Categories
প্রবন্ধ

ব্রুস লী : মার্শাল আর্টের এক কিংবদন্তীর উপাখ্যান, জেনে নেবো তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন ইতিহাস।

ব্রুস ইয়ুন ফান লী (নভেম্বর ২৭, ১৯৪০ – জুলাই ২০, ১৯৭৩) একজন চীনা মার্শাল আর্ট শিল্পী, শিক্ষক, অভিনেতা এবং জিৎ কুন দো নামক নতুন ধরনের মার্শাল আর্ট ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা। তার জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিস্কোতে। তাকে সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বিখ্যাত মার্শাল আর্ট শিল্পীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তার শিক্ষকের নাম ছিলো আয়প (ওয়াই আই পি) ম্যান।
ব্রুস লির জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে হলেও গায়ে বইছিল চিনা রক্ত। শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হংকংয়ে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সিনেমা ও টিভিতে শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করেন। বারো বছর বয়সে এক দিন রাস্তার কিছু বখাটে ছেলে শত্রুতাবশত তাঁকে মারধর করে। আর এ ঘটনাটাই আমুলে পাল্টে দেয় তাঁর জীবন, সেই সঙ্গে মার্শাল আর্ট আর বিশ্ব চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতও। পরবর্তী সময়ে মনপ্রাণ ঢেলে মার্শাল আর্টে তালিম নেন তিনি। এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আয়ু মাত্র পাঁচ বছর। এই শিল্পে যোগ করেন নিজস্ব ধাঁচের কুংফু কৌশল। মার্শাল আর্টের সঙ্গে আরও অনেক শারীরিক কলা জুড়ে দিয়ে তৈরি করেন নতুন আর্ট ‘জিৎ কুনে দো’। নাচে দক্ষ লি ১৮ বছর বয়সে জাতীয় প্রতিযোগিতায় হংকংয়ের ঐতিহ্যবাহী চা-চা নাচের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

 

এই জিনিয়াসের মেজাজটা ছিল বেশ কড়া। সে কারণে বেশ কয়েক বার হংকং পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই বাবা-মা তাঁকে পাঠিয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রে । ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের চায়নাটাউনে আত্মীয়ের রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন। ক’দিন বাদেই তিনি ওয়াশিংটনের সিয়াটলে এসে দর্শনশাস্ত্রে পড়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সিয়াটলেই তিনি তাঁর প্রথম কুংফু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় লি টিভিতে টুকটাক কাজ করতে থাকেন। ক্যালফোনির্য়ার ওকল্যান্ডে তিনি দ্বিতীয় কুংফু স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। টিভিতে কাজ করার সুবাদে তাঁর নামডাক হতে শুরু করে এবং তিনি আস্তে আস্তে হলিউডের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। সেখানে স্ট্যান্টম্যান ও পার্শ্বচরিত্রে কিছু কাজও করেন। সে ভাবে নজর কাড়তে না পারলেও আর্থিক ভাবে লাভবান হন। ফিরে আসেন হংকংয়ে। হংকংয়ে বেশ কয়েকটি ছবি নির্মিত হয় তাঁকে নিয়ে। দ্য বিগ বস (১৯৭১), ফিস্ট অফ ফিউরি (১৯৭২) ও দ্য ওয়ে অব দ্য ড্রাগন (১৯৭২) তার মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। রাতারাতি সর্বত্র হৈ চৈ পড়ে যায় তাঁকে নিয়ে। হলিউডে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয় ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ (১৯৭৩)। হলিউডে ব্রুস লি তখন এক সিনেমা দিয়েই বিশাল তারকা।

 

সারা বিশ্ব যখন কাঁপছে ব্রুস লি জ্বরে, এন্টার দ্য ড্রাগনের প্রিমিয়ারের কিছু দিন আগে হঠাৎ হংকংয়ে মারা যান ব্রুস লি। ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই মাত্র ৩২ বছর বয়সে।
একের পর এক বক্স অফিস কাঁপানো ছবি, মুভিতে নতুনত্বের ছোঁয়া, সর্বোচ্চ দর্শক জনপ্রিয় এই অভিনেতার মাত্র ৩২ বছর বয়সের মৃত্যু কারোর পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব ছিলো না। তাই স্বভাবতই ব্রুস লির মৃত্যু নিয়ে রয়েছে নানা সন্দেহ এবং বিতর্ক। হঠাৎ করেই ১৯৭৩ সালে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় ব্রুসলির মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয় এবং মস্তিষ্ক ফুলে উঠতে শুরু করে এবং মাথা ব্যথায় কাতর হয়ে যান তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় সেরিব্রাল এডেমা। ‌

 

ডাক্তারদের সার্বিক চেষ্টায় ব্রুস লি সেই যাত্রায় মস্তিষ্কের সমস্যা থেকে মুক্তি পান কিন্তু সেই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্তিষ্কের ফোলা কমতে শুরু করলেও আবারো ৬ সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তা আবার পূর্বের রূপ ধারণ করে। ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই তার সহ-অভিনেত্রী বেটি টিং পেইর কাউলুনের বাড়িতে একটি সিনেমার শুটিং এর আলাপচারিতার উদ্দেশ্যে যান। হঠাৎ করেই তার সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা অবস্থায় ব্রুসলির মাথা ব্যথা শুরু হয় এবং তাকে ইকুয়াজেসিক নামে একটি পেইন কিলার খেতে দেয়া হয়। পেইনকিলারটি খাওয়ার পর ব্রুস লি ঘুমাতে যান কিন্তু ঘুম থেকে ব্রুস লিকে কোনোভাবেই উঠানো সম্ভব হচ্ছিল না বলে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হয় এবং কয়েক ঘন্টা পর ঘোষণা করা হয় যে মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুস লি মারা গেছেন।
মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুস লির মৃত্যু নিয়ে অনেকগুলো বিতর্ক থাকলেও কোনো কারণকেই প্রকৃত কারণ হিসেবে ধরা যায় না। তাঁর মৃত্যু রহস্য আজও অমীমাংসিত। কেউ বলে ড্রাগ ওভারডোজ, কেউ বলে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে মৃত্যু নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের সূত্রপাত হয়। মার্শাল আর্ট জগতের কিংবদন্তী ব্রুস লির অকাল মৃত্যু এখনো পুরো পৃথিবীর কাছে আজও অমীমাংসিত একটি রহস্য হয়েই আছে।

 

ব্রুসলির সম্পর্কে মজার কয়েকটি তথ্য  পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
১। ব্রুস লি চাইনিজ নন! অনেকের ধারণা তার জন্ম চীনে। কিন্তু তার জন্ম হয়েছিলো সানফ্রান্সিসকোতে। বেড়ে ওঠা হংকংয়ে। তার দাদী ছিলেন একজন জার্মান ভদ্রমহিলা।
২। ব্রুস লি অসাধারণ নাচতে পারতেন। ১৯৫৮ সালে তিনি একটি নাচের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নও হন! তখন মাত্র হাই স্কুলে পড়তেন তিনি। অভিনয়, মার্শাল আর্টের ট্রেইনিংসহ দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের বাইরে নাচের অনুশীলনের জন্য আলাদা সময় বের করতেন তিনি।
৩। ব্রুস লি বাতাসের চেয়েও বেশি গতিতে ফাইট করতে পারতেন! এত ক্ষীপ্র গতিতে তিনি হাত চালাতেন যে প্রতিপক্ষ আঘাত প্রতিহত করারও সময় পেত না! ১৯৬২ সালেই একটি ফাইটে তিনি মাত্র ১১ সেকেন্ডে তার প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। এই ১১ সেকেন্ডে তিনি ১৫ টা ঘুষি আর একটা কিক করেছিলেন বেচারাকে।

 

৪। তার আসল নাম ছিলো লি-জান-ফান। কিন্তু তার পরিবার তাকে ডাকতো ম সি তুং যার অর্থ যে কখনো স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না। ব্রুস লি জন্মেছিলেন ড্রাগন বর্ষে। এটি প্রতি বারো বছর অন্তর অন্তর আসে। চীনাদের রাশিচক্রে যারা ড্রাগন বর্ষে জন্মায় তাদেরকে খুব ভাগ্যবান ও ক্ষমতার অধিকারী মনে করা হয়। যেহেতু সে ড্রাগন বর্ষে জন্মেছে , একারণে ব্রুস লিকে ছোট্ট ড্রাগন বলেও ডাকা হতো।
৫। দর্শনের বিষয়ে ব্রুস লির ছিল প্রবল আগ্রহ! মার্শাল আর্ট ও অভিনয়ের বাইরে ব্রুস লি আরেকটু কাজে খুব সময় দিতেন। সেটি হচ্ছে ফিলোসফি পড়া ও লেখা। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে তার পড়ার বিষয়ও ছিলো দার্শনিকতা। অনেকে বিভিন্ন বিষয়ে তার কাছে মতামত জানতে চাইতো, এবং তার কথাকে গুরুত্বও দিতো খুব। “দ্যা ওয়ারিয়র উইথইন” নামে ব্রুস লি’র দার্শনিকতার ইতিবৃত্ত নিয়ে একটি অসাধারণ বইও আছে, যেখানে এই বিশ্বকে আরো গভীরভাবে বোঝা ও একটি সফল জীবন গড়ার জন্যে কী করা উচিৎ সে সম্পর্কে বলা হয়েছে।
৬। ব্রুস লি ছিলেন একজন সত্যিকারের শিল্পী! ব্রুস লির নানান দিকে আগ্রহ ছিল। অবসরে তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। তাছাড়া কবিতাও লিখতেন তিনি! তার কবিতা সংকলিত হয়েছে “The Tao Of JeetKune Do”-এই বইটিতে। মার্শাল আর্ট আর ফাইটিংয়ের দৃশ্য বেশি আঁকতে পছন্দ করতেন তিনি। তার নিজের সংগ্রহের ২০০০+ বই নিয়ে একটি লাইব্রেরিও আছে। নতুন কিছু পড়তে তার খুবই ভালো লাগতো।
৭। ব্রুস লি ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না! তিনি এমন এক পরিবারে জন্মেছিলেন যেখানে তার মা ছিলেন একজন ক্যাথলিক ধর্ম বিশ্বাসী। আর বাবা ছিলেন একজন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। ছোটবেলায় তাকে ক্যাথলিক স্কুলে পাঠানো হলেও এক পর্যায়ে তাকে ধর্ম নিয়ে আর কোনো চাপ দেয়া হয় নি। একবার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন।
৮। কিছু কাজ ছিল যা ব্রুস লি একদমই করতে পারতেন না! সাঁতার পারতেন না, পানি দেখলেই তার ভয় করতো। বাইক, গাড়ি কোনোটাই তিনি চালাতে পারতেন না। তার বন্ধুদের মতে, তিনে ছিলেন একজন জঘন্য ড্রাইভার এইজন্য ব্রুস নিজেই মাঝেমধ্যে বন্ধুদের অনুরোধ করতেন তার হয়ে গাড়ি কিংবা বাইক চালানোর জন্যে!
৯। ব্রুস লি’র মৃত্যু নিয়ে এখনো গুঞ্জন চলে।
১০। ব্রুস অসাধারণ একটি উক্তি –
সবসময় নিজস্বতা ধরে রাখো, নিজেকে প্রকাশ করো, নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। সফল ব্যক্তিত্ব খুঁজে বেড়ানো আর তাদের নকল করে তাদের মতো হওয়ার চিন্তা বাদ দাও।

 

ব্রুস লির ২০টি অমিয় বাণী
ব্রুস লি অবসরে তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। মার্শাল আর্ট বা কারাতের দৃশ্য বেশি আঁকতেন তিনি। তার নিজের সংগ্রহের দুই হাজারের বেশি বই নিয়ে একটি লাইব্রেরিও ছিলো। কবিতাও লিখতেন, তার কবিতা রয়েছে তার লেখা ‘টাও অব জিত কুনে দু’ বা মার্শাল আর্টের কৌশল বইটিতে। এ বইয়ের কিছু কথা এখানে সংকলিত হলো-
১. ঘুসি বা লাথি মেরে কখনো জেতা যায় না।
২. টেলিস্কোপের চেয়ে চোখের জল দিয়েই মানুষ বেশিদূর দেখতে পায়।
৩. জ্ঞান মাত্রই নিজেকে জানা।
৪. পালাবে না, দৌড়াও।
৫. আমি খালি গা থাকতেই পছন্দ করি। মানুষ কাপড় পরে একে অপরকে মুগ্ধ করার জন্য।
৬. সুখি হও, কিন্তু অল্প সাফল্যে আত্মতুষ্টিতে ভুগো না।
৭. জ্ঞান তোমাকে শক্তি দেবে, কিন্তু সম্মান পেতে হলে দরকার ভালো চরিত্র।
৮.  লক্ষ্য থাকলেই সেখানে পৌঁছে যেতে হবে এমন নয়, কখনও লক্ষ্য মানে নিশানা বা তাক করা।
৯. জ্ঞানীর কাছ থেকে বোকা যা শেখে, জ্ঞানী তারচেয়ে বেশি শেখে বোকার প্রশ্ন থেকে।
১০. জ্ঞানই শেষ কথা নয়, জ্ঞানের প্রয়োগ চাই। ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়, কাজ করা চাই।
১১. অন্ধকারে হাঁটতে না চাইলে আলো প্রত্যাশা করা যায় না।
১২. পরাজয় মনের ব্যাপার, কেউ-ই পরাজিত নয় যতক্ষণ না সে মন থেকে পরাজয় মেনে নেয়।
১৩. সহজ জীবন চাও কেন? শক্তি চাও যেনো কঠিনকে মোকাবেলা করতে পারো।
১৪. ভুল ক্ষমা করে দেওয়া যায়, যদি তা স্বীকার করে সামনে এগুতে পারো।
১৫. স্বনির্ভরতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
১৬. যদি ভাবতেই থাকো, কাজ করতে পারবে না। জীবনের লক্ষ্যের দিকে প্রতিদিন অন্তত এক পা করে এগোও।
১৭. যদি আগামীকাল ব্যর্থ হতে না চাও, তাহলে আজ সত্যটা বলো।
১৮. সবচেয়ে শক্ত ঠাড়মোড় গাছটাই সবার আগে ভেঙে পড়ে, কিন্তু কঠিন বাতাসেও নিজের নমনীয়তা দিয়ে টিকে থাকতে পারে বাঁশ বা উইলো গাছ।
১৯ খারাপ বা নেতিবাচক চিন্তাকে মনে জায়গা দিও না, এগুলো হলো আগাছা যা তোমার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করবে।
২০. সত্যিকারের বেঁচে থাকা মানে অন্যদের জন্য বেঁচে থাকা।
তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা অভিনেতা, গায়ক ও নাট্যব্যক্তিত্ব – অসিতবরণ মুখোপাধ্যায় – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বাংলা ও হিন্দি সিনেমার জগতে এক অতি পরিচিত নাম অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়। অসিতবরণ পুরো নাম অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়  একজন বিখ্যাত ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেতা, গায়ক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

 

অসিতাবরণ ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় ১৯১৩ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।  জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের কাছ থেকে তবলা শেখার পর তিনি কলকাতা বেতারে তবলা বাদক এবং পরে গ্রামোফোন কোম্পানিতে কাজ করেন।  তিনি তার সুন্দর কণ্ঠের জন্য মাঝে মাঝে গানও করতেন।  নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মেলনে তার তবলা বাজানো শোনার পর, পাহাড়ী সান্যাল তার সাথে কথা বলে এবং তাকে নতুন থিয়েটারে নিয়ে আসে পারফর্ম করার জন্য।  তার আগে অবশ্য তবলা-বাজনার সঙ্গে ফিল্ম জগতের সম্পর্ক শুরু হয়।
প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ‘কাশীনাথ’ ছবিতে।  হিন্দি ছবি “পরিণীতা” থেকে তিনি নায়ক হিসেবে সারা ভারতে পরিচিতি লাভ করেন এবং “Waps” চলচ্চিত্র থেকে তার জনপ্রিয়তা সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।  সেই ছবিতে তাঁর কণ্ঠের গান হাম কোচোয়ান, হাম কোচোয়ান তাঁকে রাতারাতি বিখ্যাত করে তোলে।  ‘চলচল’, ‘পাঁচতপা’, ‘মা’-এর মতো ছবিতে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়।  বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের চোখে সেই সময়ে অসিতবরণ ছিলেন ‘আদর্শ নায়ক’।  চলচ্চিত্র জগতে তার ডাক নাম ছিল ‘কালোদা’।  মঞ্চ অভিনেতা হিসেবেও তার সুনাম ছিল।  ‘রাসারঙ্গ’ নামে একটি থিয়েটার দল গঠন করেন।  এই দলের মাধ্যমে তিনি শেষ জীবনে শোভাবাজার বি কে পালের বাড়িতে নুতু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সঙ্গীত আকারে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেবের জীবন কাহিনী পরিবেশন করতেন।  তিনি ঠাকুরের আখ্যান পরিবেশন করতেন।  মাত্র চার বছরে টানা তিনটি সুপারহিট ছবিতে অসাধারণ গান গেয়ে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করার বিরল নজির স্থাপন করেন তিনি।

 

তাঁর অভিনিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকা সমূহ—-

 

প্রতিশ্রুতি, ওয়াপস, কাশীনাথ, নার্স, দৃষ্টিদান, সুধার প্রেম’, প্রত্যাবর্তন, পরিণীতা, তিন বাতি চার রাস্তা, মন্ত্রশক্তি, হ্রদ, চলাচল, বন্ধু, আলোর পিপাসা,  জোড়াদীঘির চৌধুরীপরিবার,  এন্টনী ফিরিঙ্গী, পৃথিবী আমাদের চায়,  স্মৃতিটুকু থাক,  খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, ৮০তে আসিওমানুষ না,  বাঘবন্দী খেলা, কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী, সূর্যসাক্ষী।

 

জীবনাবসান—

 

১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ শে নভেম্বর এই খ্যাতনামা গায়ক-নায়ক  কলকাতায় প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ভারতীয় সংবিধান দিবস – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

সংবিধান দিবস হল একটি দেশের সংবিধানকে সম্মাননা জানানোর জন্য সরকারি ছুটির দিন। সংবিধান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এটি লিখিত আবার কোন কোন দেশের ক্ষেত্রে অলিখিত দলিল।

সাধারণভাবে সংবিধান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মকানুনকে বােঝায়। যে-কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে গেলে যেমন কতকগুলি সাধারণ নিয়মকানুনের প্রয়ােজন হয়, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায়। রাষ্ট্রের পরিচালনার জন্য একান্ত আবশ্যক এই নিয়মকানুনগুলি হল সংবিধান। সংবিধানের মৌলিক নীতিগুলি লিখিত বা অলিখিত, দুই-ই হতে পারে। এই কারণেও সংবিধানের শ্রেণিবিভাজন করা হয়ে থাকে।
দেশের শাসনব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলি যেক্ষেত্রে একটি দলিলের আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে লিখিত সংবিধান বলে। সাধারণত একটি সংবিধান পরিষদ বা কনভেনশন এসব সাংবিধানিক মৌলিক নীতিগুলিকে লিপিবদ্ধ করার কাজ করে থাকে। বিশ্বের প্রাচীনতম লিখিত সংবিধান হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান। সুইটজারল্যান্ড, ভারত, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের সংবিধান লিখিত সংবিধানের অন্যতম উদাহরণ।

 

 

ভারতে ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালিত হয়। দিনটি সম্বিধান দিবস নামেও পরিচিত। সংবিধান দিবস ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধান গৃহীত হওয়ার স্মরণে পালন করা হয়।

যে দিনটি ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল সেই দিনটিকে স্মরণ করার জন্য ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসাবে পালন করা হয়।সংবিধান গৃহীত হয় ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ সালে। এটি ২৬ জানুয়ারী ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়েছিল। ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ তারিখে সংবিধান এবং গণপরিষদ মিলিত হয়েছিল|উচ্চস্বরে ও দীর্ঘায়িত সমর্থনে  রাষ্ট্রপতির সংবিধান পাসকে স্বাগত জানানো হয়েছিল।গণপরিষদের সভাপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ সংবিধান পাশ করার প্রস্তাব দেওয়ার আগে তিনি বক্তৃতা ও মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেছিলেন মনে রাখবে যে এটি একটি অনন্য বিজয় যার রাস্তা আমরা জাতির পিতার দেখানো অনন্য পদ্ধতিতে অর্জন করেছি এবং আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তা রক্ষা করা এবং এটি সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য ফলপ্রসূ করে তোলা আমাদের উপর নির্ভর করে।
৯ ই নভেম্বর ২০১৫ সালে ডঃ বি আর আম্বেদকরের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীর বছরব্যাপী উদযাপনের সময় ভারত সরকার ২৬ শে নভেম্বরকে সংবিধান দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।সংবিধান পাশ হওয়ার পর প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী যোদ্ধা, অরুণা আসাফ আলী এবং প্রয়াত স্বাধীনতার বোন পূর্ণিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “জন-গণ-মন আধিনায়ক জয় হে, ভারত ভাগ্য বিধাতা” জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে গণপরিষদের ঐতিহাসিক অধিবেশন শেষ হয়। আগে এই দিনটি আইন দিবস হিসেবে পালিত হত। সংবিধানের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে এবং আম্বেদকরের চিন্তাভাবনা ও ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২৬ নভেম্বর দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

 

 

২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ভারত স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার ঠিক এক বছর আগে ১৯৪৬ সালে লেখা হয় ভারতের সংবিধান। যা এককথায় ‘সুপ্রিম রুল বুক’, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য। সংবিধান গণপরিষদ দ্বারা লিখিত, যার ড্রাফটিং কমিটির প্রধান ছিলেন বি.আর আম্বেদকর। ১৯৪৯ সালের আজকের দিনেই সংবিধান গ্রহন করেন গণপরিষদ। যদিও, আইনত তা বলবৎ হয়েছিল পরের বছর অর্থাৎ ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারী। সেই বছর থেকেই ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস বা জাতীয় আইন দিবস পালিত হয়।

সংবিধান দিবস প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর দিনটি পালিত হয়। দেশের নাগরিকের অধিকার এবং এই দেশের সংবিধানের সঙ্গে বড় আশ্চর্য ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে মাসের ২৬ নম্বর দিনটি! একটি আমাদের অতি সুপরিচিত জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখ, যা প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে প্রতি বছর। এ ছাড়াও ভারত, ভারতীয় নাগরিক এবং তার সংবিধানকে ঘিরে বছরের  নভেম্বর মাসের ২৬ নম্বর দিনটি উদযাপন করে থাকে।দিবসটির লক্ষ্য সংবিধানের গুরুত্ব ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভারতীয় সংবিধানের জনক বি .আর. আম্বেদকরের চিন্তাভাবনা ও ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া।

 

 

বি: দ্র:- বিশ্বের সমস্ত সার্বভৌম দেশগুলির মধ্যে ভারতীয় সংবিধান দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান। এটি ৪৪৮টি নিবন্ধ নিয়ে গঠিত এবং মোট ২৫ ভাগে বিভক্ত।  সংবিধানের মূল বইটি প্রেম বিহারী নারায়ণ রায়জাদা লিখেছিলেন। গোটা বইটি ইটালিক স্টাইলে লেখা হয়েছিল। সংবিধানের প্রতিটি পৃষ্ঠাসজ্জা করেছিলেন শান্তিনিকেতনের শিল্পীরা। যাদের মধ্যে ছিলেন রামমনোহর সিনহা এবং নন্দলাল বসু।

 

 

তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

শ্বেত বিপ্লবের স্থপতি ডক্টর ভার্গিস কুরিয়েনের ও জাতীয় দুগ্ধ দিবস – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর।  ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর দুধ শরীরের পুষ্টিতে অবদান রাখে।  প্রতিদিন দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে।  হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে এবং জ্ঞানীয় পতনের ঝুঁকি কমায়।  এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে।  দুধ খাওয়ার গুরুত্ব এবং এটি কীভাবে আমাদের উপকার করতে পারে সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর জাতীয় দুধ দিবস পালিত হয়।

 

জাতীয় দুধ দিবস হল ভারতে উদযাপিত একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান।  দুধকে ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  ক্যালসিয়াম ছাড়াও, দুধ প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির একটি চমৎকার উৎস।  এটি হাড়, পেশী এবং শরীরের সামগ্রিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  এটি শক্তি প্রদান করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।  ভারত একটি বিশাল দুগ্ধ শিল্প চালায় যা ভারতের জিডিপির প্রায় ৫.৩% অবদান রাখে।  দুগ্ধ শিল্পে ডক্টর ভার্গিস কুরিয়েনের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ২৬ নভেম্বর জাতীয় দুধ দিবস পালিত হয়।

 

ভারতে জাতীয় দুধ দিবস কবে পালিত হয়?

 

এটি ২৬ নভেম্বর পালিত হয়। জাতীয় দুধ দিবস হল একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান যা ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েনের জন্মবার্ষিকী স্মরণে উদযাপন করা হয়।  তাকে সম্মান জানানোর জন্য এটি উদযাপন করা হয় কারণ তিনি শ্বেত বিপ্লব এনেছিলেন এবং ভারতের দুগ্ধ শিল্পকে একটি স্বনির্ভর শিল্পে পরিণত করেছিলেন।  তার অবদানের কারণে, তাকে “শ্বেত বিপ্লবের জনক” হিসাবেও উল্লেখ করা হয়।
এই দিনটি ন্যাশনাল ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (NDDB) এবং ইন্ডিয়ান ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন (IDA) দ্বারা শুরু হয়েছিল।  ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর প্রথম জাতীয় দুধ দিবস পালিত হয়।

 

ডাঃ ভার্গিস কুরিয়ান কে ছিলেন?

 

ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েন একজন ভারতীয় ছিলেন যার জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯২১ সালে। তিনি একটি সিরিয়ান খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  আমরা তাকে শ্বেত বিপ্লবের জনক হিসেবে গণ্য করি কারণ তিনি দুগ্ধ শিল্পের দৃশ্যপট পরিবর্তন করেছেন কারণ তিনি সফলভাবে বিশ্বের বিস্তৃত প্রকল্প অর্থাৎ অপারেশন ফ্লাডের নেতৃত্ব দিয়েছেন।  একটি বিখ্যাত দুগ্ধ ব্র্যান্ড Amul তার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৯৮ সালে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী হয়ে ওঠে।
ভার্গিস কুরিয়েন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং পদ্মবিভূষণের মতো অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন।  তিনি বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার এবং কৃষি রত্ন দিয়েও ভূষিত হন।

 

জাতীয় দুধ দিবস থিম ২০২৩–

 

প্রতিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস একটি নির্দিষ্ট থিমকে ঘিরে পালিত হয়।  কিন্তু জাতীয় দুগ্ধ দিবসের কোনো প্রতিপাদ্য নেই।  এটি সাধারণভাবে দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উদযাপিত হয়, এবং দুগ্ধ শিল্পের পরিবর্তন এবং লোকেরা ভারতে দুধ বিপ্লবের জনককে শ্রদ্ধা জানায়।
যদিও বিশ্ব দুধ দিবসের একটি থিম রয়েছে।  এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে, বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৩ এর থিম হল ‘দুগ্ধ কীভাবে তার পরিবেশগত পদচিহ্ন কমিয়ে দিচ্ছে, সেইসঙ্গে পুষ্টিকর খাবার এবং জীবিকাও সরবরাহ করছে’।

 

জাতীয় দুধ দিবস: ইতিহাস ও তাৎপর্য—

 

জাতীয় দুগ্ধ দিবস ভারতের শ্বেত বিপ্লবের স্থপতি ডক্টর ভার্গিস কুরিয়েনের জন্মবার্ষিকীকে স্মরণ করে।  ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসার পর দুগ্ধ শিল্পে তার যাত্রা শুরু করেন।  কয়রা জেলা দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় লিমিটেড প্রতিষ্ঠায় তার অবদান প্রশংসিত।  কোম্পানিটি পরবর্তীকালে দেশের সবচেয়ে স্বীকৃত ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে বিকশিত হয়: আমুল।  ডক্টর কুরিয়েনও শ্বেত বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যা সম্পূর্ণরূপে সামরিক ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তন করেছিল।
এটি তিনটি পর্যায়ে অপারেশন ফ্লাডের মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা একটি দেশব্যাপী দুগ্ধ নেটওয়ার্ক তৈরি, দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সমস্ত কৃষকদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।  ২০১৪ সালে, ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (NDDB), ইন্ডিয়ান ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন (IDA) এবং ২২টি রাজ্য-স্তরের দুগ্ধ ফেডারেশন ডাঃ ভার্গিস কুরিয়েনের জন্মবার্ষিকীতে জাতীয় দুগ্ধ দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  তাই প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর বিশেষ দিনটি পালিত হয়।

দুধ বিপ্লবের কিছু সুবিধা নীচে তালিকাভুক্ত করা হল:

দুধ বিপ্লবের সুবিধা?

 

বিপ্লব দেশে দুধ উৎপাদন বাড়াতে ভারতকে সমর্থন করেছিল।

এটি দুগ্ধ শিল্পে কাজ করার মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ খাতকে আরও বেশি আয় করতে সহায়তা করেছে।

উচ্চ উৎপাদনের কারণে, অপারেশন খরচ হ্রাস পেয়েছে যা পণ্যগুলিকে ভোক্তাদের জন্য যুক্তিসঙ্গত করেছে।

২০১৬-১৭ সালে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী হয়ে ওঠে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আজ নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান ঘটানোর আর্ন্তজাতিক দিবস – জানব আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় তাদের অবস্থান আজ কোথায়!

আজ ২৫ নভেম্বর সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। দিন দিন বাড়ছে নারীর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা। পরিবার, সমাজ কোথাও রেহাই পাচ্ছেন না তারা। নারী নির্যাতন বলতে নারীদের ওপর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক যে কোনো ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনকে বোঝায়।
নারীর প্রতি সহিংসতার অবসান ঘটানোর আন্তর্জাতিক দিবস হলো জাতিসংঘ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বিশেষ দিবস যার লক্ষ্য হলো নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা। ১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত আন্দোলন করার জন্য প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাবেল—এই তিন বোনকে হত্যা করা হলে তাদের স্মরণে ১৯৮১ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

নারী পুরুষের সম-অধিকারের দাবিতে গলা ফাটানো চিৎকার আজকের নয়। বহুকাল আগে থেকেই শুরু হয়েছে এই জাগরণ।বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০০ জনে ৭ জন নারী কোনো না কোনোভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ৭ শতাংশ নারী সরাসরি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। উন্নত-অনুন্নত সব দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র আরও অমানবিক।
এই দিবস পালনের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। ১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন করার জন্য প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাবেল নামের তিন বোনকে হত্যা করা হলে তাদের স্মরণে ১৯৮১ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
এই দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপনে নানা কর্মসূচি নেয়।
মানবসভ্যতা গড়ে ওঠার পেছনে নারীর অবদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।   লাখ লাখ বছর আগে গুহাবাসী নারী-পুরুষ যৌথ প্রচেষ্টায় যে জীবন শুরু করেছিল, তা ক্রমেই বিকশিত হয়ে আজকের সভ্যতার সৃষ্টি। নারী-পুরুষের স্বার্থ এক ও অভিন্ন।
তাই নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে না দেখে তার সঠিক মর্যাদা তাকে দিতে হবে। সকল অভিশাপ থেকে নারীকে মুক্ত করতে হবে। নারীরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতিত নারীদের অধিকাংশই নীরবে নির্যাতন সহ্য করেন। এই নির্যাতন নারীর অগ্রগতির পথে একটি মারাত্মক হুমকি বা বাধা।
নারীর ওপর নির্যাতনের প্রভাব সমাজের সব ক্ষেত্রে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তাই নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

নারায়ন দেবনাথ, একমাত্র ভারতীয় কার্টুনিস্ট যিনি কার্টুনিস্ট হিসেবে ডি.লিট লাভ করেন।

নারায়ন দেবনাথ, একমাত্র ভারতীয় কার্টুনিস্ট যিনি কার্টুনিস্ট হিসেবে ডি.লিট লাভ করেন।

জন্ম ও ছেলেবেলা—

 

নারায়ণ দেবনাথ ছিলেন একজন বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কমিকস শিল্পী।  নারায়ণ দেবনাথের জন্ম (২৫ নভেম্বর ১৯২৫ ) ও বেড়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলার শিবপুরে। পারিবারিক আদি বাসস্থান বাংলাদেশের বিক্রমপুর অঞ্চলে হলেও তাঁর জন্মের আগেই পরিবার শিবপুরে এসে স্থায়ী ভাবে বসবাস করা শুরু করে। অল্প বয়স থেকেই শিল্পের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। পারিবারিক পেশা স্বর্ণকার হওয়ায় অলঙ্কার প্রভৃতির নক্সা করার সুযোগ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি আর্ট কলেজে পাঁচ বছরের ডিগ্রীর জন্য লেখাপড়া শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তা চালিয়ে যাননি, শেষ বর্ষে এসে পড়া ছেড়ে দেন।

 

 

কর্মজীবন—

 

প্রথমদিকে তাঁর চলার পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। মনের মতো কাজ তো দূর অস্ত, ‘বাংলা বাজারে’ আঁকাআঁকি করে যে অন্তত খেয়ে-পরে টিকে থাকবেন, তেমন কোনো রাস্তাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। যতদিন মনের মতো কাজ পেয়েছেন, ততদিন প্রসাধন সামগ্রীর লোগো বানাতেন। আর বানাতেন সিনেমা কোম্পানির বিভিন্ন লিফলেট। টুকটাক বইয়ের অলঙ্করণের কাজও করতেন। এরপরে কিছু বছর বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার জন্য কাজ করেন।

 

 

আজও হৃদয়ে–

সৃষ্টিতে তিনি বেঁচে আছেন আর থাকবেন চিরকাল।নারায়ণ দেবনাথ  হাঁদা ভোঁদা, বাঁটুল দি গ্রেট, নন্টে ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল, ডানপিটে খাঁদু আর তার কেমিক্যাল দাদু, কৌশিক রায় প্রভৃতি বিখ্যাত কার্টুন চরিত্রের স্রষ্টা। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর লেখা ও আঁকা কমিকস ছোট-বড় বাঙালিকে মাতিয়ে রেখেছে।

 

 

কমিকস জগতে প্রবেশ–

বাংলা কমিকসের জগতে নারায়ন দেবনাথের আগমন ঘটে দেব সাহিত্য কুটিরের সম্পাদক মন্ডলীর উৎসাহে। তার প্রথম কমিকস হাঁদা ভোঁদা নামটিও তাদের প্রস্তাবিত। সেসময় বাংলা কমিকস বলতে ছিল একমাত্র প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড়ি বা কাফি খাঁ’র আঁকা শেয়াল পণ্ডিত, যা তখন যুগান্তরে প্রকাশিত হত। হাঁদা ভোঁদা প্রকাশের সাথে সাথেই পাঠকদের সমাদর পায় এবং শুকতারা থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। শুরুতে দেবনাথ নিজেই হাঁদা ভোঁদায় অঙ্কন ও কালি বসানোর কাজ করতেন। পরবর্তীতে তা গ্রেস্কেলে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করা হয়। হাঁদাভোদা ৫৩ সপ্তাহ ধরে শুকতারা পত্রিকায় চলেছিল।

 

 

রঙীন কমিক স্ট্রিপ—

 

নারায়ণ দেবনাথের প্রথম রঙীন কমিক স্ট্রিপ ছিল বাঁটুল দি গ্রেট। ১৯৬৫ সালে বাঁটুল দি গ্রেটের সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালে বাঁটুল প্রথমবার ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়।
পরবর্তীকালে কিশোর ভারতী পত্রিকায় দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদক হিসেবে নারায়নবাবুকে গোয়েন্দা-গল্প (স্ট্রিপের) প্রস্তাব দেন যা পরে পরিণত হয় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড ইন্দ্রজিৎ রায়’ চরিত্রে। ১৯৬৯ সালে নন্টে-ফন্টের সৃষ্টি করেন নারায়ণ দেবনাথ। কিশোর ভারতীতে তাঁর আঁকা প্রথম ধারাবাহিক কমিক স্ট্রিপ হলো ‘ম্যাজিশিয়ান পটলচাঁদ’, যার একটি সংখ্যা বেরোয়।

 

 

মুখ্য/ধারাবাহিক কমিক চরিত্র—

 

তাঁর সৃষ্ট বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র গুলো অমর হয়ে আছে শিশু থেকে শুরু করে ছোট বড় সকলের হৃদয়ে। বাঁটুল দি গ্রেট (প্রথম প্রকাশ ১৯৬৫), হাঁদা ভোঁদা (প্রথম প্রকাশ ১৯৬২), নন্টে ফন্টে (প্রথম প্রকাশ ১৯৬৯), বাহাদুর বেড়াল (প্রথম প্রকাশ ১৯৮২), ব্ল্যাক ডায়মন্ড ইন্দ্রজিৎ রায়, ম্যাজিশিয়ান পটলচাঁদ, ডানপিটে খাঁদু আর তার কেমিক্যাল দাদু, গোয়েন্দা কৌশিক রায়, পেটুক মাস্টার বটুকলাল, শুঁটকি আর মুটকী, হাসির অ্যাটম বোম প্রভৃতি এখনো সকলের মুখে মুখে।

 

সম্মাননা—-

 

বিভিন্ন সম্মানে তিনি সম্মানিত হয়েছেন।প্রেসিডেন্ট বিশেষ স্বীকৃতি পুরস্কার (২০০৭), সাহিত্য অকাদেমী (২০১৩) , বঙ্গবিভূষণ (২০১৩), ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মনোনয়নের দ্বারা তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়(২০২১)।

 

মৃত্যু—

 

তিনি ১৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে প্রয়াত পিয়াস করিমের । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

 

।।ছবি ও তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা ১৯৬০ সালের ৩০শে অক্টোবর তারিখে আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেসের লানুসের পলিপলিনিকো (পলিক্লিনিক) আবিতা হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার বাবার নাম দিয়েগো মারাদোনা “চিতরো” (মৃত্যু: ২০১৫) এবং তার মায়ের নাম দালমা সালভাদোর ফ্রাঙ্কো “দোনিয়া তোতা” (১৯৩০–২০১১)।

 

দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা (৩০ অক্টোবর ১৯৬০ – ২৫ নভেম্বর ২০২০; দিয়েগো ম্যারাডোনা নামে বেশি পরিচিত) ছিলেন একজন আর্জেন্টিনার পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার।  তার ভক্তদের কাছে এল পিবে দে ওরো (দ্য গোল্ডেন বয়) ডাকনাম, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স এবং নাপোলির জন্য সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে তার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।  তিনি প্রাথমিকভাবে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন কিন্তু মাঝে মাঝে দ্বিতীয় আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।  অনেক ফুটবল খেলোয়াড় এবং বিশেষজ্ঞ তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলে মনে করেন।  ম্যারাডোনাকে ক্রীড়া জগতের অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব এবং মিডিয়ার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  ১৯৯১ সালে, ইতালিতে একটি ড্রাগ পরীক্ষায় কোকেনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে 15 মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।  ইফিড্রিনের জন্য ইতিবাচক পরীক্ষায় তাকে ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।  তিনি ২০০৫ সালে তার কোকেন আসক্তিকে লাথি দিয়েছিলেন। তার কঠোর শৈলীর কারণে মাঝে মাঝে তার এবং সাংবাদিক-ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

 

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাব এস্ট্রেয়া রোজার যুব পর্যায়ে খেলার মাধ্যমে ফুটবলের জগতে প্রবেশ করেন এবং পরে লস সেবোইটাস এবং আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দলের হয়ে ফুটবল খেলায় বিকশিত হন।  ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে, তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের প্রথম দলে খেলে তার সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন;  আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে ৫ সিজনে ১৬৭টি খেলার পর, তিনি প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ইউরোতে আরেকটি আর্জেন্টিনীয় ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেন।  বোকা জুনিয়র্সে মাত্র এক সিজনে একটি লিগ শিরোপা জেতার পর, প্রায় €5 মিলিয়নের বিনিময়ে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় যোগদান করেন (তখন একটি বিশ্ব রেকর্ড);  যেখানে তিনি সিজার লুইস মেনোত্তির অধীনে তিনটি শিরোপা জিতেছেন।  বার্সেলোনার হয়ে ২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় ৪৫ ম্যাচে ৩০ গোল করার পর, প্রায় €7 মিলিয়নের বিনিময়ে ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন;  এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে আবারও বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ম্যারাডোনা।  ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় যিনি দুবার বদলির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙলেন।  পরে, তিনি সেভিলা এবং নেয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেন।  চূড়ান্ত ১৯৯৫-৯৬ সিজনে, তিনি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেন, যেখানে তিনি ২ মৌসুম কাটানোর পর অবসর নেন।

 

 

 

১৯৭৭ সালে, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার যুব পর্যায়ে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে আত্মপ্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ১৫ ম্যাচে ৮ গোল করেন।  একই বছর, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়, যেখানে তিনি মোট ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেন।  তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে ৪ টি ফিফা বিশ্বকাপ (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ এবং ১৯৯৪) এবং ৩ টি কোপা আমেরিকায় (১৯৭৯, ১৯৮৭ এবং ১৯৮৯) অংশগ্রহণ করেছিলেন।  ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনার দুটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয়।  প্রথম গোলটি ছিল একটি হ্যান্ডবল, যা “হ্যান্ড অফ গড” নামে পরিচিত এবং দ্বিতীয় ম্যারাডোনা প্রায় ৬০ মিটার দূর থেকে পাঁচজন ইংলিশ ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করেছিলেন।  ২০০২ সালে, এটি ফিফা ভক্তদের দ্বারা শতাব্দীর সেরা গোল হিসাবে ভোট দেওয়া হয়েছিল।

 

 

১৯৯৪ সালে, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাব টেক্সটিল মান্ডিউ-এর ম্যানেজার হিসেবে তার ম্যানেজারিয়াল আত্মপ্রকাশ করেন।  তিনি টেক্সটাইল মান্ডিউতে ম্যানেজার হিসেবে মাত্র ১ বছর পর ম্যানেজার হিসেবে রেসিং ক্লাবে যোগ দেন।  প্রায় ১৩ বছর ফুটবল থেকে দূরে থাকার পর, ২০০৮ সালে, তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন।  তার অধীনে, আর্জেন্টিনা ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল।  তিনি প্রায় ২ বছর আর্জেন্টিনার ম্যানেজার হিসাবে কাজ করেছেন।  পরবর্তীতে তিনি আল-ওয়াসল, দেপোর্তিভো রিয়েস্ট্রা, ফুজাইরাহ এবং ডোরাডোস সিনালোয়ার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  ২০১৮ সালের মে মাসে, ম্যারাডোনা বেলারুশিয়ান ক্লাব দিনামো ব্রেস্টের নতুন সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত হন, কিন্তু তিনি জুলাই মাসে এই পদের সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।  গত সেপ্টেম্বর ২০১৯, তিনি লা প্লাটাতে ম্যানেজার হিসাবে যোগদান করেছিলেন, যেখানে তিনি তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই অবস্থানে ছিলেন।

 

ব্যক্তিগতভাবে, ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে গোল্ডেন বল এবং ১৯৯০ সালে ব্রোঞ্জ বল সহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কার জিতেছেন। এছাড়াও তিনি ২০০০ সালের ডিসেম্বরে ফিফা প্লেয়ার অফ দ্য সেঞ্চুরি পুরস্কার জিতেছিলেন (পেলের সাথে যৌথভাবে)। দলগতভাবে, ঘরোয়া ফুটবলে ম্যারাডোনা মোট জিতেছিলেন।  বোকা জুনিয়র্সের জন্য ১ টি, বার্সেলোনার জন্য ৩ টি এবং নাপোলির জন্য 6টি সহ ৯ টি শিরোপা।  অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জিতেছেন মোট ৩ টি শিরোপা;  ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা তাদের মধ্যে একটি ছিল।

 

২০২০ সালের ২৫শে নভেম্বর তারিখে ৬০ বছর বয়সে মারাদোনা আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আয়ার্স প্রদেশের তিগ্রেতে তার নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্বাধীনতা আন্দোলনের অক্লান্ত কর্মী, মেদিনীপুরের মুকুটহীন সম্রাট, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল : প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের

রতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বহু মনুষ এই অন্দলনে সামিল হয়েছিলেন। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে বীরেন্দ্রনাথ শাসমল প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।

বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অক্লান্ত কর্মী।

বীরেন্দ্রনাথ শাসমল একজন আইনজীবী এবং রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। দেশের প্রতি ভালবাসা ও কাজ এবং স্বদেশী আন্দোলনে তার প্রচেষ্টার জন্য তিনি মেদিনীপুরের “দ্য আনক্রাউনড কিং” এবং “দেশপ্রাণ” নামে পরিচিত ছিলেন।

বীরেন্দ্রনাথ শাসমল অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কন্টাইতে জন্মগ্রহণ করেন ২৬ অক্টোবর ১৮৮১। তাঁর পিতা ছিলেন একজন মহিষ্য জমিদার বিশ্বম্ভর শাসমল এবং মাতা আনন্দময়ী দেবী। তিনি ১৯০০ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং কলকাতার মেট্রোপলিটন কলেজে ভর্তি হন এবং তারপরে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কলকাতার রিপন কলেজে স্থানান্তরিত হন। কলেজ শেষ করার পর তিনি মিডল টেম্পলে আইন অধ্যয়নের জন্য ইংল্যান্ডে যান; এই সময়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান সফর করেন। ব্যারিস্টার হওয়ার পর তিনি ভারতে ফিরে আসেন।

রাজনৈতিক কারণে, ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক মেদিনীপুর জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব করা হয় এবং বীরেন শাসমল এর প্রতিবাদ শুরু করেন। তিনি এলাকা সফর করেন এবং প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করেন। দেশভাগের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়। তিনি ১৯০৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইন অনুশীলন শুরু করেন। ১৯১৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট ছেড়ে, বীরেন্দ্রনাথ কয়েক বছর মেদিনীপুর জেলা আদালতে প্র্যাকটিস করেন কিন্তু পরে তিনি আবার হাইকোর্টে যোগ দেন। হাইকোর্টে তিনি চট্টগ্রাম সশস্ত্র ডাকাতি মামলার আসামিদের পক্ষে ছিলেন। রাজা পঞ্চম জর্জের ব্রিটিশ ভারত সফরের সময় সাধারণ ধর্মঘট ডাকার জন্য ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক তাকে নয় মাসের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল। প্রেসিডেন্সি জেলে থাকার সময় তিনি স্রোটার ত্রিনা নামে তাঁর আত্মজীবনী লেখেন। তিনি রাজনীতিকে সমাজকল্যাণের সমার্থক বলে মনে করেন এবং ১৯১৩, ১৯২০, ১৯২৬ এবং ১৯৩৩ সালের মেদিনীপুর বন্যার সময় ত্রাণকর্মী হিসাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

অসহযোগ আন্দোলন –

শাসমল ১৯২০ সালের জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন। ততক্ষণে শাসমল চিত্তরঞ্জন দাসের স্বরাজ্য পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। নাগপুর অধিবেশন থেকে ফিরে আসার পর, তিনি তার লাভজনক পেশা ত্যাগ করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাকে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সেক্রেটারি করা হয়। এই সময়কালে তিনি মেদিনীপুরে স্থানীয় ইউনিয়ন বিরোধী বোর্ড আন্দোলনেও সফলভাবে নেতৃত্ব দেন।

নো-ট্যাক্স আন্দোলন –

বেঙ্গল ভিলেজ সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট ১৯১৯ সালে পাশ হয়। সেই আইন অনুসারে জেলায় ২২৭টি ইউনিয়ন বোর্ড গঠিত হয়েছিল। বীরেন্দ্রনাথ তার জনগণের স্বার্থ গ্রহণ করেন এবং বয়কট আন্দোলনে নিমজ্জিত হন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে যতক্ষণ না ইউনিয়ন বোর্ডগুলি বাতিল না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি খালি পায়ে হাঁটবেন। ১৯২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর, ২২৬টি ইউনিয়ন বোর্ড বিলুপ্ত করা হয় এবং পরের বছর শেষটি বিলুপ্ত করা হয়। জনসমাবেশে জনগণ তাদের নেতার পায়ে জুতা পরিয়ে দেয়।

লাবন সত্যাগ্রহ (১৯৩০)-

বীরেন্দ্রনাথের আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। জনগণকে সংগঠিত করতে তার অনুসারীরা সক্রিয় অংশ নেন। সত্যাগ্রহীরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে লবণ আইন ভাঙতে নরঘাট ও পিছবনিতে আসেন। সত্যাগ্রহ এলাকায় গণআন্দোলনের রূপ ধারণ করে।

আইন অমান্য আন্দোলন, কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচন, কেন্দ্রীয় আইনসভা –

১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনের সময়, তিনি গ্রেফতার হন। মুক্তি পেয়ে তিনি কোনো ফি ছাড়াই অস্ত্রাগার রেইড মামলায় (১৯৩০) আসামিদের রক্ষা করতে চট্টগ্রামে ছুটে যান। আবার ১৯৩২ সালে তিনি ডগলাস শ্যুটিং মামলায় প্রতিরক্ষা আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। তিনি রামসে ম্যাকডোনাল্ডের ‘সাম্প্রদায়িক পুরস্কার’-এর বিরোধিতা করার জন্য কংগ্রেস জাতীয়তাবাদী দলের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত কলকাতা সম্মেলনে যোগ দেন। ১৯৩৩ সালে, বীরেন্দ্রনাথ কলকাতা কর্পোরেশনে নির্বাচিত হন। পণ্ডিত মদন মোহন মালভিয়ার অনুরোধে, তিনি বর্ধমান বিভাগের একটি দুই-জেলা আসন থেকে কেন্দ্রীয় বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং এটি জিতেছিলেন কিন্তু ফলাফল ঘোষণার আগে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যু-

বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ১৯৩৪ সালের ২৪ নভেম্বর ৫৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

রবি ঘোষ, বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা – জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভুমিকা— রবি ঘোষ বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা। তাঁর অভিনয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্যই ছিল হাস্যরসের মাধ্যমে সামাজিক রূঢ় বাস্তবিক ঘটনাগুলিকে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা। চার্লি চ্যাপলিন বলেছিলেন, “To truly laugh, you must be able to take your pain, and play with it.” তারপর আরও বলেছিলেন, “Life is a tragedy when seen in close-up, but a comedy in long-shot.” এই অমোঘ সমস্ত কথাগুলির সঙ্গে দৃশ্যত মানিয়ে যায় আমাদের প্রত্যেকের পছন্দের এক অভিনেতার নাম। ‘গল্প হলেও সত্যি’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘অভিযান’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘হীরক রাজার দেশে’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘বসন্ত বিলাপ’, ‘কাপুরুষ ও মহাপুরুষ’ এরকম অজস্র ছবিতে একের পর চুটিয়ে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। তাই একথা বলাই যায়, শুধু ভারত নয় বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার ওরফে রবি ঘোষ।

 

 

জন্ম ও কৈশোর–‐

 

তিনি ১৯৩১ সালের ২৪ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।  তার পুরো নাম রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার।  ১৯৪৯ সালে তিনি দক্ষিণ সুবর্ধন প্রধান বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।  বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করে স্নাতকের জন্য আশুতোষ কলেজে যোগ দেন।  ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত তিনি বনশাল কোর্টে চাকরি করেন।

 

বৈবাহিক জীবন—

 

তিনি অভিনেত্রী অনুভা গুপ্তকে বিয়ে করেন। প্রথমা স্ত্রীর মৃত্যুর দশ বছর পর তিনি ২৪শে নভেম্বর, ১৯৮২ সালে বৈশাখী দেবীকে বিয়ে করেন।

 

চলচ্চিত্র জীবন—-

অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় তাকে অঙ্গার নাটকে অভিনয় করতে দেখেন। ১৯৫৯ সালে তিনি আহবান চলচ্চিত্রে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। তপন সিনহার গল্প হলেও সত্যিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সবার নজরে আসেন। ১৯৬৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা সত্যজিৎ রায় নির্মিত গুপী গাইন বাঘা বাইন চরিত্রে তার অভিনয় চলচ্চিত্রজগতে একটি মাইলফলক। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত গুপী গাইন বাঘা বাইন চলচ্চিত্রে বাঘা চরিত্রে অভিনয় করার জন্য তিনি সবচেয়ে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি একজন বিখ্যাত থিয়েটার অভিনেতাও বটে।  তিনি চলাচল থিয়েটার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।

 

বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।  যাইহোক, তিনি তার হাস্যকর চরিত্র চিত্রিত করার জন্য বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে সর্বাধিক পরিচিত।  চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি বাংলা মঞ্চ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ছোট পর্দায় অভিনয় করেছেন।

 

 

অভিনীত চলচ্চিত্রসমূহ—

 

কাহিনী (১৯৯৭), বাক্স রহস্য (টেলিভিশন) (১৯৯৬), বৃন্দাবন ফিল্ম স্টুডিওস (১৯৯৬), পাতাং (১৯৯৪), পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩), আগন্তুক (১৯৯১), গুপী বাঘা ফিরে এলো (১৯৯১), অন্তর্জালি যাত্রা (১৯৮৭), মহাযাত্রা (১৯৮৭), আমার গীতি (১৯৮৩), বাঁচামরার বাগান (১৯৮০), হীরক রাজার দেশে (১৯৮০), পাকা দেখা (১৯৮০), নৌকাডুবি (১৯৭৯), চারমূর্তি (১৯৭৮), জন অরণ্য (১৯৭৬), কোরাস (১৯৭৪), মৌচাক (১৯৭৪), সঙ্গিনী (১৯৭৪), ঠগিনী (১৯৭৪), বসন্ত বিলাপ (১৯৭৩), মর্জিনা আব্দুল্লাহ (১৯৭৩), আজকের নায়ক (১৯৭২), পদি পিসির বার্মি বাক্স (১৯৭২), সবসে বড়া সুখ (১৯৭২), ধন্যি মেয়ে (১৯৭১), অরণ্যের দিনরাত্রি (১৯৭০), আরোগ্য নিকেতন (১৯৬৯), আপনজন (১৯৬৮), বাঘিনী (১৯৬৮), গুপী গাইন বাঘা বাইন (১৯৬৮), বালিকা বধূ (১৯৬৭), কাল তুমি আলেয়া (১৯৬৬), মণিহার (১৯৬৬), দল গোবিন্দের করচা (১৯৬৬), গল্প হলেও সত্যি (১৯৬৬), উত্তরপুরুষ (১৯৬৬),  গৃহ সন্ধানে (১৯৬৬), স্বপ্ন নিয়ে (১৯৬৬), আরোহী (১৯৬৫), মহাপুরুষ (১৯৬৫), এতটুকু বাসা (১৯৬৫), সুরের আগুন (১৯৬৫), আরোহী (১৯৬৪), লাল পাথর (১৯৬৪), শুভ ও দেবতার গ্রাস (১৯৬৪), মোমের আলো (১৯৬৪), অবশেষে (১৯৬৩), নির্জন সৈকতে (১৯৬৩), কষ্টিপাথর (১৯৬৩), শেষ প্রহর (১৯৬৩), ছায়াসূর্য (১৯৬৩), বিনিময় (১৯৬৩), ন্যায়দন্ড (১৯৬৩), পলাতক (১৯৬৩), আগুন (১৯৬২), অভিযান (১৯৬২) হাঁসুলীবাঁকের উপকথা (১৯৬২), মেঘ (১৯৬১), কিছুক্ষণ (১৯৫৯)।

 

পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ—-

 

নিধি রাম সরদার (১৯৭৬), সাধু যুধিষ্ঠিরের কড়চা (১৯৭৪)।

পুরস্কার—-

১৯৯৮ সালে আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড (নয়নতারার জন্য)

কলাকার অ্যাওয়ার্ড। ১৯৭০ সালে তিনি গুপী গাইন বাঘা বাইন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালেও অংশ নেন।

 

মৃত্যু—

 

তিনি ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক দায়মুক্তি অবসান দিবস।

আজ আন্তর্জাতিক দায়মুক্তি দিবস।  দায়মুক্তির অবসানের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস ২৩ নভেম্বর, ২০১১ বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক নীরব শিল্পী, সাংবাদিক, সঙ্গীতশিল্পী এবং লেখকদের বিচার দাবি করার একটি দিন। মতপ্রকাশের বিনিময়ের স্বাধীনতা।  অপরাধীদের দায়মুক্তি বিশ্বজুড়ে বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার একটি বড় কারণ।  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতি ১০টি অপরাধের মধ্যে মাত্র একজনের শাস্তি হয়।  ফলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ দিন দিন বাড়ছে।  দায়মুক্তির এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রতি বছর জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তির অবসানের আন্তর্জাতিক দিবস’ দিবসটি সারা বিশ্বে পালিত হয়।

প্রাথমিকভাবে, ‘মাগুইন্দানাও গণহত্যা’ স্মরণে ২৩ নভেম্বর দায়মুক্তি প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।  পরে ২০১৩ সালে ২রা নভেম্বর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়।  ওই বছরের নভেম্বরের এই দিনে, মালিতে ভারলন এবং ডুপন্ট নামে দুই সাংবাদিক নিহত হন, এমন একটি ঘটনায় দেশটির একটি শীর্ষ রাজনৈতিক দল এবং আল কায়েদাকে দায়ী করা হয়।  এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি মালি পুলিশ।  একই বছরের ডিসেম্বরে, IFEX-এর সমর্থনে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক সভায় 2শে নভেম্বরকে দায়মুক্তি প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

 

দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো না কোনোভাবে সাংবাদিক হত্যার সঙ্গে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি জড়িত থাকে।  ফলে তারা আদালতে গিয়েও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার পান না।  IFEX আশা করে যে বার্ষিক দায়মুক্তি দিবস পালনের মাধ্যমে, এটি এমনভাবে শাস্তিবিহীন মৃত্যুর প্রতি বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করবে যাতে বিচার করতে অনীহা দেখিয়েছে এমন দেশগুলোর সরকারও তা করতে বাধ্য হবে।  বলা হয়, দেশের পুলিশ প্রশাসন ও আইন আদালতে যখন একজন ব্যক্তি সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হন, তখন সাংবাদিকের কলমই তার শেষ ভরসা হয়ে তার পাশে দাঁড়ায়।  সেই কলম-সৈনিকরা যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে তাদের কলম কীভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেবে?  সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের জনসচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াও এই আন্তর্জাতিক দিবসটি পালনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
দায়মুক্তি প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবসে সারা বিশ্বের সংবাদপত্রগুলো বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশ করে, সম্পাদকরা বিবৃতি প্রকাশ করে, বাকস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব কর্মসূচি উপস্থাপন করে।  এতে করে সরকার বা প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপে ধামাচাপা পড়ে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষও নতুন করে আলোচনায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।  ফলে চাপা সত্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকে।  তাছাড়া সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিগত দিনে সাংবাদিক হত্যার তদন্তের দাবি জানিয়ে নিজ নিজ দেশের সরকারের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়।  জাতিসংঘও আনুষ্ঠানিকভাবে সারা বিশ্বের দেশগুলিতে স্মারকলিপি পাঠায়, বিশেষ করে সাংবাদিক হত্যার জন্য উচ্চ দায়মুক্তির হার রয়েছে।  পরের বছর ওই সব দেশে খুনের বিচারের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে বৈশ্বিক সংস্থাটি।  ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে ভাবমূর্তি সংকটে পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা সাংবাদিক হত্যার বিচারের চেষ্টা করছেন।

 

প্রতি বছর দায়মুক্তি প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিকদের সব মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করা হয় এবং সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচার দাবি করা হয়, যাতে অপরাধী একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি না করতে পারে,  অথবা অন্য কেউ একই অপরাধ করার সাহস করে না।  এই দিনে, #EndImpunity, #JournoSafe এবং #TruthNeverDies হ্যাশট্যাগগুলির সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।  তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের এই যুগে যেকোনো অপরাধ প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে প্রচার প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।  শুধু আইন প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের রক্ষা করা সম্ভব নয়।  তাই এই আন্তর্জাতিক দিবসের গুরুত্ব বাড়ছে।
চলতি দশকে বিশ্বজুড়ে নিহত সাংবাদিকদের ৪৫ শতাংশই হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে, বাকি ৫৫ শতাংশ হয়েছে শান্তিপূর্ণ এলাকায়।  যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার চেয়ে শান্তিপূর্ণ এলাকায় বেশি সাংবাদিক নিহত হওয়ার চেয়ে খারাপ খবর আর কী হতে পারে?  এটি পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য দুঃসংবাদ, অন্যদিকে এটি সাংবাদিকদের কলম আটকাতে অপরাধীদের তৎপরতার দিকেও ইঙ্গিত করে।  তাই সাংবাদিকদের হত্যার জন্য দায়মুক্তি প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন।  এ দিনকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী মানুষের সচেতনতা বাড়বে, প্রতিটি অহেতুক হত্যার বিচার হবে, কলম সৈনিকদের পেশা নিরাপদ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This