরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ক্লাসরুমে ঢুকতে না পেরে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর কলেজের স্কুলের সামনের রাস্তায় দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া,অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবরোধ করেন। বিদ্যালয়ে ক্লাস করার মতন শ্রেণীকক্ষ পাওয়া যায়নি বলে ক্ষোভ পড়ুয়া থেকে অভিভাবকদের।মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল চত্বরে দুটি প্রাথমিক স্কুল চলে। একটি মেদিনীপুর জিএসএফপি স্কুল এবং আরেকটি মেদিনীপুর কলেজিয়েট প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ বছর ধরে দুটি স্কুল কলেজিয়েট স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে সকাল বিভাগে পরিচালিত হয়ে আসছে। গরমের কারণে কলেজিয়েট হাই স্কুলও মর্নিং সেকশনে চালু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। আর তাতেই দেখা দিয়েছি যত বিপত্তি। তিনটি স্কুল যখন সকালে হয় তখন শ্রেণীকক্ষের সমস্যা তৈরি হয়। এর আগে মর্নিং সেকশন চালু হলে কলেজিয়েট স্কুলের বিপরীতে স্কুলের আরেকটি বিল্ডিং এ প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন হতো।তখন দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি হল ঘরের ব্যবস্থা করা হতো। চলতি বছরেও কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা চিঠি দিয়ে জানায় বিদ্যালয় দুটিকে ক্যাম্পাসের বাইরে সরিয়ে দিতে এবং পুরনো ভবনের স্থানান্তরের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের অভিযোগ সেই পুরনো বিল্ডিং এ ক্লাস করার মতন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। সেই পুরনো ভবনের নিচু তলার রুমগুলি ব্যবহারযোগ্য হলেও উপরের তলার রুমগুলি স্কুল পরিচালনার পক্ষে উপযুক্ত নয় বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পুরনো ভবনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। কলেজিয়েট জিএসএফপি স্কুলের শিক্ষিকা সহেলি ভৌমিক বলছেন ‘ কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রাইমারি স্কুলের অফিস রুম,ক্লাস রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। উনি বাচ্চাদের পুরনো ভবনে পাঠাতে বলছেন। সেই ভবনের স্ট্রাকচার খুব খারাপ। যেকোনো মুহূর্তে ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়তে পারে। সরু কাঠের সিঁড়ি দিয়ে পড়ুয়াদের উপরে উঠতে নামতে সমস্যা হবে। আমরা বলেছিলাম ইলেভেন টুয়েলভ এর পড়ুয়াদের ওই ভবনে পঠন-পাঠন হোক মর্নিং সেকশনে।’ অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন – বেহাল ওই বিল্ডিং এ পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে এলে তাদেরকে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিক্ষক শিক্ষিকারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্কুলের সামনের রাস্তায়। তারা তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে এবং সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে চিঠিও দিয়েছেন।
মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিমানী পরিয়া বলছেন ‘ দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আগেই চিঠি দিয়ে পুরনো বিল্ডিং এ ক্লাস করার কথা বলা হয়েছে। এর আগেও তো ক্লাস হয়েছে। সেই বিল্ডিং নতুন করে সংস্কার করাও হয়েছে। ‘

Share This
Categories
বিবিধ

কালিয়াচকে উত্তেজনা: সংঘর্ষে মৃত ১, হাসপাতালে ভর্তি ৫ আহত।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদা জেলার কালিয়াচক থানার হাজিনগর খাস চাঁদপুর এলাকায় মারপিটের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম হাসমত শেখ (৬১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে আহতদের প্রথমে উদ্ধার করে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পাঁচজনকেই মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন কালিয়াচক-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ফিরোজ শেখ।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় কালিয়াচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে হলেও এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

Share This
Categories
বিবিধ

জয় শ্রী নন্দ গোপাল বাড়িতে লোকনাথ বাবার বিশেষ পূজা, আয়োজনে ভক্তদের উৎসাহ।

শুভ্র জ্যোতি ঘোষ, বর্ধমান :-ভগবান মহাপুরুষ ত্রিকালদর্শী শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে লোকনাথ বাবার বিশেষ পুজো,, এবং বাবাকে ভোগ নিবেদন। আসানসোল এর জয় শ্রী নন্দ গোপাল বাড়ির এই পুজো ৩৪ বছরে পদার্পণ করল। বাবার ভোগে ছিল গোবিন্দ ভোগ চালের খিচুড়ি, পাঁচ রকমের ভাজা, পায়েস, ছানার ডালনা, শান্তিপুরের বিখ্যাত মাখা সন্দেশ, এবং সাদা মিষ্টি, ও ফলাহার।
বাবার বাণী – কোন মন্ত্র, কোন দীক্ষা নেই তার নামে, তার নামই মহামন্ত্র, এই মর্ত্য ধামে।

Share This
Categories
বিবিধ

মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দশম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত স্কুলের PT শিক্ষক প্রসূন বেরাকে গ্রেপ্তার করলো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে এই ঘটনায় এই নিয়ে ৭ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে নারায়ণগড় থানা এলাকা থেকে বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তোলা হবে পকসো আদালতে। পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “এই ঘটনায় দুজন নাবালক সহ ৬ জন আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই শিক্ষক পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। কল রেকর্ড ধরে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পকসো আইন মামলা রুজু করা হয়েছে, তদন্ত চলছে। শিক্ষকদের কাছে যেখানে নিরাপদ ছাত্র ছাত্রীরা সেখানে এমন ঘটনা নিন্দনীয়।” ওই ছাত্রী পুলিশে ১২ মে সবং থানায় অভিযোগ জানিয়েছে, ১১ মে দুপুরে সে টিউশন পড়তে যখন যাচ্ছিল তখন রাস্তায় তাকে ঘিরে ধরে ৫-৬ জন ছাত্র। তার শ্লীলতাহানি করে ওই ছাত্ররা। এমনকি ওই ছাত্ররা ওই ছাত্রীকে বলে যায় ওই শিক্ষক এত টুকু করতে বলেছিল তাই তারা চলে যাচ্ছে। আতঙ্কিত ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরে পরিবারকে জানালে তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানায়।

Share This