Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান সোনমার্গ।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়।  আসুন ঘুরে আসি ভারতের ই জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান সোনমার্গ  ।

 

সোনমার্গ বা সোনামার্গ যার জন্য দাঁড়ায় সোনার তৃণভূমি জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় অবস্থিত একটি হিল স্টেশন। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিস্ময়কর। এখানে, আপনি প্রকৃতির বিস্ময় অন্বেষণ করতে পাবেন। চমত্কার কনিফার গাছগুলি পুরো পর্বতকে উজ্জ্বল করে তোলে। তুষার যা পাহাড়ের সুন্দর বাদামী রঙকে ঢেকে দেয় তা আশ্চর্যজনকভাবে অন্বেষণ, লালন এবং অভিজ্ঞতার জন্য মনোরম দৃশ্য তৈরি করে।

 

শ্রীনগর থেকে ৮২ কিমি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত কাশ্মীর এর আর এক স্বর্গ সোনমার্গ। এপ্রিল মে মাসে সোনমার্গ তার রূপের ডালি উজাড় করে দেয় পর্যটকদের কাছে। শ্রীনগর থেকে সোনমার্গ যেতে পথে পড়বে গান্দেরবল, কঙ্গন, গুন্দ প্রভৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জনপদ। আর পুরো পথটাই সাথে থাকবে দামাল সিন্ধুনদ। পাইন, ফার, বার্চ আর দূর দুরান্তের পাহাড়শ্রেণীর শোভা দেখতে দেখতে আপনি মোহিত হয়ে পড়বেন। চারপাশে পাহাড় আর সোনালি ঘাসে ঢাকা সোনমার্গ নিয়ে জনশ্রুতি রয়েছে যে এই উপত্যকার কোথাও এক কুপ আছে জার জলে সোনালি রঙ ধরে উপত্যকায়। এই জন্য নাম সোনমার্গ অর্থাত্‍ সোনালী উপত্যকা। সোনমার্গ থেকে পায়ে পায়ে বা ঘোড়ায় চেপে পৌঁছে যাওয়া যায় খাজিয়ার হিমবাহের কোলে। শীতের সময় এখানে বরফ নিয়ে মেতে ওঠে সবাই।

 

সোনমার্গ এর দর্শনীয় স্থানসমূহ–

 

সোনমার্গ অন্যতম কাশ্মীরে দেখার জন্য সেরা জায়গা. সোনমার্গের কাছে আপনি যে পর্যটন স্থানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন তার তালিকা এখানে রয়েছে।

১. থাজিওয়াস হিমবাহ

সোনমার্গ যার অর্থ ‘সোনার তৃণভূমি’ অনায়াসে তার আকর্ষণ বহন করে। তুষারে পূর্ণ হওয়ায়, এই হিমবাহটি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি জম্মু ও কাশ্মীর. শহর থেকে 3 কিমি দূরে অবস্থিত এবং আনুমানিক 9,186 ফুট উচ্চতায় অবস্থিত, এই স্থানটি তার মনোরম কাশ্মীর উপত্যকা সহ তুষার এর কবজ দেখার জন্য বেশ মনোরম।

২. জোজি-লা-পাস

এই সুন্দর পাসটিই কাশ্মীর উপত্যকাকে একত্রিত করে লাদাখ. জোজি-লা পাস সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 3,528 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই জায়গাটি অভিজ্ঞতার জন্য অবিশ্বাস্য এবং আপনার প্রিয়জনদের সাথে লালন-পালন করে।

৩. বিষনসার লেক

সোনমার্গের একটু বাইরে অবস্থিত, এই হ্রদের ফিরোজা নীল জল রূপালী পাহাড়ের সাথে একটি সবুজ তৃণভূমি দ্বারা বেষ্টিত। এই পর্বতগুলি একটি উত্তেজনাপূর্ণ দূরত্বে অবস্থিত। আপনার প্রিয়জনের সাথে কিছু আশ্চর্যজনক স্মৃতি উপভোগ করার ক্ষেত্রে এটি বেশ দুর্দান্ত জায়গা।

৪. হোয়াইট রিভার রাফটিং

এটা কোনো অ্যাডভেঞ্চার রাইডের চেয়ে কম নয়। এই রাইডটি আপনাকে একটি অ্যাড্রেনালিন রাশ দিতে যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক। এবং এই কার্যকলাপ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ কি পছন্দ করে. আপনি একটি দীর্ঘ র‌্যাফটিং অভিযানে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করতে পারেন যা শুরু হয় বালতাল এবং সোনমার্গে অবস্থিত শুটকারি ব্রিজে শেষ হয়।

৫. নীলাগ্রাদ নদী

এটি তার নিরাময় ক্ষমতার জন্য পরিচিত এবং এই কারণেই এটি অত্যন্ত সম্মানিত। প্রতি রবিবার প্রচুর স্থানীয় মানুষ এখানে আসেন শুধু এর পবিত্র জলে স্নান করতে।

৬. কৃষ্ণসার লেক

কৃষ্ণসার হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 3,801 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এখানকার মনোরম দৃশ্য মুগ্ধ করে। ঘন আলপাইন দ্বারা বেষ্টিত, এই জায়গাটি একটি খুব শীতল এবং মনোরম পরিবেশ রয়েছে। লোকেরা মাছ ধরার জন্য এবং দুঃসাহসিক জলের ক্রিয়াকলাপ উপভোগ করার জন্য প্রায়শই এই জায়গায় আসে।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়—

সোনমার্গ ভ্রমনের উপযুক্ত সময় মার্চ – নভেম্বর। এটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় রূপ নেয় এপ্রিল-মে মাসে। তবে যারা স্নোফল দেখতে কাশ্মীর যেতে চান তাদের জন্যে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি উত্তম। কারন এ সময়টায় কাশ্মীরে সব থেকে বেশী স্নোফল পাবার সম্ভাবনা থাকে। এই সময়ে, সার্বিক তাপমাত্রা দর্শনীয় কার্যকলাপের জন্য বেশ মনোরম।

 

সোনমার্গ কিভাবে যাবেন—-

যদি অফবীট জায়গা গুলো আপনার ভ্রমণ লিস্টে না থাকে তাহলে শ্রীনগর থেকে দিনে দিনে সেরে নিতে পারেন সোনমার্গ ভ্রমণ। তবে পথের শোভা উপভোগ করতে হলে এ পথে নিজস্ব গাড়ি ভাড়া করে আসাই ভালো। মারুতি ওমনি ভাড়া পাওয়া যায়। টাটা সুমোও রয়েছ কারগিলগামী শেয়ার সুমোও যাচ্ছে এ পথে।

 

কোথায় থাকবেন—

সোনমার্গে থাকবার সেরা জায়গা জম্মু কাশ্মীর পর্যটনের ট্যুরিস্ট হাটে, এছাড়া হোটেল রয়্যাল, হোটেল স্নো ল্যান্ড, হোটেল পিকস, রয়েছে।

 

সোনমার্গের ইতিহাস—-

 

ঐতিহাসিক লেন্স থেকে দেখলে, আমরা জানতে পারি যে প্রাচীন কাল থেকেই সোনামার্গ ভারতীয় ইতিহাসের বর্ণনায় একটি বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছে, কারণ এটি সিল্ক রোডের প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত ছিল যা কাশ্মীর ভূমিকে সংযুক্ত করেছিল। গিলগিট হয়ে চীন ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ।
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে সোনমার্গ, যা তখন কাশ্মীরের একটি স্থানীয় শহর ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। আজ, এই জায়গাটি অমরনাথ মন্দির এবং লাদাখ অঞ্চলের মতো কাছাকাছি অবস্থিত পর্যটন এলাকার জন্য বেস ক্যাম্প হিসাবে পরিচিত।

।।তথ্য: সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান ইউসমার্গ।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়।  আসুন ঘুরে আসি ভারতের ই জম্মু ও কাশ্মীরের এক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান ইউসমার্গ।

 

 

Yusmarg বা Yousmarg (অর্থাৎ ‘যিশুর তৃণভূমি’) হল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার পশ্চিম অংশের একটি পাহাড়ি স্থান।  এটি রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৫৩ কিমি (৩৩ মাই) দক্ষিণে অবস্থিত।  Yousmarg সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ, তরুণ পাইন নার্সারি, সবুজ চারণভূমি এবং হৃদয় স্পর্শকারী লটিক এবং লেন্টিক জলাশয়ের জন্য স্থান প্রদান করে।  নীলনাগ, দুধগঙ্গা এবং নতুনভাবে তৈরি করা কৃত্রিম বাঁধ তৃণভূমির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।  প্রকৃতি ইউসমার্গকে মনোরম উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত দিয়েছে।  ইউসমার্গকে প্রায়শই ট্রেকারদের স্বর্গ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। ইউসমার্গে কিছু পরিমিত থাকার বিকল্প রয়েছে তবে কিছু নতুন হোমস্টে এলাকার আশেপাশে এসেছে। নিকটতম গ্রাম নাগবালে অবস্থিত ট্রাইব হোমস্টে এবং ক্যাফে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।  জায়গাটি দেহাতি, কাঠের এবং কাশ্মীরি স্থাপত্য ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।  প্রাণীজগতের মধ্যে, স্থানীয়রা দাবি করে যে তারা প্রায়শই নেকড়ে, ভাল্লুক, বনমানুষ, বিড়াল, বিভিন্ন ধরণের অ্যাভস (উড়ার পাশাপাশি উড়ন্ত) দেখে।  জলজ প্রাণীর মধ্যে, স্কিজোথোরাক্সিক প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ে।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে যিশু কাশ্মীরে এসেছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য ইয়াসমার্গে থেকেছিলেন। এটি একটি আল্পাইন উপত্যকা যা তুষার পর্বতমালা এবং পাইন দ্বারা আবৃত।

 

 

চতুর্দিকে পাইনের সারি। তাকালেই দেখা যাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাহাড়। মাঝে মাঝে দেখা যাবে ঘাড় নিচু করে ঘাস খাচ্ছে ঘোড়া। ইট-কাঠ-কংক্রিটের জগৎ থেকে দিনকয়েক অক্সিজেনের খোঁজে পাড়ি জমাতেই পারেন ইয়ুসমার্গে। সবুজের সন্ধানে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে পাইনের জঙ্গলে বেশ কিছুটা সময় কাটাতেই পারেন। ক্লান্তি মেটাতে জঙ্গলের শেষে পাহাড়ের কোলে নীলনাগ লেকে সেরে নিতে পারেন স্নান।

 

 

শোনা যায়, সুলতানি শাসনকালে, কাশ্মীরের সুলতান ইউসুফ শাহের খুব পছন্দের অবসরযাপনের জায়গা ছিল এটি। ফার, পাইনে ঘেরা গোটা উপত্যকাটিই মখমলি সবুজ ঘাসে আবৃত। দুধগঙ্গা নদী (জলের রং দুধসাদা, তাই নদীর নামও হয়েছে দুধগঙ্গা) অপরূপ নৃত্যবিভঙ্গে বয়ে যাচ্ছে উপত্যকার বুক চিরে। ঢেউ খেলানো নয়নাভিরাম সবুজ উপত্যকায় মনের সুখে চরে বেড়াচ্ছে নধরকান্তি ভেড়ার পাল। আর চারপাশের ফার, পাইনের ঠাসবুনোটের মধ্যেও নজর টানল রংবেরঙের সুদৃশ্য কিছু কটেজ। ইচ্ছে করলে অপার শান্তির বাতাবরণে অবস্থিত এই সুন্দর উপত্যকায় কয়েকটি দিন কাটাতেও পারেন পর্যটকেরা। হাতে যথেষ্ট সময় থাকলে তখন ঘোড়ায় চেপে কিংবা পায়ে হেঁটে ঘুরেও আসতে পারবেন কাছাকাছি দ্রষ্টব্য স্থানগুলি। নীলনাগ লেক, দুধগঙ্গা (সঙ্গসফেদ তুষারশৃঙ্গ থেকে সৃষ্ট হয়েছে এই নদী) ভিউ পয়েন্ট, ‘হে জন’ দরগা ইত্যাদি জায়গাগুলি ঘুরে নেওয়া যায়। পরিষ্কার আবহাওয়ায় ইউসমার্গ থেকেই দিব্যি দেখা যায় মাউন্ট টাট্টাকোটি, মাউন্ট রোমেস হং , সানসেট পিক প্রভৃতি তুষারশৃঙ্গ।

 

ভূগোল—

 

কাশ্মীরি ভাষায় ইউসমার্গ অনুবাদ করে দ্য মেডো অফ জিসাস।  এটা যীশু দ্বারা পরিদর্শন করা হয়েছে বলা হয়.  এটি একটি আলপাইন উপত্যকা যা তুষার আচ্ছাদিত পর্বত এবং পাইন ও ফারের তৃণভূমিতে আচ্ছাদিত।  এটি জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার একটি শহর চারারি শরীফ থেকে ১৮ কিমি (১১ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত।  এটি দুদগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত যা জেহলাম নদীর একটি উপনদী।  এটি পীর পাঞ্জাল শৃঙ্গে অবস্থিত, হিমালয়ের একটি সাব রেঞ্জ।  চূড়াগুলি হল: সূর্যাস্ত শিখর এবং তাতাকুটি চূড়া যেগুলির জন্য অভিযানগুলি এই পাহাড়ি স্টেশন থেকে পরিচালিত হয়।  এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৩৯৬ মি (৭৮৬১ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।

 

৪ কিমি ট্র্যাক নীলনাগ নামক একটি ছোট হ্রদের দিকে নিয়ে যায়, যা তার নীল জলের জন্য বিখ্যাত।  ১০ কিমি ট্র্যাক সাং-ই-সফেদ উপত্যকার হিমায়িত লেকের দিকে নিয়ে যায়, যেটি বেশিরভাগ গ্রীষ্মকালেও বরফে ঢাকা থাকে।  অন্যান্য পর্যটন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ঘোড়ায় চড়া, মাছ ধরা, শীতকালে স্কিইং এবং ফটোগ্রাফি।

 

 

শ্রীনগর থেকে ইয়ুসমার্গ যাওয়ার রাস্তায় পড়বে চারার-ই-শরিফ। সামনের দিগন্ত চেরা সবুজ গালিচা আর শান্ত পরিবেশ মনকে ভরিয়ে দেবে। এখানে পর্যটকদের আনাগোনা একটু কম বলে পরিবেশ আরও শান্ত।

 

 

ইউসমার্গ যাওয়ার উপায়—

জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী, ৪৭ কিমি দূরে শ্রীনগর বা শ্রীনগর বিমানবন্দর (SXR) থেকে ইউসমার্গ সহজেই অ্যাক্সেস করা যায়।  গাড়ি বা বাসে ২ ঘন্টার কম সময়ে ছরারী শরীফ শহর হয়ে যায়। শ্রীনগর থেকে গাড়ি রির্জাভ করলে ভাড়া পড়বে ২০০০-৪০০০ রূপী। শেয়ারে যেতে চাইলে প্রথমে চারার-ই-শরিফ পর্যন্ত যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে ইউসমার্গ যেতে হবে।

 

কোথায় থাকবেন—-

ইউসমার্গ থেকে শ্রীনগরের দূরত্ব কম হওয়ায় তেমন কেউ রাত্রিবাস করে না কিন্তু একদিন থাকলে তা সারাজীবন মনের মনিকঠায় গেঁথে যাবে।” তাই আর দেরী কেন। সময় সুযোগ করে বেরিয়ে পরুন এক অনাবিল অনন্দের সাক্ষী হতে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

“মানুষ অভ্যাসের দাস”  ভাবনাটার উপর দুটি কথা : দিলীপ  রায়।

ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি মানুষ অভ্যাসের দাস । সুতরাং স্ত্রী-পুরুষ, জাতি-বর্ণ এবং বয়স নির্বিশেষে সকলের কাছে অভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । আসলে আমাদের অভ্যাসগুলি ধীরে ধীরে স্বভাবে বা চরিত্রে পরিণত হয় । তাই চলমান ও নতুন অভ্যাসের ব্যাপারে একটু ভেবেচিন্তে এগোনো দরকার  । ইতিবাচক  অভ্যাস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, বরং বলা ভাল  ইতিবাচক অভ্যাস  মানুষকে অনেক শান্তি দেয় । আবার খারাপ অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনে একটা মানুষকে বিষাদে ভরে দিতে পারে । সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত চব্বিশ ঘন্টার কর্মকাণ্ডে  খারাপ ও অপ্রীতিকর অভ্যাসগুলি বর্জন করা যুক্তিযুক্ত । সকালে উঠে ব্যায়াম করা যেমন একটা ভাল অভ্যাস, ঠিক তেমনি ধূমপান করা খারাপ অভ্যাস । সততা, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাপরায়ণতা, বেশী রাতে ঘুমাতে না-যাওয়া,  ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, নিয়মিত শরীর চর্চা করা, বড়দের সম্মান করা, অপরের উপকার করা, বাবা-মার প্রতি সযত্ন হওয়া, সকলের সাথে সু-ব্যবহার বজায় রাখা,  এগুলো ভাল অভ্যাস । স্বাস্থ্য সচেতনার নিরিখে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া, ট্রেনে-বাসে-হাসপাতালে মুখে মাস্ক পরা, এগুলি ভাল অভ্যাস ।  অন্যদিকে মদ্যপান, ধূমপান, মাদক দ্রব্য গ্রহণ, মিথ্যা কথা বলা, বেশী খাওয়া, কর্মক্ষেত্রে উৎকোচ গ্রহণ করা, হিংসা, লোভ, অপরের  প্রতি অকারণে ঈর্ষা, এগুলি  খারাপ অভ্যাস এবং এগুলি মানুষের জীবনে ধ্বংসের কারণ ।
অভ্যাস আবার পরিবর্তনশীল । যদি আমাদের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন চাই তাহলে আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে । যেমন আমাদের চলমান জীবনে  পুরানো অভ্যাস ত্যাগ করে সৃষ্টিমূলক ইতিবাচক  নতুন অভ্যাস তৈরী করা দরকার ।  তেমনি বর্তমান অভ্যাসের উন্নতিসাধন করাটাও সমভাবে দরকার । কোনো অভ্যাস পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হল কোনো কিছু ছেড়ে দেওয়া বা ত্যাগ করা । যত তাড়াতাড়ি পুরানোটাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে, ঠিক তত তাড়াতাড়ি নতুনটিকে গ্রহণ ও ব্যবহার করা যাবে । কিন্তু বিভিন্ন কারণে পরিবর্তনটা মানা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায় । যেমন নিজের শোয়ার খাটটির স্থান পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে মন কিছুতেই সায় দিতে চায় না । কেননা আমরা একটা গণ্ডির মধ্যে থেকে অভ্যস্ত, সেটার পরিবর্তন চটজলদি মন থেকে মানা কঠিন ।
অভ্যাসের পরিবর্তন, নতুন অভ্যাস গঠন এবং খারাপ অভ্যাস বর্জন  — এসবের জন্য চাই আমদের ইচ্ছাশক্তির বিকাশ । এটা ঘটনা, যখন আমরা কোনো অভ্যাস
বা স্বভাব পরিবর্তন করার সংকল্প করি, তখন শুরুটা ভাল হয় । কিন্তু কিছুদিন পর আমাদের উৎসাহ এবং মনোবল নিস্তেজ হয়ে যায় । কী কারণে এরূপ পরিণাম হয় ? ঠিক এই প্রশ্নটাই গীতাতে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে করেছেনঃ “কী কারণে, যন্ত্রচালিতের মতো, অনিচ্ছা সত্ত্বেও লোকে অন্যায় ও অকাজে লিপ্ত হয় ?” এটা স্বাভাবিক, আমরা সকল ইচ্ছাশক্তির অধিকারী নই । আসলে আমাদের ইচ্ছাশক্তি হল আমাদের আভ্যন্তরীণ সংক্রমণরোধক ক্ষমতা । অন্যদিকে ভোগ্য ইন্দ্রিয় বিষয়গুলি হল আমাদের প্রলোভনস্বরূপ । তারা আমাদের ঐ সংক্রমণব্যবস্থাকে আক্রমণ বা আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে গ্রাস করে । আসলে ইচ্ছাশক্তি হচ্ছে এমন এক দক্ষতা, যা ক্রমাগত অনুশীলন করে আয়ত্ত করা বা অর্জন করা সম্ভব  । যতই ইচ্ছাশক্তির চর্চা করা যায় ততই তা দৃঢ়তর হতে থাকে  । তাই প্রথমে ছোট কাজের অভ্যাস গড়ে ওঠে, তারপর সেই অভ্যাস ক্রমশ দৃঢ় হয় । সুতরাং অভ্যাস গঠন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তির ভূমিকা অপরিসীম ।
আমরা অভ্যাস গঠনের দিকে তাকালে দেখতে পাই,   স্কুল-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে অভ্যাস গঠনের সর্বোৎকৃষ্ট জায়গা । এটা ঘটনা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল অভ্যাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে । তাই স্কুল ও অভিভাবকের পারস্পরিক সহযোগিতা শিশুদের সুষমভাবে বেড়ে ওঠা এবং ভালো অভ্যাস গঠনে যথেষ্ট  সহায়ক । একটা কথা প্রচলিত আছে “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”, আর কিশোর (১৪ বছর থেকে ১৭ বছর) বয়সে এই প্রবাদটার প্রতিফলন আমরা দেখি বেশী । কেননা এই সময়টাতে কিশোরদের দৈনন্দিন জীবনের দিকে অভিভাবকদের নজর দেওয়া ভীষণ জরুরি । নজরদারির  অভাব ঘটলে কিশোরেরা বদ অভ্যাসগুলি সহজেই রপ্ত করে নিতে পারে  । অন্যভাবে বলা যায়, সৎ সঙ্গ একজন জীবনের পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায় আর অসৎ সঙ্গ তার সুনাম, সাফল্যকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়  ।
পরিবর্তনমুখী অভ্যাস নিয়ে কয়েকটি সুন্দর কথার অবতারণা । যেমন আপনার বা আমার চোখ আছে, তাই আপনি একটি সুন্দর জিনিস দেখলেন বা কোনো মুখ দেখলেন । চোখ রয়েছে দেখার জন্য । তাই আপনি ঐ জিনিসটা বা মুখটার দিকে তাকিয়েছেন । এটাকে বলা হবে আপনি ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিয়েছেন । তারপরে যদি আপনি আবার তাকান, তাহলে বলা হবে আপনি আগ্রহী । বারবার তাকালে বলা হবে আপনি অনুরক্ত ।  পরিশেষে যদি দেখা যায় আপনি ঐ মুখটা না দেখে থাকতে পারছেন না, তাহলে বুঝতে হবে আপনি আসক্ত হয়ে পড়েছেন । এটা অভ্যাসেরই নামান্তর । এই অভ্যাস কীভাবে ধীরে ধীরে গড়ে উঠে তার মনস্তাত্ত্বিক বর্ণনা দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে বলেছেন,”বিষয়সমূহ চিন্তা করতে করতে তাতে মানুষের আসক্তি জন্মে, আসক্তি থেকে কামনা বা তৃষ্ণা জাত হয় । কামনা প্রতিহত হলে তা ক্রোধে পরিণত হয় ; ক্রোধ থেকে জাত হয় মোহ অর্থাৎ কর্তব্য-অকর্তব্যরূপ বিবেকনাশ । মোহ থেকে আসে স্মৃতির বিলোপ, স্মৃতিবিভ্রম থেকে আমাদের বুদ্ধি বিনষ্ট হয় । আর পরিশেষে বিনষ্টবুদ্ধি আমাদের বিনাশের গহ্বরে ঠেলে দেয় ।“
আসক্তির ক্ষেত্রে অভ্যাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য । ধরা যাক একজন ধূমপান শুরু করলো । ধূমপানে তার খুব শান্তি । ধূমপান ক্রমশ অভ্যাসে পরিণত হল । যাকে বলে ধূমপানে তার আসক্তি জন্মালো । এটা মদ্যপানের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে । এগুলি এখনও সমাজের চোখে খারাপ অভ্যাস ।
নলিনীডাঙা গাঁয়ের নরহরি দত্ত সদ্য অবসর নিয়েছেন । অল্প বেতনের জন্য সারাজীবন দুপুরের টিফিন হিসাবে মুড়ি ও কাঁচা লঙ্কা খেতেন । সেই অভ্যাস এখনও বহমান । দুপুরবেলায়  মুড়ি ও কাঁচা লঙ্কা না খেলে তাঁর নাকি শরীর আনচান করে । তাঁর মুখে অনবরত শোনা যায় “মানুষ অভ্যাসের দাস”, যেমন তিনি নিজে । মুড়ি ছাড়া দুপুরবেলায় তাঁর অন্য খাবার রুচে না ।
অবশেষে বলা যায়, “মানুষ অভ্যাসের দাস” কথাটি সঙ্গত । তেমনি আমার ব্যক্তিগত মতে, অভ্যাসও পরিবর্তনশীল । যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন সবসময় কাম্য । তাতে নিজের মঙ্গল তথা সমাজের মঙ্গল । (তথ্যসূত্রঃ তথ্য সংগৃহীত ও উদ্বোধন-শ্রাবণ ও ভাদ্র, ১৪2৮)
——————-০———————–
এ১০ক্স/৩৪, কল্যাণী-৭৪১২৩৫ (ভারত)

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস কি, কেন পালিত হয় জানুন।

ভূমিকা—

 

প্রতি বছর ২৩শে জুন বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের পাবলিক সার্ভিস দিবস পালন করা হয়।   মূলতঃ জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও তত্ত্বাবধানে পালিত হয় বলে এই দিবসটি জাতিসংঘ জনসেবা দিবস নামেও পরিচিত; অন্যদিকে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০১৭ সালে দিবসটিকে জাতীয় জনসেবা দিবস নামে পালিন করা হয়।

 

পালনের উদ্দেশ্যে—

 

আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ কর্তৃক পালিত একটি বিশেষ দিন, যা এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে প্রতিবছর ২৩ জুন তারিখে উদযাপিত হয়। এই দিনটি উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনসেবার অবদানকে তুলে ধরতে এবং জনসাধারণের সেবাকে মূল্য দিতে।  এই দিনটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন জনসেবা সংস্থা এবং বিভাগ দ্বারা সমাজের উন্নয়ন এবং উন্নতিতে সরকারী কর্মচারীদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্যাপকভাবে পরিচিত।  অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের ডিভিশন অফ পাবলিক ইনস্টিটিউশন এবং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সহযোগিতায় একটি ভার্চুয়াল ইভেন্টের আয়োজন করবে, যার প্রতিপাদ্য ছিল “ভবিষ্যৎ উদ্ভাবন।  পাবলিক সার্ভিস: এসডিজিতে পৌঁছানোর জন্য একটি নতুন যুগের জন্য নতুন সরকারী মডেল”।

 

জাতিসংঘের পাবলিক সার্ভিস দিবস: ইতিহাস–

২০ ডিসেম্বর ২০০২ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটি প্রস্তাব ৫৭/২৭৭ পাস করে প্রতি বছর ২৩ জুনকে জাতিসংঘের পাবলিক সার্ভিস দিবস হিসেবে দেখার জন্য মনোনীত করে।  দিনটি সেই তারিখের বার্ষিকীকে চিহ্নিত করে যখন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা শ্রম সম্পর্ক সংক্রান্ত কনভেনশন (পাবলিক সার্ভিস), 1978 (নং 151) বিশ্বজুড়ে সমস্ত বেসামরিক কর্মচারীদের কাজের অবস্থা নির্ধারণের জন্য গৃহীত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ২০০৩ সালে সর্বপ্রথম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি পালিত হয়।

 

লক্ষ্য ও গুরুত্ব—

 

বিশ্বব্যাপী জনসেবা দিবস উদযাপনের কারণ হিসাবে জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হয় যে, “সম্প্রদায়ের কাছে জনসেবার মূল্য এবং গুণ উদযাপন করে;  উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনসেবার অবদান তুলে ধরে;  সরকারী কর্মচারীদের কাজকে স্বীকৃতি দেয় এবং যুবকদের সরকারী সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করে।”

 

পালিত কর্মসূচী—-

 

দিবসটি সম্প্রদায়ের কাছে জনসেবার গুরুত্ব, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এর অবদান, কাজের স্বীকৃতি এবং যুবকদের সরকারি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে উত্সাহিত করে।

বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করার পাশাপাশি এদিন সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন সেবা দেয়ার সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে তাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন-পরিচালকগণ ছাড়াও সেবাগ্রহীতাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো ও বিভিন্ন ক্ষেত্র অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

 

উপসংহার—

 

পাবলিক সার্ভিস দিবস এর লক্ষ্য সম্প্রদায়ের কাছে জনসেবার মূল্য উদযাপন করা, সরকারী কর্মচারীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং যুবকদের সরকারী সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করা।  আসুন আজ আমাদের শহরে আমাদের সরকারি কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের সম্মান করার সুযোগটি উপলব্ধি করি!

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, জানুন পালনের গুরুত্ব।

২০১৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর সূচনা হওয়ার পর ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসটি বার্ষিক ২১ জুন সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। যোগ হল একটি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন যা প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত হয়েছিল।  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ২০১৪ সালে তার জাতিসংঘের ভাষণে ২১ জুন তারিখের পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ এটি উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন এবং বিশ্বের অনেক অংশে এটির একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে৷

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ২০১৪ সালে তার জাতিসংঘের ভাষণে, ২১ জুন একটি বার্ষিক যোগ দিবসের পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ এটি উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন এবং বিশ্বের অনেক অংশে এটির একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে৷  প্রাথমিক প্রস্তাবের পর, জাতিসংঘ ২০১৪ সালে “যোগ দিবস” শিরোনামে খসড়া রেজোলিউশন গ্রহণ করে। ভারতের প্রতিনিধিদলের দ্বারা পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছিল।  ২০১৫ সালে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ১০ টাকার স্মারক মুদ্রা জারি করেছিল।  এপ্রিল ২০১৭ সালে, জাতিসংঘের ডাক প্রশাসন (UNPA) আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে একটি একক শীটে আসনের উপর ১০ টি স্ট্যাম্প জারি করেছে।

 

জাতিসংঘ ঘোষণা—

 

 

 

১১ ডিসেম্বর ২০১৪-এ, ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি অশোক মুখার্জি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেন।  খসড়া পাঠ্যটি ১৭৭টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে যারা পাঠ্যটিকে স্পনসর করেছিল, যা ভোট ছাড়াই গৃহীত হয়েছিল।  এই উদ্যোগটি অনেক বিশ্ব নেতাদের সমর্থন পেয়েছে।  মোট ১৭৭টি দেশ এই রেজোলিউশনটির সহ-স্পন্সর করেছে, যা এই ধরনের প্রকৃতির যেকোনও UNGA রেজোলিউশনের জন্য সহ-স্পন্সরদের সবচেয়ে বেশি সংখ্যা।
২১ জুন তারিখ হিসাবে প্রস্তাব করার সময়, মোদি বলেছিলেন যে তারিখটি উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন ছিল (দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট), বিশ্বের অনেক অংশে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।  ভারতীয় ক্যালেন্ডারে, গ্রীষ্মের অয়নকাল দক্ষিণায়নে রূপান্তরকে চিহ্নিত করে।  গ্রীষ্মের অয়নকালের পরের দ্বিতীয় পূর্ণিমাটি গুরু পূর্ণিমা নামে পরিচিত।  হিন্দু পুরাণে, শিব, প্রথম যোগী (আদি যোগী), এই দিনে বাকি মানবজাতিকে যোগের জ্ঞান প্রদান শুরু করেছিলেন এবং প্রথম গুরু (আদি গুরু) হয়েছিলেন।
জাতিসংঘের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর, ভারতের আধ্যাত্মিক আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতা এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।  ইশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদগুরু বলেছেন, “মানুষের অভ্যন্তরীণ মঙ্গলের প্রতি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার জন্য এটি এক ধরনের ভিত্তিপ্রস্তর হতে পারে, একটি বিশ্বব্যাপী জিনিস… এটি বিশ্বের জন্য একটি অসাধারণ পদক্ষেপ।”  আর্ট অফ লিভিং-এর প্রতিষ্ঠাতা, রবি শঙ্কর, মোদির প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেছেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া যে কোনও দর্শন, ধর্ম বা সংস্কৃতির পক্ষে বেঁচে থাকা খুব কঠিন। যোগ এখন পর্যন্ত প্রায় অনাথের মতো বিদ্যমান ছিল। এখন, সরকারী স্বীকৃতি  জাতিসংঘের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের সুবিধা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবে।”

 

প্রস্তুতিতে ২১ জুন ২০১৫ এ বিশ্বজুড়ে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছিল৷ আয়ুষ মন্ত্রক ভারতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছিল৷  ৩৫৯৮৫ জন, যার মধ্যে PM মোদি এবং ৮৪টি দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, নতুন দিল্লির রাজপথে ৩৫ মিনিটের জন্য ২১টি আসন (যোগের ভঙ্গি) সঞ্চালন করেছেন, যা এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৃহত্তম যোগ ক্লাসে পরিণত হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক—৮৪— সহ।  সেই থেকে প্রতি বছর ভারতে এবং সারা বিশ্বের শহরগুলিতে অনুরূপ দিবসগুলি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী কমরেড নলিনী দাস এক কিংবদন্তী নায়ক।

ভূমিকা—

 

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে নলিনী দাস প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী। নলিনী দাস (১ জানুয়ারি ১৯১০ – ১৯ জুন, ১৯৮২) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী। ১৯২৯ সনে মেছুয়াবাজার বোমার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি আত্মগোপন করেন। পলাতক অবস্থায় ১৯৩০ সনে কলকাতার পুলিস কমিশনার চার্লস টেগার্ট সাহেবকে হত্যা-প্রচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হন।

 

জন্ম—-

 

একনিষ্ঠ দেশ সেবক এই অকৃতদার মহান বীরের জন্ম ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি উত্তর শাহবাজপুর বর্তমান ভোলার সদর উপজেলায়। স্থানীয় জমিদার স্টেটের নায়েব দূর্গা মোহন দাসের পুত্র নলিনী দাস ভোলা শহরের কালীনাথ বাজার এলাকায় শৈশব কাটিয়েছিলেন। তার শিক্ষা জীবনের শুরুও ভোলাতেই।  পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় হরতাল ধর্মঘটে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন। এ কারনে তিনি ব্রিটিশদের হাত থেকে ভারতমাতাকে মুক্তি করার জন্য অগ্নি শপথ নেন। ১৯২৪ সালে তিনি যুক্ত হন বিপ্লববাদী যুগান্তর দলে। পড়াশুনা আর দেশের স্বাধীনতার জন্য দৃঢ়চিত্তে শুরু অক্লান্ত পরিশ্রম। ১৯২৮ সালে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে বরিশাল বি. এম. কলেজে আই.এস.সি. ক্লাসে ভর্তি হন। বরিশালে সে সময় তিনি একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। পরীক্ষার আগেই মামলা পড়ায় আর পরীক্ষা দিতে পারেননি।.এস.সি পরীক্ষার পূর্বেই কলিকাতা মেছুয়া বাজার বোমা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। শুরু হয় পালাতক জীবন। পলাতক অবস্থায় ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ট্রেগার্ড সাহেবকে হত্যার প্রচেষ্টা মামলায় তিনি গ্রেফতার হন। ওই মামলার বিচারে তিনি খালাস পান।

 

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা —

 

ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র নলিনী দাস ১৯২১ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও খেলাফত আন্দোলন কমিটির আহ্বানে পাঞ্জাবের জালিওয়ানবাগে ব্রিটিশের নৃশংসয় গণহত্যার প্রতিবাদে হরতাল ও ধর্মঘটে অংশ গ্রহণ করেন। এই অপরাধে ব্রিটিশ পুলিশ অপর ৫ ছাত্রের সাথে নলিনী দাসও গ্রেফতার করে। মাত্র ১১ বছর বয়সে শুরু হয় নলিনী দাসের কারা জীবন। এই মহান সৈনিক আন্দামানের কারা নির্বাসনসহ ৭২ বছর জীবনের ২৩ বছরই কাটিছেন কারাগারের অন্ধকারে। অপর দিকে ২১ বছর ছিলেন আত্মগোপনে। সেখানে থেকেও তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

 

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে কাজ—-

 

নলিনী দাস ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির নিষ্ঠাবান কর্মী হিসেবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিধ্বস্ত কলকাতায় প্রতিরোধ কমিটির কাজে তৎপর ছিলেন।

 

বরিশালে কর্মজীবন—-

 

নলিনী দাস দেশবিভাগের পর বরিশালে চলে যান। ভোলা জেলায় কৃষক আন্দোলনের কাজে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধকালে এক মিথ্যা মামলায় পাকিস্তান সরকার ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করে। হাইকোর্ট থেকে মুক্তি পেলেও জেল গেটে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিনা বিচারে রাজবন্দি হিসেবে আটক থাকেন। এরপর মুক্তি পান এবং আবার আটক করা হয়। ১৯৫৬ খ্রিস্টবাদের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দী জীবনযাপন করেন। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার আমলে ছাড়া পান। ১৯৫৮ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। ১৯৫৮ সাল থেকে আত্মগোপন অবস্থায় বরিশালের গ্রামে গ্রামে কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

 

জেল ও পলাতক জীবন—-

সত্তর বছরের জীবনের ভেতরে ২৩ বছর আন্দামান সেলুলার জেল, ব্রিটিশ ভারতের অন্যানয জেল, ভারতের জেল ও পাকিস্তানের কারাগারে অতিবাহিত করেন। ২০ বছর নয় মাস কাটান গোপন পলাতক জীবন।

 

একটানা ১৪ বছর জেল খাটার পর তিনি আপর জন্মভূমিতে ফিরে এলে ভোলাবাসী তাকে বিশাল সংবর্ধনা প্রদান করে। ব্রিটিশরা চলে গেলেও নলিনী দাসের ফের পাকিস্তানের সৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। ৪৭ সালেই পাকিস্তান মুসলিমলীগ সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। শুরু হয় তার আবারও পলাতক জীবন। ৫০ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালে বরিশালের নিভৃত এক পল্লীতে গোপন সভা চলাকালীন সময়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরে তাকে ১০ ছরের কারা দ- দেয়া হয়। ৫৯ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকার তাকে মুক্তি দেন। ৬৯ সালে আইয়ুব খানের শাসনামলে পুনরায় তিনি আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার রচিত “ স্বাধীনতা সংগ্রামে দ্বীপান্তরে বন্দী” গ্রন্থ থেকে বিপ্লবী জীবনের নানা রোমঞ্চকর তথ্য পাওয়া যায়।

 

জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ—

 

নলিনী দাস শুধু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনই করেন নি। তিনি এদেশের অবহেলিত কৃষক শ্রমিকের মুক্তির আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিভিন্ন সময়ের দুর্ভিক্ষ, খরা, মহামারি আর দাঙ্গার সময় তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। স্বাধীনতার পরে দেশ পুনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ভোলা শহরে তার পৈত্রিক কোটি টাকার সম্পদ তিনি জনকল্যাণে ব্যায় করেছেন। গঠন করেছেন দূর্গামোহন দাস জনকল্যাণ ট্রাস্ট। দানবীর হিসেবে পরিচিত এই মহান ব্যক্তির দানকৃত সম্পদ নিয়ে গড়ে তোলা হয় লায়ন্স হোমিও কলেজ ও নলিনী দাস হাসপাতাল, নলিনী দাস বালিকা বিদ্যালয়, নলিনী দাস স্মৃতি পাঠাগারসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান।জনগণের কল্যাণে স্মস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দুর্গামোহন ট্রাস্টের নিকট প্রদান করেন।

 

মৃত্যু—

 

ইস্পাত দৃঢ় সংকল্প ও অফুরন্ত কর্মশক্তির অধিকারী, আমৃত্যু ত্যাগী এই বিপ্লবী যোদ্ধা তাঁর সারাটি জীবন মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। মানব সভ্যতাকে সাম্যবাদে উত্তোরণের ক্ষেত্রে বিপ্লবী সংগ্রামে তিনি ছিলেন আত্মনিবেদিত। মার্কসবাদের মতবাদকে গ্রহণ করে কমিউনিজমের মহান ব্রত নিয়ে নিবেদিত করেছেন জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত। আপোষহীণ দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের এই মহান ব্যক্তি দূরারোগ্য যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গেলে ১৯৮২ সালের ১৯ জানুয়ারি মৃত্যু বরণ করেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জেনে নেবো আজকের দিনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস, আন্তর্জাতিক পিকনিক দিবস ও বাবা দিবস সম্পর্কে কিছু কথা।

জেনে নেবো আজকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস আন্তর্জাতিক পিকনিক দিবস ও ফাদার্স ডে সম্পর্কে কিছু কথা।

 

 

শুভ বাবা  দিবস—

 

দুনিয়ার সব কিছু বদলে গেলেও, বাবার ভালোবাসা কখনও বদলায় না। বাবা মানে শত শাসন সত্বেও এক নিবিড় ভালবাসা।

প্রতি বছর, বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘পিতৃ দিবস’ বা ‘ফাদার্স ডে’ (Father’s Day)। পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন সময়ে এই দিন উদযাপন হলেও, জুন মাসের তৃতীয় রবিবার ভারতে পালিত হয়  ‘ফাদার্স ডে’। এই বছর এই বিশেষ দিনটি পড়েছে ১৮ জুন।

 

কয়েকটি শব্দে বাবাদের (Fathers) সংজ্ঞা দেওয়া মুশকিল। বাবা এমন একজন যিনি সারা জীবন নিজের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে যান…নিজের সব খুশি অবধি বিসর্জন দিয়ে দেন ইনি।পৃথিবীতে সবাই তোমাকে ভালবাসবে, সেই ভালোবাসা মাঝে যে কোনো প্রয়োজন লুকিয়েথাকে। কিন্তু একজন ব্যক্তি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই তোমাকে ভালো বাসবে সে হলো বাবা ।  বলা চলে নিখাদ ভালবাসা এবং স্নেহের সঠিক সংজ্ঞা বাবা (Baba)। ভিন্ন ভাষা ও সমাজে ডাকা হয় আলাদা নামে। কিন্তু প্রায় সব বাবারাই তাদের সন্তানের কাছে বটবৃক্ষসম। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের জীবনকে আরও উন্নত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যান তাঁরা।

এই দিনে আমরা সেই মানুষটিকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সন্মান জানাই যে মানুষটি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ছোট বেলায় আমাদের হাঁটতে শেখায় ও প্রপ্তবয়সে আমাদের পথ চলতে শেখায়। পিতারা আমাদের জীবনে বিশেষ মানুষ। একজন বাবা তার ছেলের প্রথম নায়ক এবং তার মেয়ের প্রথম প্রেম।

 

 

আন্তর্জাতিক পিকনিক দিবস—

 

আজ আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস। প্রতি বছর  ১৮ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক পিকনিক ডে বা বনভোজন দিবস। আই পিকনিক শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ ‘pique-nique’ থেকে। ইতিহাস ঘটলে জানা যায় যে  ফ্রান্সে শুরুতে কিছু ব্যক্তি বাসা থেকে খাবার নিয়ে গিয়ে রাতে রেস্তোরাঁয় বসে খেতেন। সঙ্গে নিতেন ওয়াইন। সেই থেকেই পিকনিক শব্দটি মানুষের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ে। এই বনভোজন এর পেছনে কিছু মানসিক শান্তির ভাবনা কাজ করে। এর পেছনে থাকে কিছু প্রাপ্তি যা আমাদের জীবনকে আনন্দ মুখর করে তোলে। বনভোজন এর উদ্দেশ্য হলো ভালো খাবার খাওয়া ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া। সেই সঙ্গে মনকে চাঙা করা।  এই বিষয়টিকে আরো জনপ্রিয় করতে প্রতিবছরই ১৮ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস। তবে বনভোজন এর এই ব্যপার গুলো আজ কেবল একটি মাত্র দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেকেই জটিল জীবনের এর কর্মব্যস্ততার মাঝে বেরিয়ে পরে সপরিবারে পিকনিক বা বনভোজনের উদ্যেস্যে। এই বিশেষ দিন গুলো মানুষের চলার পথে এক ঝলক দমকা ঠান্ডা বাতাসের মতন, যা জীবনী শক্তিকে যেমন বাড়িয়ে দেয় তেমনি পরিবারের মধ্যেও একটা মিষ্টি সম্পর্কের বাতাবরন আরো গভীর করে তোলে। তাই সময় সুযোগ পেলে সকলের ই উচিৎ এই একটি নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বনভোজনের আয়োজনে বেরিয়ে পরা।

 

উৎপত্তির ইতিহাস—

 

তবে, দিবসটি কবে থেকে শুরু হলো, কারা শুরু করল- সেটা জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ মনে করেন, ফরাসিরাই এর উদ্যোক্তা। তবে বলা হয়, এর শুরুটা হয়েছে ফরাসি বিপ্লবের শেষের দিকের কোনো একটা সময়। অর্থাৎ, ১৭৯৯ সালের আশপাশে।
ফরাসি বিপ্লবের আগে বড় পার্কগুলোয় সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারত না। ফরাসি বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো পার্কগুলো খুলে দেওয়া হয়। আর মানুষজন তখন পার্কে গিয়ে খানাপিনা করত, মজা করত। ‘পিকনিক’ শব্দের উৎপত্তিও কিন্তু ফরাসি ভাষা থেকে। কেউ কেউ মনে করেন পিকনিকের প্রচলনটি ভিক্টোরিয়ান যুগেরও হতে পারে। ভিক্টোরিয়ান যুগে পিকনিক খুব গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক International-Picnic-Day অনুষ্ঠান ছিল। তারা গৃহের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাত। ভালো খাওয়া-দাওয়া করত। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিকনিকটি হয়েছিল ২০০৯ সালে পর্তুগালের লিসবনে। এতে ২২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।

 

বনভোজনের সময়—

 

আমরা চাইলেই যে কোনো সময় পিকনিকে মেতে উঠতে পরি। তবে বিশেষ দিন গুলোতে এই আয়োজন হলে তার মজা বা আনন্দ টা আলাদা অনুভূত হয়। তবে, বনভোজনের সময় কিন্তু দুনিয়ার সব দেশে এক রকম নয়। শীতপ্রধান দেশে বনভোজন হয় গরমকালে। আর আমাদের দেশসহ নাতিশীতোষ্ণ দেশে শীতকালে। শীতপ্রধান দেশে জুন মাসটাই হচ্ছে বনভোজনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। শীতের সময় তো ওদের দেশের বনজঙ্গল সব বরফে ঢাকা থাকে। তখন বনভোজন কোথায় হবে? সে কারণে ওরা গ্রীষ্মেই বনভোজনে যায়। বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসে। সে কারণে ১৮ জুন ওরা বনভোজন দিবস হিসেবে পালন করে।  সেখানে তাদের কাছে এটা মজার হলিডে। একই ধরনের ছুটি হিসেবে প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম সোমবার ‘অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটরি’ পালিত হয়। এ অঞ্চলের পিকনিকের দিন সরকারি ছুটি হয়।

 

জায়গা—

 

বনভোজন মানে আনন্দ-উৎসব সহযোগে বনে কিংবা বাড়ির বাইরে ভোজন। সাধারণত মনোরম ও সুন্দরতম স্থানকেই বনভোজনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পার্ক বা উদ্যান, হ্রদ কিংবা নদীর কিনারের মতো চিত্তাকর্ষক স্থানকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। নিজেদের পছন্দের জায়গা নির্বাচন করে নিয়ে আয়োজন করা হয়। সাধারণত

বনভোজন পরিবারের সদস্যদের ঘিরে হয়ে থাকে। তবে পরিবারের বাহিরে বন্ধু বান্ধব দের নিয়েও বনভোজনের আয়োজন করে থাকে অনেকেই। অন্যান্য ক্ষেত্রে দুজন ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি বড় ধরনের মিলনস্থলে রূপান্তরিত হয়। বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে এই আয়োজন বিশালাকারে পরিলক্ষিত হয়। সারাদিন ধরে ভূরি ভোজের মধ্য দিয়েই চলে গোটা দিন। সঙেথকে বিভিন্ন ধরনের ছোটো খাটো অনুস্ঠান, গান বাজ্না আরো কতোকি। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের নির্মল আনন্দ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। নির্দিষ্ট স্থানে রান্না আয়োজনের মধ্যবর্তী সময়কালে অথবা ভোজন পরবর্তী সময়ে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।  সাধারণত বনভোজনে যাত্রাকালীন কিংবা ফিরে আসার সময় আনন্দ, হাসি-তামাশা ইত্যাদি বিষয়াবলি থাকে। মোট কথা আমরা জানি যতো দিন যাচ্ছে মানুষের কর্ম ব্যাস্ততা বাড়ছে বই কমছে না। মাঝে মাঝে যদি এমন একটা নির্ভেজাল দিন কাটানো যায় তা হলে জীবনে যেমন আননদ মুখর হয়, তেমনি গোটা পরিবারের মধ্যেও সম্পর্ক আরো গভীর হয়ে ওঠে। তাই আমাদের জীবনে এই বিশেষ দিন গুলোর গুরুত্ব অবদান অনস্বীকার্য।

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বাবা দিবস বৃদ্ধাশ্রম এবং চোখের জল : মীর আব্দুল আলীম।

বিশ্ব বাবা দিবস আজ। বিশেষ এই দিনটিতে বাংলাদেশের বাবা মায়েরা ভালো
আছেনতো? সন্তানের কষ্টে কারো চোখের জল ঝড়ছে নাতো? বিনা চিকিৎসায় আর
অনাহারে নেইতো কেউ? আপনারা কেউ বৃদ্ধাশ্রমে আছেন কি? মনের কোনে উঁকিঝোকি
মারে এইসব প্রশ্ন। প্রশ্ন জাগার কারন আছে। পত্রিকার শিরোনাম যদি এমন হয়-
‘ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা অসুস্থ বৃদ্ধ পিতাকে বৃদ্ধাশ্রমে প্রেরণ’;
অন্যটির শিরোনাম ’ ‘বাসস্ট্যান্ডে ফেলে রাখা বৃদ্ধ মায়ের ছেলের জন্য
অপেক্ষায় কাটলো একমাস’। তাহলেতো  প্রশ্ন জাগবেই। সংবাদ দুটি আমাদের
বিবেক, মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন এবং আত্মার সম্পর্ক বিষয়ক এতদিনকার
ধ্যান ধারণার ওপর প্রচন্ড আঘাত হানে। সংবাদ দু’টি সমাজের এক নগ্ন
বাস্তবতাকে উন্মোচন করে। হালযুগে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের সন্তানদের দ্বায়ীত্ববোধ কমতে শুরু
করেছে। সবাই কেমন যেন ব্যস্থ হয়ে ওঠেছে। স্বার্থপরতো বটেই। তাই অনেক বাবা-মায়ের আশ্রয় হয় এখন বৃদ্ধাশ্রমে। আজকাল বৃদ্ধাশ্রমের সাথে বেশ
পরিচিত আমরা। এক দশক আগেও অধিকাংশ মানুষের মধ্যে বৃদ্ধাশ্রমের তেমন ধারণা ছিলো না। এখন দেশের অনেক জায়গায়ই বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে। আর নরক নামীয় এ বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় হচ্ছে অনেক বৃদ্ধ পিতা-মাতার। সেখানে যেতে তাদের বাধ্য করা হয়। অনেকে আবার জন্মদাতা পিতা-মাতার জন্য অতটুকুও ভদ্রতাও দেখান না। ওরা জন্মদাত্রীকে ফেলে আসেন রাস্তঘাটে, নর্দমায়। ঐপশুরা আমাদের অতি শ্রদ্ধেয় মুরব্বিদের কখনোবা ডাস্টবিনে ফেলে আসতেও দ্বিধা করেন না। এমন ঘটনা কতটা অমানবিক, কতটা বিবেকবর্জিত এবং আপত্তিকর, সেটা সহজেই বুঝা যায়।
এই অমানবিক বিষয়গুলোকে আমাদের সামনে আনা উচিৎ। সমাজ, রাষ্ট্র এবং পরিবারের অপরাপর লেখকদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। এ নিয়ে আন্দোলন হতে পারে। পরিবারের লোকজন এ আন্দোলনে শামিল হবেন,
প্রতিবেশীরা যোগ দেবেন। রাষ্ট্রেরও এ ব্যাপারে দায় আছে। রাষ্ট্র এমন অমানবিক বিষয়কে আইনের আওতায় আনতে পারে। নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে কু-সন্তান কিংবা কু-পুত্রবধুদের তাৎক্ষণিক ৬ মাস কিংবা ততোধিক সময়ের জন্য সাজা দিতে পারে না। বিষয়গুলো জনসমক্ষে নিয়ে আসা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে আমাদেরও কর্তব্য আছে। পরিবারের অন্য সদস্য,
প্রতিবেশীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার কর্মস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারেন। লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। মোদ্দা কথা হলো, সকলকে
সকলের জায়গা থেকে ওদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়তে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় নিজেরা নিজেদের থেকে ভালো হয়ে গেলে। ভাবনায় আনতে হবে, আমরা আমাদের পিতা-মাতার কারণেই পৃথিবীতে আসতে পেরেছি।
তাঁরাই আমাদের আলোর মুখ দেখিয়েছেন। তাঁরাই আমাদের আগুন, পানি, রোদ-বৃষ্টি
থেকে রক্ষা করেছেন। শিক্ষা দিয়েছেন, দিনদিন বড় করে তুলেছেন। মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন; যদিও আমরা অনেকে মানুষ না হয়ে
অমানুষই হয়েছি।
আমরা অমানুষ হয়ে যাচ্ছি বলেই আমাদের মা-বাবারা আমাদের সেবা থেকে বঞ্চিত
হচ্ছেন। ‘আপনের চেয়ে পর ভালো, পরের চেয়ে বৃদ্ধাশ্রম।’ কঠিন এক সত্য। আর এ
সত্যকে মেনেই অনেক বৃদ্ধ মা-বাবা আশ্রয় নেন বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানের কাছে
যাদের বেশি কিছু চাওয়ার নেই; শেষ বয়সে আদরের সন্তানের পাশে থেকে সুখ-দুঃখ
ভাগ করবার ইচ্ছা এতটুকুই যা চাওয়ার। আর এ নিয়েই প্রতিটি পিতা-মাতা প্রহর
গুনতে থাকেন দিবা-রজনী। কিন্তু অনেকেরই সেই সন্তানের কাছে আশ্রয় না হয়ে;
আশ্রয় হয় আপনজনহীন বৃদ্ধাশ্রমে। শেষ বয়সে ঘরের কোণেও জনমদুখী মা-বাবার
এতটুকুও জায়গা মিলে না। ওদের ছুঁড়ে দেয়া হয় প্রবীণ নিবাসনামীয় নরকে। তবুও
প্রতিবাদ দানা বাঁধে না; মন অভিশাপ দেয় না। নাড়ী ছেঁড়া ধন ওরা। তাই চুপ
থাকেন, একেবারে চুপ। তবে এ নিষ্ঠুরতা তাদের কেবলই কাঁদায়। এ কেমন নিয়তি?
ভাবি আমরা কতটাই না আধুনিক স্বার্থপর!
“বৃদ্ধাশ্রম থেকে সন্তানের কাছে মায়ের চিঠি” ফেসবুকে সেদিন এ শিরোনাম
একটি লেখার মন্তব্য আমি এভাবে লিখেছিলাম- “এই ছেলে তোকে কি বলে ডাকি
বলতো? কুকুর, বিড়াল, শুকর? না এ নামে তোকে ডাকলে পশুজাতীর যে আর মান
ইজ্জত রইবে না। ডাকা ডাকি বাদ দিই। বরং তোর মায়ের মতই তোর জন্য দোয়া করি-
“তুই বেঁচে থাক বছরের পর বছর অনন্তকাল”। খোদার কাছে প্রার্থনা এই যে,
তিনি যেন তোর অমানুষী মনে উপলব্ধি সৃষ্টি না করে তোর কাছে আজ্রাইল না
পাঠান। চিঠি পড়ে তোর মায়ে কষ্ট আমি পুরটা উপলব্ধি করতে পারছি না। এতো
বেশী কষ্ট উপলব্ধি করি কি করে? তোর জন্য ফরিয়াদ করি, খোদা যেন তোকে তোর
মায়ের মত সমকষ্ট দিয়ে পৃথিবী ত্যাগ করান। এর বেশী কষ্ট তোর জন্য বোধ করি
প্রয়োজন পড়বে না। তোর মা কষ্ট যেমনটা পেয়েছেন ঠিক তেমন কষ্টই তোকে দিক
খোদা। ভালো থাকিস.. ”। ফেসবুকে আমার এ মন্তব্যের পর এর সমর্থনে শতাধিক
মন্তব্য পেয়েছি যা পরলে অনেকেরই চোখে জল আসবে।
বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো ঐ মা তার ছেলেকে লিখেছেন-“খোকা তুই কেমন আছিসরে? বউমা
আর আমাদের ছোটো দাদুভাই সবাই ভালো আছে তো? জানি তোদের তিন জনের ছোট
সংসারে প্রত্যেকেরই খুব কাজ। তবুও তোদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ। একদিন
একটু সময় করে এই বুড়ি মাকে দেখতে আয় না! কিরে, আসবি না? ওঃ বুঝতে পেরেছি!
এখনো আমার উপর থেকে অভিমান যায়নি বুঝি! আমাকে যেদিন বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর
ব্যবস্থা করেছিলি, সেদিন ঝগড়া করেছিলাম বৃদ্ধাশ্রম থেকে আমাকে নিতে আসা
লোকজনদের সঙ্গে। জানি শেষ দিনটাতে একটু বেশি রকমেরই বাড়াবাড়ি করে
ফেলেছিলাম, তাছাড়া আর কিইবা আমি করব বল, সময় মতো ওরা এসে আমার জিনিসপত্র
সব জোর করে গাড়িতে উঠিয়ে নিল, তারপর বারবার তাগাদা দিতে লাগল। বাবা কারণ
আমি তোর সঙ্গে দেখা করে আসার জন্য তাদের কাছে সময় চেয়েছিলাম, তারা সময়
দিলেও শেষ পযর্ঞ্চন্ত তুই আসিসনি। তুই কাজে এত ব্যস্ত থাকিস তখন আমার মনে
ছিলনা। পরে মনে পড়েছিল, তাই তোর সঙ্গে দেখা না করেই চলে এসেছি। তুই রাগ
করিসনি তো? আর সেদিন আমার সেই জেদ দেখে বউমা তো রেগেই আগুন। তাছাড়া তার
তো রাগবারই কথা! আমাকে নিয়ে যেতে যারা এসেছিলো, অল কিছুক্ষণের মধ্যেই
তারা যা তড়িঘড়ি শুরু করে দিলৃতা দেখবার জন্য পাশের বাড়ি থেকে কেউ কেউ
উঁকি দিতে লাগলো। এতো বউমার একটু লজ্জাবোধ হবেই। সেদিন তোদের যে অপমান
করে এসেছি তোরা সেসব ভুলে যাস কেমন করে! আমার কথা ভাবিস না। আমি খুব ভালো
আছি! আর কেনই-বা ভালো থাকবনা বল? তোরা তো আমার ভালো থাকবারই বন্দোবস্ত
করে দিয়েছিস। তবে একটা কথা, আমার কথা যদি তোর কখনো-কোনোদিন মনে পড়ে; তখন
যেন নিজেকে তুই শেষ করে দিস না। তুই এখনো একশ বছর বেঁচে থাক।”
বৃদ্ধাশ্রম অবহেলিত বৃদ্ধদের জন্য শেষ আশ্রয়। তাঁদের সারা জীবনের অবদানের
যথার্থ স¡ীকৃতি, শেষ সময়ের সম্মান ও নিরাপত্তা দেয়া হয় এসব বৃদ্ধাশ্রমে।
এখানে তাঁরা নির্ভাবনায়, সম্মানের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে বাকি দিনগুলো
কাটাতে পারেন। প্রয়োজনে অনেক বৃদ্ধাশ্রমে চিকিৎসারও সুন্দর ব্যবস্থা করা
আছে। কিন্তু সকল প্রাপ্তির মাঝেও এখানে যা পাওয়া যায় না তা হলো নিজের
পরিবারের সান্নিধ্য। বৃদ্ধ বয়সে মানুষ তার সনত্মান, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে
একত্রে থাকতে চান। তাদের সঙ্গে জীবনের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চান।
সারাজীবনের কর্মব্যস্ত সময়ের পর অবসরে তাদের একমাত্র অবলম্বন এই
আনন্দটুকুই। বলা যায় এর জন্যই মানুষ সমগ্র জীবন অপেক্ষা করে থাকে।
বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় পাওয়া যায়, সঙ্গীসাথী পাওয়া যায়, বিনোদন পাওয়া যায়,
কিন্ত শেষ জীবনের এই পরম আরাধ্য আনন্দটুকু পাওয়া যায় না যাঁর জন্য তারা
এই সময়টাতে প্রবল মানসিক যন্ত্রণা আর ভারাক্রানত্ম হৃদয়ে আবেগাপস্নুত হয়ে
ওঠেন।নেহায়েত অনন্যপায় হয়ে, ইচ্ছার বাইরে যাঁরা বাবা- মাকে বৃদ্ধাশ্রমে
পাঠান, তাঁদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যাঁরা নিজের পর্যাপ্ত সম্পদ ও সময় সুযোগ
থাকার পরও শুধু অবহেলা করে পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়ে ভুলে
যান, তাঁদের স্মরণ রাখা দরকার, এমন সময় তাঁদের জীবনেও আসতে পারে। যে
বাবা-মা একসময় নিজে না খেয়েও সনত্মানকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন, তাঁরা আজ
কোথায় কেমন আছেন সেই খবর নেয়ার সময় যাঁর নেই তাঁর নিজের সনত্মানও হয়ত
একদিন তাঁর সঙ্গে এমনই আচরণ করবে। বিভিন্ন উৎসবে, যেমন ঈদের দিনেও যখন
তারা তাদের সনত্মানদের কাছে পান না, সনত্মানের কাছ থেকে একটি ফোনও পান
না, তখন অনেকেই নীরবে অশ্রম্নপাত করেন আর দীর্ঘশ¡াস ছাড়েন। এমনকি সেই
সনত্মানকে অভিশাপ দিয়ে কামনা করেন, তাঁর সনত্মান তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করল,
ভবিষ্যতে তাঁর ছেলের সনত্মানও যেন একই আচরণ করে।
একদিন যে সন্তানের জন্য বাবা-মা ছিলেন স্নেহময়, যে সন্তান একটু আঘাত
পেলেই বাবা হয়ে উঠতেন চিন্তিত। যে সন্তানকে নিজে হাত দিয়ে খাইয়ে দিয়েছেন,
কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন এবং কখনই নিজের অসুবিধার কথা সন্তানদের বুঝতে
দেননি। আজকাল সমাজে এমন কিছু সন্তান দেখা যায়, যারা কি না মা-বাবার এতোসব
আদর-যত্নের কথা ভুলে মা-বাবাকে ঠেলে দেয় অজানা গন্তব্যে। বৃদ্ধ ও অসহায় বলে তাদের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রমে। ঘরের মধ্যে সবার থাকার জায়গা হলেও এখানে বৃদ্ধ মা-বাবার জায়গা হয় না। আসলে একজন মা-বাবা তার সন্তানদের জন্য যা করেন, তা তাদের পক্ষে সারা জীবনেও শোধ করা সম্ভব নয়। বুড়ো বয়সে এসে তারা চায় একটু শান্তি, ভালোবাসা ও স্নেহ। এ বয়সে একটু আদর-যত্ন পেলেই তারা খুশি হন। মা-বাবা চান সন্তানরা যেন তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে।
আমাদের মনে রাখা উচিত আজ যিনি সন্তান, তিনিই আগামী দিনের পিতা কিংবা মা। বৃদ্ধ বয়সে এসে মা-বাবারা যেহেতু শিশুদের মতো কোমলমতি হয়ে যায়, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীবনযাত্রার পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। আর যেন কখনো কোনো পতা-মাতার ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের জন্য তৈরি করতে হবে একটা নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী।
আসলে মা-বাবা তার সন্তানদের জন্য যা করেন, তা তাদের পক্ষে সারা জীবনেও
শোধ করা সম্ভব নয়। বুড়ো বয়সে এসে তারা চান একটু শান্তি, ভালোবাসা ও স্নেহ। এ বয়সে একটু আদর-যত্ন পেলেই তারা খুশি হন। মা-বাবা চান সন্তানরা যেন তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে। আমাদের মনে রাখা উচিত, আজ যিনি
সন্তান, তিনিই আগামী দিনের পিতা কিংবা মা। বৃদ্ধ বয়সে এসে মা-বাবারা যেহেতু শিশুদের মতো কোমলমতি হয়ে যায়, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীবনযাত্রার
পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। আর যেন কখনো কোনো পিতা-মাতার ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের জন্য তৈরি করতে
হবে একটা নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী।

 

লেখক :  মহা সচিব- “কলামিস্ট ফোরাম অফ বাংলাদেশ“। 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বিশ্ব মরুময়তা ও অনাবৃষ্টি প্রতিরোধ দিবস কি, কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন।

আজ বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ববাসীর চোখের সামনে মরুকরণ সম্পর্কে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা। মরুকরণ এবং খরা মোকাবেলা করার বিশ্ব দিবস হল একটি জাতিসংঘের পালন যা প্রতি বছর ১৭ জুন পালিত হয়।  এর উদ্দেশ্য হল মরুকরণ এবং খরার উপস্থিতি সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, মরুকরণ প্রতিরোধের পদ্ধতিগুলি হাইলাইট করা এবং খরা থেকে পুনরুদ্ধার করা।  প্রতি বছরের বৈশ্বিক উদযাপনের একটি অনন্য, অভিনব জোর রয়েছে যা আগে গড়ে ওঠেনি।  ১৯৭৫ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের পক্ষ থেকে খরা ও মরুকরণের প্রতি সোচ্চার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৯৫ সাল থেকে ১৭ জুন বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হচ্ছে। এই দিনটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রেজোলিউশন A/RES/৪৯/১১৫ দ্বারা ৩০ জানুয়ারী, ১৯৯৫ তারিখে ঘোষণা করা হয়েছিল, যেদিন মরুকরণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জাতিসংঘ কনভেনশনের খসড়া তৈরি করা হয়েছিল।

টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা ঘোষণা করে যে “আমরা গ্রহটিকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যার মধ্যে রয়েছে টেকসই ব্যবহার ও উৎপাদন, টেকসইভাবে এর প্রাকৃতিক সম্পদ পরিচালনা করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে এটি বর্তমানের চাহিদাগুলিকে সমর্থন করতে পারে এবং  ভবিষ্যত প্রজন্মের”.  বিশেষভাবে, SDG লক্ষ্য ১৫ : ল্যান্ড অন লাইফ ভূমির অবক্ষয় বন্ধ করতে এবং বিপরীত করার জন্য জাতিসংঘ এবং SDG স্বাক্ষরকারী দেশগুলির সংকল্পকে বলে।

 

 

মরুকরণ মোকাবেলায় জাতিসংঘের কনভেনশন (UNCCD)

 

মরুকরণ এবং খরার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য, ১৯৯৪ সালে ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন টু কমব্যাট মরুকরণ (UNCCD) স্থাপিত হয়েছিল। এটি একমাত্র আইনিভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি যা পরিবেশ এবং উন্নয়নকে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত করে।  ইউএনসিসিডির লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী কর্মকাণ্ডকে একত্রিত করা এবং মরুকরণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং খরার প্রভাব কমানোর জন্য জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা তৈরিতে দেশগুলিকে সহায়তা করে। তবে, জাতিসংঘ এ দিবসকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানালেও দুঃখজনকভাবে দেশে দিবসটি ততটা গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয় না। ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও নেই তেমন উদ্যোগ।

 

 

আজকের পৃথিবীতে পরিবেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মরুকরণ। জাতিসংঘের দেয়া তথ্যমতে, পৃথিবীর প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ক্ষয়িষ্ণু ভূমির ওপর নির্ভরশীল। আর পৃথিবীর অতিদরিদ্রদের ৪২ ভাগই বাস করে ক্ষয়ে যাওয়া এলাকায়, যারা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। পৃথিবী প্রতিনিয়ত তার রূপ পাল্টাচ্ছে। আর পৃথিবীবাসীর জন্য অশনি সংকেতস্বরূপ সিডর, সুনামি, ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যাসহ বিভিন্ন রকমের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে দুর্যোগ আকারে। এর ফলে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ, ক্ষতির মুখে পড়ছে মাঠ-ফসল; বাড়ছে জনসংখ্যা, বাড়ছে খাদ্যসংকট। তবে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে জলবায়ুর কুপ্রভাবে বিশ্বে মরুকরণ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দিন দিন আমাদের ফসলি জমি কমে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য; একই সঙ্গে উজাড় হচ্ছে গাছপালা ও বন-জঙ্গল। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন যেমন আমাদের ফসলি জমি কমছে, তেমনি খরায় উর্বরতা হারাচ্ছে জমি। এ অবস্থায় পরিবেশের প্রতি মনোযোগী হওয়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।মরুকরণ সমস্যাটি বিশাল এক ক্ষতিকর ভৌগোলিক পরিবর্তনের নাম। এজন্য এখনই প্রয়োজন মরুকরণ বিস্তার রোধকল্পে সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

 

 

জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা যদি এভাবে বেড়ে যায়, তাহলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। এতে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, সুপেয় জল ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি তাদের অধিকার, গৃহায়ন ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা হুমকির মুখে পড়বে। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি উপসাহারীয় আফ্রিকায় খরার কারণে প্রায় ৩০ লক্ষ লোকের মৃত্যু ঘটে। সুতরাং মরুকরণ সমস্যাটি বিশাল এক ক্ষতিকর ভৌগোলিক পরিবর্তনের নাম। মরুময়তা ঠেকাতে অধিক পরিমাণে গাছ লাগানোর কথা বলা হয়। যদিও আদতে গাছ আপনারই উপকার করবে। গাছের ফল যেমন আপনি প্রজন্মান্তরে খেতে পারেন। আন্তর্জাতিকভাবে যত পরিকল্পনাই নেওয়া হোক ব্যক্তিগতভাবে তার বাস্তবায়ন না করলে তা পরিকল্পনায়ই থেকে যাবে। বিশেষ করে প্রত্যেকে পরিবেশের প্রতি সচেতন হয়ে প্রত্যেকটি কাজ পরিবেশসম্মতভাবে করলে তা যেমন ব্যক্তির লাভ, তেমনি পরিবেশেরই লাভ। মানুষ যখনই পরিবেশের সঙ্গে নির্দয় আচরণ করে তখনই পরিবেশ তার প্রতিশোধ নেয়। সিডর, আইলাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী আমরা। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার চিত্রও দেখা যায়। এমনকি নেপালের মতো ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হওয়াও হয়তো অসম্ভব নয়।

 

 

কিন্তু যত দিন যাচ্ছে আমাদের যেনো কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধের অঙ্গীকার না করে নির্বিচারে গাছপালা নিধন করে চলেছি। যার ফলসরুপ দেখা দিচ্ছে ভূমিক্ষয়, বৃষ্টি হীনতা, ও নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আর এর ফল ভুক্তে হচ্ছে অমদেরকেই।

বাড়ির পরিবেশ ঠিক রাখতে আমরা এসি লাগিয়ে আরাম করছি। কাজের গতি বাড়াচ্ছি। শান্তির ঘুমে স্বপ্ন সুন্দর হয়ে উঠছে। আমরা পৃথিবীর কথা ভাবছি না। শহর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গড়ে উঠছে সভ্যতার বিশ্বায়ন আর ঠিক তখনই ধ্বংস হচ্ছে সবুজ। গাছের থেকে বড় বন্ধু এই পৃথিবীতে আর তেমন নেই।

 

 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দিন দিন আমাদের ফসলি জমি কমে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য; একই সঙ্গে উজাড় হচ্ছে গাছপালা ও বন-জঙ্গল। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন যেমন আমাদের ফসলি জমি কমছে, তেমনি খরায় উর্বরতা হারাচ্ছে জমি। এ অবস্থায় পরিবেশের প্রতি মনোযোগী হওয়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখন ই যদি সচেতন না হই আমরা তা হলে আগামী দিনে নেমে আসবে আরো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আগামী প্রজন্ম সম্মুখীন হবে অস্তিত্তের সংকটে। তাই আসুন এই বিশেষ দিনে আমরা সকলে শপথ নেই প্রকৃতিকে রক্ষার।

 

 

বার্ষিক থিম—-

 

২০২৩ – তার জমি।  তার অধিকার.

২০২২ – একসাথে খরা থেকে উঠে আসা

২০২১ – পুনরুদ্ধার, জমি এবং পুনরুদ্ধার।  আমরা সুস্থ জমি দিয়ে আরও ভালভাবে গড়ে তুলি

২০২০ – খাদ্য।  খাওয়ান।  ফাইবার – খরচ এবং জমির মধ্যে সংযোগ

২০১৯ – আসুন ভবিষ্যত টি ফার্টস বাড়াই)

২০১৮ – জমির প্রকৃত মূল্য আছে।  এতে বিনিয়োগ করুন

২০১৭ – ভূমি ক্ষয় এবং অভিবাসনের মধ্যে লিঙ্ক (সিরিয়ার কৃষি ব্যবস্থার পরিবেশগত কারণে ব্যর্থতার পর সিরিয়ার ব্যাপক দেশত্যাগের আলোকে) #2017WDCD

২০১৬ – পৃথিবী রক্ষা করুন।  জমি পুনরুদ্ধার করুন।  মানুষ জড়িত.

২০১৫ – টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন।  – “ফ্রি লাঞ্চ বলে কিছু নেই। সুস্থ মাটিতে বিনিয়োগ করুন”

২০০৯ – জমি এবং শক্তি সংরক্ষণ = আমাদের সাধারণ ভবিষ্যত সুরক্ষিত

২০০৮ – টেকসই কৃষির জন্য ভূমি ক্ষয় মোকাবিলা

২০০৭ – মরুকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন – একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

২০০৬ – মরুভূমির সৌন্দর্য – মরুকরণের চ্যালেঞ্জ

২০০৫ – নারী ও মরুকরণ

২০০৪ – মরুকরণের সামাজিক মাত্রা: মাইগ্রেশন এবং দারিদ্র

২০০৩ – মরুভূমি এবং মরুকরণের আন্তর্জাতিক বছর (IYDD)

২০০২ – জমির অবক্ষয়

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতের রসায়ন শিল্পের প্রথম পথিকৃত আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় :: প্রশান্ত কুমার দাস।।।।

বাংলার মাটিতে যে কজন বিজ্ঞানী জন্ম গ্রহণ করে তাদের গবেষণা ও কর্মধারায় উজ্জ্বল ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় । তিনি শুধু বিজ্ঞানী এবং রসায়নবিদ ছিলেন না, তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষক, দার্শনিক, শিল্পপতি, কবি, এবং লোকহিতৈষী।

তার জন্ম অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলায় রারুলী নামক (বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত) স্থানে ১৮৬১ সালের ২রা আগস্ট । পিতা হরিশচন্দ্র রায় এবং মাতা ভুবনমোহন দেবী। বাবা স্থানীয় জমিদার ছিলেন। বনেদি পরিবারের সন্তান প্রফুল্ল চন্দ্রের ছোটবেলা থেকেই সব বিষয়ে তুখোড় বুদ্ধি ছিলো। ১৮৭২ সালে বাবা কলকাতায় এনে হেয়ার স্কুলে ভর্তি করান । কিন্তু রক্ত আমাশায় রোগে ভুগতে থাকেন, তাই আবার গ্রামে ফিরে যান । সেখানে বাবার নিজস্ব গ্রন্থাগারে বিভিন্ন বই পাঠ করতে থাকেন। এতে তার আলাদা জ্ঞান-চক্ষু খুলে যায়। এরপর ১৮৭৪সালে আবার কলকাতায় ফিরে আসেন। এবার তিনি অ্যালবাট স্কুলে ভর্তি হন। তিনি এই আলবার্ট স্কুল থেকেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করেন। এরপরে মেট্রোপলিটন কলেজে ভর্তি হয়ে এফ এ পাশ করেন । এরপর প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হয়ে বি.এ পাশ করে গিলক্রিষ্ট বৃত্তি নিয়ে স্কটল্যন্ডে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে যান। এবং সেখান থেকেই B.Sc (1887) পাশ করেন। পরে সেখানে ডি.এস.সি ডিগ্রী লাভের জন্য গবেষণা শুরু করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল-কপার ম্যাগনিসিয়াম শ্রেণীর সম্মিলিত সংযুক্তি পর্যবেক্ষণ। দুই বছরের কঠোর সাধনায় তিনি গবেষনা সমাপ্ত করেন এবং পি.এইচ.ডি ও ডি.এস.সি ডিগ্রী একসাথে লাভ করেন। তার এই গবেষনাপত্রটি শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হওয়ায় তাঁকে “হোপ” প্রাইজে ভূষিত করা হয়।ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৮৮৮ সালে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফিরে প্রেসিডেন্সি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন এবং প্রায় ২৪ বছর এই কলেজে অধ্যাপনা করেন। এখানে তিনি রসায়ন নিয়ে নতুন নতুন গবেষণা শুরু করেন। তাঁর উদ্দ্যোগে তাঁর নিজস্ব গবেষণা থেকেই বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা তৈরী করেন ।পরবর্তীকালে ১৯০১ সালে কলকাতার মানিকতলায় ৪৫ একর জমিতে এই কারখানা স্থানান্তরিত করেন। এর নতুন নামকরণ হয় বেঙ্গল কেমিক্যালস এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড।
শুধু তাই নয়, প্রফুল্লচন্দ্র রায় নিজের বাসভবনে দেশীয় ভেষজ নিয়ে গবেষনার কর্ম শুরু করেন। এই গবেষণাস্থল থেকেই পরবর্তীকালে বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা সৃষ্টি হয় যা ভারতের শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা গ্রহণ করে। তাই বলা যায় , বিংশ শতকের গোড়ায় ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য । ১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস (HgNo2) নাইট্রেট আবিষ্কার করেন,
যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি সারাজীবনে ১২ টি যৌগিক লবন ,৫টি থায়োএষ্টার আবিষ্কার করেন।
অন্যদিকে সমবায়ের পুরোধা প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৯০৯ সালে নিজ জন্মভূমিতে একটি কো-অপারেটিভ ব্যঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৩ সালে তিনি পিতার নামে হরিশচন্দ্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন ।এছাড়া বাগেরহাট জেলায় ১৯১৮ সালে পি.সি.কলেজ নামে একটি কলেজের প্রতিষ্ঠা করেন।
শিক্ষক হিসাবেও তিনি আচার্য নামে পরিচিত ছিলেন । তিনি ইংল্যণ্ড থেকে সি.আই.ই উপাধি লাভ করেন। ১৯১১ সালে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট উপাধি দেয়। পরে মহীশূর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট হন। তিনি ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নাইট উপাধি লাভ করেন।
তিনি লেখক হিসাবেও সুপরিচিত ছিলেন-
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল –
১। ভারতঃ-সিপাহী বিদ্রোহের আগে এবং পরে ।
২. সরল প্রাণীবিজ্ঞান,বাঙ্গালী মস্তিষ্ক ও তার অপব্যবহার।
৩. হিন্দু রসায়নী বিদ্যা ইত্যাদি ।মোট ১৪৫টি গবেষণাপত্র করেছিলেন।
তাঁর দেশের প্রতি এবং বাংলার ভাষার প্রতি অগাধ প্রেম ও ভক্তির পরিচয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। তিনি ক্লাসে পড়ানোর সময়ে বাংলায় লেকচার দিতেন। বাংলা ভাষা তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে ছিল। তার বাচনভঙ্গি এতো অপূর্ব ও প্রাণচাঞ্চল্য ছিলো যে সকল ছাত্র মনোমুগ্ধ হয়ে শুনতো। তার দুই উল্লেখযোগ্য ছাত্র হলেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও মেঘনাদ সাহা। তিনি ছিলেন এক উদারপন্থী এবং অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার আদর্শে বিশ্বাসী । ১৯৪৪সালে ১৬জুন কলকাতায় এই বিখ্যাত বিজ্ঞানী পরলোক গমন করেন। বাংলায় বিজ্ঞানের প্রসারে, শিল্পায়নে, শিক্ষাক্ষেত্রে যে সব মহান বিজ্ঞানী চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তাদের মধ্যে প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এক উল্লেখযোগ্য নক্ষত্র এবং ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Share This