Categories
গল্প বিবিধ

গল্প : মেঘলা দুপুরের সেই অসমাপ্ত সেতু।

আকাশটা সকাল থেকেই মেঘলা ছিল। মাঝে মাঝে ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছিল। গ্রামের সরু খালের জল ধীরে ধীরে বাড়ছিল, আর খালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখে জমছিল উদ্বেগ।

খালটির নাম ছিল শালিখা। বর্ষাকালে তার জল বেড়ে গেলে এক পাড়ের মানুষ অন্য পাড়ে যেতে সমস্যায় পড়তেন। গ্রামের স্কুল, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র—সবই ছিল খালের ওপারে। শুষ্ক মরশুমে বাঁশের অস্থায়ী পথ দিয়ে কোনোরকমে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষায় সেই পথ বিপজ্জনক হয়ে উঠত।

অনেক বছর আগে খালের ওপর একটি ছোট পাকা সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কয়েকটি পিলার তৈরি হয়েছিল, কিছু রডও বসানো হয়েছিল। কিন্তু কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কেটে গেছে বহু বছর। সেতুর অসমাপ্ত কাঠামোটি এখন গ্রামের মানুষের কাছে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতীক।

এই গ্রামেই থাকত ঋতুপর্ণা। সে সদ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করেছে। শহরে চাকরির চেষ্টা করছিল, কিন্তু গ্রামের বাড়িতে ফিরে কয়েক মাস থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার বাবা ছোট একটি মুদি দোকান চালাতেন। মা সংসার সামলাতেন।

ঋতুপর্ণা ছোটবেলা থেকেই অসমাপ্ত সেতুটিকে দেখেছে। স্কুলে যাওয়ার সময় বর্ষার দিনে তাকে প্রায়ই অনেকটা ঘুরে যেতে হতো। কখনো কখনো খালের জল বেড়ে গেলে স্কুলে পৌঁছনোই সম্ভব হতো না।

একদিন বিকেলে সে দেখল, এক বৃদ্ধ কৃষক খালের ধারে দাঁড়িয়ে ওপারের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর হাতে ওষুধের একটি প্যাকেট।

ঋতুপর্ণা এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কাকু, এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?”

বৃদ্ধ বললেন, “নাতনির জ্বর। ওষুধ আনতে বাজারে গিয়েছিলাম। এখন জল বেড়েছে, এই পথে যাওয়া যাবে না। অনেকটা ঘুরে বাড়ি ফিরতে হবে।”

ঋতুপর্ণা খালের দিকে তাকাল। কয়েকটি বাঁশ জলের ওপর আড়াআড়ি রাখা ছিল, কিন্তু সেগুলোর ওপর দিয়ে যাওয়া যথেষ্ট বিপজ্জনক।

সে বলল, “আপনি ওই বাঁশের ওপর দিয়ে যাবেন না। অন্য রাস্তা দিয়ে চলুন। আমি আপনার সঙ্গে যাচ্ছি।”

বৃদ্ধের বাড়ি পৌঁছে দিতে দিতে ঋতুপর্ণার মনে বারবার ফিরে এল অসমাপ্ত সেতুটির কথা। তার পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে এই সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সে জানত, শুধু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি থাকলেই কোনো সরকারি নির্মাণকাজ শুরু বা সম্পূর্ণ করা যায় না। প্রয়োজন সঠিক তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা।

পরদিন সে সেতুটির কাছে গেল। একটি খাতা নিয়ে পিলারগুলোর অবস্থান, আশপাশের রাস্তা এবং খালের গতিপথ সম্পর্কে প্রাথমিক নোট তৈরি করল। দূর থেকে ছবি তুলল। কিন্তু পুরোনো নির্মাণের নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছল না। সে জানত, প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের পরিদর্শন ছাড়া সেতুর বর্তমান অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সন্ধ্যায় সে বাবাকে বলল, “বাবা, আমাদের গ্রামের সেতুটার কাজ কেন বন্ধ হয়েছিল, সেটা জানতে হবে। শুধু অভিযোগ করে লাভ নেই। আগে জানতে হবে কাজের নথিতে কী আছে।”

বাবা দোকানের হিসাব লিখতে লিখতে বললেন, “এত বছর কেউ কিছু করতে পারল না, আর তুই কয়েক দিনে করে ফেলবি?”

ঋতুপর্ণা শান্ত গলায় বলল, “আমি একা কিছু করতে পারব না। কিন্তু চেষ্টা তো করতে পারি।”

পরদিন সে গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ মানুষের সঙ্গে কথা বলল। কেউ বললেন, অর্থের অভাবে কাজ বন্ধ হয়েছিল। কেউ বললেন, নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল। আবার কেউ দাবি করলেন, সেতুর নকশা নিয়ে আপত্তি উঠেছিল।

কিন্তু কারও কাছেই নির্ভরযোগ্য নথি ছিল না।

ঋতুপর্ণা বুঝল, এত দিনের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা কথা ছড়িয়েছে, অথচ প্রকৃত কারণ অনেকেরই অজানা।

সে গ্রামের পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের তথ্য জানতে চাইল। প্রথম দিন তাকে জানানো হলো, পুরোনো নথি খুঁজে দেখতে হবে। সে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিল এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্য চাওয়ার ব্যবস্থা করল।

এদিকে গ্রামের কয়েকজন তরুণ তার উদ্যোগে উৎসাহিত হলো। তারা সিদ্ধান্ত নিল, সেতুটির সমস্যা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা করা হবে। আলোচনায় গ্রামের মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা জানাবেন, আর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।

কিন্তু সবাই খুশি হলো না।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বললেন, “এত প্রশ্ন করে কী হবে? সেতু বানানোর ক্ষমতা কি তোমাদের আছে? এসব করে শুধু সময় নষ্ট হবে।”

ঋতুপর্ণা উত্তর দিল, “সেতু নির্মাণের ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। কিন্তু মানুষের সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করা, নথি যাচাই করা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো আমাদের পক্ষে সম্ভব।”

তার কথায় কয়েকজন মাথা নাড়লেন। অন্যরা চুপ করে রইলেন।

কয়েক দিন পর প্রাথমিক নথির কিছু তথ্য পাওয়া গেল। জানা গেল, প্রকল্পের কাজ একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং পরে সেটি সম্পূর্ণ করার প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। তবে কেন কাজ বন্ধ হয়েছিল এবং বর্তমান কাঠামো ব্যবহারযোগ্য কি না, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত যাচাই প্রয়োজন ছিল।

ঋতুপর্ণা নথির অনুলিপি নিয়ে গ্রামের আলোচনায় বসে সবকিছু সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করল। সে পরিষ্কার করে বলল, “এই তথ্য থেকে আমরা বুঝতে পারছি কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কিন্তু সেতুটি কতটা নিরাপদ, তা এখনই বলা যাবে না। বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শন দরকার।”

একজন স্কুলশিক্ষক বললেন, “তাহলে আমাদের প্রথম দাবি হওয়া উচিত সেতুটির আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন এবং প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানানো।”

সকলেই একমত হলেন।

গ্রামের তরুণেরা মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করল। তবে ঋতুপর্ণা একটি বিষয় নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক ছিল। কেউ যেন ভুল তথ্য না লেখেন, কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ না ওঠে এবং আবেদনপত্রে শুধু যাচাইযোগ্য বিষয়গুলোই উল্লেখ করা হয়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর অপেক্ষা শুরু হলো।

প্রথম সপ্তাহে কোনো উত্তর এল না। দ্বিতীয় সপ্তাহেও না। কয়েকজন হতাশ হয়ে বললেন, “কিছুই হবে না। এত দিনেও হয়নি, এখন আর কী হবে!”

ঋতুপর্ণারও মন খারাপ হচ্ছিল। সে প্রতিদিন নতুন কোনো খবরের আশায় থাকত। কিন্তু সে জানত, সরকারি প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না এলে নিয়মমাফিক আবার যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নিল।

ঠিক সেই সময় একদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি নামল। খালের জল বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের কয়েকটি পরিবারের যাতায়াত ব্যাহত হলো। স্কুল থেকে ফেরার পথে কিছু ছাত্রছাত্রীকে অন্য রাস্তা ব্যবহার করতে হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু অভিভাবকদের উদ্বেগ বেড়ে গেল।

সন্ধ্যায় গ্রামের মানুষ আবার একত্রিত হলেন। এবার আলোচনা শুধু সেতু নির্মাণের দাবি নিয়ে নয়, বর্ষাকালে নিরাপদ যাতায়াতের অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েও হলো।

ঋতুপর্ণা বলল, “সেতুর কাজ শেষ হতে সময় লাগতে পারে। তত দিন আমাদের এমন কোনো ব্যবস্থা চাই, যা অনুমোদিত ও নিরাপদ। বিপজ্জনক বাঁশের পথ ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের কাছে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা চাইতে হবে।”

গ্রামের মানুষ তার সঙ্গে একমত হলেন। পরদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি জানিয়ে আরেকটি আবেদন পাঠানো হলো।

কয়েক সপ্তাহ পর একটি খবর এল। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হলো, অসমাপ্ত সেতুর নথি পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার জন্য পরিদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরটি শুনে গ্রামের মানুষ আনন্দিত হলেন। তবে ঋতুপর্ণা সবাইকে মনে করিয়ে দিল, পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি মানেই সেতু নির্মাণের কাজ অবিলম্বে শুরু হবে, এমন নয়। আরও সিদ্ধান্ত, অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা লাগতে পারে।

নির্ধারিত দিনে দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রযুক্তিগত কর্মী এলেন। তাঁরা পুরোনো কাঠামো পরীক্ষা করলেন, নথির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখলেন এবং আশপাশের যাতায়াতের অবস্থাও পর্যালোচনা করলেন।

ঋতুপর্ণা দূরে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছিল। তার মনে আনন্দের পাশাপাশি সতর্কতাও ছিল। সে জানত, কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। মানুষের নিরাপত্তা সবার আগে।

পরিদর্শনের পর দপ্তর থেকে জানানো হলো, পুরোনো কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন দরকার। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঠিক করা হবে, আগের নির্মাণের কোনো অংশ কাজে লাগানো যাবে কি না, নাকি নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন।

গ্রামের কেউ কেউ এতে হতাশ হলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, পরিদর্শনের দিনই হয়তো কাজ শুরুর ঘোষণা হবে।

কিন্তু ঋতুপর্ণা বলল, “যে সেতু দিয়ে মানুষ চলবে, সেটি নিরাপদ হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। পুরোনো অংশ কাজে লাগানো সম্ভব হলে ভালো, না হলে নতুন করে করতে হবে। শুধু দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।”

কিছুদিন পরে প্রকল্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে একটি লিখিত আপডেট পাওয়া গেল। সেখানে মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সম্পূর্ণ নির্মাণের জন্য তখনও অপেক্ষা করতে হবে, কিন্তু দীর্ঘদিনের নীরবতার পর অন্তত কাজটি আবার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফিরেছিল।

ঋতুপর্ণা বুঝতে পারল, পরিবর্তন সব সময় এক লাফে আসে না। কখনো কখনো পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হলো সমস্যাটিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া।

এরই মধ্যে গ্রামের তরুণেরা বর্ষাকালের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করল। তারা স্কুলে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বোঝাল, জল বেড়ে গেলে অস্থায়ী বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করা যাবে না। অভিভাবকদেরও জানানো হলো, নিরাপদ বিকল্প পথ সম্পর্কে আগেভাগে খোঁজ রাখা জরুরি।

শিক্ষকেরা এই উদ্যোগে সহযোগিতা করলেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাতায়াতের সমস্যাগুলো জানানো হতে লাগল।

কয়েক মাস পরে ঋতুপর্ণা শহরের একটি নির্মাণ সংস্থায় চাকরি পেল। তার স্বপ্নের একটি অংশ পূরণ হলো। কিন্তু চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগের দিন সে একবার সেতুটির কাছে গেল।

বিকেলের আকাশে তখন ঘন মেঘ। অসমাপ্ত পিলারগুলোর ওপর বৃষ্টির জল জমেছিল। সেতুটি তখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। নদীর মতো নয়, খালটি ছোট; তবু তার দুই পাড়ের মানুষের জীবনকে আলাদা করে রেখেছিল বহু দিন।

ঋতুপর্ণা ভাবল, হয়তো আরও অনেক দিন লাগবে। হয়তো প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নতুন অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে, প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নির্মাণের নানা ধাপ পেরোতে হবে। তবু এবার গ্রামের মানুষ জানেন, কীভাবে নিজেদের সমস্যার কথা নথিভুক্ত করতে হয়, কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয় এবং কীভাবে নিয়ম মেনে দাবি জানাতে হয়।

হরেন কাকুর মতো এক বৃদ্ধ মাঝি সেখানে এসে দাঁড়ালেন।

“কী রে মা, সেতুটা তো এখনও শেষ হলো না!”

ঋতুপর্ণা হেসে বলল, “হ্যাঁ কাকু, এখনও হয়নি। তবে এবার কাজটা কোথায় আটকে আছে, সেটা আমরা আগের চেয়ে ভালো জানি।”

মাঝি খালের জলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তাহলে আশা আছে?”

ঋতুপর্ণা উত্তর দিল, “আশা আছে। তবে শুধু আশায় হবে না, কাজও চালিয়ে যেতে হবে।”

সেদিন বাড়ি ফেরার সময় তার মনে হলো, অসমাপ্ত সেতুটি শুধু একটি নির্মাণকাজের গল্প নয়। এটি ধৈর্য, দায়িত্ব এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গল্প। কোনো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেই তাকে চিরস্থায়ী বলে মেনে নিতে হয় না। আবার আবেগের বশে তাড়াহুড়ো করেও সমাধান আসে না।

পরিবর্তনের জন্য দরকার সত্য যাচাই করার অভ্যাস, নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং দীর্ঘ পথ চলার মানসিকতা।

বহু মাস পরে, এক শীতের সকালে ঋতুপর্ণা শহর থেকে গ্রামে ফিরছিল। ঘাটের কাছে নেমে সে দেখল, কয়েকজন মানুষ সেতুর কাজের সর্বশেষ অগ্রগতির খবর নিয়ে আলোচনা করছেন। কাজ শেষ হওয়ার দিন তখনও নির্দিষ্ট নয়, কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন।

ঋতুপর্ণা দূর থেকে অসমাপ্ত কাঠামোটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, “একদিন এই পথ সম্পূর্ণ হবে। আর সেই দিন শুধু মানুষ এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাবে না—তারা বুঝবে, নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতাও নড়ে উঠতে পারে।”

মেঘলা আকাশের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো বেরিয়ে এল। খালের জলে সেই আলো কেঁপে উঠল। সেতুটি তখনও অসমাপ্ত, কিন্তু গ্রামের মানুষের মনে নতুন করে শুরু করার সাহস জন্মেছিল।

শিক্ষা: দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শুধু অভিযোগ বা আবেগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন তথ্য যাচাই, নিয়মমাফিক উদ্যোগ, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। দ্রুত ফল পাওয়ার চেয়ে নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *