Categories
কবিতা

আশা : রাণু সরকার।

আশা এতো ক্ষুধাতুর কেঁদে মরে অন্তরে,
স্বাভাবিক নিয়মে দিনের পর দিন ;
ওর ক্ষুধা বেড়ে যাচ্ছে-
কষ্ট হলো বটে,
তবুও মনের কষ্টে কিছু বহিষ্কার করলাম-
যেতে কী আর চায়,
ঘুরেফিরে আবার এলো জ্বালাতে।
ওর এতো জ্বালা পাগোলের মতো লাগছিলো,
তখন ইচ্ছে হলো-
আশাকে আগুনে নিক্ষেপ করতে,
করলামও-
এতো প্রবঞ্চক অন্তর ভেঙে করছে হাজার খণ্ড কি করে ভালোবাসি?
আমি তো চিনি ওকে-
একরকম হত্যা করেছে আমাকে বাঁচিয়ে রেখে।

Share This
Categories
কবিতা

কালপুরষ : রাণু সরকার।

কালপুরুষ, আমি কে? চেনো আমাকে?
আমি যন্ত্রণাতুরা, এবার চিনেছো আমাকে?

আমার হৃদয়ে সদা বসবাস এক যন্ত্রণায় কাতর নারী।

আমার চোখ দেখে বুঝতে পারবে চোখের জলের আচ্ছাদন?

আমি আছি আমার মত-
আমার চোখের আচ্ছাদন গাঢ় রাতের মত- তাকে নিয়ে আমার বসবাস।

Share This
Categories
কবিতা

গণিকা : রাণু সরকার।

যাদের শরীরে কালো রেখাঙ্কনের ছাপ-
তারা হলো গণিকা,
সর্বসাধারণ তাদের ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন,
দেখারই কথা,
সব মানুষ তো সমান নয়
যে কর্ম করেন তারা, সমাজের চোখে ঘৃণার
আমি ওদের ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখিনা বা পরিবাত করি না বরং বাহবা দিই….

একবারও কী ভেবে দেখেছি?

রীতিনীতির বিরুদ্ধে তারা, বিকৃত বুদ্ধির
কিছু মানুষ আছেন তাদের আবশ্যকতা আপাতত নির্মল ও কলুষমুক্ত রেখেছেন সমাজকে।

কামনা বাসনা আপন শরীরে দিয়েছে আশ্রয়-
সেটা যেভাবেই হোক না কেনো-
অভাবে বা স্বভাবে দু’রকমের নারী আছে।
দুষ্কর্মকারীদের বিকৃত কামনা বাসনাকে বেঁধে তো রেখেছে তাদের শরীর দিয়ে।
যদি ওরা এই কর্ম না করতো
তাহলে তো সমাজটা নরক হয়ে যেত-
সাধারণের বসবাসের অযোগ্য হতো সমাজ।।

Share This
Categories
কবিতা

আনমনে : শীলা পাল।

ভাবনারা ছুটে চলে
হাল্কা পাখির মত কখনও আকাশ কখনও মাটিতে
তোমার রূপোলী চুলে
ঢেউ লাগে অলস হাওয়ার
বৃদ্ধ গাছটি সস্নেহে ছায়া মেলে বলে ভাল আছ
তুমি মৃদু হেসে বললে
এখন যেমন থাকা যায়।
জগতের নিয়মে সবাই চলেছি
ভাল মন্দ চাওয়া পাওয়া
একদিন সব ভেসে যাবে
জানি তবু থামতে পারি না।

Share This
Categories
কবিতা

খরা : রাণু সরকার।

পিপাসু শস্যক্ষেত্র,
অনাবৃষ্টিতে হৃদয়ভরা পিপাসার
প্রচণ্ড দহন!
বাদলের তীব্র আবেগে
হবে সে ঋতুমতী!
তার অভিলাষ সে সগর্ভা হবে!
বীজকোষ জায়া অঙ্গে পরিপোষণ কোরে প্রতিভাসিত করবে নিজ বৃত্তের মাঝে,
সম্পূর্ণায়ন জীবনাবর্তের।

Share This
Categories
কবিতা

আকাশ জানে একলা থাকার কষ্ট : লাজু চৌধুরী।

চলো দূরে কোথাও হারিয়ে যাই
দীঘল নদীর জলে ডুবে ডুবে
জীবনের স্বাদ খুঁজি।
ও ভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?
তুমি সমুদ্র ভালোবাসো চলো সমুদ্রের কাছাকাছি যাই
সমুদ্রের গর্জন শুনতে তোমার ভালো লাগবে।
রাত জেগে পাশাপাশি বসে থাকবো সমুদ্রের ধারে –
মাঝে মাঝে খুব রাগ হয় তোমার এই নীরবতায়।

“আমার যে ভালো লাগছেনা তা প্রকাশ করেছি বিন্দু মাত্র।
আর নীরবতার কথা বলছো —
প্রকৃতি সে তো আমায় টানছে।
এসো পাহাড়ি ঝর্ণা দেখবো আমরা দুজনেই স্নাণ করবো
তুমি ও ভাবে তাকাবে না ।
আমি মোমের মত গলে গলে যাচ্ছি।
তোমার ঐ চোখে কি আছে?”

এবার আমার হাতটা ধরো আমরা কিন্তু পাহাড়ি ঝর্ণার
কাছাকাছি।
এসো আমরা স্নণ করবো অনেক দিনের অপেক্ষা
খুব লজ্জা করছে তোমার এখানে কেউ নেই।
শুধু তুমি আর আমি।
তোমার হাঁটু ছেড়ে যাওয়া লম্বা বেনুণী খুলে ফেলো।
খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে।
এ ভাবে কখনও দেখিনি তোমাকে।
তুমি এই অরণ্যের রাজ কন্যা —

“আর তুমি মেঘনাথ ”
হঠাৎ আচমকা ট্রেনের হুইসালের শব্দের মত কেপে ওঠে অরণ্য।
“খুব হাসছো তাইনা ”
তোমার হাসির শব্দে প্রকৃতি নানা রুপ ধারন করছে।

“আমার হাতটা শক্ত করে ধর পাহাড়ের গাঁয়ে সন্ধ্যা
নেমে এসেছে।
তুমি আর আমি আকাশের শরীর ছুঁয়ে এসেছি ”
বুঝেছি তোমার হাত শক্ত করে ধরতে হবে।

“আমি তো আগেই বলেছি তোমার হাত ধরে পৃথিবীর
পথে হাঁটবো।

রেখেছিলো সেদিন ও আমার হাতে হাত
অনাবিল আনন্দ ভালোবাসার স্পর্শ এখোনো সারা
শরীর ছুঁয়ে আছে।

আমি আজ তোমার শহরে
তোমাকেই খুঁজছি —
রোদহীন শহর শেওলা পড়া পিজঢালা পথ এক পশলা
বৃষ্টি।
তারপরেও এ শহরে অসুখ ধরেছে।
এই যান্ত্রিক শহরে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
পায়ে পায়ে জনতার ভিড়ে হাড়িয়ে যাই ব্যস্ততার চাপে।
কাশবনের আপন আলোয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে
যেতে মন চায়।

আকাশ জানে একলা থাকার কষ্ট
……………………………………………..💖লাজু চৌধুরী –

Share This
Categories
কবিতা

একটি কথোপকথন : রাণু সরকার।

এই মেয়ে, একই সময় রোজ পুকুর পাড়ে বসে কী ভাবিস?

কী আর ভাববো, বর্তমানের কথা ছাড়া কী আর আছে আমার।

তোর নাম কিরে মেয়ে?

আমার নাম ? হা হা হা হা —

হাসছিস যে–
হ্যাঁ, তোর নাম কী বল?

কী বলি- সবাই বরাঙ্গনা বলে ডাকে , এটা আবার নাম হয়? হ্যাঁ গো বাবু হয় আমাদের মতো মেয়েদের ভালো নামে কেউ ডাকে না।
ভালো করে কথা বল? তোর নাম কী?

শরীর- সবাই তো এই নামে ডাকে ও চেনে।

এইসব কাজ করিস কেনো?

সে অনেক কথা, বাবু।
বলতে বলতে ভোর হয়ে যাবে।

আসুক ভোর, তবু তুই বল-
তুই লেখাপড়া জানিস?

কিছু জানি।

তবে কোথাও না কোথাও কাজ করতে পারতিস, এই কাজে কেনো এলি?

মায়ের ক্যানসার বাবার প্যারালিসিস, ভাইটা বিয়ে করে চলে গেছে বাড়ি থেকে, আমি আর যেতে পারিনি এদের ছেড়ে।
তবে এই কাজ কেনো?
এতো টাকা কোথায় পাবো- তাই বেছে নিলাম এই কাজ।
অনেক টাকা একবার বিছানায় গা ঠেকালেই।

আমি কিছু টাকা দেবো নিবি?

নেবো তবে কখন কোথায় গা এলাতে হবে বলুন।

থাম মেয়ে, আমি এ ধরনের মানুষ নই।

তবে কাজ ছাড়া টাকা দেবেন কেনো?

আমার ইচ্ছে হলো তাই।

আপনার ইচ্ছে আমি নাও তো মানতে পারি।

তুই এই কাজ করবি না কখনো।

তাহলে আমার চলবে কি করে?

আমি একটা ব্যবসা করি, তুই আমার এই ব্যবসায় সাহায্য কর।বল করবি?

করবো বাবু, আমাকে বাঁচালেন বাবু, আমি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারিনি টাকার অভাবে।

ঠিক আছে, এই আমার নম্বর দিলাম। যোগাযোগ করিস, ঠিকানা বলে দেবো।
আমি চলে যাচ্ছি, মনে যেন থাকে, কাল চলে যাস আর এই কাজ কখনো করবি না।
এবার তোর নামটা বল?
আমার নাম শিউলি,
বাহ্ খুব সুন্দর নাম,
ঠিক আছে বাড়ি চলে যা এখনই,ওই দিকে আর যেতে না দেখি।
ঠিক আছে বাবু এখই চলে যাবো, আমার কথা গুলো যেন মনে থাকে, হ্যাঁ বাবু মনে থাকবে।
কাল চলে যাবো আপনার অফিসে, কিন্তু? কী কিন্তু?বল?থামলি কেনো? আমাকে যে সবাই চেনে বাবু, আপনার সম্মান হানি হবে না তো?
আপনি আর একবার ভেবে দেখুন বাবু?
আপনি সম্মানিত ব্যাক্তি আমি চাই না আমার জন্য আপনার কোন ক্ষতি হোক।
বেশি কথা বলার স্বাভব পাল্টাতে হবে-
আমার ব্যাপার আমি বুঝে নেবো তোর মাথা ব্যথা করতে হবে না ।
আমি যা বলেছি তাই করবি মনে যেন থাকে আজ চললাম কাল দেখা হবে।

Share This
Categories
কবিতা

আহুতি : রাণু সরকার।

দুঃখ, সে তো যজ্ঞের উজ্জ্বল শিখা-
জ্বলছে অবিরাম,
প্রনয়, এক সময় দীপ্যমান তবে
নিত্য সংশয়ের সম্মুখীন হতে হয়!
প্রেম, সে তো খুবই দুর্লভ বিষয়-
বিরহ, এখন তীর্থে বাস করতে চায়-
যজ্ঞের উজ্জ্বল শিখায় আতুর নিকষিত প্রাণ!

মুক্তি পায় না তৃষ্ণাতুরা, পরিতাপের তীব্র দহন চলে অবিরাম,
গৌরব ক্ষয় হয়,
অশ্রুজলের উৎসবে স্নান সারা হয়!

মৃগতৃষ্ণার পূর্ণতা পাওয়া দুর্লভদর্শন
যজ্ঞের উজ্জ্বল দীপশিখায় দিতে হয় আহুতি,
ঘরণী প্রাণ কী ভঙ্গুর?

Share This
Categories
কবিতা

ইশারা : রাণু সরকার।

তুমি ইশারা করে কি
যে বলো-ধুত্ ছাই-
তোমার ইশারার কথা
আমি বুঝি না-
তবে বোঝার চেষ্টা করি,

ইশারায় কি জানি কি বলো
বুঝতেই পারি না,
কেনো ইশারায় ডাকো?
আমি তো একদিন বলেছি
তোমার হয়তো মনে নেই
বেশি দূরে যাই না-
যেতেও পারিনা-
ভয় পাই তুমি তো জানো!

যদি ফিরে আসতে না পারি,
হাত ধরে খাদের কিনারায়
যদি নিয়ে যায়!
মনটা যদি পিছলে খাদে
পড়ে যায়-

আমি বলেছি তো বেশি
দূরে যাই না,
কাছে পিঠেই থাকি,
হাত দু’টি প্রসারিত করে
উচ্চস্বরে ডাক দিয়েই দেখো না-

এক ছুটে চলে আসবো
তোমার বুকে!
মনে কষ্ট পেওনা বুঝিনা বলে-
বলেছি তো–
তবে বোঝার চেষ্টা করি,
কিন্তু বেশি দূরে আমি যাই না!

Share This
Categories
কবিতা

কেউ আসে না ::: রাণু সরকার।।।

আজকাল তেমন একটা কেউ আসে না,
আসলে তাদের আসার অপেক্ষাতে তো আজ আর নেই,
কী আর থাকবো- ঝুড়িঝুড়ি প্রশ্ন নিয়ে আসে আমার কাছে।

আসলে এতো প্রশ্নের উত্তর রাখার মতো টুকরি নেই আমার-
আমি আবার এতো ভার বহন করতে পারিনা, কষ্ট হয় ভীষণ।

প্রাপ্তবয়স্ক হলে কি হবে- বহন করার ক্ষমতা আছে বেশ,এতোটুকুও ক্লান্তি নেই ওদের-
সেবার এসে অনেক প্রশ্ন রেখে গেলো, ভালোবেসে না রাগ করে জানিনা বাপু।

আলগোছে রেখেছি তুলে নাড়াচাড়া দেইনি-
আমি একটু আটপৌরে জীবন যাপন করে থাকি, জগৎ সম্পর্কে তেমন কোন কৌতুহল দেখাই না- যখন যা হবার হবে।
জীবন কী বুঝতে ঋতু লাগেনা।

Share This