Categories
বিবিধ

পাঁচ লক্ষ টাকার বাজেটে দুর্গাপুজো, কালীঘাটের পটচিত্রের ভাবনায় বালুরঘাটের অগ্নিশিখা ক্লাব।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:- কালীঘাটের পটচিত্রের আদলে মণ্ডপসজ্জা। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই এ বার দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে বালুরঘাটের অগ্নিশিখা ক্লাব অ্যান্ড লাইব্রেরি। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের দুর্গোৎসব এ বছর ৭০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। পুজোর আনুমানিক বাজেট পাঁচ লক্ষ টাকা। ক্লাব সম্পাদক পার্থ রায় এই কথা জানিয়েছেন।
পুজোর প্রতিমা তৈরি করছেন বালুরঘাটের চকভৃগুর শিল্পী উজ্জ্বল পাল। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন বাদুরতলার দত্ত ডেকোরেটার্সের সঞ্জয় দত্ত। আলোকসজ্জার কাজ করছেন ত্রিমোহিনীর মহন্ত ইলেকট্রিক্যালের অমল মহন্ত। শব্দ পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে বালুরঘাটের মা মঙ্গলচণ্ডী সাউন্ড।
পুজো উপলক্ষে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্রদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন হবে।
ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস সাহা ও পুজো সম্পাদক বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চলছে প্রস্তুতি। কালীঘাটের পটচিত্রকে মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরার পাশাপাশি বস্ত্রদান কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক উদ্যোগেও সামিল হতে চলেছে ক্লাব।

Share This
Categories
বিবিধ

হাওড়া-কলকাতা যাতায়াতে দুর্ভোগের আশঙ্কা, কর্মবিরতিতে বন্ধ একাধিক লঞ্চ ও ফেরি রুট।

প্রকাশ কালি ঘোষাল, হাওড়া :- বুধবার দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতিতে হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতির কর্মীরা ।
অভিযোগ গত ২ মাসের বেতন এবং পুজোর বোনাস বকেয়া আছে। এই কর্মবিরতির ফলে পুজোর সময় কলকাতা এবং হাওড়া মধ্যে ফেরি চলাচল ব্যাহত হতে পারে। হাওড়া তাহেরি টোলা, শোভাবাজার, বাগবাজার, আরমানি ঘাট, হাওড়া থেকে বাবুঘাট, চাঁদপাল, নুরপুর বাউরিয়া গোলাবাড়ি ,রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ । রোজ ৪০ হাজার মানুষ ফেরি সার্ভিস এ যাতায়াত করে ভাড়া মাত্র ছ টাকা।

বুধবার বিকালে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া ফেরিঘাটে বিক্ষোভ দেখান হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতির কর্মীরা। তারা কাজ বন্ধ রেখে স্লোগান দিতে থাকেন। ওই কর্মীদের অভিযোগ গত ২ মাসের বেতন এবং বোনাস বকেয়া রয়েছে। এর ফলে পুজোর মুখে তারা চরম আর্থিক কষ্টের মুখে পড়েছেন। পুজোর সময় বাড়ির শিশুদের জন্যও পোশাক কিনতে পারেননি। নিজেদের জন্য নতুন পোশাক কেনা হয়নি। এরই প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ দেখান। তারা জানিয়েছেন, যদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা না মেটান তবে বুধবার দুপুর দুটোর পর থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করবেন।

কর্মচারীরা জানিয়েছেন ওই সংস্থায় প্রায় ২৫০ জন কর্মচারী কাজ করেন। হাওড়া থেকে গোলাবাড়ি, শোভাবাজার, বাগবাজার, চাঁদপাল, আর্মেনিয়াম, প্রিন্সেপ ঘাট রুটে নিয়মিত ফেরি চলান। এছাড়াও বাউরিয়া এবং নুরপুর রুটেও একইভাবে ফেরি চলান। কর্মীরা জানিয়েছেন তারা একই ভাবে পুজোর দিন গুলিতেও কর্ম বিরতি পালন করবেন। এর ফলে হাওড়া স্টেশন দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। কর্মচারীরা আরো জানিয়েছেন পূজোর সময় সমিতির ১৪ টি ফেরি ঘাটে টিকিট বিক্রি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়। সেই টাকায় অনায়াসে কর্মীদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে ওই সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, রাজ্য পরিবহন দপ্তর এবং জেলা পরিষদ এই সমিতি থেকে ভাড়া বাবদ মোটা টাকা পায়। আগে সেই টাকা শোধ করা দরকার। এর মধ্যে কর্মীদের বেতন দিতে হবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বোনাস দেওয়া হবে কিনা তা সমবায় দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঠিক করবেন।

পরিবহন দপ্তর আলোচনা বসতে চাইছে, জেলা পরিষদ আলোচনা বসতে চাইছে। এখন দেখার এই অচল অবস্থা আলোচনা মাধ্যমে কখন কাটে সেদিকে তাকিয়ে পূজার মুখে হাওড়া রুটে চৌদ্দটি খাটের যাত্রীগণ।

Share This
Categories
বিবিধ

পুরোনো পিতলের ঢাল-তরোয়ালে আজও জীবন্ত ইতিহাস, ফালাকাটার শিকদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় ঐতিহ্যের টান।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা :- প্রথা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর নবনগরের শিকদার বাড়ির প্রতিমা কুমোরটুলি থেকে কাঁধে করে নিয়ে আসা হলো। জানা গিয়েছে, পুরানো রীতি মেনেই এখনও দুর্গা পুজো হয় শিকদার বাড়ির ঠাকুর দালানে। পুজোর কয়েকটি দিন শিকদার বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে মিশে যান প্রতিবেশীরাও। ওই পুজোয় কোন জাঁকজমক আলো-আঁধারি খেলা না থাকলেও এলাকার এতো মানুষ ভিড় জমান যে,সিকদার বাড়ির ওই পুজো যেনো সর্বজনীতা লাভ করে আপন খেয়ালে। এদিন পরিবারের সদস্যরা জানান, “পুরোনো নিয়ম ও নিষ্ঠা সহকারে পুজো করা হয়। আমাদের বাড়ির প্রতিমা প্রায় ৫ কিলোমিটার দূর থেকে কাঁধে করে নিয়ে আসা হয় ,কাঁধে করেই দশমীতে বিসর্জনও দেওয়া হয়। এলাকার প্রচুর মানুষ ওই প্রতিমা আনার দিন সামিল হন। ওই পুজো যে বহু প্রাচীন তার নিদর্শন হিসাবে পুরোনো পিতলের ঢাল ও তরোয়াল পুজো মন্ডপে নিয়ম করে শোভিত হয় ইতিহাসকে সাক্ষী রাখতে।

Share This
Categories
বিবিধ

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থেকে প্রবেশপথ, ফালাকাটার পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা পরিদর্শন পুলিশের।

ফালাকাটা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- দুর্গাপুজোর আগে ফালাকাটার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করলেন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ। বুধবার তিনি একাধিক পুজোমণ্ডপ ঘুরে দেখেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং পুজোর দিনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কী কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন তিনি।
পুজোমণ্ডপগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ-সহ নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার। পাশাপাশি পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন।

Share This
Categories
বিবিধ

বেলুড়ের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ফুটবল-চমক, একসঙ্গে অ্যালভিটো ডি’কুনহা ও হোসে ব্যারেটো।

প্রকাশ কালি ঘোষাল. হাওড়া :- দেখতে দেখতে হাওড়া বেলুড়ে বিকেপাল সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির দুর্গাপুজো ৬৭ তম বছর পদার্পণ করল। সেই উপলক্ষে মায়ের বোধন অনুষ্ঠান উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতন।

এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল একেবারেই অন্যরকম। মায়ের উদ্বোধনে হাজির ছিলেন ক্রীড়া জগতের তারকারা। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক স ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার অ্যালভিটো ডি’কুনহা এবং মোহনবাগানের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার হোসে রামিরেজ ব্যারেটো।

বাঙালি মানেই ফুটবল আবেগ। আর সেই আবেগের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান। মাঠে যতই লড়াই হোক, মায়ের মণ্ডপে কিন্তু এবার এক হলেন দুই প্রধানের দুই তারকা। অ্যালভিটো এবং ব্যারেটোকে একসঙ্গে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ফুটবলপ্রেমীরা। সব মিলিয়ে আবেগ আর উৎসবের মেলবন্ধন দেখা গেল বিকেপাল সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির মণ্ডপে।

Share This
Categories
বিবিধ

এক লক্ষ টাকার অনুদান ও নিরাপত্তার নির্দেশিকা, সাঁকরাইলে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে পুলিশের উদ্যোগ।

প্রকাশ কালি ঘোষাল, হাওড়া:- দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাঁকরাইল থানা চত্বর এলাকায় দুর্গাপুজো কমিটিগুলির হাতে রাজ্য সরকারের এক লক্ষ টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া সিটি পুলিশের এডিসিপি বাপ্পাদিত্য ঘোষ, সাঁকরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত আইসি বিশ্বজিৎ মন্ডল সহ থানার বিভিন্ন আধিকারিক ও পুলিশ কর্মী ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁকরাইল থানা এলাকার ২০০-রও বেশি পুজো কমিটির হাতে রাজ্য সরকারের অনুদানের চেক তুলে দেওয়ার কাজ চলছে। পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পুজো কমিটিগুলিকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এডিসিপি বাপ্পাদিত্য ঘোষ জানান, পুজো মণ্ডপে কোনওভাবেই ডিজে বাজানো চলবে না। দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে তা সামাল দেওয়ার জন্য প্রতিটি পুজো কমিটিকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ পর্যাপ্ত প্রশস্ত রাখার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভিড়ের মধ্যে কোনওরকম সমস্যা না হয়।

পুজোর দিনগুলিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করতে পুলিশের তরফে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বুথ ক্যাম্প করা হবে। পাশাপাশি, নজরদারির জন্য থাকবে আরটি গাড়িও। সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পুজো পরিচালনার লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশ। নতুন সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতিমত অনুদানের চেক পেয়ে খুশি পূজা কমিটির কর্মকর্তারা l

Share This
Categories
বিবিধ

পঞ্চাশে ইউরেকা ক্লাবের দুর্গোৎসব, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:- মহাচতুর্থীর বিকেলে ফিতে কেটে এবং মঙ্গলদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে বালুরঘাটের ঐতিহ্যবাহী ইউরেকা ক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায় এবং বালুরঘাট শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমের পূজ্যপাদ স্বামী দিব্যতত্ত্বানন্দজী মহারাজ। তাঁদের হাত ধরেই পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
উদ্বোধন উপলক্ষে ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন ক্লাবের পক্ষ থেকে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীরবে সমাজসেবার কাজ করে চলা কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিভিন্নভাবে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক পর্বের আয়োজন করা হয়। সেখানে নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
এ বছর ইউরেকা ক্লাবের দুর্গাপুজো পঞ্চাশতম বর্ষে পদার্পণ করেছে। সেই উপলক্ষে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সমাজসেবায় যুক্ত ব্যক্তিদের সংবর্ধনা এবং স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এদিনের কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

কলকাতার আলিমুদ্দিনে চণ্ডীপাঠ ঘিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বার্তা, উপস্থিত সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী-সহ বিশিষ্টরা।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:
কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআইএমের পার্টি অফিসের পাশে হিন্দু ধর্মগুরুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত হল চণ্ডীপাঠের অনুষ্ঠান। আয়োজকদের বক্তব্য, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলার সনাতন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আত্মমর্যাদার প্রকাশ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলার সংস্কৃতি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। সনাতন ধর্ম, ভারতীয় সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে—এমনই বক্তব্য উঠে আসে তাঁদের আলোচনায়।

এদিনের অনুষ্ঠানে বামপন্থী রাজনীতির সমালোচনাও করেন কয়েকজন বক্তা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বামপন্থীদের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ তোলেন। বক্তাদের বক্তব্য, বাংলার মাটিতে সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিজস্ব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঠাকুর শ্রীশ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী, তন্ত্র দেবানন্দ মহারাজ, খনা মা, সত্যজিৎ দাস, সায়ন্তন বসু-সহ অন্যান্যরা।

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মতো রাজনৈতিকভাবে পরিচিত এলাকায় এই চণ্ডীপাঠের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে বক্তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

Share This
Categories
বিবিধ

জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির লক্ষ্যে গোয়ালতোড়ে সিআরপিএফের উদ্যোগে সাইকেল র‍্যালি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় এলাকায় ৬৬ নম্বর ব্যাটালিয়ন সিআরপিএফের উদ্যোগে এই সাইকেল র‍্যালির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিতে অংশ নেয় গোয়ালতোড় স্কুলের পড়ুয়ারা।
দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা,স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং দেশ গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বার্তাও তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং জাতীয় সংহতির আদর্শকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েই শেষ হয় এই সাইকেল র‍্যালি।

Share This
Categories
বিবিধ

বদ্ধ ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাসের আশঙ্কা, মোহনপুরে এক পরিবারের তিনজন-সহ চারজনের মৃত্যু।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-একজনকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেরাই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন একে একে। শেষ পর্যন্ত সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে প্রাণ হারালেন এক মহিলা-সহ চারজন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার আঁতলা এলাকায়। মৃতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ট্যাঙ্কের ভিতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও এক প্রতিবেশী যুবক। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে মোহনপুর থানার অন্তর্গত আঁতলা এলাকার একটি বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্কের কাজ চলছিল। কাজের প্রয়োজনেই প্রথমে এক ব্যক্তি ট্যাঙ্কের ভিতরে নামেন। কিন্তু ট্যাঙ্কের ভিতরে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। আচমকা তাঁর এমন পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসার জন্য তৎপরতা শুরু হয়।
কিন্তু বিপদের গভীরতা বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় আরও বড় বিপত্তি। ভিতরে আটকে পড়া ব্যক্তিকে বাঁচানোর তাগিদে ট্যাঙ্কের ভিতরে নামেন তাঁর বোন-সহ আরও দু’জন যুবক। উদ্দেশ্য ছিল, যেভাবেই হোক প্রিয়জনকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসা। কিন্তু যাঁকে বাঁচাতে তাঁরা এগিয়ে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই উদ্ধার প্রচেষ্টাই তাঁদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, ট্যাঙ্কের ভিতরে প্রবেশ করার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও তিনজন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্থানীয়দের দাবি, বদ্ধ ট্যাঙ্কের ভিতরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বা ক্ষতিকর গ্যাসের প্রভাবে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। শেষ পর্যন্ত চারজনেরই মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
এই দিকে, ট্যাঙ্কের ভিতরে একের পর এক ব্যক্তির অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এক প্রতিবেশী যুবক। বিপদের কথা চিন্তা না করেই তিনি উদ্ধারের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মোহনপুরের বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মোহনপুর থানার পুলিশ। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, কী পরিস্থিতিতে একের পর এক ব্যক্তি সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং ট্যাঙ্কের ভিতরে ঠিক কী ধরনের বিপদ তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বদ্ধ জায়গায় অক্সিজেনের ঘাটতি কিংবা বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। একটি দুর্ঘটনা, আর তাতেই শেষ হয়ে গেল চারটি প্রাণ!
এই মর্মান্তিক ঘটনার সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক দিক হল, একজনকে বাঁচানোর জন্যই একে একে বিপদের মুখে এগিয়ে গিয়েছিলেন অন্যরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই আর নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হল না। মৃতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় শোকের মাত্রা আরও বেড়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা। গোটা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
মোহনপুরের আঁতলার এই ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল সেপটিক ট্যাঙ্কের মতো বদ্ধ জায়গায় কাজ করার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে চলার গুরুত্ব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে অক্সিজেনের অভাব এবং হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি প্রাণঘাতী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিতরে প্রবেশ করার আগে বিপদের মাত্রা বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধারের জন্য কোনওরকম সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া অন্য কেউ ভিতরে প্রবেশ করলে বিপদ আরও বাড়তে পারে।
তাই সেপটিক ট্যাঙ্ক বা অন্য কোনও বদ্ধ জায়গায় প্রবেশের আগে প্রশিক্ষিত কর্মীর সাহায্য নেওয়া, গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও উপযুক্ত সুরক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভিতরে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সরাসরি ভিতরে নেমে পড়াও বিপজ্জনক হতে পারে। তবে আঁতলার এই দুর্ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হয়েছিল কি না, ট্যাঙ্কের ভিতরে কী ধরনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এবং কীভাবে একের পর এক চারজনের মৃত্যু হল, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।
আপাতত পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, একই পরিবারের তিনজন-সহ মোট চারজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা আঁতলা এলাকা। একজনকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা শেষ পর্যন্ত চারটি প্রাণ কেড়ে নিল—মোহনপুরের এই ঘটনা দীর্ঘদিন মনে থাকবে এলাকাবাসীর।

Share This