Categories
উপন্যাস বিবিধ

উপন্যা – মৃত্যুর আগে শেষ চিঠি (প্রথম পর্ব: যে চিঠি সতেরো বছর অপেক্ষা করেছিল)।

শীতের রাত। বাইরে কুয়াশা এত ঘন যে রাস্তার বাতিগুলোকেও মনে হচ্ছে অন্ধকারের মধ্যে জ্বলতে থাকা কয়েকটি অসহায় জোনাকি। শহরের প্রান্তে পুরোনো দোতলা বাড়িটির জানালায় একটিমাত্র আলো জ্বলছে। বাড়িটির নাম—শিউলিবাড়ি।

সতেরো বছর ধরে এই বাড়িতে কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেনি। বাড়ির মালিক অমিয়েশ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবী বাড়িটি বন্ধ করে কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। আত্মীয়স্বজনের কাছে বাড়িটি ছিল কেবল পুরোনো স্মৃতির বোঝা। কিন্তু এলাকার মানুষের কাছে শিউলিবাড়ির পরিচয় ছিল অন্যরকম।

তারা বলত, এই বাড়ির ডাকবাক্সে এখনও চিঠি আসে।

যে চিঠির প্রাপক সতেরো বছর আগে মারা গেছেন।

আর আশ্চর্যের বিষয়, প্রতি বছর একই দিনে একটি করে চিঠি এসে জমা হয়। কোনও ডাকপিয়নকে কেউ বাড়ির সামনে দাঁড়াতে দেখেনি। কোনও খামের ওপর ডাকঘরের সিল থাকে না। তবু চিঠিগুলি ঠিকই পৌঁছে যায়।

এ বছর সেই বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল সাতাশ বছরের এক যুবক।

তার নাম ঋত্বিক সেন।

পেশায় আইনজীবী। কলকাতায় একটি ছোট আইন সংস্থায় কাজ করে। সাধারণত ভূত-প্রেত, অলৌকিক ঘটনা কিংবা মানুষের কুসংস্কারে তার কোনও বিশ্বাস নেই। কিন্তু আজ সে এমন একটি খবর পেয়েছে, যা তাকে সব যুক্তির বাইরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

তার মায়ের মৃত্যুর তিন দিন পর একটি চিঠি এসেছে।

চিঠির খামে লেখা—

“ঋত্বিক সেনের হাতে পৌঁছোবে। মায়ের মৃত্যুর পর খুলবে।”

আর খামের নিচে যে স্বাক্ষর, সেটি দেখে তার হাত কেঁপে উঠেছিল।

অমিয়েশ চৌধুরী।

ঋত্বিকের জন্মের সাত মাস আগেই এই মানুষটি মারা গিয়েছিলেন।

তাঁকে ঋত্বিক কোনও দিন দেখেনি। ছোটবেলায় মায়ের কাছে তাঁর কথা জানতে চাইলে মা সব সময় বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। কখনও বলতেন, তিনি পরিবারের এক পুরোনো বন্ধু। কখনও বলতেন, তাঁর কথা জানার দরকার নেই।

কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর আলমারির গোপন খোপ থেকে পাওয়া একটি ডায়েরিতে ঋত্বিক পড়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।

“যদি কোনও দিন ঋত্বিক জানতে পারে, তার জন্মের আগে কী ঘটেছিল, তাহলে সে আমাকে ঘৃণা করবে। তবু সত্যিটা একদিন তাকে জানতেই হবে।”

ডায়েরির পাতায় আর কোনও ব্যাখ্যা ছিল না।

শুধু শেষ পাতায় লেখা ছিল—

“শিউলিবাড়ির ডাকবাক্সে যে চিঠি আসবে, সেটি ওর হাতে দিও। তার আগে নয়।”

ঋত্বিক বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে খামটি পকেট থেকে বের করল। তারপর মরচে ধরা গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকল।

বাগানের শিউলিগাছগুলো শুকিয়ে গেছে। এক কোণে ভাঙা দোলনা। বারান্দার দেওয়ালে শ্যাওলা। সদর দরজায় তালা ঝুলছে।

কিন্তু ডাকবাক্সটি নতুনের মতো পরিষ্কার।

তার ভেতরে আরেকটি খাম পড়ে আছে।

ঋত্বিক সেটি তুলে নিল।

খামের ওপর লেখা—

“প্রথম চিঠি। ভুল মানুষকে বিশ্বাস কোরো না।”

সে চারদিকে তাকাল।

কেউ নেই।

দূরের রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি চলে গেল। বাতাসে শুকনো পাতার শব্দ উঠল। তারপর হঠাৎ বাড়ির দোতলার একটি জানালায় আলো জ্বলে উঠল।

ঋত্বিক স্থির হয়ে গেল।

বাড়ির ভেতরে তো কেউ থাকার কথা নয়!

সে সদর দরজার তালা পরীক্ষা করল। তালা অক্ষত। জানালাগুলো বন্ধ। তবু দোতলার আলো জ্বলছে।

ঠিক তখনই ওপর থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠ ভেসে এল—

“ঋত্বিক, তুমি অবশেষে এলে?”

তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

কণ্ঠটি অচেনা নয়।

এমন কণ্ঠ সে আগে শুনেছে।

বহু বছর আগে, যখন তার বয়স মাত্র দশ, তখন এক রাতে সে স্বপ্নে একটি মেয়েকে দেখেছিল। মেয়েটি সাদা পোশাক পরে একটি নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। তার হাতে ছিল লাল ফিতে বাঁধা একটি চিঠি।

স্বপ্নের মেয়েটি তাকে বলেছিল, “যেদিন তোমার মা চলে যাবেন, সেদিন আমার কাছে এসো।”

ঋত্বিক কোনও দিন মাকে এই স্বপ্নের কথা বলেনি।

কিন্তু আজ সেই কণ্ঠ আবার শুনতে পেল।

“কে আপনি?” সে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল।

উত্তর এল না।

শুধু দোতলার জানালাটি ধীরে ধীরে খুলে গেল।

জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির মুখ দেখা গেল। বয়স বড়জোর পঁচিশ। লম্বা কালো চুল, কপালে ছোট্ট লাল টিপ, আর চোখে অদ্ভুত এক বিষণ্ণতা।

মেয়েটি ঋত্বিকের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি চিঠিটা খুলেছ?”

ঋত্বিক পকেট থেকে প্রথম খামটি বের করল।

“এটা কি আপনি পাঠিয়েছেন?”

মেয়েটি মাথা নাড়ল।

“না। আমি শুধু অপেক্ষা করছিলাম।”

“কার জন্য?”

“তোমার জন্য।”

“আপনি আমাকে চেনেন?”

মেয়েটির ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটল।

“আমি তোমাকে জন্মের আগেই চিনতাম।”

কথাটি শুনে ঋত্বিকের মাথার ভেতর যেন সমস্ত শব্দ থেমে গেল।

সে আরও কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই জানালাটি বন্ধ হয়ে গেল। আলো নিভে গেল। বাড়িটি আবার অন্ধকারে ডুবে গেল।

ঋত্বিক দরজার কাছে ফিরে এসে পকেট থেকে দ্বিতীয় চিঠিটি বের করল। হাত কাঁপছিল। সে খামটি ছিঁড়ে চিঠি খুলল।

ভেতরে মাত্র কয়েকটি লাইন।

“ঋত্বিক,

তোমার মা তোমাকে যে গল্প শুনিয়েছেন, তার অর্ধেক সত্যি। বাকি অর্ধেক এমন এক অপরাধ, যার শাস্তি আমি সতেরো বছর ধরে ভোগ করছি।

তুমি যদি জানতে চাও, তোমার বাবা কে, তাহলে আজ রাতেই বাড়ির উত্তর দিকের ঘরটি খুঁজে বের করো।

কিন্তু মনে রেখো, ঘরের ভেতরে যে ছবিটি আছে, সেটি দেখার পর তুমি আর আগের মানুষ থাকবে না।

— অমিয়েশ।”

ঋত্বিকের চোখ আটকে গেল প্রথম বাক্যে।

তার বাবা কে?

ছোটবেলায় সে মাকে বহুবার জিজ্ঞেস করেছে। মা কখনও বলতেন, তার বাবা বিদেশে থাকেন। কখনও বলতেন, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। বড় হওয়ার পর ঋত্বিক বুঝেছিল, মা ইচ্ছে করেই এই প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

তবু সে কোনও দিন মায়ের ওপর চাপ দেয়নি।

আজ মনে হচ্ছে, সেই নীরবতার পেছনে এমন কিছু ছিল, যা তার সমস্ত জীবনকে বদলে দিতে পারে।

সে বাড়ির চারপাশ ঘুরে উত্তর দিকের একটি ছোট দরজা খুঁজে পেল। দরজায় তালা নেই। ঠেলে খুলতেই ধুলো আর পুরোনো কাগজের গন্ধ বেরিয়ে এল।

ঘরটি প্রায় অন্ধকার। দেয়ালের পাশে কাঠের আলমারি, একটি ভাঙা চেয়ার, আর মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা খবরের কাগজ। ঘরের শেষ প্রান্তে বড় একটি কাপড় দিয়ে ঢাকা ছবি।

ঋত্বিক ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।

কাপড়টি সরাতেই তার শরীর অবশ হয়ে গেল।

ছবিতে এক তরুণী দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর কোলে সদ্যোজাত একটি শিশু। পাশে এক যুবক, যার মুখে মৃদু হাসি।

তরুণীটি ঋত্বিকের মা।

কিন্তু যুবকটি—

ঋত্বিকের নিজের মুখ।

একই চোখ, একই নাক, একই চোয়াল। এমনকি বাঁ ভ্রুর কাছে ছোট্ট দাগটিও এক।

ছবির নিচে তারিখ লেখা—

১৯৮৭ সালের ১৮ অক্টোবর।

ঋত্বিকের জন্ম ১৯৯৯ সালে।

অর্থাৎ ছবিটি তোলা হয়েছিল তার জন্মের বারো বছর আগে।

তার গলা শুকিয়ে গেল। সে ছবিটির পেছন দিকে তাকাল।

সেখানে কালো কালিতে লেখা—

“আমার ছেলে ঋত্বিকের জন্য। সে যেন কোনও দিন জানতে না পারে, তার ভবিষ্যৎ কে চুরি করেছিল।”

স্বাক্ষর—অমিয়েশ চৌধুরী।

ঋত্বিক পিছিয়ে গিয়ে চেয়ারে ধাক্কা খেল। তার মাথায় অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরতে লাগল।

যে যুবকটির মুখ তার নিজের মতো, সে কে?

ছবিটি কি কোনও কৌশল? তার মা কি কোনও গোপন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সতেরো বছর আগে মারা যাওয়া অমিয়েশ চৌধুরী কীভাবে তার জন্য চিঠি লিখলেন?

ঠিক তখনই ঘরের বাইরে পায়ের শব্দ শোনা গেল।

ধীর, মাপা পদক্ষেপ।

কেউ করিডর দিয়ে এগিয়ে আসছে।

ঋত্বিক দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল।

দরজার ফাঁকে একটি ছায়া দেখা গেল। তারপর সেই ছায়া ঘরে ঢুকল।

একজন বৃদ্ধ।

সাদা চুল, কুঁচকে যাওয়া মুখ, হাতে কালো ছাতা। পরনে ধূসর রঙের কোট।

বৃদ্ধের চোখ দুটি অদ্ভুতভাবে উজ্জ্বল।

তিনি ঋত্বিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ছবিটা দেখেছ?”

ঋত্বিক কিছু বলতে পারল না।

বৃদ্ধ আবার বললেন, “তাহলে তোমার আর এখানে থাকা উচিত নয়।”

“আপনি কে?”

“আমি সেই মানুষ, যে তোমার জন্মের দিন তোমার মাকে শেষবারের মতো দেখেছিল।”

“আপনি কি অমিয়েশ চৌধুরী?”

বৃদ্ধ মৃদু হাসলেন।

“না। অমিয়েশ সতেরো বছর আগে মারা গেছেন।”

“তাহলে তাঁর চিঠি এল কীভাবে?”

“সেটা জানার জন্যই তো তোমাকে এখানে ডাকা হয়েছে।”

ঋত্বিক সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞেস করল, “ছবির যুবকটি কে?”

বৃদ্ধের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

তিনি ধীরে ধীরে ছবিটির কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর বললেন, “ও তোমার বাবা নয়।”

ঋত্বিকের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

“তাহলে?”

“ও তুমি।”

“অসম্ভব!”

“তোমার জন্মের বারো বছর আগে তোলা ছবিতে তুমি কীভাবে থাকতে পারো, সেটাই তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে।”

বৃদ্ধ পকেট থেকে একটি ছোট্ট ঘড়ি বের করলেন। ঘড়িটির কাঁটা পিছনের দিকে ঘুরছে।

“আজ রাত বারোটা বাজার আগে তোমাকে তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। প্রথমত, অমিয়েশ চৌধুরী কীভাবে মারা গিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, তোমার মা কেন তাঁর মৃত্যুর কথা গোপন করেছিলেন। আর তৃতীয়ত, যে মেয়েটিকে তুমি জানালায় দেখেছ, সে আসলে কে।”

ঋত্বিক বলল, “আপনি সব জানেন। আমাকেই বলুন।”

বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন।

“আমি বললে তুমি বিশ্বাস করবে না। তোমাকে নিজের চোখে দেখতে হবে।”

“কোথায়?”

বৃদ্ধ ঘরের মেঝের দিকে ইশারা করলেন।

“এই বাড়ির নিচে একটি ঘর আছে। সেখানে যাওয়ার সিঁড়ি এই ছবির পেছনে।”

ঋত্বিক ছবিটি সরাতেই দেওয়ালে একটি সরু দরজা দেখা গেল। দরজার গায়ে কোনও হাতল নেই। শুধু মাঝখানে খোদাই করা একটি নাম—

ঋত্বিক।

তার নিজের নাম।

বৃদ্ধ বললেন, “দরজাটি খুলতে হলে তোমাকে নিজের জন্মতারিখ বলতে হবে।”

ঋত্বিক ধীরে ধীরে বলল, “১৮ অক্টোবর, ১৯৯৯।”

দরজাটি খুলল না।

বৃদ্ধের চোখে উদ্বেগ ফুটে উঠল।

“আরেকবার বলো।”

ঋত্বিক এবার স্পষ্ট করে বলল, “আমার জন্ম ১৮ অক্টোবর, ১৯৯৯।”

দরজাটি স্থির।

তারপর ভেতর থেকে একটি শিশুর কান্না শোনা গেল।

ঋত্বিক পিছিয়ে গেল।

বৃদ্ধ ফিসফিস করে বললেন, “তোমার মা তোমাকে ভুল জন্মতারিখ বলেছিলেন।”

“কী?”

“তোমার জন্ম হয়েছিল ১৮ অক্টোবর, ১৯৮৭ সালে।”

ঋত্বিকের মাথা ঘুরে উঠল।

“কিন্তু সেটা তো ছবির তারিখ!”

বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না।

দরজার ওপাশ থেকে এবার এক নারীর কণ্ঠ ভেসে এল—

“ঋত্বিক, দেরি কোরো না। তোমার বাবা এখনও অপেক্ষা করছেন।”

ঋত্বিকের চোখে জল এসে গেল। সে জানে না কেন, কিন্তু কণ্ঠটি তার কাছে ভীষণ পরিচিত।

সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

ঠিক সেই মুহূর্তে বৃদ্ধ তার হাত ধরে ফেললেন।

“একটা কথা মনে রেখো। দরজার ওপাশে যে মানুষটিকে তুমি বাবা বলে ডাকবে, তিনি তোমার বাবা হতে পারেন। কিন্তু তিনি তোমাকে ভালোবাসেন কি না, সেটা তাঁর মুখ দেখে বিচার কোরো না।”

“কেন?”

বৃদ্ধের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

“কারণ ওই ঘরে একই মুখের দুজন মানুষ অপেক্ষা করছে।”

দরজাটি ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করল।

ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে এল। সেই বাতাসের সঙ্গে ভেসে এল পুরোনো হাসপাতালের গন্ধ, ওষুধের গন্ধ, আর কোথাও যেন জ্বলতে থাকা কাগজের ধোঁয়া।

ঋত্বিক অন্ধকারের দিকে তাকাল।

সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে আছে দুজন মানুষ।

একজন তার মা।

অন্যজন তার নিজের মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক।

দুজনেই একসঙ্গে বলে উঠল—

“ঋত্বিক, আমার কাছে এসো।”

ঋত্বিকের পা যেন মাটিতে আটকে গেল।

তারপর যুবকটি হাসল এবং এমন একটি কথা বলল, যা শুনে ঋত্বিকের সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

“তুমি যে জীবনটা বেঁচে আছ, সেটা আসলে আমার জীবন। তোমার মা আমাকে মেরে তোমাকে বাঁচিয়েছিলেন।”

দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার মা কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়লেন।

“না, ঋত্বিক! ওর কথা বিশ্বাস কোরো না!”

দুজনের মুখ একই।

দুজনের চোখে একই যন্ত্রণা।

আর ঋত্বিক বুঝতে পারল, আজ রাতের শেষে তাকে শুধু নিজের বাবার পরিচয়ই জানতে হবে না—তাকে জানতে হবে, সে নিজে আসলে কে।

চলবে…

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *