Categories
প্রবন্ধ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ রায়।।।।।

বাংলা সাহিত্য জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ কবি আমাদের সকলের প্রিয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । আমরা জানি রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য, “ভাবগভীরতা, চিত্ররূপময়তা, আধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক, সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা ।” তাঁর লেখা অসাধারণ সব কবিতা ও গান, আজও প্রত্যেকটা বাঙালীর মন কাঁড়ে ।

তিনি শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠ কবি বা গল্পকারই ছিলেন না, সেইসাথে ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিকও । রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক । ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তাঁর রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল । কথা সাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন । সমাজ কল্যাণের উপায় হিসাবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন এবং পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরূদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন । রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় মনুষ্য সেবার কথাই বলা হয়েছে । রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে মানুষ ঈশ্বরের পুজার কথা বলেছিলেন । সঙ্গীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন । রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি । তিনি দুই হাজারের উপর গান রচনা করেছেন । তাঁর রচিত “জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে” — ভারতে এবং “আমার সোনার বাংলা” — বাংলাদেশে জাতীয় সঙ্গীত ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ৭ই মে ১৮৬১ সালে ( ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ ) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে অবস্থিত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে | তাঁর বাবার নাম ছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি কিনা ছিলেন তদানীন্তনকালের ব্রাহ্মসমাজের একজন ধর্মগুরু এবং তাঁর মায়ের নাম সারদাসুন্দরী দেবী । অনেকেই জেনে অবাক হবেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাবা মায়ের ১৪তম সন্তান । বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করেননি । গৃহ শিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল । মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু । ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তাঁর “অভিলাষ” কবিতাটি প্রকাশ পায় । এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা ।
১৮৭৮ সালে মাত্র সতের বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান । ১৮৮৩ সালে ৯ই ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হয় বেণীমাধব রায়চৌধুরী নামে ঠাকুরবাড়ির এক অধস্তন কর্মচারীর কন্যা ভবতারিণীর সঙ্গে । বিয়ের সময় ভবতারিণীর পুণরায় নামকরণ করা হয় এবং তাঁর নাম পাল্টে রাখা হয় মৃণালিনী দেবী । ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন । ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মাচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন । সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন । ১৯০২ সালে তাঁর পত্নী বিয়োগ হয় । ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন । ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে “নাইট” উপাধিতে ভূষিত করেন । ১৯১৫ সালে জালিনওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন । ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয় । দীর্ঘজীবন তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন ।
অবশেষে দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট , জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ হিরোশিমা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত এবং গুরুত্ব।।।।

প্রতিবছর ৬ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের বার্ষিকী হিসাবে পালন করা হয়।১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর লিটল বয় নামের নিউক্লীয় বোমা ফেলে এবং এর তিন দিন পর নাগাসাকি শহরের ওপর ফ্যাট ম্যান নামের আরেকটি নিউক্লীয় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ভয়াবহ বোমা নিক্ষেপ ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের উদ্দেশ্য করা হয়েছিল। এই দিনটিকে শান্তির প্রচারের জন্য এবং পারমাণবিক শক্তি ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়ানোর জন্য স্মরণ করা হয়।
কি হয়েছিলো সেদিন—
হিরোশিমার কথা মনে আছে সবার? ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। জাপানের একটি শহর যুগের পর যুগ কেন এতো আলোচনায়? ইতিহাস বলছে, জাপানের একটি শহর হিরোশিমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই শহরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ‘লিটল বয়’ নামের পারমাণবিক বোমা ফেলে। ঘটনাটি ঘটে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে। এর তিন দিন পর জাপানের নাগাসাকি শহরের ওপর ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের আরেকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে জাপানের হিরোশিমা শহরে ফেলা হয় বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা। তখনও ঘুম থেকে জেগে ওঠেনি হিরোশিমার মানুষ। সকাল ৮টা বেজে ১৫ মিনিট। হঠাৎই দানবের মতো হিরোশিমার আকাশের নীলিমায় উদয় হল মার্কিন বি টুয়েন্টিনাইন বোমারু বিমান এনোলা গ্রে। কল্পকথার আগুনমুখো ড্রাগনের মতো সেখান থেকে হিরোশিমার একটি হাসপাতালের ১ হাজার নশো ফুট ওপর বিস্ফোরিত হয় বিশ্বের প্রথম আণবিক বোমা লিটল বয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আণবিক বোমার বিষাক্ত ছোবলে মারা গেল ৮০ হাজার মানুষ। আহত হল আরও ৩৫ হাজার। ঘুমের মধ্যে মারা গেল নারী, শিশু, বৃদ্ধ, যুবা। মাটির সঙ্গে মিশে গেল বেশির ভাগ দালান-কোঠা। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসার জন্য বেঁচে রইল খুব অল্পসংখ্যক চিকিৎসক ও সেবিকা। মুহূর্তের মধ্যে যেন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল ছবির মতো সুন্দর জাপানের ছোট্ট শহর হিরোশিমা। এখানেই শেষ নয় বছর না ঘুরতেই আণবিক বোমার ভয়াবহ তেজস্বক্রিয়তায় মারা যায় আরও ৮০ হাজার জাপানি।
কেন চালানো হল এই হামলা ?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের আত্মসমর্পণের আহ্বানে জাপান সাড়া না দেওয়ায় তাঁর নির্দেশেই ঠান্ডা মাথায় হিরোশিমায় চালানো হয় নারকীয় এই হামলা। এর উদ্দেশ্যে ছিল দু’টি। এক হল জাপানিদের জব্দ করা, আরেক হল যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। ১৯৩৯-১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৯০০০ পাউন্ডেরও বেশি ইউরেনিয়াম-235 বিশ্বের সর্বপ্রথম মোতায়েন করা পারমাণবিক বোমা এবং মার্কিন B-29 বোমারু বিমান, এনোলা গে ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা শহরে আক্রমণ করেছিল । বিস্ফোরণটি এতটাই বিশাল ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে ৭০০০০ জন লোকের হত্যা হয়, যা শহরের ৯০% এলাকায় ছড়িয়ে পরে এবং পরবর্তীকালে প্রায় ১০০০০ জন মানুষ রেডিয়েশন এক্সপোজারের প্রভাবে মারা যায়।
যার কারণে মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল একটি শহর। এতে বহু ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, গাছ-গাছালিসহ হিরোশিমার সার্বিক নির্মাণ কাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছিল। জাপানের সরকারি ওয়েবসাইট জানায়, এ হামলায় হিরোশিমার ৬৫ শতাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তারপরই ১৫ অগাস্ট নিঃশর্ত সমর্পণ করার ঘোষণা দেন জাপানের সম্রাট হিরোহিতো। কেননা পারমাণবিক বিস্ফোরণের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল জাপানের কয়েক প্রজন্মকে।
এখনও সে দিনের সেই হামলার দু:সহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে হিরোশিমার মানুষ। আণবিক বোমা হামলার এত বছর পরও শহরে জন্ম নিচ্ছে বিকলাংগ শিশু, ক্যনসারসহ দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছে বহু মানুষ। শোনা যায়, নারীদের গর্ভের সন্তানও এতে আক্রান্ত হয়েছিল। প্রসবের পর বেশিরভাগকেই বিকলাঙ্গ হতে দেখা যায়। সেই ভয়াবহতাকে স্মরণ করতেই প্রতিবছর দিনটিকে ‘হিরোশিমা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। বিশ্বশান্তি ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রচার করতেই দিবসটি পালন করা হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অতুল সেন : ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।।।।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে অতুল সেন প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।

অতুল সেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।
অতুল সেন, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী। অতুল সেন ছিলেন একজন বাঙালি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী কর্মী যা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। তিনি প্রায়ই সাম্ভু এবং কুট্টি উপনাম ব্যবহার করতেন।
জীবনের প্রথমার্ধ—
অতুল সেন ব্রিটিশ ভারতের খুলনা জেলার সেনাহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম অশ্বিনী কুমার সেন। ছাত্র থাকাকালীনই তিনি বিপ্লবী দলে যোগ দেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি গ্রামের বিখ্যাত বিপ্লবী রসিকলাল দাস, অনুজাচরণ সেন, রতিকান্ত দত্ত এবং কিরণ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সংস্পর্শে আসেন এবং বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত হন।
বিপ্লবী কার্যক্রম—
যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সময় তিনি যুগান্তর পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় স্টেটসম্যান বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে এমনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন যে বিপ্লবীরা প্রতিশোধ নিতে এবং প্রতিরোধ করার জন্য পত্রিকার সম্পাদক ওয়াটসনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। এই গুরুদায়িত্ব পালনের ভার পড়ে যাদবপুর ইঞ্জিয়ারিং কলেজের ছাত্র এবং যুগান্তর দলের নিষ্ঠাবান কর্মী অতুল সেনের উপর। ওয়াটসন সাহেবকে এককভাবে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হন। ১৯৩২ সালের ৫ আগস্ট, তিনি স্যার আলফ্রেড ওয়াটসনকে গুলি করেন, কিন্তু তিনি মিঃ ওয়াটসনকে হত্যা করতে ব্যর্থ হন এবং অবিলম্বে গ্রেফতার হন। তিনি পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।” এর কিছুদিন পরে আরেক বিপ্লবী মণি লাহিড়ীও ওয়াটসনকে আবার গুলি করেন, কিন্তু পুলিশের হাত থেকে পলায়নরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় মারা যান।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কিশোর কুমার ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বাধিক সফল এবং চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ নেপথ্য গায়ক এবং নায়ক, জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি l।।।।

কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী কিশোর কুমার কে চেনেননা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল। শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বে তিনি এক অতি পরিচিত নাম। সঙ্গীতের আকাশে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র । কিশোর কুমার ছিলেন ভারতীয় গায়ক, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং রেকর্ড প্রযোজক।

সাধারণত তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বাধিক সফল এবং চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ নেপথ্য গায়ক হিসেবে বিবেচিত হন।
কুমার ছিলেন একজন বাঙালি পেশাজীবী পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান।কিশোর কুমার ১৯২৯ সালের ৪ ই আগস্ট ৪ টের সময় মধ‍্যপ্রধেশের খান্ডোয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের নাম আভাস কুমার গঙ্গোপাধ‍্যায়। তাঁর ডাক নাম ছিল কিশোর। তাঁর পিতার কুঞ্জলাল গাঙ্গুলী। তিনি ছিলেন উকিল। তাঁর মাতার নাম গৌরি দেবী, তিনি ছিলেন একজন গৃহকর্তী।
কুঞ্জলাল গাঙ্গুলীর পৈতৃক বাড়ি ও জন্মস্থান হলো ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরে (বর্তমান নাম মুন্সীগঞ্জ)। কুঞ্জলাল জীবিকার তাগিদে মধ্য প্রদেশে চলে যান। কিশোর কুমারের জন্মনাম ছিল আভাস কুমার গাঙ্গুলী। চার ভাই বোনের ভিতর কিশোর ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। সবথেকে বড় ছিলেন অশোক কুমার তারপর সীতা দেবী। তারপর অনুপ কুমার আর অনুপ কুমারের থেকে পাঁচ বছরের ছোট ছিলেন কিশোর কুমার। যখন তিনি একজন কিশোর ছিলেন, তিনি বোম্বে টকিজ ফিল্ম স্টুডিওতে মাঝে মাঝে কোরাস গায়ক হিসাবে বোম্বেতে (এখন মুম্বাই) চাকরি পেয়েছিলেন, যেখানে তার বড় ভাই অশোক কুমার ছিলেন বর্তমান তারকা। যদিও তাঁর হৃদয় ছিল গান গাওয়ার মধ্যে, ছোট কুমার ১৯৪৬ সালে ননডেস্ক্রিপ্ট ফিল্ম শিকারীতে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। এটি ছিল ১৯৫১ সালের আন্দোলনের রিলিজ, যা তাকে গায়ক-অভিনেতা হিসাবে স্টারডমে প্ররোচিত করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তার ভাই অশোকের ছায়া থেকে মুক্ত করেছিল।
চার স্ত্রী ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের- রুমা গুহ ঠাকুরতা, মধুবালা, যোগিতাবালি এবং লীনা চান্দাভাকর। কিশোর কুমারের প্রথম স্ত্রী এবং বাঙালি গায়িকা-অভিনেত্রী রুমার ছেলে অমিত কুমার। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত বিবাহবন্ধবে আবদ্ধ ছিলেন তাঁরা। রুমা গুহঠাকুরতা (১৯৫০-১৯৫৮), মধুবালা (১৯৬০-১৯৬৯), যোগিতা বালী (১৯৭৫-১৯৭৮) এবং লীনা চন্দাভারকর (১৯৮০-১৯৮৭)। কিশোরের প্রথম পুত্র (রুমা গুহ ঠাকুরতার সাথে) অমিত কুমার একজন বিখ্যাত গায়ক। কিশোর কুমারের প্রথম স্ত্রী রুমা গুহ ঠাকুরতা এবং কিশোর কুমারের সুযোগ্য সন্তান অমিত কুমার তার বাবার মত সাফল্য না পেলেও বেশ কিছু কালজয়ী হিন্দি ও বাংলা সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন। কিশোরের ছোট ছেলে সুমিত কুমার। সুমিত কুমার ছিলেন লীনা চন্দ্রভারকারের সন্তান।
খাদ্যাভাসে তাঁর ছিল খাঁটি বাঙালিয়ানা। তিনি পছন্দ করতেন বাঙালী খাবার । লুচি মাংস, আলুরদম, বেগুন ভাজা ইত‍্যাদি। তিনি এতটাই মাছের প্রতি দূর্বল ছিলেন যে তাঁর সাথে যদি কেউ দেখা করতে আসেন তাহলে তাঁর জন‍্য সেই অতিথি মাছ নিয়ে আসতেন। এমনকি তাঁকে গান রেকর্ডিং এ রাজি করানোর জন‍্য মাছ ঘুষ দিতেন। ঈলিশ মাছ ছিল তাঁর প্রিয়।তিনি মদ‍্যপান করতেন না।
কিশোর কুমার বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, অসমীয়া, গুজরাটি, কন্নড়, ভোজপুরি, মালয়ালম, ওড়িয়া, এবং উর্দু। এছাড়াও তিনি তার ব্যক্তিগত গান সংকলনেও বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন, বিশেষত তার বাংলায় গাওয়া গানগুলি সর্বকালের ধ্রুপদী গান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি ৮ বার শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য গায়কের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন এবং একই বিভাগে সর্বাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বিজয়ের রেকর্ড করেছেন। তাকে মধ্যপ্রদেশ সরকার কর্তৃক লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং তার নামে হিন্দি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য কিশোর কুমার পুরস্কার প্রদান চালু করে।কিশোর কুমারের গান বাংলা সঙ্গীতজগতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাঙালির সংষ্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতাবে জড়িয়ে রয়েছেন কিশোর কুমার। তার উদাত্ত কণ্ঠ মাধুর্য্য বাঙালিকে এখনও মুগ্ধ করে রেখেছে।
শধু গায়ক হিসাবে নন, তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের একজন নামি অভিনেতাও ছিলেন। তবে তিনি তাঁর প্রথম জীবনে গায়ক হিসেবে ততটা সাফল্য অর্জন করতে পারেননি যতটা তাঁর পাওয়া উচিত ছিল। তবুও তিনি অভিনেতা হিসেবে যথেষ্ট সুনাম ও মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তার অভিনীত বিখ্যাত কয়েকটি হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে বাপ রে বাপ (১৯৫৫), চলতি কা নাম গাড়ি (১৯৫৮), হাফ টিকিট (১৯৬২), পড়োশন (১৯৬৮), হাঙ্গামা (১৯৭১), পেয়ার দিবানা (১৯৭৩), বাড়তি কা নাম দাড়ি (১৯৭৪)। এছাড়া অন্যান্য চলচ্চিত্রের ভিতর রয়েছে নোকরি, বন্দী, দূর গগন কি ছাঁও মে, দূর কা রাহি প্রভৃতি। তিনি সুদক্ষ অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও অভিনয় বস্তুটি অতটাও পছন্দ করতেন না। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল সঙ্গীত।
ভারতের প্লেব্যাক গায়কদের শীর্ষে কুমারের উত্থান একটি অসাধারণ কীর্তি ছিল। পেশায় তার সহকর্মীদের থেকে ভিন্ন, যাদের বেশিরভাগই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন, কুমারের কোনো আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত প্রশিক্ষণ ছিল না। তবুও, তিনি একজন দক্ষ অনুকরণকারী, দোভাষী এবং উদ্ভাবক ছিলেন। তিনি রঙিন টিমব্রাল ইফেক্ট ব্যবহার করেছেন-যেমন ইয়োডেলিং-তার কণ্ঠে, বৈদ্যুতিক অঙ্গ এবং অন্যান্য অ্যাটিপিকাল যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং উচ্ছ্বসিত ছন্দে তার অভিনয়কে প্রাণবন্ত করেছেন। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলি শেষ পর্যন্ত কুমারের সামগ্রিক শব্দে আধুনিকতার একটি আকর্ষণীয় অনুভূতি প্রদান করেছে।
কিশোর কুমার সর্বমোট ২,৭০৩টি গান গেয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮৮টি হিন্দি চলচ্চিত্রে, ১৫৬টি বাংলা এবং ৮টি তেলুগু ভাষায়।
প্লেব্যাক করা বাংলা ছবি—-
কবিতা, গুরুদক্ষিণা, জীবন মরণ, জ্যোতি, তুমি কত সুন্দর, অমরকন্টক, আশ্রিতা, অনিন্দিতা, অমর সঙ্গী, দোলন চাঁপা, পাপ পুণ্য, অমানুষ, বান্ধবী, মিলন তিথি, অন্তরালে, বৌমা, মোহনার দিকে, সঙ্কল্প, আনন্দ আশ্রম, রাজকুমারী, অন্যায় অবিচার, লুকোচুরি, অনুসন্ধান, সুরের আকাশে, দেবিবরণ, জীবন মরণ ইত্যাদি।
জনপ্রিয় বাংলা গান—
তোমায় পড়েছে মনে, নীল নীল আকাশে, সেদিনও আকাশে ছিল কত তারা, আমার মনের এই ময়ূর মহলে, আমার পূজার ফুল, এক পলকের একটু দেখা, এ আমার গুরুদক্ষিণা, একদিন পাখী উড়ে যাবে যে আকাশে, এই যে নদী, চিতাতেই সব শেষ, হাওয়া মেঘ সরায়ে, কি আশায় বাঁধি খেলাঘর, কি উপহার সাজিয়ে দেব, কত মধুর এ জীবন, এই যে নদী, চেয়েছি যারে আমি, নয়ন সরসী কেন ভরেছে জলে, সেই রাতে রাত ছিলো পূর্ণিমা, চোখের জলের হয় না কোনো রং, কেন রে তুই চরলি ওরে, কথা দিলাম, প্রেমের খেলা কে বুঝিতে পারে, শুনো শুনো গো সবে।
অভিনয় এবং গানের পাশাপাশি কুমার ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেছিলেন। তিনি দূর গগন কি ছাওঁ মে (১৯৬৪) এবং দূর কা রাহি (১৯৭১) সহ বেশ কয়েকটি প্রযোজনাও পরিচালনা করেছিলেন। হালকা হৃদয়ের চলচ্চিত্রগুলির বিপরীতে যেখানে তিনি সাধারণত একজন অভিনেতা, গায়ক বা সুরকার হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, কুমার যে চলচ্চিত্রগুলি পরিচালনা করেছিলেন সেগুলি প্রায়শই ট্র্যাজেডি ছিল।
তিনি বেশ কয়েকটি গানের জন‍্য পরপর আটবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এখনো পর্যন্ত পরপর এতবার কেউ পায়নি। যে গান গুলির জন‍্য পেয়েছেন সেগুলি হল- রুপ তেরা মস্তানা (১৯৭০), দিল অ্যাইসা কিসি নে মেরা (১৯৭৬), খাইকে পান বানারাস ওয়ালা (১৯৭৯), হাজার রেহেন মুডকে দেখেন (১৯৮১), পাগ ঘুঙরু বাধ( ১৯৮৩), আগার তুম না হতে (১৯৮৪), মাঞ্জিলে আপনি জাগা হ‍্যান ( ১৯৮৫), সাগর কিনারে (১৯৮৬)। ১৯৭৫ সালে কোরা কাগজ সিনেমায় গানের জন‍্য “সেরা নেপথ্য গায়ক” হিসাবে পুরষ্কার পান। এছাড়া আরো সিনেমায় পুরষ্কার পান। সেগুলি হল, আনন্দ (১৯৭১), আন্দাজ (১৯৭২), হরে রাম হরে কৃষ্ণ (১৯৭৫)।
আজ কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের মৃত্যুবার্ষিকী। শেষ জীবনটা বড্ড একাকীত্বে কাটছে। ১৯৮৭ সালের ১৩ ই অক্টোবর মাত্র ৫৭ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটার্কে তাঁর মৃত‍্যু হয়। মৃত‍্যুর আগের দিনেও অর্থাৎ ১২ অক্টোবর তিনি স্টুডিয়োতে রেকর্ডিং করেন।আইকনিক গায়ক এবং অভিনেতা তাঁর গাওয়া বেশ কয়েকটি হিট গান এবং অনেক স্মরণীয় ছবিতে অভিনয়ের জন্য সকলের মনে এখনও জায়গা করে আছেন ও থাকবেন চিরদিন।
।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কেদারনাথ : ভগবান শিবের আবাসে একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা।।।।

হিমান্বিত হিমালয়ে অবস্থিত, কেদারনাথ হল একটি শ্রদ্ধেয় তীর্থস্থান এবং ভগবান শিবের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। ভারতের উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত এই পবিত্র শহরটি আধ্যাত্মিকতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অ্যাডভেঞ্চারের ভান্ডার। এই নিবন্ধে, আমরা আপনাকে কেদারনাথ ভ্রমণে নিয়ে যাব, এর তাৎপর্য, আকর্ষণ এবং ভ্রমণের টিপস অন্বেষণ করব।

কেদারনাথের তাৎপর্য
কেদারনাথকে ভারতের সবচেয়ে পবিত্র শিব মন্দিরগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এবং ট্রেকারদের আকর্ষণ করে। মন্দিরের তাৎপর্য মহাভারত যুগে খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে ভগবান শিব একটি ষাঁড় রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং পরে তার কুঁজ রেখে মাটিতে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়, যা কেদারনাথ লিঙ্গ হিসাবে পূজা করা হয়।
কেদারনাথের আকর্ষণ
1. কেদারনাথ মন্দির: প্রধান আকর্ষণ, এই প্রাচীন মন্দিরটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মে নির্মিত এবং এতে জটিল পাথরের খোদাই এবং ভাস্কর্য রয়েছে।
2. আদি শঙ্করাচার্যের সমাধি: একটি পবিত্র স্থান যেখানে শ্রদ্ধেয় দার্শনিক-সন্ত আদি শঙ্করাচার্য জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
3. ভৈরবনাথ মন্দির: কেদারনাথের অভিভাবক দেবতা ভৈরবকে উৎসর্গ করা একটি কাছাকাছি মন্দির।
4. ভাসুকি তাল: পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত একটি মনোরম হ্রদ, শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য প্রদান করে।
5. চোরাবাড়ি তাল: স্ফটিক-স্বচ্ছ জল সহ একটি সুন্দর হ্রদ, ট্রেকিং এবং ক্যাম্পিংয়ের জন্য উপযুক্ত।
কেদারনাথে ট্রেকিং
কেদারনাথ ভ্রমণ একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা, যা হিমালয় এবং আশেপাশের উপত্যকার অত্যাশ্চর্য দৃশ্য দেখায়। গৌরীকুন্ড থেকে কেদারনাথ পর্যন্ত 16 কিমি ট্র্যাক আপনার গতি এবং ফিটনেস স্তরের উপর নির্ভর করে 6-8 ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন করা যেতে পারে।
কেদারনাথ ভ্রমণের টিপস
1. ভ্রমণের সেরা সময়: মে থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর, বর্ষাকাল এড়িয়ে।
2. বাসস্থান: বাজেট-বান্ধব গেস্টহাউস এবং বিলাসবহুল রিসর্ট সহ বিভিন্ন বিকল্প থেকে বেছে নিন।
3. ট্রেকিং এর প্রয়োজনীয়তা: আরামদায়ক জুতা, স্তর এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি যেমন জল, স্ন্যাকস এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট প্যাক করুন।
4. পারমিট: উত্তরাখণ্ড সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পারমিট নিন।
5. নিরাপত্তা: স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং গাইডের নির্দেশিকা এবং নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।
উপসংহার
কেদারনাথ হল একটি আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থল, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দুঃসাহসিক কাজ এবং আধ্যাত্মিক বৃদ্ধির এক অনন্য মিশ্রণ প্রদান করে। আপনি একজন ভক্ত, ট্র্যাকার, বা কেবল একটি শান্ত রিট্রিট খুঁজছেন না কেন, কেদারনাথে সবার জন্য কিছু না কিছু আছে। এই অবিশ্বাস্য যাত্রা শুরু করুন এবং নিজের জন্য কেদারনাথের জাদু অনুভব করুন।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

গোয়া ক্রুজ : ভারতের ক্রান্তীয় উপকূলরেখা বরাবর একটি যাত্রা।।।।

গোয়া, ভারতের পশ্চিম উপকূলে একটি ছোট রাজ্য, তার অত্যাশ্চর্য সৈকত, প্রাণবন্ত সংস্কৃতি এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত। একটি গোয়া ক্রুজ এই গ্রীষ্মমন্ডলীয় স্বর্গের একটি অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি অফার করে, যা আপনাকে এর উপকূলরেখা অন্বেষণ করতে, নির্জন সৈকত পরিদর্শন করতে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা লাভ করতে দেয়।

ক্রুজের প্রকারভেদ
গোয়াতে বিভিন্ন ধরণের ক্রুজ পাওয়া যায়, বিভিন্ন আগ্রহ এবং বাজেটের জন্য:
1. দিনের ভ্রমণ: উপকূলরেখা বরাবর সংক্ষিপ্ত, আরামদায়ক ক্রুজ, পরিবার এবং দম্পতিদের জন্য উপযুক্ত।
2. সানসেট ক্রুজ: রোমান্টিক ক্রুজ যা অত্যাশ্চর্য গোয়ান সূর্যাস্তের সাথে মিলে যায়।
3. রাতারাতি ক্রুজ: দীর্ঘ, আরও অবসরে ভ্রমণ যা আপনাকে উপকূলরেখা এবং কাছাকাছি দ্বীপগুলি অন্বেষণ করতে দেয়।
4. বিলাসবহুল ক্রুজ: চমৎকার ডাইনিং, বিনোদন, এবং বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে হাই-এন্ড ক্রুজ।
দর্শনীয় স্থান
একটি গোয়া ক্রুজ সাধারণত বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্য কভার করে, যার মধ্যে রয়েছে:
1. মুরমুগাও হারবার: গোয়ার প্রধান বন্দর, এটির আলোড়নপূর্ণ পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত।
2. গ্র্যান্ডে দ্বীপ: আদিম সৈকত এবং স্ফটিক-স্বচ্ছ জল সহ একটি নির্জন দ্বীপ।
3. ব্যাট দ্বীপ: ঐতিহাসিক বাতিঘর এবং অত্যাশ্চর্য দৃশ্য সহ একটি মনোরম দ্বীপ।
4. আগুয়াদা ফোর্ট: 17 শতকের একটি দুর্গ যা আরব সাগরের শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য দেখায়।
অনবোর্ড অভিজ্ঞতা
গোয়া ক্রুজগুলি অনবোর্ড কার্যকলাপ এবং সুযোগ-সুবিধাগুলির একটি পরিসীমা অফার করে, যার মধ্যে রয়েছে:
1. ফাইন ডাইনিং: সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করার সময় স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক খাবারের স্বাদ নিন।
2. লাইভ মিউজিক এবং এন্টারটেইনমেন্ট: লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগ করুন, ঐতিহ্যবাহী গোয়ান মিউজিক থেকে আধুনিক ডিজে পর্যন্ত।
3. ওয়াটার স্পোর্টস: স্ফটিক-স্বচ্ছ জলে স্নরকেলিং, কায়াকিং বা প্যাডেলবোর্ডিংয়ে ব্যস্ত থাকুন।
4. স্পা এবং সুস্থতা: ম্যাসেজ, যোগব্যায়াম এবং অন্যান্য স্পা চিকিত্সার সাথে আরাম করুন।
দেখার জন্য সেরা সময়
গোয়া ক্রুজের জন্য সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মে, যখন আবহাওয়া মনোরম এবং সমুদ্র শান্ত থাকে। একটি মসৃণ ভ্রমণের জন্য বর্ষা মৌসুম (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) এড়িয়ে চলুন।
টিপস এবং অপরিহার্য
1. সেরা ডিল এবং প্রাপ্যতা সুরক্ষিত করতে আগাম বুক করুন।
2. হালকা, আরামদায়ক পোশাক এবং সানস্ক্রিন প্যাক করুন।
3. স্থানীয় রীতিনীতি এবং সামুদ্রিক জীবনকে সম্মান করুন।
4. অত্যাশ্চর্য দৃশ্য এবং স্মৃতি ক্যাপচার করতে আপনার ক্যামেরা ভুলবেন না.
উপসংহার
একটি গোয়া ক্রুজ একটি অনন্য এবং অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যা আপনাকে শৈলী এবং আরামে ভারতের গ্রীষ্মমন্ডলীয় উপকূলরেখা অন্বেষণ করতে দেয়। এর সমৃদ্ধ ইতিহাস, প্রাণবন্ত সংস্কৃতি এবং অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে, গোয়া একটি আরামদায়ক এবং সমৃদ্ধ ক্রুজের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য। আপনি রোম্যান্স, অ্যাডভেঞ্চার বা কেবল একটি আরামদায়ক পথের সন্ধান করছেন না কেন, একটি গোয়া ক্রুজে প্রত্যেকের জন্য কিছু না কিছু রয়েছে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভ্রমণ : ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট।।।

3 আগস্ট, 1492, ইতালীয় নেভিগেটর ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে ইতিহাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সমুদ্রযাত্রার সূচনা করে। স্পেনের ক্যাথলিক রাজাদের দ্বারা পৃষ্ঠপোষকতায়, কলম্বাস তিনটি জাহাজ, সান্তা মারিয়া, পিন্টা এবং নিনা নিয়ে এশিয়ায় একটি নতুন পথ খুঁজে বের করার জন্য যাত্রা করেছিলেন।

পরিবর্তে, তিনি আমেরিকায় হোঁচট খেয়েছিলেন, ইতিহাসের গতিপথ চিরতরে পরিবর্তন করেছিলেন।

পটভূমি—-

15 শতকে, ইউরোপীয় শক্তিগুলি এশিয়ার সাথে বাণিজ্য রুট স্থাপন করতে আগ্রহী ছিল, যা মশলা, টেক্সটাইল এবং অন্যান্য মূল্যবান পণ্যগুলির জন্য একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। ঐতিহ্যবাহী সিল্ক রোড, স্থলপথের একটি নেটওয়ার্ক, অটোমান সাম্রাজ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল, যা ইউরোপীয়দের পক্ষে প্রবেশ করা কঠিন করে তুলেছিল। কলম্বাস এশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য আটলান্টিক পেরিয়ে পশ্চিমে একটি নতুন রুট প্রস্তাব করেছিলেন।

প্রস্তুতি—

কলম্বাস ইউরোপীয় রাজাদের সমর্থনের জন্য তদবির করে বছরের পর বছর অতিবাহিত করেছিলেন, অবশেষে রাজা ফার্দিনান্দ এবং স্পেনের রানী ইসাবেলার কাছ থেকে তহবিল অর্জন করেছিলেন। তিনি নাবিক, সৈন্য এবং দোভাষী সহ প্রায় 90 জন লোকের একটি দলকে একত্রিত করেছিলেন। তিনটি জাহাজে খাবার, জল এবং সরবরাহ মজুদ করা হয়েছিল যা বেশ কয়েক মাস স্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলযাত্রা—

3 আগস্ট, 1492 তারিখে, কলম্বাস স্পেনের পালোস বন্দর থেকে যাত্রা করেন। রুক্ষ সমুদ্র, বিদ্রোহী ক্রু সদস্য এবং দুষ্প্রাপ্য সম্পদ সহ এই যাত্রাটি কঠিন ছিল। সমুদ্রে কয়েক সপ্তাহ পরে, 12 অক্টোবর, 1492 তারিখে, কলম্বাস ভূমি দেখেছিলেন, যার নাম তিনি সান সালভাদর (বর্তমান বাহামাস)।
পরের কয়েক মাসে, কলম্বাস ক্যারিবিয়ান অন্বেষণ করেন, কিউবা এবং হিস্পানিওলা (বর্তমান হাইতি এবং ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র) সহ বিভিন্ন দ্বীপ পরিদর্শন করেন। তিনি তাইনো এবং আরাওয়াক সহ আদিবাসীদের মুখোমুখি হন এবং স্পেনের জন্য জমি দাবি করেন।

ফিরতি যাত্রা—

কলম্বাস 15 মার্চ, 1493-এ স্বর্ণ, মশলা এবং গাছপালা সহ কিছু আদিবাসী এবং বিদেশী পণ্য নিয়ে স্পেনে ফিরে আসেন। তিনি একজন নায়ক এবং একজন স্বপ্নদর্শী হিসাবে সমাদৃত হন এবং তার সমুদ্রযাত্রা আমেরিকার ইউরোপীয় অনুসন্ধান এবং উপনিবেশের একটি তরঙ্গ সৃষ্টি করেছিল।
উত্তরাধিকার
কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রার সুদূরপ্রসারী পরিণতি ছিল, যার মধ্যে রয়েছে:
1. আমেরিকার ইউরোপীয় উপনিবেশ
2. পুরাতন এবং নতুন বিশ্বের মধ্যে গাছপালা, প্রাণী এবং সংস্কৃতির স্থানান্তর
3. রোগ, সহিংসতা এবং শোষণের কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ধ্বংসযজ্ঞ

উপসংহার—

3 আগস্ট, 1492 তারিখে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রা, ইতিহাসের একটি বাঁক হিসাবে চিহ্নিত, পুরানো এবং নতুন বিশ্বকে সংযুক্ত করেছে এবং আধুনিক যুগকে রূপ দিয়েছে। যদিও তার উত্তরাধিকার জটিল এবং বিতর্কিত, তার সাহসিকতা, সংকল্প এবং দৃষ্টি ভবিষ্যত অনুসন্ধানকারীদের জন্য পথ প্রশস্ত করেছে এবং মানব ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ক্ষমতার হস্তান্তর : ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ভারতের দখল নেয়।।।।

1858 সালের 2শে আগস্ট, ভারতীয় ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল, যা একটি যুগের সমাপ্তি এবং অন্য যুগের সূচনা করে। ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে এবং ভারতের সর্বোচ্চ শাসককে ‘ভাইসরয়’ উপাধি দেওয়া হয়। ক্ষমতার এই হস্তান্তরের সুদূরপ্রসারী পরিণতি হয়েছে, যা আগামী শতাব্দীর জন্য ভারতীয় ইতিহাসের গতিপথকে রূপ দিয়েছে।

পটভূমি—-

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, একটি ব্রিটিশ বাণিজ্য কোম্পানি, 17 শতকের গোড়ার দিকে ভারতে তার উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেছিল। সময়ের সাথে সাথে, কোম্পানির প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং এটি ভারতের বড় অংশের প্রকৃত শাসক হয়ে ওঠে। যাইহোক, কোম্পানির অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি 1857 সালের ভারতীয় বিদ্রোহের দিকে পরিচালিত করে, যা সিপাহী বিদ্রোহ নামেও পরিচিত। ভারতীয় সৈন্যরা বিদ্রোহের সূত্রপাত করেছিল যারা কোম্পানির শাসনে অসন্তুষ্ট ছিল এবং শূকরের চর্বি ব্যবহার করে এমন নতুন রাইফেল প্রবর্তন করেছিল, যা হিন্দু ও মুসলিম উভয় সৈন্যকে বিরক্ত করেছিল।
বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত সরকার আইন 1858 পাস করা হয়েছিল, যা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন বাতিল করে এবং ব্রিটিশ ক্রাউনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এই আইনটি ভাইসরয়ের অফিসও তৈরি করেছিল, যিনি ভারতে ব্রিটিশ রাজার প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করবেন।

ভাইসরয়্যালিটি—–

ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং, যিনি 1 নভেম্বর, 1858 তারিখে অফিস গ্রহণ করেন। ভাইসরয় উপদেষ্টা পরিষদের সহায়তায় ভারত শাসনের জন্য দায়ী ছিলেন। ভাইসরয়ের ক্ষমতা ছিল বিশাল, এবং তিনি আইন প্রণয়ন, কর আদায় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দায়ী ছিলেন।

ভাইসরয়্যালিটি ভারতীয় ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছিল, যা শাসনের আরও প্রত্যক্ষ এবং কেন্দ্রীভূত রূপ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার রেল, রাস্তা এবং টেলিগ্রাফ সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করেছিল। ভাইসরয় আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও চালু করেছিলেন, যা ভারতীয় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
যাইহোক, ভাইসরয়্যালিটিরও তার ত্রুটি ছিল। ব্রিটিশ সরকার ভারতের সম্পদ শোষণ করে এবং দেশটি ব্রিটিশ শিল্পের কাঁচামালের প্রধান সরবরাহকারী হয়ে ওঠে। ভারতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং দারিদ্র্য ও অসমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতীয় সমাজের উপর প্রভাব
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ভারতীয় সমাজে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল। আধুনিক শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রবর্তন ভারতীয়দের একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল যারা শিক্ষিত এবং পাশ্চাত্যবাদী ছিল।

যাইহোক, এটি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শিল্প ও কারুশিল্পের পতনের দিকে পরিচালিত করে।
ভাইসরয়্যালিটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উত্থানও দেখেছিল, কারণ ভারতীয়রা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং স্ব-শাসনের দাবি করতে শুরু করেছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস 1885 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ভারতীয় রাজনীতিতে একটি প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে।

উপসংহার—–

1858 সালের 2শে আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ভারতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে চিহ্নিত করে। ভাইসরয়্যালিটি আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন নিয়ে এসেছিল, কিন্তু শোষণ ও দারিদ্রও এনেছিল। ভাইসরয়্যালিটির উত্তরাধিকার আজও ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতিকে গঠন করে চলেছে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কলকাতা শহরের কয়েকটি জনপ্রিয় পার্ক যা আপনি ঘুরে আস্তে পারেন।।।

কলকাতা, ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী, একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং প্রাণবন্ত সংস্কৃতি সহ একটি ব্যস্ত মহানগর। শহরের বিশৃঙ্খলা এবং কোলাহলের মধ্যে, এমন বেশ কয়েকটি পার্ক রয়েছে যা দৈনন্দিন জীবনের তাড়াহুড়ো থেকে প্রশান্তি দেয়। এখানে কলকাতার ছয়টি জনপ্রিয় পার্ক রয়েছে যা প্রকৃতিপ্রেমীদের এবং যারা একটু শান্তি ও নিরিবিলিতে চায় তাদের জন্য অবশ্যই দর্শনীয়।

ময়দান—-

ময়দান, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড নামেও পরিচিত, এটি কলকাতার বৃহত্তম পার্ক। 400 হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত, এটি ক্রীড়া উত্সাহী, জগার্স এবং পিকনিককারীদের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। পার্কটি বিখ্যাত ইডেন গার্ডেন ক্রিকেট স্টেডিয়াম সহ বেশ কয়েকটি স্পোর্টস ক্লাব এবং স্টেডিয়ামের আবাসস্থল।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল গার্ডেন
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল গার্ডেন আইকনিক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে একটি সুন্দর পার্ক। পার্কটি 64 একর জুড়ে বিস্তৃত এবং এতে সুন্দর বাগান, হাঁটার পথ এবং একটি হ্রদ রয়েছে। এটি দম্পতি এবং পরিবারের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান।

আলিপুর চিড়িয়াখানা এবং উদ্যান—-

আলিপুর চিড়িয়াখানা এবং উদ্যানগুলি কলকাতার একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। চিড়িয়াখানাটি সারা বিশ্বের 1,000 টিরও বেশি প্রাণীর আবাসস্থল, যেখানে উদ্যানগুলি শহরের কোলাহল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তি দেয়।

রবীন্দ্র সরোবর—-

রবীন্দ্র সরোবর, ঢাকুরিয়া লেক নামেও পরিচিত, দক্ষিণ কলকাতার একটি সুন্দর পার্ক। পার্কটিতে একটি বড় হ্রদ, হাঁটার পথ এবং প্রচুর সবুজ রয়েছে। এটি জগারদের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান এবং যারা কিছুটা শান্তি ও নিরিবিলিতে চায়।

ইকো পার্ক—-

ইকো পার্ক, প্রকৃতি তীর্থ নামেও পরিচিত, কলকাতার একটি আধুনিক পার্ক যা প্রকৃতি এবং প্রযুক্তির এক অনন্য মিশ্রন প্রদান করে। পার্কটিতে একটি গোলাপ বাগান, একটি প্রজাপতি বাগান এবং একটি হ্রদ সহ বেশ কয়েকটি থিমযুক্ত এলাকা রয়েছে।

মিলেনিয়াম পার্ক—-

মিলেনিয়াম পার্ক কলকাতার একটি জনপ্রিয় পার্ক যা হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত। পার্কটিতে সুন্দর বাগান, হাঁটার পথ এবং নদীর অত্যাশ্চর্য দৃশ্য রয়েছে। এটি দম্পতি এবং পরিবারের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান।

উপসংহার—-

কলকাতার পার্কগুলি শহরের বিশৃঙ্খলা এবং কোলাহল থেকে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাশ দেয়। ঐতিহাসিক ময়দান থেকে আধুনিক ইকো পার্ক পর্যন্ত, প্রতিটি পার্কেরই রয়েছে অনন্য আকর্ষণ এবং আকর্ষণ। আপনি একজন প্রকৃতি প্রেমী, একজন ক্রীড়া উত্সাহী, অথবা শুধুমাত্র কিছু শান্তি এবং শান্ত খুঁজছেন না কেন, কলকাতার পার্কে প্রত্যেকের জন্য কিছু না কিছু আছে।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

করম উৎসব – লোকসংস্কৃতির অঙ্গ কলমেঃ দিলীপ রায়

করম উৎসব – লোকসংস্কৃতির অঙ্গ
কলমেঃ দিলীপ রায় ( ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)
করম প্রধানত সৃষ্টির উৎসব, সৃজনের উৎসব । শরতের আগমনে শস্য ও সমৃদ্ধি কামনায় করম পরব বা করম উৎসব । ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশী বা পার্শ্ব একাদশীতে করম উৎসব পালিত হয় । এই বছর অনুষ্ঠিত হবে ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ । এই পরবের মূল আকর্ষণ হলো জাওয়া গান (অনেকে ‘জাওয়া’ বানান ‘যাওয়া’ লিখে থাকেন) । বলা চলে, গানগুলো লোকসাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গ ।
এবার আসছি জাওয়া কি ? সেটা আমাদের জানা দরকার । “জাওয়া শব্দটা নাকি ‘জাত’ শব্দ থেকে এসেছে । বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম বা চারার ‘জাত’ বা জন্ম থেকে এইরকম নামকরণ হয়ে থাকতে পারে । শব্দটি “জাওয়া” হবে, নাকি “যাওয়া” হবে , সেটা নিয়েও মতোভেদ রয়েছে । যাই হোক “জাওয়া” হচ্ছে একটি শস্য উৎসব । আবার শস্য বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমেরও অনুষ্ঠান বলা চলে । একমাত্র কুমারী মেয়েরাই এই অনুষ্ঠান পালন করে থাকে । ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশীর এক সপ্তাহ আগে এই অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে ।
এবার আসছি করম পরব প্রসঙ্গে ।
করম পরব ভারতের ঝাড়খণ্ড, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, আসাম, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং বাংলাদেশ ও নেপালে একটা ফসল কাটার উৎসব । এই উৎসবে করম দেবতার উপাসনা করা হয় । যিনি হচ্ছেন কিনা শক্তি, যুব ও যৌবনের দেবতা । করম পরব পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলা, ঝাড়্গ্রাম জেলা, বাঁকুড়া জেলা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কুড়মি, ভূমিজ, বৈবা, মুণ্ডা, রাজোয়াড়, সরাক, লোহার বাউরি, বীরহড়, বীরনিয়া, খেরওয়ার, হো, খেড়িয়া, শবর, কোড়া মাহালি, পাহাড়িয়া, হাড়ি, বাগদি, বেদে, ঘাসি, লোধা ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁরাও, প্রভূতি সম্প্রদায়ের জঙ্গলভিত্তিক ও কৃষিভিত্তিক লোক উৎসব । তবে কুড়মি সমাজে এর স্বীকৃতি, মান্যতা ও ব্যাপকতা উল্লেখযোগ্য ।
প্রকৃতির পুজা ও উর্বতার উৎসব । এই করম পরব প্রায় সাতদিন ধরে উদযাপন হয় । কুমারী কন্যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সাতদিন ধরে ব্রত পালন করেন, করম গাছের ডাল পুজা করেন এবং বপন করা হয় ভুট্টার বীজ । অঙ্কুরিত ভুট্টার চারা বা ‘জাওয়া’কে উর্বতার প্রতীক হিসাবে দেখা হয় । মূলত এই করম উৎসবটি আদিবাসী ও সাঁওতাল জনজাতিদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় । করম পুজা ঝুমুর গান, “আজরে করম রাজা ঘরে দুয়ারে, কালরে করম রাজা কাশ নদীর পারে” ।
ভাই বোনের গভীর ভালবাসার কথা জাওয়া গান গুলোতে বারবার ফুটে উঠে । দাদা ও ভাইয়ের সঙ্গে কাটানো সুখের মিহূর্তগুলো বোনকে খুব পীড়া দেয় । তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরী হলে, মিথ্যাই সাত্ত্বনা দিতে বধূটি বলে ওঠে – “আমারি জনম পরের ঘর ।“ ভাই তখন সান্ত্বনা দেয় । সেই গান মেয়েরা গেয়ে ওঠে —
“আমি কি লিখ্যেছি বহিন বিধাতা লিখ্যেছে রে
বিধাতা লিখেছে পরের ঘর ।
পরেরই ঘরে বহিন খাটি লুটি খাও রে
রাখি দিহ বাপের ভায়ের নাম ।“
মূলত গ্রামের অবিবাহিত কুমারী মেয়েরাই এই ‘করম’ ঠাকুরের উপাসক । শুক্লা একাদশীর সাতদিন আগে কুমারী মেয়েরা একত্রে বাঁশের বোনা ‘টুপা’ (ডালা) এবং বিভিন্ন ধরনের শস্যবীজ নিয়ে জড়ো হয় পার্শ্ববর্তী কোনো নদী, পুকুর বা জলাশয়ে । সেখানে প্রত্যেকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে সদ্যস্নাত ভিজে কাপড়ে নিজের নিজের টুপায় নদী খাতের বালি ভর্তি করে বাড়ি থেকে আনা সেই শস্যবীজগুলো বোনে । তারপর পরস্পরের হাত ধরে টুপা’কে কেন্দ্র করে গোল হয়ে বিভিন্ন ধরনের আদিবাসী গান গাইতে থাকে ।
এরপর শুরু হয় এই জাওয়া টুপাগুলোর পরিচর্যা । দিন দুয়েক পরেই বীজগুলির অঙ্কুরোদ্‌গম হয় । জাওয়া পাতানো কুমারী মেয়েরা, জাওয়ার শুদ্ধতা বজায় রাখার নিরিখে সারা সপ্তাহ ধরে পালন করে কিছু রীতি নীতি । যেমন – একদিন তারা শাক খায় না, খাটিয়ায় ঘুমোয় না, মাথায় তেল দেয় না, চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ায় না, । এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় মেয়েরা নিজ নিজ ডালাসহ গ্রামের এক জায়গায় জড়ো হয় । জাওয়াকে কেন্দ্র করে সারা সন্ধ্যা চলে করম গান ও নাচ ।
সন্ধ্যাবেলায় গ্রামের লায়া (পুরোহিত) এক জায়গায় করম ডাল পুঁতে করম ঠাকুরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন । তৈরি হয় পুজোর বেদী । গ্রামের ব্রতকারী কুমারী মেয়েরা “করম ডালায়” পুজোর অর্ঘ্যরূপে মাটির প্রদীপ, শাল পাতার তৈরি থালায় নদীর বালি, ঘি, গুড়, আতপ চাল, মধু, ধূপ, সিঁদুর, একগাছি ধান আর ‘কাঁকুড়’, ইত্যাদি নিয়ে সমবেত হয়ে পুজো করে পরম ঠাকুরের । কামনা করে সোহাগী স্বামী পাওয়ার ও সন্তানবতী হওয়ার ।
এবার আসছি করম পুজার প্রচলনের ইতিহাস প্রসঙ্গে । এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, করম পুজা প্রচলনের ইতিহাস নিয়ে মতভেদ রয়েছে । একটি মত সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ
কথিত আছে, কর্ম ও ধর্ম দুই ভাই । দু’জনেই খুব পরিশ্রমী ও দয়ালু । কিছু দিন পর কর্মের বিয়ে হয়ে গেলো । তাঁর স্ত্রী ছিল অধার্মিক এবং অন্যদের বিরক্ত করার মানসিকতা । আর এতে রাগান্বিত হয়ে কর্ম বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন ।
তিনি চলে যেতেই সকলের কর্মফল ও ভাগ্যও চলে গেলো এবং মানুষের দুঃখ দুর্দশা বাড়তে লাগলো । মানুষের সমস্যা সহ্য করতে না পেরে ধর্ম ভাইয়ের খোঁজে বেরিয়ে গেলেন । কিছু দূর হাঁটার পর তাঁর জল তেষ্টা পেলো এবং দেখলেন, আশেপাশে কোথাও জল নেই । দূরে একটা নদী দেখতে পেলেন এবং সেখানে গিয়ে দেখলেন, জল নেই । নদী ধর্মকে বলল, তোমার ভাই এখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের কর্মফল নষ্ট হয়ে গিয়েছে । গাছের সব ফল নষ্ট ! তাঁকে খুঁজে পেলে বলো, তাঁর কাছে আমাদের এই সমস্যার সমাধান চাই । তারপর আরও একজন মহিলার সঙ্গে তাঁর দেখা এবং তিনি বললেন, কর্ম চলে যাওয়ার পর থেকে রান্নার পরে পাত্রগুলি হাতে লেগে যেতে শুরু করে, এর সমাধান কী ? আপনি কর্মকে জিজ্ঞাসা করুন এবং তাঁকে সমাধান বলতে বলুন । ধর্ম আরও এগিয়ে গেলেন । একটি মরুভূমিতে পৌঁছালেন । সেখানে তিনি দেখলেন, কর্ম গরমে অস্থির । তাঁর শরীরে ফোসকা পড়েছে এবং তিনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন । তাঁর অবস্থা অসহনীয় । ধর্ম কর্মকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন । তখন উভয় ভাই বাড়ি ফিরে যেতে লাগলেন । ফেরার সময় সেই মহিলার সঙ্গে দেখা । কর্ম তাঁকে বললেন, ঐ মহিলা কখনও কোনও ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াননি, তাই তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে । সুতরাং এটি তাঁর কর্মফল । একইভাবে সকলকে নিজের কর্মফলের কথা জানানোর পর কর্ম বাড়িতে ফিরে এসে পুজা করেন । তারপর সমগ্র এলাকার লোকেরা আবার সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন এবং সমৃদ্ধি ফিরে আসল । সেই স্মরণে করম পরব পালিত হয় ।
# আর একটি মত হচ্ছেঃ
এক সময় সাত ভাই ছিল যারা কৃষিকাজে কঠোর পরিশ্রমী । এমনকি তাঁদের দুপুরের খাওয়ারও সময় থাকতো না । তাই, স্ত্রীরা প্রতিদিন তাঁদের দুপুরের খাবার মাঠে নিয়ে যেতেন । একবার এমন হয়েছিল, তাঁদের স্ত্রীরা দুপুরের খাবার নিয়ে মাঠে যাননি । সাংঘাতিক ক্ষুধার্ত ছিলেন তাঁরা । সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁদের স্ত্রীরা বাড়ির উঠোনে করম গাছের ডালের পাশে নাচ-গান করছেন । এটা দেখে তাঁরা ক্রোধে অগ্নিশর্মা । এক ভাই তাঁর মেজাজ হারিয়ে ফেলে করমের ডাল ছিনিয়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দিলেন । করম দেবতাকে অপমান করা হয়েছিল । ফলে তাঁদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে এবং অনাহারে তাঁদের দুর্দশা অবস্থা । একদিন একজন ব্রাহ্মণ (পুরোহিত) তাদের কাছে এলেন এবং সাত ভাই পুরো ঘটনাটা তাঁকে খুলে বললেন । এরপর সাত ভাই করম ঠাকুরের খোঁজে গ্রাম ছেড়ে চলে যান। তাঁরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে থাকেন এবং এইভাবে খোঁজার পর একদিন তাঁরা করম গাছের সন্ধান পান । পরবর্তীকালে, করম ঠাকুরের পুজো করেন । তারপর তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমশ উন্নতি ঘটতে থাকে । সুখ ও শান্তি ফিরে আসে ।
এলাকার মানুষ সহ কর্ম ও ধর্ম সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন এবং সমৃদ্ধি ফিরে আসল । সেই স্মরণে করম পরব পালিত হয় । বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে করম পার্বণ একটি অন্যতম । এটি গ্রাম বাংলার এক অজানা অথচ বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, কুড়মিদের চা-বাগানের মানুষদের সু-প্রচলিত করম উৎসব । এই বছরও করম পুজাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য সরকার ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ছুটি ঘোষণা করেছেন ।
পরিশেষে বলা যায়, করম পরব আদিম জনগোষ্ঠীর ধারক ও বাহক । এর মধ্যে অন্যতম কুড়মি, সাঁওতাল, ভূমিজ, মুন্ডা, ওঁরাও, রাজোয়াড়, ডোম, ঘাসি প্রভৃতি জনগোষ্ঠী । যদিও উল্লেখিত, কুড়মি সমাজের মধ্যে এর স্বীকৃতি, মান্যতা ও ব্যাপকতা অবর্ণনীয় । আদিম জনগোষ্ঠী প্রায় সকলেই প্রকৃতির পুজারী । ভাল করে এই উৎসবের পুজানুষ্ঠান ও পালনবিধি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এটা একটা বৃক্ষ পুজার অনুষ্ঠান । বৃক্ষকে জীবন্ত আত্মার অধিকারী হিসাবে স্বীকার করে এবং তাকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস-সংস্কার, আচার-অনুষ্ঠানের এক বিস্ময়কর সমাবেশ এবং শুদ্ধ ভক্তির পরম্পরা ! (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)
এ১০এক্স/৩৪, কল্যাণী (পিন-৭৪১২৩৫) / ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪

Share This