Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস নিয়ে কিছু কথা।

প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর, আমরা বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৩ কে স্মরণ করি ফার্মাসিস্টদের বিশ্ব স্বাস্থ্যের উন্নতিতে তাদের অবদানের জন্য সম্মান জানাতে। ফার্মাসিস্টরা দেশে বিদেশে মানসম্মত ওষুধ তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর, ফার্মাসিস্ট দিবস বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ফার্মাসিস্টদের অবদানকে তুলে ধরে এবং রক্ষা করে এমন উদ্যোগগুলিকে সমর্থন করার লক্ষ্যে পালন করা হয়।  বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “ফার্মেসি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।” ফার্মেসি পেশায় কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান এবং এই পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ২০১০ সাল থেকে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। সাধারণ মানুষকে এ মহান পেশা সম্পর্কে জানাতে এবং এ পেশার মানকে উচ্চ মর্জাদার আসনে আসীন রাখতে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের ইতিহাস–

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে, বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্ট এবং ফার্মাসি পেশাদারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ২০০৯ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (FIP) কংগ্রেসে, একটি বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিস্ট দিবসের ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের উদ্যোগে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত ইস্তাম্বুল সম্মেলনে ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯১২ সালের এই দিনে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের প্রথম কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয়, এই কারণে দিবসটিকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফার্মেসি পেশার কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান এবং এই পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ২০১০ সাল থেকে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

FIP কাউন্সিল সারা বিশ্বের ফার্মাসি নেতাদের নিয়ে গঠিত, 25শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসকে অনুমোদন করেছে৷
এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ফার্মাসিউটিক্যাল পেশাকে বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিস্টদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি ফোরাম দিয়েছে।  সেই থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।  স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পেশার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের জন্য এই অনন্য দিবসটি প্রতি বছর একটি ফার্মেসি বিষয় তুলে ধরে।

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৩ থিম—

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস প্রতি বছর তার উৎসব এবং ইভেন্টগুলিকে কেন্দ্র করে একটি বিষয় নির্বাচন করে।  ২০২৩ এর জন্য নির্বাচিত বিষয় হল “ফার্মেসি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।”  এই বিষয় জোর দেয় যে ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্য ফার্মেসি পেশাদারদের জন্য সারা বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সমর্থন করা এবং উন্নত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এটি ফার্মাসি পরিষেবা এবং বিদ্যমান বৃহত্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলির মধ্যে সংযোগটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেইসাথে তারা কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের সাধারণ কার্যকারিতা এবং দক্ষতার উন্নতিতে অবদান রাখে তা তুলে ধরে।  এই বিষয়টি মূলত জোর দেয় যে মানুষ এবং সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং শক্তিশালী করার জন্য ফার্মেসি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের তাৎপর্য—

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি স্বাস্থ্যসেবা এবং সমাজ উভয়ের জন্য ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্য ফার্মাসি পেশাদারদের অত্যাবশ্যক অবদানের স্বীকৃতি এবং প্রশংসা করার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী ফোরাম প্রদান করে।ইস্তাম্বুলে ২০০৯ FIP কাউন্সিল সম্মেলনের সময় বিশ্ব ফার্মাসি দিবস তৈরি করা হয়েছিল।  এর প্রধান লক্ষ্য বিশ্ব স্বাস্থ্যে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রচার করা।  ফার্মাসিস্টরা হলেন অজ্ঞাত নায়ক যারা ওষুধের সুবিধা সর্বাধিক করেন।
তাদের দক্ষতা, জ্ঞান, এবং অভিজ্ঞতা ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যাক্সেস প্রদান করে, তাদের ব্যবহার নির্দেশিকা প্রদান করে এবং আমাদের সুস্থতার উন্নতি করে সকলের জন্য ঔষধ উন্নত করে।  ২০২০ সাল থেকে, FIP বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহের মাধ্যমে ফার্মেসির সমস্ত দিক উদযাপন করেছে।  এই বার্ষিক উদযাপনটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে তাৎপর্যপূর্ণ:

স্বাস্থ্যসেবা হিরোদের স্বীকৃতি, সচেতনতা বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্যের প্রচার, বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা, পেশার অগ্রগতি, শিক্ষাগত আউটরিচ, হাইলাইট থিম, অনুপ্রেরণামূলক ভবিষ্যত প্রজন্ম।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মাটির প্রদীপ – ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার দৈনদশা  ! : দিলীপ  রায়।

পুজো সামনে । বিশ্বকর্মা পুজো সদ্য শেষ । গণেশ পুজো চলছে । যদিও মহারাষ্ট্রে গণেশ পুজোর ধুমধাম অবর্ণনীয় !  তবুও দেশের সর্বত্র গণেশ পুজোর জনপ্রিয়তা ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী ! অন্যদিকে মায়ের আগমনী সুর । চারিদিকে কাশবন । সাদা কাশ ফুল  ইঙ্গিত দিচ্ছে মায়ের আগমন । বাঙালির বড় পুজো, দুর্গা পুজো । সেই দুর্গা পুজো আগত । সমানে লাইন দিয়ে রয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো, ভাই-ফোঁটা, ছট পুজো, কার্তিক পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, রাস উৎসব । এখানে উল্লেখ থাকে যে, কাটোয়ার কার্তিক পুজো বা কার্তিক লড়াই, নবদ্বীপের রাস উৎসব, কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বেশী জনপ্রিয় । প্রত্যেকটি পুজোর ক্ষেত্রে মাটির প্রদীপ, পুজোর একটি অঙ্গ ! এটা অনস্বীকার্য যে, মাটির প্রদীপ হিন্দুধর্মালম্বী মানুষের কাছে খুবই পরিচিত । যে কোনো পুজোর ক্ষেত্রে মাটির প্রদীপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য, বরং গুরুত্বপূর্ণ । গৃহদেবতাসহ যে কোনো পুজোর সময় মাটির প্রদীপের প্রজ্জ্বলন মান্ধাতা আমল থেকে আজও পরম্পরা । তবুও  বিশ্লেষণ করতে তর্ক অবশ্যাম্ভাবী । আগের পুজোপার্বন বা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান সময়ে মাটির প্রদীপ ব্যবহারের দৈনদশা প্রকট । তবুও মাটির প্রদীপ ঠাকুর পুজোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । বলা চলে প্রবহমান ঐতিহ্য ।
দিন বদলাচ্ছে । সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তনের ঘনঘটা বর্ধমান । মানুষের রুচিবোধও দিন দিন পাল্টাচ্ছে । ফলে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে রুচি পাল্টানোর প্রভাব পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও । মাটির তৈরি প্রদীপ তার ব্যতিক্রম নয় । যেমন মাটির প্রদীপের পরিবর্তে পিতলের তৈরি প্রদীপ,  স্টিলের তৈরি প্রদীপ,  মোমবাতি, ইলেক্ট্রিক লাইট, ইত্যাদির ব্যাপক ব্যবহার নিত্যনৈমিত্তিক ।
প্রথমেই মনে পড়ে মা, কাকিমা, জেঠিমা,  দিদিমা, ঠাকুমাদের কথা । সূর্যাস্তের পরে সন্ধেবেলায় বাড়িতে তুলসীতলায় তাঁদের প্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ  ছিল বংশ পরম্পরা । গৃহবধুদের নিত্যকালীন রুটিনের মধ্যে সন্ধেবেলা তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালানো ছিল অন্যতম । গৃহবধু শাড়ি পরে একহাতে মাটির প্রদীপ এবং অন্যহাতে কখনও ধুনুচি নিয়ে গলায় শাড়ির আঁচল জড়িয়ে তুলসীতলায় গড় হয়ে প্রণাম করতেন । এটা ছিল তাঁদের ভক্তিভাবের অন্যতম নিদর্শন । তাই  ঠিক সেই সময় বাড়ির  অন্যান্যরাও  জোড় হাতে  ঠাকুরের উদ্দেশে প্রণাম জানাতেন । কেউ কেউ মাটির প্রদীপ ও  ধুনুচি হাতে নিয়ে সমস্ত বাড়িটায় ধূপধুনা দেওয়ার পর  তুলসীতলায় শঙ্খ বাজিয়ে  প্রণাম জানাতেন । গেরস্ত বাড়ির কল্যাণ কামনায় মাটির প্রদীপ দিয়ে সন্ধ্যা-বাতি জ্বালানো ছিল সাংসারিক জীবনের অন্যতম অঙ্গ । ঈশ্বর আরাধনার অন্যতম  নিদর্শন ।
কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সন্ধেবেলায় মাটির প্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ অবলুপ্তির পথে । আগেকার একান্নবর্তী পরিবার বর্তমানে দূরবীন দিয়ে দেখার মতো । গেরস্ত বাড়ির সংজ্ঞা খুঁজে পাওয়া কঠিন । পাঁচ-কাঠা, দশ-কাঠা, এক বিঘা জমির উপর বাড়ির হদিস  পাওয়া ভীষণ কষ্টসাধ্য ! পরিবর্তে ফ্লাটের রমরমা । আয়তনের পরিমাণ অপরিসর । ঠেসাঠেসি জীবনযাপন এখন গা-সহা । সেখানে তুলসীতলা বেমানান । তুলসী-মন্দিরের  চিন্তাও, বলা চলে দুশ্চিন্তার ন্যায় ! ফলে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধ্যা-বাতি  দুঃস্বপ্ন । বর্তমান প্রজন্মের কাছে মাটির প্রদীপের কদর তলানীতে  !  এখানেই আশঙ্কা  !
বিভিন্ন পুজা-পার্বণে মাটির প্রদীপের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । দুর্গা পুজোর সময় সন্ধি পুজোতে একশো আটটা মাটির প্রদীপ জ্বালানো, পুজোর একটি বিশেষ অঙ্গ । কালী পুজোয় মাটির প্রদীপের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো । শ্রাদ্ধ বাড়িতে পুরোহিতদের প্রথম পছন্দ মাটির প্রদীপ । কোনো সংকীর্তন অনুষ্ঠানে মাটির প্রদীপের প্রজ্জ্বলন হামেশাই দেখা যায় । যেখানে মাটিতে আলপনা দিয়ে কলাগাছ লাগিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান, সেখানে মাটির প্রদীপের উপস্থিতি অনিবার্য ।  যদিও বর্তমান জমানায় বেশীর ভাগ মানুষ বড় ‘হল’ ঘর ভাড়া করে বিয়ের অনুষ্ঠান সারছেন  ।  আবার যারা হোটেলে বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করছেন, তাদের আগেই সাবধান করে দেওয়া হয় মাটির প্রদীপের প্রজ্জ্বলন স্বল্প সময়ের জন্য এবং খুব সাবধানে !  কেননা দুর্ঘটনার ভয় ।
এছাড়া বাঙালি-অবাঙালিদের মধ্যে মাটির প্রদীপ জ্বালীয়ে দেওয়ালি অনুষ্ঠান পালন করা চিরাচরিত প্রথা ।  বাড়ির উঠোনে আলপনা দিয়ে অনেকেই একশত একটি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপাবলি অনুষ্ঠান করেন । যদিও এই প্রথা ক্রমশ কমতে শুরু করেছে । সেই  মাটির প্রদীপের জায়গায় মোমবাতি দখল করে নিচ্ছে । ফলে মাটির প্রদীপের দৈনদশা ক্রমবর্ধমান ।
মাটির প্রদীপের ব্যবহারের পরিবর্তনও সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে  । মাটির প্রদীপ বিভিন্ন ধরনের । কুমোরেরা তাঁদের শিল্পকলার  প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন সৃষ্টির নিরিখে  প্রদীপ তৈরি করেন  । অনেক মানুষ বড় প্রদীপ ব্যবহারে অভ্যস্ত । পেছনে যুক্তি একটাই, প্রদীপটির প্রজ্জ্বলন ঘটবে অনেকক্ষণ । কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর রাত্রিতে অনেক গৃহস্তের বাড়িতে সারা রাত্রি মাটির প্রদীপ  জ্বালিয়ে রাখা নাকি শুদ্ধ ভক্তির নিদর্শন ! কারণ তাঁদের বিশ্বাস, রাত্রির কোনো এক সময়ে মা-লক্ষ্মী পদব্রজে বাড়ি বাড়ি প্রদক্ষিণ করবেন । সেই সময় প্রদীপ না জ্বালোনো  থাকলে মা-লক্ষ্মীর রুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা । তাতে গৃহের অমঙ্গল ! সংসারে ক্ষতির সম্ভাবনা ! সংসারে অলক্ষ্মীর ছায়ার পূর্বাভাস !
ছোট ছোট প্রদীপে অধুনা সরষের তেলের পরিবর্তে মোমের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে । মোমের ব্যবহার ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী । যেমন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে মোম লাগানো প্রদীপের ব্যবহার সর্বজনবিদীত । গুয়াহাটিতে কামাক্ষ্যা মায়ের মন্দিরে মোম লাগানো প্রদীপ ও ধূপবাতির প্রজ্জ্বলন মায়ের আরাধনার অঙ্গ । সেইরকম হরিদ্দ্বারে সন্ধেবেলায় গঙ্গার ঘাটে বহু মানুষের ঢল । কেননা গঙ্গার পারের মানুষ গঙ্গার জলে ফুল-বেল-তুলসীপাতা সহ মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসিয়ে দিয়ে মা গঙ্গার পুজো করেন । সেখানে মাটির প্রদীপের প্রজ্জ্বলন বিশ্বব্যাপী পরিচিতি । উদাহরণ আরও অনেক ।  এতেই বোঝা যায় মাটির প্রদীপের কদর এখনও সর্বত্র । বংশগত পরম্পরা । এই পরম্পরা সহজে খণ্ডাবার নয় !
পথচলতি মানুষ সন্ধ্যাবেলায় রাস্তার পাশের মন্দিরে বা শনি মন্দিরে মাটির প্রদীপ জ্বালানো দেখলে হাত কপালে ঠেকিয়ে মন্দিরের সেই ঠাকুরের উদ্দেশে প্রণাম করেন । যদিও ইদানীং ওইসব ঠাকুরের মন্দিরে বা শনি মন্দিরে মোমবাতি, নানান রংয়ের বিজলি বাতির সমারোহ ঘটেছে, তবুও মাটির প্রদীপ জ্বালানোর গতানুগতিক অভ্যাস মানুষের মধ্যে এখনও উজ্জ্বীবিত । বিভিন্ন দোকানের ঠাকুরের স্থানে বিজলি বাতির প্রাধান্য বেশী । কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলে থাকেন আগুন লাগার বিপদের কথা ভেবে বিজলি বাতির ব্যবস্থা । এসত্বেও হালখাতার দিন দোকানে দোকানে গণেশ পুজোর (অনেক দোকানের ক্ষেত্রে লক্ষ্মী পুজো) স্থানে মাটির প্রদীপের ব্যবহার এখনও বর্তমান ।
শিবরাত্রি, ষষ্ঠীপুজা, ইত্যাদির পুজোর উদ্দেশে যখন গৃহবধূরা বা মেয়েরা পুজোর নৈবেদ্য সাজিয়ে পুজো দিতে যান, সেই সময় তাঁদের ঐ পুজোর নৈবেদ্যের থালায় মাটির প্রদীপ বিশেষভাবে শোভাবর্ধন করে এবং অন্তরে ভক্তিভাবের উদ্রেক ঘটাতে  উদ্বুদ্ধ করে ।
মাটির প্রদীপ মাটি দিয়ে কুমোরেরা তাঁদের শিল্পকলার প্রদর্শন ঘটিয়ে তৈরি করেন । কুমোর সম্প্রদায়ের এটা একটা জাতিগত ব্যবসা । তাঁরা মাটি দিয়ে বিভিন্ন গৃহের সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি মাটির প্রদীপ তৈরিতে অভ্যস্ত । যদিও অন্যন্য সরঞ্জাম যেমন মাটির হাঁড়ি, কলসি, থালা, বাটি, গ্লাস, ইত্যাদির ব্যবহারও বর্তমানে অবলুপ্তির পথে  । তথাপি  তাঁরা হাল ছাড়ার পাত্র নন । এখনও মাটির চায়ের কাপ, পুজোর ঘট, প্রদীপ, সরা, প্রতিমা, পুতুল, ইত্যাদির কদর আমাদের দেশের সর্বত্র ।
এত কিছুর মধ্যে মাটির প্রদীপের বাণিজ্যে কুমোর সম্প্রদায়ের মানুষ কতটা সফল, সেটা এখন প্রশ্ন চিহ্নের মধ্যে ? সামগ্রিকভাবে মাটির সরঞ্জাম বেচা-কেনার নিরিখে, কুমোর সম্প্রদায়ের মানুষের দৈন্যদশা সতত প্রকট । এই প্রকট থেকে বেরিয়ে আসা খুবই জরুরি । তাঁদের উন্নয়নে জনমত তৈরি করা সময়োচিত ।
একটা বিষয় পরিষ্কার, আবহমানকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মাটির প্রদীপের কদর নিরবিচ্ছিন্নভাবে অটুট । যতই আধুনিকতার ছোঁয়া লাগুক না কেন মাটির প্রদীপ তার নিজের জায়গা ধরে রেখেছে ভক্তির মাধ্যম হিসাবে । সুতরাং প্রতি ঘরে ঘরে  মাটির প্রদীপের ব্যবহার বেঁচে থাক এবং মাটির প্রদীপের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে আরও শুদ্ধ ভক্তির সঞ্চার ঘটুক ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অনবদ্য অভিনয়ে চমক লাগিয়ে দেওয়া কালজয়ী অভিনেতার নাম সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনবদ্য অভিনয়ে চমক লাগিয়ে দেওয়া কালজয়ী অভিনেতার নাম সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষ হিসেব ছিলেন নিতান্তই সাদামাটা,  সদা হাস্যময়। তিনি  ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা। তিনি তিনশো নাটকে অভিনয় করেছেন।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন—

 

সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে সেপ্টেম্বর বিহারের পাটনায়। পিতা অতুলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা অমিয়া দেবী। তার স্কুল জীবনের পড়াশোনা উত্তর প্রদেশের  লখনউ-এ। সেখানকার অ্যাংলো-বেঙ্গলী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ পর কলকাতায় আসেন। আশুতোষ কলেজ থেকে অনার্স নিয়ে বি. এ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজীতে এম.এ পাশ করেন।তিনি জার্মান ভাষায়ও বেশ পারদর্শী ছিলেন।  কিন্তু তার পড়াশুনা শেষ হয়নি।  অভিনয় ছাড়া তার পেশাগত জীবনে তিনি ভারত সরকারের টেলি কমিউনিকেশন বিভাগের অ্যাকাউন্টস বিভাগে কাজ করতেন।

 

কর্মজীবন—-

তিনি ছিলেন আপাদমস্তক শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং বই পাগল মানুষ।  ছিলেন সত্যের পূজারী এবং নিপাট ভদ্রলোক।  কাজের প্রতি ছিলেন একনিষ্ঠ ও নিয়মানুবর্তিতা।  থিয়েটার দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হলেও বড় পর্দাতেও তাঁর ছিল অনায়াস বিতরন।  সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে রুপোলি পর্দায় আগমন ‘জন অরণ্য’ ছবি দিয়ে।  এরপর তিনি তরুণ মজুমদার, মৃণাল সেন সহ বহু পরিচালকের পরিচালনায় একের পর এক কাজ করে গিয়েছেন। সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে অভিনয় জীবন শুরু করেন উৎপল দত্তের লিটিল থিয়েটার গ্রুপে পরবর্তীতে যেটি পিপলস্ থিয়েটার গ্রুপে পরিবর্তিত হয়। তিনি উৎপল দত্তের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।তিনি উৎপল দত্তের কাছে অভিনয় শিখেছেন।  তিনিই মহান শিল্পী রবি ঘোষকে উৎপল দত্তের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।  লিটল থিয়েটার গ্রুপের প্রায় নাটকে অংশ নেন।  তিনি নাটকের স্ক্রিপ্ট এবং থিয়েটারের জটিলতার উপর কিছু প্রবন্ধও লিখেছেন।  উলকা (১৯৫৭), বালিকা বোধু (১৯৬৭), সেশ থেকে শুরু (১৯৬৯), কুহেলি (১৯৭১), জন অরণ্য (১৯৭৬) দাদার কীর্তি (১৯৮০), বউমা (১৯৮৬) তার কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্র।  ১৯৭৬ সালে, তিনি “একদিন প্রতিদিন” ছবিতে অভিনয়ের জন্য B.F.J.A এবং পশ্চিমবঙ্গ সিনে পুরস্কার পান।  এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ সালে সঙ্গীত নাট্যক একাডেমীতে পুরস্কৃত হন।  তিনি পিপলস্ থিয়েটার গ্রুপের ‘কল্লোল’, ‘অঙ্গার’, ‘নীচের মহল’ , মহাবিদ্রোহ এবং তিতুমীর সহ ১৫০ টি নাটকে মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করেন।  ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জার্মানির ‘বার্লিনার এনসেম্বল’-এ প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বাংলা ও ইংরাজী নিয়ে প্রায় চল্লিশটি নাটক পরিচালনা করেছেন।

তার উল্লেখযোগ্য নাটকের তালিকা-

বাজি (আন্তন চেখভের ছোটগল্প অবলম্বনে উৎপল দত্তের প্রযোজনা ও পরিচালনায়)

ফোর্টিনথ অফ জুলাই (উৎপল দত্তের প্রযোজনা)

দাঁতোঁ (উৎপল দত্তের প্রযোজনা)

লেলিনের ডাক (উৎপল দত্তের রচনা ও পরিচালনা)

অন্যান্য নাটক ও চরিত্র হল –

টোটো, বিকাশ, টিনের তলোয়ার,  সূর্যশেখর, ব্যারিকেড, একলা চলো রে।

তিনি সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেন পরিচালিত কিছু ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।  তার উল্লেখযোগ্য ছায়াছবিগুলি হল – মৃণাল সেনের’ ‘একদিন প্রতিদিন’ ১৯৮০) এবং সত্যজিৎ রায়ের ‘জয়বাবা ফেলুনাথ’ (১৯৭৯)

পুরস্কার——-‐-

সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় রঙ্গমঞ্চ ও ছায়াছবিতে অভিনয়ের জন্য বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

(ক) ১৯৮২ সালে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি পুরস্কার,

(খ) ১৯৮৯ সালে ঋত্বিক ঘটক পুরস্কার,

(গ) সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার ১৯৯৬,

(ঘ) বিএফজেএ পুরস্কার,

(ঙ) “একদিন প্রতিদিন” ছবিতে অভিনয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সিনেমা পুরস্কার।

 

৩০ জানুয়ারি ২০০৬ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক) বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস।

প্রতিবছর ২৫ শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপিত হয়। ফার্মাসিস্টরা দেশে বিদেশে মানসম্মত ওষুধ তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। ফার্মেসি পেশায় কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান এবং এই পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ২০১০ সাল থেকে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। সাধারণ মানুষকে এ মহান পেশা সম্পর্কে জানাতে এবং এ পেশার মানকে উচ্চ মর্জাদার আসনে আসীন রাখতে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

(খ) ওআইসি প্রতিষ্ঠা দিবস ৷

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা সংক্ষেপে ওআইসি (Organisation de la coopération islamique) একটি আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা। পূর্বে সংস্থাটির নাম ছিল ইসলামি সম্মেলন সংস্থা। ১৯৬৯ সালে গঠিত সংস্থাটিতে ৫৭টি দেশ প্রতিনিধিত্ব করছে যার মধ্যে ৪৯টি মুসলমান প্রধান দেশ। সংস্থাটির মতে তারা ‘মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর’ হিসেবে এবং ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচারের চেতনা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ ধারণ ও সুরক্ষায়’ কাজ করে থাকে।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯২৫ – স্যামসন এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। 

চৌধুরী, স্যামসন এইচ (১৯২৫-২০১২)  শিল্পোদ্যোক্তা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। ড. ই এইচ চৌধুরীর পুত্র স্যামসন এইচ চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩০-৪০ সালের মধ্যে তিনি কলকাতার বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সিনিয়র ক্যামব্রিজ ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

১৯২৯ – নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত টিভি সাংবাদিক ও উপস্থাপক বারবারা ওয়াল্টারস।

বারবারা ওয়াল্টার্স , (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯২৯, বোস্টন , ম্যাসাচুসেটস , ইউএস—মৃত্যু ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২, নিউ ইয়র্ক, নিউ ইয়র্ক), মার্কিন সাংবাদিক বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তার অত্যন্ত কার্যকরী কৌশলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

 

১৯৩৩ – সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা।

সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়  ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রঙ্গমঞ্চ ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা। তিনি তিনশো নাটকে অভিনয় করেছেন।

 

১৯৩৯ – ফিরোজ খান, ভারতীয় অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক।

ফিরোজ খান ছিলেন ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম একজন ভারতীয় অভিনেতা, চলচ্চিত্র সম্পাদক, প্রযোজক এবং পরিচালক। তিনি তার ঝকঝকে প্রাণবন্ত অভিনয়, ক্যামেরার সামনে নায়কশৈলী ব্যক্তিত্বের প্রকাশ এবং তার স্বতন্ত্রসূচক অভিনয় শৈলীর জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

 

১৯৪২ – পিটার পেথেরিক, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার। 

পিটার জেমস পেথারিক (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ – ৭ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার যিনি ১৯৭৬ সালের অক্টোবর থেকে মার্চ ১৯৭৭ সালের মধ্যে অফ-স্পিনার হিসেবে ছয়টি টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।  তিনি নিউজিল্যান্ডের দুই বোলারের একজন যিনি টেস্ট ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন।  তিনি মরিস অ্যালম এবং ডেমিয়েন ফ্লেমিং-এর সাথে টেস্ট অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা মাত্র তিনজন খেলোয়াড়ের একজন।

 

১৯৪৪ – মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক মাইকেল ডগলাস।

 

১৯৪৬ – বিষেন সিং বেদী ভারতের সাবেক ও প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।

বিষন সিং বেদী;  জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬) একজন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি প্রাথমিকভাবে একজন ধীরগতির বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলার ছিলেন।  তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছিলেন এবং বিখ্যাত ভারতীয় স্পিন কোয়ার্টেটের অংশ হয়েছিলেন।  তিনি মোট ৬৭টি টেস্ট খেলেছেন এবং ২৬৬টি উইকেট নিয়েছেন।  এছাড়াও তিনি ২২টি টেস্ট ম্যাচে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন।  বেদি একটি রঙিন পটকা পরতেন এবং ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয়ে তার স্পষ্টভাষী এবং স্পষ্ট মতামতের জন্য সর্বদা পরিচিত।  তিনি ১৯৭০ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে সি.কে. নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান।

 

১৯৫০ – জাফর ইকবাল, বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা ও গায়ক।

১৯৫২ – ক্রিস্টোফার রিভ, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।

১৯৬৫ – মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, বাংলাদেশী ক্রিকেটার।

১৯৬৬ – দোয়েল, বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

১৯৬৮ – উইল স্মিথ, মার্কিন অভিনেতা ও গায়ক।

 

১৯৬৯ – (ক)  ব্রাত্য বসু, ভারতীয় বাঙালি নাট্যকার, নাট্যাভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

ব্রাত্যব্রত বসু রায় চৌধুরী (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯), যিনি ব্রাত্য বসু নামেও পরিচিত, তিনি একজন ভারতীয় অভিনেতা, মঞ্চ পরিচালক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, অধ্যাপক এবং রাজনীতিবিদ যিনি ২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।  প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রকের একই অফিস।  মে ২০১৬-এ, বসুকে পর্যটন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং বায়ো-টেকনোলজি, তথ্য প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক্স-এর পোর্টফোলিও অর্পণ করা হয়েছিল।  তিনি পশ্চিমবঙ্গের ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে দমদম নির্বাচনী এলাকা থেকে বিধানসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।  বসু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের শাসনাধীন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি এবং মিনার্ভা নাট্যসংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের চেয়ারপারসন।

 

(খ) ক্যাথরিন জিটা-জোন্স, ওয়েলসীয় চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেত্রী।

ক্যাথরিন জেটা-জোনস CBE (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯) একজন ওয়েলশ অভিনেত্রী।  তার বহুমুখীতার জন্য পরিচিত, তিনি একাডেমি পুরস্কার, একটি ব্রিটিশ একাডেমি ফিল্ম পুরস্কার, এবং একটি টনি পুরস্কার সহ বিভিন্ন প্রশংসার প্রাপক।  ২০১০ সালে, তিনি তার চলচ্চিত্র এবং মানবিক কাজের জন্য কমান্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (CBE) নিযুক্ত হন।

 

(গ) হানসি ক্রনিয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার। 

ওয়েসেল জোহানেস “হ্যান্সি” ক্রোনিয়ে (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ – ১ জুন ২০০২) ছিলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এবং ১৯৯০ এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।  একজন ডান-হাতি অলরাউন্ডার, ক্যাপ্টেন ক্রনিয়ে তার দলকে ২৭টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৯৯টি একদিনের আন্তর্জাতিকে জয় এনে দিয়েছেন।  ক্রনিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯৯৮ সালের আইসিসি নকআউট ট্রফি জিততেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দেশটি এখন পর্যন্ত একমাত্র আইসিসি শিরোপা জিতেছে।  ১৯৯৮ সালের আইসিসি নকআউট ট্রফি ফাইনালে, ক্রোনিয়ে ব্যাট হাতে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন তার অপরাজিত ৬১ রান, দলকে ৪ উইকেটে জয়ের দিকে নিয়ে যান।  একটি ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ভূমিকার কারণে ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ২০০৪ সালে তিনি ১১তম-শ্রেষ্ঠ দক্ষিণ আফ্রিকান নির্বাচিত হন।  তিনি ২০০২ সালে একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

 

১৯৮৭ – অ্যাডাম লিথ, ইংরেজ ক্রিকেটার।

অ্যাডাম লিথ (জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭) একজন ইংরেজ টেস্ট ক্রিকেটার, যিনি ২০০৭ সাল থেকে ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তিনি একজন বাঁ-হাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

 

১৮৬৬ – টমাস হান্ট মর্গান, মার্কিন বংশগতিবিদ ও ভ্রূনতত্ত্ববিদ। ১৮৮১ – চীনা লেখক লু শুন।

 

১৮৯৭ – নোবেলজয়ী  মার্কিন কথাসাহিত্যিক উয়িলিয়াম ফকনার।

উইলিয়াম কুথবার্ট ফকনার (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৭ – জুলাই ৬, ১৯৬২) একজন আমেরিকান লেখক ছিলেন যিনি তার উপন্যাস এবং ছোট গল্পের জন্য পরিচিত ছিলেন, যা মিসিসিপির লাফায়েট কাউন্টির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ফকনার তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন।  একজন নোবেল বিজয়ী, ফকনার হলেন আমেরিকান সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত লেখকদের একজন এবং প্রায়শই তাকে দক্ষিণী সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

১৭৪৪ – প্রুশিয়ার রাজা দ্বিতীয় ফ্রেডরিক উইলিয়াম।

ফ্রেডেরিক উইলিয়াম II ( ২৫ সেপ্টেম্বর ১৭৪৪ – ১৬ নভেম্বর ১৭৯৭) ১৭৮৬ থেকে ১৭৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রুশিয়ার রাজা ছিলেন । তিনি ব্র্যান্ডেনবার্গের যুবরাজ – নির্বাচক এবং (অরেঞ্জ-নাসাউ উত্তরাধিকারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ইউনিয়নে ছিলেন। তার পিতামহের) ক্যান্টন অফ নিউচেটেলের সার্বভৌম রাজপুত্র । আনন্দ-প্রেমময় এবং অলস, তাকে তার পূর্বসূরি ফ্রেডরিক দ্য গ্রেটের বিরোধী হিসাবে দেখা হয় । তার শাসনামলে, প্রুশিয়া অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তিনি ফরাসি বিপ্লবের দ্বারা সৃষ্ট বিদ্যমান শৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হন।. তার ধর্মীয় নীতিগুলি আলোকিতকরণের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল এবং একটি ঐতিহ্যগত প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্ম পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য ছিল । যাইহোক, তিনি শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং কিছু উল্লেখযোগ্য ভবন নির্মাণের জন্য দায়ী ছিলেন, তার মধ্যে বার্লিনের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট ।

 

১৬৪৪ – ওলে রয়মা, ডেনীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী।

 

১৯২০ – সতীশ ধাওয়ান, ভারতীয় গণিতজ্ঞ এবং বৈমানিক প্রকৌশলী।

সতীশ ধাওয়ান (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯২০ – ৩ জানুয়ারী ২০০২) ছিলেন একজন ভারতীয় গণিতবিদ এবং মহাকাশ প্রকৌশলী, যাকে ব্যাপকভাবে ভারতে পরীক্ষামূলক তরল গতিবিদ্যা গবেষণার জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।  শ্রীনগরে জন্মগ্রহণকারী ধাওয়ান ভারতে এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা লাভ করেন।  ধাওয়ান ছিলেন অশান্তি ও সীমানা স্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশিষ্ট গবেষকদের একজন, যিনি ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির সফল ও আদিবাসী উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।  তিনি ১৯৭২ সালে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-এর তৃতীয় চেয়ারম্যান হিসেবে এম.জি.কে. মেননের স্থলাভিষিক্ত হন।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৩ – জাপানের হোক্কাইদো শহরে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত করেছিল।

১৯১২ – কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯১৭ – কেরেনেস্কির নেতৃত্বে রাশিয়ায় তৃতীয় কোয়ালিশন সরকার দায়িত্ব নেয়।

১৯৪২ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে সুইজারল্যান্ড পুলিশ আদেশ জারি করেছিল, ইহুদি শরণার্থী সে দেশে ঢুকতে পারবে না।

১৯৬৯ – ওআইসি-এর চার্টার স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভ্যাটিকান সিটি।

১৯৭২ – নরওয়তে গণভোটে কমন মার্কেটে যোগদানের বিপক্ষে ভোট পড়ে।

১৯৭৪ – জাতিসংঘের ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ দেন।

১৯৭৭ – শিকাগো মেরাথন দৌড়ে প্রায় চার হাজার ২০০ লোক অংশ নিয়েছিল।

১৯৯৭ – ইহুদীবাদী ইসরাইলী গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ফিলিস্তিনের সংগ্রামী নেতা খালেদ মাশালকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় ।

১৮০৪ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়।

১৮৯৭ – প্রথম ব্রিটিশ বাস সার্ভিস চালু হয়।

১৬৩৯ – আমেরিকায় প্রথম ছাপাখানা স্থাপিত হয়।

১৬৫৪ – ইংল্যান্ড ও ডেনমার্ক বাণিজ্যচুক্তি করে।

১৫২৪ – বিশিষ্ট নৌ-অভিযাত্রী ভাস্কো-দা-গামা পর্তুগালের ভাইসরয় হিসেবে তৃতীয় ও শেষবারের মতো ভারতে আসেন।

১৪৯৩ – ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৭টি জাহাজ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সমুদ্রযাত্রা করেন।

১৩৪০ – ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করে।

১৩৯৬ – দানিউব নদীর তীরে নিকোপোলিস-এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ – সমর দাস, বাংলাদেশী সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক।

সমর দাস (১০ ডিসেম্বর ১৯২৫ – ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার।  তিনি পাকিস্তান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীত পরিচালক হয়ে ওঠেন এবং ২০০০টিরও বেশি গানের সুরকার ছিলেন।

 

২০২০ – এস. পি. বালসুব্রহ্মণ্যম, ভারতীয় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী,সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা।

শ্রীপতি পণ্ডিতরাধ্যুলা বালাসুব্রহ্মণ্যম (৪ জুন ১৯৪৬ – ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০), যিনি SPB বা SP বালু বা বালু নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন ভারতীয় প্লেব্যাক গায়ক, টেলিভিশন উপস্থাপক, অভিনেতা, সঙ্গীত সুরকার, ডাবিং শিল্পী এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক।  তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভারতীয় গায়কদের একজন হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত।  তিনি প্রধানত তেলেগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম এবং হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন এবং মোট ১৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন।

 

২০২১ – কমলা ভাসিন, ভারতের প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক, প্রশিক্ষক এবং অধিকারকর্মী।

কমলা ভাসিন (২৪ এপ্রিল ১৯৪৬ – ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১) ছিলেন একজন ভারতীয় উন্নয়নমূলক নারীবাদী কর্মী, কবি, লেখক এবং সমাজ বিজ্ঞানী।  ভাসিনের কাজ, যা ১৯৭০ সালে শুরু হয়েছিল, লিঙ্গ শিক্ষা, মানব উন্নয়ন এবং মিডিয়ার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল।  তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে থাকতেন।  তিনি সঙ্গত – এ ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করার জন্য এবং তার কিউঙ্কি মে লডকি হুঁ, মুঝে পড়না হ্যায় কবিতার জন্য সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন।  ১৯৯৫ সালে, তিনি একটি কনফারেন্সে জনপ্রিয় কবিতা আজাদী (স্বাধীনতা) এর একটি সংস্কার করা, নারীবাদী সংস্করণ আবৃত্তি করেছিলেন।  তিনি ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং-এর দক্ষিণ এশিয়া সমন্বয়কারীও ছিলেন।

 

১৯৬২ – চট্টগ্রামে দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার।

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক (জন্ম: ২০ জুলাই ১৮৯৬-২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬২) চট্টগ্রামের প্রথম মুসলিম প্রকৌশলী, সম্পাদক, প্রকাশনা-উদ্যোক্তা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা।

 

১৯৭০ – এরিখ মারিয়া রেমার্ক, জার্মান লেখক।

১৯৭২ – আলেহানদ্রা পিসারনিক, আর্জেন্টিনীয় কবি।

 

১৯৮০ – লুইস মাইলস্টোন, মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক। 

লুইস মাইলস্টোন (সেপ্টেম্বর ৩০, ১৮৯৫ – ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০) একজন আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন।  মাইলস্টোন পরিচালিত টু অ্যারাবিয়ান নাইটস (১৯২৭) এবং অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (১৯৩০), যে দুটিই সেরা পরিচালকের জন্য একাডেমি পুরস্কার পেয়েছে।  তিনি দ্য ফ্রন্ট পেজ (১৯৩১), দ্য জেনারেল ডাইড অ্যাট ডন (১৯৩৬), অফ মাইস অ্যান্ড মেন (১৯৩৯), ওশেনস ১১ (১৯৬০) পরিচালনা করেন এবং মার্লন ব্র্যান্ডো এর জন্য বিদ্রোহের জন্য (১৯৬২) পরিচালনার কৃতিত্বও পান  এটির উত্পাদনের সময় তার দায়িত্বগুলি মূলত বণ্টন করে।

 

১৯৮৪ – ওয়াল্টার পিজেয়ন, কানাডীয়-মার্কিন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা।

 

১৯৯০ – প্রফুল্লচন্দ্র সেন,ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ,স্বাধীনতা সংগ্রামী গান্ধীবাদি নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী।

প্রফুল্লচন্দ্র সেন একজন ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ স্বাধীনতা সংগ্রামী গান্ধীবাদি নেতা। তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলার সেনহাটির এক বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে, তার পিতার নাম ছিল গোপালচন্দ্র সেন। পিতার কর্মস্থান বিহারে তার স্কুলজীবন কাটে।

 

।।তথ্য ও ছবি  : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন ভারতের ম্যাকাও, উত্তর গোয়ায় দর্শনীয় স্থান পাঞ্জিম শহর।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো গোয়ায় পাঞ্জিম শহর।

 

গোয়া তার সমুদ্র সৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত, এর প্রধান অর্থনৈতিক কার্যকলাপ হল পর্যটন। গোয়াকে সহজেই এর দুটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র দ্বারা চিহ্নিত করা যায়, একটি উত্তরে এবং একটি দক্ষিণে। উত্তর গোয়া হল এমন এক যেটিকে পার্টি করার কেন্দ্র এবং হিপ্পি প্যারাডাইস বলে মনে করা হয়। যাইহোক, এর চেয়ে এলাকায় আরও অনেক কিছু আছে । উত্তর গোয়ার স্থানগুলি মহিমান্বিত দুর্গ, সুন্দর ক্যাথেড্রাল, ব্যস্ত ফ্লি মার্কেট এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের আগ্রহের জায়গা দিয়ে ঘেরা। উত্তর গোয়া পরিবহণের নিম্নলিখিত যেকোন একটি উপায় দ্বারা দর্শনার্থীদের কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য।

 

 

পাঞ্জিম শহর

 

পানাজি (পূর্বে পাঞ্জিম) হল গোয়া রাজ্যের রাজধানী।  এখানে কোন সমুদ্র সৈকত নেই, এবং মাত্র 40,000 জনেরও বেশি মানুষ, ক্ষুদ্র পানাজি ইতিবাচকভাবে প্রাদেশিক মনে করে।  ভারতে 36টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থাকলেও, পানাজি ভারতের শীর্ষ 300টি বড় শহরও ক্র্যাক করে না।  যদিও আমি মনে করি যে ভবিষ্যতে পানাজি আরও সুপরিচিত গন্তব্য হয়ে উঠবে।

 

পানাজি (পাঞ্জিম নামেও পরিচিত) হল ভারতের গোয়া রাজ্যের রাজধানী এবং উত্তর গোয়া জেলার সদর দফতর।  পূর্বে, এটি প্রাক্তন পর্তুগিজ ভারতের আঞ্চলিক রাজধানী ছিল।  এটি তিসওয়াদি উপ-জেলার (তালুকা) মান্দোভি নদীর মোহনার তীরে অবস্থিত।  মেট্রোপলিটন এলাকায় 114,759 জনসংখ্যা সহ, পানাজি হল গোয়ার বৃহত্তম শহুরে সমষ্টি, মারগাও এবং মুরমুগাও-এর আগে।  পানাজিতে রয়েছে সোপানযুক্ত পাহাড়, বারান্দা সহ কংক্রিটের বিল্ডিং এবং লাল-টাইলযুক্ত ছাদ, গীর্জা এবং একটি নদীর তীরে প্রমোনেড।  গুলমোহর, বাবলা ও অন্যান্য গাছের সারিবদ্ধ রাস্তা রয়েছে।  বারোক আওয়ার লেডি অফ দ্য ইম্যাকুলেট কনসেপশন চার্চ প্রাকা দা ইগ্রেজা নামে পরিচিত প্রধান চত্বরের দিকে নজর রেখে অবস্থিত।  পানাজিকে স্মার্ট সিটি মিশনের অধীনে একটি স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একশোটি ভারতীয় শহরের মধ্যে একটি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
17 শতকে পর্তুগিজরা ভেলহা গোয়া থেকে রাজধানী স্থানান্তর করার পর একটি পরিকল্পিত গ্রিড সিস্টেমে ধাপে ধাপে রাস্তা এবং সাত কিলোমিটার দীর্ঘ প্রমোনেড দিয়ে শহরটি তৈরি করা হয়েছিল।  ১৮৪৩ সালের ২২ মার্চ এটি একটি শহর থেকে একটি শহরে উন্নীত হয়।

 

 

ইতিহাস–

১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গোয়া শহরের জনসংখ্যা ধ্বংস করার পর পানাজিকে পর্তুগিজ ভারতের রাজধানী করা হয়।
১৯৬১ সালে পর্তুগিজ ভারতের ভারতীয় অধিভুক্তির পর পানাজি গোয়ার বাকি অংশ এবং প্রাক্তন পর্তুগিজ অঞ্চলগুলির সাথে ভারত দ্বারা সংযুক্ত হয়। এটি ১৯৮৭ সালে গোয়াকে রাজ্যের মর্যাদায় উন্নীত করার জন্য একটি রাজ্য-রাজধানী হয়ে ওঠে এবং ১৯৬১ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এটি ছিল কেন্দ্রীয় রাজধানী।  গোয়া, দমন ও দিউ অঞ্চল।  একটি নতুন বিধানসভা কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়েছিল মার্চ ২০০০ সালে, মান্দোভি নদীর ওপারে, আলতো পোরভোরিমে।  পানাজি হল উত্তর গোয়া জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর।

 

গোয়া বেশিরভাগই এর সৈকতের জন্য যুক্ত, এবং ঠিকই তাই।  যাইহোক, আপনি যদি শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকতে আপনার সময় ব্যয় করেন তবে আপনি ধারণা পাবেন যে গোয়া শুধুমাত্র র‌্যামশ্যাকল সৈকত শহরগুলির সমন্বয়ে গঠিত।  শহুরে গোয়া কেমন দেখায় তা দেখতে পানঞ্জি দেখার মতো।  আপনি যদি ভারতের বড় শহরগুলির দ্বারা অভিভূত বোধ করেন তবে বিশ্রাম নেওয়ার জন্যও পানাজি একটি ভাল জায়গা।

 

 

পানাজি শহরটি রাজ্যের রাজধানী ছাড়াও উত্তর গোয়া জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। শহরটি মান্ডোভি নদীর তীরে অবস্থিত এবং এর রাস্তাগুলি মুচি পাথর দিয়ে পাকা। রাস্তাগুলি উজ্জ্বল রঙের বাড়ি এবং কাঠামো দিয়ে বিন্দুযুক্ত পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় থেকে ফিরে আসা। পাঞ্জিমে ঐতিহাসিক স্থাপনা, ল্যাটিন কোয়ার্টার, সমুদ্র সৈকত এবং প্রচুর স্ট্রিট আর্ট সহ অনেকগুলি আকর্ষণ রয়েছে, যার সবগুলিই এক দিনে অন্বেষণ করা যেতে পারে।

 

পাঞ্জিম হল গোয়ার রাজ্যের রাজধানী এবং জনপ্রিয়ভাবে সরকারের আসন হিসাবে পরিচিত।  এটি বেশিরভাগ ব্যবসায়িক উদ্বেগের প্রধান কার্যালয় রয়েছে এবং অনেকের কাছে পানাজি নামেও পরিচিত।

পাঞ্জিম প্রশস্ত মান্ডোভি নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এবং এটি ভারতের সবচেয়ে ছোট এবং মনোরম রাজ্যের রাজধানীগুলির মধ্যে একটি।  এটি সেই জায়গা যেখানে ভারতের প্রথম মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  1842 সালে প্রতিষ্ঠিত গোয়া মেডিকেল কলেজটি পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত এশিয়ার প্রাচীনতম মেডিকেল কলেজগুলির মধ্যে একটি ছিল।

 

পাঞ্জিম শহরটি তার পর্তুগিজ ঐতিহ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করেছে এবং এর কিছু অংশ এখনও সরু ঘূর্ণায়মান রাস্তা, ঝুলন্ত ব্যালকনি সহ পুরানো বাড়ি, লাল-টাইলযুক্ত ছাদ এবং অসংখ্য ছোট বার এবং ক্যাফে নিয়ে গঠিত।

পর্তুগিজ ভাষায় চিহ্নগুলি এখনও দোকান, ক্যাফে এবং প্রশাসনিক ভবনগুলিতে দেখা যায়।  ফন্টেইনহাস, আপনাকে পর্তুগিজ দিনগুলিতে স্থানান্তরিত করে কারণ এটি তার পুরানো আকর্ষণ এবং চরিত্র ধরে রেখেছে।  শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মধ্যে মহিমান্বিতভাবে উত্থিত হয়, 1540 সালে প্রতিষ্ঠিত সাদা-ধোয়া ‘চার্চ অফ দ্য ইম্যাকুলেট কনসেপশন’।

নদীর তীরে ‘সেক্রেটারিয়েট’, পূর্বে ষোড়শ শতাব্দীর শাসক ইউসুফ আদিল শাহের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ।  কাছেই বিখ্যাত ‘আবে ফারিয়া’-এর মূর্তি রয়েছে একজন গোয়ান যাজক তার সম্মোহনী ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত।  18ই জুন রোড হল একটি জমজমাট ব্যবসা এলাকা এবং এখানকার দোকানগুলি কাজুবাদাম থেকে চামড়ার পণ্য থেকে শুরু করে গৃহস্থালীর জিনিসপত্র বিক্রি করে।

“আজাদ ময়দান স্কোয়ার”-এ ক্লাসিক্যাল করিন্থিয়ান কলাম সহ একটি সুন্দর প্যাভিলিয়ন রয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জায়গা। পানাজিতে অসংখ্য বার এবং ক্যাফে রয়েছে এবং জায়গাটি উপভোগ করার সর্বোত্তম উপায় হল হাঁটা বা সূর্যাস্ত দেখা।  মান্ডোভি নদীর ধারে দীর্ঘ বুলেভার্ডে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ভারতীয় বিপ্লববাদের জননী, ভিকাজী রুস্তম কামা।

সূচনা—

 

ভিকাইজি রুস্তম কামা (২৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৬১ – ১৩ আগস্ট, ১৯৩৬) ছিলেন একজন বিখ্যাত ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী।  একটি ধনী পার্সি পরিবার থেকে আসা, ভিখাইজি অল্প বয়সেই জাতীয়তাবাদী কারণের প্রতি আকৃষ্ট হন।  কয়েক বছর ধরে ইউরোপে নির্বাসিত, তিনি বিশিষ্ট ভারতীয় নেতাদের সাথে কাজ করেছেন।  তিনি ‘প্যারিস ইন্ডিয়ান সোসাইটি’ সহ-প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘মদনের তালওয়ার’-এর মতো সাহিত্যকর্ম প্রতিষ্ঠা করেন এবং জার্মানির স্টুটগার্টে দ্বিতীয় সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসে যোগদানের সময় বিদেশে ভারতীয় পতাকা উত্তোলনকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন।  তাকে ভারতীয় বিপ্লববাদের জননী বলা হয়।

 

প্রারম্ভিক জীবন—-

মাদাম কামা  কামা ১৮৬১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বোম্বেতে (বর্তমানে মুম্বাই) সোরাবজি ফ্রামজি প্যাটেল এবং জয়জিবাই সোরাবজি প্যাটেলের ধনী গুজরাটি পারসি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বাবা একজন বণিক এবং পার্সি সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন।  তার বাবা-মা শহরের একজন পরিচিত দম্পতি ছিলেন।  তার সময়ের বেশ কিছু পার্সি মেয়ের মতো, ভিকাইজিও আলেকজান্দ্রা নেটিভ গার্লস ইংলিশ ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করেছেন।  শৈশবকালে তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ভাষার প্রতি তার দক্ষতা ছিল।  এমন একটি পরিবেশে বেড়ে ওঠা যেখানে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ধীরে ধীরে গতি লাভ করছিল, তিনি সেই কারণের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যেটি তাকে বিভিন্ন বৃত্তে এই বিষয়ে দক্ষতার সাথে তর্ক করতে দেখেছিল।ভিখাজি রুস্তম কামা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন।

 

বৈবাহিক জীবন—

তিনি 3 আগস্ট, ১৮৮৫ সালে একজন ধনী ব্রিটিশ-পন্থী আইনজীবী রুস্তম কামাকে বিয়ে করেন। রুস্তম ছিলেন খরশেদজি রুস্তমজি কামা (কে. আর. কামা নামেও পরিচিত) এর ছেলে এবং রাজনীতিতে আসতে চেয়েছিলেন।  সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়গুলির সাথে ভিখাইজির মেলামেশা তার স্বামীর দ্বারা ভালভাবে নেওয়া হয়নি যার ফলে দম্পতির মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়, যা একটি অসুখী দাম্পত্যে পরিণত হয়েছিল।

 

 

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড—-

 

১৮৯৬ সালে বোম্বাই এলাকায় দুর্ভিক্ষ ও প্লেগ আক্রান্ত হলে কামা মেডিকেল কলেজের সেবামূলক কাজে যোগ দেন ও নিজেও প্লেগে আক্রান্ত হন। স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্যে লন্ডন যান তিনি। ১৯০৮ সালে বিপ্লবী শ্যামজী কৃষ্ণ বর্মা ও দাদাভাই নৌরোজি>র সাথে তার আলাপ হয়। তিনি নৌরোজির ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। কামা হোমরুল আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। ব্রিটিশ সরকার তার এই কার্যকলাপ ভাল চোখে দেখেনি। দেশে ফেরার জন্য তাকে মুচলেকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এই শর্তে যে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন এর সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখবেননা, কামা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্যারিসে গিয়ে তিনি প্যারিস ইন্ডিয়া সোসাইটি তৈরি করেন বিদেশে বসবাসস্থিত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিদের সাথে।

 

বিদেশে ভারতীয় পতাকা উত্তোলনকারী প্রথম ব্যক্তি—

দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সপ্তম কংগ্রেস, ১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস, ২২শে আগস্ট ভিকাইজি উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে, তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে দুর্ভিক্ষের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রতিনিধিদের অবহিত করেন। তিনি সাম্য, মানবাধিকার এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে তার মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য আবেদন করেছিলেন।  সাহসী এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ভিখাইজি বিশ্বজুড়ে শত শত প্রতিনিধিদের সামনে ভারতীয় পতাকাটি উড়িয়ে দেন এবং একে “ভারতীয় স্বাধীনতার পতাকা” হিসাবে অভিহিত করেন।  তিনি তার জ্বালাময়ী বক্তৃতায় সকলকে স্তব্ধ করে দিয়ে বলেছিলেন “দেখুন, স্বাধীন ভারতের পতাকা জন্মেছে!  এটি তরুণ ভারতীয়দের রক্ত ​​দ্বারা পবিত্র হয়ে উঠেছে যারা এর সম্মানে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিল।  এই পতাকার নামে, আমি সারা বিশ্বের স্বাধীনতাপ্রেমীদের কাছে এই সংগ্রামকে সমর্থন করার আহ্বান জানাচ্ছি।  তিনি সম্মেলনে প্রতিনিধিদের স্বাধীন ভারতের প্রথম পতাকাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানোর আবেদন জানান।  তিনি ভার্মার সাথে পতাকাটির ডিজাইন করেছিলেন।  কলকাতা পতাকার একটি পরিবর্তিত সংস্করণ হিসাবে বিবেচিত, এটি ভারতের বর্তমান জাতীয় পতাকার নকশায় বিবেচিত টেমপ্লেটগুলির মধ্যে গণনা করা হয়।  ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী ইন্দুলাল ইয়াগনিক পরে ব্রিটিশ ভারতে একই পতাকা পাচার করেন, যা বর্তমানে পুনের ‘মারাঠা’ এবং ‘কেশরি’ লাইব্রেরিতে প্রদর্শিত হয়।

 

ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের তীব্র সমালোচনা; শ্রীমতি কামার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত—

 

১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দের ২২ আগস্ট তিনি জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সমাজবাদী সম্মেলনে ভারতের তিন রঙা পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে ভারতে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের তীব্র সমালোচনা করেন মাদাম কামা। বিপ্লবীদের দমন পীড়ন নির্যাতন চালিয়ে বিপ্লবী কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য বিলাতে ভারত সচিবের একান্ত সচিব স্যার কার্জন উইলি সক্রিয় ছিলেন। ফলে শ্যামজি কৃশণবর্মার ঘনিষ্ট সহযোগী মদন লাল ধিংড়া কার্জন উইলিকে হত্যা করে বিপ্লবীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিশোধ নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লন্ডনে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের জন্য ভারতে পাঠানো হয়। পথিমধ্যে সাভারকর পালাবার চেষ্টা করেন ফ্রান্স উপকূলে। এসময় মাদাম কামার সাহায্য পাওয়ার সুযোগ তিমি পাননি। তাকে ধরে ব্রিটিশ পুলিশ। কামাকেও ফেরত পাঠানোর দাবী তোলে ইংল্যান্ড কিন্তু ফ্রান্স সরকার তা গ্রহণ না করায় শ্রীমতি কামার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। সোভিয়েত রাশিয়া থেকে রুশ বিপ্লবের নেতা লেনিন শ্রীমতি কামাকে আমন্ত্রন জানান তার দেশে আশ্রয় নেওয়ার জন্যে যদিও কামা সেখানে যেতে পারেননি।

 

মৃত্যু—-

 

ভিখাইজি ১৯৩৫ সালের নভেম্বরে জাহাঙ্গীরের সাথে ভারতে ফিরে আসেন।  ১৩ আগস্ট, ১৯৩৬-এ, নির্ভীক বিপ্লবী যিনি সুদূর ইউরোপ থেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, ব্রিটিশ ভারতের বোম্বেতে পার্সি জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

আজ মীনা দিবস, জানুন দিনটি কি, কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর ‘মীনা দিবস’ হিসেবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইস্ট-এশিয়ার দেশগুলোতে উদযাপন করা হয়।২৪ সেপ্টেম্বর ‘মীনা দিবস’। বিদ্যালয়ে যেতে সক্ষম শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং ঝরেপড়া রোধের অঙ্গীকার নিয়ে বিশ্বে পালিত হয় ইউনিসেফের ঘোষিত দিবসটি।

 

মীনা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি কার্টুন ধারাবাহিক।শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উন্নয়নের পাশাপাশি বাল্য বিয়ে, পরিবারে অসম খাদ্য বণ্টন, শিশুশ্রম রোধ প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন করা ও কার্যকর বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘মীনা’ চরিত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মীনা শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় বাংলা কার্টুন। এ কার্টুন ছবিটি তৈরি করেছে ইউনিসেফ।

১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল ছিল মেয়ে শিশুর দশক। একটি এনিমেটেড চলচ্চিত্র সিরিজ তৈরি করে তার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়ে, তাদের পরিবার ও কমিউনিটিকে আনন্দ দেওয়া ও উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে এই দশক উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউনিসেফ। মীনা হল এই সিরিজের  কেন্দ্রীয় চরিত্র।এই চরিত্র উপযোগী নাম ও চেহারা ঠিক করতে অনেকগুলো গবেষণা করা হয়েছিল। আমরা আজকে যে মীনাকে চিনি, তার এই চেহারা ঠিক করার আগে চার দেশের শিল্পীরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মেয়েদের চেহারা উপজীব্য করে কয়েক ডজন ছবি এঁকেছিলেন।বাংলাদেশে ইউনিসেফের বড় অর্জনগুলোর একটি ‘মীনা’।

 

১৯৯৩ সালে প্রথম এটি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র ‘মীনা’ বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র।মীনা প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর নয় বছরের একটি মেয়ে, যে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। হোক তা তার স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে অথবা শিশুদেও বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। শিশুদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান বিষয়গুলো সামাল দিতে পারার কারণে মীনা চরিত্রটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের কেন্দ্র করে মীনা, তার ভাই রাজু ও তার পোষা টিয়া মিঠুর রোমাঞ্চকর নানা কর্মকা- নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সিরিজের গল্পগুলো। বাংলাসহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। কার্টুনিট প্রচার করা হয় সার্কভুক্ত সাতটি দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। কার্টুন ছাড়াও কমিক বই ও রেডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে। এর স্রষ্টা বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। এ কার্টুনটির সূচনা সংগীতটি শিশুদের কাছে খুব প্রিয়।

 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক একটি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ইউনিসেফের সহায়তায় এ কার্টুন ধারাবাহিকটি নির্মিত।

কার্টুনের মূল চরিত্র মীনা আট বছর বয়সের কন্যাশিশু। সে তার পরিবারের সঙ্গে একটি ছোট গ্রামে বাস করে। এ চরিত্রের মাধ্যমে শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিনোদন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার চিত্র ফুটে ওঠে। মীনা কার্টুনে একটি পরিবারের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মীনা সময়মতো স্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে এবং পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে। মীনা চরিত্রটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বালিকা চরিত্র। ১৯৯৮ সাল থেকে দেশব্যাপী মীনা দিবস উদযাপন করছে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা। প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর দিবসটি উদযাপন করা হয়। প্রতি বছর মীনা দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালি, মীনাবিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, যেমন খুশি তেমন সাজো ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ হয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রমথনাথ মিত্র, যিনি ব্যারিস্টার পি মিত্র নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

সূচনা—

প্রমথনাথ মিত্র ভারতে বিপ্লবী প্রতিষ্ঠান সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ব্যারিস্টার পি মিত্র নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। প্রমথনাথ মিত্র ছিলেন একজন বাঙালি ভারতীয় ব্যারিস্টার এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদী যিনি ভারতীয় বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন সমিতির প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন।

 

প্রারম্ভিক জীবন— 

 

প্রমথনাথ মিত্র ১৮৫৩ সালের ৩০ অক্টোবর বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার নৈহাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বিপ্রদাস।

 

প্রমথনাথ মিত্র একজন সুপরিচিত ব্যারিস্টার ছিলেন যিনি কলকাতা হাইকোর্টে অনুশীলন করতেন এবং ফৌজদারি আইনের ক্ষেত্রে তার চিহ্ন তৈরি করেছিলেন।  তিনি ছিলেন বাংলার নতুন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা।    মিত্র পড়াশোনা করতে ইংল্যান্ডে যান, ১৮৭৫ সালে দেশে ফিরে আসেন।

 

 

বিপ্লবী জীবন—-

 

ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করবার সময়ে তিনি আয়ারল্যান্ড এবং রাশিয়ার বিপ্লবীদের কথা জানতে পারেন এবং দেশে ফিরে বিপ্লবী দল গঠনের সংকল্প করেন। বিংশ শতকের প্রথম দিকে যে সব গুপ্ত সমিতি দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তিনি তাদের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করতেন।  ১৯০২ সালের প্রথম দিকে সতীশ চন্দ্র বসু মিত্রের কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসেন।  সতীশ নিবেদিতার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটি শারীরিক সংস্কৃতি গোষ্ঠী শুরু করেছিলেন, যেটিকে বলা হয়েছিল, বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জি, অনুশীলন সমিতি বা সাংস্কৃতিক সোসাইটির একটি বইয়ের পরে।  বন্ধুরা তাকে বলেছিল যে মিত্র হয়তো সংগঠনের পিছনে তার ওজন রাখতে ইচ্ছুক।  সতীশ ফোন করে সমিতির প্রধান হওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করলে ব্যারিস্টার খুশি হন।  ২৪ মার্চ ১৯০২ সালে, তিনি সতীশ চন্দ্র বসু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ভারত অনুশীলন সমিতির পরিচালক নির্বাচিত হন এবং এর আর্থিক দায়িত্বও গ্রহণ করেন।  সেই সময়ে যতীন ব্যানার্জী কলকাতায় তাঁর জিমনেসিয়াম স্থাপন করছিলেন।  শ্রী অরবিন্দ তাঁকে সরলা দেবীর পরিচয়পত্র দিয়েছিলেন।  যতীন তার সাথে দেখা করেন, প্রমথনাথ মিত্র এবং অন্যান্য শারীরিক সংস্কৃতিতে আগ্রহী।  মিত্র যতীন ও সতীশকে বাহিনীতে যোগদানের পরামর্শ দেন।  দুজনে একমত হন এবং ১৯০২ সালের মার্চ মাসে একটি নতুন, সম্প্রসারিত অনুশীলন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, শ্রী অরবিন্দ প্রমথনাথ মিত্রের সাথে আলোচনা করেছিলেন, যাকে তিনি গোপন সমাজে সূচনা করেছিলেন।  দু’জন সামগ্রিক পদ্ধতির বিষয়ে একমত হন: প্রদেশ জুড়ে সমিতি প্রতিষ্ঠা করা, শারীরিক সংস্কৃতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং, যখন সঠিক সময় ছিল, বিপ্লবী ধারণাগুলি প্রবর্তন করা।১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিখিল বঙ্গ বৈপ্লবিক সমিতির এবং কলকাতায় সুবোধ মল্লিকের বাড়িতে অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ বিপ্লবী সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন। তিনি বাঙালিদের শারীরিক ব্যায়ামের উপর গুরুত্ব দিতেন।

 

শিক্ষকতা, অনুপ্রেরণা  ও লেখালেখি–

হাইকোর্টে ব্যারিস্টার হিসেবে প্র্যাকটিস করার পাশাপাশি মিত্র রিপন কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তিনি ভাল বক্তা এবং ইংরেজি লেখায় দক্ষ ছিলেন । প্রমথনাথ যোগী বিজয় গোস্বামীর শিষ্য ছিলেন এবং স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারাও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন।  মিত্রের লেখার মধ্যে রয়েছে একটি উপন্যাস -যোগী; গ্রন্থ : তর্কতত্ত্ব, জাতি ও ধর্ম এবং ভারতের বৌদ্ধিক অগ্রগতির ইতিহাস।

 

প্রয়াণ—-

 

২৩ সেপ্টেম্বর ১৯১০ এই মহান সংগ্রামী নেতার প্রয়াণ ঘটে।
।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, ভারতীয় বাঙালি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহিদ ব্যক্তিত্ব।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে বাসন্তী দেবী  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল।  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

 

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (৫ মে ১৯১১ – ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩১) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন ভারতীয় বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী যিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রভাবশালী ছিলেন।  চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তার শিক্ষা শেষ করার পর, তিনি কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হন।  তিনি স্বাতন্ত্র্যের সাথে দর্শনে স্নাতক হন এবং একজন স্কুল শিক্ষক হন।  তিনি “বাংলার প্রথম নারী শহীদ” হিসেবে প্রশংসিত হন।

 

প্রীতিলতা ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের (বর্তমানে বাংলাদেশে) পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে একটি মধ্যবিত্ত বাঙালি বৈদ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  ওয়াদ্দেদার একটি উপাধি ছিল যা পরিবারের একজন পূর্বপুরুষের কাছে প্রদত্ত ছিল যার মূল নাম ছিল দাশগুপ্ত।  তার বাবা জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রাম পৌরসভার কেরানি ছিলেন।  তার মা প্রতিভাময়ী দেবী ছিলেন একজন গৃহিণী।

 

কলকাতায় শিক্ষা শেষ করে প্রীতিলতা চট্টগ্রামে ফিরে আসেন।  চট্টগ্রামে, তিনি নন্দনকানন অপর্ণাচরণ স্কুল নামে একটি স্থানীয় ইংরেজি মাধ্যম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার চাকরি নেন।

 

প্রীতিলতা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।  সুরজো সেন তার সম্পর্কে শুনেছিলেন এবং তাকে তাদের বিপ্লবী দলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন।  ১৯৩২ সালের ১৩ জুন প্রীতিলতা তাদের ধলঘাট ক্যাম্পে সুরজো সেন এবং নির্মল সেনের সাথে দেখা করেন।  একজন সমসাময়িক বিপ্লবী, বিনোদ বিহারী চৌধুরী, আপত্তি করেছিলেন যে তারা মহিলাদের তাদের দলে যোগ দিতে দেয়নি।  যাইহোক, প্রীতলতাকে দলে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কারণ বিপ্লবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে অস্ত্র পরিবহনকারী মহিলারা পুরুষদের মতো ততটা সন্দেহজনক আকর্ষণ করবে না।

 

প্রীতিলতা সূর্য সেনের নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী দলে যোগদান করেন।সুরজো সেনের বিপ্লবী দলের সাথে প্রীতিলতা টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিসে হামলা এবং রিজার্ভ পুলিশ লাইন দখলের মতো অনেক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।  জালালাবাদ যুদ্ধে তিনি বিপ্লবীদের বিস্ফোরক সরবরাহের দায়িত্ব নেন।  তিনি পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে ১৯৩২ সালে সশস্ত্র আক্রমণে পনেরোজন বিপ্লবীর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত, যে সময়ে একজন নিহত এবং এগারোজন আহত হয়।  বিপ্লবীরা ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করে এবং পরে ঔপনিবেশিক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।  প্রীতিলতা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।  একজন আহত প্রীতিলতাকে ঔপনিবেশিক পুলিশ ফাঁদে ফেলেছিল।  গ্রেফতার এড়াতে তিনি সায়ানাইড গিলে ফেলেন।  পরদিন পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে শনাক্ত করে।  তার মৃতদেহ তল্লাশি করে পুলিশ কয়েকটি লিফলেট, রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ছবি, গুলি, বাঁশি এবং তাদের হামলার পরিকল্পনার খসড়া পায়।  ময়নাতদন্তের সময় দেখা গেছে যে বুলেটের আঘাত খুব গুরুতর ছিল না এবং সায়ানাইডের বিষ তার মৃত্যুর কারণ। তবে, তার আত্মহত্যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং গ্রেফতার এড়াতে নয়।  তার সাথে একটি সুইসাইড নোট বা একটি চিঠি ছিল, যেখানে তিনি ভারতীয় রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখার উদ্দেশ্যগুলি লিখেছিলেন।  চিঠিতে, মাস্টারদা সূর্য সেন এবং নির্মল সেনের নামের সাথে, তিনি আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সাথে কয়েকবার দেখা করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক সংকেত ভাষা দিবস, জানুন দিনটি কি এবং কেন পালিত হয়।

আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস হল বধির মানুষের মানবাধিকারের জন্য স্বীকৃত সাংকেতিক ভাষার সচেতনতা বৃদ্ধির একটি দিন।  দিনটি সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগকারী সমস্ত লোকের ভাষাগত পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য সমর্থন প্রদান করে।  ভাষা হল যোগাযোগের মাধ্যম এবং এই দিনটি পালন করা বধিরদের সাংকেতিক ভাষার সাথে সম্পর্কিত একতাকে তুলে ধরে।
তাই, প্রতি বছর ২৩শে সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বে শ্রবণ সমস্যা রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষার দিবস হিসাবে পালন করা হয়।২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮-এ প্রথম আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষার দিবসটি সারা বিশ্বে পালিত হয়েছিল, যার প্রতিপাদ্য ছিল “সাংকেতিক ভাষার সাথে, সবাই অন্তর্ভুক্ত!”  দিনটি বধিরদের আন্তর্জাতিক সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালন করা হয়, যা ২৪-৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।  দিবসটি প্রথম চূড়ান্ত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস বা আন্তর্জাতিক সংকেত ভাষা দিবস সারা বিশ্বে প্রতি বৎসর ২৩ শে সেপ্টেম্বর তারিখে পালিত হয়। সেই সাথে প্রতি বৎসর ইশারা সপ্তাহ উদযাপনেরও সূচনা করা হয়। এই দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি ‘সমস্ত বধির মানুষ এবং অন্যান্য ইশারা ভাষা ব্যবহারকারীদের ভাষাগত পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমর্থন ও রক্ষা করার’ সুযোগ উপস্থাপন করে।

 

 

 

আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবস: ইতিহাস।

 

আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস পালনের প্রস্তাব এসেছে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ দ্য ডেফ (ডব্লিউএফডি) থেকে।  WFD বধির ব্যক্তিদের ১৩৫টি জাতীয় সমিতির একটি ফেডারেশন।  ফেডারেশন সারা বিশ্বে প্রায় ৭০ মিলিয়ন বধির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রথম আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক বধির সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালিত হয়েছিল, একটি উদযাপন যা ১৯৫৮ সালের সেপ্টেম্বরে এর আবির্ভাব দেখেছিল এবং ২৪-৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত হয়।  তারপর থেকে, দিনটি প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর চিহ্নিত করা হয়। এই বছরটি আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবসের পঞ্চম উদযাপনকে চিহ্নিত করে।১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের এই ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখে ‘ওয়ার্ল্ড ফেডারেশান অফ দ্য ডীফ’ গঠিত হয়েছিল। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ হতে দিনটির প্রথম উদযাপন শুরু হয়।  ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ দ্য ডেফ প্রথম এই দিনটির জন্য ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭-এ প্রস্তাব করেছিল কারণ 23 সেপ্টেম্বরও বধিরদের বিশ্ব ফেডারেশন প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল (১৯৫১ সালে)।

 

আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবস: তাৎপর্য।

 

সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ হল ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ যা আপনার বার্তাকে অঙ্গভঙ্গি বা চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেরণ করে।  প্রতিটি দেশের নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা আছে, যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, এটি আমেরিকান সাংকেতিক ভাষা যেখানে যুক্তরাজ্যে এটি ব্রিটিশ ইশারা ভাষা।  আন্তর্জাতিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ দিবস বধির লোকেদের জন্য যোগাযোগের এই মাধ্যমটি সংরক্ষণের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে।
দিনটি ইশারা ভাষার বিকাশের একটি মঞ্চও দেয়।  এটি আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন লক্ষ্য এবং তাদের সাথে যুক্ত অর্জনের উপরও আলোকপাত করে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This