কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: মেটিয়াব্রুজ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের দাবি করল কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেস সভাপতি এমডি মোক্তারের নেতৃত্বে প্রায় ১,০০০ জন তৃণমূল কর্মী কংগ্রেসে যোগদান করেছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের হাত ধরে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করানো হয়।
যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার ও তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হন শুভঙ্কর সরকার।
শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, মিলন প্রধানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রতীক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও ‘ভোট চুরি’ এবং ‘সিম্বল চুরি’র অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি উপাসনার উপর হামলার অভিযোগ নিয়েও তিনি সরব হন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ গোটা পরিস্থিতি দেখছেন এবং এর জবাব মানুষই দেবেন।
প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-পর্বের একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। আদালত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশিও মিলন প্রধানের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে সরব হন। তাঁর দাবি, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মিলন প্রধানের ভূমিকা ছিল এবং সেই সময় তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও আন্দোলনে ছিলেন। বর্তমানে মিলনকে জেলে রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রকাশ জোশি এই গ্রেফতারির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রকাশ জোশির আরও দাবি, মিলন প্রধানকে প্রথমে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলি কংগ্রেস নেতৃত্বের রাজনৈতিক দাবি; পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেফতারির কারণ হিসেবে পুরনো মামলায় জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা বলা হয়েছে।
মিলন প্রধানের গ্রেফতারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি জেলবন্দি থাকলেও তাঁর হয়ে প্রচার চালানো হবে এবং নন্দীগ্রামে দলীয় লড়াই অব্যাহত থাকবে।