Categories
প্রবন্ধ

জীবন ঘোষাল – ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব, একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে জীবন ঘোষাল প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। জীবন ঘোষাল ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

জীবন ঘোষাল ওরফে মাখনলাল ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের একজন সদস্য, যেটি ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগারে অভিযান চালিয়েছিলেন।

বিপ্লবী কার্যক্রম—

 

ঘোষাল ব্রিটিশ ভারতের চট্টগ্রামের সদরঘাটে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি মাখনলাল নামে পরিচিত ছিলেন।  তাঁর পিতার নাম যশোদা ঘোষাল। ছাত্রজীবনেই তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন।  ঘোষাল চট্টগ্রামে পুলিশের অস্ত্রাগার অভিযানে সক্রিয় অংশ নেন।  ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই এপ্রিল মধ্যরাত্রে চট্টগ্রামের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার মধ্যদিয়ে এই বিদ্রোহ শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চারদিন কার্যত স্বাধীন থাকে চট্টগ্রাম। মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে সংগঠিত এই বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক বিপ্লবী জীবন ঘোষাল। প্রয়োজনীয় অস্ত্র সংগ্রহের জন্য চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন এবং কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারে হামলা চালায় বিপ্লবীরা। পুলিশের অস্ত্রাগার দখলের জন্য গঠিত দলে ছিলেন জীবন ঘোষাল। তাঁরা সফলভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ হন। এই সময় অতিরিক্ত অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংসের নিমিত্তে আগুন লাগাতে গেলে হিমাংশু সেন আহত হন। তাঁকে নিরাপদে রেখে আসার জন্য গনেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, জীবন ঘোষাল ও আনন্দ গুপ্ত তাকে নিয়ে শহরে গেলে মূল দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তাঁরা। অস্ত্রাগার দখলের পর সেখানে বিপ্লবীদের হেডকোয়ার্টার স্থাপন করা হয় এবং ভারতীয় পতাকা উত্তোলন ও ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয় সামরিক সরকার। চট্টগ্রাম ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হয় বীর চট্টলার গুটিকয় দামাল তরুণের অসীম সাহসী উদ্যোগে। তাঁদের এই বিদ্রোহ শোষণ-বঞ্চনার আঁধারে ঢাকা ভারতবাসীকে সূর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

 

অপারেশনের পর তিনি আরেক তরুণ বিপ্লবী আনন্দ গুপ্তের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার দিকে পালিয়ে যান।  গ্রুপের দুই সিনিয়র সদস্য, গণেশ ঘোষ এবং অনন্ত সিং তাদের যাত্রায় তাদের সঙ্গে ছিলেন।  পুলিশ ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে দলটিকে চ্যালেঞ্জ করলেও শেষ পর্যন্ত ঘোষাল ও অন্যরা একটি সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর পালাতে সফল হয়।  তিনি কলকাতা, মির্জাপুর গলিতে এবং হুগলি জেলার চন্দননগরে আশ্রয় নেন।

 

মৃত্যু—

 

পালানোর পর ঘোষাল আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন।  পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট ১৯৩০ সালের ১ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে গোপন আস্তানায় আক্রমণ করেন এবং পরবর্তী যুদ্ধে ঘোষাল নিহত হন।বিপ্লবী জীবন ঘোষালও দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনুপ্রাণিত করেছিল ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় সম্বন্ধে দুটি কথা : দিলীপ রায়।।।

আমাদের দেশের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ  বন্দোপাদ্যায়কে শৈশব থেকেই মুগ্ধ করত  । যার জন্য তিনি নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন গ্রাম বাংলার এখানে সেখানে লুকিয়ে থাকা ঝোঁপ-জঙ্গল, লতা-পাতা, বিভিন্ন ধরনের ফুল, নানান প্রজাতির পশু-পাখি, পথ-ঘাট, নদী-নালা, ইত্যাদি । পরবর্তী কালে  প্রকৃতির প্রতি  তাঁর অগাধ ভালবাসার  অভিজ্ঞতা নানাভাবে তাঁর রচনাকে প্রভাবিত ও  সমৃদ্ধ করেছে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়  । তাঁর অনুভবী এবং সংবেদনশীল মন দিয়ে প্রকৃতির অসামান্য রূপ বর্ণনা করে সাহিত্য সম্ভারকে অন্যতর ভূমিকায় উদ্ভাসিত করেছেন । সেই কারণে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি,   তাঁর সৃজনশীল সাহিত্য প্রতিভা, অবর্ণনীয় !
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১২ই সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতবর্ষের বাংলা প্রদেশের চব্বিশ পরগণা জেলার কাঁচরাপাড়ার সন্নিকট ঘোষপুর-মুড়াতিপুর গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন  ।  তিনি ছিলেন প্রখ্যাত মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মৃণালিনী দেবীর পাঁচটি সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সন্তান, অর্থাৎ বিভূতিভূষণ দুই ভাই এবং  তিন বোনের মধ্যে ছিলেন সবার বড় । তাঁর বাবা  ছিলেন  তদানীন্তনকালের একজন প্রখ্যাত সংস্কৃত বিষয়ক পণ্ডিত  । মহানন্দ বন্দোপাধ্যায়ের পাণ্ডিত্য  ও  কথকতার জন্য শাস্ত্রী উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন । উল্লেখ থাকে যে, তাঁদের আদি নিবাস ছিল যশোর জেলার ( বর্তমান চব্বিশ পরগনা জেলার ) অন্তর্ভুক্ত বনগ্রাম মহকুমায় অবস্থিত ইছামতী নদীর তীরে ব্যারাকপুর গ্রামে । শোনা যায়  বাবা মহানন্দ বন্দোপাধ্যায় কথকতা ও পৌরাহিত্য করতেন বলে,  তাঁর  বাল্য ও কৈশোর জীবন কাটে দারিদ্র্য , অভাব  ও  অনটনের মধ্যে । বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথমে গৌরী দেবী  ও পরে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে রমা দেবীর সাথে দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হন ।
এবার আসছি তাঁর শিক্ষা জীবন সম্পর্কে  ।  বাবা মহানন্দ বন্দোপাধ্যায়ের কাছে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের শিক্ষার হাতেখড়ি  । লেখাপড়ার পাঠ শুরু  । ছোট থেকেই মেধাবী হওয়ার কারণে নিজ গ্রামের  পাঠশালায় পড়াশোনার পর বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষার্থী হিসাবে ভর্তি হন  । ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে বনগ্রাম হাইস্কুল থেকে এনট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার রিপন কলেজ (অর্থাৎ বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে আই-এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে রিপন কলেজ থেকেই বি.এ পরীক্ষায় ডিস্টিংশন সহ উত্তীর্ণ হন । উচ্চতর পড়াশোনার জন্য এম.এ ও আইন বিষয়ে ভর্তি হন । কিন্তু পরিবারের চাপে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
এবার আসছি তাঁর কর্ম জীবন সম্পর্কে ।   হুগলী জেলার জাঙ্গিপাড়া গ্রামের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে প্রবেশ । এরপরে সোনারপুর হরিনাভী স্কুলেও শিক্ষাকতা করেন  । ঐ সময়ে গৌরী দেবীর মৃত্যু হলে মনের কষ্টে  সন্ন্যাস গ্রহণ করেন । সেখান থেকে ফিরে এসে খেলৎচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে গৃহ শিক্ষক ও সেক্রেটারি হিসাবে কাজ  করা শুরু করেন । পরবর্তীকালে  খেলৎচন্দ্রের  সুপারিশ ক্রমে ভাগলপুর সার্কেলের সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন  । ভাগলপুরে প্রবাসী হিসাবে বসবাস করতে থাকেন, এখানেই তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস “পথের পাঁচালী” রচিত হয় । এভাবে কিছুদিন কাটানোর পর ধর্মতলায় খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা করেন । পরে বনগাঁর নিকট গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে আমৃত্যু জীবন পর্যন্ত  শিক্ষাকতা করতে থাকেন ।
সাহিত্য সম্বন্ধে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রবাসী পত্রিকায় “উপেক্ষিতা”  নামক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে  তাঁর সাহিত্য জীবনে সূত্রপাত  ।  ভাগলপুরের বাঙালিটোলায়  জমিদারির সেরেস্তায় নায়েবের কাজ নিয়ে চলে আসার পর “পথের পাঁচালী” উপন্যাস লেখার মধ্য দিয়ে ভাগলপুরে তাঁর লেখকজীবনের সূত্রপাত  ।  উল্লেখ থাকে যে,  ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ভাগলপুরে বসবাস কালীন  সময়ে  “পথের পাঁচালী”  রচনা শুরু   এবং ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সেই লেখার শেষ  ।  এই ভাগলপুরের বাঙালিটোলায় লেখক বিভূতিভূষণকে আবিষ্কার করেন যিনি, তাঁর নাম উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় । এখানে একটা কথা ভীষণ প্রাসঙ্গিক,  উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন দুজন বিখ্যাত সাহিত্যিককে আবিষ্কার করার কারণে । তাঁদের মধ্যে প্রথমজন হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর দ্বিতীয়জন হলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । উপেন্দ্রনাথ একদিকে সাহিত্যপাগল, অন্যদিকে মজলিসি । তাঁর বাড়ির কাছারিঘরে নিত্যদিন জমজমাট সাহিত্য আড্ডা বসতো । সেই আড্ডায়  অপরিচিত যুবক বিভূতিভূষণের ছিল নিত্য যাতায়াত । বৈঠকখানার সেই আড্ডায়  বিভিন্নরকম  সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা ও  মন্তব্যে সকলে মেতে উঠতেন । কিন্তু এই যুবকটি কোনো আলোচনায়  অংশগ্রহণ করতেন  না । একদিন বৈশাখ মাসের  বিকেলের আড্ডায় কেউ উপস্থিত হলেন না ।  উপেন্দ্রনাথ কাছারিঘর থেকে নেমে উঁকি দিয়ে দেখলেন বাইরে রাস্তার উপরে একটি লণ্ঠনের  আলো,  সঙ্গে একটা ছায়ামূর্তি । সেই  ছায়ামূর্তি এসে হাজির হলো তাঁর বৈঠকখানায় । আড্ডারঘরে  একেবারে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বিভূতিভূষণ বসলেন । উপেন্দ্রনাথ বললেন, “একি ! আপনি পেছনে বসলেন কেন ?” প্রত্যুত্তরে বিভূতিভূষণ বললেন, “আরো অনেকে আসবেন, আমি কীভাবে সামনের বেঞ্চটিতে বসি ।“   উপেন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গে বললেন, “আজকে মনে হচ্ছে আর কেউ আসবেন  না । আসুন, আপনি সামনের চেয়ারটাতে বসুন ।“  নানাবিধ গালগল্পের মধ্যে উপেন্দ্রনাথ হঠাৎ বিভূতিভূষণকে জিজ্ঞেস করলেন, তা আপনার কবিতা কিংবা গল্প-উপন্যাস লেখার বাতিকটাতিক আছে নাকি ? বিভূতিভূষণ উত্তরে বললেন,  “না, তেমন কিছু নয়,  একটা উপন্যাস লিখেছি ।“  কিন্তু লেখাটি আদৌ মানসম্পন্ন হয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না ! উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বিভূতিভূষণকে উদ্দেশ্য করে বললেন,  “তাহলে উপন্যাসের খাতাটি একবার নিয়ে আসুন । দেখি কেমন উপন্যাস লিখেছেন আপনি ?”  এই কথোপকথনের  কয়েক দিনের মধ্যে  বিভূতিভূষণ তাঁর  “পথের পাঁচালী”  উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে গেলেন উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে । তারপর কিছুদিন বাদে একদিন মজলিস শেষে সবাই যখন উঠে  যাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে উপেন্দ্রনাথ বিভূতিভূষণকে বললেন,  “আপনি এখনই যাবেন না । আপনার সঙ্গে একটু কথা আছে ।“
সাহিত্য আসর থেকে সবাই বিদায় নেওয়ার পর উপেন্দ্রনাথ বিভূতিভূষণকে বললেন,  “ভাই, আপনার হবে । হবে বলছি কেন ?  আপনার লেখা ভাল হয়েছে । কী এক অসাধারণ উপন্যাস লিখেছেন আপনি ! লেখাটা পড়েই মন-প্রাণ দুটিই জুড়িয়ে গেছে আমার । যাই হোক, এবার আসল কথা বলি, আমি ভাগলপুরে আর থাকছি না । কলকাতায় চলে যাচ্ছি । তবে আমার কলকাতায় যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেখান থেকে একটি পত্রিকা বের করব ‘বিচিত্রা’ নামে । সেখানেই  আমি ছাপতে চাই  আপনার এই  উপন্যাসটি । আপনার এই উপন্যাস দিয়েই যাত্রা শুরু করবে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকাটি । এর  কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করল বিচিত্রা এবং বিভূতিভূষণের উপন্যাসও কিস্তিতে কিস্তিতে ।  উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যরসিক পাঠকমহলে গুঞ্জন শুরু হলো—কে এই লেখক ? যে সমাজ ও দেশ-গ্রামের তুচ্ছ জিনিসগুলো এত মনোমুগ্ধ করে তাঁর লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন  । হঠাৎ একদিন ‘শনিবারের চিঠি’র সম্পাদক সজনীকান্ত দাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এসে উপস্থিত । নব্বই  টাকা দিয়ে বললেন—”বিভূতিবাবু, আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে “পথের পাঁচালী”  উপন্যাসটি বই আকারে ছাপব ।“  এভাবেই শুরু বিভূতিভূষণের পথচলা ।
এই উপন্যাসটি ছিল বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের  প্রথম ও সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যকৃতী যা পরবর্তি কালে চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় “পথের পাঁচালী” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বিখ্যাত হয়ে ওঠে । এছাড়াও তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস  ‘অপরাজিত’ রচনা করেন, যা ছিল পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরবর্তী অংশ । এই দুই উপন্যাসের কাহিনীই ছিল তাঁর জীবনকেন্দ্রিক । চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাসের কাহিনীর মাধ্যমে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যা ভীষণ ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে । ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে কিশোর পাঠ্য ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাস ভারতবর্ষের তরুণদের কাছে অতি  জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর  উপন্যাস। ২০১৩ সালে চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জির পরিচালনায় ‘চাঁদের পাহাড়’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে যথেষ্ঠ খ্যাতি অর্জন করে ।
পুরস্কার হিসাবে বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইছামতী উপন্যাসের জন্য ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার পান । এছাড়াও তাঁর জন্মভূমি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ মহকুমার পারমাদান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নাম লেখকের সম্মানার্থে  “বিভূতিভূষণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য”  রাখা হয়েছে ।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ জীবনের কয়েকটি বৎসর তাঁর ভালোবাসার শেষ চিহ্ন গৌরীকুঞ্জতে কাটিয়েছেন । তিনি তার বাড়িটির নাম স্ত্রীর নামে ‘গৌরীকুঞ্জ’ রেখেছিলেন ।
১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১লা নভেম্বর বিহারের ঘাটশিলায় (অধুনা ঝাড়খণ্ডের) ৫৬ বৎসর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন । বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সৃষ্টির গুনে ইতিহাসে চিরস্মরণীয়  হয়ে থাকবেন আজীবন । তাঁকে আমার শতকোটি প্রণাম ।  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।
——–০———

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব নিরামিষ দিবস কি, কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

আজ ‘বিশ্ব নিরামিষ দিবস’, পৃথিবীজুড়ে বাড়ছে ভেগানদের সংখ্যা,  ভেগান শব্দটির সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় নেই। নিরামিষাশীরা যখন প্রাণীজাত সমস্ত খাবারের সঙ্গে আড়ি করেন, তখন তাদের বলে ভেগান। অর্থাৎ শুধু মাছ মাংস নয় ভেগানরা ডিম, দুধ আর দুধের যে কোনও খাবার যেমন ছানা, দই, পনীর, সন্দেশ, রসগোল্লাও খান না।

তার মানে, খাবারের প্লেটে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু কিছুই থাকবেনা।ভিগানিজমে বিশ্বাসীরা এটাকে নিয়ে গেছেন আরও দূরে যেমন চামড়া, উল বা মুক্তার মতো বিষয়গুলো থেকেও দুরে থাকতে হবে।এটাকেই বলা হয় ভিগানিজম, প্রতিনিয়ত এতে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।

প্রাণীর শরীর থেকে যেহেতু অনেক ধরনের ভাইরাস ছড়ায় এবং তা অতিমারির রূপও ধারণ করতে পারে, ফলে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীদের একাংশ জোর দিচ্ছেন প্রাণীজ প্রোটিন বর্জন করার উপর।

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের অনেকেই বলেন, নিরামিষ খেলে নাকি বেশিদিন বাঁচা যায়।

ভিগানুয়ারি একটা ব্রিটিশ চ্যারিটি সংস্থা যারা জানুয়ারি মাসে ভেগানিজমে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য মানুষকে সহায়তা করে। তারা বলছে, প্রতি বছরই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৯ সালে ১৯০ দেশের আড়াই লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছে।

যেহেতু প্রোটিনের বিকল্প উৎস আছে বাজারে সে কারণে ভিগানিজম বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রিতে রূপ নিচ্ছে। ভেগানিজমের কেন্দ্রে রয়েছে প্রাণী জগতের প্রতি ভালোবাসা। পশুহত্যার বিরোধী অনেকেই এই খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। বলা হয়, হিপিদের কারণেই নাকি এই ডায়েট সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়েছে। শান্তির বাণী ছড়ানোর জন্য তাঁরা প্রাণীজাত খাবার বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন। ভারতেও এই ডায়েট ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে।এই খাদ্যাভ্যাসে যেহেতু কোনও রকমের মাংস, মাছ, ডিম এবং দুগ্ধজাত জিনিস খাওয়া যায় না, তাই এগুলো থেকে যে ফ্যাট আসে, সেটাও শরীরে প্রবেশ করে না। অনেক রোগব্যাধিও যে কারণে শরীর থেকে দূরে থাকে। তাই রোগা হওয়ার চেষ্টায় অনেকেই এই ডায়েট মেনে চলেন। ‘ভেজিটেরিয়ান’ শব্দের প্রথম তিনটি ও শেষ দু’টি অক্ষর নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ভেগান’ (Vegan) শব্দটি।  ১৯৪৪ সালে যুক্তরাজ্যের ডাল্টন ওয়াটসন প্রতিষ্ঠা করেন ভেগান সোসাইটি। মি. ওয়াটসনই ‘ভেগান’ শব্দটির প্রচলন ঘটান।

প্রতি বছর  বিশ্ব নিরামিষ দিবস পালনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারের প্রচারই নয়, পরিবেশ ও প্রাণীর সুরক্ষার পাশাপাশি নিরামিষ খাবারের উপকারিতা সম্পর্কেও মানুষকে সচেতন করা।

 

।।তথ্য সংগৃহীত : ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ হ্যালোইন দিবস, জানুন হ্যালোইন কখন এবং কেন পালিত হয়।

হ্যালোইন বা হ্যালোউইন, এছাড়াও অলহ্যালোইন অল হ্যালোজ’ ইভ, বা অল সেইন্টস’ ইভ হিসাবে পরিচিত, একটি বার্ষিক উদ্‌যাপন বা ছুটির দিন যা প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে পালিত হয় ৩১ অক্টোবর তারিখে, অল হ্যালোজ’ ডে বা সমস্ত হ্যালোজ দিবসে পাশ্চাত্য খ্রিস্টীয় ভোজোৎসবের প্রাক্কালে।  এটি ফসল কাটার মরসুমের শেষ এবং শীতের শুরু, বা বছরের “অন্ধকার অর্ধেক” চিহ্নিত করেছিল।  হ্যাঁ, হ্যালোউইনের বেশ প্রাচীন ও “পবিত্র” ইতিহাস রয়েছে!  হ্যালোউইনের উত্স এবং আমরা কীভাবে এই দিনটি উদযাপন করি তা জানুন।

 

হ্যালোইন কখন হয়?

 

হ্যালোইন, ঐতিহ্যগতভাবে “অল হ্যালোস ইভ” নামে পরিচিত, খ্রিস্টীয় পবিত্র দিন অল হ্যালোস ডে বা অল সেন্টস ডে (নভেম্বর 1) এর আগের সন্ধ্যায় উদযাপিত হয়।  তাই, হ্যালোইন সবসময় 31 অক্টোবর পালিত হয়।

 

হ্যালোইন, অল হ্যালোস ইভের সংকোচন, 31 অক্টোবর, অল সেন্টস (বা অল হ্যালোস) দিবসের আগের সন্ধ্যায় পালন করা একটি ছুটির দিন।  উদযাপনটি পশ্চিমা খ্রিস্টান অল সেন্টস উৎসবের আগের দিনটিকে চিহ্নিত করে এবং অলহলোটাইডের মরসুমের সূচনা করে, যা তিন দিন স্থায়ী হয় এবং অল সোলস ডে দিয়ে শেষ হয়।  বেশিরভাগ ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ অংশে, হ্যালোউইন পালন করা অনেকাংশে অধর্মীয়।

 

হ্যালোউইনের উৎপত্তি হয়েছিল প্রাচীন ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের সেল্টদের মধ্যে সামহেন উৎসবে।  সমসাময়িক ক্যালেন্ডারে 1 নভেম্বরের সাথে সম্পর্কিত দিনে, নতুন বছর শুরু হবে বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল।  সেই তারিখটিকে শীতকালীন সময়ের শুরু বলে মনে করা হত, যে তারিখে পশুদের চারণভূমি থেকে ফেরত আনা হয়েছিল এবং জমির মেয়াদ পুনর্নবীকরণ করা হয়েছিল।  সামহেন উত্সবের সময় যারা মারা গিয়েছিল তাদের আত্মা তাদের বাড়ি দেখতে ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল এবং যারা বছরের মধ্যে মারা গিয়েছিল তারা অন্য জগতে যাত্রা করবে বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল।  লোকেরা শীতের জন্য তাদের চুলার আগুন জ্বালানোর জন্য এবং অশুভ আত্মাদের ভয় দেখানোর জন্য পাহাড়ের চূড়ায় আগুন জ্বালায় এবং তারা কখনও কখনও মুখোশ এবং অন্যান্য ছদ্মবেশ পরিধান করত যাতে ভূতের দ্বারা চিনতে না পারে।  এটি সেই উপায়ে ছিল যে ডাইনি, হবগোবলিন, পরী এবং দানবদের মতো প্রাণীরা দিনের সাথে যুক্ত হয়েছিল।  বিবাহ, স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুর মতো বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্যও সময়টিকে অনুকূল বলে মনে করা হয়েছিল।  খ্রিস্টীয় 1ম শতাব্দীতে রোমানরা যখন সেল্টদের জয় করেছিল, তখন তারা মৃতদের মৃত্যু এবং ফসলের দেবী পোমোনার স্মরণে তাদের নিজেদের ফেরালিয়া উৎসব যোগ করেছিল।

 

7ম শতাব্দীতে পোপ বনিফেস IV অল সেন্টস ডে প্রতিষ্ঠা করেন, মূলত 13 মে, এবং পরবর্তী শতাব্দীতে, সম্ভবত একটি খ্রিস্টান পালনের সাথে পৌত্তলিক ছুটির পরিবর্তে এটিকে 1 নভেম্বরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সবার আগে সন্ধ্যায়  সাধু দিবস একটি পবিত্র, বা পবিত্র, ইভ এবং এইভাবে হ্যালোইন হয়ে ওঠে।  মধ্যযুগের শেষের দিকে, ধর্মনিরপেক্ষ ও পবিত্র দিনগুলি একত্রিত হয়ে গিয়েছিল।  সংস্কারটি মূলত প্রোটেস্ট্যান্টদের ধর্মীয় ছুটির অবসান ঘটিয়েছিল, যদিও ব্রিটেনে বিশেষ করে হ্যালোইন একটি ধর্মনিরপেক্ষ ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতে থাকে।  অন্যান্য উত্সবগুলির সাথে, হ্যালোইন উদযাপন মূলত আমেরিকান উপনিবেশবাদীদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছিল, যদিও 1800 এর দশকে সেখানে উত্সবগুলি গড়ে উঠেছিল যা হ্যালোইনের ফসল কাটা এবং অন্তর্ভুক্ত উপাদানগুলিকে চিহ্নিত করে।  19 শতকের মাঝামাঝি থেকে যখন আইরিশ সহ বিপুল সংখ্যক অভিবাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়, তখন তারা তাদের হ্যালোইন রীতিনীতিগুলি তাদের সাথে নিয়ে যায় এবং 20 শতকে হ্যালোইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ছুটিতে পরিণত হয়, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।

একটি ধর্মনিরপেক্ষ ছুটির দিন হিসাবে, হ্যালোইন বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে।  একটি হল সাধারণত নিরীহ প্র্যাঙ্কগুলি টানার অভ্যাস।  উদযাপনকারীরা পার্টিতে এবং ট্রিক-অর-ট্রিটিং-এর জন্য মুখোশ এবং পোশাক পরেন, যা দরিদ্রদের খাবারের জন্য ভিক্ষা করার অনুমতি দেওয়ার ব্রিটিশ অভ্যাস থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়, যাকে “সোল কেক” বলা হয়।  ট্রিক-অর-ট্রিটাররা ঘরে ঘরে এই হুমকি দিয়ে যায় যে তারা ট্রিট না পেলে ট্রিট করবে, সাধারণত ক্যান্ডি।  হ্যালোইন পার্টিতে প্রায়ই আপেলের জন্য ববিংয়ের মতো গেম অন্তর্ভুক্ত থাকে, সম্ভবত রোমান উদযাপন পোমোনা থেকে উদ্ভূত।  কঙ্কাল এবং কালো বিড়ালের পাশাপাশি, ছুটির দিনটি উদযাপনে ভূত, ডাইনি এবং ভ্যাম্পায়ারের মতো ভীতিকর প্রাণীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।  আরেকটি প্রতীক হল জ্যাক-ও’-লণ্ঠন, একটি ফাঁপা কুমড়ো, মূলত একটি শালগম, একটি দানবীয় মুখ খোদাই করা এবং ভিতরে একটি মোমবাতি দিয়ে জ্বলে।  20 শতকের মাঝামাঝি থেকে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) তার প্রোগ্রামগুলির জন্য অর্থ সংগ্রহকে হ্যালোউইনের একটি অংশ করার চেষ্টা করেছে।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

সুরের জাদুকর সঙ্গীতশিল্পী শচীন দেববর্মণ এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

শচীন দেববর্মণ (১ অক্টোবর, ১৯০৬ – ৩১ অক্টোবর, ১৯৭৫) বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দী গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক , সুরকার , গায়ক ও লোকসঙ্গীত শিল্পী । কিছুটা অনুনাসিক কণ্ঠস্বরের জন্য তিনি তার শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। প্রায় একশো বছর পার করেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তার কালোত্তীর্ণ গানের আবেদন কিছুমাত্র লঘু হয়নি। কেবল সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেও তিনি সার্থক। তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পুত্র রাহুল দেববর্মণ ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীতপরিচালক এবং সুরকার ছিলেন। তার ছাত্রী এবং পরবর্তীতে সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন।

 

 

তার জন্ম কুমিল্লার ত্রিপুরা রাজবাড়িতে৷ তবে আদিবাস বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে৷ তিনি ছিলেন ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারের সন্তান। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। তৎকালীন ত্রিপুরার অন্তর্গত কুমিল্লার রাজপরিবারের নয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। মা মণিপুর রাজবংশের মেয়ে নিরুপমা দেবী। ত্রিপুরার আগরতলায় কুমার বোর্ডিং স্কুলে শচীন দেবের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়।

 

 

ছোটবেলা থেকেই একটি সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন শচীন দেব বর্মন। বাবা ছিলেন একজন সেতারবাদক ও ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী। বাবার কাছেই গ্রহণ করেন সংগীতের প্রথম তালিম।১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে হতে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সঙ্গীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে সঙ্গীতচর্চা করেন। এরপর তার সঙ্গীত শিক্ষা চলে উস্তাদ বাদল খান এবং বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে। ধ্রূপদী সঙ্গীতের এই শিক্ষা তার মধ্যে সঙ্গীতের মৌলিক জ্ঞান সঞ্চারে গভীর ভূমিকা পালন করে। এই শিক্ষা তার পরবর্তী জীবনের সুর-সাধনায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। পরবর্তীতে তিনি উস্তাদ আফতাবউদ্দিন খানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

 

 

শচীন দেব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে ত্রিপুরার রাজদরবারে কিছুদিন চাকরি করেন। পরে চাকরি ছেড়ে কলকাতায় যান এবং ওস্তাদ বাদল খাঁ, আলাউদ্দিন খাঁ, ফৈয়াজ খাঁ, আবদুল করিম খাঁ প্রমুখের কাছে তালিম নেন। ১৯২৩ সালে কলকাতা বেতারে শচীন দেব প্রথম গান করেন এবং ১৯৩২ সালে তার প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড প্রকাশ হয়। এর পর তার বহুসংখ্যক বাংলা ও হিন্দি গানের রেকর্ড বের হয়।তিনি  নজরুল সঙ্গীতও রেকর্ড করেন। এরপর তাঁর বহুসংখ্যক বাংলা ও হিন্দি গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। রেকর্ডকৃত তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান হলো: ‘যদি দখিনা পবন’ (রাগপ্রধান), ‘প্রেমের সমাধি তীরে’ (কাব্যগীতি), ‘নিশীথে যাইও ফুলবনে’ (পল্লিগীতি), ‘বধুঁগো এই মধুমাস’ (পল্লিগীতি), ‘ওরে সুজন নাইয়া’ (পল্লিগীতি) প্রভৃতি।
শচীন দেব অনেক বাংলা গানে সুর দিয়েছেন। ১৯৩৪ সালে নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মিলনে গান গেয়ে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৭ সাল থেকে পরপর কয়েকটি বাংলা ছায়াছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো: রাজগী, ছদ্মবেশী, জীবন-সঙ্গিনী, মাটির ঘর ইত্যাদি।
শচীন দেব ১৯৪৪ সাল থেকে মুম্বাই-এ বসবাস করেন এবং আশিটির মতো হিন্দি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে চিত্রজগতে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী হন। সেখানে তিনি শিকারী, দেবদাস, সুজাতা, বন্দিনী, গাইড, আরাধনা, বাজি, শবনম, দো ভাই প্রভৃতি ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

 

 

অসংখ্য কালজয়ী গান যেমন তার হাত ধরে এসেছে। ‘তুমি এসেছিলে পরশু, কাল কেন আসোনি?’ কিংবা ‘আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’ অথবা ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’ আরও আছে ‘শোনো গো দখিন হাওয়া’, ‘নিশিতে যাইও ফুল বনে’, ‘কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া’! এখানেই শেষ নয়! ‘তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে’, ‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙা’।

তেমনি তিনি গড়ে তুলেছেন এই উপমহাদেশের অনেক বিখ্যাত গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালককেও। ভারতীয় সংগীতে তিনি স্রষ্টার মতো। গানের আঙিনায় তাকে সম্মান করে ডাকা হয় ‘কর্তা’ বলে। লোকজ ও রাগ সংগীতের সংমিশ্রণে সংগীত ভুবনে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন তিনি।

শচীন দেববর্মণ তার সংগীত জীবনে অসংখ্য গানের সুর করেছেন, যার অধিকাংশ গানই লতা মঙ্গেশকর, মান্না দে, কিশোর কুমার, মো. রফি ও আশা ভোসলের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের গাওয়া। তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনাও করেছেন।
শচীন দেববর্মণের পুত্র রাহুল দেববর্মণও ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীতপরিচালক এবং সুরকার ছিলেন। তার ছাত্রী এবং পরবর্তীতে সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শচীন দেব বর্মন জয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পদ্মশ্রী, ফিল্মফেয়ার এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি পুরস্কার, সহ  বহু সন্মাননা। শচীন দেব বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে উচ্চ পদ অলঙ্কৃত করেন এবং বহু সংগঠন কর্তৃক সম্মানিত হন। ১৯৫৮ সালে সঙ্গীত-নাটক আকাদেমি ও এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি (লন্ডন) এবং ১৯৬৩ সালে ত্রিপুরা ললিতকলা কেন্দ্র তাঁকে অভিনন্দিত করে।

১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতের এই কিংবদন্তি। তাকে এস ডি বর্মণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ প্রধানমন্ত্রী, ভারতের লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

আজ ৩১ অক্টোবর, লৌহ মানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন। ভারতের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল পরিচিত ‘আয়রন ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ হিসেবে।তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নেহেরু ‘নতুন ভারতের নির্মাতা ও একীকরণকারী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই থেকেই তিনি লৌহ মানব নামে পরিচিত।  তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা। প্রজাতন্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ছিলেন নিঃস্বার্থ নেতা। একটি আধুনিক ও অখন্ড ভারত গড়ার প্রকৃত যোদ্ধা। যে দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে লড়ে গেছেন প্রাণপণে। নতুন রূপ দিয়েছিলেন ভারতের ভাগ্যকে। আজকের এই দিনে আসুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল (ভারত-রত্ন, ১৯৯১) ছিলেন একজন ভারতীয় পণ্ডিত ও জাতীয়তাবাদী নেতা। যিনি সরদার প্যাটেল নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তাকে ভারতের লৌহমানব বলা হয়। গুজরাতের কুর্মী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্যাটেল। তার পিতা-মাতা ছিলেন জাভেরভাই ও লাডবাই। তার বাবা ঝাঁসির রানির সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। তার মা ছিলেন একজন খুব আধ্যাত্মিক মহিলা।
গুজরাতি মিডিয়াম স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু করে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল পরবর্তীকালে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে স্থানান্তরিত হন।১৮৯৭ সালে তিনি উচ্চ বিদ্যালয় পাস করেন এবং আইন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন।তিনি তুলনায় বেশি বয়েসে ম্যাট্রিক পাশ করেন (২২ বছর)।তিনি আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে ১৯১০ সালে ইংল্যান্ডে যান। তিনি ১৯৩৩ সালে ইনস অফ কোর্ট থেকে আইন বিভাগে ডিগ্রী সম্পন্ন করেন ।ভারতে ফিরে এসে তিনি গুজরাতের গোধরায় তাঁর আইন অনুশীলন শুরু করেন। আইনি দক্ষতার জন্য তাকে ব্রিটিশ সরকার অনেক লাভজনক পদে প্রস্তাব দিয়েছিল তবে তিনি সব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি ব্রিটিশ সরকার এবং তাদের আইনের কট্টর বিরোধী ছিলেন । তাই ব্রিটিশদের পক্ষে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
১৯১৭ সালে সর্দা‌র বল্লভভাই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের গুজরাত শাখার সেক্রেটারি হিসাবে নির্বাচিত হন । ১৯১৮ সালে কায়রায় বন্যার পরে ব্রিটিশরা জোর করে কর চাপিয়ে দিলে তিনি কৃষকদের কর প্রদান না করার জন্য একটি বিশাল “কর শুল্ক অভিযান” পরিচালনা করেছিলেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া জমি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেছিল। তাঁর এলাকার কৃষকদের একত্রিত করার প্রচেষ্টা তাঁকে ‘সর্দার’ উপাধি দিয়েছিল।
তিনি গান্ধী দ্বারা চালিত অসহযোগ আন্দোলনকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিলেন।

 

 

১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর উদ্যোগে বিখ্যাত লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য কারাবন্দী নেতাদের মধ্যে সর্দা‌র বল্লভভাই পটেল ছিলেন। “লবণ আন্দোলন” চলাকালীন তার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য অসংখ্য লোকের দৃষ্টিভঙ্গিকে অনুপ্রাণিত করেছিল যারা পরবর্তীকালে এই আন্দোলনকে সফল করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। কংগ্রেস সদস্যদের অনুরোধে গান্ধী কারাগারে বন্দী থাকাকালীন তিনি গুজরাত জুড়ে সত্যগ্রহ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
১৯৩১ সালে সর্দার প্যাটেলকে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড আরউইন এবং মহাত্মা গান্ধীর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এই চুক্তিটি গান্ধি-আরউইন চুক্তি হিসাবে পরিচিতি পায়। একই বছর তিনি করাচি অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ।যেখানে দলটি তার ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করেছিল।
১৯৩৪ সালের আইনসভা নির্বাচনের সময় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষে প্রচার করেছিলেন। যদিও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে তিনি গান্ধীর প্রতি তার অটল সমর্থন অব্যাহত রেখেছিলেন।
পটেলের রাজনীতি এবং চিন্তাভাবনার উপর গান্ধীর গভীর প্রভাব ছিল । তিনি গান্ধীর প্রতি অটল সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সারা জীবন তার নীতির পাশে ছিলেন। জওহরলাল নেহেরু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী এবং মাওলানা আজাদ সহ নেতারা আইন অমান্য আন্দোলন ব্রিটিশদের দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করবে মহাত্মা গান্ধীর এই ধারণার সমালোচনা করেছিলেন।কিন্তু পটেল গান্ধীর এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৪২ সালে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং কংগ্রেসের অন্যান্য নেতাদের সাথে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি আহমেদনগর দুর্গে বন্দী ছিলেন।

 

 

 

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তিনি প্রথম উপ- প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। পটেল স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষে প্রায় ৫২২ টি রাজ্যকে ভারতের অধীনে এনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ব্রিটিশ সরকার এই শাসকদের দুটি বিকল্প দিয়েছিল – তারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারে; বা তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই ধারা অসুবিধা বাড়িয়ে তোলে। কংগ্রেস এই ভয়ঙ্কর কাজটি সর্দার প্যাটেলকে অর্পণ করেছিলেন যিনি ১৯৪৭ সালের তিনি রাজ্যগুলোর সংহতকরণের জন্য তদারকি শুরু করেছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীর, জুনাগড় ও হায়দরাবাদ বাদে সকল রাজ্যকে সংহত করতে তিনি সফল হয়েছিলেন। অবশেষে তিনি তার তীব্র রাজনৈতিক বুদ্ধির সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলেন এবং জম্মু ও কাশ্মীর, জুনাগড় ও হায়দরাবাদ কে ভারতের অধীন করেছিলেন। আমরা যে ভারতকে আজ দেখতে পাচ্ছি তা হল সরদার বল্লভভাই পটেল যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তার ফল।ঐক্যের মূর্তি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তাঁর ছায়া আজও ভারতীয় রাজনীতিতে উজ্জ্বল। নিজেকে কখনও উঁচুতে তুলে ধরতে চাননি তিনি, তেমনটা করেননি কখনও। বরাবর নিজের কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন সবথেকে বেশি। তাঁর কাজই তাঁর পরিচয়। গোটা প্রশাসক জীবনে অসাধ্যসাধন করেছেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। অসামান্য এক স্বাধীনতা সংগ্রামী তিনি। পাশাপাশি এক অসাধারণ প্রশাসকও বটে। নিজে গান্ধীবাদী হলেও অন্ধ অনুসারী নন। আজ মানুষ ভারত বলতে যা বোঝে, সেই ভারত তিনিই গড়ে দিয়েছেন। তাঁকে দেশের ‘লৌহমানব’ বলা হয়। তার সম্মাননায় ভারতের গুজরাতে তার জন্মস্থানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। যার নাম দেওয়া হয় “ঐক্যের মূর্তি।”সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্ট্যাচুই এখন পৃথিবীর উচ্চতম স্ট্যাচু। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ নামে এই মূর্তি উন্মোচন করেন। ১৮২ মিটার উঁচু এই মূর্তি নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত। এইছাড়াও তার নামে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।২০১৪ সালে তার জন্মদিবস ৩১ অক্টোবরকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়।মৃত্যুর পরে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মান দেওয়া হয়। প্যাটেলকে শ্রদ্ধা জানাতে ২০১৪ সালে সূচনা হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের। প্রত্যেক বছর তাঁর জন্ম বার্ষিকীতে পালন হবে এই একতা দিবস । ১৯৫০ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুম্বাইতে সৰ্দার বল্লভভাই পটেলের পরলোকপ্রাপ্তি ঘটে।

 

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব সঞ্চয় দিবস : জানুন দিনটির ইতিহাস এবং কেন এটি পালন করা হয়।

সঞ্চয় বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে।  স্টোরেজ গুরুত্বপূর্ণ।  সংক্ষেপে, আমাদের মা এবং বাবা আমাদের একটি পয়সা বাঁচাতে এবং একটি পয়সা উপার্জন করতে শেখান।  এর গুরুত্ব সত্যিই অপরিসীম।  তাই এর গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস পালিত হচ্ছে, বিশ্ব সঞ্চয় দিবস।  প্রতি বছর, বিশ্ব সঞ্চয় দিবস, যা পূর্বে  ওয়ার্ল্ড থ্রিফট দিবস নামে পরিচিত ছিল, 30 অক্টোবর পালিত হয়। আজকের এই দিনটি দেশের অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের গুরুত্বকে উন্নীত করতে ব্যবহৃত হয়।  সয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য এবং হ্যাকাররা এই সঞ্চয় বিকাশের মূল পরিসংখ্যান।  এই কারণেই বলা হয় যে একটি পয়সা সংরক্ষণ করা একটি পেনি।  কারণ আপনি আপনার সঞ্চয় দিয়ে আরও কিছু করা শুরু করতে পারেন।

 

দিবসটি কেন পালিত হয়?

কথায় আছে, অর্থ উপার্জন করা কঠিন কিন্তু ব্যয় করা সহজ।  মানুষ তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করে, যা ভবিষ্যতের জন্য ভালো নয়।  দেখা যায় জীবন দিয়ে পরিশ্রম করেও কেউ দুই মুঠো ভাত খেতে পারছে না।  এই সমস্ত মানুষ প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে।

তাই, আধুনিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এবং বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিদের জন্য সঞ্চয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব সঞ্চয় দিবস পালিত হয়।  বিশ্বের অনেক দেশে, বেকারত্ব এবং দারিদ্র্যের হার বেশি, যা খুব সাধারণ এবং দরিদ্র লোকদের বাঁচাতে অনেক বাধা তৈরি করে।  ফলস্বরূপ, বেকারত্ব, অসুস্থতা, অক্ষমতা বা বার্ধক্যের সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব হয়।  এই সময়ের কথা মাথায় রেখে টাকা বাঁচাতে মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন হতে হবে।

 

ইতিহাস—-

বিশ্ব সঞ্চয় দিবস সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থায় সঞ্চয় এবং খুচরা ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা তুলে ধরে।  বিশ্ব সঞ্চয় দিবস 1924 সালের 30 অক্টোবর সাধারণ জনগণের কাছে ব্যাঙ্ক সঞ্চয়ের গুরুত্ব উন্নীত করার জন্য এবং ব্যাঙ্কগুলির প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  এটি ইতালির মিলানে প্রথম ইন্টারন্যাশনাল সেভিংস ব্যাংক কংগ্রেস (ওয়ার্ল্ড সোসাইটি অফ সেভিংস ব্যাংকস) এর সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
কংগ্রেসের শেষ দিনে ইতালির অধ্যাপক ফিলিপ্পো রাভিজ্জা এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক সঞ্চয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।  উদ্দেশ্য ছিল অর্থ সঞ্চয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।  সমৃদ্ধি ও সম্পদের জন্য সঞ্চয়ের চেতনা মানুষের জীবনে একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।  মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষ যত বেশি সঞ্চয় করবে, তত বেশি পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়বে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, মানুষ আর সঞ্চয় করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল না।  সেভিংস ব্যাঙ্কগুলি তখন স্কুল-কলেজ, অফিস, খেলাধুলা এবং মহিলা সমিতিগুলিকে সহায়তা করার জন্য সঞ্চয় প্রচারের জন্য কাজ করেছিল।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিশ্ব সঞ্চয় দিবস জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।  আর তখন থেকেই বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ইতালি, কিউবা, কলম্বিয়া, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি প্রজাতন্ত্রে বিশ্ব সঞ্চয় দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রমথনাথ মিত্র, যিনি ব্যারিস্টার পি মিত্র নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন, জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

সূচনা—

 

প্রমথনাথ মিত্র ভারতে বিপ্লবী প্রতিষ্ঠান সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ব্যারিস্টার পি মিত্র নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। প্রমথনাথ মিত্র ছিলেন একজন বাঙালি ভারতীয় ব্যারিস্টার এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদী যিনি ভারতীয় বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন সমিতির প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন।

 

প্রারম্ভিক জীবন— 

 

প্রমথনাথ মিত্র ১৮৫৩ সালের ৩০ অক্টোবর বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার নৈহাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বিপ্রদাস।

 

প্রমথনাথ মিত্র একজন সুপরিচিত ব্যারিস্টার ছিলেন যিনি কলকাতা হাইকোর্টে অনুশীলন করতেন এবং ফৌজদারি আইনের ক্ষেত্রে তার চিহ্ন তৈরি করেছিলেন।  তিনি ছিলেন বাংলার নতুন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা।    মিত্র পড়াশোনা করতে ইংল্যান্ডে যান, ১৮৭৫ সালে দেশে ফিরে আসেন।

 

 

বিপ্লবী জীবন—-

 

ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করবার সময়ে তিনি আয়ারল্যান্ড এবং রাশিয়ার বিপ্লবীদের কথা জানতে পারেন এবং দেশে ফিরে বিপ্লবী দল গঠনের সংকল্প করেন। বিংশ শতকের প্রথম দিকে যে সব গুপ্ত সমিতি দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তিনি তাদের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করতেন।  ১৯০২ সালের প্রথম দিকে সতীশ চন্দ্র বসু মিত্রের কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসেন।  সতীশ নিবেদিতার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটি শারীরিক সংস্কৃতি গোষ্ঠী শুরু করেছিলেন, যেটিকে বলা হয়েছিল, বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জি, অনুশীলন সমিতি বা সাংস্কৃতিক সোসাইটির একটি বইয়ের পরে।  বন্ধুরা তাকে বলেছিল যে মিত্র হয়তো সংগঠনের পিছনে তার ওজন রাখতে ইচ্ছুক।  সতীশ ফোন করে সমিতির প্রধান হওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করলে ব্যারিস্টার খুশি হন।  ২৪ মার্চ ১৯০২ সালে, তিনি সতীশ চন্দ্র বসু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ভারত অনুশীলন সমিতির পরিচালক নির্বাচিত হন এবং এর আর্থিক দায়িত্বও গ্রহণ করেন।  সেই সময়ে যতীন ব্যানার্জী কলকাতায় তাঁর জিমনেসিয়াম স্থাপন করছিলেন।  শ্রী অরবিন্দ তাঁকে সরলা দেবীর পরিচয়পত্র দিয়েছিলেন।  যতীন তার সাথে দেখা করেন, প্রমথনাথ মিত্র এবং অন্যান্য শারীরিক সংস্কৃতিতে আগ্রহী।  মিত্র যতীন ও সতীশকে বাহিনীতে যোগদানের পরামর্শ দেন।  দুজনে একমত হন এবং ১৯০২ সালের মার্চ মাসে একটি নতুন, সম্প্রসারিত অনুশীলন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, শ্রী অরবিন্দ প্রমথনাথ মিত্রের সাথে আলোচনা করেছিলেন, যাকে তিনি গোপন সমাজে সূচনা করেছিলেন।  দু’জন সামগ্রিক পদ্ধতির বিষয়ে একমত হন: প্রদেশ জুড়ে সমিতি প্রতিষ্ঠা করা, শারীরিক সংস্কৃতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং, যখন সঠিক সময় ছিল, বিপ্লবী ধারণাগুলি প্রবর্তন করা।১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিখিল বঙ্গ বৈপ্লবিক সমিতির এবং কলকাতায় সুবোধ মল্লিকের বাড়িতে অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ বিপ্লবী সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন। তিনি বাঙালিদের শারীরিক ব্যায়ামের উপর গুরুত্ব দিতেন।

 

শিক্ষকতা, অনুপ্রেরণা  ও লেখালেখি–

হাইকোর্টে ব্যারিস্টার হিসেবে প্র্যাকটিস করার পাশাপাশি মিত্র রিপন কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তিনি ভাল বক্তা এবং ইংরেজি লেখায় দক্ষ ছিলেন । প্রমথনাথ যোগী বিজয় গোস্বামীর শিষ্য ছিলেন এবং স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারাও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন।  মিত্রের লেখার মধ্যে রয়েছে একটি উপন্যাস -যোগী; গ্রন্থ : তর্কতত্ত্ব, জাতি ও ধর্ম এবং ভারতের বৌদ্ধিক অগ্রগতির ইতিহাস।

 

প্রয়াণ—-

 

২৩ সেপ্টেম্বর ১৯১০ এই মহান সংগ্রামী নেতার প্রয়াণ ঘটে।
।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা, জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা, জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা ১৯৬০ সালের ৩০শে অক্টোবর তারিখে আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেসের লানুসের পলিপলিনিকো (পলিক্লিনিক) আবিতা হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার বাবার নাম দিয়েগো মারাদোনা “চিতরো” (মৃত্যু: ২০১৫) এবং তার মায়ের নাম দালমা সালভাদোর ফ্রাঙ্কো “দোনিয়া তোতা” (১৯৩০–২০১১)।

 

দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা (৩০ অক্টোবর ১৯৬০ – ২৫ নভেম্বর ২০২০; দিয়েগো ম্যারাডোনা নামে বেশি পরিচিত) ছিলেন একজন আর্জেন্টিনার পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার।  তার ভক্তদের কাছে এল পিবে দে ওরো (দ্য গোল্ডেন বয়) ডাকনাম, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স এবং নাপোলির জন্য সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে তার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।  তিনি প্রাথমিকভাবে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন কিন্তু মাঝে মাঝে দ্বিতীয় আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।  অনেক ফুটবল খেলোয়াড় এবং বিশেষজ্ঞ তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলে মনে করেন।  ম্যারাডোনাকে ক্রীড়া জগতের অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব এবং মিডিয়ার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  1991 সালে, ইতালিতে একটি ড্রাগ পরীক্ষায় কোকেনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে 15 মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।  ইফিড্রিনের জন্য ইতিবাচক পরীক্ষায় তাকে 1994 ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।  তিনি 2005 সালে তার কোকেন আসক্তিকে লাথি দিয়েছিলেন। তার কঠোর শৈলীর কারণে মাঝে মাঝে তার এবং সাংবাদিক-ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

 

1967-68 মৌসুমে, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাব এস্ট্রেয়া রোজার যুব পর্যায়ে খেলার মাধ্যমে ফুটবলের জগতে প্রবেশ করেন এবং পরে লস সেবোইটাস এবং আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দলের হয়ে ফুটবল খেলায় বিকশিত হন।  1976-77 মৌসুমে, তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের প্রথম দলে খেলে তার সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন;  আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে 5 সিজনে 167টি খেলার পর, তিনি প্রায় 1.5 মিলিয়ন ইউরোতে আরেকটি আর্জেন্টিনীয় ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেন।  বোকা জুনিয়র্সে মাত্র 1 সিজনে একটি লিগ শিরোপা জেতার পর, প্রায় €5 মিলিয়নের বিনিময়ে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় যোগদান করেন (তখন একটি বিশ্ব রেকর্ড);  যেখানে তিনি সিজার লুইস মেনোত্তির অধীনে তিনটি শিরোপা জিতেছেন।  বার্সেলোনার হয়ে 2 মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় 45 ম্যাচে 30 গোল করার পর, প্রায় €7 মিলিয়নের বিনিময়ে ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন;  এই ট্রান্সফারের মাধ্যমে আবারও বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ম্যারাডোনা।  ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় যিনি দুবার বদলির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙলেন।  পরে, তিনি সেভিলা এবং নেয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেন।  চূড়ান্ত 1995-96 সিজনে, তিনি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেন, যেখানে তিনি 2 মৌসুম কাটানোর পর অবসর নেন।

 

 

 

1977 সালে, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার যুব পর্যায়ে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-20 দলের হয়ে আত্মপ্রকাশ করেন, যেখানে তিনি 15 ম্যাচে 8 গোল করেন।  একই বছর, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়, যেখানে তিনি মোট 91 ম্যাচে 34 গোল করেন।  তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে 4টি ফিফা বিশ্বকাপ (1982, 1986, 1990 এবং 1994) এবং 3টি কোপা আমেরিকায় (1979, 1987 এবং 1989) অংশগ্রহণ করেছিলেন।  1986 ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার 2-1 জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনার দুটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয়।  প্রথম গোলটি ছিল একটি হ্যান্ডবল, যা “হ্যান্ড অফ গড” নামে পরিচিত এবং দ্বিতীয় ম্যারাডোনা প্রায় 60 মিটার দূর থেকে পাঁচজন ইংলিশ ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করেছিলেন।  2002 সালে, এটি ফিফা ভক্তদের দ্বারা শতাব্দীর সেরা গোল হিসাবে ভোট দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

1994 সালে, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাব টেক্সটিল মান্ডিউ-এর ম্যানেজার হিসেবে তার ম্যানেজারিয়াল আত্মপ্রকাশ করেন।  তিনি টেক্সটাইল মান্ডিউতে ম্যানেজার হিসেবে মাত্র 1 বছর পর ম্যানেজার হিসেবে রেসিং ক্লাবে যোগ দেন।  প্রায় 13 বছর ফুটবল থেকে দূরে থাকার পর, 2008 সালে, তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন।  তার অধীনে, আর্জেন্টিনা 2010 ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল।  তিনি প্রায় 2 বছর আর্জেন্টিনার ম্যানেজার হিসাবে কাজ করেছেন।  পরবর্তীতে তিনি আল-ওয়াসল, দেপোর্তিভো রিয়েস্ট্রা, ফুজাইরাহ এবং ডোরাডোস সিনালোয়ার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  2018 সালের মে মাসে, ম্যারাডোনা বেলারুশিয়ান ক্লাব দিনামো ব্রেস্টের নতুন সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত হন, কিন্তু তিনি জুলাই মাসে এই পদের সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।  গত সেপ্টেম্বর 2019, তিনি লা প্লাটাতে ম্যানেজার হিসাবে যোগদান করেছিলেন, যেখানে তিনি তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই অবস্থানে ছিলেন।
ব্যক্তিগতভাবে, ম্যারাডোনা 1986 সালে গোল্ডেন বল এবং 1990 সালে ব্রোঞ্জ বল সহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কার জিতেছেন। এছাড়াও তিনি 2000 সালের ডিসেম্বরে ফিফা প্লেয়ার অফ দ্য সেঞ্চুরি পুরস্কার জিতেছিলেন (পেলের সাথে যৌথভাবে)। দলগতভাবে, ঘরোয়া ফুটবলে ম্যারাডোনা মোট জিতেছিলেন।  বোকা জুনিয়র্সের জন্য 1টি, বার্সেলোনার জন্য 3টি এবং নাপোলির জন্য 6টি সহ 9টি শিরোপা।  অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জিতেছেন মোট ৩টি শিরোপা;  1986 ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা তাদের মধ্যে একটি ছিল।

 

 

 

২০২০ সালের ২৫শে নভেম্বর তারিখে ৬০ বছর বয়সে মারাদোনা আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আয়ার্স প্রদেশের তিগ্রেতে তার নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস, জানুন দিনটি পালনের গুরুত্ব।

প্রতি বছর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস 29শে অক্টোবর পালিত হয় যাতে স্ট্রোকের গুরুতর প্রকৃতি এবং উচ্চ হারের উপর জোর দেওয়া হয়।  স্ট্রোক প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও দিবসটি পালন করা হয়।

 

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের ইতিহাস (WSD)—-

 

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক কংগ্রেসে 29শে অক্টোবর 2004-এ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  পরে 2006 সালে জনসচেতনতার জন্য দিবসটি ঘোষণা করা হয়।  2006 সালে, ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক ফেডারেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্রোক সোসাইটি একীভূত হয়ে বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল।  সেই থেকে, ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএসও) বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের (ডব্লিউএসডি) ব্যবস্থাপনা এবং সমর্থনের যত্ন নিচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক ডেটার অগ্রগতির কারণে 1990 এর দশকে বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের তাগিদটি অস্তিত্বে আসে।  2010 সালে, ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএসও) সচেতনতার অভাব এবং প্রত্যেকের জন্য রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সার সঠিক অ্যাক্সেসযোগ্যতার কারণে প্রবণতা মৃত্যুর হার এবং অক্ষমতা রোধ করতে স্ট্রোককে একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।  এটি অনুমান করা হয় যে, 2016 সালে, স্ট্রোকের (অকালমৃত্যুর একটি পরিমাপ) কারণে 11 কোটি 60 লাখ সম্ভাব্য জীবন মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের জন্য হারিয়ে গেছে।

 

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের গুরুত্ব (WSD)—

 

বিশ্বব্যাপী, মস্তিষ্কের স্ট্রোক মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এবং অক্ষমতার তৃতীয় প্রধান কারণ এবং মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ।  প্রতি বছর আনুমানিক ১৮ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়।  এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলি, যার মধ্যে ভারত একটি অংশ, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে 100 শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যেখানে উন্নত দেশগুলি 42 শতাংশ হ্রাস পেয়েছে৷

ভারতে স্ট্রোকের গড় হার প্রতি এক লাখ (1,00,000) জনসংখ্যার 145 জন।  গবেষকদের মতে, প্রতি মিনিটে তিনজন ভারতীয় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

যদিও বয়স্ক বয়সের লোকেরা সাধারণত ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, তবে এটি যে কোনও বয়সে যে কেউ হতে পারে।  ঝুঁকির কারণগুলি বোঝা এবং লক্ষণগুলি সনাক্ত করা ব্রেন স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।  একই সাথে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ায়।

 

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস 2023 থিম—

 

এই বছর, 2023, বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের থিম হল “একসাথে আমরা #স্ট্রোকের চেয়ে বড়।” “Together we are #Greater Than Stroke.”  এটি উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, ধূমপান, খাদ্য এবং ব্যায়ামের মতো ঝুঁকির কারণগুলির প্রতিরোধের উপর জোর দেয়, কারণ প্রায় 90% স্ট্রোক ঝুঁকির কারণগুলিকে মোকাবেলা করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This