Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও আনন্দ উপভোগ : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ….।

***আমাদের জীবনে আমরা যদি *আনন্দকে* ভাগ করি  দুটি জিনিস পাব একটি হচ্ছে *জ্ঞান* এবং অপরটি হচ্ছে *প্রেম* – একথা বলছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জীবনে নিজের সৎ থাকার মতন মানসিক শান্তি ও আনন্দ আর কোনো কিছুতেই নেই। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কাকে যে কখন কি অবস্থায় চলে যেতে হবে তা আমরা কেউই জানি না। আমরা জানি মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক। শুধু মাত্র তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না আর কতো ঘণ্টা, কতো মিনিট আর কতো সেকেন্ড আমার,আপনার  হাতে আছে এই সুন্দর পৃথিবীতে। জীবনের চরম সত্য এই “মৃত্যু”। তাই আসুন্ আমরা প্রত্যহ সাবলীল ভাবে জীবনকে উপভোগ করি। রাগ, অহংকার, লোভ, মিথ্যা, হিংসা ইত্যাদি ত্যাগ করি।  আমার, আপনার জ্ঞানী হওয়া অর্থহীন হবে, যদি আমার, আপনার বন্ধু ও সহকর্মীরা মূর্খ হয়। আপনার চারপাশে যদি মূর্খ এবং বাস্তববোধ বুদ্ধিহীন মানুষ থেকে থাকে তাহলে আপনার যে কোন কাজে আপনি হাততালি কুড়বেন ঠিকই। কিন্তু,  দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে এই আনন্দ, হাততালি আপনার কোন কাজে লাগবে না । তাই, আনন্দ সম্পর্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলছেন:-
*** মৃত্যু কহে পুত্র নিব চোর কহে ধন
ভাগ্য কহে সব নিব যা তোর আপন।
নিন্দুক কহিল লব তব যশোভার
কবি কহে কে লইবে আনন্দ আমার।***

জীবনে যে নিজের কর্তব্য কর্ম করে তার অনেক দোষ, এটা ভুল সেটা ভুল, এটা করেনা সেটা করেনা।যে কোনো কর্তব্য কর্ম কিছু করেই না, তার একটাই দোষ  ও পারেনা বা ও ঐরকমি। জীবনে যদি উড়তে না পারেন তবে দৌড়ান। যদি দৌড়াতে না পারেন তবে হাঁটুন। হাঁটতে না পারলে হামাগুড়ি দিন। যে অবস্থাতেই থাকুন সামনে চলা বন্ধ করবেন না। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কর্তব্য কর্ম করে যান,তারই নাম জীবন। জীবনের রাস্তায় পারাপার করার সময় অবহেলা করবেন না। যেমন গাড়ি চালানোর সময়, যেমন রাস্তা ও রেলপথ অতিক্রম করার সময়, আমাদের সতর্ক হতে হয় জীবনের পথ অতিক্রম করার সময় সেই রকম সতর্ক থাকুন। আপনার নিজের, পরিবারের আপনাকে প্রয়োজন, সমাজের আপনাকে প্রয়োজন, জীবনের চলার পথে যারা নিজেদের সাহায্য করে ঈশ্বর তাদের সাহায্য করেন। জীবনে থামার নামই মৃত্যু, চলার নামই জীবন। জীবনে এটা সত্যিই, চরম সত্য। আপনি যদি স্বয়ং নিজে আপনার স্বপ্ন এবং আপনার পরিস্থিতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে না পারেন, তবে কেউ আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে পারবে না। তাই,  নিজের জীবনের আনন্দকে উপভোগ করুন। অসামান্য কথাশিল্পী, ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন:-
*মানুষ কি চায় — উন্নতি, না আনন্দ? উন্নতি করিয়া কি হইবে যদি তাহাতে আনন্দ না থাকে? আমি এমন কত লোকের কথা জানি, যাহারা জীবনে উন্নতি করিয়াছে বটে, কিন্তু আনন্দকে হারাইয়াছে। অতিরিক্ত ভোগে মনোবৃত্তির ধার ক্ষইয়া ভোঁতা — এখন আর কিছুতেই তেমন আনন্দ পায় না, জীবন তাহাদের নিকট একঘেয়ে, একরঙা, অর্থহীন। মন শান-বাঁধানো — রস ঢুকিতে পায় না।” আরণ্যক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আমাদের হিন্দু সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরা বিশ্বাস করেন, মানুষের দেহ পাঁচটি উপাদান দিয়ে তৈরি। যথাঃ আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল ও মাটি। তাই মৃত্যুর পর এই দেহ আগুনে দাহ করা হয় অথবা মাটি দেওয়া হয়। যে উপাদান দিয়ে এই দেহ তৈরি, মৃত্যুর পর আবার সেই একই উপাদানে মিশে যায়। ঈশ্বর সর্বত্রই বিরাজিত। প্রতিটি বস্তু, প্রতিটি প্রাণীর মধ্যই তিনি আছেন। আমাদের জীবনে যদি আমরা ছোট ছোট কারণে বা অকারণে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ না করে, ব্যক্তিগত অহংকার দূরে ঠেলে আমরা যদি একে অন্যের হাতটা ধরতে পারি তাহলে আমাদের জ্ঞান এবং প্রেম বহু গুণ বেড়ে যায়।আমরা আনন্দকে  নিজেদের মধ্যে ভাগ
করে নিতে পারি। তাই, প্রেম সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ বলছেন:-
*বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর। জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।*

শ্রীচৈতন্যদেব প্রেম সম্পর্কে বলছেন:-
*মুচি হয়ে শুচি হয় যদি কৃষ্ণ ভজে”।*
শ্রীচৈতন্যদেবের কথা অনুযায়ী  বর্ণবৈষম্য ও ভেদাভেদ ভুলে এবং  জাতি বর্ণ নির্বিশেষে  মানুষে মানুষে বিশ্বাস এবং জাতীয় সংহতি গড়ে তোলাই হবে সর্বোৎকৃষ্ট ব্রত।শ্রীচৈতন্যদেব মানুষকে মানুষ হিসেবেই মূল্য দিয়ে বর্ণ শ্রেণিভেদে বিভক্ত আত্মবিচ্ছিন্ন জাতিকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সকল মানুষের জন্য যে মহানাম, প্রেমময় হরিনাম,প্রচার করে গেছেন তা হলো –
* ” হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।”*

আমাদের জীবনে কষ্ট ভাগাভাগি করলে তা কমবে, সুখ ভাগাভাগি করলে তা বাড়বে, তাই কষ্ট এবং সুখ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি বা শেয়ার করুন। বিশেষ করে তার সাথে ভাগাভাগি বা শেয়ার করুন যিনি আপনার যত্ন নেন।আপনাকে অনুপ্রাণিত করেন। আপনার বাকি জীবন আপনার জীবনের সেরা করুন । ভবিষ্যত তাদেরই,  যারা নিজের জীবনে তাদের স্বপ্নের সৌন্দর্যে বিশ্বাসী। জ্ঞান একটি সুন্দর উপহার যা আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বোঝার জন্য মনকে প্রসারিত করে। এটি আমাদের  মন এর বৃদ্ধি, বিকাশ এবং  সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। ইতিহাস জুড়ে, অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি জ্ঞানের উপর তাদের গভীর অন্তর্দৃষ্টি আমাদের মধ্যে ভাগাভাগি, শেয়ার করেছেন। যার ফলে আমাদের জ্ঞান বিকশিত হয়েছে প্রসারিত হয়েছে। তাই, কোন জিনিসই অতিরিক্ত হওয়া ভাল নয় দুটি জিনিস ছাড়া,এক জ্ঞান,দুই ভদ্রতা।

সুমহান ভারত সেবাশ্রম সংঘ এর প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দ  মহারাজ বলছেন:- *প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নবজীবনের নূতন সঙ্কল্প লইয়া উৎসাহ উন্মাদনাপূর্ণ নূতন জীবন আরম্ভ করিবে; সমস্ত দিন এমনিভাবে চলিবে যাহাতে একটা পরিবর্তন, একটু উন্নতি অনুভব করিতে পার।*
জগৎগুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের শুভ ও মঙ্গলময় আশির্বাদ সকলের শিরে বর্ষিত হোক! এই প্রার্থনা করি…***
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ….!

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস, দিনটি পালনের গুরুত্ব কি জানুন।

বিশ্ব গন্ডার দিবস প্রতি বছর ২২শে সেপ্টেম্বর পালিত হয়।  দিনটি গন্ডার ওরফে গন্ডারের পাঁচটি প্রজাতি উদযাপন এবং তাদের সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উত্সর্গীকৃত।

 

বিশ্ব গণ্ডার দিবস ২০২৩: গণ্ডার হল দুর্দান্ত প্রাণী যারা বনে বাস করে।  তাদের চিন্তার চামড়া এবং তাদের শিং তাদের চেহারার উল্লেখযোগ্য পরিচয় তৈরি করে।  তারা অনেক প্রিয়, কিন্তু, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় না.  শিকার, বন উজাড় এবং অন্যান্য অমানবিক অনুশীলনের কারণে, গন্ডার এই গ্রহের বিপন্ন প্রাণী।  যদিও এই অনুশীলনগুলিকে অবৈধ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং চোরাচালান এবং অবৈধ বন উজাড় রোধ করার জন্য অনেক কিছু করা হয়েছে, গন্ডারদের এই গ্রহ থেকে তাদের প্রজাতিকে বিলুপ্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে মানুষের আরও প্রচেষ্টার প্রয়োজন।  এই প্রিয় প্রাণীগুলি বর্তমানে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে এবং তাদের বাঁচানোর জন্য অনেক কিছু করা দরকার।  প্রতি বছর, প্রাণীদের সম্পর্কে আরও সচেতনতা তৈরি করতে বিশ্ব গন্ডার দিবস পালিত হয়।  আমরা বিশেষ দিন উদযাপন করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথে এখানে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে:  প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস পালিত হয়। এ বছর শুক্রবার বিশ্ব গন্ডার দিবস পালিত হবে।

 

ইতিহাস:—

 

১৯৯০ সালে আফ্রিকায় গন্ডারের সংকট শুরু হয়েছিল। ২০১০ সাল নাগাদ, এটি একটি দেশব্যাপী বিপদে পরিণত হয়েছিল এবং লোকেরা এই সংকট নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে।  সঙ্কট পরিস্থিতি শীঘ্রই নজরে আনা হয়েছিল কারণ সমগ্র গ্রহে সেই সময়ে মাত্র ৩০০০০ গন্ডার জীবিত ছিল।  সেই সময়ে বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিল-দক্ষিণ আফ্রিকা এই প্রাণীদের সঙ্কট এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে বিশ্ব গন্ডার দিবস ঘোষণা করে।  ২০১১ সালে, লিসা জেন ক্যাম্পবেল নামে একজন মহিলা একজন সহকর্মী গন্ডার প্রেমিক রিশজাকে একটি মেল লিখেছিলেন যাতে তিনি বিশ্বের অন্তত পাঁচটি প্রজাতির গন্ডার দেখতে চান।  তাই, বিশ্ব গন্ডার দিবস একটি বিশ্বব্যাপী প্রপঞ্চ হয়ে ওঠে এবং ২২ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বে পালিত হতে থাকে।

 

তাৎপর্য:—

 

বিশ্ব গন্ডার দিবসটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি এই প্রাণীদের উদযাপন করে, তাদের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা এবং তারা যে বিলুপ্তির তাৎক্ষণিক হুমকির সম্মুখীন হয় তা তুলে ধরে এবং তাদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে সম্প্রদায়, সরকার এবং ব্যক্তিদের কাছ থেকে সমর্থন সংগ্রহ করে।
গণ্ডার প্রাকৃতিকভাবে তৃণভূমিগুলি পরিচালনা করার জন্য প্রাকৃতিকভাবে ল্যান্ডস্কেপিংয়ে একটি ভূমিকা পালন করে, এটি নিশ্চিত করে যে এই বাস্তুতন্ত্রগুলি অন্যান্য প্রজাতির উন্নতির জন্য ভালভাবে ভারসাম্যপূর্ণ।  যাইহোক, গন্ডার বিপদে আছে।  কেউ কেউ ভুলভাবে গন্ডারের শিংকে ঔষধি গুণসম্পন্ন বলে বিশ্বাস করে এবং এর ফলে ব্যাপকভাবে চোরাশিকারের ঘটনা ঘটে।  গন্ডার শিংয়ের অবৈধ ব্যবসা তাদের বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।  এই দিনটির লক্ষ্য এই ভুল ধারণাগুলিকে সংশোধন করা এবং বিশ্বকে আরও টেকসই সংরক্ষণ প্রচেষ্টার দিকে নিয়ে যাওয়া।

তাই গন্ডারের সংরক্ষণ প্রয়োজন।  এই দিনে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দিকে মনোনিবেশকারী সংস্থাগুলি বনে গন্ডারের দুর্দশা এবং এই প্রাণীগুলিকে বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে মানুষের দ্বারা নেওয়া পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে একত্রিত হয়।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

বিশ্বের প্রথম এভারেস্ট জয়ী নারী জুনকো তাবেই।

জুনকো তাবেই (২২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ – ২০ অক্টোবর ২০১৬) একজন জাপানি পর্বতারোহী, লেখক এবং শিক্ষক ছিলেন।  তিনিই প্রথম মহিলা যিনি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন এবং প্রথম মহিলা যিনি সাতটি চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন, প্রতিটি মহাদেশের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন। তাবেই সাতটি বই লিখেছেন, এভারেস্টে পর্বতারোহীদের ফেলে যাওয়া আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য পরিবেশগত প্রকল্পের আয়োজন করেছেন এবং গ্রেট ইস্ট জাপান ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত যুবকদের জন্য মাউন্ট ফুজিতে বার্ষিক আরোহণের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

জুনকো ইশিবাশির জন্ম ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে মিহারু, ফুকুশিমাতে, সাত সন্তানের পঞ্চম কন্যা।  তার বাবা একজন প্রিন্টার ছিলেন।  তাকে একটি দুর্বল শিশু হিসাবে বিবেচনা করা হত, কিন্তু তবুও তিনি দশ বছর বয়সে পর্বত আরোহণ শুরু করেন, নাসু পর্বতে ক্লাস ক্লাইম্বিং ট্রিপে গিয়েছিলেন।  তিনি খেলাধুলার অ-প্রতিযোগীতামূলক প্রকৃতি এবং পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর পর দর্শনীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেছিলেন।  যদিও তিনি আরো আরোহণ করতে আগ্রহী ছিলেন, তার পরিবারের কাছে এত ব্যয়বহুল শখের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না এবং ইশিবাশি তার উচ্চ বিদ্যালয়ের বছরগুলিতে মাত্র কয়েকটি আরোহণ করেছিলেন।

 

১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত, ইশিবাশি শোওয়া উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি এবং আমেরিকান সাহিত্য অধ্যয়ন করেন।  তিনি প্রাথমিকভাবে একজন শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবনের পরিকল্পনা করেছিলেন।  স্নাতক শেষ করার পরে, তিনি পুরুষদের আরোহণ ক্লাবের একটি সংখ্যায় যোগ দিয়ে আরোহণের জন্য তার আগের আবেগে ফিরে আসেন।  যদিও কিছু পুরুষ সহকর্মী পর্বতারোহী হিসাবে তাকে স্বাগত জানায়, অন্যরা সাধারণত পুরুষ-আধিপত্য খেলার জন্য তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে।  শীঘ্রই, ইশিবাশি মাউন্ট ফুজি সহ জাপানের সমস্ত প্রধান পর্বত আরোহণ করেছিলেন।
যখন তার বয়স ২৭, তখন ইশিবাশি মাসানোবু তাবেইকে বিয়ে করেছিলেন, একজন পর্বতারোহী তার সাথে তানিগাওয়া পর্বতে আরোহণের সময় দেখা হয়েছিল।  এই দম্পতির দুটি সন্তান ছিল: একটি কন্যা, নরিকো এবং একটি পুত্র, শিনিয়া।

 

 

সাল ১৯৭৫। এই বছরেই জাপানের প্রথম মহিলা পর্বতারোহী হিসেবে তিনি জয় করেছিলেন এভারেস্টের চূড়া। বিশ্বের মধ্যে তিনি ছিলেন ৩৬ তম পর্বাতারোহী যিনি এই দুঃসাহসিক অভিযানে সফল হয়েছিলেন। লে, জুনকো তাবেই প্রথম মহিলা হিসাবে এভারেস্টে আরোহণ করেছিলেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আধুনিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় ড্রামাটিক হিরো সাজতে গিয়ে প্রতারণার চোরাবালিতে গুলিয়ে যাচ্ছে সাধারণের সাধ ও সাধ্যের সীমানা : সৌগত রাণা কবিয়াল।

সময়টা আশির দশকে..
কলকাতার অলিগলিতে পুজো পুজো গন্ধ… শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের মনে তখন দারুণ রোমাঞ্চ… বাড়ির বড়দের হাত ধরে শহরের হাতে গোনা বড় পোষাক বিতানের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভেতরে ঢুকেই এক স্বপ্নের জগতে…মনের মতন ঝলমলে পোশাক….ঠিক যেমনটা সিনেমায় দেখায়…! পাশাপাশি নিন্মবিত্তের জন্য পুরোনো কোলকাতার ফুটপাতের টিনের চালা মার্কেট…বোম্বের হালফ্যাশন ডিজাইনের রকমারি পোশাক….যেমন খুশী চাই….!
সেই সময়টাতে নতুন কিছু কেনা মানেই সাতদিন ধরে বাবার মাথার হাজার খানেক পাঁকা চুল বেছে দিয়ে তারপর রবিবার সন্ধ্যায় পাথর পাতা রেললাইন পার হতে হতে চোখে দারুণ এক সুখ নিয়ে বাড়ি ফেরা…! সব মিলিয়ে সাধ আর সাধ্যের মাঝে একটা সুন্দর অপেক্ষা….!

আজকের সময়ে এই গল্পটা গল্প ভেবে বললেও পাঁচ বছরের বুচুও চোখের চশমা উপরে টানতে টানতে বলবে “এমা এ আবার কেমনতর গল্প…গল্পে এমন হয় নাকি ?”….. কি করেই বা হবে…আজকের বুচুদের গল্পে যে যাদুর হ্যারি পটারের ম্যাজিক স্টিক…ভাবার সাথে সাথেই হাতের মুঠোয় সব ইচ্ছে….!
ইচ্ছে পুরণের এমন যুগে অপেক্ষা মানেই অহেতুক সময় নষ্ট…অপেক্ষা মানেই সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যকডেটেড… অপেক্ষা মানেই আদিকালের চাষাপোনা….!

সত্যিই তো…
আজকের পৃথিবীতে সময় রাজা মানুষকে তার সেরা মুহুর্ত উপহার দিয়েছে সভ্যতার সাথে বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে…! প্রতিদিনের জীবনে ভোর থেকে মধ্যরাত….দারুণ দারুণ সব ম্যাজিক…গোটা জীবনটাই এখন আস্ত একটা যাদু….!

গৃহকোণের চাল-ডাল থেকে উচ্চ- মধ্যবিত্তের আয়েসি জীবনধারা…
মানুষের জীবনযাত্রার এই স্বপ্নময় উৎযাপন প্রযুক্তির কল্যাণে আজকের এই সময়ে খেটে খাওয়া নিন্মবিত্তেরও হাতের মুঠোয় দারুণ ফিট….! অথচ, প্রযুক্তির এই চোরা ফাঁদে সাধ আর সাধ্যের মিলন ঘটাতে গিয়ে টান পড়ছে সাধের সঞ্চয়ে…! তীব্র গতিময় আজকের সভ্যতায় নিজের দৃষ্টির সীমানায় সফল হতে গিয়ে অসাবধানে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক-বিষন্নতার জীবন পরিণত হচ্ছে এক নেশাতুর সম্মোহনে…!

হ্যাঁ, আজকের বাজারে হাতের মুঠোয় সব পেয়ে যাওয়ার অমৃত এই সুখের ইচ্ছেতেই অদৃশ্য মরণ ফাঁদ পেতে আমাদের দেশের প্রযুক্তিতে স্বল্প জ্ঞানী মানুষের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে বছরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের দেশী-বিদেশী এই প্রতারণা বানিজ্য….! এই বানিজ্যের বিকিকিনির হাটে কেও কেও বোকা ব্রয়লার হয়ে বিক্রি হচ্ছে হাতে হাতে…! হাতের মুঠোয় পৃথিবী দেখতে দেখতে মাথায় হাত বোলানোর শেয়ালটার হাতে তুলে দিচ্ছে নিজের যত্নের সন্তান….!

কোভিড ও বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির নব সমীকরণের ধাক্কায় অধুনা সময়ে সারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও অর্থনীতিতে ভারতের মেধা দীপ্ত সফলতার সাথে বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভর অর্থ ব্যবস্থাপনায় বা  ই-কমার্স খাতে সাধারণ মানুষের ব্যপক বৈপ্লবিক অংশগ্রহণে দেশে যেমন অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর আধুনিকায়ন হচ্ছে, তেমনই প্রত্যাশিত এই পরিবর্তনের ভেতর লুকিয়ে থাকা সাময়িক দূর্বলতার সুযোগে বাড়ছে দেশি-বিদেশি দুষ্টচক্রের রমরমা ই-বানিজ্য…!

মূলধারার অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্রমবর্ধমান এই সমস্যার মূল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সুরক্ষাব্যবস্থা নেয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে…! নইলে যে পন্ডিত খুঁজতে গা উজাড় অবস্থা…!

উন্নয়নশীল থেকে উন্নত মার্গে পরিনত হতে যাওয়া আজকের ভারতে আধুনিক সভ্যতায় প্রযুক্তির দ্রুততম গতির সাথে ছন্দ মেলাতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ…! উন্মুক্ত এই বিশ্ব জুড়ে নিজেদের জীবনে প্রযুক্তিকে অতি দ্রুত অপরিহার্য করতে গিয়ে মানুষ হোঁচট খাচ্ছে তার অপরিপক্ক প্রযুক্তি জ্ঞান নিয়ে…! দেশের বিশাল সংখ্যার তরুণ প্রজন্ম মুঠোফোনের তথাকথিত ড্রামাটিক হিরো সাজতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলছে নিজের সাধ আর সাধ্যের সীমানা…! নিজেকে প্রমাণ করার ক্রমবর্ধমান মানুষিক চাপ নিয়ে নিজেদের পাশের মানুষের চাইতে ভরসা করছে টেকনোলজির কিছু সংখ্যাকে…! বিগত দুই দশকের প্রজন্মের উপর আমরা যে পরিমাণ আশা চাপিয়ে দিয়েছি..ঠিক সেই পরিমাণই জটিল করে তুলছি আমরা আমাদের আগামী শতক…!

এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে যে অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই সময়ে মানুষ জেনে–বুঝে কেন এসব প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছেন…? তবে কি ভার্চুয়াল প্রেমে সোফিয়ার কোলে আগামী প্রজন্মের শুভ উৎপাদন….!

আসলে পণ্য বেচাকেনার এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটিতে স্বল্প পুঁজির  ব্যবসায় অতী দ্রুত লাভবান হওয়ার নেশায় মত্ত বিক্রেতাদের প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা ও স্বচ্ছতার অভাবের সাথে দেশের প্রযুক্তি মুখি কিন্তু অপারদর্শী ক্রেতার সমন্বয়ই দেশের ই-কমার্সের এই বৈপ্লবিক অগ্রযাত্রাকে ভয়ংকর ভাবে বাঁধাগ্রস্ত করছে…! কিছুটা এই গরমে পঁচা আমের আমসত্ত্ব আরকি…!

বর্তমানে ই-কমার্সের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা স্বত্তেও একটি বড় সংখ্যার বিনিয়োগকারী কোন নিয়মনীতির ধার ধারছে না…!ব্যবসার অনুমতির জন্য লাইসেন্স সংগ্রহ করা, শিপিং ও ডেলিভারি পলিসি, রিফান্ড পলিসি, অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিতকরণ, ক্রেতাদের তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান, বয়স ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকরণ, কোম্পানির সম্পদ ও দায়ের সীমা, মৌলিক ব্যবসায়িক নীতি মেনে চলা….একটি কোম্পানি বা প্লাটফর্মকে ই-কমার্স হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য উল্লিখিত মৌলিক সব বিষয় মেনে চলতে হয় বাস্তবে যার প্রয়োগ কিনা আশংকাজনক ভাবে কম…!

বর্তমানে দেশে অনলাইন ব্যবসা নিয়ে যে বিতর্ক, অনিশ্চয়তা আর আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে, তার পেছনে অন্যতম মূল কারণ হলো ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েরই বুঝে কিংবা না বুঝে ই-কমার্সের মৌলিক নীতিগুলো অনুসরণ না করা…!
অভিযোগগুলোর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে অর্ডারকৃত পণ্য শিপিং ও ডেলিভারি না করা, অনলাইনে পণ্যের শিপিং স্ট্যাটাসের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল এবং রিফান্ড করার ক্ষেত্রে গ্রাহক হয়রানি অন্যতম…! এসব বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে প্রতিকারে এই নীতিমালার সঠিক নজরদারির অভাবে ই-কমার্সে সংশ্লিষ্ট বড় সংখ্যার ছোটো বড় মাঝারি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়নি… ই-কমার্স প্লাটফর্মে বিক্রির জন্য পণ্যের অরিজিন ও জেনেরিক নাম, উপাদান, উৎপাদকের নাম-ঠিকানা, তারিখ, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা ক্রেতা অধিকার…যা কিনা অপূর্ণ থেকে যায় অনলাইনের রংচঙয়ে বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ক্রেতাদের ভেসে যাওয়া আবেগের কাছে…!

সারা ভারতের ব্যস্ততম শহরগুলোর পাশাপাশি ও তার আশেপাশে কর্পোরেট অফিস পাড়ায় গজিয়ে উঠছে কল সেন্টারের রমরমা ব্যবসা…যার মাধ্যমে অনলাইনে বিনোদন ব্যাস্ত মানুষের বিশ্বাসযোগ্য স্বপ্ন দেখিয়ে লুট হচ্ছে  সাধারণ মানুষের পরিশ্রমের অর্থ…!
প্রযুক্তি নির্ভর আজকের তরুণদের এই স্বেচ্ছা একাকিত্বের সময়ে যেখানে চমকদার বিজ্ঞাপন হয়ে যাচ্ছে তাদের জীবনের নিয়ামক, সেখানে অবশ্য নীতিমালার কিছু নিয়ম বাড়িয়ে দিলেই যে কেল্লাফতে তা ভাবাটা চরম মূর্খতাই বটে…!

আসলে অধুনা ভারতের মাত্রাতিরিক্ত গন চাপে জনতা যেখানে তার মুল্য বুঝতে ভুলছে…সেখানে দাঁড়িয়ে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য জেনারেল পিতামাতার স্কয়ার ফুটের শহুরে জীবনে সফলতা একমাত্র পরিমাপক যেখানে শুধুই ই-এম-আই নির্ভর দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠা…সেখানে স্বল্প সময়ে আম্বানি রাজার গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে প্রজন্মের কাছে একটা বিশাল স্বপ্নের বালুর পিরামিড তৈরির লোভনীয় দৃশ্যটিতে এখন জমজমাট ভিউয়ার…! হ্যামিলনের ইঁদুরের মতন তরুণ সমাজ ছুটছে ইঁদুর ফুলে গণেশ অবতার হবে বলে…! অতিথি হিসেবে এইসব প্রতারণার জলসায় নিয়মিত পাপেট হিরোদের লম্ফঝম্প… সুচতুর ভাবে প্রযুক্তির সুখী সময়টাকে অসুখী করে তুলছে বড় ছোট সব বানিজ্যিক দানবেরা…..!
শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগ জ্ঞানের অভাবে দেশের আগামী জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশের কাছে প্রযুক্তি মানেই কেবলমাত্র সুস্থ কিংবা অসুস্থ বিনোদন…! বর্তমানে আমাদের দেশের দুটি প্রজন্ম আকস্মিক ভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ…! আধুনিক শহুরে বিলাসিতায় হঠাৎ নি:সঙ্গ হয়ে পরা প্রবীণ সমাজ ও প্রযুক্তি অজ্ঞ একটি বিরাট সংখ্যার তরুণ প্রজন্ম… অনলাইন নির্ভর পেটমোটা বনিকদের কাছে যারা খুব সহজ শিকার…!

স্বম্পর্কের গণিতে একলা চলাই যে সময়ের মানব মন্ত্র… সেই সময়ে বড্ড বেশি করে আরও একটি বার অপেক্ষার মুল্য বোঝার দিনের দরকার…! যেখানে ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হওয়া বিলিয়নিয়ার থেকে দেশের যুবকদের কাছে সুপার হিরো এলন মাস্ক…সেখানে  বিশ্ব অর্থনীতিতে নিত্য নতুন প্রযুক্তি সংযোজন মানুষকে দ্বিধাগ্রস্থ করবে এটাই স্বাভাবিক…!
আধুনিক ভারতের পরিবার ও সমাজে ফিরিয়ে আনতে হবে ঐতিহ্যগত ভারতের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ…. কেননা জীবনের সফলতা মানেই যে শুধু মানুষের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা তা নয়…এর বাইরেও জীবনের বহু ক্ষেত্রে মানুষের সফলতার মানদণ্ড আছে…! একমাত্র সঠিক মানবিক দৃষ্টিকোণই মানুষকে ঠিক-বেঠিক এর তফাৎ বোঝাতে পারে….! তবেই প্রযুক্তির প্রতি অন্ধ মায়া থেকে বেড়িয়ে আজকের নাগরিকেরা তাদের জীবনে প্রযুক্তির অপরিহার্যতার মাত্রা স্ব-ইচ্ছায় নির্ধারণ করতে পারবে… আর তাতে অধুনা ভারতের প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনৈতিক মহা মঞ্চটি থেকে নির্বাসন হতে পারে প্রতারণা নামক এই সায়ানাইড বন্ধুটি….!

বি:দ্র:- প্রবন্ধটির কপিরাইট লেখক ও ডেইলি হান্ট দ্বারা সংরক্ষিত |

 

সৌগত রাণা কবিয়াল—
( কবি সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক )

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

অ্যানি বেসান্ট : একজন ব্রিটিশ সমাজ সংস্কারক, নারী অধিকারের প্রচারক এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সমর্থক।

বেসান্ট ছিলেন একজন ব্রিটিশ সমাজ সংস্কারক, নারী অধিকারের প্রচারক এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সমর্থক।

অ্যানি বেসান্ত,ব্রিটিশ সমাজতান্ত্রিক, ব্রহ্মজ্ঞানী, নারী অধিকার আন্দোলনকারী, লেখক, বাগ্মী, এবং আইরিশ ও ভারতীয় স্বায়ত্ব শাসনের সমর্থক।

 

অ্যানি বেসান্ট, ১৯০৭ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত থিওসফিক্যাল সোসাইটির দ্বিতীয় সভাপতি, ‘ডায়মন্ড সোল’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল, কারণ তার চরিত্রের অনেক উজ্জ্বল দিক ছিল।  তিনি তার সময়ের একজন অসামান্য বক্তা, মানব স্বাধীনতার একজন চ্যাম্পিয়ন, শিক্ষাবিদ, জনহিতৈষী এবং তিন শতাধিক বই এবং পুস্তিকা সহ লেখক ছিলেন। তিনি সারা বিশ্বে হাজার হাজার নারী-পুরুষকে তাদের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে পরিচালিত করেছেন।

 

অ্যানি  বেসান্ট অক্টোবর ১৮৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইংল্যান্ড, জার্মানি এবং ফ্রান্সে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষিত হন।

তার একটি অসুখী শৈশব ছিল, নিঃসন্দেহে আংশিকভাবে তার বাবার মৃত্যু যখন তার বয়স পাঁচ ছিল।  অ্যানির মা তার বন্ধু এলেন ম্যারিয়েটকে, লেখক ফ্রেডরিক ম্যারিয়েটের বোনকে তার মেয়ের দায়িত্ব নিতে রাজি করান এবং এলেন নিশ্চিত করেন যে অ্যানি একটি ভাল শিক্ষা পেয়েছে।
 

তিনি একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান ছিলেন, এবং বিশ বছর বয়সে একজন ইংরেজ পাদ্রী রেভ. ফ্রাঙ্ক বেসান্ট, লিংকনশায়ারের সিবসির ভিকারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যার দ্বারা তার একটি পুত্র, আর্থার ডিগবি এবং একটি কন্যা, ম্যাবেল ছিল। কিন্তু অ্যানির ক্রমবর্ধমান ধর্মবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ১৮৭৩ সালে একটি আইনি বিচ্ছেদের দিকে পরিচালিত করে। যাইহোক, তার চরিত্রের জাগরণ তাকে বেশ কয়েকটি খ্রিস্টান মতবাদকে চ্যালেঞ্জ করে তোলে।  ‘এটি অবিশ্বাসের চ্যালেঞ্জ ছিল না’, যেমনটি জিনরাজাদাসা পরে বলেছিলেন, ‘বরং একটি অত্যন্ত আধ্যাত্মিক প্রকৃতির যে শুধুমাত্র বিশ্বাস করতে নয়, বোঝার জন্যও তীব্রভাবে আকাঙ্ক্ষিত ছিল।’  খ্রিস্টান ঐতিহ্য থেকে যুক্তি তৈরি করতে অক্ষম, তিনি ত্যাগ করেছিলেন।বেসান্ট ন্যাশনাল সেকুলার সোসাইটির সদস্য হন, যেটি ‘মুক্তচিন্তা’ প্রচার করে এবং বিখ্যাত সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ফ্যাবিয়ান সোসাইটির সদস্য হন।   ১৮৭২ সালে চার্চ এবং একজন মুক্তচিন্তক হয়ে ওঠে, এইভাবে সত্যের প্রতি তার আবেগের মাধ্যমে তার সামাজিক অবস্থান নষ্ট করে;  ফলস্বরূপ তাকে তার স্বামী এবং ছোট ছেলেকে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল।  ১৮৭৯ সালে তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে ম্যাট্রিকুলেশন করেন এবং বিজ্ঞানে পড়াশোনা চালিয়ে যান কিন্তু তার সময়ের যৌনতাবাদী কুসংস্কারের কারণে সেখানে বাধার সম্মুখীন হন।  তিনি শ্রম ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশিষ্ট ছিলেন, ফ্যাবিয়ান সোসাইটি এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ফেডারেশনের সদস্য ছিলেন এবং অদক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নের কাজে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন;  হার্বার্ট বারোজের সাথে তিনি পাথব্রেকিং ‘ম্যাচ গার্লস’ ধর্মঘটকে একটি সফল উপসংহারে নেতৃত্ব দেন।

 

১৮৭০-এর দশকে, অ্যানি বেসান্ট এবং চার্লস ব্র্যাডলফ সাপ্তাহিক জাতীয় সংস্কারক সম্পাদনা করেন, যা ট্রেড ইউনিয়ন, জাতীয় শিক্ষা, নারীদের ভোটের অধিকার এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলির উপর সময়ের জন্য উন্নত ধারণার সমর্থন করেছিল।  জন্মনিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত তাদের প্যামফলেটের জন্য দম্পতিকে অশ্লীলতার জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল, কিন্তু পরে খালাস দেওয়া হয়েছিল।
বেসান্ট আরও ভাল কাজের পরিবেশের জন্য বেশ কয়েকটি শ্রমিকের বিক্ষোভকে সমর্থন করেছিলেন।  ১৮৮৮ সালে তিনি পূর্ব লন্ডনের ব্রায়ান্ট এবং মে ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে মহিলা শ্রমিকদের ধর্মঘট সংগঠিত করতে সহায়তা করেছিলেন।  মহিলারা অনাহার মজুরি এবং কারখানার ফসফরাস ধোঁয়া তাদের স্বাস্থ্যের উপর ভয়াবহ প্রভাবের অভিযোগ করেছেন।  ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত তাদের বসদের তাদের কাজের অবস্থার উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতির দিকে পরিচালিত করে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার তার যৌবনের ধর্মকে প্রতিস্থাপন করার জন্য কিছু সর্বগ্রাসী সত্যের জন্য বেসান্তের ক্ষুধা মেটায়নি বলে মনে হয়।  তিনি থিওসফিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, একটি ধর্মীয় আন্দোলন যা ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং কর্ম ও পুনর্জন্মের হিন্দু ধারণাগুলির উপর ভিত্তি করে।  থিওসফিক্যাল সোসাইটির সদস্য এবং পরে নেতা হিসেবে, বেসান্ট সারা বিশ্বে থিওসফিক্যাল বিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন, বিশেষ করে ভারতে।

 

অ্যানি বেসান্ট ১৮৮৯ সালের ২১ মে থিওসফিক্যাল সোসাইটিতে যোগদান করেন এবং রাষ্ট্রপতি-প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল এইচএস ওলকটের প্রতি আনুগত্য এবং থিওসফির কারণের প্রতি আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এইচপিবি-এর একজন নিবেদিত ছাত্র এবং সাহায্যকারী হয়ে ওঠেন।  তিনি বক্তা এবং লেখক উভয় হিসাবে থিওসফির সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যাখ্যাকারী হয়ে ওঠেন।  ১৮৯৩ সালে তিনি শিকাগোতে ওয়ার্ল্ড পার্লামেন্ট অফ রিলিজিয়নে থিওসফিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিত্ব করেন।
বেসান্ট ১৮৯৩ সালে প্রথম ভারত সফর করেন এবং পরে সেখানেই বসতি স্থাপন করেন, ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে জড়িত হন।  ১৯১৬ সালে তিনি ইন্ডিয়ান হোম রুল লীগ প্রতিষ্ঠা করেন, যার তিনি সভাপতি হন।  তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন নেতৃস্থানীয় সদস্যও ছিলেন।
১৯২০ এর দশকের শেষের দিকে, বেসান্ট তার অভিভাবক এবং দত্তক পুত্র জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তিকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন, যাকে তিনি নতুন মশীহ এবং বুদ্ধের অবতার বলে দাবি করেছিলেন।  কৃষ্ণমূর্তি ১৯২৯ সালে এই দাবিগুলি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
বেসান্ট ১৯৩৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভারতে মারা যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া দিবসের গুরুত্ব ও তার সমাজিক প্রভাব।

ভূমিকা—

 

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস ডে (IDUS) প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর পালিত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস ফেডারেশন (FISU) দ্বারা প্রস্তাবিত, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO) দ্বারা অনুমোদিত। IDUS একটি বহুবিষয়ক শিক্ষামূলক প্রকল্পের কাঠামোর মধ্যে পড়ে যা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, সংখ্যালঘুদের একীকরণ এবং অ্যান্টি-ডোপিং, অসংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার লক্ষ্যে শারীরিক ও ক্রীড়া শিক্ষা কার্যক্রম, ক্রীড়া সুবিধা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।  শারীরিক শিক্ষা এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণার চলমান বিকাশ, জ্ঞান অর্জন এবং স্থানান্তর এবং সর্বোপরি, স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতি বিবেচনায় নিয়ে।

 

কার্যকলাপ—

 

দিবসটির মূল লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে খেলাধুলার গুরুত্ব এবং নাগরিকদের সেবায় মানসম্পন্ন শারীরিক ও ক্রীড়া শিক্ষাকে একীভূত ও বিকাশের জন্য দায়িত্বশীল অভিনেতা হিসাবে সম্প্রদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা নিশ্চিত করা।  প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব এবং অংশীদারদের নেটওয়ার্কের জন্য ধন্যবাদ, FISU একাডেমিক বিশ্বকে একত্রিত করবে।  ইভেন্টগুলি অবসরকালীন ক্রীড়া কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা, আলোচনা কর্মশালা এবং সব বয়সের নাগরিকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা—

 

আজকের এবং আগামীকালের নাগরিকদের শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণরূপে একত্রিত, মানবিক, সামাজিক এবং নাগরিক মূল্যবোধের ভেক্টর হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার ক্রীড়া জগতে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।
খেলাধুলাকে শিক্ষক এবং ছাত্রদের মধ্যে কথোপকথনের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে, ইউনেস্কো এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস ফেডারেশন দ্বারা পালিত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া দিবসের লক্ষ্য হল তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এবং তাদের মাধ্যমে, সমগ্র সমাজে এই মূল্যবোধগুলিকে উন্নীত করা।
কথোপকথন, আত্মসম্মান এবং অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা, ন্যায্য খেলা এবং শ্রেষ্ঠত্বের অন্বেষণ এই সমস্তই ছাত্র প্রশিক্ষণের প্রণয়ন নীতি।  শিক্ষা এবং খেলাধুলা আমাদের সমাজের মূলে থাকা দরকার এবং এই দিবসটি খেলাধুলাকে সবার জন্য উপলব্ধ করে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সামাজিক ভূমিকা এবং তাদের পাঠ্যক্রম তুলে ধরার জন্য একটি ফোরাম প্রদান করে।

 

ইতিহাস—-

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস ফেডারেশন ( FISU ) দ্বারা ইউনেস্কোর কাছে প্রস্তাবিত, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৫ সালে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলন দ্বারা ঘোষণা করা হয়েছিল। এটি প্রথম ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ এটি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের শুরুর সাথেই নয়, ১৯২৪ সালে প্রথম বিশ্ব ছাত্র চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর সাথেও মিলে যায়।

 

দিবসটির লক্ষ্য —

দিবসটির লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের সেবায় ক্রীড়া শিক্ষাকে একীভূত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সামাজিক ভূমিকা তুলে ধরা । বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলার আন্তর্জাতিক দিবস খেলাধুলাকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে , খেলাধুলার মূল্যবোধকে প্রচার করে।

 

গুরুত্ব—

 

মানসম্পন্ন শারীরিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে।  এগুলি আত্ম-বিকাশের জন্য, বিশ্ব সম্পর্কে এবং নাগরিকত্ব সম্পর্কে শেখার জায়গা, তবে তাদের অবশ্যই কাউকে পিছিয়ে রাখতে হবে না – কারণ প্রত্যেকের, তাদের অবস্থা বা স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্বিশেষে, এক বা একাধিক খেলাধুলা অনুশীলন করার অধিকার থাকা উচিত,  একটি বিনোদনমূলক বা প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে।

 

উপসংহার—

 

তাই FISU-এর সহযোগী অংশীদার হিসাবে, EUSA আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া দিবসের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এবং  ছাত্র ক্রীড়াবিদ, EUSA সদস্য এবং অংশীদার, বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রদূত, ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের – বছরের পর বছর ধরে এই উদ্যোগে অংশ নিয়ে চলেছে  , এবং প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর উদযাপন চালিয়ে যেতে যতটা সম্ভব অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করে চলেছে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও উদ্বেগ,দুশ্চিন্তা : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।

 

 

পরম পবিত্র ভারতভূমিতে জন্মলাভ করে সুদুর্লভ এই মনুষ্য জীবন লাভ। তাই, আসুন আমার, আপনার, সবার জীবনে কিভাবে পরিণত বয়সে উদ্বেগমুক্ত, দুশ্চিন্তা মুক্ত পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, যাপন করবেন বর্তমান ভারতবর্ষতে তার কিছু উপায় জানার চেষ্টা করি।এখন আমাদের পারিবারিক,সামাজিক বন্ধন গুলো খুব শিথিল,ছোট পরিবার,  সুখী পরিবার, যৌথ পরিবার আমাদের শেষ, পারিবারিক বন্ধন ও শেষ। এখন আমাদের বর্তমানে সামাজিক ব্যবস্থায় আপনার
সন্তানদের মোবাইল, বাবা, মা, স্যার, মিস   প্রেমিক প্রেমিকা (Dady, Mammi,Sir,Mam, Mobile,Girl friend, Boy friend)ছাড়া আর কোন কিছু সামাজিক, পারিবারিক সম্পর্ক  আর থাকবে  না। বিশেষ করে আমাদের বাঙ্গালী হিন্দু পরিবারে।

আপনার নিজস্ব স্থায়ী বাসস্থানে বাস করুন যাতে আপনি স্বাধীন ভাবে জীবনযাপন  করতে পারেন, যদি আপনার এটি  কুঁড়েঘর ও হয়, যদি কুঁড়েঘর তাও নাও থাকে, তাও, কাঁদবেন না, দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স এবং বৈষয়িক সম্পদ আপনার নিজের কাছে রাখুন, গভীর প্রেমে পড়ে কারও  নামে রাখার কথা ভাববেন না, যদি কিছু না থাকে তবে আরও ভাল, ঝামেলা শেষ।

আপনার সন্তানদের প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করবেন না, যে তারা আপনাকে সেবা করবে, কারণ সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের অগ্রাধিকার পরিবর্তন হয়। এছাড়াও মনের পরিবর্তন হয় এবং কখনও কখনও তারা  চাইলেও পরিস্থিতির জন্য কিছু করতে পারে না!
আপনার বন্ধুদের গ্রুপে যারা আপনার মত তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন,  যারা আপনার জীবনকে সুখী দেখতে চান, অর্থাৎ সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে চান যারা, তাদের। কারো সাথে নিজেকে তুলনা করবেন না এবং কারো কাছে কোন কিছু প্রত্যাশা রাখবেন না! কারণ এই জিনিস গুলি আপনাকে  জীবনে দুশ্চিন্তা, কষ্ট ছাড়া কিছুই দেবে না।

আপনার সন্তানদের জীবনে হস্তক্ষেপ করবেন না, তাদের জীবন তাদের নিজের মতো করে বাঁচতে দিন। এবং আপনি আপনার  জীবনকে আপনার মতো করে বাঁচতে দিন, কারণ, সবকিছুই স্বার্থপরতার জগত এখন।কারণ, যৌথ পরিবার আর নেই, সব দাম্পত্য পরিবার, ছোট পরিবার এই নেট দুনিয়াতে। কারণ, আর দশ বছর পর কাকা, পিসি, মাসি,দিদি,দাদা,এই সম্পর্ক গুলি ছোট  পরিবারে আর থাকবে  না। বাবা, মা, এক সন্তান আমাদের সব হিন্দু পরিবারে, এই নেট দুনিয়াতে।কারণ, মাসিবাড়ি, মামাবাড়ি,পিসিবাড়ি গরমের ছুটিতে আর থাকবে না আমাদের। যৌথ পরিবার শেষ আমাদের ভারতবর্ষ বাঙ্গালী হিন্দু পরিবারে।

আপনি আপনার মর্যাদার ভিত্তিতে কাউকে সেবা করতে পারেন। কখনই কিছু করার বা সম্মান পাওয়ার আশায় সেবার চেষ্টা করবেন না, এটি স্বার্থপরতা এবং বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যাবে আপনাকে। মানুষের সবার কথা শুনুন কিন্তু আপনার স্বাধীন চিন্তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন! যাতে আপনার মনে হয়, আমি কিছু করতে না পারলেও এই কাজটি খুব ভালোভাবে করেছি।

জীবনে কখনই দুঃখিত হবেন না যে আমি এটি পারিনি।  জীবনে এমন কিছু করুন বা না করুন কখনই গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন না যে আমি অনেক কিছু করেছি বা করিনি। আপনার জীবন আনন্দের সাথে কাটানোর চেষ্টা করুন, নিজেও খুশি থাকুন এবং অন্যকেও খুশি রাখুন।

আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিন, ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াও, আপনার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী ভাল পুষ্টিকর খাবার খান এবং যতটা সম্ভব আপনার নিজের হাত দিয়ে আপনার নিজের কাজ করুন। ছোটখাটো সমস্যায় পাত্তা দেবেন না, ছোট ছোট শারীরিক সমস্যা বয়সের সাথে সাথে চলতেই থাকে, যেভাবেই হোক একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর উপর যেতেই হবে, তাই ভয়ের কি আছে।

প্রতি বছর একবার বা তার বেশি একটি ছোট ভ্রমণ  করুন যদি আপনি এটি করতে না পারেন, তাহলে পরিচিত এবং কাছের লোকেদের জায়গা পরিদর্শন করুন। কারণ, ভ্রমণ  জীবনে সতেজতার আনন্দএর অনুভূতি নিয়ে আসে।

তাই, সময় থাকতে আপনার সন্তানদের পারিবারিক, সামাজিক শিক্ষা-সংস্কার দিন। এবং ভারতীয় সংস্কৃতি,
ভারতীয়  সভ্যতায় আপনার সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলুন। প্রথমে আপনার সন্তানদের প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়এ না নামিয়ে ভাল মানুষ তৈরি করুন। তারপর, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী,অধ্যাপক সবকিছু আপনার সন্তান হতে পারবে। আপনাকেও বৃদ্ধাশ্রমএ থাকতে হবে না।বৈদেশিক অর্থ ইনকামের স্বপ্ন দেখাবেন না, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, সেবামূলক মনোভাব এর প্রতি সন্তানদের আকৃষ্ট করে তুলুন।

কারণ, আমার, আপনার জীবনে সফলতা ঈশ্বরের দান, পাশে থাকা মানুষগুলোর দান, আপনার বংশধারার দান, পরিস্থিতির দান । এতে  আপনার কৃতিত্ব খুব সামান্যই,  জীবনে আপনি সফল হলেই আপনার জীবন-যন্ত্রণার কাহিনী পৃথিবী  জানবে, মূল্য পাবে… নচেৎ আপনি পরিহাসের পাত্র হবেন, অন্যের আক্রমণের স্থল হবেন।  আপনার অসফলতার কারণ হিসেবে কোনোরকম শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক বা সামাজিক অজুহাত খাড়া করে কোন লাভ নেই, সময় এসব অনুমোদন করে না। আপনাকে  সবটুকু কষ্ট হাসিমুখে বয়ে,এগিয়ে যেতে হবে। তাই অহেতুক অহংকার বর্জনীয়।

প্রার্থনা করুন কিন্তু ভিক্ষা করবেন না, এমনকি ঈশ্বরের কাছেও ভিক্ষা নয়, যদি আপনি ঈশ্বরের কাছে কিছু চান তবে কেবল ক্ষমা এবং সাহস প্রার্থনা করুন। আমি বিশ্বাস করি আপনি যদি নিঃস্বার্থভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন তবে আপনি শীঘ্রই ঈশ্বরের সাথে সংযুক্ত হয়ে যাবেন।

সুমহান ভারত সেবাশ্রম সংঘ এর প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দ  মহারাজ ও বলছেন:-* “যখনই চিত্ত বিশেষ উদ্বেগপূর্ণ হয় তখনই গুরুপ্রদত্ত মন্ত্র জপ করিতে হয়। এইরূপ করিলে উদ্বেগ কমিয়া চিত্তের প্রফুল্লতা ও মনের প্রশান্ততা আসিবে এবং অশান্ত মন শান্ত হইবে।”*
শ্রী শ্রী জগৎ গুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের  শুভ ও মঙ্গলময় আশির্বাদ আপনাদের সকলের শিরে বর্ষিত হোক… এই প্রার্থনা করি…!
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ

Share This
Categories
গল্প নারী কথা প্রবন্ধ

জানুন , সেবা করার সময় মন অন্য দিকে যাওয়ায় ভক্ত কি শাস্তি দিলেন নিজেকে : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

একদিন অভিরাম ঠাকুর পথ দিয়ে যাচ্ছেন। সেসময় কৃষ্ণদাস নামক এক ভক্ত এসে তাঁর চরণে পড়লেন। ইতিপূর্বে লোকমুখে অভিরামের গুণের কথা অনেক শুনেছেন কৃষ্ণদাস। অন্তরে বড় সাধ অভিরামের চরণেই আত্মনিবেদন করবেন, দীক্ষা নেবেন তাঁর থেকে। আর আজ যখন জানলেন , পথ দিয়ে সুদীর্ঘঅভিরাম ঠাকুর হেঁটে যাচ্ছেন, তখন আর এক মূহুর্তও বিলম্ব করতে রাজী নন কৃষ্ণদাস। পথের মধ্যেই তাই অভিরামের পদে পড়ে নিজের বাসনার কথা ব্যক্ত করলেন। অভিরামও প্রসন্ন হলেন আগুন্তুকের আগ্রহ দেখে।

নির্দিষ্ট দিনে কৃষ্ণদাসকে দীক্ষা দিলেন অভিরাম। কৃষ্ণদাসকে সকলে ‘বাঙ্গাল কৃষ্ণদাস’ বলে সম্বোধন করত। কারণ, তিনি বাঙ্গাল দেশবাসী   অর্থাৎ বঙ্গদেশবাসী  ছিলেন। কিন্তু, অভিরাম তাঁকে আদেশ দিলেন শ্বোঙালুতে গিয়ে গোপীনাথ বিগ্রহ স্থাপন করে সেবাকার্য শুরু করতে। হাওড়া-তারকেশ্বর রেলপথে তারকেশ্বর নেমে বাসে চৌতারা হয়ে শ্বোঙালু যাওয়া যায়।

শ্রীগুরুদেবের আজ্ঞা পেয়ে প্রফুল্লিত হলেন শিষ্য। তিনি বললেন, “বাবা, আপনিই কৃপা করে শ্বোঙালুতে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে দিন । সেই বিগ্রহ তখন আমি সেবা করবো।” শিষ্যের বিনয়বচনে অভিরাম প্রীত হলেন। রাজী হয়ে তিনি কৃষ্ণদাসকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেন। গ্রামবাসীরা সকল প্রয়োজন মেটালেন। মহামহোৎসবের মধ্য দিয়ে গোপীনাথ বিগ্রহ স্থাপন করে দিলেন ঠাকুর অভিরাম।

বৈষ্ণবের বেশভূষা ধারণ করে, দ্বাদশ অঙ্গে তিলকসেবা করে অপূর্ব দর্শন হয়ে কৃষ্ণদাস অনুরাগসহ নিষ্ঠাভরে গোপীনাথের সেবা করেন। সেবা ভিন্ন তিনি অপর কিছু জানেন না, জানতেও চান না। সদা সাত্ত্বিক মনোভাব তাঁর।

একদিন গোপীনাথের আরতি করছেন, এমন সময়ে এক নারী এসে আরতি দর্শন করতে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন। সে নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়লো কৃষ্ণদাসের। তিনি মনে মনে ভাবলেন, ‘এ কেমন বিচার আমার মনের। সেবা ছেড়ে আমার চোখ অন্যদিকে পড়লো ! রতির চাঞ্চল্য হল ! তবে তো আমার দেহ শুদ্ধ নয়, তাই জন্যেই রতিও শুদ্ধ নয়। একারণেই সেবা থেকে মন সরে নারীর প্রতি গেছে। সেবার থেকেও বড় করে মন কিছু চায় নিশ্চয়। বেশ এ চোখের ক্ষিদে আমি মেটাবো। দুষ্ট গোরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভাল। তাই , ওই চোখের ব্যবস্থা আমি করছি !

আরতি শেষে নারী চলে গেলেন। কৃষ্ণদাসও তাঁর পিছু পিছু গেলেন। নারী যে গৃহে প্রবেশ করলেন, কৃষ্ণদাসও সে গৃহে ঢুকলেন। অন্যান্য যাঁরা ছিলেন সেই গৃহে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দ পেলেন কৃষ্ণদাসকে দেখে। মহাসমাদর করে আসন পেতে বসতে দিলেন। কৃষ্ণদাস বললেন,  সেই নারীর সঙ্গে তাঁর কিছু প্রয়োজন আছে। তিনি নির্জনে তাই কথা বলতে চান। নির্জন গৃহে সেই নারীকে কৃষ্ণদাস বললেন, নগ্ন হয়ে দাঁড়াতে। নারী ভীতা হলেন। কৃষ্ণদাস বললেন, “ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আমি কেবল দূর থেকে তোমায় দেখব। তোমার কোন ক্ষতি হবে না নিশ্চিন্তে থাকো।” পূজারী কৃষ্ণদাসের আশ্বস্ত বাক্যে নারী মনে বল পেলেন এবং বিবস্ত্র হয়ে দাঁড়ালেন। নারীকে নিরীক্ষণ করলেন কৃষ্ণদাস দূর থেকে। তারপর গৃহে ফিরে গেলেন আর করলেন এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড।

গৃহে ফিরেই লৌহ শলাকা গেঁথে দিয়ে নিজের চোখ দুটি নষ্ট করে ফেললেন কৃষ্ণদাস। অন্ধ হয়ে গেলেন স্বেচ্ছায় বরাবরের মত। যে চোখ এমন দুষ্টতা করে তিনি তাকে চিরকালের মত শেষ করে দিলেন, যাতে আর কোনদিনও অনাচার না করতে পারে। গোপীনাথের সেবা ছেড়ে যে চোখ অন্য কিছু চায় তাকে এমনই শাস্তি দেওয়া উচিৎ ইচ্ছাপূরণ করানোর পর।
এদিকে ভক্ত দুঃখে সদা দুঃখী হন যিনি, সেই ভক্তবৎসল প্রভু গোপীনাথ তো আর স্থির থাকতে পারলেন না নিজ ভক্তের অমন করুণ অবস্থা দেখে। তিনি বাঙ্ময় হলেন। বললেন, “ওহে কৃষ্ণদাস, এ তুমি কী অঘটন ঘটালে আজ! কেন তুমি অন্ধ হতে গেলে? এমন দুর্দশাকে কেন আপন করলে? এখন এই অন্ধ অবস্থায় আমার পরিচর্যা কেমন ভাবে করবে! তোমার দেখাশোনা, তোমার সেবা করার জন্যই তো এখন লোকের দরকার হবে ! কী ছেলেমানুষি কাণ্ড করলে !”

স্বয়ং গোপীনাথ কথা বলেছেন ! গোপীনাথ তাঁর দুর্দশায় দুঃখী হয়েছেন—- এ কথা ভেবেই মহানন্দের প্রাবল্যে কৃষ্ণদাস মূর্ছিত হয়ে গেলেন। ওদিকে, অভিরাম জানতে পারলেন অনুভব করতে পারলেন নিজ শিষ্যের অঘটনের কথা। তিনি চলে এলেন শ্বোঙালুতে। তিনি কোলে তুলে নিলেন কৃষ্ণদাসের মাথা। গভীর স্নেহে বললেন, “কৃষ্ণদাস এমন কাণ্ড কেন ঘটালে?  নিজের হাতে নিজের নয়ন নষ্ট করে ফেললে !”

তখন কৃষ্ণদাস বললেন সব ঘটনা। কি ভাবে গোপীনাথের সেবা দেবেন এই চিন্তায় তখন সে দিশাহারা। অভিরাম বললেন, “চিন্তা করো না, আমি বলে রাখলাম সেবার সময় তুমি গোপীনাথকে দর্শন করতে পারবে। তোমার হাতে গোপীনাথের শৃঙ্গার তিলক সজ্জা সব সুচারু রূপেই হবে। তুমি তাঁর নবঘন শ্যাম বদন দেখতে পাবে মানসে। তুমি এমন সুনিপুণ হবে সেবায় যে, সকলে তোমার যশগান গাইবে। পিতা যেমন পুত্রের দোষ দেখে না, গোপীনাথও তেমন তোমার  কোন ত্রুটি নেবেন না, নিশ্চিন্তে থাকো।”

সত্যই গোপীনাথ প্রকট হতেন কৃষ্ণদাসের সামনে। আর অন্ধ হয়েও কৃষ্ণদাস সুচারু সেবা দিতেন। এরপর একদিন, নিজের অন্ধ ভক্তের কষ্ট দেখে অভিরাম তাঁকে বললেন, “শোনো কৃষ্ণদাস, তোমাকে আর বৈধীভক্তি পালন করতে হবে না। তুমি এবার থেকে পঞ্চভাব যুক্ত হয়ে রাগানুগা পথে প্রেমসেবা দেবে। এই আমার আদেশ। মানসে সেবা করবে, সাক্ষাৎ-এ নয়। বুঝেছো তো ! কৃষ্ণদাস নতমস্তকে আজ্ঞা মেনে নিলেন।

বিনম্র প্রণতি জানাই এমন সেবানিষ্ঠ, সেবাপ্রাণ ভক্ত বাঙ্গাল কৃষ্ণদাস কে।
————-ভক্তকৃপা ভিখারিণী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক
____________

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৩ -অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত কল্লোল যুগের বিশিষ্ট বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক।

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৯শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৩ – ২৯শে জানুয়ারি, ১৯৭৬) বিশিষ্ট বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে সাহিত্যজগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী কল্লোল যুগের লেখকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

 

১৮৯৪ – হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার, ভারতীয় বাঙালি চিত্রশিল্পী। 

হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার একজন ভারতীয় বাঙালি চিত্রশিল্পী। তিনি হেমেন মজুমদার বা এইচ. মজুমদার নামেও পরিচিত ছিলেন। হেমেন্দ্রনাথ বর্তমান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । হেমেন্দ্রনাথের আদি নিবাস বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহের গচিহাটা । ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় গভর্নমেন্ট স্কুল অফ আর্টে ভর্তি হন ।

 

১৯১১ – উইলিয়াম গোল্ডিং, নোবেলজয়ী ইংরেজ কথাসাহিত্যিক।

স্যার উইলিয়াম জেরাল্ড গোল্ডিং (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯১১ – ১৯ জুন ১৯৯৩) একজন ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং কবি ছিলেন।  তাঁর প্রথম উপন্যাস লর্ড অফ দ্য ফ্লাইস (১৯৫৪) এর জন্য সর্বাধিক পরিচিত, তিনি তাঁর জীবদ্দশায় আরও বারোটি কল্পকাহিনী প্রকাশ করেছিলেন।  ১৯৮০ সালে, তিনি রইটস অফ প্যাসেজের জন্য বুকার পুরস্কারে ভূষিত হন, যা তার সমুদ্রের ট্রিলজিতে প্রথম উপন্যাস, To the Ends of the Earth।  তিনি ১৯৮৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

 

১৯১৯ – জহর রায়, ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা কৌতুক অভিনেতা।

জহর রায় একজন ভারতীয় অভিনেতা। তবে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের কৌতুক-অভিনেতা হিসাবে বেশি পরিচিত। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় সাথে তার কৌতুক অভিনয় বাংলা ছবিতে ভানু-জহর কমেডি যুগের সূচনা করেছিলো। রায় বরিশালের মহিলারায় একটি বাঙালি বৈদ্য পরিবার জন্মগ্রহণ করেছেন। রায় অভিনেতা হলে অনেক ফ্যান ফলো করেছিলো তাকে।

 

১৯২১ – (ক)  পাওলো ফ্রেইরি, ব্রাজিলের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক।

পাওলো রেগ্লাস নেভেস ফ্রেয়ার (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২১ – ২ মে ১৯৯৭) ছিলেন একজন ব্রাজিলীয় শিক্ষাবিদ এবং দার্শনিক যিনি সমালোচনামূলক শিক্ষাবিদ্যার প্রধান উকিল ছিলেন।  তার প্রভাবশালী কাজ পেডাগজি অফ দ্য অপ্রসেসডকে সাধারণত সমালোচনামূলক শিক্ষা বিজ্ঞান আন্দোলনের একটি মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং Google স্কলারের মতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এটি সামাজিক বিজ্ঞানের তৃতীয় সর্বাধিক উদ্ধৃত বই ছিল।

 

(খ) বিমল কর, ভারতীয় বাঙালি লেখক ও ঔপন্যাসিক।

বিমল কর (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২১ – ২৬ আগস্ট ২০০৩) একজন ভারতীয় লেখক এবং ঔপন্যাসিক যিনি বাংলায় লিখেছেন।  তিনি তাঁর অসমায় উপন্যাসের জন্য ভারতের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লেটারস, সাহিত্য একাডেমি দ্বারা উপস্থাপিত ১৯৭৫ সালের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান।

 

১৯২৪ – সুচিত্রা মিত্র, রবীন্দ্র সঙ্গীতের অগ্রগণ্য গায়িকা ও বিশেষজ্ঞ, প্রথিতযশা ও স্বনামধন্য ভারতীয় বাঙালি কণ্ঠশিল্পী।

সুচিত্রা মিত্র (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৪ – ৩ জানুয়ারী ২০১১) ছিলেন একজন ভারতীয় গায়ক, সুরকার, রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিল্পী বা বাংলার কবি বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অধ্যাপক, এবং কলকাতার প্রথম মহিলা শেরিফের গানের ব্যাখ্যাকারী।  একাডেমিক হিসেবে, তিনি বহু বছর ধরে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রধান ছিলেন।  মিত্র বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক গায়ক ছিলেন (এবং কিছুতেও অভিনয় করেছিলেন)  এবং বহু বছর ধরে ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

 

১৯২৬ – মাসাতোশি কোশিবা, নোবেলজয়ী জাপানি পদার্থবিজ্ঞানী।

মাসাতোশি কোশিবা (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ – ১২ নভেম্বর ২০২০) একজন জাপানি পদার্থবিদ এবং নিউট্রিনো জ্যোতির্বিদ্যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।  নিউট্রিনো ডিটেক্টর কামিওকান্দে এবং সুপার-কামিওকান্দের সাথে তার কাজ সৌর নিউট্রিনো সনাক্তকরণে সহায়ক ছিল, সৌর নিউট্রিনো সমস্যার জন্য পরীক্ষামূলক প্রমাণ প্রদান করে।

 

 

১৯৩৪ – সুধীর চক্রবর্তী, বাঙালি অধ্যাপক, লেখক,সঙ্গীত-গবেষক এবং লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ।

সুধীর চক্রবর্তী (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ — ১৫ ডিসেম্বর ২০২০) একজন বাঙালি অধ্যাপক, লেখক, গবেষক এবং লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ। বাংলার লোকগান, লোকভাষকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বদুয়ারে।ঔপনিবেশিক গদ্যের ধাঁচাকে সুধীরবাবু সম্পূর্ণ রকম তার নতুন আখ্যান রচনার ধারা দিযে পাল্টে দিয়েছিলেন। প্রবন্ধ মানেই যে একটা গুরু গম্ভীর ভাব দেওয়া বিষয় এই ভাবনাটি সুধীরবাবু নিজের লাবণ্যময় আর রসাল গদ্য ভাষা দিয়ে পাল্টে দিয়েছিলেন।

 

১৯৫৫ – মোহাম্মদ সাদিক, বাংলাদেশী কবি এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ১৩ম চেয়ারম্যান।

মোহাম্মদ সাদিক (জন্ম ১৯শে সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫) হলেন একজন বাংলাদেশী কবি এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ১৩ তম চেয়ারম্যান। কবিতায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রদত্ত বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

 

১৯৭১ – সালমান শাহ, বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রনায়ক।

শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন (বাংলা: শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন; ১৯ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১ – ৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৬), যিনি তার মঞ্চ নাম সালমান শাহ নামে পরিচিত, ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা।  সাধারণত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক অভিনেতাদের একজন হিসেবে বিবেচিত, শাহ তিন বছরের একটি ছোট অভিনয় ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।  তার প্রথম ফিচার ফিল্ম কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩) তাকে স্টারডমের দিকে নিয়ে যায়।  পরের দুই বছরে শাহ ব্যবসায়িকভাবে সফল চলচ্চিত্রের একটি সিরিজে প্রধান ভূমিকায় দেখা যায়, যার মধ্যে রয়েছে বিক্কোভ, দেনমোহর, সুজন শখী, শপনার থিকানা, এই ঘোর এ শংসার, সটার মৃত্যু নেই এবং আনন্দো অসরু।

 

১৭৫৯ – উইলিয়াম কিরবি, ইংরেজ পতঙ্গবিদ।

উইলিয়াম কিরবি (১৯ সেপ্টেম্বর ১৭৫৯ – ৪জুলাই ১৮৫০) ছিলেন একজন ইংরেজ কীটতত্ত্ববিদ, লিনিয়ান সোসাইটির একজন মূল সদস্য এবং রয়্যাল সোসাইটির একজন ফেলো, সেইসাথে একজন কান্ট্রি রেক্টর, যাতে তিনি “পার্সন-এর একটি বিশিষ্ট উদাহরণ ছিলেন  প্রকৃতিবাদী”।  উইলিয়াম স্পেন্সের সাথে সহ-রচিত চার-খণ্ডের ইন্টোমোলজির ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রভাবশালী ছিল।

 

১৫৬৩ – পোলান্ডের রাজা তৃতীয় হেনরি।

হেনরি III , যাকে হেনরি অফ ভ্যালোইসও বলা হয় , বা (১৫৭৪ সাল পর্যন্ত) ডুক ডি’আঞ্জু , (জন্ম ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৫৫১, ফন্টেইনব্লু , ফ্রান্স—মৃত্যু ২ আগস্ট, ১৫৮৯ , সেন্ট-ক্লাউড), ১৫৭৪ সাল থেকে ফ্রান্সের রাজা । যার রাজত্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটধর্মের যুদ্ধগুলি রাজবংশীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলির দ্বারা আরও খারাপ করা হয়েছিল কারণ ভ্যালোইস রাজবংশের পুরুষ লাইন তার সাথে মারা যাচ্ছিল।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৬ – বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী সামুদ্রিক ঝড়ে বাংলাদেশের শত শত জেলে প্রাণ হারায়।

১৯০৭ – প্রথম তাপ ও জ্বালানী উৎপাদনকারী উপাদান আবিস্কৃত হয়।

১৯১৫ – জার্মানরা ভিলনা অধিকার করে।

১৯৬০ – পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পানিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৬২ – ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু।

১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বুর্কিনা ফাসো।

১৯৮১ – বাংলাদেশে আটটি ব্যাংকে কর্মচারী ইউনিয়ন বাতিল করা হয়।

১৯৮৩ – সোভিয়েত আকাশসীমা লঙ্ঘনের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার বোয়িং ৭৪৭ বিমানে গুলি করা হলে ২৬৯ জন যাত্রীসহ তা জাপান সাগরে ভেঙে পড়ে।

১৯৮৫ – মেক্সিকোয় ভূমিকম্পে ২০ হাজার লোক নিহত।

১৯৯১ – যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েতের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৯২ – যুগোশ্লাভিয়া জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কৃত।

১৯৯৪ – যুক্তরাষ্ট্রের ২০ হাজার সৈন্য দক্ষিণ ক্যারিবিয় সাগর তীরবর্তী ক্ষুদ্র দেশ হাইতিতে হামলা চালিয়ে দেশটি দখল করে নেয়।

১৮৪৯ – ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াকলানে প্রথম বাণিজ্যিক লন্ড্রি চালু হয়।

১৮৬৫ – প্রতিষ্ঠিত হয় আটলান্টা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৭০ – জার্মানী প্যারিস অবরোধ করে।

১৮৯৩ – নিউজিল্যান্ড প্রথমবারের মতো নারীদের ভোটাধিকার দেয়।

১৭৫৫ – ইংল্যান্ড ও রাশিয়া সামরিক চুক্তি করে।

 

১৭৯৬ – জর্জ ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদায়ী ভাষণ দেন।

জর্জ ওয়াশিংটন (ফেব্রুয়ারি ২২, ১৭৩২ – ডিসেম্বর ১৪, ১৭৯৯) ছিলেন একজন আমেরিকান সামরিক কর্মকর্তা, রাষ্ট্রনায়ক, এবং প্রতিষ্ঠাতা পিতা যিনি ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৭ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। টিনআল কংগ্রেস-এর সেকেন্ড কমান্ড হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।  ১৭৭৫ সালের জুনে সেনাবাহিনী, ওয়াশিংটন প্যাট্রিয়ট বাহিনীকে আমেরিকান বিপ্লবী যুদ্ধে জয়ের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তারপর ১৭৮৭ সালে সাংবিধানিক কনভেনশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের খসড়া ও অনুমোদন করেছিল এবং আমেরিকান ফেডারেল সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।  এইভাবে ওয়াশিংটনকে “তার দেশের পিতা” বলা হয়।

 

১৫৫৯ – পাঁচটি স্প্যানিশ জাহাজডুবিতে প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যু।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯৩৬ – বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখন্ডে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রথিতযশা পণ্ডিত।

পণ্ডিত বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখন্ডে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন প্রথিতযশা পণ্ডিতজন। ততকালীন বোম্বাই এর কাছে বালকেশ্বর নামক স্থানে ভাতখন্ডেজী জন্মগ্রহণ করেন। অবস্থাপন্ন ঘরের সন্তান ছিলেন তিনি, সুতরাং শিক্ষালাভে তার কোনও অসুবিধা হয়নি। স্কুলে শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সঙ্গীতের দিকে আকৃষ্ট হন।

 

১৯৮৭ – মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন, লোকগীতি সংগ্রাহক ও সম্পাদক।

মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন (৩১ জানুয়ারি ১৯০৪ – ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭) ছিলেন বাংলাদেশী লোকসঙ্গীত, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লোকসাহিত্যবিশারদ। তিনি সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার এবং শিক্ষায় অবদানের জন্য ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

 

১৯৮৯ – সন্তোষকুমারী দেবী, স্বাধীনতা সংগ্রামের কর্মী ও বাংলার প্রথম শ্রমিক নেত্রী।

সন্তোষকুমারী দেবী বা সন্তোষকুমারী গুপ্তা (১৩ জানুয়ারি ১৮৯৭ – ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯) ছিলেন একজন প্রবল জাতীয়তাবাদী এবং মহান স্বরাজ নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অন্যতম সমর্থক হিসাবে এক ব্যতিক্রমী স্বাধীনতা সংগ্রামী। আবার অন্যদিকে অবিভক্ত বাংলার তথা ভারতের প্রথম অসমসাহসী শ্রমিক নেত্রী।

 

১৮৮১ – জেমস গারফিল্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিংশতম রাষ্ট্রপতি।

জেমস আব্রাম গারফিল্ড (নভেম্বর ১৯, ১৮৩১ – সেপ্টেম্বর ১৯, ১৮৮১) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০তম প্রেসিডেন্ট, ১৮৮১ সালের মার্চ থেকে ১৮৮১ সালের সেপ্টেম্বরে তার হত্যার আগ পর্যন্ত।  প্রতিনিধিদের এবং হাউসের একমাত্র বর্তমান সদস্য যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।  রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগে, তিনি ওহিও সাধারণ পরিষদের দ্বারা মার্কিন সেনেটে নির্বাচিত হয়েছিলেন—যে পদটি তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যখন তিনি রাষ্ট্রপতি-নির্বাচিত হন।

 

১৩৩৯ – জাপানের সম্রাট গো-দিয়গো।

সম্রাট গো-দাইগো (২৬ নভেম্বর ১২৮৮ – ১৯ সেপ্টেম্বর ১৩৩৯) উত্তরাধিকারের ঐতিহ্যগত ক্রম অনুসারে জাপানের ৯৬তম সম্রাট ছিলেন।  তিনি ১৩৩৩ সালে সফলভাবে কামাকুরা শোগুনেটকে উৎখাত করেন এবং ইম্পেরিয়াল হাউসকে আবার ক্ষমতায় আনতে স্বল্পস্থায়ী কেনমু পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠা করেন।  ১৮৬৮ সালে মেইজি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সম্রাটের শেষবারের মতো এটিই ছিল। কেনমু পুনরুদ্ধারটি ১৩৩৬ সালে আশিকাগা তাকাউজি দ্বারা উৎখাত হয়েছিল, আশিকাগা শোগুনেটের সূচনা করে এবং সাম্রাজ্য পরিবারকে দুটি বিরোধী বস্তুতে বিভক্ত করে।  সমর্থিত উত্তর আদালত কিয়োটো এ অবস্থিত এবং ইয়োশিনোতে অবস্থিত Go-Daigo এবং তার পরবর্তী উত্তরসূরিদের নেতৃত্বাধীন সাউদার্ন কোর্ট।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে জহর রায় এক কিংবদন্তি শিল্পী।

জহর রায় (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯১৯ – ১ আগস্ট ১৯৭৭) ছিলেন একজন ভারতীয় অভিনেতা এবং বাংলা সিনেমার কৌতুক অভিনেতা।   বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে জহর রায় এক কিংবদন্তি শিল্পী। তিনি মূলত একজন কৌতুক অভিনেতা হিসাবেই বেশী পরিচিত। তাঁর অভিনীত প্রতিটি সিনেমাতে যেভাবে হাস্যরস পরিবেশিত হয়েছে তা এককথায় অসাধারন। তিনি ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে কমেডি চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন।

 

 

১৯শে সেপ্টেম্বর ১৯১৯ অবিভক্ত বাংলার বরিশালে তথা ব্রিটিশ শাসিত ভারত বর্ষে জহর রায় জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা সতু রায়ও রঙ্গমঞ্চ ও চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   পরে জীবিকার সন্ধানে পাটনায় চলে আসেন।  এখানেই জহর রায় তার পড়াশোনা শেষ করেন এবং প্রুফ রিডার, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং অবশেষে একজন দর্জির মতো অদ্ভুত চাকরিতে কাজ শুরু করেন।  তিনি এই সব ছেড়ে 1946 সালের দিকে কলকাতায় আসেন।

 

 

জহর রার ১৯৩৮ সালে নারকেলডাঙ্গা হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি পাটনা থেকে আই এ পাশ করেন এবং সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রুফ রিডিং এর কাজে নি্যুক্ত হন। এই সবকিছুর মধ্যেই তিনি তাঁর অভিনয় চালিয়ে যেতে থাকেন। রয় চরিত্রাভিনেতা হওয়া সত্বেও তার যথেষ্ট ফ্যান ফলোয়িং ছিল।   রায়ের প্রথম প্রধান চলচ্চিত্রের ভূমিকা ছিল অর্ধেন্দু মুখার্জি পরিচালিত পূর্বরাগে এবং বিমল রায় পরিচালিত অঞ্জনগড় (১৯৪৮) ছবিতে। এরপর বিমল রায় পরিচালিত ‘অঞ্জনগড়’ সিনেমায় একটি গুরূত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে জহর রায় রংমহল নাট্যমঞ্চে যোগদান করেন এবং পরবর্তীকালে নাটক নির্দেশনা শুরু করেন।

 

 

জহররায়ের অভিনীত অগনিত সিনেমার মধ্যে ‘ধন্যিমেয়ে’ ‘ছদ্মবেশী’ ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বিশেষভাবে উল্লেখ্য। ‘পরশ পাথর’ সিনেমাটিতে  তিনি  তুলসী চক্রবর্তীর একজন চাকর এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। যদিও চরিত্রটি খুবই ছোটো ছিল তবে তাঁর অভিনয়ের গুনে সেটিও মানুষের মনে যায়গা করে নিয়েছিল।তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।  ‘গুপী গাইন ও বাঘা বাইন’ সিনেমাটিতে কূট মন্ত্রনাদায়ী ষড়যন্ত্রী মন্ত্রীর ভূমিকাতেও অসাধারন অভিনয় করেছেন।গুপি গাইন বাঘা বাইন-এ একটি মায়াবী ভূমিকা ছিল যেখানে তিনি একজন নিরীহ এবং শান্তিপ্রিয় রাজার কুটিল যুদ্ধবাজ মন্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।   ‘ছদ্মবেশী’ সিনেমাটিতে তিনি একটি গানও গেয়েছেন। তার কর্মজীবনের শেষের দিকে, যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন, তিনি ঋত্বিক ঘটকের আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র যুক্তি তক্কো আর গপ্পোতে একটি ক্যামিও করেছিলেন।  তিনি প্রায় ৩৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

জহর রায় বাংলা থিয়েটারে অবদানের জন্যও পরিচিত ছিলেন।  দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন।  তিনি কলকাতার রং মহল থিয়েটারের আজীবন সহযোগী ছিলেন।  আদর্শ হিন্দু হোটেল, উলকা, সুবর্ণগোলক এবং অনর্থ নাটকে তার অভিনয় এখনও মনে আছে।তাঁর অভিনয় জীবনের শেষের দিকে তিনি ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ তে অতিথি শিল্পী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

 

অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রসমূহ—

১৯৪৭ পুর্বরাগ, ১৯৪৮ অঞ্জনগড়, ১৯৫৫ ডাকিনির চর, ১৯৫৭ উল্কা, পরশ পাথর, ১৯৫৮ রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত , বাড়ি থেকে পালিয়ে;  ১৯৬২ অতল জলের আহবান; ১৯৬৩ পলাতক, সূবর্ণরেখা; ১৯৬৫ অভয়া ও শ্রীকান্ত; ১৯৬৬ কাল তুমি আলেয়া; ১৯৬৭ নয়নিকা সংবাদ; ১৯৬৯ গুপী গাইন বাঘা বাইন; ১৯৭০ নীশিপদ্ম, ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট; ১৯৭১ ধন্যি মেয়ে; ১৯৭২ মর্জিনা আবদুল্লা; ১৯৭৪ যুক্তি তক্কো আর গপ্পো, যমালয়ে জীবন্ত মানুষ; ১৯৭৫ ছুটির ফান্দে।

মৃত্যু—জহর রায় ১১ই আগষ্ট ১৯৭৭ সালে পরলোক গমন করেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This