Categories
গল্প বিবিধ

গল্প : শেষ ছবিটির অজানা মানুষ।।

শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি ছোট্ট ঘর ভাড়া নিয়ে থাকত অর্ক। ঘরটির একদিকে বিছানা, অন্যদিকে কাঠের টেবিল। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকত পেনসিল, রং, কাগজ আর আঁকার নানা সরঞ্জাম। দেওয়ালে ঝোলানো কয়েকটি ছবিই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ।

অর্ক ছবি আঁকতে ভালোবাসত। মানুষের মুখের রেখা, চোখের ভাষা, ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা হাসি—সবকিছু তার কাছে যেন আলাদা গল্প বলত। কিন্তু ভালো ছবি আঁকতে পারলেও সেই প্রতিভা দিয়ে সংসার চালানো সহজ ছিল না।

দিনের বেলায় সে একটি ছাপাখানায় কাজ করত। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে অর্ডার অনুযায়ী ছবি আঁকত। কেউ নিজের পরিবারের ছবি আঁকিয়ে নিত, কেউ উপহার দেওয়ার জন্য প্রিয়জনের প্রতিকৃতি চাইত। তবু মাসের শেষে তার হাতে খুব বেশি টাকা থাকত না।

অর্কের বাবা ছোটবেলায় মারা গিয়েছিলেন। মা বহু কষ্টে তাকে বড় করেছিলেন। এখন মা গ্রামে থাকেন। ছেলের উপার্জন থেকে কিছু টাকা তিনি পান, কিন্তু অর্ক জানত, মায়ের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালাতে আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন।

একদিন ছাপাখানার মালিক তাকে বললেন, “অর্ক, আগামী মাস থেকে তোমার কাজের সময় বাড়াতে হবে। নতুন অর্ডার এসেছে।”

অর্ক একটু দ্বিধায় পড়ল। কাজের সময় বাড়লে ছবি আঁকার সময় কমে যাবে। অথচ ছাপাখানার কাজ ছেড়ে দেওয়ার মতো সঞ্চয়ও তার ছিল না।

সেদিন রাতে টেবিলে বসে সে একটি অসমাপ্ত ছবি আঁকছিল। ছবিতে ছিল এক বৃদ্ধ মানুষের মুখ। চোখ দুটো গভীর, কপালে অসংখ্য ভাঁজ, আর ঠোঁটে এমন এক মৃদু হাসি, যেন জীবনের বহু ঝড় পেরিয়েও মানুষটি কাউকে আশীর্বাদ করতে ভুলে যাননি।

ছবিটি কার, অর্ক নিজেও জানত না। কয়েক দিন আগে হাসপাতালের সামনে বসে থাকা একজন বৃদ্ধকে দেখে তার মনে মুখটির ছাপ গেঁথে গিয়েছিল। কোনো কথা হয়নি তাঁদের। তবু সেই মুখটি তাকে বারবার আঁকতে ডাকছিল।

ছবি আঁকা শেষ হলে অর্ক অবাক হয়ে দেখল, বৃদ্ধের চোখের কোণে একটি অদ্ভুত কোমলতা ফুটে উঠেছে। সে ছবিটির নাম দিল—‘অপেক্ষা’।

পরদিন ছবিটি নিয়ে সে স্থানীয় একটি শিল্পপ্রদর্শনীর আয়োজকের কাছে গেল। আয়োজক ছবিটি দেখে প্রশংসা করলেন, কিন্তু কিনতে চাইলেন না।

“ছবিটা ভালো, কিন্তু এখানে অধিকাংশ মানুষ পরিচিত বিষয়ের ছবি দেখতে আসে। তুমি চাইলে নদী, পাহাড় কিংবা বিখ্যাত কোনো স্থানের ছবি আঁকতে পারো। সেগুলো বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”

অর্ক ছবিটি নিয়ে ফিরে এল। কথাগুলো যুক্তিসংগত হলেও তার মন মানল না। সে বুঝতে পারছিল, ছবিটির মধ্যে এমন কিছু আছে, যা শুধু বিক্রির হিসাব দিয়ে মাপা যায় না।

কয়েক দিন পর তার মা ফোন করলেন। কণ্ঠে ক্লান্তি।

“বাবা, এই মাসে টাকা পাঠাতে পারবি তো? ওষুধগুলো প্রায় শেষ।”

অর্ক আশ্বাস দিল, কিন্তু ফোন রেখে তার বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে গেল। সে জানত, শুধু ভালোবাসা দিয়ে মায়ের ওষুধ কেনা যায় না।

সেই সময় ছাপাখানার এক সহকর্মী জানাল, শহরের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সাহায্যের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী দল কাজ করছে। তারা রোগীদের তথ্য বোঝাতে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা করতে লোক খুঁজছে। কাজটি পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবামূলক, তবে সপ্তাহে একদিন সময় দিলেই চলবে।

অর্ক ভাবল, সপ্তাহে একদিন সময় বের করা তার পক্ষে সম্ভব। পরের রবিবার সে হাসপাতালে গেল।

হাসপাতালের করিডরে নানা বয়সের মানুষ। কারও হাতে পরীক্ষার কাগজ, কেউ ওষুধের কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছেন, কেউ আবার অসহায়ভাবে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা তাঁদের সাহায্য করছিলেন।

এক কোণে অর্ক দেখল, একজন বৃদ্ধা চুপ করে বসে আছেন। হাতে একটি পুরোনো কাপড়ের ব্যাগ। তাঁর পাশে রাখা কাগজপত্র বারবার খুলে দেখছেন, কিন্তু কিছুই যেন বুঝতে পারছেন না।

অর্ক কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপনার কি কোনো সাহায্য লাগবে?”

বৃদ্ধা মুখ তুলে তাকালেন।

“বাবা, আমার স্বামীকে ভর্তি করেছে। ডাক্তার কী বলেছেন, সব কথা ঠিকমতো বুঝতে পারিনি। ছেলেকে ফোন করেছিলাম, সে দূরে কাজ করে। আসতে সময় লাগবে। আমি একা কী করব বুঝতে পারছি না।”

অর্ক তাঁর কাগজপত্র দেখে সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে নিয়ে গেল। স্বেচ্ছাসেবী দলের একজন অভিজ্ঞ সদস্যের সাহায্যে বৃদ্ধা জানতে পারলেন, কোন বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী।

বৃদ্ধা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন, “তোমাকে কী বলে ধন্যবাদ দেব, বাবা?”

অর্ক হেসে উত্তর দিল, “ধন্যবাদ দিতে হবে না। আপনি একটু নিশ্চিন্ত থাকুন।”

কথা শেষ করে সে যখন ফিরে যাচ্ছিল, বৃদ্ধা হঠাৎ বললেন, “তুমি কি ছবি আঁকো?”

অর্ক থমকে দাঁড়াল।

“হ্যাঁ, আঁকি। কিন্তু আপনি জানলেন কী করে?”

“তোমার আঙুলে রঙের দাগ। আমার স্বামীও একসময় ছবি আঁকতেন। খুব ভালো আঁকতেন। তারপর সংসারের দায়িত্বে সব ছেড়ে দিয়েছিলেন।”

বৃদ্ধার কথায় অর্কের মনে কৌতূহল জাগল। সে জানতে চাইল, “আপনার স্বামী এখন কেমন আছেন?”

বৃদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

“বয়স হয়েছে। অসুস্থও। তবে তাঁর একটা অভ্যাস এখনও যায়নি। মানুষের মুখ দেখে গল্প বানান। কখনো বলেন, এই লোকটি নিশ্চয়ই অনেক দূর হেঁটে এসেছে, কখনো বলেন, ওই মেয়েটি হয়তো কারও জন্য অপেক্ষা করছে।”

অর্কের মনে হলো, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা হয়তো মানুষের জীবনে নানা রূপে বেঁচে থাকে।

এরপর থেকে সে সপ্তাহে একদিন হাসপাতালে যেত। রোগীদের কাগজপত্র বুঝতে সাহায্য করত, প্রয়োজন হলে তাঁদের কাউন্টারে নিয়ে যেত। কাজ করতে করতে সে মানুষের নানা অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হতে লাগল। কেউ দূর গ্রাম থেকে চিকিৎসা করাতে এসেছেন, কেউ বহু দিন পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন, কেউ আবার একা বসে শুধু একটি পরিচিত মুখের অপেক্ষা করছেন।

অর্কের মনে হলো, হাসপাতালের প্রতিটি করিডর যেন অগণিত গল্পের পথ।

এক রবিবার সেই বৃদ্ধার স্বামীকে দেখতে গেল সে। বৃদ্ধের নাম শশাঙ্কবাবু। তিনি হাসপাতালের একটি সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শরীর দুর্বল, কিন্তু চোখ দুটো এখনও উজ্জ্বল।

অর্ক নিজের পরিচয় দিতেই শশাঙ্কবাবু বললেন, “তুমি নাকি ছবি আঁকো? তাহলে আমার একটা অনুরোধ আছে।”

“বলুন।”

“আমার একটা ছবি এঁকে দেবে? খুব সুন্দর করে নয়। আমি যেমন, তেমন করে।”

অর্ক মৃদু হেসে বলল, “চেষ্টা করব।”

পরের রবিবার সে একটি ছোট স্কেচবুক নিয়ে এল। শশাঙ্কবাবুকে কিছুক্ষণ দেখে পেনসিল চালাতে শুরু করল। বৃদ্ধ কথা বলতে লাগলেন। জানালেন, যৌবনে তিনি বিজ্ঞাপনের নকশা আঁকতেন। একসময় নিজের কাজের ছোট একটি ঘরও ছিল। কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব, অসুস্থতা এবং অর্থের অভাবে ধীরে ধীরে কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

“জানো বাবা,” তিনি বললেন, “আমি কখনো বড় শিল্পী হতে পারিনি। কিন্তু মানুষের মুখ আঁকতে খুব ভালো লাগত। মুখের মধ্যে মানুষ যা বলে না, তারও কিছু চিহ্ন থাকে।”

অর্ক আঁকতে আঁকতে বলল, “আপনার এই কথাটা আমার খুব ভালো লাগল।”

“তুমি কি নিজের জন্য আঁকো, না অন্যের জন্য?”

প্রশ্নটি শুনে অর্কের হাত থেমে গেল।

“দুটোই। তবে এখন বেশির ভাগ সময় টাকার জন্য আঁকতে হয়।”

শশাঙ্কবাবু মাথা নাড়লেন।

“টাকা দরকার। সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু নিজের মনের জন্য একটু জায়গা রেখো। সব জায়গা যদি অন্যের চাহিদায় ভরে দাও, একদিন নিজের কণ্ঠস্বরটাই চিনতে পারবে না।”

অর্ক কথাটির উত্তর দিল না। কিন্তু কথাটি তার মনে রয়ে গেল।

কয়েক দিন পর শশাঙ্কবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলো। চিকিৎসকেরা চেষ্টা করছিলেন। তাঁর স্ত্রী সারাক্ষণ পাশে থাকতেন। অর্ক খবর পেয়ে হাসপাতালে গেল। সেদিন বৃদ্ধ খুব অল্প কথা বললেন।

বিদায় নেওয়ার আগে তিনি অর্কের হাত ধরে বললেন, “ছবিটা শেষ করেছ?”

অর্ক মাথা নাড়ল।

“হ্যাঁ। তবে আরও একটু কাজ বাকি।”

শশাঙ্কবাবু মৃদু হাসলেন।

“শেষ করতে তাড়াহুড়ো কোরো না। যত্ন করে আঁকবে।”

সেটিই ছিল অর্কের সঙ্গে তাঁর শেষ দীর্ঘ কথোপকথন।

কয়েক দিন পর শশাঙ্কবাবু মারা গেলেন। খবরটি শুনে অর্ক অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। হাসপাতালের করিডরে যে মানুষটিকে সে প্রথম দেখেছিল, তিনি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গিয়েছিলেন—কাজের মূল্য শুধু তার বাজারদরে নয়, মানুষের মনে সে কী রেখে যায়, তার মধ্যেও রয়েছে।

অর্ক শশাঙ্কবাবুর প্রতিকৃতিটি সম্পূর্ণ করল। ছবিটি দেখে তাঁর স্ত্রী চোখ মুছলেন।

“এ যেন ওরই মুখ। কত দিন পর ওকে এমনভাবে দেখলাম!”

অর্ক ছবিটি তাঁদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বৃদ্ধার স্ত্রী বললেন, “তুমি এটা নিজের কাছে রাখো। তোমার ছবিতে ওর যে অংশটা বেঁচে আছে, সেটাকে তুমি আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।”

কথাটি অর্কের মনে গভীর ছাপ ফেলল।

কিছুদিন পর সে হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবী দলের সঙ্গে কথা বলল। তার প্রস্তাব ছিল, রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ছোট চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা যায় কি না। তবে কারও ছবি বা ব্যক্তিগত গল্প ব্যবহারের আগে অবশ্যই তাঁর অনুমতি নিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখতে চাইলে সেটিও সম্মান করতে হবে।

দলটি প্রস্তাবটি পছন্দ করল। কয়েকজন রোগী, পরিবারের সদস্য এবং হাসপাতালের কর্মী স্বেচ্ছায় তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন। অর্ক সেসব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবি আঁকল। কোনো ছবিতে দেখা গেল অপেক্ষারত একটি হাত, কোনো ছবিতে জানালার ধারে বসে থাকা এক বৃদ্ধ, কোনো ছবিতে দীর্ঘ রাতের শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এক মা।

প্রদর্শনীর নাম রাখা হলো—‘মানুষের পাশে মানুষ’।

প্রদর্শনীটি বড় কোনো গ্যালারিতে হয়নি। হাসপাতালের অনুমতি নিয়ে একটি ছোট কক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। তবু অনেক মানুষ এসেছিলেন। কেউ ছবি দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পেলেন, কেউ পরিচিত কারও কথা মনে করে নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন।

একটি ছবির সামনে এসে থামলেন এক তরুণ চিকিৎসক। ছবিতে দেখা যাচ্ছিল, একটি বৃদ্ধ হাতের ওপর আলতো করে রাখা আরেকটি হাত। নিচে লেখা ছিল—‘কখনো কখনো সাহায্য মানে শুধু পাশে বসে থাকা।’

চিকিৎসক বললেন, “আমরা প্রতিদিন অনেক রোগী দেখি। কিন্তু কখনো কখনো কাজের চাপে ভুলে যাই, চিকিৎসার পাশাপাশি একজন মানুষের কথা শোনাও কত গুরুত্বপূর্ণ।”

অর্ক বুঝল, তার ছবিগুলো হয়তো পৃথিবী বদলে দিতে পারবে না। কিন্তু কোনো একজন মানুষকে যদি একটু থামিয়ে ভাবতে শেখায়, তবে সেই চেষ্টাও অর্থহীন নয়।

প্রদর্শনীর শেষে অর্ক ‘অপেক্ষা’ নামের প্রথম ছবিটিও সেখানে রাখল। ছবির বৃদ্ধ মানুষটির নাম কেউ জানত না। কিন্তু ছবিটি দেখে অনেকেই বললেন, তাঁরা যেন নিজেদের বাবা, দাদু কিংবা কোনো প্রিয়জনের মুখ দেখতে পাচ্ছেন।

অর্ক ছবিটির সামনে দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে হলো, মানুষকে চেনার জন্য সব সময় তার নাম জানা দরকার হয় না। কখনো কখনো তার চোখের ভাষাই যথেষ্ট।

সেই দিন থেকে অর্ক নিজের জীবনে একটি নতুন নিয়ম করল। সংসারের দায়িত্ব সে পালন করবে, উপার্জনের জন্য কাজও করবে; কিন্তু প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নিজের সৃষ্টির জন্য রাখবে। আর সপ্তাহে একদিন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।

বছর শেষে তার আয় খুব বেশি বাড়েনি। জীবনের সব সমস্যাও মিটে যায়নি। কিন্তু তার কাজের মধ্যে নতুন অর্থ এসেছে। সে এখন জানে, প্রতিটি ছবির পেছনে একটি গল্প থাকতে পারে, আর প্রতিটি মানুষের পেছনেও থাকে এমন এক পৃথিবী, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না।

টেবিলের ওপর শশাঙ্কবাবুর শেষ প্রতিকৃতিটি এখনও রাখা আছে। অর্ক যখনই কোনো কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়ায়, ছবিটির দিকে তাকায়।

বৃদ্ধের চোখের সেই কোমলতা যেন নীরবে তাকে মনে করিয়ে দেয়—জীবনে সব অর্জন মাপা যায় না টাকায়, পদে কিংবা প্রশংসায়। কিছু অর্জন থাকে মানুষের মনে, অচেনা কারও দুঃসময়ে বাড়িয়ে দেওয়া হাতে, আর এমন একটি ছবিতে, যা কাউকে তার নিজের মানবিকতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

শিক্ষা: নিজের স্বপ্ন ও সংসারের দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। সাফল্য শুধু অর্থ বা খ্যাতি দিয়ে বিচার করা যায় না; মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তার কষ্ট বোঝা এবং নিজের প্রতিভাকে মানবিক কাজে ব্যবহার করাও জীবনের বড় প্রাপ্তি।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *