Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১৭ মার্চ, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১৭ মার্চ । এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
দিবস—–
(ক) জাতীয় শিশু দিবস (বাংলাদেশ)।
আজ যাদের জন্মদিন—-

১০৭৮ – আব্দুল কাদের জিলানী, ইসলাম ধর্মে অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ত্ব ও ধর্মপ্রচারক।

১৪৭৩ – চতুর্থ জেমস, তিনি ছিলেন স্কটল্যান্ডের রাজা।
১৮৩৪ – গোটলিব ডেইমলার, জার্মান মোটর গাড়ির পুরোধা।
১৮৫৬ – মিখাইল ভ্রুবেল, রাশিয়ান চিত্রশিল্পী।
১৮৭৩ – মার্গারেট বন্ডফিল্ড, ইংল্যান্ডের প্রথম মহিলা কেবিনেট মন্ত্রী।
১৮৮১ – ওয়াল্টার রুডলফ হেস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইস শারীরবিজ্ঞানী।
১৯১২ – মনোহর আইচ, ভারতীয় বাঙালি বডি বিল্ডার।
১৯২০ – শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রথম রাষ্ট্রপতি।
১৯৩৮ – রুডলফ নুরেয়েভ, তিনি রাশিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার।
১৯৪২ – সঙ্গীতশিল্পী পূরবী দত্ত,ভারতীয় বাঙালি নজরুলগীতি বিশেষজ্ঞা।
১৯৪৫ – এলিস রেজিনা, তিনি ব্রাজিলিয়ান গায়িকা।
১৯৫৫ – গ্যারি অ্যালান সিনিস, তিনি আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক ও খাদ প্লেয়ার।
১৯৬২ – কল্পনা চাওলা, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান প্রকৌশলী ও মহাকাশচারী।
১৯৭৫ – পুনীত রাজকুমার, ভারতীয় অভিনেতা, গায়ক ও প্রযোজক
১৯৭৬ – আলভারো রেকোবা, তিনি সাবেক উরুগুয়ের ফুটবল।
১৯৮২ – স্টিভেন পিএনার, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলার।
১৯৮৩ – রাউল মেইরেলেস, তিনি পর্তুগিজ ফুটবলার।
১৯৮৬ – এডিন জেকো, তিনি বসনীয় ফুটবলার।
১৯৮৯ – শিনজি কাগওয়া, তিনি জাপানি ফুটবলার।
১৯৯০ – সাইনা নেহওয়াল, ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১০৯৭ – খৃষ্টানরা বায়তুল মোকাদ্দাস দখলের জন্য ক্রুসেডের যুদ্ধ শুরু করে।
১৭৬৯ – বাংলার তাঁত ও মসলিন শিল্প ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ রাজের নির্দেশে বাংলার তাঁতিদের হাতের বুড়ো আঙ্গুল কাটা শুরু হয় ।
১৯৪৪ – মার্কিন বিমান বাহিনী ভিয়েনায় বোমাবর্ষণ করে।
১৯৪৮ – বৃটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, হল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গের প্রতিনিধিরা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রুাসেলসে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
১৯৫৫ – ভারতে ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড ইন্সটিটিউশন আইএসআই(ISI)মার্ক চালু করে।
১১৯০ – ইংল্যান্ডের ইয়র্কে ৫ শতাধিক ইহুদীকে গণহত্যা করা হয়।
১৯৯২ – দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ অবসানের জন্য শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা সংস্কারের পক্ষে গণভোট দেয়।
১৯৯৪ – এল সালভাদরে গৃহযুদ্ধের খবর সংগ্রহ কালে ৪ জন ডাচ সংবাদিক নিহত হয়।
১৯৯৪ – মিশরে ৯ জন ইসলমাপন্থীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
১৯৯৬ – পাকিস্তানের লাহোরে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালে শ্রীলঙ্কা অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে।
২০০০ – উগান্ডায় গীর্জায় অগ্নিকান্ডে ৫৩০ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং পরবতীতে আরো ৩৯৪টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
২০০১ – চীনে বোমা বিস্ফোরণে ৪টি হোটেল বিধ্বস্ত হয়; এতে ১০৮ জন নিহত হয়।
২০০৪ – কসোভোতে সার্ব ও আলবেনীয়দের জাতীগত দাঙ্গায় ২২ জন নিহত এবং ৫০০ জন আহত হয়।
২০০৭ – ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর কুইন্স পার্ক ওভালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বের খেলায় বাংলাদেশ ভারতকে পরাজিত করে।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১০৪০ – হ্যারল্ড হারেফোট, তিনি ছিলেন ইংরেজি রাজা।
১৭৮২ – দানিয়েল বার্নুয়ি, তিনি ছিলেন ডাচ সুইস গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী।
১৮৪৬ – ফ্রিডরিশ ভিলহেল্ম বেসেল, জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ।

১৯৩৭ – অস্টিন চেম্বারলেইন, তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ রাজনীতিবিদ।
১৯৫৬ – আইরিন জোলিও-কুরি, তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি পদার্থবিদ।
১৯৫৭ – রামোন ম্যাগসেসে, তিনি ছিলেন ফিলিপিনো জেনারেল, রাজনীতিবিদ ও ৭ম প্রেসিডেন্ট।
১৯৮৩ – হ্যাল্ডান কেফার হার্টলাইন, তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান শারীরবিজ্ঞানী।
১৯৯৩ – হেলেন হায়েজ, তিনি ছিলেন আমেরিকান অভিনেত্রী।

১৯৯৬ – (ক)  অনিল চট্টোপাধ্যায়,প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।

(খ)রেনে ক্লিমেন্ট , তিনি ছিলেন ফরাসি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

২০০৭ – জন বাকাস, তিনি ছিলেন মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন সর্বপ্রথম উচ্চ-পর্যায় প্রোগ্রামিং ভাষা ফোরট্রান, বাকাস-নর আকার ও ফাংশান-পর্যায় প্রোগ্রামিং ধারণা উদ্ভাবণ করবার জন্য।

২০১৫ – বব এপলইয়ার্ড, ইংরেজ ক্রিকেটার।

২০১৯ – কৌতুক চলচ্চিত্র অভিনেতা চিন্ময় রায়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

কল্পনা চাওলা : ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম নারী মহাকাশচারী।।।

সূচনা- ২০০৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ফেরার পথে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পর্যন্ত পৌঁছেও গেছিল তাঁদের মহাকাশযান। আর কয়েক মিনিটেই হয়তো ছুঁয়ে ফেলতেন পৃথিবীর মাটি। তখনই টেক্সাসের উপরে টুকরো টুকরো হয়ে যায় গোটা মহাকাশযান। কলম্বিয়া নভোযান বিপর্যয়ে যে সাতজন মহাকাশচারী এবং ক্রু মৃত্যুবরণ করেন তাদের মধ্যে তিনি একজন।

পৃথিবীতে অবতরণ করতে গিয়ে বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে এই নভোখেয়াযানটি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল।
প্রাথমিক জীবন-
কল্পনা চাওলা ১৪৬৮খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মার্চ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কারনালে বসবাসকারী এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কল্পনা তার মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপন করেন ঠাকুর বালনিকেতন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, কারনাল থেকে। এর পরে ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব প্রকৌশল কলেজ থেকে মহাকাশ প্রকৌশলের ওপর স্নাতকের পাঠ সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে একই মহাকাশ প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষা সমাপ্ত করেন ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। পরবর্তীতে কল্পনা ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো অ্যাট বউল্ডের থেকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত হন।
আরও চার বছর পরে, ১৯৮৮ সালে নাসায় যোগ দেন।কয়েক বছরেই স্বীকৃত পাইলট হয়ে ওঠেন কল্পনা। পরে নাসা রিসার্চ সেন্টারে ওভারসেট মেথডসের ভাইস প্রেসিডেন্টও হন। বাণিজ্যিক উড়ান চালানোর অনুমোদন ছিল তাঁর। সামুদ্রিক বিমান এবং মাল্টি-ইঞ্জিনের প্লেন চালানোরও লাইসেন্স ছিল তাঁর। পরে ফ্লাইট ইনস্ট্রাকটরও হয়েছিলেন তিনি।
এর মধ্যেই বিয়ে করেন মার্কিন লেখক জাঁ-পিয়ের হ্যারিসনকে। সে সুবাধে ১৯৯১ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পেলে নাসার অ্যাস্ট্রোনট কোরের সদস্য স্বীকৃতি পান কল্পনা।
কর্ম জীবন-
১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে কল্পনা নাসাতে তার কর্মজীবন শুরুর পর
১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর পাড়ি দেন প্রথম মহাকাশ অভিযানে। মহাকাশযান কলম্বিয়া এসটিএস ৮৭-তে মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ৩৭২ ঘণ্টা মহাকাশে কাটান তিনি। পৃথিবীর কক্ষপথে ২৫২ বার পরিক্রমা করেন। ১০০ লক্ষ মাইলেরও বেশি ভ্রমণ করেন মহাকাশে। তিনিই প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
২০০০ সালে কলম্বিয়া এসটিএস ১০৭-এর মহাকাশ অভিযানে ফের মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পান কল্পনা। নানা কারণে পিছিয়ে যাওয়ায় শেষমেশ ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি মহাকাশযাত্রা করেন কল্পনারা। তিনি ছাড়াও আরও ছয় মহাকাশচারী ছিলেন ওই অভিযানে।
মৃত্যু–
পৃথিবীর মাটি ছুঁতে বাকি ছিল মাত্র কয়েক মিনিট। তখনই মুহূর্তের বিস্ফোরণে ছাই হয়ে যায় মহাকাশযান। আর তার ভিতরেই অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে শেষ হয়ে যান ভারতের প্রথম মহিলা মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা। সারা পৃথিবী তাঁকে এই নামে চিনলেও, তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের আদরের মন্টো। মাত্র ৪২ বছরে শেষ হয়ে যায় তাঁর জীবন। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি মহাকাশ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় কলম্বিয়া স্পেস সাটলটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এক দুর্ঘটনার ফলে সাত জন ক্রুসহ বিধ্বস্ত হয় এবং কল্পনা সহ সকলে মারা যান।
শেষ ইচ্ছে-
ইন্দো-মার্কিন এই সাহসিনীর শেষ ইচ্ছে ছিল, মৃত্যুর পর তাঁর দেহভস্ম যেন হিমালয়ের বুকে বা জিওন ন্যাশনাল পার্কে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মেয়ের ইচ্ছে পূর্ণ করেছিলেন বাবা।কল্পনা চাওলার দেহাবশেষ তাঁর ইচ্ছানুসারে উটাহের জাতীয় উদ্যানে দাহ করা হয়েছিল ও অস্থিভষ্ম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সম্মাননা–
তাঁর সম্মানে, ২০০২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতে প্রবর্তিত মেট-স্যাট সিরিজের প্রথম উপগ্রহ মেটস্যাট -১ নামকরণ করা হয়েছিল কল্পনা -১।
তাঁর সম্মানে ভারত ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি বৃত্তি, রাস্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান নামকরণ করা হয়েছে।
উপসংহার-
সৌরজগতের নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়া কল্পনার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল ভারত জুড়ে। আজও ভারতের মহাকাশ চর্চায় তাঁর অবদান ভোলেননি কেউ।
সংক্ষেপে জেনে নিন কল্পনা চাওলা সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য।
১) কল্পনার জন্ম হয় ১৯৬২ সালের ১৭ মার্চ হরিয়ানার কার্নালে।
২) কল্পনা চাওলা বি টেক পাশ করেন পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে। কোনওদিন তিনি ক্লাশে সর্বোচ্চ নম্বর পাননি। কিন্তু বরাবর থাকতেন প্রথম পাঁচে।
৩) ১৯৮২ তে তিনি চলে যান আমেরিকায়। টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন।
৪) কল্পনার বাবা-মা তাঁর নাম দিয়েছিলেন মন্টো। কিন্তু তিনি মন্টো নামটা নিজের ডাক নামই বানিয়ে ফেলেন।
৫) ১৯৮৩ সালে বিয়ে করেন কল্পনা। তাঁর বরের নাম জিন পিয়েরে হ্যারিসন।
৬) কল্পনা চাওলা পছন্দ করতেন, কবিতা, নাচ, এবং সাইকেল চালাতে।
৭) তাঁর স্বপ্নই ছিল মহাকাশে যাওয়ার। সেই অনুযায়ী তিনি ধাপে ধাপে পড়াশোনা করতে থাকেন।
৮) নাসা রিসার্চ সেন্টারে তিনি ওভারেস্ট মেথডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
৯) কল্পনা চাওলার কমার্শিয়াল ফ্লাইট চালানোর লাইসেন্সও ছিল।
১০) ১৯৯১ সালে কল্পনা চাওলা আমেরিকার নাগরিকত্ব পান।
১১) নাসা স্পেস ফ্লাইট মেডেল পান তিনি।
১২) ২০০৩ সালের আজকের দিনেই তিনি কলম্বিয়া স্পেস শাটল ধ্বংসের সময় মারা যান।
১৩) কল্পনা বিশ্বাস করতেন না তিনি কোনও দেশের নাগরিক। তিনি বিশ্বাস করতেন তিনি সৌরজগতের নাগরিক।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঘুরে আসুন মন্দিরের শহর বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর।।।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।।
তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে।

এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর।
কলকাতার আশেপাশে দেখার মতো অনেক জায়গা আছে যার মধ্যে একটি হল বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর।  ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির মন্দিরের জন্য বিষ্ণুপুরকে বাঁকুড়া জেলার মন্দির শহরও বলা হয়।
সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে মল্ল রাজারা এখানে তাদের রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বাংলায় পাথরের স্বল্প সরবরাহের কারণে, পোড়া মাটির ইট বিকল্প হিসাবে এসেছিল এবং বাঙালি স্থপতিরা ‘পোড়ামাটি’ নামে পরিচিত একটি সুন্দর কারুকাজ তৈরি করার একটি নতুন উপায় খুঁজে পান, রাজা জগৎ মল্ল।  এবং তার বংশধরেরা পোড়ামাটির এবং পাথর শিল্পের পথপ্রদর্শক।  গড়েছেন অসংখ্য মন্দির।
অবিশ্বাস্য কারুকার্য দ্বারা নির্মিত এই সমস্ত প্রাচীন মন্দিরগুলি হিন্দু সংস্কৃতির বিভিন্ন ইতিহাস দেখায়, এছাড়াও এই বিষ্ণুপুর এখন বিশ্বমানের পোড়ামাটির শিল্পের জন্য পরিচিত, পোড়ামাটির তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র (পোড়া মাটি), গয়না, বিভিন্ন মূর্তি এখানে পাওয়া যায়।  বালুচরী শাড়ি।
কলকাতা থেকে এই বিষ্ণুপুরের দূরত্ব প্রায় 140 কিলোমিটার, তাই এখানে আসা এবং বিষ্ণুপুরের প্রাচীন পোড়ামাটির মন্দিরের ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন পোড়ামাটির কারুশিল্প উপভোগ করতে এখানে সপ্তাহান্তে কাটানো খুব সহজ।
এই জায়গাটি তাদের জন্যও উপযুক্ত যাদের সময় কম এবং যারা একদিনে কলকাতার আশেপাশে ঘুরতে চান (কলকাতার কাছে ডে ট্রিপ)।
কী কী দেখবেন ….
মৃন্ময়ী মন্দির : রাজা জগৎ মল্ল এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, দেবী দুর্গা এখানে মা মৃন্ময়ী রূপে পূজিত হন । “মহাষ্টমী-সন্ধিপূজা” পবিত্র মুহূর্তে, এখানে একটি কামান দাগানো হয় এবং তারপরে শাকসবজি বলি দেওয়া হয়।
জোড়বাংলা : মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গের পোড়ামাটির শিল্পের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ এবং একটি অনন্য স্থাপত্য কাঠামোর মালিক। বিশেষ ‘দো চালা’ আকৃতির কারণে মন্দিরটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জোড়বাংলা । পোড়ামাটির কাহিনী দিয়ে সজ্জিত প্যানেলগুলি ‘ভীষ্মের সরসজ্জা’, ‘রাম-সীতার বিবাহ’, ‘দুই পুত্রের সাথে মা পার্বতী’, ‘বালগোপালের ক্রিয়াকলাপ’, ‘লক্ষ্মণ ও শূর্পনখার গল্প’ এবং আরও অনেক কিছুর মতো মহাকাব্যিক দৃশ্যগুলি সুন্দরভাবে চিত্রিত করে ।
রসমঞ্চা :  ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাজা হাম্বির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, ল্যাটেরাইট বেদিতে নির্মিত মন্দিরটি মিশরের পিরামিডের মতো আকৃতির।  এই মন্দিরটি পোড়া মাটির খিলান দিয়ে নির্মিত অনেকগুলো কক্ষ দিয়ে নির্মিত।
মদনমোহন মন্দির: মল্ল রাজা দুর্জন ​​সিংহ দেব ১৬৯৪ সালে ভগবান মদনমোহনের নামে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি এখনও পর্যন্ত একটি সক্রিয় মন্দির।
গড় দরজা: বিষ্ণুপুর দুর্গের দুটি গর্বিত প্রবেশদ্বার রয়েছে।  স্থানীয় লোকজন তাদের ‘গড় দরজা’ বলে ডাকে।  ‘মুর্চা পাহাড়’ এর পাশে পাথরের তৈরি একটি ছোট ঢিবি দেখা যায়।  ছোট গেট পেরিয়ে একটি বিশাল ফটক এসেছে যা ছিল বিষ্ণুপুর রাজ্যের প্রবেশদ্বার।
লালবন্ধ- জলের ইতিহাস: হ্রদটি পানীয় জলের জন্য এবং শহরকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল।  মল্ল রাজ রঘুনাথ সিং লালবাই নামে একজন পারস্য নৃত্যশিল্পীর প্রতি মোহগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা যায়।  তিনি তাকে তার সুরক্ষায় নিয়ে যান এবং পরে লালবাঁধ নামে এই বড় পুকুরটি খনন করেন।
আপনি এখানে এই সমস্ত জায়গায় যেতে পারেন, আপনি এখন পোড়া মাটির বাজার থেকে বিভিন্ন পোড়ামাটির জিনিসপত্র, বাঁকুড়ার বিখ্যাত গামছা, বালুচরী শাড়ি কিনতে পারেন।  এই সব জায়গা দেখার পর আপনি চাইলে বিকেলের ট্রেনে কলকাতায় ফিরে যেতে পারেন বা যেতে পারেন।
শ্যাম রায় : পাঁচটি চূড়া রয়েছে বলে এটি ‘পাঁচ চূড়া’ মন্দির নামে পরিচিত।  অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় প্যানেলে শ্বাসরুদ্ধকর পোড়ামাটির শিল্পের কারণে এটি বিষ্ণুপুরের তারকা আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি।  এই মন্দিরের আরেকটি আকর্ষণ হল একটি বিশাল রাসচক্র যা ‘গোপিনীদের মধ্যে রাধা-কৃষ্ণ লীলা’র বিভিন্ন রূপ চিত্রিত করে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

কলকাতা শহরের ৩ টি জনপ্রিয় পার্ক।।।।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।।
তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে।

এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা।
মনোরম স্পট, গঙ্গার তীরের দৃশ্য, শপিং মল ছাড়াও, কলকাতায় বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পার্ক রয়েছে যা বন্ধু এবং পরিবারের সাথে একটি মজার এবং উত্তেজনাপূর্ণ দিন কাটানোর জন্য আদর্শ।  কলকাতার এই পার্কগুলির মধ্যে কিছু মজার ক্রিয়াকলাপ যেমন বোটিং, রাইড, দোলনা, বিস্তৃত সবুজ এলাকা সব বয়সের মানুষের জন্য উপযুক্ত।

এলিয়ট পার্ক——-
এলিয়ট পার্ক টাটা স্টিল অফিসের বিপরীতে চৌরঙ্গীর পার্ক স্ট্রিট ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থিত।  পার্কটিতে দুটি কৃত্রিম হ্রদ রয়েছে এবং পুরো পার্কটি বিশালাকার গাছ, বাঁশঝাড়ের সারি এবং বসার জায়গা দিয়ে ঘেরা।  পুকুরে মাছও দেখতে পাবেন।  পার্কের মাঠের মধ্যে সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ এবং সু-রক্ষণাবেক্ষণ করা বাগান ছাড়াও বাগানের মধ্যে একটি ছোট প্যাগোডা রয়েছে।  বাইরের খাবারের অনুমতি নেই, আকানে খাবার বিক্রেতারা অতিথিদের জন্য স্ন্যাকস এবং রিফ্রেশমেন্ট প্রস্তুত করেছে। পার্কের পরিবেশ খুবই শান্তিপূর্ণ এবং যে কেউ এখানে নির্জনে কিছু সময় কাটাতে পারে।

মিলেনিয়াম পার্ক—–
মিলেনিয়াম পার্ক হল একটি মনোরম পার্ক যা হুগলি নদীর তীরে বিবিডি বাগের স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত।  পার্কটি 2.5 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি কলকাতার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।  পার্কটিকে মিলেনিয়াম পার্ক বলা হয় কারণ এটি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি একটি সহস্রাব্দ উদযাপনের জন্য কলকাতার মানুষকে দিয়েছিল।
পার্কটি বিভিন্ন ধরণের সু-রক্ষণাবেক্ষণ করা গাছ, বেঞ্চ, বাগান এবং মনোরম নিয়ন আলো দিয়ে সজ্জিত।
মিলেনিয়াম পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল হুগলি রিভারফ্রন্ট এবং হাওড়া ব্রিজের শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য, বিশেষ করে সন্ধ্যায়।  পার্কে কিডস জোন এবং বোটিং সুবিধা রয়েছে।

ইকো পার্ক—
নিউ টাউনের ইকো-পার্ক শহরের সবচেয়ে বড় খোলা জায়গাগুলির মধ্যে একটি।  বিশাল পার্কটি 42-হেক্টর জলাধার সহ 194 হেক্টর জুড়ে রয়েছে।  একটি স্বাস্থ্যকর ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার করতে ইকো-পার্ক তৈরি করা হয়েছিল।  পার্কটি সবুজ লন, বন্যপ্রাণী, সপ্তম আশ্চর্যের প্রতিরূপ, থিমযুক্ত আকর্ষণ, বিনোদনমূলক এলাকা এবং সুন্দর হ্রদ দ্বারা বেষ্টিত।  আপনি খেলনা ট্রেন, সান্তা মনিকা রাইড, সাইক্লিং, হাই স্পিড বোটিং, ওয়াটার জার্বিং, রাইফেল শ্যুটিং এবং অন্যান্য অনেক বহিরঙ্গন কার্যকলাপ উপভোগ করতে পারেন।  রবি অরণ্য, ট্রপিক্যাল ট্রি গার্ডেন, হরিণালয়, জাপানিজ গার্ডেন এবং বেঙ্গল ভিলেজ দেখতে আপনি পার্ক বরাবর হেঁটে যেতে পারেন।  সব বয়সের মানুষ এখানে ভালো সময় কাটাতে পারে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।।।

প্রতি বছর ১২ মার্চ বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস পালন করা হয়।  দিনটি গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নিবেদিত, চোখের রোগের একটি গ্রুপ যা অপটিক নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে।  এটি বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের একটি প্রধান কারণ, যা আনুমানিক চার মিলিয়নের মধ্যে তিনজনকে প্রভাবিত করে।
গ্লুকোমা সপ্তাহ প্রতি বছর উদযাপিত হয়, গ্লুকোমা দিবসের মাধ্যমে সপ্তাহের শেষ হয়।  আসুন জেনে নেই বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস ২০২৫ উদযাপনের ইতিহাস, তাৎপর্য, থিম এবং উপায় সম্পর্কে।

বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস ২০২৫: থিম—-

২০২৫ সালের বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহের থিম হল, ‘Uniting for a Glaucoma-Free World’। এই থিমের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধের জন্য প্রাথমিক সনাক্তকরণ, নিয়মিত চোখের যত্ন, এবং সম্প্রদায় শিক্ষার গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হবে।

বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহের উদ্দেশ্য:

(খ) চোখের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

(খ) দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করার জন্য প্রকার, লক্ষণ, এবং উন্নত চিকিৎসা সম্পর্কে জানা।

(গ) গ্লুকোমার প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক সনাক্তকরণ করা।

(ঘ) দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধের জন্য নিয়মিত চোখের যত্ন করা।

(ঙ) সম্প্রদায়ে গ্লুকোমার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস ২০২৫: ইতিহাস—-

গ্লুকোমা হল এমন একটি অবস্থা যা চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তর কর্নিয়া এবং কনজাংটিভাকে প্রভাবিত করে।  এটি ব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, লাল চোখ এবং ফোলা চোখ সহ বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।  কিছু ক্ষেত্রে, গ্লুকোমা সম্পূর্ণ অন্ধত্বও হতে পারে।
গ্লুকোমার কোনো একক কারণ না থাকলেও সবচেয়ে সাধারণ হল তরল জমা হওয়া যা অপটিক স্নায়ুর ওপর চাপ বাড়াতে পারে।  এর ফলে অপটিক নার্ভের ফাইবারগুলি মারা যেতে শুরু করতে পারে, যা সম্পূর্ণ, অপরিবর্তনীয় অন্ধত্বের দিকে পরিচালিত করে।  গ্লুকোমার অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে বয়স, লিঙ্গ এবং জাতিগততা।
গ্লুকোমার প্রাথমিক সনাক্তকরণ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধ করার মূল চাবিকাঠি।  এটি একজন চোখের ডাক্তার দ্বারা নিয়মিত চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে অর্জন করা যেতে পারে।  যত আগে গ্লুকোমা শনাক্ত হয়, তত সহজে চিকিৎসা করা যায় এবং স্থায়ী অন্ধত্ব হওয়ার সম্ভাবনা তত কম।
আপনার যদি গ্লুকোমার উপসর্গগুলির মধ্যে কোনটি থাকে, তাহলে আরও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধ করতে চোখের ডাক্তারের সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ।  প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিত্সা আপনার দৃষ্টি সংরক্ষণ করতে এবং অন্ধ হওয়ার ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে।

বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস ২০২৫ : তাৎপর্য—-

বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস এই অবস্থা এবং এর ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পালন করা হয়।  গ্লুকোমা শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করাও এর লক্ষ্য।  প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিত্সা দৃষ্টি হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার কয়েকটি কারণ এখানে রয়েছে:
গ্লুকোমা বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের একটি প্রধান কারণ।
এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা যা অপরিবর্তনীয় দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে।
প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং চিকিত্সা দৃষ্টি ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
প্রথম দিকে গ্লুকোমা সনাক্ত করার জন্য নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
গ্লুকোমার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের, যেমন 40 বছরের বেশি বয়সী, তাদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা উচিত।

বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস ২০২৫ : উদযাপনের উপায়—-

বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস উদযাপন এবং অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার অনেক উপায় রয়েছে।  এখানে কয়েকটি ধারনা:
বিশ্ব গ্লুকোমা দিবসের জন্য আপনার সমর্থন দেখাতে নীল পরিধান করুন।
আপনার সম্প্রদায়ের একটি গ্লুকোমা সচেতনতা ইভেন্টে যোগ দিন।
একটি গ্লুকোমা গবেষণা সংস্থাকে দান করুন।
গ্লুকোমা এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে আরও জানুন।
আপনার গ্লুকোমার ঝুঁকি সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন এবং নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করুন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

আজ ১১ মার্চ, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১১ মার্চ । এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭৮৭ – রুশ জেনারেল আইজাক নবোকভ।

 

১৮০৭ – ফরাসী চিত্রশিল্পী লুই বুলাঝেঁ।

১৮১২ – হরিচাঁদ ঠাকুর,বাংলার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা।

১৮৪০ – দার্শনিক, গণিতজ্ঞ ও বাংলা শর্টহ্যান্ড লিপির উদ্ভাবক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৯১৫ – বিজয় হাজারে, ভারতীয় ক্রিকেটার।

১৯১৮ – শিশুসাহিত্যিক ও আকাশবাণীর ঘোষিকা ইন্দিরা দেবী।

১৯৩৭ – ভারতীয় বাঙালি মহিলা কবি বিজয়া মুখোপাধ্যায়।

১৯৩৯ – সাহিত‍্যিক বাণী বসু।
১৯৯৫ – চামপোকার জন্ম। অমিত চক্রবর্তী।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৩৯৯ – তৈমুর লঙ সিন্ধুনদ অতিক্রম করে ভারতে আসেন।
১৫০২ – পার্সিয়ার শাহ প্রথম ইসমাইলের অভিষেক হয় ।
১৭০২ – প্রথম ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা দ্য কোরান্ট প্রকাশিত হয় ।
১৭৮৪ – মহিশুরে টিপু সুলতানের সাথে ইংরেজদের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত।
১৭৯৫ – কুর্দলার যুদ্ধে মারাঠাদের কাছে মোগল বাহিনী পরাজিত হয়।
১৮১২ – মার্শাম্যানের কলকাতার ছাপাখানা অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়।
১৮২৩ – আমেরিকায় প্রথম সাধারণ স্কুল চালু হয়।
১৯১১ – রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার পরলোকগত স্বামীর নামে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯১৭ – ব্রিটিশ বাহিনীর বাগদাদ দখল।
১৯১৮ – মস্কো বিপ্লবী রাশিয়ার রাজধানী হয় ।
১৯১৯ – ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, বিখ্যাত বাঙালি কৌতুক লেখক।
১৯২০ – আমির ফয়সলের নিজেকে সিরিয়ার রাজা ঘোষণা।
১৯৩৫ – ব্যাংক অব কানাডা চালু হয় ।
১৯৩৮ – জার্মান বাহিনী অস্ট্রিয়ায় অনুপ্রবেশ করে।
১৯৪০ – যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্রিটেনে মাংসের রেশন চালু হয়।
১৯৪৮ – পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা না দেয়ায় পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। পুলিশ ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।
১৯৪৯ – বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হয়।
১৯৪৯ – দৈনিক পাকিস্তান অবজারভার (পরে বাংলাদেশ অবজারভার) প্রকাশিত হয়।
১৯৬৬ – ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুকর্নো সেনাবাহিনীর জেনারেল সুহার্তোর কাছে ব্যাপক ক্ষমতা অর্পণে বাধ্য হন। পরে সুকর্নোকে সরিয়ে সুহার্তো নিজেই প্রেসিডেন্ট হন।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় গ্রিস।
১৯৭৪ – সিসিলির এটনা গিরিশৃঙ্গে অগ্নুৎপাত ঘটে।
১৯৭৭ – মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করায় ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ২৫ বছরের সামরিক চুক্তি বাতিল করে।
১৯৭৯ – সেন্ট্রাল ট্রিটি অরগানাইজেশন বা সেন্টো থেকে ইরান নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।
১৯৯০ – লিথুনিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
১৯৯২ – পাঞ্জাবে শিখ জঙ্গীদের হাতে ১৭ হিন্দু শ্রমিক নিহত।
১৯৯৪ – এদুয়ার্দো ফ্রেই চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত।
১৯৯৯ – “ইনফোসিস” প্রথম ভারতীয় তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানি হিসাবে নাসডাক স্টক মার্কেট অন্তর্ভুক্ত হয়।
২০০০ – ইউক্রেনে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ৮১ শ্রমিক নিহত।
২০০৪ – স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে তিনটি স্টেশনে ১০টি বোমা বিস্ফোরণে ১৯১ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি আহত হয়।
২০০৬ – হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের কারাগারে বলকানের কসাই হিসেবে খ্যাত ৬৩ বছর বয়সী স্লোবোদান মিলোসেভিচ পরলোকগমন করেন।
২০১৫ – মার্কিন-কিউবা সরাসরি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত ৷

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৭৫৯ – ইংরেজ জেনারেল জন ফোর্বস।
১৮০৯ – ইংরেজ নাট্যকার ও কবি হান্না কাউলি।

১৮৭৩- শের আলী, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ভারতের ইংরেজ গভর্নর জেনারেল তথা বড়লাটকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

১৮৯৪ – রাজকৃষ্ণ রায় বিশিষ্ট নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক।

১৯১৯ – ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, বিখ্যাত বাঙালি কৌতুক লেখক।
১৯৩১ – জার্মান চিত্রপরিচালক ফ্রিডখি সুর্নাউ।

১৯৫৫ – নোবেল বিজয়ী স্কটিশ অণুজীব বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।

১৯৯১ – ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা অধ্যক্ষ আবুল কাশেম।

২০০৬ – হেগ অবস্থিত জাতিসংঘের কারাগারে বলকানের কসাই হিসেবে খ্যাত ৬৩ বছর বয়সী স্লোবোদান মিলোসেভিচের মৃত্যু হয়।

২০২০ – সন্তু মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

আশির দশক থেকেই সাড়া জাগানো জনপ্রিয়তার অধিকারিণী লেখিকা বাণী বসু, জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।

বাণী বসু একজন সমসাময়িক ভারতীয় বাঙালি লেখিকা – উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা লেখেন, অনুবাদও করেন। বাণী বসু আশির দশক থেকে একাধিক সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মানে সম্মানিত।  তিনি ১১ মার্চ, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি বিজয় কৃষ্ণ গার্লস কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন।  ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক  করার পর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ.  করেন।  শিক্ষার প্রথম স্থান ছিল লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ, কলকাতা এবং তারপরে স্কটিশ চার্চ কলেজ।
ছাত্রী জীবন থেকেই বাণী বসু নানা প্রবন্ধ, অনুবাদ গল্প ও কবিতা রচনায় পারদর্শিতার নজির রাখেন। ১৯৮১তে তার প্রথম গল্প আনন্দমেলা ও দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।

শারদীয়া আনন্দলোকে ১৯৮৭তে তাঁর  প্রথম উপন্যাস জন্মভূমি মাতৃভূমি প্রকাশিত হয় । কিন্তু তার আগেই তার অনেক অনুবাদ প্রকাশিত ও আদৃত হয়েছে। তাঁর উল্লেখ্য অনুবাদগুলি হলঃ শ্রী অরবিন্দের সনেটগুচ্ছ, সমারসেট মমের সেরা প্রেমের গল্প  ও এইচ ডি লরেন্সের সেরা গল্প।
রচিত উপন্যাস——–
তাঁর রচিত উপন্যাস গুলি হলো – উত্তরসাধক, পঞ্চম পুরুষ, বাইরে, অন্তর্ঘাত, কিনার থেকে কিনারে, মেয়েলি আড্ডার হালচাল, রাধানগর, দিদিমাসির জিন, জন্মভূমি মাতৃভূমি, মৈত্রেয় জাতক, অমৃতা, নূহর নৌকা, সুরূপা কুরূপা, অষ্টম গর্ভ, অষ্টম গর্ভ (দ্বিতীয়), খনামিহিরের ঢিপি, ক্ষত্তা, কালিন্দী, কৃষ্ণ, পাঞ্চাল কন্যা কৃষ্ণা, সুযোদন দূর্যোধন, কৃষ্ণ বাসুদেব, কাক জ্যোৎস্না, অল লেডিস ভ্রমণ, একুশে পা, ট্রেকার্স, অশ্বযোনি, ফেরো মন।
পুরস্কার ও সম্মাননা——–
তারাশঙ্কর পুরস্কার (১৯৯১);  আনন্দ পুরস্কার – (মৈত্রেয় জাতক): ১৯৯৭ ; বঙ্কিম পুরস্কার ( ১৯৯৯);  ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক (২০০৮), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার – (খনামিহিরের ঢিপি): ২০১০।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

কুম্ভ মেলা সম্পর্কে কিছু তথ্য।

ভূমিকা:-  হিন্দুদের একটি গণ তীর্থযাত্রা, কুম্ভ মেলা বিশ্বের বৃহত্তম মানব সমাবেশ। এটি বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার এক দর্শনীয় প্রদর্শন যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তকে আকর্ষণ করে। এই মেলা প্রতি ১২ বছর অন্তর ভারতের চারটি ভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়: এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ), হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী।

ইতিহাস এবং তাৎপর্য:- কুম্ভ মেলার উৎপত্তি প্রাচীন হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী (সমুদ্র মন্থন) থেকে। কিংবদন্তি অনুসারে, দেবতা এবং অসুররা সমুদ্র মন্থনে সহযোগিতা করে অমরত্বের অমৃত, অমৃত উৎপন্ন করে। মন্থন প্রক্রিয়া চলাকালীন, চারটি স্থানে যেখানে কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে অমৃতের চারটি ফোঁটা পৃথিবীতে পড়ে।

মেলা হল মন্দের উপর শুভের বিজয় এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনের উদযাপন। এটি ভক্তদের জন্য তাদের আত্মাকে পবিত্র করার, আধ্যাত্মিক বিকাশের সন্ধান করার এবং জন্ম ও মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভের একটি সুযোগ।

প্রস্তুতি এবং আচার-অনুষ্ঠান:-  কুম্ভমেলার প্রস্তুতি কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। স্থানগুলি বিশাল তাঁবুর শহরে রূপান্তরিত হয়, যেখানে হাজার হাজার অস্থায়ী আশ্রয়স্থল, খাবারের দোকান এবং চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মেলার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য একসাথে কাজ করে।

কুম্ভমেলা একটি 48 দিনের উৎসব, যার প্রথম দিন মকর সংক্রান্তি (শীতকালীন অয়নকাল)। মেলাটি তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত: শাহী স্নান (রাজকীয় স্নান), পৌষ পূর্ণিমা স্নান এবং মহা শিবরাত্রি স্নান।

শাহী স্নান হল কুম্ভমেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, যেখানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পবিত্র নদীতে স্নান করেন। নগ্ন তপস্বীদের একটি দল, নাগা সাধুরা প্রথমে পবিত্র স্নান করেন, তারপরে অন্যান্য সাধু, সাধু এবং ভক্তরা আসেন।

সাংস্কৃতিক তাৎপর্য:-  কুম্ভমেলা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও একটি উদযাপন। মেলা দেশের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে, যেখানে সাধু, সাধু, সঙ্গীতজ্ঞ, নৃত্যশিল্পী এবং কারিগর সহ সকল স্তরের অংশগ্রহণকারীরা অংশগ্রহণ করেন।

কুম্ভমেলা ভক্তদের জন্য তাদের আধ্যাত্মিক শিকড়ের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং ভারতের প্রাণবন্ত সংস্কৃতি অনুভব করার একটি সুযোগ। এটি আত্ম-প্রতিফলন, আধ্যাত্মিক বিকাশ এবং সাম্প্রদায়িক উদযাপনের সময়।

চ্যালেঞ্জ এবং বিতর্ক:-  কুম্ভমেলা তার চ্যালেঞ্জ এবং বিতর্ক ছাড়াই নয়। বিশাল সমাবেশ উল্লেখযোগ্য লজিস্টিক এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যার মধ্যে রয়েছে ভিড় ব্যবস্থাপনা, মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মেলা চলাকালীন পদদলিত, দুর্ঘটনা এবং স্বাস্থ্য সংকটের ঘটনা ঘটেছে। পরিবেশগত প্রভাবের জন্যও এই অনুষ্ঠান সমালোচিত হয়েছে, দূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

উপসংহার:-  কুম্ভমেলা একটি অনন্য এবং আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান যা ভারতীয় সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার গভীরতা এবং বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে। চ্যালেঞ্জ এবং বিতর্ক সত্ত্বেও, মেলা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

বিশ্বের বৃহত্তম মানব সমাবেশ হিসেবে, কুম্ভ মেলা বিশ্বাস, সম্প্রদায় এবং সাংস্কৃতিক উদযাপনের শক্তির প্রমাণ। এটি এমন একটি অনুষ্ঠান যা এতে অংশগ্রহণকারীদের অনুপ্রাণিত করে, শিক্ষিত করে এবং রূপান্তরিত করে, তাদের জীবন ও আত্মার উপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস, জানুন দিনটি পালনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য।।।

৩ মার্চ পালিত বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৫, বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কনভেনশন (CITES) এর বার্ষিকী উপলক্ষে, বন্যপ্রাণী রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৫ এর প্রতিপাদ্য হল, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অর্থায়ন: মানুষ এবং গ্রহের উপর বিনিয়োগ”, যা ক্রমবর্ধমান বিলুপ্তির সংকটের মধ্যে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য টেকসই তহবিলের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। দশ লক্ষেরও বেশি প্রজাতি ঝুঁকির মুখে থাকায়, বন্যপ্রাণী এবং বাস্তুতন্ত্র রক্ষার জন্য উদ্ভাবনী আর্থিক সমাধান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। প্রকৃতির সৌন্দর্য উদযাপন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আরও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে যোগদান করুন। বিশ্বব্যাপী উদযাপন সম্পর্কে আরও জানতে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি পড়ুন।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস – সংক্ষিপ্ত বিবরণ–

২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (UNGA) তাদের ৬৮তম অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মার্চকে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা ১৯৭৩ সালে বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশন (CITES) স্বাক্ষরের স্মরণে । এই বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠানটি বন্যপ্রাণী এবং বাস্তুতন্ত্রের সমৃদ্ধি উদযাপনের জন্য নিবেদিত, একই সাথে পৃথিবীতে জীবন টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবেলা এবং মানুষের কার্যকলাপের ফলে প্রজাতির অবক্ষয় রোধ করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার একটি শক্তিশালী স্মারক হিসেবে কাজ করে । এই হুমকিগুলির সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রভাব রয়েছে , যা সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বন্যপ্রাণী সচেতনতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত, এই দিনটি CITES সচিবালয় দ্বারা সমন্বিত হয় , যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৫ এই আর্থিক উদ্ভাবন,

সরকার, এনজিও এবং বেসরকারি খাতের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই জীববৈচিত্র্য তহবিল নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক উদযাপন ৩ মার্চ, ২০২৫ তারিখে জেনেভার প্যালেস ডেস নেশনসে অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসের ইউটিউব চ্যানেলে বিশ্বব্যাপী সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৫-এ জেনেভার ভূমিকা—-

জেনেভা বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, জীববৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির আতিথেয়তা করে। CITES (বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন) এর সদর দপ্তর হিসেবে, জেনেভা বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রজাতির বেঁচে থাকা নিশ্চিত করার কেন্দ্রবিন্দু।

জেনেভা সংরক্ষণ প্রচেষ্টার অগ্রভাগে রয়ে গেছে। IUCN, UNEP, WWF ইন্টারন্যাশনাল এবং UN-REDD প্রোগ্রামের মতো সংস্থাগুলি জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, জলবায়ু পদক্ষেপ এবং টেকসই আর্থিক সমাধানের জন্য কাজ করে।

স্থানীয়ভাবে, জেনেভা সুরক্ষিত এলাকা, নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প এবং প্রো ন্যাচুরা, ডাব্লিউডব্লিউএফ জেনেভা এবং বায়োপার্ক জেনেভার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে নগর জীববৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করে, যা শিক্ষা, সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী পুনর্বাসনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। প্রকৃতির জন্য ঋণ বিনিময়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বন্ড এবং ইকোসিস্টেম পরিষেবার জন্য অর্থ প্রদান (PES) এর মতো প্রচেষ্টা জীববৈচিত্র্য তহবিলের ব্যবধান পূরণ করতে সাহায্য করছে, বন্যপ্রাণীর জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যত নিশ্চিত করছে।

২০২৫ সালের বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হবে জেনেভায় ৩ মার্চ, ২০২৫ তারিখে জাতিসংঘের প্যালেস ডেস নেশনস- এ , একটি বিশ্বব্যাপী লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে, যা প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং টেকসই বিনিয়োগের প্রতি শহরের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

আকর্ষণীয় বন্যপ্রাণী তথ্য

বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন যে আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের কারণে ১০ লক্ষেরও বেশি প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।

মানুষের কার্যকলাপ জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। আজ, পৃথিবীর ৬০% স্তন্যপায়ী প্রাণী হল গবাদি পশু, ৩৬% মানুষ, এবং মাত্র ৪% হল সিংহ, হাতি এবং বাঘের মতো বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী।

রেইন ফরেস্ট, বনভূমি এবং অন্যান্য বনাঞ্চল বিশ্বের ৮০% স্থলভিত্তিক প্রজাতির বাসস্থান, যার মধ্যে রয়েছে ওরাংওটাং এবং জাগুয়ারের মতো বিরল এবং বিপন্ন প্রাণী।

যদিও প্রবাল প্রাচীর সমুদ্রের তলদেশের ১% এরও কম অংশ জুড়ে বিস্তৃত, তবুও ২৫% সামুদ্রিক প্রজাতির আবাসস্থল হল প্রবাল প্রাচীর, যা মাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল প্রদান করে।

মৌমাছি, প্রজাপতি এবং পাখির মতো পরাগরেণু খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ফসলের ৭৫% অবদান রাখে, যার মধ্যে রয়েছে ফল, শাকসবজি এবং বাদাম।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৫ “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অর্থায়ন: মানুষ ও গ্রহের উপর বিনিয়োগ” এই প্রতিপাদ্যের অধীনে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য টেকসই তহবিলের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে। ১০ লক্ষেরও বেশি প্রজাতি ঝুঁকির মুখে থাকায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বন্ড এবং প্রকৃতির জন্য ঋণ বিনিময়ের মতো উদ্ভাবনী সমাধানগুলি একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩রা মার্চ, ২০২৫ উদযাপনের সময়, আসুন আমরা পদক্ষেপ নিই—সংরক্ষণকে সমর্থন করি, সচেতনতা ছড়িয়ে দিই এবং বন্যপ্রাণী রক্ষাকারী নীতিমালার পক্ষে কথা বলি। প্রকৃতিতে বিনিয়োগ করার এখনই সময়!

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব শ্রবণ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির ইতিহাস ও গুরুত্ব।।।।

বিশ্ব শ্রবণ দিবস প্রতি বছর ৩ মার্চ পালন করা হয় কীভাবে বধিরতা এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস রোধ করা যায় এবং সারা বিশ্বে কান ও শ্রবণশক্তির যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারা বিশ্বে ৮০%-এর বেশি কান ও শ্রবণ যত্নের চাহিদা পূরণ হয়নি।  শ্রবণশক্তিহীন শ্রবণশক্তি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বার্ষিক ব্যয় সৃষ্টি করে, ডব্লিউএইচও বলেছে, গভীরভাবে অন্তর্নিহিত সামাজিক ভুল ধারণা এবং কলঙ্কজনক মানসিকতা হল মূল কারণ যা শ্রবণশক্তি রোধ ও সমাধানের প্রচেষ্টাকে সীমিত করে।
কান এবং শ্রবণ যত্নের সাথে সম্পর্কিত মানসিকতার পরিবর্তন অ্যাক্সেস উন্নত করতে এবং শ্রবণশক্তিহীন শ্রবণশক্তি হ্রাসের ব্যয় হ্রাস করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব শ্রবণ দিবস ২০২৫: থিম—–

বিশ্ব শ্রবণ দিবস ২০২৫ খুব কাছাকাছি, এবং এই বছরের থিম হল ” মানসিকতার পরিবর্তন: কান ও শ্রবণ যত্নকে সকলের জন্য বাস্তবে পরিণত করতে নিজেকে শক্তিশালী করুন!” এই বছরের থিম ২০২৫ কে কেন্দ্র করে কান এবং শ্রবণ যত্নের প্রতি মানসিকতা পরিবর্তনের উপর ফোকাস করে।

বিশ্ব শ্রবণ দিবস ২০২৫: ইতিহাস—–

বিশ্ব শ্রবণ দিবসের শিকড়গুলি ২০০৭ সালে চীনের বেইজিংয়ে শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সন্ধান করা যেতে পারে।
সম্মেলনটি শ্রবণ-সম্পর্কিত সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার সূচনাকে চিহ্নিত করেছে।  ২০১৪ সালে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশ ৩ মার্চকে বিশ্ব শ্রবণ দিবস হিসাবে মনোনীত করেছিল।  দুটি কানের আকৃতির প্রতীকী নির্বাচিত তারিখটি তখন থেকে শ্রবণ যত্ন এবং ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের উপর শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রভাবকে আলোকিত করার একটি বার্ষিক উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব শ্রবণ দিবস ২০২৫ : তাৎপর্য——

শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং এর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা প্রচারে বিশ্ব শ্রবণ দিবসের অপরিসীম তাৎপর্য রয়েছে।  দিনটি প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং হস্তক্ষেপের গুরুত্বের উপর জোর দেয়, শ্রবণশক্তির পরিষেবাগুলিতে উন্নত অ্যাক্সেসের পক্ষে সমর্থন করে এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলায় সহযোগিতাকে উত্সাহিত করে।
কলঙ্ক কমানোর মাধ্যমে, যত্নের অ্যাক্সেসের জন্য ওকালতি করে, এবং শ্রবণশক্তি হ্রাসের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে, বিশ্ব শ্রবণ দিবস এমন একটি বিশ্ব তৈরিতে অবদান রাখে যেখানে প্রত্যেকের ভাল শ্রবণ স্বাস্থ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This