Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

কর্তাভজা সম্প্রদায় ও কল্যাণীর সতীমার দোল মেলা : দিলীপ রায়।।।

যতদূর জানা যায়, আনুমানিক দুশো বছর আগে আউলিয়া সম্প্রদায়ের সতীমা অর্থাত্‍ সরস্বতী দেবী এই মেলার প্রবর্তন করেন । এপার বাংলা ও বাংলাদেশে যথেষ্ট জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষপাড়ার সতীমার দোল মেলা । খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলার অন্ত্যজ সম্প্রদায়ের মানুষদয়ের নিয়ে গড়ে ওঠে আউলচাঁদ সম্প্রদায় ।

এই সম্প্রদায়ের আদিগুরু ছিলেন আউলচাঁদ । তাঁর মৃত্যুর পর আউলচাঁদ সম্প্রদায়ের কর্তাপদ লাভ করেন রামশরণ পাল । তাঁরই স্ত্রী ছিলেন সরস্বতী দেবী যিনি পরবর্তীকালে সতী মা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন ।
বাউল, কীর্তন, লোকগীতি, পল্লীগীতির সুরে প্রতি বছর মেলা জমে ওঠে । আখড়ায় আখড়ায় সারা রাত ধরে গানের আসর । শ্রোতারা অধিকাংশই গ্রাম ও মফঃস্বলের । বিভিন্ন জায়গায় তৈরী হয় লালন মঞ্চ । গানের পাশাপাশি বিশাল উনুন জ্বালিয়ে ক্ষুন্নিবৃত্তির ব্যবস্থা হয় ঐ আখড়াগুলিতে । দূরদূরান্ত থেকে মেলায় আগত মানুষদের আশ্রয়স্থল এই আখড়াগুলি ।
এবার আসছি কর্তাভজা সম্প্রদায় প্রসঙ্গে ।
কর্তাভজা সম্প্রদায় আঠারো শতকে বৈষ্ণববাদ ও সুফিবাদ থেকে বিকশিত একটি ক্ষুদ্র ধর্মীয় সম্প্রদায় । এই সম্প্রদায়ের মূল গুরু আউল চাঁদ ।
প্রথমেই বলি, আউলচাঁদ হলেন একজন বাঙালি ধর্ম প্রচারক ও কর্তাভজা সম্প্রদায়ের আদিগুরু । কিংবদন্তি বা লোকবিশ্বাস যে, গোরাচাঁদ অর্থাত্‍ শ্রীচৈতন্যদেব আউলচাঁদ রূপে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছেন । গৃহী মানুষকে বৈরাগ্য ধর্ম শেখাতে শ্রীচৈতন্য আবির্ভূত হন আউল চাঁদ ফকির হয়ে । এখানে তাই কোনো জাতিভেদ নেই ।
আউলচাঁদের জন্ম-খ্রিষ্টাব্দ নিয়ে অনেক মতভেদ । শোনা যায়, তিনি হিন্দু না মুসলমান সেটা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি । তবে প্রচলিত লোক কাহিনী অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার উলা গ্রামের (অনেকের মতে, নদীয়া জেলার প্রাচীন জনপদ উলা-বীরনগর) পান ক্ষেত থেকে একটি নবজাতক শিশুকে পাওয়া যায় । ক্ষেতের মালিক মহাদের বারুই ভগবানের আশীর্বাদ ভেবে তাঁকে লালন-পালন শুরু করেন । আউলচাঁদের পুরানো নাম পূর্ণচন্দ্র । সংস্কৃত ভাষা শেখানোর জন্য তাঁকে পাঠানো হয় সে-সময়কার বিখ্যাত বৈষ্ণবাচার্য হরিহরের কাছে । বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণচন্দ্র নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ান এবং নানাভাবে শিক্ষালাভ করেন । শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধিলাভ করেন । তাঁর নতুন নাম হয় ফকিরচাঁদ বা আউলচাঁদ । বড় হয়ে আউলচাঁদ গৃহত্যাগ করেন । বহু দেশ ঘোরার পর নদীয়া জেলার ঘোষপাড়ায় রামশরণ পাল নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় দেন । আউল চাঁদের ২২জন শিষ্যের মধ্যে অন্যতম শিষ্য রামশরণ পাল । ২২জনের মধ্যে রামশরণ পাল আউলচাঁদের মৃত্যর পর গুরুপদ প্রাপ্ত হন । যারজন্য তাঁর নেতৃত্বে পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার ঘোষপাড়ায় প্রতিষ্ঠা করেন কর্তাভজা ধর্মের অন্যতম পীঠস্থান, যা পরবর্তী সময়ে সতী মায়ের মন্দির নামে সবার কাছে পরিচিত । রামশরণ পালের স্ত্রীর নাম সরস্বতী, যার নামেই এই মন্দির—-সতী মায়ের মন্দির । কথিত আছে, সরস্বতী’র প্রথম অক্ষর “স” আর শেষ অক্ষর “তী” অনুসারে সতী । আউলচাঁদের শিষ্য রামশরণ পাল গুরুর ভাবাদর্শকে ভিত্তি করে কর্তাভজা সম্প্রদায় গড়ে তোলেন । এইজন্য ভক্তের নিকট তিনি “কর্তা” এবং তাঁর স্ত্রী সরস্বতী দেবী “কর্তামা” নামে অভিহিত । রামশরণ পালের পর সরস্বতী দেবী এই সম্প্রদায়কে নেতৃত্ব দেন । রামশরণ পালের স্ত্রী কর্তাভজা সম্প্রদায়কে দিশা দেখান । রামশরণের স্ত্রী সরস্বতী দেবী ছিলেন অতীব ধর্মপরায়ণা । শোনা যায়, আউলচাঁদ হিম সাগরের জল ও ডালিম গাছের তলার মাটির সাহায্যে সরস্বতী দেবীকে অলৌকিক উপায়ে মৃত্যের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন । আরও শোনা যায়, আউলচাঁদ নাকি রামশরণ পাল ও সরস্বতী দেবীর সন্তান হয়ে পরবর্তীতে জন্ম নেন “দুলাল চাঁদ” নামে । দুলাল চাঁদ (১৭৭৬-১৮৩৩) কর্তাভজা সম্প্রদায়কে সাংগঠনিক রূপ দেন । তিনি বহু পদ রচনা করে কর্তাভজা ধর্মমতকে একটা তাত্ত্বিক কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত করেন । পদগুলি ভাব-গীত-রূপে ভক্তদের নিকট সমাদৃত । কর্তাভজারা কোনো জাতিভেদ মানেন না । তাঁরা লোভ-মোহ-কাম-ক্রোধকে নৈতিক পাপ বলে মনে করেন । সত্‍ পথে থেকে এবং মিথ্যা কথা পরিহার করে নৈতিকভাবে ধর্মকর্ম করা তাঁদের প্রধান লক্ষ্য । তাঁর সময়ে কর্তাভজা সম্প্রদায়ের খ্যাতি বহুদূর পর্যন্ত গড়ায় । মাত্র ৪৮ বছর বয়সে দুলাল চাঁদের মৃত্যু হয় । এরপর তাঁর মা অর্থাত্‍ সরস্বতী দেবী কর্তা মা বা সতীমা নামে খ্যাতিলাভ করেন ।
নদীয়া জেলার ঘোষপাড়ার রামশরণ পালের আদি ভিটেটুকু ভক্তদের কাছে অতি পবিত্র । ভিটের পাশেই ডালিম গাছ । এই গাছের নীচে যেহেতু সতীমা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সেইজন্য ভক্তরা ডালিম গাছের ডালে ঢিল বেঁধে মানত করেন । মনস্কামনা পূরণ হওয়ার আশায় । বাতাসা, কদমা, চিড়ে, মুড়কি দিয়ে নৈবেদ্য সাজিয়ে ভক্তদের সতীমাকে পুজো দেওয়ার রীতি । আজও সেই ট্রাডিশন অব্যাহত ।
জনশ্রুতি, শেষ বয়সে সরস্বতী দেবী সন্তানহারা হলে দোলপূর্ণিমার দিন গুরু পুজার আয়োজন করেন । সেই থেকে দোল পূর্ণিমার সূচনা । হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাউলেরা আসেন । তাই স্থানীয়ভাবে সতী মায়ের মেলাটা আউল-বাউলের মেলা বা আখড়া নামে পরিচিত ।
কর্তাভজা সম্প্রদায় মূর্তিপুজা এবং সকল প্রকার আনুষ্ঠানিক যাগযজ্ঞের বিরোধী । কর্তাভজা প্রচারক দুলাল চাঁদ রচিত ভাবের গীতে বলা হয়েছে– “মানুষ ভজ, মানুষ চিন্ত, মানুষ কর সার, সকলি মানুষের খেলা মানুষ বই নাই আর ।” কর্তাভজা সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য দিক হলো এখানে হিন্দু গুরুর মুসলমান শিষ্য যেমন আছেন, তেমনি আছেন মুসলমান গুরুর হিন্দু শিষ্য । এই সম্প্রদায়ে নারী পুরুষ নেতৃত্ব নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা হয় না । এই কারণে গুরুদেবের ভূমিকায় নারী পুরুষ উভয়কেই দেখা যায় । একই ভাবে তাঁরা বাউল সম্প্রদায়ের মতো জাতিভেদ প্রথা মানেন না । দুলাল চাঁদের ভাবের গীতে তাই বলা হচ্ছে– “ভেদ নাই মানুষে মানুষে, খেদ কেন ভাই এদেশে ।”
সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় কর্তাভজা সম্প্রদায়ে । এ-বিষয়ে কবি নবীন চন্দ্র সেনের বক্তব্য অত্যন্ত প্রনিধানযোগ্য । তাঁর মতে, “কর্তাভজা সম্প্রদায়ে কোনো জাতিভেদ নেই । সকলেই এক রন্ধনশালার পাক গ্রহণ করেন । ছোঁয়াছুয়ির দোষ এদের কাছে মুখ্য নয় । মানুষ সেবা তাঁদের মুখ্য বিবেচ্য বিষয় ।”
কর্তাভজাদের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো গুরুদেবের পুত্র অযোগ্য হলে তাঁরা তাকে গুরু নির্বাচন করতে চান না । তাঁদের নিয়মাবলী নামক ভাবের গীতে এই প্রসঙ্গে অভিমত ব্যক্ত করে বলা হয়েছে কর্তাভজা সম্প্রদায়ের সাধন ভজন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন এমন ব্যক্তিই গুরুদেব হবার অধিকারী । এই জায়গায় কর্তাভজা সম্প্রদায় বর্ণবাদ এবং ব্রাহ্মণ্যবাদের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছেন ।
আজও কর্তাভজা সম্প্রদায়ের মধ্যে সতীমায়ের কৃপা পাওয়ার নিরিখে যথেষ্ট উন্মাদনা । তাঁদের মধ্যে সরল বিশ্বাস ও ভক্তি আজও উজ্জীবিত । যার জন্য দোল পূর্ণিমার দিন সতী মায়ের মেলায় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে । এদেশ ছাড়া বাংলাদেশ থেকেও মেলাপ্রাঙ্গনে অনেক মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো । বাউলদের সমারোহ আলাদা মাধুর্যে ভরপুর থাকে কল্যাণীর সতী মায়ের মেলা । (তথ্যসূত্র: সংগৃহীত) ।
কলমে: দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান – মহিষাদল রাজবাড়ি।।।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, একটি স্থাপত্য বিস্ময় এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাথমিকভাবে জনার্দন উপাধ্যায়কে (গর্গ) থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, ব্যবসায়িক ব্যস্ততার জন্য এই এলাকায় ঘন ঘন দর্শনার্থী, এই প্রাসাদটি এখন ঐতিহাসিক তাৎপর্যের আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করে।

এর প্রাঙ্গনে রয়েছে শ্রদ্ধেয় কৃষ্ণ মন্দির, যা গোপালজী মন্দির নামে পরিচিত, রাজকীয় স্থাপত্যের মহিমার মধ্যে আধ্যাত্মিকতার একটি অভয়ারণ্য।
রানী জানকি দেবীর শাসনামলে নির্মিত, মন্দিরটি শুধুমাত্র ভগবান কৃষ্ণের পূজাই করে না বরং সেই সময়কার সমন্বিত ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রদর্শন করে ভগবান শিবের মূর্তিও রয়েছে। প্রবেশদ্বারের পাশে আরও দুটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো রয়েছে – জগন্নাথ মন্দির এবং নাটমন্দির, প্রতিটি কমপ্লেক্সের আধ্যাত্মিক পরিবেশে স্তর যুক্ত করে।
প্রাসাদ কমপ্লেক্স দুটি প্রধান কাঠামোতে বিভক্ত: পুরানো প্রাসাদ এবং এর নতুন প্রতিরূপ। পরেরটি বর্তমানে রাজপরিবারের বংশধরদের দখলে রয়েছে, উত্তরাধিকারকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রাসাদে দর্শনার্থীরা নিচতলার কক্ষগুলি অন্বেষণ করতে পারেন, যেখানে নিদর্শনগুলির একটি আকর্ষণীয় সংগ্রহ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টাফড প্রাণী, সূক্ষ্ম পেইন্টিং এবং অ্যান্টিক আসবাবপত্র, যা অনুরোধের ভিত্তিতে দেখার জন্য উপলব্ধ, যা এর প্রাক্তন বাসিন্দাদের ঐশ্বর্যময় জীবনধারার একটি আভাস দেয়।
এই প্রাসাদের মধ্যে ঐশ্বরিক পবিত্রতা এবং রাজকীয় জীবনযাপনের সংমিশ্রণ উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক প্যানোরামার সারাংশকে ধারণ করে। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে অতীত এবং বর্তমান একত্রিত হয়, যারা এই অঞ্চলকে রূপ দিয়েছে এমন গল্প এবং ঐতিহ্যগুলিকে খুঁজে পেতে আমন্ত্রণ জানায়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস : জানুন এই রোগের কারণ, লক্ষণ ও দিনটি পালনের গুরুত্ব।।।

প্রাতি বছর ২৪ মার্চ যক্ষ্মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ ডা. রবার্ট কক, যক্ষ্মা রোগের জীবাণু মাইক্রোব্যাটেরিয়াম টিউবারকিউলসিস আবিষ্কার করেন। যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিষ্কারের ১০০ বছর পর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ, জীবাণু আবিষ্কারের দিনটিকে স্মরণীয় করা ও যক্ষ্মা রোগের চিকিত্‍সা সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হচ্ছে।

যক্ষ্মা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য একটি দিন উত্‍সর্গ করা গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এটি একটি পুরানো রোগ বলে মনে হলেও, বিশ্বের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ এখনও এটিতে ভুগছে।
২০১৬ সালে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ টিবিতে সংক্রমিত হয়েছিল, সারা বিশ্বে ২ বিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১.৭ মিলিয়নের টিবি-জনিত রোগে মৃত্যু হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সারা বিশ্বের যক্ষ্মা সংক্রান্ত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য পেয়েছে ভারত।বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মার প্রকোপ দূর করতে যক্ষ্মা দিবস সচেতনতা সৃষ্টির সুযোগ আনে। এ দিবস যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করে। সাম্প্রতিক সময়ে যক্ষ্মার সংক্রমণ ও যক্ষ্মারোগে মৃত্যুর ঘটনা প্রশংসনীয় হারে কমে এসেছে। ১৯৯০ সালের পর যক্ষ্মা রোগে নিহতের সংখ্যা ৪০ ভাগ কমে এসেছে। এখনও কমছে। দ্রুত যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিত্‍সার কারণে যক্ষ্মার প্রকোপ কমে আসছে। তবে এখনও যক্ষ্মা সারা বিশ্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
যক্ষ্মা বা যক্ষা (টিউবার্‌কিউলোসিস্‌ বা টিবি) একটি সংক্রামক রোগ যার কারণ মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামের জীবাণু। “যক্ষ্মা” শব্দটা এসেছে “রাজক্ষয়” থেকে। ক্ষয় বলার কারণ এতে রোগীরা খুব শীর্ণ (রোগা) হয়ে পড়েন । যক্ষ্মা প্রায় যেকোনও অঙ্গে হতে পারে (ব্যতিক্রম কেবল হৃত্‍পিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, ঐচ্ছিক পেশী ও থাইরয়েড গ্রন্থি)। যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশী দেখা যায় ফুসফুসে। গরুর দুধ পাস্তুরায়ণ প্রচলনের আগে অন্ত্রেও অনেক বেশি হত।
একটি আশঙ্কাজনক তথ্য হচ্ছে, বিশ্বের ৪ ভাগের ১ ভাগ মানুষের শরীরে যক্ষ্মা রোগের জীবানু সুপ্ত থাকে। তার মানে হল ওই মানুষগুলো জীবানুতে আক্রান্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা অসুস্থ হননি। এই আক্রান্তদের ৫-১৫ % শতাংশ সারা জীবন ধরেই রোগের শিকার হবার আশঙ্কা থেকে যায়।
কারণ—
ডায়াবেটিসের রোগীদের মধ্যে যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে; ক্যান্সারও যক্ষ্মার অন্যতম কারণ; শরীরের কোনও অংশ ট্রান্সপ্লান্টের পর যে সমস্ত ওষুধ খাওয়া হয়, তার কারণেও যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়; পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এই রোগের অন্যতম কারণ; যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এই রোগ হতে পারে; অধিক ধূমপান ও মাদকাসক্তিও যক্ষ্মার আর একটি কারণ।
লক্ষণ—
ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে হাল্কা জ্বর ও কাশি হতে পারে। কাশির সঙ্গে গলার ভিতর থেকে থুতুতে রক্তও বেরোতে পারে। মুখ না ঢেকে কাশলে যক্ষ্মা সংক্রমণিত থুতুর ফোঁটা বাতাসে ছড়ায়। আলো-বাতাসহীন অস্বাস্থ্যকর বদ্ধ পরিবেশে মাইকোব্যাক্টেরিয়াম অনেকক্ষণ বেঁচে থাকে।
সাধারনত তিন সপ্তাহের বেশি কাশি, জ্বর, কাশির সাথে কফ এবং মাঝে মাঝে রক্ত বের হওয়া, ওজন কমে যাওয়া, বুকে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি ফুসফুসের যক্ষার প্রধান উপসর্গ। যারা এইচ আইভি আক্রান্ত, অপুষ্টিতে ভোগে, ডায়বেটিস রয়েছে, অথবা যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শে আসলে,তাদের অসুস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি। থুতু নমুনা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা যক্ষ্মার জীবানু রয়েছে কিনা, পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া এক্সরে দ্বারা, জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়েও পরীক্ষা করা হয়।
নিরাময়ের কিছু ঘরোয়া উপচার—
কয়েকটি বিষয়ের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখলে এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তার জন্য প্রয়োজন সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ করা। চিকিত্‍সা না-করিয়ে ফেলে রাখলে এই রোগ উত্তোরত্তোর বৃদ্ধি পায়। সে ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া উপায় আছে, যা যক্ষ্মা ধরা পড়ার প্রথম দিকে মেনে চললে, লাভ পাওয়া যেতে পারে।
রোজ সকালে দু-তিন কোয়া রসুন চিবিয়ে খান। এমন করলে যক্ষ্মার লক্ষণ কমে, মধু ও মাখন শরীরের ক্ষয় আটকায়; ১০০ গ্রাম মাখনে ২৫ গ্রাম মধু মিশিয়ে রোজ খান; খাবার খাওয়ার পর লবঙ্গের গুড়োয় মধু মিশিয়ে খেলে সুফল পেতে পারেন; ২৫০ গ্রাম দুধে অশ্বত্থ পাতা দিয়ে ফোটান; সকাল-সন্ধে সেই দুধ পান করুন;কলা যক্ষ্মা রোগীদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে; রসুনের রসের সঙ্গে আধ চামচ মধু মিশিয়ে খান, রসুনের রস ফুসফুসকে মজবুত করে; যক্ষ্মা রুগীরা প্রতিদিন ১০০ বা ২০০ গ্রাম আঙুর খান।
যক্ষ্মা সম্পর্কে কিছু তথ্য—
অনেকেই জানেন না যে, যক্ষ্মা একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। যা বছরের পর বছর ধরে সনাক্ত করা যায় না অনেক সময়। যা রোগীর জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০১১ সালে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৮৭ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ১৪ লাখ। ৯৫ ভাগ মৃত্যু ঘটেছে গরিব ‍ও মধ্যআয়ের দেশসমূহে। গরিব শ্রেণির লোকেরা যক্ষ্মায় বেশি আক্রান্ত হয়েছে। তবে বায়ুবাহিত এ রোগ সব শ্রেণির মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
১৫-৪৪ বছর বয়সি নারীদের মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের একটি যক্ষ্মা। ২০১১ সালে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬৪ হাজার।
চাই যক্ষ্মামুক্ত জীবন ২০১২-১৩ সাল ছিল যক্ষ্মাবিরোধী দ্বিবার্ষিক ক্যাম্পেন চালানো হয়েছিল গোটা পৃথিবীতে। ওই দু’ বছর দিবসটি পালনের জন্য ‘যক্ষ্মা মুক্ত জীবন চাই’কে স্লোগান হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
তাই প্রতি বছর যক্ষ্মা রোগের ক্ষতিকর দিক বিশেষ করে স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই রোগটি নির্মূলে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর উত্তর সিকিমের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি অদ্ভুত গ্রাম – লাচুং।।।।

লাচুং, ভারতের উত্তর সিকিমের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি অদ্ভুত গ্রাম, ৯৬০০ ফুট উচ্চতায় গর্বিতভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যা পর্যটকদের প্রকৃতির কোলে নির্মল পালানোর প্রস্তাব দেয়। শ্বাসরুদ্ধকর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্যযুক্ত এই গ্রামটি সিকিমের রুক্ষ ভূখণ্ডের মধ্যে একটি বিস্ময়। গ্যাংটক থেকে লাচুং পর্যন্ত যাত্রাটি নিজেই একটি দুঃসাহসিক কাজ, যেখানে প্রতিটি মোড়ে প্রকৃতির মহিমা ফুটে ওঠে, যা এর দর্শকদের কাছে একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়।

একটি দর্শনীয় যাত্রা শুরু—
লাচুং যাওয়ার রাস্তাটি প্রকৃতির প্রাণবন্ত রঙে আঁকা একটি ক্যানভাস। ভ্রমণকারীরা যখন ঘূর্ণায়মান পথ দিয়ে হেঁটে বেড়ায়, তারা আকাশে চুম্বন করার জন্য ছুঁয়ে আসা সুউচ্চ পাইন, ফার এবং বিভিন্ন ধরণের রডোডেনড্রনের বিস্ময়কর দৃশ্য দ্বারা স্বাগত জানায়। তিস্তা নদী, তার উপনদী লাচুং এবং লাচেন সহ, যাত্রায় একটি সুরেলা ছন্দ যোগ করে, এই পাহাড়ি গ্রামের শান্ত পরিবেশকে বাড়িয়ে তোলে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আচ্ছন্ন একটি গ্রাম—

লাচুং, এর কম জনসংখ্যা এবং ঘন বন, প্রকৃতির গ্যালারিতে একটি মাস্টারপিস সেট বলে মনে হয়। এই মনোরম গ্রামটি কেবল শান্তির সন্ধানকারীদের জন্য নয় বরং এর লুকানো ধন অন্বেষণ করতে আগ্রহী অভিযাত্রীদের জন্যও একটি আশ্রয়স্থল। স্থানীয় গালিচা বুনন কেন্দ্র এবং রহস্যময় গুহাগুলি আবিষ্কৃত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাংস্কৃতিক রত্নগুলির মধ্যে মাত্র কয়েকটি, যা গ্রামের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের আভাস দেয়।

ইউমথাং উপত্যকার প্রবেশদ্বার—

লাচুং-এ একটি বিশ্রামের রাতের পর, যাত্রা শুধুমাত্র ২৩ কিমি দূরে মনোমুগ্ধকর ইয়ুমথাং উপত্যকার দিকে চলতে থাকে। ১১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত, ইয়ুমথাং উপত্যকা ঋতুর সাথে রূপান্তরিত হয়, শীতকালে একটি মুগ্ধকারী সাদা তুষারস্কেপ থেকে উষ্ণ মাসগুলিতে প্রবাহিত নীল নদীর দ্বারা বিছিয়ে সবুজের একটি সবুজ কার্পেটে। উপত্যকার প্রবেশদ্বারে একটি উষ্ণ প্রস্রবণের উপস্থিতি দর্শনার্থীদের জন্য একটি প্রাকৃতিক ট্রিট।

ইয়ুমথাং এর বাইরে অন্বেষণ—-

দু: সাহসিক কাজ Yumthang উপত্যকায় শেষ হয় না; ভ্রমণকারীরা ইউমেসামডং বা জিরো পয়েন্টে যেতে পারেন, ২৩ কিমি দূরে একটি শ্বাসরুদ্ধকর লোকেল। চীনা সীমান্তের নিকটবর্তীতা প্রবেশাধিকারকে সীমিত করে, তবে এই ১৫০০০ ফুট উচ্চতায় ভ্রমণটি অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পুরস্কৃত হয়। লাচুং থেকে আরেকটি পথ ২৪ কিমি দূরে একটি বরফের রাজ্য কাতাওতে নিয়ে যায়, স্থানীয় ড্রাইভার এবং ট্যুর এজেন্টদের দ্বারা সাজানো বিশেষ পারমিটের মাধ্যমে অ্যাক্সেসযোগ্য।

মৌসুমি জাঁকজমক এবং অ্যাক্সেসযোগ্যতা—-

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাচুং এর তুষারময় ল্যান্ডস্কেপ এবং আবার এপ্রিল-মে মাসে যখন ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস’ ইয়ুমথাং উপত্যকায় রডোডেনড্রন, প্রাইমুলা এবং অন্যান্য ফুলে ফুল ফোটে। সবুজ উপত্যকা এবং নীল নদী, তুষার-ঢাকা পাহাড়ের বিপরীতে স্থাপন করা, সারা বছর দর্শকদের কাছে টানতে থাকে। গ্যাংটক থেকে লাচুং পর্যন্ত ভ্রমণ বিভিন্ন প্যাকেজ ট্যুরের মাধ্যমে উপভোগ করা যেতে পারে, যা একটি নির্বিঘ্ন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

গ্যাংটক থেকে যাত্রা—

ভ্রমণকারীরা ২ রাত এবং ৩ দিন বা ৩ রাত এবং ৪ দিন স্থায়ী প্যাকেজ ট্যুরের মাধ্যমে গ্যাংটক থেকে লাচুং তাদের যাত্রা শুরু করতে পারে। এই প্যাকেজগুলি, ইউমথাং উপত্যকায় পরিদর্শনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ, একটি সর্ব-সমেত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে, মূল্য যথেষ্ট। যাত্রাটি সাধারণত লাচুং জিপ স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়, এমজি মার্গ থেকে নামমাত্র ভাড়া দিয়ে, সমস্ত অভিযাত্রীদের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্যতা নিশ্চিত করে।

লাচুং-এ থাকার ব্যবস্থা—-

লাচুং-এ থাকার ব্যবস্থা ট্যুর প্যাকেজের মধ্যেই দেওয়া হয়, আরামদায়ক থাকার জন্য হোটেলের বিকল্পগুলির একটি পরিসর দেওয়া হয়। লাচুং-এর নির্মল রাত শুধুমাত্র বিশ্রামেরই প্রতিশ্রুতি দেয় না বরং তারার আলোর নিচে গ্রামের শান্ত পরিবেশে এক নিমগ্ন অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়।

উত্তর সিকিম অভিযাত্রীদের জন্য ভ্রমণ টিপস—-

লাচুং সহ উত্তর সিকিমে ভ্রমণকারী যাত্রীদের গ্যাংটক থেকে পারমিট সুরক্ষিত করতে হবে, যা যথাযথ ডকুমেন্টেশন সহ সহজেই পাওয়া যেতে পারে। উপযুক্ত ওষুধ দিয়ে উচ্চতার জন্য প্রস্তুত হওয়া এবং ঝামেলা-মুক্ত পারমিট প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্টদের সাথে জড়িত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সতর্কতা সিকিমের উত্তরের ভান্ডারের একটি মসৃণ এবং উপভোগ্য অন্বেষণ নিশ্চিত করে।
উপসংহারে, লাচুং এর প্রাকৃতিক দৃশ্য, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং ইয়ুমথাং উপত্যকা এবং তার বাইরের দুঃসাহসিক পথ সহ প্রকৃতির আলিঙ্গনে একটি পালানোর প্রস্তাব দেয়। এই গ্রামটি, তার আশেপাশের বিস্ময় সহ, সিকিমের রুক্ষ ভূখণ্ডে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্যের প্রমাণ হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে, যা বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীদের ইঙ্গিত করে। প্রশান্তি বা দুঃসাহসিকতার সন্ধান করা হোক না কেন, লাচুং এবং এর পরিবেশগুলি এমন অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয় যা শ্বাসরুদ্ধকর হিসাবে স্মরণীয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব আবহাওয়া দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও পালনের গুরুত্ব।।।।

প্রতিবছর ২৩ মার্চ সারা পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় বিশ্ব আবহাওয়া দিবস।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়া—-

Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) এর ষষ্ট মুল্যায়ন প্রতিবেদন অনুসারে, ক্রমবর্ধমান বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়তে থাকবে।

সামান্য উষ্ণতা বৃদ্ধিও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দ্বারা সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে অনেক আবহাওয়া এবং জলবায়ুকে প্রভাবিত করেছে। ২০১৪ সালে পঞ্চম মুল্যায়ন প্রতিবেদনের পর থেকে চরম মাত্রায় তাপ প্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাত, খরা এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।
আইপিসিসি অনুসারে ১৯৫০ সালের সময় থেকে বেশীরভাগ ভুমি অঞ্চলের তাপমাত্রা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। চল্লিশ ডিগ্রী সেলসিয়াস এমনকি পঞ্চাশ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা বিশ্বের অনেক অংশে অনেক বেশী নিয়মিত হয়ে উঠেছে, যা পৃথিবীর মানুষের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্যে যথেষ্ট ক্ষতিকারক। জলবায়ু পরিবর্তন জলচক্রের মাধ্যমেও ঘটে- একটি উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশী মাত্রায় আর্দ্রতা ধরে রাখে। যেমন ১৯৫০ এর দশক থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারনা। আইপিসিসি বলেছে, প্রতি এক ডিগ্রী সেলসিয়াস গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্যে চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা গুলি প্রায় সাত শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
পূর্ব সতর্কতা জীবন ও জীবিকা রক্ষা
ভয়াবহ সতর্কতার পেছনেও রয়েছে আশার বার্তা। বর্তমানে উন্নত বহু বিপত্তি প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যাবস্থা মৃত্যুহারকে উল্লেখযোগ্য হ্রাসের দিকে পরিচালিত করেছে।
খুব সহজভাবে জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে আমরা আগের চেয়ে অনেক সফল। সুপার কম্পিউটার এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আমাদের আবহাওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আগাম পূর্বাভাস দিয়ে দিচ্ছে। গত কয়েক দশক ধরেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে চলছে নিরন্তর গবেষণা। ১৯৭০ সালে গড়ে বছরে ৫০০০০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতো আবহাওয়ার বিপর্যয়ের কারনে, কিন্তু ২০১০ সালে সেই মৃত্যুহার কমিয়ে ২০০০০-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির কারনে। ১৯৭০-১৯৮০ সালে প্রতিদিন গড়ে ১৭০ জন মানুষের মৃত্যু হতো। সেই সংখ্যা কমিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ২০২০ সালে প্রতিদিন ৪০ জনে। আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস জানতে নিরলস কাজ করে চলেছে আবহাওয়াবিদরা। বিজ্ঞানীদের আশা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও অনেক বেশী স্থিতিশিল হবে বলেই আশা ডব্লিও এম ও’র। তবে মানুষের সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ করাটা আজকের দিনে সবচেয়ে জরুরী। কারণ পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব জল দিবস, জানুন দিনটি পালনের সংরক্ষণের গুরুত্ব ও তাত্‍পর্য।।।

‘জলের অপর নাম জীবন’ অথবা ‘No Water, No Life’ ছোট থেকে সব পাঠ্য বইয়ে উল্লেখ পেয়েছি এমন কথার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বুঝেছে আমাদের জীবনে জলের গুরুত্ব কতখানি। পরিশুদ্ধ জল ছাড়া যে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব নয়, তা সকলেই জানেন। সে কারণে, জল অপচয় বন্ধ করতে নিত্যদিন নানা রকম ক্যাম্পেনিং দেখা যায় কোথাও না কোথাও।

আজ আরও একবার জলের গুরুত্ব বোঝানোর পালা। কারণ আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জল দিবস (World Water Day)।
পানীয় জলের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর 22 মার্চ বিশ্ব জল দিবস পালন করা হয়। জল আমাদের জীবনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সেচ, রান্না, ধোয়া, পান করা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। জল ভাল স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য কারণ এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে, স্বাভাবিক কার্যকারিতা পরিচালনা করে, হজমে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলিকে বাইরে বের করে দিতে সহায়তা করে।
আমাদের অবশ্যই আমাদের এই জলসম্পদকে রক্ষা করতে হবে এবং সেগুলি কার্যকরভাবে এবং যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।
বিশ্ব জল দিবস জলের গুরুত্বকে তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক বার্ষিকভাবে উদযাপিত একটি দিন (সর্বদা ২২ মার্চ)। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ সভা ২২ মার্চ তারিখটিকে বিশ্ব জল দিবস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ইউএনসিইডি) এজেন্ডা ২১-এ প্রথম বিশ্ব জল দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। ১৯৯৩ সালে প্রথম বিশ্ব জল দিবস পালিত হয় এবং তার পর থেকে এই দিবস পালনের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলি এই দিনটিকে নিজ নিজ রাষ্ট্রসীমার মধ্যে জাতিসংঘের জলসম্পদ সংক্রান্ত সুপারিশ ও উন্নয়ন প্রস্তাবগুলির প্রতি মনোনিবেশের দিন হিসেবে উত্‍সর্গ করেন। প্রতি বছর বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার যে কোনো একটি বিশেষ কর্মসূচি পালন করে থাকে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতিসংঘ-জল বিশ্ব জল দিবসের থিম, বার্তা ও প্রধান সংস্থা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও পরিচ্ছন্ন জল ও জলসম্পদ রক্ষা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য এই দিন বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেন। ২০০৩, ২০০৬ ও ২০০৯ সালে জাতিসংঘ বিশ্ব জল উন্নয়ন প্রতিবেদন বিশ্ব জল দিবসেই প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের বিশ্ব জল দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- পানির সহজ প্রাপ্তি, টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। ১৯৯৩ সালে থেকে প্রতি বছর ২২ মার্চ জল নিয়ে গণসচেতনতা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু হয়েছে দেশ বিদেশে। শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বেই ভূগর্ভস্থ জলস্তর নামছে তো নামছেই। সারা পৃথিবীর প্রায় ২৫ শতাংশ ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করে ভারত। ভারত আর কিছুতে না হোক, এই ক্ষেত্রে আমেরিকা ও চিনের থেকে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে ২০০২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ জলস্তরের উচ্চতা কমেছে ভয়াবহ ভাবে, প্রতি বছরে ১০-২৫ মিমি। গড়ে ভারতের ভূগর্ভস্থ জলস্তর কমেছে ৫৪ শতাংশ। চিন্তার বিষয় হল, চাষ আবাদের ক্ষেত্রে ভারতে যে জল ব্যবহৃত হয়, তার ৭০ শতাংশের এর উত্‍স হল ভূগর্ভস্থ জল। তথ্য অনুসারে, যদি এই ভাবে ভূগর্ভস্থ জলস্তরের উচ্চতা কমতে থাকে, তাহলে ভারতের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের জন্য পানীয় জলের গুরুতর সমস্যা হবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মোটেই আশাপ্রদ নয়। ইতিমধ্যেই প্রচুর মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেক জায়গায়, যার মধ্যে কলকাতাও রয়েছে, যেখানে টিউবওয়েলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জলের উত্তোলন এক প্রকার নিষিদ্ধ।
ভূগর্ভস্থ জলসীমা কমে যাওয়ার ফলাফল
ভূগর্ভস্থ জল কমে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলি কারণ দায়ী এই পরিস্থিতির জন্য। যার মধ্যে অন্যতম হল মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করা। এর ফলে কুয়ো, পাতকুয়ো শুকিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। পুকুর, খাল বিল, নদীর অবস্থাও খারাপ। গুণগত মানের দিক থেকেও দেখা গিয়েছে, ভূগর্ভস্থ জলের অবস্থা ভালো নয়। পানীয় জলের সংকট ইতিমধ্যেই গ্রীষ্মের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখনই সচেতন হতে হবে সকলকে।
কী করতে হবে সামনের দিনের জন্য-
এই সমস্যা এক সময় ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পরে যদি এমন চলতে থাকে। তাই ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। এর সত্যি কোনও বিকল্প নেই। তবে এই ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। ইউক্যালিপটাসের মতো গাছ, যেগুলি ভীষণ পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল শুষে নেয়, এরকম গাছ এড়িয়ে যাওয়া উচিত, জমিতে ক্যামিক্যাল ব্যবহার করা চলবে না। কাপড় কাচা বা ধোয়ার ক্ষেত্রে যত্নবান হতে হবে। কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো ভূগর্ভস্থ জল পাম্প করে তোলা চলবে না। জলের অপব্যবহার করা যাবে না। অনেকে রাস্তা ঘটে পানীয় জলের ট্যাপ খুলে রেখে চলে যায়। সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এতে দেশের ক্ষতি, আমাদের ক্ষতি সেটা বুঝতে হবে সকলকে। সর্বপরি সঠিক প্রচার ও জল নিয়ে অনেক অনেক সচেতনতা মূলক পোগ্রাম করতে হবে নিয়ম করে। বোঝাতে হবে আগামী দিনে জল এক ভঙ্কর সঙ্কট হিসেবে দেখা দিতে পারে আমরা সকলে যদি সচেতন না হই।
অনেকেই ভাবতে পারেন যে পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতংশ তো জল দিয়ে তৈরি, তাহলে জল নিয়ে চিন্তার কী আছে? বাস্তব হল, এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য জলের শতাংশের হিসেব বেশ কম। তার পাশাপাশি পানীয় জলের পরিমাণ আরোও কম। ইতিমধ্যেই প্রথম বিশ্বের অনেক দেশেই দেখা গিয়েছে, সাধারণ মানুষকে জল কিনতে হচ্ছে প্যাকেটে। ভারতের মতো দেশে মাথা পিছু জল ব্যবহার নিয়ে কোনও ধারণা নেই। কিন্তু শেষের সেদিন কিন্তু বেশ ভয়ঙ্কর হতে পারে। তাই আর গাফিলতি বা পিছিয়ে থাকা নয়, জল নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে এগোতে হবে সবাইকে।
সর্বপরি, দিনটি পরিশুদ্ধ জল রক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির একটি বিশেষ দিন হিসেবে স্থির করা হয়েছে। বিশ্ব জল দিবসে (World Water Day), বিশ্বব্যাপী লোকেরা পরিষ্কার জলের গুরুত্ব এবং জলকে অত্যাবশ্যক সম্পদ হিসেবে রক্ষা করার জন্য জনসচেতনা বৃদ্ধির দিন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
তাই এই সমস্যা এক সময় ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পরে যদি এমন চলতে থাকে। তাই ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে এবং সমস্যা সমাধানের পথ খুজে বের করে নির্দিষ্ট লক্ষ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

জানুন আন্তর্জাতিক জাতি বৈষম্য বিলোপ দিবস ও বিশ্ব কবিতা দিবস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।।।

জানুন আন্তর্জাতিক জাতি বৈষম্য বিলোপ দিবস ও বিশ্ব কবিতা দিবস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।।।

(ক) আন্তর্জাতিক জাতি বৈষম্য বিলোপ দিবস

(খ) বিশ্ব কবিতা দিবস

(ক) আন্তর্জাতিক জাতি বৈষম্য বিলোপ দিবস-

জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস প্রতি বছর ২১শে মার্চ পালন করা হয়। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ ১৯৬৬ সালের ২৬শে অক্টোবর একটি রেজুলেশন গৃহীত হয় এবং ২১শে মার্চকে বার্ষিক স্মরণীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক জাতিগত বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবসে জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বর্ণবৈষম্য প্রথম শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। ১৯৬০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সার্পভিলে জাতিগত বর্ণ বৈষম্যের বিল পাশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলের আয়োজন করে। যেখানে পুলিশ বিনা কারণে নির্বিচারে সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালায়। এতে ৬৯ জন প্রাণ হারান এবং ১৭৮ মানুষ আহত হন।
এই ঘটনার পর ১৯৬৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ পৃথিবীর সমস্ত দেশ থেকে জাতিভেদ ও বর্ণবৈষম্যের মত ভয়ানক ব্যাধিকে নির্মূল করতে সোচ্চার হয়। এই বিষয়ের উপর জাতিসংঘ নানা কর্মসূচি শুরু করে। অবশেষে ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রথম ২১ শে মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক জাতিগত বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস হিসাবে পালনের আহ্বান জানায়।
২০০১ সালে জাতিগত ভেদাভেদ ও বর্ণবাদ বিরোধী বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে আবার একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যার মূল লক্ষ্য ছিল জাতি ও বর্ণের সমস্যাকে দূরীভূত করা। এবং নতুনভাবে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি নেওয়া।
(খ) বিশ্ব কবিতা দিবস-
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ মার্চ তারিখটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উত্‍সাহিত করা। ইউনেস্কোর অধিবেশনে এই দিবস ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল, “এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কবিতা আন্দোলনগুলিকে নতুন করে স্বীকৃতি ও গতি দান করবে।” পূর্বে অক্টোবর মাসে বিশ্ব কবিতা দিবস পালন করা হত। প্রথম দিকে কখনও কখনও ৫ অক্টোবর এই উত্‍সব পালিত হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রোমান মহাকাব্য রচয়িতা ও সম্রাট অগস্টাসের রাজকবি ভার্জিলের জন্মদিন স্মরণে ১৫ অক্টোবর এই দিবস পালনের প্রথা শুরু হয়। অনেক দেশে আজও অক্টোবর মাসের কোনো দিন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কবিতা দিবস পালন করা হয়। এই দিবসের বিকল্প হিসেবে অক্টোবর অথবা নভেম্বর মাসের কোনো দিন কবিতা দিবস পালনেরও প্রথা বিদ্যমান।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব বন দিবস, জানুন আমাদের গ্রহকে টিকিয়ে রাখতে বনের ভূমিকা।

প্রতি বছর ২১শে মার্চ পালিত হয়, বিশ্ব বন দিবস আমাদের গ্রহকে টিকিয়ে রাখতে বনের ভূমিকার একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। আমরা শ্বাস নিই বাতাসকে বিশুদ্ধ করা থেকে শুরু করে অগণিত প্রজাতির আবাসস্থল, বন শুধু ফুসফুস নয় পৃথিবীর অভিভাবক। আমরা বিশ্ব বনায়ন দিবস ২০২৪-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, আসুন আমরা এই বিশ্বব্যাপী ইভেন্টের তাত্‍পর্য এবং ইতিহাসকে আরও গভীরে ডুবে যাই।

বিশ্ব বন দিবস কি?
আপনি একটি নোটবুকে লিখুন, একটি বাড়ি তৈরি করুন বা আপনার প্রতিদিনের ওষুধ গ্রহণ করুন, এই সমস্ত কাজে বন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবুও, আমরা সবসময় এই কার্যকলাপ এবং বনের মধ্যে সংযোগ তৈরি করি না। তাই, আমাদের জীবনে বনের অবদানকে স্মরণ করার জন্য ২১শে মার্চকে আন্তর্জাতিক বন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
তদুপরি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বন উজাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সাথে, বনের তাত্‍পর্য এবং কীভাবে তারা পৃথিবীতে জীবনচক্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে তা বোঝা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব বন দিবস ২০২৫ এর থিম —-

২০২৫ সালের বিশ্ব বন দিবসের প্রতিপাদ্য হল “বন এবং খাদ্য” যা খাদ্য ব্যবস্থায় বনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর লক্ষ্য হল খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং জীবিকা নির্বাহে বনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা। খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি, বন জ্বালানি, আয় এবং কর্মসংস্থানও প্রদান করে, একই সাথে সুস্থ মাটি বজায় রাখে এবং জলের উৎস রক্ষা করে। এই বছরের প্রতিপাদ্য নীতিনির্ধারকদের জলবায়ু পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে বনকে রেখে নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।

বনের গুরুত্ব ——

মানুষের বেঁচে থাকা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য বন অপরিহার্য, যা অসংখ্য সুবিধা প্রদান করে:

খাদ্য ও ঔষধ: তারা ফল, বাদাম, বীজ, মাশরুম এবং মধু সরবরাহ করে, যা বিশ্বব্যাপী ৫ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের খাদ্য ও ঔষধি চাহিদা পূরণ করে।

রান্নার জ্বালানি: কাঠ এবং ঐতিহ্যবাহী জ্বালানি ২ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, রান্নার প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছে।

কৃষি সহায়তা: বন মাটি সমৃদ্ধ করে, জল ধরে রাখে এবং পরাগরেণুদের আবাসস্থল প্রদান করে, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।

গ্রামীণ জীবিকা: গ্রামীণ পরিবারের আয়ের প্রায় ২০% অবদান রাখে, যা একটি বৈচিত্র্যময় এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করে।

পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা: বনভূমি মিঠা পানির সরবরাহ করে, পানির গুণমান উন্নত করে এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভারতে বনায়ন——-

ভারতের একটি সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় বন বাস্তুতন্ত্র রয়েছে, যা তার মোট ভূমির ২১.৭১% জুড়ে রয়েছে (ইন্ডিয়া স্টেট অফ ফরেস্ট রিপোর্ট ২০২৩)। এই বনগুলিকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্ট, পর্ণমোচী বন, ম্যানগ্রোভ, আলপাইন বন এবং কাঁটাযুক্ত বনে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।

বন ও বৃক্ষরোপণ: ভারতের মোট বন ও বৃক্ষরোপণের পরিমাণ ৮,২৭,৩৫৭ বর্গ কিমি (২৫.১৭%), যার মধ্যে ১,১২,০১৪ বর্গ কিমি বৃক্ষরোপণ রয়েছে।

বনাঞ্চল বৃদ্ধি: ২০২১ সালের তুলনায় বনাঞ্চল ১৫৬ বর্গ কিলোমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধান বনাঞ্চলযুক্ত রাজ্য: মধ্যপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক বনাঞ্চল রয়েছে, যেখানে ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা এবং রাজস্থান ২০২১ সাল থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কার্বন মজুদ এবং সংরক্ষণ: ভারতের বনাঞ্চল ৭,২৮৫.৫ মিলিয়ন টন কার্বন সঞ্চয় করে, যা অতিরিক্ত ২.২৯ বিলিয়ন টন কার্বন সিঙ্কে অবদান রাখে।

অর্থনৈতিক অবদান: কাঠ, অ-কাঠজাত বনজ পণ্য (NTFP), ঔষধি গাছপালা এবং ইকোট্যুরিজমের মাধ্যমে বন ভারতের অর্থনীতিকে সমর্থন করে।

সংরক্ষণ প্রচেষ্টা: জাতীয় বনায়ন কর্মসূচি (NAP), সবুজ ভারত মিশন এবং যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM) এর মতো সরকারি উদ্যোগগুলি বনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশ্ব বন দিবস ২০২৫ এর তাৎপর্য—–

বিশ্ব বনায়ন দিবস ২০২৫ বন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের উপর জোর দেয়। এর লক্ষ্য হল:

কৃষি ও মানব স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে বনের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।

বন এবং জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে টেকসই কৃষিকাজকে উৎসাহিত করুন।

বন উজাড় এবং আবাসস্থলের ক্ষতি মোকাবেলায় সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করুন।

বনায়ন এবং বন সুরক্ষার জন্য সরকারি উদ্যোগগুলি তুলে ধরুন।

পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করুন।

এই দিনটি বন কীভাবে খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু স্থিতিশীলতা এবং জীববৈচিত্র্যকে সমর্থন করে তার একটি স্মারক হিসেবে কাজ করে। বনের গুরুত্ব বোঝা আমাদের আরও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে কাজ করতে সাহায্য করে।

কিভাবে বিশ্ব বনায়ন দিবস ২০২৪ মন দিয়ে উদযাপন করবেন?
একটি গাছ লাগানোর চেয়ে আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপনের ভাল উপায় আর কী হতে পারে? আপনার স্থানীয় সম্প্রদায়ের বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন বা আপনার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে একটি বৃক্ষ রোপণ ইভেন্টের আয়োজন করুন। এটি শুধুমাত্র বন পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে না কিন্তু আমাদের কার্বন পদচিহ্ন কমাতেও অবদান রাখে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক সুখ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।।।

আমাদের জীবনের অন্যান্য লক্ষ্যগুলির মতোই, সুখ একটি মৌলিক মানব লক্ষ্য। আমাদের অবশ্যই সবসময় সুখী এবং সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করতে হবে এবং একটি ইতিবাচক পরিবেশের মাধ্যমে আমাদের চারপাশে অন্যদের খুশি করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।

সুখ একটি মানুষের অস্তিত্বের মূল।

আমরা যদি সুখী এবং ইতিবাচক হই, তবে আমরা যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করতে পারি এবং আমাদের চারপাশে সুখ ছড়িয়ে দিতে পারি। সুখ একটি মৌলিক মানব লক্ষ্য, যা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত। ভুটানই এই ধারণার সূচনা করেছিল। এখন থেকে, ২০ শে মার্চ আন্তর্জাতিক সুখ দিবস হিসাবে পালিত হয়, বিশ্বব্যাপী সুখকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বর্তমান সময়ে, সুখী হওয়া একটি বিশ্বব্যাপী প্রচারে পরিণত হয়েছে। একজনের জীবনে সুখের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সুখ দিবস পালিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সুখ দিবসের ইতিহাস–

যারা ধারণার সাথে পরিচিত নন তাদের কাছে আন্তর্জাতিক সুখ দিবস নামে একটি উত্সব কিছুটা শিশুসুলভ মনে হতে পারে। সম্ভবত আপনি কল্পনা করছেন বাচ্চারা ‘যদি আপনি খুশি হন এবং আপনি এটি জানেন’ গান গাইছেন বা লোকেরা হাসিখুশি সূর্য এবং রংধনুতে আনন্দে নাচছে। জাতিসংঘ এবং এর অংশীদার অলাভজনক সংস্থা অ্যাকশন ফর হ্যাপিনেস, যা ১৬০টি দেশের ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত, আমাদের জন্য আন্তর্জাতিক সুখ দিবস উদযাপন করা সম্ভব করেছে। আন্দোলনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল এই সত্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যে উন্নয়নের সাথে কেবল মুনাফা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা নয় বরং মানুষের মধ্যে মঙ্গল ও সুখের প্রচার করা।
২০১১ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটি রেজোলিউশন গৃহীত হয়েছিল যা এটিকে একটি “মৌলিক মানব লক্ষ্য” হিসাবে সুখকে অর্থনৈতিক সুযোগের মতো অগ্রাধিকার দেয়। বিশ্বের উদ্বোধনী আন্তর্জাতিক সুখ দিবসটি দুই বছর পরে ২০১৩ সালে পালিত হয়েছিল যখন জাতিসংঘের ১৯৩ জন সদস্য অংশ নিয়েছিল এবং তখন থেকে এটি প্রসারিত হয়েছে।

২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক সুখ দিবসের থিম কী?

তাছাড়া, আপনি কি জানেন যে জাতিসংঘ আসলে এই বিশেষ আন্তর্জাতিক সুখ দিবসটি প্রতিষ্ঠা করেছিল শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে মানুষের সুখকে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং উন্নত করার জন্য? এছাড়াও, এই বছরের আন্তর্জাতিক সুখ দিবসের প্রতিপাদ্য হল “যত্ন এবং ভাগাভাগি”।

আন্তর্জাতিক সুখ দিবসের তাৎপর্য——-

তাছাড়া, আপনি কি জানেন যে এই বিশেষ আন্তর্জাতিক সুখ দিবসটি প্রতিটি ব্যক্তিকে উৎসাহিত করে – সে পরিবার, স্কুল ছাত্র, অফিস সহকর্মী, অথবা সমগ্র সম্প্রদায় – তাদের জীবনে সত্যিকার অর্থে আনন্দ এবং অর্থ কী নিয়ে আসে তার উপর একটু বিরতি নিতে, প্রতিফলিত করতে এবং আরও বেশি মনোযোগ দিতে? এটি আপনার অগ্রাধিকারের উপর নির্ভর করে – আপনি কীভাবে দিনটি কাটাতে চান – তা আপনার প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো, অভাবী কাউকে সাহায্য করা, কৃতজ্ঞতা অনুশীলন করা, অথবা জীবনের সেই সমস্ত ছোট মুহূর্তগুলিকে উপলব্ধি করা।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।।।

বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস (WOHD) প্রতি বছর 20 মার্চ পালন করা হয়। দিনটি মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য ভাল মুখের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিবেদিত। বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের মূল লক্ষ্য হল মানুষকে তাদের দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেওয়ার জন্য জ্ঞান, সরঞ্জাম এবং আত্মবিশ্বাস দিয়ে ক্ষমতায়ন করা।

এটি করার মাধ্যমে, এটি আশা করা যায় যে লোকেরা তাদের মুখের স্বাস্থ্যের আরও ভাল যত্ন নেবে।
বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের তাৎপর্য হল প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়ের জন্য ভাল মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের গুরুত্ব তুলে ধরা। আমাদের দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে আমরা দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে পারি। যারা তাদের মুখের স্বাস্থ্যের ভালো যত্ন নেয় না তাদের জন্য এটি গুরুতর স্বাস্থ্যের পরিণতি হতে পারে।

বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৫ তারিখ—
এই বছর, ২০ মার্চ ২০২৪ বুধবার বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হবে।

বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৫ থিম—

২০২৫ সালের বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের থিম ছিল, “একটি সুখী মুখ একটি সুখী শরীর”। এই দিনটি প্রতি বছর ২০ মার্চ পালন করা হয়।

এই বছর, ২০২৫ সালে, বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হল ” একটি সুখী মুখ … একটি সুখী শরীর “। এই প্রতিপাদ্যটি মানসিক স্বাস্থ্য এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের মধ্যে যোগসূত্রের উপর জোর দেয়। মাড়ির রোগ, গহ্বর এবং দাঁত ক্ষয় দুর্বল মৌখিক স্বাস্থ্যবিধির কারণে হতে পারে, যা সামাজিক সম্পর্ক, আত্মসম্মান এবং সাধারণ মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের ইতিহাস—–

বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের ইতিহাস ২০০৭ সালে, যখন এটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে, বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল কিন্তু যেহেতু এই তারিখটি FDI প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ চার্লস গডনের জন্মদিনের (১২ সেপ্টেম্বর) সাথে মিলে যায়, তাই ২০১৩ সালে, বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের তারিখ পরিবর্তন করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০ মার্চ।
বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে, এফডিআই জাতীয় ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন সংস্থা, সরকার এবং মিডিয়ার সদস্যদের জাতীয় ও বৈশ্বিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য উত্সাহিত করছে। ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হল ডেন্টাল এবং ওরাল স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যা সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে, শিক্ষার মাধ্যমে এবং সঠিক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে এড়ানো যায়। বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের লক্ষ্য প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ এবং চিকিত্সা কার্যক্রমের জন্য তহবিল সরবরাহ করা এবং সহায়তা করা।

বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব (WOHD)–

২০১৭ সালে, বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫০ কোটিরও বেশি মানুষ মুখের রোগে ভুগছিলেন। গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ ২০১৯-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে স্থায়ী দাঁতে (প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁত) চিকিৎসা না করা দাঁতের ক্ষয় বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে প্রচলিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনুমান করা হয়েছিল যে ভারতের ৫০-৬০% জনসংখ্যা দাঁতের ক্ষয়জনিত রোগে ভুগছে, যার ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাচ্ছে।

মৌখিক স্বাস্থ্যের অবস্থার চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল এবং সাধারণত স্বাস্থ্য কভারেজের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাছাড়া, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে উন্নতমানের মৌখিক স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার অ্যাক্সেস খুব কম। এছাড়াও, চিকিৎসা না করা দাঁতের ক্ষয় অস্বস্তি, ঘুমাতে এবং খেতে অসুবিধা, হাসপাতালে ভর্তি বা দাঁতের পরিদর্শন, আক্রমণাত্মক চিকিৎসা এবং পদ্ধতিগত স্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করে, দাঁতের সমস্যা এবং এর সাথে সম্পর্কিত জটিলতা এড়াতে দাঁতের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অতএব, বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবসের লক্ষ্য হল সচেতনতা প্রদান করা এবং দাঁতের সমস্যার জন্য স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রচারের মাধ্যমে ভাল মৌখিক যত্নের গুরুত্বকে আলোকিত করা।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This