Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : জানালার ওপারে আকাশ।

জানালাটার ওপারেতে
নীল আকাশের মেলা,
মেঘের ভেলায় ভেসে বেড়ায়
রোদের সোনার খেলা।

ঘরের মধ্যে বন্দি থেকে
ক্লান্ত যখন মন,
আকাশ তখন ডাক পাঠায়
খুলে দাও যে ক্ষণ।

সাদা মেঘের নরম ভাঁজে
কত ছবি আঁকা,
কখনও হাতি, কখনও পাহাড়,
কখনও স্বপ্নমাখা।

পাখিরা সব ডানা মেলে
দূর দিগন্তে যায়,
তাদের দেখে মনে আমার
মুক্তির সুর বাজায়।

মানুষ কত দেয়াল তোলে
নিজের চারপাশে,
ভয় আর দ্বিধা মনের মাঝে
অদৃশ্য শিকল বাঁধে।

জানালাটা ছোট্ট হলেও
দিগন্ত অনেক বড়,
একটু সাহস সঙ্গে নিলে
পথ হবে না জড়।

স্বপ্ন দেখো, সামনে চলো,
ভয়কে সরাও দূরে,
জীবন তোমার অপেক্ষাতে
নতুন দিনের সুরে।

জানালার ওই নীল আকাশ
প্রতিদিন বলে যায়—
মনকে যদি মুক্ত রাখো,
আলো পথ দেখায়।

দিগন্তকে ছুঁতে হলে
শুরু করো আজ,
ছোট্ট জানালার ওপারেও
অপেক্ষা করে বিশাল আকাশ।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : বৃদ্ধ বটের আত্মকথা।

আমি গ্রামের পুরনো বট,
দাঁড়িয়ে আছি পথে,
কত শত বছর কেটেছে
আমার নীরব রথে।

আমার ছায়ায় পথিক বসে
মেটায় ক্লান্তি ভার,
শিশুরা সব দোলনা বেঁধে
করে হইচই অপার।

আমার ডালে পাখিরা এসে
গড়েছে কত বাসা,
পাতার ফাঁকে বাতাস গেয়ে
শোনায় ভালোবাসা।

দেখেছি কত জন্ম-মৃত্যু,
কত বিয়ের সানাই,
কত বিদায়ের চোখের জল,
কত ফিরে পাওয়াই।

যে ছেলেটি খেলত এখানে,
আজ সে বৃদ্ধ হয়েছে,
তার নাতিটিও আমার ছায়ায়
নতুন স্বপ্ন বুনেছে।

সময়ের এই দীর্ঘ পথে
কত বদলেছে গ্রাম,
পাকা রাস্তা, উঁচু বাড়ি,
বদলেছে মানুষের নাম।

তবু আমি দাঁড়িয়ে আছি,
শিকড় মাটির গভীরে,
সবুজ পাতার হাত বাড়িয়ে
ডাকি সবাইকে ফিরে।

আমায় কেটো না নির্বিচারে,
আমিও প্রাণের সাথি,
আমার ছায়ায় বাঁচে কত
পাখি, মানুষ, মাটি।

একটি গাছ শুধু গাছ নয়,
জীবনেরই অংশ,
সবুজ বাঁচলে বাঁচবে ধরা—
এই আমার শেষ বার্তা।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : শিশিরভেজা ঘাস।

ভোরের বেলা মাঠের বুকে
শিশির ঝরে ঘাসে,
মুক্তোর মতো ছোট্ট ফোঁটা
সূর্যের আলোয় হাসে।

নরম হাওয়া দোল দিয়ে যায়
সবুজ পাতার গায়,
দূর আকাশে পাখিরা সব
নতুন দিনের গান গায়।

রাতের যত নীরব কথা
শিশির জানে মনে,
অন্ধকারের ক্লান্তি মুছে
আলো আসে জীবনে।

খালি পায়ে হাঁটতে গিয়ে
ঠান্ডা লাগে পায়ে,
মনে হয় প্রকৃতি যেন
আদর করে আমায়।

কিছুক্ষণেই রোদ উঠবে,
শিশির যাবে শুকিয়ে,
ক্ষণিকের এই সৌন্দর্যটুকু
হারিয়ে যাবে মিলিয়ে।

জীবনও তো এমনই ক্ষণিক,
কত রঙের মেলা,
হাসি-কান্না, পাওয়া-হারানো,
অল্প সময়ের খেলা।

তাই ছোট্ট সুখ অবহেলায়
হারিয়ে যেতে দিয়ো না,
প্রিয় মানুষের মিষ্টি কথায়
মন খারাপ কোরো না।

শিশির শেখায় নীরব ভাষায়,
ক্ষণকে ভালোবাসো,
আজকের এই সুন্দর দিন
হৃদয় দিয়ে বাঁচো।

সূর্য যখন আকাশজুড়ে
ছড়িয়ে দেবে আলো,
তোমার মনেও জেগে উঠুক
নতুন দিনের ভালো।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : একটি পুরনো সেতু।

নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে
একটি পুরনো সেতু,
কত দিনের রোদ-বৃষ্টি
জমেছে তার গায়ে তত।

তার ওপর দিয়ে কত মানুষ
গিয়েছে দূর দেশে,
কেউ ফিরেছে হাসিমুখে,
কেউ ফিরেছে ক্লান্তি শেষে।

কত গাড়ির চাকার শব্দ,
কত পথিকের পায়ের ছাপ,
কত বিদায়ের নীরবতা,
কত মিলনের আলাপ।

দুই পাড়ের দূরত্ব ঘুচিয়ে
সেতুটা কাজ করে যায়,
নিজের কথা না ভেবেও
মানুষকে কাছে আনে হায়।

বয়স তার বেড়েছে অনেক,
রং হয়েছে মলিন,
তবু তারই বুকের ওপর
চলে জীবন প্রতিদিন।

মানুষও যদি সেতুর মতো
সম্পর্ক গড়তে শেখে,
ভেদাভেদের দেয়াল ভেঙে
একে অন্যকে দেখে।

ধর্ম, ভাষা, মতের ফারাক
থাকুক আপন স্থানে,
মানবতার হাতটি বাড়ুক
প্রতিটি মানুষের টানে।

পুরনো সেতু নীরব থেকে
শিখিয়ে দেয় কথা—
দূরত্ব ঘোচানোর নামই
ভালোবাসার ব্যাখ্যা।

তাই এসো, সেতু গড়ি
হৃদয়েরই মাঝে,
মানুষ যেন মানুষকে পায়
সুখে-দুঃখের কাজে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা : প্রজাপতির ডানা।

বাগানের ওই ফুলের বুকে
প্রজাপতি যায় উড়ে,
রঙিন ডানায় রোদ মেখে
আকাশ ছোঁয়ার সুরে।

কখনও সে গোলাপ ছোঁয়,
কখনও বেলির গায়,
এক ফুল থেকে অন্য ফুলে
আনন্দ বিলিয়ে যায়।

তার তো নেই কোনো প্রাসাদ,
নেই সম্পদের ভার,
তবু তারই ছোট্ট জীবনে
রঙের সম্ভার।

শিশুরা তার পেছন পেছন
ছুটে বেড়ায় মাঠে,
ধরতে গিয়ে থেমে যায়
মায়ার কোনো বাঁধে।

প্রজাপতি যেন বলে যায়,
“বেঁধো না আমায় ধরে,
ভালোবাসা মুক্তি দেয়,
শৃঙ্খল নয় তার ঘরে।”

আমরাও কত মানুষকে
নিজের করে চাই,
তাদের ইচ্ছা, তাদের স্বপ্ন
বুঝতে ভুলে যাই।

ভালোবাসা মানে যে শুধু
কাছে রাখা নয়,
প্রিয়জনের ডানায় ভরেই
স্বাধীনতার জয়।

তাই প্রজাপতির মতো
রঙিন হোক মন,
অন্যের সুখে হাসতে শেখো,
সুন্দর হোক জীবন।

যে ভালোবাসা মুক্তি দেয়,
সেই ভালোবাসা খাঁটি,
প্রজাপতির ডানায় লেখা
জীবন শেখার পাটি।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: সময়ের কাছে হার মানে না স্বপ্ন।

সময় চলে নদীর মতো,
থামে না কোনো বাঁকে,
জীবন শুধু এগিয়ে চলে
হাজার বাধার ফাঁকে।

কখনো আসে রোদের সকাল,
কখনো অন্ধকার,
কখনো আবার স্বপ্ন ভাঙে
চোখের জলে বারবার।

তবু কেন থামব আমি,
কেন মানব হার?
বুকের মাঝে স্বপ্ন আছে,
সামনে খোলা দ্বার।

ছোট্টবেলার ইচ্ছেগুলো
আজও মনে জাগে,
হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোও
নতুন আশা জাগায়।

কত মানুষ বলেছিল,
‘তুমি পারবে না আর,’
সেই কথাগুলো শক্তি হয়ে
জ্বালায় নতুন অঙ্গার।

পথের মাঝে কাঁটা থাকুক,
ঝড় উঠুক আকাশে,
সাহস নিয়ে এগিয়ে যাব
বিশ্বাস রেখে পাশে।

যে মানুষটা হেরে গিয়েও
আবার উঠে দাঁড়ায়,
সাফল্যেরই সোনার আলো
তার জীবনে আসে।

সময় কারও জন্য থামে না,
এটাই জীবনের রীতি,
আজকের ঘাম আগামীকাল
লিখবে নতুন স্মৃতি।

অল্প অল্প চেষ্টাতে
বদলে যায় যে দিন,
ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে
স্বপ্ন হবে রঙিন।

হয়তো পথে দেরি হবে,
হয়তো আসবে বাধা,
তবু নিজের বিশ্বাসটাকে
কোরো না কখনো হারানো।

পড়ে গিয়ে শিখতে হয়,
ভুল থেকেই জ্ঞান,
অভিজ্ঞতার হাত ধরেই
বাড়ে আত্মসম্মান।

সময় যখন পরীক্ষা নেয়,
ভয় পেয়ো না মনে,
অন্ধকারের শেষ প্রান্তে
আলো থাকে গোপনে।

তাই তো আজ শপথ নিলাম,
থামব না আর পথে,
স্বপ্নগুলো সত্যি করব
পরিশ্রমের সাথে।

সময় যত কঠিন হোক,
হৃদয় রাখব দৃঢ়,
একদিন এই স্বপ্নগুলোই
করবে জীবন সমৃদ্ধ।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: একমুঠো সুখের খোঁজে।

সুখ খুঁজেছি পথে পথে,
খুঁজেছি শহরজুড়ে,
কখনো ভেবেছি সুখটা বুঝি
রয়েছে অনেক দূরে।

দামি বাড়ি, দামি গাড়ি,
চাকচিক্যময় আলো,
এসব পেলেই জীবন বুঝি
হয়ে উঠবে ভালো।

দিন পেরিয়ে রাত আসে,
সময় যায় যে বয়ে,
মনের ভেতর শূন্যতা রয়
হাজার সুখের মাঝেও।

একদিন এক বৃদ্ধ মানুষ
বসলেন পথের ধারে,
মুখে তাঁর একচিলতে হাসি,
শান্তি চোখের তারায়।

জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী এমন সুখ
পেয়েছেন জীবনে?’
হেসে তিনি বললেন আমায়,
‘ভালো থেকো মনে।’

‘দুটো ভাত আর মাথার ছাদ,
আপনজনের মায়া,
সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ফেরার
একটুখানি ছায়া।

অসুখ হলে কেউ জিজ্ঞেস করে,
‘কেমন আছো তুমি?’
এই তো আমার সুখের পৃথিবী,
এই তো জীবনের ভূমি।’

কথাগুলো শুনে সেদিন
থেমে গেলাম ক্ষণ,
বুঝতে পারলাম সুখের মানে
বদলে গেল মন।

সুখ তো শুধু অর্থ নয়,
নয় প্রাসাদের ঘর,
সুখ লুকিয়ে ছোট্ট হাসি,
ভালোবাসার পরশ।

মায়ের মুখে হাসি দেখা,
বাবার পাশে বসা,
বন্ধুর সঙ্গে দুঃখ ভাগে
একটু সাহস খোঁজা।

শিশুর মুখে খিলখিল হাসি,
বৃষ্টিভেজা সকাল,
প্রিয়জনের মিষ্টি কথা,
রোদ্দুর ঝলমল।

যে মানুষ অল্প পেয়েও
কৃতজ্ঞ থাকতে জানে,
সুখের আলো জ্বলে ওঠে
তারই হৃদয়খানে।

তাই তো আজ শিখেছি আমি
জীবনকে ভালোবাসতে,
অল্পতেই তৃপ্ত হয়ে
সবার পাশে দাঁড়াতে।

সুখ খুঁজতে দূরে যেয়ো না,
দেখো নিজের ঘরে,
ভালোবাসার ছোট্ট প্রদীপ
জ্বলছে অন্তরে।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: বাবার নীরব ভালোবাসা।

বাবা মানে বটের ছায়া,
রোদে শীতল পরশ,
বাবা মানে ঝড়ের মাঝে
ভরসা অটুট অবিরাম।

নিজের সুখকে দূরে রেখে
আমায় সুখী করে,
হাজার কষ্ট বুকের মাঝে
হাসি রাখে মুখে।

সকাল হলে কাজের তাগিদ,
রাতেও চিন্তার ভার,
সন্তানেরই মুখের হাসি
বাবার সুখের সংসার।

নিজের কত স্বপ্ন ছিল,
কত ইচ্ছা মনে,
সবকিছুই বিলিয়ে দিল
সন্তানের জীবনে।

ছেঁড়া জুতো, পুরোনো জামা,
তবু অভিযোগ নেই,
সন্তানের মুখে হাসি দেখলে
আর কিছুই চাই না সেই।

বাবার হাতের শক্ত মুঠোয়
নিরাপত্তার বাস,
বাবার চোখের গভীর কোণে
লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা।

ছোট্টবেলায় হাতটা ধরে
শিখিয়েছিল চলা,
ভুল করলে শাসন করে
শিখিয়েছিল বলা।

আজকে যখন বড় হয়েছি,
বুঝি মনের কথা,
বাবার নীরব ত্যাগের মাঝে
লুকিয়ে কত ব্যথা।

নিজের দুঃখ কাউকে না বলে
চলেছে জীবনভর,
আমার মুখে হাসি ফোটাতে
পেরিয়েছে কত ঝড়।

বাবা তুমি পাশে থাকলে
ভয়টা দূরে যায়,
তোমার শেখানো সাহস নিয়ে
জীবন এগিয়ে যায়।

সময় একদিন বদলে দেবে
চেনা দিনের ছবি,
তবু তোমার ভালোবাসা
থাকবে হৃদয়জুড়ে চিরদিনই।

বাবা তুমি মাথার ছাদ,
জীবনপথের আলো,
তোমার মতো আপন মানুষ
পৃথিবীতে নেই আর কোনো।

যতদিন এই প্রাণে শ্বাস,
যতদিন চোখে আলো,
ততদিন তোমায় ভালোবাসব,
বাবা, তুমি থেকো ভালো।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: জীবনের পথে একলা পথিক।

একলা পথে হাঁটছি আমি,
সঙ্গী শুধু ছায়া,
বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখি
হাজার স্বপ্ন-মায়া।

কত মানুষ এল জীবনে,
কত আপন হলো,
সময়েরই স্রোতে ভেসে
কত দূরে গেল।

কেউ দিয়েছে মিষ্টি হাসি,
কেউ দিয়েছে ব্যথা,
কেউ আবার শিখিয়েছে
চুপ করে থাকা কথা।

তবু আমি থামিনি আজও,
হারাইনি যে আশা,
ঝড়ের মাঝে খুঁজে ফিরি
একটু ভালোবাসা।

আকাশ যখন মেঘে ঢাকে,
সূর্য যায় যে হারিয়ে,
মনটা তখন স্বপ্ন আঁকে
নতুন রং ছড়িয়ে।

পথের ধুলো মেখে মেখে
শিখেছি পথ চলা,
হাজার বাধার মাঝেও আমি
শিখেছি কথা বলা।

জীবন কখনো নদীর মতো,
কখনো মরুর বালি,
কখনো আবার বসন্ত হয়ে
ফোটায় ফুলের ডালি।

হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি
ডাকে বারেবারে,
তবু নতুন সকাল আমায়
নতুন পথে টানে।

যারা আমায় ছোট করেছে,
করেছে অবহেলা,
তাদের জন্য রাখব না আর
অভিমানের মেলা।

নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে
এগিয়ে যাব দূরে,
একদিন ঠিক স্বপ্নগুলো
ফুটবে জীবনজুড়ে।

একলা পথের পথিক আমি,
তবু ভয় কীসের?
মনের মাঝে সাহস থাকলে
জয় আসবেই শেষে।

জীবন মানে লড়াই করে
নিজের জায়গা গড়া,
হাজার ঝড়ের পরেও আবার
নতুন করে দাঁড়ানো।

তাই তো আজও পথ চলি আমি,
চোখে নতুন ভোর,
একদিন আমার জীবনজুড়ে
হাসবে সুখের ঘোর।

Share This
Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: মায়ের আঁচলে পৃথিবী।

মায়ের আঁচল ছোট্ট ঘর,
তাতেই সুখের বাস,
মায়ের মুখের মিষ্টি হাসি
মেটায় মনের ত্রাস।

মায়ের কোলে মাথা রেখে
কত স্বপ্ন বুনি,
মায়ের মুখে গল্প শুনে
রাতের আকাশ গুনি।

নিজের সুখটা ভুলে গিয়ে
আমায় সুখী করে,
নিজের চোখের জল লুকিয়ে
হাসি ফোটায় ঘরে।

আমার ব্যথায় মায়ের চোখে
জমে নীরব জল,
আমার হাসি দেখলে আবার
ভরে ওঠে মন।

ছোট্টবেলার সেই দিনগুলো
আজও মনে পড়ে,
মায়ের হাতের ভাতের গন্ধ
মনকে কাছে টানে।

যখন আমি হেরে যেতাম
জীবনযুদ্ধের মাঠে,
মা-ই বলত, “ভয় পাস না রে,
আমি আছি তোর সাথে।”

আজকে আমি অনেক বড়,
পেরিয়েছি কত পথ,
তবু মায়ের কাছে গেলে
শান্ত হয় মন।

সময় বদলায়, মানুষ বদলায়,
বদলায় জীবনের সুর,
মায়ের ভালোবাসা কিন্তু
থাকে চিরকাল ভরপুর।

মায়ের ঋণ শোধ হবে না
হাজার জন্মেও,
মায়ের মতো আপন মানুষ
পাব না পৃথিবীতেও।

যতদিন এই প্রাণটা আছে,
যতদিন বইবে শ্বাস,
মায়ের মুখে হাসি ফোটানো
হোক জীবনের আশ।

পৃথিবী যদি দূরে সরায়,
বন্ধ হয় সব দ্বার,
মায়ের দুটো হাত বাড়ালেই
ফিরে পাই সংসার।

মা যে শুধু একটি শব্দ
নয়কো কোনো নাম,
মায়ের মাঝেই খুঁজে পাই
ভালোবাসার ধাম।

যাদের মাথায় মা রয়েছেন,
তাঁরা বড়ই ধনী,
মায়ের আশীর্বাদে জীবন
হয়ে ওঠে রঙিন।

তাই তো বলি, মাগো তুমি
থেকো আমার পাশে,
তোমার মুখের হাসিটুকু
ফুটুক বারোমাসে।

মা, তোমার চরণতলে
আমার পৃথিবীখানি,
তোমার ভালোবাসার কাছে
হার মানে সব বাণী।

Share This