Categories
কবিতা

কূয়াশা ছেড়া রোদ : লাজু চৌধুরী।

যদি একবারও মনে হয়
আমি ভুল করেছি –
তাহলে ভেবে নিবো নীঃসঙ্গাও আমার সাথে প্রতারণা করেছে।
সকালে শিশির বিন্দু গুলিও কি আমার চোখে ধোকা
দিয়েছে।
ভীষন কষ্ট হয় তোমাকে বুঝতে-
পৃথিবীর সব সুন্দর তোমাকে দিয়েছি মাঝে মাঝে
কুয়াশার চাদর তোমার শরীর মুড়ে দিয়েছি।

বাতাসে পাখির শিষের শব্দে তোমার ঘুম ভেঙ্গেছে।
সাগরের সব নীল আমি তোমার দুচোখে দিয়েছি।
প্রকৃতির গাঢ় লাল অথবা সবুজ তোমার শরীর ছুঁয়ে গেছে…….
তারপরেও যদি বলো আমি ভুল করেছি
তাহলে আজ এই বিকেলের বিদায়ের আলোতে
আমার মৃত্যু দেখো।

পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে ডাস্টবিনে সামনে পড়ে
থাকা আমার মৃত দেহ।
দিগন্ত প্রসারিত আষাঢ় বেলায় কত হাজার বার
উচ্চারণ করেছি
অনেক ভালোবাসি তোমাকে।
কিন্তু চিনা বাদামের খোসা হাতের তালুতে নিয়ে ফু
দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছ তুমি ।
সাগরের সব নীল ধূসর হয়ে যাবে
যখন আমার মৃত্যুর খবর শুনবে

Share This
Categories
কবিতা

একা বেদনা নিয়ে এক : রাণু সরকার।

একা একা দুজন দু’টি পাড়ে ছিলো-
একদিন তারা গভীর প্রেমরসে আবদ্ধ হলো!
একের গায়ে এক লেগে যখন হয়েছিলো দুই-
দু’টি হৃদয় মিলেমিশে একদিন এলো মধুকাল!
ভালোই চলছিলো প্রমোদবিহার,
আহ্লাদে বাহ্যজ্ঞানহীন,
এ’টাই প্রকৃতির নিয়ম-
চিরন্তন সত্য!

মন্থর গতিতে একদিন ধেয়ে এলো ব্যাধি, ঘটলো একের অবসান,
একের পাস থেকে চলে গেলো এক
নিঃস্ব কাঙাল করে,
হারিয়ে গেলো ভালোবাসা,
পড়ে রইল এক, একা- বেদনা নিয়ে।

Share This
Categories
কবিতা

এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে :::: রাণু সরকার।।।

চলে তো গিয়েছিলে,
আবার কেনো এলে-
কুড়ি বছর পর?
কষ্ট গুলোকে সংগ্রহ করতে গিয়ে আরো কষ্ট জন্ম নিলো।

দেখছোনা ওরা জ্বলছে–
দিলেতো সব ভণ্ডুল করে,

নমিত শরীর বারবার ওঠাবসা করতে পারি না যে–
কিছু কষ্ট কোথায় যে লুকিয়ে পড়লো কী জানি–
কিছুক্ষণ আগেও ওরা ছিলো।
ওদেরও ভয় আছে জ্বলার, যে কী জ্বালা একমাত্র আমিই জানি।
ভাবছিলাম বসে,
ওরা কোথায় থাকতে পারে।

তুমি এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে-
হয়তো তোমার ভয়ে তারা লুকিয়ে পড়েছে।
একটুও পালটাওনি তুমি, আগের মতই আছো।
এই বয়সে এসেও গর্হিত বস্ত্র পরিধান করেছো
যাগ্গে-আমার বলাটাই অপ্রয়োজনীয়,

কষ্ট গুলো ভালোই জ্বলছিলো-
প্রথমে তো আসতেই চাইছিলো না,
জোরপূর্বক জ্বালাতে হলো,
কেনো না এদের সান্নিধ্যে আর থাকতে
পারছি না।

কেনো এলে তুমি?

আমি তো অট্টালিকা ও মূল্যবান যাকিছু ছিলো সব তো দিয়ে এসেছি।
সাথে করে কিছুতো আনিনি,
তবে কেনো এলে আমার জীর্ণ কুটিরে?
এসেই আমার কষ্টের আগুনে দিলে জল ঢেলে।
এই ধোঁয়ায় কষ্ট গুলো ছটফট করছে-
একবারে পুড়ে গেলে এতো কষ্ট হতো না।

এ- তুমি কী করলে অর্ধমৃত করে রেখেদিলে !

Share This
Categories
কবিতা

আচমকা : রাণু সরকার।

হৃদয়টা রইলো পড়ে বৃষ্টিতে সিক্ত,
রোদ্দুরের তপ্ত আদ্রতা,
কিছু দূরে ছোট্ট এক জলাশয়,
প্রতিদিন জল নিতে আসতো লাজুক
এক মেয়ে!

দেখে মনে হয় দুর্ভিক্ষ আক্রমন করেছে তারে।
শরীরে বাসা বেধে চরম ব্যাধিতে
চোখের বিস্ময় থেকে আঙুলের প্রতিটি ডগায়
তার দুঃখ-কষ্ট !

জ্যোৎস্নার উৎসবে অকস্মাৎ বেজে উঠলো মাদল!
কী তার কারণ ?
বৃষ্টির দিনে জঙ্গলে জেগে ওঠে কামনা!
সুঠামদেহী সুদর্শন পুরুষ সাত রঙে-
চালিত করছে রূপ!

আর তার খুব কাছেই ছিলো।
আচমকা মধুলোভীর নিশ্বাস গায়ে আসে,
হিংস্রের মত দুর্গন্ধ!
গভীর স্তব্ধতা চেয়েছিল হলো না,
কোথা থেকে ছুটে এলো বিকট আওয়াজ
তারা বিপরীত দিকে চলে গেল।
জীবনে আর দেখা হবে না!

Share This
Categories
কবিতা

জানা নেই গন্তব্যস্থল :: রাণু সরকার।।।।

শরতের আকাশ দেখতে ভীষণ ভালো লাগে,
প্রতি শরতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি
দল বেঁধে কারা যেন চলছে খড়ের আঁটি মাথায় নিয়ে।
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে দেখি, অতোদূরে।
কষ্ট করে দৃষ্টিনিক্ষেপ করি,

ওদের গন্তব্যস্থল জানা নেই, চলছে তো চলছেই
দলের মধ্যে বৃদ্ধ বেশি,
কিশোর কম।
আবার কখন দেখি,
তুলোর পুঞ্জ মথায় নিয়ে ধীরগতিতে চলছে বৃদ্ধদের দল-
কিশোররা চলছে ক্ষিপ্রবেগে।

বৃদ্ধদের মুখ গম্ভীর দেখে মনে হচ্ছে অব্যক্ত
কত ভাষা অন্তরালে,
আমি ডেকেছিলাম-
একটু থমকে দাঁড়াল
কীজানি কী মনে হলো, আবার মন্থর গতিতে
চলতে লাগলো।

ওরা যাচ্ছে কোথায়?
আমায় ভাবনারা কুঁড়ে কুঁড়ে খায়!

Share This
Categories
কবিতা

একটি রাত : রাণু সরকার।।।

আমি ঋণগ্রস্ত,
কে দেবে দেনার দায় থেকে রেহাই?
বিলম্ব হবে না পরিশোধ করতে!
পাওনাদার প্রতিদিন দৈহিক নির্যাতন করছে-

একটি রাতের জন্য চাই,
দেবে কী?
ঋণের পরিমাণের উপর যে মূল্য-
তার বেশি আমি দেবো!

নেবো শুধু তোমার হাতে-
ঋণের দায় থেকে তবেই পাবো
নিষ্কৃতি!
শুধু একটি রাতের জন্য!

আমার একটু চাওয়া আছে-
যেভাবে অসত্য বলো-
সব শিখবো এক রাতে,
উড়ে বেড়াতে পটু-
প্রচরণশীল বিহগের মতো-
কখন অমতে ঐকাত্ম্য হতে চাওয়া!

Share This
Categories
কবিতা

জানা নেই গন্তব্যস্থল : রাণু সরকার।

শরতের আকাশ দেখতে ভীষণ ভালো লাগে,
প্রতি শরতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি
দল বেঁধে কারা যেন চলছে খড়ের আঁটি মাথায় নিয়ে।
অস্পষ্ট দৃষ্টিতে দেখি, অতোদূরে।
কষ্ট করে দৃষ্টিনিক্ষেপ করি,

ওদের গন্তব্যস্থল জানা নেই, চলছে তো চলছেই
দলের মধ্যে বৃদ্ধ বেশি,
কিশোর কম।
আবার কখন দেখি,
তুলোর পুঞ্জ মথায় নিয়ে ধীরগতিতে চলছে বৃদ্ধদের দল-
কিশোররা চলছে ক্ষিপ্রবেগে।

বৃদ্ধদের মুখ গম্ভীর দেখে মনে হচ্ছে অব্যক্ত
কত ভাষা অন্তরালে,
আমি ডেকেছিলাম-
একটু থমকে দাঁড়াল
কীজানি কী মনে হলো, আবার মন্থর গতিতে
চলতে লাগলো।

ওরা যাচ্ছে কোথায়?
আমায় ভাবনারা কুঁড়ে কুঁড়ে খায়!

Share This
Categories
কবিতা

এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে : রাণু সরকার।

চলে তো গিয়েছিলে,
আবার কেনো এলে-
কুড়ি বছর পর?
কষ্ট গুলোকে সংগ্রহ করতে গিয়ে আরো কষ্ট জন্ম নিলো।

দেখছোনা ওরা জ্বলছে–
দিলেতো সব ভণ্ডুল করে,

নমিত শরীর বারবার ওঠাবসা করতে পারি না যে–
কিছু কষ্ট কোথায় যে লুকিয়ে পড়লো কী জানি–
কিছুক্ষণ আগেও ওরা ছিলো।
ওদেরও ভয় আছে জ্বলার, যে কী জ্বালা একমাত্র আমিই জানি।
ভাবছিলাম বসে,
ওরা কোথায় থাকতে পারে।

তুমি এলে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে-
হয়তো তোমার ভয়ে তারা লুকিয়ে পড়েছে।
একটুও পালটাওনি তুমি, আগের মতই আছো।
এই বয়সে এসেও গর্হিত বস্ত্র পরিধান করেছো
যাগ্গে-আমার বলাটাই অপ্রয়োজনীয়,

কষ্ট গুলো ভালোই জ্বলছিলো-
প্রথমে তো আসতেই চাইছিলো না,
জোরপূর্বক জ্বালাতে হলো,
কেনো না এদের সান্নিধ্যে আর থাকতে
পারছি না।

কেনো এলে তুমি?

আমি তো অট্টালিকা ও মূল্যবান যাকিছু ছিলো সব তো দিয়ে এসেছি।
সাথে করে কিছুতো আনিনি,
তবে কেনো এলে আমার জীর্ণ কুটিরে?
এসেই আমার কষ্টের আগুনে দিলে জল ঢেলে।
এই ধোঁয়ায় কষ্ট গুলো ছটফট করছে-
একবারে পুড়ে গেলে এতো কষ্ট হতো না।

এ- তুমি কী করলে অর্ধমৃত করে রেখেদিলে !

Share This
Categories
কবিতা

একটি রাত : রাণু সরকার।

আমি ঋণগ্রস্ত,
কে দেবে দেনার দায় থেকে রেহাই?
বিলম্ব হবে না পরিশোধ করতে!
পাওনাদার প্রতিদিন দৈহিক নির্যাতন করছে-

একটি রাতের জন্য চাই,
দেবে কী?
ঋণের পরিমাণের উপর যে মূল্য-
তার বেশি আমি দেবো!

নেবো শুধু তোমার হাতে-
ঋণের দায় থেকে তবেই পাবো
নিষ্কৃতি!
শুধু একটি রাতের জন্য!

আমার একটু চাওয়া আছে-
যেভাবে অসত্য বলো-
সব শিখবো এক রাতে,
উড়ে বেড়াতে পটু-
প্রচরণশীল বিহগের মতো-
কখন অমতে ঐকাত্ম্য হতে চাওয়া!

Share This
Categories
কবিতা

কালপুরষ : রাণু সরকার।

কালপুরুষ, আমি কে? চেনো আমাকে?
আমি যন্ত্রণাতুরা, এবার চিনেছো আমাকে?

আমার হৃদয়ে সদা বসবাস এক যন্ত্রণায় কাতর নারী।

আমার চোখ দেখে বুঝতে পারবে চোখের জলের আচ্ছাদন?

আমি আছি আমার মত-
আমার চোখের আচ্ছাদন গাঢ় রাতের মত- তাকে নিয়ে আমার বসবাস।

Share This