Categories
প্রবন্ধ

বিপ্লবী সত্যেন্দ্রনাথ বসু : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বিপ্লবী-শহীদ, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে সত্যেন্দ্রনাথ বসু একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসু ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী। আলিপুর বোমা মামলার রাজসাক্ষী নরেন গোঁসাইকে গুলি করে হত্যা করার জন্য ২২ নভেম্বর, ১৯০৮ সনে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর প্রেসিডেন্সি জেলে ফাঁসি হয়।

জন্ম—

সত্যেন্দ্রনাথ ১৮৮২ সালের ৩০ জুলাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর ) জন্মগ্রহণ করেন ।  তার পিতা অভয়াচরণ বসু ছিলেন মেদিনীপুর কলেজের অধ্যাপক। ১৮৫০ সালের দিকে, তিনি মেদিনীপুরে বসতি স্থাপন করেন, যা সত্যেন্দ্রনাথের পরিবারের আবাসস্থল হয়ে ওঠে। অভয়া চরণের পাঁচ ছেলে (জ্ঞানেন্দ্র নাথ, সত্যেন্দ্র নাথ, ভূপেন্দ্র নাথ, সুবোধ কুমার এবং আরেকটি ছেলে) এবং তিন মেয়ে ছিল।  সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন শ্রী অরবিন্দের মামা , যদিও তিনি প্রায় দশ বছরের ছোট ছিলেন। বসু পরিবার মূলত বোড়াল গ্রামের বাসিন্দাজেলা ২৪ পরগনা, এবং বিখ্যাত বাবু রাজ নারায়ণ বসুর বংশধর । বাবু রাজ নারায়ণ বসুর পিতা বাবু নন্দ কিশোর বসু ছিলেন রাজা রাম মোহন রায়ের অনুসারী এবং তাঁর পরিবারের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।

 

 

শিক্ষা–

 

 

প্রবেশিকা এবং এফএ পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর, সত্যেন্দ্রনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ স্ট্যান্ডার্ড পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছিলেন কিন্তু বিএ পরীক্ষায় অংশ নেননি। তিনি কলেজ ছেড়ে মেদিনীপুর কালেক্টরেটের প্রায় এক বছর চাকরি করেন।

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড–

তার অগ্রজ জ্ঞানেন্দ্রনাথ এবং রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে মেদিনীপুরে ১৯০২ সালে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিলো। সেই সংগঠনের নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো এবং সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন তার সহকারী। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি “ছাত্রভাণ্ডার” গড়ে তোলেন। এখানে তাঁত, ব্যায়ামচর্চা ইত্যাদির আড়ালে বিপ্লবীদের ঘাঁটি তৈরি হয়। বীর ক্ষুদিরাম বসু তার সাহায্যে বিপ্লবী দলভুক্ত হয়ে এখানে আশ্রয় পান। ক্ষুদিরাম তারই নির্দেশে “সোনার বাংলা” শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করে গ্রেপ্তার হন।

 

 

পুলিশ ২ মে ১৯০৮ সালে কলকাতার ৩২ মুরারি পুকুর রোড চত্বরে অভিযান চালায় এবং একটি বোমা-কারখানার সন্ধান পান , পুলিশ হানা দিয়ে সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র সহ গোলাবারুদ, বোমা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করে । পুলিশ বিপ্লবীদের গ্রেপ্তার করে সাথে সাথে সমস্ত কিছু বাজেয়াপ্ত করে । সমগ্র বাংলা এবং বিহারের বিভিন্ন যায়গায় পুলিশি অভিযান শুরু হয় । খানা তালাসি চালানো শুরু করে এবং বিপ্লবীদের টার্গেট করা থেকে শুরুকরে তাঁদের সমস্ত কিছু বাজেয়াপ্ত করা শুরু করা হয়েছিলো । অরবিন্দ ঘোষ, বরেন্দ্র কুমার ঘোষ, উল্লাসকার দত্ত, ইন্দু ভূষণ রায় সহ আরও অনেককে এই সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল । এই সময়ের মধ্যে একজন আটক বন্দী নরেন্দ্রনাথ গোস্বামী বা নরেন্দ্র নাথ গোঁসাই ব্রিটিশদের অনুগত হয়ে ইংরেজদের সাহায্য করতে শুরু করেন সাথে সাথে নরেন পুলিশকে অনেক ব্যক্তির নাম জানাতে শুরু করেন , যার ফলে আরও অনেক গ্রেফতার হয়।

 

 

কিছুদিন পরে আলিপুর বোমা মামলার রাজসাক্ষী নরেন গোঁসাইকে গুলি করে হত্যার জন্য কানাইলাল দত্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বোসের বিচার হয়। বিচারে তাদের দুজনের ফাঁসির হুকুম হয়। এই বিচারে কানাইলাল কোনোরকম আপত্তি করেননি। কাজেই বিচারের সাতদিন পর আলিপুর জেলে তার ফাঁসির দিন ধার্য হয়।
সত্যেন্দ্রনাথের মা ও ভাইয়ের অনুরোধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। কিন্তু হাইকোর্ট তার আগের আদেশ বহাল রাখে। বিচার চলাকালে আদালতে সত্যেন্দ্রনাথ বলেন, “আমার কিছু বলবার নেই। আমি ইংরাজের আদালতে কোনো বিচারের প্রত্যাশা করি না। নরেন গোঁসাইকে আমিই গুলি করে হত্যা করেছি, আমার কবে ফাঁসি হবে- তাই জানতে চাই।”

 

 

নরেন্দ্রনাথ গোস্বামীর হত্যা একটি সাহসী কাজ ছিল যা আগে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে অতুলনীয় ছিল।১৯০৮ সালের ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট উভয় আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। কানাইলাল এ ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে রাজি হননি। ১৯০৮ সালের ১০ নভেম্বর সাজা কার্যকর করা হয় এবং কানাইলালকে আলিপুর জেলে সকাল সাতটার দিকে ফাঁসি দেওয়া হয়। সত্যেন্দ্রনাথের বিচারে, দায়রা জজ, জুরির সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের সাথে একমত না হয়ে মামলাটি হাইকোর্টে পাঠান এবং সেখানে সত্যেন্দ্রনাথকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯০৮ সালের ২২ নভেম্বর তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে – নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রিয় শিক্ষক, প্রাজ্ঞ বাঙালি পণ্ডিত, শিক্ষক ও দেশপ্রেমিক বেণী মাধব দাস।

সূচনা—-

 

বেণী মাধব দাস ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি পণ্ডিত, শিক্ষক এবং দেশপ্রেমিক।  তিনি শরৎচন্দ্র বসু, সুভাষচন্দ্র এবং আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষক ছিলেন।

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন—-

 

বেণী মাধব দাস ১৮৮৬ সালের ২২শে নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার শেওড়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তার পিতার নাম কৃষ্ণ চন্দ্র দাস।  দর্শনশাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষা লাভের পর তিনি চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।  তার হাতে এটি একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।  চট্টগ্রামের পর তিনি ঢাকা, কটক রেভেনশ স্কুল, কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল এবং কলকাতার স্কুল ও কলেজে শিক্ষকতা করেন।

 

 

 

ব্রাহ্ম সমাজে যোগ—

 

ব্রাহ্ম নেতা মনীষী কেশবচন্দ্র সেনের প্রভাবে তিনি ব্রাহ্ম সমাজে যোগ দেন, এবং ব্রাহ্ম সমাজের প্রকাশনা ইন্ডিয়ান মেসেঞ্জার ও নববিধান-এর সাথে যুক্ত ছিলেন।

 

আদর্শ শিক্ষক—-

 

বেণী মাধব ছিলেন দেশপ্রেম ও শিক্ষাদানে নিবেদিত একজন আদর্শ শিক্ষক।  দর্শন ছাড়াও তিনি অর্থনীতি ও ইতিহাসের পণ্ডিত ছিলেন।  তিনি 1923 খ্রিস্টাব্দে কাকিনাডায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় আস্তিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।  রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার ভাষণ পরবর্তীতে ভারতের আধুনিক আস্তিক আন্দোলনের পুস্তিকাতে প্রকাশিত হয়।  তাঁর প্রবন্ধের সংগ্রহ Pilgrimage Through Prayers সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছিল।  সুভাষ চন্দ্র তাঁর ভারত পথিকায় তাঁর উল্লেখ করেছেন।

 

পণ্ডিত নিরঞ্জন নিয়োগী’র উক্তি তাঁর সম্পর্কে—

 

কটক ও কৃষ্ণনগরে বেণীমাধবের সংস্পর্শে আসা আরেকজন পণ্ডিত, নিরঞ্জন নিয়োগী লিখেছেন – এখানে তার প্রশাসনে কোন কঠোরতা ছিল না, এর চারপাশে কোনও আড়ম্বরপূর্ণ প্রদর্শন ছিল না – তার কোমল ও মনোমুগ্ধকর আচরণ তার শিক্ষার্থীদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলত। এমনকি যারা অস্থির ছিল তারা শান্ত, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং তার স্নেহের পাত্রে পরিণত হয়।”।

 

পারিবারিক জীবন—-

 

বেণী মাধব দাসের পরিবার ছিলো রাজনৈতিক পরিবার।  তার ছেলে অসহযোগিতা এবং জাতীয় আন্দোলনে যোগদানের জন্য কারাবরণ করেন।  স্ত্রী সারদা সমাজসেবায় সক্রিয় ছিলেন।  তাদের দুই মেয়ে কল্যাণী দাস (ভট্টাচার্য) এবং বীণা দাস (ভৌমিক)।  কল্যাণী দাস সমাজসেবা ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।  বীণা দাস ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৩২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে পিস্তল দিয়ে বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার চেষ্টা করার জন্য ৯ বছর কারাগারে ছিলেন।   মেয়ের বিপ্লবী কার্যকলাপে বাধাদান তো দূরস্থান বরঞ্চ তাদের কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেমিক বেণীমাধব  উৎসাহিত করেন।

 

মৃত্যু—-

 

বেণী মাধব দাস ১৯৫২ সালের ২রা সেপ্টেম্বর কলকাতায় মৃত্যু বরণ করেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জানুন, বাঘের সেবা কেমন করে করলেন কৃষ্ণদাস ! : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

বৃন্দাবনের গোবর্দ্ধনে বাস করতেন শ্রীকৃষ্ণদাস নামক এক সাধু ।  তিনি গোফার মধ্যে ভজন করতেন । দিবানিশি কৃষ্ণ নাম অতি উচ্চঃস্বরে করতেন। নাম নিতে নিতে এমন হতো যে ক্ষুধা-তৃষ্ণা,  আহার-বিহার সব ভুলে যেতেন । নামানন্দে বিভোর হয়ে থাকতেন সর্বদা । কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে এমন করে করুণ সুরে ডাকতেন যে,  শুনলে প্রাণ কেমন করে উঠতো ।  কৃষ্ণপ্রেমে উন্মত্ত সাধু কৃষ্ণদাস প্রেমানন্দে মজে থাকতেন সদা সর্বদা।

একদিন কৃষ্ণ দাসের গোফার দ্বারে বিশাল আকারের এক বাঘ এসে দাঁড়ালো। ভয়ংকর উগ্র মূর্তি সেই বাঘের। দেখলেই ভয় লাগবে এমন। তবে কৃষ্ণদাস কিন্তু একটুও ভীত হলেন না। মনে মনে বাঘটিকে অতিথি ভাবলেন তিনি । বহু সম্মান দেখিয়ে একটি আসন গোফার দ্বারে পেতে বাঘটিকে আদরের সুরে বসতে বললেন ‌ । আর , বাঘটিও সুরসুর করে আসনের ওপর হাত-পা ছড়িয়ে বিশ্রাম নিতে বসে পড়লো যেন।

যত্ন করতে হবে বাঘটিকে । কৃষ্ণদাস ভাবতে থাকলেন অতিথি এসেছে, কেমন করে আতিথেয়তা করি ? কী খেতে দেই তাকে ? ঘরে তো  কিছুই তেমন  নেই !

কৃষ্ণদাস নিজেই মাধুকরী করে এনে প্রসাদ পান। ঘরে সঞ্চয় বলতে কিছুই থাকে না !  তার ওপর বাঘ আবার মাংসাশী প্রাণী। মাংস এখন কোথায় পাই ? অতিথিকে তুষ্ট করার কথা ভাগবতেও আছে। বলা হয়েছে , ক্ষমতা না থাকলে নিদেনপক্ষে বসার আসন আর পান করার জলটুকু দিয়েও অতিথি সৎকার করা উচিৎ। কিন্তু, মাংস ভিন্ন অপর কিছু দিয়ে তো আর বাঘ-অতিথিকে খুশী করা যাবে না ! —–এইসব নানান ভাবনার উদয় হল কৃষ্ণদাসের  মনে। পরক্ষণেই কৃষ্ণদাস ভাবলেন , আমার নিজের অঙ্গের মাংসতেই যদি বাঘকে সম্মান জানাই,  তবে কেমন হয় ?  সেটাই বরং ভালো হবে।  আর তাই কৃষ্ণদাস নিজের অঙ্গের নানান জায়গায় ছুরি চালিয়ে টুকরো টুকরো মাংস কেটে বের করে আনলেন। কষ্ট , যন্ত্রণা কী হচ্ছিল না তাঁর ? হচ্ছিল , অবশ্যই হচ্ছিল । কিন্তু, নিজের মনকে তিনি শ্রীমন্ মহাপ্রভুর মুখবাক্যের কথা ভেবেই বোঝাচ্ছিলেন যে , “সর্বজীবে দিবে সম্মান । জানি কৃষ্ণ অধিষ্ঠান।।” অর্থাৎ, প্রতিটি জীবের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ অবস্থান করেন । তাই প্রতিটি জীবকে সম্মান দিতে হয় । জীবসেবার চেষ্টা করতে হয়।

বাঘের সম্মুখে পাতায় করে কৃষ্ণদাস রেখেদিলেন নিজের শরীরের কয়েকটি ছোট মাংসখণ্ড । বাঘ  তৃপ্তি ভরে খেল। আর তারপর চুপচাপ চলে গেল। কৃষ্ণদাস তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে মনে মনে তৃপ্তি পেলেন এই ভেবে যে , যাক অতিথি আপ্যায়নটুকু তো কোনমতে হল !

কৃষ্ণ ভক্তের স্বভাব যে এমনই হয়।  নিজের দুঃখ বা লাভালাভে কোন আকর্ষণ থাকে না তাঁদের । অপরকে সুখী করেই তাঁরা আনন্দ পান।

—- ভক্তকৃপা ভিখারিণী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আজ বিশ্ব টেলিভিশন দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এই দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা সহকারে পালন করা হয়ে থাকে। সাংবাদিক, লেখক, ব্লগাররা টেলিভিশন সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কিমবা প্রিন্ট মিডিয়ায় টেলিভিশনের ভূমিকা ও  গুরুত্ব সম্পর্কিত নানা লেখালেখি, মতামত ছড়িয়ে দেওয়া হয়। স্কুল-কলেজে, কখনও বা পাবলিক সেমিনারের আয়োজন করে বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ করে আনা হয় টেলিভিশনের নানা দিক নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক আলোচনার জন্য। এছাড়াও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থানে সম্মেলন এবং বক্তৃতার আয়োজনও করা হয় এই বিশেষ দিনটি উদযাপনের উদ্দেশ্যে।

টেলিভিশন শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক ও লাতিন শব্দের সম্মিলনে। গ্রিক শব্দ ‘টেলি’ অর্থ দূরত্ব আর লাতিন শব্দ ‘ভিশন’ অর্থ দেখা। টেলিভিশনে একই সঙ্গে ছবি দেখা ও শব্দ শোনা যায়। বিশ্ব টেলিভিশন দিবস আজ।
বলা যায়, টেলিভিশনই প্রথম বিশ্বটাকে মানুষের ঘরের মধ্যে এনেছিল। যার মাধ্যমেই হয় তথ্য ও বিনোদনের এক বিস্ময়জাগানিয়া অগ্রগতি। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টেলিভিশন প্রযুক্তিও।

ব্রিটিশবিজ্ঞানী জন লগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন। এর পর রুশ বংশোদ্ভুত প্রকৌশলী আইজাক শোয়েনবারগের কৃতিত্বে ১৯৩৬ সালে প্রথম টিভি সম্প্রচার শুরু করে বিবিসি। টেলিভিশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালু হয় ১৯৪০ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টেলিভিশনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সূচিত হয়। গত শতাব্দীর ৫০ এর দশকে টেলিভিশন গণমাধ্যমের ভূমিকায় উঠে আসে।
বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড-এর টেলিভিশন আবিষ্কারের দিনটি ছিলো ২১ নভেম্বর। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ আয়োজিত এক ফোরামে ২১ নভেম্বরকে বিশ্ব টেলিভিশন দিবস হিসেবে পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ ২১ নভেম্বরকে বিশ্ব টেলিভিশন দিবস হিসাবে ঘোষণা করে, যে তারিখে ১৯৯৬ সালে বিশ্ব টেলিভিশন ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

যোগাযোগ স্থাপনে, বিচিত্র সংস্কৃতির প্রচারে এবং সর্বোপরি বিশ্বায়নে টেলিভিশনের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ সেটি মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এবং সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেই এই বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উদযাপন করা হয় বিশ্বজুড়ে। মানবসভ্যতার এক চমক লাগানো আবিষ্কার হল এই টেলিভিশন। সারা বিশ্বকে নিজের ঘরের মধ্যে নিয়ে আসা যাবে এক লহমায়, মানুষ হয়তো একসময় স্বপ্নেও তা ভাবেনি। ১৯২৬ সালে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন স্কটিশ বৈজ্ঞানিক জন লগি বেয়ার্ড(John Logie Baird)।  কিন্তু মানুষ আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক হয়েছে, ইন্টারনেটের যুগে এসে তাই ক্রমে টেলিভিশনের মায়া খানিক ফিকে হয়ে গেছে। কিন্তু এ কথা এখনও ভীষণ সত্যি যে টেলিভিশনের মতো এত শক্তিশালী প্রচার মাধ্যম খুব কমই আছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০১৭ সালে টিভি পরিবারের সংখ্যা ছিল ১.৬৩ মিলিয়ন। ২০২৩ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ১.৭৪ মিলিয়ন। তথ্য-বিনোদনের এক উৎকৃষ্ট মাধ্যম তো বটেই, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে গণতন্ত্রের বিকাশসাধনের জন্য টেলিভিশনের স্বাধীনতা খুবই প্রয়োজনীয়। সংবাদমাধ্যমের ক্ষমতা তো এখন সর্বজনবিদিত। সুতরাং টেলিভিশন যে আজও একটি প্রভাবশালী মাধ্যম সেবিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। দেশের রাজনৈতিক এমনকি অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনেও টেলিভিশনের ভূমিকা কম নয়। জনমত গঠনের কাজেও টেলিভিশনের অবদান অনস্বীকার্য।

উল্লেখ্য ১৯৯৬ সালের ২১ নভেম্বর জাতিসংঘের প্রথম বিশ্ব টেলিভিশন ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই দিনটির স্মরণেই সেই বছরই ১৭ই ডিসেম্বর তারিখে জাতিসংঘ ২১শে নভেম্বরকে বিশ্ব টেলিভিশন দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্বশান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখার ক্ষেত্রে, মানুষকে প্রভাবিত করতে, এমনকি সামাজিক বা অর্থনৈতিক নানা বিষয়ের খবরাখবর তুলে ধরতে টেলিভিশন যে অভূতপূর্ব অবদান তা অনুধাবন করেই, টেলিভিশনের প্রয়োজনীয়তা এবং  উপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে আরও বেশি সচেতন করে তোলবার জন্যই এমন একটি দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল জাতিসংঘ।

।।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা হিন্দু শক্তি দেবী। ইনি দেবী দুর্গার (পার্বতী) অপর রূপ। উপনিষদে তার নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও তার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। আবার পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর ও হুগলি জেলার চন্দননগর, গুপ্তিপাড়া জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা (পার্বতী) ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর।

জগদ্ধাত্রী কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের প্রাণাত্মিকা। কিন্তু এই জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কি তা নিয়ে রয়েছে বহু মতান্তর। ইদানীং কালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি তথা নদীয়ার ব্রাহ্মশাসন গ্রামের জগদ্ধাত্রীপূজার কিছু কাহিনী পাঠক মহলে খুবই জনপ্রির হয়ে উঠেছে। উইকিপিডিয়াতেও লেখা আছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জগদ্ধাত্রী পূজা সূচনার কথা। মজার কথা হল এই পূজা আদৌ কবে ও কোথায় শুরু হয়েছিল তার ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ কি? কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মতে এই পূজা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় (১৭১০ খৃষ্টাব্দ) দ্বারা শুরু হয়েছে। তিনি নাকি তৎকালীন নবাবের কাছে কোন এক কারণে দুর্গা পূজার সময়ে বন্দি হন এবং পরে দুর্গা পূজার পর ছাড়া পেলে স্বপ্নাদেশে পরের মাসের অর্থাৎ কার্তিক শুক্লা নবমীতে এই পূজার প্রচলন করেন। সময়কাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও অনুমানিক সূচনাকাল সর্বপ্রথম কৃষ্ণনগর। এর পর চন্দননগর বা অন্যান্য স্থানে জগদ্ধাত্রীপূজার সূচনা হয়।
এই কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ছিলেন গিরীশচন্দ্র রায়। তিনি নদীয়ার শান্তিপুরের কাছে ১০৮ঘর ব্রাহ্ম পরিবারকে থাকতে দিয়ে একটি গ্রামপত্তন করেন যার নাম “ব্রাহ্মশাসন”। তার পর থেকে শুরু হয় শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রী পুরো প্রচলন।
জগদ্ধাত্রী সম্পূর্ণ তান্ত্রিক দেবী। বঙ্গ তান্ত্রিক সিদ্ধপুরুষ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশবংশীয় মহাপন্ডিত তন্ত্রজ্ঞ সিদ্ধসাধক কৌলাবধূতাচার্য্য রঘুনাথ তর্কবাগীশ মহাশয় (কাল গ্রহ বিষৎ ষট্ চন্দ্র শাকে) অর্থাৎ ১৬১০ শতাব্দে বা ১৬৮১খৃষ্টাব্দে প্রায় ১৬০ টি তন্ত্র ও প্রায় শতাধীক বেদ বেদান্ত পুরাণাদি গ্রন্থ মন্থন করে রচনা করেন “আগমতত্ব বিলাস” নামক এক অনর্ঘ্য মহাপুস্তক। সেই পুস্তকে স্পষ্টতই জগদ্ধাত্রী দেবীর সম্পূর্ণ মূর্তিবিবরণ, পূজাকাল, পূজা পদ্ধতি, পূজার বীজ মন্ত্র,দীক্ষাবিধি সব সুনিপুণ ভাবে বিস্তৃত উল্লেখ করেছেন রঘুনাথ জি।
ইন্দ্রনারায়ণের দেহরক্ষার ৬-৭ বছর বহু আগে থেকে কৃষ্ণনগরে পূজার সূচনা হয়। চন্দননগরে আদি মা তথা আরো কিছু বারোয়ারী পূজা সহ আদি হালদার পাড়ার বারোয়ারীর পূজার সচিত্র তথ্য প্রকাশিত হয়। ১৯৬১সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় স্পষ্টতই উল্লেখ আছে যে সেই পূজা প্রায় ৪০০বছরে প্রাচীন। সেই হিসাবে বর্তমান কাল ধরে সেই পূজা ৪৬০বছরে প্রাচীন।  তাহলে প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় আদি হালদার পাড়ার পূজাটিও পূর্বে কোন এক সাধক পরিবারের পূজা ছিল। তারাও মানে যে আদিমা তাদের থেকেও প্রাচীন।অর্থাৎ আদিমায়ের প্রাচীনত্ব স্বীকৃত। ১৮২০সালে Friends of India নামক পত্রিকায় চন্দননগরে  জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ আছে। সেই স্থানে আছে রবার্টক্লাইভ চন্দননগরের চাউলপট্টিকে Granary of bengal বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবং সেই সময় আদিমায়ের পূজার কথাও ছিল। ক্লাইভের ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে চন্দননগর অভিযানের কথা সকলেই জানেন। এতদ্দ্বারা প্রমাণ হয় যে কৃষ্ণচন্দ্রের বহুপরে আদিমায়ের পূজা প্রচলিত ছিল। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকাল থেকেই বঙ্গদেশে জগদ্ধাত্রী পূজার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
জগদ্ধাত্রী পূজার নিয়মটি একটু স্বতন্ত্র। দুটি প্রথায় এই পূজা হয়ে থাকে। কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী অবধি দুর্গাপূজার ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পূজা করে থাকেন। আবার কেউ কেউ নবমীর দিনই তিন বার পূজার আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করেন। এই পূজার অনেক প্রথাই দুর্গাপূজার অনুরূপ।
জগদ্ধাত্রী পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি বিশিষ্ট উৎসব হলেও, দুর্গা বা কালীপূজার তুলনায় এই পূজার প্রচলন অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে ঘটে। অষ্টাদশ শতকে নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও দেবী জগদ্ধাত্রী যে বাঙালি সমাজে একান্ত অপরিচিত ছিলেন না, তার প্রমাণও পাওয়া যায়। শূলপাণি খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে কালবিবেক গ্রন্থে কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ করেন। পূর্ববঙ্গের বরিশালে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে নির্মিত জগদ্ধাত্রীর একটি প্রস্তরমূর্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে এই মূর্তিটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালার প্রত্নবিভাগে রক্ষিত। কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালের আগে নির্মিত নদিয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবমন্দির ও কোতোয়ালি থানার রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরের ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি লক্ষিত হয়। তবে বাংলার জনসমাজে কৃষ্ণচন্দ্রে পূর্বে জগদ্ধাত্রী পূজা বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। কেবল কিছু ব্রাহ্মণগৃহে দুর্গাপূজার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হত।

 

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব শৌচালয় দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।

 

আজ ‘বিশ্ব টয়লেট দিবস’। প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখটি বিশ্ব টয়লেট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শতভাগ টয়লেট সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করে থাকে।উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন।

 

বিশ্ব শৌচাগার দিবস বা বিশ্ব টয়লেট দিবস হল প্রতিবছর ১৯ নভেম্বরে পালিত জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস, যা বিশ্বব্যাপী পয়ঃনিষ্কাশন সংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুপ্রেরণা যোগায়। সারা বিশ্বে ৪.২ বিলিয়ন মানুষ “নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন” ছাড়াই বাস করে এবং প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ এর অন্যতম লক্ষ্য “সবার জন্য জল ও পয়ঃনিষ্কাশনের উপলব্ধতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা”।বিশেষ করে, লক্ষ্য ৬.২ “খোলা জায়গায় শৌচকর্ম বিলোপ করা ও পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্বাস্থ্যবিধি রপ্ত করা”। যখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য প্রতিবেদন ২০২০ প্রকাশিত হয়, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ অত্যন্ত শোচনীয়” এবং এটি “২০৩০ সালের এজেন্ডা, মানবাধিকার উপলব্ধি এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জনের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে”।
বিশ্ব শৌচালয় দিবস মানুষকে এই লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য পদক্ষেপ নিতে অবহিত, জড়িত এবং অনুপ্রাণিত করার জন্য কাজ করে। সিঙ্গাপুর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৩ সালে বিশ্ব শৌচালয় দিবসকে জাতিসংঘের একটি দাপ্রিক দিন হিসেবে ঘোষণা করে (১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সামনে এর প্রথম প্রস্তাব)। এর আগে, ২০০১ সালে বিশ্ব শৌচালয় সংস্থা (সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা) অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব শৌচালয় দিবস প্রতিষ্ঠা করেছিল।

সারা বিশ্বে ৪.২ বিলিয়ন মানুষ “নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন” ছাড়াই বাস করে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করে। খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করা বিশেষভাবে নারী এবং মেয়েদের পক্ষে কঠিন। নারীরা অধিক গোপনীয়তার জন্য অন্ধকারকে বেছে নেয়, কিন্তু তারপরেও রাতে একা থাকলে আক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।
এটা অনুমান করা হয় যে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ডায়রিয়া সংক্রমণের মোট ঘটনার ৫৮% অনিরাপদ পানি, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন এবং দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের (যেমন অপর্যাপ্ত হাত ধোয়া) কারণে হয়েছিল। এর ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী অর্ধ মিলিয়ন শিশু প্রতি বছর ডায়রিয়াতে মারা যায়। পয়ঃনিষ্কাশন প্রদানের ফলে ডায়রিয়াতে আক্রান্ত শিশুদের সম্ভাবনা ৭-১৭% এবং পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুর হার ৫-২০% হ্রাস পেয়েছে বলে অনুমান করা হয়।
২৮ জুলাই ২০১০ তারিখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পয়ঃনিষ্কাশন (শৌচালয়) সুবিধার অভাব জনস্বাস্থ্য, সম্ভ্রম এবং সুরক্ষার উপর প্রভাব ফেলে। মাটিবাহিত হেলমিনথিয়াসিস, ডায়রিয়া, শিস্টোসোমিয়াসিস এবং শিশুদের অস্বাভাবিক স্বল্পবৃদ্ধিসহ বহুবিধ রোগের কারণ ও বিস্তারের সঙ্গে শৌচালয়ের অভাব অনেকাংশে সম্পর্কিত।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৬ এর লক্ষ্য হল সকলের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন বা স্যানিটেশন সরবরাহ করা।

 

।।সংগৃহীত: উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গোটা বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস (International Men’s Day)।

আজ ১৯ নভেম্বরআন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস । দিনটি আমাদের সমাজের প্রতি পুরুষদের এই দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।  পুরুষদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও এই দিনটি পালন করা হয়।  পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও তাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক চাপ মোকাবেলা করতে হয়।  অফিসে কাজের চাপ ছাড়াও বাড়ির নানা দায়িত্ব, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, ঋণের বোঝা নিয়ে ভাবতে হয় তাদের।  সারাদিন এত চাপ সত্ত্বেও তারা হাসতে থাকে।  পরিবারের অন্যদের খুশি রাখুন।  আমাদের চারপাশে এমন পুরুষরাই প্রকৃত পুরুষ।  তারাও আমাদের রোল মডেল।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গোটা বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস (International Men’s Day)। সমাজে পুরুষের অবদান কতটা উল্লেখযোগ্য, তা স্মরণ করে প্রতি বছর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। গোটা বিশ্ব জুড়ে ১৯ নভেম্বর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। পরে পালটে যায় উদযাপনের দিন। তবে পুরুষ দিবস উদযাপনের দিনের বদল হলেও,  শুরুর দিন থেকে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেক বছর এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা হয় সাড়ম্বরে। থমাস ওসস্টার প্রথম ১৯৯২ সালে পুরুষ দিবস পালন করেন। প্রথমে ৭ ফেব্রুয়ারি এই দিনটিকে পালন করা হলেও পরে ১৯ নভেম্বর তারিখে পালটে ফেলা হয় এই বিশেষ দিনের তারিখ।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখে পালিত হয়। সারা বিশ্বব্যাপী পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে।
পুরুষ দিবস পালনের প্রস্তাব প্রথম করা হয় ১৯৯৪ সালে। তবে ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯২২ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে পালন করা হতো রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে। এই দিনটি পালন করা হতো মূলত পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে।
২০০২ সালে দিবসটির নামকরণ করা হয় ‘ডিফেন্ডার অফ দ্য ফাদারল্যান্ড ডে’। রাশিয়া, ইউক্রেনসহ তখনকার সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এই দিবসটি পালন করা হতো। বলা যায়, নারী দিবসের অনুরূপভাবেই দিবসটি পালিত হয়। ষাটের দশক থেকেই পুরুষ দিবস পালনের জন্য লেখালেখি চলছে। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস নিজের লেখায় এ দিবসটি পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নব্বই দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ দিবস পালনের জন্য বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যদিও অনুষ্ঠানগুলো খুব একটা প্রচার পায়নি। অংশগ্রহণও ছিল কম। পরবর্তী সময়ে ১৯ নভেম্বর পুরো বিশ্বে পুরুষ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসম্পাদনা
এই দিবসের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছেঃ
পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা;
নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক সাম্যতার প্রচার;
পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা;
পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী;
পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদ্‌যাপন;
সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষ ও বালকদের অবদানকে তুলে ধরা।
গোটা বিশ্বে (World) প্রায় ৭০টি দেশে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ভারত (India), আমেরিকা (US), রাশিয়া, চিন (China), ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া সহ একাধিক দেশে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। সমাজে পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি স্পষ্ট করতেই এই বিশেষ দিনটিকে পালন করা হয়। একজন পুরুষ হিসেবে সমাজে তাঁর দায়িত্ব, কর্তব্য কতটা এবং তিনি কীভাবে পালন করবেন, তা বোঝাতেই এই দিনটিকে উদযাপন করা হয়।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস মূলত ৬টি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি। কর্মক্ষেত্রে অবদানের পাশাপাশি সমাজ, সম্প্রদায়, পরিবার, বিবাহ, শিশু যত্ন এবং পরিবেশে পুরুষদের অবদান উদযাপিত হয় এদিন। এছাড়া, পুরুষের সামাজিক, মানসিক, শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক সুস্থতার যত্ন নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচিত হয় এমনকি, নানা ক্ষেত্রে তাদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়ও তুলে ধরা হয় এদিন।
আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস লিঙ্গ সমতার কথা বলে। তাছাড়া, একটি উন্নত ও নিরাপদ বিশ্ব তৈরির লক্ষ্যেও পালিত হয় দিনটি। পুরুষ দিবসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ এবং পুরুষদের সচেতনতা প্রচার করা।
।।তথ্য সংগৃহীত: উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ছট পূজা কি? কি ভাবে ও কখন এই পূজার  উৎপত্তি?

 

দীপাবলির পরই ছট। ছটে সূর্যকে পুজো করা হয়। ছটে কোনও মূর্তিপুজো হয় না। ছট পূজা হিন্দু বর্ষপঞ্জীর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে উদযাপিত একটি প্রাচীন হিন্দু পার্বণ। সূর্য্যোপাসনার এই অনুপম লৌকিক উৎসব পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং নেপালের তরাই অঞ্চলে পালিত হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে এই পার্বণ প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত হয়েছে। ছট পূজা সূর্য্য ও তার পত্নী ঊষার (ছটী মাঈ) প্রতি সমর্পিত হয়, যেখানে তাকে পৃথিবীতে জীবনের স্রোত বহাল রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও আশীর্বাদ প্রদানের কামনা করা হয়। ছটে কোনও মূর্তি পূজা করা হয় না।

 

 

 

 

এই পূজার কখন উৎপত্তি হয়েছিল তার কোনো স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায় না। কিন্তু কিছু পৌরাণিক আখ্যানে ছট পূজার নীতি নিয়মের সঙ্গে মিল থাকা উৎসব দেখা যায়। ঋগ্বেদের শ্লোকসমূহে সূর্য্যবন্দনার স্পষ্ট নিদর্শন আছে। ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে গ্রীক, রোমান, মিশরীয় ইত্যাদির সভ্যতাসমূহেও সূর্য্য মূখ্য দেবতা ছিলেন। সেভাবে ঊষাও বৈদিক দেবী। বেদে উল্লেখ থাকা মতে, তিনি হলেন পূর্বের দেবী এবং অশ্বিনীকুমারদের মাতা। অগ্নি, সোম এবং ইন্দ্র ইত্যাদি দেবতা সকলের পরে তিনি হলেন অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈদিক দেবী। রাত্রি হল তার ভগ্নী যাকে হয়তো পরে পৌরাণিক যুগে সন্ধ্যা এবং ছায়ারূপে কল্পিত করা হয়েছে। রামায়ণে উল্লেখ থাকা মতে, রামের কুলদেবতা সূর্য্যের জন্য রাম এবং সীতা এই পূজা করেছিলেন। মহাভারতে উল্লেখ থাকা মতে, দ্রৌপদী ধম্য ঋষির উপদেশ মতে সূর্য্যকে আরাধনা করে অক্ষয় পাত্র লাভ করেছিলেন। সঙ্গে মহাবীর কর্ণের কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য্যের উপাসনা করা উল্লেখ আছে। আজও ছট পূজা উদ্‌যাপন করা সকল মানুষকে কোমর পর্যন্ত জলে নেমে সূর্য বন্দনা করতে দেখা যায়। অন্য এক আখ্যান মতে, পাণ্ডু ঋষি হত্যার পাপের প্রায়শ্চিত্তের কারণে পত্নী কুন্তীর সঙ্গে বনে থাকায় পুত্র প্রাপ্তির জন্য সরস্বতী নদীর পারে সূর্য্য উপাসনা এবং ব্রত করেছিলেন।

 

 

 

 

পুরাণ মতে, প্রথম মনু প্রিয়বতের কোনো সন্তান ছিল না। তাই তার পিতা কাশ্যপ মুনি পুত্রেষ্ঠী যজ্ঞ করতে পরামর্শ দেন। এর ফলে তার পত্নী মালিনী একটি মৃত পুত্র জন্ম দিলেন। মৃত শিশু দেখে তারাও বিলাপ করতে থাকায় আকাশ থেকে এক দিব্য কন্যা প্রকট হলেন। তিনি নিজকে ব্রহ্মার মানস পুত্রী বলে পরিচয় দিলেন এবং মৃত পুত্রকে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে সে জীবিত হয়ে উঠল। এখনও ঊষা দেবী বা ছটি মায়ের মূর্তি কোলে কিছু থাকা অবস্থায় কল্পনা করা হয় এবং পুত্র প্রাপ্তির জন্য ব্রত উপাসনা করা হয়।
তদুপরি লৌকিক দেবী হিসাবে অন্য বহু লোককথা আখ্যান হিসাবে মানুষের মুখে মুখে চলে আসছে।

ভারতে সূর্য্যোপাসনার জন্য প্রসিদ্ধ পার্বণ হল ছট পূজা। এটি বছরে দুবার পালিত হয় — প্রথমবার চৈত্র মাসে (চৈতী ছট) এবং দ্বিতীয়বার কার্তিক মাসে (কার্তিকী ছট)। পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধি তথা মনোবাঞ্ছিত ফল লাভের জন্য এটি পালন করা হয়। নারী-পুরুষ সমানভাবে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
ছট পূজায় কোনো মূর্তি উপাসনার স্থান নেই। এতে ডুবিত এবং উদিত সূর্যকে পূজা করা হয়। আজকাল পূজা অনুষ্ঠিত করা কমিটিগুলিকে সকল ঘাটের কাছে সূর্য এবং ঊষার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে দেখা যায়। পূজার দুদিন আগে লাউ ভাত এবং একদিন আগে খির ভাত খাওয়ার সঙ্গে ৩৬ ঘণ্টার এক কঠোর ব্রত পালন করতে হয়। পূজায় সম্পূর্ণ সাত্বিক নৈবেদ্য ইত্যাদি কুলো, ডলা বা পাচিতে রেখে উৎসর্গ করা হয়। বিভিন্ন ফলমূল, মিঠাই ইত্যাদির সঙ্গে পরম্পরাগত বিহারী লোকখাদ্য “ঠেকুয়া” প্রস্তুত করে নৈবেদ্যরূপে প্রদান করা হয়। এই সময় নুন-মশলাবর্জিত সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করা হয়। পূজার শেষে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের প্রসাদ বিতরণ এই পূজার অন্যতম নিয়ম। এই পূজায় অনেককে বাগরি নদীর ঘাটে গিয়ে পূজা করার দৃশ্যও দেখতে পাওয়া যায়। বর্তমানে এই পূজা এক সার্বজনীন রূপ পেয়েছে। বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ এই পূজার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে পূজায় সামিল হতে শুরু করেছেন।

 

 

 

 

চারদিনের এই ব্রতের প্রথম দিনে ব্রতধারী বাড়িঘর পরিষ্কার করে স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ ভোজন করেন (যাকে নহায়-খায় বলা হয়)। পরদিন থেকে উপবাস শুরু হয়; ব্রতী দিনভর নির্জলা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় পূজার শেষে ক্ষীরের ভোগ গ্রহণ করেন (এটি খরনা নামে পরিচিত)। তৃতীয় দিনে নিকটবর্তী নদী বা জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে অন্যান্য ব্রতীর সাথে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য অর্থাৎ দুধ অর্পণ করা হয়। ব্রতের শেষদিনে পুনরায় ঘাটে গিয়ে উদীয়মান সূর্যকে পবিত্র চিত্তে অর্ঘ্যপ্রদানের পর উপবাসভঙ্গ করে পূজার প্রসাদরূপে বাঁশ নির্মিত পাত্রে সুপ, গুড়, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, ঠেকুয়া, ভাতের নাড়ু এবং আখ, কলা, মিষ্টি লেবু প্রভৃতি ফল জনসাধারণকে দেওয়া হয়।

ছট পুজোর বিধির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন দিক হল ৩৬ ঘণ্টার উপবাস। কার্তিক মাসে বিভিন্ন রীতি পালনের মাঝে নির্জলা এই উপবাস ভঙ্গ করেই সূর্যদেবকে প্রথম জল অর্পণ করে শুরু হয়ে ছটের মহাপর্ব। সাধরাণ বিবাহিত মহিলারা দাম্পত্য ও ,সন্তানের সমৃদ্ধির জন্য এই ছটের বিধি পালন করেন। তবে, অনেক সময় পুরুষদেরও এই বিধি পালন করতে দেখা যায়। পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, নেপাল ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় এমন ছট পুজোর আসর দেখা গিয়েছে বহুবার।

 

 

 

।।সংগৃহীত : উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ জাতীয় মৃগীরোগ সচেতনা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

মস্তিস্কের ব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এই রোগের আশেপাশের পৌরাণিক কাহিনীগুলিকে ধ্বংস করতে ভারতে প্রতি বছর ১৭ নভেম্বর জাতীয় মৃগী দিবস পালিত হয়।

একটি মৃগীরোগ হঠাৎ করে আসতে পারে এবং এটি অনুভব করা ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক হতে পারে কারণ তারা নড়াচড়া, তারা যে শব্দ করছে বা তারা যে সংবেদনগুলি অনুভব করছে তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।  মৃগীরোগ হল একটি মস্তিষ্কের ব্যাধি যা মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যকলাপ বা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকারিতায় অস্থায়ী পরিবর্তনের কারণে খিঁচুনি হতে পারে।  আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউরোলজিক্যাল সার্জনদের মতে, মস্তিষ্ক ক্রমাগত একটি সুশৃঙ্খল প্যাটার্নে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক আবেগ তৈরি করে যা মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষের নেটওয়ার্ক বরাবর ভ্রমণ করে।  মৃগী রোগে, এই বৈদ্যুতিক ছন্দগুলি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, এবং স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক প্যাটার্নটি হঠাৎ এবং সুসংগত বৈদ্যুতিক শক্তির বিস্ফোরণ দ্বারা ব্যাহত হয় যা তাদের চেতনা, নড়াচড়া বা সংবেদনকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রভাবিত করতে পারে।  মৃগীরোগ অনেক ধরনের হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী উপসর্গের তারতম্য হতে পারে।  মায়োক্লিনিকের মতে, কিছু লোক খিঁচুনির সময় সচেতনতা হারাতে পারে যখন অন্যরা কয়েক সেকেন্ডের জন্য ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারে।  কিছু ধরনের মৃগীরোগেও মানুষ তাদের হাত বা পা নাড়াতে পারে – নড়াচড়া যা খিঁচুনি নামে পরিচিত।  স্যার আইজ্যাক নিউটন, চার্লস ডিকেন্স, এলটন জন, নিল ইয়াং, মার্টিন কেম্প থেকে শুরু করে রিচার্ড বার্টন পর্যন্ত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মৃগীরোগের সাথে লড়াই করেছেন।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে।  ভারতে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় ১৭ই নভেম্বর ২০২৩-এ। মৃগীরোগ হল মস্তিষ্কের একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি যা বারবার ‘খিঁচুনি’ বা ‘ফিট’ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।  নিউরনে (মস্তিষ্কের কোষ) আকস্মিক, অত্যধিক বৈদ্যুতিক স্রাবের ফলে খিঁচুনি হয়।  এই অবস্থা যে কোনো বয়সে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে এবং প্রতিটি বয়সের স্বতন্ত্র সমস্যা রয়েছে। WHO-এর মতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ মৃগী রোগে আক্রান্ত যার মধ্যে ৮০% মানুষ উন্নয়নশীল দেশের।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩—

 

নীচে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ তারিখ:

২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালন করা হয়।

 

জাতীয় মৃগী দিবসের ইতিহাস—

 

ভারতে মৃগী রোগের অবস্থা কমাতে ভারতের এপিলেপসি ফাউন্ডেশন দ্বারা প্রথম জাতীয় মৃগী দিবস পালন করা হয়।  ভারতে এপিলেপসি ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা।  মুম্বাইতে অবস্থিত ডাঃ নির্মল সূর্য দ্বারা এপিলেপসি ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া গঠিত হয়েছিল।  চ্যারিটি অনেক লোককে সাহায্য করে যারা মৃগী রোগে ভুগছে এবং তারা মানুষের মধ্যে মৃগী রোগের ভয় কমাতে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।

 

মৃগী রোগের কারণ—

 

প্রসবপূর্ব এবং প্রসবকালীন আঘাত থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি, জন্মগত অস্বাভাবিকতা, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, স্ট্রোক এবং ব্রেন টিউমার, মাথায় আঘাত/দুর্ঘটনা, শৈশবকালে দীর্ঘায়িত উচ্চ জ্বর।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ থিম—

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ এর থিম হল “কলঙ্ক”। National Epilepsy Day ২০২৩ Theme is “Stigma”.  একবার জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ থিম প্রকাশিত হলে এটি জাতীয় মৃগী দিবস 2023 থিম পৃষ্ঠায় আপডেট করা হবে।

 

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ তাৎপর্য—

 

আসুন জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ এর তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে দেখি।

জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ পালিত হয় মানুষের মধ্যে মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য।

অনেক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মৃগীরোগের কারণ এবং এর লক্ষণগুলি প্রচার করতে জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ উদযাপন করে।

আমরা জাতীয় মৃগী দিবস ২০২৩ উদযাপনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি এবং আমাদের বন্ধুদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে এবং অন্যদের সাহায্য করার চেষ্টা করতে পারি।

অনলাইনের মাধ্যমে আমরা মৃগীরোগ, এর কারণ এবং লক্ষণ সম্পর্কে আরও জানতে পারি এবং অন্যদের শিখতে পারি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জানুন আনফ্রেন্ড দিবস কি, কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা।

দিনটি প্রচলনের উদ্দেশ্য ছিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ও বিরক্তিকর ব্যক্তিকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তিনি মনে করতেন, সামাজিকমাধ্যমে এমন অনেকে বন্ধু তালিকায় যুক্ত হয়ে যান, যাদের আমরা চিনি না। এমনকি তাদের সঙ্গে আমাদের কখনো যোগাযোগও হয় না। তাই তাদের থেকে পরিত্রাণ পেতে আনফ্রেন্ড দিবসের প্রচলন।

 

ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে (NUD) হল একটি অনানুষ্ঠানিক ছুটির দিন যা প্রকৃত বন্ধু নয় এমন অন্যান্য Facebook ব্যবহারকারীদের বন্ধুত্বমুক্ত করার প্রচার করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।  সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিশ্বের যেকোন স্থানে, প্রায় যে কাউকে অ্যাক্সেস প্রদান করে৷  যাইহোক, এই সহজ বিশ্বব্যাপী অ্যাক্সেস ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা অপব্যবহার এবং অন্যের জাঙ্ক পোস্ট দ্বারা অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলার জন্য উন্মুক্ত করে।  এই ডিজিটাল যুগে, এটি অপরিহার্য যে পরিচয়গুলি সুরক্ষিত থাকবে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করা সময়কে কমিয়ে আনা হবে এবং মুখোমুখি মানুষের মিথস্ক্রিয়া দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
বন্ধুত্বের প্রকৃত অর্থ সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়াসে ১৭ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে টিভি ব্যক্তিত্ব জিমি কিমেল দ্বারা জাতীয় আনফ্রেন্ড ডে মূলত ধারণা করা হয়েছিল এবং প্রস্তাব করেছিলেন।  কিমেল বিশ্বাস করেন যে এমন অনেক ফেসবুক অপরাধ রয়েছে যা কাউকে বন্ধুত্বহীন করতে পারে, যার মধ্যে কয়েকটির মধ্যে রয়েছে, খুব বেশি পোস্ট করা, বানান পরীক্ষা করা খুব কম, একই ধরণের সামগ্রী পুনরাবৃত্ত পোস্ট করা, প্রশ্ন করার আগে গুগলিং না করা, সারাক্ষণ Facebook এ থাকা  এবং গেমের জন্য অ্যাপ-মধ্যস্থ Facebook অনুরোধ পাঠানো।  বিরক্তিকর অপরাধীদের আনফ্রেন্ড করার পাশাপাশি, যাদের সাথে আপনার আর স্থির যোগাযোগ নেই এবং আপনার তথ্য এবং পোস্টগুলিতে অ্যাক্সেস থাকতে পারে এমন কোনো অজানা ব্যবহারকারীকে আনফ্রেন্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷

 

জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবসের ইতিহাস—

 

“আনফ্রেন্ড”…হয়তো আমাদের শুধু পরিষ্কার করে শুরু করা উচিত যে কীভাবে এবং কখন “বন্ধু থেকে (আন)ফ্রেন্ড” এমনকি শুরু করার জন্য একটি ক্রিয়া হয়ে উঠেছে, “বন্ধু” শব্দটি একটি সাধারণ পুরানো বিশেষ্য হওয়ার শত শত বছর পরে আপনি কাউকে বর্ণনা করতেন  আপনার সাথে একটি ভাল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং “আনফ্রেন্ড” শব্দটি এমনকি অস্তিত্বের ক্ষেত্রেও ছিল না।  অক্সফোর্ড ডিকশনারির 2009 সালের শব্দ ছিল, আসলে, “আনফ্রেন্ড”, যা এটি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে, “ক্রিয়া – ফেসবুকের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটে কাউকে ‘বন্ধু’ হিসাবে সরিয়ে দেওয়া।”
ক্রিস্টিন লিন্ডবার্গ, অক্সফোর্ডের ইউএস ডিকশনারি প্রোগ্রামের সিনিয়র লেক্সিকোগ্রাফার, ডিকশনারির বরং বিতর্কিত পছন্দ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “এটির মুদ্রা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘায়ু উভয়ই রয়েছে।  অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্রেক্ষাপটে, এর অর্থ বোঝা যায়, তাই আধুনিক ক্রিয়াপদ রূপ হিসেবে গ্রহণ করা এটিকে বছরের সেরা শব্দের জন্য একটি আকর্ষণীয় পছন্দ করে তোলে।”
কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেল ২০১৪ সালে ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে প্রতিষ্ঠা করেন সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে মোকাবেলা করার জন্য যা পোকেমন কার্ডের মতো ‘বন্ধু’ সংগ্রহ করে, একটি হাস্যকর পরিমাণ ‘বন্ধু’ সংগ্রহ করে যা তারা খুব কম সময়েই জানে না।  ন্যাশনাল আনফ্রেন্ড ডে-তে দূরবর্তী পরিচিতদের থেকে পরিত্রাণ পাওয়া আপনার ইন্টারনেট অভিজ্ঞতাকে স্ট্রীমলাইন করতে সাহায্য করতে পারে, আপনাকে আপনার প্রোফাইল ব্যবহার করতে সাহায্য করতে পারে এমন লোকেদের সাথে যোগাযোগ রাখতে, যাদের আপনি সত্যিই পছন্দ করেন এবং ‘বন্ধু’-এর প্রকৃত সংজ্ঞা রক্ষা করতে পারেন।

 

কীভাবে জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবস উদযাপন করবেন—

 

প্রথমত, সেইসাথে কিছুটা হাস্যকরভাবে, সেই দিনের জন্য একটি ফেসবুক পৃষ্ঠা রয়েছে যা আপনি ‘লাইক’ করতে পারেন, যা কাকে আনফ্রেন্ড করতে হবে তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন মানদণ্ডের পরামর্শ দেয়।  এই লোকেদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা ক্রমাগত আপনাকে তাদের অর্থ ধার দিতে বলছে যে আপনি আর কখনও দেখতে পাবেন না, এই সপ্তাহে তারা যে পৃষ্ঠায় আচ্ছন্ন হোক না কেন আপনাকে ‘লাইক’ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, বা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ছোট জিনিস সম্পর্কে অভিযোগ করছে।  তাহলে তুমি কিসের জন্য অপেক্ষা করছ?
মোট অপরিচিত ব্যক্তিদের এবং আপনার ‘বন্ধু’ তালিকায় বাদ দেওয়ার এই বিচার-বিহীন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জাতীয় আনফ্রেন্ড দিবস উদযাপন করুন!  একটু বেশি সিরিয়াস নোটে, জাতীয় আনফ্রেন্ড ডে আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে লোকেরা কতটা সুপারফিশিয়াল সম্পর্কে জড়ায়, ‘লাইক’, ‘রিটুইট’ ইত্যাদি সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য একটি ভাল সময় হতে পারে। আপনি কি সম্ভবত লোকেদের অবহেলা করছেন?  আপনার জীবনে কে আপনাকে সত্যিই ভালবাসে এবং আপনার মঙ্গলের কথা চিন্তা করে আপনার ল্যাপটপের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে?

আপনি কি সমস্ত ধরণের ক্রিয়াকলাপের ছবি তুলছেন যা আপনার প্রকৃত বন্ধু, পরিবার বা উল্লেখযোগ্য অন্যদের সাথে উপভোগ করা উচিত যাতে আপনি সেগুলিকে দ্রুত Facebook এ আপলোড করতে পারেন এবং যে ব্যক্তিদের আপনি সত্যিই খুব বেশি পছন্দ করেন না তাদের কাছ থেকে ‘লাইক’ অর্জন করতে পারেন?  এই প্রশ্নগুলি যতই বোকা লাগতে পারে, মানুষ প্রকৃত মানুষের যোগাযোগ এবং মিথস্ক্রিয়াকে ‘পছন্দ’ ইত্যাদি দিয়ে প্রতিস্থাপন করে আমাদের সমাজে একটি বৈধ সমস্যা হয়ে উঠছে।  এটি আপনার জীবনে ঘটছে না তা নিশ্চিত করতে এই জাতীয় বন্ধু দিবসে সময় নিন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This