Categories
অনুগল্প গল্প

গল্প : মাটির নিচে চাপা পড়া ঘণ্টাধ্বনি।

বর্ধমানের এক প্রত্যন্ত গ্রামে প্রতি বছর বর্ষার পর অদ্ভুত একটা শব্দ শোনা যেত।

সন্ধ্যার দিকে মাটির নিচ থেকে ভেসে আসত—

ঢং… ঢং… ঢং…

গ্রামের লোকেরা বলত, ওটা নাকি মাটির নিচে চাপা পড়া মন্দিরের ঘণ্টা।

কিন্তু কেউ কখনও সেই ঘণ্টা দেখেনি।

গ্রামের স্কুলশিক্ষক সৌরভ এসব গল্পে বিশ্বাস করতেন না। একদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় তিনিও সেই শব্দ শুনলেন।

কিন্তু শব্দটা এবার অন্যরকম।

যেন খুব গভীর মাটি থেকে আসছে।

পরদিন সৌরভ স্কুলের কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে জায়গাটা পরীক্ষা করতে গেলেন।

এক ছাত্র রাকেশ বলল,

“স্যার, এখানে মাটি অন্য জায়গার থেকে নরম।”

সৌরভ লাঠি দিয়ে মাটি খুঁচিয়ে দেখলেন।

সত্যিই নিচে ফাঁপা শব্দ।

কয়েকজন গ্রামবাসীকে ডেকে মাটি সরানোর কাজ শুরু হল।

প্রায় চার ফুট নিচে একটি পাথরের কাঠামো বেরিয়ে এল।

আর তার মধ্যে একটি লোহার দরজা।

দরজা খুলতেই সবাই অবাক।

নিচে নামার জন্য সরু সিঁড়ি।

সৌরভ টর্চ জ্বালিয়ে নামলেন।

সিঁড়ির শেষে একটি ছোট ঘর।

ঘরের মাঝখানে একটি বিশাল পুরোনো ঘণ্টা।

কিন্তু ঘণ্টাটি নড়ার কোনো সুযোগ নেই।

তাহলে শব্দ আসে কীভাবে?

সৌরভ চারপাশ পরীক্ষা করতে লাগলেন।

দেয়ালে খোদাই করা কিছু লেখা দেখতে পেলেন।

বাংলা অক্ষরে লেখা—

“বিপদের দিনে এই ঘণ্টা বাজবে।”

আরেক পাশে একটি সাল—

১৮৯৮।

সৌরভ বুঝলেন, এটি কোনো সাধারণ মন্দির নয়।

এটি ছিল গ্রামের পুরোনো সতর্কবার্তা কেন্দ্র।

ঠিক তখন রাকেশ চিৎকার করে বলল,

“স্যার! এখানে আরেকটা দরজা!”

দরজার ওপারে আরও একটি সরু পথ।

পথটি মাটির নিচ দিয়ে গ্রামের পুরোনো বাঁধের দিকে গিয়েছে।

হঠাৎ সৌরভের মনে পড়ল, গত কয়েকদিন ধরে গ্রামের নদীর জল অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

সে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এসে বাঁধ পরীক্ষা করতে গেল।

বাঁধের একটি অংশে বড় ফাটল।

যদি রাতের বৃষ্টিতে নদীর জল আরও বাড়ে, তাহলে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।

সৌরভ সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েত ও প্রশাসনকে খবর দিলেন।

কিন্তু গ্রামের মানুষ প্রথমে গুরুত্ব দিল না।

তখন সৌরভ তাদের ভূগর্ভস্থ ঘণ্টাটি দেখালেন।

এক বৃদ্ধ বললেন,

“আমার ঠাকুরদা বলতেন, এই ঘণ্টা একবার বাজলে গ্রামের সবাইকে উঁচু জায়গায় চলে যেতে হতো।”

“কিন্তু এখন তো ঘণ্টা বাজে না।”

বৃদ্ধ বললেন,

“হয়তো আমরা ভুলে গেছি কীভাবে বাজাতে হয়।”

সৌরভ ঘণ্টাটির কাঠামো পরীক্ষা করলেন।

দেখলেন, মাটির নিচে একটি পুরোনো লোহার দড়ি চলে গেছে বাঁধের কাছে।

সম্ভবত নদীর জল নির্দিষ্ট উচ্চতায় উঠলে জলচাপের কারণে দড়িটি টানত এবং ঘণ্টা বাজত।

কিন্তু বহু বছর ধরে ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে।

সৌরভ সেই পুরোনো ব্যবস্থাটি মেরামত করার চেষ্টা করলেন।

সেই রাতেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হল।

নদীর জল দ্রুত বাড়তে লাগল।

মাঝরাতে হঠাৎ—

ঢং!

তারপর—

ঢং!

ঢং!

পুরো গ্রাম কেঁপে উঠল।

মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এল।

বৃদ্ধরা বুঝে গেলেন—এটি সতর্কবার্তা।

সৌরভ মাইক নিয়ে সবাইকে উঁচু জায়গায় চলে যেতে বললেন।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাঁধের সেই অংশ ভেঙে গেল।

জল গ্রামে ঢুকল।

কিন্তু ততক্ষণে প্রায় সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।

সকাল হলে দেখা গেল, গ্রামের নিচু এলাকার অনেক বাড়ি জলে ডুবে গেছে।

কিন্তু প্রাণহানি হয়নি।

প্রশাসনের লোকেরা এসে পুরোনো ভূগর্ভস্থ ঘরটি দেখতে চাইল।

সৌরভ তাদের সব দেখালেন।

একজন ইতিহাসবিদ বললেন,

“এটি শুধু ঘণ্টাঘর নয়। এটি একশো বছরেরও বেশি পুরোনো একটি স্থানীয় দুর্যোগ-সতর্কতা ব্যবস্থা।”

গ্রামের মানুষ সিদ্ধান্ত নিল, জায়গাটি আর মাটির নিচে চাপা থাকবে না।

ঘণ্টাটি তুলে এনে গ্রামের উঁচু জায়গায় স্থাপন করা হল।

তার পাশে একটি ফলক লাগানো হল—

“যে ঘণ্টা একদিন মানুষকে বাঁচাত, তাকে ভুলে গেলে বিপদও একদিন আমাদের ভুলে যায়।”

রাকেশ একদিন সৌরভকে জিজ্ঞেস করল,

“স্যার, ঘণ্টাটা কি সত্যিই নিজে নিজে বাজে?”

সৌরভ হাসলেন।

“না। ঘণ্টা নিজে কাউকে বাঁচাতে পারে না।”

“তাহলে?”

“মানুষকে সতর্ক করে। বাঁচায় মানুষই।”

রাকেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“তাহলে আমরা ঘণ্টাটাকে মনে রাখব।”

সৌরভ মাথা নাড়লেন।

দূরে তখন পুরোনো ঘণ্টাটি ঝুলছে।

হাওয়ায় সামান্য দুলছে।

কিন্তু এবার তার শব্দ শুধু ভয়ের নয়।

এটি হয়ে উঠেছে স্মৃতি, সতর্কতা আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার প্রতীক।।

Share This
Categories
বিবিধ

অতিরিক্ত উচ্চতার পণ্যবাহী গাড়ির দাপট, বারবার দুর্ঘটনার আশঙ্কা বুলবুলচন্ডী আন্ডারপাসে

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:-মালদা-নালাগোলা রাজ্য সড়কের বুলবুলচন্ডী রেলস্টেশনের আন্ডারপাস যেন দিন দিন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচল করায় বারবার সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে রেলব্রিজের নিচের আন্ডারপাসে। কখনও লোহার ব্যারিকেডে গাড়ি ধাক্কা লেগে তা ভেঙে যাচ্ছে, আবার কখনও ব্যারিকেড বা কাঠামো ভেঙে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বুধবার বিকেলেও ফের ঘটল একই ধরনের ঘটনা। জানা গেছে, মালদা থেকে পাকুয়াহাটের দিকে যাচ্ছিল একটি মালবোঝাই ১৪ চাকার লরি। বুলবুলচন্ডী রেলস্টেশনের আন্ডারপাসের কাছে পৌঁছতেই লরিটির আন্ডারপাসের লোহার ব্যারিকেড আটকে গিয়ে ভেঙে পড়ে।
সেই সময় পাশ দিয়ে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। আচমকাই লোহার ব্যারিকেড ভেঙে পড়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে মালদা নালাগোলা রাজ্য সড়কে এি ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্ডারপাসটির উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা রয়েছে। অতিরিক্ত উচ্চতার পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের সময় বারবার দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

Share This
Categories
গল্প

চায়ের দোকানের শেষ কাপ।

শীতের সকাল।

গ্রামের বাসস্ট্যান্ডের পাশে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালাত গোপাল।

দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টিনের চাল আর সামনে তিনটে কাঠের বেঞ্চ।

সকাল হলেই সেখানে ভিড় জমত।

কেউ চা খেতে আসত, কেউ খবরের কাগজ পড়তে, কেউ আবার শুধু গল্প করতে।

গোপালের দোকানের একটা নিয়ম ছিল।

যে-ই আসুক, প্রথম কাপ চা বাকিতে দেওয়া যায়।

গ্রামের লোকেরা হাসত।

“এই নিয়ম করে ব্যবসা চলে?”

গোপাল বলত,

“চা এক কাপের দাম বেশি নয়। কিন্তু কারও যদি পকেটে টাকা না থাকে, তাকে খালি মুখে ফেরানো যায়?”

একদিন সকালে দোকানে এলেন এক বৃদ্ধ।

পরনে পুরনো ধুতি-পাঞ্জাবি।

কাঁধে একটি কাপড়ের ব্যাগ।

চুপচাপ এসে শেষ বেঞ্চটায় বসে বললেন,

“এক কাপ চা হবে?”

“অবশ্যই।”

গোপাল চা বানিয়ে দিল।

বৃদ্ধ চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন,

“কত?”

“পাঁচ টাকা।”

বৃদ্ধ পকেট হাতড়ালেন।

তারপর মুখটা একটু নিচু করে বললেন,

“আজ টাকা নেই।”

গোপাল হেসে বলল,

“কাল দেবেন।”

বৃদ্ধ তাকালেন।

“আপনি আমাকে চেনেন?”

“না।”

“তাহলে বিশ্বাস করছেন?”

গোপাল চায়ের কেটলি নামাতে নামাতে বলল,

“চা খাওয়ার জন্য মানুষকে আগে চিনতে হয় নাকি?”

বৃদ্ধ কিছু বললেন না।

পরদিন আবার এলেন।

আবার এক কাপ চা।

আবার টাকা নেই।

এভাবে টানা সাত দিন।

গ্রামের লোকজন এবার মজা করতে শুরু করল।

“গোপাল, লোকটা তোকে বোকা বানাচ্ছে।”

“সাত দিনের টাকা একসঙ্গে নিয়ে পালাবে!”

গোপাল শুধু হাসত।

অষ্টম দিন বৃদ্ধ এলেন না।

নবম দিনও না।

দশম দিনও না।

গোপালের কেমন যেন খারাপ লাগতে শুরু করল।

সে বুঝতে পারছিল না কেন।

লোকটাকে সে চিনত না।

তবুও যেন প্রতিদিন দোকানে একটা পরিচিত মুখের অপেক্ষা করছিল।

এক সপ্তাহ পর দুপুরে একটি বড় গাড়ি এসে দোকানের সামনে দাঁড়াল।

গাড়ি থেকে নেমে এলেন একজন ভদ্রলোক।

সঙ্গে দু’জন কর্মচারী।

তিনি গোপালকে জিজ্ঞেস করলেন,

“আপনিই গোপাল?”

“হ্যাঁ।”

“আপনার সঙ্গে একজন বৃদ্ধ প্রতিদিন চা খেতে আসতেন?”

গোপালের বুক ধক করে উঠল।

“হ্যাঁ। কী হয়েছে?”

ভদ্রলোক কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর বললেন,

“উনি আমার বাবা।”

গোপাল অবাক।

“আপনার বাবা কোথায়?”

ভদ্রলোক ধীরে বললেন,

“দশ দিন আগে উনি মারা গেছেন।”

গোপাল স্তব্ধ হয়ে গেল।

“কিন্তু… উনি তো তার পরের দিনও এখানে এসেছিলেন!”

ভদ্রলোক মাথা নাড়লেন।

“জানি।”

তিনি পকেট থেকে একটি খাম বের করলেন।

“বাবা মৃত্যুর কয়েকদিন আগে আমাকে একটা কথা বলেছিলেন।”

“কী?”

“বলেছিলেন—‘আমার মৃত্যুর পর বাসস্ট্যান্ডের গোপালের কাছে যেও।’”

গোপাল খামটা নিল।

ভেতরে একটি ছোট্ট চিঠি।

“গোপাল,

তুই আমাকে চেনিস না।

কিন্তু আমি তোকে অনেকদিন ধরে দেখেছি।

প্রতিদিন দোকানে বসে দেখতাম—কেউ টাকা না দিলে তুই তাকে চা খেতে দিস।

একদিন একজন বৃদ্ধকে বিনা পয়সায় চা খেতে দেখে বুঝলাম, মানুষের কাছে এখনও মানুষের দাম আছে।

তাই গত কয়েকদিন ইচ্ছে করেই টাকা না দিয়ে চা খেয়েছি।

তোর বিশ্বাসটা পরীক্ষা করার জন্য নয়।

নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য—এই পৃথিবী এখনও পুরোপুরি বদলে যায়নি।

আমার ছেলে বড় ব্যবসায়ী।

অনেক টাকা আছে।

কিন্তু আমি চাই, আমার মৃত্যুর পর কিছু টাকা এমন কাজে লাগুক, যার মূল্য টাকায় মাপা যায় না।

তাই এই দোকানটার সামনে একটা পাকা ছাউনি করে দিস।

আর পাশে একটা বেঞ্চ।

যাতে বৃষ্টির দিনে পথের মানুষ দাঁড়াতে পারে।

টাকাটা আমার ছেলে দেবে।

শুধু একটা শর্ত—

চায়ের দাম যেন কোনওদিন মানুষের সামর্থ্য দেখে ঠিক না করিস।

যার আছে, সে দেবে।

যার নেই, সে শুধু চা খেয়ে যাবে।

—একজন অচেনা চা-খোর।”

চিঠি পড়ে গোপালের চোখ ভিজে গেল।

বৃদ্ধের ছেলে বললেন,

“বাবা আপনার দোকানটা খুব পছন্দ করতেন।”

গোপাল নিচু গলায় বলল,

“উনি প্রতিদিন শেষ বেঞ্চটায় বসতেন।”

“জানি।”

“ওই বেঞ্চটা আমি কাউকে বসতে দেব না।”

ভদ্রলোক অবাক হয়ে তাকালেন।

“কেন?”

গোপাল বেঞ্চটার দিকে তাকিয়ে বলল,

“কারণ উনি হয়তো আবার চা খেতে আসবেন।”

ভদ্রলোকের চোখও ভিজে গেল।

কয়েক মাস পর দোকানটার সামনে পাকা ছাউনি হলো।

একটি নতুন বেঞ্চও বসানো হলো।

বেঞ্চটির পাশে ছোট্ট একটি কাঠের ফলক।

তাতে লেখা—

“যার পকেটে টাকা নেই, তার জন্য এই বেঞ্চ আর এক কাপ চা সবসময় আছে।”

সেদিন থেকে গোপালের দোকানে আরও অনেক মানুষ আসতে লাগল।

কেউ পাঁচ টাকা দিত।

কেউ দশ টাকা।

কেউ কিছুই দিত না।

গোপাল কাউকে জিজ্ঞেস করত না।

শুধু চা এগিয়ে দিত।

আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার আগে সে শেষ বেঞ্চটার দিকে একবার তাকিয়ে বলত,

“কাকা, আজও চা বাকি রইল।”

তারপর কেটলিটা নামিয়ে রাখত।

কারণ কিছু ঋণ টাকা দিয়ে শোধ হয় না।

কিছু মানুষ চলে গেলেও,

তাদের রেখে যাওয়া এক কাপ চায়ের উষ্ণতা অনেকদিন থেকে যায়।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
বিবিধ

গত বছরের রেকর্ড ছাপানোর সম্ভাবনা, পরিযায়ী পাখির আনাগোনায় জমজমাট আদিনা।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- বর্ষা বিদায় নিতেই সবুজে সেজে উঠেছে চারপাশ। আর সেই সবুজের মাঝেই পাখিদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে মালদা জেলার গাজোলের আদিনা ডিয়ার ফরেস্ট। পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনায় বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে আদিনা ডিয়ার ফরেস্ট ।

শীতের মরশুম শুরুর আগেই দক্ষিণ ভারত সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে আদিনায়। গাছে গাছে এখন শুধুই পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ।

ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে পরিযায়ী পাখি গণনার কাজ। বনদপ্তরের অভিজ্ঞ কর্মী ও আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাখিদের সংখ্যা নথিভুক্ত করার কাজ চালাচ্ছেন। দূরবীন ও ক্যামেরা হাতে জঙ্গলের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে এই গণনা।

বনদপ্তর সূত্রে আশা করা হচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবছর আদিনা ডিয়ার ফরেস্টে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, রায়গঞ্জের কুলিক ফরেস্টের পর মালদার আদিনা ডিয়ার ফরেস্ট পরিযায়ী পাখির বিচরণে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার বেশি সংখ্যক পাখি এসেছে।

তবে ঠিক কত সংখ্যক পরিযায়ী পাখি এবছর আদিনায় এসেছে, তা জানতে এখনও গণনার কাজ চলছে। পাখির সংখ্যা নির্ধারণে বনদপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই পরিযায়ী পাখিরা ফের তাদের নিজস্ব আবাসস্থলের উদ্দেশে পাড়ি দেবে। তার আগেই আদিনায় কত পাখি এসে ভিড় জমিয়েছে, সেই চূড়ান্ত হিসাব তুলে ধরতেই চলছে এই বিশেষ গণনা।

শীতের ছুটিতে আদিনার এই পাখির মেলা দেখতে ইতিমধ্যেই ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটক ও পাখিপ্রেমীরা।

Share This
Categories
বিবিধ

গ্রামবাসীর দানেই দুই লক্ষ টাকার পুজো, প্রথমবার দুর্গামণ্ডপ তৈরি হচ্ছে ডাহুয়ায়।।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— দুর্গাপুজো এলেই এতদিন তিন কিলোমিটার পথ পেরিয়ে অন্য গ্রামে যেতে হত ডাহুয়ার বাসিন্দাদের। কারও হাতে থাকত ছোট্ট সন্তান, কারও সঙ্গে বয়স্ক বাবা-মা। পুজোর আনন্দ ছিল, কিন্তু নিজের গ্রামে মণ্ডপে দাঁড়িয়ে ঢাকের বাদ্য শোনার সুযোগ ছিল না। এবার সেই আক্ষেপ মিটতে চলেছে। প্রথমবারের জন্য ডাহুয়া গ্রামেই বসতে চলেছে দুর্গাপুজোর আসর। মঙ্গলবার দুপুরে হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লকের দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাহুয়া গ্রামে ডাহুয়া সার্বজনীন দুর্গাপুজোর খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হল পুজোর প্রস্তুতি। খুঁটি পুজো ঘিরে এদিন সকাল থেকেই গ্রামে ছিল উৎসবের আমেজ। পুজোকে ঘিরে গ্রামের ছোট থেকে বড়—সবার মধ্যেই দেখা যায় উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের কথায়, এতদিন দুর্গাপুজো মানেই ছিল গ্রামের বাইরে যাওয়া। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখা ছিল তাঁদের ভরসা। এবার সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে নিজেদের গ্রামেই তৈরি হবে পুজোর মণ্ডপ। গ্রামবাসীদের দান করা অর্থেই হচ্ছে এই পুজো। উদ্যোক্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম বছরের আয়োজনে খরচ হবে প্রায় দুই লক্ষ টাকা। তবে এখানেই থামতে চান না তাঁরা। আগামী দিনে আরও বড় করে, থিমের মাধ্যমে পুজো করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রথমবার গ্রামে মায়ের আগমন ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। এখন ডাহুয়ার বাসিন্দাদের অপেক্ষা—কবে মণ্ডপে উঠবে প্রতিমা, বাজবে ঢাক আর নিজেদের গ্রামেই শুরু হবে পুজোর উৎসব।

Share This
Categories
বিবিধ

অসুস্থতা নাকি নদীতে পড়ে মৃত্যু? কুবাই নদীতে হস্তিশাবকের দেহ উদ্ধারে তদন্ত।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- কুবাই নদী থেকে উদ্ধার হল একটি হস্তিশাবকের মৃতদেহ। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নয়াবসত রেঞ্জের কিয়ামাচা বিটের চাঁদাবিলা এলাকার। হস্তিশাবকটির মৃত্যু প্রায় দু’দিন আগে হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার বিকেলের পর
ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। হাতির নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এমন এলাকায় হস্তিশাবকের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে কীভাবে হস্তিশাবকটির মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নদীতে পড়ে যাওয়া, অসুস্থতা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু—মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকেই তাকিয়ে বনদপ্তর।
মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনও ধরনের অনুমান বা গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে বনদপ্তরের তরফে। বৃহস্পতিবার সকালে এমনটাই জানা গিয়েছে।

Share This
Categories
গল্প

গল্প :: শেষ ট্রেনের যাত্রী।।।

রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। ছোট্ট স্টেশনটির নাম শিমুলতলা। দিনের বেলায় স্টেশনটিতে বেশ ভিড় থাকে, কিন্তু রাত বাড়তেই চারপাশ যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। প্ল্যাটফর্মের দু’টি হলুদ আলো মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছিল। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর তার সঙ্গে মিশে ছিল হালকা বৃষ্টির শব্দ।

স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে একা বসে ছিলেন অরুণবাবু।

বয়স প্রায় ষাট। হাতে পুরনো একটি চামড়ার ব্যাগ। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলেন তিনি।

শেষ ট্রেনটি আসার কথা রাত এগারোটায়।

অরুণবাবু জানতেন, এই ট্রেনটিই তাঁকে সেই গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যেখান থেকে তিনি প্রায় চল্লিশ বছর আগে চলে এসেছিলেন।

কেন ফিরছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেও ঠিক জানতেন না।

চল্লিশ বছর আগে এই স্টেশনেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি হয়েছিল।

তখন তিনি তরুণ। সদ্য কলেজ পাশ করেছেন। চাকরির জন্য শহরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর জীবনে এসেছিল মেঘলা।

মেঘলা ছিল পাশের গ্রামের মেয়ে। খুব সাধারণ, শান্ত স্বভাবের। অরুণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল গ্রামের লাইব্রেরিতে।

দু’জনের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, তারপর ভালোবাসা।

কিন্তু অরুণের বাবা এই সম্পর্ক মেনে নেননি।

তিনি চেয়েছিলেন অরুণ শহরে গিয়ে ভালো চাকরি করুক, বড়লোক পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করুক।

একদিন অরুণকে শহরে যাওয়ার জন্য জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সেদিন স্টেশনে মেঘলা এসেছিল।

অরুণের ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে মেঘলা বলেছিল,

“তুমি যদি আজ চলে যাও, আমি অপেক্ষা করব।”

অরুণ কিছু বলতে পারেননি।

ট্রেন ছেড়ে দিয়েছিল।

আর তারপর?

জীবন তাঁকে অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিল।

চাকরি, বিয়ে, সংসার, সন্তান—সবই হয়েছিল।

কিন্তু মেঘলার কথা কখনও পুরোপুরি ভুলতে পারেননি তিনি।

বছর দশেক আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একদিন পুরনো কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়ে অরুণ একটি চিঠি পেয়েছিলেন।

মেঘলার লেখা।

চিঠিটি তিনি কখনও পাননি।

চিঠিতে মাত্র কয়েকটি কথা ছিল—

“অরুণ, তুমি যদি ফিরে আসো, আমি এখনও অপেক্ষা করব। তবে তোমার জন্য নয়, তোমার সঙ্গে একবার কথা বলার জন্য।”

চিঠির তারিখ ছিল আজ থেকে তিরিশ বছর আগের।

চিঠিটি পড়ার পর অরুণ বহুবার মেঘলাকে খুঁজেছিলেন।

কিন্তু পারেননি।

কেউ বলেছিল, মেঘলা বিয়ে করে অন্য শহরে চলে গেছে।

কেউ বলেছিল, সে নাকি বিয়েই করেনি।

কেউ আবার বলেছিল, মেঘলা বহু বছর আগে মারা গেছে।

কোনটা সত্যি, অরুণ জানতেন না।

আজ হঠাৎ কেন যেন তাঁর মনে হল—একবার সেই গ্রামে ফিরে যাওয়া দরকার।

হয়তো মেঘলা নেই।

হয়তো সবকিছু বদলে গেছে।

তবুও যেতে হবে।

ঠিক তখনই স্টেশনের অন্ধকার দিক থেকে একটি ছোট্ট ছেলে এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল।

ছেলেটির বয়স দশ-এগারোর বেশি নয়।

পরনে ভেজা জামা।

সে অরুণের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আপনি কি অরুণকাকু?”

অরুণ চমকে উঠলেন।

“হ্যাঁ। কিন্তু তুমি আমাকে চেনো?”

ছেলেটি মৃদু হেসে বলল,

“চিনি না। তবে আপনাকে চিনতে বলেছে।”

“কে?”

ছেলেটি পকেট থেকে একটি ছোট্ট খাম বের করল।

“এটা আপনাকে দিতে বলেছে।”

অরুণ কাঁপা হাতে খামটি নিলেন।

খামের ওপর লেখা—

অরুণের জন্য।

হাতের লেখাটা তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিনে ফেললেন।

মেঘলা।

চোখ ঝাপসা হয়ে এল তাঁর।

“মেঘলা কোথায়?”

ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“আমার ঠাকুমা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।”

অরুণের বুকের ভেতরটা যেন থমকে গেল।

“তোমার ঠাকুমার নাম কী?”

ছেলেটি বলল,

“মেঘলা।”

কথাটা শুনে অরুণ যেন পাথর হয়ে গেলেন।

এত বছর পরও?

মেঘলা বেঁচে আছে?

ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল।

ছেলেটি বলল,

“চলুন। ঠাকুমা বলেছে, শেষ ট্রেনটা যেন আপনি মিস না করেন।”

অরুণ ব্যাগটা তুলে দাঁড়ালেন।

চল্লিশ বছর আগে যে ট্রেনে তিনি মেঘলাকে পিছনে ফেলে চলে গিয়েছিলেন, আজ সেই একই রকম একটি শেষ ট্রেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্রেন ছাড়ল।

জানালার পাশে বসে অরুণ খামটি খুললেন।

ভেতরে একটি ছোট্ট কাগজ।

মাত্র এক লাইন লেখা—

“এবার আর তোমাকে যেতে দেব না—তবে এবার তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে না, শুধু একবার সত্যিটা শুনে যেও।”

অরুণের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

বাইরে অন্ধকার ছুটে চলছিল।

আর তাঁর মনে হচ্ছিল, জীবনে কিছু ট্রেন দেরিতে এলেও, তাদের গন্তব্য কখনও হারিয়ে যায় না।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
গল্প

গল্প :: পুরনো ছাতা।।

বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল রতন।

বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। ছোট্ট একটি কাপড়ের দোকান চালায় সে। সারাদিন দোকানে বসে থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরাই তার প্রতিদিনের নিয়ম।

সেদিন আকাশটা সকাল থেকেই মেঘলা ছিল। সন্ধ্যার পর হঠাৎ বৃষ্টি নেমে গেল।

রতনের হাতে ছিল একটা পুরনো কালো ছাতা।

ছাতাটার একটা শিক বাঁকা, কাপড়ের কয়েক জায়গায় সেলাই করা। দেখতে এতটাই পুরনো যে কেউ দেখলে হয়তো ফেলে দিতে বলত।

কিন্তু রতন ছাতাটা ফেলতে পারত না।

কারণ ছাতাটা তার বাবার।

বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর ঘরের আলমারি থেকে এই ছাতাটাই শুধু নিজের কাছে রেখেছিল রতন।

বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ রতন দেখল, রাস্তার ধারে এক বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন।

বৃদ্ধার হাতে কোনও ছাতা নেই।

বৃষ্টি ক্রমশ বাড়ছে।

রতন নিজের ছাতাটা একটু এগিয়ে ধরল।

“মাসিমা, কোথায় যাবেন?”

বৃদ্ধা বললেন,

“আর একটু সামনে। ওই বাঁশবাগানের পরেই আমার বাড়ি।”

রতন বলল,

“চলুন, আমি দিয়ে আসছি।”

দু’জনে পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধা ছাতাটার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“ছাতাটা খুব পুরনো দেখছি।”

রতন হেসে বলল,

“হ্যাঁ। অনেক পুরনো।”

“ফেলে দেননি কেন?”

রতন একটু চুপ করে থেকে বলল,

“যার ছিল, সে আমার কাছে খুব দামি ছিল।”

বৃদ্ধা আর কিছু বললেন না।

বাঁশবাগান পেরিয়ে তাঁরা একটি ছোট্ট মাটির বাড়ির সামনে পৌঁছলেন।

বৃদ্ধা দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার আগে বললেন,

“কাল একবার আমার বাড়িতে এসো।”

রতন অবাক হয়ে বলল,

“কেন?”

“একটা জিনিস দেখাব।”

পরদিন বিকেলে রতন সত্যিই গেল।

বৃদ্ধা তাকে ঘরের ভেতর নিয়ে গেলেন।

দেয়ালের পাশে রাখা ছিল একটি পুরনো কাঠের বাক্স।

বৃদ্ধা বাক্সটা খুললেন।

ভেতরে কিছু পুরনো চিঠি, একটি ঘড়ি আর কয়েকটি সাদা-কালো ছবি।

তারপর একটি ছবি রতনের হাতে দিলেন।

ছবিটা দেখে রতন স্তব্ধ হয়ে গেল।

ছবিতে তার বাবা।

আর বাবার পাশে এই বৃদ্ধা।

রতন কাঁপা গলায় বলল,

“আপনি… আমার বাবাকে চিনতেন?”

বৃদ্ধা মৃদু হেসে বললেন,

“চিনতাম না। তোমার বাবাই একদিন আমাকে চিনেছিলেন।”

রতন কিছু বুঝতে পারল না।

বৃদ্ধা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন—

“প্রায় পঁচিশ বছর আগে আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি খুব কষ্টে দিন কাটাতাম। একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টিতে বাজার থেকে ফিরছিলাম। তখন তোমার বাবা আমাকে নিজের ছাতা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন।”

রতন চুপ করে শুনছিল।

“আমি ছাতাটা ফেরত দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমার বাবা বলেছিলেন, ‘আপনার দরকার বেশি। রেখে দিন।’”

বৃদ্ধা একটু থামলেন।

“কিন্তু আমি রাখিনি। পরদিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে ছাতাটা দিয়ে এসেছিলাম।”

রতন নিজের হাতে থাকা ছাতাটার দিকে তাকাল।

“তারপর?”

বৃদ্ধা বললেন,

“কয়েক বছর পর তোমার বাবা আবার আমার কাছে এসেছিলেন। বলেছিলেন, ‘ছাতাটা কি এখনও আছে?’”

“আমি বলেছিলাম, নেই।”

“তখন তিনি হেসে বলেছিলেন—‘থাক, ছাতা না থাকলেও স্মৃতিটা থাকুক।’”

রতনের চোখ ভিজে গেল।

সে বুঝতে পারল, এতদিন যে ছাতাটাকে সে শুধু বাবার স্মৃতি বলে জানত, তার সঙ্গে আরও একটি মানুষের জীবন জড়িয়ে আছে।

বৃদ্ধা বাক্স থেকে একটি ছোট্ট কাগজ বের করলেন।

“এটা তোমার বাবার লেখা।”

রতন কাগজটি খুলল।

সেখানে লেখা—

“মানুষের জীবনে বড় কিছু করার সুযোগ সবসময় আসে না। কিন্তু বৃষ্টির দিনে কারও মাথার ওপর নিজের ছাতাটা ধরার সুযোগ প্রায়ই আসে।”

রতন আর নিজেকে সামলাতে পারল না।

চোখের জল মুছে সে বলল,

“মাসিমা, আমার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন।”

বৃদ্ধা হেসে বললেন,

“তোমার বাবা ভালো ছিলেন বলেই তো তুমি আজ এই পুরনো ছাতাটা নিয়ে আমার বাড়ি পর্যন্ত এসেছ।”

বাইরে তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

রতন ছাতাটা খুলে বৃদ্ধার মাথার ওপর ধরল।

বৃদ্ধা বললেন,

“আজ ছাতাটা তোমার।”

রতন মৃদু হেসে উত্তর দিল,

“না মাসিমা। এটা আমার বাবার ছিল। এখন থেকে এটা আমাদের।”

দু’জন ধীরে ধীরে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে শুরু করল।

পুরনো ছাতাটার নিচে দু’জন মানুষ।

আর তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল একজন মৃত মানুষের রেখে যাওয়া ভালোবাসা।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
বিবিধ

কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মুলাই বাড়িতে ED, সাইবার ক্রাইম মামলার তদন্তে তল্লাশি।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- সাতসকালেই চাঁচলে ED-র হানা। মুলাই বাড়ি এলাকায় শফিকুল আলম ওরফে লিটনের বাড়িতে অভিযান এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকদের। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছন ED আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই এই অভিযান। শফিকুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ প্রতারণার টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই তল্লাশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। চলছে নথিপত্র ও ব্যাঙ্ক লেনদেন খতিয়ে দেখার কাজ। ED-র তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

Share This
Categories
বিবিধ

গম্ভীরার ছন্দে সামাজিক বার্তা, আইহোয় পথনাটিকায় সচেতনতার উদ্যোগ

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – রবিবার সন্ধ্যায় মালদার হবিবপুর ব্লকের আইহো বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হল ‘নমো সেবা গাথা’ কর্মসূচি। কর্মসূচিকে ঘিরে এদিন আইহো বাসস্ট্যান্ড চত্বর কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও নাট্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে গম্ভীরা পরিবেশনের পাশাপাশি পথনাটিকার আয়োজন করা হয়। গম্ভীরার পরিচিত ছন্দ, পথনাটিকার সংলাপে বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তুলে ধরা হয়। পথনাটিকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনুষ্ঠান দেখতে সন্ধ্যা থেকেই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মালদা বিধানসভার মণ্ডল-১ সভাপতি পঞ্চানন বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপির বিভিন্ন নেতৃত্ব, কর্মকর্তা, কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক আবহও তৈরি হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি এবং বিভিন্ন বিষয়কে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। অন্যদিকে, গম্ভীরা ও পথনাটিকা দেখতে বহু মানুষ জড়ো হওয়ায় আইহো বাসস্ট্যান্ড চত্বরে তৈরি হয় জমজমাট পরিবেশ। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের আকর্ষণও বাড়তে থাকে।

Share This