Categories
উপন্যাস বিবিধ

উপন্যাস : শেষ ট্রেনের শেষ যাত্রী (প্রথম পর্ব: যে মেয়েটি বারো বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল)।

রাত তখন এগারোটা বেয়াল্লিশ।

শালবন জংশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো ঘড়িটা বহু বছর ধরে একই সময় দেখিয়ে আসছে। ঘড়ির কাঁটা নড়ে না, তবু স্টেশনের বৃদ্ধ স্টেশনমাস্টার হরিপদ মণ্ডল প্রতিদিন রাতে একবার করে তার দিকে তাকান। কেন তাকান, সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি কাউকে দেন না।

স্টেশনটি শহর থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দূরে। দিনের বেলায় কয়েকটি লোকাল ট্রেন থামে, সন্ধ্যার পর প্ল্যাটফর্ম প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়। চারদিকে শাল-পিয়ালের জঙ্গল, দূরে একটা পরিত্যক্ত কারখানা, আর স্টেশনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু নদী। বর্ষাকালে নদী ফুলে ওঠে, শীতকালে তার বুক জুড়ে কুয়াশা নামে।

কিন্তু প্রতি বছর আঠারোই অক্টোবরের রাতে এই স্টেশনে এমন একটি ট্রেন আসে, যার নাম কোনও সময়সূচিতে লেখা নেই।

সেই ট্রেনের শেষ কামরায় বসে থাকে এক তরুণী।

তার হাতে থাকে লাল রঙের একটি ছাতা।

আর সে প্রতিবার একই প্রশ্ন করে—

“দাদু, আমার বাড়ি যাওয়ার ট্রেনটা কি এসে গেছে?”

বারো বছর ধরে এই দৃশ্য দেখেছেন হরিপদ মণ্ডল। বারো বছর ধরে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।

এ বছরও রাত এগারোটা বেয়াল্লিশে স্টেশনের নিস্তব্ধতা ভেঙে দূর থেকে ভেসে এল ট্রেনের হুইসেল।

হরিপদবাবুর হাত থেকে চায়ের কাপটা পড়ে গেল।

কারণ আজ তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি কোনও মৃত স্মৃতি নয়। সে একজন জীবিত মানুষ। তার নাম অরিন্দম বসু। পেশায় সাংবাদিক। কলকাতার একটি জনপ্রিয় সংবাদপত্রে অপরাধ ও অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন লেখে সে।

আর অরিন্দমের কাছে রয়েছে এমন একটি চিঠি, যা বারো বছর ধরে নিখোঁজ থাকা একটি মেয়ের রহস্যের দরজা খুলে দিতে পারে।

চিঠিটা এসেছিল তিন দিন আগে।

প্রেরকের নাম নেই। খামের ওপরে শুধু লেখা—

“অরিন্দম বসু, ব্যক্তিগত। আঠারোই অক্টোবর রাত এগারোটা বেয়াল্লিশে শালবন জংশনে পৌঁছোবেন। আপনার বোনকে খুঁজে পেতে চাইলে একা আসবেন।”

অরিন্দমের বোনের নাম ছিল অনন্যা।

বারো বছর আগে, দুর্গাপুজোর দশমীর রাতে, মাত্র ষোলো বছর বয়সে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। সেদিন অনন্যা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল পাশের পাড়ায় প্রতিমা বিসর্জন দেখতে। আর ফিরে আসেনি।

পুলিশ খুঁজেছিল। নদীতে তল্লাশি হয়েছিল। রেললাইন, জঙ্গল, পরিত্যক্ত বাড়ি—কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। কয়েক মাস পর তদন্ত থেমে যায়। পরিবারের কাছে ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে যায়, অনন্যা হয়তো আর বেঁচে নেই।

কিন্তু অরিন্দম কোনও দিন বিশ্বাস করতে পারেনি যে তার বোন মারা গেছে।

অনন্যা হারিয়ে যাওয়ার আগে তাকে একটি কথা বলেছিল।

“দাদা, কোনও দিন যদি আমি হারিয়ে যাই, তা হলে ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিও না। তাকাবে ঘড়ির পেছনে।”

তখন কথাটার অর্থ বুঝতে পারেনি অরিন্দম। এখন, এত বছর পরে, সেই কথাই বারবার মনে পড়ছে।

“আপনি কি অরিন্দমবাবু?”

বৃদ্ধ স্টেশনমাস্টারের কণ্ঠে চমকে উঠল সে।

“হ্যাঁ। আপনি হরিপদ মণ্ডল?”

বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন। তাঁর চোখে এমন এক আতঙ্ক, যেন বহুদিন ধরে যে ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, অবশেষে সেই ঘটনা সত্যি হয়ে উঠেছে।

“আপনি চিঠি পেয়েছেন?”

“হ্যাঁ। কিন্তু কে পাঠিয়েছে, আপনি জানেন?”

হরিপদবাবু চারপাশে তাকালেন। প্ল্যাটফর্মের এক প্রান্তে একটি কুকুর শুয়ে ছিল। দূরে টিকিটঘরের জানালায় ঝুলছিল মরচে ধরা তালা। বাতাসে শুকনো পাতার শব্দ ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

বৃদ্ধ নিচু গলায় বললেন, “আপনার এখানে আসা উচিত হয়নি।”

“কেন?”

“কারণ যে ট্রেনটা আসতে চলেছে, সেটা আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়।”

অরিন্দম ঠান্ডা গলায় বলল, “তাহলে কাকে নিয়ে যাবে?”

বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না।

ঠিক তখনই দূরের অন্ধকারে দুটি আলো দেখা গেল। প্রথমে মনে হল, জঙ্গলের ভেতর থেকে কোনও গাড়ি আসছে। কিন্তু আলো দুটি দ্রুত বড় হতে লাগল। রেললাইনের ওপর ধাতব চাকার ঘর্ষণে অদ্ভুত এক শব্দ উঠল।

অরিন্দম হাতঘড়ির দিকে তাকাল।

রাত এগারোটা বিয়াল্লিশ।

ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে ঢুকল ধীরে ধীরে। ইঞ্জিনটি কালো, তার গায়ে কোনও নম্বর নেই। কামরাগুলির জানালা অন্ধকার। ট্রেনের গায়ে পুরোনো রং উঠে গেছে, যেন বহু বছর ধরে সেটি কোনও পরিত্যক্ত রেলইয়ার্ডে পড়ে ছিল।

ট্রেন থামতেই দরজা খুলে গেল।

কোনও যাত্রী নামল না।

কোনও যাত্রী উঠলও না।

শুধু শেষ কামরার একটি জানালায় দেখা গেল একটি মেয়ের মুখ।

অরিন্দমের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।

মেয়েটির কাঁধ পর্যন্ত নেমে আসা চুল। কপালের বাঁ দিকে ছোট্ট একটা কাটা দাগ। চোখের নিচে হালকা তিল।

এই মুখ সে চেনে।

এই মুখ সে কোনও দিন ভুলতে পারেনি।

“অনন্যা!”

অরিন্দম ছুটে গেল কামরার দিকে।

মেয়েটি জানালা থেকে মুখ সরিয়ে নিল।

“দাঁড়াও!” অরিন্দম চিৎকার করল। “আমি তোমার দাদা! অনন্যা, আমি এসেছি!”

কামরার দরজার কাছে পৌঁছে সে দেখল, দরজাটি খোলা। ভেতরে ম্লান হলুদ আলো। পুরোনো কাঠের আসন। ছাদের কোণে ঝুলে থাকা পাখা স্থির হয়ে আছে।

আর মাঝের আসনে বসে আছে সেই মেয়েটি।

তার হাতে লাল ছাতা।

অরিন্দমের চোখ ভিজে উঠল। বারো বছর ধরে জমে থাকা শোক, রাগ, অপরাধবোধ—সব যেন একসঙ্গে গলায় এসে আটকে গেল।

“অনন্যা…”

মেয়েটি ধীরে ধীরে মুখ তুলল।

তারপর এমন একটি কথা বলল, যা শুনে অরিন্দমের সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

“আপনি কে?”

অরিন্দম স্তব্ধ।

“কী বলছিস? আমি অরিন্দম। তোর দাদা!”

মেয়েটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মাথা নাড়ল।

“আমার কোনও দাদা নেই।”

“তুই আমাকে চিনতে পারছিস না?”

“না।”

“তোর কপালের এই দাগটা মনে আছে? ছোটবেলায় পুকুরের ধারে পড়ে গিয়ে—”

“আপনি ভুল করছেন।”

মেয়েটির কণ্ঠে কোনও রাগ নেই, কোনও বিস্ময় নেই। শুধু অদ্ভুত এক নির্লিপ্ততা।

অরিন্দম তার হাত ধরতে এগিয়ে গেল। মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিল।

“আমাকে ছুঁবেন না।”

তারপর সে উঠে দাঁড়াল। লাল ছাতাটা বুকের কাছে চেপে ধরে দরজার দিকে এগিয়ে এল।

অরিন্দম পথ আটকে দাঁড়াল।

“তুই যদি অনন্যা না হোস, তাহলে তোর কপালে ওই দাগ এল কোথা থেকে? তোর বাঁ হাতে ছোট্ট একটা জন্মদাগ আছে—”

মেয়েটি এবার নিজের বাঁ হাতের দিকে তাকাল।

তারপর ধীরে ধীরে হাতাটা গুটিয়ে দিল।

জন্মদাগটি ঠিক সেই জায়গায় রয়েছে।

অরিন্দমের আর কোনও সন্দেহ রইল না।

“তুই অনন্যাই!”

মেয়েটি এবার প্রথমবারের মতো একটু ভয় পেল। তার চোখে জল চিকচিক করে উঠল। কিন্তু পরমুহূর্তেই সে নিজেকে সামলে নিল।

“আপনি এখনই নেমে যান।”

“না। তোকে ছেড়ে যাব না।”

“আপনি বুঝতে পারছেন না। এই ট্রেনে আপনার ওঠার কথা ছিল না।”

“কেন? তুই কোথায় যাচ্ছিস?”

মেয়েটি উত্তর দিল না। জানালার বাইরে তাকাল।

ঠিক তখনই ট্রেনের ভেতর কোথাও ঘণ্টা বেজে উঠল।

একবার।

দুবার।

তিনবার।

হঠাৎ কামরার আলো নিভে গেল। অন্ধকারের মধ্যে অরিন্দম অনুভব করল, কেউ তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলছে—

“শেষ স্টেশনে পৌঁছোনোর আগে আপনার একটা কথা মনে পড়বে। সেদিন আপনি দরজাটা খুলেছিলেন।”

অরিন্দম আঁতকে উঠে পিছিয়ে গেল।

আলো আবার জ্বলে উঠল।

মেয়েটি নেই।

আসন ফাঁকা।

লাল ছাতাটিও উধাও।

অরিন্দম দরজার বাইরে তাকিয়ে দেখল, ট্রেনটি চলতে শুরু করেছে। সে ঝাঁপ দিয়ে প্ল্যাটফর্মে নেমে পড়ল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ট্রেনটি অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে গেল।

প্ল্যাটফর্মে ফিরে এসে সে দেখল, হরিপদবাবু একটি বেঞ্চে বসে কাঁপছেন।

“ওটা কী ছিল?” অরিন্দম জিজ্ঞেস করল। “আমার বোন কোথায় গেল?”

বৃদ্ধ মুখ তুললেন।

“ও আপনার বোনই।”

“তাহলে আমাকে চিনতে পারল না কেন?”

হরিপদবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

“কারণ ওর কাছে বারো বছর কেটে যায়নি।”

অরিন্দম হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।

বৃদ্ধ বললেন, “ওই ট্রেনে যারা ওঠে, তাদের সবার সময় এক রকম চলে না। কারও কাছে এক রাত, কারও কাছে এক বছর, আবার কারও কাছে বারো বছরও নয়। কিন্তু এই ট্রেন কাউকে বিনা কারণে নিয়ে যায় না।”

“আপনি এসব কী বলছেন?”

“আপনার বোন হারিয়ে যাওয়ার রাতে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল। রেললাইনের পাশের পুরোনো সিগন্যাল কেবিনে আগুন লেগেছিল। সরকারি কাগজে লেখা হয়েছিল, কেবিনটি বহুদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু আমি জানতাম, সেদিন সেখানে একজন মানুষ ছিল।”

“কে?”

বৃদ্ধের ঠোঁট কেঁপে উঠল।

“আপনি।”

অরিন্দমের মাথার ভেতর যেন বিস্ফোরণ হল।

“আমি? আমি তো সেদিন বাড়িতে ছিলাম!”

“আপনার মনে নেই?”

“না!”

হরিপদবাবু পকেট থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করলেন। ছবির কাগজ হলদে হয়ে গেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে একটি ছোট্ট সিগন্যাল কেবিন, তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুই কিশোর-কিশোরী। ছেলেটির মুখ অরিন্দমের মতোই। মেয়েটি অনন্যা।

ছবির পেছনে লেখা—

১৮ অক্টোবর, বারো বছর আগে।

অরিন্দম ছবিটি হাতে নিয়ে কাঁপতে লাগল।

“এটা কোথায় পেলেন?”

“আপনার বোনের কাছ থেকে।”

“কবে?”

বৃদ্ধ উত্তর দেওয়ার আগেই স্টেশনের মাইক্রোফোনে কর্কশ শব্দ উঠল। তারপর একটি নারীকণ্ঠ ঘোষণা করল—

“যাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, শালবন জংশনে শেষ ট্রেনটি আবার ফিরে আসছে। যে যাত্রীরা নিজেদের অতীত মনে করতে চান, তাঁরা প্রস্তুত থাকুন।”

অরিন্দম ধীরে ধীরে মুখ তুলল।

রেললাইনের দূরে আবার দুটি আলো জ্বলছে।

কিন্তু এবার ট্রেনটি আসছে উল্টো দিক থেকে।

হরিপদবাবু উঠে দাঁড়িয়ে অরিন্দমের হাত চেপে ধরলেন।

“শুনুন, যা-ই ঘটুক, এবার ট্রেনে উঠবেন না। ও যদি আপনাকে নিজের অতীত দেখায়, তবু না। কারণ সত্যিটা আপনি সহ্য করতে পারবেন না।”

অরিন্দম তাঁর হাত ছাড়িয়ে নিল।

“আমার বোন বারো বছর ধরে নিখোঁজ। আমি আর কিছু হারাতে ভয় পাই না।”

ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে ঢুকল।

এবার তার ইঞ্জিনের সামনে সাদা রঙে লেখা একটি সংখ্যা দেখা গেল—

১৩।

দরজা খুলতেই ভেতর থেকে একটি ছেলের কণ্ঠ ভেসে এল।

“দাদা, তাড়াতাড়ি এসো! অনন্যা অপেক্ষা করছে!”

অরিন্দমের পা মাটিতে গেঁথে গেল।

এই কণ্ঠ সে চেনে।

এ কণ্ঠ তার নিজের ছোটবেলার।

বারো বছর আগের সেই রাতের কথা হঠাৎ মনে পড়তে শুরু করল—বৃষ্টিভেজা রেললাইন, অনন্যার হাত ধরে দৌড়ে যাওয়া, সিগন্যাল কেবিনের দরজা, আর দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা এক অচেনা মানুষ।

তারপর আগুন।

তারপর অনন্যার চিৎকার।

আর সবশেষে নিজের কণ্ঠে বলা সেই বাক্য—

“অনন্যা, দরজাটা খুলিস না!”

অরিন্দম হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।

হরিপদবাবু ফিসফিস করে বললেন, “মনে পড়ছে?”

অরিন্দম কাঁপতে কাঁপতে মাথা নাড়ল।

কিন্তু তার মনে পড়া ঘটনাগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টি ছিল অন্য কিছু।

সেদিন দরজাটা অনন্যা খোলেনি।

দরজাটা খুলেছিল অরিন্দম নিজেই।

আর ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল এমন একজন মানুষ, যার মুখ হুবহু অরিন্দমের মতো।

ট্রেনের ভেতর থেকে আবার সেই কণ্ঠ ভেসে এল—

“দাদা, এবার সত্যিটা জানতে হবে। কারণ যে মানুষটা সেদিন দরজা খুলেছিল, সে তুমি ছিলে না।”

অরিন্দম ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।

তার সামনে খোলা দরজা। ভেতরে হলুদ আলো। আর শেষ কামরার জানালায় দাঁড়িয়ে আছে অনন্যা—হাতে সেই লাল ছাতা।

এবার মেয়েটি তাকে চিনতে পেরেছে।

সে ঠোঁট নাড়ল।

একটি মাত্র শব্দ।

“দৌড়াও!”

ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনের সব দরজা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল। প্ল্যাটফর্মের ঘড়ির কাঁটা বারো বছর পর প্রথমবার নড়ে উঠল।

রাত এগারোটা তেতাল্লিশ।

আর অরিন্দমের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি তার কানে ফিসফিস করে বলল—

“এতদিন পরে আবার দেখা হল, দাদা।”

অরিন্দম ঘুরে তাকাল।

তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন অরিন্দম।

একই মুখ। একই চোখ। একই পোশাক।

শুধু তার ডান হাতে ধরা রয়েছে একটি পোড়া লাল ছাতা।

আর তার কপালের বাঁ দিকে রয়েছে তাজা রক্তের একটি দাগ।

চলবে…

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *