Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : শেষ বিকেলের ডাকপিয়ন।

গ্রামের পথে ধীরে ধীরে
সাইকেল চালিয়ে যান,
কাঁধের ব্যাগে চিঠির বোঝা,
মুখে মিষ্টি গান।

কোনো চিঠি দূর শহরের,
কোনোটা বিদেশের,
কোনো চিঠি অপেক্ষাতে
কাঁদে আপন ঘরের।

বৃদ্ধ বাবা দরজায় বসে
ছেলের খবর চান,
মেয়ের লেখা দুটো লাইনেই
ভরে ওঠে প্রাণ।

কেউ পায় চাকরির খবর,
কেউ পায় বিয়ের নিমন্ত্রণ,
কেউ বা চিঠির অক্ষর পড়ে
পায় নতুন জীবন।

ডাকপিয়নটি জানেন কত
মানুষের সুখ-দুঃখ,
চিঠি বিলিয়ে ফিরে যান
নীরবতার মুখ।

আজ মোবাইলের পর্দায়
খবর আসে ক্ষণে,
তবু চিঠির হাতের লেখা
থাকে হৃদয়জুড়ে।

কাগজে লেখা মনের কথা
সময়ের কাছে হারায় না,
পুরনো চিঠির ভাঁজের মাঝে
স্মৃতি কখনও মলিন হয় না।

ডাকপিয়ন আজও যেন
স্মৃতির পথে হাঁটেন,
অজস্র মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে
ভালোবাসা বিলিয়ে দেন।

চিঠির মতো সহজ করে
মনের কথা বলো,
দূরত্ব যতই থাকুক মাঝে,
সম্পর্কগুলো ভালো রেখো।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : মায়ের পুরনো শাড়ি।

আলমারির এক কোণেতে
রয়েছে শাড়িখানি,
রংটা তার ফিকে হয়েছে,
তবু বড় দামী।

সেই শাড়িতে মা যে কত
উৎসবে সাজতেন,
আমার ছোট্ট হাতটি ধরে
পথের ধুলো মাড়তেন।

শাড়ির আঁচল দিয়ে মা
মুছিয়ে দিতেন ঘাম,
ভয় পেলে সেই আঁচলেই
খুঁজতাম শান্তির নাম।

শীতের রাতে গায়ে জড়িয়ে
ঘুম পাড়াতেন গান,
নিজের সুখ ভুলে গিয়ে
রাখতেন আমার মান।

আজকে আমি বড় হয়েছি,
পেরিয়েছি কত পথ,
তবু মায়ের সেই আঁচল
মনে জাগায় শৈশব।

শাড়িখানিতে গন্ধ আছে
মায়ের স্নেহভরা,
হাজার দামি পোশাকের চেয়ে
এ যে অনেক বড়।

মা তো কখনও হিসাব করেননি
কতটা দিলেন আমায়,
নিজের সবটুকু ভালোবাসা
নীরবে বিলিয়ে যান।

যতদিন মা পাশে আছেন,
সময় দিও তাঁকে,
একটু কথা, একটু আদর
সুখ দেবে তাঁর চোখে।

পুরনো শাড়ি বলে দেবে
ভালোবাসার মানে—
সবচেয়ে দামি সম্পদ থাকে
স্মৃতির ভাঁজে ভাঁজে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : বৃষ্টির পরে রংধনু।

সারাদিনের মেঘের শেষে
বৃষ্টি থেমে যায়,
ভেজা পাতার ফাঁক গলিয়ে
রোদের হাসি চায়।

আকাশজুড়ে হঠাৎ দেখি
সাতটি রঙের সেতু,
নীল, সবুজ আর লাল মিলে
সৌন্দর্যের ঋতু।

মাঠের ধারে ছোট্ট শিশু
হাত বাড়িয়ে ডাকে,
রংধনুটাকে ছুঁয়ে দেখার
স্বপ্ন চোখে রাখে।

কৃষক হাসে, ফসলভরা
মাটির গন্ধ পেয়ে,
পাখিরা সব গান ধরেছে
নতুন সকাল চেয়ে।

বৃষ্টির জলে ভিজেছিল
পথের ধুলোর বুক,
রংধনু এসে মনে জাগায়
আবার বাঁচার সুখ।

জীবনেও তো ঝড় আসে
অকারণে কখনও,
চেনা পথও হারিয়ে যায়,
মন কাঁদে নীরবতায়।

তবু দুঃখ চিরকাল
থাকে না জীবনে,
অন্ধকারের পরেই আলো
ফোটে নতুন ক্ষণে।

তাই বিপদে ভেঙে পড়ো না,
আশার প্রদীপ জ্বালো,
কঠিন সময় পেরিয়ে গেলে
দেখবে চারদিক আলো।

রংধনু শুধু রঙের ছবি
নয় আকাশের গায়,
সে মনে করায়—ঝড়ের পরেও
সুন্দর দিন ফিরে পায়।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : রাতজাগা প্রহরী।।

শহর যখন ঘুমিয়ে পড়ে,
নিভে যায় সব আলো,
নীরব পথে হেঁটে বেড়ান
এক প্রহরী ভালো।

কাঁধে তাঁর লাঠি থাকে,
চোখে সতর্কতা,
অচেনা রাতের বুকের মাঝে
খোঁজেন নিরাপত্তা।

বড় বাড়ির দরজাগুলো
তাঁরই ভরসায়,
মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমায়
নিরাপদ আশ্রয়ে।

কেউ তো তাঁকে চেনে না,
কেউ দেয় না সম্মান,
তবু তিনি দায়িত্ব নিয়ে
পাহারা দেন সারারাত।

মাঝে মাঝে বাড়ির কথা
মনে পড়ে যায়,
দূর গ্রামে তাঁর ছোট্ট মেয়ে
বাবার পথ চায়।

উৎসবের দিন অন্যরা যখন
আনন্দে মাতে ঘরে,
তিনি তখন রাতের পথে
দাঁড়িয়ে থাকেন দূরে।

ভোরের আলো ফুটলে পরে
ফিরবেন নিজের বাসায়,
ক্লান্ত শরীর, তৃপ্ত মন
নতুন দিনের আশায়।

যে মানুষটি নীরব থেকে
আমাদের নিরাপদ রাখে,
তাঁর শ্রমের মূল্যটুকু
রাখি হৃদয়-মাঝে।

সব কাজেরই মর্যাদা আছে,
সব মানুষই দামি,
প্রহরীর ওই নির্ঘুম চোখে
নিরাপদ শহরখানি।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : ঘুড়ির সুতো।

নীল আকাশে ঘুড়ি ওড়ে
হাওয়ার তালে তালে,
রঙিন ডানায় স্বপ্ন লেখা
রোদের ঝিলিক জ্বলে।

ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে শিশু
সুতো ধরে টানে,
ঘুড়ির সঙ্গে মনটাও তার
উড়ে যায় অজানায়।

কখনও ঘুড়ি মেঘ ছুঁয়ে যায়,
কখনও নামে নিচে,
সামান্য একটু ভুল হলেই
হারিয়ে যায় পিছু।

সুতো তাকে বেঁধে রাখে,
আবার দেয় উড়তে,
সঠিক টানে পথ দেখায়
দূর আকাশে ছুটতে।

মানুষের জীবনও যেন
ঘুড়ির মতোই ভাই,
স্বাধীনতার স্বপ্ন আছে,
দায়িত্বও তো চাই।

অতিরিক্ত বাঁধন দিলে
ডানা মেলে না মন,
আবার সব ছেড়ে দিলে
হারায় দিশা-চিহ্ন।

ভালোবাসা হোক সেই সুতো,
যা রাখে কাছে টেনে,
তবু স্বপ্নের ডানাগুলো
থাকুক মুক্ত গগনে।

ঘুড়ি শেখায়, উড়তে গেলে
ভারসাম্যটা চাই,
আকাশ ছোঁয়ার সাহস নিয়ে
মাটির টানও পাই।

তাই নিজের স্বপ্ন বুনে
এগিয়ে চলো দূরে,
স্নেহের বাঁধন সঙ্গে রেখো
জীবনপথের সুরে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : চাঁদের আলোয় ছাদ।

রাতের আকাশ মাথার উপরে,
ছাদে বসে একা,
চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়ে
শহরজুড়ে মেখা।

দূর বাড়ির জানালাতে
একটি প্রদীপ জ্বলে,
কেউ হয়তো গল্প করছে
আপনজনের কোলে।

হাওয়ার সঙ্গে ভেসে আসে
কোনো গানের সুর,
ব্যস্ত দিনের ক্লান্তি যেন
যায় নিমেষে দূর।

তারার মেলা দেখতে দেখতে
ভাবি কত কথা,
কত মানুষ হাসির আড়ালে
লুকিয়ে রাখে ব্যথা।

কেউ স্বপ্নের পেছন ছুটে
ঘুম হারিয়েছে রাতে,
কেউ বা শুধু শান্তি খোঁজে
জীবনেরই পথে।

চাঁদ তো সবার আকাশেতে
সমান আলো ঢালে,
ধনী-গরিব ভেদ না করে
আদর দেয় সকলকে।

আমরাও যদি তেমন করে
ভালোবাসা বিলাই,
মানুষে মানুষে দূরত্বগুলো
সহজে ঘুচে যায়।

ছাদের কোণে রাতের হাওয়া
কানে কানে কয়,
সুখের জন্য অনেক কিছু
পাওয়ার দরকার নয়।

একটু শান্তি, একটু মায়া,
কাছের মানুষের হাত—
এতেই ভরে উঠতে পারে
জীবনের প্রতিটি রাত।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : একটি হারমোনিয়ামের সুর।

পুরনো ঘরের কোণেতে
হারমোনিয়াম রয়,
ধুলো জমে ঢাকনাটিতে,
বাজায় না তো কেউ।

একদিন এই যন্ত্রটিতে
বাবা গান ধরতেন,
সন্ধ্যা হলে আপন মনে
সুরের জাল বুনতেন।

মায়ের গলায় রবীন্দ্রসুর
ভাসত ঘরময়,
ছোট্ট আমি তাল মেলাতাম,
আনন্দের সীমা নয়।

সময়ের স্রোত বয়ে গেল,
বদলে গেল ঘর,
গানের মানুষ দূরে গেলেন,
নীরব হলো স্বর।

একদিন হঠাৎ ঢাকনা খুলে
আঙুল রাখলাম তাতে,
ভাঙা সুরের টুকরোগুলো
জেগে উঠল রাতে।

মনে হলো, হারায়নি কিছু,
রয়েছে সব কাছে,
স্মৃতিরা যে সুরের মতো
হৃদয়েরই মাঝে।

গান শুধু গলা দিয়ে নয়,
বাজে মনের তারে,
প্রিয়জনের ভালোবাসা
সুর হয়ে যায় ঘরে।

তাই যতদিন আপনজন
রয়েছে তোমার পাশে,
একসঙ্গে গান গেয়ে নাও
সুখের অবকাশে।

পুরনো হারমোনিয়ামটি
আজও নীরব নয়,
ভালোবাসার সুর যে কখনও
সময়ের কাছে হারায় না।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : মাটির কলস।

কুমোরের হাতে মাটি নিয়ে
কলস গড়ে ধীরে,
চাকার ঘূর্ণি ঘুরতে থাকে
ছোট্ট ঘরের নীড়ে।

নরম মাটি আকার পায়
আদর আর যত্নে,
সাধারণের মধ্যেও যে
সৌন্দর্য থাকে গোপনে।

রোদে শুকিয়ে আগুন পেয়ে
শক্ত হয় তার গা,
জীবন যেন শেখায় তাকে
সহ্য করার ভাষা।

গ্রামের পথে কলস ভরে
জল আনতে যায় বউ,
শীতল জলে তৃষ্ণা মেটে,
স্বস্তি পায় সবাই।

কলস জানে, শূন্য হলে
ভরে উঠতে হয়,
ভাঙন এলে নতুন করে
গড়ার সাহস চাই।

মানুষও তো মাটির মতো
নেয় নানা রূপ,
দুঃখ-সুখের আগুন পেরিয়ে
খুঁজে পায় স্বরূপ।

অহংকারের ভার না রেখে
নম্র হও সবার কাছে,
ফাঁকা পাত্র জল পায় যেমন,
শেখার জায়গা রাখো নিজের মাঝে।

মাটির কলস নীরব থেকে
বলে জীবনের কথা,
সহজ হও, স্নেহ বিলাও,
এটাই সুখের ব্যাখ্যা।

মাটি থেকে জন্ম আমাদের,
মাটিতেই শেষ ঠিকানা,
মাটির গন্ধ ভুলে গিয়ে
নিজেকে হারিয়ো না।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : এক মুঠো বালি।

সমুদ্রতীরে বসে আমি
তুললাম এক মুঠো বালি,
আঙুল ফাঁকে ঝরে পড়ে
মুছে গেল তারই লালি।

কত কণা, কত গল্প
লুকিয়ে আছে তাতে,
কেউ এসেছে দূর পাহাড় থেকে,
কেউ নদীরই পথে।

ঢেউ এসে বারবার বলে,
“ধরে রাখা যায় না,
সময়েরই স্রোতকে কখনও
মুঠোর মধ্যে বাঁধা যায় না।”

আমরা কত কিছু আঁকড়ে ধরি
হারানোরই ভয়ে,
পুরনো কথা, পুরনো ব্যথা
বুকের ভেতর বয়ে।

যে মানুষটি চলে গেছে
ফিরবে না সে আর,
যে সময়টা পেরিয়ে গেছে
বন্ধ হয়েছে তার দ্বার।

তবু সামনে নতুন সকাল,
নতুন দিনের গান,
পুরনো স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে
এগিয়ে চলে প্রাণ।

বালির কণা শেখায় আমায়
জীবনেরই মানে,
সবকিছু ধরে রাখার চেয়ে
মুক্তি সুখ আনে।

যা পেয়েছ, তার জন্য কৃতজ্ঞ
হও প্রতিটি ক্ষণে,
যা হারিয়েছ, তাকে রেখো
স্মৃতির আপন কোণে।

সমুদ্র যেমন বালি ছুঁয়ে
ফিরে যায় দূরে,
জীবনও তেমন এগিয়ে চলে
নতুন স্বপ্নের সুরে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : নীরব গ্রন্থাগার।

গ্রন্থাগারের নীরব ঘরে
সার দিয়ে বই,
পাতার ভাঁজে কত যে কথা,
শেষ হবে না কই।

কেউ এসেছে জ্ঞান খুঁজতে,
কেউ এসেছে পড়তে,
কেউ বা নিজের স্বপ্নগুলো
শব্দে শব্দে গড়তে।

কোথাও লেখা ইতিহাসের
হারিয়ে যাওয়া দিন,
কোথাও আবার কবির কলমে
ভালোবাসার ঋণ।

একটি বই খুললেই যেন
নতুন দুয়ার খোলে,
অজানা সব দেশের ছবি
চোখের সামনে দোলে।

এখানে নেই কোলাহল,
নেই অহংকারের ভাষা,
নীরবতার বুকের মাঝে
জাগে জানার আশা।

যে মানুষটি বইয়ের পাতায়
খুঁজে বেড়ায় আলো,
তার মনের অন্ধকারও
একদিন হবে ভালো।

গ্রন্থাগার শুধু ঘর নয়,
জ্ঞানভরা এক দেশ,
যেখানে এসে মানুষ শেখে
ভাবনার নতুন রেশ।

মুঠোফোনের দ্রুত জগৎ
টানে যখন মন,
বইয়ের কাছে ফিরে এসে
সমৃদ্ধ করো জীবন।

একটি বই হাতে নিলে
কমে অজ্ঞানতার রাত,
জ্ঞানই পারে দেখিয়ে দিতে
আগামীর সঠিক পথ।

Share This